X
সোমবার, ০২ আগস্ট ২০২১, ১৮ শ্রাবণ ১৪২৮

সেকশনস

উত্থানে ফিরলো পুঁজিবাজার

আপডেট : ১৫ জুন ২০২১, ১৭:২৬

আবারও ঘুরে দাঁড়িয়েছে বস্ত্র খাত। বিমা ও বস্ত্র খাতের শেয়ারের দাম বৃদ্ধির ওপর ভর করে সপ্তাহের তৃতীয় কার্যদিবস মঙ্গলবার (১৫ জুন) পুঁজিবাজারে উত্থান হয়েছে। এদিন সূচকের পাশাপাশি বেড়েছে লেনদেনও। অবশ্য রবি ও সোমবার টানা দুই কার্যদিবস পর পুঁজিবাজারে উত্থান হলো।

মঙ্গলবার (১৫ জুন) সকাল ১০টায় আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বিমা খাতের শেয়ারের পাশাপাশি অন্যান্য খাতের কোম্পানির শেয়ারের দাম বৃদ্ধি পায়। এর ফলে সূচকের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতায় দিনের লেনদেন শুরু হয়।

সকাল ১০টা ২০মিনিটে ডিএসই'র প্রধান সূচক বাড়ে ২৬ পয়েন্ট। এরপর ব্যাংক, ওষুধ ও রসায়ন এবং মিউচুয়াল ফান্ডের শেয়ারের বিক্রির চাপে শুরু হয় সূচকের উঠানামা, যা অব্যাহত ছিল দুপুর ১টা ২০ মিনিট পর্যন্ত। কিন্তু এরপরে এক ঘণ্টা লেনদেনে ব্যাংকের শেয়ারের পাশাপাশি আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং বস্ত্র খাতের কিছু কোম্পানির শেয়ারের বিক্রির চাপ বাড়তে থাকায় সূচকের নেতিবাচক প্রবণতার মধ্য দিয়ে দিনের লেনদেন শেষ হয়।

দিন শেষে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সূচক বেড়েছে ৯ পয়েন্ট। অপর পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) কমেছে ১ পয়েন্ট।

ডিএসইর তথ্য মতে, মঙ্গলবার (১৫ জুন) ডিএসইতে মোট ৩৭২টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে দাম বেড়েছে ১৫২টির, কমেছে ১৯৫টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ২৫টির। তাতে ডিএসইতে লেনদেন হয়েছে ২ হাজার ৩২ কোটি ৫৮ লাখ ৬ হাজার টাকা। এর আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ১ হাজার ৭৩৭ কোটি ৭০ লাখ ৭ হাজার টাকা। অর্থাৎ আগের দিনের চেয়ে প্রায় ৩০০ কোটি টাকা বেশি।

বেশির ভাগ শেয়ারের দাম কমলেও বড় বড় কোম্পানির শেয়ারের দাম বাড়ায় এদিন আগের দিনের চেয়ে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৮ দশমিক ৬৯ পয়েন্ট বেড়ে ছয় হাজার ২২ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে।

প্রধান সূচকের পাশাপাশি ডিএসইর অন্য সূচকগুলোর মধ্যে শরিয়াহ সূচক দশমিক ৫২ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ২৮৪ পয়েন্টে এবং ডিএসই-৩০ সূচক ৩ দশমিক ৯০ পয়েন্ট বেড়ে ২ হাজার ১৭৬ পয়েন্টে অবস্থান করছে।

বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, আগের দিনের মতোই পুঁজিবাজারে উত্থান ধরে রাখতে বড় ভূমিকা পালন করে বিমা খাত।

এদিনও বাজারে তালিকাভুক্ত ৫০টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দাম বেড়েছে ৩৯টির, কমেছে ১০টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম। অপরিবর্তিত রয়েছে একটি কোম্পানির শেয়ার দর। বস্ত্র খাতের ৫৮টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দাম বেড়েছে ৩১টির, কমেছে ২১টির, অপরিবর্তিত রয়েছে ছয়টি কোম্পানির শেয়ারের দাম। এছাড়া মিশ্র-প্রবণতায় লেনদেন হয়েছে আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও প্রকৌশল খাতের শেয়ারের।

অপরদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ১ কমে ১৭ হাজার ৪৬৪ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। সিএসইতে লেনদেন হওয়া ৩১৪টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বেড়েছে ১১৮টির, কমেছে ১৬৭টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ২৯টির শেয়ারের দাম। এদিন সিএসইতে লেনদেন হয়েছে ৯০ কোটি ৭৭ লাখ ১৯ হাজার ১৮৫টাকা।  আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ৭৯ কোটি ৯২ লাখ ২৮ হাজার ৮৫৯ টাকা।

 

/জিএম/এমআর/

সম্পর্কিত

প্রণোদনার টাকা কারা নিয়েছে জানতে চায় বাংলাদেশ ব্যাংক

প্রণোদনার টাকা কারা নিয়েছে জানতে চায় বাংলাদেশ ব্যাংক

প্রাইজবন্ডের ‘ড্র’ অনুষ্ঠিত, বিজয়ী হলেন যারা

প্রাইজবন্ডের ‘ড্র’ অনুষ্ঠিত, বিজয়ী হলেন যারা

চামড়ায় ৫০০ কোটি ডলারের ভবিষ্যৎ

চামড়ায় ৫০০ কোটি ডলারের ভবিষ্যৎ

কারখানা খুলতে মানতে হবে ১৫ শর্ত

কারখানা খুলতে মানতে হবে ১৫ শর্ত

প্রণোদনার টাকা কারা নিয়েছে জানতে চায় বাংলাদেশ ব্যাংক

আপডেট : ০১ আগস্ট ২০২১, ২৩:০১

করোনাভাইরাসের কারণে ব্যবসার যে ক্ষতি হয়েছে, তা কাটিয়ে উঠতে ছোট ও বড় ব্যবসায়ীরা স্বল্প সুদে প্রায় ৪৫ হাজার কোটি টাকা প্রণোদনার ঋণ নিয়েছেন। এ ঋণের মোট সুদের অর্ধেক ভর্তুকি হিসেবে দিয়েছে সরকার।

অভিযোগ রয়েছে, এই প্রণোদনার অধিকাংশই গেছে প্রভাবশালীদের কাছে। ফলে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত ছোট ছোট উদ্যোক্তারা এই প্রণোদনা থেকে ঋণ পায়নি। এ কারণে প্রণোদনার ঋণ কারা নিয়েছে তা জানতে ব্যাংকগুলোর কাছে তথ্য চেয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে। 

অবশ্য ঋণ দেওয়ার প্রায় এক বছর পর বাংলাদেশ ব্যাংক এসব ঋণের ব্যবহার খতিয়ে দেখার উদ্যোগ নিয়েছে। এ জন্য কারা ঋণ নিয়েছে ও ঋণের ব্যবহার কোথায় হয়েছে, তার তথ্য চেয়েছে ব্যাংকগুলোর কাছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, প্রণোদনার টাকার ব্যবহার কোথায় হয়েছে তা জানতে বাংলাদেশ ব্যাংক চেষ্টা করছে। এরই অংশ হিসেবে ব্যাংকগুলোকে চিঠি দেওয়া হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র সিরাজুল ইসলাম বলেন, প্রণোদনার ঋণের টাকা কারা পেয়েছে ও কী উদ্দেশ্যে এই টাকা ব্যবহার হয়েছে তা, খতিয়ে দেখবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এজন্য ব্যাংকগুলোর কাছে তথ্য চেয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে। 

জানা গেছে, করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত শিল্প ও সেবা খাতের ব্যবসায়ী এবং শিল্প উদ্যোক্তাদের সহায়তা করতে গত বছর সাড়ে ৪ শতাংশ সুদে প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকা প্রণোদনার ঋণ বিতরণ করে ব্যাংকগুলো। আর ক্ষুদ্র ও মাঝারি খাতের ব্যবসায়ীদের দেওয়া হয় ৪ শতাংশ সুদে প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকা। এসব ঋণের সুদহার ছিল ৯ শতাংশ। বাকি সুদ ভর্তুকি হিসেবে দিয়েছে সরকার।

 

