X
শনিবার, ২৩ অক্টোবর ২০২১, ৭ কার্তিক ১৪২৮

সেকশনস

চার বছরেও পূর্ণাঙ্গ হলো না নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক কমিটি

আপডেট : ৩১ মে ২০২১, ২৩:৫৭

সামাজিক সংগঠন হিসেবে ৯ বছর এবং রাজনৈতিক দল হিসেবে চার বছর পার করছে মাহমুদুর রহমান মান্নার নাগরিক ঐক্য। এতদিনেও পূর্ণাঙ্গ আহ্বায়ক কমিটি করতে পারেনি দলটি। অবশ্য ঐক্যের নেতারা বাংলা ট্রিবিউনকে জানিয়েছেন, এক বছরের মধ্যে তারা জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সংগঠন গুছিয়ে ঢাকায় সম্মেলনের মাধ্যমে কমিটি পূর্ণাঙ্গ করবেন।

নাগরিক ঐক্যের নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ২০১২ সালের ১ জুন রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউশন মিলনায়তনে নাগরিক সংগঠন হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে ‘নাগরিক ঐক্য’। ২০১২ সালের ঢাকা সিটি করপোরেশনের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মাহমুদুর রহমান মান্না ‘নাগরিক ঐক্য’র ব্যানারে সক্রিয় হন। ওই সময় সামাজিক সংগঠন হিসেবে কাজ করে দলটি।

নেতারা জানান, ওই বছর সিটি নির্বাচন না হলেও মান্নার নেতৃত্বে বিভিন্ন সামাজিক দাবি-দাওয়া নিয়ে সক্রিয় থাকে নাগরিক ঐক্য। পরে ২০১৫ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি রাতে নিখোঁজ হন মাহমুদুর রহমান মান্না। একই বছরের ২৫ ফেব্রুয়ারি র‌্যাব তাকে গ্রেফতারের কথা স্বীকার করে। এর প্রায় ২১ মাস পর ২০১৬ সালের ১৯ ডিসেম্বর কেরানীগঞ্জের ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পান মান্না।

মুক্তি পাওয়ার কয়েক মাস পর ২০১৭ সালের ২ জুন জাতীয় প্রেসক্লাবে রাজনৈতিক দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে ‘নাগরিক ঐক্য’।

১৮৩ থেকে কমে ৩৯

দলটির প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য ও সিনিয়র নেতা শহীদুল্লাহ কায়সার বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘মাহমুদুর রহমান মান্না জেলে যাওয়ার পর থেকে আমরা নাগরিক ঐক্যের উদ্যোগে প্রতিবাদ, বিক্ষোভ, মানববন্ধন করেছি। তাকে সামনে রেখে আমরা সক্রিয় থেকেছি। প্রথমে যখন আমরা নাগরিক সংগঠন হিসেবে সক্রিয় হই। তখন প্রায় ১৮৩ জনের আহ্বায়ক কমিটি ছিল।’

তিনি আরও বলেন, ‘পরে মাহমুদুর রহমান মান্না জেল থেকে মুক্তি পাওয়ার পর ২০১৭ সালে আমরা রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় করি সংগঠন। আমরা সবাই রাজনীতির মানুষ। তবে, কেউ কেউ সরাসরি কমিটিতে থাকতে অনাগ্রহী থাকায় কমিটিতে সদস্য কমে যায়। এখন ৩৯ জনের আহ্বায়ক কমিটি আছে।’

নাগরিক ঐক্যের নেতাদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, সবগুলো বিভাগীয় শহরেই এখন দলটির কমিটি আছে। দেশের অন্তত এক তৃতীয়াংশ জেলায় নাগরিক ঐক্যের নেতাকর্মীরা সক্রিয়। এই জেলা কমিটিগুলোর আওতায় উপজেলা ও থানা পর্যায়েও দলটি সক্রিয়।

সংগঠনের নীতিনির্ধারকরা বলছেন, চার বছর পার হলেও আহ্বায়ক কমিটি পূর্ণাঙ্গ করতে রাজনৈতিক চাপ প্রতিকূলতা তৈরি করেছে। সেক্ষেত্রে অনুকূল সময় না হলে সম্মেলন পিছিয়ে যাবে।

