X
রবিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১, ৪ আশ্বিন ১৪২৮

সেকশনস

হেফাজতের নতুন কৌশল

আপডেট : ০৩ মে ২০২১, ১৬:৪৩
মোস্তফা হোসেইন হেফাজতে ইসলামি বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় কমিটি বিলুপ্তি ঘোষণা করেছেন দলটির (সংশ্লিষ্টরা অরাজনৈতিক সংগঠন বলেন) আমির জুনায়েদ বাবুনগরী। সেই সুবাদে হেফাজতে ইসলামি নেতৃত্বহীন হয়ে পড়ে, তবে কয়েক ঘণ্টার জন্য। সূর্যের আলো দেখার আগেই বাবুনগরী দলটির আহ্বায়ক হিসেবে নিজের নাম ঘোষণা করেন। তাঁর সঙ্গী হিসেবে আরও চার জনের নামও ঘোষণা করা হয় ১২ ঘণ্টা হওয়ার আগেই। গণমাধ্যম মধ্যরাত থেকেই বাবুনগরীর ঘোষণাকে শীর্ষে স্থান দিতে থাকে। পরের ঘটনাগুলোও ফলাও করে প্রচার করে। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তোলপাড় শুরু হয় রাতের দ্বিপ্রহর থেকেই।  

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত মন্তব্যগুলো পড়ে মনে হতে পারে, হেফাজত বুঝি ভেঙে পড়েছে। মেরুদণ্ড বুঝি নিঃশেষ হয়ে গেছে। বাস্তবে কি তাই?

আসলে হেফাজত নাটাই থেকে ডোর ছাড়ছে মাত্র। ঘুড্ডি একটু নেতিয়ে পড়ছে শুধু। এদিক-ওদিক একটু গোত্তা খাচ্ছে। সুযোগ আসার সঙ্গে সঙ্গে আবার  নাটাইটা টান দেবে। সোজা কথা- হেফাজতের কমিটি ভেঙে দিয়ে আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা তাদের চরিত্র পরিবর্তনের সামান্যতম উদাহরণও হতে পারে না। অন্তত বাবুনগরী তাঁর সংক্ষিপ্ত ভিডিও ভাষণে যা বলেছেন, তা বিশ্লেষণ করলে বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে যায়। শুধু তাই নয়, কমিটি ভেঙে দেওয়ার পর দ্রুত যেসব পদক্ষেপ তিনি নিয়েছেন সেগুলোও প্রমাণ করে হেফাজতে ইসলামি ডোর ছেড়েছে মাত্র। কমিটি ভেঙে দিয়ে আহ্বায়ক কমিটি গঠনকে বিষধর সাপের ছলং ধরার (চামড়া পাল্টানো ) সঙ্গে তুলনা করা যায়।

তবে হ্যাঁ, হেফাজত তাণ্ডবে তাদের আত্মবিশ্লেষণের একটা পথ অবশ্যই  করে দিয়েছে। তারা যদি মনে করে যে বাংলাদেশে প্রকাশ্য সংগঠন হিসেবে টিকে থাকবে তাহলে তাদের পথ বেছে নেওয়ার সুযোগও তৈরি হয়েছে। এতে তাদের ত্যাগও স্বীকার করতে হবে। সেটা অবশ্য শাস্তি ভোগের মাধ্যমে। দলটি যদি মনে করে তাদের ঘোষণা অনুযায়ী অরাজনৈতিক সংগঠন হিসেবে তারা টিকে থাকবে, সেই সুযোগটি গ্রহণ করতে পারে। হয়তো বা কিছুটা সহানুভূতি তৈরিও হতে পারে। ঘটনাপ্রবাহ দেখে অনুমান করা যায়, তারা মনে হয় সেই বিষয়টি ভাবতে শুরু করেছে। যেমন দলটিকে অরাজনৈতিক সংগঠন হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা। প্রকাশিত সংবাদ অনুযায়ী মনে হতে পারে তাদের আহ্বায়ক কমিটিতে রাজনৈতিক নেতাদের আর স্থান নাও দেওয়া হতে পারে। সেক্ষেত্রে প্রথমেই যে নামটি আসে তিনি হলেন মামুনুল হক। হুট করে ঝলসে ওঠে নানা কাণ্ড ঘটিয়ে তিনি নিজের ও হেফাজতের ইমেজ ধূলিতে মিশিয়ে দিয়েছেন। এই মুহূর্তে হেফাজত নেতারা কমিটি বাতিল করে দিয়ে তাকে দূরে সরানোর কাজটি হয়তো করতেও পারেন। কিন্তু খেলাফত মজলিসের অন্য নেতাদের কৌশলে দলে রেখে যদি তারা এগিয়ে যেতে চান তাহলে তাদের সুবিধা হবে বলে মনে হয় না।

খেলাফত মজলিস নেতাদের ছাড়াও বিএনপি  নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের অন্যতম শরিক জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের ৩৪ জন নেতা আছেন হেফাজতের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে। এছাড়াও নেজামে ইসলামি ও ইসলামি ঐক্যজোটের একটি অংশও তাদের নেতৃত্বের অংশ। সুতরাং কম্বলের লোম বাছার মতো অবস্থায় পড়তে হবে তাদের। কারণ, হেফাজতে ইসলামির নেতাদের অধিকাংশই কোনও না কোনও রাজনৈতিক দলের সদস্য। তাই যারা মনে করছেন, কমিটি বিলুপ্ত করে অরাজনৈতিক রূপ দেওয়া হতে পারে। এই অনুমানটা কতটা সহজ হবে তাদের জন্য। সেক্ষেত্রে আল্লামা শফীর অনুসারী মাওলানা মঈনুদ্দীন রুহী যে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন, তা নিয়েও সন্দেহমুক্ত হওয়া যায় না। তিনি হেফাজতকে রাজনীতিকরণের বিরোধিতা করেন এবং আশাবাদ ব্যক্ত করেন, হেফাজত আবার ঐক্যবদ্ধ হয়ে পথ চলতে শুরু করবে। মাওলানা মঈনুদ্দীন রুহি প্রচণ্ড ধাক্কা খাওয়ার পরও যে স্বপ্ন দেখছেন তা কি জুনায়েদ বাবুনগরী আহ্বায়ক কিংবা আমির পদে থেকে বাস্তবায়ন করতে পারবেন? ব্রাহ্মণবাড়িয়া ঘটনার প্রাক্কালে তিনি ‘রক্তের বদলা’ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে নিজের মারদাঙ্গা রূপ প্রকাশ করেছেন। আর তিনি যে সেই উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে রাজনৈতিক দলগুলোকে ব্যবহার করেছেন, তাও কি বোঝার বাকি আছে? ২০১৩ সালে শাপলা চত্বরের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন মূলত এই বাবুনগরী। তিনি তখনও রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষা পূরণেই এগিয়ে যাচ্ছিলেন, অনেকটা আল্লামা শফীকে পাশ কাটিয়ে। সুতরাং তিনি কোনও রাজনৈতিক দলের নেতৃত্বে না থাকলেও তার মূল শক্তি যে রাজনৈতিক দলগুলোই ছিল তা অস্বীকার করতে পারবেন? সুতরাং মাওলানা রুহী কিংবা তাঁর পথের নেতৃবৃন্দ যদি মনে করেন, বাবুনগরীর নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ প্ল্যাটফরম গঠিত হবে তা অবাস্তবই মনে হয়। কারণ, বাবুনগরী এই পর্যন্ত যত কর্মসূচি গ্রহণ করেছেন, তার সবই ছিল রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রসূত। প্রতিটি কর্মসূচিই পরিচালিত হয়েছে হেফাজতের নেতৃত্বে থাকা রাজনৈতিক দলগুলোর প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণে এবং সোজা কথায় রাজনৈতিক দলগুলোর নেতৃত্বে। তাই এমনটা বলা যায়, হেফাজতে ইসলামি আহ্বায়ক কমিটিতে যদি আল্লামা শফীর অনুসারী দুয়েকজনকে অন্তর্ভুক্ত করেও তারপরও তাদের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা দূর হবে না। হয়তো মামুনুল নিজের বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের কারণে আপাতত দূরে থাকতে বাধ্য হবেন। কিংবা আর দুয়েকজন নেতা হয়তো তাণ্ডব পরিচালনার অপরাধে সাংগঠনিকভাবে যুক্ত থাকতে পারবেন না। কিন্তু তাদের দূরে সরানোর আন্তরিকতা হেফাজতের থাকবে না। সেক্ষেত্রে আল্লামা শফীর অনুসারীরা যদি কোনও কারণে আহ্বায়ক কমিটিতে ঢুকতেও পারে, তাদের কার্যক্ষমতা তেমন থাকবে বলে মনে হয় না।

পূর্বে প্রকাশিত সংবাদ অনুযায়ী সরকারের সঙ্গে সমঝোতা চেষ্টায় হেফাজতকে কমিটি ভেঙে দিয়ে অরাজনৈতিক ব্যক্তিদের নিয়ে হেফাজত পরিচালনার কথা বলা হয়েছে। মনে হতে পারে, কমিটি ভেঙে দিয়ে প্রথম শর্ত পূরণ করেছে হেফাজত। কিন্তু রাজনৈতিক নেতাদের দূরে সরালে হেফাজতের শক্তি নিয়ে শঙ্কা তৈরি হতেই পারে। সেক্ষেত্রে তাদের সামনে দুটি পথ খোলা থাকবে- প্রথমত নিজেদের দুর্বলতাকে মেনে নিয়ে এগিয়ে যাওয়া, দ্বিতীয় পথটি হচ্ছে কমিটি বিলুপ্ত করে দিয়ে সরকারকে নমনীয় হওয়ার আহ্বান জানানো। তারা সম্মেলন করার কথা দুয়েক মাস পর। সেই সম্মেলনের আগে তারা জেলা পর্যায়ে সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা করবে। কিন্তু তারা কি এক্ষেত্রে রাজনীতির বাইরে যেতে পারবে? সন্দেহটা জোরালোই থেকে যাবে। প্রথম শর্ত পূরণ করে যদি তারা মনে করে গ্রেফতার হওয়া নেতাদের ব্যাপারে সরকার নমনীয় হবে, সেটাও কতটা বাস্তবভিত্তিক হবে বলা যায় না। কারণ, হেফাজত কাণ্ড যেভাবে গোটা দেশকে নাড়া দিয়েছে, অন্তত গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক ব্যবস্থায় যে অশনি সংকেত দিয়েছে, সরকার কি সেসব নেতার ব্যাপারে নমনীয় হতে পারবে?

শাপলাচত্বর ঘটনার পর নেতাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হলেও তাদের কিন্তু গ্রেফতার করা হয়নি। মামলাগুলোও ফাইলবন্দি হয়ে পড়েছিল। এবার সরকার আইনি ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হয়েছে। তাণ্ডবে যখন স্বাধীনতা, মুক্তিযুদ্ধ ও বাংলাদেশের অস্তিত্বের প্রতীকে আঘাত হানা হয়েছে, সেক্ষেত্রে আগের মতো নীরবতা পালন সরকারের পক্ষে সম্ভব হবে বলে মনে হয় না।  

এই মুহূর্তে পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করলে বোঝা যায়, সরকার পিছিয়ে যেতে পারবে না। আর হেফাজত যত চেষ্টাই করুক না কেন, তারা রাজনীতিকে বাদ দিতে পারবে না। আর যদি মিলেমিশে নতুন হেফাজত গঠনের চেষ্টাও করে সেখানে বাবুনগরীর নেতৃত্ব দোলায়মানই হওয়ার সম্ভাবনা আছে। সেক্ষেত্রে হেফাজত যদি ব্র্যাকেটবন্দি হয় তাতেও অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।

লেখক: সাংবাদিক, শিশুসাহিত্যিক ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গবেষক।
/এসএএস/এমওএফ/

সম্পর্কিত

সংসদে সব হাস্যরসই হাসির নয়

সংসদে সব হাস্যরসই হাসির নয়

কুল্লাপাথরে শায়িতদের জাতীয় মর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত করা হোক

কুল্লাপাথরে শায়িতদের জাতীয় মর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত করা হোক

গরিবের কথা একটু হলেও ভাবুন

গরিবের কথা একটু হলেও ভাবুন

গণপরিবহনে দলবদ্ধ ধর্ষণের প্রতিকার কি নেই?