/জিএম/এনএইচ/

সম্পর্কিত

প্রাইজবন্ডের ‘ড্র’ অনুষ্ঠিত, বিজয়ী হলেন যারা

প্রাইজবন্ডের ‘ড্র’ অনুষ্ঠিত, বিজয়ী হলেন যারা

চামড়ায় ৫০০ কোটি ডলারের ভবিষ্যৎ

চামড়ায় ৫০০ কোটি ডলারের ভবিষ্যৎ

কারখানা খুলতে মানতে হবে ১৫ শর্ত

কারখানা খুলতে মানতে হবে ১৫ শর্ত

‘জ্বালানি খাতে দক্ষ জনবল সংকট মেটাতে প্রবাসী বিশেষজ্ঞদের গুরুত্ব দিতে হবে’

‘জ্বালানি খাতে দক্ষ জনবল সংকট মেটাতে প্রবাসী বিশেষজ্ঞদের গুরুত্ব দিতে হবে’

প্রাইজবন্ডের ‘ড্র’ অনুষ্ঠিত, বিজয়ী হলেন যারা

আপডেট : ০১ আগস্ট ২০২১, ২০:১০

১০০ টাকা মূল্যমানের প্রাইজবন্ডের ১০৪তম ‘ড্র’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার (১ আগস্ট) ঢাকা বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার মো. খলিলুর রহমানের সভাপতিত্বে ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার অফিসের সম্মেলন কক্ষে এ ড্র অনুষ্ঠিত হয়।

ছয় লাখ টাকার প্রথম পুরস্কার বিজয়ী নম্বর ০২১৮৪০৭। এছাড়া ৩ লাখ ২৫ হাজার টাকার দ্বিতীয় পুরস্কারের নম্বর ০৫৫১৯৮৫।

এক লাখ টাকার তৃতীয় পুরস্কারের নম্বর ০৩৮৪৪৫৪ ও ০৯২৪১৩১। ৫০ হাজার টাকার চতুর্থ পুরস্কারের বিজয়ীর নম্বর ০২৭৬০৫৮ ও ০৯৫৫৮৪৮।

একক সাধারণ পদ্ধতিতে (অর্থাৎ প্রত্যেক সিরিজের জন্য একই নম্বর) এই ‘ড্র’ পরিচালিত হয় এবং বর্তমানে প্রচলনযোগ্য ১০০ (একশত) টাকা মূল্যমানের ৬৫টি (পঁয়ষট্টি) সিরিজ যথা- কক, কখ, কগ, কঘ, কঙ, কচ, কছ, কজ, কঝ, কঞ, কট, কঠ, কড, কঢ, কথ, কদ, কন, কপ, কফ, কব, কম, কল, কশ, কষ, কস, কহ, খক, খখ, খগ, খঘ, খঙ, খচ, খছ, খজ, খঝ, খঞ, খট, খঠ, খড,
খঢ, খথ, খদ, খন, খপ, খফ, খব, খম, খল, খশ, খষ, খস, খহ, গক, গখ, গগ, গঘ, গঙ, গচ, গছ, গজ, গঝ, গঞ, গট, গঠ এবং গড এই ‘ড্র’-এর আওতাভুক্ত।

উপরোক্ত সিরিজগুলোর অন্তর্ভুক্ত ৪৬টি সাধারণ সংখ্যা পুরস্কারের যোগ্য বলে ঘোষিত হয়। 

৫ম পুরস্কার প্রতিটি ১০,০০০ টাকার বিজয়ী প্রতিটি সিরিজের ৪০টি নম্বর হচ্ছে: ০০০৪৮৮৩, ০১৬৪৮৪৪, ০৪৬৮২৪৬, ০৭০৪৯৩৭, ০৮৬৭৬৮৬, ০০১৪৪৫৭, ০২১৮২৯৮, ০৪৮২২৪৬, ০৭৪০৫৯৬, ০৮৯৮৮৮৬, ০০৩৫৮০৭, ০২৫৯৮৫৮, ০৪৯৫১৫১, ০৭৪৫০৭৬, ০৯৩০২৯৯, ০০৮০২১৭, ০২৯৩৪৩৪, ০৫৩২৭৬১, ০৭৯৫১২৩, ০৯৩৯২৮৬, ০১০৮৬১৮, ০২৯৩৯৩৮, ০৫৪৭৯২২, ০৮০৭৬৯৫, ০৯৫৫৭১২, ০১৩৫৩৯৬, ০২৯৮৩৪২, ০৬২৪৭০৮, ০৮৩৭৬২১, ০৯৬৮৫৮৭, ০১৬২৪২৬, ০৩৭২৯৫৬, ০৬৪৮৯৯৮, ০৮৫৩৬৮৫, ০৯৭৭২৬৭, ০১৬২৭০৬, ০৪২১৩৬৭, ০৬৫৮৪৮৪, ০৮৬০৬৯৬ ও ০৯৮৬৪৪৪।

