X
সোমবার, ০২ আগস্ট ২০২১, ১৮ শ্রাবণ ১৪২৮

সেকশনস

অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সিনোফার্মের টিকা চান চীনে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীরা

আপডেট : ২১ জুন ২০২১, ১৬:০১

অগ্রাধিকার ভিত্তিতে চীনের সিনোফার্মের টিকা দিতে দেশটির বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা প্রধানমন্ত্রীর কাছে দাবি জানিয়েছেন। এসময় বিশেষ ব্যবস্থায় স্টুডেন্ট ভিসা চালু করতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও চীনা রাষ্ট্রদূতের সহযোগিতা চেয়েছেন তারা। করোনার টিকা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় চীনে অধ্যয়নরত ছয় থেকে সাত হাজার শিক্ষার্থীর ক্যারিয়ার হুমকির মুখে পড়েছে বলে জানিয়েছে শিক্ষার্থীরা।

সোমবার (২১ জুন) জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এই শিক্ষার্থীরা এক মানববন্ধন থেকে এসব দাবি জানান।

শিক্ষার্থীরা জানান, চীনে ফিরে যেতে না পারলে তাদের শিক্ষাজীবন অনিশ্চয়তার মুখে পড়বে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বারবার আশ্বাস দিয়েও টিকার ব্যবস্থা করেনি। অপরদিকে রাজধানীর তিনটি হাসপাতালে ফাইজার-বায়োএনটেকের টিকা কার্যক্রম শুরু হয়েছে। প্রথম দিন এই টিকা পাচ্ছেন ৩৬০ জন। প্রতিটি কেন্দ্রেই টিকা প্রত্যাশীদের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।

মানববন্ধনে শিক্ষার্থীরা বলেন, রাষ্ট্রের কাছে আমাদের প্রত্যাশা সামান্য। আমরা চীন থেকে আসা ভ্যাকসিনে অগ্রাধিকার চাই। আমরা ক্যাম্পাসে ফিরতে চাই। আমাদের চাইনিজ ইউনিভার্সিটি, চাইনিজ সরকার এবং বাংলাদেশে অবস্থিত চাইনিজ দূতাবাসের পক্ষ থেকে অনেকটাই আন্তরিকতা দেখাচ্ছে এবং তারা আমাদেরকে ফিরিয়ে নিতে চায় ভ্যাকসিনেশন করে।

শিক্ষার্থীরা জানান, বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্ররাজধানীতেণালয় শিক্ষার্থীদের যথেষ্ট সহযোগিতা করে যাচ্ছে। আমাদেরকে চীনে ফেরাতে মন্ত্রণালয় আপ্রাণ চেষ্টা করছে। এ জন্য সার্বক্ষণিক যোগাযোগও রক্ষা করছে। কিন্তু স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বা অধিদফতরের একটু গাফিলতির কারণে চাইনিজ ভ্যাকসিন পাওয়া থেকে অনিশ্চয়তায় মধ্যে পড়েছি। আমরা আশা করবো, স্বাস্থ্য অধিদফতর আমাদের বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখবে, যাতে খুব অল্প সময়ের মধ্যে বাংলাদেশে অবস্থানরত চীনের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যায়নরত শিক্ষার্থীরা ফিরে যেতে পারি।

/এসও/এপিএইচ/

সম্পর্কিত

সড়কে আজও যানবাহনের চাপ

সড়কে আজও যানবাহনের চাপ

পুলিশ বক্সে হামলা: আইইডি তৈরির সরঞ্জামসহ গ্রেফতার ২

পুলিশ বক্সে হামলা: আইইডি তৈরির সরঞ্জামসহ গ্রেফতার ২

রাজধানীর সড়কে মানুষের উপস্থিতি বেড়েছে

রাজধানীর সড়কে মানুষের উপস্থিতি বেড়েছে

রবিবার দেওয়া হয়েছে ৩ লাখ টিকা

রবিবার দেওয়া হয়েছে ৩ লাখ টিকা

"পেটে খিদের জন্য সবকিছু করা লাগবি, সরকার তো খাওয়াবে না"

আপডেট : ০২ আগস্ট ২০২১, ১২:৩৮

“খাওয়া তো লাগবি, দোকান খোলা রাখতি হবি। সরকার তো কিছু করবে না, সরকার তো খাওয়াবে না। পেটে খিদের জন্য সবকিছু করা লাগবি” ‑ কথাগুলো বলছিলেন রাজধানীর কদমতলীতে একটি দোকানের কর্মচারী আনিসুর রহমান। সোমবার (২ আগস্ট) পাবনা থেকে রওনা হয়ে গাবতলী দিয়ে রাজধানীতে ঢোকার সময় বাংলা ট্রিবিউনের কাছে এভাবেই নিজের কথা তুলে ধরেন আনিসুর।

