X
রবিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১, ৪ আশ্বিন ১৪২৮

সেকশনস

সীমান্তের সাত জেলায় করোনা বিপর্যয়, কেউ মানছে না স্বাস্থ্যবিধি

আপডেট : ০৫ জুন ২০২১, ১৮:০৬

সীমান্তের করোনার হটস্পট সাতটি জেলাতেই স্বাস্থ্যবিধি মানছে না কেউ। সংক্রমণ ও শনাক্তের হারও তাই ঊর্ধ্বমুখী। এ নিয়ে আমাদের জেলা প্রতিনিধিদের পাঠানো প্রতিবেদনের চুম্বকাংশ তুলে ধরা হলো-

নওগাঁ
বুধবার (২ মে) করোনা সংক্রমণের হার বেড়ে যাওয়ায় ১৫ দফা নির্দেশনা দিয়ে জেলার পৌরসভা এলাকা ও নিয়ামতপুর উপজেলায় এক সপ্তাহের লকডাউন ঘোষণা করা হয়। জেলা প্রশাসক মো. হারুন-অর-রশীদ বলেন, নওগাঁয় জনসাধারণের মধ্যে স্বাস্থ্যবিধির প্রতি অনীহা দেখা যাচ্ছে। তাই প্রশাসনের একাধিক দল মাঠে থাকবে। জনসমাগমে নজরদারি করা হবে।

ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. মঞ্জুর এ. মোর্শেদ বলেন, ঈদুল ফিতরের পর থেকে করোনা সংক্রমণের হার ৩০ শতাংশের বেশি। নওগাঁ পৌরসভা ও সীমান্তবর্তী নিয়ামতপুরে দুই সপ্তাহ ধরে সংক্রমণের হার প্রায় ৫০ শতাংশ। এখন পর্যন্ত মারা গেছেন ৪৩ জন। কোয়ারেন্টিনে নেওয়া হয় ২২ হাজার ২৪৯ জনকে। মোট আক্রান্ত ২৩ হাজার ১৬ জন। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ১১ জন এবং আইসোলেশনে আছে ৯ জন।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, দোকানপাট ও যানচলাচল বন্ধ থাকবে। জরুরি পণ্যবাহী গাড়ি ছাড়া রাজশাহী, চাপাইনবাবগঞ্জ, বগুড়া ও জয়পুরহাট থেকে কোনও গাড়ি নওগাঁয় প্রবেশ করতে পারবে না, বেরও হতে পারবে না। রোগী ও জরুরি সেবাদানকারীদের ক্ষেত্রে এটি প্রযোজ্য হবে না।

যশোর
জেলা-উপজেলার সরকারি দফতর, ব্যাংক-বীমা ও হাতেগোনা কিছু শপিংমল ছাড়া মানুষজন মাস্ক ব্যবহার করছে না।

যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্বদ্যিালয়ের (যবিপ্রবি) জিনোম সেন্টার থেকে প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, ২ মে যশোরের ২৮৯ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ৭০ জনের পজিটিভ পাওয়া গেছে। ৩১ মে ২২০ জনের নমুনায় পজিটিভ ছিল ২৯ জন।

এ ছাড়া সেন্টার থেকে বলা হয়, ২৯ মে যশোরের তিনটি উপজেলা থেকে প্রাপ্ত নমুনা পরীক্ষা করে ৮ জনের শরীরে ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট শনাক্ত হয়েছে। তবে তারা কেউই ভারতফেরত নন।

১ জুন যশোরের বিভিন্ন স্থান ঘুরে দেখা গেছে, মানুষ স্বাস্থ্যবিধি মানছে না। মূলত সরকারি-বেসরকারি অফিসে ঢুকতেই মাস্ক পরেন সবাই।

গণপরিবহনেও স্বাস্থ্যবিধি মানা হচ্ছে না। বেনাপোলের অবস্থাও একই। ভারতফেরত পাসপোর্টযাত্রীরা শারীরিক দূরত্ব মানছেন না। পণ্য নিয়ে আসা ভারতীয় ট্রাক চালকদেরও মুখেও দেখা যায়নি মাস্ক। এতে ওই যাত্রীদের দেখভালের দায়িত্বে থাকা ডাক্তার, প্রশাসন ও পুলিশের কর্মীরা পড়েছেন স্বাস্থ্যঝুঁকিতে। কারণ তাদের কারোরই পিপিই নেই। মাস্ক ও হ্যান্ড স্যানিটাইজারই ভরসা।

যশোরের সিভিল সার্জন ডা. শেখ আবু শাহীন বলেন, করোনা শনাক্তের হার আজ (২ জুন) একটু বেশি। কিন্তু একদিনের ফলাফলের ওপর কিছু অনুমান করা যায় না।

জেলা প্রশাসক মো. তমিজুল ইসলাম খান বলেন, ‘করোনা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। তবে নাজুক হয়নি।’

তিনি বলেন, ‘আমরা প্রচারণা অব্যাহত রেখেছি। মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করছি। ইতোমধ্যে ব্যবসায়ী ও গণপরিবহন সংশ্লিষ্ট নেতারা আমাকে জানিয়েছেন- স্বাস্থ্যসেবা সুরক্ষায় তারা ব্যবস্থা নেবেন। আবার লকডাউন হলে তা কারও জন্যে সুখকর হবে না।’

আমের বাজারে স্বাস্থ্যবিধি ও শারীরিক দূরত্ব মানা হচ্ছে না রাজশাহী
করোনা নিয়ে বিপাকে আছে রাজশাহী। রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে মৃত্যুর সংখ্যা এবং শনাক্তের হার আচমকা বেড়ে যাওয়ায় স্থানীয় অনেককে মাস্ক পরতে দেখা গেছে।

তবে জেলার ২৩ লাখ ৭৮ হাজার মানুষের বেশিরভাগই পরিস্থিতির ভয়াবহতা অনুযায়ী স্বাস্থ্যবিধি মানছে না। প্রশাসন প্রচারণার পাশাপাশি ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জরিমানা ও দণ্ড প্রদান করে যাচ্ছে।

রাজশাহীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মুহাম্মদ শরীফুল হক বলেন, ‘সুপার মার্কেট ও অফিসে স্বাস্থ্যবিধি মানা হলেও খোলাবাজারে একেবারেই মানছে না কেউ। সিটি করপোরেশন এলাকায় ৪টি ও ৯টি উপজেলায় প্রতিদিনই দুটি করে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করছি।’

জেলার সির্ভিল সার্জন ডা. কাউয়ুম তালুকদার বলেন, ‘যার মধ্যে মৃত্যুর ভয় আছে সে-ই স্বাস্থ্যবিধি মানছে। বাকিদের ভ্রুক্ষেপ নেই।’

চাঁপাইনবাবগঞ্জ লাগোয়া গোদাগাড়ী উপজেলার রাজাবাড়ি হাট উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক মশিউর রহমান বলেন, ‘গোদাগাড়ী উপজেলার অবস্থাও ভয়াবহ। কিন্তু কেউ কিছু মানছে না। তাদের কথা হলো মানুষ সময়ে সময়ে মারা যায়। এখনও যাচ্ছে। মাস্ক পরে কী হবে। এসব চিন্তা নিয়ে সবাই ইচ্ছামতো ঘুরে বেড়াচ্ছে।