গণপরিবহনে দলবদ্ধ ধর্ষণের প্রতিকার কি নেই?

ইভ্যালি: গ্রাহকের টাকা ফেরত দেবে কে?

আপডেট : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২০:২২

আমীন আল রশীদ গত জানুয়ারিতে গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, ইভ্যালির পৃষ্ঠপোষকতায় ‘অপারেশন সুন্দরবন’ নামে একটি চলচ্চিত্র বানাচ্ছে র‌্যাব ওয়েলফেয়ার কো-অপারেটিভ সোসাইটি। সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত করতে র‌্যাবের সাফল্যগাথা ও রোমাঞ্চকর অভিযানই এই সিনেমার প্রতিপাদ্য বলে জানানো হয়। ট্র্যাজেডি হলো, সেই র‌্যাবই ইভ্যালির  প্রধান নির্বাহী মোহাম্মদ রাসেল এবং তার স্ত্রী ও প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিনকে গ্রেফতার করেছে। অভিযোগ, অনলাইন ব্যবসার নামে প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাৎ।

প্রশ্ন হলো, র‌্যাবের মতো একটি চৌকস বাহিনী তাদের সিনেমা বানানোর জন্য এই ইভ্যালির কাছ থেকে অর্থ সহায়তা নেওয়ার আগে তাদের ব্যবসায়িক কার্যক্রম সম্পর্কে কেন বিস্তারিত খোঁজ নিলো না? তারা কি ইভ্যালির বিপুল গ্রাহক ও বিজ্ঞাপনের বাহার দেখে বিস্তারিত খোঁজ নেওয়ার প্রয়োজন মনে করেনি? একই কথা দেশের অনেক খ্যাতিমান অভিনেতা ও মডেলের ক্ষেত্রে, যারা এই প্রতিষ্ঠানের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডরসহ নানা কার্যক্রমে যুক্ত হয়েছিলেন। তারাও কি ইভ্যালির প্রতারণার কৌশলগুলো বুঝতে পারেননি, নাকি ইভ্যালি যে মডেলে ব্যবসা করে আসছিল, সেটি এক অর্থে ঠিকই ছিল এবং এর চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহীকে গ্রেফতার না করে তাদের নির্দিষ্ট একটি সময় বেঁধে দিয়ে গ্রাহকদের পণ্য বুঝিয়ে দেওয়ার সুযোগ দেওয়া উচিত ছিল?

যুবক, ডেসটিনি বা ইভ্যালির মতো প্রতিষ্ঠানগুলো রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের চোখের সামনেই বেড়ে ওঠে। এসব প্রতিষ্ঠান নিয়ে সচেতন মহল থেকে সতর্কও করা হয়। ইভ্যালির ব্যবসার মডেল নিয়েও অর্থনীতিবিদ ও আইনজীবীসহ নানা শ্রেণিপেশার মানুষ প্রশ্ন তুলছিলেন। কিন্তু বিপুল সংখ্যক মানুষ প্রতারিত হওয়ার আগে তাদের এসব প্রতিষ্ঠানকে কেন ধরা হয় না বা ধরা যায় না এবং ধরা পড়ার পরে কেন গ্রাহকরা তাদের টাকা ফেরত পান না—সেটিও বিরাট প্রশ্ন।

ইভ্যালির চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহীকে গ্রেফতারের পরে সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাব বলেছে, জিজ্ঞাসাবাদে তারা স্বীকার করেছেন যে তারা একটা পর্যায়ে গিয়ে প্রতিষ্ঠানটির ব্র্যান্ড ভ্যালু কাজে লাগিয়ে বিদেশি কোনও কোম্পানির কাছে বিক্রি অথবা দেউলিয়া ঘোষণার পরিকল্পনা করছিলেন। র‌্যাব জানায়, ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে চালু হওয়া ইভ্যালি এখন পর্যন্ত কোনও লাভ করতে পারেনি। অথচ তার অফিস পরিচালনা ও স্টাফদের বেতন বাবদ ব্যয় ছিল প্রায় ৫ কোটি টাকা। যার পুরোটাই গ্রাহকের কষ্টার্জিত বিনিয়োগের অর্থে। সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, ইভ্যালির মোট দায় ১ হাজার কোটি টাকার বেশি। চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ইভ্যালির দেনা দাঁড়িয়েছে ৪০৩ কোটি টাকা। তাদের সম্পদ ছিল ৬৫ কোটি টাকার। নানা পণ্য বাবদ গ্রাহকদের কাছ থেকে অগ্রিম নেওয়া হয়েছে ২১৪ কোটি টাকা। গ্রাহক ও অন্যান্য কোম্পানির কাছে বকেয়া আছে ১৯০ কোটি টাকা।

প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে ইভ্যালির প্রধান নির্বাহী ও চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে গুলশান থানায় দায়ের করা মামলায় ১৭ সেপ্টেম্বর ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তাদের রিমান্ড আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, আসামিরা তাদের সহযোগী অজ্ঞাতনামা প্রতারকসহ ইভ্যালির পণ্য বিক্রয়ের নামে নানা প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে এক গ্রাহকের তিন লাখ ১০ হাজার ৫৯৭ টাকা আত্মসাৎ করেছেন।

সুতরাং, ইভ্যালির চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহীকে গ্রেফতার করা হলো কিনা; তাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার বিচার কতদিনে শেষ হবে; সেই বিচারে তাদের কী সাজা হবে—তার চেয়ে বড় প্রশ্ন, যেসব গ্রাহক এরইমধ্যে ইভ্যালির কাছ থেকে পণ্য কিনতে কোটি কোটি টাকা দিয়েছেন কিন্তু এখনও পণ্য বুঝে পাননি, তারা আদৌ সেই পণ্য বা টাকা ফেরত পাবেন কিনা? নাকি এর আগে যুবক ও ডেসটিনির মতো এবারও গ্রাহকরা প্রতারিত হবেন? যদি গ্রাহকরা তাদের টাকা ফেরত না পান, তাহলে ইভ্যালির প্রধান নির্বাহী বা চেয়ারম্যানের ফাঁসি হলেও তাতে ভুক্তভোগীদের কিছু যায় আসে না।

এ প্রশ্নও অনেকে তুলেছেন যে মানুষ কেন ইভ্যালিতে পণ্য কিনতে গেলো? বাস্তবতা হলো, মানুষ সস্তায় পেলে বা বড় ধরনের ছাড় পেলে সেখানে দৌড় দেয়। আবার সবাই এসব অফারের প্রলোভনে পা দেয়ও না। কিন্তু যারা পা দিয়েছেন এবং প্রতারিত হয়েছেন, রাষ্ট্রের দায়িত্ব হচ্ছে সেই ভুক্তভোগীদের পাশে দাঁড়ানো। গ্রাহকদের টাকা বা পণ্য কীভাবে ফেরত দেওয়া যায়, সেই ব্যবস্থা করা। এর আগে যুবক, ডেসটিনির মতো প্রতিষ্ঠানের কর্তারা গ্রেফতার হলেও গ্রাহকরা টাকা ফেরত পায়নি। যদি তা-ই হয়, তাহলে এসব গ্রেফতারের কোনও অর্থ হয় না। বরং গণমাধ্যমে এমন খবরও বেরিয়েছে, জেলখানায় থাকার নামে হাসপাতালের কেবিনে ডেসনিটির কর্ণধার রফিকুল আমিন ‘রাজার হালে’ আছেন। তার মানে প্রতারকরা রাজার হালে থাকবেন আর বিনিয়োগকারী ও গ্রাহকরা অর্থের জন্য রাস্তায় রাস্তায় ঘুরবেন! মাল্টি লেভেল মার্কেটিং বা এমএলএম ব্যবসার নামে যুবক ও ডেসটিনি এবং সবশেষ ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালিই শুধু নয়, এরকম আরও অনেক প্রতিষ্ঠানের কর্তারা গ্রেফতার হয়েছেন; নানা মহল থেকে অস্বাভাবিক ব্যবসায়িক কার্যক্রমের বিষয়ে মানুষকে সচেতন করার চেষ্টা হয়েছে, কিন্তু সেসব সচেতনতা উপেক্ষা করে অনেকেই লোভের বশবর্তী হয়ে কিংবা সস্তায় পণ্য কেনার স্বার্থে এসব ফাঁদে পা দিয়েছেন এবং যথারীতি প্রতারিত হয়েছেন।

ইভ্যালি বা এ ধরনের ই-কমার্স সাইটগুলো যা করছিল, তা যে স্বাভাবিক ব্যবসায়িক কার্যক্রম নয়, এটি ঠিকই বলা হচ্ছিল এবং সতর্ক ক্রেতারা এদের এড়িয়ে চলেছেন। কিন্তু সব মানুষ সাবধান বা যথেষ্ট বুদ্ধিমান ও সতর্ক নন। ইভ্যালির মতো ই-কমার্স উদ্যোক্তারা হয়তো এই জনগোষ্ঠীকেই টার্গেট করেছিলে। এই কথার অর্থ এই নয় যে যারা ইভ্যালি থেকে পণ্য কিনেছেন তারা বুদ্ধিমান নন। নিশ্চয়ই অনেক বুদ্ধিমান লোকও এসব সাইট থেকে পণ্য কিনেছেন বা পণ্য কেনার জন্য অগ্রিম টাকা দিয়েছেন। তাদের অনেকে পণ্য পেয়েছেন, অনেকেই পাননি। প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহীকে গ্রেফতারের মধ্য দিয়ে পণ্য অথবা টাকা ফেরত পাওয়ার সম্ভাবনা অধিকতর ক্ষীণ হয়ে গেলো কিনা, সে প্রশ্নও গ্রাহকদের মনে আছে।

অস্বীকার করা যাবে না, ডিজিটাল বাংলাদেশ তথা সবার হাতে স্মার্টফোন ও ইন্টারনেট সুবিধা পৌঁছে যাওয়া এবং মানুষের ঘরের ভেতরে পণ্য পৌঁছে দেওয়ার সুবিধা কাজে লাগিয়ে দেশে দ্রুতই জনপ্রিয় হতে থাক ই-কমার্স সাইটগুলো। বিশেষ করে করোনাকালে মানুষের চলাচল নিয়ন্ত্রিত হওয়ায় ঘরে সব পণ্য পৌঁছে দেওয়ার সুবিধা কাজে লাগিয়ে আরও বিকশিত হতে থাকে ই-কমার্স সাইটগুলো।

