X
মঙ্গলবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২১, ৬ আশ্বিন ১৪২৮

সেকশনস

ঈদ বোনাসসহ ১৩তম গ্রেডের সব বকেয়াই পাবেন প্রাথমিক শিক্ষকরা

আপডেট : ০৪ মে ২০২১, ২১:৪৬

গত বছরের ৯ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৩তম গ্রেডের সব সুযোগ-সুবিধা পাবেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা। বেতন ও বাড়ি ভাড়া বকেয়া হিসেবে পাবেন তারা। এমনকি আসন্ন ঈদুল ফিতরের বোনাস উচ্চতর গ্রেডের চেয়ে যতটুকু কম পেয়েছেন তাও পাবেন বকেয়া হিসেবে।

জানতে চাইলে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক আলমগীর মুহম্মদ মনসুরুল আলম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘১৩তম গ্রেড অনুযায়ী বেতন ফিক্সেশন না হওয়ার কারণে বেতন ও বাড়ি ভাড়ার যেটুকু কম পেয়েছেন তা বকেয়া হিসেবে পাবেন শিক্ষকরা। আর আসন্ন ঈদের বোনাস যারা কম উত্তোলন করেছেন তারাও বোনাসের বাকি অংশ পাবেন। কারণ এখনও ঈদ শেষ হয়ে যায়নি। ‘

দীর্ঘদিন ধরে ১১তম গ্রেডের দাবিতে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা আন্দোলনের পর ২০১৯ সালের ৭ নভেম্বর উচ্চতর এই গ্রেড নির্ধারণে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়কে চিঠি দেয় অর্থ বিভাগ। ওই চিঠিতে সহকারী শিক্ষকদের বেতন গ্রেড-১৩ তে উন্নীত করা হয়। আর প্রধান শিক্ষকদের বেতন গ্রেড-১১ তে উন্নীত করা নির্দেশনা দেওয়া হয়।

এরপর ২০২০ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় ১৩ গ্রেডে বেতন নির্ধারণের আদেশ জারি করে। কিন্তু নতুন এই গ্রেড অনুযায়ী নিম্নধাপে বেতন নির্ধারণে অনেক সহকারী শিক্ষকের বিদ্যমান বেতনের চেয়ে বেতন কমে যাওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়। এই পরিস্থিতিতে ১৩তম গ্রেডের নিম্নধাপে যাদের বেতন কমে যাচ্ছে তাদের ওই গ্রেডের একধাপ ওপরে বেতন নির্ধারণের অনুরোধ জানিয়ে অর্থ বিভাগকে চিঠি দেয় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। গত বছর ১২ আগস্ট অর্থ বিভাগ সমস্যা নিরসন করে যাদের বেতন কমে যাচ্ছে তাদের একধাপ ওপরে বেতন নির্ধারণ করে চিঠি দেয় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়কে।

এতেও নতুন করে সমস্যায় পড়েন সহকারী শিক্ষকরা। ২০১৯ সালের নতুন নিয়োগ বিধিমালায় সহকারী শিক্ষকদের শিক্ষাগত যোগ্যতায় বলা আছে কমপক্ষে দ্বিতীয় শ্রেণির স্নাতক ডিগ্রি থাকতে হবে। এ কারণে কোনও কোনও উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তারা উচ্চতর গ্রেড দেওয়ার সুপারিশ না করে শিক্ষকদের জানিয়ে দেন, যাদের শিক্ষাগত যোগ্যতা দ্বিতীয় শ্রেণির স্নাতক নেই, তারা উচ্চতর গ্রেড পাবেন না।

অন্যদিকে গত ফেব্রুয়ারি থেকে ইএফটির মাধ্যমে শিক্ষকদের ব্যাংক হিসাবে সরাসরি বেতন পাঠানো নিয়ে তৈরি হয় জটিলতা। আইবাস প্লাস প্লাস সফটওয়্যারে ১৩তম গ্রেডের উচ্চধাপে বেতন নির্ধারণ অপশন না থাকায় ইএফটির মাধ্যমে বেতন পাওয়ার বিষয়টি আটকে যায়। অন্যদিকে শিক্ষাগত যোগ্যতার শিথিলের অপশন আইবাস সফটওয়্যারে না থাকায় নতুন করে ১৩তম গ্রেড পাওয়ার ক্ষেত্রে আরও একটি জটিলতা তৈরি হয়।

এই পরিস্থিতিতে গত ১৭ এপ্রিল প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক অর্থ বিভাগকে চিঠি দিয়ে সমস্যা সমাধানের অনুরোধ জানান। এরপর গত ২৯ এপ্রিল আইবাস সফটওয়্যারে বেতন নির্ধারণের সব অপশন যুক্ত করা হয়। উচ্চতর গ্রেডে সহকারী শিক্ষকদের বেতন-ভাতা পাওয়ার ক্ষেত্রে সব সমস্যার সমাধান হয়ে যায়। তবে সহকারী শিক্ষকরা ২০২০ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি পর থেকে এই সময় পর্যন্ত ১৪ ও ১৫তম গ্রেডে বেতন পান।

