X
বৃহস্পতিবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১ আশ্বিন ১৪২৮

সেকশনস

তালেবান ঠেকাতে আফগান নারীদেরও সশস্ত্র প্রস্তুতি

আপডেট : ০৮ জুলাই ২০২১, ২২:৪৭
image

অস্ত্র হাতে তুলে নিচ্ছেন উত্তর ও মধ্য আফগানিস্তানের নারীরা। তালেবানের উত্থানের বিরোধিতায় শত শত নারী রাস্তায় নেমে মিছিল করছেন। অনেকেই আবার অ্যাসল্ট রাইফেল হাতে মিছিলের ছবি তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করছেন। এমন একটি মিছিল হয়েছে মধ্যাঞ্চলীয় ঘোর প্রদেশে। সাপ্তাহিক ছুটির দিনে সেখানে শত শত নারী রাস্তায় নেমে এসে অস্ত্র উঁচিয়ে তালেবানবিরোধী স্লোগান দেন।

তবে এসব নারী খুব শিগগিরই সামনের সারিতে গিয়ে তালেবানবিরোধী লড়াইয়ে নামবেন- তা নয়। কারণ, সামাজিক রক্ষণশীলতা যেমন রয়েছে তেমনি রয়েছে অভিজ্ঞতার অভাব। তবে যে মুহূর্তে আফগানিস্তানে দ্রুত তালেবানের উত্থান ঘটছে সেই সময়ে নারীদের এই মিছিল স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে, তালেবানদের অধীনস্থ হওয়াটা তাদের এবং পরিবারের জন্য কতটা ভীতিকর।

ঘোর প্রদেশের নারী বিষয়ক দফতরের প্রধান হালিমা পরশতীশ বলেন, "কোনও কোনও নারী কেবল নিরাপত্তা বাহিনীকে উৎসাহ দিতে চান প্রতীকীভাবে। কিন্তু অনেকেই আছে যারা যুদ্ধে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত। এরমধ্যে আমিও আছি। মাস খানেক আগে আমি এবং আরও কয়েকজন নারী গভর্নরকে বলেছি যে ‘আমরা যুদ্ধে যেতে প্রস্তুত’।”

সম্প্রতি আফগানিস্তানের বহু প্রান্তিক এলাকা দখলে নিয়েছে তালেবান। উত্তরাঞ্চলীয় বাদাখশান প্রদেশসহ বহু জেলার নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে তারা। অথচ ২০ বছর আগেও এসব এলাকায় ছিল তালেবান বিরোধীদের শক্ত অবস্থান। কিন্তু বর্তমানে তালেবানরা বেশ কয়েকটি প্রাদেশিক রাজধানী শহরও দখলে নিতে সক্ষম হয়েছে।

যেসব এলাকা তালেবানরা দখলে নিয়েছে সেখানকার অ্যাক্টিভিস্ট ও বাসিন্দারা জানিয়েছেন, নারীদের শিক্ষা, চলাফেরার স্বাধীনতা এবং পোশাকের ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছে। এরকম একটি এলাকায় নারীদের বোরকা পরার নির্দেশনা দিয়ে প্রচারপত্র ছড়ানো হয়েছে।

সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, আফগানিস্তানের দুর্গম ও চরম রক্ষণশীল এলাকার নারীরাও এখন আরও বেশি শিক্ষা, চলাচলের স্বাধীনতা, পরিবারে আরও বেশি ভূমিকা রাখতে চান। তবে তালেবানের শাসন তাদের ভিন্ন পথে নিয়ে যাবে।

লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিতে চান তারা

উত্তরাঞ্চলীয় আফগানিস্তানের জোজানে নারীদের লড়াইয়ের ইতিহাস রয়েছে। সেখানকার বাসিন্দা এক তরুণ নারী সাংবাদিক বলেন, ‘কোনও নারীই যুদ্ধ চায় না, আমি কেবল পড়াশোনা চালিয়ে যেতে চাই আর সহিংসতা থেকে দূরে থাকতে চাই, কিন্তু পরিস্থিতি আমাকে এবং অন্য নারীদের ঘুরে দাঁড়াতে বাধ্য করেছে।’

