X
রবিবার, ২৫ জুলাই ২০২১, ১০ শ্রাবণ ১৪২৮

সেকশনস

ব্যাংক বহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সাইবার সিকিউরিটি নিশ্চিতের নির্দেশ

আপডেট : ২১ জুন ২০২১, ১৯:২৮

দেশে কার্যরত ব্যাংক বহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানে সাইবার সিকিউরিটি নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ‌সোমবার (২১ জুন) বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বাজার বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি ক‌রা হয়েছে।

এতে বলা হয়, সাইবার সিকিউরিটি নিশ্চিত এবং ডাটাবেজের নিয়মিত ব্যাকআপ সংরক্ষণ নিশ্চিতের জন্য প্রত্যেক আর্থিক প্রতিষ্ঠানে সাইবার সিকিউরিটি ম্যানেজমেন্ট টিম গঠন করতে হবে।

সার্কুলারে বলা হয়েছে, সাইবার সিকিউরিটি ম্যানেজমেন্ট টিমকে আইসিটি সিকিউরিটি এবং সিস্টেমের ব্যাকআপ সংক্রান্ত প্রতিষ্ঠানের সামগ্রিক অবস্থা নিয়মিত পরিচালনা পর্ষদ সভায় উপস্থাপন করতে হবে। ব্যাংক বহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানগু‌লো‌কে ন্যূনতম প্রতি কর্মদিবস শেষে সামগ্রিক লেজার, ডাটাবেজ এবং ব্যাকআপ সংগ্রহ করে গাইডলাইন্স অনুযায়ী তা যথাযথভাবে সংরক্ষণের বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। সর্বোপরি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর আইটি ঝুঁকিগুলো কার্যকর ও ফলপ্রসূভাবে মোকাবিলা করার লক্ষ্যে ২০০৫ সালে প্রবর্তিত ও ২০১০ এবং ২০১৫ সালে সংশোধিত গাইডলাইন অন আইসিটি সিকিউরিটি ফর ব্যাংক অ্যান্ড নন-ব্যাংক ফাইন্যান্সিয়াল ইনস্টিটিউশনের পরিপালন প্রত্যেক আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে নিশ্চিত করতে হবে।

/জিএম/এমআর/

সম্পর্কিত

ঈদে ৩০ হাজার কোটি টাকার নতুন নোট

ঈদে ৩০ হাজার কোটি টাকার নতুন নোট

পশুর হাটে জালনোট শনাক্তে সেবা দেবে ব্যাংক

পশুর হাটে জালনোট শনাক্তে সেবা দেবে ব্যাংক

রবিবার আর্থিক প্রতিষ্ঠান বন্ধ, বাকি চারদিন ৫ ঘণ্টা করে খোলা

রবিবার আর্থিক প্রতিষ্ঠান বন্ধ, বাকি চারদিন ৫ ঘণ্টা করে খোলা

আন্তঃব্যাংক চেক নিষ্পত্তির নতুন সূচি

আন্তঃব্যাংক চেক নিষ্পত্তির নতুন সূচি

এলপিজির মূল্য নিয়ন্ত্রণে সরকারি ‍উদ্যোগ থামাতে চায় লোয়াব, বিইআরসির না

আপডেট : ২৪ জুলাই ২০২১, ২১:২০

তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস বা এলপিজির মূল্য নিয়ন্ত্রণে সরকারি ‍উদ্যোগকে থামিয়ে দিতে তৎপরতা চালাচ্ছে এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ-লোয়াব। সম্প্রতি বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) নির্ধারিত দামের চেয়ে অতিরিক্ত দরে অটোগ্যাস বিক্রি করায় জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর জরিমানা করতে শুরু করেছে। আর এ ধরনের অভিযান ঠেকাতে বিইআরসির হস্তক্ষেপ চেয়ে চিঠি দিয়েছে লোয়াব। তবে কমিশন পাল্টা এক চিঠিতে জানিয়ে দিয়েছে, এ ধরনের অভিযান তারা বন্ধ করবেন না। উল্টো তাদের ঘোষিত দরে এলপিজি বিক্রি না করলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করারও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।

চলতিবছর এপ্রিলে প্রথমবার দেশে সরকারিভাবে এলপিজির দর নির্ধারণের ঘোষণা আসে বিইআরসির পক্ষ থেকে। ২০২০ সালের ২০ আগস্ট উচ্চ আদালতের দেওয়া এক আদেশ বাস্তবায়ন করতে বিইআরসি এই ঘোষণা দেয়। এপ্রিলের পর জুন পর্যন্ত আরও তিনবার এলপিজির দাম পুনর্নির্ধারণ করা হয়। আন্তর্জাতিক রীতি অনুযায়ী সৌদি সিপি অনুসারে এই দাম নির্ধারণ করা হয়। তবে শুরু থেকেই দাম নির্ধারণের বিষয়টি মেনে নেয়নি বেসরকারি এলপিজি বিক্রেতারা। বাজারে দাম কমানোতো দূরের কথা কোনও ক্রমেই দাম কমানো হবে না বলেও সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়।

ফলে ভোক্তার স্বার্থ রক্ষায় সরকারের এ ধরনের ‘ভালো উদ্যোগটি’ প্রশ্নের মুখে পড়ে। তীব্র সমালোচনার মধ্যেই জ্বালানি বিভাগ সরকারের তরফ থেকে মাঠে নামার সিদ্ধান্ত নেয়। গত ১২ জুলাই জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর এক অভিযানে এ এইচ সি এলপিজি অটোগ্যাস ফিলিং স্টেশনকে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করে। ওই জরিমানার কাগজে দেখা যায়, অভিযোগ নম্বর দেওয়া হয়েছে ০০৪৪৯২২, আর অভিযোগকারীর নাম লেখা রয়েছে ‘রাষ্ট্র’। এ এইচ সি ফিলিং স্টেশনকে জরিমানাই বাড়তি দরে এলপিজি বিক্রি রুখতে প্রথম কোনও অভিযান, যা গণমাধ্যমের খবরে এসেছে।

