X
মঙ্গলবার, ২২ জুন ২০২১, ৮ আষাঢ় ১৪২৮

সেকশনস

যে যেভাবে পারছেন, ঝুঁকি নিয়ে ছুটছেন

আপডেট : ১১ মে ২০২১, ১৩:০৮

করোনা মহামারির কারণে এবারের ঈদে গ্রামের বাড়িতে যেতে মানুষকে নিরুৎসাহিত করতে বন্ধ রাখা হয়েছে দূরপাল্লার পরিবহন। তবে এ অবস্থার মধ্যেও করোনা সংক্রমণের ঝুঁকির মধ্যেই বাড়ি ফিরছে মানুষ। দূরপাল্লার গণপরিবহন বন্ধ থাকলেও পরিবারের সঙ্গে ঈদ কাটাতে ভেঙে ভেঙে দুই থেকে তিনগুণ বেশি ভাড়া গুনে বাড়ি যেতে দেখা গেছে বিভিন্ন শিল্প কারখানার শ্রমিক, ভাসমান ব্যবসায়ী ও চাকরিজীবীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে।

মঙ্গলবার (১১ মে) সকাল হতে ঘরমুখো মানুষকে গাজীপুর ছাড়তে দেখা গেছে। এদের কেউ ট্রাকে, কেউ পিকআপে, কেউ বা মোটরসাইকেলে, যে যেভাবে পারছেন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ছুটছেন গ্রামে। এ যেন বাড়ি ফেরার এক ভয়ঙ্কর প্রতিযোগিতা। করোনা মহামারির ভীতি নেই তাদের মাঝে। বাস বন্ধ থাকায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ছোট ছোট যানে করেই বাড়ি ফিরছেন তারা।

বেলা ১১ টায় সরেজমিন গাজীপুরের চান্দনা চৌরাস্তা গিয়ে দেখা যায়, ঝুঁকি নিয়ে গ্রামের উদ্দেশ্যে বাড়ি ফিরছে মানুষ। এসময় কম সংখ্যক যাত্রীকেই স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলাফেরা করতে দেখা গেছে।

সরেজমিন চন্দ্রা ত্রি-মোড়ে দেখা যায় বিভিন্ন বয়সী নারী-পুরুষের ভিড়। যেকোনও উপায়ে বাড়ি যেতে হবে তাদের। অনেকে গাড়ি না পেয়ে দাঁড়িয়ে আছেন রাস্তার পাশে। তাদের বাড়ি ফেরার জন্য এখন পিকআপ ভ্যান, মিনি ট্রাক আর মোটরসাইকেলের ওপর ভরসা করতে হচ্ছে। মাঝেমধ্যে ছেড়ে যাচ্ছে দুই-একটা বাস। তিনগুণ ভাড়া দিয়ে তাতে উঠে পড়ছে যাত্রীরা। অনেকে হেঁটে রওনা দিচ্ছে সামনে গিয়ে কোনও যানবাহন পাওয়ার আশায়।

গাজীপুরের চান্দনা চৌরাস্তা, চন্দ্রা, টঙ্গী, চেরাগ আলী, স্টেশন রোড এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, গণপরিবহন না থাকলেও ঘরে ফেরা মানুষ গন্তব্যে যাচ্ছেন প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস ও মোটরসাইকেলে করে। তবে এভাবে যেতে ভাড়া গুনতে হচ্ছে তিন থেকে চারগুণ বেশি। টঙ্গী থেকে ময়মনসিংহ যেতে সাধারণ সময়ের চেয়ে ২০০ টাকার ভাড়ার বিপরীতে গুনতে হচ্ছে ৪০০/৫০০ টাকা। কালিয়াকৈর হয়ে টাঙ্গাইল যেতে ২৫০ টাকার ভাড়ার জায়গায় দিতে হচ্ছে ৬০০ টাকা।

টঙ্গী স্টেশন রোডে কথা হয় ময়মনসিংহগামী যাত্রী আব্দুল আজিজের সঙ্গে। তিনি বলেন, গ্রামের বাড়ি যাবো। দূরপাল্লার বাস বন্ধ থাকায় অন্য যাত্রীদের সঙ্গে মাইক্রোবাসে করে (হায়েস) বাড়ি যাচ্ছি। মাইক্রোবাসে ভাড়া তিনগুণ বেশি। ময়মনসিংহের সাধারণ সময়ের ভাড়া ২০০ টাকা। কিন্তু এখন যেতে হচ্ছে ৫০০ টাকায়। কী করবো, পরিবার ও স্বজনদের সঙ্গে ঈদ করতে হবে। তাই বেশি ভাড়া দিয়েই বাড়ি ফিরছি। তারপরও বাড়িতে যেতে পারছি এটাই আনন্দ।

