X
রবিবার, ২৫ জুলাই ২০২১, ১০ শ্রাবণ ১৪২৮

সেকশনস

খুলনায় যে কারণে করোনার প্রকোপ বাড়ছে

আপডেট : ১৬ জুলাই ২০২১, ১৬:২৬

করোনা সংক্রমণরোধে সচেতনতা এখন ‘উচিত’-এ আটকে রয়েছে। অনেকেই বলেন, করোনা থেকে রক্ষা পেতে মাস্ক ব্যবহার করা উচিত। কিন্তু যারা এই কথা বলেন, তারাই মাস্ক পরেন না। এমন প্রকৃতির লোকই আবার মন্তব্য করছেন—মাস্ক পরলে দম বন্ধ হয়ে আসে। তাই করোনা হওয়ার আগে মাস্ক পরে শ্বাসকষ্টে মরতে চান না।

এমন অসচেতনতা ও উদাসীনতার কারণে খুলনা বিভাগে করোনায় মৃত্যু ও শনাক্ত বাড়ছে। সংক্রমণের শুরু থেকে শুক্রবার (১৬ জুলাই) সকাল পর্যন্ত বিভাগের ১০ জেলায় শনাক্ত ৭৯ হাজার ৫৩৭ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। মারা গেছেন মোট এক হাজার ৮০৪ জন। ৫০ হাজার ৭১১ জন সুস্থ হয়েছেন।

গত ২৪ ঘণ্টায় করোনাভাইরাস আক্রান্ত আরও ৩২ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে এক হাজার ৪৯৭ জনের দেহে ভাইরাসটি শনাক্ত হয়েছে। এর আগে গতকাল বৃহস্পতিবার খুলনা বিভাগে ২৪ ঘণ্টায় ৪৭ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়। একই সময়ে এক হাজার ৬৩৯ জনের করোনা শনাক্ত হয়। বুধবার (১৪ জুলাই) বিভাগে ৩৬ জন মারা যান। করোনা শনাক্ত হয়েছে এক হাজার ৬২১ জনের। 

পণ্য কিনতে দীর্ঘ লাইন

খুলনা বিভাগে করোনার প্রকোপ ঠেকানো যাচ্ছে না। সংক্রমণরোধে অপ্রয়োজনে মানুষের চলাচল নিয়ন্ত্রণ ও স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিতে কঠোর লকডাউনে মাঠে নামে সেনাবাহিনী, বিজিবি, র‌্যাব, পুলিশসহ কোস্ট গার্ড, নৌ বাহিনী। এরপরও সড়কে জনসমাগম নিয়ন্ত্রণ করা যায়নি। 

কঠোর লকডাউনের প্রথম আট দিন দেখা যায়, খুলনা বিভাগে ৮ জুলাই ৫১ জনের মৃত্যু, শনাক্ত ৭৩২; ৭ জুলাই সর্বোচ্চ ৬০ জনের মৃত্যু, শনাক্ত ৯০০; ৬ জুলাই ৪০ জনের মৃত্যু, শনাক্ত ৮৬৫; ৫ জুলাই ৫১ জনের মৃত্যু, শনাক্ত ৪৭০; ৪ জুলাই ৪৬ জনের মৃত্যু, শনাক্ত ৩০৪; ৩ জুলাই ৩২ জনের মৃত্যু, শনাক্ত ৫৩৯; ২ জুলাই ২৭ জনের মৃত্যু, শনাক্ত এক হাজার ২০১ এবং ১ জুলাই ৩৯ জনের মৃত্যু ও শনাক্ত হয়েছেন ২৪৫ জন। 

কঠোর লকডাউনের শুরুতে বিকালের পর বাজার বন্ধ হয়ে যেতো। আর মূল সড়কে লোকসমাগমও কম ছিলো। কিন্তু আট দিনের মাথায় এসে দেখা যায়, প্রশাসনের কঠোরতা মধ্যেও সন্ধ্যার পর মহানগরীর বিভিন্ন মোড়ে মোড়ে এক শ্রেণির হকার ভ্যানে করে সবজি, কাপড়সহ নানা ধরনের পণ্য নিয়ে নির্বিঘ্নে ব্যবসা-বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছেন। প্রশাসনের নজর এড়িয়ে এসব দোকানে জনসমাগম হয়।