সব সমস্যার সমাধান হওয়ার পর আসন্ন ঈদ বোনাসের টাকা ১৩তম গ্রেডে না পেয়ে কম পাওয়ার কারণে শিক্ষকদের মধ্যে নতুন করে বকেয়া বেতন ও বাড়ি ভাড়া পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়।

তবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আইবাস প্লাস প্লাস সফটওয়্যারে সব অপশন সংযুক্ত হওয়ার আগেই ঈদ বোনাসের টাকা পাঠানো হয় শিক্ষকদের। ফলে আগের গ্রেডে বোনাসের অর্থ পান তারা। অধিদফতর বলছে, বোনাস ও বাড়ি ভাড়ার টাকা বকেয়া হিসেবে পাবেন শিক্ষকরা।

/এমআর/

সম্পর্কিত

মেয়ে শিক্ষার্থীদের তথ্য চেয়েছে সরকার

মেয়ে শিক্ষার্থীদের তথ্য চেয়েছে সরকার

প্রাথমিকের বিস্কুট বিতরণ প্রকল্প: মেয়াদ বাড়লেও কার্যক্রম শুরু হয়নি

প্রাথমিকের বিস্কুট বিতরণ প্রকল্প: মেয়াদ বাড়লেও কার্যক্রম শুরু হয়নি

‘বাড়ছে আরও একটি ক্লাস’

‘বাড়ছে আরও একটি ক্লাস’

বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্লেন্ডেড লার্নিং এগিয়ে নিতে সহযোগিতার আগ্রহ যুক্তরাষ্ট্রের

বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্লেন্ডেড লার্নিং এগিয়ে নিতে সহযোগিতার আগ্রহ যুক্তরাষ্ট্রের

কর্তৃপক্ষের ‘অবহেলায়’ সন্তানের মৃত্যু, বিচারের দাবিতে ঘুরছেন বাবা

আপডেট : ২১ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৯:০০

১১ মাসের শিশু সন্তান আব্দুল্লাহ আল আজানকে নিয়ে রাজধানীর কেয়ার মেডিক্যাল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতালে তালুকাটা অপারেশন করাতে যান আব্দুল্লাহ আল সায়েম। গত ২১ আগস্ট হাসপাতালটিতে আজানকে ভর্তি করা হয়। এরপর শিশু-কিশোর প্লাস্টিক ও লেজার সার্জারি বিশেষজ্ঞ ডাক্তার অধ্যাপক বি কে দাস বিজয় ২২ আগস্ট আজানের অপারেশন করেন। অপারেশনের পর থেকেই শিশুটির শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে। পরবর্তীতে বেশ কয়েকবার শরণাপন্ন হলেও সাড়া মেলেনি হাসপাতালটির চিকিৎসক ও সংশ্লিষ্টদের।

এমন অভিযোগ করে আব্দুল্লাহ আল সায়েম বলেন, চিকিৎসকের গাফিলতি ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অব্যবস্থাপনার কারণে মারা গেছে আজান। এমনকি শিশুটির ডেথ সার্টিফিকেটেও জালিয়াতি করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ, দাবি সায়েমের।

আজানের মৃত্যুর পর থেকেই আব্দুল্লাহ আল সায়েমের পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। শয্যাশায়ী শিশুটির মা। সন্তান হারিয়ে বিচারের দাবিতে এখন দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন বাবা সায়েম।

বাংলা ট্রিবিউনকে সায়েম বলেন, আমার সন্তান মারা যাওয়ার পেছনে রাজধানীর কলেজ গেটের কেয়ার মেডিক্যালের চিকিৎসকসহ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দায়ী। তাদের গাফিলতিতে আমার ছেলেকে হারিয়েছি। ১১ মাসের ফুটফুটে সন্তানের হাসিমুখটা বারবার চোখের সামনে ভেসে উঠছে। কী যে কষ্ট, যন্ত্রণা ভাষায় প্রকাশ করা যাবে না। এ যন্ত্রণা নিয়ে বাকি জীবন কাটাতে হবে।

তিনি বলেন, আমার বাচ্চাকে ২১ আগস্ট হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। পরের দিন সে মারা যায়। ডেট সার্টিফিকেট দেওয়াকে কেন্দ্র করে মিথ্যা ও জালিয়াতির আশ্রয় নিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। আমার বাচ্চাকে ভর্তি দেখানো হয়েছে ২২ আগস্ট, যা একেবারেই মিথ্যা।

এরইমধ্যে চিকিৎসকের গাফিলতি ও অবহেলার কথা উল্লেখ করে সন্তান হত্যার বিচারের দাবিতে স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক, ঢাকা সিভিল সার্জন কার্যালয়, বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের রেজিস্ট্রার বরাবর অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী আব্দুল্লাহ আল সায়েম।

