X
মঙ্গলবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১৩ আশ্বিন ১৪২৮

সেকশনস

স্মরণে দিলীপ কুমার

বলিউড ট্র্যাজেডি বাদশাহর যত অজানা

আপডেট : ০৭ জুলাই ২০২১, ১৭:২৩

শক্তিমান অভিনেতা দিলীপ কুমার যে কতবড় ‘পাওয়ারহাউস’ ছিলেন সেটা প্রমাণ হয় তার কাজ, কথা ও অর্জনে। এমনই কিছু অজানা জানা যাক এবার-

সিক্রেট মিশন

কোনও সিনেমায় নয়, ভারত সরকারের অনুরোধে সত্যিই পাকিস্তানে দু’বার গিয়েছিলেন সিক্রেট মিশনে। অবশ্য গোয়েন্দাগিরি করতে যাননি, গিয়েছিলেন কূটনৈতিক আলাপ করতে। একবার গিয়েছিলেন পাকিস্তানের সাবেক স্বৈরশাসক জিয়া-উল-হকের আমলে, আরেকবার কথা বলেছিলেন নওয়াজ শরিফের সঙ্গে। আর এ তথ্য জানা গেছে পাকিস্তানেরই এক সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রীর লেখা একটি বইতে। দিলীপের স্ত্রী সায়রা বানু তাকে জানিয়েছিলেন এ তথ্য। দু’বারই গিয়েছিলেন ভারতের বিশেষ ফ্লাইটে।

মেথড অ্যাক্টর

ভারতে মেথড অ্যাক্টিং-এর জনক বলা হয় দিলীপ কুমারকে। মানে চরিত্রের ভেতরে ঢুকে নিজেকে প্রকাশ করার জন্য বারবার রিহার্সাল ও প্রশিক্ষণ নিয়ে অভিনয় করতেন তিনি। আজ থেকে বহুদিন আগে দিলীপের প্রশংসা করতে গিয়ে সত্যজিৎ রায় বলেছেন, দিলীপ কুমার হলেন ‘আলটিমেট মেথড অ্যাক্টর’। বলা হয় দিলীপ কুমারের অভিনয় কৌশল থেকেই অনুপ্রেরণা নিয়েছেন শাহরুখ খানসহ আরও অনেকে।

১২৫০ রুপি

প্রথম সিনেমা ‘জোয়ার-ভাটা’র জন্য বম্বে টকিজের প্রযোজক ও অভিনেত্রী দেবিকা রানির সঙ্গে দিলীপকে পরিচয় করিয়ে দেন তার এক বন্ধু। দিলীপের কিছু অডিশন ও কাজের নমুনা দেখে তিনি তাকে ১২৫০ রুপি বেতনে অভিনয়ের প্রস্তাব দেন। দিলীপ ভেবেছিলেন ওটা বুঝি বাৎসরিক বেতন। পরে জানতে পারেন, দিলীপের ভেতর সম্ভাবনা দেখেছিলেন দেবিকা, এ কারণে ওটা ছিল মাসিক বেতন। ১৯৪৪ সালে ওই ১২৫০ রুপিই কিন্তু আজকের লাখ টাকার সমান।

বিনয়ী দিলীপ

ভারতের সবচেয়ে নামকরা সিনেমাগুলোর একটি ‘মাদার ইন্ডিয়া’। এ ছবিতে নারগিসের ছেলের ভূমিকায় দিলীপকে চেয়েছিলেন প্রযোজক-পরিচালকরা। কিন্তু দিলীপ বিনয়ের সঙ্গে ফিরিয়ে দেন। কারণ হিসেবে বলেন, ‘মেলা’ (১৯৪৮) ও ‘বাবুল’ (১৯৫০) সিনেমায় তিনি ছিলেন নারগিসের নায়ক। এখন এত বড় ক্যানভাসের একটি চিত্রনাট্যে তাকে দর্শকরা নার্গিসের সন্তানের ভূমিকায় ঠিক মেনে নিতে পারবে না।

ইউসুফ খান

দিলীপের নামের শেষেও কিন্তু খান আছে! তার জন্ম পাকিস্তানের (তৎকালীন ভারতবর্ষ) এক মুসলিম পরিবারে। শুরুতে নাম ছিল ইউসুফ খান। বলিউডে আসার পর নাম বদলান তিনি। অবশ্য তার শৈশব ও স্কুলজীবন কেটেছিল ভারতের মহারাষ্ট্রে।