একই দিন ই-মেইলের মাধ্যমে বিইআরসিকে একটি চিঠি পাঠায় লোয়াব। চিঠিতে বলা হয়, গত ১২ এপ্রিল ঘোষিত মূল্য সংশোধনের জন্য এলপি গ্যাস অপারেটরদের ১৮টি আবেদন শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে। তাই বিষয়টির নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ১২ এপ্রিলের মূল্যকে ভিত্তি ধরে অনুষ্ঠিতব্য যে কোনও মাসিক সভায় অংশগ্রহণ করা থেকেও লোয়াব বিরত রয়েছে।

চিঠিতে লোয়াব বলে, ‘আমরা ১২ এপ্রিলের এমআরপি (সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য) বিষয়ে পেশকৃত আবেদন দ্রুততম সময়ের মধ্যে যৌক্তিকভাবে বিবেচনা করার জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি এবং বিষয়টির সন্তোষজনক নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ভোক্তা অধিকারের অভিযান বন্ধ রাখার ব্যবস্থা নেবেন আশা করি। এ বিষয়ে লোয়াবের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বিইআরসির চেয়ারম্যানের আলোচনা অনুযায়ী ধারণা করা হয়েছিল যে, ডিসপিউটেড এমআরপির বিষয়টি নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ভোক্তা অধিকার অধিদফতর কোনও প্রকার অভিযান পরিচালনা করবে না। কিন্তু এখনও অভিযান চলছে। আজকের অভিযানে যে জরিমানা করা হয়েছে তার একটি রশিদ সংযুক্ত করা হলো।

লোয়াব বলছে, লকডাউনের কারণে বিইআরসি শুনানির তারিখ বাতিল করেছে এবং কখন শুনানি হবে তা অনির্দিষ্ট রয়ে গেছে। সেজন্য অন্তর্বর্তী সময়ে কোনও অভিযান না চালানোর ব্যবস্থা করবে বলে আশা করছে লোয়াব।

এই চিঠির জবাবে বিইআরসির সচিব রুবিনা ফেরদৌস স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে বলা হয়েছে, ২০২০ সালের ২০ আগস্টে উচ্চ আদালতের দেওয়া আদেশে গণশুনানি করে এলপিজির দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রথমবার ১২ এপ্রিল, পরে ২৯ এপ্রিল, ৩১ মে এবং ৩০ জুন আরও তিন দফা দর সমন্বয় করা হয়েছে। এখন বিইআরসির কাছে ১৮টি প্রতিষ্ঠানের আবেদন রয়েছে। যে আবেদনগুলোর শুনানির জন্য ৭-৮ জুলাই গণশুনানির তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু অতিমারি পরিস্থিতির কারণে গনশুনানির করা সম্ভব হয়নি। ভবিষ্যতে শুনানি হলে সেখানে সকলের মতামত দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। ফলে এখন যে দাম ঘোষণা করা হয়েছে ওই দামে এলপিজি বিক্রি করতে হবে। অন্যথায় কমিশন আইনগত ব্যবস্থা নেবে।

প্রসঙ্গত, রান্নার এলপিজি ছাড়াও পরিবহনের জন্য অটোগ্যাসের দামও নির্ধারণ করে দেয় কমিশন। কিন্তু আগে থেকেই বেশি দামে বিক্রি হওয়া এসব পেট্রোলিয়াম গ্যাসের দাম কমায়নি বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানগুলো। সঙ্গত, কারণে এখন মাঠে নেমেছে সরকারি প্রতিষ্ঠান।

/ইউএস/

সম্পর্কিত

বিধি ছাড়াই নিধিরাম সর্দার কমিশন!

বিধি ছাড়াই নিধিরাম সর্দার কমিশন!

এলপিজির দাম পুনর্নির্ধারণে অনুষ্ঠেয় গণশুনানি স্থগিত

এলপিজির দাম পুনর্নির্ধারণে অনুষ্ঠেয় গণশুনানি স্থগিত

এলপিজির দাম নির্ধারণে ৭ জুলাই আবার গণশুনানি

এলপিজির দাম নির্ধারণে ৭ জুলাই আবার গণশুনানি

আরও কমলো এলপিজির দাম, কমেছে অটোগ্যাসের দামও

আরও কমলো এলপিজির দাম, কমেছে অটোগ্যাসের দামও

চালের বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকারের কোনও উদ্যোগই কাজে আসেনি

আপডেট : ২৪ জুলাই ২০২১, ০৯:০০

সদ্যবিদায়ী ২০২০-২১ অর্থবছরেও বোরোর বাম্পার ফলন। প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হওয়ায় এ পর্যন্ত বোরো ধানের সংগ্রহ পরিস্থিতিও সন্তোষজনক। করোনা মহামারির মধ্যেও ধান ও চালের সরবরাহ স্বাভাবিক। চাহিদা মিটিয়ে এখনও ৩০ লাখ টন চাল উদ্বৃত্ত। তারপরও ৪৮ টাকার কমে বাজারে কোনও চাল নেই। এমন পরিস্থিতিতে আবার চাল আমদানির সিদ্ধান্ত। চালের মুল্য ও সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে মনিটরিং কমিটি করা হয়েছে। সাত অতিরিক্ত সচিবকে দায়িত্ব দেওয়া দেওয়া হয়েছে।  বাজারে ধান ও চালের দর ঠিক করে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু সরকারের নেওয়া এসব উদ্যোগ কোনও কাজে আসেনি। চালের বাজার অনিয়ন্ত্রিতই রয়েছে।  