অভিযোগে তিনি সন্তানের মৃত্যুর ঘটনায় সার্জারির পর ডিউটি ডাক্তারের অনুপস্থিতি, অপারেশনের পর ডাক্তারের অবহেলা, নার্সের ভুল নির্দেশনা, ডাক্তারের গাফিলতিতে রক্তক্ষরণ বন্ধ না হওয়া, ডেথ সার্টিফিকেট মিথ্যা তথ্য দেওয়া, অদক্ষ লোক দিয়ে প্যাথলজি পরিচালনা করা- এসব বিষয় উল্লেখ করেন।

এ বিষয়ে আব্দুল্লাহ আল সায়েম বলেন, অভিযোগ করার পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও চিকিৎসক আমার সঙ্গে বিষয়টি সুরাহা করতে প্রতিনিয়ত চাপ দিয়ে যাচ্ছে। তারা কি পারবে আমার বাচ্চাকে আমার কোলে ফিরিয়ে দিয়ে বিষয়টি সমাধান করতে?

এ বিষয়ে জানতে ডাক্তার বি কে দাস বিজয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে বাংলা ট্রিবিউনকে তিনি বলেন, এরইমধ্যে শিশুটির বাবা (আব্দুল্লাহ আল সায়েম) স্বাস্থ্য অধিদফতরসহ বিভিন্ন জায়গায় অভিযোগ দায়ের করেছেন। সেখান থেকে বিষয়গুলো তদন্ত হচ্ছে। তদন্তে যেসব বিষয় উঠে আসবে, সে অনুযায়ী যদি কোনও শাস্তির আওতায় আনা হয়; তাহলে মাথা পেতে নেবো।

চিকিৎসাসেবা কিংবা চিকিৎসকের গাফিলতি ছিল কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ বিষয়ে আর কিছু বলতে চাই না।

এদিকে চিকিৎসকদের গাফিলতি ও অবহেলার কারণে শিশুমৃত্যুর ঘটনায় ঢাকা সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে পাওয়া একটি অভিযোগের তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক) ফরিদ হোসেন।

বাংলা ট্রিবিউনকে তিনি বলেন, রাজধানীর কলেজ গেটের কেয়ার মেডিক্যাল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতালে গাফিলতির অভিযোগে ১১ বছরের এক শিশু মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। ১০ কার্যদিবসের মধ্যে তাদেরকে প্রতিবেদন দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

/এনএইচ/

সম্পর্কিত

আবারও ইয়াবাসহ সৌদি আরবগামী যাত্রী আটক

আবারও ইয়াবাসহ সৌদি আরবগামী যাত্রী আটক

লাখে ৬ হাজার টাকা লাভ দেওয়ার প্রলোভনে কোটি টাকা জামানত, আরেকজন গ্রেফতার

লাখে ৬ হাজার টাকা লাভ দেওয়ার প্রলোভনে কোটি টাকা জামানত, আরেকজন গ্রেফতার

আউটসোর্সিং প্রক্রিয়ায় জনবল নিয়োগে নীতিমালা প্রণয়ন নিয়ে হাইকোর্টের রুল

আউটসোর্সিং প্রক্রিয়ায় জনবল নিয়োগে নীতিমালা প্রণয়ন নিয়ে হাইকোর্টের রুল

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছ থেকে আয়কর আদায়ে বিরত থাকার নির্দেশ

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছ থেকে আয়কর আদায়ে বিরত থাকার নির্দেশ

বদলে গেছে শান্তির মানে

আপডেট : ২১ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৯:০০

একটি যুদ্ধবিহীন বিশ্ব প্রতিষ্ঠায় (যুদ্ধ নয়, শান্তি চাই স্লোগানে) ১৯৮১ সালে শুরু হওয়া বিশ্ব শান্তি দিবস এখন কেবল অস্ত্র বিরতি ও সংঘাত নিরসনে আটকে নেই। সময়ের সঙ্গে বদলেছে শান্তির মানে।

শান্তি প্রতিষ্ঠায় অস্ত্র বিরতি ও সংঘাত নিরসনে কেবল দিবস নয় সে বছর শান্তি দশক পালনের সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু সেই শান্তির মানে বর্তমান কোভিড পরিস্থিতিতে বদলে সামগ্রিক ন্যায্যতাকে ধারণ করতে চায়। এখন কেবল অস্ত্র বিরতি বা সংঘর্ষ নিরসন শান্তি প্রতিষ্ঠা হিসেবে না দেখে সমন্বিত স্বাস্থ্যসেবা ও টেকসই শান্তি অর্জনকে জরুরি বলে মনে করছেন শান্তি অধ্যয়ন, গবেষণা ও আন্দোলনকারীরা।

তারা বলছেন, বিশ্বে কোভিড পরিস্থিতিতে টিকা ও স্বাস্থ্য সরঞ্জামাদি নিশ্চিতকরণে ধনী দেশগুলোর প্রান্তিক দেশগুলোর প্রতি যে দায়িত্ব, সেটি নিশ্চিত করা শান্তি প্রতিষ্ঠার পথকে সুগম করবে।