কিং অব ট্রাজেডির নেপথ্যে

দিলীপকে বলা হতো কিং অব ট্রাজেডি। বেশিরভাগ ছবিতেই তার করুণ পরিণতি চাইতেন চিত্রনাট্যকাররা। দিলীপের বয়স যখন ২২-২৩, তখন থেকেই এ ধরনের চরিত্রে অভিনয় করে চলেছিলেন তিনি। এত অল্প বয়সে ট্র্যাজিক চরিত্রে কাজ করতে গিয়ে তার মাথায় রীতিমতো ঝড় বয়ে যায়। ফিল্মফেয়ারকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দিলীপ বলেন, ‘ওই সময়কার নামকরা ট্র্যাজেডিয়ান যেমন- স্যার জন গিলগাড ও লরেন্স অলিভিয়ারা ট্র্যাজিক চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন ত্রিশের পর। কিন্তু আমি ঢের কম বয়সে ট্রাজেডি করেছি। এটা আমার ব্যক্তিত্বে বড় একটা প্রভাব ফেলে। শুধু ‘দেবদাস’-এ নয়, পরের ছবিগুলোতেও দেখা যাচ্ছে ওই প্রভাব থেকে যাচ্ছে। আমি আমার চেহারা থেকে মরা মরা ভাবটা দূর করতে মরিয়া ছিলাম। এর জন্য ইংল্যান্ডের এক কোচের পরামর্শও নিই। তিনি বলেছিলেন, আমি যেন টুকটাক কমেডিও করতে থাকি।’

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া

/এমএম/

সম্পর্কিত

ফল বিক্রেতার ছেলে থেকে সুপারস্টার হয়ে ওঠা!

ফল বিক্রেতার ছেলে থেকে সুপারস্টার হয়ে ওঠা!

নেই কোনও উত্তরসূরি, ছিল না আফসোসও...

নেই কোনও উত্তরসূরি, ছিল না আফসোসও...

চলে গেলেন কিংবদন্তি অভিনেতা দিলীপ কুমার

চলে গেলেন কিংবদন্তি অভিনেতা দিলীপ কুমার

৫ ব্যান্ড নিয়ে আবারও ফিরছে কনসার্ট

আপডেট : ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১৮:৩২

অনেকদিন পর আবারও মঞ্চে দেখা যাবে দেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যান্ডগুলোকে। করোনাকালীন দীর্ঘ বিধিনিষেধের পর ফের আয়োজন হচ্ছে বড় কনসার্ট।

ইন্টারন্যাশনাল কফি ডে উপলক্ষে আগামী ১ অক্টোবর এটি অনুষ্ঠিত হবে। এর নাম রাখা হয়েছে- ‘কফি কার্নিভ্যাল, ঢাকা’। এতে অংশ নেবে আর্টসেল, শিরোনামহীন, নেমেসিস, অ্যাভোয়েডরাফাসহ আরও একটি দল।

কনসার্টটির আয়োজক ব্র্যান্ডমিথ কমিউনিকেশন। প্রতিষ্ঠানটির ক্যাম্পেইন অপারেশন ডিরেক্টর শেখ মাহদি হাসান বলেন, ‌‘লকডাউনের পর রেস্টুরেন্টভিত্তিক ছোট কিছু আয়োজন এর আগে হয়েছে। তবে বড় পরিসরে আমাদের এটি হতে যাচ্ছে। যেখানে দেশের শীর্ষস্থানীয় পাঁচটি ব্যান্ড অংশ নেবে। আশা করি, কফির সঙ্গে এই কনসার্টটি খুবই উপভোগ্য হবে।’

১ অক্টোবর বিকাল ৪টার দিকে বসুন্ধরার আইসিসিবির পুষ্পগুচ্ছতে কনসার্টটি হবে। যা চলবে রাত ১০টা পর্যন্ত। তবে ইভেন্টের জন্য দুপুর ১টা ৩০ মিনিটেই গেট খুলে দেওয়া হবে। শ্রোতারা ২ হাজার টাকা দর্শনীর বিনিময়ে এটি উপভোগ করতে পারবেন।

/এম/এমএম/

সম্পর্কিত

নওশাবার স্বল্পদৈর্ঘ্য ও পথনাটক চমক (ভিডিও)

নওশাবার স্বল্পদৈর্ঘ্য ও পথনাটক চমক (ভিডিও)

অপু বিশ্বাসের সঙ্গেও কাজ করতে চান বুবলী!

অপু বিশ্বাসের সঙ্গেও কাজ করতে চান বুবলী!