অনেক তরুণ এই ই-কমার্সে ব্যবসা করে, তথা অনলাইনে পণ্য বিক্রি করে স্বাবলম্বী হয়েছেন। অনেকে বড় উদাহরণও তৈরি করেছেন। বিশেষ করে নারীদের বিরাট অংশ—যারা চাকরির পেছনে না ছুটে এই অনলাইন প্ল্যাটফর্ম কাজে লাগিয়ে নানারকম ব্যবসায় যুক্ত হয়েছেন। কেউ পাইকারি বাজার থেকে কম দামে পোশাক-প্রসাধনীসহ নানারকম ফ্যাশনেবল পণ্য কিনে; কেউ নিজের ঘরে খাবার বানিয়ে বিক্রি করে নিজের পায়ে দাঁড়িয়েছেন। অনেকে একত্রে বড় বড় প্ল্যাটফর্মও গড়ে তুলেছেন। কিন্তু সমস্যা হলো, যেহেতু এটি বাংলাদেশে একেবারেই নতুন একটি ধারণা, ফলে এই শূন্য গোয়ালে অনেক দুষ্ট রাখালও ঢুকে গেছে—যারা মানুষকে অবিশ্বাস্য সব অফার দিয়ে বা চটকদার বিজ্ঞাপনে বিমোহিত করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। প্রতারণার দায়ে অনেকে গ্রেফতারও হয়েছে। কিন্তু তারপরও এই প্রবণতা বন্ধ হচ্ছে না।

গত ১৮ আগস্ট আরেকটি ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ই-অরেঞ্জের মূল মালিক সোনিয়া মেহজাবিন ও তার স্বামী মাসুকুর রহমানকে আইনের আওতায় নেওয়া হয়েছে। ই-অরেঞ্জের বিরুদ্ধে ১১০০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ তুলেছেন গ্রাহকরা। একইভাবে আলেশা মার্ট, সিরাজগঞ্জ শপ, পেপারফ্লাইসহ বিভিন্ন ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে।

এ রকম বাস্তবতায় অনলাইন ব্যবসায় একটি গ্রাহক ও ব্যবসাবান্ধব নীতিমালা করা জরুরি। শুধু গ্রাহক নয়, বরং যারা সৎভাবে অনলাইনে ব্যবসা করেন, তাদের স্বার্থেও এ রকম একটি নীতিমালা করা জরুরি। না হলে ইকমার্সের নামে প্রতারণা এবং অবিশ্বাস্য ছাড় দিয়ে কিছু লোককে সুবিধা দেওয়া এবং বিনিময়ে বিশাল অংশের মানুষকে প্রতারিত করার প্রবণতা বন্ধ হবে না।

সর্বোপরি, ইভ্যালির গ্রাহকরা যেন আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত না হন, সে বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। এ জন্য কোনও কার্যকর উপায় খুঁজে বের করতে হবে। কিন্তু অতীতের যুবক ও ডেসটিনির অভিজ্ঞতা বলছে, সেই সম্ভাবনা ক্ষীণ। তাছাড়া ইভ্যালির মালিকের স্থাবর অস্থাবর সম্পত্তি যা আছে, রাষ্ট্র যদি সেগুলো বিক্রি করেও গ্রাহকদের টাকা ফেরত দিতে চায়, সেটিও সম্ভব কিনা, তাও নিশ্চিত নয়। তবে মোদ্দা কথা হলো, অফার দেখলেই সেখানে ঝাঁপিয়ে পড়ার প্রবণতাও বন্ধ করা দরকার। প্রতারিত হওয়ার পরে হায় হায় করার চেয়ে প্রতারিত যাতে হতে না হয়, সেজন্য লোভটাকেও সংবরণ করা দরকার।

লেখক: কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স এডিটর, নেক্সাস টেলিভিশন।

/এসএএস/এমওএফ/

সম্পর্কিত

ঘুষ খেলে নামাজ হবে না, নাকি চাকরি থাকবে না?

ঘুষ খেলে নামাজ হবে না, নাকি চাকরি থাকবে না?

সাংবাদিকদের এত ভয় কেন?

সাংবাদিকদের এত ভয় কেন?

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের চেয়ে পরিবারেই বুলিং বেশি

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের চেয়ে পরিবারেই বুলিং বেশি

‘ক্রাইম অ্যান্ড পানিশমেন্ট’

‘ক্রাইম অ্যান্ড পানিশমেন্ট’

করোনার করুণ কাহিনি: ‘আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালোবাসি’ (২)

আপডেট : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১৮:০৮

মাকসুদুল হক ‘তোমার এই খেলাঘরে শিশুকাল কাটিল রে,

তোমারি ধুলামাটি অঙ্গে মাখি ধন্য জীবন মানি’– রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

১. গেলো সপ্তাহের লেখায় দৃঢ় প্রত্যয়ে বলেছিলাম, বাংলাদেশ নিয়ে কোনও ভবিষ্যদ্বাণী করা সম্ভব না; ও প্রতিজ্ঞাবদ্ধ ছিলাম এই সপ্তাহে তা নিয়ে বিস্তারিত আলাপ করবো। তবে, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২১ যখন লিখতে বসেছি, কাকতালীয়ভাবে একটা ‘ভীতিকর’ ভবিষ্যদ্বাণী ফের চোখের সামনে এসেছে।

বিশ্বব্যাংক ১৩ সেপ্টেম্বর এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলছে, ‘জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ২০৫০-এর ভেতরে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় প্রায় ২ কোটি মানুষ অভিবাসন করবে। একই সময়ে সমগ্র দক্ষিণ এশিয়ার অর্ধেক জনগোষ্ঠী ওই একই কারণে ‘সম্ভবত’ অভিবাসন করবে।’

বাংলাদেশে সম্ভবত এই ভয়াল চিত্রের মূল কারণ বলা হচ্ছে, নদীমাতৃক দেশটি পানির স্বল্পতা বা অভাব দেখা দেবে, খাদ্যশস্য ফসলের বিনষ্ট বা ধ্বংস হবে, ভূমি হ্রাস হবে ও বঙ্গোপসাগরের পানি অধিক বৃদ্ধি পাওয়াসহ ঝড়, সাইক্লোন, সুনামি ইত্যাদির মতো চরম প্রাকৃতিক দুর্ঘটনা ঘটবে।

শুধু তা-ই নয়, বলা হচ্ছে, এসব ঘটনার হটস্পট দেশগুলোকে চিহ্নিত করা যাবে ২০৩০ সালে, অর্থাৎ আগামী ৮ বছরের ভেতরে। ২০১৮ সালে বিশ্বব্যাংক বলেছিল, বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বকোণে ধান চাষাবাদ করা অঞ্চলগুলো থেকে এই অভ্যন্তরীণ অভিবাসন প্রক্রিয়া সূত্রপাত হবে।

উল্লেখ্য, বহু বছর আগেই ভবিষ্যদ্বাণী দেওয়া আছে– ২০৫০ বা ২৯ বছরের ভেতরে বাংলাদেশের মাটির আয়তনের প্রায় অর্ধেক বঙ্গোপসাগরের নিচে তলিয়ে যাবে। তাই আগামী ৮ বছরে বাংলাদেশ যে জলবায়ু পরিবর্তনের হটস্পট হতে যাচ্ছে তা পশ্চিমা ‘বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ’ থেকে বিশ্লেষণ করে এসব তথ্য বিশ্বাস না করা ছাড়া এই মুহূর্তে আমাদের কি কিছু করার আছে?

২. তবে আশার আলো এক জায়গায়।

বাংলাদেশ সরকার এ বিষয়ে হাত গুটিয়ে বসে নেই। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বিশ্বের অন্যান্য ক্ষতিগ্রস্ত দেশের মতো এ নিয়ে আমাদের চলছে শক্তিশালী লবিং ও জাতিসংঘ ছাড়াও পৃথিবীর অন্যান্য ফোরামে বাংলাদেশ ও তার মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সরব উপস্থিতি আমাদের প্রস্তুতি ও দাবি দাওয়া বিষয়ে কোনও রকম ছাড় দিচ্ছে না।

ভবিষ্যতের এই সম্ভাব্য বিপর্যয় রুখে দেওয়ার জন্য যত রকম দেনদরবার করা তা চালিয়ে যাচ্ছে ও বাংলাদেশ অগ্রিম ‘ক্ষতিপূরণ’ দাবি করছে। যেহেতু উন্নত প্রথমা বিশ্বের ধনী দেশগুলোর পরিবেশ সংক্রান্ত দায়িত্বহীন আচরণ, তাদের ভোগবাদী সামাজিক ব্যবস্থা ও যাচ্ছেতাই ব্যবহারের জন্য আমাদের আগামীর দিনগুলো প্রশ্নবিদ্ধ– এই ক্ষতিপূরণ দাবি করা অবশ্যই যৌক্তিক, মানবিক ও আন্তর্জাতিক আইনসম্মত।

এই বিপর্যয় মোকাবিলা করার জন্য যে পরিমাণ অর্থের জোগান প্রয়োজন, তার তুলনায় প্রাপ্ত অর্থ অপ্রতুল ও স্বল্প হলেও তা নিয়েই মাঠ পর্যায়ের কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। কিন্তু উন্নত দেশগুলোর ১০০ বিলিয়ন ডলার প্রদানের প্রতিশ্রুতি এখনও সুরাহা হয়নি ও এ নিয়ে তাদের গড়িমসি খুবই লজ্জাজনক।

তবে ইতিবাচক বিষয়টা হলো, বাংলাদেশ কারও কাছে কোনও দান-খয়রাত চাচ্ছে না। আবারও বলছি–চাচ্ছে উন্নত দেশগুলোর বেপরোয়া ও প্রকৃতির প্রতি যে কেয়ারলেস এবং বিধ্বংসী আচরণ, যার বলি আমাদের মতো সমুদ্র উপকূলীয় দেশের মানুষেরা তার ন্যায্য ক্ষতিপূরণ ও সেই প্রয়াসে তার স্বচ্ছতা, বুদ্ধিমত্তাসহ বলিষ্ঠ পররাষ্ট্রনীতির ছাপ রাখে।

৩. যেহেতু বাংলাদেশ পৃথিবীর কোনও দেশ বা জাতিকে স্বেচ্ছায় বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কোনও ক্ষতিসাধন করেনি– আমাদের স্বকীয় জলবায়ু নীতি ও ভূমিকা ‘রোল মডেল’ হিসেবে সমগ্র বিশ্ব এখন সূক্ষ্ম দৃষ্টি দিয়ে অবলোকন করছে ও তা প্রশংসিত হচ্ছে।

তবে মূল বিষয়টা হচ্ছে– যুগ যুগ ধরে ক্ষমতার দাপট, যুদ্ধ ও দাঙ্গা বাঁধিয়ে সমগ্র অনুন্নত ও দরিদ্র দেশগুলোর ওপরে ছড়ি ঘুরিয়ে দাম্ভিকতায় মাতাল উন্নত দেশগুলো আজ প্রকৃতির ভয়াল ছোবল ও প্রতিশোধের সম্মুখীন।

ধরিত্রী মাকে ‘ক্রয়’ করে নিয়ন্ত্রণ করার ব্যর্থ চেষ্টা করলেও প্রকৃতিকে যে নিয়ন্ত্রণ করা যায় না ও মানুষ যে ‘প্রকৃতিরই দাস’ এই সত্যের উপলব্ধিতে আজ সমগ্র বিশ্ব শঙ্কিত।

গেলো ১৮ মাসে করোনা ও কোভিড ১৯-এর ভয়াবহতায় যখন পৃথিবী হিমশিম খাচ্ছিলো, আমরা ঠিকই লক্ষ করলাম ধনী দেশগুলোর ওপরে প্রকৃতির নিদারুণ প্রতিশোধ।

সমগ্র ইউরোপসহ অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, আমেরিকা, রাশিয়া, ব্রাজিলে অপ্রত্যাশিত বনঅরণ্যে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা, বন্যা, চরম তাপ উত্তাপ একদিকে, অপর দিকে শৈত্যপ্রবাহসহ লাগামহীন তুষারপাত ইত্যাদি ছাড়া  মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে গেলো মাসে ঘটে যাওয়া তাদের ইতিহাসের সবচেয়ে বিভীষিকাময় টর্নেডো ও বন্যা কি প্রমাণ করে না যে প্রকৃতিরও ধৈর্যের ও সহ্যের সীমা আছে, প্রকৃতি তার নিজের নিয়মে চলে, মানুষের নিয়মে না?