জাতিসংঘ কর্তৃক প্রস্তাবিত একটি আন্তর্জাতিকভাবে পালিত দিন যা এর সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত বিশ্বের সকল দেশ ও সংগঠন কর্তৃক যথাযোগ্য মর্যাদার সঙ্গে পালিত হয়ে থাকে। পৃথিবী থেকে যুদ্ধ, হিংসা, আগ্নেয়াস্ত্র প্রয়োগের মতো ঘটনা মুছে ফেলতেই প্রতি বছর ২১ সেপ্টেম্বর বিশ্বব্যাপী এই দিবসটি পালন করা হয়ে থাকে।

জাতিসংঘের প্রস্তাব অনুসারে প্রতি বছরের সেপ্টেম্বর মাসের ‘তৃতীয় মঙ্গলবার’ জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন শুরু হওয়ার দিনটিকে ‘আন্তর্জাতিক শান্তি দিবস’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

এ বছরের শান্তি দিবসের প্রতিপাদ্য ‘রিকভারিং বেটার ফর ইকুইট্যাবল অ্যান্ড সাসটেইন্যাবল ওয়ার্ল্ড (ন্যায়সঙ্গত ও টেকসই বিশ্ব পুনরুদ্ধার)’। টেকসই শান্তি অর্জনে দীর্ঘস্থায়ী শান্তির পথ খুঁজে নিতে বিশ্বের সকল দেশকে আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস।

মানবাধিকারকর্মী নূর খান মনে করেন, শান্তি প্রতিষ্ঠায় সংঘাতময় পরিস্থিতি থেকে উত্তোরণ যেমন জরুরি তেমনিই বর্তমানে কোভিড পরিস্থিতি মোকাবিলায় সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি। তিনি বলেন, ধনী দেশগুলোর উচিত অপেক্ষাকৃত গরীব ও প্রান্তিক দেশগুলো যেন বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে পারে সেই সুযোগ তৈরি করে দেওয়া। গত দুই বছরে বিশ্ব যে অর্থনৈতিক টানাপড়েনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, সেখানে যদি ক্ষমতাশালী শক্তিমান রাষ্ট্রগুলো এগিয়ে না আসে তাহলে বিশ্ব আরও বৈষম্যের দিকে এগিয়ে যাবে এবং সংঘাত বাড়বে। পক্ষান্তরে শান্তিও বিঘ্নিত হবে। সেইদিন বিবেচনায় এবারের শান্তি দিবসের যে প্রতিপাদ্য তা যথাযথ বলে মনে করেন তিনি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্তি ও সংঘর্ষ অধ্যয়ন বিভাগের শিক্ষক রফিক শাহরিয়ার বলেন, শান্তি এখন আর কেবল সংঘাত নিরসন ও অস্ত্র বিরতির ঘোষণার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। বর্তমানে কোভিডের কারণে বিশ্ব নতুন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছে। ফলে এখন ন্যায্যতার প্রশ্নটি বড় হয়ে সামনে এসেছে। এখনও একশটি দেশ ভ্যাকসিনের তালিকায় নিজেদের ঢুকাতে পারেনি। ন্যায্যতা প্রতিষ্ঠায় টিকা এবং স্বাস্থ্য সরঞ্জামাদি সহজলভ্য করে তোলার চেষ্টার কথা বারবার বলা হচ্ছে। এ সময়ে সেটি করতে না পারলে শান্তির নতুন যে সংজ্ঞায়ন দাঁড় হচ্ছে তা বাধাগ্রস্ত হবে।

তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন, অভ্যন্তরীণ সংঘাত ও কোভিড পরিস্থিতি এক জটিল বিশ্বের দিকে আমাদের অনবরত টানছে। উন্নত দেশগুলোকে প্রান্তিক দেশগুলোর সহায়তায় এগিয়ে আসতে হবে। এখনও বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অভ্যন্তরীণ সংঘাত চলমান।

আফগানিস্তানে সাম্প্রতিক তালেবান উত্থান ও অভ্যন্তরীণ বাস্তবতার স্মরণ করে তিনি আরও বলেন, একইসঙ্গে ন্যায্যতার প্রশ্নকে সঙ্গে নিয়ে অস্ত্র বিরতি ও সংঘাত নিরসনকেও গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করতে হবে।

উল্লেখ্য, ১৯৮১ সালের সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে ১৯৮২ সালে প্রথম দিবসটি পালন হয়। সে বছর প্রতিপাদ্য ছিল ‘বিশ্বের মানুষের শান্তির অধিকার’। পরবর্তী সময়ে প্রতিবছর বিশ্ব পরিস্থিতিকে সামনে রেখে দিবসটি পালনে শান্তির নানা প্রস্তাবনা তুলে প্রতিপাদ্য ঠিক করা হয়। জাতিসংঘের সকল সদস্য দেশ যে কর্মসূচীতে শান্তির বার্তা বয়ে আনে সেগুলোই শান্তি দিবসের প্রতিপাদ্য হিসেবে প্রস্তাব আনে। পরে তা গৃহীত হয়।

