পাকিস্তানে লাহোরে রবিবার পুলিশের অভিযানে সম্প্রতি নিষিদ্ধ ঘোষিত তেহরিক-ই-লাব্বাইক পাকিস্তান (টিএলপি)-র অন্তত তিন সদস্য নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে কমপক্ষে আরও ২০ জন।
এদিন পুলিশ স্থানীয় এতিমখানা চকে বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে দিতে গেলে সংঘর্ষ শুরু হয়। টিএলপি কর্মীদের অভিযোগ, সেখানে পুলিশ গুলি করে তাদের তিন কর্মীকে হত্যা করেছে।
ডিডাব্লিউ-র প্রতিনিধি ফারহা বাহগত জানিয়েছেন, টিএলপি নেতারা ভিডিও বার্তায় বলেছেন, যতক্ষণ পর্যন্ত ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূতকে পাকিস্তান থেকে বের করে দেওয়া না হচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত তারা নিহতদের মৃতদেহ কবর দেবেন না।
পুলিশের দাবি, লাহোরে সশস্ত্র টিএলপি কর্মীরা একটি থানায় আক্রমণ করে। সেখান থেকে ডিএসপি-কে অপহরণ করে মারকাজে নিয়ে যায়। তারা পুরো থানা দখল করে নেয়। ৫০ হাজার লিটার পেট্রোল ভর্তি একটি তেলের ট্যাঙ্কারও মারকাজে নিয়ে যায়।
পুলিশ জানিয়েছে, তারা আত্মরক্ষার জন্য গুলি চালায়। তবে মারকাজে তারা যায়নি, সেখানে গুলিও চালায়নি। তারা শুধু থানা থেকে টিএলপি কর্মীদের সরিয়ে দিয়েছে।
এদিনের সংঘর্ষ ঘিরে বস্তুত লাহোরের চেহারা ছিল রণক্ষেত্রের মতো। বিভিন্ন জায়গায় সংঘর্ষ হয়েছে। মোট ১১ জন পুলিশ অফিসার ও কর্মীকে বিক্ষোভকারীরা অপহরণ করে। পরে অবশ্য তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। ১৫ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়ে হাসপাতালে গেছেন। বিভিন্ন জায়গায় পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগ করেছেন কর্মকর্তারা।
টিএলপি-কে সম্প্রতি নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে পাকিস্তান। দলটির দাবি, সরকার তাদের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূতকে ২০ এপ্রিলের মধ্যে পাকিস্তান থেকে বের করে দেওয়া হবে। ফ্রান্সে মহানবী (সা.)-এর কার্টুন প্রকাশের দায়ে রাষ্ট্রদূতকে বহিষ্কারের দাবি তুলেছিল টিএলপি। এখন সরকারের প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন চায় দলটি। তবে পাকিস্তান সরকার বলছে, তারা বিষয়টি আলোচনা করার কথা বলেছিল মাত্র। এরপরই দেশজুড়ে টিএলপি-র সহিংস আন্দোলনের মুখে দলটির প্রধান নেতা সাদ রিজভিকে গ্রেফতার করা হয়।
এই অবস্থায় সরকারের সঙ্গে টিএলপি নেতাদের আলোচনাও শুরু হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ রশিদ বলেছেন, প্রথম দফার আলোচনা ভালোভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এবার দ্বিতীয় দফার আলোচনায় বিরোধ মিটতে পারে বলে তিনি আশাবাদী। সূত্র: ডিডাব্লিউ।