সোমবার (৩১ মে) সন্ধ্যায় আহ্বায়ক কমিটির সদস্য শহীদুল্লাহ কায়সার বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে নিবন্ধন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে আমরা সারাদেশে অন্তত ১০০টি উপজেলা, ২০-২২টি জেলায় সাংগঠনিক কার্যক্রম শেষ করেছিলাম। কিন্তু নির্বাচন কমিশন নিবন্ধন দেয়নি।’

আহ্বায়ক কমিটির আরেক সদস্য সাকিব আনোয়ার জানান, নাগরিক ঐক্যের বর্তমানে ২৮টি জেলা কমিটি রয়েছে। এসব জেলার উপজেলা পর্যায়েও সক্রিয় কমিটি আছে। কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটিতে সদস্য আছেন ৩৭ জন।

আছে সহযোগী সংগঠনও

রাজনৈতিক দল হিসেবে কার্যক্রম শুরুর পর ইতোমধ্যে কয়েকটি সহযোগী সংগঠনও করেছে নাগরিক ঐক্য। দলটির তরুণ নেতা সাকিব আনোয়ার জানান, সহযোগী সংগঠনগুলো হচ্ছে- নাগরিক ছাত্র ঐক্য, নাগরিক যুব ঐক্য, নাগরিক নারী ঐক্য ও রিকসা শ্রমিক ঐক্য।

নাগরিক ঐক্যকেই বেশি চেনে

সাংগঠনিকভাবে এখনও শক্ত অবস্থান জানান দিতে না পারলেও নাগরিক ঐক্যের নেতারা মনে করছেন, রাজনৈতিকভাবে দলটির নাম ও মান্নার গ্রহণযোগ্যতা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে বর্তমান সরকারের সমালোচনা ও কর্মসূচিতে নাগরিক ঐক্য সামনের সারিতে আছে বলে দাবি দলের নেতাদের।

তারা বলছেন, নাগরিক ঐক্যের সঙ্গে বিএনপি ও অন্য কয়েকটি রাজনৈতিক দলের রাজনৈতিক বোঝাপড়া এখন গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় রয়েছে। বিশেষত ২০১৮ সালে নির্বাচনের আগে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠন প্রক্রিয়ায় মান্নার ভূমিকা নিয়ে বিএনপির হাইকমান্ডও ব্যাপক সন্তুষ্ট।

বিএনপির উচ্চপর্যায়ের একজন দায়িত্বশীল বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, নাগরিক ঐক্য ও মান্নাকে নিয়ে বিএনপির শীর্ষনেতৃত্বের ইতিবাচক মনোভাব আরও কার্যকর হবে।

জানতে চাইলে নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন,‘সামাজিক সংগঠন থেকে নাগরিক ঐক্য রাজনৈতিক দল হিসেবে কাজ করছে। নাগরিক ঐক্যের বড় সাফল্য হচ্ছে সরকারের বিরুদ্ধে কথা বলা। এখন আমার চেয়ে নাগরিক ঐক্যকেই লোকে বেশি চেনে।’

তিনি আরও বলেন, ‘দুই বছর কারাগারে কেটেছে আমার। জেল-জুলুম আর অবরুদ্ধ পরিবেশের মধ্য দিয়ে রাজনীতি করছে নাগরিক ঐক্য। এখন সরকারের জনপ্রিয়তা যেভাবে কমছে, তেমনি নাগরিক ঐক্যের গ্রহণযোগ্যতা বাড়ছে।’

কমিটি পূর্ণাঙ্গ করার বিষয়ে মান্নার মন্তব্য, অনুকূল সময় হলেই আমরা সম্মেলন করে কমিটি পূর্ণাঙ্গ করবো।

প্রসঙ্গত, নবম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে মঙ্গলবার (১ জুন) দলীয় পতাকা উত্তোলন কর্মসূচি ও বিকালে জাতীয় জাদুঘরের সামনে সমাবেশ করবে নাগরিক ঐক্য।