/এনএইচ/

সম্পর্কিত

কর্তৃপক্ষের ‘অবহেলায়’ সন্তানের মৃত্যু, বিচারের দাবিতে ঘুরছেন বাবা

কর্তৃপক্ষের ‘অবহেলায়’ সন্তানের মৃত্যু, বিচারের দাবিতে ঘুরছেন বাবা

আন্তর্জাতিক শান্তি দিবস আজ

আন্তর্জাতিক শান্তি দিবস আজ

বাংলাদেশ এখন উন্নয়নের ম্যাজিক ফিগার: আইজিপি

বাংলাদেশ এখন উন্নয়নের ম্যাজিক ফিগার: আইজিপি

করোনায় মারা যাওয়া বেশিরভাগই ডায়াবেটিস আক্রান্ত, সতর্কতায় করণীয়

করোনায় মারা যাওয়া বেশিরভাগই ডায়াবেটিস আক্রান্ত, সতর্কতায় করণীয়

আন্তর্জাতিক শান্তি দিবস আজ

আপডেট : ২১ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০২:২৮

শান্তিকে টেকসই রাখতে বিশ্বজুড়ে কোভিড-১৯ পরিস্থিতির মধ্যে আজ (২১ সেপ্টেম্বর) মঙ্গলবার পৃথিবীর দেশে দেশে পালিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক শান্তি দিবস। 

জাতিসংঘের সদস্য দেশগুলো ১৯৮২ সাল থেকে প্রতিবছর দিবসটি পালন করছে, যার ধারাবাহিকতায় কোভিডকালে পুরো বিশ্ব সমন্বিতভাবে করোনা থেকে মানুষকে বাঁচিয়ে তোলার ব্রত নিয়েছে। এ বছরের শান্তি দিবসের প্রতিপাদ্য ‘রিকভারিং বেটার ফর ইকুইট্যাবল অ্যান্ড সাসটেইন্যাবল ওয়ার্ল্ড’। 

একটি যুদ্ধবিহীন বিশ্ব প্রতিষ্ঠার (যুদ্ধ নয়, শান্তি চাই স্লোগানে) লক্ষ্যে ১৯৮১ সালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে গৃহীত নম্বর ৩৬/৬৭ প্রস্তাব অনুসারে প্রতি বছরের সেপ্টেম্বর মাসের ‘তৃতীয় মঙ্গলবার’ জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন শুরু হওয়ার দিনটিকে ‘আন্তর্জাতিক শান্তি দিবস’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

/ইউআই/এনএইচ/

সম্পর্কিত

কর্তৃপক্ষের ‘অবহেলায়’ সন্তানের মৃত্যু, বিচারের দাবিতে ঘুরছেন বাবা

কর্তৃপক্ষের ‘অবহেলায়’ সন্তানের মৃত্যু, বিচারের দাবিতে ঘুরছেন বাবা

বদলে গেছে শান্তির মানে

বদলে গেছে শান্তির মানে

বাংলাদেশ এখন উন্নয়নের ম্যাজিক ফিগার: আইজিপি

বাংলাদেশ এখন উন্নয়নের ম্যাজিক ফিগার: আইজিপি

করোনায় মারা যাওয়া বেশিরভাগই ডায়াবেটিস আক্রান্ত, সতর্কতায় করণীয়

করোনায় মারা যাওয়া বেশিরভাগই ডায়াবেটিস আক্রান্ত, সতর্কতায় করণীয়

বাংলাদেশ এখন উন্নয়নের ম্যাজিক ফিগার: আইজিপি

আপডেট : ২১ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০১:০৮

বাঘা বাঘা অর্থনীতিবিদদের মুখে ছাই দিয়ে বাংলাদেশ এখন উন্নয়নের ম্যাজিক ফিগারের দেশ হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন পুলিশ মহাপরিদর্শক ডক্টর বেনজীর আহমেদ। তিনি বলেন, করোনার কারণে যেখানে বিশ্বের অনেক উন্নত দেশের অর্থনীতি ধসে পড়েছে সেখানে বাংলাদেশের জিডিপি ৬ ভাগ। করোনা না আসলে জিডিপির হার আরও বাড়তো। আজ দেশ খাদ্যে উদ্বৃত্ত।

বাংলাদেশ দাবা ফেডারেশন ও সাউথ এশিয়ান চেস কাউন্সিলের সভাপতি ড. বেনজীর আহমেদ সোমবার (২০ সেপ্টেম্বর) রাতে রাজধানীর একটি হোটেলে জয়তু শেখ হাসিনা আন্তর্জাতিক গ্র্যান্ড মাস্টার্স দাবা প্রতিযোগিতার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। 

তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু স্বপ্ন দেখেছিলেন সোনার বাংলা গড়ার। কিন্তু তাঁকে মাঝপথে থামিয়ে দেওয়া হয়েছিল। তাঁরই সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত কাজগুলো বাস্তবায়ন করছেন। আমরা প্রধানমন্ত্রীর মাঝে বঙ্গবন্ধুর প্রতিচ্ছবি দেখছি। তার নেতৃত্বে বাংলাদেশ এখন উন্নয়নের ম্যাজিক। 