‘বাবা দেখে যেতে পারলে আরও তৃপ্তি পেতাম’

‘বাবা দেখে যেতে পারলে আরও তৃপ্তি পেতাম’

‘মানুষ’ শেখ হাসিনাকে নিয়ে জয়া আহসানের কিছু স্মৃতি

‘মানুষ’ শেখ হাসিনাকে নিয়ে জয়া আহসানের কিছু স্মৃতি

নওশাবার স্বল্পদৈর্ঘ্য ও পথনাটক চমক (ভিডিও)

আপডেট : ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১৮:৩০

পূর্ণদৈর্ঘ্য-স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র, পাপেট শো আর পথনাটকের সূত্র ধরে কাজী নওশাবা আহমেদ এগিয়ে চলছেন সাম্প্রতিক অন্য যে কোনও অভিনেত্রীর চেয়ে খানিক ভিন্ন উপায়ে। যার বেশিরভাগ চরিত্রই চ্যালেঞ্জিং ও বৈচিত্র্যময়।

সর্বশেষ তিনি প্রশংসিত হচ্ছেন স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র বা ওভিসি (অনলাইন ভিডিও কমিউনিকেশন) ‘আফিয়ার গল্প’ দিয়ে। এতে তিনি অভিনয় করেছেন একজন সাংবাদিক চরিত্রে। যেখানে তিনি তুলে ধরেন, একজন উচ্ছল কিশোরীর বিমর্ষ হয়ে যাওয়ার নির্মম গল্প। এটি নির্মাণ করেছেন কাওসার ইসলাম প্রান্ত।

বাঁচাও নামের একটি সোশ্যাল নেটওয়ার্ক অ্যাপের ইউটিউব চ্যানেলে এটি উন্মুক্ত হয় ২৬ সেপ্টেম্বর। বিনিময়ে নওশাবার পক্ষে মেলে দারুণ প্রশংসা।

সেটি অতিক্রম করতে ফের প্রস্তুত নওশাবা। এবার তিনি হাজির হচ্ছেন পথনাটক নিয়ে। নাম ‘অদৃশ্যতা’। ১ অক্টোবর সন্ধ্যা ৬টা ১০ মিনিট থেকে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির উন্মুক্ত মঞ্চে প্রদর্শিত হবে এটি।

এটি রচনা করেছেন প্রশান্ত কুমার রায় এবং নির্দেশনায় কাদেরুজ্জামান কমল। এতে আরও অভিনয় করছেন বৈশাখী ঘোষ, মিল্টন চাকমা, কপোতাক্ষী নূপুরমা সিঞ্চি, শ্রেয়শ্রী সরকার, স্বস্তিকা ভট্টাচার্য প্রমুখ।  

নাটকটি প্রসঙ্গে নওশাবা বলেন, ‘বর্তমান যে সভ্যতাকে আমরা সভ্যতা বলছি তা অনেকটা সংঘর্ষে ও সংকটে পরিপূর্ণ। এটা কী সভ্যতা নাকি শুধুই মরিচীকা, নাকি ধ্বংসস্তূপ? প্রশ্নটা থেকে যায় এবং উত্তর খোঁজার অপেক্ষায় থাকে কিছু মানুষ। মূলত এমন প্রসঙ্গ নিয়েই নাটকটি।’

সাম্প্রতিক সময়ে নওশাবা ব্যস্ত সময় পার করছেন বন্ধন বিশ্বাসের ‘ছায়াবৃক্ষ’, সাইফ চন্দনের ‘পোস্টার’, রাশেদ রাহার ‘ডোম’, আরিফ খানের ‘দোলাচল’, অনন্য মামুনের ‘অমানুষ’, হাবিবুর রহমানের ‘জলকিরণ’ চলচ্চিত্রগুলো নিয়ে।

/এমএম/

সম্পর্কিত

স্কুলে ফিরলেন নওশাবা, ছাত্রী হলেন দশম শ্রেণীর!

স্কুলে ফিরলেন নওশাবা, ছাত্রী হলেন দশম শ্রেণীর!

নওশাবাকে নিয়ে ‘অমানুষ’ নিরবের শেষ দিন

নওশাবাকে নিয়ে ‘অমানুষ’ নিরবের শেষ দিন

কোনও অত্যাচারের পরিণতি ভালো হয় না: নওশাবা

কোনও অত্যাচারের পরিণতি ভালো হয় না: নওশাবা

দীর্ঘদিন পর নতুন গানে ফেরা...

