X
বুধবার, ২৩ জুন ২০২১, ৯ আষাঢ় ১৪২৮

সেকশনস

সঙ্কটের সঞ্চয় পুড়ে ছাই

আপডেট : ০৭ জুন ২০২১, ২৩:৪৯

আবুল হোসেন।  বরিশালের রাজাপুর থেকে ঢাকায় এসেছিলেন প্রায় ১৩ বছর আগে। ঢাকায় এসে রিকশা চালিয়েছেন কিছুদিন। কখনও দিনমজুরের কাজ করেছেন। স্ত্রী ও দুই সন্তান নিয়ে মহাখালীর সাততলা বস্তির দুই কক্ষের একটি টিনের ঘরে থাকতেন। সড়কের পাশেই তার কক্ষ।  বস্তিতে আগুনের পোড়া গন্ধে তার ঘুম ভাঙে।  স্ত্রী সন্তান নিয়ে কোনোভাবে জীবন নিয়ে তিনি বের হন। চোখের সামনে পুড়েছে একযুগে গড়া তার সংসার। কিছুই নিয়ে বের হতে পারেনি। প্রতিদিন প্লাস্টিকের একটি ব্যাংকে যে সঞ্চয় করে সেটিও পুড়েছে। কাগজের নোটগুলো পুড়ে ছাই।  আর বিভিন্ন কয়েন আগুনে গলে প্রায় একটির সঙ্গে একটি লেগে গেছে। ছাই থেকে হাতিয়ে হাতিয়ে সেই কয়েনগুলো খুঁজে বের করছিলেন আবুল হোসেন। সঙ্কটকালীন সময়ের জন্য তিনি যে সঞ্চয় করেছিলেন তা পুড়ে এখন মহাসঙ্কটে তিনি।

সোমবার (৭ জুন) দুপুরে মহাখালীর সাততলা বস্তিতে এরকম অসংখ্য মানুষকে ছাইয়ের মধ্যে তাদের স্বপ্ন খুঁজতে দেখা গেছে। দেড় শতাধিক ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার তাদের সর্বস্ব হারিয়ে নিঃস্ব।

আগুনে কেবল ঘর পুড়ে না, অসংখ্য মানুষের স্বপ্ন ও আশা পুড়ে যায়। সাততলা বস্তির বাসিন্দাদের অনেকেরই অনেক বছরের সংসারের জিনিসপত্র পুড়েছে। কারও ব্যবসার টাকা, কারও রিকশা, কারও দোকান আবার কারও দীর্ঘদিনের সংসারের আসবাবপত্র ও টিভি ফ্রিজ পুড়ে গলে গেছে। তেমনই একজন শেলী বেগম। ২০ বছর ধরে তিল তিল করে গড়া স্বপ্ন যখন পুড়ে যায় চোখের পলকে, তখন শূন্য দৃষ্টিতে চেয়ে থাকা ছাড়া কিছুই ছিল না তার।

২০ বছরের ঘাম-শ্রমে তিলে তিলে জাহানারা গড়েছিলেন স্বপ্নের ঘর। সেই ঘরে ছিল টিভি, ফ্রিজসহ ঘরের যাবতীয় আসবাবপত্র। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, রবিবার রাতের খাবার খেয়ে ঘুমিয়েছিলেন। পাতিলে সকালের জন্য ভাত রেখেছিলেন। ভোররাতে সেই ভাতসহ পাতিল পুড়ে কয়লা হয়ে যায়।

শেলি বেগম জানান,  এই বস্তিতেই জন্ম। স্বামীর মৃত্যুর পর দুই ছেলে মেয়েকে নিয়ে থাকতেন মহাখালী সাততলা বস্তিতে। বিভিন্ন এনজিওর কাছ থেকে ঋণ করে ধীরে ধীরে সাজিয়ে ছিলেন সংসার। কিন্তু লোন পরিশোধ হতে না হতেই ঘরের সব আসবাবপত্র পুড়ে ছাই হয়ে যায়। ঘরে ছিল নগদ ২০ হাজার টাকা। সেটি নিয়েও বেরোতে পারেননি তিনি।

রবিবার (৬ জুন) ভোর রাত ৪টার দিকে সাততলা বস্তিতে আগুনের সূত্রপাত। পরে পুরো বস্তিতে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ১৮টি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের প্রচেষ্টায় প্রায় তিন ঘণ্টা পর সকাল ৭টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। এতে প্রায় দেড় শতাধিক ঘরের এক হাজার কক্ষ পুড়ে গেছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। এসব ঘরপোড়া মানুষের প্রাণ আর গায়ের কাপড় ছাড়া কিছুই অবশিষ্ট নেই।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র ইতিমধ্যে তাদের টিন, নগদ টাকা ও আপদকালিন খাবারের নিশ্চয়তা দিয়েছেন। তবে তাদের দুর্দশা বাড়িয়েছে বৃষ্টি। খোলা আকাশের নিচে তারা নারী ও শিশু নিয়ে অবস্থান করছেন। বস্তির পাশে কয়েকটি হাসপাতালের আঙিনা ও বারান্দায় কয়েকজনের জায়গা হলেও সেখানে এত মানুষের সংকুলান হবে না।

