X
রবিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১, ৪ আশ্বিন ১৪২৮

সেকশনস

জঙ্গিদের সুপথে ফেরানোর কার্যক্রম কেমন চলছে?

আপডেট : ০১ জুলাই ২০২১, ১৯:৪৬

দীর্ঘ ১৭ বছর আগে জঙ্গিবাদে জড়িয়ে গ্রেফতার হয়েছিলেন আব্দুল্লাহ আল তাসনিম ওরফে নাহিদ। সময় গড়িয়েছে অনেক, এরমধ্যে তিনি তার ভুলও বুঝতে পেরেছেন। নিজের কৃতকর্মের জন্য অনুতপ্ত নাহিদ নিজেই এখন জঙ্গিবাদ প্রতিরোধেই কাজ করতে চান। কিন্তু তার সুপথে ফেরার কোনও পথও খোলা নেই। কারণ কারাবন্দী জঙ্গিদের সুপথে ফিরিয়ে আনার কোনও কার্যক্রমই এখনো নেওয়া হয়নি। অথচ জঙ্গিবাদ নিয়ে পর্যবেক্ষণ ও গবেষণাকারীরা বলছেন, জঙ্গিবাদ দমনে হার্ড এপ্রোচ বা আভিযানিক কার্যক্রমের পাশাপাশি জঙ্গিদের সুপথে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করাটা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু এত বছর পরেও কারাবন্দী জঙ্গিদের সুপথে ফিরিয়ে আনার কোনও কার্যক্রম শুরু না করাটা খুবই আশ্চর্যের বিষয়।

বাংলাদেশে নব্বই দশকের শুরু থেকেই উত্থান শুরু হয়েছিল হরকাতুল জিহাদের নামে ধর্মীয় জঙ্গিবাদের, প্রথম দিকে যার নেতৃত্ব দিয়েছিলেন আফগান ফেরত মুজাহিদরা। এই দশকের শেষভাগ থেকে শুরু হয় জঙ্গিদের সহিংস তৎপরতা। এর মধ্যেই জামআতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ বা জেএমবিসহ আরো একাধিক জঙ্গি সংগঠনের আত্মপ্রকাশ ঘটে। জঙ্গিবাদ নিয়ন্ত্রণের জন্য বিভিন্ন সময়ে সরকার কঠোর আইন প্রয়োগ করে আসলেও গ্রেফতার হওয়া জঙ্গিদের সুপথে ফিরিয়ে আনার প্রাতিষ্ঠানিক কোনও কার্যক্রমই হাতে নেয়নি।

অথচ জেলে বসেই জঙ্গিদের আরও বেশি মোটিভেটেড, সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা, সাধারণ বন্দীদের জঙ্গিবাদে মোটিভেটেড করাসহ অর্থ সংগ্রেহর জন্য পেশাদার ডাকাতদের ব্যবহারের তথ্যও পাওয়া যাচ্ছে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্য বলছে, ২০১৬ সালের ১ জুলাই হলি আর্টিজান বেকারিতে ভয়াবহ হামলার পর থেকেই এখন পর্যন্ত প্রায় আড়াই হাজার জঙ্গিকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া আগে থেকেই কারাগারে রয়েছে আরও অন্তত হাজার খানেক জঙ্গি। যাদের অনেকেই জামিনে বের হয়ে আবারও জঙ্গি তৎপরতায় নাম লিখিয়েছে।

তবুও কারাবন্দী জঙ্গিদের সুপথে ফিরিয়ে আনার সুনির্দিষ্ট কোনও কার্যক্রম নেই কেন?

‘আমাদের যে সমস্ত অফিসাররা দায়িত্বপ্রাপ্ত থাকেন তারা অনেকেই (জঙ্গিদের সঙ্গে) কথা বলেন, যদিও সেগুলো ততটা টেকনিক্যাল কথাবার্তা না। কিছুটা তাদের বোঝানোর মতো, সেটি করা হয়। আমিও মনে করি এটা অবশ্যই পর্যাপ্ত না। তাদের (জঙ্গিদের) মোটিভেশনের কাছে আমাদেরটা খুবই অপর্যাপ্ত’ -এক প্রশ্নের জবাবে বলছিলেন কারা মহাপরিদর্শক বিগ্রেডিয়ার জেনারেল মোমিনুর রহমান মামুন, যিনি গত বছরের ৮ অক্টোবর থেকে কারা মহাপরিদর্শক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন।

শীর্ষ এই কারা কর্মকর্তা জঙ্গিদের সুপথে ফেরাতে প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রম নেওয়া উচিত মনে করেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের এখানে টেকনিক্যাল পারসন তৈরি করার অবশ্যই দরকার আছে। এটা আমাদের চিন্তাভাবনায় আছে। আপনি জানেন যে আমাদের কারাগারে অনেক সংস্কারই করা হচ্ছে, সাংগঠনিক কাঠামো চেঞ্জ বা আমরা নতুনভাবে চিন্তা-ভাবনা করছি এবং কিছু কিছু কাজ হচ্ছে। আমি মনে করি আমাদের এ ধরনের (জঙ্গি) বন্দী থাকবে। আমাদের সাংগঠনিক কাঠামোতে পরিবর্তন এনে এই ধরনের ইউনিট অর্থাৎ জঙ্গিদের ডির‌্যাডিক্যালাইজড করাটা বাংলাদেশ জেলের জন্য খুবই জরুরি।’