গাজীপুরের চান্দনা চৌরাস্তায় কথা হয় নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলার পোশাক কারখানার শ্রমিক জসীম উদ্দিনের সঙ্গে। তিনি বলেন, গণপরিবহন বন্ধ থাকলেও ট্রাক ও পিকআপে করে বাড়িতে যাওয়া যায় শুনেছি। বাসস্ট্যান্ডে এসে দেখি একজন লোক ময়মনসিংহ, জামালপুর, নেত্রকোনো যাওয়ার জন্য যাত্রী ডাকছেন। ভাড়া ময়মনসিংহ পর্যন্ত একেকজন ৪৫০ টাকা। ভাড়াটা দ্বিগুণের চেয়েও বেশি।

তিনি আরও বলেন, সরকার স্বাস্থ্যবিধি মেনে দূরপাল্লার গণপরিবহন খুলে দিলে ভালো হতো। কারণ আমরা যারা ছোট চাকরি করি, বাড়িতে আসা-যাওয়ায় অনেক বেশি খরচ হওয়ায় পরিবারের ওপর চাপ পড়ছে। বাড়িতে যাচ্ছি, বৃদ্ধ মা-বাবা, বউ-ছেলেমেয়ের সঙ্গে ঈদের সময়টা কাটালে ভালো লাগবে বলে।

ঈদযাত্রী আনা-নেওয়া করা প্রাইভেটকারের ড্রাইভার রাসেল মিয়া বলেন, সরকার গণপরিবহন বন্ধ করে দেওয়ায় যাত্রীর চাপ আছে। তবে পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে যাত্রী আনা-নেওয়া করা লাগে। পুলিশ দেখলে মামলা দিয়ে গাড়ি নিয়ে যায়। টাকা দিয়ে ছাড়াতে হবে, সে জন্য আমরা বাড়তি ভাড়া নিচ্ছি।

এদিকে গাজীপুর-কালিয়াকৈর-টাঙ্গাইল মহাসড়কে যানবাহনের চাপ বেড়েছে। বিভিন্ন ছোট-বড় বাহনে করে মানুষকে বাড়ি ফিরতে দেখা যায়। লকডাউনের মধ্যেও মহাসড়কে ছিল যানবাহনের চাপ। ট্রাক, পিকআপ, ব্যক্তিগত গাড়িসহ বিভিন্ন যানবাহনে গন্তব্যের উদ্দেশ্যে ছুটছে মানুষ। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে কিছু দূরপাল্লার বাসও রাস্তায় নেমেছে। ঈদ যত এগিয়ে আসছে, অন্যান্য দিনের তুলনায় যানবাহনের চাপ আরও বাড়ছে। এসব যানবাহনে স্বাস্থ্যবিধি মানা তো দূরের কথা, মাস্কও পরতে দেখা যায়নি অনেক যাত্রীদের।

গাজীপুরের হোতাপাড়া এলাকার পলমল গ্রুপের সাফা সোয়েটার কারখানার শ্রমিক আলমগীর হোসেন বলেন, বাস বন্ধ থাকায় তারা গাজীপুর থেকে মাইক্রো ভাড়া করে ১৪ জন বগুড়া যাচ্ছেন। এতে তাদের প্রত্যেককে এক হাজার টাকা করে ভাড়া দিতে হচ্ছে। গাজীপুরের যে কোনও স্থান থেকে অতিরিক্ত দুই থেকে তিনশ টাকা ভাড়ায় বগুড়ার যাত্রী নেওয়া হচ্ছে।

গাজীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জহুরুল ইসলাম জানান, মহাসড়কের কোথাও কোনও যানজট নেই। যানজট রোধে ও নিরাপত্তার জন্য গাজীপুরে মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে ৫২৯ জন পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

 

/টিটি/

সম্পর্কিত

কেমন চলছে ৭ জেলার লকডাউন

কেমন চলছে ৭ জেলার লকডাউন

এখনও এসএসসি-এইচএসসি পরীক্ষার পক্ষে মন্ত্রণালয়

এখনও এসএসসি-এইচএসসি পরীক্ষার পক্ষে মন্ত্রণালয়

ভিক্ষুক জাতির কোনও মর্যাদা নেই: বঙ্গবন্ধু

ভিক্ষুক জাতির কোনও মর্যাদা নেই: বঙ্গবন্ধু

কোরবানির চামড়া পাচার ঠেকানোর নির্দেশ

কোরবানির চামড়া পাচার ঠেকানোর নির্দেশ

ঢাবির এবারের বাজেট গত বছরের তুলনায় কম

ঢাবির এবারের বাজেট গত বছরের তুলনায় কম

কালীগঞ্জের ছয় ইউপির পাঁচটিতেই নৌকা জয়ী

কালীগঞ্জের ছয় ইউপির পাঁচটিতেই নৌকা জয়ী

‘রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে আসিয়ান ব্যর্থ’