মাস্ক ছাড়াই লোকজনকে চলাফেরা করতে দেখা যায়। পাড়া-মহল্লায় চলে আড্ডা। কিন্তু আড্ডায় থাকা মানুষগুলো মাস্ক ব্যবহার করেন না। মাস্ক না পরা এসব মানুষ মনে করেন, অবশ্যই মাস্ক পরা উচিত। কিন্তু নিজেদের মধ্যে মাস্ক ব্যবহারে কোনও আগ্রহ নেই।

সবজি-কাপড়সহ নানা ধরনের পণ্য নিয়ে নির্বিঘ্নে চলছে ব্যবসা

গোবরচাকা এলাকার ৫৫ বছর বয়সী আব্দুর রহমান বলেন, মাস্ক ব্যবহার করে আড্ডায় কথা বলা ও হাসি-তামাশা জমে না। আর মাস্ক পরলে শ্বাস-প্রশ্বাসেও সমস্যা হয়। তাই মাস্ক পরা হয় না।

মোশারফ হোসেন নামে আরেকজন বলেন, করোনা থেকে মুক্ত হয়েছেন, বা করোনা রয়েছে এমন লোকদের থেকে করোনা ছড়ানোর ভয় কাজ করে না। তবে, বাতাসে করোনার জীবাণু রয়েছে। তাই বাতাস থেকে যাতে জীবাণু নাক-মুখ দিয়ে প্রবেশ করতে না পারে, সেজন্য মাস্ক পরা উচিত। 

কিন্তু আপনি কেন মাস্ক পরেননি—জানতে চাইলে তিনি বলেন, মাস্ক পরলে শ্বাস নিতে সমস্যা হয়। তাই করোনা হওয়ার আগেই মাস্ক পরে শ্বাস বন্ধ হয়ে মরতে চাই না।

লোকজন এখন অনেক বেশি সচেতন। এখন প্রতি ১০ জনে সাতজনই মাস্ক পরছেন বলে দাবি করেন খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরিচালক রাশেদা সুলতানা। 

তিনি বলেন, স্বাস্থ্য বিভাগসহ প্রশাসনের চেষ্টার কোনও ঘাটতি নেই। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফলে জনসচেতনতা অনেক বেড়েছে। আগের অসচেতনতার ফলই হচ্ছে করোনা পরিস্থিতি বেড়ে যাওয়ার বর্তমান রূপ। তবে, ধৈর্য ধরতে হবে। লকডাউনের ফলে সৃষ্ট সচেতনতার সুফল শিগগিরই আমরা দেখতে পাবো।

খুলনা জেলা প্রশাসক মো. মনিরুজ্জামান তালুকদার বলেন, করোনার ঊর্ধ্বমুখী অবস্থার কারণেই লকডাউন ঘোষণা করা হয়। খুলনায় দুই সপ্তাহের লকডাউনের ফলে পরিস্থিতির আর অবনতি হয়নি। স্থির অবস্থাতেই রয়েছে। প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে। আমাদেরকে আরও জনসচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে। 

খুলনায় কঠোর লকডাউনে করোনার সংক্রমণ ও মৃত্যু কমছে না। সেই সঙ্গে নগরীর সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে করোনা ইউনিটে মৃত্যুও থামছে না। করোনা ইউনিটে রোগীর চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। খুলনার সরকারি-বেসরকারি চারটি হাসপাতালে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় ও উপসর্গে ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে ১০ জন করোনা আক্রান্ত ছিলেন। আর অন্যরা করোনার উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন।