/জিএম/এমআর/

চামড়ায় ৫০০ কোটি ডলারের ভবিষ্যৎ

আপডেট : ০১ আগস্ট ২০২১, ০৯:০০

একসময় তৈরি পোশাকের পর দেশের প্রধান রফতানি পণ্য ছিল চামড়া। কিন্তু গত কয়েকবছর ধরে বাজারে দারুণ অস্থিরতা। লাখ টাকার গরুর চামড়া বিক্রি হচ্ছে তিন শ’ টাকায়। বিক্রি করতে না পেরে চামড়া মাটিতে পুঁতে ফেলার ঘটনাও ঘটেছে। এ বছর আবার লবণ দিতে দেরি করায় পচে গেছে অনেকগুলো।

চামড়া সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, বাংলাদেশের চামড়ার মান অন্য অনেক দেশের চেয়ে ভালো। তারপর এ দশা কেন? বিশ্লেষকরা বলছেন, চামড়া খাতের উন্নয়নে শিক্ষিত উদ্যোক্তা শ্রেণি আসছে না। এ জন্য দরকার সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা। তা না হলে সম্ভাবনাময় এ খাত সফলতার মুখ দেখবে না।

তারা বলছেন, প্রয়োজনীয় আর্থিক, কারিগরি ও অবকাঠামোগত সহায়তা পেলে চামড়ারও আছে ভবিষ্যৎ। এর জন্য নিরাপদ কর্মপরিবেশের সঙ্গে নিশ্চিত করতে হবে বেতন কাঠামো।

বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি জানিয়েছেন, চামড়া বাংলাদেশের সম্ভাবনাময় খাত। এ খাতের উন্নয়নে সরকার নানা উদ্যোগ নিচ্ছে। গতবছরের তুলনায় কাঁচা চামড়ার দামও বাড়ানো হয়েছে। তিনি আরও জানান, আমাদের কাঁচামাল ও দক্ষ জনশক্তি রয়েছে। সক্ষমতা পুরোপুরি কাজে লাগাতে পারলে এ খাত থেকে বছরে ৫০০ কোটি ডলারের বেশি আয় করা সম্ভব।

খাত সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ষাটের দশকে যাত্রা শুরু করা চামড়া শিল্প পাঁচ দশকেও খুব একটা এগোয়নি। অথচ আশির দশকে যাত্রা শুরু করা পোশাক হয়ে গেছে অর্থনীতির অন্যতম ভিত। পোশাক শ্রমিকদের জন্য নিরাপদ কর্মপরিবেশ ও ন্যূনতম মজুরিও আছে। অথচ চামড়া শিল্পের শ্রমিকদের আজও কাজ করতে হচ্ছে পুঁতিগন্ধময় পরিবেশে।

চামড়ার হিসাব-নিকাশ

জানা গেছে, মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) চামড়ার অবদান এখন মাত্র শূন্য দশমিক ৩৫ শতাংশ। পরিসংখ্যান ব্যুরোর শ্রম জরিপের তথ্য অনুযায়ী ২০১৬ সালে এ খাতে শ্রমিক ছিল ১ লাখ ২৯ হাজার।

রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্যে দেথা গেছে, ২০১৩-১৪ অর্থবছরে এ খাতে রফতানি আয় ছিল ১১২ কোটি ডলার। ২০১৬-১৭ তে এসে তা বেড়ে ১২৩ কোটি ডলার হয়।

পরের দুই অর্থবছরে চামড়া শিল্পের রফতানি আয় উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ১০৮ কোটি ডলার ও ২০১৮-১৯ অর্থবছরে হয় ১০২ কোটি ডলার। ২০১৯-২০ অর্থবছরে আরও কমে ৭৯ কোটি ৭৬ লাখ ডলারে নেমে আসে।

অবশ্য সদ্য সমাপ্ত ২০২০-২১ অর্থবছরের এ খাত থেকে আয় হয়েছে ৯৪ কোটি ১৬ লাখ ডলার। গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় যা ১৮ দশমিক ৬ শতাংশ বেশি।

