X
শুক্রবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২১, ৯ আশ্বিন ১৪২৮

সেকশনস

ঈদ উদযাপন যেন করোনা বৃদ্ধির উপলক্ষ না হয়: প্রধানমন্ত্রী

আপডেট : ১৩ মে ২০২১, ২০:১০

ঈদুল ফিতর উপলক্ষে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সবাইকে করোনার ভয়াবহতার বিষয়ে আবারও সতর্ক করে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ঈদ উদযাপনের অনুরোধ জানিয়েছেন। এক অস্বস্তিকর পরিস্থিতির মধ্যে আমাদের ঈদুল ফিতর উদযাপন করতে হচ্ছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা ঈদ উদযাপন করবো, তবে অবশ্যই স্বাস্থ্যবিধি মেনে। কোনোভাবেই এই ঈদ উদযাপন যাতে করোনাভাইরাস সংক্রমণ বৃদ্ধির উপলক্ষ হয়ে না ওঠে, সেদিকে আমাদের খেয়াল রাখতে হবে।

বৃহস্পতিবার (১৩ মে) সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তিনি এসব কথা বলেন। সন্ধ্যা সোয়া ৭টায় শুরু হওয়া এই ভাষণ বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বাংলাদেশ বেতার সম্প্রচার করে। এছাড়া বিভিন্ন বেসরকারি টেলিভিশন ও রেডিও স্টেশন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ভাষণ সম্প্রচারিত হয়।

দেশবাসীকে উদ্দেশ করে ভাষণে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিগত এক বছরের বেশি সময় ধরে বিশ্ব এক গভীর সংকটের মধ্য দিয়ে অতিবাহিত হচ্ছে। কোভিড-১৯ নামক এক প্রাণঘাতী ব্যাধি মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার ক্ষমতাসম্পন্ন এই ভাইরাস একদিকে যেমন অগণিত মানুষের জীবন কেড়ে নিচ্ছে, অন্যদিকে ক্ষতিসাধন করছে মানুষের জীবন-জীবিকার। আমাদের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা এবং অর্থনীতির ওপর ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে এই ভাইরাস।

করোনার দ্বিতীয় ঢেউ পরিকল্পনা ও প্রত্যাশাকে নস্যাৎ করে দিয়েছে

করোনার দ্বিতীয় ঢেউ প্রসঙ্গে সরকার প্রধান বলেন, গত বছরের শেষদিকে যখন বিশ্বব্যাপী সংক্রমণ অনেকটা কমতে শুরু করেছিল, তখন সকলের সঙ্গে আমরাও আশান্বিত হয়েছিলাম যে বিশ্ববাসী বুঝি এই প্রাণঘাতী ভাইরাস থেকে মুক্তি পেতে যাচ্ছে। কিন্তু মার্চের মাঝামাঝি থেকে দ্বিতীয় ঢেউ আমাদের সকল পরিকল্পনা ও প্রত্যাশা নস্যাৎ করে দেয়।

তিনি বলেন, মানুষের মাধ্যমে এই ভাইরাস ছড়ায়। কাজেই জনসমাগম এড়াতে না পারলে এ রোগকে নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব নয়। এ কারণে কষ্ট হবে জেনেও আমরা বাধ্য হয়েছি মানুষের স্বাভাবিক চলাচলের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করতে। দোকানপাট, শপিং মলসহ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো স্বাস্থ্যবিধি মেনে চালু রাখতে হচ্ছে। একই কারণে গণপরিবহন চলাচলের ওপরও বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।

বেঁচে থাকলে আমরা আনন্দঘন পরিবেশে ঈদ করতে পারবো

করোনার ভয়াবহতার বিষয়ে আবারও সতর্ক করে প্রধানমন্ত্রী যে যেখানে আছেন সেখানে থেকেই ঈদের আনন্দ উপভোগ করার অনুরোধ করেন। তিনি বলেন, আপনারা আবেগের বশবর্তী হয়ে আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে ঈদের ছুটি কাটাতে যাবেন না। অনেকের কোনও বাহ্যিক লক্ষণ না থাকায় বুঝতে পারবেন না আপনার পাশের ব্যক্তিটিই করোনাভাইরাস বহন করছে। এর ফলে আপনি যেমন করোনাভাইরাসের ঝুঁকিতে পড়বেন, তেমনি আপনার নিকটাত্মীয় বা পাড়া প্রতিবেশীকে ঝুঁকির মুখে ফেলবেন। মনে রাখবেন, সবার ওপরে মানুষের জীবন। বেঁচে থাকলে আসছে বছর আবার আমরা আনন্দঘন পরিবেশে ঈদ উদযাপন করতে পারবো।

সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে মসজিদে ঈদের জামাত

ঈদের জামাত মসজিদে অনুষ্ঠানে সরকারি সিদ্ধান্তের প্রসঙ্গ টেনে শেখ হাসিনা বলেন, ভাইরাসের বিস্তার প্রতিরোধে গত বছরের মতো এ বছরও ঈদগাহ ময়দানে ঈদের জামাত অনুষ্ঠানে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। মসজিদে মসজিদে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে ঈদের নামাজ আদায় করতে হবে।