জঙ্গিবাদ প্রতিরোধে গঠিত বিশেষায়িত ইউনিট কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের কর্মকর্তারা বলছেন, তারা কারাবন্দী জঙ্গিদের ডির‌্যাডিক্যালাইজেশন বা সুপথে ফিরিয়ে আনার জন্য একটি প্রকল্প গ্রহণ করেছেন। হার্ড অ্যাপ্রোচ বা আভিযানিক প্রক্রিয়ার বাইরে সফট অ্যাপ্রোচের মাধ্যমে কারাবন্দী জঙ্গিদের সুপথে ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনা করেছেন। এই প্রক্রিয়ার মধ্যে ইমাম বা ইসলামিক স্কলারদের সম্পৃক্ত করিয়ে জঙ্গিদের যে খণ্ডিত ধর্মীয় ব্যাখ্যা ও মতাদর্শ তা খণ্ডন করে বোঝানো হবে। সঙ্গে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারাও থাকবেন। ইতোমধ্যে অন্তত আটজন জঙ্গি সদস্যকে জামিনে বেরিয়ে আসার পর কাউন্সেলিং করানো হয়েছে এবং তাদের পরিবারকে পুর্নবাসন করা হয়েছে।

‘বাংলাদেশ পুলিশ অর্থাৎ কাউন্টার টেরোরিজমের পক্ষ থেকে যে প্রজেক্টটা নেওয়া হয়েছে, তা অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে। আমরা ওনাদের স্বাগত জানিয়ে, ওনাদের যেহেতু এই বিষয়ে এক্সপার্টিজ আছে, প্রজেক্টটা অনুমোদন হলে জঙ্গিদের সুপথে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে স্পেসিফিক করে কিছু একটা করা যাবে। আমরাও, মানে আমাদের কারা কর্তৃপক্ষও প্রাতিষ্ঠানিকভাবে উপকৃত হবে’ -বলছিলেন কারা মহাপরিদর্শক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোমিনুর রহমান মোমিন।

দীর্ঘদিন ধরে জঙ্গিবাদ পর্যবেক্ষণ করে আসা মানবাধিকার কর্মী নূর খান লিটন বলেন, সহিংস তৎপরতা লক্ষ্য না করা গেলেও উগ্রপন্থীর সংখ্যা বেড়েই চলছে। জঙ্গি মনোভাবাপন্ন মানুষের বেড়ে যাওয়াটা সমাজের জন্য বিশাল হুমকি। যদিও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা অনেক জঙ্গিকে গ্রেফতার করছে। কারাগারে হাজার হাজার উগ্রমতবাদের মানুষ বা জঙ্গি সদস্য যারা গ্রেফতার হয়েছেন, তাদের মূল স্রোতধারায় ফিরিয়ে আনতে হবে। কিন্তু এ সংক্রান্ত দৃশ্যত স্ট্রং কোনও কার্যক্রম পরিলক্ষিত হচ্ছে না। যা খুবই দুঃখজনক ও আশ্চর্যের বিষয়।

তিনি বলেন, কারাগারগুলোতে বন্দী থাকা জঙ্গিদের মূলধারায় ফিরিয়ে আনার জন্য সচেতনতা তৈরি বা কাউন্টার ন্যারেটিভ দিয়ে তাদের বোঝাতে হবে। একই সঙ্গে তাদের ক্লোজলি মনিটরিং করতে হবে। একজন মানুষকে যতটা পারা যায় মূল স্রোতে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করতে হবে।

সমন্বয়হীন জঙ্গিবাদ প্রতিরোধ কার্যক্রমও

বাংলাদেশে বহু বছর ধরে জঙ্গিবাদী কার্যক্রমকে অন্যতম প্রধান একটি সমস্যা মনে করা হলেও তা প্রতিরোধের কার্যক্রমে কোনও সমন্বয় নেই। এমনকি এখন পর্যন্ত জঙ্গিবাদ প্রতিরোধে জাতীয় কোনও কৌশলপত্রও তৈরি করা হয়নি। ফলে বিভিন্ন সংস্থা বা বিভাগ নিজের মতো করে জঙ্গিবাদ প্রতিরোধে কাজ করে যাচ্ছেন। জাতিসংঘর উন্নয়ন কর্মসূচি বা ইউএনডিপি ও ইউএসএইডের সহায়তায় বেশ কিছু এনজিও জঙ্গিবাদ প্রতিরোধে কিছু কার্যক্রম চালিয়েছেন। কিন্তু সমন্বয়হীনতা ও পৃথকভাবে জঙ্গিবাদ প্রতিরোধে কাজ করার ফলে প্রত্যাশা মতো ফলাফল পাওয়া যাচ্ছে না বলে মনে করছেন জঙ্গিবাদ পর্যবেক্ষক ও গবেষকরা।