জানা গেছে, বাংলাদেশের চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের প্রধান বাজার ইউরোপ। সেখানকার করোনার প্রাদুর্ভাব কমলে ফিরে আসতে পারে চামড়ার সুদিন। তখন আবার বাড়বে চামড়ার দাম।

দাম কমলে ট্যানারি মালিকের লাভ

দেশে কোরবানির ঈদের সঙ্গে কাঁচা চামড়ার সরবরাহের সম্পর্ক অনেক দিনের। তথ্যে দেখা যায়, দেশে প্রায় ৩১ কোটি ৫০ লাখ বর্গফুট ক্রাস্ট ও ফিনিশিড চামড়ার সরবরাহ রয়েছে। এর একটি বড় অংশ আসে কোরবানির সময়। এ সময় চামড়ার দাম পড়ে যাওয়ায় পুরো লাভটাই যাচ্ছে আড়তদার, ব্যবসায়ী ও ট্যানারি মালিকদের পকেটে।

এদিকে চামড়ার ন্যায্য দাম নিশ্চিত করতে কাঁচা চামড়া রফতানির অনুমতিও দিয়েছে সরকার। ইতোমধ্যে প্রায় এক কোটি বর্গফুট ওয়েট ব্লু চামড়া রফতানির অনুমতি পেয়েছে দেশের পাঁচটি প্রতিষ্ঠান।  

লবণ নিয়ে নয়ছয়

কাঁচা চামড়ায় লবণ দিতে হয় দ্রুত। চামড়া আলাদা করার চার ঘণ্টার মধ্যে যদি লবণ দেওয়া যায় তবে সবচেয়ে ভালো। এবার ঈদের আগে বলা হয়েছিল লবণের ঘাটতি নেই। আমদানিরও দরকার হবে না। কিন্তু বাজারে দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র। মৌসুমি ব্যবসায়ীরা বলছেন লবণের দাম বেড়ে গেছে। কোরবানির সময় চাহিদা বাড়ে বলে সুযোগটি হাতছাড়া করেনি লবণ ব্যাপারীরা।

ছিল না সরকারের নজরদারি। তাই ৬০০ টাকা দামের ৭৫ কেজির বস্তার লবণ বিক্রি হয়েছে ৯০০ টাকায়। ওজনও ছিল কম। ৭৫ কেজির পরিবর্তে অনেক বস্তায় ছিল  ৬০ কেজি। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর জন্য যা বেশ হতাশাজনক।

বাংলাদেশ ট্যারিফ কমিশনের তথ্যমতে, আন্তর্জাতিক বাজারে কাঁচা চামড়ার দাম তুলনামূলকভাবে বাংলাদেশের চেয়ে বেশি। চাহিদা ও সরবরাহের ভিত্তিতে দাম নির্ধারিত হয়। তাই সঠিক তুলনা সম্ভব নয়।

বর্জ্য মিশছে নদীতে

চামড়া শিল্পের সম্ভাবনাকে মাথায় রেখে সাভারে গড়ে উঠেছে আধুনিক চামড়া শিল্পনগরী। প্রত্যাশা ছিল সাভারের এখানকার কারখানাগুলো উৎপাদনে গেলে রফতানি আয় বাড়বে। কিন্তু এই সময়ে উল্টো রফতানি আয় ধারাবাহিকভাবে কমেছে। অবশ্য হাজারীবাগের আড়াই শ’ কারখানার মধ্যে স্থানান্তরিত হয়েছে দেড় শ’টি।

এখনও নানা জটিলতায় জর্জরিত সাভার শিল্পনগরীর কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগার। পুরোপুরি চালু হয়নি সেট। ট্যানারিগুলো বর্জ্য খোলা আকাশের নিচে ফেলছে। সেটা গিয়ে মিশছে বুড়িগঙ্গা ও ধলেশ্বরীর পানিতে।