দুঃসময়ে মানুষের পাশে দাঁড়ান

জাতির উদ্দেশে ভাষণে প্রধানমন্ত্রী বিত্তবান  ও সামর্থ্যবানদের এ দুঃসময়ে দরিদ্র প্রতিবেশী, গ্রামবাসী বা এলাকাবাসীর পাশে দাঁড়ানোর অনুরোধ করেন। তিনি বলেন, আপনার সাহায্য হয়তো একটি পরিবারের মুখে হাসি ফোটাবে। দেখবেন, তাদের হাসিমুখ আপনার হৃদয় ও মনকে পরিপূর্ণ করে তুলবে ঈদের আনন্দে। মানুষ হিসেবে মানুষের পাশে দাঁড়ানোই সবচেয়ে বড় কর্তব্য। আমরা যেন এই কর্তব্যকর্ম ভুলে না যাই।

তিনি বলেন, ডাক্তার, নার্স, অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীসহ কয়েকটি পেশার কর্মীগণ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সামনে থেকে কোভিড-১৯ রোগীদের সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সশস্ত্র বাহিনী এবং প্রশাসনের কর্মকর্তারা লকডাউন বা চলাচলের বিধিনিষেধ বলবৎ করতে মাঠে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন। ত্রাণসামগ্রী বিতরণসহ সরকারের নানা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে যাচ্ছেন। সংবাদকর্মীরা সংক্রমণের ঝুঁকি উপেক্ষা করে সংবাদ পরিবেশনের কাজ করে যাচ্ছেন। সবাইকে আমি আন্তরিক ধন্যবাদ এবং শুভেচ্ছা জানাচ্ছি।

করোনা সংক্রমণে মৃত্যুবরণকারীদের স্মরণ করে সরকার প্রধান বলেন, করোনাভাইরাসে সংক্রমিত হয়ে বহু স্বাস্থ্যকর্মী, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য এবং বিভিন্ন সংস্থার কর্মকর্তা-কর্মচারী প্রাণ হারিয়েছেন। আমরা আমাদের অনেক প্রিয়জনকে হারিয়েছি। আমি সকলের রুহের মাগফিরাত ও আত্মার শান্তি কামনা করছি। শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি।

১৩০টি সরকারি হাসপাতালে কেন্দ্রীয় অক্সিজেন ব্যবস্থা

করোনা সংক্রমণ রোধে সরকারের নেওয়া পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে আমরা সর্বাত্মক ব্যবস্থা নিয়েছি। আক্রান্তদের চিকিৎসায় সর্বোচ্চ উদ্যোগ নিয়েছি। চিকিৎসা সক্ষমতা অনেকগুণ বৃদ্ধি করেছি। সরকারি হাসপাতালের পাশাপাশি বেসরকারি খাতের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক হাসপাতালকেও করোনাভাইরাস চিকিৎসায় সম্পৃক্ত করেছি। মহামারি শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত ৬ হাজার ১৬৬ জন ডাক্তার, ৫ হাজার ৫৪ জন নার্স এবং প্রায় সাড়ে ৪ হাজার অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। জেলা হাসপাতালগুলোসহ দেশের ১৩০টি সরকারি হাসপাতালে কেন্দ্রীয়ভাবে অক্সিজেন সরবরাহ ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে।

মাস্ক পরুন, দূরত্ব বজায় রাখুন

করোনাভাইরাস প্রতিরোধে নাগরিক হিসেবে আমাদের দায়িত্ব সবচেয়ে বেশি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, করোনার সংক্রমণ ঠেকাতে মাস্কের ব্যবহার অত্যন্ত ফলপ্রসূ বলে প্রমাণিত হয়েছে। কাজেই বাইরে গেলে অবশ্যই মাস্ক ব্যবহার করবেন। পাশাপাশি যথাসম্ভব ঘন ঘন সাবান-পানি দিয়ে হাত ধুয়ে নিন অথবা স্যানিটাইজার দিয়ে হাত জীবাণুমুক্ত করুন। সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখুন। গরম পানির ভাপ নিতে পারেন।

কঠোর ব্যবস্থা ছাড়া বিকল্প উপায় ছিল না

করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে লকডাউন দেওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে সরকার প্রধান বলেন, প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস শুধু মানুষের জীবন কেড়ে নিচ্ছে না, বিশ্ব অর্থনীতিকে বিপর্যস্ত করে ফেলেছে। সংক্রমণ এড়াতে লকডাউন বা সাধারণ ছুটি বলবৎ করতে হয়েছে। আমরা গত বছর একটানা দুই মাসেরও বেশি সাধারণ ছুটি বলবৎ করেছিলাম। দ্বিতীয় ঢেউ আঘাত হানার পর গত মাসের ৫ তারিখ থেকে পর্যায়ক্রমে লকডাউন কার্যকর করা হয়েছে। এর ফলে অগণিত মানুষের রুটি-রুজির ওপর আঘাত এসেছে। কিন্তু এই কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা ছাড়া বিকল্প কোনও উপায় ছিল না।