প্রাদেশিক রাজধানীতে ওই নারী সাংবাদিক অস্ত্র চালানোর প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। সম্প্রতি এই শহরটি দখল করে নিয়েছে তালেবান। নাম প্রকাশ করতে না চাওয়া ওই সাংবাদিক বলেন, ‘আমি চাই না এমন কেউ দেশের নিয়ন্ত্রণ নিক যারা নারীদের ইচ্ছামতো ব্যবহার করে। আমরা অস্ত্র হাতে তুলে নিয়েছি এটা দেখাতে যে প্রয়োজনে আমরাও লড়াই করবো।’

তার সঙ্গে আরও বহু নারী অস্ত্র প্রশিক্ষণ নিয়েছেন বলে জানান তিনি। অনভিজ্ঞতা সত্ত্বেও তালেবানদের মুখোমুখি হলে একটা সুবিধা নারীদের বেশি বলে জানান তিনি। তার কথায়, ‘তারা আমাদের কাছে নিহত হতে ভয় পায়। কারণ, এটা তাদের জন্য লজ্জাকর হবে।’

লড়াইয়ে নতুন নয় আফগান নারীরা

আফগানিস্তানে নারীদের অস্ত্র হাতে তুলে নেওয়ার খবর বিরল হলেও অভূতপূর্ব নয়। বিশেষ করে কম রক্ষণশীল এলাকার নারীদের কেউ কেউ এমনটা করেছেন। গত বছর বাবা-মাকে হত্যার পর অস্ত্র হাতে নিয়ে তালেবানদের একটি গ্রুপকে হটিয়ে দিয়ে আলোচনায় আসেন কামার গুল নামের এক তরুণী। তালেবান সদস্যদের মধ্যে তার স্বামীও ছিল।

সোভিয়েত আগ্রাসনের সময় এবং এর পরবর্তী গৃহযুদ্ধে আফগানিস্তানের একমাত্র নারী ওয়ারলর্ড হয়ে উঠেছিলেন বাগলান প্রদেশের বিবি আয়শা হাবিবি। তাকে সবাই কমান্ডার কাফতার বা কবুতর নামেই জানেন। এছাড়া সম্প্রতি উত্তরাঞ্চলীয় বালখে ৩৯ বছর বয়সী সালিমা মাজারি সম্মুখ সারিতে লড়াই করছেন। তিনি সেখানকার একটি জেলা গভর্নর।

গত দুই দশকে নিরাপত্তা বাহিনীতেও যোগ দিয়েছে আফগান নারীরা। হেলিকপ্টার পাইলট হিসেবেও প্রশিক্ষণ নিয়েছেন তারা। যদিও সহকর্মীদের বৈষম্য ও হয়রানির শিকার হয়েছেন তারা। সম্মুখ সারির লড়াইয়েও তাদের অংশগ্রহণ বেশ বিরল।

আফগান বিশেষ বাহিনীর নারী কমান্ডার

এসব ইতিহাস সত্ত্বেও নারীদের লড়াইয়ে অংশগ্রহণকে পাত্তাই দিতে চাইছে না তালেবান। তাদের দাবি, এসব মিছিল প্রোপাগান্ডা। পুরুষেরা নারী স্বজনদের লড়াই করতে দেবে না। তালেবান মুখপাত্র জবিউল্লাহ মুজাহিদ বলেন, ‘নারীরা কখনোই আমাদের বিরুদ্ধে অস্ত্র ধরবে না। তারা অসহায় ও পরাজিত শত্রুরা তাদের বাধ্য করছে। তারা যুদ্ধ করতে পারে না।’

