X
মঙ্গলবার, ১৮ মে ২০২১, ৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮

সেকশনস

কীভাবে ভাসানচরে যাচ্ছে ইয়াবা?

আপডেট : ১১ এপ্রিল ২০২১, ১৩:২৯

মিয়ানমার সীমান্তবর্তী টেকনাফ বলতে গেলে ইয়াবা পাচারকারীদের কাছে স্বর্গরাজ্য। দীর্ঘদিনের চেষ্টায়ও এই অঞ্চলের জমজমাট ইয়াবা ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের কেন্দ্র করেও এই মাদক পাচার চলছে। সম্প্রতি নোয়াখালীর ভাসানচর দ্বীপে স্থানান্তর করা রোহিঙ্গাদের কাছ থেকেও পাওয়া গেছে ইয়াবা। ফলে প্রাণঘাতী এই মাদক পাচারের গতিপথ ও বিস্তৃতি নিয়ে শঙ্কা আরও বাড়লো। তবে পুলিশের দাবি, কক্সবাজার থেকে নোয়াখালীর ওই দ্বীপে যাওয়ার সময়ই শরণার্থীরা সেখানে এই মাদক নিয়ে গেছেন।

ভাসানচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাহে আলম জানান, গত ১৯ জানুয়ারি থানাটি উদ্বোধনের পর থেকে এখন পর্যন্ত এক হাজার ২৩৩ পিস ইয়াবাসহ চার রোহিঙ্গাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মাদক নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দিয়ে তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। রোহিঙ্গাদের ভাসানচরে স্থানান্তর

তিনি জানান, সর্বশেষ গত বুধবার (৭ এপ্রিল) ৬০৩ পিস ইয়াবাসহ নুর মোহাম্মদ নামের এক রোহিঙ্গাকে আটক করা হয়েছে। এর আগে ৬৩০ পিস ইয়াবাসহ তিন জনকে আটক করে পুলিশ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটককৃতরা জানিয়েছে, কক্সবাজারের শরণার্থী শিবির থেকে ভাসানচরে আসার সময় নিজেদের জিনিসপত্রের মধ্যে করে এসব ইয়াবা নিয়ে এসেছিল তারা।

কক্সবাজারের শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি) কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত ডিসেম্বর থেকে ছয় দফায় মোট ১৭ হাজার ৯৯৫ জন রোহিঙ্গাকে ভাসানচরে নিয়ে গেছে সরকার। এর আগে গত বছরের মে মাসে অবৈধভাবে মালয়েশিয়া যাওয়ার চেষ্টা করা ৩০৬ রোহিঙ্গাকে সমুদ্র থেকে উদ্ধার করে সেখানে নিয়ে রাখা হয়েছিল। সব মিলে এখন দ্বীপটিতে রয়েছেন ১৮ হাজারের বেশি রোহিঙ্গা।

ভাসানচরে ইয়াবা পৌঁছে যাওয়া দুশ্চিন্তার

কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরগুলোতে সহিংসতার অন্যতম কারণ ছিল ইয়াবা ব্যবসা- এমনটা দাবি করে ভাসানচরের রোহিঙ্গা নেতা নুরুল ইসলাম মুঠোফোনে জানান, ‘সেখানকার পরিস্থিতি খুবই খারাপ ছিল। ভেবেছিলাম ভাসানচরে এসে অন্তত শান্তিতে থাকা যাবে। কিন্তু এখানেও ইয়াবা পৌঁছে যাওয়াটা আমাদের জন্য দুশ্চিন্তার বিষয়।’

ভাসানচরেও মাদক ব্যবসা শুরু হলে অশান্তি নেমে আসবে মন্তব্য করেন টেকনাফের লেদা ডেভলমেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলম। তিনি বলেন, ‘যারা সেখানে মাদক ব্যবসা চালুর চেষ্টা করছে তাদের চিহ্নিত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। বিশেষ করে রোহিঙ্গাদের দ্বীপে নেওয়ার সময় তাদের মালপত্রের ব্যাগগুলো কঠোরভাবে তল্লাশি না করায় তারা মাদক বহনের সুযোগ পাচ্ছে।’ ভাসানচরে রোহিঙ্গারা (ছবি: ফোকাস বাংলা)

কক্সবাজারের শিবিরগুলো থেকে ভাসানচরগামী রোহিঙ্গাদের প্রথমে উখিয়ার ট্রানজিট ক্যাম্পে এনে রাখা হয়। সেখান থেকে তাদের চট্টগ্রামে জাহাজ পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া হয় পুলিশ পাহারায়। তবে ওই সময় কাউকে তল্লাশি করা হয় না বলে জানান আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন-৮ (এপিবিএন) এর অধিনায়ক শিহাব কায়সার খান। তিনি বলেন, ‘উখিয়া ট্রানজিট পয়েন্ট থেকে জাহাজ পর্যন্ত তাদের নিরাপদে পৌঁছানোর দায়িত্ব পালন করি আমরা। এর আগে অন্যান্য বাহিনী তাদের দেখভাল করে।’