/এফএ/

সম্পর্কিত

মানুষের পেটে খাবারই না থাকলে দেশ থেকে লাভ কী: মান্না

মানুষের পেটে খাবারই না থাকলে দেশ থেকে লাভ কী: মান্না

দেশে গবেষণা খাতে বরাদ্দের পরিমাণ জানতে চান মান্না

দেশে গবেষণা খাতে বরাদ্দের পরিমাণ জানতে চান মান্না

স্থিতিশীল গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে হবে: মান্না

স্থিতিশীল গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে হবে: মান্না

২০ দলীয় জোট

জামায়াতের অফিসে আগাছা, দলীয় কর্মকাণ্ড নেতাদের বাসায়

আপডেট : ২২ অক্টোবর ২০২১, ২২:২০

বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের অন্যতম শরিক মুক্তিযুদ্ধবিরোধী সংগঠন জামায়াতে ইসলামী। ঢাকায় দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয় ও মহানগর কার্যালয় দুটোই একদশক ধরে বন্ধ। এর মধ্যে একটিতে আগাছা জমে আছে। বর্তমানে জামায়াতের সাংগঠনিক ও রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে অস্থায়ীভাবে। নেতাদের অনুসারীর বাসা কিংবা ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে দলটি।

গত ১৪ অক্টোবর সরেজমিনে দেখা গেছে, বড় মগবাজারের এলিফ্যান্ট রোডে ৫০৫ ভবনের নিচতলায় অবস্থান করছেন কয়েকজন পাহারাদার। শীতলপাটিতে শুয়ে-বসে এখানে প্রতিদিন পালাক্রমে ডিউটি করে ছয় নিরাপত্তাকর্মী। তাদের মধ্যে একজন বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, ভবনটির মূল মালিকানা জামায়াতের দারুল ইসলাম ট্রাস্টের। ২০১১ সালে বন্ধের পর থেকে দলের কোনও নেতা অফিসে আসেননি। তবে গত কয়েক বছরে বেশ কয়েকবার আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তল্লাশি করেছে।

জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের ভেতরে দায়িত্বরত নিরাপত্তারক্ষী

নিরাপত্তারক্ষী মো. ইব্রাহিম উল্লেখ করেন, তারা প্রত্যেকে দলীয় আদর্শের কর্মী। তিনি বলেন, ‘দল থেকে বেতন-ভাতা ঠিকমতো পাচ্ছি। জীবন চলে যাচ্ছে।’

একইদিন দুপুরে জামায়াতের মহানগর কার্যালয়ে গিয়ে কাউকে পাওয়া যায়নি। ভেতর থেকে বন্ধ রাখা ফটকে দফায়-দফায় টোকা দেওয়া হলেও কেউ সাড়া দেয়নি। প্রবেশপথে লতিয়ে ওঠা আগাছা চোখে পড়ার মতো। ফটকের সামনে জমে আছে পানি। অফিসটি ২০১১ সালের সেপ্টেম্বর থেকে তালাবদ্ধ। এরপর আর এখানে দলের কার্যক্রম পরিচালিত হয়নি। 

মগবাজারে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়

৯ তলা ভবনটির অষ্টম ও নবম তলায় থাকে নিরাপত্তাকর্মীরা। অন্য ফ্লোরগুলো ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে পড়েছে বলে মন্তব্য করেন পাশের ভবনের একজন।

জামায়াতের ঢাকা মহানগর কার্যালয়ের সামনে একটি নির্মাণাধীন ভবন রয়েছে। সেখানে কর্মরত একজন বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, ১০ বছর আগে জামায়াতের অফিস বন্ধের শুরুর দিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা এসে তল্লাশি করতো। তবে গত কয়েক বছরে আর এমন দৃশ্য চোখে পড়েনি তার।