এদিকে কঠোর লকডাউনের মধ্যেও ঈদুল আজহা উপলক্ষে ন্যায্যমূল্যে পণ্য বিক্রি শুরু করে টিসিবি। কিন্তু সেখানেও স্বাস্থ্যবিধি মানার বালাই ছিল না। ট্রাকসেল ঘিরে ব্যাপক জনসমাগম, যারা গাদাগাদি করে অবস্থান নেয়। আর সড়কজুড়ে সৃষ্টি হয় দীর্ঘ লাইন। 

খুলনা মহানগরীর ময়লাপোতা মোড়, শিববাড়ী মোড়, দৌলতপুর, খালিশপুর, নিরালা মোড় ও জেলা পরিষদ সংলগ্ন এলাকাসহ ১০টি স্থানে টিসিবির পণ্য বিক্রি হয়। বাজার দরের তুলনায় এ পণ্যের দাম কম হওয়ায় ক্রেতা সমাগম বেশি থাকে। ফলে স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক দূরত্ব উপেক্ষিত হচ্ছে। কোনও ধরনের সামাজিক দূরত্ব নেই। ক্রেতা-ক্রেতারা মাস্কও ব্যবহার করেন না।

স্বাস্থ্যবিধি মানার আগ্রহ নেই কারও

ময়লাপোতা মোড়ে টিসিবির পণ্য ক্রেতা মনিরুল ইসলাম বলেন, সবাই তাড়াহুড়ো করে আগে পণ্য কেনার জন্য গাদাগাদি করে দাঁড়ান। কেউ কাউকে কিছু বলেও না। 

ক্রেতা সালমা বেগম বলেন, আগেভাগে পণ্য কেনার জন্য সকাল থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে আর স্বাস্থ্যবিধির কথা মনে থাকে না। আগে পণ্য কিনতে ব্যস্ত থাকায় সামাজিক দূরত্বও থাকে না। মুখে মাস্কও থাকে না।

ব্যবসায়ী জুুয়েল বলেন, লকডাউনের প্রথম দিন বেশ কঠোরতা ছিল। কারণ জনমনে সেনাবাহিনীর আতঙ্ক ছিলো। কিন্তু দিন বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মহাসড়কে জনসমাগম ও যানবাহনও বাড়তে থাকে। 

ওয়ার্ড কাউন্সিলর শেখ মোহাম্মদ আলী বলেন, করোনাভাইরাসের প্রকোপ অত্যন্ত ভয়াবহ। প্রতিদিনই মৃত্যু বাড়ছে। তবুও জনগণ সচেতন হচ্ছে না। মানছে না স্বাস্থ্যবিধি।

খুলনা জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দেবাশীষ বশাক বলেন, কঠোর লকডাউন বাস্তবায়নে প্রশাসন সকাল সন্ধ্যা নিরলসভাবে কাজ করেছে। স্বাস্থ্যবিধি না মানার অপরাধে শাস্তি দেওয়া হচ্ছে। তারপরও কেউ সচেতন হচ্ছে না।

/এসএইচ/

সম্পর্কিত

লকডাউনেও নৌ পথে ডিজে পার্টি

লকডাউনেও নৌ পথে ডিজে পার্টি

খুলনা বিভাগে বেড়েছে শনাক্ত ও মৃত্যু

খুলনা বিভাগে বেড়েছে শনাক্ত ও মৃত্যু

বঙ্গবন্ধু সেতুর পশ্চিম স্টেশনে ভারত থেকে আসা অক্সিজেন

বঙ্গবন্ধু সেতুর পশ্চিম স্টেশনে ভারত থেকে আসা অক্সিজেন

উজিরপুরে ভুল চিকিৎসায় কাঠমিস্ত্রির মৃত্যুর অভিযোগ

আপডেট : ২৫ জুলাই ২০২১, ১৫:৫৫

বরিশালের উজিরপুর উপজেলার জল্লা ইউনিয়নের পিরেরপাড় গ্রামে পল্লী চিকিৎসকের ভুল চিকিৎসায় নিখিল চন্দ্র সরকার (৩৫) নামের ‍এক কাঠমিস্ত্রির মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (২৪ জুলাই) রাতে এ ঘটনা ঘটে। নিখিল ও‌‍ই গ্রামের মৃত নিত্যানন্দ সরকারের ছেলে।