জঙ্গিবাদ প্রতিরোধের এই কার্যক্রমকে দুনিয়াজুড়ে সহিংস উগ্রবাদ প্রতিরোধ বা কাউন্টার বা প্রিভেনশন ভায়োলেটিং এক্সট্রিমিজম সিভিই কিংবা পিভিই নামে অভিহিত করা হয়।

যদিও সরকারের পক্ষ থেকে সবসময়ই জঙ্গিবাদ দমনে শূন্য সহনশীলতা বা জিরো টলারেন্স নীতির কথা বলা হয়, কিন্তু সহিংস উগ্রবাদ দমনে জাতীয়ভাবে কার্যকর কোনও নীতি নির্ধারণী বডি বা সাংগঠনিক কাঠামো তৈরি করা হয়নি।

কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের একজন কর্মকর্তা বলছেন, তারা জঙ্গিবাদ দমনে একটি ন্যাশনাল স্ট্র্যাটিজি বা জাতীয় কৌশলপত্র তৈরি করছেন। যেখানে প্রিভেনশন বা প্রতিরোধ ও আভিযানিক বিষয়ে বিস্তারিত বিষয় উল্লেখ থাকবে। কৌশলপত্রটি তারা দ্রুততম সময়ের মধ্যেই সরকারের শীর্ষ পর্যায়ে সাবমিট করবেন।

মানবাধিকারকর্মী নূর খান লিটন বলেন, বাংলাদেশে যখন কোনও জঙ্গি হামলা হয়, তখন অনেক তোড়জোর শরু হয়। হামলা না হলে সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের ব্যক্তিরা এটি ভুলে যায়। যা জঙ্গিবাদ প্রতিরোধে এটি একটি বড় অন্তরায় হয়ে দাঁড়াচ্ছে। জঙ্গিবাদ প্রতিরোধের জন্য রাজনৈতিক ঐকমত্যের ভিত্তিতে মহাপরিকল্পনা নেওয়া উচিত ছিল। কিন্তু তার বিপরীতে আমরা বিভিন্ন সংস্থার সমন্বয়হীন কিছু কাজ দেখছি। এভাবে জঙ্গিবাদ দমন সম্ভব নয়।

হলি আর্টিজানে হামলা মামলার আসামিরা

বাংলাদেশে ২০১৬ সালের ১ জুলাই হলি আর্টিজানে নারকীয় জঙ্গি হামলার পর নড়েচড়ে বসেছিল সরকার। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানের পাশাপাশি সরকারের বিভিন্ন দফতর ও বিভাগ তৎপরতা শুরু করেছিল। এর মধ্যে ধর্মমন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে মসজিদে মসজিদে খুতবার আগে ইমামদের দিয়ে জঙ্গিবাদ বিরোধী বক্তব্য দেওয়া, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জঙ্গিবাদ বিরোধী কর্মসূচি, ইসলামিক স্কলারদের কাজে লাগিয়ে জঙ্গিবাদ বিরোধী ফতোয়া দেওয়া, পাঠ্য-পুস্তকে জঙ্গিবাদ বিরোধী প্রবন্ধ-নিবন্ধ সংযোজন, কাউন্টার ন্যারেটিভ প্রচার-প্রচারণা অর্থাৎ ইসলাম ধর্মে যে উগ্রবাদ নেই এবং সর্বোপরি অসাম্প্রদায়িক চেতনা প্রচার করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু কার্যত এখন কিছুই চলছে না।

জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তুক বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক নারায়ণ চন্দ্র সাহা বলছেন, ‘আমরা যে একেবারে কিছুই করছি না তা না। পাঠ্যপুস্তকে জঙ্গিবাদ বিরোধী বক্তব্য কিছু কিছু যোগ করা হয়েছে। আরো বিশদভাবে সংযুক্ত করার প্রক্রিয়া চলছে।’

আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর একজন কর্মকর্তা বলছেন, কোনঠাসা হলেও জঙ্গিরা কিন্তু থেমে নেই। তারা নিয়মিত অনলাইনে তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। তারা তাদের মতাদর্শ প্রচার করছে। সদস্য সংগ্রহ করছে। বড় করে আঘাত হানবার জন্যে প্রস্তুতি নিচ্ছে। আমরা তাদের নিয়ন্ত্রণের চেষ্ট করছি।

কাউন্টার টেরোজিম ইউনিটের প্রধান মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘আমরা হার্ড অ্যাপ্রোচ এবং সফট অ্যাপ্রোচ- দুইভাবেই কাজ করে যাচ্ছি। আমাদের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের অধীনে একটি প্রজেক্ট চলমান রয়েছে। বিশেষ করে জঙ্গিদের ডির‌্যাডিক্যালাইজেশন, রিহ্যাবিলিটেশন, জঙ্গি বিষয়ক গবেষণা, কাউন্টার ন্যারেটিভ এক্টিভিটিস, বিশেষ করে অ্যাওয়ারনেস প্রোগ্রাম সমানভাবেই চলছে।’