কোনোভাবেই রোগীর সংখ্যা বাড়তে দেওয়া যাবে না

সরকারের স্বাস্থ্য খাতের সক্ষমতার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, প্রতিটি দেশেরই স্বাস্থ্য অবকাঠামোর একটি নির্দিষ্ট সক্ষমতা রয়েছে। হঠাৎ দ্রুতগতিতে রোগী বাড়তে থাকলে তখন সেবা দেওয়া অসম্ভব হয়ে পড়ে। উন্নত দেশগুলো পর্যন্ত করোনা রোগীর সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছে। সেজন্য আমাদের কোনোভাবেই রোগীর সংখ্যা বাড়তে দেওয়া যাবে না।

জীবন ও জীবিকার মধ্যে সামঞ্জস্যের চেষ্টা

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা জীবন ও জীবিকার মধ্যে একটা সামঞ্জস্য বজায় রাখার চেষ্টা করে যাচ্ছি। যারা কর্মহীন হয়ে পড়েছেন, তাঁদের সহায়তার জন্য সরকার সর্বাত্মক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। গত বছর করোনাভাইরাস আঘাত হানার পর থেকে চলতি মাস পর্যন্ত এক লাখ ঊনত্রিশ হাজার ছয়শ তের কোটি টাকার সহায়তা কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। এরমধ্যে প্রণোদনা প্যাকেজের আওতায় ২১টি খাতে ১ লাখ ২১ হাজার ৩৫৩ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। অনুদান বাবদ ৮ হাজার ২৬০ কোটিরও বেশি টাকা বিতরণ করা হয়েছে।

তিনি জানান, গত বছর সাময়িক কর্মহীন ৩৬ লাখ ৫০ হাজার মানুষকে আড়াই হাজার টাকা করে ৯১২ কোটি ৫০ লাখ দেওয়া হয়েছে। এ বছরও সমসংখ্যক মানুষকে একই হারে ৯১২ কোটি ৫০ লাখ টাকা বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়া ত্রাণ মন্ত্রণালয় ৬০৭ কোটি টাকা বিতরণ করেছে। দিনমজুর, পরিবহন শ্রমিক, সাধারণ শ্রমিক, নিম্ন আয়ের মানুষ, মাদ্রাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থী, মসজিদের ইমাম-মুয়াজ্জিন, অন্যান্য ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সেবক, বেসরকারি স্কুল-কলেজের শিক্ষক ইত্যাদি পেশার মানুষজন এ সহায়তা কর্মসূচির আওতায় এসেছেন।

সাড়ে তিন লাখ পরিবারকে গৃহনির্মাণ 

তিনি বলেন, মুজিববর্ষ উপলক্ষে ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে ৬৫ হাজার ৬৫৪টি ঘর নির্মাণ করে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ৫৩ হাজার ৪৩৪টি গৃহনির্মাণের কাজ চলছে। এ নিয়ে মোট গৃহের সংখ্যা দাঁড়াবে ১ লাখ ১৯ হাজার ৮৮। বিভিন্ন কর্মসূচির আওতায় এ পর্যন্ত সাড়ে তিন লাখ পরিবারকে গৃহনির্মাণ করে দিয়েছি।

সামাজিক নিরাপত্তার আওতায় ৫ কোটি ৭৮ লাখ সুবিধাভোগী

প্রধানমন্ত্রী বলেন, করোনাভাইরাস মহামারির সময়েও সামাজিক নিরাপত্তা বলয়ের আওতাধীন বিভিন্ন ভাতা, খাদ্য কর্মসূচি, শিক্ষার্থীদের বৃত্তি-উপবৃত্তি প্রদানসহ আমরা সকল ধরনের সরকারি সহায়তা কর্মসূচি অব্যাহত রেখেছি। এসব কর্মসূচির সুবিধাভোগী মানুষের সংখ্যা প্রায় ৫ কোটি ৭৮ লাখ। এরমধ্যে বিভিন্ন ভাতাভোগীর সংখ্যা ১ কোটি ৭ লাখ, খাদ্য নিরাপত্তার আওতায় উপকারভোগীর সংখ্যা ২ কোটি ১৮ লাখ এবং বৃত্তি-উপবৃত্তি পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা ২ কোটি ৫৩ লাখ।

প্রবৃদ্ধিতে খানিকটা ভাটা পড়বে

জনগণের সহযোগিতায় ও সরকারের সময়োচিত কার্যক্রমে বিগত এক বছর করোনাভাইরাস মহামারিজনিত আর্থিক অভিঘাত খুব ভালোভাবেই সামাল দেয়া সম্ভব হয়েছে উল্লেখ করে সরকার প্রধান বলেন, করোনার প্রথম ঢেউ সামলে যখন অর্থনীতিকে সাবেক অবস্থার দ্বারপ্রান্তে নিয়ে আসার পর্যায়ে, তখনই মার্চ মাসে দ্বিতীয় ঢেউ আঘাত হেনেছে। এতে আমাদের প্রত্যাশিত প্রবৃদ্ধিতে হয়তো খানিকটা ভাটা পড়বে। তবে আমাদের অভ্যন্তরীণ এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার হিসেবে এবারও আমরা আশানুরূপ প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে সক্ষম হবো। গত সপ্তাহে আমাদের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৪৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার অতিক্রম করেছে।

