X
বুধবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২১, ৬ আশ্বিন ১৪২৮

সেকশনস

‘গ্যাস ঘাটতি মেটাতে পার্বত্য চট্টগ্রামে অনুসন্ধান শুরু করতে হবে’

আপডেট : ০৮ মে ২০২১, ২১:৫০

পার্বত্য চট্টগ্রামের সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে গ্যাস অনুসন্ধানে এখনি অনুসন্ধানের কাজ শুরু করতে হবে। বাপেক্সকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি পিএসসির মাধ্যমে অথবা যৌথভাবে কাজ করার উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে। এতে ৩ থেকে ৫ বছরের মধ্যে গ্যাস পাওয়ার সম্ভাবনা আছে।

শনিবার (৮ মে) এনার্জি অ্যান্ড পাওয়ার ম্যাগাজিনের উদ্যোগে ‘মিসড অপরচুনিটি: হাইড্রোকার্বন এক্সপ্লোরেশন ইন চিটাগাং হিল ট্র‍্যাকস’ শীর্ষক এক ওয়েবিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন। ম্যাগাজিনের সম্পাদক মোল্লাহ আমজাদ হোসেনের সঞ্চালনায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাপেক্সের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মর্তুজা আহমেদ ফারুক চিশতি। বক্তব্য রাখেন জ্বালানি বিশেষজ্ঞ বদরুল ইমাম, জ্বালানি বিশেষজ্ঞ আব্দুস সালেক সুফি, ইউএমসির বাংলাদেশের অপারেশন সাবেক ভিপি ফরিদ উদ্দিন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক গোলাম সাব্বির সাত্তার, আপস্ট্রিম ও ডাউন স্ট্রিমের সিইও জসিম উদ্দিন।

মোল্লাহ আমজাদ বলেন, বিশ্বের অন্য দেশের তুলনায় আমাদের গ্যাসের মজুত খুবই নগণ্য। সবচেয়ে বেশি গ্যাস পাওয়া যায় রাশিয়া, ইরান ও কাতারের কাছে। গ্যাসের প্রায় ৫০ ভাগ মজুতই তাদের কাছে। আমাদের উত্তোলনযোগ্য মজুতের পরিমাণ ১০ দশমিক ৬ টিসিএফ। আমরা উত্তোলন করেছি ১৭ দশমিক ৪ টিসিএফ। নতুন আবিষ্কার ২ টিসিএফ-এর মতো। এরপর নতুন আবিষ্কার না হলে ২০৩১ সালে গ্যাস শেষ হয়ে যাবে। কিভাবে আমাদের মজুতের পরিমাণ বাড়ানো যায় সেটা নিয়ে কথা বলছেন বিশেষজ্ঞরা। এক্ষেত্রে পাহাড়ে গ্যাস অনুসন্ধানের পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। ১৯১০ থেকে এখন পর্যন্ত পাহাড়ে বেশ কিছু কাজ হয়েছে। ১৭টি অনুসন্ধানের কাজ হয়েছে। এরমধ্যে একটি শুকনো অবস্থায় পাওয়া গেছে। অন্যগুলোতে কোনও না কোনও সম্ভাবনা পাওয়া গিয়েছিল।

মর্তুজা আহমেদ ফারুক বলেন, ১৯১০ সাল থেকে এখন পর্যন্ত ১৪টি কূপ খনন করা হয়েছে। এরমধ্যে ১টি গ্যাসক্ষেত্র সেমুতাং পাওয়া গেছে। বাকীগুলো এখনও অনুসন্ধানেই যাওয়া হয়নি। বাপেক্স একা না পারলে যৌথভাবে সেখানে অনুসন্ধান শুরু করা দরকার এখনই। যে হারে গ্যাসের ব্যবহার হচ্ছে সে তুলনায় আমাদের অনুসন্ধান হচ্ছে না। ফলে ২০৩০ সালের পর জ্বালানি মেটানো কঠিন হয়ে পড়বে বলে তিনি মনে করেন।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ বদরুল ইমাম বলেন, পাহাড়ের মধ্যে সমতল এলাকায় কাজ করে ত্রিপুরায় কাজ করে গ্যাস অনুসন্ধানে সফল হয়েছে। আমরাও একইভাবে চেষ্টা করতে পারি। এতে ঝুঁকিও কম হবে। বাপেক্সের সাথে ভারতের কোম্পানি ওএনজিসির যদি যৌথভাবে কাজ করতে পারে তাহলে বাপেক্স অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারবে।

আব্দুস সালেক সুফি বলেন, বাপেক্সকে আমরা নিয়ন্ত্রণ না করে কারিগরি একটি প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টা করতে পারি। এতে বাপেক্স আরও ভালভাবে কাজ করতে পারবে বলে মনে করছি।

ফরিদ উদ্দিন বলেন, এক জরিপে দেখা যায়, পার্বত্য চট্টগ্রামের সীতাপাহাড় ও পটিয়াতে ৫ টিসিএফ এর মতো গ্যাসের মজুত আছে। এটি বাপেক্সই খনন শুরু করতে পারে। আর গ্যাস ঘাটতি মেটাতে এখনই পাহাড়ে অনুসন্ধানের উদ্যোগ নেওয়া দরকার।