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মিলার ও ব্যবসায়ীদের কঠিন যোগসাজশ ও কারসাজিতে বাজারে বেড়েছে চালের দাম। সরকারের খাদ্যমন্ত্রী নিজে সরাসরি গণমাধ্যমে একাধিকবার এই অভিযোগ করেছেন। অভিযুক্ত মিলারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তাদের লাইসেন্স বাতিল করা হবে। কারসাজি করা মিলারদের কালো তালিকাভুক্ত করা হবে। এ ধরনের হুমকিও তিনি দিয়েছেন। কিন্তু এখনও পর্যন্ত এই কারসাজির অভিযোগে কোনও মিলার বা চাতাল মালিকের লাইসেন্স বাতিল হয়েছে বা কারও বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বা কাউকে কালো তালিকাভুক্ত করা হয়েছে-  এ ধরনের কোনও সংবাদ পাওয়া যায়নি।

দেশে চালের উৎপাদন, সরবরাহ, আমদানি ও মজুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকার পরও বাড়ছে চালের দাম। কারণে অকারণেই সুযোগ পেয়েই চালের দাম বাড়িয়ে অনৈতিক মুনাফা করছেন চালকল মালিক ও ব্যবসায়ীরা। কোনওভাবেই চালের বাজারের এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা যায়নি। আমদানি করা হলেও চালের বাজার স্থিতিশীল করা যায়নি। আগামীতে চাল নিয়ে যাতে কোনও প্রকার বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে না হয় সেজন্যই সরকার আবারও চাল আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

এদিকে বিদ্যমান করোনাকালীন পরিস্থিতিতে আগামী আমন ও পরে আউশ মৌসুমে বিশেষ করে ধান উৎপাদন ও প্রণোদনা বিতরণসহ সার্বিক কৃষি কার্যক্রম সমন্বয় ও তদারকির জন্য কৃষি মন্ত্রণালয়ের ৭ জন অতিরিক্ত সচিবকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এটি করাই হয়েছে, আমন ও আউশ উৎপাদনে যাতে চালের বাজারে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে এমন কোনও পরিস্থিতির সৃষ্টি না হয়।

কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাকের নির্দেশে কৃষি উৎপাদন আরও বেগবান করতেই এসব সিনিয়র কর্মকর্তাদেরকে মাঠ পর্যায়ে তদারকি ও সমন্বয়ের এ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রত্যেক অতিরিক্ত সচিবকে ২টি করে সারা দেশের মোট ১৪টি কৃষি অঞ্চলের কার্যক্রম সমন্বয় ও তদারকির দায়িত্ব দিয়ে গত ৬ জুলাই কৃষি মন্ত্রণালয় থেকে অফিস আদেশ জারি করা হয়েছে।

কৃষি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে- দায়িত্বপ্রাপ্ত সাত কর্মকর্তা হলেন- পরিকল্পনা অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব আব্দুর রৌফ চট্টগ্রাম ও রাঙ্গামাটি অঞ্চল, গবেষণা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব কমলা রঞ্জন দাস রাজশাহী ও বগুড়া অঞ্চল, সার ব্যবস্থাপনা ও উপকরণ অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব মাহবুবুল ইসলাম দিনাজপুর ও রংপুর অঞ্চল, সম্প্রসারণ অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব হাসানুজ্জামান কল্লোল সিলেট ও কুমিল্লাহ অঞ্চল, এছাড়া যশোর ও খুলনা অঞ্চলের দায়িত্বে বীজ বিভাগের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) বলাই কৃষ্ণ হাজরা, ফরিদপুর ও বরিশাল অঞ্চলের দায়িত্বে পিপিসি অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব রুহুল আমিন তালুকদার এবং ঢাকা ও ময়মনসিংহ অঞ্চলের দায়িত্বে প্রশাসন বিভাগের অতিরিক্ত সচিব ওয়াহিদা আক্তার। কৃষি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. মেসবাহুল ইসলাম সব অঞ্চলের সার্বিক কার্যক্রম তত্ত্বাবধান করবেন। সমন্বয়ের দায়িত্বে থাকবেন অতিরিক্ত সচিব (সম্প্রসারণ) মো. হাসানুজ্জামান কল্লোল।

অপরদিকে খাদ্য মন্ত্রণালয় থেকে চলতি বছরের শুরুতেই কারসাজির মাধ্যমে কেউ যাতে চালের মূল্য বাড়াতে না পারে সেজন্য বিশেষ মনিটরিং টিম গঠন করা হয়েছে। খাদ্য মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের এ সংক্রান্ত  নির্দেশনায় বলা হয়েছে- ধানের দামের সঙ্গে চালের দামের সামঞ্জস্য রাখতে হবে। কোনোভাবেই যেন মিল মালিক এবং ব্যবসায়ীরা বাড়তি সুবিধা না নিতে পারেন।

এ প্রসঙ্গে খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার জানিয়েছেন, ভোক্তারা যাতে সহনীয় দামে চাল কিনে খেতে পারেন সেটা নিশ্চিত করতে হবে। চালের বাজার অস্থির করতে কেউ যদি কারসাজির চেষ্টা করে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সে বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। তিনি কৃষকদের ন্যায্যমূল্য পাওয়া বিষয়টিও নিশ্চিত করার কথা বলেছেন।  

জানা গেছে, চালের দাম সহনীয় করতে খাদ্য মন্ত্রণালয় এবং খাদ্য অধিদফতরের নেতৃত্বে আলাদা বাজার মনিটরিং টিম গঠন করা হয়। কৃষি বিপনন অধিদফতর চালের দরও নির্ধারণ করে দিয়েছিলো। নির্ধারণ করে দেওয়া দরের অতিরিক্ত দামে কেউ চাল বিক্রি করলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হলেও তা কার্যকর করা যায়নি। চালসহ খাদ্যশস্যের বাজার মূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রবণতা রোধ, নিম্ন আয়ের জনগোষ্ঠীকে সহায়তা এবং বাজার দর স্থিতিশীল রাখা, কৃষকদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার স্বার্থে খাদ্য মন্ত্রণালয় এবং খাদ্য অধিদফতরের অধীনে মোট ৭টি বাজার মনিটরিং টিম গঠন করা হয়।