এ প্রসঙ্গে বিজনেস ইনিশিয়েটিভ লিডিং ডেভেলপমেন্ট (বিল্ড)-এর প্রধান নির্বাহী ফেরদাউস আরা বেগম জানিয়েছেন, ‘চামড়া শিল্পের খবরে যে ছবিগুলো আমরা দেখি সেগুলো বেশ করুণ। অপরিচ্ছন্ন, জীর্ণ দিনমজুররা অত্যন্ত নোংরা পরিবেশে হাঁটাচলা করছেন লালবাগ-পোস্তা এবং অন্যান্য জায়গায়। তারা যে খুব শিগগিরই অসুস্থ হয়ে পড়বেন, এতে সন্দেহ নেই। সিটি করপোরেশন ও সংশ্লিষ্ট খাতের উদ্যোক্তাদের অনুরোধ করতে চাই- অন্তত খালি পায়ে এদের কাজ করতে যেন না দেওয়া হয়। হাতে যেন অন্তত একজোড়া গ্লাভস থাকে।

 

 

/এফএ/

সম্পর্কিত

কারখানা খুলতে মানতে হবে ১৫ শর্ত

কারখানা খুলতে মানতে হবে ১৫ শর্ত

বিদেশি ও প্রবাসীদের ডাকছে শেয়ারবাজার

বিদেশি ও প্রবাসীদের ডাকছে শেয়ারবাজার

কারখানা খুলতে মানতে হবে ১৫ শর্ত

আপডেট : ০১ আগস্ট ২০২১, ০০:৪১

রবিবার (১ আগস্ট) থেকে রফতানিমুখী তৈরি পোশাক শিল্প কারখানাগুলো চালু হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যবিধি কঠোরভাবে অনুসরণের জন্য ১৫টি শর্ত মানতে হবে কারখানা মালিকদের। শনিবার (৩১ জুলাই) রাতে গার্মেন্টস মালিকদের এ ব্যাপারে একটি চিঠি দিয়েছে তৈরি পোশাক মালিকদের সংগঠন- বিজিএমইএ।

সংগঠনের সভাপতি ফারুক হাসানের স্বাক্ষরিত চিঠিতে দেওয়া শর্তগুলো হলো:

১. কারখানা খোলা এবং ছুটির সময়ে গেট বা কারখানার অভ্যন্তরে শ্রমিকদের ভিড় এড়ানোর লক্ষ্যে কারখানায় প্রবেশ ও কারখানা ত্যাগ করার বিষয়ে Staggered Time নির্ধারণ করার ওপর জোর দেওয়া।

২. শারিরীক দূরত্ব বজায় রেখে গমনাগমন পথের ব্যবহার নিশ্চিত করা (রশি/শিকল দিয়ে পুরুষ ও নারী শ্রমিকদের জন্য আলাদা লাইন করে কারখানায় প্রবেশ এবং বাহির নিশ্চিত করতে হবে।

৩. সম্ভাব্য ক্ষেত্রে কর্মঘণ্টা বিভিন্ন শিফটে নির্ধারণ করা।

৪. ফ্লোরে বা কাজের স্থানগুলোতে ভিড় এড়িয়ে চলতে শ্রমিকদের উৎসাহিত করা।

৫. দুপুরের খাবারের বিরতি বা অন্যান্য বিরতি যথাসম্ভব Staggered Time এ করা।

৬. কারখানায় প্রবেশের সময় শ্রমিকদের দেহের তাপমাত্রা পরিমাপ করা অথবা প্রয়োজনে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য প্রেরণ করা।

৭. কর্মস্থলে (কারখানা বা প্রতিষ্ঠান) সহজে দৃষ্টিগোচর হয় এমন স্থানে হাত পরিষ্কার সমগ্রী রাখা এবং নিয়মিত সেগুলো পুনর্ভর্তি করা।

৮. পর্যাপ্ত সংখ্যক সাবানের ব্যবস্থাসহ প্রধান ফটকে হাত ধৌতকরণ-স্থান নির্দিষ্ট করা।

৯. কারখানায় প্রবেশের সময় সব শ্রমিক-কর্মচারীর হাত ধৌতকরণ বা জীবাণুমুক্তকরণ নিশ্চিত করা।

১০. হাত ধৌতকরণ বা জীবাণুমুক্তকরণের প্রতিটি স্থান/পানির কলের মধ্যে ন্যূনতম এক মিটার দূরত্ব নিশ্চিত করা।

১১. হাত ধৌতকরণ এবং জীবাণুমুক্তকরণের সঠিক পদ্ধতিগত নির্দেশাবলী দৃষ্টিগোচর স্থানে প্রদর্শন করা (যেমন: উভয়হাত কমপক্ষে