রবিবার (২৫ জুলাই) দুপুরে উজিরপুর মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ করার পর লাশ ‍উদ্ধার করে শের-ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, আগে দিনমজুর ছিলেন বাসুদেব মুহুরি। পরবর্তীতে চালের মিলে শ্রমিকের কাজ করতেন। সর্বশেষ উপজেলার লোকনাথ বাজারে ফার্মেসির ব্যবসা শুরু করেন তিনি।‍ এরপর হয়ে যান পল্লী চিকিৎসক।‍ ‍পাশাপাশি হোমিও প্যাথিকেরও চিকিৎসা দিতেন বাসুদেব।  

নিখিলের স্ত্রী ‍উর্মিলা সরকার বলেন, তার স্বামী প্রতিদিনের মতো শনিবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে ঘরে আসলে কিছু সময় পর তার শরীরে এলার্জি দেখা দেয়। তখন পল্লী চিকিৎসক বাসুদেব মুহুরিকে খবর দিলে তিনি এসে চারটি ইনজেকশন দেন। এর কিছু সময় পরই নিখিলের মৃত্যু হয়। ঘটনার পর সাথে আনা ব্যাগ গুছিয়ে পালিয়ে যান বাসুদেব।

উজিপুর মডেল থানার ‍উপ-পরিদর্শক (এসআই) কমল চন্দ্র জানান, লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর লাথ ‍উদ্ধার করে মর্গে নেওয়া হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

এ বিষয়ে পল্লী চিকিৎসক বাসুদেবের সঙ্গে যোগাযোগ করতে তার চেম্বার খোলা পাওয়া যায়নি। তার মোবাইল ফোনও বন্ধ পাওয়া গেছে।

এলাকার আরও কয়েকজন জানান, বাসুদেবের বিরুদ্ধে কিছু দিন আগেও ভুল চিকিৎসায় শিশুকন্যার মৃত্যুর অভিযোগ ওঠে।

/এসএইচ/

সম্পর্কিত

পাওনাদারের লাশ নিয়ে দেনাদারের বাড়িতে স্বজনরা

পাওনাদারের লাশ নিয়ে দেনাদারের বাড়িতে স্বজনরা

হাসপাতালে ২৭ ঘণ্টা চিকিৎসা না পেয়ে সাংবাদিকের মায়ের মৃত্যু

হাসপাতালে ২৭ ঘণ্টা চিকিৎসা না পেয়ে সাংবাদিকের মায়ের মৃত্যু

সোনারগাঁ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোশাররফ আর নেই

সোনারগাঁ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোশাররফ আর নেই

রেজিস্ট্রার অফিসের বারান্দায় সন্তান প্রসব!

রেজিস্ট্রার অফিসের বারান্দায় সন্তান প্রসব!

ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক ফাঁকা

আপডেট : ২৫ জুলাই ২০২১, ১৫:৪৬

কঠোর বিধিনিষেধের তৃতীয় দিনে ঢাকা-টাঙ্গাইল ও বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়ক অনেকটাই ফাঁকা দেখা গেছে। সড়কে মাঝে মধ্যে চলছে পণ্যবাহী যান, মোটরসাইকেল, মাইক্রোবাস, প্রাইভেটকার আর কিছু ব্যক্তিগত যানবাহন। তবে সড়কে ছিল না কোনও গণপরিবহন। রবিবার (২৫ জুলাই) দুপুরে মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