ঘোরের প্রাদেশিক গভর্নর আবদুল জহির ফয়েজজাদা এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, ফিরোজকোহেতে যেসব নারী মিছিল করেছেন তাদের অনেকেই ইতোমধ্যে তালেবানদের বিরুদ্ধে লড়াই করেছেন, আর বেশিরভাগই গ্রুপটির সহিংসতা থেকে মুক্তি পেতে চায়।

গভর্নর আবদুল জহির ফয়েজজাদা বলেন, ‘এদের মধ্যে সংখ্যাগরিষ্ঠ নারীরা সম্প্রতি তালেবান এলাকা থেকে পালিয়ে এসেছেন। নিজেদের গ্রামে তারা ইতোমধ্যে যুদ্ধ করেছেন, সন্তান ও ভাই হারিয়েছেন, তারা ক্ষুব্ধ।’

তিনি আরও বলেন, সরকার অনুমোদন দিলে অনভিজ্ঞ নারীদের প্রশিক্ষণ দিতে চান তিনি।

পাল্টা লড়াই কেন করবো না

তালেবানের রক্ষণশীল শাসন ঘোর প্রদেশে স্বাগত জানানো হবে না। সেখানে নারীরা ঐতিহ্যগতভাবেই বোরকার পরিবর্তে হেডস্কার্ফ ব্যবহার করেন আর পুরুষের পাশাপাশি মাঠ ও গ্রামে কাজ করে থাকেন।

ঘোর প্রদেশের নারী বিষয়ক দফতরের প্রধান হালিমা পরশতীশ জানান, প্রদেশটির যেসব এলাকা তালেবানরা নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে সেখানে ইতোমধ্যে নারীদের প্রাণী দেখাশোনা করা কিংবা মাঠে কাজ করা নিষিদ্ধ করে দিয়েছে। মেয়েদের স্কুল বন্ধ করে দিয়ে তারা পুরুষ অভিভাবক ছাড়া নারীদের বাড়ির বাইরে বের হওয়া নিষিদ্ধ করে দিয়েছে। এমনকি বিয়েতে নারীদের জমায়েতও নিষিদ্ধ করে বলা হয়েছে কেবল পুরুষেরা সমবেত হতে পারবে। মিছিলকারীদের মধ্যে এসব এলাকার নারীরাও রয়েছেন, বলেন হালিমা

পরশতীশ বলেন, ‘গত সপ্তাহে আল্লাহার থেকে কিছু নারী পালিয়ে এসে আমাদের কাছে অস্ত্র চেয়েছে। তারা তাদের ভূমি ও অধিকারের জন্য লড়াই করতে চান। চারসাদ্দা এলাকাতেও একই অবস্থা।’

তিনি বলেন, “নারীরা বলছেন, ‘আমরা নিজেদের রক্ষার বদলে মারা যাচ্ছি, আহত হচ্ছি, পাল্টা লড়াই কেন করবো না?’”

/জেজে/এএ/এমওএফ/

সম্পর্কিত

সিরাজুদ্দিন হাক্কানির সঙ্গে জাতিসংঘ দূতের বৈঠক

সিরাজুদ্দিন হাক্কানির সঙ্গে জাতিসংঘ দূতের বৈঠক

তালেবানের অভ্যন্তরীণ বিরোধ নিয়ে মুখ খুললেন মোল্লা বারাদার

গুঞ্জন উড়িয়ে দিলেন মোল্লা বারাদার

সিরাজুদ্দিন হাক্কানির সঙ্গে জাতিসংঘ দূতের বৈঠক

আপডেট : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১৬:৫৪

যুক্তরাষ্ট্রের মোস্ট ওয়ান্টেড সন্ত্রাসী তালিকায় থাকা তালেবান আফগানিস্তানের অন্তর্বর্তী সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সিরাজুদ্দিন হাক্কানির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন জাতিসংঘের দূত দেবোরাহ লিওনস। বৃহস্পতিবার এ খবর প্রকাশ করেছে পাকিস্তানভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ডন। 