তিনি বলেন, আমরা এখন দোকানপাট খুলবোই, দরকার হলে চুরি করে খুলবো, গোপনে খুলবো। পাবনা থেকে এসেছি। ঘাট পর্যন্ত আসার পর ভেঙে ভেঙে কখনও মোটরসাইকেলে, কখনও অটোরিকশায়, কখনও রিকশা করে গাবতলী পর্যন্ত এসেছি। বাকি পথ হেঁটে এবং যদি কিছু পাই ‑ সেভাবেই চলে যাব। আমাদের এখন আর করার কিছু নেই, দোকান খুলতে হবে। সেজন্যই গ্রাম থেকে শহরে আসা।

কুড়িগ্রাম থেকে আসা মহসিনুর রহমান পরিবারের সদস্যদের নিয়ে হেঁটে গাবতলী দিয়ে রাজধানীতে প্রবেশ করছিলেন। এসময় কথা হয় তার সাথে। তিনি বলেন, গার্মেন্টস থেকে ফোন দিয়েছিল, যদি চাকরিতে যোগ না দেই তাহলে চাকরি থেকে বাদ দিয়ে দেওয়া হবে। সেজন্য বাধ্য হয়েই আসতে হয়েছে। গতকাল (রবিবার) শুনেছি বাস চলেছে কিন্তু আমরা বাস পাইনি। তাই বাধ্য হয়েই মাইক্রোবাস ভাড়া করে আসতে হয়েছে। আর মাইক্রোবাসে জনপ্রতি ভাড়া দিতে হয়েছে ১৮০০ টাকা করে। যাত্রাবাড়ী একটি গার্মেন্টসে কাজ করি। আজকে বাসায় গিয়ে কালকে থেকে কাজে যোগ দিব।

/আরটি/এমএস/

সম্পর্কিত

সড়কে আজও যানবাহনের চাপ

সড়কে আজও যানবাহনের চাপ

রাজধানীর সড়কে মানুষের উপস্থিতি বেড়েছে

রাজধানীর সড়কে মানুষের উপস্থিতি বেড়েছে

রাজধানীতে অকারণে বাইরে বের হওয়ায় গ্রেফতার ৩০৩

রাজধানীতে অকারণে বাইরে বের হওয়ায় গ্রেফতার ৩০৩

যাত্রী কম, তাই দূরপাল্লার বাসও কম

যাত্রী কম, তাই দূরপাল্লার বাসও কম

সড়কে আজও যানবাহনের চাপ

আপডেট : ০২ আগস্ট ২০২১, ১২:২৩

চলমান কঠোর বিধিনিষেধের মধ্যেই পোশাক কারখানা চালু হওয়ায় কর্মীদের সুবিধার্থে একদিনের জন্য গণপরিবহন চালু করা হয়েছিল। গণপরিবহন বন্ধ হলেও আজ সোমবারও (২ আগস্ট) রাজধানীতে বিভিন্নভাবে প্রবেশ করছেন মানুষজন। ঢাকার প্রবেশপথগুলোতে রয়েছে পণ্যবাহী পরিবহনের পাশাপাশি প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস ও মোটরসাইকেলের চাপ। 

বিধিনিষেধে গণপরিবহনসহ ব্যক্তিগত যান চলাচল বন্ধের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তবে জরুরি প্রয়োজন দেখিয়ে চলাচল করার সুযোগ রয়েছে। ঢাকার প্রবেশপথগুলোতে চেকপোস্ট বসিয়ে রাজধানীমুখী গাড়িগুলো থামিয়ে আসার কারণ জিজ্ঞাসা করছে পুলিশ। 

সকালে রাজধানীর গাবতলীর চেকপোস্টে কিছুক্ষণ অবস্থান করে দেখা গেছে, রাজধানীতে আসা বেশিরভাগই কারণ হিসেবে দেখাচ্ছে পোশাক কারখানা এবং চিকিৎসাকে। পোশাক কারখানা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গণপরিবহন চালুর কথা শুনে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে সবকিছু গুছিয়ে প্রস্তুতি নিতে নিতেই একদিন পার হয়ে গেছে। বাধ্য হয়ে এখন বিকল্প ব্যবস্থায় এসেছেন।

প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং পরিচয় পত্র দেখানো সাপেক্ষে রাজধানীতে প্রবেশ করতে দিচ্ছে পুলিশ। আর যারা যৌক্তিক কোন কারণ দেখাতে পারছেন না তাদের জরিমানাসহ বিভিন্ন ব্যবস্থা নিচ্ছে পুলিশ।

দায়িত্বরত ট্রাফিক পুলিশ সার্জেন্ট আসাদুর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, আজ রাস্তায় গাড়ির চাপ রয়েছে। এছাড়া পোশাক কারখানা খুলে দেওয়ায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের চলাচল বেড়েছে। এছাড়া অযৌক্তিক কারণে যারা রাস্তায় বের হচ্ছেন, তাদের বিষয়গুলো আমরা নজরদারি করছি। আমরা মাঠে থেকে কাজ করছি।

/আরটি/ইউএস/

সম্পর্কিত

"পেটে খিদের জন্য সবকিছু করা লাগবি, সরকার তো খাওয়াবে না"