এদিকে লকডাউন বাস্তবায়নে পুলিশ, বিজিবি ও সেনাবাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা মাঠে রয়েছেন। শহরের গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে মোড়ে কঠোর অবস্থানে রয়েছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের প্রশ্নের উত্তর সন্তোষজনক না হলে অপ্রয়োজনে বের হওয়া ব্যক্তিদের জরিমানার আওতায় আনা হচ্ছে।

ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক বঙ্গবন্ধু সেতুর পূর্ব থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘মহাসড়ক ফাঁকা। এ সড়কে পণ্যপরিবহনে নিয়োজিত আর কিছু ব্যক্তিগত যানবাহন চলাচল করছে।’ সড়কে দূরপাল্লার কোনও বাস নেই বলে জানান তিনি।

 

/টিটি/

সম্পর্কিত

ঘাটে ঢাকামুখী যাত্রীর চাপ

ঘাটে ঢাকামুখী যাত্রীর চাপ

টেস্ট করাতে হাসপাতালে রোগীর চাপ 

টেস্ট করাতে হাসপাতালে রোগীর চাপ 

খুলনা বিভাগে বেড়েছে শনাক্ত ও মৃত্যু

খুলনা বিভাগে বেড়েছে শনাক্ত ও মৃত্যু

ঘাটে ঢাকামুখী যাত্রীর চাপ

আপডেট : ২৫ জুলাই ২০২১, ১৫:২৬

সারাদেশে ১৪ দিনের কঠোর লকডাউনের তৃতীয় দিনেও বিধিনিষেধ উপেক্ষা করে বাংলাবাজার প্রান্ত থেকে নৌ রুটে যাত্রী ও যানবাহন আসছে শিমুলিয়া প্রান্তে। ফেরি থেকে নেমেই তারা বিভিন্নভাবে চলে যাচ্ছেন গন্তব্যে। রবিবার (২৫ জুলাই) সকাল থেকে শিমুলিয়া ঘাট বেশ ফাঁকা দেখা গেলেও বাংলাবাজার ঘাট থেকে ঢাকামুখী যাত্রীরা আসা শুরু করলে ভিড় বেড়ে যায়।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশনের (বিআইডব্লিউটিসি) শিমুলিয়া ঘাটের ব্যবস্থাপক (বাণিজ্য) মোহাম্মদ ফয়সাল জানান, শিমুলিয়া ঘাটে দক্ষিণাঞ্চলমুখী কোনও যান ও যাত্রী নেই। তবে, বাংলাবাজার ঘাট থেকে যান ও যাত্রী নিয়ে ফেরি চলছে। নৌ রুটে ছয়টি ফেরি চলছে বলে জানান তিনি।

 মাওয়া নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ সিরাজুল কবির জানান, আমাদের শিমুলিয়া প্রান্তে যাত্রী কিংবা যানবাহনের চাপ নেই। তবে বাংলাবাজার থেকে আসা ফেরিগুলোতে যাত্রী ও ছোট বড় যানবাহন রয়েছে চোখে পড়ার মতো। ফেরি থেকে নেমেই রাজধানীমুখী যাত্রীরা বিভিন্ন মাধ্যমে স্ব স্ব গন্তব্যে চলে যাচ্ছে। আর স্বল্পতম সময়ের মধ্যেই শিমুলিয়া ঘাট ফাঁকা হয়ে যাচ্ছে।

 