দীর্ঘদিন পর নতুন গানে ফেরা...

অপু বিশ্বাসের সঙ্গেও কাজ করতে চান বুবলী!

আপডেট : ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১৭:৪৭

জুটি হিসেবে একটা সময় শাকিব খান-অপু বিশ্বাসের নাম মানুষের মুখে মুখে ফিরেছে। এরপর প্রেম ও দাম্পত্য সম্পর্কে জড়িয়েছেন তারা। অবশেষে হলেন আলাদাও। 

অপুর প্রস্থানে শাকিব-শবনম বুবলী জুটিও মানুষের কাছে প্রিয়। 

অন্যদিকে, শাকিবের ব্যক্তিগত জীবনে অপুর সঙ্গে বুবলীর নামটিও চলে আসে। আর এ কারণেই অনেকে মনে করেন, বেশ তিক্ত সম্পর্ক বোধহয় এই দুই নায়িকার। 

তবে বিষয়টি নিয়ে এবার মুখ খুললেন বুবলী। জানালেন, তাদের মধ্যে নেই কোনও রেষারেষি। গতকাল (২৭ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় এফডিসিতে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে অপুর সঙ্গে কাজ করতে আপত্তি নেই বলেও জানান তিনি।

বুবলী বলেন, ‘যদি তেমন সুযোগ আসে, সেটা সময়ই বলে দেবে। তবে গল্পের প্রয়োজনে অপু বিশ্বাসের সঙ্গে অভিনয় করতেও আপত্তি নেই। যখন আমরা শিল্পীরা একসঙ্গে কাজ করি, তখন আমাদের মধ্যে এমন কোনও বিষয় থাকে না। বাইরে থেকে মানুষ অনেক কিছু চিন্তা করেন, যা স্রেফ গুজব।’

সৈকত নাসির পরিচালিত ‘তালাশ’ ছবির শুটিং সেটে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে কথাগুলো বলেন বুবলী।

ব্যক্তিগত সম্পর্ক প্রসঙ্গে এই নায়িকা আরও বলেন, ‘অপু বিশ্বাসের সঙ্গে আমার দেখাও হয় না। তাহলে তার সঙ্গে আমার রেষারেষি কেন থাকবে! মানুষ মনে মনে হয়তো বহু কথা ভেবে বসে থাকেন, যা ঠিক নয়। আমার কাছে ভালো গল্পের সিনেমা হলে সবার সঙ্গেই কাজ করার ইচ্ছে। একটা সময় শাকিব খানের বাইরে আমাকে পাওয়া যায় না বলেও কথা উঠতো; এখন তো অনেকের সঙ্গে কাজ করছি।’

শবনম বুবলী শীর্ষ নায়ক শাকিব খানের হাত ধরেই রুপালি পর্দায় যাত্রা হয় সংবাদ পাঠিকা শবনম বুবলীর। ২০১৬ সালে শামীম আহমেদ রনির ‘বসগিরি’ দিয়ে শুরু। শাকিব-বুবলী এরপর কাজ করেন ‘শুটার’, ‘রংবাজ’, ‘অহংকার’, ‘চিটাগাইঙ্গা পোলা নোয়াখাইল্যা মাইয়া’, ‘ক্যাপ্টেন খান’, ‘পাসওয়ার্ড’ ও ‘বীর’ ছবিতে।

এরপর শাকিব-বলয় থেকে বেরিয়ে সম্প্রতি নিরবের সঙ্গে ‘ক্যাসিনো’, নিরব-রোশানের সঙ্গে ‘চোখ’, একে আজাদ আদর ও আসিফ আহসান খানের সঙ্গে ‘তালাশ’ ছবিতে কাজ করছেন বুবলী।

/এম/এমএম/এমওএফ/

সম্পর্কিত

আদরের নায়িকা বুবলী!

আদরের নায়িকা বুবলী!

ফকির আলমগীরের নামে দুটি সড়ক

‘বাবা দেখে যেতে পারলে আরও তৃপ্তি পেতাম’

আপডেট : ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১৮:৫৮

রাজধানীর খিলগাঁও চৌধুরীপাড়ার ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের ৬ নম্বর সড়কটি (হোল্ডিং নং ১৩২১ থেকে ১২৮০ হয়ে ১২৬৬ পর্যন্ত) ‘মুক্তিযোদ্ধা ও গণসংগীত শিল্পী ফকির আলমগীর সড়ক নামে’ নামকরণ করা হয়েছে। 

২৬ সেপ্টেম্বর গুলশানে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) নগর ভবনে দ্বিতীয় পরিষদের অষ্টম করপোরেশন সভায় এ সিদ্ধান্ত জানান মেয়র আতিকুল ইসলাম।

এদিকে সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে এমন উদ্যোগকে সাধুবাদ জানান ফকির পরিবার। প্রকাশ হয় আফসোসও! 