এর মধ্যে চালের বাজার দরে ঊর্ধ্বগতি প্রবণতা রোধে ঢাকা মহানগরের বড় বড় পাইকারি বাজার সরেজমিন তদারকির জন্য খাদ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে ৪টি এবং খাদ্য অধিদফতরের অধীনে ৩টি মনিটরিং কমিটি গঠন করা হয়। এসব কমিটিকে বাজার দর সংগ্রহ করে খাদ্য মন্ত্রণালয় ও খাদ্য অধিদফতরে প্রতিবেদন দেওয়ারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

কমিটি ঢাকা মহানগরের বড় বড় পাইকারি বাজার সরেজমিন তদারকি করে বাজার দর সংগ্রহ করে প্রতিবেদন দাখিল, বাজার পরিদর্শনে দিনের বাজার দর ও আগের দুই দিনের বাজার দর সংগ্রহ করে প্রতিবেদন প্রস্তুত এবং বাজারে চাল ও আটার বিক্রয়মূল্য ও ক্রয়মূল্যের তথ্য সংগ্রহ করবে। বাজার মনিটরিংয়ের দায়িত্বে থাকা কমিটিগুলো প্রতিদিন বাজার মনিটরিং করবে। কিন্তু বাজারে এসব মনিটরিং কমিটির কোনও হদিস পাওয়া যায়নি।

উল্লেখ্য, এরও আগে গত ২০১৯ সালের ১ ডিসেম্বর চালের মূল্য সহনীয় রাখতে একটি কন্ট্রোল রুম এবং বিশেষ মনিটরিং টিম গঠন করেছিল সরকার। যা বর্তমানেও খোলা রয়েছে। বাজার পরিস্থিতি নিয়ে যে কেউ উল্লিখিত কন্ট্রোলরুমে অভিযোগ জানানোর সুযোগ রয়েছে।

মিলাররা চালের বাজারের এই অস্থিরতার জন্য ধানের মূল্য বৃদ্ধিকে দায়ি করলেও মুলত ভারত থেকে চাল আমদানির সংবাদ পাওয়া মাত্র এবং আমদানি করা চালের শুল্ক কমানোর সিদ্ধান্তে  কমতে শুরু করে ধানের দাম। ২০২০ সালের ডিসেম্বর থেকে বাজারে কমতে থাকে ধানের দাম। এ বছরের জানুয়ারিতেও বাজারে বস্তাপ্রতি (৫০ কেজির বস্তা) ধানের দাম কমেছে ১৫০-২০০ টাকা। কিন্ত কমেনি চালের দাম। ২ হাজার একশ ৮০ টাকা থেকে ২ হাজার ২০০ টাকা দরে বিক্রি হওয়া গুটি স্বর্ণা ধান এখন বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার টাকার নিচে। বিআর-৫১ ধান ২ হাজার ৩০০ টাকা থেকে নেমে বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ১০০ টাকায়। আর সুমন স্বর্ণা ধান ২ হাজার ৩৫০ থেকে নেমে বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ১৫০ টাকা।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে জয়পুরহাটের কৃষক হেমায়েত উদ্দিন জানিয়েছেন, ধানের বাজার নিয়ন্ত্রণ করছেন মিল মালিকরা। তারা ইচ্ছামতো ধানের দাম নির্ধারণ করেন, বাধ্য হয়ে তাদের নির্ধারিত দামেই ধান বিক্রি করতে হয়।

মাঠ পর্যায়ে নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলার গোবিন্দপুরের কৃষকরা জানিয়েছেন, মিলাররাই কারসাজি করে ধান কেনা কমিয়ে দিয়ে কৃষকদের উপর দায় চাপাচ্ছেন। অনেক মিলার আড়তদারদের জানিয়ে দিয়েছেন, তারা আগে যেখানে প্রতি সপ্তাহে পাঁচ গাড়ি ধান কিনতেন, এখন সেখানে এক থেকে দুই গাড়ি ধান কিনবেন। বিভিন্ন অজুহাতে তারা ধান কেনা কমিয়ে দেন। অথচ দায়ী করেন কৃষকদের।

জয়পুরহাটের মিলার লায়েক আলী জানিয়েছেন, কৃষকের ধান বেশি দামের আশায় রেখে দেওয়ার কারণে আমাদের বেশি দামে ধান কিনতে হচ্ছে বিধায় চালের দাম বেশি। এর জন্য মিলার নয়, কৃষকরা দায়ী।

/এফএএন/

সম্পর্কিত

যে কারণে বিলম্বিত হচ্ছে মহাসড়কের টোল আদায়

যে কারণে বিলম্বিত হচ্ছে মহাসড়কের টোল আদায়

এবারও সিন্ডিকেটের কবলে কাঁচা চামড়া

এবারও সিন্ডিকেটের কবলে কাঁচা চামড়া

যেসব শিল্প কারখানা খোলা থাকবে

যেসব শিল্প কারখানা খোলা থাকবে

১৪ দিন শপিং মল-দোকানপাট বন্ধ থাকবে

১৪ দিন শপিং মল-দোকানপাট বন্ধ থাকবে

শেয়ারবাজারে নতুন আশার সঞ্চার

আপডেট : ২৩ জুলাই ২০২১, ১৯:২৯

করোনা মহামারি ও কঠোর লকডাউনের মধ্যেও দেশের আশাজাগানিয়া খাত  এখন শেয়ারবাজার। ১০ বছর আগের হারানো পুঁজির সোয়া দুই লাখ কোটি টাকা এরইমধ্যে ফিরে পেয়েছেন এই খাতের বিনিয়োগকারীরা। এর মধ্যে বেশিরভাগই এসেছে গত তিন মাসে (এপ্রিল, মে ও জুন)। এছাড়া নতুন অর্থবছরের প্রথম ১৫ দিন কেটেছে সূচকের উত্থানের মধ্য দিয়ে।

অর্থাৎ প্রায় এক বছর ধরে ঊর্ধ্বমুখী ধারায় থাকা শেয়ারবাজারে ঈদের আগের শেষ সপ্তাহেও বেশ চাঙ্গা ভাব দেখা যায়। এতে নতুন উচ্চতায় উঠে এসেছে শেয়ারবাজার।