/টিটি/

সম্পর্কিত

ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক ফাঁকা

ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক ফাঁকা

টেস্ট করাতে হাসপাতালে রোগীর চাপ 

টেস্ট করাতে হাসপাতালে রোগীর চাপ 

খুলনা বিভাগে বেড়েছে শনাক্ত ও মৃত্যু

খুলনা বিভাগে বেড়েছে শনাক্ত ও মৃত্যু

টেস্ট করাতে হাসপাতালে রোগীর চাপ 

আপডেট : ২৫ জুলাই ২০২১, ১৫:১৪

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে হঠাৎ করেই বেড়ে গেছে রোগীর চাপ। করোনার টেস্ট করাতে কোনও ধরনের স্বাস্থ্যবিধি বা নিরাপদ দূরত্ব বজায় না রেখেই রোগীরা দীর্ঘ লাইনে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়েছেন। এ অবস্থায় রোগীর চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি উপজেলা পর্যায়ে করোনার টেস্ট কমিয়ে দেওয়ার কারণে জেলা পর্যায়ে রোগীর চাপ বেড়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রতিদিন ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা সদর হাসপাতালে এক থেকে দেড়শ’ রোগীর করোনা ভাইরাসের অ্যান্টিজেন টেস্ট করানো হতো। কিন্তু আজ সকাল ৮টার পর থেকে হঠাৎ করে রোগীর চাপ বেড়ে যায়। হাসপাতালে আসা বেশিরভাগ রোগীরই জ্বর, সর্দিসহ নানা উপসর্গ রয়েছে। তবে তারা নিরাপদ দূরত্ব এবং স্বাস্থ্যবিধি না মেনেই গাদাগাদি করে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে টেস্ট করাচ্ছেন। 

হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. ওহায়িদুজ্জামান বলেন, হঠাৎ করে রোগীর চাপ বেড়েছে। অ্যান্টিজেন টেস্ট করতে আসা রোগীদের দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে আমি কিছুটা অবাক হয়েছি। তাই নিজেই হাসপাতালের উপরতলা থেকে নিচে নেমে এসেছি। হঠাৎ কেন রোগীর চাপ বেড়েছে বিষয়টি জানার চেষ্টা করছি। তবে যেটুকু জেনেছি উপজেলা পর্যায়ে অ্যান্টিজেন টেস্ট কমিয়ে দেওয়ার কারণে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে রোগীর চাপ বেড়েছে। 

 চাপ সামলানোর জন্য আগামীকাল সকাল ৮টা থেকে অতিরিক্ত আরও একজনকে দায়িত্ব দিয়ে করোনার অ্যান্টিজেন টেস্ট আরও বাড়ানো হবে। প্রতিদিন অন্তত দুইশ’ রোগীর যেন টেস্ট করানো যায়, সেই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। আগের মতো কারও ফোন কিংবা তদবির রাখা হবে না। লাইনে দাঁড়িয়েই সবাইকে করোনার অ্যান্টিজেন টেস্ট করাতে হবে বলে জানান তিনি।

উল্লেখ্য, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এখন পর্যন্ত ছয় হাজার ২৬৯ জন আক্রান্তের মধ্যে চার হাজার ১৮৯ জন সুস্থ হয়েছেন। কিন্তু এখনও করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে এক হাজার ৯৬৭ জন রোগী আইসোলেশনে আছেন। এর মধ্যে সেফ আইসোলেশনে আছেন এক হাজার ৯৪০ জন। প্রাতিষ্ঠানিক আইসোলেশনে চিকিৎসা পাচ্ছেন ২৭ রোগী। এখন পর্যন্ত জেলায় ৪৪ হাজার ৭৫৮ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। করোনা শনাক্ত হয়েছে সর্বমোট ছয় হাজার ২৬৯ জন। আর মারা গেছেন ৮৬ জন।

 

/টিটি/

সম্পর্কিত

ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক ফাঁকা

ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক ফাঁকা

ঘাটে ঢাকামুখী যাত্রীর চাপ

ঘাটে ঢাকামুখী যাত্রীর চাপ

লকডাউনেও নৌ পথে ডিজে পার্টি

লকডাউনেও নৌ পথে ডিজে পার্টি

লকডাউনেও নৌ পথে ডিজে পার্টি

আপডেট : ২৫ জুলাই ২০২১, ১৪:৪৭

করোনা সংক্রমণরোধে সরকারঘোষিত কঠোর লকডাউনেও বিধিনিষেধ অমান্য করে নৌ পথে উৎসবে মেতে উঠেছে উঠতি বয়সী তরুণরা। এতে স্বাস্থ্যবিধি যেমন উপেক্ষিত হচ্ছে, তেমনই বাড়ছে করোনা ঝুঁকি। এ অবস্থায় নৌ পথেও অভিযানের দাবি তুলেছেন নদী পাড়ের বাসিন্দারা।