/এসএনএস/এমআর/

সম্পর্কিত

আগামীকাল যেসব এলাকায় গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকবে

আগামীকাল যেসব এলাকায় গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকবে

বৃহস্পতিবার যেসব এলাকায় গ্যাস থাকবে না

বৃহস্পতিবার যেসব এলাকায় গ্যাস থাকবে না

গ্রাহকদের ঘেরাও, বিল দিলে সংযোগের আশ্বাস তিতাসের

গ্রাহকদের ঘেরাও, বিল দিলে সংযোগের আশ্বাস তিতাসের

আজ বৃহস্পতিবার গ্যাস থাকবে না যেসব এলাকায়

আজ বৃহস্পতিবার গ্যাস থাকবে না যেসব এলাকায়

গবেষণা

পানিতে ডুবে শিশুমৃত্যু, নেপথ্যে ‘নজরদারির অভাব’

আপডেট : ২২ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০১:০০

সাত মাসে আগে উঠান উঁচু করার জন্য মিজানুর রহমানের বাড়ির পাশের জমি থেকে মাটি কেটে নেন স্থানীয়রা। মাটি কাটার কারণে কয়েক দিনের বৃষ্টিতে সেই জায়গার গর্ত পানিভর্তি হয়ে যায়। আর সেই গর্তের পানিতে ডুবে গত ১৪ সেপ্টেম্বর মারা যায় মিজানুর রহমানের তিন বছরের মেয়ে ময়না।
এ ছাড়া গত ১৭ সেপ্টেম্বরে নীলফামারীর সৈয়দপুরে নদীতে গোসল করতে নেমে পানিতে ডুবে নিখোঁজ হয়েছে জয়ন্ত শীল নামের ১৪ বছরের এক কিশোর। ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল নদীর ৫ কিমি এরিয়ায় উদ্ধারের চেষ্টা চালালেও কোনও হদিস মেলেনি।
গত নয় সেপ্টেম্বর ভোলার লালমোহন উপজেলায় পুকুরের পানিতে ডুবে মারা যায় পাঁচ বছরের সাঈদ আর চার বছরের মীম। দুপুরের দিকে শিশু দুটি খেলতে গিয়ে পাশের পুকুরে পড়ে যায়। অনেকটা সময় তাদের দেখতে না পেয়ে পরিবার খুঁজতে থাকে। পরে শিশু দুটির শরীর পুকুরে ভাসতে দেখা গেলে উদ্ধার করে লালমোহন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাদের মৃত ঘোষণা করেন।
কুমিল্লার দাউদকান্দি এলাকায় গত ১৪ সেপ্টেম্বর দুই শিশুর মৃত্যু হয় পুকুরের পানিতে পড়ে। পাঁচ বছরের তানিশা আর চার বছরের নুসরাত দুপুরে বাড়ির পাশে পুকুরঘাটে খেলছিল। কিন্তু দীর্ঘসময় তাদের সাড়া শব্দ না পেয়ে স্বজনরা খোঁজ শুরু করেন। এ সময় পুকুরপাড়ে গিয়ে শিশু দুটিকে পানিতে ভাসতে দেখে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা শিশু দুটিকে মৃত ঘোষণা করেন।
পানিতে ডুবে মৃত্যু দেশের তৃতীয় শিশুমৃত্যুর কারণ। কিন্তু কোনও এক অজানা কারণে পানিতে ডুবে মৃত্যু গুরুত্ব পায় না। থেকে যায় নীতিনির্ধারকদের আলোচনার বাইরে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ২০১৪ সালের বৈশ্বিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুমৃত্যুর ৪৩ শতাংশের কারণ পানিতে ডুবে মৃত্যু। তবে সংশ্লিষ্টরা বলছে, পানিতে ডুবে মৃত্যুর ঘটনাগুলো জাতীয়ভাবে কার্যকর তথ্যায়ন ব্যবস্থা না থাকায় বেশিরভাগ ঘটনাই গণমাধ্যমে উঠে আসে না। ফলে এ সংক্রান্ত পূর্ণাঙ্গ চিত্র পাওয়া যায় না।
পানিতে ডুবে মৃত্যু নিয়ে দেশে জাতীয়ভাবে সর্বশেষ জরিপটি হয়েছে ২০১৬ সালে। স্বাস্থ্য অধিদফতর এবং ইউনিসেফের সহযোগিতায় সেন্টার ফর ইনজুরি প্রিভেনশন অ্যান্ড রিসার্চ, বাংলাদেশ পরিচালিত আরেক জরিপে দেখা যায়, প্রতিবছর সব বয়সী প্রায় ১৯ হাজার মানুষ পানিতে ডুবে মারা যায়। এদের তিন-চতুর্থাংশেরও বেশি অর্থাৎ আনুমানিক ১৪ হাজার ৫০০ জনই ১৮ বছরের কম বয়সী শিশু।
অন্যভাবে বলা যায়, দেশে গড়ে প্রতিদিন প্রায় ৪০ জন অনূর্ধ্ব ১৮ বছরের শিশুরা পানিতে ডুবে প্রাণ হারায়। পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের ক্ষেত্রে এই সংখ্যা প্রতিদিন প্রায় ৩০ জন। অর্থাৎ বছরে প্রায় ১০ হাজার। আর সকল বয়সের মধ্যে গড়ে ৫১ জন পানিতে ডুবে মারা যান।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যানুযায়ী, নিম্ন ও মধ্য আয়ের দেশের তুলনায় বাংলাদেশে পানিতে ডুবে মৃত্যুর হার পাঁচ গুণ বেশি।