তিনি বলছিলেন, ‘আমরা ইতোমধ্যে ৩৪টি জেলায় সচেতনতানমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করেছি। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, জনপ্রতিনিধি, প্রত্যেকটি জেলার ইমাম-মুয়াজ্জিন, কারা কর্তৃপক্ষ সকলকে অন্তর্ভুক্ত করে আমরা সচেতনতামূলক কাজ করেছি। করোনার কারণে কার্যক্রম বর্তমানে কিছুটা কম চলছে, কিন্তু চলমান রয়েছে।’

র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেছেন, ‘আমরা অভিযানের পাশাপাশি এখন পর্যন্ত ১৬ জন জঙ্গিকে পুর্নবাসন করেছি। বিভিন্ন ইসলামিক স্কলারদের সমন্বয়ে কোরআন হাদিস থেকে জঙ্গিবাদ বিরোধী ব্যাখ্যা নিয়ে একটি বই প্রকাশ করা হয়েছিল। এছাড়াও আমাদের আরও অন্যান্য সচেতনতামূলক কার্যক্রম চলছে।’

আরও পড়ুন:
১৭ বছর পর জঙ্গির উপলব্ধি ‘সহিংসতা দিয়ে ইসলাম প্রতিষ্ঠা হয় না’

/ইউএস/

সম্পর্কিত

শেখ হাসিনার নেতৃত্বকে সৌদি আরব গুরুত্ব দিয়ে আসছে: সৌদি বাণিজ্যমন্ত্রী

শেখ হাসিনার নেতৃত্বকে সৌদি আরব গুরুত্ব দিয়ে আসছে: সৌদি বাণিজ্যমন্ত্রী

‘ই-কমার্সের জন্য নতুন আইন দরকার’

‘ই-কমার্সের জন্য নতুন আইন দরকার’

সংবিধানের দ্বিতীয় সংশোধনী বিলে যা ছিল

সংবিধানের দ্বিতীয় সংশোধনী বিলে যা ছিল

বড় প্রকল্পগুলো দুর্নীতির সুযোগ করে দিচ্ছে: পরিকল্পনামন্ত্রী

বড় প্রকল্পগুলো দুর্নীতির সুযোগ করে দিচ্ছে: পরিকল্পনামন্ত্রী

শেখ হাসিনার নেতৃত্বকে সৌদি আরব গুরুত্ব দিয়ে আসছে: সৌদি বাণিজ্যমন্ত্রী

আপডেট : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০১:৪৮

সৌদি আরবের বাণিজ্যমন্ত্রী ড. মাজিদ বিন আবদুল্লাহ আল কাসাবি বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্ব ও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে সৌদি সরকার গুরুত্ব দিয়ে আসছে। শনিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সৌদি আরবে সফররত প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান ও উচ্চ পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক ভার্চুয়াল আলোচনায় তিনি এ কথা বলেন।

এ সময় প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান সৌদি বাদশাহ ও যুবরাজের প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শুভেচ্ছা বার্তা পৌঁছে দেন। তিনি বাংলাদেশের রূপকল্প ২০৪১ ও সৌদি রূপকল্প ২০৩০ বাস্তবায়নে আগামী দিনে দু’দেশের ব্যবসা বাণিজ্য বৃদ্ধি এবং বাংলাদেশের বিভিন্ন লাভজনক খাতে সৌদি বিনিয়োগের ওপর জোর দেন।

বাংলাদেশ থেকে বর্তমানে সৌদি আরব তৈরি পোশাক, চামড়াজাত ও প্লাস্টিক পণ্য, হিমায়িত মাছ এবং ঔষধ আমদানি করে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, সৌদি আরব চাইলে বাংলাদেশ থেকে হালাল মাংস আমাদানির জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে পারে। বাংলাদেশ থেকে বিভিন্ন পণ্য আমদানির মাধ্যমে দু’দেশের বাণিজ্য অসমতা দূর করা যেতে পারে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

এ প্রেক্ষিতে বাংলাদেশের ১৩৭টি পণ্যের সৌদি বাজারে প্রবেশে শুল্কমুক্ত সুবিধা দেওয়ার বিষয়ে তিনি সৌদি বাণিজ্যমন্ত্রীকে অনুরোধ জানান। বর্তমানে সৌদি আরব ও বাংলাদেশের মধ্যে ১ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য হয়ে থাকে।

২০১৯ সালে সৌদি বাণিজ্যমন্ত্রীর নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের সরকারি ও বেসরকারি প্রতিনিধি দলের বাংলাদেশ সফরের সময় দু’দেশের ব্যবসা বাণিজ্য বৃদ্ধির বিষয়ে স্বাক্ষরিত বিভিন্ন সমঝোতা স্মারক পর্যালোচনা করে কার্যক্রম ত্বরান্বিত করার অনুরোধ জানান সালমান এফ রহমান। এসব সমঝোতা স্মারকসহ বাণিজ্য সহযোগিতার অন্যান্য ক্ষেত্রে পর্যালোচনা, সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও তার বাস্তবায়নে কার্যকর পদেক্ষেপ নিতে একটি যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠনের প্রস্তাবও দেন তিনি। এ কমিটি কিছু দিন পরপর এসব বিষয়ে আলোচনার মাধ্যমে দু’দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগ এগিয়ে নিতে কাজ করবে।