২০ সেকেন্ড ধরে ধৌত করা)।

১২. হাত ধোয়ার পর শুকানোর জন্য ড্রায়ার বা টিস্যু পেপারের ব্যবস্থা রাখা।

১৩. সার্বক্ষণিক মাস্ক ব্যবহার নিশ্চিত করা।

১৪. কারখানার বাইরে সভা সমাবেশ, গণপরিবহন এবং ভিড় এড়িয়ে চলতে শ্রমিকদের উৎসাহিত করা।

১৫. করোনা সংক্রমণের উপসর্গ সম্পর্কে শ্রমিক-কর্মচারীদের অবহিত করা।

 

/জিএম/আইএ/

সম্পর্কিত

চামড়ায় ৫০০ কোটি ডলারের ভবিষ্যৎ

চামড়ায় ৫০০ কোটি ডলারের ভবিষ্যৎ

বিদেশি ও প্রবাসীদের ডাকছে শেয়ারবাজার

বিদেশি ও প্রবাসীদের ডাকছে শেয়ারবাজার

‘জ্বালানি খাতে দক্ষ জনবল সংকট মেটাতে প্রবাসী বিশেষজ্ঞদের গুরুত্ব দিতে হবে’

আপডেট : ৩১ জুলাই ২০২১, ২২:২২

পঞ্চাশ বছরের বাংলাদেশ এখন উন্নয়নের সুপার হাইওয়েতে রয়েছে। এটাকে টেকসই করার জন্য নিজস্ব সম্পদ, জনশক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে ব্যবহারের বিকল্প নেই। কিন্তু দেশে জ্বালানিসহ সকল খাতে দক্ষ জনবলের সংকট চরমে। ফলে প্রবাসী  বাংলাদেশিরা এই ঘাটতি পূরণে বড় অবদান রাখতে পারে। 

শনিবার (৩১ জুলাই) এনার্জি এন্ড পাওয়ার ম্যাগাজিন আয়োজিত ‘এনার্জি সেক্টর হিউম্যান রির্সোস ডেভলপমেন্ট: ক্যান এনআরবি এক্সপার্ট সাপোর্ট?’ শীর্ষক ওয়েবিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন। 

ম্যাগাজিনের সম্পাদক মোল্লাহ আমজাদ হোসেনের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন অধ্যাপক ম. তামিম, ম্যাক্স গ্রুপের চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ আলমগীর,  ইউনিভারসিটি অব কুইনল্যান্ডের প্রফেসর ড. তপন সাহা, পাওয়ার সেলের মহাপরিচালক মোহাম্মদ হোসেইন, আরএমআইটির প্রফেসর ড. ফিরোজ আলম ও জ্বালানি বিশেষজ্ঞ খন্দকার আবদুল সালেক। 

ম. তামিম বলেন, কেবল জ্বালানি খাতে নয়, সকল খাতেই দক্ষ জনবল সংকটের মধ্যে আছে। দক্ষ জনবল চাহিদা নিরূপণ ও গড়ে তোলার জন্য একটি বিভাগ বা স্বতন্ত্র মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠা জরুরি। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বাজারের চাহিদার নিরিখে শিক্ষাক্রমে পরিবর্তন আনছে। বুয়েটও তার শিক্ষাক্রমে আগামী ২ বছরের মধ্যে বড় ধরনের পরিবর্তন আনার লক্ষ্যে কাজ করছে।

গোলাম মোহাম্মদ আলমগীর বলেন, বাংলাদেশ এখন উন্নয়নের মহাসড়কে। বিশেষ করে জ্বালানি অবকাঠামোর উন্নয়ন অতীতের সকল রেকর্ড ভেঙেছে। কিন্তু এটাকে সাসটেইনেবল করতে চাইলে নিজস্ব সম্পদ, প্রতিষ্ঠান ও জনবলকে কাজে লাগানোর কোনও বিকল্প নেই। প্রবাসী বাংলাদেশি বিশেষজ্ঞরাও আমাদের এক বড় সম্পদ। ফলে দক্ষ জনবল ঘাটতি মেটানোর জন্য প্রবাসী বিশেষজ্ঞদেরও উন্নয়নকাজে যুক্ত করার কোনও বিকল্প নেই।