সাততলার আবদুল গফফার বস্তির পাশের রাস্তার ফুটপাতে লুঙ্গি ব্যবসা করেন। থাকেন মহাখালী সাততলা বস্তিতে। আগুন লাগার খবর শুনে তিনি ঘর থেকে বালতি নিয়ে আগুন নেভাতে যান। তবে তারা ব্যর্থ হন। চোখের সামনেই সব পুড়েছে।

পুড়ে কয়লা হওয়া ঘরের সামনে দাঁড়িয়েছিলেন রংপুরের সীমা বেগম। তার স্বামী কামাল রিকশা চালান। সীমা বাসা-বাড়িতে কাজ করেন। সন্তান আর স্বামীকে নিয়ে তার দুই ঘরে আট সদস্যের সংসার। রাতে সবাই একসঙ্গেই ঘুমিয়েছিলেন। সকালেই দেখলেন পরনের কাপড় ছাড়া আর কিছু নেই তাদের। ঠাই হয়েছে খোলা আকাশের নিচে।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র আতিকুল ইসলাম বলেন, বস্তিবাসী আমাদের অবিচ্ছেদ্য অংশ।  তারা কেউ অভুক্ত থাকবেন না। 

সোমবার (৭ জুন) সকালে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার পর ঘটনাস্থলে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. সাজ্জাদ হোসাইন বলেন, বস্তিতে টিনের ঘর অনেক বেশি সেপারেশন হওয়ায় আমাদের আগুন নেভাতে বেগ পেতে হয়েছে। এছাড়া দাহ্য বস্তুর উপস্থিতি থাকায় আগুন বেশি ছড়িয়েছে। আগুন লাগার কারণ সম্পর্কে তিনি বলেন, এখানে প্রচুর পরিমাণে অবৈধ গ্যাস ও বিদ্যুতের লাইন রয়েছে। আমরা প্রাথমিকভাবে মনে করছি, এই দুটোর যেকোনও একটি থেকে আগুনের সূত্রপাত।

এদিকে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স অধিদফতর।

 

/এমআর/

সম্পর্কিত

অমিকে আরও দুই মামলায় গ্রেফতারের আবেদন মঞ্জুর

অমিকে আরও দুই মামলায় গ্রেফতারের আবেদন মঞ্জুর

মিজান ও বাছিরের বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ আগামী ২৯ জুন

মিজান ও বাছিরের বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ আগামী ২৯ জুন

ফেঁসে যাচ্ছেন পরীমণি?

ফেঁসে যাচ্ছেন পরীমণি?

নাসির ও অমির ১০ দিনের রিমান্ড চায় পুলিশ

পরীমণিকে ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার মামলানাসির ও অমির ১০ দিনের রিমান্ড চায় পুলিশ

ভাসানচর থেকে পালানো ১৪ রোহিঙ্গা আটক

ভাসানচর থেকে পালানো ১৪ রোহিঙ্গা আটক

যেভাবে ভারতে পাচারের শিকার হলেন তরুণী

যেভাবে ভারতে পাচারের শিকার হলেন তরুণী

কোরবানির পশুর হাট কেন্দ্র করে সক্রিয় জাল টাকার কারবারিরা

কোরবানির পশুর হাট কেন্দ্র করে সক্রিয় জাল টাকার কারবারিরা

নির্বাচনি সহিংসতা: নবনির্বাচিত ইউপি সদস্যসহ কারাগারে ৩

নির্বাচনি সহিংসতা: নবনির্বাচিত ইউপি সদস্যসহ কারাগারে ৩

নিবন্ধনধারীদের নিয়োগ স্থগিতের বিষয়ে ‍আপিল শুনানি ২৮ জুন

নিবন্ধনধারীদের নিয়োগ স্থগিতের বিষয়ে ‍আপিল শুনানি ২৮ জুন

অশ্লীল ছবি দিয়ে নারীদের নামে ফেসবুক অ্যাকাউন্ট, ২ যুবক গ্রেফতার

অশ্লীল ছবি দিয়ে নারীদের নামে ফেসবুক অ্যাকাউন্ট, ২ যুবক গ্রেফতার

নারী পাচার চক্রের প্রধান সমন্বয়ক নদীসহ সাতজন রিমান্ডে

নারী পাচার চক্রের প্রধান সমন্বয়ক নদীসহ সাতজন রিমান্ডে

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সহিংসতা: হেফাজত নেতা মনির গ্রেফতার

