X
শুক্রবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১ আশ্বিন ১৪২৮

সেকশনস

শেখ হাসিনার ‘হাঁড়িভাঙা’ আম কূটনীতির প্রশংসায় মুখর দিল্লি

আপডেট : ০৫ জুলাই ২০২১, ২২:৩৫

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রিয় ফল যে আম, সে কথা সুবিদিত। দুই বছর আগে ভারতে সাধারণ নির্বাচনের সময় এক সাক্ষাৎকারে বলিউড তারকা অক্ষয় কুমার প্রধানমন্ত্রীর কাছে জানতে চেয়েছিলেন, তিনি কি আম খোসা ছাড়িয়ে খান নাকি গোটা আম থেকেই চুষে খেতে পছন্দ করেন! সেই প্রশ্ন আর তার জবাব ভাইরাল হয়েছিল গোটা দেশেই।

এবার সেই প্রধানমন্ত্রী মোদিকে এক হাজার কেজির পেল্লায় এক বাক্স রংপুরের ‘হাঁড়িভাঙা’ আম পাঠিয়ে দ্বিপাক্ষিক কূটনীতিতে একটি ‘মাস্টারস্ট্রোক’ খেললেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সোমবার (৫ জুলাই) দিল্লিতে ভারত সরকারের প্রতিনিধিদের কাছে সেই উপহারের বাক্স তুলে দেন দিল্লিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ ইমরান। প্রধানমন্ত্রী মোদির জন্য যেমন হাজার কেজি আম পাঠানো হয়েছে, একইভাবে ভারতের রাষ্ট্রপতি ভবনে রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোভিন্দের জন্যও পাঠানো হয়েছে আরও হাজার কেজি।

বাদ যাননি বাংলাদেশ লাগোয়া ভারতের অঙ্গরাজ্যগুলোর মুখ্যমন্ত্রীরাও। শেখ হাসিনার আম উপহার পৌঁছেছে পশ্চিমবঙ্গের মমতা ব্যানার্জি, ত্রিপুরার বিপ্লব দেব, মেঘালয়ের কনরাড সাংমা আর আসামের হিমন্ত বিশ্বশর্মার কাছেও। ফলে দিল্লি থেকে কলকাতা, গুয়াহাটি থেকে শিলং বা আগরতলা—সর্বত্রই আজ হাঁড়িভাঙার অনন্য স্বাদ আর অপূর্ব সুবাস!

ভারতে নিযুক্ত বাংলাদেশের কর্মকর্তারা যদিও বারবারই বলছেন এটা পুরোপুরি প্রধানমন্ত্রী হাসিনার ‘ব্যক্তিগত প্রীতি উপহার’ এবং এরমধ্যে কূটনীতি খোঁজার অর্থ হয় না।  তারপরেও ভারতে পর্যবেক্ষকরা কিন্তু এই উপহারের গুরুত্ব অস্বীকার করতে পারছেন না।

দিল্লির জেএনইউ-তে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ও সাউথ এশিয়া স্টাডিজের প্রধান সঞ্জয় ভরদ্বাজের কথায়, ‘মনে রাখতে হবে এই উপহার এলো এমন একটা সময়ে, যখন ভারত বাংলাদেশকে প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী টিকা দিতে পারছে না। চুক্তির মর্যাদা দিতে না পারায় প্রধানমন্ত্রী মোদি একে যথেষ্ট বিব্রতকর অবস্থায় আছেন, কিন্তু তার মধ্যেও ঢাকার পাঠানো এই উপহার নিশ্চয় তাকে আশ্বস্ত করবে ও ভরসা জোগাবে।’

ঢাকায় নিযুক্ত সাবেক ভারতীয় রাষ্ট্রদূত বীণা সিক্রিও শেখ হাসিনার এই ‘মুভে’র প্রশংসায় উচ্ছ্বসিত।

তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলছিলেন, ‘কূটনীতিতে সব কথা তো সব সময় উচ্চারণ করে বলতে হয় না। কিন্তু এই আম উপহার এই বার্তাটাই দিচ্ছে যে যেদিন ভারত আবার টিকা রফতানি করার মতো জায়গায় যাবে, সেদিন সবার আগে কিন্তু নরেন্দ্র মোদি সরকারকে বাংলাদেশের প্রয়োজনের কথাটাই ভাবতে হবে।’