বোরোর বাম্পার ফলন হয়েছে

চলতি বোরো মৌসুমে বাম্পার ফলন হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, বেশিরভাগ ধান ইতোমধ্যে চাষিদের ঘরে উঠেছে। সুষ্ঠুভাবে ধান কাটা-মাড়াইয়ের জন্য আমরা সাশ্রয়ী মূল্যে হারভেস্টার বিতরণ অব্যাহত রেখেছি। আওয়ামী লীগ এবং এর বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনের - ছাত্রলীগ, কৃষক লীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতাকর্মীরা দেশের বিভিন্ন জায়গায় কৃষকদের ধান কাটতে সহায়তা করছে। পবিত্র রমজান মাসে আমাদের দলের কর্মীরা দেশের বিভিন্ন স্থানে ইফতার এবং সেহরি বিতরণ করেছে।

চাষিরা যাতে তাদের উৎপাদিত ধানের ন্যায্য মূল্য পান, সেজন্য এবার চালের সংগ্রহ মূল্য কেজি প্রতি ৪০ টাকা এবং ধানের মূল্য ২৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে বলে তিনি জানান।

ঈদের দিন আনন্দের দিন উল্লেখ করে ভাষণের শেষ পর্যায়ে তিনি বলেন, মনের সব কালিমা দূর করে, মানুষে মানুষে ভেদাভেদ ভুলে একে অপরের সঙ্গে মিলিয়ে যাওয়ার মধ্যেই ঈদের আনন্দ। আজকের দিনে আমরা হিংসা-বিদ্বেষ, ঘৃণা, লোভ, অহমিকা, ক্রোধ, অহংকার ইত্যাদি যাবতীয় কু-প্রবৃত্তি থেকে নিজেদের মুক্ত করে সাম্য, ভ্রাতৃত্ব, ঐক্য, সৌহার্দ্য, সম্প্রীতির বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার শপথ নেবো। সবাই ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন, নিরাপদ থাকুন। মহান আল্লাহ আমাদের সহায় হোন।

 

/ইএইচএস/এমআর/এমওএফ/

সম্পর্কিত

বাংলাদেশ ও শেখ হাসিনার নেতৃত্বের প্রশংসায় জাতিসংঘ মহাসচিব

বাংলাদেশ ও শেখ হাসিনার নেতৃত্বের প্রশংসায় জাতিসংঘ মহাসচিব

জাতিসংঘের অধিবেশনে আজ বাংলায় ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী

জাতিসংঘের অধিবেশনে আজ বাংলায় ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী

২৪ ঘণ্টায় বেড়েছে মৃত্যু, কমেছে শনাক্তের হার

আপডেট : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১৮:৩৬

গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় নতুন আক্রান্ত ও মৃত্যু বেড়েছে। তবে কমেছে দৈনিক শনাক্তের হার। গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ৩১ জন, যা গতকাল (২৩ সেপ্টেম্বর) ছিল ২৪ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছেন এক হাজার ২৩৩ জন। গতকাল এক হাজার ১৪৪ জন শনাক্তের তথ্য জানিয়েছিল স্বাস্থ্য অধিদফতর।

তবে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় রোগী শনাক্তের হার গতকালের তুলনায় কমেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় শনাক্তের হার চার দশমিক ৫৪ শতাংশ, গতকাল শনাক্তের হার ছিল চার দশমিক ৬১ শতাংশ। আর আজকের শনাক্তের হার নিয়ে টানা চতুর্থ দিনের মতো দৈনিক শনাক্তের হার পাঁচ শতাংশের নিচে।

শুক্রবার (২৪ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদফতরের করোনা বিষয়ক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় মারা যাওয়া ৩১ জনকে নিয়ে দেশে সরকারি হিসাবে এখন পর্যন্ত মারা গেলেন ২৭ হাজার ৩৬৮ জন এবং ২৪ ঘণ্টায় শনাক্ত এক হাজার ২৩৩ জনকে নিয়ে এখন পর্যন্ত শনাক্ত হলেন ১৫ লাখ ৪৯ হাজার ৫৫৩ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা থেকে সুস্থ হয়েছেন এক হাজার ৪১৩ জন। তাদের নিয়ে দেশে করোনা থেকে সুস্থ হলেন মোট ১৫ লাখ নয় হাজার ২০২ জন।

এতে বলা হয়, দেশে এখন পর্যন্ত করোনা রোগী শনাক্তের হার ১৬ দশমিক ১৮ শতাংশ। ২৪ ঘণ্টায় শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ৯৭ দশমিক ৪০ শতাংশ এবং মৃত্যুহার এক দশমিক ৭৭ শতাংশ।

গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া ৩১ জনের মধ্যে পুরুষ ১৮ জন আর নারী ১৩ জন। দেশে এখন পর্যন্ত করোনায় মোট পুরুষ মারা গেলেন ১৭ হাজার ৫৮৪ জন এবং নারী ৯ হাজার ৭৮৪ জন।

২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়াদের বয়স বিবেচনায় ৯১ থেকে ১০০ বছরের মধ্যে রয়েছেন একজন, ৮১ থেকে ৯০ বছরের মধ্যে তিন জন, ৭১ থেকে ৮০ বছরের মধ্যে পাঁচ জন, ৬১ থেকে ৭০ বছরের মধ্যে ৯ জন, ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে ছয় জন, ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে চার জন, ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে একজন এবং ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে দুই জন।