বাংলাদেশ সেন্টার ফর ইনজুরি প্রিভেনশন অ্যান্ড রিসার্চের (সিআইপিআরবি) করা জরিপে দেখা গেছে, ৬৮ শতাংশ পানিতে ডোবার ঘটনা ঘটে সকাল নয়টা থেকে দুপুর একটার মধ্যে। আর বেশিরভাগই ঘটে পুকুরে (৬৬ শতাংশ) এবং বাড়ি থেকে ৪০ কদমের মধ্যে অবস্থিত খাদে (১৬ শতাংশ)। আর রয়েল লাইফ সেভিং সোসাইটি (আরএলএসএস) প্রতিবেদন অনুযায়ী, কমনওয়েলথ দেশগুলোর মধ্যে পানিতে ডুবের মৃত্যুর ঘটনায় বাংলাদেশ পঞ্চম শীর্ষ দেশ।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর ২০২০ সালের স্যাম্পল ভাইটাল স্টাটিসটিকস এর তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের গ্রাম এলাকায় পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের পানিতে ডুবে মৃত্যুর হার নয় দশমিক সাত শতাংশ। সেই তুলনায় শহরাঞ্চলে এই হার সাত শতাংশ। একই বয়সী শিশুদের নিউমোনিয়ায় মৃত্যু হারের পরই পানিতে ডুবে মৃত্যুর হারের অবস্থান।
বাংলাদেশে পানিতে ডুবে মৃত্যু নিয়ে কাজ করছে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা সমষ্টি। তাদের গবেষণায় এসেছে, গত ১৯ মাসে পানিতে ডুবে সবচেয়ে বেশি মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে কুড়িগ্রাম জেলায় আর বিভাগ ভিত্তিক পরিসংখ্যানে চট্টগ্রাম বিভাগে। ২০০২ সালের ১ জানুয়ারি থেকে চলতি বছরের ২৩ জুলাই পর্যন্ত করা এ গবেষণায় দেখা গেছে, পানিতে ডুবে মৃতদের ৯১ শতাংশের বয়স ১৮ বছরের কম।
আর চার বছর বা কম বয়সীদের মধ্যে পানিতে ডুবে মৃত্যু সবচেয়ে বেশি, ৫৬২ জন (৪২ শতাংশ)। পাঁচ থেকে নয় বছর বয়সের রয়েছে ৪৬২ জন, (৩৫ শতাংশ), ১০-১৪ বছরের ১৫২ জন এবং ১৫-১৮ বছরের ৩৮ জন। ১১৮ জনের বয়স ছিল ১৮ বছরের বেশি।
গবেষণায় দেখা গেছে, পানিতে ডুবে যাওয়ার ৭৯ শতাংশ ঘটনা দিনের বেলায় হয়। তার মধ্যে আবার  সকাল থেকে দুপুরের মধ্যে ৫৩৭ জন এবং দুপুর থেকে সন্ধ্যার আগে ৫১৭ জন মারা যায়। তবে রাতেও পানিতে ডুবে মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে।
সমষ্টি জানায়, বর্ষাকাল ও এর আগে-পরের মাসগুলোতে (জুন-অক্টোবর) পানিতে ডুবে মৃত্যুর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। ২০২০ সালে সর্বোচ্চ ১৩২ জন মারা যায় আগস্ট মাসে, দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ছিল জুলাই মাসে ১২৪ জন।
পরিবারের সদস্যদের যথাযথ নজরদারি না থাকায় সবচেয়ে বেশি সংখ্যক পানিতে ডোবার ঘটনা ঘটে জানিয়ে সমষ্টি জানাচ্ছে, পানিতে ডুবে এক হাজার ৩৩২টি মৃত্যুর ৯৭ শতাংশ (এক হাজার ৩০৫) ঘটেছে পরিবারের সদস্যদের অগোচরে।  
সমষ্টির পরিচালক মীর মাসরুর জামান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, পানিতে ডুবে মৃত্যুরোধে শিশুদের সাতার শেখানো খুবই জরুরি। সেইসঙ্গে যেহেতু পরিবারের সদস্যদের অগোচরে সবচেয়ে বেশি ঘটনা ঘটে তাই শিশুদের এ সময়ে দেখাশোনা করে রাখার মতো ব্যবস্থা করতে হবে। বাড়ির পাশে কোনও জলাশয় থাকলে তাকে ঘেরাও দিয়ে রাখতে হবে। আবার সাতার শেখার আগের বয়সেই যেহেতু শিশুদের ডুবে মৃত্যু হচ্ছে; আবার অনেক সময় বালতি, হাড়ির পানিতেও ডুবে যাওয়ার মতো ঘটনা ঘটছে; সেজন্য অভিভাবকদের অনেক বেশি সচেতন থাকতে হবে।
শহরের ডে কেয়ার সেন্টারের মতো, যেখানে বাবা-মা কাজ করতে গেলে যেন বাচ্চাকে কেউ দেখে রাখতে পারে, বলেন তিনি।
তবে এসব কার্যক্রমের কিছু কাজ হচ্ছে, সেটা সরকারি এবং বেসরকারি উদ্যোগে কিন্তু এ কার্যক্রমকে স্থায়ীত্বশীল করার জন্য সরকারের নিজস্ব উন্নয়ন প্রকল্প জরুরি বলে মনে করেন তিনি। যদিও সরকার ইতোমধ্যে পানিতে ডুবে শিশুমৃত্যুর বিষয়টি একটি বড় সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করে এ নিয়ে ডিপিপি (ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট প্রপোজাল) তৈরি হয়েছে এবং সেটি এখন একনেকে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে, বলেন মীর মাসরুর জামান।
পানিতে ডুবে মৃত্যু নিয়ে পলিসি অ্যাক্টিভিস্ট সদরুল হাসান মজুমদার বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, শিশু মৃত্যুর ক্ষেত্রে পানিতে ডুবে মৃত্যু তৃতীয় কারণ। আর পানিতে ডুবে সবচেয়ে বেশি শিশুর মৃত্যু হচ্ছে পরিবারের সদস্যদের অগোচরে দুপুর একটার ভেতরে। তাই পাঁচ বছরের শিশুদের সকাল নয়টা থেকে দুপুর একটা পর্যন্ত দেখভাল করার মতো প্রাতিষ্ঠানিক সুপারভিশনের ব্যবস্থা করতে হবে। আর এটা করতে হবে মহল্লাভিত্তিক থেকে শুরু করে গ্রাম পর্যায় পর্যন্ত।
আর প্রাতিষ্ঠানিক সুপারভিশনের ব্যবস্থা করা গেলে শতকরা ৮০ শতাংশ আর পাঁচ বছর হবার সঙ্গে সঙ্গে শিশুকে সাতার শেখানো গেলে প্রায় ৯০ শতাংশ মৃত্যু ঝুঁকি কমে যায়, বলেন সদরুল হাসান মজুমদার।
ছবি: সমষ্টির সৌজন্যে