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী একটানা তৃতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় এসে দেশকে একটি অন্য মাত্রায় পৌঁছে দিয়েছেন। এক সময় প্যারিস কনসোর্টিয়ামে ৭২ মিলিয়ন ডলার ঋণের জন্য আমাদেরকে দেন-দরবার করতে হয়েছে। এখন বাংলাদেশ শ্রীলঙ্কাকে ঋণ দিয়েছে ২০০ মিলিয়ন ডলার, সুদানকে দিয়েছে আরও ২০০ মিলিয়ন ডলার।  

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে তিনটি বড় খেলার কথা বললে দাবার কথা বলতে হয়। আগামী বছর থেকে নতুন এবং প্রতিভাবান খেলোয়াড় খুঁজতে স্কুল পর্যায়ে দাবা প্রতিযোগিতা শুরু করবো। আমরা প্রথমবারের মতো জেলা পর্যায়ে দাবা লীগের আয়োজন করতে পেরেছি। এ বছর আরও তিন থেকে চারটি চ্যাম্পিয়নশিপের ব্যবস্থা করেছি। অক্টোবরে শেখ রাসেলের জন্মদিন উপলক্ষে আরও বড় পরিসরে একটি দাবা প্রতিযোগিতার আয়োজন করতে চাই। 

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ দাবা ফেডারেশনের সহসভাপতি চৌধুরী নাফিজ সরাফত। স্বাগত বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ দাবা ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ শাহাবুদ্দিন শামীম। এ সময় ফেডারেশনের সদস্য এবং দেশি-বিদেশি খেলোয়াড়রা উপস্থিত ছিলেন।

/আরটি/এনএইচ/

সম্পর্কিত

আন্তর্জাতিক শান্তি দিবস আজ

আন্তর্জাতিক শান্তি দিবস আজ

করোনায় মারা যাওয়া বেশিরভাগই ডায়াবেটিস আক্রান্ত, সতর্কতায় করণীয়

করোনায় মারা যাওয়া বেশিরভাগই ডায়াবেটিস আক্রান্ত, সতর্কতায় করণীয়

নারায়ণগঞ্জে ১৮ কনস্টেবল নিয়োগে জালিয়াতি হয়েছিল যেভাবে

নারায়ণগঞ্জে ১৮ কনস্টেবল নিয়োগে জালিয়াতি হয়েছিল যেভাবে

দ্বিতীয় ডোজের আওতায় দেড় কোটি মানুষ

দ্বিতীয় ডোজের আওতায় দেড় কোটি মানুষ

করোনায় মারা যাওয়া বেশিরভাগই ডায়াবেটিস আক্রান্ত, সতর্কতায় করণীয়

আপডেট : ২০ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২৩:১৫

করোনায় আক্রান্ত হয়ে গত এক সপ্তাহে যারা মারা গেছেন, তাদের বেশিরভাগ আগে থেকে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ছিলেন। এক সপ্তাহে মৃতদের ৬৪ দশমিক ৪৭ শতাংশই ডায়াবেটিসে আক্রান্ত  ছিল। এরপর রয়েছে উচ্চ রক্তচাপ, কিডনি-জনিত রোগ, বক্ষব্যাধি, হৃদরোগসহ অন্যান্য রোগের আক্রান্তরা। 

সোমবার (২০ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদফতর করোনা বিষয়ক নিয়মিত বিজ্ঞপ্তিতে সপ্তাহভিত্তিক বিশ্লেষণে এ তথ্য জানিয়েছে। তাই ডায়াবেটিসে আক্রান্তদের বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছেন গ্রিন লাইফ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের এন্ডোক্রাইনোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. তানজিনা হোসেন।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের দেওয়া তথ্য মতে, গত সপ্তাহে (১৩ থেকে ১৯ সেপ্টেম্বর) করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ২৯৪ জন। তাদের মধ্যে কোমর্বিডিটি বা আগে থেকেই অন্যান্য রোগে আক্রান্ত ছিলেন ১৫২ জন। শতকরা হিসাবে যা ৫১ দশমিক ৭০ শতাংশ।