মারা যাওয়া ৩১ জনের মধ্যে ঢাকা বিভাগের আছেন ১৬ জন, চট্টগ্রাম বিভাগের আট জন, রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের দুই জন করে এবং খুলনা, সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগের একজন করে।

তবে বরিশাল বিভাগে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় কেউ মারা যাননি।

স্বাস্থ্য অধিদফতর জানাচ্ছে, ৩১ জনের মধ্যে সরকারি হাসপাতালে মারা গেছেন ২৬ জন এবং বেসরকারি হাসপাতালে পাঁচ জন।

গত ২৪ ঘণ্টায় করোনার নমুনা সংগৃহীত হয়েছে ২৭ হাজার ৫৫৭টি, আর নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ২৭ হাজার ১৪১টি। দেশে এখন পর্যন্ত নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ৯৫ লাখ ৭৯ হাজার ১১১টি। এর মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় পরীক্ষা করা হয়েছে ৭০ লাখ ৬৫ হাজার ৫০৯টি এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ২৫ লাখ ১৩ হাজার ৬০২টি।

 

/জেএ/আইএ/

সম্পর্কিত

নেদারল্যান্ডসের রানির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বৈঠক

নেদারল্যান্ডসের রানির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বৈঠক

১৯৭৩ সালে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় আবারও নতুন পদক্ষেপ নিতে হয়

১৯৭৩ সালে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় আবারও নতুন পদক্ষেপ নিতে হয়

ভোক্তা প্রতারণা বন্ধে কার্যকর উপায় বের করার নির্দেশ রাষ্ট্রপতির

ভোক্তা প্রতারণা বন্ধে কার্যকর উপায় বের করার নির্দেশ রাষ্ট্রপতির

বৈশ্বিক সুদৃঢ় খাদ্য ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরামর্শ প্রধানমন্ত্রীর

বৈশ্বিক সুদৃঢ় খাদ্য ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরামর্শ প্রধানমন্ত্রীর

বাংলাদেশ ও শেখ হাসিনার নেতৃত্বের প্রশংসায় জাতিসংঘ মহাসচিব

আপডেট : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১৬:২৫

জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস বাংলাদেশের বিস্ময়কর উন্নয়ন এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বলিষ্ঠ ও দূরদর্শী নেতৃত্বের উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেছেন। বৃহস্পতিবার বিকালে (বাংলাদেশ সময় আজ সকাল) লটে নিউ ইয়র্ক প্যালেসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক আলোচনার সময় এ প্রশংসা করেন তিনি।

পরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন প্রধানমন্ত্রীর সার্বিক কার্যক্রমের ব্যাপারে সাংবাদিকদের ব্রিফিং করেন।

বৈঠকের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতিসংঘ (ইউএন) মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেসকে স্বাগত জানান। জাতিসংঘ বাংলাদেশের অগ্রাধিকারগুলোকে গুরুত্ব দেয় উল্লেখ করে মহাসচিব প্রধানমন্ত্রীকে বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন এবং টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের মতো বাংলাদেশের অগ্রাধিকারগুলো জাতিসংঘেরও অগ্রাধিকার।

শেখ হাসিনা জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের উচ্চপদে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর আরও বেশি সদস্য নিযুক্ত করতে জাতিসংঘ মহাসচিবের প্রতি আহ্বান জানান।

প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানে জাতিসংঘের সাড়া’র বিষয়ে জানতে চাইলে জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, গুতেরেস এই আহ্বানকে ইতিবাচক হিসেবে দেখেছেন এবং তিনি এটিকে ন্যায্য মনে করেন ও বাংলাদেশের জন্য আরও কিছু করতে চান।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, জাতিসংঘ মহাসচিব এ ব্যাপারে বাংলাদেশের সুনাম অর্জনের কথা এবং শান্তি রক্ষা মিশনে তাদের সাফল্যের গল্প রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন।

ড. মোমেন বলেন, একটি গতিশীল অর্থনীতির দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে জাতিসংঘ ‘রোল মডেল’ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। গুতেরেস বাংলাদেশের এবং দেশটির সার্বিক অর্জনের ব্যাপারে এর নেতৃত্বের উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেন।

জাতিসংঘ মহাসচিবের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘ সদর দফতরে নেদারল্যান্ডের রানি ম্যাক্সিমা, ভিয়েতনামের প্রেসিডেন্ট নগুয়েন জুয়ান ফুক এবং মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম মোহামেদ সহিলের সঙ্গেও বৈঠক করেন।

নেদারল্যান্ডের রানি ম্যাক্সিমার সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক আলোচনায় শেখ হাসিনা বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে ক্ষয়ক্ষতি সামলাতে তার সরকার ইন্স্যুরেন্স ব্যবস্থা চালু করার চিন্তাভাবনা করছে।

এ সময় পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম ও জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাবাব ফাতিমা উপস্থিত ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম মোহাম্মাদ সহিলের সঙ্গে বৈঠকের ব্যাপারে ড. মোমেন বলেন, মালে ও চট্টগ্রামের মধ্যে বাণিজ্যিক জাহাজ চালু করার ব্যাপারে উভয় দেশ কাজ করছে। 