জামায়াতে ইসলামীর বন্ধ মহানগর কার্যালয়, প্রবেশপথে লতাপাতা

গত ১৬ অক্টোবর জামায়াতের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের একজন নেতা মোবাইল ফোনে বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘দলীয় কার্যালয় বন্ধ থাকায় বিভিন্ন পদ্ধতিতে কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। কিছু অফিস দায়িত্বশীল নেতাদের বাসাকেন্দ্রিক। এছাড়া বাইরে রেস্তোরাঁয় দলীয় বৈঠক হয়ে থাকে। তবে করোনা অতিমারি শুরুর পর থেকে অনলাইন মাধ্যমেই আমাদের কাজ বেশি হয়।’

দলের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়েরের বক্তব্য, ‘নানান কারণে জামায়াতের কেন্দ্রীয় ও ঢাকা মহানগর অফিস তালাবদ্ধ অবস্থায় রয়েছে। এখন অফিসে বসা যাচ্ছে না। যাওয়াও যাচ্ছে না।’

সরকারবিরোধী কর্মসূচির অংশ হিসেবে নাশকতা করায় ২০১১ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর জামায়াতের দুটি কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে দেয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। সেই থেকে মগবাজার ওয়্যারলেস এলাকায় কেন্দ্রীয় ও পুরানা পল্টনের মহানগর কার্যালয় বন্ধ রয়েছে।

এদিকে ২০ দলীয় জোটে বিতর্কিত দল জামায়াতে ইসলামীর থাকা নিয়ে বিএনপিতে মিশ্র প্রতিক্রিয়া রয়েছে। তাদের সঙ্গে জোটগত সম্পর্ক ছেড়ে আসতে ২০১৮ সালের আগস্টে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে পরামর্শ দেয় বিএনপির তৃণমূল। এর প্রায় দুই বছর পর মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারী দলটির সঙ্গে সম্পর্ক ত্যাগের পক্ষে অভিমত দেন দলের স্থায়ী কমিটির অধিকাংশ সদস্য।

/জেএইচ/

সম্পর্কিত

রাজনৈতিক ঐক্যে জামায়াত অন্তরায় হলে সরে দাঁড়ানোর আহ্বান এলডিপির

রাজনৈতিক ঐক্যে জামায়াত অন্তরায় হলে সরে দাঁড়ানোর আহ্বান এলডিপির

জনগণকে প্রতিমুহূর্তে বিভ্রান্ত-বিভাজনের চেষ্টা করছে সরকার: ফখরুল 

জনগণকে প্রতিমুহূর্তে বিভ্রান্ত-বিভাজনের চেষ্টা করছে সরকার: ফখরুল 

ইকবালকে ‘ভবঘুরে’ বলে লঘু করে দেখার অবকাশ নেই: মেনন

ইকবালকে ‘ভবঘুরে’ বলে লঘু করে দেখার অবকাশ নেই: মেনন

জোটে থাকলেও তারা যোগ দিতে চান বিএনপিতে

জোটে থাকলেও তারা যোগ দিতে চান বিএনপিতে

ইকবাল এতদিন কোথায় ছিল, প্রশ্ন মির্জা ফখরুলের

আপডেট : ২২ অক্টোবর ২০২১, ২১:৫০

‘কুমিল্লার পূজামণ্ডপের ঘটনায় গ্রেফতার হওয়া যুবক ইকবাল হোসেন এতদিন কোথায় ছিল’—এমন প্রশ্ন তুলেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, ‘এটা তো পরিষ্কার, পত্রপত্রিকাগুলো সব দেখেন, দেখলেই বুঝতে পারবেন। সবাই এটা মেনে নেয় যে সরকারের মদত ছাড়া কখনও সাম্প্রদায়িক সমস্যা সৃষ্টি হয় না। যারা সরকারে থাকে তারাই করে।’

শারদীয়া দুর্গাপূজার সময়ে বিভিন্ন স্থানে পূজামণ্ডপে হামলার কয়েকটি ঘটনা প্রসঙ্গে শুক্রবার (২২ অক্টোবর) বিকালে এক আলোচনা সভায় বিএনপি মহাসচিব এসব কথা বলেন। ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে ২০ দলীয় জোটের শরিক বাংলাদেশ লেবার পার্টি তার ৪৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে এ আলোচনা সভার আয়োজন করে।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আজকে যে পত্রপত্রিকায় লেখা হচ্ছে, এই যে ইকবালের কথা কিছুক্ষণ আগে একজন বললেন, ইকবাল বলা যেতে পারে একজন অপ্রকৃতিস্থ ব্যক্তি এবং মাদকসেবী। সে এতদিন কোথায় ছিল? এই বিশ্বাসটা কে করবে? কারা তাকে সেখানে নিলো?’