তালেবানের মুখপাত্র সুহাইল শাহীন বৃহস্পতিবার (১৬ সেপ্টেম্বর) টুইটারে এক বিবৃতিতে জানান, আফগান জনগণের জন্য জরুরিভিত্তিতে মানবিক সহায়তা দেওয়ার বিষয়ে কাবুলে নিযুক্ত জাতিসংঘ মিশনের প্রধান দেবোরাহ লিওনস ও সিরাজউদ্দিন হাক্কানির মধ্যে বৈঠক হয়। 

বুধবার (১৫ সেপ্টেম্বর) উভয়পক্ষের আলোচনায় হাক্কানি জাতিসংঘের দূতকে নিশ্চিত করে বলেন, ‘কোনও বাধা ও ভয়ভীতি ছাড়াই জাতিসংঘের কর্মীরা আফগানিস্তানে কাজ করতে পারবেন। আফগান জনগণকে সহায়তা করতে পারবে জাতিসংঘ’। বৈঠক কোথায় অনুষ্ঠিত হয়েছে তা স্পষ্ট করেননি তালেবান মুখপাত্র সুহাইল শাহীন। 

গত দুই দশক ধরে বিদেশি সহায়তার উপরই নির্ভর করে আসছে আফগানিস্তান। তবে তালেবান ক্ষমতায় আসার পর সম্প্রতি সহায়তা বন্ধ করে দিয়েছে বিশ্বের অধিকাংশ দেশ। ফলে প্রবল সংকটের মুখে পড়েছে আফগান জনগণ। এমন পরিস্থিতিতে আফগান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হাক্কানির সঙ্গে আলোচনা হলো জাতিসংঘ দূতের।

এফবিআইএর তাকিায় সিরাজুদ্দিন হাক্কানি

আফগান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সিরাজউদ্দিন হাক্কানির নাম এখনো মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআইয়ের মোস্ট ওয়ান্টেড সন্ত্রাসীদের তালিকায় রয়েছে। তার মাথার দাম ৫০ লাখ ডলার ধরা আছে যুক্তরাষ্ট্রে।

/এলকে/
টাইমলাইন: আফগানিস্তান সংকট
১৬ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১৬:৫৪
সিরাজুদ্দিন হাক্কানির সঙ্গে জাতিসংঘ দূতের বৈঠক
১৪ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২২:১৮

সম্পর্কিত

তালেবানের অভ্যন্তরীণ বিরোধ নিয়ে মুখ খুললেন মোল্লা বারাদার

গুঞ্জন উড়িয়ে দিলেন মোল্লা বারাদার

ফুরিয়ে যাচ্ছে অর্থ, বিদেশে আটকা পড়ছেন শত শত আফগান কূটনীতিক

বিদেশে বিপদে পড়ছেন শত শত আফগান কূটনীতিক

তালেবানের অভ্যন্তরীণ বিরোধ নিয়ে মুখ খুললেন মোল্লা বারাদার

আপডেট : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১৫:২০

নতুন অন্তর্বর্তী সরকারে অভ্যন্তরীণ বিরোধের কথা অস্বীকার করেছেন তালেবানের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা এবং ভারপ্রাপ্ত উপপ্রধানমন্ত্রী মোল্লা আবদুল গণি বারাদার। এছাড়া কাবুলের প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে সংঘাতে আহত হওয়ার খবরও উড়িয়ে দিয়েছেন তিনি।

আফগান ন্যাশনাল টিভিকে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন মোল্লা বারাদর। এই সাক্ষাৎকারের একটি ভিডিও তালেবানের দোহা কার্যালয়ের টুইটার অ্যাকাউন্ট থেকে প্রকাশ করা হয়েছে।

ওই ভিডিওতে দেখা গেছে, বারাদারের কাছে তার আহত হওয়ার গুজব নিয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘না, এটা কোনওভাবেই সত্য নয়। সকল প্রশংসা আল্লাহর আমি সুস্থ এবং ভালো আছি। সংবাদমাধ্যমে আমাদের অভ্যন্তরীণ মতবিরোধের যে দাবি করা হচ্ছে তাও সত্যি নয়।’