পুঠিয়া উপজেলার বানেশ্বর এলাকায় ট্রাফিক মোড় এলাকায় শত শত লোকজন চলাচল করছে মাস্ক ছাড়া। অপরদিকে আমের বাজারে আগত অধিকাংশ লোকজনও স্বাস্থ্যবিধি মানছে না।

বানেশ্বর হাট ইজারদার ওসমান আলী বলেন, আমের মৌসুম শুরু হওয়ায় লোকজন বেশি। হাট কমিটি বাজারে আসা সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে বলেছে। ক্রেতা-বিক্রেতারাই কথা শোনে না।

রাজশাহী বিভাগের মধ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও রাজশাহী জেলা চরম ঝুঁকিতে রয়েছে। আমের বাজারে অবাধ চলাচল বন্ধ করতে না পারলে পরিস্থিতি ভয়ানক আকার নিতে পারে বলে মনে করছে প্রশাসন।

আম ব্যবসায়ী আমজাদ হোসেন বলেন, বানেশ্বর-বিড়ালদহ আমবাজারে প্রশাসনের তদারকি নেই। দুয়েকদিন পর বাজারে এসে কিছু কথা বলে আর ছবি তোলে। এতেই দায়িত্ব শেষ।

আম বিক্রেতা আইয়ুব আলী বলেন, সবার পকেটেই মাস্ক আছে। কেবল ইউএনও বা পুলিশ এলেই পরে।

পুঠিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নুরুল হাই মোহাস্মদ আনাছ বলেন, ‘বানেশ্বর বাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় প্রচারণা চলছে। বিধি অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। অভিযানও অব্যাহত থাকবে।’

এদিকে রামেকের করোনা ইউনিটে মৃত্যু থেমে নেই। ৩১ মে রাত ৩টা থেকে ১ জুন বেলা ১১টা পর্যন্ত মারা গেছেন আরও ১১ জন। এর আগে ২৯-৩০ মে মারা গেছেন ১২ জন। রামেক হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. সাইফুল ফেরদৌস মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন।

তিনি আরও জানান, হাসপাতালে মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত করোনা ইউনিটে ২১৫ জন ভর্তি আছেন। এদের মধ্যে করোনা পজিটিভ ৯১ জনের। বাকিরা উপর্সগ নিয়ে ভর্তি হয়েছেন।

মঙ্গলবার (২ জুন) বিকালে রাজশানী জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে আয়োজিত বিশেষ সভায় সংক্রমণ রোধে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। বিধিনিষেধগুলো হলো, সন্ধ্যা ৭টার পর সকল প্রতিষ্ঠান, শপিংমল, মার্কেট, দোকানপাট বন্ধ থাকবে (জরুরি সেবা ছাড়া), বের হলে পরিচয়পত্র সঙ্গে রাখতে হবে। সামাজিক অনুষ্ঠান, গণজমায়েত, বিনোদন কেন্দ্র বন্ধ থাকবে। তবে আমসহ অন্যান্য কৃষিপণ্য পরিবহন করা যাবে।

খুলনা
আক্রান্ত ও মৃত্যুতে বিভাগের মধ্যে খুলনা জেলা শীর্ষে। মে মাসে এ জেলায় মারা গেছেন ৪০ জন। এপ্রিলে সংক্রমণের গড় হার ছিল ২০ শতাংশ এবং মে মাসে এ হার দাঁড়ায় ২১ শতাংশে। এক মাসের ব্যবধানে সংক্রমণের গড় হার ১ শতাংশ বেড়েছে।

৩১ মে ৩১৭ জনের নমুনা পরীক্ষায় ৯১ জন পজিটিভ পাওয়া যায়। সংক্রমণের হার ২৪ শতাংশ। মার্চে ছিল ৪ দশমিক ৮ শতাংশ।

খুলনার সিভিল সার্জন ডা. নিয়াজ মোহাম্মদ বলেছেন, ‘ঈদুল ফিতরের আগমুহূর্তে আক্রান্ত ও মৃত্যুর হার উদ্বেগজনক হারে বাড়ে। ঈদের পর থেকে এখন পর্যন্ত পরিস্থিতি স্থিতিশীল।’

তিনি আরও বলেন, ‘লকডাউনের বিষয়ে ২ জুন কোভিড-১৯ খুলনা জেলা কমিটির মিটিং ডাকা হয়েছে। সেখানে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’

খুলনার বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. রাশিদা সুলতানা বলেন, ‘এপ্রিলের শুরু থেকে সংক্রমণ বেড়ে চলছে। মে মাসের শুরুতে কিছুটা কম থাকলেও শেষে বেড়েছে।’

খুলনার সিভিল সার্জন দফতরের সূত্র জানায়, খুলনায় ভারতফেরত ১৬ জনের নমুনা নিয়ে ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট পরীক্ষার জন্য ঢাকার আইইডিসিআর-এ নমুনা পাঠানো হয়েছে। এখনও রিপোর্ট আসেনি।

বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদফতরের সূত্র জানায়, সংক্রমণের শুরু থেকে ৩১ মে পর্যন্ত বিভাগের ১০ জেলায় শনাক্ত হয় ৩৪ হাজার ২৯১ জনের। মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৪৫ জনে।

তথ্য বিশ্লেষণে দেখা য়ায়, সাতক্ষীরায় আক্রান্ত ১ হাজার ৫৯৬ জন এবং মারা গেছেন ৪৭ জন। যশোরে আক্রান্ত ৬ হাজার ৯৩০ জন, মারা গেছেন ৮১ জন। নড়াইলে আক্রান্ত ১ হাজার ৮৭৩ জন, মারা গেছেন ২৭ জন। মাগুরায় আক্রান্ত ১ হাজার ২৫৩ জন, মারা গেছেন ২৩ জন। ঝিনাইদহে আক্রান্ত ২ হাজার ৯০৮ জন, মারা গেছেন ৫৫ জন। কুষ্টিয়ায় আক্রান্ত ৪ হাজার ৯৪৬ জন, মারা গেছেন ১১২ জন। চুয়াডাঙ্গায় আক্রান্ত ১ হাজার ৯৬৮ জন, মারা গেছেন ৬১ জন। সবচেয়ে কম আক্রান্ত মেহেরপুরে-৯৯০ জন। মারা গেছেন ২৩ জন।

করোনা প্রতিরোধ ও চিকিৎসা কমিটির খুলনার সমন্বয়কারী ডা. মেহেদী নেওয়াজ বলেন, করোনার বর্তমান ঢেউ বেশ শক্তিশালী। তাই মৃত্যু বাড়ছে। স্বাস্থ্যবিধি না মানাসহ একাধিক কারণও রয়েছে।