সারাদেশে পূজামণ্ডপে হামলার প্রসঙ্গ টেনে সরকারকে উদ্দেশ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘কেন আপনারা (সরকার) ঘণ্টার পর ঘণ্টা চলে গেলো, সেখানে কোনও পুলিশ পাঠালেন না, পুলিশ গেলো না বা পুলিশ থেকেও কোনও ব্যবস্থা নিলো না। কেন এটা হলো?’

তিনি উল্লেখ করেন, ‘রংপুরের ঘটনায় দেখলাম আমরা একদিকে ওসি, চেয়ারম্যান সবাই মিলে আলোচনা করছে, একটা আপস করার চেষ্টা করছে। অন্যদিকে বাইরে থেকে এসে লোকজন মালোপাড়া জ্বালিয়ে দিচ্ছে। এটা দুর্ভাগ্যজনক। তাহলে কি আমরা বলবো যে তাদের ছত্রছায়ায় এ ঘটনা ঘটেছে।’

ফখরুল বলেন, ‘কুমিল্লার ঘটনার পর ওবায়দুল কাদের সাহেব কী করলেন? যখন ঘটনাগুলো ঘটলো প্রথমে ওবায়দুল কাদের সাহেব বললেন, এটা বিএনপি-জামায়াতের লোকেরা করেছে। কথায় কথায় উনি একটাই কথা বলবেন, যত দোষ নন্দ ঘোষ।’

‘আপনাদের চরম ব্যর্থতা যে আজকে এই সমাজে কোনও মানুষের নিরাপত্তা দিতে পারেন না। হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ, তারা যে ধর্ম বিশ্বাস করেন, তারা তাদের ধর্ম পালন করবেন; মুসলিম ধর্মের মানুষ তাদের ধর্ম পালন করবেন; বৌদ্ধরা তাদের ধর্ম পালন করবেন; খ্রিষ্টানরা তাদের ধর্ম পালন করবেন—এটাই তো বাংলাদেশ। আপনারা (সরকার) কী করছেন? অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে বাংলাদেশে একটা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করছেন, যা হাজার বছর ধরে চলে আসছে। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করে শুধু মানুষের দৃষ্টিটা, মানুষের মনোযোগকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার জন্য সরকার এই বিষয়টাকে সামনে নিয়ে এসেছে।’

 

 

/জেডএ/আইএ/এমওএফ/

সম্পর্কিত

জামায়াতের অফিসে আগাছা, দলীয় কর্মকাণ্ড নেতাদের বাসায়

জামায়াতের অফিসে আগাছা, দলীয় কর্মকাণ্ড নেতাদের বাসায়

রাজনৈতিক ঐক্যে জামায়াত অন্তরায় হলে সরে দাঁড়ানোর আহ্বান এলডিপির

রাজনৈতিক ঐক্যে জামায়াত অন্তরায় হলে সরে দাঁড়ানোর আহ্বান এলডিপির

ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটে সরকারের লোকজন আছে: মান্না

ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটে সরকারের লোকজন আছে: মান্না