 
/এনএইচ/

সম্পর্কিত

ইভ্যালির সার্ভারে অপরাধের ফুটপ্রিন্ট!

ইভ্যালির সার্ভারে অপরাধের ফুটপ্রিন্ট!

দুই এলাকায় জরিপ: সবচেয়ে বেশি দূষণ করছে কোকাকোলা ও প্রাণ আরএফএল

দুই এলাকায় জরিপ: সবচেয়ে বেশি দূষণ করছে কোকাকোলা ও প্রাণ আরএফএল

ভাষা সৈনিক আহমদ রফিককে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা দেওয়ার আহ্বান

ভাষা সৈনিক আহমদ রফিককে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা দেওয়ার আহ্বান

ডিমেনশিয়া রোগীদের জন্য বিশেষ নীতিমালা তৈরির দাবি

ডিমেনশিয়া রোগীদের জন্য বিশেষ নীতিমালা তৈরির দাবি

প্রাথমিক শিক্ষকদের জন্য ১১ দফা নির্দেশনা

আপডেট : ২১ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২২:৫৫

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী উপস্থিতি বাড়ানো ও পড়ার ঘাটতি পূরণে শিক্ষকদের জন্য ১১ দফা নির্দেশনা জারি করেছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর। মঙ্গলবার (২১ সেপ্টেম্বর) প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক আলমগীর মুহম্মদ মনসুরুল আলম স্বাক্ষরিত নির্দেশনা জারি করা হয়। নতুন নির্দেশনা ঠিকমত বাস্তবায়ন হচ্ছে কিনা তা দেখভাল করতে আলাদা আদেশ জারি করেছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর।

এর জন্য সকল বিভাগীয় উপপরিচালক, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার, উপজেলা ও থানা শিক্ষা অফিসারদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

 

১১ দফা নির্দেশনা

১। অনুপস্থিত শিক্ষার্থীদের তথ্য রেজিস্ট্রারে সংরক্ষণ করতে হবে। তাতে শিক্ষার্থীর নাম, শ্রেণি, রোল, ঠিকানা, মোবাইল নম্বর, কী কারণে অনুপস্থিত, গৃহীত পদক্ষেপসহ অন্যান্য বিষয় উল্লেখ থাকবে।

২। অনুপস্থিত শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করবেন শিক্ষকরা। প্রয়োজনে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি নিশ্চিতকরণে হোম ভিজিট করতে হবে।

৩। প্রতিটি বিদ্যালয়কে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির (শ্রেণিভিত্তিক) হার নিয়মিতভাবে সংরক্ষণ করতে হবে। উপস্থিতির ঘাটতি বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে।

৪। কোভিড-১৯ প্রভাবজনিত শিখন ঘাটতি পূরণে শ্রেণিভিত্তিক শিক্ষার্থীদের পারঙ্গমতা যাচাই করে বিভিন্ন দলে ভাগ করে শ্রেণিশিক্ষক ও বিষয় শিক্ষকদের জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড নির্দেশিত পাঠ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হবে।

৫। অনলাইন ক্লাস চলমান থাকবে। সংসদ বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বেতারে সম্প্রচারিত 'ঘরে বসে শিখি’র পাঠদান কার্যক্রমে শিক্ষার্থীরা অংশ নেবে।

৬। বিদ্যালয়ের বিষয় শিক্ষক ও শ্রেণি শিক্ষকরা শ্রেণিভিত্তিক প্রতিটি শিশুর শিখন যোগ্যতার প্রোফাইল (শিখন ঘাটতি পরিস্থিতি) প্রণয়ন করে এ সম্পর্কিত অগ্রগতির রেকর্ড সংরক্ষণ করবেন।

৭। শিক্ষার্থীর ধারাবাহিক মূল্যায়নে শ্রেণির কাজ, বাড়ির কাজ (ওয়ার্ক শিট) যাচাইকরণে একই শ্রেণির শিক্ষার্থীর ঘাটতি নিরূপণে শিক্ষকদের সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে।

৮। প্রধান শিক্ষক, শ্রেণি শিক্ষক, বিষয় শিক্ষক এবং কর্মচারীদেরকে শিক্ষার্থীদের মনো-সামাজিক স্বাস্থ্যের প্রতি গুরুত্বারোপ করে সহনশীল ও মানবিক আচরণ করতে হবে।