খুলনা মেডিকেল কলেজ পিসিআর মেশিনে ১ জুন ২৮২ জনের করোনা পরীক্ষা করা হয়। শনাক্ত হয়েছে ৭৩ জনের। এর মধ্যে খুলনা মহানগরী ও জেলার ৪৪ জন, বাগেরহাট ২১ জন, যশোর ২ জন, সাতক্ষীরা ১ জন ও নড়াইলের ৫ জন।

যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) অণুজীব বিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান ও পরীক্ষণ দলের সদস্য ড. ইকবাল কবীর জাহিদ জানান, ‘সোমবার তাদের ল্যাবে ৩২২টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এর মধ্যে ৭৫টি পজিটিভ। এর মধ্যে যশোরের ছিল ২৮৯টি নমুনা। যার মধ্যে ৭০টি পজিটিভ আসে।’

সাতক্ষীরায় ৯৪ জনের নমুনা পরীক্ষায় ২৯ জনের শনাক্ত হয়েছে। উপসর্গ নিয়ে তিন ঘণ্টার ব্যবধানে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দুই নারীসহ তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক কুদরত-ই-খোদা খবরের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এ পর্যন্ত হাসপাতালে করোনার উপসর্গ নিয়ে ২১৭ জন এবং করোনা পজিটিভ হিসেবে ৩৩ জন মারা গেছে।

মোংলাতেও বাড়ছে রোগীর সংখ্যা। ১ জুন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে করোনা উপসর্গ নিয়ে ৫৯ জন নমুনা পরীক্ষা করান। এরমধ্যে ৩৩ জনের শনাক্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. জীবিতেষ বিশ্বাস।

কুষ্টিয়া
এক সপ্তাহে জেলায় ১৬৫ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে। মঙ্গলবার জেলা করোনা প্রতিরোধ কমিটির সভায় এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।

জেলা প্রশাসকের অফিস সূত্রে জানা যায়, ২৬ মে থেকে ২ জুন পর্যন্ত ২১৯ জন শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ২ জুন শনাক্ত হয়েছে ৫৪ জন এবং মারা গেছেন দু’জন। এ পর্যন্ত মারা গেছেন ১১৬ জন।

কুষ্টিয়ার সিভিল সার্জন আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, এখানে পরিস্থিতি খারাপ বলবো না। তবে বাড়তির দিকে। এমন পরিস্থিতি আগেও দুবার হয়েছিল।

তিনি আরও বলেন, কুষ্টিয়ায় প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে থাকা ভারতফেরত তিনজন পজিটিভ শনাক্ত হয়েছিলেন। তাদের মধ্যে দুজন ইতোমধ্যে নেগেটিভ হয়েছেন। অপরজন এখনও পজিটিভ। তিনি ঢাকায় চিকিৎসাধীন।

জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ সাইদুল ইসলাম বলেন, যেসব এলাকায় শনাক্ত বেশি দেখা যাবে, সেসব এলাকায় বিশেষ ব্যবস্থা নিতে হবে।

কুষ্টিয়ায় এ পর্যন্ত ৫ হাজার ৩২ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। মারা গেছেন ১১৬ জন।

মাস্ক ছাড়াই চলাচল করছে সাধারণ মানুষ সাতক্ষীরা
জেলার নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক আনিসুর রহিম বলেন, ইয়াসের পর কয়েকটি উপজেলা ঘুরে দেখলাম কারও মুখে মাস্ক নেই। ভারত থেকে অনেকে আসছেন। তারা মাস্ক পরছেন না। এ কারণে পরিস্থিতির এত অবনতি।

সিভিল সার্জন ডা. মো. হুসাইন শাফায়াত বলেন, ১৬ মে থেকে ৩০ মে পর্যন্ত নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ১২৬২ জনের। পজিটিভ পাওয়া গেছে ২৭০ জনের। সংক্রমণের হার ২১ দশমিক ৩৯ শতাংশ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ৩০ মে ৮৯ জনের নমুনা পরীক্ষায় পজিটিভ আসে ৩৭ জনের। গতবছর থেকে এ পর্যন্ত জেলায় মারা গেছে ৪৭ জন।

তিনি আরও বলেন, এখন উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি ১৩৮ জন। তাদের মধ্যে পজিটিভ শনাক্ত হয়েছে ৫৩ জনের।

তিনি আরও বলেন, পজিটিভ ১৩৮ জনের মধ্যে সাতক্ষীরা সদরের ৩৯, কালিগঞ্জের ২৪, আশাশুনির ২০ ও শ্যামনগরের ১৫ জন।

ইয়াসের প্রভাবে উপকূলের মানুষ পানিবন্দি। গাদাগাদি হয়ে থাকার কারণেও ওই এলাকায় সংক্রমণ বাড়তে পারে বলে জানান তিনি।

সীমান্তে নজরদারির ওপর গুরুত্বারোপ করে জনসচেতনতা বৃদ্ধির আহবান জানিয়েছেন সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসক এসএম মোস্তফা কামাল।

সাতক্ষীরার ২২৮ কিলোমিটার সীমান্ত গলিয়ে বৈধপথে আসা মানুষকে কোয়ারেন্টিনে নেওয়া এবং অবৈধভাবে আসাদের আটক করে কোয়ারেন্টিনে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, ভোমরা স্থলবন্দরে প্রতিদিন আসা ভারতীয় ট্রাক ও হেলপারদের প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ানো নিষিদ্ধ করা হয়েছে। বিজিবির টহল জোরদার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

‘বিজিবির জনবল বাড়াতে সরকারের কাছে সুপারিশ করেছি। এরই মধ্যে সীমান্তবর্তী ইউনিয়ন ও গ্রামে সীমান্ত প্রতিরক্ষা কমিটি গঠন করা হয়েছে। বিজিবির টহল দলের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে।’

হিলি
দিনাজপুরের সীমান্তবর্তী হিলিতে বেড়ে চলেছে সংক্রমণের হার। ১-২ জুন নতুন করে আরও ৫ জন আক্রান্ত হয়েছেন। দু’দিনে ১০ জন আক্রান্ত হয়েছেন। আতংক বাড়ছে স্থানীয়দের মধ্যে।

মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টায় দিনাজপুর সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে এসব তথ্য জানানো হয়। ২৪ ঘণ্টায় ২৪৬টি নমুনা পরীক্ষায় শনাক্ত হয়েছে ২২ জনের। এর মধ্যে হিলির আছে ৫ জন। আক্রান্তের হার ছিল ৮ দশমিক ৯৪ ভাগ। আগের দিন ১৬১টি নমুনা পরীক্ষায় ২৩ জন আক্রান্ত পাওয়া যায়। এর মধ্যেও হিলির ১ জন ছিলেন। শনাক্তের হার ছিল ১৪ দশমিক ২৮ ভাগ।

দিনাজপুর সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্যমতে হিলিতে করোনায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা ১০৭ জন। এর মধ্যে একজন মারা গেছেন। ১৭ জন হোম কোয়ারেন্টিনে আছেন।

হাকিমপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. তৌহিদ আল হাসান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘হিলিতে সংক্রমণ কমই ছিল। কয়েকদিন ধরে হঠাৎ বাড়ছে। আমাদের হাসপাতালের আউটডোর ও ইমারজেন্সিতে এখন প্রায়ই জ্বরের রোগী পাওয়া যাচ্ছে। সতর্কবার্তা একটাই, মাস্ক পরুন আর উপসর্গ দেখা দিলে পরীক্ষা করান।’

নাটোর
জেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্যবিভাগের কঠোর পদক্ষেপে নাটোরে ৫ দিনের ব্যাবধানে সংক্রমণ অর্ধেকে নেমেছে। ২৮ মে’র পরীক্ষায় ৪৬ জন সংক্রমিত দেখা গেলেও ২ জুন সংক্রমণ নেমেছে ২৩ জনে।

সংক্রমণ আরও কমাতে চলমান কঠোর অবস্থান বজায় রাখবে প্রশাসন। জেলা প্রশাসক শাহরিয়াজ ও সিভিল সার্জন ডাক্তার মিজানুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

সিভিল সার্জন ডাক্তার মিজানুর রহমান জানান, ৫ মে নাটোরে করোনা পজিটিভ হন ৫ জন। ১২ মে ২ জন। কিন্তু ২৬ মে ৯ জন ও ২৮ মে একলাফে ৪৬ জনে দাঁড়ায়। এমন অবস্থায় শহরের প্রবেশমুখগুলোতে জনচলাচল সীমিত করা ছাড়াও মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক করা হয়। পরিচালনা করা হয় ভ্রাম্যমাণ আদালত। এতে সংক্রমণ কমতে থাকে। ৩০ মে ২৩ জন, ৩১ মে ১১ জন, ১ জুন ১৭ জনে দাঁড়ায়। অবশ্য ২ জুন আবার ২৩ জন শনাক্ত হয়।

জেলা প্রশাসক শাহরুয়াজ ও পুলিশ সুপার লিটন কুমার সাহা জানান, করোনা সংক্রমণ সহনীয় পর্যায়ে না আসা অবধি প্রশাসন ও পুলিশের চলমান পদক্ষেপ চলতে থাকবে।

 

/এফএ/

সম্পর্কিত

পণ্য পরিবহনে ধর্মঘটের কর্মসূচি, জানে না মন্ত্রণালয়

পণ্য পরিবহনে ধর্মঘটের কর্মসূচি, জানে না মন্ত্রণালয়

‘পর্যটনে নেতৃত্ব দেবে বাংলাদেশ’

‘পর্যটনে নেতৃত্ব দেবে বাংলাদেশ’

মুক্ত স্বদেশে ফিরে সেদিন কান্নায় ভেঙে পড়েন বাংলাদেশিরা

মুক্ত স্বদেশে ফিরে সেদিন কান্নায় ভেঙে পড়েন বাংলাদেশিরা

শেখ হাসিনার নেতৃত্বকে সৌদি আরব গুরুত্ব দিয়ে আসছে: সৌদি বাণিজ্যমন্ত্রী

শেখ হাসিনার নেতৃত্বকে সৌদি আরব গুরুত্ব দিয়ে আসছে: সৌদি বাণিজ্যমন্ত্রী

পণ্য পরিবহনে ধর্মঘটের কর্মসূচি, জানে না মন্ত্রণালয়

আপডেট : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১১:৫২

হয়রানি-চাঁদাবজি, ট্রাকচালক লিটন হত্যার বিচার, ড্রাইভিং লাইসেন্সে জটিলতা, বর্ধিত আয়কর; নানা সমস্যার বেড়াজালে আটকে আছেন বাংলাদেশের ট্রাক, কাভার্ডভ্যান, লরি, প্রাইম মুভার মালিক ও শ্রমিকরা। দাবি আদায়ে ধর্মঘটের ডাকও দিয়েছেন তারা। কর্মসূচি পালনে তাদের মধ্যে খানিকটা বিভাজন থাকলেও ধর্মঘটের কথা জানে না সরকার।

একেক সংগঠনের নামে ভিন্ন ভিন্ন জোট বেঁধে মালিক-শ্রমিকরা কর্মসূচি পালনের ডাক দিয়েছেন। কেউ ৭২ ঘণ্টার, কেউ ডেকেছেন ৪৮ ঘণ্টার ধর্মঘট। কর্মসূচি পালনে সবাই মাঠে নামলেও এক ছাদের তলায় নেই তারা। বিভিন্ন সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে এ তথ্য।

সূত্র জানিয়েছে, ২৭ সেপ্টেম্বর ভোর ৬টা থেকে ১০ দফা দাবিতে ৪৮ ঘণ্টার ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে বাংলাদেশ ট্রাক-কাভার্ড ভ্যান, ট্যাংকলরি, প্রাইম মুভার মালিক-শ্রমিক সমন্বয় পরিষদ। আট বিভাগে মানববন্ধন কর্মসূচির পাশাপাশি ঢাকার জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনও করেছে তারা।

২৫ আগস্ট সংগঠনের আহবায়ক রুস্তম আলী খান, সদস্য সচিব তাজুল ইসলাম ও সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক আবদুল মান্নান স্বাক্ষরিত ১০ দফা দাবি সম্বলিত স্মারকলিপি সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের কাছে জমা দিয়েছে।

অপরদিকে ১৫ দফা দাবি বাস্তবায়নে সারাদেশে কর্মবিরতির ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ কাভার্ড ভ্যান-ট্রাক-প্রাইম মুভার পণ্য পরিবহন মালিক অ্যাসোসিয়েশন ও বাংলাদেশ ট্রাকচালক শ্রমিক ফেডারেশন। ২১ সেপ্টেম্বর থেকে ২৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কর্মবিরতি চলবে বলে পোস্টার লিফলেট বিতরণ করছে তারা। শনিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে চট্টগ্রামের কদমতলীর ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যান মালিক সমিতির কার্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এই কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বাংলাদেশ ট্রাকচালক শ্রমিক ফেডারেশনের জেনারেল সেক্রেটারি ওয়াজি উল্লাহ জানান, ‘১৫ দফা দাবি বাস্তবায়নে আমাদের ২৪ ঘণ্টার কর্মবিরতি শুরু হবে ২১ সেপ্টেম্বর। দেশের পণ্য পরিবহনের শতকরা ৮৫ ভাগ সড়কপথে হয়। করোনা মহামারিসহ যে কোনও দুর্যোগে আমরা সারাদেশে পণ্য পরিবহন স্বাভাবিক রাখি। কিন্তু আজ এই খাতের মালিক-শ্রমিকরা চরম অবহেলা ও বঞ্চনার শিকার হচ্ছে।’

তিনি জানান, ‘ঘুষসহ সব ধরনের হয়রানি বন্ধ করতে হবে। নির্দিষ্ট স্থান ছাড়া যত্রতত্র গাড়ির কাগজপত্র চেক করা যাবে না। এ ছাড়া যেসব চালক ভারী মোটরযান চালাচ্ছেন তাদেরকে সহজ শর্তে এবং সরকারি ফি-এর বিনিময়ে ড্রাইভিং লাইসেন্স দিতে হবে। মোটরযান মালিকদের ওপর আরোপিত অগ্রিম আয়কর বাতিল করতে হবে। আদায় করা বর্ধিত করও ফেরত দিতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘সড়ক-মহাসড়কে শ্রমিকদের বিশ্রামের জায়গা নেই। আমাদের আরেকটি দাবি হলো শ্রমিকদের বিশ্রামের ব্যবস্থা করা।’