"পেটে খিদের জন্য সবকিছু করা লাগবি, সরকার তো খাওয়াবে না"

পুলিশ বক্সে হামলা: আইইডি তৈরির সরঞ্জামসহ গ্রেফতার ২

পুলিশ বক্সে হামলা: আইইডি তৈরির সরঞ্জামসহ গ্রেফতার ২

রাজধানীর সড়কে মানুষের উপস্থিতি বেড়েছে

রাজধানীর সড়কে মানুষের উপস্থিতি বেড়েছে

পুলিশ বক্সে হামলা: আইইডি তৈরির সরঞ্জামসহ গ্রেফতার ২

আপডেট : ০২ আগস্ট ২০২১, ১২:০১

পুলিশ বক্সে হামলাকারী দুই জঙ্গিকে বিপুল পরিমাণ ইমপ্রোভাইসড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস (আইইডি) তৈরির সরঞ্জামসহ গ্রেফতার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্র্যান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের (সিটিটিসি) স্পেশাল অ্যাকশন গ্রুপ। 

আজ সোমবার (২ আগস্ট) ডিএমপি'র জনসংযোগ ও গণমাধ্যম শাখার উপকমিশনার মোহাম্মদ ফারুক হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, গ্রেফতার দুজনের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ আইইডি তৈরির বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে। মূলত দূরনিয়ন্ত্রিত এসব বোমা দিয়েই পুলিশ বক্সে হামলা চালানো হতো।

প্রসঙ্গত, ২০১৯ ও ২০২০ সালে ঢাকা ও ঢাকার বাইরে চট্টগ্রাম, খুলনা ও নারায়ণগঞ্জের বেশ কয়েকটি পুলিশ বক্সে হামলার ঘটনা ঘটে। এর সঙ্গে জড়িত নব্য জেএমবির অনেককে এর আগেও গ্রেফতার করে পুলিশ।

/এআরআর/ ইউএস/

সম্পর্কিত

সড়কে আজও যানবাহনের চাপ

সড়কে আজও যানবাহনের চাপ

রাজধানীর সড়কে মানুষের উপস্থিতি বেড়েছে

রাজধানীর সড়কে মানুষের উপস্থিতি বেড়েছে

হেলেনা জাহাঙ্গীরের মামলা তদন্ত করবে ডিবি

হেলেনা জাহাঙ্গীরের মামলা তদন্ত করবে ডিবি

মতিঝিলের আবাসিক হোটেল থেকে তরুণীর লাশ উদ্ধার

মতিঝিলের আবাসিক হোটেল থেকে তরুণীর লাশ উদ্ধার

রাজধানীর সড়কে মানুষের উপস্থিতি বেড়েছে

আপডেট : ০২ আগস্ট ২০২১, ১১:৪০

কঠোর বিধিনিষেধের মধ্যেই পোশাক কারখানা চালু হওয়ায় কর্মীদের সুবিধার্থে একদিনের জন্য গণপরিবহন চালু করা হয়েছিল। গণপরিবহন বন্ধ হলেও আজ সোমবারও (২ আগস্ট) রাজধানীর সড়কগুলোতে কর্মজীবী মানুষের উপস্থিতি বেড়েছে। রাজধানীর বিভিন্ন পয়েন্টে বসানো চেকপোস্টগুলোতেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা আগের মতো দেখা যাচ্ছে না।

সকালে রাজধানীর খিলগাঁও রেলগেট এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে কর্মস্থলে যোগ দিতে বিপুল পরিমাণ কর্মজীবী মানুষ বাসা থেকে বের হয়েছেন। কিন্তু কোনও গণপরিবহন না পাওয়ায় তাদের দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে। এই সুযোগে রিকশার ভাড়াও বেড়েছে দেড় থেকে দ্বিগুণ। অনেকেই কিছুটা সাশ্রয়ী বাহন ভ্যানগাড়ি যোগে কর্মস্থলের উদ্দেশে রওনা করছেন। এক একটি ভ্যানে ছয় থেকে আটজনকে পাশাপাশি বসতে দেখা গেছে। আবার কর্মজীবীদের অনেকেই হেঁটেই যাচ্ছেন কর্মস্থলে।

একই চিত্র দেখা গেছে সায়েদাবাদ, যাত্রাবাড়ি, শনিরআখড়া এলাকাতেও। ওই এলাকা থেকেও কোনও গণপরিবনহ চলাচল করছে না। অধিকাংশ জরুরি পরিষেবার অফিসগুলো তাদের কর্মীদের যাতায়াতের ব্যবস্থা করেনি। ফলে দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে কর্মজীবী এসব মানুষকে।

খিলগাঁও, সায়েদাবাদ, রাজারবাগ, ফকিরাপুল, পল্টন, কাকরাইল, মৎস্যভবন, শাহবাগ, বাংলামোটর এলাকাতেও এমন চিত্র দেখা গেছে। এসব এলাকার মানুষ রিকশা ও ভ্যানে করে গন্তব্যে পৌঁছতে দেখা গেছে। ট্রাফিক সিগন্যালগুলোতে যানজট দেখা গেছে। প্রতিটি সিগন্যালে এক থেকে দুই মিনিট করে অপেক্ষা করতে হয়েছে।