৯। প্রতিটি বিদ্যালয়ে প্রতিদিন ২টি শ্রেণির পাঠদান কার্যক্রম চলমান রয়েছে। রুটিন অনুযায়ী যেসকল শিক্ষকের পাঠদান কার্যক্রম থাকবে না তারা বিদ্যালয়ে বসে অবশিষ্ট ৩টি শ্রেণির জন্য গুগল মিট-এ (যেখানে সম্ভব) কার্যক্রম পরিচালনা করবেন।

১০। মাঠপর্যায়ের প্রত্যেক মেন্টরকে পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ থেকে প্রেরিত মেন্টরিং গাইডলাইন (মেন্টরদের দায়িত্ব ও কর্তব্য সংক্রান্ত) ও মেন্টরিং টুলস অনুসরণ করে নিজ দায়িত্ব পালনে সচেতন হতে হবে।

১১। সকল ক্ষেত্রে সরকার নির্দেশিত স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে।

 

 

/এসএমএ/এফএ/

সম্পর্কিত

ডিগ্রি স্তরের ৮৪১ শিক্ষককে এমপিওভুক্তির নির্দেশ

ডিগ্রি স্তরের ৮৪১ শিক্ষককে এমপিওভুক্তির নির্দেশ

গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষা শুরু ১৭ অক্টোবর

গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষা শুরু ১৭ অক্টোবর

অনলাইনে দুই শিফটে প্রশিক্ষণের জন্য অতিরিক্ত ভাতা ৩০ শতাংশ

অনলাইনে দুই শিফটে প্রশিক্ষণের জন্য অতিরিক্ত ভাতা ৩০ শতাংশ

১৮ অক্টোবর প্রাথমিকে শেখ রাসেল দিবস পালনের নির্দেশ

১৮ অক্টোবর প্রাথমিকে শেখ রাসেল দিবস পালনের নির্দেশ

চোরাই গার্মেন্ট পণ্য রাখতে গোডাউন ভাড়া!

আপডেট : ২১ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২২:৫০

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে আগে থেকেই গোডাউন ভাড়া করে রাখতো গার্মেন্ট পণ্য চোর চক্রের সদস্যরা। পণ্য পরিবহনকারী কাভার্ডভ্যানের চালকদের সঙ্গে যোগসাজশ থাকে এই চক্রের সদস্যদের। পণ্যসহ কাভার্ডভ্যান নিয়ে ওইসব গোডাউনের সামনে যায় চালকরা। শ্রমিকদের মাধ্যমে কাভার্ডভ্যান থেকে পণ্যভর্তি কার্টন নামিয়ে গোডাউনে ঢোকানো হয়। এরপর কার্টন থেকে পণ্য বের করে নেয় তারা।

তবে ওজন ঠিক রাখতে কখনও কখনও কার্টনের ভেতরে ইট-পাথর ঢুকিয়ে দেওয়া হয়। এরপর চালকরা কার্টনগুলো পুনরায় কাভার্ডভ্যানে তুলে চট্টগ্রাম বন্দরের নির্দিষ্ট সিঅ্যান্ডএফের কাছে নিয়ে যায়। অপরদিকে আরেক কাভার্ডভ্যানে করে চোরাই পণ্য নেওয়া হয় ঢাকা অথবা চট্টগ্রামে।

গত ১৫ সেপ্টেম্বর রাজধানীর তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানায় নেটওয়ার্ক ক্লোথিং লিমিটেড নামে একটি গার্মেন্ট প্রতিষ্ঠান কাভার্ডভ্যান থেকে তাদের পণ্য চুরির অভিযোগে মামলা দায়ের করে। মামলায় চট্টগ্রামে শিপমেন্ট পাঠানোর পথে কাভার্ডভ্যান থেকে বিপুল পরিমাণ পণ্য চুরি হওয়ার অভিযোগ করা হয়। ওই মামলার তদন্তে নেমে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের তেজগাঁও জোনাল টিম ১৭ সেপ্টেম্বর থেকে ১৯ সেপ্টেম্বর রাজধানী ঢাকা ও ঢাকার বাইরে অভিযান চালিয়ে ৭ জনকে গ্রেফতার করে। এ সময় তাদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ চোরাই গার্মেন্ট পণ্য উদ্ধার করা হয়। তাদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে গোয়েন্দা পুলিশ।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের তেজগাঁও জোনের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার শাহাদাত হোসেন সুমা বলেন, ‘চোর চক্রের সদস্যরা অভিনব কায়দায় গার্মেন্ট পণ্য চুরি করে। প্রত্যেকটি চুরির সঙ্গে কাভার্ডভ্যান চালকরা জড়িত। চোর চক্রের একাধিক সিন্ডিকেটের বিষয়ে তথ্য পাওয়া গেছে। তাদের ধরতে অভিযান চালানো হচ্ছে।’

মামলার তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানান, চোর চক্রের সঙ্গে কাভার্ডভ্যান পরিবহন মালিক ও ছোট ছোট কিছু বায়িং হাউজ জড়িত। সংঘবদ্ধ এই চক্রের সদস্যরা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বিভিন্ন এলাকায় আগে থেকেই গোডাউন ভাড়া করে রাখে। চালকের যোগসাজশে গার্মেন্ট প্রতিষ্ঠানের পণ্য পরিবহনের সময় কাভার্ডভ্যান সেই গোডাউনে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কাভার্ডভ্যান থেকে বিদেশে রফতানি করা পণ্য শিপমেন্টের প্যাকেট থেকে সরিয়ে ফেলে চোর চক্রের সদস্যরা।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা জানান, জিজ্ঞাসাবাদে চোর চক্রের সদস্যরা জানিয়েছে, তারা পণ্যের প্যাকেটগুলো কাভার্ডভ্যান থেকে নামিয়ে নিচের দিকে কেটে প্রতি প্যাকেট থেকে ৪ থেকে ৬টি করে পোশাক বের করে স্কচটেপ দিয়ে আবার লাগিয়ে দেয়। কখনও কখনও প্যাকেটের ওজন ঠিক রাখতে ভেতরে ইট-পাথরের টুকরা ঢুকিয়ে দেওয়া হয়। সেই প্যাকেট আবারও কাভার্ডভ্যানে তুলে নির্দিষ্ট সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টের কাছে পৌঁছে দেয় তারা।