বাংলাদেশ ট্রাক-কাভার্ডভ্যান, ট্যাংকলরি, প্রাইম মুভার মালিক-শ্রমিক সমন্বয় পরিষদের আহবায়ক রুস্তম আলী খান জানিয়েছেন, ‘গত আগস্টে জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে কর্মসূচি ঘোষণা করেছি। সেই অনুযায়ী ৮টি বিভাগে ১০ দফা দাবির সমর্থনে কর্মসূচি পালিত হচ্ছে। ২৭ সেপ্টেম্বর থেকে ৪৮ ঘণ্টার কর্মবিরতির কর্মসূচি দেওয়া আছে। আরেকটি সংগঠন আগেই ৭২ ঘণ্টার কর্মবিরতির ঘোষণা করেছে। ওদের কর্মসূচির সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক নেই।’

তিনি আরও জানান, ‘আমাদের সংগঠনের ১০ দফা দাবি সম্পর্কে সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয় অবগত। সরকারের পক্ষে স্বরাষ্ট্র বা সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয় ডাকলে আমরা আলোচনায় বসবো।’

এক প্রশ্নের জবাবে রুস্তম আলী জানান, ‘এখন পর্যন্ত সরকার থেকে আলোচনার প্রস্তাব আসেনি। তবে হাতে সময় আছে। আমরা অপেক্ষায় রয়েছি। ১০ দফা বাস্তবায়ন না হলে জেলার প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করবো।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্র ও যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের দুজন অতিরিক্ত সচিব নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, ‘এ বিষয়ে কোনও মন্ত্রণালয়ই অবগত নয়।’

/এফএ/

সম্পর্কিত

‘পর্যটনে নেতৃত্ব দেবে বাংলাদেশ’

‘পর্যটনে নেতৃত্ব দেবে বাংলাদেশ’

মুক্ত স্বদেশে ফিরে সেদিন কান্নায় ভেঙে পড়েন বাংলাদেশিরা

মুক্ত স্বদেশে ফিরে সেদিন কান্নায় ভেঙে পড়েন বাংলাদেশিরা

শেখ হাসিনার নেতৃত্বকে সৌদি আরব গুরুত্ব দিয়ে আসছে: সৌদি বাণিজ্যমন্ত্রী

শেখ হাসিনার নেতৃত্বকে সৌদি আরব গুরুত্ব দিয়ে আসছে: সৌদি বাণিজ্যমন্ত্রী

‘ই-কমার্সের জন্য নতুন আইন দরকার’

‘ই-কমার্সের জন্য নতুন আইন দরকার’

‘পর্যটনে নেতৃত্ব দেবে বাংলাদেশ’

আপডেট : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৯:০০

জাতিসংঘের পর্যটন বিষয়ক সংস্থা ইউএনডব্লিউটিও। ৬টি আঞ্চলিক সংগঠনের সমন্বয়ে এর কার্যক্রম পরিচালিত হয়। যার মধ্যে কমিশন ফর সাউথ এশিয়া (সিএসএ) অন্যতম। ১৪ সেপ্টেম্বর সংস্থাটির কমিশন ফর সাউথ এশিয়ায় (সিএসএ) ২০২১-২০২৩ মেয়াদে ভাইস চেয়ার নির্বাচিত হয় বাংলাদেশ। এতে পর্যটন খাতে নেতৃত্ব দেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে বাংলাদেশের। পাশাপাশি দেশকে আরও বেশি করে তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জাবেদ আহমেদ।

এ অর্জনে কী কী সুফল আসবে জানতে চাইলে জাবেদ আহমেদ বলেন, ‘আন্তর্জাতিক পর্যটনে আমাদের নেতৃত্ব দেওয়া এবং ভূমিকা রাখার জায়গা তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশের পযর্টনকে আরও পরিচিত করার সুযোগ তৈরি হয়েছে। আঞ্চলিক সহযোগিতার জায়গায় বাংলাদেশ ভূমিকা রাখতে পারবে। সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়নেও ভূমিকা রাখার সুযোগ তৈরি হলো।’

তিনি আরও বলেন, ‘কমিশন ফর সাউথ এশিয়ায় ভাইস চেয়ার হওয়ার ফলে আমরা এখন যে কোনও অনুষ্ঠান বাংলাদেশে করার প্রস্তাব করতে পারবো। এখন বিভিন্ন দেশের পর্যটনের শীর্ষ ব্যক্তিরা আসবেন এখানে। তারা বাংলাদেশ সম্পর্কে জানবেন। এর সুফল আমরা পাবো।’

এর আগে ২০১৯-২০২১ মেয়াদে কমিশন ফর সাউথ এশিয়ার ভাইস চেয়ার ছিল ভারত ও শ্রীলঙ্কা। তারাও এর সুফল পেয়েছে। তাই দেশের পর্যটন ব্যবস্থাপনা এবং উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে কাজ করার কথা বললেন বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জাবেদ আহমেদ।

তিনি বলেন, ইউএনডব্লিউটিও ছাড়াও প্যাসিফিক এশিয়া ট্রাভেল অ্যাসোসিয়েশনে (পাটা) বাংলাদেশের অবস্থান ভালো। ইউনিসেফের ভ্যাকসিন কর্মসূচি কোভ্যাক্স-এ পাটার ভূমিকা আছে। পাটার সঙ্গে ইউনিসেফের সম্পৃক্ততা আছে। পাটার সঙ্গে যোগাযোগ করে ইউনিসেফের সঙ্গে আমরা মিটিংও করেছি। তাদের অনুরোধ জানিয়েছিলাম, বিশেষ বিবেচনায় কোভ্যাক্সের আওতায় টিকা দেওয়ার জন্য। এর সুফল কিন্তু এখন আমরা পাচ্ছি।

 

 

/এফএ/

সম্পর্কিত

পণ্য পরিবহনে ধর্মঘটের কর্মসূচি, জানে না মন্ত্রণালয়

পণ্য পরিবহনে ধর্মঘটের কর্মসূচি, জানে না মন্ত্রণালয়

মুক্ত স্বদেশে ফিরে সেদিন কান্নায় ভেঙে পড়েন বাংলাদেশিরা

মুক্ত স্বদেশে ফিরে সেদিন কান্নায় ভেঙে পড়েন বাংলাদেশিরা

শেখ হাসিনার নেতৃত্বকে সৌদি আরব গুরুত্ব দিয়ে আসছে: সৌদি বাণিজ্যমন্ত্রী

শেখ হাসিনার নেতৃত্বকে সৌদি আরব গুরুত্ব দিয়ে আসছে: সৌদি বাণিজ্যমন্ত্রী

‘ই-কমার্সের জন্য নতুন আইন দরকার’