স্বাস্থ্য অধিদফতর জানায়, গত এক সপ্তাহে করোনায় আক্রান্ত হয়ে যারা মারা গেছেন, তাদের মধ্যে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ছিলেন ৬৪ দশমিক ৪৭ শতাংশ, উচ্চ রক্ত চাপে আক্রান্ত ৬৩ দশমিক ৮২ শতাংশ, কিডনিজনিতে রোগে আক্রান্ত ছিলেন ১৩ দশমিক ১৬ শতাংশ, বক্ষব্যাধিতে আক্রান্ত ছিলেন ১১ দশমিক ৮৪ শতাংশ, হৃদরোগে আক্রান্ত ছিলেন ১১ দশমিক ১৮ শতাংশ, থাইরয়েডজনিত রোগে আক্রান্ত ছিলেন চার দশমিক ৬১ শতাংশ, স্ট্রোকে আক্রান্ত ছিলেন ৩ দশমিক ২৯ শতাংশ, লিভারজনিত রোগে আক্রান্ত ছিলেন ২ দশমিক ৬৩ শতাংশ, রক্তজনিত রোগে আক্রান্ত ছিলেন ২ দশমিক ৬৩ শতাংশ, নিউরোলজিক্যাল রোগে আক্রান্ত ছিলেন ১ দশমিক ৯৭ শতাংশ, বাতজনিত রোগে আক্রান্ত ছিলেন শূন্য দশমিক ৬৬ শতাংশ।

ডা. তানজিনা হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ডায়াবেটিস একটি দীর্ঘমেয়াদী রোগ। সারাজীবনই আমাদেরকে এরসঙ্গে জীবনযাপন করতে হয়। এই রোগের নানারকম জটিলতা আছে। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে না থাকলে তাহলে ধীরে ধীরে কিডনি, হার্ট, চোখ, পায়ের নার্ভ, রক্তনালী এসব কিছুতেই প্রভাব পড়ে। সেই কারণে সবসময় এটিকে নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রাখতে হয়।

যে কারণে নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি

ডা. তানজিনার মতে, অনেকেই কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে তা বুঝতে পারে না। তিনি বলেন, অনেকে মনে করেন সুগার লেভেল ৯-১০ এর মধ্যে থাকলে স্বাভাবিক। কিন্তু খালি পেটে ৬ এবং খাবার খাওয়ার দুই ঘণ্টা পর ৮ এর নিচে থাকলে আমরা সেটাকে নিয়ন্ত্রণে থাকা বলি। এরকমই যদি সবসময় কারও থাকে তাহলে অন্যান্য সাধারণ মানুষের মতো সুস্থ স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারবে। অন্যথায় কয়েকবছর পর নানারকম জটিলতা দেখা দেবে।

দ্বিতীয়ত, ডায়াবেটিস মানুষের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা নষ্ট করে দেয়। যার কারণে এসব রোগীদের বারবার নানা ধরনের সংক্রমণ দেখা দেয়। আমরা করোনাকালীন সময়ে দেখলাম ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের অবস্থা বেশি খারাপ হলো। একইসঙ্গে যে কোনও ধরনের সংক্রমণ কমাতে হলে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। সেটি নিয়ন্ত্রণে না থাকলে নানা ধরনের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়তে পারে। অনেকসময় পায়ের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়লে তা কেটে ফেলারও প্রয়োজন হয়।

তৃতীয়ত, লক্ষ্য রাখতে হবে গর্ভবতী মায়েদের দিকে। কারণ এতে বাচ্চা নষ্ট হয়ে যেতে পারে, সন্তান জন্মদানের সময় নানারকম জটিলতা দেখা দিতে পারে। গর্ভকালীন ডায়াবেটিস এখন বাংলাদেশে অনেক বেশি। এটি আলাদা ধরনের ডায়াবেটিস যেটি শুধুমাত্র গর্ভধারণের সময় দেখা দেয়। এটি নিয়ন্ত্রণ না করতে পারলে মা ও শিশু দুজনেরই নানারকম জটিলতা দেখা দিতে পারে।

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে করণীয়

ডা. তানজিনা জানান, ডায়াবেটিসের চিকিৎসা ব্যবস্থাপনাকে ৩টি ডি বলা হয়- ডায়েট, ড্রাগ ও ডিসিপ্লিন। তিনি বলেন, ডায়েট অর্থ হচ্ছে এই না যে না খেয়ে থাকতে হবে। এটা মানুষের একটি ভুল ধারণা। এর অর্থ হচ্ছে সঠিক খাবার সঠিক পরিমাণে খাবার সঠিক সময়ে খাওয়া। দুধ, ডিম, মাছ , মাংস সবই খেতে পারবেন কিন্তু সঠিক সময়ে সঠিক পরিমাণে খেতে হবে। আরেকটি হচ্ছে শারীরিক ব্যায়াম। মানুষ যতবেশি হাঁটাহাঁটি বা যে কোনও ধরনের ব্যায়াম করেন ইনসুলিন শরীরে তত ভালো কাজ করে। তখন দেখা যায় ওষুধের ডোজ অনেক কম লাগে।

এ ছাড়া ওষুধ বা ড্রাগ চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী গ্রহণ করতে হবে। ওষুধ গ্রহণও মনিটরিংয়ের মধ্যে থাকতে হবে। প্রতি তিন থেকে ছয় মাস পর পর চিকিৎসকের কাছে যাওয়া, ওষুধের ডোজ কিংবা ইনসুলিনের মাত্রা চাহিদা অনুযায়ী নির্ধারণ করা। তাছাড়া রক্তচাপ, চোখ, কিডনি এগুলো মনিটরিংয়ের মধ্যে থাকা।