তবে অতিরিক্ত শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি) মোহাম্মদ সামছু-দৌজা জানান, ক্যাম্প থেকে বের হওয়ার সময় রোহিঙ্গাদের দেখভালের বিষয়ে তাদের কর্মকর্তারা দায়িত্ব পালন করেন। এর বেশি কিছু বলতে রাজি হননি তিনি।

বিশ্লেষকদের মতে, বিচ্ছিন্ন দ্বীপ হওয়ার কারণে ভাসানচরকে কেন্দ্র করে নতুন কোনও মাদকের রুট তৈরি হওয়া কঠিন হলেও সেই আশঙ্কাকে উড়িয়ে দেওয়া যায় না। ভাসানচরে রোহিঙ্গারা (ছবি: ফোকাস বাংলা)

এ প্রসঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ড. দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘কক্সবাজারে রোহিঙ্গাদের সঙ্গে মাদক ব্যবসার সম্পর্কটা সর্বজনবিদিত। সেখান থেকে যারা ভাসানচরে গিয়েছে, তাদের মধ্যে কেউ কেউ হয়ত সেই চক্রের সঙ্গে যুক্ত ছিল।’

গত কয়েক দশক ধরে মাদক ব্যবসাই কর্মক্ষম রোহিঙ্গাদের মূল পেশা মন্তব্য করেন জাতীয় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ বোর্ডের সদস্য অধ্যাপক ড. অরূপ রতন চৌধুরী। তিনি মাদকদ্রব্য ও নেশা নিরোধ সংস্থার (মানস) প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি। তিনি বলেন, ‘তাদের ইয়াবা ব্যবসার যে নেটওয়ার্ক আছে, তা ভাসানচরের চেয়ে বিচ্ছিন্ন এলাকায় নিয়ে গেলেও তারা বিস্তৃত করার চেষ্টা করবে। যতদিন পর্যন্ত তারা এখান থেকে মিয়ানমারে ফেরত না যাবে, ততদিন এখানে এটা বন্ধ করা যাবে না।’ ।

ভাসানচর ছাড়ার চেষ্টা

অবৈধভাবে সাগরপথে মালয়েশিয়া যেতে ব্যর্থ হয়ে গত বছরের মে মাসে বাংলাদেশে ফিরে আসেন ৩০৬ জন রোহিঙ্গা। তাদের সমুদ্র থেকে উদ্ধার করে ভাসানচর নিয়ে যায় সরকার। এদের মধ্যে ৯ রোহিঙ্গাকে ভাসানচর থেকে পালানোর চেষ্টাকালে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ভাসানচরের ওসি মাহে আলম। তিনি বলেন, ‘তারা দলগতভাবে পালানোর পরিকল্পনা করেছিল। কিন্তু আমরা সেটা ব্যর্থ করে দিয়েছি।’

ওসি আরও জানান, এর আগে বহুবার কক্সবাজারের শিবিরে স্বজনদের কাছে ফেরার দাবি জানিয়েছিল ওই ৩০৬ শরণার্থী। সরকারের পক্ষ থেকে বিষয়টি বিবেচনার কথা বলা হলেও এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি। ভাসানচরে রোহিঙ্গাদের বসবাসের জন্য নির্মিত ঘর।

উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের আগস্টে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর গণহত্যা ও নিপীড়নের মুখে দেশটি থেকে কয়েক লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে আসেন। আগের ও তখনকার মিলিয়ে প্রায় ১১ লাখ রোহিঙ্গা কক্সবাজারে বসবাস করছেন। ওই বছরের নভেম্বর মাসে কক্সবাজার থেকে এক লাখ রোহিঙ্গাকে ভাসানচরে সরিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যে একটি প্রকল্প নেয় সরকার। আশ্রয়ণ-৩ নামে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের দায়িত্ব দেওয়া হয় বাংলাদেশ নৌবাহিনীকে। বর্তমানে ধাপে ধাপে স্থানান্তরের কাজ চলছে। 

/এফএস/

সম্পর্কিত

রোজিনা ইসলামের মুক্তির দাবি এডিটরস গিল্ডের

রোজিনা ইসলামের মুক্তির দাবি এডিটরস গিল্ডের

সাংবাদিক রোজিনা ইসলামের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের

সাংবাদিক রোজিনা ইসলামের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের

যুগ্ম পুলিশ কমিশনার পদমর্যাদার পাঁচ কর্মকর্তার পদায়ন

যুগ্ম পুলিশ কমিশনার পদমর্যাদার পাঁচ কর্মকর্তার পদায়ন

নথি চুরির অভিযোগ: সাংবাদিক রোজিনাকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে হেনস্তার পর থানায় হস্তান্তর

নথি চুরির অভিযোগ: সাংবাদিক রোজিনাকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে হেনস্তার পর থানায় হস্তান্তর