কলকাতার বহুল প্রচারিত ইংরেজি দৈনিক দ্য টেলিগ্রাফও মনে করিয়ে দিচ্ছে, এই টিকা সংকটের মধ্যেও শেখ হাসিনা কিন্তু ভারতের সম্পর্কে প্রকাশ্যে কোনও বিরূপ মন্তব্য করেননি। বরং সে দেশের জাতীয় সংসদে তিনি বলেছেন, ‘ভারতই বা কী করবে? সেখানে সংক্রমণের সংখ্যা যেভাবে হু হু করে বেড়ে গেছে!’

এই পটভূমিতে দেশের ভেতরে সমালোচনা হতে পারে জেনেও যেভাবে তিনি ভারতের নেতানেত্রীদের কাছে নিজের সবচেয়ে পছন্দের আমটি পাঠিয়েছেন, সেই পদক্ষেপের ভূয়সী প্রশংসা করেছে পত্রিকাটি।

এর আগে গত বছর দুর্গাপুজোর সময় ভারতে পদ্মার ইলিশ উপহার পাঠিয়েছিলেন শেখ হাসিনা। ঠিক তখনই ভারত আচমকা বাংলাদেশে পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ করে দিলেও ইলিশ যাওয়াতে কিন্তু ছেদ পড়েনি। তবে বাংলাদেশ থেকে আমের এই ধরনের উপহার প্রথমবার ভারতে এলো।

আরও জানা যাচ্ছে, বাছাই করা ‘হাঁড়িভাঙা’ আম দেখেশুনে বাক্সবন্দি করতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ছয়জন অভিজ্ঞ কর্মকর্তাকে নিজের শ্বশুরবাড়ির দেশ রংপুরে পাঠিয়েছিলেন শেখ হাসিনা। তারা সেগুলো নিজেরা তদারকি করে ট্রাকে তুলেছেন, তারপর সেই আম বেনাপোল-পেট্রাপোল, আখাউড়া আর তামাবিল-ডাউকি—এই তিনটি স্থলবন্দর দিয়ে রবিবার ভারতে ঢুকেছে।

কলকাতা থেকে এরপর ট্রেনপথে সেই উপহারের আম সোমবার সকালেই দিল্লিতে পৌঁছায়। তারপর দূতাবাস মারফত তা বিকালের মধ্যেই চলে আসে সাত নম্বর লোককল্যাণ মার্গে প্রধানমন্ত্রী মোদির বাসভবনে আর রাইসিনা হিলসের রাষ্ট্রপতি ভবনে।

রংপুরের হাঁড়িভাঙা আম খেয়ে নরেন্দ্র মোদি এখন কী টুইট করেন, কিংবা ফোন ঘুরিয়ে প্রধানমন্ত্রী হাসিনাকে কীভাবে ধন্যবাদ জানান—সেদিকেই তাকিয়ে আছে দিল্লি ও ঢাকার কূটনৈতিক মহল।

 

/এমআর/এমওএফ/

সম্পর্কিত

ভারত কথা দিয়েছে সীমান্তে আর হত্যাকাণ্ড ঘটবে না: ওবায়দুল কাদের

ভারত কথা দিয়েছে সীমান্তে আর হত্যাকাণ্ড ঘটবে না: ওবায়দুল কাদের

বাংলাদেশকে ভারতের ৩০ অ্যাম্বুলেন্স উপহার

বাংলাদেশকে ভারতের ৩০ অ্যাম্বুলেন্স উপহার

ট্রেনে তৃতীয় ধাপে ২০০ মে. টন অক্সিজেন দেশে পৌঁছেছে

ট্রেনে তৃতীয় ধাপে ২০০ মে. টন অক্সিজেন দেশে পৌঁছেছে

ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রীকে আম পাঠালেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা 

ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রীকে আম পাঠালেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা 