সায়েদাবাদের বাসিন্দা নাজমুল ইসলাম বলেন, কোনও গণপরিহন নেই। অফিসে যেতে হচ্ছে। রিকশা ভাড়া অনেক বেশি। তাই হেঁটে যাত্রা শুরু করেছি।

এদিকে আজও দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে রাজধানীতে আসছেন মানুষজন। তারা বলছেন, গণপরিবহন চালুর কথা শুনে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে সবকিছু গুছিয়ে প্রস্তুতি নিতে নিতেই একদিন পার হয়ে গেছে। আজ আবার গণপরিবহন বন্ধ থাকায় কোনওরকম ভেঙে ভেঙে ঢাকায় ফিরেছেন। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আগত যাত্রীরা অটোরিকশা, প্রাইভট কার, মাইক্রোতে ভেঙে ভেঙে এসে ঢাকার প্রবেশ পথগুলোর এক আগে নেমে হেঁটেই নগরীতে প্রবেশ করছেন। রাজধানীতে কর্মজীবী মানুষের সঙ্গে হাঁটা ও রিকশা-ভ্যান যাত্রায় যুক্ত হয়েছে তাদেরও একটি বড় অংশ।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব ও ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক খন্দকার এনায়েত উল্যাহ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, শুধুমাত্র গতকাল রবিবারের জন্য সরকার গণপরিবহন চালানোর সুযোগ দিয়েছে, আজ বন্ধ। কোনও পরিবহন চলছে না।

/এসএস/ইউএস/

সম্পর্কিত

"পেটে খিদের জন্য সবকিছু করা লাগবি, সরকার তো খাওয়াবে না"

"পেটে খিদের জন্য সবকিছু করা লাগবি, সরকার তো খাওয়াবে না"

সড়কে আজও যানবাহনের চাপ

সড়কে আজও যানবাহনের চাপ

পুলিশ বক্সে হামলা: আইইডি তৈরির সরঞ্জামসহ গ্রেফতার ২

পুলিশ বক্সে হামলা: আইইডি তৈরির সরঞ্জামসহ গ্রেফতার ২

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনা কমিটির প্রয়োজন কী?

আপডেট : ০২ আগস্ট ২০২১, ১১:০০

প্রাতিষ্ঠানিক অনিয়মসহ দীর্ঘদিন থেকে দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অর্থ আত্মসাৎ, নিয়োগ ও পদোন্নতি জালিয়াতি, উন্নয়ন প্রকল্পে দুর্নীতি, ভর্তি বাণিজ্য এবং স্বজনপ্রীতিসহ বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনা কমিটির বিরুদ্ধে। দুর্নীতির অভিযোগে কমিটি ভেঙে দেওয়ার নজিরও দেখা গেছে হরহামেশা। পরিচালনা কমিটির দুর্নীতির কারণে অনেক শিক্ষক এবং প্রতিষ্ঠানপ্রধানের চাকরি গেলেও সংশ্লিষ্ট অভিযোগে কমিটির কোনও সদস্যের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারেনি শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এভাবেই চলছে বছরের পর বছর।

অন্যদিকে নামদামি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর অভিভাবকদের একটি অংশ ভর্তি বাণিজ্য, চাঁদাবাজি ও উন্নয়ন প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত থাকার জন্য গঠন করেছেন অভিভাবক ফোরাম। এই ফোরামের কথা না শুনলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধান এবং শিক্ষকদের বিরুদ্ধে যখন-তখন আন্দোলনের হুমকি দিয়ে চাঁদাবাজির অভিযোগও রয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে পরিচালনা কমিটি বাদ দিয়ে মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনার দাবি তোলেন এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সংশ্লিষ্টরা। বিভিন্ন সময় অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন—দায়হীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনা কমিটির প্রয়োজন কী?

এ বিষয়ে শিক্ষাবিদ ও সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারে উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধুরী বলেন, ‘শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনা কমিটিতে অনেক প্রভাবশালী লোকজন থাকেন, শিক্ষকদের মধ্যেও অনেক প্রভাবশালী থাকেন, সে কারণে তাদের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া যায় না। তাই বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনা একটি আইনের কাঠামোর মধ্যে নেওয়া উচিৎ। শুধু আদেশ আর পরিপত্র দিয়ে চালানো যায় না। যদি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য আইন থাকতে পারে তাহলে কেনও বেসরকারি অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য সুনির্দিষ্ট আইন থাকবে না? দ্রুত শিক্ষা আইন করে আইনি কাঠামোতে আনতে হবে সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে।’