ফকির আলমগীরের ছেলে মাশুক আলমগীর রাজীব বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমাদের পুরো পরিবার বাংলাদেশ সরকার ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। এই সড়ক নামকরণের মাধ্যমে আমার বাবা পরিচিত হয়ে থাকবেন প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম। অন্তত নতুন প্রজন্ম একবার হলেও জানতে পারবে, ফকির আলমগীর নামে একজন মুক্তিযোদ্ধা ও শিল্পী ছিলেন এই দেশে।’ 

আফসোস করে মাশুক বলেন, ‘সড়কটি বাবা দেখে যেতে পারলে আমরা আরও তৃপ্তি পেতাম। কিন্তু সবই আল্লাহর ইচ্ছা। এই রাস্তাটি নামকরণের পুরো প্রক্রিয়া আগেই (২০১৮) মন্ত্রণালয় থেকে পাস হয়েছিল। কিন্তু মেয়র নির্বাচনের কারণে আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় বিষয়টি পিছিয়ে যায়। ফলাফল বাবা দেখে যেতে পারলেন না! অথচ রাষ্ট্রের কাছ থেকে এমন উপহারের বিষয়ে জানতে পেরে, বাবা যে কী খুশি হয়েছিলেন তখন। আবার আটকে যাওয়ার পর মন খারাপও করেছিলেন। সেসব কথা এখন খুব মনে পড়ে। তবু বাবা যেখানে আছেন, হয়তো বা দেখে তার বিদেহী আত্মা কিছুটা হলেও শান্তি পাচ্ছে।’

বাবার সঙ্গে ছেলে পেশায় শিক্ষক মাশুক জানান, রাজধানীর এই সড়ক ছাড়াও ফকির আলমগীরের জন্মস্থান ফরিদপুরের মালি গ্রাম থেকে কালামৃধা পর্যন্ত আরও একটি সড়কের নামকরণ করা হয়েছে তার বাবার নামে।

/এমএম/এমওএফ/

সম্পর্কিত

ফকির আলমগীরের সমাধিতে শ্রদ্ধা জানালো সংগীত ঐক্য বাংলাদেশ

ফকির আলমগীরের সমাধিতে শ্রদ্ধা জানালো সংগীত ঐক্য বাংলাদেশ

বৃষ্টিতে ভিজে এলেন তিনি, ছাতা নিয়েও আসেনি কেউ...

বৃষ্টিতে ভিজে এলেন তিনি, ছাতা নিয়েও আসেনি কেউ...

শহীদ মিনারে ফকির আলমগীরের প্রতি শেষ শ্রদ্ধা

শহীদ মিনারে ফকির আলমগীরের প্রতি শেষ শ্রদ্ধা

শহীদ মিনারে ফকির আলমগীরকে জানানো হবে শেষ শ্রদ্ধা 

শহীদ মিনারে ফকির আলমগীরকে জানানো হবে শেষ শ্রদ্ধা 

‘মানুষ’ শেখ হাসিনাকে নিয়ে জয়া আহসানের কিছু স্মৃতি

আপডেট : ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১৮:৩৩

আজ (২৮ সেপ্টেম্বর) আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭৫তম জন্মদিন। রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক নানা কর্মকাণ্ডের বাইরেও তিনি মানবিক মানুষ হিসেবে নানা অঙ্গনে প্রশংসিত। ব্যক্তিগতভাবে অনেকেই তার সংস্পর্শে গিয়ে হয়েছেন মুগ্ধ। এবার তেমনই এক স্মৃতিচারণ করেছেন দুই বাংলার অন্যতম অভিনেত্রী জয়া আহসান।