পশ্চিমা উন্নত দেশগুলোর এত বুদ্ধি, এত মেধা, এত বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার, এত প্রযুক্তির নির্ভরতা, এত যুদ্ধাস্ত্র ব্যবহার, এত নিরীহ মানুষ হত্যা করার পর, তাদের এই ‘নব্য উপলব্ধি’ ও প্রকৃতির কাছে আত্মসমর্পণ সত্যি প্রমাণ করে বিশ্ব আজ এক অভূতপূর্ব অধ্যায়ে অনুপ্রবেশ করেছে, যা আমাদের পূর্বপুরুষ ও প্রজন্ম কখনোই কল্পনাও করতে পারেনি।

হিতার্থে একটি কথা পরিষ্কার– প্রকৃতি তার প্রতিশোধ অবশ্যই নেবে ও তা নিতে সে ঠিক এই মুহূর্তে বদ্ধপরিকর।

৪. প্রকৃতি প্রতিশোধ কেনই বা নেবে না, যখন পশ্চিমা বিশ্ব প্রযুক্তি দ্বারা দূরবর্তী দেশগুলোতে প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের ঘটনা, যেমন- ঘূর্ণিঝড় এমনকি ভূমিকম্প ঘটাবার ক্ষমতা রাখে? প্রকৃতিকে যে  ‘ওয়াপনাইজ’ করা হচ্ছে,  তার যথেষ্ট আলামত থাকা সত্ত্বেও, প্রকাশ্যে তা নিয়ে কোনও আলাপচারিতা নেই কেন?

কোভিড-১৯ ভাইরাস দ্বারা উন্নত দেশগুলোর সমগ্র মানবজাতির ওপরে চলমান জুলুমের প্রতিশোধ যে শুরু হয়ে গেছে তা সন্দেহাতীত। এই কথার সত্যতা পাওয়া যাবে আমার আগের অনেক লেখায়। উন্নত দেশগুলোর করোনার শুধু মৃত্যুর হার অনুন্নত দেশগুলোর সঙ্গে যদি তুলনা করা যায়– তা কি যথেষ্ট প্রমাণ নয়?

বাংলাদেশের মানুষকে খুন করে, আমাদের অর্থনীতি ও হতদরিদ্রের ভাগ্য ধ্বংস করার এই নিষ্ঠুর ষড়যন্ত্রে–(করোনার শহীদদের প্রতি সম্মান রেখেই বলছি) আমাদের ৩০,০০০-এর কিছু বেশি মৃত্যু যে আলবৎ একটা ‘বিশ্ব রেকর্ড’ তা কি ‘থানাটোফোবিয়া’ (মৃত্যু আতঙ্কের মানসিক রোগ) ছড়ানো মিডিয়া স্বীকার করবে–তা নিয়ে দুই লাইন প্রশংসা কোথাও কি কেউ দেখেছেন, শুনেছেন?

৫. তাতে কি এ প্রমাণ হয় না যে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ‘ফলো দ্য সায়েন্স’ বা বিজ্ঞানকে অনুসরণ করো প্রোপাগান্ডামূলক ভবিষ্যদ্বাণী বাংলাদেশের আপামর জনগণ প্রত্যাখ্যান কেবল করেনি, সে তা প্রতিহত করেছে তার আত্মার শক্তি দিয়ে, তার প্রকৃতি ও গরিমা সংস্কৃতি, এবং অতি গুরুত্বপূর্ণ- তার মাটির খুব কাছাকাছি থেকে?

বাংলাদেশের মাটি কতটা ‘পবিত্র’ তা কি আমরা চিন্তায় রাখি?

এই মাটিতে প্রতি ৫ কিলোমিটার অন্তর অন্তর হাজারও মহামানব, আধ্যাত্মিক সাধক, পীর, গুরু, সন্ন্যাসী, আউলিয়া, কামেল, সাঁই,  ফকির, দরবেশ, ওলামায়ে একরামগণ ‘চিরজাগ্রত নিদ্রায়’ শায়িত আছেন। এই বুজুর্গরা যে আমাদের দরিদ্রের ভাগ্যের ওপর সব সময় কড়া নজর রাখছেন তা আমরা না বিশ্বাস করি, না আছে আমাদের কোনও প্রকার ভক্তি-শ্রদ্ধা।

বলুন দেখি– কোন পশ্চিমা দেশে তাদের নিজস্ব পবিত্র আত্মাগণ তাদের মাটি পবিত্র করেছেন? যা আছে অতি নগণ্য, বা নেই বলা যায়। নেই বিধায় সেই দেশগুলোতে ভারতীয় উপমহাদেশের শত শত আধ্যাত্মিক ব্যক্তিবর্গ, গুরু, সুফিদের আনাগোনা।

৬. এসব কথা কেবল চিন্তার খোরাক নয়, এ বাস্তব উপলব্ধির দর্শন, যা আমাদের ‘অতি ফ্যাশনেবল’ শহুরে না রাজধানীকেন্দ্রিক মানুষের নেই কোনও জ্ঞান, নেই কোনও জানার আগ্রহ বা প্রচেষ্টা।

সব কিছুই ‘অবৈজ্ঞানিক ও কুসংস্কর’ বলে গরিমা সংস্কৃতিকে তুচ্ছ করে, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর বিশ্বাসকে অবজ্ঞা করে, আজকের সমাজের, আজকের প্রজন্মের কৃত্রিমতায় সৃষ্ট অসংবেদনশীলতা গেলো ১৮ মাসে আমরা দুঃখভারাক্রান্ত চিত্তে নীরবে প্রত্যক্ষ করলাম।

‘মূল্যবোধের অবক্ষয়’– তা নিয়ে না হয় কিছুই বললাম না। নিজেদের জাতি, নিজের মাটি বা নিজেদের মূল্য আসলেই কী, তা যেহেতু জানা, বোঝার ইচ্ছাটুকুই নেই, মূল্যবোধের এসব ‘ফাঁকা বুলি’ আওড়ানোর কোনোই অর্থ হতে পারে না।

৭. আমি বারবার বলেছি, কোভিড-১৯ কোনও ভাইরাস নয়, এ হচ্ছে ‘মনস্তাত্ত্বিক তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ’ এবং তা যে শেষ হয়ে গেছে, তা মনে করা অকালপক্বতা বা ভুল হবে না, তা হবে ক্ষমা অযোগ্য পাপ। শত্রু আমাদের সহজে ছাড়বে না এবং নতুন নতুন ‘প্যাকেজড’ মৃত্যু ও জীবন জীবিকা হারানোর আতঙ্ক ছড়িয়ে আমাদের ‘দৌড়ের ওপরে’ রাখবে।

একই ধারাবাহিকতায় বিশ্বব্যাংকের এই নতুন ভবিষ্যদ্বাণী যে সেদিকেই ইঙ্গিত দিচ্ছে তা বুঝতে নিঃসন্দেহে আমাদের খুব বেশি বেগ পেতে হবে না।

সব ভালোর যেমন শেষ আছে, সব খারাপেরও শেষ আছে– প্রশ্ন হচ্ছে সব সদিচ্ছা থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশের হাজার বছরের অধিক দুর্দিনের সমাপ্তি কি ঘটবে না?

তার নিপীড়িত, হতদরিদ্র জনগোষ্ঠীর ভাগ্যের কি কখনও কোনও দৃশ্যমান ও উপযুক্ত পরিবর্তন আমরা আশা করতে পারবো না?

আমাদের জীবনদশায় স্থায়ী পরিবর্তন আমরা কি দেখে যেতে পারবো, নাকি ‘দারিদ্র্য মোচন’র কথা বলার পর দরিদ্র প্রান্তিক জনগাষ্ঠীর ‘ভিক্ষার থালা’ পেটের ক্ষুধা, ও শিশুদের আর্তনাদ হয়ে থাকবে সব সময়কার জন্য জাতির ‘স্থায়ী প্রতীক’?

আমাদের ধনী গরিবের যে আকাশচুম্বী বৈসাদৃশ্য, যা দেখে আমরা বহুকাল ধরে অভ্যস্ত হয়ে গেছি- বা ‘গরিব তো না খেয়ে মরবেই’র মতো অপবিত্র উচ্চারণ, তা কি হয়ে যাবে আমাদের ‘জাতীয় মুদ্রাদোষ’?

‘সোনার বাংলা’র স্বপ্ন কি জাতীয় সংগীতের ৮ লাইন পর্যন্ত সৌজন্যমূলক সীমাবদ্ধতায় আবদ্ধ থাকবে, নাকি সমগ্র বাঙালি জাতি বিশেষ করে তার ৯০ ভাগ প্রান্তিক জনগোষ্ঠী আরেকবার সব অন্যায়, সব জুলুম, সব অবিচার, সব বৈষম্যের বিরুদ্ধে মাথাচাড়া দিয়ে ফের জেগে উঠবে তার ন্যায্য হিস্যা বুঝে নিতে?

যে ভবিষ্যদ্বাণী পশ্চিমা বিজ্ঞান আমাদের দিচ্ছে তার উল্লেখযোগ্য ও পরিতৃপ্তির বিষয়টা হলো, ‘যাহা কিছু ঘটিবে তা রাতারাতি ঘটিবে না’– ঘটবে ধীরে বহু ধীরে, বলা হচ্ছে ৮ থেকে ২৪ বছর সময়কাল ধরে।

তা খুবই ভালো কথা, কারণ এর উপসংহার: আজকের, এই মুহূর্তের পৃথিবীর বায়ুদূষণের মাত্রা, তা সত্য হোক আর মিথ্যাই হোক, তা নির্ণয় করেই এসব ফাজুল কথা বলা হচ্ছে।

৯. কিন্তু এমন কোনও গ্যারান্টি কি বিজ্ঞান আমাদের দিতে পারবে যে মানুষসৃষ্ট কোনও ‘আকস্মিক ঘটনা’ যেমন পারমাণবিক বোমা বা কোনও ‘অনিচ্ছাকৃত দুর্ঘটনার’, আরেকটি প্যান্ডামিক, আরেকটি ছোট মাঝারি বা বড় যুদ্ধের কারণে প্রকৃতির এই ধ্বংসাত্মক প্রতিক্রিয়া ‘ত্বরান্বিত’ হবে না?

প্রথমা বিশ্বের সব কথা, নির্দ্বিধায়, বিনা প্রশ্নে আমরা কি কারণে এতটা ‘অকুণ্ঠ ইমান’ নিয়ে বিশ্বাস করছি, যখন অতীত ও সাম্প্রতিক ইতিহাস বলছে তার কোনও কথাই বিশ্বাসযোগ্য না, এবং এই ‘নিউ ওয়ার্ল্ড অর্ডার’-এর সবচেয়ে দুর্বিষহ অস্ত্র হলো মিথ্যা?