মোল্লা বারাদার বলেন, ‘আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা যে আমাদের মধ্যে প্রচুর দয়া এবং ক্ষমার মনোভাব রয়েছে। আর এটি এমন যে তা কোনও পরিবারের মধ্যেও থাকে না। এছাড়া আমরা বহু বছর ধরে দখলদারিত্ব অবসানের জন্য দুর্ভোগ সহ্য করেছি, ত্যাগ স্বীকার করেছি। এর কোনওটাই ক্ষমতা কিংবা পদ পাওয়ার জন্য নয়।’

কাবুলের বাইরে একটি সফরে থাকার দাবি করে মোল্লা বারাদার বলেন, যে স্থানে সফর করছিলাম সেখানে সংবাদমাধ্যমের দাবি খণ্ডানোর উপায় ছিলো না। তিনি বলেন, সেকারণে আমরা আফগান জনগণ এবং সব সিনিয়র ও জুনিয়র মুজাহিদিনদের আতঙ্কিত না হতে বলছি, উদ্বিগ্ন হওয়ার আসলে কিছু নেই।’

গত রবিবার কাতারের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কাবুল সফরের সময় প্রধানমন্ত্রী মোল্লা মোহাম্মদ হাসান আখুন্দের সঙ্গে তার সাক্ষাৎ হলেও ছিলেন না মোল্লা বারাদার। এই বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমরা জানতাম না কাতার থেকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আসছেন। জানতে পারলে আমরা সফর স্থগিত করতাম। আর আমরা সফরে থাকার কারণেই সাক্ষাৎ ঘটেনি। পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে সফর থেকে ফেরা সম্ভব ছিলো না। আগে খবর পেলে আমরা অন্য বন্ধুদের সঙ্গে বৈঠকে যোগ দিতাম।’

তালেবান কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মোল্লা বারাদার কান্দাহারে গেছেন। সেখানে গ্রুপটির সর্বোচ্চ নেতা হাইবাতুল্লাহ আখুন্দজাদা বসবাস করেন বলে মনে করা হয়।

/জেজে/
টাইমলাইন: আফগানিস্তান সংকট
১৬ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১৫:২০
তালেবানের অভ্যন্তরীণ বিরোধ নিয়ে মুখ খুললেন মোল্লা বারাদার
১৪ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২২:১৮

সম্পর্কিত

সিরাজুদ্দিন হাক্কানির সঙ্গে জাতিসংঘ দূতের বৈঠক

সিরাজুদ্দিন হাক্কানির সঙ্গে জাতিসংঘ দূতের বৈঠক

চীনের মারাত্মক হুমকি, প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়াচ্ছে তাইওয়ান

প্রতিরক্ষা ব্যয় ৯০০ কোটি ডলার বাড়াচ্ছে তাইওয়ান

ফুরিয়ে যাচ্ছে অর্থ, বিদেশে আটকা পড়ছেন শত শত আফগান কূটনীতিক

বিদেশে বিপদে পড়ছেন শত শত আফগান কূটনীতিক

চীনের মারাত্মক হুমকি, প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়াচ্ছে তাইওয়ান

আপডেট : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১৪:২১

আগামী পাঁচ বছরে প্রতিরক্ষা ব্যয় আরও নয়শ’ কোটি ডলারের প্রস্তাব করেছে তাইওয়ান। দেশটির নিজস্ব মুদ্রায় এর পরিমাণ ২৪০ বিলিয়ন তাইওয়ান ডলার। চীনের ‘মারাত্মক হুমকি’র মুখে অস্ত্রের উন্নয়ন ঘটানো অতি জরুরি হয়ে পড়ায় বৃহস্পতিবার এই প্রস্তাব করা হয়েছে।

২০২২ সালে তাইওয়ানের সামরিক ব্যয়ের পরিকল্পনা রয়েছে ৪৭১.৭ তাইওয়ান ডলারের। এর অতিরিক্ত হিসেবেই ওই অর্থ ব্যয়ের প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে এই প্রস্তাব পার্লামেন্টে অনুমোদিত হতে হবে। পার্লামেন্টে প্রেসিডেন্ট তাসাই ইন-ওয়েন এর দলের সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় সহজেই এই অনুমোদন পাওয়া যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