উল্লেখ্য, ‘বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর গভর্নিং বডি ও ম্যানেজিং কমিটি প্রবিধানমালা, ২০০৯’ এ কমিটির সর্বোচ্চ ক্ষমতা দেওয়া থাকলেও কমিটির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কোনও বিধান নেই।  ফলে আর্থিক দুর্নীতিসহ যা ইচ্ছে তাই করে থাকে ম্যানেজিং কমিটি।

বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির সভাপতি (বাশিস) ও এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ লিয়াজোঁ ফোরামের মুখপাত্র নজরুল ইসলাম রনি বলেন, প্রতিষ্ঠান পরিচালনা কমিটি শিক্ষকদের অধিকার রক্ষা করে না। বরং প্রতিষ্ঠানের টাকা তছরুপ করে। নিয়োগ, পদোন্নতি জালিয়াতি, ভর্তি বাণিজ্যসহ বিভিন্ন অনিয়ম-দুর্নীতি করে কমিটিগুলো। এফডিআর ভাঙিয়ে অর্থ ব্যয় করে অনেক প্রতিষ্ঠানের ক্ষতি করেছে কমিটিগুলো।  পরিচালনা কমিটির অনিয়ম-দুর্নীতি ও অবহেলার কারণে কয়েক হাজার মামলা উচ্চ আদালতে চলমান রয়েছে। এতে শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।

নজরুল ইসলাম রনি আরও বলেন, অনার্স-মাস্টার্স স্তরের শিক্ষকদের বেতন-ভাতা শিক্ষার্থীর টিউশন ফি থেকে পরিশোধ করার কথা থাকলেও বিগত ২৯ বছর ধরে প্রায় বিনা বেতনে শিক্ষকরা চাকরি করছেন।  সরকারের ওপর এখন দায় চাপিয়ে দিয়ে কমিটিগুলো ফায়দা লুটছে। শিক্ষকদের বেতন পরিশোধ করা হয়েছে লিখে নিয়ে অনেক প্রতিষ্ঠান জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্তি রক্ষা করছে। এতে বঞ্চিত হচ্ছেন অনার্স-মাস্টার্স স্তরের শিক্ষকরা।  তাহলে এমপিওভুক্ত বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে পরিচালনা কমিটি থাকার প্রয়োজন কী?

একইভাবে অভিভাবক ফোরামের নামে চাঁদাবাজি ও ভর্তি বাণিজ্যের অভিযোগ করেন এই শিক্ষক নেতা। 

শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, অনিয়ম-দুর্নীতির কারণে প্রতি বছর শতাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনা কমিটি ভেঙে দেওয়া হচ্ছে। সরকারি কর্মকর্তাদের সভাপতি করে অ্যাডহক কমিটি গঠন করে প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করা হচ্ছে। 

ভিকারুননিসায় অনিয়ম-দুর্নীতি

দেশের ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান রাজধানীর ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের বিভিন্ন গভর্নিং বডির বিরুদ্ধে বছরের পর বছর  ভর্তি বাণিজ্য, অধ্যক্ষ নিয়োগে দুর্নীতির চেষ্টা, প্যাটার্ন বহির্ভূত শিক্ষক নিয়োগ, উন্নয়ন প্রকল্পে দুর্নীতি, আয়-ব্যয়ের হিসাবের নথিপত্র না রাখা, তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারীকে প্রথম শ্রেণির বেতন-ভাতাসহ বিভিন্ন ভাতা দেওয়া, কমিটির সদস্যদের স্যার বলতে শিক্ষকদের বাধ্য করাসহ বিভিন্ন অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ তদন্তে প্রমাণ পাওয়ার পরও কমিটির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া যায়নি।

২০০৭ সালে পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদফতরের (ডিআইএ) তদন্ত প্রতিবেদন সূত্রে জানা গেছে, ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের ৫০ কোটি টাকা দুর্নীতি প্রমাণ পাওয়ার পরও কোনও ব্যবস্থা নিতে পারেনি শিক্ষা মন্ত্রণালয়।  গভর্নিং বড়ি ডিআইএ’র প্রতিবেদনের কোনও সুপারিশ মানেনি। উল্টো বছরের পর বছর সেই অনিয়মকে নিয়ম করে রাখা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনের সুপারিশ অগ্রাহ্য করে ১৩ বছরের বেশি সময় অনিয়মের মাধ্যমে বিভিন্ন গভর্নিং বড়ি দায়িত্ব পালন করেছে।

২০১৯ সালে ভিকারুননিসা স্কুল অ্যান্ড কলেজে অধ্যক্ষ নিয়োগে দুর্নীতির অভিযোগ উঠলেও কমিটির কোনও সদস্যের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া যায়নি। তবে নিয়োগ কমিটিতে যেসব সরকারি কর্মকর্তা ও বেসরকারি শিক্ষক ছিলেন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