এ সময় প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মন্ত্রীকে জানান, সৌদি আরব চাইলে সে দেশের বিনিয়োগকারীদের জন্য বিশেষ ইকোনমিক জোন প্রতিষ্ঠা করে বিশেষ সুবিধা দিতে বাংলাদেশ প্রস্তুত রয়েছে।

দু’দেশের পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপের (পিপিপি) বিষয়ে ২০১৮ সালে প্রস্তাবিত সমঝোতা স্মারকটি দ্রুত স্বাক্ষরের বিষয়ে সালমান এফ রহমান সৌদি বাণিজ্যমন্ত্রীর সহযোগিতা চাইলে তিনি দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন। উপদেষ্টা বলেন, এ সমঝোতা স্মারকটি স্বাক্ষরিত হলে বাংলাদেশের সরকারি বিভিন্ন প্রকল্পে সৌদি কোম্পানির সরাসরি বিনিয়োগের দ্বার উন্মুক্ত হবে।

সালমান এফ রহমান সৌদি পাবলিক ইনভেস্টমেন্ট ফান্ডের (পিআইএফ) আওতায় বাংলাদেশের বিভিন্ন মেগা প্রকল্পে বিনিয়োগের বিষয়ে অনুরোধ জানালে সৌদি বাণিজ্য মন্ত্রী ইতিবাচক মত দেন। এ তহবিলের আওতায় তিনি বাংলাদেশে ঢাকা থেকে পায়রা বন্দর পর্যন্ত রেলযোগাযোগ নির্মাণ এবং কক্সবাজারকে আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে বিনিয়োগের আহ্বান জানান।

সালমান এফ রহমান বাংলাদেশি যে সব অভিবাসী সৌদি আরবে ব্যবসা করছে তাদের সহায়তার জন্য মন্ত্রীকে অনুরোধ করেন।

এ বিষয়ে সৌদি বাণিজ্য মন্ত্রী বলেন, বিদেশিদের সৌদি আরবে বৈধভাবে ব্যবসা বাণিজ্য করার বিষয়ে সৌদি সরকার সুযোগ দিয়েছে। এ প্রেক্ষিতে তারা তাদের ব্যবসা নিবন্ধনের মাধ্যমে বৈধভাবে সৌদি আরবে ব্যবসা করার সুযোগ পেয়েছে। সৌদি বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের এ বিষয়ে সব ধরনের সহায়তা করা হবে। 

এছাড়া, সালমান এফ রহমান সৌদি বাণিজ্যমন্ত্রীকে একটি প্রতিনিধি দল নিয়ে সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানালে, সৌদি বাণিজ্যমন্ত্রী আমন্ত্রণ গ্রহণ ও শিগগিরই বাংলাদেশ সফরের আশা ব্যক্ত করেন।

রিয়াদস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসে অনুষ্ঠিত এ ভার্চুয়াল সভায় সৌদি আরবে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী বিপিএম (বার) উপস্থিত ছিলেন।

সভায় বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান মো. সিরাজুল ইসলাম, বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান শেখ ইউসুফ হারুন ও বাংলাদেশ সরকারি-বেসরকারি অংশিদারিত্ব কর্তৃপক্ষের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সুলতানা আফরোজসহ অন্যান্য কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।  

প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান উচ্চ পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তা ও একটি ব্যবসায়ী দল নিয়ে শনিবার পাঁচ দিনের সরকারি সফরে সৌদি আরবে পৌঁছেছেন। সফরকালে তিনি দু’দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির বিষয়ে কয়েকজন মন্ত্রীসহ বিভিন্ন উচ্চপর্যায়ের সরকারি-বেসরকারি সভায় অংশ নেবেন।

সূত্র: বাসস

 

/আইএ/

সম্পর্কিত

‘ই-কমার্সের জন্য নতুন আইন দরকার’

‘ই-কমার্সের জন্য নতুন আইন দরকার’

সংবিধানের দ্বিতীয় সংশোধনী বিলে যা ছিল

সংবিধানের দ্বিতীয় সংশোধনী বিলে যা ছিল

বড় প্রকল্পগুলো দুর্নীতির সুযোগ করে দিচ্ছে: পরিকল্পনামন্ত্রী

বড় প্রকল্পগুলো দুর্নীতির সুযোগ করে দিচ্ছে: পরিকল্পনামন্ত্রী

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে কমনওয়েলথের সহায়তা চেয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে কমনওয়েলথের সহায়তা চেয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী

‘ই-কমার্সের জন্য নতুন আইন দরকার’

আপডেট : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০১:২২

ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের জন্য নতুন আইন দরকার বলে মন্তব্য করেছেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান। তিনি বলেন, ‘চোর পালালে বুদ্ধি হয়। তদারকির দুর্বলতার কারণে ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানে অনিয়ম হচ্ছে। এগুলো আগামীতে যাতে না হয়, এ জন্য নতুন আইন করতে হবে।’

শনিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) রাতে একাত্তর টেলিভিশনের নিয়মিত আয়োজন একাত্তর জার্নালে যুক্ত হয়ে তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে উপস্থাপনা করেন নূর সাফা জুলহাজ।

ইভ্যালির প্রধান নির্বাহী মোহাম্মদ রাসেলকে মুক্তির দাবিতে গ্রাহকদের আন্দোলনের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, ‘আন্দোলনকারীরা ভাবছেন তাকে বাইরে রাখলে হয়তো টাকা আদায় হবে। কিন্তু বাইরে থাকলেও তাদের টাকাটা ফেরত দেওয়ার ক্ষমতা নেই।’

অনুষ্ঠানে অ্যাটোর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট এম আমিন উদ্দিন বলেন, ‘নীতিমালা নয়, ই-কমার্স পরিচালনার জন্য আইন করতে হবে। ই-কমার্স যদি কেউ করতে আসেন, তবে তাকে নির্দিষ্ট টাকা জামানত রাখতে হবে। জমা দেওয়া টাকার বেশি যেন ব্যবসা না করতে পারে সে দিকে খেয়াল রাখতে হবে। তাহলে কেউ প্রতারিত হলে সেখান থেকে প্রতারিতদের টাকা দেওয়া যাবে। প্রতারকদের শাস্তির ব্যবস্থা রাখতে হবে আইনে। মানুষের টাকা ফেরতের নিশ্চয়তা রাখতে হবে। নতুন বাস্তবতায় নতুন সমস্যা সমাধানের জন্য নতুন আইন করা হয়। বিভিন্ন দেশে এটা করা হয়। ব্যবসায়ীরা যাতে নির্বিঘ্নে ব্যবসা করতে পারেন সেটাও আইনের মধ্যে আনতে হবে।’

 

 

 

/আইএ/

সম্পর্কিত

শেখ হাসিনার নেতৃত্বকে সৌদি আরব গুরুত্ব দিয়ে আসছে: সৌদি বাণিজ্যমন্ত্রী

শেখ হাসিনার নেতৃত্বকে সৌদি আরব গুরুত্ব দিয়ে আসছে: সৌদি বাণিজ্যমন্ত্রী

সংবিধানের দ্বিতীয় সংশোধনী বিলে যা ছিল

সংবিধানের দ্বিতীয় সংশোধনী বিলে যা ছিল

বড় প্রকল্পগুলো দুর্নীতির সুযোগ করে দিচ্ছে: পরিকল্পনামন্ত্রী

বড় প্রকল্পগুলো দুর্নীতির সুযোগ করে দিচ্ছে: পরিকল্পনামন্ত্রী

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে কমনওয়েলথের সহায়তা চেয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে কমনওয়েলথের সহায়তা চেয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী

সহায়তা পাচ্ছে নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত ৫১ হাজার পরিবার

আপডেট : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১৯:৪৭

নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত ৪ সদস্যের পরিবারকে ৫০ হাজার টাকা, পাঁচ সদস্যের পরিবারকে ৬০ হাজার ও ছয় সদস্যের পরিবারকে ৭৫ হাজার টাকা সহায়তা দেওয়া হবে। ঢাকা, মুন্সিগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, টাঙ্গাইল, ফরিদপুর, মাদারীপুর, শরীয়তপুর, রাজবাড়ী, গোপালগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ, চাঁদপুর, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, রাজশাহী, সিরাজগঞ্জ, পাবনা, বগুড়া, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, ভোলা, বরিশাল, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, রংপুর, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, নীলফামারী, গাইবান্ধা, জামালপুর বাগেরহাট, নড়াইল ও সুনামগঞ্জ জেলার ৯৬ উপজেলার নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত ৫১ হাজার ৯৪টি পরিবারকে এ সহায়তা দেওয়া হবে।

এ জন্য সম্প্রতি ৯৬ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) অনুকূলে ৫০ কোটি টাকার বরাদ্দ মঞ্জুর করেছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়। ইতিমধ্যেই বিষয়টি সম্পর্কে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে মন্ত্রণালয় থেকে অধিদফতরের মহাপরিচালকের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে।

চিঠিতে বলা হয়েছে, ইউএনওরা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মধ্যে সহায়তার এ অর্থ বিতরণ কার্যক্রম শেষে অর্থের পরিমাণসহ উপকারভোগীদের তালিকা (পরিবার প্রধানের নাম, জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর, মোবাইল নম্বর ইত্যাদি) সংবলিত প্রতিবেদন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদফতরে পাঠাবেন। চিঠিতে আরও বলা হয়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় সার্বিক কার্যক্রম পরিবীক্ষণ করবে ও বরাদ্দ করা অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে যাবতীয় আর্থিক বিধিবিধান ও নিয়মাচার যথাযথভাবে প্রতিপালন করবে।