গোয়েন্দা পুলিশ ও গার্মেন্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিদেশে রফতানির জন্য পাঠানো তৈরি পোশাক বা গার্মেন্ট পণ্য চুরির বিষয়টি জানা যায় কম। পণ্য বিদেশে নির্দিষ্ট ক্রেতার কাছে পৌঁছানোর পর সংখ্যার গরমিল হওয়ায় গার্মেন্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি জানতে পারে। এর ফলে বিদেশি ক্রেতারা বাংলাদেশের গার্মেন্ট কর্তৃপক্ষকে দোষারোপ করে। এতে দেশীয় গার্মেন্ট কর্তৃপক্ষের সুনাম নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি অনেক সময় বিপুল পরিমাণ জরিমানাও গুনতে হয়।

পণ্য চুরিতে সক্রিয় ১০ চক্র

গোয়েন্দা কর্মকর্তারা বলছেন, গার্মেন্ট পণ্য চুরিতে ঢাকা-চট্টগ্রামকেন্দ্রিক অন্তত ১০টি চক্রের সন্ধান পেয়েছেন। এরমধ্যে অন্যতম একজন হলো সাহেদ ওরফে সিলেটি সাঈদ। সম্প্রতি তাকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। সিলেটি সাঈদ একসময় একাধিক কাভার্ডভ্যানের মালিক ছিল। নিজের কাভার্ডভ্যান দিয়ে গার্মেন্ট পণ্য পরিবহন করতে গিয়ে নিজেই একটি চোর সিন্ডিকেট গড়ে তোলে। অন্তত একযুগ ধরে পণ্য চুরি করে আসছিল এই সিলেটি সাঈদ। চুরির টাকায় কাটাতো বিলাসী জীবনও।

গোয়েন্দা কর্মকর্তারা বলছেন, তারা আরও যেসব চক্রের সন্ধান পেয়েছেন, তার মধ্যে ট্রান্সপোর্ট ব্যবসায়ী ও বায়িং হাউজের কর্ণধারও রয়েছে। চক্রের সদস্যদের গ্রেফতারের স্বার্থে তাদের নাম-পরিচয় প্রকাশ করতে চাননি তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। তারা বলছেন, একাধিক চক্রের সদস্যদের ধরতে গোয়েন্দা নজরদারি ও অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

হাইওয়ে পুলিশের একজন কর্মকর্তা জানান, গার্মেন্ট পণ্য চুরির সিন্ডিকেটের সদস্যরা নারায়ণগঞ্জ, কাঁচপুর এলাকায় গোডাউন ভাড়া করে রাখে। কুমিল্লা থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত গোডাউন নেই বললেই চলে। চুরি ঠেকাতে পুলিশের পক্ষ থেকে অনেক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

/এপিএইচ/এমওএফ/

সম্পর্কিত

৫ লাখ ৭৭ হাজার ডোজ টিকা দেওয়া হলো আজ

৫ লাখ ৭৭ হাজার ডোজ টিকা দেওয়া হলো আজ

বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের রাস্তা সম্প্রসারণে দক্ষিণ সিটির উচ্ছেদ অভিযান

বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের রাস্তা সম্প্রসারণে দক্ষিণ সিটির উচ্ছেদ অভিযান

শিশু তানিয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় ২ জনের মৃত্যুদণ্ডাদেশ বহাল

শিশু তানিয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় ২ জনের মৃত্যুদণ্ডাদেশ বহাল

পৃথক দুই মামলায় হেলেনা জাহাঙ্গীরের জামিন

পৃথক দুই মামলায় হেলেনা জাহাঙ্গীরের জামিন

ইভ্যালির সার্ভারে অপরাধের ফুটপ্রিন্ট!

আপডেট : ২১ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২২:৫৯

পণ্য দেওয়ার কথা বলে নেওয়া টাকার একটি হিসাব ইভ্যালির সার্ভারে পেয়েছে পুলিশ। এতে দেখা গেছে, গ্রাহকদের কাছে ৭০০ কোটি টাকারও বেশি দেনা আছে প্রতিষ্ঠানটির। এ ছাড়াও কিছু প্রতিষ্ঠান সরাসরি ইভ্যালির সঙ্গে চুক্তি করে পণ্য নিয়ে ব্যবসা করার চেষ্টা করেছিল। তাদের তথ্যও পাওয়া গেছে। ইভ্যালির অর্থ আত্মসাতের চিহ্ন মিলেছে তাদের সার্ভারেই, যা পুলিশ এখন যাচাই-বাছাই করছে।

ইভ্যালিতে মোটা অঙ্কের বিনিয়োগকারী প্রায় শতাধিক, যারা বিভিন্ন সময় পণ্য পেয়ে পুনরায় বিনিয়োগ করেছেন। মূলত অফারের ফাঁদ পেতে ওই গ্রাহকদের আটকে রেখেছিল ইভ্যালি।