‘‘এত বছর আগের একটা দিন, কিন্তু শেখ হাসিনার সেই ছবিটি এখনও উজ্জ্বল হয়ে আছে মনে। কিশোরীবেলার অনেক ঝলমলে স্মৃতি একসঙ্গে মিলেমিশে আছে বলেই হয়তো। উত্তুঙ্গ আন্দোলনের মধ্য দিয়ে জেনারেল এইচ এম এরশাদের সবেমাত্র পতন হয়েছে। সেনা শাসকের পতনের পর (১৯৯০ সালের দিকে) মনে হলো, বদ্ধ দরজা খুলে আবার আলো এলো। বাবা (এ এস মাসউদ) বললেন, ‘চল, আমার সঙ্গে। তোদের একটা জায়গায় নিয়ে যাই।’ কোন জায়গায়? কার কাছে? কিছুই জানি না। আমি আর আমার ছোট বোন কান্তা চললাম বাবার সঙ্গে। কান্তা চড়ে বসলো বাবার কাঁধে। আমি ধরলাম তার হাত।

মানুষের উজান ঠেলে পল্টন হয়ে বাবা আমাদের নিয়ে সোজা উঠলেন ৩২ নম্বর ধানমন্ডিতে বঙ্গবন্ধুর ইতিহাস ভরা বাড়িটিতে। যেন বেশ চেনা একটা আত্মীয়ের বাড়ি, এমনই নিশ্চিন্তে গিয়ে হাজির হলেন একটা ঘরের সামনে। দরজা ঠুকে বললেন, ‘বুবু, আসবো?’ শেখ হাসিনা কে, কী, সেসব কিছু বুঝিনি তখন। মনে মনে শুধু ভেবেছি, ও... ইনিই তাহলে বঙ্গবন্ধুর মেয়ে! বিছানায় ‘দ’–এর ভঙ্গিতে কিছুটা অর্ধশায়িত। ঘরোয়া মেজাজ। কিছুটা কি ক্লান্ত? আওয়ামী লীগের সভানেত্রী হিসেবে সেনা শাসনবিরোধী দীর্ঘ আন্দোলনের ঝড়ঝাপটা বয়ে গেছে তার ওপর দিয়ে। কিন্তু কোথাকার কী? আমাদের দেখেই সস্নেহ একটা হাসির রেখা ফুটে উঠলো মুখে। সোজা হয়ে বললেন, ‘কাকে নিয়ে এসেছ, বাবলা? তোমার মেয়ে বুঝি?’

সেই তাকে প্রথম দেখা। গায়ে সাধারণ একটা বেগুনি-ঘিয়ে রঙের ডুরে শাড়ি। মাথায় সামান্য ঘোমটা টানা। একেবারেই বাঙালি নারীর চিরচেনা আটপৌরে ছবি। শেখ হাসিনার চোখের রঙ আর দশজন সাধারণ বাঙালির মতো নয়। সেদিকে চোখ না পড়ে উপায়ই নেই। তবু সব ছাপিয়ে চোখ আঠার মতো আটকে গেলো তার চুলে। ঘন কালো চুলের এক মোটা গোছা। ঘোমটার আড়াল থেকে বেরিয়ে পিঠ বেয়ে এঁকেবেঁকে নেমে গেছে কোমর পর্যন্ত। এমন দীর্ঘ আর চওড়া চুলের গোছাও হয় মানুষের? মনে খচিত হয়ে গেলো উজ্জ্বল ও চিরন্তন সেই বাঙালি ছবিটি।

এরপর তো পদ্মা নদী দিয়ে বহু পানিই গড়িয়ে গেছে। বড় রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেত্রী থেকে তিনি এ দেশের প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন কয়েকবার। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তার নিজেরও বাহ্যিক রূপান্তর কম হয়নি। কিন্তু চুলের মোটা গোছাসহ তার যে ছবিটা সেদিন দেখেছিলাম, মনের গভীরে এখনও উজ্জ্বল হয়ে আছে সেই ছবিটিই। আমার কাছে সেটিই তাঁর স্থায়ী রূপাবয়ব।

প্রধানমন্ত্রীর গুরুদায়িত্বভার তাকে বহন করতে হয়। ছোটখাটো বিষয়ে মন দেওয়ার অবকাশ কোথায়? কিন্তু তার সঙ্গে ছোট ছোট দুয়েকটি অভিজ্ঞতায় দেখেছি, সামান্য বিষয়ের দিকেও তিনি সযত্ন দৃষ্টি রাখেন। প্রধানমন্ত্রী নন, নিতান্ত আপনজনের মতো। সেসব তার না রাখলেও চলে, তার হয়ে অন্য কেউ রাখলেই যথেষ্ট। তবু তিনি রাখেন। এ তার অসামান্য এক গুণ। প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব তার ভেতরের মানুষটিকে এখনও মোটেই পিষ্ট করে দিতে পারেনি।