তথ্য বলছে, প্রথমবারের মতো ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান মূল্য সূচক ৬ হাজার চার শ পয়েন্ট অতিক্রম করেছে। সেই সঙ্গে বাছাই করা ভালো কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক ইতিহাসের সর্বোচ্চ অবস্থানে উঠে এসেছে। বাজার মূলধনও এযাবতকালের মধ্যে সর্বোচ্চ অবস্থানে রয়েছে। ঈদের আগে শেয়ারবাজার এমন উচ্চতায় পৌঁছানোয় স্বাভাবিকভাবেই বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে। তারা প্রত্যাশা করছেন, শেয়ারবাজারে এই ইতিবাচক ধারা পরেও অব্যাহত থাকবে।

মূলত নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলামের নেতৃত্বে ঘুরে দাঁড়িয়েছে পুঁজিবাজার। সর্বশেষ তিন মাসের উত্থানে দেশের পুঁজিবাজার এখন নতুন দিগন্তে প্রবেশ করেছে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের ( ডিএসই) বাজার মূলধন এখন সাড়ে পাঁচ লাখ কোটি টাকার ঘরে অবস্থান করছে।

প্রসঙ্গত, ২০১০ সালের ৫ ডিসেম্বরের পর দেশের পুঁজিবাজারে বড় ধরণের ধস নামে। যা চলে ২০১১ সালের জুন পর্যন্ত। এই ধসে ৩৩ লাখ বিনিয়োগকারী ক্ষতিগ্রস্ত হন।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) তথ্য অনুযায়ী, ব্যাংক-বিমা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানসহ অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ারের দাম বাড়ায় গত এক বছরে ডিএসইর প্রধান সূচক (ডিএসইএক্স) দুই হাজার ৩৩৫ পয়েন্ট বেড়ে ছয় হাজার ৪০৫ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। সূচকের সঙ্গে বেড়েছে বেশির ভাগ শেয়ারের দাম। তাতে বিনিয়োগকারীদের লেনদেন বেড়েছে প্রায় পাঁচ গুণ।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের পরিচালক মো. রকিবুর রহমান বলেন,  এই বাজার অনেক দূর যাওয়ার সুযোগ আছে। বাজারে যে ইতিবাচক ধারা দেখা যাচ্ছে তা ধরে রাখতে হবে। তার মতে, কেউ বাজারে কারসাজি করার চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধে নিয়ন্ত্রক সংস্থার কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে।

তিনি ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের শেয়ার বাজারমুখী হওয়ার পরামর্শ দেন।

ডিএসইর তথ্য বলছে, গত বছরের ২০ জুলাই ৩৪৮ কোটি ৫৬ লাখ ৮৮ হাজার টাকা লেনদেন হয়েছিল। ঈদের আগে শেষ কার্যদিবস অর্থাৎ বৃহস্পতিবার (১৯ জুলাই) সর্বশেষ লেনদেন হয়েছে এক হাজার ২৬৪ কোটি টাকা।

গত বছরের ২০ জুলাই ডিএসইর বাজার মূলধন ছিল তিন লাখ ১৬ হাজার ২৫৩ কোটি ৪৫ লাখ টাকা। সেখান থেকে দুই লাখ ১৮ হাজার ৯৩১ কোটি ৭৮ লাখ টাকা বেড়ে গত বৃহস্পতিবার মূলধন দাঁড়িয়েছে পাঁচ লাখ ৩৫ হাজার ১৮৫ কোটি ২৩ লাখ ৫৬ হাজার টাকা।

এদিকে গেল সপ্তাহে দেশের শেয়ারবাজারে মাত্র দুই কার্যদিবস লেনদেন হয়েছে। এই দু’দিনে লেনদেন হওয়া বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে। এতে প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) বাজার মূলধন প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা বেড়েছে। চলতি মাসের তিন সপ্তাহে ডিএসইর বাজার মূলধন প্রায় ২১ হাজার কোটি টাকা বেড়েছে। সেই সঙ্গে বেড়েছে সবকটি মূল্যসূচক।

গেল সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসের লেনদেন শেষে ডিএসইর বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে ৫ লাখ ৩৫ হাজার ১৮৫ কোটি টাকায়। যা তার আগের সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে ছিল ৫ লাখ ২৫ হাজার ২৭১ কোটি টাকা। অর্থাৎ গেল সপ্তাহে ডিএসইর বাজার মূলধন বেড়েছে ৯ কোটি ৯১৪ কোটি টাকা।

আগের দুই সপ্তাহে ডিএসইর বাজার মূলধন বাড়ে ১০ হাজার ৯৮৯ কোটি টাকা। সে হিসাবে চলতি মাসে ইতোমধ্যে ডিএসইর বাজার মূলধন ২০ হাজার ৯০৩ কোটি টাকা বেড়েছে। এতে ডিএসইর বাজার মূলধন এ যাবতকালের মধ্যে সর্বোচ্চ অবস্থানে রয়েছে। শুধু তাই নয়, তিন সপ্তাহের এই টানা উত্থানের কারণে ইতিহাসের সর্বোচ্চ অবস্থাতে পৌঁছে গেছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স। ২০১৩ সালের ২৭ জানুয়ারি চালু হওয়া ৪ হাজার ৫৫ দশমিক ৯০ পয়েন্ট দিয়ে শুরু হওয়া ডিএসইএক্স সূচকটি এই প্রথম ৬ হাজার চার শ পয়েন্ট স্পর্শ করেছে। বর্তমানে এই সূচকটি ৬ হাজার ৪০৫ দশমিক শূন্য ৪ পয়েন্টে অবস্থান করছে।

প্রধান মূল্যসূচক রেকর্ড অবস্থানে উঠে আসার পাশাপাশি গেল সপ্তাহে বাছাই করা ভালো কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচকও ইতিহাসের সর্বোচ্চ অবস্থানে উঠে এসেছে। গেল সপ্তাহে এই সূচকটি বাড়ে ৪৭ দশমিক ৪৭ পয়েন্ট। আগের সপ্তাহে সূচকটি বেড়েছিল ২৬ দশমিক ৬৯ পয়েন্ট এবং তার আগের সপ্তাহে বেড়েছিল ৩৯ দশমিক ৮৩ পয়েন্ট।