‘রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে আসিয়ান ব্যর্থ’

সীমান্ত ঘুরে এবার ঢাকার দিকে করোনার ঢেউ

সীমান্ত ঘুরে এবার ঢাকার দিকে করোনার ঢেউ

আদালতে মুফতি আমির হামজার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি

আদালতে মুফতি আমির হামজার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি

রাজধানীতে ইয়াবাসহ রোহিঙ্গা যুবক গ্রেফতার

রাজধানীতে ইয়াবাসহ রোহিঙ্গা যুবক গ্রেফতার

সাবেক ডেপুটি গভর্নর এস কে সুর ও মুনিরুজ্জামানকে তলব

সাবেক ডেপুটি গভর্নর এস কে সুর ও মুনিরুজ্জামানকে তলব

সর্বশেষ

কেমন চলছে ৭ জেলার লকডাউন

কেমন চলছে ৭ জেলার লকডাউন

ইউপিএল প্রতিষ্ঠাতা মহিউদ্দিন আহমেদ আর নেই

ইউপিএল প্রতিষ্ঠাতা মহিউদ্দিন আহমেদ আর নেই

৮৩ বছরের বৃদ্ধা যখন ফিটনেস আইকন

৮৩ বছরের বৃদ্ধা যখন ফিটনেস আইকন

এইচএসসি পাসেই সরকারি চাকরির সুযোগ

এইচএসসি পাসেই সরকারি চাকরির সুযোগ

গাবতলী থেকে ছাড়ছে না দূরপাল্লার বাস

গাবতলী থেকে ছাড়ছে না দূরপাল্লার বাস

রাজধানীতে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না গণপরিবহন

রাজধানীতে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না গণপরিবহন

ভূমি সংস্কার বোর্ডে চাকরি

ভূমি সংস্কার বোর্ডে চাকরি

এখনও এসএসসি-এইচএসসি পরীক্ষার পক্ষে মন্ত্রণালয়

এখনও এসএসসি-এইচএসসি পরীক্ষার পক্ষে মন্ত্রণালয়

টিভিতে আজ

টিভিতে আজ

জেফ বেজোসকে মহাকাশে পাঠানোর আবেদনে ৩০ হাজার মানুষের স্বাক্ষর

জেফ বেজোসকে মহাকাশে পাঠানোর আবেদনে ৩০ হাজার মানুষের স্বাক্ষর

ভিক্ষুক জাতির কোনও মর্যাদা নেই: বঙ্গবন্ধু

ভিক্ষুক জাতির কোনও মর্যাদা নেই: বঙ্গবন্ধু

প্যারাগুয়েকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনা

প্যারাগুয়েকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনা

সর্বশেষসর্বাধিক

লাইভ

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

কালীগঞ্জের ছয় ইউপির পাঁচটিতেই নৌকা জয়ী

কালীগঞ্জের ছয় ইউপির পাঁচটিতেই নৌকা জয়ী

প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে কটূক্তি, এবার প্যানেল মেয়রের পদ হারালেন স্বপন

প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে কটূক্তি, এবার প্যানেল মেয়রের পদ হারালেন স্বপন

বিআরটিসির বিরুদ্ধে বেশি ভাড়া আদায়, অতিরিক্ত যাত্রী বহনের অভিযোগ

বিআরটিসির বিরুদ্ধে বেশি ভাড়া আদায়, অতিরিক্ত যাত্রী বহনের অভিযোগ

কিশোরগঞ্জে ডোবার পানিতে ডুবে ২ শিশুর মৃত্যু

কিশোরগঞ্জে ডোবার পানিতে ডুবে ২ শিশুর মৃত্যু

টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের ৫ দালালকে কারাদণ্ড

টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের ৫ দালালকে কারাদণ্ড

উপবৃত্তির টাকা উত্তোলনে প্রতারণা, নগদ এজেন্টকে জরিমানা

উপবৃত্তির টাকা উত্তোলনে প্রতারণা, নগদ এজেন্টকে জরিমানা

এলাকায় ত্রাস সৃষ্টির অভিযোগে কিশোর গ্যাংয়ের ৯ জন গ্রেফতার

এলাকায় ত্রাস সৃষ্টির অভিযোগে কিশোর গ্যাংয়ের ৯ জন গ্রেফতার

লঞ্চে যাত্রী ঠাসাঠাসি, ভাড়া কেন ৬০ শতাংশ বেশি?

লঞ্চে যাত্রী ঠাসাঠাসি, ভাড়া কেন ৬০ শতাংশ বেশি?

পর্যটক‌দের সঙ্গে ভালো আচরণ করুন: বীর বাহাদুর

পর্যটক‌দের সঙ্গে ভালো আচরণ করুন: বীর বাহাদুর

© 2021 Bangla Tribune