ভিয়েতনামের প্রেসিডেন্ট নগুয়েন জুয়ান ফুকের সঙ্গে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গাদের তাদের নিজ জন্মভূমিতে ফিরিয়ে নেওয়ার ব্যাপারে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষকে চাপ দিতে ফুককে অনুরোধ জানান। খবর বাসস

/ইউএস/এমওএফ/

সম্পর্কিত

জাতিসংঘের অধিবেশনে আজ বাংলায় ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী

জাতিসংঘের অধিবেশনে আজ বাংলায় ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী

নেদারল্যান্ডসের রানির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বৈঠক

নেদারল্যান্ডসের রানির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বৈঠক

বৈশ্বিক সুদৃঢ় খাদ্য ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরামর্শ প্রধানমন্ত্রীর

বৈশ্বিক সুদৃঢ় খাদ্য ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরামর্শ প্রধানমন্ত্রীর

জাতিসংঘের অধিবেশনে আজ বাংলায় ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী

আপডেট : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১৬:০৭

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৭৬তম অধিবেশনের উচ্চ পর্যায়ের সাধারণ আলোচনায় আজ শুক্রবার (২৪ সেপ্টেম্বর) (বাংলাদেশ সময়) রাত ৯টায় ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে রোহিঙ্গা, জলবায়ু পরিবর্তন এবং কোভিড-১৯ পরবর্তী অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হবে। ভাষণে অগ্রাধিকার পাওয়া অন্য বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে টেকসই উন্নয়ন, খাদ্য নিরাপত্তা ও অসমতা দূরীকরণ।

প্রধানমন্ত্রী গত ২১ সেপ্টেম্বর ইউএনজিএ জেনারেল ডিবেটের প্রথম দিন অংশ নেন। এ অধিবেশন আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর সমাপ্ত হওয়ার কথা রয়েছে।

শেখ হাসিনা তার বাবা ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পদাঙ্ক অনুসরণ করে আগের বছরগুলোর মতই বাংলা ভাষায় তার ভাষণ দেবেন। বঙ্গবন্ধু ১৯৭৪ সালে জাতিসংঘে প্রথম বাংলায় ভাষণ দেন। প্রধানমন্ত্রী ইউএনজিএ’র অধিবেশনে বাংলায় ভাষণ দিতে যাচ্ছেন। এটি হবে বাংলা ভাষায় দেওয়া তার ১৮তম ভাষণ।

শেখ হাসিনা সরাসরি ইউএনজিএ অধিবেশনে অংশগ্রহণে হেলসিঙ্কি হয়ে নিউইয়র্কে পৌঁছান। কোভিড-১৯ মহামারি পরিস্থিতির কারণে ইউএনজিএ’র ৭৫তম অধিবেশনে তিনি সশরীরে যোগ দিতে পারেননি।

ইউএনজিএ’র ৭৬তম অধিবেশন গত ১৪ সেপ্টেম্বর শুরু হয়। ওই দিন সাধারণ পরিষদের প্রেসিডেন্ট হিসেবে মালদ্বীপের আব্দুল্লাহ শহিদ শপথ গ্রহণ করেন এবং তিনি বর্তমান অধিবেশন উদ্বোধন করেন।

বৈশ্বিক মহামারির কারণে সাধারণ পরিষদের হলে অনুমোদিত প্রতিনিধির সংখ্যা সীমিত রাখা হয়েছে এবং জাতিসংঘ সদস্য দেশগুলোর প্রতিনিধিদের জাতিসংঘ সদরদপ্তরে সরাসরি উপস্থিত থাকার পরিবর্তে আগে ধারণ করা বিবৃতি প্রদানে উৎসাহিত করা হয়।

শতাধিক রাষ্ট্র ও সরকার প্রধান জাতিসংঘের প্রধান নীতি নির্ধারণ অঙ্গ ইউএনজিএ অধিবেশনে সশরীরে অংশ নেবেন বলে আশা করা হচ্ছে। খবর বাসস

/ইউএস/

সম্পর্কিত

বাংলাদেশ ও শেখ হাসিনার নেতৃত্বের প্রশংসায় জাতিসংঘ মহাসচিব

বাংলাদেশ ও শেখ হাসিনার নেতৃত্বের প্রশংসায় জাতিসংঘ মহাসচিব

নেদারল্যান্ডসের রানির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বৈঠক

নেদারল্যান্ডসের রানির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বৈঠক

বৈশ্বিক সুদৃঢ় খাদ্য ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরামর্শ প্রধানমন্ত্রীর

বৈশ্বিক সুদৃঢ় খাদ্য ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরামর্শ প্রধানমন্ত্রীর

নেদারল্যান্ডসের রানির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বৈঠক

আপডেট : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১৮:১৬

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে যোগ দেওয়ার পাশাপাশি দ্বিপক্ষীয় নেতৃবৃন্দের সঙ্গেও একাধিক বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বৃহস্পতিবার (২৩ সেপ্টেম্বর) নিউ ইয়র্কে তিনি নেদারল্যান্ডের রানি ম্যাক্সিমা, ভিয়েতনামের প্রেসিডেন্ট নগুয়েন জুয়ান পাক, মালদ্বীপের রাষ্ট্রপতি ইবরাহিম মোহামেদ সোলিহ ও জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেসের সঙ্গে বৈঠক করেন।