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সহিংসতা: হেফাজত নেতা মনির গ্রেফতার

সর্বশেষ

তিন ফরম্যাটেই আছেন সাকিব, টি-টোয়েন্টিতে নেই মুশফিক

তিন ফরম্যাটেই আছেন সাকিব, টি-টোয়েন্টিতে নেই মুশফিক

জাতীয় পরিচয়পত্রের দায়িত্ব স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে দেওয়া যথার্থ: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

জাতীয় পরিচয়পত্রের দায়িত্ব স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে দেওয়া যথার্থ: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

বম্বে সুইটসে চাকরির সুযোগ

বম্বে সুইটসে চাকরির সুযোগ

এনআইডি সেবা চেয়ার-টেবিল নয় যে উঠিয়ে নিয়ে গেলাম: সিইসি

এনআইডি সেবা চেয়ার-টেবিল নয় যে উঠিয়ে নিয়ে গেলাম: সিইসি

অমিকে আরও দুই মামলায় গ্রেফতারের আবেদন মঞ্জুর

অমিকে আরও দুই মামলায় গ্রেফতারের আবেদন মঞ্জুর

এই দেশে সন্ত্রাসীদের কোনও স্থান নেই: নওফেল

এই দেশে সন্ত্রাসীদের কোনও স্থান নেই: নওফেল

সমালোচক হয়েও বোর্ডের দায়িত্বে ড্যারেন স্যামি!

সমালোচক হয়েও বোর্ডের দায়িত্বে ড্যারেন স্যামি!

মিজান ও বাছিরের বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ আগামী ২৯ জুন

মিজান ও বাছিরের বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ আগামী ২৯ জুন

ভ্যাকসিন কিনতে ৯৪ কোটি ডলার ঋণ দিচ্ছে এডিবি

ভ্যাকসিন কিনতে ৯৪ কোটি ডলার ঋণ দিচ্ছে এডিবি

সৃজিতের ছবিতে তাপসী পান্নু

সৃজিতের ছবিতে তাপসী পান্নু

হিলিতে ফের বাড়লো পেঁয়াজের দাম

হিলিতে ফের বাড়লো পেঁয়াজের দাম

কিশোরের পিতৃপরিচয় নিশ্চিত করলো পুলিশ

কিশোরের পিতৃপরিচয় নিশ্চিত করলো পুলিশ

সর্বশেষসর্বাধিক

লাইভ

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

অমিকে আরও দুই মামলায় গ্রেফতারের আবেদন মঞ্জুর

অমিকে আরও দুই মামলায় গ্রেফতারের আবেদন মঞ্জুর

মিজান ও বাছিরের বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ আগামী ২৯ জুন

মিজান ও বাছিরের বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ আগামী ২৯ জুন

ফেঁসে যাচ্ছেন পরীমণি?

ফেঁসে যাচ্ছেন পরীমণি?

নাসির ও অমির ১০ দিনের রিমান্ড চায় পুলিশ

পরীমণিকে ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার মামলানাসির ও অমির ১০ দিনের রিমান্ড চায় পুলিশ

যেভাবে ভারতে পাচারের শিকার হলেন তরুণী

যেভাবে ভারতে পাচারের শিকার হলেন তরুণী

কোরবানির পশুর হাট কেন্দ্র করে সক্রিয় জাল টাকার কারবারিরা

কোরবানির পশুর হাট কেন্দ্র করে সক্রিয় জাল টাকার কারবারিরা

নিবন্ধনধারীদের নিয়োগ স্থগিতের বিষয়ে ‍আপিল শুনানি ২৮ জুন

নিবন্ধনধারীদের নিয়োগ স্থগিতের বিষয়ে ‍আপিল শুনানি ২৮ জুন

অশ্লীল ছবি দিয়ে নারীদের নামে ফেসবুক অ্যাকাউন্ট, ২ যুবক গ্রেফতার

অশ্লীল ছবি দিয়ে নারীদের নামে ফেসবুক অ্যাকাউন্ট, ২ যুবক গ্রেফতার

নারী পাচার চক্রের প্রধান সমন্বয়ক নদীসহ সাতজন রিমান্ডে

নারী পাচার চক্রের প্রধান সমন্বয়ক নদীসহ সাতজন রিমান্ডে

ফোনে আড়িপাতা প্রতিরোধে নেওয়া পদক্ষেপ জানতে চেয়ে আইনি নোটিশ

ফোনে আড়িপাতা প্রতিরোধে নেওয়া পদক্ষেপ জানতে চেয়ে আইনি নোটিশ

© 2021 Bangla Tribune