জানা গেছে, প্রতিবছর ঈদের পর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার তিতাস নদীর বিভিন্ন অংশে নৌকায় ডিজে পার্টির আয়োজন করে এক শ্রেণির উঠতি বয়সী তরুণ। এ বছরও চলমান কঠোর লকডাউনে তারা থেমে নেই। কোনও বাধা ছাড়ায় নৌকায় বিশাল বিশাল সাউন্ড বক্সে গান বাজিয়ে বিকট শব্দে আনন্দ-উৎসবে মেতে উঠছে তারা। এমন চিত্র সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত তিতাস নদীর দুই প্রান্তে চোখে পড়ে। বিশেষ করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের পূর্বাংশের তিতাস নদী এবং শহরের দক্ষিণাংশের কাউতলি কুরুলিয়া অংশে ডিজে পার্টির তৎপরতা লক্ষ্য করা গেছে। 

এদিকে একই চিত্র দেখা গেছে নবীনগর উপজেলার তিতাস নদীর রসুলপুর এলাকা এবং একই নদীর বিজয়নগর উপজেলার রামপুর, মনিপুর, দত্তখোলা ও পত্তনে। সরাইল উপজেলার শাহবাজপুর, ইসলামাবাদ ও আখাউড়া উপজেলার খরমপুর ও শ্যামনগর এলাকাতেও নৌকা ভাড়া করে এমন উৎসব করতে দেখা যায়। প্রতিদিন নদীর বিভিন্ন অংশে ইঞ্জিনচালিত নৌকা যোগে ডিজে পার্টির নামে উঠতি বয়সী তরুণরা গান বাজিয়ে নাচানাচি করে।

শহরের মেট্রো বাজার এলাকার ব্যবসায়ী মো. মাসুম মিয়া বলেন, সরকার সবুজ সড়কপথে কঠোরতা দেখালেও নৌ পথে অনেকটা উদাসীন। নৌ পথেও কঠোর হতে হবে। তা না হলে সাধারণ মানুষের চলাচল অনেকাংশে বাড়বে। আর এতে করোনা সংক্রমণও বাড়বে।

আরেক ব্যবসায়ীর আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ঈদ পরবর্তী সময়ে নদীতে এক শ্রেণির উঠতি বয়সের তরুণদের ডিজে পার্টির তৎপরতা বেড়েছে। বর্তমান করোনাকালে সরকারি কঠোর স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার বিধিনিষেধ থাকলেও, নৌ পথে এসব তোয়াক্কা করছে না তারা। তাদেরকে জরিমানা পাশাপাশি আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।

তিতাস পাড়ের বাসিন্দা কাশিনগর এলাকার নির্মল দাস জানান, প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত নৌকায় ডিজে পার্টির নামে উঠতি বয়সী তরুণদের লাফালাফি আর বিকট শব্দে আমরা নদীর তীরের বাসিন্দারা অতিষ্ঠ। তাদেরকে ঠেকাবে কে?

এ ব্যাপারে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার পঙ্কজ বড়ুয়া  জানান, নৌ পথে ডিজে পার্টির মতো উশৃঙ্খল কর্মকাণ্ড ঠেকাতে জেলা প্রশাসক মহোদয়ের নির্দেশে প্রতিটি নৌ পথে অভিযান জোরদার করা হয়েছে। নবীনগরের তিতাস নদীতে ডিজে পার্টি চলাকালে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে জরিমানা করা হয়েছে। নৌ পথে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে একাধিক নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেক টিম তৎপর রয়েছে। কাউকেই স্বাস্থ্যবিধি অমান্য করে নৌ পথে ডিজে পার্টি করতে দেয়া হবে না।