শিক্ষার্থী ভর্তিতে দুর্নীতি

২০১৯ সালের ভর্তি পরীক্ষায় ৪৪৩ শিক্ষার্থী ভর্তির যাবতীয় কার্যক্রম গভর্নিং বডি সম্পাদন করলেও কমিটির একজন ব্যক্তির বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিতে পারেনি শিক্ষা মন্ত্রণালয়। ভর্তি কার্যক্রমে গভর্নিং বড়ির প্রত্যক্ষ হস্তক্ষেপ থাকলেও ভর্তির সময় দায়িত্ব পালন করা তিনজনের মধ্যে একজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনে ব্যবস্থা নেয় মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতর।  এত কিছুর পরও ২০২০ সালের নতুন গভর্নিং বডি আরও শিক্ষার্থী ভর্তির ব্যবস্থা করে। আর নতুন করে শিক্ষার্থী ভর্তির জন্য অভিভাবক ফোরাম লিখিত আবেদন করে।

ডিআইএর প্রতিবেদন সূত্রে জানা গেছে, ভিকারুননিসার কয়েকজন অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ থাকলেও ব্যবস্থা নেয়নি বিভিন্ন সময়ের গভর্নিং বডি। সংশ্লিষ্টদের অভিযোগে অভিযুক্ত অধ্যক্ষদের দিয়ে ভর্তি বাণিজ্যসহ বিভিন্ন আর্থিক দুর্নীতি করিয়েছে গভর্নিং বডি।

প্যাটার্ন বহির্ভূত শিক্ষক নিয়োগের অভিযোগ তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ থাকলেও প্রতিবেদনের সুপারিশ বাস্তবায়ন করেনি বিগত সময়ের গভর্নিং বড়িগুলো। অতিরিক্ত বেতন-ভাতা প্রতিষ্ঠানের কোষাগারে জমা দেওয়ার সুপারিশ করা হলেও সে ব্যবস্থাও নেয়নি বিগত কমিটিগুলো।

অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, করোনার মধ্যেই কমিটির বিরুদ্ধে অভিযোগ খতিয়ে দেখতে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

করোনাকালে কমিটির বিরুদ্ধে অভিযোগ

চলতি বছরের ১৮ জানুয়ারি জারি করা মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের আদেশে কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার মোল্লাকান্দি লালমিয়া পাইলট স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ও সভাপতির বিরুদ্ধে আর্থিক দুর্নীতির চিত্র তুলে ধরা হয়।  দুদকের পত্রের পরিপ্রেক্ষিতে কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ও সভাপতির বিরুদ্ধে ওই দুর্নীতির তথ্য ওঠে আসে।

ওই আদেশে জানানো হয়, কলেজের তিন কোটি ৮৪ লাখ টাকা খরচ করা হয়। এর মধ্যে ক্যাশ বইয়ে না লিখে এবং ব্যাংক হিসাবে জমা না দিয়ে ২৮ লাখ ৫২ হাজার ১১২ টাকা সভাপতির মাধ্যমে কলেজের বিভিন্ন শাখা উন্নয়ন ও বিভিন্ন খাতে খরচ করা বিধিসম্মত হয়নি।  এই ঘটনায় দ্রুত অধ্যক্ষ নিয়োগের নির্দেশ দেওয়া হবে।

প্রসঙ্গত, ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ রুটিন কাজ ছাড়া কোনও কিছুই করতে পারেন না।  রেজুলেশেনে পাস করা জরুরি কাজ করেন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ। অথচ সব দায় গিয়ে পড়ে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের ঘাড়ে।    

এ বছর ১৯ জুলাই মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলার চরকাটারী সবুজসেনা উচ্চবিদ্যালয়ের যাবতীয় নিয়োগ কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে।

বিগত কমিটির বিরুদ্ধে নতুন কমিটি গঠন করায় গত ২১ মার্চ জয়পুর হাটের ক্ষেতলাল উপজেলার পাঠানপাড়া দ্বিমুখী উচ্চবিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও প্রধান শিক্ষককে করোনার পরিস্থিতির মধ্যেই সশরীরে উপস্থিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।

গত ২ মে জামালপুর সদর উপজেলার ঝাওলা গোপালপুর ডিগ্রি কলেজ গভর্নিং বডির যোগসাজশে নিয়োগ বাণিজ্য, অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ ওঠে। তবে শুধুমাত্র অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতর ব্যবস্থা নিতে তদন্ত কমিটি গঠন করে। কিন্তু কমিটির কোনও সদস্যের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারেনি। অথচ নিয়োগ দেওয়ার এখতিয়ার গভর্নিং বডির।

এছাড়া ২০২০ সালের ৭ অক্টোবর ঢাকা শিক্ষা বোর্ড রাজধানীর যাত্রাবাড়ী আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের গভর্নিং বডি বাতিল করেছে।