চট্টগ্রামে গ্রেফতার আমাদের নেতাকর্মীরা পূজামণ্ডপে হামলায় জড়িত নয়: নুর

চট্টগ্রামে গ্রেফতার আমাদের নেতাকর্মীরা পূজামণ্ডপে হামলায় জড়িত নয়: নুর

রাজনৈতিক ঐক্যে জামায়াত অন্তরায় হলে সরে দাঁড়ানোর আহ্বান এলডিপির

আপডেট : ২২ অক্টোবর ২০২১, ২০:৫৮

রাজনৈতিক ঐক্যে জামায়াত অন্তরায় হলে সরে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে ২০ দলীয় জোটের শরিক এলডিপির একাংশের মহাসচিব শাহাদাত হোসেন সেলিম। তিনি বলেন, ‘এই মুহূর্তে আমাদের আন্দোলন ছাড়া কোনও গতি নেই। এই আন্দোলনে সব রাজনৈতিক দলকে এক মঞ্চে আনার প্রশ্নে জামায়াতে ইসলামী যদি কোনও অন্তরায় হয়ে থাকে, তাহলে অনুরোধ থাকবে আমাদের স্পেস দিন। তারা সরে দাঁড়াক। আমরা দল-মত নির্বিশেষে প্রত্যেককে একটা মঞ্চে এনে শেষবারের মতো ঐক্য গড়ে তুলতে চাই।’

শুক্রবার (২২ অক্টোবর) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে বাংলাদেশ লেবার পার্টির ৪৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন। আলোচনা সভায় বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর উপস্থিত ছিলেন। 

সেলিম বলেন, ‘বাংলাদেশের রাজনীতিতে গত ৫০ বছরের ইতিহাসে ঐতিহাসিক ভুল ছিল জামায়াতের কেয়ারটেকার আন্দোলন। এই ভুলের দায়ভার জামায়াত অস্বীকার করতে পারবে না। জামায়াত সেই ভুলে নিজেরাও জীবন দিয়ে দিয়েছে, আমরা জীবন দিয়ে দিচ্ছি।’

নির্বাচন কমিশন গঠনে সার্চ কমিটির বিষয়ে এলডিপির এই নেতা বলেন, ‘এই সরকারের কোনও অস্তিত্ব নেই, পায়ের নিচে মাটি নেই। সামনে নির্বাচন কমিশন গঠন করার সময় আসছে। নির্বাচন কমিশন গঠনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সংলাপে আমরা আগ্রহী নই। এমনি তথাকথিত সার্চ কমিটির ওপর আমাদের ন্যূনতম শ্রদ্ধা নেই। কারণ গত সার্চ কমিটি সার্চ করে বাংলাদেশের সব থেকে মেরুদণ্ডহীন লোকটাকে প্রধান নির্বাচন কমিশন করেছে। এ রকম নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে আমাদের আন্দোলন করতে হবে।’

 

/জেডএ/আইএ/

সম্পর্কিত

জামায়াতের অফিসে আগাছা, দলীয় কর্মকাণ্ড নেতাদের বাসায়

জামায়াতের অফিসে আগাছা, দলীয় কর্মকাণ্ড নেতাদের বাসায়

নেতা যেখানে, অফিস সেখানে

নেতা যেখানে, অফিস সেখানে

বাকি আছে জামায়াত

বাকি আছে জামায়াত

জামায়াত নেতাদের মুক্তি চাইলেন অলি

জামায়াত নেতাদের মুক্তি চাইলেন অলি

ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটে সরকারের লোকজন আছে: মান্না

আপডেট : ২২ অক্টোবর ২০২১, ২১:৫৬

দ্রব্যমূল্যের অসহনীয় ঊর্ধ্বগতির সমালোচনা করেছেন নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না। তিনি বলেন, ‘ব্যবসায়ীদের একটা সিন্ডিকেট আছে। ওরা দাম বাড়িয়ে দেয়। সরকার যদি থাকতো সিন্ডিকেটের কান ধরে বলতো, বেটা দাম কমা। কিন্তু সিন্ডিকেটের মধ্যেই সরকারের লোকজন আছে।’

শুক্রবার (২২ অক্টোবর) বিকাল ৪টায় রাজধানীর শাহবাগ জাতীয় জাদুঘরের সামনে নাগরিক ঐক্য আয়োজিত সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। 

মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ‘বাংলাদেশ মিয়ানমারের সৈন্য দেখলে ভয় করে। মিয়ানমারের বিমান বাংলাদেশে ঘুরে বেড়ায়, বাংলাদেশ কিছুই করতে পারে না। ওরা আমাদের সমুদ্র দখল করেছে, ওদের মানুষকে আমাদের দেশে পাঠিয়েছে। আপনি (প্রধানমন্ত্রী) কোনও কথাই বলেন না।’

এ সময় তিনি আওয়ামী লীগ থেকে নাগরিক ঐক্য আসা এসএম আকরাম সম্পর্কে বলেন, ‘বাংলাদেশের ১৭ কোটি মানুষের মধ্যে এমন অনেকে আছে যারা মানুষের দুঃখ দেখে মনে মনে হাসে, মানুষের লাশ দেখার পরও মনে করে আমার গদি ঠিক থাকলেই হয়। তবে কিছু মানুষ আছে যারা মানুষের ভালো চায়, মানুষের ভালো করার জন্য অনেক লোভ-লালসা ত্যাগ করে। এস এম আকরাম এ রকমই একজন মানুষ।’

মান্না আরও বলেন, ‘২০১৪ সালে প্রহসনের নির্বাচনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করেছে। সেই সরকার নির্বাচনে এমন এক সংশোধনী এনেছে যেন আগামীতে আর কেউ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কথা না বলতে পারে। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কথা বললেই সে রাষ্ট্রবিরোধী হয়ে যাবে, সরকারবিরোধী হয়ে যাবে। তাকে জেলে নিয়ে গিয়ে অত্যাচার করা হবে। আমরা নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন চাই। শেখ হাসিনার সরকারের অধীনে কোনও দল যেন নির্বাচনে না যায়, সে বিষয়ে সবাইকে একমত হতে হবে।’

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন মাহমুদুর রহমান মান্না এবং সঞ্চালনা করেন নাগরিক যুব ঐক্যের আহ্বায়ক এসএম কবীর হোসেন।

 

/আইএ/

সম্পর্কিত

ইকবালকে ‘ভবঘুরে’ বলে লঘু করে দেখার অবকাশ নেই: মেনন

ইকবালকে ‘ভবঘুরে’ বলে লঘু করে দেখার অবকাশ নেই: মেনন

জোটে থাকলেও তারা যোগ দিতে চান বিএনপিতে

জোটে থাকলেও তারা যোগ দিতে চান বিএনপিতে

ধর্মভিত্তিক রাজনীতি নিষিদ্ধের দাবি প্রজন্ম '৭১-এর

ধর্মভিত্তিক রাজনীতি নিষিদ্ধের দাবি প্রজন্ম '৭১-এর

ছয় দিনে মামলা হয়েছে ৭২টি: সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলন

ছয় দিনে মামলা হয়েছে ৭২টি: সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলন

চট্টগ্রামে গ্রেফতার আমাদের নেতাকর্মীরা পূজামণ্ডপে হামলায় জড়িত নয়: নুর

আপডেট : ২২ অক্টোবর ২০২১, ২১:০৬

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাবেক ভিপি নুরুল হক নুরের দাবি, ‘চট্টগ্রামের পূজামণ্ডপে হামলার অভিযোগে আমাদের যে দুই নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে তারা ভাঙচুরের সঙ্গে জড়িত নয়।’ শুক্রবার (২২ অক্টোবর) ঢাকায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে গণঅধিকার পরিষদের সমাবেশে তিনি এই কথা বলেন। চট্টগ্রামে পূজামণ্ডপে হামলার অভিযোগে সংগঠনটির নেতাকর্মী আটকের প্রতিবাদে ছিল এই কর্মসূচি।

সমাবেশে নুরের মন্তব্য, ‘মিছিলের ছবি দিয়ে হামলাকারী চিহ্নিত করা যায় না। এটি রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক কর্মকাণ্ড। আমরা এই সহিংসতার পেছনে বিএনপি বা আওয়ামী লীগকে দোষ দিতে চাই না। এসব হামলার সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত দোষীদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানাই।’