/এসএইচ/

সম্পর্কিত

টেস্ট করাতে হাসপাতালে রোগীর চাপ 

টেস্ট করাতে হাসপাতালে রোগীর চাপ 

বঙ্গবন্ধু সেতুর পশ্চিম স্টেশনে ভারত থেকে আসা অক্সিজেন

বঙ্গবন্ধু সেতুর পশ্চিম স্টেশনে ভারত থেকে আসা অক্সিজেন

ফুটবল খেলা নিয়ে দ্বন্দ্বে যুবককে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ

ফুটবল খেলা নিয়ে দ্বন্দ্বে যুবককে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ

সর্বশেষ

টস হেরে ফিল্ডিংয়ে বাংলাদেশ, একাদশে নাসুম

টস হেরে ফিল্ডিংয়ে বাংলাদেশ, একাদশে নাসুম

মাসে ১ কোটি ভ্যাকসিন দেওয়ার পরিকল্পনা হচ্ছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

মাসে ১ কোটি ভ্যাকসিন দেওয়ার পরিকল্পনা হচ্ছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

সিলেট-৩ আসনের উপ-নির্বাচন স্থগিত চেয়ে সিইসিকে আইনি নোটিশ

সিলেট-৩ আসনের উপ-নির্বাচন স্থগিত চেয়ে সিইসিকে আইনি নোটিশ

নতুন প্রেমিকের সঙ্গেও সম্পর্কে ফাটল? 

নতুন প্রেমিকের সঙ্গেও সম্পর্কে ফাটল? 

উজিরপুরে ভুল চিকিৎসায় কাঠমিস্ত্রির মৃত্যুর অভিযোগ

উজিরপুরে ভুল চিকিৎসায় কাঠমিস্ত্রির মৃত্যুর অভিযোগ

দল ঢেলে সাজাচ্ছেন অলি আহমদ

দল ঢেলে সাজাচ্ছেন অলি আহমদ

থুতনিতে মাস্ক রেখে সিগারেট খাওয়ায় ৫০০ টাকা জরিমানা

থুতনিতে মাস্ক রেখে সিগারেট খাওয়ায় ৫০০ টাকা জরিমানা

মিসরকে হারিয়ে টিকে থাকলো আর্জেন্টিনা

অলিম্পিক ফুটবলমিসরকে হারিয়ে টিকে থাকলো আর্জেন্টিনা

ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক ফাঁকা

ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক ফাঁকা

করোনায় কর্মহীনদের পরিবারে চাপা হাহাকার: জিএম কাদের

করোনায় কর্মহীনদের পরিবারে চাপা হাহাকার: জিএম কাদের

ঘাটে ঢাকামুখী যাত্রীর চাপ

ঘাটে ঢাকামুখী যাত্রীর চাপ

মৃত্যু ও সংক্রমণে এগিয়ে ঢাকা: স্বাস্থ্য অধিদফতর

মৃত্যু ও সংক্রমণে এগিয়ে ঢাকা: স্বাস্থ্য অধিদফতর

সর্বশেষসর্বাধিক

লাইভ

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

লকডাউনেও নৌ পথে ডিজে পার্টি

লকডাউনেও নৌ পথে ডিজে পার্টি

খুলনা বিভাগে বেড়েছে শনাক্ত ও মৃত্যু

খুলনা বিভাগে বেড়েছে শনাক্ত ও মৃত্যু

বঙ্গবন্ধু সেতুর পশ্চিম স্টেশনে ভারত থেকে আসা অক্সিজেন

বঙ্গবন্ধু সেতুর পশ্চিম স্টেশনে ভারত থেকে আসা অক্সিজেন

ফুটবল খেলা নিয়ে দ্বন্দ্বে যুবককে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ

ফুটবল খেলা নিয়ে দ্বন্দ্বে যুবককে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ

খুলনার ৪ হাসপাতালে ফের মৃত্যু বেড়েছে

খুলনার ৪ হাসপাতালে ফের মৃত্যু বেড়েছে

© 2021 Bangla Tribune