পুলিশ তদন্তে দেখা গেছে, প্রতিষ্ঠানটি গ্রাহকদের কাছ থেকে যে অর্থ নিয়েছে সে তথ্য সার্ভারে থাকলেও খরচে গোঁজামিল করেছে। অর্থ ব্যয়ের লিখিত যে জবাব ইভ্যালি দিয়েছে তা যাচাই করা হচ্ছে।

অপরদিকে, যেসব প্রতিষ্ঠান থেকে ইভ্যালি পণ্য নিয়েছিল তারাও প্রতিষ্ঠানটির কাছে প্রায় ২৫০ কোটি টাকা পাবে। সব মিলিয়ে প্রাথমিক তদন্তে ইভ্যালির দেনা ৯৫০ কোটি টাকারও বেশি।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট এক পুলিশ কর্মকর্তা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ইভ্যালির প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী মো. রাসেল বিভিন্ন প্রশ্নের লিখিত জবাব দিয়েছেন। তার দেওয়া তথ্য ও আমাদের তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য মিলিয়ে দেখা হচ্ছে।’

গত ১৬ সেপ্টেম্বর গুলশান থানায় একজন গ্রাহক মামলা দায়ের করলে সেদিন বিকালে মোহাম্মদপুরের বাসায় অভিযান চালিয়ে ইভ্যালির সিইও রাসেল ও তার স্ত্রী শামীমা নাসরিনকে (চেয়ারম্যান) গ্রেফতার করে র‌্যাব।

১৭ সেপ্টেম্বর গুলশান থানার মামলায় ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আতিকুল ইসলামের আদালত আসামিদের তিন দিন রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

মঙ্গলবার (২১ সেপ্টেম্বর) রিমান্ড শেষে গুলশান থানা পুলিশ তাদের আদালতে সোপর্দ করলে ধানমন্ডি থানায় দায়ের করা অপর এক গ্রাহকের মামলায় রাসেলের একদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। একই মামলায় তার স্ত্রী ও প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিনের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেওয়া হয়।

পরের মামলার এজাহারে কামরুল ইসলাম বলেছেন, ‘তিনি মেট্রো কাভারেজ, স্মার্ট ফুড অ্যান্ড বেভারেজ, ফ্রিডম এক্সপোর্ট ইম্পোর্ট বিডি ও ফিউচার আইটি নামে প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক। ইভ্যালির সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়ে গ্রাহকদের মোট ৩৫ লাখ ৮৫ হাজার টাকার পণ্য সরবরাহ করেছেন। পণ্য সরবরাহের বিপরীতে ইভ্যালি তাদের একটি চেক দিলেও সেই অ্যাকাউন্টে কোনও টাকা ছিল না। এ ঘটনায় চলতি বছরের ১২ জানুয়ারি তারা ইভ্যালির বিরুদ্ধে ধানমন্ডি থানায় একটি জিডিও (নং ৭০৬) দায়ের করেন। তবু ইভ্যালি তাদের অর্থ পরিশোধ করেনি।’

রাসেল এখনও নিজেকে নিরপরাধ ভাবেন

পুলিশ ইভ্যালির মামলা তদন্তে করতে গিয়ে রাসেল ও নাসরিনকে দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। পুলিশ যা জানতে চেয়েছে, রাসেল কোনও না কোনও উত্তর দিয়েছেন। রাসেল পুলিশকে বলেন, ‘আমি গতানুগতিক ব্যবসার বাইরে গিয়ে বেশি ছাড়ে পণ্য বিক্রি করেছি। অফার দিয়েছি। এর বাইরে কোনও অপরাধ করিনি।’

রাসেল ও নাসরিনকে মুখোমুখি জিজ্ঞাসাবাদও করেছে পুলিশ। এ সময় দুজনই ইভ্যালির বিষয়ে নিজেদের নিরপরাধ দাবি করেন। তারা বলেন, তারা ইভ্যালির অর্থ নয়ছয় করেননি। লস দিয়ে পণ্য বিক্রির এই প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত করে ব্র্যান্ড তৈরি করে প্রতিষ্ঠানটির শেয়ার বিক্রি করে তা পুষিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা ছিল তাদের।

ইভ্যালির সম্পদ কত?

গত তিন বছরে কী পরিমাণ সম্পদ অর্জন করেছে ইভ্যালি তার নির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। তদন্ত সংশ্লিষ্টরা এখনও হিসাব করছেন। এ বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলেও রাসেল বা নাসরিন সুনির্দিষ্ট তথ্য দেননি। দেশে বা দেশের বাইরে কোনও সম্পদ গড়েছেন কিনা তাও জানা যায়নি।

গ্রাহকের টাকায় প্রচার

গ্রাহকদের কাছ থেকে পণ্য বিক্রির কথা বলে নেওয়া অর্থের একটি মোটা অঙ্ক ব্রান্ডিং, প্রচার ও স্পন্সরশিপে ব্যয় করেছে ইভ্যালি।

ডিএমপির গুলশান জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার নিউটন দাস বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন ‘তিন দিনের রিমান্ডে রাসেল দম্পতি যে তথ্য দিয়েছেন, তা যাচাই করা হচ্ছে।’

 

 
 
/এফএ/এমওএফ/

সম্পর্কিত

পানিতে ডুবে শিশুমৃত্যু, নেপথ্যে ‘নজরদারির অভাব’

পানিতে ডুবে শিশুমৃত্যু, নেপথ্যে ‘নজরদারির অভাব’

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় ঝুমন দাশের জামিনাদেশ ২৩ সেপ্টেম্বর