মন্ত্রিসভার সাপ্তাহিক বৈঠকের পর তাইওয়ানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতি বলা হয়েছে, ‘চীনা কমিউনিস্ট জাতীয় প্রতিরক্ষা বাজেটে বিপুল বিনিয়োগ অব্যাহত রেখেছে, তাদের সামরিক শক্তি দ্রুত বাড়ছে আর তারা আমাদের সমুদ্র এবং আকাশসীমায় হয়রানি করতে বারবার বিমান এবং জাহাজ পাঠাচ্ছে।’

ওই বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, ‘শত্রুর ক্রমাগত হুমকির মুখে দেশের সেনাবাহিনী সক্রিয়ভাবে সামরিক ক্ষমতা অর্জন ও প্রস্তুতিমূলক কাজ করছে আর আধুনিক ও ব্যাপক অস্ত্র উৎপাদন স্বল্প মেয়াদের মধ্যে জরুরি হয়ে পড়েছে।’

/জেজে/

সম্পর্কিত

তালেবানের অভ্যন্তরীণ বিরোধ নিয়ে মুখ খুললেন মোল্লা বারাদার

গুঞ্জন উড়িয়ে দিলেন মোল্লা বারাদার

ফুরিয়ে যাচ্ছে অর্থ, বিদেশে আটকা পড়ছেন শত শত আফগান কূটনীতিক

বিদেশে বিপদে পড়ছেন শত শত আফগান কূটনীতিক

দুয়ার্তের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করছে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত

শুরু হচ্ছে দুয়ার্তের বিরুদ্ধে তদন্ত

তালেবানের সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে বিশ্বের প্রতি আহ্বান পাকিস্তানের

তালেবান সরকারের সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান পাকিস্তানের

ফুরিয়ে যাচ্ছে অর্থ, বিদেশে আটকা পড়ছেন শত শত আফগান কূটনীতিক

আপডেট : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১৩:৩২

তালেবান আকস্মিকভাবে আফগানিস্তানের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ায় বিপদে পড়েছেন শত শত আফগান কূটনীতিক। দূতাবাস সচল রাখার অর্থও যেমন ফুরিয়ে যাচ্ছে তেমনি পরিবারের কাছে ফিরতে পারার আশঙ্কাও রয়েছে। অনেকেই বিদেশে শরণার্থী হিসেবে থেকে যাওয়ার আবেদন করেছেন। তবে তালেবান কর্তৃপক্ষ সব দূতাবাসে চিঠি দিয়ে নিজেদের কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশনা দিয়েছে।

তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আটটি দূতাবাসের কর্মীরা নিজ নিজ দূতাবাসের স্থবিরতা এবং কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়া নিয়ে কথা বলেছেন। এর মধ্যে কানাডা, জার্মানি ও জাপানের আফগান দূতাবাসের কর্মীরাও রয়েছেন।

বার্লিনের এক দূতাবাস কর্মী বলেন, এখানে আমার সহকর্মী এবং আরও বহু দেশের কর্মীরা সংশ্লিষ্ট দেশগুলোকে তাদের গ্রহণ করার আবেদন করেছেন। তবে তিনি এখনও আবেদন করেননি। কারণ হিসেবে তিনি জানান, এখনও কাবুলে থেকে যাওয়া স্ত্রী ও চার মেয়ের ভবিষ্যত নিয়ে তিনি উদ্বিগ্ন।

ওই ব্যক্তি বলেন, ‘আমি আক্ষরিকভাবেই ভিক্ষা চাইছি, আমাকে কূটনীতিক থেকে শরণার্থী করে দিন।’ কাবুলের একটি বাড়িসহ তার কাছে থাকা সবকিছুই বিক্রি করে দিতে পারেন বলেও জানান তিনি।