তাছাড়া রয়েছে মিডিয়া ও হাতের গণনায় অতি নগণ্য তথাপি তোষামোদকারী ‘চামচা শ্রেণি’র ‘ক্ষমতাবান ও প্রতিপত্তিশালী’ মানুষ ও তাদের হীন চক্রান্ত ও ব্যক্তিস্বার্থ, যে শ্রেণির বাংলাদেশেও কোনও কমতি নেই।

আমরা কি এতটাই ‘বেকুব’ যে এও জানি না সমগ্র বিশ্বের অর্ধেক সম্পদের মালিকানা মাত্র ৮ জন ব্যক্তির হাতে ন্যস্ত? তারা ট্যাক্স ফাঁকি দেয় ও দরিদ্রের মজুরি সর্বনিম্নে নামিয়ে, রক্ত চুষে মুনাফা করে ও ক্ষমতার জোর খাটিয়ে রাজনীতি, রাষ্ট্র ও সমাজকে প্রভাবিত করে– নিয়ন্ত্রণ করে?

বাংলাদেশে যাদের আমরা ‘বহুজাতিক কোম্পানি’ বলি ও তাদের গোলামি করার সুযোগ পেলে নিজেদের ধন্য মনে করে বাহবা দিতে থাকি– তারাও যে ওই একই গরিবের রক্তচোষা যন্ত্রের ‘চালিকাশক্তি’- তা কি আমরা টের পাই?

১০. দয়াল আমাদের ক্ষমা করুক– যদি আসলেই কোনও অভাবনীয় বা অকল্পনীয় ঘটনা জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ঘটে যায়, যদি আক্ষরিক অর্থে বাংলাদেশের অর্ধেক জনগণ বুঝতে পারে তাদের ‘পায়ের নিচে মাটি নেই’ বা জল এসে তার ‘পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে’, তখন সে কি ‘ইয়া নপসি ইয়া নপসি’ জিকির করবে নাকি অন্যত্র, অন্য দেশে পালাবে?

কার সঙ্গে সে তখন যুদ্ধ করবে যখন শত্রু কোভিড-১৯-এর মতো ‘অদৃশ্য’, যখন শত্রু তার একটি মিথ্যা বাঁচিয়ে রাখার জন্য হাজারও নতুন মিথ্যা, ঘণ্টায় ঘণ্টায়, মিনিটে মিনিটে, সেকেন্ডে সেকেন্ডে আবিষ্কার করে প্রয়োগ ও নির্বিচারে ব্যবহার করবে?

আদতে আমাদের পালানোর কোনও পথ কি খোলা আছে, নাকি আমরা ‘এই দেশেতে জন্ম যেন এই দেশেতে মরি’ গাইতে গাইতে চোখ বুজে ‘না ফেরার দেশে’ গমন করবো?

১১. আপনারাই ভেবে বলুন তো– কোন পার্শ্ববর্তী ‘বন্ধুপ্রতিম’ দেশ বা রাষ্ট্র আমাদের ২ কোটি মানুষকে স্থায়ীভাবে থাকার জন্য জায়গা বা কর্মসংস্থান করে দেবে, যখন সবাই নিজেদের আখের গোছানো নিয়ে থাকবে ব্যস্ত?

উদাহরণস্বরূপ– প্রায় ৮ লাখ রোহিঙ্গা এসে আমাদের সীমান্তে প্রাণ বাঁচানোর দায়ে পৌঁছানো মাত্রই আমরা দ্বার খুলে দিয়ে ‘মানবিক’ আচরণ করি।

‘ও মা গরিবের ধন যা আছে তাই দিবো চরণ তলে’– আমাদের গরিবের সীমিত সম্পদের চাপ থাকা সত্ত্বেও তাদের সঙ্গে ভাগাভাগি করে চলছি বছরের পর বছর।

এই মানুষগুলোকে না মিয়ানমার ফেরত নিচ্ছে, না কোনও পার্শ্ববর্তী রাষ্ট্র, না বিশ্বের অন্য কোনও দেশের আছে মাথা ব্যথা, না কেউ এগিয়ে আসছে তাদের অভিবাসনে সাহায্য করার জন্য।

বলা হচ্ছে, তারা মুসলিম হওয়ার কারণেই তাদের ভিটামাটি থেকে বিতাড়িত করা হয়েছে, তাদের ওপরে চলেছে গণহত্যার মতো জঘন্যতম অপরাধ।

সবই সত্য, সবকিছুই মেনে নিলাম– কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে ‘এক দেহ, এক মন, এক ভাগ্য’ দাবিদার বিশ্বভ্রাতৃত্ব, তথাকথিত ‘মুসলিম উম্মাহ’ আজ কোথায়?

১২. কোনও রোহিঙ্গাকে এ পর্যন্ত কি কোনও মুসলিম রাষ্ট্র নিয়ে গেছে? যখন মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিম দেশের সম্পদ, বা জমি তাদের চাহিদার অতিরিক্ত আছে, যখন তাদের ব্যবসা-বাণিজ্য, চাষ আবাদ থেকে শুরু করে গৃহপরিচারিকা, ড্রাইভার, মালি, দোকানপাটের সেলসম্যান পর্যন্ত সবই বিদেশি শ্রমিকদের ওপরে ৮০ ভাগ বা তার ঊর্ধ্বে নির্ভরশীল?

যখন সংযুক্ত আরব আমিরাতে ভিনদেশের অভিবাসীর সংখ্যা তার নিজস্ব নাগরিকের চেয়ে অনেক বেশি।

খুবই দুঃখজনক হলেও কথাটা সত্য; যতই আমরা ইসলাম বা মুসলিমত্ব নিয়ে বড়াই করি না কেন, অঢেল ধন সম্পদ, তেল, স্বর্ণ, হীরা, জহরত এমন কি সুলাইমান নবীর গুপ্তখনি আরব দেশে আবিষ্কার হয়েছে এ গুজব থাকলেও, অন্য মুসলিমের বিপদে এসব মুসলিম সাহায্য করতে এগিয়ে এসেছে, তেমনটা দেখা যায় না।

অতি সম্প্রতি ইরাক, সিরিয়া, আফগানিস্তান ইত্যাদি দেশগুলোর মুসলিম জনসাধারণ যুদ্ধ থেকে প্রাণ বাঁচানোর তাগিদে পায়ে হেঁটে হলেও হাজার হাজার মাইল পথ ধরে আবাল-বৃদ্ধ-বনিতা তার জাতশত্রু ‘ইহুদি, খ্রিষ্টান, নাসারা’র দেশ তথা ইউরোপ বা আমেরিকাতে ছুটবে। ভুলেও দেখবেন না তার পার্শ্ববর্তী কোনও মুসলিম রাষ্ট্র স্থায়ীভাবে তাদের থাকার কোনও সুবিধা করছে বা তার কষ্টের ভাগ নিচ্ছে।

গেলো মাসেই আমরা দেখলাম ১ লাখ ২০ হাজারের ও বেশি আফগান মুসলিম প্রাণ নিয়ে কাবুল থেকে ইউরোপ ও আমেরিকার বিমানে চড়ে পালিয়েছে– কোনও মুসলিম দেশে নয়।

ধর্ম আজ রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবেই ব্যবহার হচ্ছে, কিন্তু ইসলামসহ প্রতিটি ধর্ম আদতে এসেছে মানব কল্যাণের উদ্দেশ্যে।

ধর্মীয় শিক্ষা, ধর্মীয় অনুভূতি, ধর্মীয় অনুশাসন, ধর্মীয় জিহাদ, এমনকি ‘ইসলামিক রাষ্ট্র’ আমরা মুখে মুখে ঠাওরালেও ধর্মের মূল বাণী থেকে পশ্চিমা প্রহসন, উসকানি ও বেকুবির কারণে আমরা বহু দূর সরে গেছে।

আজ পশ্চিমা দেশগুলোর শক্তির মূল সম্বল ও সম্মান তার জনগণের আর্থিক সচ্ছলতা।

যদিও পবিত্র কোরআন বলছে, ‘সৃষ্টিকর্তা ব্যক্তিদারিদ্র্য বরদাশত করেন না’– এই সমমাত্রিক মূল বাণীটি মুসলিম নয়– অমুসলিম ইউরোপীয় দেশগুলো (কানাডা) কাজে লাগিয়ে - সৃষ্টি করেছে ‘সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার স্টেট’ বা সামাজিক কল্যাণ রাষ্ট্র।

প্রতিটি নাগরিকের জীবন, জীবিকা, স্বাস্থ্য, শিক্ষা সুনিশ্চিত করে রাষ্ট্র। তার ওপরে আছে বেকারত্বের ভাতা।

তেমন সামাজিক কল্যাণ রাষ্ট্র কোনও মুসলিম দেশে আজ ১৫০০ বছরেও দেখা যায়নি।

মুসলিম প্রধান বাংলাদেশ কি সে রকম একটা রাষ্ট্র সৃষ্টি করে সমগ্র বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিতে পারবে না?

আমি মনে করি, সদিচ্ছা থাকলে ইনশাআল্লাহ পারবে!

(চলবে)

লেখক: সংগীত শিল্পী

 

/এসএএস/এমওএফ/

সম্পর্কিত

করোনার করুণ কাহিনি: ‘আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালোবাসি’ (১)

করোনার করুণ কাহিনি: ‘আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালোবাসি’ (১)

করোনার করুণ কাহিনি: গালি, তালি, পরীমণি ও প্রজন্মের বিদ্রোহ

করোনার করুণ কাহিনি: গালি, তালি, পরীমণি ও প্রজন্মের বিদ্রোহ

করোনার করুণ কাহিনি: করোনা কি বাংলাদেশ ছেড়ে পালিয়েছে?

করোনার করুণ কাহিনি: করোনা কি বাংলাদেশ ছেড়ে পালিয়েছে?

করোনার করুণ কাহিনি: তালেবানের কাবুল দখল ও ‘ইয়াঙ্কি জিহাদি’

করোনার করুণ কাহিনি: তালেবানের কাবুল দখল ও ‘ইয়াঙ্কি জিহাদি’

শিক্ষক ও মর্যাদার সংকট

আপডেট : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১৬:৩২

তুষার আবদুল্লাহ কতদিনই তো বলেছি, লিখেছি শিক্ষক খুঁজে বেড়াই। শহর-গ্রাম, প্রাথমিক- বিশ্ববিদ্যালয়, দুর্লভ হয়ে উঠছেন শিক্ষক। যদি ‘পদ’ বিবেচনায় বলি সর্বত্র আছেন তাঁরা। পাঠ্যক্রম অনুসারে পাঠদান করে যাচ্ছেন শ্রেণিকক্ষে এবং শ্রেণিকক্ষের বাইরে। এই পদধারী শিক্ষকদের আমার আর দশটা চাকরিজীবীদের মতোই মনে হয়। শিক্ষক বলতে ছোটবেলা থেকে যাদের দেখেছি, তাদেরকে পরিচয় করিয়ে দিতে হয়নি। দেখেই বুঝে নেওয়া যেত ‘তিনি’ শিক্ষক। শুধু বিদ্যায়তনে নয়, গ্রামে, মহল্লায় যিনি শিক্ষকতা পেশার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, তাঁকে আমরা চিনি নিতাম তাঁর নৈতিক আচরণ, কথা বলার ভঙ্গী, চলাচলের ঋজুতা, সর্বোপরি ব্যক্তিত্ব দিয়ে।