চিঠিতে আরও এতে বলা হয়, চলতি অর্থবছর (২০২০-২১) বাজেটের অর্থবিভাগ ‘নদীভাঙন কবলিত এলাকার জনসাধারণের জন্য পুনর্বাসন তহবিল’র অধীনে বিশেষ অনুদান খাত থেকে বরাদ্দ কৃত ১০০ কোটি টাকা থেকে ‘নদীভাঙন কবলিত এলাকার জনসাধারণের জন্য প্রধানমন্ত্রীর পুনর্বাসন সহায়তা কার্যক্রম বাস্তবায়নে বিদ্যমান নির্দেশিকা অনুযায়ী নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত উপজেলাভিত্তিক প্রণীত তালিকায় অন্তর্ভুক্ত পরিবারগুলোর মধ্যে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বণ্টনের জন্য ৩১ জেলার ৯৬ ইউএনও’র অনুকূলে ৫০ কোটি টাকা মঞ্জুরি দেওয়া হলো।

 

আরও পড়ুন

শুধু বরাদ্দে ভাঙন থামবে?

৫৫ হাজার পরিবার নিঃস্ব, ক্লান্ত

ভিটেহারা মানুষগুলো আর ফিরে যেতে পারে না

/এসআই/এমআর/

‘পিসিআর ল্যাব বসাতে একটি প্রতিষ্ঠান শিগগিরই কাজ শুরু করবে’

আপডেট : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১৮:২৭

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পিসিআর ল্যাব বসানোর জন্য অনুমোদিত সাতটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টার দ্রুত মোবাইল ল্যাব স্থাপন করে শিগগিরই করোনা পরীক্ষা চালু করবে। 

শনিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকালে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী ইমরান আহমদ বিমানবন্দরে পিসিআর ল্যাবের জন্য নির্ধারিত স্থান পরিদর্শনে গেলে তাকে একথা জানান সিভিল অ্যাভিয়েশনের চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মফিদুর রহমান। 

বিমানবন্দরের পার্কিং ইয়ার্ডে সাইট পরিদর্শনের সময় মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. আহমেদ মুনিরুছ সালেহীন, সিভিল অ্যাভিয়েশনের চেয়ারম্যান এবং জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর মহাপরিচালক মো. শহীদুল আলম উপস্থিত ছিলেন।

এ সময় সিভিল অ্যাভিয়েশনের চেয়ারম্যান আশ্বস্ত করেন, আগামী ৩-৪ দিনের মধ্যে ল্যাব স্থাপনসহ আরটি পিসিআর কার্যক্রম শুরু হবে।

তিনি আরও জানান, ল্যাব স্থাপনের জন্য নির্বাচিত একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টার নির্ধারিত স্থানে মোবাইল ল্যাব স্থাপন করে শিগগিরই করোনা পরীক্ষা শুরু করবে। 

এরপর তারা বিমানবন্দরে স্থাপিত প্রবাসী কল্যাণ ডেস্ক পরিদর্শন ও প্রবাসী কর্মীদের জন্য প্রদেয় সেবা কার্যক্রম তদারকি করেন এবং মুজিব কর্নার পরিদর্শন করেন।

/এসও/এনএইচ/

সম্পর্কিত

শেখ হাসিনার নেতৃত্বকে সৌদি আরব গুরুত্ব দিয়ে আসছে: সৌদি বাণিজ্যমন্ত্রী

শেখ হাসিনার নেতৃত্বকে সৌদি আরব গুরুত্ব দিয়ে আসছে: সৌদি বাণিজ্যমন্ত্রী

‘ই-কমার্সের জন্য নতুন আইন দরকার’

‘ই-কমার্সের জন্য নতুন আইন দরকার’

সহায়তা পাচ্ছে নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত ৫১ হাজার পরিবার

সহায়তা পাচ্ছে নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত ৫১ হাজার পরিবার

অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ না হলে নদীর তীর রক্ষা করা কঠিন: পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী

অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ না হলে নদীর তীর রক্ষা করা কঠিন: পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী

অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ না হলে নদীর তীর রক্ষা করা কঠিন: পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী

আপডেট : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১৭:৫১

অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ না হলে নদীর তীর রক্ষা করা কঠিন বলে জানিয়েছেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক। তিনি মনে করেন, অবৈধভাবে বালু উত্তোলন নদীতীরকে ভাঙনপ্রবণ করে তুলে।

শনিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর গ্রিনরোডস্থ পানি ভবন অডিটোরিয়ামে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় উদ্যোগে ‘প্রকল্প বাস্তবায়ন ও সুশাসন বিষয়ক’ মতবিনিময় সভায় পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী কর্নেল (অব.) জাহিদ ফারুক এসব কথা বলেন। মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব কবির বিন আনোয়ারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে পানিসম্পদ উপমন্ত্রী এ কে এম এনামুল হক শামীম, মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম, কৃষি পানিসম্পদ ও পল্লী প্রতিষ্ঠান বিভাগের সদস্য রমেন্দ্র নাথ বিশ্বাস উপস্থিত ছিলেন।

এসময় অতিরিক্ত সচিব আলম আরা বেগম, মন্ত্রণালয় অধীনস্থ সকল সংস্থাপ্রধান,পানি উন্নয়ন বোর্ডের সকল অতিরিক্ত মহাপরিচালক ও প্রধান প্রকৌশলীসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