গত মঙ্গলবার কাবুলে এক সংবাদ সম্মেলনে আফগানিস্তানের ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকি বলেন, সব আফগান দূতাবাসেই কাজ চালিয়ে যাওয়ার বার্তা পাঠিয়েছে তালেবান। তিনি বলেন, ‘আফগানিস্তান আপনাদের জন্য বিনিয়োগ করেছে, আপনারা আফগানিস্তানের সম্পদ।’

এক সিনিয়র আফগান কূটনীতিকের ধারণা বিশ্ব জুড়ে আফগান দূতাবাসে কর্মরত এবং সরাসরি তাদের ওপর নির্ভরশীল রয়েছে প্রায় তিন হাজার। গত ৮ সেপ্টেম্বর আশরাফ গণির উৎখাত হওয়া প্রশাসনের পক্ষ থেকে দূতাবাসগুলোতে কাজ চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশনা দিয়ে চিঠি পাঠানো হয়।

তবে এসব আহ্বানে মাঠ পর্যায়ের বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি উত্তরণের কোনও নির্দেশনা নেই বলে মনে করেন আফগান দূতাবাস কর্মীরা। কানাডায় থাকা এক কর্মী বলেন, ‘অর্থ নেই। এই অবস্থায় কাজ চালানো সম্ভব নয়। এই মুহূর্তে আমাকে বেতন দেওয়া হচ্ছে না।’

দিল্লির দুই দূতাবাস কর্মীও জানিয়েছেন কার্যক্রম চালানোর মতো অর্থ তাদের নেই। তারা বলছেন, আগের সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক থাকায় তালেবানের হাতে নিপীড়নের শঙ্কায় দেশে ফিরবেন না তারা। ভারতেই শরণার্থী মর্যাদা পাওয়ার আবেদনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন তারা।

/জেজে/
টাইমলাইন: আফগানিস্তান সংকট
১৬ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১৩:২৮
ফুরিয়ে যাচ্ছে অর্থ, বিদেশে আটকা পড়ছেন শত শত আফগান কূটনীতিক
১৪ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২২:১৮

সম্পর্কিত

সিরাজুদ্দিন হাক্কানির সঙ্গে জাতিসংঘ দূতের বৈঠক

সিরাজুদ্দিন হাক্কানির সঙ্গে জাতিসংঘ দূতের বৈঠক

তালেবানের অভ্যন্তরীণ বিরোধ নিয়ে মুখ খুললেন মোল্লা বারাদার

গুঞ্জন উড়িয়ে দিলেন মোল্লা বারাদার

দুয়ার্তের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করছে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত

আপডেট : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১২:৪৮

ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো দুয়ার্তের বিরুদ্ধে  তদন্ত শুরুর আনুষ্ঠানিক অনুমোদন দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি)। তার বিরুদ্ধে ‘মাদক বিরোধী যুদ্ধে’র নামে শত শত মানুষ হত্যার অভিযোগ রয়েছে। এসব ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধ তদন্ত করবে আইসিসি। তদন্ত শুরুর ঘটনাকেই নৈতিক জয় বলে দাবি করেছেন মানবাধিকার কর্মী এবং হতাহতদের পরিবারের সদস্যরা।

হেগ ভিত্তিক আদালতের তরফে বুধবার এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ওই অভিযানে শত শত মানুষের মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত শুরুর যৌক্তিক ভিত্তি রয়েছে। এছাড়া মানবতাবিরোধী অপরাধের সুনির্দিষ্ট আইনি উপাদানও রয়েছে।

আইসিসির প্রাক-বিচারিক চেম্বার আরও বলেছে, কথিত মাদকবিরোধী যুদ্ধকে বৈধ আইন প্রয়োগকারী অভিযান হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। আর হত্যাকাণ্ড কোনও ভাবেই বৈধ এবং বৈধ অপারেশনের ফলাফল হিসেবে দেখা যাবে না।