‘ই-কমার্সের জন্য নতুন আইন দরকার’

মুক্ত স্বদেশে ফিরে সেদিন কান্নায় ভেঙে পড়েন বাংলাদেশিরা

আপডেট : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৮:০০

(বিভিন্ন সংবাদপত্রে প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে বঙ্গবন্ধুর সরকারি কর্মকাণ্ড ও তার শাসনামল নিয়ে মুজিববর্ষ উপলক্ষে ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশ করছে বাংলা ট্রিবিউন। আজ পড়ুন ১৯৭৩ সালের ১৯ সেপ্টেম্বরের ঘটনা।)

প্রায় ৩০ মাস আটক থাকার পর ফিরে আসে ১৬৮ বাঙালির প্রথম দল। এইদিন পাকিস্তানের বন্দিদশা থেকে বহু আকাঙ্ক্ষিত স্বদেশের মাটিতে পৌঁছান তারা। সন্ধ্যায় তেজগাঁও বিমানবন্দরে হাজার হাজার মানুষ তাদের প্রীতি ও ভালোবাসা ঢেলে মাতৃভূমিতে স্বাগত জানায়।

৬টা ৪০ মিনিটে বহু উৎকণ্ঠা ও প্রতীক্ষার পর আফগান এয়ারলাইন্সের উড়োজাহাজ ঢাকার মাটি স্পর্শ করে। সঙ্গে সঙ্গে সৃষ্টি হয় এক মর্মস্পর্শী দৃশ্যের। তেজগাঁও বিমানবন্দরে সমবেত জনতা মুহূর্তে চঞ্চল হয়ে ওঠে। কতজন আসতে পারলো, কেউ তখনও কিছু বলতে পারে না। সব নিয়মকানুন ভেঙে ছুটে যেতে চায় উড়োজাহাজের কাছে। টার্মিনাল ভবনে হাজারো জনতা খুঁজে বেড়ায় প্রিয়জনকে।

অবশেষে পরিবারগুলো নেমে আসতে থাকে উড়োজাহাজ থেকে। তাদের মাঝে একজন মেজর ও তিনজন ক্যাপ্টেনও ছিলেন। সবার চোখেমুখে আনন্দ বেদনার অনুভূতি।

সেবছর ২৮ আগস্ট নয়াদিল্লিতে ভারত-পাকিস্তান চুক্তি সম্পাদনের পর তারাই প্রথম স্বাধীন ও সার্বভৌম গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ জাতিসংঘের ভাড়া করা উড়োজাহাজে পৌঁছাতে পারলেন। আবার একই উড়োজাহাজে এখান থেকে ১২৬ জন পাকিস্তানের নাগরিক তাদের দেশে ফিরে গেছে। চুক্তি পরবর্তীতে রেডক্রস আন্তর্জাতিক এ বিনিময় দায়িত্ব গ্রহণ করে।

দৈনিক ইত্তেফাক, ২০ সেপ্টেম্বর ১৯৭৩

জরুরি অবস্থা বিল প্রত্যাহার চান অলি আহাদ

বাংলা জাতীয় লীগের সাধারণ সম্পাদক অলি আহাদ এইদিন এক বিবৃতিতে জাতীয় সংসদের সেসময়ের অধিবেশনে সংবিধান সংশোধনীতে জরুরি ঘোষণা বৃদ্ধির সঙ্গে নিবর্তনমূলক আইন বিধি সংশোধন করা থেকে বিরত থাকার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

বিবৃতিতে তিনি বলেন, এই আইন প্রণয়ন প্রচেষ্টার প্রতিবাদে ২৪ সেপ্টেম্বর বায়তুল মোকাররমে গণজমায়েত আহ্বানও করেন তিনি। এদিকে জাতীয় শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এক বিবৃতিতে দেশে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করার জন্য রাষ্ট্রপতিকে বিশেষ ক্ষমতা প্রদানের জন্য জাতীয় সংসদে বিল পেশ করা হয়েছে তা প্রত্যাহারের দাবি জানান।

দ্য অবজারভার, ২০ সেপ্টেম্বর ১৯৭৩

জাতীয় সংসদের অধিবেশনে চতুর্থ দিন

প্রিন্টিং প্রেস এন্ড পাবলিকেশন এন্ড রেজিস্ট্রেশন ১৯৭৩ সংশোধনসহ বেশ কয়েকটি বিল গৃহীত হয়। ১৯৭৩ সালের এদিন সন্ধ্যা সাতটায় সংসদ অধিবেশন শুরু হলে নৌপরিবহন ও বিমান চলাচল দফতরের মন্ত্রী জেনারেল এম এ জি ওসমানী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পক্ষে বিল উত্থাপন করেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুল মালেক উকিল এ সময় সংসদ কক্ষে ছিলেন না। আব্দুল সত্তার, মইনুদ্দিন আহমেদ, সৈয়দ কামরুল ইসলাম উদ্দিন ২৪ সেপ্টেম্বরের মধ্যে জনমত যাচাইয়ের জন্য বিষয়টি প্রচার করার আহ্বান জানান।

প্রেস এন্ড পাবলিকেশন বিল সম্পর্কে স্বতন্ত্র ও বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যের সমালোচনা প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাংবাদিকদের জানান সংবাদপত্রের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করা বিলের উদ্দেশ্য নয়। তবে বন্ধুরাষ্ট্রের বিরোধিতাকারী এবং শালীনতা ও নৈতিকতা বর্জিত বিষয় ছাপার জন্য সংবাদপত্রের স্বাধীনতা দেওয়া যায় না। এ প্রসঙ্গে তিনি সংবিধানের ৩৯ (২) ধারা উল্লেখ করে বলেন, এ ধারায় সংবাদপত্রের স্বাধীনতার প্রশ্নে রাষ্ট্রের নিরাপত্তা, বিদেশি রাষ্ট্রের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক, শৃঙ্খলা স্বাধীনতা ও নৈতিকতার স্বার্থে আদালত অবমাননা, মানহানি বা অপরাধ সংগঠনের প্রয়োজন সম্পর্কে আইনের দ্বারা আরোপিত যুক্তিসঙ্গত বাধা-নিষেধ সাপেক্ষের কথাগুলো লেখা আছে।

/এফএ/

সম্পর্কিত

পণ্য পরিবহনে ধর্মঘটের কর্মসূচি, জানে না মন্ত্রণালয়

পণ্য পরিবহনে ধর্মঘটের কর্মসূচি, জানে না মন্ত্রণালয়

‘পর্যটনে নেতৃত্ব দেবে বাংলাদেশ’

‘পর্যটনে নেতৃত্ব দেবে বাংলাদেশ’

শেখ হাসিনার নেতৃত্বকে সৌদি আরব গুরুত্ব দিয়ে আসছে: সৌদি বাণিজ্যমন্ত্রী

শেখ হাসিনার নেতৃত্বকে সৌদি আরব গুরুত্ব দিয়ে আসছে: সৌদি বাণিজ্যমন্ত্রী

‘ই-কমার্সের জন্য নতুন আইন দরকার’