ভার্চুয়াল বিচারের পরিধি বাড়ানোর তাগিদ রাষ্ট্রপতির

আপডেট : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২১:৫৪

ভার্চুয়াল বিচার পদ্ধতির ব্যাপ্তি ও পরিধি আরও বাড়ানোর ওপর জোর দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। বৃহস্পতিবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশনের চেয়ারম্যান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকীর নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল বঙ্গভবনে গেলে রাষ্ট্রপতি এ বিষয়ে কথা বলেন।

কমিশনের বার্ষিক প্রতিবেদন-২০২০ এ সময় রাষ্ট্রিপতির কাছে পেশ করা হয়।

কমিশনের সদস্য বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার, বিচারপতি সহিদুল করিম, অ্যাটর্নি জেনারেল আবু মোহাম্মদ আমিন উদ্দিন এবং আইন ও বিচার বিভাগের সচিব মো. গোলাম সারওয়ার এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. জয়নাল আবেদীন বলেন, ‘সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতি বিচারক নিয়োগের পাশাপাশি বিচারকরা যাতে তথ্যপ্রযুক্তিতে দক্ষতা অর্জন করতে পারে সে ব্যাপারে পদক্ষেপ নিতে জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশনকে নির্দেশনা দেন।’ 

রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘ইতোমধ্যে বিচার কার্যক্রম ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে চালু হলেও পরিস্থিতি বিবেচনায় এর ব্যাপ্তি ও পরিধি বাড়ানো প্রয়োজন।’ এ সময় বিচারকদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধিতে উন্নত প্রশিক্ষণের ওপর জোর দেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ।

জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশনের চেয়ারম্যান কমিশনের সার্বিক কার্যক্রম এবং বার্ষিক প্রতিবেদনের বিভিন্ন দিক সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন।

রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের সচিব সম্পদ বড়ুয়া, সামরিক সচিব মেজর জেনারেল এসএম সালাহ উদ্দিন ইসলাম, প্রেস সচিব মো. জয়নাল আবেদীন এবং সচিব (সংযুক্ত) ওয়াহিদুল ইসলাম খান এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

 

/ইএইচএস/আইএ/

সম্পর্কিত

ইউএনওর মতো নিরাপত্তা পাবেন উপজেলা চেয়ারম্যান

ইউএনওর মতো নিরাপত্তা পাবেন উপজেলা চেয়ারম্যান

‘আমাদের বাড়ির ভাত কার পেটে না গেছে’

‘আমাদের বাড়ির ভাত কার পেটে না গেছে’

বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের টিকার নিবন্ধনে ওয়েবলিংক চালু

বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের টিকার নিবন্ধনে ওয়েবলিংক চালু

গণমাধ্যম দেখে দেশ চালাই না: শেখ হাসিনা

গণমাধ্যম দেখে দেশ চালাই না: শেখ হাসিনা

ইউএনওর মতো নিরাপত্তা পাবেন উপজেলা চেয়ারম্যান

আপডেট : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২১:৫১

দেশের প্রতিটি উপজেলা পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যানদের উপজেলা নির্বাহী অফিসারের (ইউএনও) মতো নিরাপত্তা দেওয়ার নির্দেশ সংক্রান্ত লিখিত আদেশ প্রকাশ করেছেন হাইকোর্ট।

বৃহস্পতিবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি এস এম মনিরুজ্জামানের হাইকোর্ট বেঞ্চের স্বাক্ষরের পর এসব আদেশের লিখিত অনুলিপি প্রকাশ হয়েছে।

আদালত তার আদেশে উপজেলা পরিষদ ভবনে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ের পরিবর্তে ‘উপজেলা পরিষদ কার্যালয়’ লেখা সাইনবোর্ড টানানোর নির্দেশ দিয়েছেন।

পাশাপাশি একই আদেশে উপজেলা পরিষদ আইন ১৯৯৮-এর ধারা ১৩ (ক), ১৩ (খ) ও ১৩ (গ) কেন সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হবে না, জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন। মামলার বিবাদীদের চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

আদালতে রিটের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন ব্যারিস্টার আজমালুল হোসেন কিউসি ও ড. মহিউদ্দিন মো. আলামিন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মেহেদী হাসান চৌধুরী ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সমরেন্দ্রনাথ বিশ্বাস।