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় ঝুমন দাশের জামিনাদেশ ২৩ সেপ্টেম্বর

দুই এলাকায় জরিপ: সবচেয়ে বেশি দূষণ করছে কোকাকোলা ও প্রাণ আরএফএল

দুই এলাকায় জরিপ: সবচেয়ে বেশি দূষণ করছে কোকাকোলা ও প্রাণ আরএফএল

ভাষা সৈনিক আহমদ রফিককে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা দেওয়ার আহ্বান

ভাষা সৈনিক আহমদ রফিককে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা দেওয়ার আহ্বান

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় ঝুমন দাশের জামিনাদেশ ২৩ সেপ্টেম্বর

আপডেট : ২১ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২২:০৯

হেফাজতের সাবেক নেতা মামুনুল হকের বক্তব্যকে কেন্দ্র করে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় গ্রেফতার সুনামগঞ্জের শাল্লার ঝুমন দাশের জামিনাদেশের জন্য আগামী ২৩ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য করেছেন হাইকোর্ট।

তার জামিন আবেদনের শুনানি নিয়ে মঙ্গলবার (২১ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলাম ও বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার কাজলের সমন্বয়ে গঠিত ভার্চুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

আদালতে জামিন আবেদনের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী জেড আই খান পান্না, নাহিদ সুলাতানা যুথি ও মো. আশরাফ আলী। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মিজানুর রহমান।

এর আগে ১৫ মার্চ সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে হেফাজতে ইসলাম শানে রিসালাত নামে এক সমাবেশের আয়োজন করে। সেখানে হেফাজত নেতা মাওলানা মামুনুল হকের ভাস্কর্যবিরোধী বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে ঝুমন দাশ নামে এক তরুণ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে স্ট্যাটাস দেন বলে অভিযোগ ওঠে। সেই স্ট্যাটাসটি হেফাজতের দৃষ্টিতে আপত্তিকর মনে হওয়ায় এর প্রতিবাদে সমাবেশ হয়। একইসঙ্গে সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলার নোয়াগাঁও গ্রামে সংখ্যালঘুদের বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে।

পরে ১৬ মার্চ রাতে ঝুমন দাশকে আটক করা হয় এবং তার বিরুদ্ধে শাল্লা থানায় উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আবদুল করিম ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করেন।

এরপর সে মামলায় গত ৩ আগস্ট নিম্ন আদালতে তার জামিন আবেদন খারিজ করেন আদালত। এরই পরিপ্রেক্ষিতে জামিন চেয়ে গত ২২ আগস্ট তিনি হাইকোর্টে আবেদন জানান।

 

/বিআই/আইএ/

সম্পর্কিত

ইভ্যালির সার্ভারে অপরাধের ফুটপ্রিন্ট!

ইভ্যালির সার্ভারে অপরাধের ফুটপ্রিন্ট!

প্রথম আলোর বিরুদ্ধে শত কোটি টাকার রুল

প্রথম আলোর বিরুদ্ধে শত কোটি টাকার রুল

অনিয়মের অভিযোগে স্বাস্থ্যের ২৮৩৯ পদে নিয়োগ বাতিল

অনিয়মের অভিযোগে স্বাস্থ্যের ২৮৩৯ পদে নিয়োগ বাতিল

ভাসানটেকে ‘ন্যায্যমূল্যের’ ৩৯ টন চাল-আটা উদ্ধার

ভাসানটেকে ‘ন্যায্যমূল্যের’ ৩৯ টন চাল-আটা উদ্ধার

সর্বশেষসর্বাধিক

লাইভ

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

আগামীকাল যেসব এলাকায় গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকবে

আগামীকাল যেসব এলাকায় গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকবে

বৃহস্পতিবার যেসব এলাকায় গ্যাস থাকবে না

বৃহস্পতিবার যেসব এলাকায় গ্যাস থাকবে না

গ্রাহকদের ঘেরাও, বিল দিলে সংযোগের আশ্বাস তিতাসের

গ্রাহকদের ঘেরাও, বিল দিলে সংযোগের আশ্বাস তিতাসের

আজ বৃহস্পতিবার গ্যাস থাকবে না যেসব এলাকায়

আজ বৃহস্পতিবার গ্যাস থাকবে না যেসব এলাকায়

সোমবার গ্যাস থাকবে না যেসব এলাকায়

সোমবার গ্যাস থাকবে না যেসব এলাকায়

সর্বশেষ

পানিতে ডুবে শিশুমৃত্যু, নেপথ্যে ‘নজরদারির অভাব’

গবেষণাপানিতে ডুবে শিশুমৃত্যু, নেপথ্যে ‘নজরদারির অভাব’

মেসির জন্য আরও দুঃসংবাদ

মেসির জন্য আরও দুঃসংবাদ

ত্যাগীর ম্যাজিকে রাজস্থানের শ্বাসরুদ্ধকর জয়

ত্যাগীর ম্যাজিকে রাজস্থানের শ্বাসরুদ্ধকর জয়

মুক্তির জন্য প্রস্তুত প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য অ্যানিমেশন সিনেমা

মুক্তির জন্য প্রস্তুত প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য অ্যানিমেশন সিনেমা

চীন, রাশিয়া ও পাকিস্তানের কূটনীতিকদের সঙ্গে বৈঠক আফগান প্রধানমন্ত্রীর

চীন, রাশিয়া ও পাকিস্তানের কূটনীতিকদের সঙ্গে বৈঠক আফগান প্রধানমন্ত্রীর

© 2021 Bangla Tribune