‘ই-কমার্সের জন্য নতুন আইন দরকার’

শেখ হাসিনার নেতৃত্বকে সৌদি আরব গুরুত্ব দিয়ে আসছে: সৌদি বাণিজ্যমন্ত্রী

আপডেট : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৯:২৪

সৌদি আরবের বাণিজ্যমন্ত্রী ড. মাজিদ বিন আবদুল্লাহ আল কাসাবি বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্ব ও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে সৌদি সরকার গুরুত্ব দিয়ে আসছে। শনিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সৌদি আরবে সফররত প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান ও উচ্চ পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক ভার্চুয়াল আলোচনায় তিনি এ কথা বলেন।

এ সময় প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান সৌদি বাদশাহ ও যুবরাজের প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শুভেচ্ছা বার্তা পৌঁছে দেন। তিনি বাংলাদেশের রূপকল্প ২০৪১ ও সৌদি রূপকল্প ২০৩০ বাস্তবায়নে আগামী দিনে দু’দেশের ব্যবসা বাণিজ্য বৃদ্ধি এবং বাংলাদেশের বিভিন্ন লাভজনক খাতে সৌদি বিনিয়োগের ওপর জোর দেন।

বাংলাদেশ থেকে বর্তমানে সৌদি আরব তৈরি পোশাক, চামড়াজাত ও প্লাস্টিক পণ্য, হিমায়িত মাছ এবং ঔষধ আমদানি করে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, সৌদি আরব চাইলে বাংলাদেশ থেকে হালাল মাংস আমাদানির জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে পারে। বাংলাদেশ থেকে বিভিন্ন পণ্য আমদানির মাধ্যমে দু’দেশের বাণিজ্য অসমতা দূর করা যেতে পারে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

এ প্রেক্ষিতে বাংলাদেশের ১৩৭টি পণ্যের সৌদি বাজারে প্রবেশে শুল্কমুক্ত সুবিধা দেওয়ার বিষয়ে তিনি সৌদি বাণিজ্যমন্ত্রীকে অনুরোধ জানান। বর্তমানে সৌদি আরব ও বাংলাদেশের মধ্যে ১ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য হয়ে থাকে।

২০১৯ সালে সৌদি বাণিজ্যমন্ত্রীর নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের সরকারি ও বেসরকারি প্রতিনিধি দলের বাংলাদেশ সফরের সময় দু’দেশের ব্যবসা বাণিজ্য বৃদ্ধির বিষয়ে স্বাক্ষরিত বিভিন্ন সমঝোতা স্মারক পর্যালোচনা করে কার্যক্রম ত্বরান্বিত করার অনুরোধ জানান সালমান এফ রহমান। এসব সমঝোতা স্মারকসহ বাণিজ্য সহযোগিতার অন্যান্য ক্ষেত্রে পর্যালোচনা, সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও তার বাস্তবায়নে কার্যকর পদেক্ষেপ নিতে একটি যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠনের প্রস্তাবও দেন তিনি। এ কমিটি কিছু দিন পরপর এসব বিষয়ে আলোচনার মাধ্যমে দু’দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগ এগিয়ে নিতে কাজ করবে।

এ সময় প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মন্ত্রীকে জানান, সৌদি আরব চাইলে সে দেশের বিনিয়োগকারীদের জন্য বিশেষ ইকোনমিক জোন প্রতিষ্ঠা করে বিশেষ সুবিধা দিতে বাংলাদেশ প্রস্তুত রয়েছে।

দু’দেশের পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপের (পিপিপি) বিষয়ে ২০১৮ সালে প্রস্তাবিত সমঝোতা স্মারকটি দ্রুত স্বাক্ষরের বিষয়ে সালমান এফ রহমান সৌদি বাণিজ্যমন্ত্রীর সহযোগিতা চাইলে তিনি দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন। উপদেষ্টা বলেন, এ সমঝোতা স্মারকটি স্বাক্ষরিত হলে বাংলাদেশের সরকারি বিভিন্ন প্রকল্পে সৌদি কোম্পানির সরাসরি বিনিয়োগের দ্বার উন্মুক্ত হবে।

সালমান এফ রহমান সৌদি পাবলিক ইনভেস্টমেন্ট ফান্ডের (পিআইএফ) আওতায় বাংলাদেশের বিভিন্ন মেগা প্রকল্পে বিনিয়োগের বিষয়ে অনুরোধ জানালে সৌদি বাণিজ্য মন্ত্রী ইতিবাচক মত দেন। এ তহবিলের আওতায় তিনি বাংলাদেশে ঢাকা থেকে পায়রা বন্দর পর্যন্ত রেলযোগাযোগ নির্মাণ এবং কক্সবাজারকে আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে বিনিয়োগের আহ্বান জানান।

সালমান এফ রহমান বাংলাদেশি যে সব অভিবাসী সৌদি আরবে ব্যবসা করছে তাদের সহায়তার জন্য মন্ত্রীকে অনুরোধ করেন।

এ বিষয়ে সৌদি বাণিজ্য মন্ত্রী বলেন, বিদেশিদের সৌদি আরবে বৈধভাবে ব্যবসা বাণিজ্য করার বিষয়ে সৌদি সরকার সুযোগ দিয়েছে। এ প্রেক্ষিতে তারা তাদের ব্যবসা নিবন্ধনের মাধ্যমে বৈধভাবে সৌদি আরবে ব্যবসা করার সুযোগ পেয়েছে। সৌদি বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের এ বিষয়ে সব ধরনের সহায়তা করা হবে। 

এছাড়া, সালমান এফ রহমান সৌদি বাণিজ্যমন্ত্রীকে একটি প্রতিনিধি দল নিয়ে সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানালে, সৌদি বাণিজ্যমন্ত্রী আমন্ত্রণ গ্রহণ ও শিগগিরই বাংলাদেশ সফরের আশা ব্যক্ত করেন।

রিয়াদস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসে অনুষ্ঠিত এ ভার্চুয়াল সভায় সৌদি আরবে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী বিপিএম (বার) উপস্থিত ছিলেন।

সভায় বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান মো. সিরাজুল ইসলাম, বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান শেখ ইউসুফ হারুন ও বাংলাদেশ সরকারি-বেসরকারি অংশিদারিত্ব কর্তৃপক্ষের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সুলতানা আফরোজসহ অন্যান্য কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।  

প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান উচ্চ পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তা ও একটি ব্যবসায়ী দল নিয়ে শনিবার পাঁচ দিনের সরকারি সফরে সৌদি আরবে পৌঁছেছেন। সফরকালে তিনি দু’দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির বিষয়ে কয়েকজন মন্ত্রীসহ বিভিন্ন উচ্চপর্যায়ের সরকারি-বেসরকারি সভায় অংশ নেবেন। সূত্র: বাসস

/আইএ/

সম্পর্কিত

পণ্য পরিবহনে ধর্মঘটের কর্মসূচি, জানে না মন্ত্রণালয়

পণ্য পরিবহনে ধর্মঘটের কর্মসূচি, জানে না মন্ত্রণালয়

‘পর্যটনে নেতৃত্ব দেবে বাংলাদেশ’