এর আগে ১৫ জুন উপজেলা চেয়ারম্যানদের ক্ষমতা খর্ব করে উপজেলা নির্বাহী অফিসারদের ক্ষমতা দেওয়ার বৈধতা নিয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়। পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলা চেয়ারম্যান মো. আব্দুল আজিজসহ তিনজন উপজেলা চেয়ারম্যান এ রিট দায়ের করেন। বিচারপতিদের স্বাক্ষরের পর সে আদেশের লিখিত অনুলিপি প্রকাশ হলো।

প্রসঙ্গত, গত ১৪ সেপ্টেম্বর উপজেলা পরিষদের অধীনে ন্যস্ত সব দফতরের কার্যক্রম পরিষদের চেয়ারম্যানের অনুমোদনক্রমে করার জন্য ইউএনওদের প্রতি নির্দেশনা দিয়েছেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে ইউএনওরা যাতে ওই সার্কুলার অনুসরণ করেন সেজন্য পৃথক আরেকটি সার্কুলার জারি করতে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ সংশ্লিষ্ট বিবাদীদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ উপজেলা পরিষদ অ্যাসোসিয়েশনের এক সম্পূরক আবেদনের শুনানি নিয়ে বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি মো. কামরুল হোসেন মোল্লার দ্বৈত হাইকোর্ট বেঞ্চ এসব আদেশ দেন।

/বিআই/এফএ/

সম্পর্কিত

ভার্চুয়াল বিচারের পরিধি বাড়ানোর তাগিদ রাষ্ট্রপতির

ভার্চুয়াল বিচারের পরিধি বাড়ানোর তাগিদ রাষ্ট্রপতির

‘আমাদের বাড়ির ভাত কার পেটে না গেছে’

‘আমাদের বাড়ির ভাত কার পেটে না গেছে’

বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের টিকার নিবন্ধনে ওয়েবলিংক চালু

বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের টিকার নিবন্ধনে ওয়েবলিংক চালু

গণমাধ্যম দেখে দেশ চালাই না: শেখ হাসিনা

গণমাধ্যম দেখে দেশ চালাই না: শেখ হাসিনা

রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরা অনিশ্চিত হয়ে পড়ছে

আপডেট : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২১:৩০

রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো অনিশ্চিত হয়ে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় উপনেতা জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের।

তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের মানবিক কারণে বাংলাদেশে আশ্রয় দেওয়া হয়েছিল। চার বছর পরও তারা নিজের দেশে যাচ্ছে না। দিন দিন তাদের মিয়ানমারে ফেরা অনিশ্চিত হয়ে যাচ্ছে। তারা এ দেশে মাদক ব্যবসা ও নানা অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। অনেকে অবৈধভাবে এদেশের নাগিরক হয়ে যাচ্ছেন। রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে আরও তৎপর হওয়া উচিৎ। বৃহস্পতিবার একাদশ জাতীয় সংসদের চতুর্দশ অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে জিএম কাদের এসব কথা বলেন।

তিনি প্রশ্ন রেখে বলেছেন, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশ কি বন্ধুহীন হয়ে যাচ্ছে? এর দায় কার? কার ব্যর্থতা? পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাম্প্রতিক এক বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে জিএম কাদের বলেন, মন্ত্রীর কথায় মনে হচ্ছে, কোনও দেশেরই সহায়তা পাচ্ছে না বাংলাদেশ।

এ সময় সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা বাড়ানোর দাবি জানিয়ে জিএম কাদের বলেন, করোনার কারণে শিক্ষাঙ্গনে স্থবিরতা ছিল। শিক্ষার্থীদের জীবন থেকে হয়ত দুই বছর ঝরে যাবে। এসব বিবেচনায় সবার জন্য চাকরির বয়সসীমা ৩২ করা যায় কিনা বিবেচনা করা উচিৎ।

 