আজকাল বিদ্যায়তনে গিয়েও চিনে নেওয়া মুশকিল কে শিক্ষক। আমরা যাদের শিক্ষক বলে জেনে এসেছিলাম, তাদের বেশিরভাগই শিক্ষকতার এসেছিলেন, এই পেশাকে ভালোবেসে। তারা জানতেন এই পেশা সমাজের সর্বোচ্চ মর্যাদাপ্রাপ্ত। একই সঙ্গে তাদের ছিল নিজের জ্ঞানকে অন্যের মাঝে বিলিয়ে দেওয়ার স্পিৃহা। সেই সময়ের শিক্ষকরা আর্থিকভাবে সচ্ছল ছিলেন না। বিশেষ করে স্কুলের শিক্ষকদের নিয়ে নাটক সিনেমায় হেঁয়েলি করেই বলা হতো ‘গরিব স্কুল মাস্টার’। যারা কোচিং, টিউশনিতে বাজিমাত করতে পারেননি, তারা এখনও গরিবের সীমারেখা অতিক্রম করতে পারেননি। আর্থিকভাবে যেমন দারিদ্রের সীমা ডিঙানো যায়নি, তেমনি আবার ধীরে ধীরে শিক্ষকরা সম্মানের জায়গাতে গরিবের সীমানায় ঢুকে পড়েছেন। সমাজের আর্থিক সচ্ছ্লতা যত বেড়েছে, শিক্ষকের সম্মান ও মর্যাদা কমেছে তারচেয়েও বেশি। এর একটি বড় কারণ, শিক্ষকদের একটি বড় অংশের  চাকরি এখন কারখানার শ্রমিকের মতোই মালিকের ইচ্ছের ওপর নির্ভরশীল। শ্রমিক তুল্য পেশায় যোগ্য শিক্ষক দুর্লভ হবেন এটাই স্বাভাবিক।

শিক্ষামন্ত্রী শিক্ষা দিবসের একটি অনুষ্ঠানে বলেছেন, ‘অন্য কোনও পেশায় কাজ জুটাতে না পেরে অনেকে শিক্ষকতায় এসেছেন।’ কথা সত্য। কিন্ডারগার্টেন, প্রাথমিক, উচ্চ মাধ্যমিক থেকে শুরু থেকে বিশ্ববিদ্যালয় অবধি একথা নিশ্চিন্তে বলা যেতে পারে।

বিসিএস শিক্ষার বেলাতেও একই কথা। সরকারি স্কুল-কলেজে পড়ার অভিজ্ঞতা আমার নিজেরই আছে। স্কুলের বেলাতে দেখেছি স্কুলটি সরকারি হওয়ার আগে যারা শিক্ষক ছিলেন তাদের সঙ্গে বিসিএস বা সরকারি কোটায় চাকরি প্রাপ্তদের পার্থক্য। এদের শিক্ষক হওয়ার কোনও প্রস্তুতি ছিল না। শিক্ষক হবেন এমন স্বপ্নও ছিল না তাদের। অন্য আর দশটা চাকরি হিসেবে নিয়েছিল এই পেশাকে। তাই তাদের শিক্ষাদান পদ্ধতি, মেধার দ্যুতি ও ব্যক্তিত্বের সঙ্গে ‘শিক্ষক’ এর দূরত্ব অনেক। এখানে একথাও স্বীকার করে নিতে হয় সরকারি কোটা ছাড়া যাদের শিক্ষক হিসেবে পেয়েছি, তাদেরও একটি অংশ নিরুপায় হয়ে এই পেশায় এসেছিলেন। প্রতিষ্ঠাতা, গভর্নিংবডির আত্মীয় পরিজনের কোটায় তারা চাকরি পান। অর্থাৎ জ্ঞানে ও মানসিকতায় তারাও শিক্ষক হবার জন্য তৈরি ছিলেন না। এখনও নেই। পেশাগত ও সাংগঠনিক কাজে বিদ্যায়তনে যেতে হয় নিয়মিত। বেসরকারি ও সরকারি দুই দিকেই দেখেছি বিষয় ভিত্তিক শিক্ষক সংকট। এবং প্রত্যাশিত শিক্ষকের অনুপস্থিতি।

বেসরকারি ও সরকারি দু জায়গাতেই প্রকৃত শিক্ষকদের স্বাগত জানানোর পরিবেশ নেই। গভর্নিংবডি, প্রতিষ্ঠাতারা শিক্ষকদের সঙ্গে ‘ভৃত্য’ তুল্য আচরণ করেন। তাদের খেয়ালে চাকরি হয়, তাদের খেয়ালে চাকরি যায়। আছে রাজনৈতিক প্রভাবও। রাজনৈতিক আনুগত্য প্রদর্শন না করলে চাকরি ঝুঁকি মধ্যে পড়ে যায়। এমন বেশ কিছু বিদ্যায়তন দেখেছি যেখানে প্রধানশিক্ষক গভর্নিংবডির সদস্যের সন্তানের সামনে বসারও সাহস পান না।

সরকারি, বেসরকারি উভয়ক্ষেত্রেই দেখেছি সরকারি কর্মকর্তারা শিক্ষকদের সঙ্গে গ্রেড অনুসরণ করে ব্যবহার করেন। তাদের সঙ্গে শিক্ষক সুলভ আচরণ করেন না। আচরণ অধস্তনের মতো।

শিক্ষা দিবসে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদকও সত্য ভাষণ দিয়েছেন-শিক্ষকরা রাজনৈতিক দলের ছাত্র সংগঠনের কথায় উঠ-বস করেন। নিয়োগ টেন্ডার সব কিছুতেই চলেন ছাত্র সংগঠনের সঙ্গে আঁতাত করে। ফলে শিক্ষক হিসেবে তাদের নৈতিক অবস্থান ধরে রাখা সম্ভব হয় না। ‘শিক্ষক’-এর দেখা পেতে হলে আমাদের এজন্য বিনিয়োগ করতে হবে। শুরু করতে হবে প্রাথমিক থেকে। উপযুক্ত প্রশিক্ষণের পাশাপাশি আর্থিক ও সামাজিক সম্মান নিশ্চিত করতে হবে। শিক্ষকদের রাজনৈতিক ও গর্ভনিং বডি’র প্রভাবমুক্ত করতে হবেই। বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়েও শিক্ষকদের চাকরি নিরাপত্তা ও সম্মান নিশ্চিত করতে হবে। সম্মান ও আর্থিক সচ্ছ্লতা নিশ্চিত না করে আমরা এই পেশাকে জীবনের লক্ষ্য বা পথিকৃৎ পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে পারবো না। এক্ষেত্রে বেসরকারি উদ্যোক্তাদের চেয়ে সরকারের ইচ্ছে ও উদ্যোগ জরুরি।

লেখক: গণমাধ্যম কর্মী

/এসএএস/

সম্পর্কিত

ভোটের হাওয়া লাগলো মাঠে

ভোটের হাওয়া লাগলো মাঠে

গণমাধ্যমে বিভীষণ

গণমাধ্যমে বিভীষণ

শহর কেন গতিহীন?

শহর কেন গতিহীন?

উড়ে যাক অসহিষ্ণু বাষ্প

উড়ে যাক অসহিষ্ণু বাষ্প

দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, নাভিশ্বাসে জনজীবন!

আপডেট : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১৫:৪৯

সজীব ওয়াফি বাজারে চালের দাম বেড়েছে। বেড়েছে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য। লাগামছাড়া দামে শহুরে দারিদ্র্য মানুষের নাভিশ্বাস অবস্থা। গরিব মানুষের সস্তায় ক্রয়ের শেষ পণ্য মোটা চালের কেজি পৌঁছেছে ৫০ টাকায়। চালের দামের ওপর নির্ভর করছে অন্যান্য জিনিসপত্রের দামের সমীকরণ। পরিণামে দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন কৃষক, শ্রমিক এবং পেশাজীবীসহ সীমিত আয়ের মানুষ। অথচ দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর কোনও ব্যবস্থা চোখে পড়ছে না। চোখে পড়ছে না সারাদেশে কালোবাজারি ঠেকানোর কার্যক্রম। অধিকন্তু বছরের এই সময়ে বাংলাদেশে চালের দাম বৃদ্ধি নজিরবিহীন এবং উৎকণ্ঠার।

প্রতিটি দেশের অর্থনীতির একটি প্রধানতম মাধ্যম থাকে। বাংলাদেশ কৃষিনির্ভর দেশ। ধান, পাট, গম, চা ও আখ এখনকার কৃষকের আয়ের অন্যতম কৃষিজ ফসল। উর্বর মাটি আর অনুকূল আবহাওয়া এই বৈচিত্র্যময় ফসল উৎপাদনের উৎস। শতকরা ৮০ ভাগ পরিবার কৃষি আয়ের সঙ্গে জড়িত। সেখানে বছর তিনেক আগে থেকে ধানের বাজার মূল্যের চেয়ে উৎপাদন খরচ অতিরিক্ত। এর কারণ, ভারত থেকে চাল আমদানি করা হয় কৃষকের ধান কাটার মৌসুমে। মিয়ানমার, ভিয়েতনাম ও থাইল্যান্ড থেকে আমদানি করা হয় যখন কৃষকের গোলায় ধান ওঠে এবং হাটে নিয়ে বিক্রির সময়। অন্যদিকে চাল আমদানিতে প্রতিবারই আমদানি শুল্ক কমানো হলেও চালের দাম আর কমে না।

পাট শিল্প ধীরে ধীরে ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় পাটের দাম কমেছে আশঙ্কাজনক। গত বছরে পাটকল পুরোপুরি বন্ধ করায়, পাটের চেয়ে খড়ির দাম এখন বেশি। করোনায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন পাটকল শ্রমিকেরা। লোকসানের মুখোমুখি হতে হয়েছে বৃহত্তর ফরিদপুর অঞ্চলের পাট চাষিদের। চা শ্রমিকদের নেই পর্যাপ্ত মজুরি। চাষি তার ফসল বিক্রি করে স্বপ্ন ছিল– ধারদেনা পরিশোধ করার, পরিবার পরিজন নিয়ে তিন বেলা দু’মুঠো খাবার খাওয়ার।

সরকার সরাসরি কৃষকের থেকে ফসল সংগ্রহ করে না। তারা ফসল সংগ্রহ করে মধ্যস্থ কারবারি থেকে। ফলে কৃষক হারিয়েছে তার ফসলের লাভ। কৃষকের প্রাপ্য লাভ গিয়ে ওঠে পুঁজিপতির গোলায়। একদিকে ফসলের লোকসান, করোনার নাকানিচুবানি; আরেকদিকে নিত্যপণ্যের চড়া দামে কৃষকের হাত অর্থশূন্য হওয়ার পথে। করোনা মহামারিকালীন প্রথমে বাড়ানো হলো গ্যাস-বিদ্যুতের দাম। গ্যাস-বিদ্যুতের দাম বাড়লে গাড়ির ভাড়া বাড়বে, সারের দাম বাড়বে, বাড়বে কৃষকের ফসল উৎপাদনে সেচের খরচ। অর্থাৎ নিত্যপ্রয়োজনীয় সবকিছুর দাম রাতারাতি হু হু করে বাড়তে বাধ্য। পাশাপাশি গ্যাস-বিদ্যুতের দামের সমীকরণ নির্ভর করে চালের বাজারের রাজনীতির ওপর।