পাহাড় ধসে প্রাণহানি রোধে সচেতনতামূলক কার্যক্রম

পাহাড় ধসে প্রাণহানি রোধে সচেতনতামূলক কার্যক্রম

বকেয়া ভাড়ার জন্য ভাড়াটিয়ার স্ত্রী-মেয়েকে তালাবন্দি রাখার অভিযোগ

বকেয়া ভাড়ার জন্য ভাড়াটিয়ার স্ত্রী-মেয়েকে তালাবন্দি রাখার অভিযোগ

জামাই হত্যা মামলায় জামিন পায়নি শ্বশুর

জামাই হত্যা মামলায় জামিন পায়নি শ্বশুর

প্রতারণার মামলায় রিমান্ডে রিজেন্ট সাহেদ

প্রতারণার মামলায় রিমান্ডে রিজেন্ট সাহেদ

স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেননি বাবুল আক্তার

স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেননি বাবুল আক্তার

হাতিয়ায় ৫ কিশোরকে বেঁধে নির্যাতন: আটক ৫ জন কারাগারে

হাতিয়ায় ৫ কিশোরকে বেঁধে নির্যাতন: আটক ৫ জন কারাগারে

সর্বশেষ

অনুসন্ধানী সাংবাদিকদের ভয় দেখানো হলো: বিএনপি

অনুসন্ধানী সাংবাদিকদের ভয় দেখানো হলো: বিএনপি

রোজিনা ইসলামের মুক্তির দাবি এডিটরস গিল্ডের

রোজিনা ইসলামের মুক্তির দাবি এডিটরস গিল্ডের

মামলা নিয়ে প্রথম আলো কর্তৃপক্ষ যা বললেন

মামলা নিয়ে প্রথম আলো কর্তৃপক্ষ যা বললেন

সাংবাদিক রোজিনা ইসলামের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের

সাংবাদিক রোজিনা ইসলামের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের

যুগ্ম পুলিশ কমিশনার পদমর্যাদার পাঁচ কর্মকর্তার পদায়ন

যুগ্ম পুলিশ কমিশনার পদমর্যাদার পাঁচ কর্মকর্তার পদায়ন

রোজিনা ইসলামের মুক্তি দাবি আইন-সালিশ কেন্দ্রের

রোজিনা ইসলামের মুক্তি দাবি আইন-সালিশ কেন্দ্রের

গাজায় ইসরায়েলি হামলায় ইসলামিক জিহাদ কমান্ডার নিহত

গাজায় ইসরায়েলি হামলায় ইসলামিক জিহাদ কমান্ডার নিহত

এ কাজগুলো করলে মৃদু কোভিড হয়ে উঠবে সিরিয়াস!

এ কাজগুলো করলে মৃদু কোভিড হয়ে উঠবে সিরিয়াস!

কুষ্টিয়ার নেচে-গেয়ে কিশোরের লাশ দাফন, দেওয়া হয়নি জানাজাও

কুষ্টিয়ার নেচে-গেয়ে কিশোরের লাশ দাফন, দেওয়া হয়নি জানাজাও

রোজিনা ইসলামকে আটকের ঘটনায় জাতীয় পার্টির নিন্দা

রোজিনা ইসলামকে আটকের ঘটনায় জাতীয় পার্টির নিন্দা

মিস ইউনিভার্সের মঞ্চে মিয়ানমারের সুন্দরীর প্রতিবাদ

মিস ইউনিভার্সের মঞ্চে মিয়ানমারের সুন্দরীর প্রতিবাদ

করোনায় মৃত প্রতি লাশ দাফনে সিটি করপোরেশনের খরচ ১৮ হাজার টাকা

করোনায় মৃত প্রতি লাশ দাফনে সিটি করপোরেশনের খরচ ১৮ হাজার টাকা

সর্বশেষসর্বাধিক

লাইভ

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

পাহাড় ধসে প্রাণহানি রোধে সচেতনতামূলক কার্যক্রম

পাহাড় ধসে প্রাণহানি রোধে সচেতনতামূলক কার্যক্রম

বকেয়া ভাড়ার জন্য ভাড়াটিয়ার স্ত্রী-মেয়েকে তালাবন্দি রাখার অভিযোগ

বকেয়া ভাড়ার জন্য ভাড়াটিয়ার স্ত্রী-মেয়েকে তালাবন্দি রাখার অভিযোগ

প্রতারণার মামলায় রিমান্ডে রিজেন্ট সাহেদ

প্রতারণার মামলায় রিমান্ডে রিজেন্ট সাহেদ

স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেননি বাবুল আক্তার

স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেননি বাবুল আক্তার

হাতিয়ায় ৫ কিশোরকে বেঁধে নির্যাতন: আটক ৫ জন কারাগারে

হাতিয়ায় ৫ কিশোরকে বেঁধে নির্যাতন: আটক ৫ জন কারাগারে

আরও এক মামলায় মামুনুল হকের ৩ দিনের রিমান্ড

আরও এক মামলায় মামুনুল হকের ৩ দিনের রিমান্ড

পাওনা টাকা চাইতে গিয়ে লাশ হলেন স্কুলশিক্ষক

পাওনা টাকা চাইতে গিয়ে লাশ হলেন স্কুলশিক্ষক

© 2021 Bangla Tribune