/ইএইচএস/এফএ/

সম্পর্কিত

আফগানিস্তানের ঘটনার আড়ালে রোহিঙ্গা ইস্যু চলে যাক চায় না বাংলাদেশ

আফগানিস্তানের ঘটনার আড়ালে রোহিঙ্গা ইস্যু চলে যাক চায় না বাংলাদেশ

সৌদি আরবের রোহিঙ্গাদের পাসপোর্ট দেওয়ার কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি

সৌদি আরবের রোহিঙ্গাদের পাসপোর্ট দেওয়ার কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি

রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে রেখে দেওয়ার প্রস্তাব বিশ্বব্যাংকের

রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে রেখে দেওয়ার প্রস্তাব বিশ্বব্যাংকের

ভাসানচরে রোহিঙ্গাদের দেখভালে জাতিসংঘ-সরকার একমত

ভাসানচরে রোহিঙ্গাদের দেখভালে জাতিসংঘ-সরকার একমত

বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে গবেষণা অব্যাহত রাখতে হবে: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়কমন্ত্রী

আপডেট : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১৮:৪৯

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক  মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেছেন, একটি গ্রন্থের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুর বিশালতাকে তুলে ধরা কঠিন। বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে গবেষণা অব্যাহত রাখতে হবে।

বৃহস্পতিবার (১৬ সেপ্টেম্বর) মুজিববর্ষ উপলক্ষে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে 'স্মৃতিতে সতত উজ্জ্বল বঙ্গবন্ধু' বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে তিনি একথা বলেন। এতে বঙ্গবন্ধুর সংস্পর্শে থাকা 'লাল মুক্তিবার্তা: স্মরণীয় যারা বরণীয় যারা'  তালিকায় অন্তর্ভুক্ত ২৩ জন বীর মুক্তিযোদ্ধার স্মৃতিচারণমূলক লেখা অন্তর্ভুক্ত  হয়েছে।

এ সময় মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব খাজা মিয়াসহ মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।

মন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধু ছিলেন সব দিকেই দক্ষ একজন রাষ্ট্রনায়ক। তাঁর সাড়ে তিন বছরের শাসনামল এর উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু পৃথিবীতে একমাত্র নেতা যিনি তাঁর  জীবদ্দশায় একাধারে স্বাধীনতার স্বপ্ন দেখেছেন, স্বাধীনতা যুদ্ধে দেশের জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করেছেন এবং স্বাধীনতা অর্জন করেছেন। বঙ্গবন্ধুর জন্ম না হলে আজও হয়তো আমরা পরাধীন থাকতাম।

তিনি আরও বলেন, বঙ্গবন্ধু অল্প দিনেই বিশ্ব নেতায় পরিণত হয়েছিলেন। বঙ্গবন্ধু বিশ্ব সভায় দাঁড়িয়ে বলেছিলেন, বিশ্ব আজ দুই ভাগে বিভক্ত। একদিকে শোষক আর একদিকে শোষিত, আমি শোষিতের পক্ষে। বিশ্ব সভায় তিনি বাংলাদেশের নেতা হিসেবে কথা বলেননি, বিশ্বনেতা হিসেবে কথা বলেছেন। তিনি বলেছিলেন, অস্ত্র প্রতিযোগিতা বন্ধ করে এই পয়সা দিয়ে দারিদ্র্য বিমোচনের জন্য, শিক্ষার, স্বাস্থ্যের জন্য খরচ করতে বলেছিলেন। জাতিসংঘে দাঁড়িয়ে তিনি উপদেশ দিতেন, বিশ্বের নীতি কী হওয়া উচিত।

বঙ্গবন্ধু জীবিত থাকলে বাংলাদেশ অনেক আগেই উন্নত দেশে পরিণত হতো বলে মন্ত্রী উল্লেখ করেন।

/এসও/এমএস/

সম্পর্কিত

ভার্চুয়াল বিচারের পরিধি বাড়ানোর তাগিদ রাষ্ট্রপতির

ভার্চুয়াল বিচারের পরিধি বাড়ানোর তাগিদ রাষ্ট্রপতির

ইউএনওর মতো নিরাপত্তা পাবেন উপজেলা চেয়ারম্যান

ইউএনওর মতো নিরাপত্তা পাবেন উপজেলা চেয়ারম্যান

রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরা অনিশ্চিত হয়ে পড়ছে

রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরা অনিশ্চিত হয়ে পড়ছে

‘আমাদের বাড়ির ভাত কার পেটে না গেছে’