একটা ঘটনা বলি। সেবার আমাকে ‘জিরো ডিগ্রি’ ছবিটির জন্য সেরা অভিনেত্রীর জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার দেওয়া হবে। পুরস্কার সবার হাতে তুলে দেওয়া হবে একটি অনুষ্ঠান করে। ঘটনাচক্রে সে বছর পশ্চিমবঙ্গেও আমাকে ‘মহানায়ক উত্তম কুমার’ সম্মাননা দেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে। সেবারই প্রথম কোনও নারী অভিনয় শিল্পীকে আয়োজকেরা এ পুরস্কার দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তাই আলাদা একটা মর্যাদার ব্যাপার হয়ে উঠেছিল পুরস্কারটি। অর্থমূল্যও ছিল যথেষ্ট। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে উপস্থিত থেকে পুরস্কার দেবেন।

ভালোই প্যাঁচ লেগে গেলো। দুটো পুরস্কার দেওয়ার তারিখ পড়লো একই দিনে। শুধু কি একই দিনে? পড়লো একই দিনের কাছাকাছি সময়ে, এক-দেড় ঘণ্টার এদিকে-ওদিকে। সকালে আর বিকালে হলেও সামাল দেওয়া যেত। একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে চলে যাওয়া যেতো আরেকটি অনুষ্ঠানে। আয়োজকদের অনুরোধ করে সময়টাকে আগ-পিছ নানা চেষ্টাচরিত্র করেও ফল হলো না। হবে যে না, সেটা এক রকম অনুমানও করেছিলাম। এত এত মানুষের সময়সূচি আবার মিলিয়ে সব ঠিক করা কি সহজ? কিন্তু জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার যে আমার দেশের সম্মাননা। তাছাড়া এর মর্যাদাও আলাদা। প্রধানমন্ত্রী নিজ হাতে এ পুরস্কার শিল্পী-কুশলীদের হাতে তুলে দেবেন। এই পুরস্কার না নিয়ে কি পারা যায়?

দেশেই রয়ে গেলাম। অনুষ্ঠানে যথারীতি আমার নাম ডাকা হলো। মঞ্চে উঠলাম পুরস্কার নিতে। প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে পুরস্কার নেওয়ার সময় কোমল গলায় তিনি জিজ্ঞেস করলেন, ‘জয়া, তুমি কলকাতায় যাওনি?’ তার মুখে এই প্রশ্ন? এত ব্যস্ততার মধ্যে এই অকিঞ্চিৎকর তথ্যটুকু তিনি শুনেছেন, শুনে মনেও রেখেছেন? শুধু এখানেই তো শেষ নয়। আগে কয়েকবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পাওয়া সত্ত্বেও যে আন্তর্জাতিক একটা সম্মাননার মায়া ছেড়ে দিয়ে আমি রয়ে গেছি, বক্তৃতা দিতে উঠে বললেন সে কথা। বললেন, এই হলো দেশের প্রতি ভালোবাসা। আমি তো বাকরুদ্ধ।

জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার মঞ্চে প্রধামন্ত্রীর হাত থেকে পদক নিচ্ছেন জয়া আহসান আমি গভীরভাবে অভিভূত হয়েছিলাম আরও একটি ঘটনায়। প্রকৃতি আর প্রাণীর প্রতি আমার প্রাণের টান। প্রাণী অধিকার নিয়ে কাজ করে, এমন কিছু সংগঠনের সঙ্গে তাই সক্রিয় যোগাযোগ রাখি। এ রকমই এক সংগঠন থেকে একবার খবর এলো, গণভবন লাগোয়া একটি জায়গা থেকে তারা একটি কুকুর উদ্ধার করেছে। গণভবনের চিফ সিকিউরিটি এসডিএন কবীর সাহেবের কাছে পরে শুনেছিলাম, গণভবনের বিস্তীর্ণ জায়গাজুড়ে অর্ধশতাধিক কুকুর আছে। আছে বেড়ালেরও দল। পোষা নয়। স্বাধীন ও ছন্নছাড়া। এত গাছপালা ভরা সবুজ একটা জায়গা। পাখপাখালিও সে কারণে এন্তার। যা হোক, দলছুট সারমেয় মহাশয় কোনও ফাঁকফোকর গলে গণভবনের বাইরে এসে অসুস্থ হয়ে পড়ে ছিল পথে।