‘পর্যটনে নেতৃত্ব দেবে বাংলাদেশ’

মুক্ত স্বদেশে ফিরে সেদিন কান্নায় ভেঙে পড়েন বাংলাদেশিরা

মুক্ত স্বদেশে ফিরে সেদিন কান্নায় ভেঙে পড়েন বাংলাদেশিরা

‘ই-কমার্সের জন্য নতুন আইন দরকার’

‘ই-কমার্সের জন্য নতুন আইন দরকার’

‘ই-কমার্সের জন্য নতুন আইন দরকার’

আপডেট : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০১:২২

ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের জন্য নতুন আইন দরকার বলে মন্তব্য করেছেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান। তিনি বলেন, ‘চোর পালালে বুদ্ধি হয়। তদারকির দুর্বলতার কারণে ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানে অনিয়ম হচ্ছে। এগুলো আগামীতে যাতে না হয়, এ জন্য নতুন আইন করতে হবে।’

শনিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) রাতে একাত্তর টেলিভিশনের নিয়মিত আয়োজন একাত্তর জার্নালে যুক্ত হয়ে তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে উপস্থাপনা করেন নূর সাফা জুলহাজ।

ইভ্যালির প্রধান নির্বাহী মোহাম্মদ রাসেলকে মুক্তির দাবিতে গ্রাহকদের আন্দোলনের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, ‘আন্দোলনকারীরা ভাবছেন তাকে বাইরে রাখলে হয়তো টাকা আদায় হবে। কিন্তু বাইরে থাকলেও তাদের টাকাটা ফেরত দেওয়ার ক্ষমতা নেই।’

অনুষ্ঠানে অ্যাটোর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট এম আমিন উদ্দিন বলেন, ‘নীতিমালা নয়, ই-কমার্স পরিচালনার জন্য আইন করতে হবে। ই-কমার্স যদি কেউ করতে আসেন, তবে তাকে নির্দিষ্ট টাকা জামানত রাখতে হবে। জমা দেওয়া টাকার বেশি যেন ব্যবসা না করতে পারে সে দিকে খেয়াল রাখতে হবে। তাহলে কেউ প্রতারিত হলে সেখান থেকে প্রতারিতদের টাকা দেওয়া যাবে। প্রতারকদের শাস্তির ব্যবস্থা রাখতে হবে আইনে। মানুষের টাকা ফেরতের নিশ্চয়তা রাখতে হবে। নতুন বাস্তবতায় নতুন সমস্যা সমাধানের জন্য নতুন আইন করা হয়। বিভিন্ন দেশে এটা করা হয়। ব্যবসায়ীরা যাতে নির্বিঘ্নে ব্যবসা করতে পারেন সেটাও আইনের মধ্যে আনতে হবে।’

 

 

 

/আইএ/

সম্পর্কিত

পণ্য পরিবহনে ধর্মঘটের কর্মসূচি, জানে না মন্ত্রণালয়

পণ্য পরিবহনে ধর্মঘটের কর্মসূচি, জানে না মন্ত্রণালয়

‘পর্যটনে নেতৃত্ব দেবে বাংলাদেশ’

‘পর্যটনে নেতৃত্ব দেবে বাংলাদেশ’

মুক্ত স্বদেশে ফিরে সেদিন কান্নায় ভেঙে পড়েন বাংলাদেশিরা

মুক্ত স্বদেশে ফিরে সেদিন কান্নায় ভেঙে পড়েন বাংলাদেশিরা

শেখ হাসিনার নেতৃত্বকে সৌদি আরব গুরুত্ব দিয়ে আসছে: সৌদি বাণিজ্যমন্ত্রী

শেখ হাসিনার নেতৃত্বকে সৌদি আরব গুরুত্ব দিয়ে আসছে: সৌদি বাণিজ্যমন্ত্রী

সর্বশেষসর্বাধিক

লাইভ

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

পণ্য পরিবহনে ধর্মঘটের কর্মসূচি, জানে না মন্ত্রণালয়

পণ্য পরিবহনে ধর্মঘটের কর্মসূচি, জানে না মন্ত্রণালয়

‘পর্যটনে নেতৃত্ব দেবে বাংলাদেশ’

‘পর্যটনে নেতৃত্ব দেবে বাংলাদেশ’

মুক্ত স্বদেশে ফিরে সেদিন কান্নায় ভেঙে পড়েন বাংলাদেশিরা

মুক্ত স্বদেশে ফিরে সেদিন কান্নায় ভেঙে পড়েন বাংলাদেশিরা

শেখ হাসিনার নেতৃত্বকে সৌদি আরব গুরুত্ব দিয়ে আসছে: সৌদি বাণিজ্যমন্ত্রী

শেখ হাসিনার নেতৃত্বকে সৌদি আরব গুরুত্ব দিয়ে আসছে: সৌদি বাণিজ্যমন্ত্রী

‘ই-কমার্সের জন্য নতুন আইন দরকার’

‘ই-কমার্সের জন্য নতুন আইন দরকার’

সাড়ে তিন মাস পর সর্বনিম্ন শনাক্ত

সাড়ে তিন মাস পর সর্বনিম্ন শনাক্ত

সংবিধানের দ্বিতীয় সংশোধনী বিলে যা ছিল

সংবিধানের দ্বিতীয় সংশোধনী বিলে যা ছিল

বড় প্রকল্পগুলো দুর্নীতির সুযোগ করে দিচ্ছে: পরিকল্পনামন্ত্রী

বড় প্রকল্পগুলো দুর্নীতির সুযোগ করে দিচ্ছে: পরিকল্পনামন্ত্রী

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে কমনওয়েলথের সহায়তা চেয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে কমনওয়েলথের সহায়তা চেয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী

বাংলাদেশের ভেতর ভারতের কোস্টাল বেসলাইন

বাংলাদেশের ভেতর ভারতের কোস্টাল বেসলাইন

সর্বশেষ

ঢাবি সাংবাদিক সমিতির ৩৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন

ঢাবি সাংবাদিক সমিতির ৩৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন

সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বাবরের আত্মপক্ষ সমর্থন ২১ সেপ্টেম্বর

সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বাবরের আত্মপক্ষ সমর্থন ২১ সেপ্টেম্বর

উগ্রবাদী বইয়ের প্রকাশক গ্রেফতার

উগ্রবাদী বইয়ের প্রকাশক গ্রেফতার

ইন্দোনেশিয়ার মোস্ট ওয়ান্টেড জঙ্গি নেতা অভিযানে নিহত

ইন্দোনেশিয়ার মোস্ট ওয়ান্টেড জঙ্গি নেতা অভিযানে নিহত

সাংবাদিক রোজিনার পাসপোর্ট-মোবাইল ফেরতের আবেদন নামঞ্জুর

সাংবাদিক রোজিনার পাসপোর্ট-মোবাইল ফেরতের আবেদন নামঞ্জুর

© 2021 Bangla Tribune