ড. তপন সাহা বলেন, কোথা থেকে কোনও প্রবাসী বিশেষজ্ঞ কিভাবে বাংলাদেশে  সহায়তা করতে হবে তার একটি ডাটাবেজ তৈরি করে তাদের পরিকল্পিতভাবে কাজে লাগানো সম্ভব হলে টেকসই উন্নয়ন আরও বেগবান হবে। 

মোহাম্মদ হোসেইন বলেন, প্রবাসীরা কীভাবে অবদান রাখতে পারে তার জন্য আইইবি তাদের বিদেশি চ্যাপ্টারের মাধ্যমে নেটওয়ার্ক তৈরির উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

/এসএনএস/এমআর/

সম্পর্কিত

প্রণোদনার টাকা কারা নিয়েছে জানতে চায় বাংলাদেশ ব্যাংক

প্রণোদনার টাকা কারা নিয়েছে জানতে চায় বাংলাদেশ ব্যাংক

প্রাইজবন্ডের ‘ড্র’ অনুষ্ঠিত, বিজয়ী হলেন যারা

প্রাইজবন্ডের ‘ড্র’ অনুষ্ঠিত, বিজয়ী হলেন যারা

চামড়ায় ৫০০ কোটি ডলারের ভবিষ্যৎ

চামড়ায় ৫০০ কোটি ডলারের ভবিষ্যৎ

কারখানা খুলতে মানতে হবে ১৫ শর্ত

কারখানা খুলতে মানতে হবে ১৫ শর্ত

সর্বশেষ

রাজশাহী মেডিক্যালে আরও ১৫ মৃত্যু

রাজশাহী মেডিক্যালে আরও ১৫ মৃত্যু

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনা কমিটির প্রয়োজন কী?

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনা কমিটির প্রয়োজন কী?

ময়মনসিংহ হাসপাতালে ভর্তি ৪ ডেঙ্গু রোগী

ময়মনসিংহ হাসপাতালে ভর্তি ৪ ডেঙ্গু রোগী

শের-ই বাংলা মেডিক্যালে একদিনে ২৩ মৃত্যু

শের-ই বাংলা মেডিক্যালে একদিনে ২৩ মৃত্যু

যানবাহনে অতিরিক্ত ভাড়া, পোশাকশ্রমিকদের মহাসড়ক অবরোধ

যানবাহনে অতিরিক্ত ভাড়া, পোশাকশ্রমিকদের মহাসড়ক অবরোধ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ব্যবসায়ীকে ছুরিকাঘাত করে ৬ লাখ টাকা ছিনতাই

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ব্যবসায়ীকে ছুরিকাঘাত করে ৬ লাখ টাকা ছিনতাই

চট্টগ্রামে করোনায় আরও ১১ জনের মৃত্যু

চট্টগ্রামে করোনায় আরও ১১ জনের মৃত্যু

রোগী সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে রাজধানীর যে ৪ হাসপাতাল

রোগী সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে রাজধানীর যে ৪ হাসপাতাল

সর্বশেষসর্বাধিক

লাইভ

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

প্রণোদনার টাকা কারা নিয়েছে জানতে চায় বাংলাদেশ ব্যাংক

প্রণোদনার টাকা কারা নিয়েছে জানতে চায় বাংলাদেশ ব্যাংক

প্রাইজবন্ডের ‘ড্র’ অনুষ্ঠিত, বিজয়ী হলেন যারা

প্রাইজবন্ডের ‘ড্র’ অনুষ্ঠিত, বিজয়ী হলেন যারা

চামড়ায় ৫০০ কোটি ডলারের ভবিষ্যৎ

চামড়ায় ৫০০ কোটি ডলারের ভবিষ্যৎ

কারখানা খুলতে মানতে হবে ১৫ শর্ত

কারখানা খুলতে মানতে হবে ১৫ শর্ত

‘জ্বালানি খাতে দক্ষ জনবল সংকট মেটাতে প্রবাসী বিশেষজ্ঞদের গুরুত্ব দিতে হবে’

‘জ্বালানি খাতে দক্ষ জনবল সংকট মেটাতে প্রবাসী বিশেষজ্ঞদের গুরুত্ব দিতে হবে’

© 2021 Bangla Tribune