সেই দলছুট মহাশয়ের একটা হিল্লে করা হলো। কিন্তু কবীর সাহেবের কাছ থেকে আরও যে তথ্য পেলাম, তাতে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি ভালোবাসায় বুকটা ভরে গেলো। সেই কুকুরগুলোর জন্য তিনি নিজেই খাবারের ব্যবস্থা করে রেখেছেন। ওদের জন্য ফার্ম থেকে মুরগির মাংস আসে। সেই মুরগির সঙ্গে চাল মিশিয়ে রোজ খাবার তৈরি হয়। বেড়ালগুলোর জন্য প্রতিদিনের বরাদ্দ ২০ লিটার করে দুধ। গণভবনের ভেতরের গাছগুলো থেকে ফল পাড়তে দেওয়া হয় না। ওইসব ফলপাকুড় পাখিদের ভোজ্য। তার নির্দেশে পশুপাখিগুলোর জন্য আলাদা একটা ব্যয় বরাদ্দ রাখা হয়েছে। রাষ্ট্র নিয়ে যার শত ব্যস্ততা, তার মনের একটি ভাগ তিনি এদের জন্যও দিয়ে রেখেছেন। ভেতর থেকে উপচে আসা গভীর ভালোবাসা ছাড়া কি আর এটি সম্ভব?

রাষ্ট্র আর রাজনীতি কোটি মানুষকে নিয়ে কাজ করে। তার তাই হাজার পথ, হাজার মত। সে নিয়ে জটিল বিতর্কের শেষ হবে না কোনও দিন। কিন্তু যৎসামান্য স্মৃতির গুচ্ছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার যে মানুষী রূপ দেখেছি, তার তুলনা মেলা ভার। এখনও যখনই তাকে দেখি, তখনই মনে ফিরে আসে কিশোরবেলায় দেখা মোটা চুলের গোছায় উজ্জ্বল সেই সস্নেহ মুখটি। অন্তরঙ্গ, নিবিড়, মমতামাখা।’’

প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে জয়া আহসানের পুরো লেখাটি:

/এম/এমএম/এমওএফ/

সম্পর্কিত

জয়া-নওয়াজুদ্দিনের ওয়েব সিরিজ নিয়ে অভিযোগ

জয়া-নওয়াজুদ্দিনের ওয়েব সিরিজ নিয়ে অভিযোগ

তাদের নিয়ে কলকাতার নায়িকাদের চাপা ক্ষোভ! 

তাদের নিয়ে কলকাতার নায়িকাদের চাপা ক্ষোভ! 

গেয়েও মুগ্ধ করলেন জয়া আহসান (ভিডিও)

গেয়েও মুগ্ধ করলেন জয়া আহসান (ভিডিও)

বলিউডে জয়া আহসান, নায়ক নওয়াজুদ্দিন সিদ্দিকি

বলিউডে জয়া আহসান, নায়ক নওয়াজুদ্দিন সিদ্দিকি

সর্বশেষসর্বাধিক

লাইভ

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

ফল বিক্রেতার ছেলে থেকে সুপারস্টার হয়ে ওঠা!

স্মরণে দিলীপ কুমারফল বিক্রেতার ছেলে থেকে সুপারস্টার হয়ে ওঠা!

নেই কোনও উত্তরসূরি, ছিল না আফসোসও...

স্মরণে দিলীপ কুমারনেই কোনও উত্তরসূরি, ছিল না আফসোসও...

চলে গেলেন কিংবদন্তি অভিনেতা দিলীপ কুমার

চলে গেলেন কিংবদন্তি অভিনেতা দিলীপ কুমার

সর্বশেষ

শিশুকে কুপিয়ে দেহ থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন

শিশুকে কুপিয়ে দেহ থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন

বিমানের সৈয়দপুর-কক্সবাজার রুটে ফ্লাইট শুরু ৭ অক্টোবর

বিমানের সৈয়দপুর-কক্সবাজার রুটে ফ্লাইট শুরু ৭ অক্টোবর

বিসিবিতে প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন উদযাপন

বিসিবিতে প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন উদযাপন

উত্তপ্ত রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়, অভিযুক্ত শিক্ষকের অপসারণ দাবি

উত্তপ্ত রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়, অভিযুক্ত শিক্ষকের অপসারণ দাবি

‘সামাজিক মাধ্যমে জঙ্গিবাদসহ অপশক্তির পুনরুত্থান নিরাপত্তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ’

‘সামাজিক মাধ্যমে জঙ্গিবাদসহ অপশক্তির পুনরুত্থান নিরাপত্তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ’

© 2021 Bangla Tribune