নুরের পাশাপাশি অন্য বক্তাদেরও অভিযোগ, ‘রাজনৈতিক দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে চাওয়া গণঅধিকার পরিষদের কর্মীদের ওপর সারাদেশে প্রতিহিংসামূলক মামলা ও হামলা করা হচ্ছে।’ 

ভারত তিস্তা ব্যারেজ খুলে দেওয়ায় কৃত্রিম বন্যা সৃষ্টি হয়েছে। তিস্তার পানির মীমাংসা না করতে পারায় এবং দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে সরকারকে ব্যর্থ আখ্যা দিয়ে দ্রুত ক্ষমতা ছাড়ার দাবি ওঠে সমাবেশে। এরপর একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীরা।

/জেডএ/জেএইচ/এমওএফ/

সম্পর্কিত

জামায়াতের অফিসে আগাছা, দলীয় কর্মকাণ্ড নেতাদের বাসায়

জামায়াতের অফিসে আগাছা, দলীয় কর্মকাণ্ড নেতাদের বাসায়

ইকবাল এতদিন কোথায় ছিল, প্রশ্ন মির্জা ফখরুলের

ইকবাল এতদিন কোথায় ছিল, প্রশ্ন মির্জা ফখরুলের

রাজনৈতিক ঐক্যে জামায়াত অন্তরায় হলে সরে দাঁড়ানোর আহ্বান এলডিপির

রাজনৈতিক ঐক্যে জামায়াত অন্তরায় হলে সরে দাঁড়ানোর আহ্বান এলডিপির

ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটে সরকারের লোকজন আছে: মান্না

ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটে সরকারের লোকজন আছে: মান্না

সর্বশেষসর্বাধিক
quiz

লাইভ

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মানুষের পেটে খাবারই না থাকলে দেশ থেকে লাভ কী: মান্না

মানুষের পেটে খাবারই না থাকলে দেশ থেকে লাভ কী: মান্না

দেশে গবেষণা খাতে বরাদ্দের পরিমাণ জানতে চান মান্না

দেশে গবেষণা খাতে বরাদ্দের পরিমাণ জানতে চান মান্না

স্থিতিশীল গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে হবে: মান্না

স্থিতিশীল গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে হবে: মান্না

আগামী বছরেও টিকা নিশ্চিত করতে পারবে না সরকার: মান্না

আগামী বছরেও টিকা নিশ্চিত করতে পারবে না সরকার: মান্না

সিআরবি এলাকা ধ্বংসের মদত দিচ্ছে সরকার: মান্না

সিআরবি এলাকা ধ্বংসের মদত দিচ্ছে সরকার: মান্না

দুই অনুষ্ঠানের প্রভাবে দেশ আজ  বিপর্যস্ত: মান্না

দুই অনুষ্ঠানের প্রভাবে দেশ আজ  বিপর্যস্ত: মান্না

জিডিপি নিয়ে অর্থমন্ত্রীর জানাশোনা উদ্ভট: মান্না

জিডিপি নিয়ে অর্থমন্ত্রীর জানাশোনা উদ্ভট: মান্না

সর্বশেষ

জিন্স-টি শার্টে ঝলমলে কারিনা

জিন্স-টি শার্টে ঝলমলে কারিনা

সংঘাত নয়, সহযোগিতা ও শান্তি চাই: বঙ্গবন্ধু

সংঘাত নয়, সহযোগিতা ও শান্তি চাই: বঙ্গবন্ধু

‘দাবিটা সরল, তালিবানকে বসতে দেবেন না’

‘দাবিটা সরল, তালিবানকে বসতে দেবেন না’

এক সপ্তাহে কলকাতায় করোনা রোগী দ্বিগুণ

এক সপ্তাহে কলকাতায় করোনা রোগী দ্বিগুণ

বিজেপির ফেক নেটওয়ার্ক বন্ধ করেনি ফেসবুক: বিস্ফোরক সোফি

বিজেপির ফেক নেটওয়ার্ক বন্ধ করেনি ফেসবুক: বিস্ফোরক সোফি

© 2021 Bangla Tribune