ডা. তানজিনা বলেন, আমরা এখন পরামর্শ দিই; বাসায় যেন রোগীরা একটি গ্লুকোমিটার রাখেন। এটি দিয়ে মাঝে মাঝে ব্লাডসুগার পরীক্ষা করবেন। তাহলে নিজের সম্পর্কে একটি ধারণা পাওয়া যায়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শ অনুযায়ী সপ্তাহে একদিন কিংবা দু’সপ্তাহে খালি পেটে এবং খাবারের দুই ঘণ্টা পর একবার নিজের রক্তের পরীক্ষা নিজেরই করা দরকার। এ ছাড়া যখনই অসুস্থ বোধ হবে তখনই সুগার মেপে দেখা দরকার। কারণ অনেক সময় সুগার কমে যায় কিংবা বেড়ে যায়; দুই ক্ষেত্রেই অসুস্থ বোধ হয়। অসুস্থ হলে দ্রুত সময়ের মধ্যে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

/এসও/এনএইচ/         

সম্পর্কিত

দ্বিতীয় ডোজের আওতায় দেড় কোটি মানুষ

দ্বিতীয় ডোজের আওতায় দেড় কোটি মানুষ

ডেঙ্গু আক্রান্ত আরও ২৭৫ জন হাসপাতালে ভর্তি

ডেঙ্গু আক্রান্ত আরও ২৭৫ জন হাসপাতালে ভর্তি

সাড়ে ৫ লাখ টিকা দেওয়া হয়েছে আজ

সাড়ে ৫ লাখ টিকা দেওয়া হয়েছে আজ

শিশুদের টিকা কার্যক্রমও শুরু হবে: স্বাস্থ্য অধিদফতর

শিশুদের টিকা কার্যক্রমও শুরু হবে: স্বাস্থ্য অধিদফতর

সর্বশেষসর্বাধিক

লাইভ

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মেয়ে শিক্ষার্থীদের তথ্য চেয়েছে সরকার

মেয়ে শিক্ষার্থীদের তথ্য চেয়েছে সরকার

প্রাথমিকের বিস্কুট বিতরণ প্রকল্প: মেয়াদ বাড়লেও কার্যক্রম শুরু হয়নি

প্রাথমিকের বিস্কুট বিতরণ প্রকল্প: মেয়াদ বাড়লেও কার্যক্রম শুরু হয়নি

‘বাড়ছে আরও একটি ক্লাস’

‘বাড়ছে আরও একটি ক্লাস’

বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্লেন্ডেড লার্নিং এগিয়ে নিতে সহযোগিতার আগ্রহ যুক্তরাষ্ট্রের

বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্লেন্ডেড লার্নিং এগিয়ে নিতে সহযোগিতার আগ্রহ যুক্তরাষ্ট্রের

এসএসসি ৫ থেকে ১১ নভেম্বর, এইচএসসি ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে

এসএসসি ৫ থেকে ১১ নভেম্বর, এইচএসসি ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে

শিক্ষক ও সহায়ক পদ বাড়ছে প্রাথমিকে, দ্রুত পদোন্নতির সুপারিশ

শিক্ষক ও সহায়ক পদ বাড়ছে প্রাথমিকে, দ্রুত পদোন্নতির সুপারিশ

‘নতুন শিক্ষাক্রম বাস্তবায়নে আগে শিক্ষকদের প্রস্তুত করতে হবে’

‘নতুন শিক্ষাক্রম বাস্তবায়নে আগে শিক্ষকদের প্রস্তুত করতে হবে’

নতুন শিক্ষাক্রমে হিজড়াদের জন্য যা থাকছে

নতুন শিক্ষাক্রমে হিজড়াদের জন্য যা থাকছে

প্রাথমিকে জরুরি নির্দেশনা

প্রাথমিকে জরুরি নির্দেশনা

সর্বশেষ

কর্তৃপক্ষের ‘অবহেলায়’ সন্তানের মৃত্যু, বিচারের দাবিতে ঘুরছেন বাবা

কর্তৃপক্ষের ‘অবহেলায়’ সন্তানের মৃত্যু, বিচারের দাবিতে ঘুরছেন বাবা

বদলে গেছে শান্তির মানে

বদলে গেছে শান্তির মানে

টেকনাফে মেম্বার প্রার্থীর সমর্থকদের হামলায় ১৩ পুলিশ হাসপাতালে 

টেকনাফে মেম্বার প্রার্থীর সমর্থকদের হামলায় ১৩ পুলিশ হাসপাতালে 

দিঘলিয়ায় নৌকার প্রার্থীদের ভরাডুবি

দিঘলিয়ায় নৌকার প্রার্থীদের ভরাডুবি

জাতিসংঘ সদর দফতরের বাগানে বৃক্ষরোপণ করলেন প্রধানমন্ত্রী

জাতিসংঘ সদর দফতরের বাগানে বৃক্ষরোপণ করলেন প্রধানমন্ত্রী

© 2021 Bangla Tribune