বৃহস্পতিবার সকালে শেখ হাসিনার সঙ্গে হোটেল লোটে নিউ ইয়র্ক প্যালেসে নেদারল্যান্ডসের রানি ম্যাক্সিমা সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। এ সময় পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুল মোমেন ও প্রধানমন্ত্রীর আইটি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় উপস্থিত ছিলেন।

পরে দুপুরে জাতিসংঘ সদর দফতরে ভিয়েতনামের রাষ্ট্রপতি নগুয়েন জুয়ানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন প্রধানমন্ত্রী। 

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে দুপুরে জাতিসংঘ সদর দফতরে মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট ইবরাহিম সোলিহ সৌজন্য সাক্ষাৎ হয়। গত মার্চে বঙ্গবন্ধু জন্মশতবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উৎসবে মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট ঢাকা সফর করেছিলেন।

এছাড়া জাতিসংঘ সদর দফতরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস। 

/এসএসজেড/ইউএস/

সম্পর্কিত

২৪ ঘণ্টায় বেড়েছে মৃত্যু, কমেছে শনাক্তের হার

২৪ ঘণ্টায় বেড়েছে মৃত্যু, কমেছে শনাক্তের হার

বাংলাদেশ ও শেখ হাসিনার নেতৃত্বের প্রশংসায় জাতিসংঘ মহাসচিব

বাংলাদেশ ও শেখ হাসিনার নেতৃত্বের প্রশংসায় জাতিসংঘ মহাসচিব

জাতিসংঘের অধিবেশনে আজ বাংলায় ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী

জাতিসংঘের অধিবেশনে আজ বাংলায় ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী

১৯৭৩ সালে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় আবারও নতুন পদক্ষেপ নিতে হয়

১৯৭৩ সালে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় আবারও নতুন পদক্ষেপ নিতে হয়

১৯৭৩ সালে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় আবারও নতুন পদক্ষেপ নিতে হয়

আপডেট : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৮:০০

(বিভিন্ন সংবাদপত্রে প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে বঙ্গবন্ধুর সরকারি কর্মকাণ্ড ও তার শাসনামল নিয়ে মুজিববর্ষ উপলক্ষে ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশ করছে বাংলা ট্রিবিউন। আজ পড়ুন ১৯৭৩ সালের ২৪ সেপ্টেম্বরের ঘটনা।)

১৯৭৩ সালের এদিনে দেড়শ’ থানায় রক্ষীবাহিনী পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়। সমাজবিরোধী তৎপরতায় লিপ্ত দুষ্কৃতকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করতে সরকার দেশের দেড়শ’টিরও বেশি থানার সদর দফতরে অবিলম্বে পর্যাপ্ত রক্ষীবাহিনী পাঠানোর নির্দেশ দেয়। সরকারি সূত্রে এ কথা জানানো হয়।

খবরে প্রকাশ, দেশের নিরীহ নাগরিকদের শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দুষ্কৃতকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়ার পর সরকার উপরোক্ত নির্দেশনা দেয়।

এর মাত্র কয়েক দিন আগে আওয়ামী লীগ সংসদীয় দলের বৈঠকে দুষ্কৃতকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়। প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সেই বৈঠকে সভাপতিত্ব করেছিলেন। সূত্র জানায়, ভিন্ন থানা সদর দফতরে রক্ষীবাহিনী মোতায়েন করা ছাড়াও সব জেলা ও মহাসড়ক দফতরে পর্যাপ্ত পুলিশ ও রক্ষীবাহিনী মোতায়েন রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়।

এছাড়া দুষ্কৃতকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান চালানোয় পুলিশের তৎপরতায় সাহায্য করতে স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে সুস্পষ্ট নির্দেশও দেওয়া হয়।

দৈনিক বাংলা, ২৫ সেপ্টেম্বর ১৯৭৩

প্রত্যাগত বাঙালিদের পুনর্বাসন

পাকিস্তানে আটকে থাকা যেসব বাঙালি ফিরে আসছেন তাদের পুনর্বাসনে সম্ভাব্য সব করা হবে। ত্রাণ ও পুনর্বাসনমন্ত্রী সোহরাব হোসেন জাতীয় সংসদে আশ্বাস দেন, পাকিস্তান থেকে ফিরে আসা বাঙালিদের বিষয়ে সরকারের সুস্পষ্ট পরিকল্পনা আছে। পাকিস্তান থেকে ফিরে আসা বাঙালিদের জন্য এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্তদের ত্রাণ ও পুনর্বাসনে সরকার কী কী ব্যবস্থা নিচ্ছে, সদস্যরা তা জানতে চান। প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, পাকিস্তান থেকে প্রত্যাগত সরকারি বাঙালি কর্মচারীদের এক মাসের অগ্রিম বেতন ও এক মাসের ছুটি দেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া যেসব কর্মচারী পাকিস্তানের স্বায়ত্তশাসিত সংস্থায় বা অনুরূপ সংস্থায় কর্মরত ছিলেন তাদের নাম তালিকাভুক্ত করার জন্য দেশের সব স্বায়ত্তশাসিত ও আধা সরকারি প্রতিষ্ঠানকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