প্রায় বছর দেড় আগে পৃথিবীজুড়ে মরণঘাতী করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ে। রূপান্তরিত হয় মহামারির। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশকেও নিতে হয় লকডাউন-শাটডাউনের সিদ্ধান্ত। থমকে দাঁড়ায় বৈশ্বিক অর্থনীতি। শুরু হতে থাকে অর্থনৈতিক মন্দা। অন্যদিকে করোনাকালে নিষিদ্ধ হয়েছে আত্মকর্মসংস্থানের মাধ্যম ব্যাটারি চালিত রিকশা-ভ্যান, নাসিমন, করিমন। চাকরির বাজার সংকুচিত হয়েছে মারাত্মক রকমের। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে হয়েছে অসংখ্য কর্মী ছাঁটাই। ছোটখাটো অনেক ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান বিলুপ্তি ঘটেছে। বিআইডিএস-এর সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, করোনায় বাংলাদেশে ১ কোটি ৬৪ লাখ মানুষ নতুন করে দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমেছে, আগের হিসাব যোগ করে গরিব মানুষের এই সংখ্যা ছাড়িয়েছে ৫ কোটির বেশি। হুঁশিয়ারি দিয়েছে মহামারি বাস্তবতার শিকার হয়ে ভবিষ্যতে আরও বৃদ্ধির আশঙ্কা। মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে দুর্নীতির দৌরাত্ম্য। মাইনে না পাওয়া বেসরকারি শিশু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকেরাও পার করছেন দুঃসময়। এমনকি প্রণোদনার মাধ্যমে টাকা চলে গেছে মুষ্টিমেয় একটা শ্রেণির হাতে। কৃষক বারবার গুনেছে ফসলের লোকসান। ঠিক এই সময়টাতেই চালসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য বাড়লো। চিনি, সয়াবিন তেল, ডাল, শিশুখাদ্য, শাকসবজি, মাছ-মাংস সবকিছুর দাম ঊর্ধ্বমুখী। কারণ হিসেবে খুচরা ব্যবসায়ীরা দাবি করেছেন করোনায় পরিবহন সংকটের কথা।

শ্রীলঙ্কায় দুর্ভিক্ষ লেগেছে। সেখানকার বাজার পরিস্থিতি মারাত্মক রকমের ভয়াবহ। খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে চরম মাত্রায়। চাল, ডাল, চিনি থেকে শুরু করে শাকসবজি; এমনকি শিশুখাদ্য দুগ্ধজাত পণ্যের দাম মানুষের নাগালের বাইরে। বেড়েছে কেরোসিন তেলের দাম। গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে চড়া দামে। বিদেশ থেকে আমদানিতে সংকটে পড়েছে বৈদেশিক মুদ্রার। এ মাসের প্রথম সপ্তাহে সেখানে রাষ্ট্রীয়ভাবে জরুরি অবস্থা চলমান রেখেছিল স্বয়ং রাষ্ট্রপক্ষ। হাত পাততে হয়েছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের দুয়ারে।

 শ্রীলঙ্কায় কিছু দিন যাবৎ যে জরুরি সংকট শুরু চলমান তার বিশেষ কারণ পুঁজিবাদ, মধ্যস্থ কারবারি। অর্থ চলে গেছে হাতেগোনা কিছু পুঁজিপতির কাছে। ফলে মানুষের আয়ের চেয়ে ক্রয়ক্ষমতার ভারসাম্য হারায়। বিপরীতে মহামারি সংকটের অজুহাতে কৃত্রিম সমস্যা সৃষ্টি করেছে সেখানকার অসাধু সিন্ডিকেট ব্যবসায়ী। মজুতদারি এবং কালোবাজারি কবলে পড়েছে খাদ্য ব্যবস্থা। ঠিক করোনার পূর্ব দিনগুলোতে আমাদের লবণকাণ্ডের মতো, পেঁয়াজ সংকটের মতো। ফলে দিশেহারা হয়েছে খোদ রাষ্ট্র ব্যবস্থা।
 
হঠাৎ করেই বাংলাদেশে চালসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বৃদ্ধির উপযুক্ত কোনও কারণ হাজির করতে পারেনি ব্যবসায়ী কর্তৃপক্ষ। বরাবরের মতো কৃত্রিম সংকট, সরবরাহে ঘাটতি ও আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বৃদ্ধির কথা বলেছে ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানগুলো। অস্বস্তিতে পড়েছে সরকারও। আন্তর্জাতিক বাজারে চালের দাম বৃদ্ধির কথা চাউর হলেও আসলে তা সত্যি নয়। বরং আন্তর্জাতিক বাজারে চালের দাম আমাদের চেয়ে অনেক কম। আন্তর্জাতিক বাজারের অজুহাতেই বা বৃদ্ধি পাবে কেন! হঠাৎ করে প্রক্রিয়াজাতকরণ কোনও খরচ কি বেড়েছে? আর আন্তর্জাতিক দোহাই দিয়ে বৃদ্ধির কারণ ব্যবসায়ীরা দেখিয়েই যখন থাকবে, আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমলে তারা কি স্বেচ্ছায় কখনও দাম কমিয়েছে! পণ্যের মূল্য নির্ধারণ, আমদানি শুল্কে ছাড় এবং ভর্তুকি দিয়েও বাজার নিয়ন্ত্রণ হচ্ছে না। অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি ঠেকাতে দেশে কী পরিমাণ ধান হয়, ওই ধান থেকে কী পরিমাণ চাল উৎপাদন হতে পারে, মিল মালিকদের গুদামের ও নিত্যপণ্যের মজুতদারির হিসাব-নিকাশ এবং সরকারি নিয়ন্ত্রণ জরুরি হয়ে পড়েছে। জরুরি হয়ে পড়েছে মিল মালিকেরা ধান কত দামে ক্রয় করেছিল এবং প্রক্রিয়াজাতকরণে কত খরচ হয়েছে সেই হিসাব-নিকাশের।

খাদ্যের অভাবে এই পৃথিবীতে কখনও পণ্যের দাম বাড়াতে হয়নি, সংকট লাগেনি। সংকট লেগেছে মজুতদারদের মজুতদারিতে, আড়তদারিতে। ঊনবিংশ শতাব্দীর প্রথমার্ধে মহামারি পরবর্তী আমরা দেখেছি, পৃথিবীজুড়ে একদিকে মানুষ না খেয়ে কঙ্কাল হয়ে মরলো, আরেক দিকে মজুতদার কোম্পানি করলো তাদের পণ্য সমুদ্রে নিক্ষেপ। ৪৩ এবং ৭৪-এর সংকটময় পরিস্থিতি আমরা প্রত্যক্ষ করেছি। এমনকি মজুতদারির কালো প্রভাবের শিকার হয়েছি করোনার আগেই। লোনা পানির দেশে কৃত্রিম সংকট এবং গুজব ছড়িয়ে লবণকাণ্ড ঘটিয়ে মধ্যস্বত্বভোগীদের অতিরিক্ত মুনাফা সৃষ্টির চেষ্টা সবারই মনে থাকার কথা। পেঁয়াজের বাজারে অস্থিরতা তৈরি করে কীভাবে বিপর্যয় নেমে এলো সেটা মজুতদারির জলজ্যান্ত প্রমাণ। বর্তমানে একদিকে করোনা মহামারি, একদিকে ডেঙ্গুর ছোবল, আরেকদিকে পণ্যের ঊর্ধ্বমুখী দামে নিম্ন আয়ের মানুষের জীবন এখন ওষ্ঠাগত। এর একমাত্র কারণ আয় কমে সবকিছুর দাম বাড়ায় অর্থ কুক্ষিগত হয়েছে পুঁজিপতির ঘরে। অসাধু ব্যবসায়ীরাও অতিরিক্ত মুনাফার লোভ সামলাতে পারছেন না। বিপরীতে বিপাকে পড়েছে খেটে খাওয়া লোকজন।

মহামারিকালীন এবং তার পরবর্তী পৃথিবী অর্থনৈতিক সংকটের ঝুঁকিতে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। আয় এবং ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে মানুষের প্রয়োজনীয় খাদ্য সরবরাহ করতে না পারলে শ্রীলঙ্কার মতো অশুভ দিনের মুখোমুখি হতে পারে। চাল, ডাল, তেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম ক্রয়ক্ষমতার ভারসাম্য সাধারণ মানুষের অধিকার। টিসিবি পণ্যের সহজলভ্যতা এবং ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ করে বাংলাদেশে দুর্নীতি, কালোবাজারি ও মজুতদারি শক্ত হাতে দমন এখন সময়ের প্রয়োজন। পৃথিবীর নাজুক পরিস্থিতিতে কৃষকদের বাঁচিয়ে কৃষিতে মনোযোগী হলে একদিকে যেমন খাদ্যে জোগান আসবে, ঠিক অন্যদিকে অর্থনৈতিক সংকটজনক সামঞ্জস্যহীনতা মোকাবিলা সম্ভব। নতুবা আমাদের ভাগ্যে অপেক্ষা করছে চরম বিপর্যয়। শুধু দরকার প্রাণান্তকর প্রচেষ্টা।

লেখক: প্রাবন্ধিক

/এসএএস/এমওএফ/

সম্পর্কিত

ইভ্যালি: গ্রাহকের টাকা ফেরত দেবে কে?

ইভ্যালি: গ্রাহকের টাকা ফেরত দেবে কে?

করোনার করুণ কাহিনি: ‘আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালোবাসি’ (২)

করোনার করুণ কাহিনি: ‘আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালোবাসি’ (২)

শিক্ষক ও মর্যাদার সংকট

শিক্ষক ও মর্যাদার সংকট

পরীমণি, হলমার্ক ডেসটিনির মতো ঘটনা মনে প্রভাব ফেলে

পরীমণি, হলমার্ক ডেসটিনির মতো ঘটনা মনে প্রভাব ফেলে

পরীমণি, হলমার্ক ডেসটিনির মতো ঘটনা মনে প্রভাব ফেলে

আপডেট : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১৭:০৭

ডা. হেলাল উদ্দিন আহমেদ একজন কিশোর-কিশোরী বা তরুণের বেড়ে ওঠার ক্ষেত্রে অনেক বিষয় নির্ভর করে। প্রথমত, তার বংশানুক্রম বা জেনেটিকস একটি গুরুত্বপূর্ণ যা মানসিক স্বাস্থ্যের জৈবিক উপাদানগুলোকে নির্ধারণ করে। এটিকে আমরা বলতে পারি সামাজিক ইকোলজিক্যাল সিস্টেমের সবচেয়ে অন্তর্গত অংশ।  মাইক্রোসিস্টেমের পরের স্তরকে বলা যায় মেসো সিস্টেম- একজন ব্যক্তির স্কুল, চারপাশ, ধর্মবিশ্বাস, নিকটতম প্রতিবেশী এই মেসোসিস্টেমের অংশ। এর পরের স্তরকে বলা হয় এক্সোসিস্টেম- পরিবারের দূরবর্তী সদস্য, অর্থনৈতিক অবস্থান, প্রচারমাধ্যম, সামাজিক ঘটনা আর দুর্ঘটনা এই মেসোসিস্টেমের অংশ। আর রাষ্ট্রীয় ও বৈশ্বিক বড় বড় পরিবর্তন, যেমন- বিশ্বযুদ্ধ, অতিমারি ইত্যাদি হচ্ছে ম্যাক্রোসিস্টেমের অংশ। অর্থাৎ একজন ব্যক্তির বেড়ে ওঠা আর তার মানসিক বিকাশের পেছনে কেবল পরিবার বা স্কুল নয়, তার চার পাশের সামগ্রিক পরিবেশ প্রভাব ফেলে।

কোনও বাবা-মা যদি মনে করেন আমার সন্তানের সামনে আমি তো কোনও নেতিবাচক কাজ করিনি, কেন তার  মানসিক স্বাস্থ্য বিপন্ন হবে? এর উত্তর হচ্ছে, পরিবারকে ছাপিয়ে চারপাশের ঘটে যাওয়া তাবৎ ঘটনা একজন শিশু বা কিশোরের ওপর প্রভাব ফেলে তার মানসিক স্বাস্থ্যকে বিপন্ন করে।

অনেক সময় বাবা-মা মনে করে থাকেন, "ও তো ছোট, এগুলোর কী বোঝে?" কিন্তু প্রকৃত সত্য হচ্ছে, শিশু কিশোররা তাদের মতো করে চারপাশের ঘটে  যাওয়া ঘটনায় প্রভাবিত হয়। তাদের মানসিক স্বাস্থ্য চারপাশের ওপর নির্ভর করে পরিবর্তিত হয়।