‘আমাদের বাড়ির ভাত কার পেটে না গেছে’

‘আমাদের বাড়ির ভাত কার পেটে না গেছে’

আপডেট : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১৮:৩৭

বিশ্বাসঘাতকদের সমালোচনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ আমাদের দলে বেইমান তো ছিলই। খন্দকার মোস্তাক-টোস্তাক তো ছিলই। এটা তো অস্বীকার করি না। আমাদের বাড়ির ভাত কার পেটে না গেছে। জিয়াউর রহমান তো খালেদা দিয়াকে নিয়ে মাসে একবার করে আমাদের বাড়ি গিয়ে বসে থাকতো।’ 

বৃহস্পতিবার (১৬ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদের ১৪তম অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বিএনপির সমালোচনা করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘এদের থেকে এখন মানবাধিকারের কথা শুনতে হয়। জ্ঞানের কথা শুনতে হয়। আইনের শাসনের কথা শুনতে হয়। আমার বাবা-মার হত্যার বিচার চেয়ে আমি মামলা করতে পারিনি। আমাদের সেই অধিকার ছিল না।’ 

বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলায় জিয়াউর রহমানকে আসামি করতে চেয়েছিলেন ‍উল্লেখ করে বঙ্গবন্ধুকন্যা বলেন, ‘সে পঁচাত্তরের হত্যার সঙ্গে জড়িত এতে কোনও সন্দেহ নেই। আমি তাকে আসামি করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু আমাদের তখনকার স্বরাষ্ট্রসচিব রেজাউল হায়াত বলেছিলেন—মৃত মানুষকে তো আসামি করা যায় না। আমার মনে হয় নামটা (আসামি হিসেবে) থাকা উচিৎ ছিল। কারণ জিয়া যে ষড়যন্ত্রে জড়িত তা ফারুক-রশিদ নিজেরাই বলেছে। একাধিক বইতে আছে। আর জড়িত না হলে যেসব যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হয়েছিল তাদের ছেড়ে দিলো কেন? জিয়াউর রহমান সেই বিচার বন্ধ করে সবাইকে কারাগার থেকে মুক্তি দিলো। সাত খুনের আসামিকে ছেড়ে দিলো। খুনিদের ডেকে এনে দল করলো। স্বাধীনতা যুদ্ধই যদি করে থাকে তাহলে একাত্তরের অগ্নিসংযোগকারী, খুনি ধর্ষণকারীদের কেন মন্ত্রী উপদেষ্টা বানালো? সংসদে বসালো। বঙ্গবন্ধুর খুনিদের দূতাবাসে চাকরি দিয়ে পুরস্কৃত করলো। তার বউ খালেদা জিয়াকে আরও একধাপ ওপরে গিয়ে এমপি বানিয়ে সংসদে বসালো। খুনি, অপরাধী, ধর্ষণকারী, যুদ্ধাপরাধী, জঙ্গি-এদের সঙ্গে তাদের বসবাস।’

বিএনপির হারুনুর রশীদের বক্তব্যের সূত্র ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সংসদে বলা হয়েছে জিয়াউর রহমান যে সেক্টরে দায়িত্ব পালন করেছেন, সেখানে সব থেকে বেশি প্রাণহানি হয়েছে। তা হলে প্রশ্ন আসে, সে তাহলে যুদ্ধে কী কাজ করেছে। পাকিস্তানিদের পক্ষে? যাতে আমাদের মুক্তিযোদ্ধারা মৃত্যুবরণ করে, সেই ব্যবস্থা করেছিল কিনা—সেটাই আমার প্রশ্ন। সেক্টরের অধিনায়ক করে প্রাণহানি বাড়িয়ে দেওয়ার মানে কী? নিজের হাতে নিজেদের লোকদের এগিয়ে দিয়েছে মরতে। মেজর হাফিজের বইতে কী আছে? এখন বই চেঞ্জ করছে।’