কুটির শিল্প করপোরেশন বিল পাস

দেশে একটি কুটির শিল্প সংস্থা স্থাপনের উদ্দেশ্যে এদিন জাতীয় সংসদে বাংলাদেশ কুটির শিল্প করপোরেশন ১৯৭৩ বিল বিবেচনার জন্য উপস্থাপন করা হয়। শিল্পমন্ত্রী জানান, আগামী পরিকল্পনায় ১২১ কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হবে। গ্রামাঞ্চলের মানোন্নয়নের জন্য কুটির শিল্পের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে শিল্পমন্ত্রী বলেন, ১৯৭০ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী তিন লক্ষ ৩০ হাজার ৪৩৬টি কুটির শিল্প দেশের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে আছে। ৮ লাখ ৫৩ হাজার ৮৭৮ ব্যক্তি এই শিল্পের উৎপাদন কাজে নিয়োজিত। এই শিল্পকে উৎসাহিত ও সম্প্রসারিত করে মৃতপ্রায় কুটির শিল্পগুলোর ব্যবহার এবং পরিবারভুক্ত কুটির শিল্প লোকদের মধ্যে আধুনিক কৌশল ছড়িয়ে দেওয়া হবে এই সংস্থার কাজ।

দ্য অবজারভার, ২৫ সেপ্টেম্বর ১৯৭৩

কুটির শিল্প বাঁচাতে যা বলেছিলেন জয়নুল আবেদীন

বাংলাদেশের কুটির শিল্প লুপ্তপ্রায়। এ শিল্পকে বাঁচাতে ব্যাপক সরকারি উদ্যোগ প্রয়োজন। আমলাতান্ত্রিক কর্তৃত্ব নয়, কুটির শিল্পে যারা সত্যিকার অর্থে জড়িত তাদের দায়িত্ব নিতে হবে। বাংলাদেশের প্রখ্যাত কয়েকজন শিল্পী এ মন্তব্য করেন। কুটির শিল্প রক্ষায় সরকারের নেওয়া পদক্ষেপকে অভিনন্দিত করেন শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদীন। গ্রামে গ্রামে এই উদ্যোগ বেকারত্ব কমাবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।

 

 

/এফএ/এমওএফ/

সম্পর্কিত

২৪ ঘণ্টায় বেড়েছে মৃত্যু, কমেছে শনাক্তের হার

২৪ ঘণ্টায় বেড়েছে মৃত্যু, কমেছে শনাক্তের হার

নেদারল্যান্ডসের রানির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বৈঠক

নেদারল্যান্ডসের রানির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বৈঠক

ভোক্তা প্রতারণা বন্ধে কার্যকর উপায় বের করার নির্দেশ রাষ্ট্রপতির

ভোক্তা প্রতারণা বন্ধে কার্যকর উপায় বের করার নির্দেশ রাষ্ট্রপতির

বৈশ্বিক সুদৃঢ় খাদ্য ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরামর্শ প্রধানমন্ত্রীর

বৈশ্বিক সুদৃঢ় খাদ্য ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরামর্শ প্রধানমন্ত্রীর

সর্বশেষসর্বাধিক

লাইভ

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

বাংলাদেশ ও শেখ হাসিনার নেতৃত্বের প্রশংসায় জাতিসংঘ মহাসচিব

বাংলাদেশ ও শেখ হাসিনার নেতৃত্বের প্রশংসায় জাতিসংঘ মহাসচিব

জাতিসংঘের অধিবেশনে আজ বাংলায় ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী

জাতিসংঘের অধিবেশনে আজ বাংলায় ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী

নেদারল্যান্ডসের রানির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বৈঠক

নেদারল্যান্ডসের রানির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বৈঠক

বৈশ্বিক সুদৃঢ় খাদ্য ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরামর্শ প্রধানমন্ত্রীর

বৈশ্বিক সুদৃঢ় খাদ্য ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরামর্শ প্রধানমন্ত্রীর

বিশ্বে ‘ভ্যাকসিন বিভাজন’ দূর করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

বিশ্বে ‘ভ্যাকসিন বিভাজন’ দূর করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

অতি জরুরি ভিত্তিতে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন জোরদারের দাবি প্রধানমন্ত্রীর

অতি জরুরি ভিত্তিতে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন জোরদারের দাবি প্রধানমন্ত্রীর

সর্বশেষ

শর্ত মানলে শান্তি আলোচনায় রাজি উত্তর কোরিয়া: কিমের বোন

শর্ত মানলে শান্তি আলোচনায় রাজি উত্তর কোরিয়া: কিমের বোন

গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে বিএনপিকে নেতৃত্ব দিতে হবে: সেলিম

গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে বিএনপিকে নেতৃত্ব দিতে হবে: সেলিম

ফায়ার সার্ভিসে এসএসসি পাসে চাকরির সুযোগ

ফায়ার সার্ভিসে এসএসসি পাসে চাকরির সুযোগ

শেয়ার বাজার চাঙা রাখতে আরও কিছু উদ্যোগ বিএসইসির

শেয়ার বাজার চাঙা রাখতে আরও কিছু উদ্যোগ বিএসইসির

সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকে চাকরি, বয়স সর্বোচ্চ ৫০ বছর

সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকে চাকরি, বয়স সর্বোচ্চ ৫০ বছর

© 2021 Bangla Tribune