অপরদিকে ইসলামি শরিয়াহ ভিত্তিতে পরিচালিত কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই শরিয়াহ্ সূচকও গত সপ্তাহজুড়ে বেড়েছে। গত সপ্তাহে সূচকটি বেড়েছে ২৮ দশমিক ৪০ পয়েন্ট । আগের সপ্তাহে সূচকটি বাড়ে ১৭ দশমিক ৮১ পয়েন্ট।

তথ্য বলছে, সপ্তাহের প্রতি কার্যদিবসে ডিএসইতে গড়ে লেনদেন হয়েছে ১ হাজার ৫২৮ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। আগের সপ্তাহে প্রতিদিন গড়ে লেনদেন হয়েছিল ১ হাজার ৬৭৬ কোটি ৬২ লাখ টাকা। অর্থাৎ প্রতি কার্যদিবসে গড় লেনদেন কমেছে ১৪৭ কোটি ৮৭ লাখ টাকা। গত সপ্তাহজুড়ে ডিএসইতে মোট লেনদেন হয়েছে তিন হাজার ৫৭ কোটি ৫১ লাখ টাকা। আগের সপ্তাহে লেনদেন হয় ছয় হাজার ৭০৬ কোটি ৪৮ লাখ টাকা।

এদিকে ঈদের ছুটি শেষে আগামী রবিবার (২৫ জুলাই) থেকে আবার শেয়ারবাজারে লেনদেন শুরু হবে। তবে করোনা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে সরকার কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করায় শেয়ারবাজারে লেনদেন হবে সীমিত পরিসরে। ব্যাংকের লেনদেনের সঙ্গে সমন্বয় করে শেয়ারবাজারে লেনদেন চলবে সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত।

/এমএস/

নিত্যপণ্যের বাজারে লকডাউনের প্রভাব 

আপডেট : ২৩ জুলাই ২০২১, ১৭:৫৭

কোরবানির ঈদ উপলক্ষে অনেকে ঢাকা ছেড়েছেন। এ কারণে ঈদের দিন ও ঈদের পরের দিন দোকানপাট বন্ধ ছিল। এ ছাড়া আজ থেকে শুরু হয়েছে কঠোর লকডাউন। শুক্রবার (২৩ জুলাই) রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার বাজার ঘুরে দেখা যায়, এখনও বেশিরভাগ সবজির দোকান বন্ধ। বাজারে ক্রেতাও কম। অনেক মুদি দোকানও বন্ধ। বন্ধ রয়েছে গরু ও খাসির মাংসের দোকান। তবে কিছু মুরগির দোকান খোলা রয়েছে। 

শুক্রবার ব্রয়লার মুরগির কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৩০ থেকে ১৪০ টাকা। লেয়ার মুরগির কেজি বিক্রি হচ্ছে ২৩০ থেকে ২৪০ টাকা। আর সোনালি মুরগির কেজি বিক্রি হচ্ছে ২০০ থেকে ২৩০ টাকা।

অল্প কিছু ব্যবসায়ী দোকান খুলে সবজি বিক্রি করছেন। কোরবানির ঈদ, লকডাউন ও বৃষ্টি- এই তিন কারণে সব ধরনের সবজির দাম বেড়েছে বলে জানান ব্যবসায়ীরা। সবজির মতো  অল্প কিছু ব্যবসায়ীও মাছ বিক্রি করছেন। তবে ক্রেতা কম, দামও বেড়েছে। 

বিক্রেতারা বলছেন, কোরবানির ঈদের পরে সাধারণত বেচাকেনা কম থাকে, ক্রেতা ও বিক্রেতা কম থাকে। এবার লকডাউনের কারণে আরও কমে গেছে। 

ঈদের আগে রাজধানীর অলিতে-গলিতে সবজির দোকান দেখা গেলেও এখন প্রায় সব ফাঁকা। রাজধানীর কাওরান বাজারে দেখা যায়, বেশ কিছু দোকানপাট বন্ধ। মগবাজার, মালিবাগ ও গোপীবাগ বাজারের পরিস্থিতিও একই।

বিক্রেতারা বলছেন, ঈদের পর সবজির দাম বেড়েছে। বিশেষ করে সালাদে ব্যবহৃত সবজির দাম অস্বাভাবিক বেড়েছে। গাজরের কেজি ১৭০ টাকা, টমেটোর কেজি ১৫০ টাকা। অর্থাৎ ঈদের পর দুদিনে এ দু’টি সবজির দাম কেজিতে বেড়েছে ৫০ টাকার ওপরে। অস্বাভাবিক দাম বেড়েছে গাজর-টমেটোর। শুধু গাজর ও টমেটো নয়, দেশি শসা বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকা কেজি দরে। গত সপ্তাহে যা ছিল ৮০ টাকা। হাইব্রিড শসা বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৭০ টাকায়, গত সপ্তাহে যা বিক্রি হয়েছে ৩০ টাকায়। 

এ ছাড়া রাজধানীর বাজারগুলোতে চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে অন্য সব ধরনের সবজি। এর সঙ্গে বেড়েছে কাঁচা মরিচের দামও। ঈদের পর কাঁচা মরিচের দাম কেজিতে বেড়েছে ৪০ টাকা পর্যন্ত।

গোপীবাগ বাজারের সবজি ব্যবসায়ী মাহাবুব হোসেন তিনি বলেন, কোরবানির ঈদ ছাড়াও একদিকে বৃষ্টি অন্যদিকে লকডাউন- তিন কারণে সবজির দাম বেড়েছে। তিনি বলেন, বাজারে এখন দেশি গাজর নেই। যে গাজর পাওয়া যাচ্ছে, তা আমদানি করা। আমদানি করার কারণে এমনিতেই গাজরের দাম বেশি। আর যে টমেটো পাওয়া যাচ্ছে, তা কোল্ড স্টোরেজের। 