মার্কিন গবেষক লরেন্স কোহলবার্গ মানুষের নৈতিকতার বিকাশের পর্যায় ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনটি স্তরের বর্ণনা দেন। জন্ম থেকে প্রথম কয়েক বছর শাস্তি এড়াতে শিশুরা নিয়ম-কানুন মেনে চলে, এরপর বয়ঃসন্ধিতে সে নিজের কাজের স্বীকৃতির জন্য সামাজিক রীতিনীতির সঙ্গে একাত্ম হয়—‘ভালো ছেলে’ বা ‘ভালো মেয়ে’ অভিধায় তারা ভূষিত হতে চায়। আর নৈতিকতার বিকাশের তৃতীয় স্তর—যা শুরু হয় ১৬-১৭ বছর বয়সের দিকে। তখন সে নৈতিকতাকে নিজস্ব ধারণার জগতের সঙ্গে মিলিয়ে নিজের মতো করে ব্যাখ্যা দিতে থাকে। তার ধারণার জগৎ বা জ্ঞানীয় বিকাশ যদি হয় প্রচলিত সমাজ-সংস্কৃতিপন্থী, তবে তার নৈতিকতার চর্চা হয় সমাজ অনুগামী। আর তার ধারণার জগতে যদি সে বিশ্বাস করে এই সমাজ, এই প্রচলিত রীতিনীতি ‘সঠিক নয়’, তখন সে তার চারপাশকে পরিবর্তন করতে চায়। পরিবর্তনের পন্থা হতে পারে প্রচলিত পদ্ধতিতে অথবা তার নিজস্ব বিশ্বাসের মতো করে। এই পরিবর্তনের যেকোনও পথকে সে নিজস্ব যুক্তি দিয়ে ব্যাখ্যা করে। একজন তরুণের মনোস্তত্ত্ব এখানেই অস্বাভাবিক  মোড় নেয়। প্রচলিত ধ্যান-ধারণার বাইরে তার মধ্যে জন্ম নেয় ভ্রান্ত বিশ্বাস। অস্বাভাবিক আচরণ আর বিশ্বাসকে সে নিজের বলে ভাবতে থাকে।

বয়ঃসন্ধিকাল থেকে পরিণত বয়স, যেমন ২৫-২৬ বছর পর্যন্ত একজন তরুণের মনোজগতের পরিবর্তনটি আশপাশের সবাইকে বুঝতে হবে। এই বয়সে তার মনোজগতের পরিবর্তন অবশ্যম্ভাবী, খেয়াল রাখতে হবে যে এই পরিবর্তন যেন ইতিবাচক দিকে হয়। নৈতিকতার বিকাশের পর্যায় ব্যাখ্যা করতে গিয়ে কোহলবার্গ তিনটি স্তরের বর্ণনা দেন। জন্ম থেকে প্রথম কয়েক বছর শাস্তি এড়াতে শিশুরা নিয়ম-কানুন মেনে চলে, এরপর বয়ঃসন্ধিতে সে নিজের কাজের স্বীকৃতির জন্য সামাজিক রীতিনীতির সঙ্গে একাত্ম হয়—‘ভালো ছেলে’ বা ‘ভালো মেয়ে’ অভিধায় তারা ভূষিত হতে চায়। আর নৈতিকতার বিকাশের তৃতীয় স্তর—যা শুরু হয় ১৬-১৭ বছর বয়সের দিকে। তখন সে নৈতিকতাকে নিজস্ব ধারণার জগতের সঙ্গে মিলিয়ে নিজের মতো করে ব্যাখ্যা দিতে থাকে। তার ধারণার জগৎ বা জ্ঞানীয় বিকাশ যদি হয় প্রচলিত সমাজ-সংস্কৃতিপন্থী, তবে তার নৈতিকতার চর্চা হয় সমাজ অনুগামী। আর তার ধারণার জগতে যদি সে বিশ্বাস করে এই সমাজ, এই প্রচলিত রীতিনীতি ‘সঠিক নয়’, তখন সে তার চারপাশকে পরিবর্তন করতে চায়।

পরিবর্তনের পন্থা হতে পারে প্রচলিত পদ্ধতিতে অথবা তার নিজস্ব বিশ্বাসের মতো করে। এই পরিবর্তনের যেকোনও পথকে সে নিজস্ব যুক্তি দিয়ে ব্যাখ্যা করে। প্রচলিত ধ্যান-ধারণার বাইরে তার মধ্যে জন্ম নেয় ভ্রান্ত বিশ্বাস। তখন তার মধ্যে নিজেকে শেষ করে ফেলার প্রবণতা দেখা দেয়।

বয়ঃসন্ধিকাল থেকে পরিণত বয়স, যেমন ২৫-২৬ বছর পর্যন্ত একজন তরুণের মনোজগতের এই পরিবর্তনটি আশপাশের সবাইকে বুঝতে হবে।

চারপাশের সব ধরনের ঘটনা দুর্ঘটনা, শিশু-কিশোরদের মানসিক বিকাশে প্রভাব ফেলে। বাবা মা যদি মনে করেন আমার সন্তানের বয়স মাত্র ১৪ বছর, সে পরীমণির গ্রেফতার নিয়ে তার কিছু যায় আসে না, এটা সম্পূর্ণ ভুল। পরীমণি কে? তার গ্রেফতার ন্যায্য না অন্যায্য, তাকে বারবার রিমান্ডে নেওয়া কতটুকু যৌক্তিক সেটা নিয়ে একজন শিশু বা কিশোর তার মতো ব্যাখ্যা গ্রহণ করে।

হলমার্ক কী? ডেসটিনি কী, বা প্রশান্ত হালদার কী প্রক্রিয়ায় হাজার হাজার কোটি টাকা লোপাট করেছে সেগুলোও শিশু মনে প্রভাব ফেলে।  এমনকি ওসি প্রদীপের নৃশংসতা কিংবা এস আই আকবরের জিঘাংসাও তার মনোজগতকে পরিবর্তিত করে। পরীমণির গ্রেফতারের মতোই, চারপাশের সব জাতীয় আর আন্তর্জাতিক ঘটনা বা দুর্ঘটনা শিশু-কিশোরদের মানসিক স্বাস্থ্য বিকাশকে প্রভাবিত করে। কখনও কখনও তাদের মানসিক স্বাস্থ্যকে বিপন্ন করে। এই বিপন্নতার মাত্রা যদি খুব বেশি হয় তখন কিশোর-তরুণেরা আত্ম পরিচয়ের সংকটে ভোগে, যা তাদের কখনও কখনও আত্মহত্যার দিকে ধাবিত করে। জাতীয় মানসিক  স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের ২০১৮ সালের এক জাতীয় জরিপ অনুযায়ী, ১০ থেকে ২৪ বছর বয়সীদের প্রায় ৫% একবারের জন্য হলেও  আত্মহত্যা করার চিন্তা করেছেন, আর ১.৫% একবারের জন্য হলেও পরিকল্পনা বা চেষ্টা করেছেন!

মনে রাখতে হবে যেকোনও ধরনের মানসিক বিপন্নতা কিংবা আত্মহত্যা প্রবণতার পেছনে চারপাশের পরিবেশ আর ঘটনার প্রভাব রয়েছে। চারদিকের অনিয়ম আর সমস্যা আমাদের মানসিক স্বাস্থ্যকে বিপন্ন করে। তাই যে কারও আত্মহত্যার প্রবণতা বা মানসিক স্বাস্থ্যের বিপন্নতার প্রতিকার করতে হলে সবার আগে তার চারপাশকে পরিবর্তন করতে হবে।

আশপাশের নানা অনিয়ম আর অনৈতিকতাকে পরিবর্তন না করে কিশোর-তরুণদের মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতি সম্ভব নয়। সর্বজনীন মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নয়নে রাষ্ট্রীয় আর সামাজিক কাঠামোয় পরিবর্তন প্রয়োজন।

শিশু-কিশোর  তথা আমাদের আগামী প্রজন্মের সুষম বিকাশের জন্য কেবল পারিবারিক বা প্রাতিষ্ঠানিক পরিবর্তনই যথেষ্ট নয়, রাষ্ট্রীয় নীতি আর সমাজ কাঠামোকে মানবিকীকরণ করা প্রয়োজন।

লেখক: সহযোগী অধ্যাপক, জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট।

/এসএএস/এমওএফ/

সম্পর্কিত

ইভ্যালি: গ্রাহকের টাকা ফেরত দেবে কে?

ইভ্যালি: গ্রাহকের টাকা ফেরত দেবে কে?

করোনার করুণ কাহিনি: ‘আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালোবাসি’ (২)

করোনার করুণ কাহিনি: ‘আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালোবাসি’ (২)

শিক্ষক ও মর্যাদার সংকট

শিক্ষক ও মর্যাদার সংকট

দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, নাভিশ্বাসে জনজীবন!

দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, নাভিশ্বাসে জনজীবন!

*** প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব।

সর্বশেষ

হাটিকুমরুল হাইওয়ে থানার ওসিসহ ৪ জনকে বদলি

হাটিকুমরুল হাইওয়ে থানার ওসিসহ ৪ জনকে বদলি

ইস্যু আফগানিস্তান: ৩ দিনের ভারত সফরে সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী

ইস্যু আফগানিস্তান: ৩ দিনের ভারত সফরে সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী

ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতির শহীদ মিনা‌রে ছবি তোলা নি‌য়ে বিতর্ক

ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতির শহীদ মিনা‌রে ছবি তোলা নি‌য়ে বিতর্ক

গুগলও আনছে ফোল্ডেবল স্মার্টফোন

গুগলও আনছে ফোল্ডেবল স্মার্টফোন

রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনে মার্কিন রাষ্ট্রদূত

রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনে মার্কিন রাষ্ট্রদূত

দলবদলে এলো আবাহনী, লক্ষ্য শিরোপা

দলবদলে এলো আবাহনী, লক্ষ্য শিরোপা

ব্র্যাকের হাত ধরে স্বাস্থ্যবিধি শিখছে মানুষ

ব্র্যাকের হাত ধরে স্বাস্থ্যবিধি শিখছে মানুষ

বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্লেন্ডেড লার্নিং এগিয়ে নিতে সহযোগিতার আগ্রহ যুক্তরাষ্ট্রের

বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্লেন্ডেড লার্নিং এগিয়ে নিতে সহযোগিতার আগ্রহ যুক্তরাষ্ট্রের

পাঞ্জাবের নতুন মুখ্যমন্ত্রী চরণজিৎ সিং চান্নি

পাঞ্জাবের নতুন মুখ্যমন্ত্রী চরণজিৎ সিং চান্নি

শেষ দুই ম্যাচ জিতে সমাপ্তি টানলো আফগান যুবারা

শেষ দুই ম্যাচ জিতে সমাপ্তি টানলো আফগান যুবারা

স্পট রেজিস্ট্রেশনের মাধ্যমে ফের টিকা কার্যক্রম শুরু হচ্ছে: স্বাস্থ্য অধিদফতর

স্পট রেজিস্ট্রেশনের মাধ্যমে ফের টিকা কার্যক্রম শুরু হচ্ছে: স্বাস্থ্য অধিদফতর

‘বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীদের পুরস্কারদাতারা অন্ধকারে হারিয়ে গেছে’

‘বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীদের পুরস্কারদাতারা অন্ধকারে হারিয়ে গেছে’

সর্বশেষসর্বাধিক

লাইভ

© 2021 Bangla Tribune