জালিয়াতির কারণে ৫ মাদ্রাসার এমপিও স্থগিত

৫টি দাখিল  মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটি জালিয়াতি করে সহকারী গ্রন্থাগারিক নিয়োগ দেওয়ার ঘটনায় প্রতিষ্ঠানগুলোর এমপিও স্থগিত করা হয়েছে সোমবার (২৬ জুলাই)।  এই ঘটনায় প্রতিষ্ঠানগুলোর সব শিক্ষক-কর্মচারীরা সরকারি বেতনের অংশ পাবেন না।  এই ঘটনায় সব দায় ম্যানেজিং কমিটি এবং প্রতিষ্ঠান প্রধানের হলেও সব শিক্ষক-কর্মচারী বঞ্চিত হবেন। অবশ্য কমিটির সভাপতির বিরুদ্ধে কেনও ফৌজদারি আইনে মামলা করা হবে না তা জানতে চাওয়া হয়েছে।  যদিও এখন পর্যন্ত কমিটির বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নিতে পারেনি শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট দফতরগুলো।

কমিটির অবহেলায় যৌন হয়রানি

চলতি বছর ৭ ফেব্রুয়ারি মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরে অফিস আদেশ জানানো হয়, একজন নারী শিক্ষককে যৌন হয়রানি করার অভিযোগ নিষ্পত্তি না করায় একই কলেজের অপর নারী শিক্ষক যৌন হয়রানির শিকার হন। প্রথম যিনি যৌন হয়রানির শিকার হয়েছিলেন তার অভিযোগ প্রমাণের পর গভর্নিং বডির মাধ্যমে অধ্যক্ষের কক্ষে সমঝোতা করতে করে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়া হয়। এর ফলে আরেক জন শিক্ষক যৌন হয়রানির শিকার হন। এই ঘটনায় বগুড়া জেলার বিয়াম মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের যৌন নিপীড়ন বিরোধী কমিটির বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য চায় মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতর।

সংশ্লিষ্টরা বলেন, অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও আইনি পদক্ষেপ কমিটি নিলে এই তদন্তের প্রয়োজন হতো না। অথচ কমিটিকে এ বিষয়ে কোনও দায় ঘাড়ে নিতে হয়নি।

পরিচালনা কমিটির বিধিবিধান সংশোধনের উদ্যোগ

কমিটির দুর্নীতি প্রতিরোধের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে বিভিন্ন সময় শিক্ষামন্ত্রী বলেছেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনা কমিটি বিধিবিধান সংশোধন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এই বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মো. মাহবুব হোসেন এর আগে বাংলা ট্রিবিউনকে বলেছিলেন, আইন-কানুন সংশোধনের প্রস্তাব করেছে ঢাকা শিক্ষা বোর্ড।

ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক মু. জিয়াউল হক ওই সময় বাংলা ট্রিবিউনকে বলেছিলেন, ‘আমরা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা কমিটির বিধিবিধান যুগোপযোগী করতে মন্ত্রণালয়ের কাছে প্রস্তাব করেছি।’

তবে করোনার কারণে গত এক বছরেও বিধিবিধান সংশোধনের কাজ করা সম্ভব হয়নি বলে মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

অভিভাবক ফোরামের বিরুদ্ধে অভিযোগ

ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ও মতিঝিলের আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজে অভিভাবক ফোরামের নামে চাঁদাবাজির অভিযোগ রয়েছে দীর্ঘদিন থেকে। সম্প্রতি ভিকরুননিসার অধ্যক্ষের ফোনালাপ ফাঁসের সূত্র ধরে অভিভাবক ফোরামের ভর্তির বাণিজ্য সামনে আসে। ফোনালাপের অডিও ফাঁস করা অভিভাবক মীর সাহাবুদ্দিন টিপুর বিরুদ্ধে ভর্তি বাণিজ্যের অভিযোগ ওঠে সরাসরি।  গত ২২ মার্চ প্রথম শ্রেণি থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থী ভর্তির সুযোগ চেয়ে লিখিত আবেদন করা হয় গভর্নিং বডির সভাপতির কাছে।  অধ্যক্ষ ভর্তির সুযোগ দেননি বলে জুন মাসের প্রথম দিকের ফোনালাপ সম্প্রতি ফাঁস করেন টিপু। তবে টিপু বলেন, ‘অভিভাবকদের পক্ষে শিক্ষার্থীদের টিউশন ফি মওকুফের জন্য অধ্যক্ষকে আল্টিমেটাম দিয়েছিলাম।  উনি শোনেননি।  সম্ভবত গত ১০ জুনের ফোনালাপ এটি। ’

অভিভাবক ফোরামের চাঁদাবাজি

ভিকারুননিসার পাশাপাশি ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অভিভাবক ফোরামের নামে চাঁদাবাজির অভিযোগ দীর্ঘ দিনের। এর আগে আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ ড. শাহান আরা বেগম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেছিলেন, ‘অভিভাবক ফোরামের কোনও কাজ নেই। তারা শিক্ষার্থী বা শিক্ষা কার্যক্রম উন্নয়নে সুপারিশ করে না।  ফোরামের নামে শিক্ষকদের দুর্বলতার সুযোগে চাঁদাবাজি করে করে।’

 