উপমন্ত্রী এ কে এম এনামুল হক শামীম বলেন, আবাসন, গাড়িসহ বিভিন্ন সীমাবদ্ধতার মধ্যে প্রকৌশলীরা দুর্যোগ মোকাবেলায় কাজ করছেন। নির্ধারিত সময়ে প্রকল্প বাস্তবায়নে মন্ত্রণালয় সবসময় আন্তরিক।

এর আগে প্রকল্প বাস্তবায়ন বিষয়ে নানা দিক নির্দেশনা দিয়ে বক্তব্য রাখেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম। পানি উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক ফজলুর রশিদ অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন। কারিগরি আলোচনা করেন পরিকল্পনা কমিশনের অতিরিক্ত সচিব ড. সাঈদ হাসান শিকদার।

/এসআই/এমআর/

সম্পর্কিত

শেখ হাসিনার নেতৃত্বকে সৌদি আরব গুরুত্ব দিয়ে আসছে: সৌদি বাণিজ্যমন্ত্রী

শেখ হাসিনার নেতৃত্বকে সৌদি আরব গুরুত্ব দিয়ে আসছে: সৌদি বাণিজ্যমন্ত্রী

‘ই-কমার্সের জন্য নতুন আইন দরকার’

‘ই-কমার্সের জন্য নতুন আইন দরকার’

সহায়তা পাচ্ছে নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত ৫১ হাজার পরিবার

সহায়তা পাচ্ছে নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত ৫১ হাজার পরিবার

‘পিসিআর ল্যাব বসাতে একটি প্রতিষ্ঠান শিগগিরই কাজ শুরু করবে’

‘পিসিআর ল্যাব বসাতে একটি প্রতিষ্ঠান শিগগিরই কাজ শুরু করবে’

সর্বশেষসর্বাধিক

লাইভ

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

শেখ হাসিনার নেতৃত্বকে সৌদি আরব গুরুত্ব দিয়ে আসছে: সৌদি বাণিজ্যমন্ত্রী

শেখ হাসিনার নেতৃত্বকে সৌদি আরব গুরুত্ব দিয়ে আসছে: সৌদি বাণিজ্যমন্ত্রী

‘ই-কমার্সের জন্য নতুন আইন দরকার’

‘ই-কমার্সের জন্য নতুন আইন দরকার’

সংবিধানের দ্বিতীয় সংশোধনী বিলে যা ছিল

সংবিধানের দ্বিতীয় সংশোধনী বিলে যা ছিল

বড় প্রকল্পগুলো দুর্নীতির সুযোগ করে দিচ্ছে: পরিকল্পনামন্ত্রী

বড় প্রকল্পগুলো দুর্নীতির সুযোগ করে দিচ্ছে: পরিকল্পনামন্ত্রী

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে কমনওয়েলথের সহায়তা চেয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে কমনওয়েলথের সহায়তা চেয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী

বাংলাদেশের ভেতর ভারতের কোস্টাল বেসলাইন

বাংলাদেশের ভেতর ভারতের কোস্টাল বেসলাইন

আরও ৩৮ মৃত্যু, শনাক্ত ১৯০৭

আরও ৩৮ মৃত্যু, শনাক্ত ১৯০৭

টিকে থাকার দাবিতে সিএনজি অটোরিকশাচালকদের মানববন্ধন

টিকে থাকার দাবিতে সিএনজি অটোরিকশাচালকদের মানববন্ধন

ভারত আমাদের অকৃত্রিম বন্ধু: নৌ-প্রতিমন্ত্রী

ভারত আমাদের অকৃত্রিম বন্ধু: নৌ-প্রতিমন্ত্রী

যা আছে প্রধানমন্ত্রীর সফরসূচিতে

যা আছে প্রধানমন্ত্রীর সফরসূচিতে

সর্বশেষ

অস্ট্রেলিয়া-যুক্তরাষ্ট্র মিথ্যাচার করেছে:  ফ্রান্স

অস্ট্রেলিয়া-যুক্তরাষ্ট্র মিথ্যাচার করেছে:  ফ্রান্স

ক্যাপিটল প্রাঙ্গণে ট্রাম সমর্থকদের মিছিল

ক্যাপিটল প্রাঙ্গণে ট্রাম সমর্থকদের মিছিল

‘শুধু ক্ষমা চাইলেই হবে না যুক্তরাষ্ট্রকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে’   

‘শুধু ক্ষমা চাইলেই হবে না যুক্তরাষ্ট্রকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে’   

আগারগাঁওয়ে ছয়তলা ভবন থেকে পড়ে যুবকের মৃত্যু

আগারগাঁওয়ে ছয়তলা ভবন থেকে পড়ে যুবকের মৃত্যু

শেখ হাসিনার নেতৃত্বকে সৌদি আরব গুরুত্ব দিয়ে আসছে: সৌদি বাণিজ্যমন্ত্রী

শেখ হাসিনার নেতৃত্বকে সৌদি আরব গুরুত্ব দিয়ে আসছে: সৌদি বাণিজ্যমন্ত্রী

© 2021 Bangla Tribune