সংসদ সদস্যদের উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ‘জিয়ার আমলে প্রত্যেকটি কারাগারে কত মানুষকে ফাঁসি দিয়ে মারা হয়েছে। তার রেকর্ড তো থেকে যায়। সেগুলো একটু খুঁজে বের করে দেখেন।’

 

/ইএইচএস/আইএ/

সম্পর্কিত

ভার্চুয়াল বিচারের পরিধি বাড়ানোর তাগিদ রাষ্ট্রপতির

ভার্চুয়াল বিচারের পরিধি বাড়ানোর তাগিদ রাষ্ট্রপতির

ইউএনওর মতো নিরাপত্তা পাবেন উপজেলা চেয়ারম্যান

ইউএনওর মতো নিরাপত্তা পাবেন উপজেলা চেয়ারম্যান

বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের টিকার নিবন্ধনে ওয়েবলিংক চালু

বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের টিকার নিবন্ধনে ওয়েবলিংক চালু

গণমাধ্যম দেখে দেশ চালাই না: শেখ হাসিনা

গণমাধ্যম দেখে দেশ চালাই না: শেখ হাসিনা

সর্বশেষসর্বাধিক

লাইভ

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

ভারত কথা দিয়েছে সীমান্তে আর হত্যাকাণ্ড ঘটবে না: ওবায়দুল কাদের

ভারত কথা দিয়েছে সীমান্তে আর হত্যাকাণ্ড ঘটবে না: ওবায়দুল কাদের

বাংলাদেশকে ভারতের ৩০ অ্যাম্বুলেন্স উপহার

বাংলাদেশকে ভারতের ৩০ অ্যাম্বুলেন্স উপহার

ট্রেনে তৃতীয় ধাপে ২০০ মে. টন অক্সিজেন দেশে পৌঁছেছে

ট্রেনে তৃতীয় ধাপে ২০০ মে. টন অক্সিজেন দেশে পৌঁছেছে

ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রীকে আম পাঠালেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা 

ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রীকে আম পাঠালেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা 

'যুক্তরাষ্ট্র-ভারতের কোয়াডে থাকলে ঢাকা-বেইজিং সম্পর্ক খারাপ হবে'

'যুক্তরাষ্ট্র-ভারতের কোয়াডে থাকলে ঢাকা-বেইজিং সম্পর্ক খারাপ হবে'

শেখ হাসিনাকে পাঠানো মমতা’র চিঠিকে যেভাবে দেখছেন বিশ্লেষকরা

শেখ হাসিনাকে পাঠানো মমতা’র চিঠিকে যেভাবে দেখছেন বিশ্লেষকরা

ভারতকে রেমডিসিভির হস্তান্তর

ভারতকে রেমডিসিভির হস্তান্তর

ভারতে রেমডিসিভির হস্তান্তর বৃহস্পতিবার

ভারতে রেমডিসিভির হস্তান্তর বৃহস্পতিবার

সর্বশেষ

ছিনতাইকারীকে ধরতে গিয়ে ছুরিকাঘাতে আহত দিনমজুরের মৃত্যু

ছিনতাইকারীকে ধরতে গিয়ে ছুরিকাঘাতে আহত দিনমজুরের মৃত্যু

ইভ্যালিতে প্রতারিতরা কি টাকা ফেরত পাবেন?

ইভ্যালিতে প্রতারিতরা কি টাকা ফেরত পাবেন?

এক দশক পর ভেলভেট উইংস (ভিডিও)

এক দশক পর ভেলভেট উইংস (ভিডিও)

নেতাদের ‘চিন্তা বিনিময়’ থেকে কতটা ‘শিক্ষা’ নেবে বিএনপি?

৩ দিনব্যাপী বৈঠক অনুষ্ঠিতনেতাদের ‘চিন্তা বিনিময়’ থেকে কতটা ‘শিক্ষা’ নেবে বিএনপি?

কয়েদিদের প্রেমের সম্পর্কে জড়ানো নিষিদ্ধ করলো ডেনমার্ক

কয়েদিদের প্রেমের সম্পর্কে জড়ানো নিষিদ্ধ করলো ডেনমার্ক

© 2021 Bangla Tribune