/এমআর/

সম্পর্কিত

এসএসসির সংশোধিত অ্যাসাইনমেন্ট প্রকাশ

এসএসসির সংশোধিত অ্যাসাইনমেন্ট প্রকাশ

১৮ বছরের বেশি বয়সী শিক্ষার্থীদের ভ্যাকসিন দিতে নির্দেশ

১৮ বছরের বেশি বয়সী শিক্ষার্থীদের ভ্যাকসিন দিতে নির্দেশ

এইচএসসির ফরম পূরণ শুরু ১২ আগস্ট, ফি কমেছে

এইচএসসির ফরম পূরণ শুরু ১২ আগস্ট, ফি কমেছে

দুই দশকে ভিকারুননিসায় যত লুটপাট-অনিয়ম

দুই দশকে ভিকারুননিসায় যত লুটপাট-অনিয়ম

সর্বশেষ

"পেটে খিদের জন্য সবকিছু করা লাগবি, সরকার তো খাওয়াবে না"

"পেটে খিদের জন্য সবকিছু করা লাগবি, সরকার তো খাওয়াবে না"

পর্দার ‘মাশরাফি জুনিয়র’র ডাবল সেঞ্চুরি!

পর্দার ‘মাশরাফি জুনিয়র’র ডাবল সেঞ্চুরি!

সড়কে আজও যানবাহনের চাপ

সড়কে আজও যানবাহনের চাপ

পর্নোগ্রাফি থাকায় কম্পিউটার পুড়িয়ে দিলেন ম্যাজিস্ট্রেট

পর্নোগ্রাফি থাকায় কম্পিউটার পুড়িয়ে দিলেন ম্যাজিস্ট্রেট

ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের ১৫ কিলোমিটারে যান চলাচলে ধীরগতি

ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের ১৫ কিলোমিটারে যান চলাচলে ধীরগতি

রেসিপি : আরব দেশের খাবসা

রেসিপি : আরব দেশের খাবসা

পুলিশ বক্সে হামলা: আইইডি তৈরির সরঞ্জামসহ গ্রেফতার ২

পুলিশ বক্সে হামলা: আইইডি তৈরির সরঞ্জামসহ গ্রেফতার ২

চাঁদপুরে নিবন্ধন ছাড়াই টিকা পাবেন এক লাখ ৯২ হাজার মানুষ

চাঁদপুরে নিবন্ধন ছাড়াই টিকা পাবেন এক লাখ ৯২ হাজার মানুষ

রাজধানীর সড়কে মানুষের উপস্থিতি বেড়েছে

রাজধানীর সড়কে মানুষের উপস্থিতি বেড়েছে

ময়মনসিংহ মেডিক্যালে ২৪ ঘণ্টায় ২৩ মৃত্যু

ময়মনসিংহ মেডিক্যালে ২৪ ঘণ্টায় ২৩ মৃত্যু

রাজশাহী মেডিক্যালে আরও ১৫ মৃত্যু

রাজশাহী মেডিক্যালে আরও ১৫ মৃত্যু

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনা কমিটির প্রয়োজন কী?

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনা কমিটির প্রয়োজন কী?

সর্বশেষসর্বাধিক

লাইভ

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

সড়কে আজও যানবাহনের চাপ

সড়কে আজও যানবাহনের চাপ

পুলিশ বক্সে হামলা: আইইডি তৈরির সরঞ্জামসহ গ্রেফতার ২

পুলিশ বক্সে হামলা: আইইডি তৈরির সরঞ্জামসহ গ্রেফতার ২

রাজধানীর সড়কে মানুষের উপস্থিতি বেড়েছে

রাজধানীর সড়কে মানুষের উপস্থিতি বেড়েছে

রবিবার দেওয়া হয়েছে ৩ লাখ টিকা

রবিবার দেওয়া হয়েছে ৩ লাখ টিকা

করোনা: ৬ মাসেই গত বছরের দ্বিগুণ মৃত্যু

করোনা: ৬ মাসেই গত বছরের দ্বিগুণ মৃত্যু

রাজধানীতে অকারণে বাইরে বের হওয়ায় গ্রেফতার ৩০৩

রাজধানীতে অকারণে বাইরে বের হওয়ায় গ্রেফতার ৩০৩

কিশোর গ্যাং ‘সেজান গ্রুপ’র ৯ সদস্য আটক

কিশোর গ্যাং ‘সেজান গ্রুপ’র ৯ সদস্য আটক

১৪ দিনের মধ্যে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণের নির্দেশ তাজুল ইসলামের

১৪ দিনের মধ্যে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণের নির্দেশ তাজুল ইসলামের

ইয়াবা পাচারের মামলায় প্রবাসীকে জামিন দেননি হাইকোর্ট

ইয়াবা পাচারের মামলায় প্রবাসীকে জামিন দেননি হাইকোর্ট

করোনা রোগীদের জন্য হাসপাতালে শয্যা বাড়ানোর নির্দেশনা চেয়ে রিট

করোনা রোগীদের জন্য হাসপাতালে শয্যা বাড়ানোর নির্দেশনা চেয়ে রিট

© 2021 Bangla Tribune