বাজারে দেখা যাচ্ছে, বেগুনের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৭০ টাকা, ঝিঙে ৬০ থেকে ৭০ টাকা, করলা ৬০ থেকে ৭০ টাকা, চিচিঙ্গা ৫০ থেকে ৬০ টাকা, বরবটি ৭০ থেকে ৮০ টাকা। ঢেঁড়স বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকা, পটল ৩০ থেকে ৪০ টাকা। কাঁচকলার হালি বিক্রি হচ্ছে ৩৫ থেকে ৪০ টাকা, পেঁপে বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকা কেজি। কাঁচা মরিচের পোয়া (২৫০ গ্রাম) বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৩৫ টাকা, তা ঈদের আগে ছিল ১৫ থেকে ২০ টাকা। কচুর লতি বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকায়। লাউ ও চালকুমড়া আকারভেদে ৫০ থেকে ৭০ টাকা। লেবু প্রতি হালি ২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এ ছাড়া আলুর কেজি বিক্রি হচ্ছে ২৫ টাকায়। দেশি পেঁয়াজ প্রতি কেজি ৫০ টাকা, আমদানি করা পেঁয়াজ ৪৫ টাকা, রসুন ১৪০ থেকে ১৫০ টাকা, আমদানি করা আদার কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৬০ থেকে ২০০ টাকা। আর দেশি আদার কেজি বিক্রি হচ্ছে ১২০ থেকে ১৬০ টাকা। জিরা ৩৬০ টাকা, ধনিয়া ১২০ টাকা, এলাচ দুই হাজার ৪৫০ টাকা, দারুচিনি ৪২০ টাকা, তেজপাতা ১২০ টাকা, গোলমরিচ ৫২০ টাকা এবং সয়াবিন তেলের বোতল এক লিটার ১৪৫ থেকে ১৫০ টাকায়, ৫ লিটার ৭০০ থেকে ৭১০ টাকা, খোলা সয়াবিন তেল ভালো মানেরটা কেজি ১৩৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। প্রতি হালি লাল ডিম বিক্রি হচ্ছে ৩৫ টাকায়।

বাজারের সবচেয়ে কম দামি গরিবের মোটা চালের কেজি এখন ৪৮ টাকা। এ ছাড়া নাজিরশাইল বা মিনিকেটের কেজি ৬৮ থেকে ৭২ টাকা।

মাছ বাজারে গিয়ে দেখা যায়, চিংড়ি বিক্রি হচ্ছে ৮০০ থেকে ৮৫০ টাকা কেজি, যা ঈদের আগে ছিল ৬০০ থেকে ৬৫০ টাকা। এ ছাড়া কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা বেড়ে তেলাপিয়া মাছ বিক্রি হচ্ছে ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা, রুই মাছের কেজি বিক্রি হচ্ছে ২৪০ থেকে ৩২০ টাকা, মৃগেল মাছের কেজি বিক্রি হচ্ছে ২২০ থেকে ২৮০ টাকা, পাবদা মাছের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা এবং রূপচাঁদা মাছের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৭০০ থেকে ৮৫০ টাকা।

 

/এনএইচ/এমওএফ/

সম্পর্কিত

এলপিজির মূল্য নিয়ন্ত্রণে সরকারি ‍উদ্যোগ থামাতে চায় লোয়াব, বিইআরসির না

এলপিজির মূল্য নিয়ন্ত্রণে সরকারি ‍উদ্যোগ থামাতে চায় লোয়াব, বিইআরসির না

চালের বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকারের কোনও উদ্যোগই কাজে আসেনি

চালের বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকারের কোনও উদ্যোগই কাজে আসেনি

শেয়ারবাজারে নতুন আশার সঞ্চার

শেয়ারবাজারে নতুন আশার সঞ্চার

আজ থেকে গার্মেন্টসও বন্ধ 

আজ থেকে গার্মেন্টসও বন্ধ 

আজ থেকে গার্মেন্টসও বন্ধ 

আপডেট : ২৩ জুলাই ২০২১, ১০:০২

করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধে আজ শুক্রবার (২৩ জুলাই) সকাল ৬টা থেকে কঠোর বিধিনিষেধ শুরু হয়েছে; যা ৫ আগস্ট দিনগত রাত ১২টা পর্যন্ত বলবৎ থাকবে। এ নিয়ে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন বলেছেন, তৈরি পোশাক কারখানা (গার্মেন্টস) আগামী ৫ আগস্টের আগে খুলছে না।
 
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘এবার বিধিনিষেধ গতবারের চেয়েও কঠোর হবে। বিধিনিষেধ কার্যকর করতে পুলিশের পাশাপাশি, বিজিবি ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা মাঠে থাকবেন। 

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ‘অফিস, আদালত, গার্মেন্টস ফ্যাক্টরিসহ সব কিছু বন্ধ থাকবে। এ পর্যন্ত যত সর্বাত্মক কঠোর বিধিনিষেধ দেওয়া হয়েছে সেভাবেই চলবে।’

যদিও এই কঠোর লকডাউনের মধ্যে পোশাক (গার্মেন্টস) কারখানা খোলা রাখার ব্যাপারে দাবি জানিয়ে আসছিলেন দেশের ব্যবসায়ীরা। গার্মেন্টস কারখানা খোলা রাখার ব্যাপারে তারা প্রধানমন্ত্রীর কাছে এ ব্যাপারে চিঠিও দিয়েছেন। 

জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী বলছেন, চলতি জুলাই মাসে গার্মেন্টস কারখানা খোলার সুযোগ নেই। তবে করোনা প্রাদুর্ভাব কমে আসলে, সে ক্ষেত্রে আগামী আগস্ট মাসে দেখা যাবে। 