দুয়ার্তের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরুর আদেশে স্বাক্ষরকারী বিচারকেরা হলেন পিটার কোভ্যাকস, রেইন আদেলাইডি সোফি আলাপিনি-গানসো এবং মারিয়া দের সোকোরো ফ্লোরস লিয়েরা।

আদালত জানিয়েছে, অন্তত ২০৪ জন আক্রান্তের পক্ষ থেকে উপস্থাপন করা প্রমাণ বিবেচনায় নিয়েছেন বিচারকেরা। এতে দেখা গেছে, বেসামরিক জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ব্যাপক এবং কাঠামোগত হামলা চালানো হয়েছে।

আইসিসির সাবেক প্রসিকিউটর ফাতহু বেনসুদা ওই তদন্ত শুরুর আবেদন করেন। গত জুনে তিনি অবসর নেন। তার উত্তরসূরি হিসেবে নিয়োগ পাওয়া প্রসিকিউটর করিম খান এখন মূল তদন্ত এবং মামলার সম্ভাব্য বিচার তদারকি করবেন।

/জেজে/

সম্পর্কিত

তালেবানের অভ্যন্তরীণ বিরোধ নিয়ে মুখ খুললেন মোল্লা বারাদার

গুঞ্জন উড়িয়ে দিলেন মোল্লা বারাদার

চীনের মারাত্মক হুমকি, প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়াচ্ছে তাইওয়ান

প্রতিরক্ষা ব্যয় ৯০০ কোটি ডলার বাড়াচ্ছে তাইওয়ান

ফুরিয়ে যাচ্ছে অর্থ, বিদেশে আটকা পড়ছেন শত শত আফগান কূটনীতিক

বিদেশে বিপদে পড়ছেন শত শত আফগান কূটনীতিক

তালেবানের সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে বিশ্বের প্রতি আহ্বান পাকিস্তানের

তালেবান সরকারের সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান পাকিস্তানের

সর্বশেষসর্বাধিক

লাইভ

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

সিরাজুদ্দিন হাক্কানির সঙ্গে জাতিসংঘ দূতের বৈঠক

সিরাজুদ্দিন হাক্কানির সঙ্গে জাতিসংঘ দূতের বৈঠক

তালেবানের অভ্যন্তরীণ বিরোধ নিয়ে মুখ খুললেন মোল্লা বারাদার

গুঞ্জন উড়িয়ে দিলেন মোল্লা বারাদার

চীনের মারাত্মক হুমকি, প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়াচ্ছে তাইওয়ান

প্রতিরক্ষা ব্যয় ৯০০ কোটি ডলার বাড়াচ্ছে তাইওয়ান

ফুরিয়ে যাচ্ছে অর্থ, বিদেশে আটকা পড়ছেন শত শত আফগান কূটনীতিক

বিদেশে বিপদে পড়ছেন শত শত আফগান কূটনীতিক

দুয়ার্তের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করছে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত

শুরু হচ্ছে দুয়ার্তের বিরুদ্ধে তদন্ত

সর্বশেষ

নিউ ইয়র্ক যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

নিউ ইয়র্ক যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

ইভ্যালির রাসেল ও তার স্ত্রী শামীমা গ্রেফতার

ইভ্যালির রাসেল ও তার স্ত্রী শামীমা গ্রেফতার

ই-কমার্সে প্রতারিতদের পাওনা বুঝিয়ে দিক সরকার, দাবি সংসদে

ই-কমার্সে প্রতারিতদের পাওনা বুঝিয়ে দিক সরকার, দাবি সংসদে

আরও পেছালো বাংলাদেশ, ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা আগের জায়গাতেই

ফিফা র‌্যাঙ্কিংআরও পেছালো বাংলাদেশ, ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা আগের জায়গাতেই

বিকেএসপিতেই শেষ হতে পারতো আফিফের ক্যারিয়ার 

বিকেএসপিতেই শেষ হতে পারতো আফিফের ক্যারিয়ার 

© 2021 Bangla Tribune