এদিকে তৈরি পোশাক শিল্পে মালিকরাও বলছেন, গার্মেন্টস খাতের জন্য বড় ধরনের ক্ষতি সত্বেও সরকারের এই সিদ্ধান্তকে তারা মেনে নিয়েছেন। আগামী সাত দিনের মধ্যে করোনা পরিস্থিতির উন্নতি হলে তবেই তারা ১ আগস্ট থেকে কারখানা চালু করার প্রস্তুতি নেবে। 

দীর্ঘদিন কারখানা বন্ধ রাখায় গার্মেন্টস খাতে বড় ধরনের ধাক্কা লাগবে উল্লেখ করে পোশাকশিল্পের মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর সভাপতি ফারুক হাসানসহ সংগঠনটির সাবেক অন্তত তিনজন সভাপতি সরকারের এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে একমত পোষণ করেছেন। 

 

/জিএম/এনএইচ/

সম্পর্কিত

এলপিজির মূল্য নিয়ন্ত্রণে সরকারি ‍উদ্যোগ থামাতে চায় লোয়াব, বিইআরসির না

এলপিজির মূল্য নিয়ন্ত্রণে সরকারি ‍উদ্যোগ থামাতে চায় লোয়াব, বিইআরসির না

চালের বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকারের কোনও উদ্যোগই কাজে আসেনি

চালের বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকারের কোনও উদ্যোগই কাজে আসেনি

শেয়ারবাজারে নতুন আশার সঞ্চার

শেয়ারবাজারে নতুন আশার সঞ্চার

নিত্যপণ্যের বাজারে লকডাউনের প্রভাব 

নিত্যপণ্যের বাজারে লকডাউনের প্রভাব 

সম্পর্কিত

রবিবার থেকে ব্যাংক খোলা, লেনদেন হবে দেড়টা পর্যন্ত

রবিবার থেকে ব্যাংক খোলা, লেনদেন হবে দেড়টা পর্যন্ত

ঈদে ৩০ হাজার কোটি টাকার নতুন নোট

ঈদে ৩০ হাজার কোটি টাকার নতুন নোট

পশুর হাটে জালনোট শনাক্তে সেবা দেবে ব্যাংক

পশুর হাটে জালনোট শনাক্তে সেবা দেবে ব্যাংক

বাংলাদেশ ব্যাংকে চুক্তিভিত্তিক চাকরি, বেতন ৫০ হাজার টাকা

বাংলাদেশ ব্যাংকে চুক্তিভিত্তিক চাকরি, বেতন ৫০ হাজার টাকা

রবিবার আর্থিক প্রতিষ্ঠান বন্ধ, বাকি চারদিন ৫ ঘণ্টা করে খোলা

রবিবার আর্থিক প্রতিষ্ঠান বন্ধ, বাকি চারদিন ৫ ঘণ্টা করে খোলা

আন্তঃব্যাংক চেক নিষ্পত্তির নতুন সূচি

আন্তঃব্যাংক চেক নিষ্পত্তির নতুন সূচি

এমডিদের বিদেশ ভ্রমণে কড়াকড়ি আরোপ করলো বাংলাদেশ ব্যাংক

এমডিদের বিদেশ ভ্রমণে কড়াকড়ি আরোপ করলো বাংলাদেশ ব্যাংক

কাল খুলছে ব্যাংক ও শেয়ারবাজার

কাল খুলছে ব্যাংক ও শেয়ারবাজার

সর্বশেষ

সিরিয়ায় হামলায় তুর্কি সেনা নিহত, আঙ্কারার হুঁশিয়ারি

সিরিয়ায় হামলায় তুর্কি সেনা নিহত, আঙ্কারার হুঁশিয়ারি

লকডাউন বিরোধী বিক্ষোভে উত্তাল দেশে দেশে

লকডাউন বিরোধী বিক্ষোভে উত্তাল দেশে দেশে

ভূমধ্যসাগরে ৫৭৬ অভিবাসন প্রত্যাশী উদ্ধার

ভূমধ্যসাগরে ৫৭৬ অভিবাসন প্রত্যাশী উদ্ধার

অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে পিটিয়ে হত্যা

অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে পিটিয়ে হত্যা

১৫৫ কিলোমিটার বেগে চীনে আঘাত হানছে টাইফুন 'ইন-ফা'

১৫৫ কিলোমিটার বেগে চীনে আঘাত হানছে টাইফুন 'ইন-ফা'

স্ত্রীর সঙ্গে পরকীয়া, পিটিয়ে হত্যার পর ভাসিয়ে দিলেন লাশ

স্ত্রীর সঙ্গে পরকীয়া, পিটিয়ে হত্যার পর ভাসিয়ে দিলেন লাশ

লকডাউনের দ্বিতীয় দিনে ময়মনসিংহে ৪৩৫টি মামলা

লকডাউনের দ্বিতীয় দিনে ময়মনসিংহে ৪৩৫টি মামলা

মাছটি বিক্রি হলো সাড়ে ৪ লাখ টাকায়

মাছটি বিক্রি হলো সাড়ে ৪ লাখ টাকায়

সর্বশেষসর্বাধিক

লাইভ

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

ঈদে ৩০ হাজার কোটি টাকার নতুন নোট

ঈদে ৩০ হাজার কোটি টাকার নতুন নোট

পশুর হাটে জালনোট শনাক্তে সেবা দেবে ব্যাংক

পশুর হাটে জালনোট শনাক্তে সেবা দেবে ব্যাংক

রবিবার আর্থিক প্রতিষ্ঠান বন্ধ, বাকি চারদিন ৫ ঘণ্টা করে খোলা

রবিবার আর্থিক প্রতিষ্ঠান বন্ধ, বাকি চারদিন ৫ ঘণ্টা করে খোলা

আন্তঃব্যাংক চেক নিষ্পত্তির নতুন সূচি

আন্তঃব্যাংক চেক নিষ্পত্তির নতুন সূচি

এমডিদের বিদেশ ভ্রমণে কড়াকড়ি আরোপ করলো বাংলাদেশ ব্যাংক

এমডিদের বিদেশ ভ্রমণে কড়াকড়ি আরোপ করলো বাংলাদেশ ব্যাংক

© 2021 Bangla Tribune