X
শনিবার, ২৪ জুলাই ২০২১, ৯ শ্রাবণ ১৪২৮

সেকশনস

লুৎফর হাসানের নতুন গান ‘অন্য আমি’

আপডেট : ১৮ জুলাই ২০২১, ১৫:০৯

ঈদ উপলক্ষে মুক্তি পাচ্ছে ‘ঘুড়ি’-খ্যাত লুৎফর হাসানের নতুন গান। নাম ‘অন্য আমি’।

গানটির গীতিকার শামীম রেজা প্রবাসে থাকেন। তাই দেশে ফেলে যাওয়া স্মৃতি রোমন্থনে তিনি শব্দ কথায় এঁকেছেন এক বাউণ্ডুলে জীবন। সেই কথায় দরদী সুর বসিয়ে কণ্ঠে বেঁধেছেন লুৎফর হাসান। সংগীতায়োজন করেছেন আমজাদ হোসেন। 

লুৎফর হাসান বললেন, ‘শামীম ভাই মূলত আমাকে ভেবেই গানটি লিখেছেন, এটা আসলে অন্যরকম ভালোলাগার বিষয়। গান সংশ্লিষ্ট সবাই বেশ মনোযোগ দিয়ে পুরো কাজটি করেছেন, যা আমার জন্য আনন্দের।’ 

গাজীপুরের কালীগঞ্জের এক দৃষ্টিনন্দন লোকেশনে এর ভিডিও নির্মাণ করেছেন আল মাসুদ। 

গীতিকবি শামীম রেজা বলেন, ‘লুৎফর আমার ভীষণ স্নেহের ছোট ভাই। তার গান আমার ভালো লাগে। সেই ভালো লাগা থেকেই তার জন্য এই গান লেখা।’ 

গানটি ২৮ জুলাই ধ্রুব মিউজিক স্টেশনের নিজস্ব ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশ পাবে। পাশাপাশি শুনতে পাওয়া যাবে দেশী-বিদেশী একাধিক অ্যাপ-এ।

/এমএম/

সম্পর্কিত

লুৎফর হাসানের ‘রেলগাড়ি’তে পুষ্পিতা

লুৎফর হাসানের ‘রেলগাড়ি’তে পুষ্পিতা

শহীদ মিনারে ফকির আলমগীরকে জানানো হবে শেষ শ্রদ্ধা 

আপডেট : ২৪ জুলাই ২০২১, ০২:৫৬

গণসংগীতশিল্পী ফকির আলমগীরকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে শনিবার (২৪ জুলাই) বেলা ১২টার দিকে তার মরদেহ নেওয়া হবে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে। বাংলা ট্রিবিউনকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন তার ছেলে মাশুক আলমগীর রাজীব। 

শুক্রবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে তিনি জানান, ‘পূর্ব সিদ্ধান্তে কিছু পরিবর্তন এসেছে। বাবাকে সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য শনিবার বেলা ১২টা থেকে ১টা পর্যন্ত রাখা হবে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে। তার আগে বেলা ১১টার দিকে খিলগাঁওয়ের পল্লীমা সংসদে প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর শহীদ মিনার হয়ে বাদ জোহর তালতলা কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন হবে।’

এর আগে শুক্রবার (২৩ জুলাই) রাত ১০টা ৫৬ মিনিটের দিকে প্রাণ হারান নন্দিত গণসংগীতশিল্পী ফকির আলমগীর।

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ১৫ জুলাই মধ্যরাত থেকে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন ছিলেন ফকির আলমগীর। ১৮ জুলাই চিকিৎসকেরা তাকে ভেন্টিলেশন সাপোর্ট দেয়। 

জানা গেছে, ১৪ জুলাই ফকির আলমগীরের করোনাভাইরাস পজিটিভ ফল আসে। এরপর চিকিৎসকের পরামর্শে বাসায় থেকেই চিকিৎসা নিচ্ছিলেন তিনি।

ফকির আলমগীর স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের অন্যতম শিল্পী। তারও আগে থেকে তিনি শ্রমজীবী মানুষের জন্য গণসংগীত করে আসছিলেন। স্বাধীনতার পর পাশ্চাত্য সংগীতের সঙ্গে দেশজ সুরের মেলবন্ধন ঘটিয়ে বাংলা পপ গানের বিকাশে ভূমিকা রেখেছেন ফকির আলমগীর। 

দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তার কণ্ঠের বেশ কয়েকটি গান দারুণ জনপ্রিয়তা পায়। এরমধ্যে ‘ও সখিনা’ গানটি এখনও মানুষের মুখে মুখে ফেরে। ১৯৮২ সালের বিটিভির ‘আনন্দমেলা’ অনুষ্ঠানে গানটি প্রচারের পর দর্শকের মধ্যে সাড়া ফেলে। কণ্ঠ দেওয়ার পাশাপাশি গানটির সুরও করেছেন ফকির আলমগীর। 

তিনি সাংস্কৃতিক সংগঠন ঋষিজ শিল্পীগোষ্ঠীর প্রতিষ্ঠাতা, গণসংগীত চর্চার আরেক সংগঠন গণসংগীতশিল্পী পরিষদের সাবেক সভাপতি। 

সংগীতে অসামান্য অবদানের জন্য ১৯৯৯ সালে সরকার তাকে একুশে পদক দিয়ে সম্মানিত করে।

/এমএম/

সম্পর্কিত

শেষ জন্মদিনে যে কথা দিয়েছিলেন অসহায়দের...

শেষ জন্মদিনে যে কথা দিয়েছিলেন অসহায়দের...

শনিবার তালতলা কবরস্থানে সমাহিত হবেন ফকির আলমগীর

শনিবার তালতলা কবরস্থানে সমাহিত হবেন ফকির আলমগীর

আজ থেকে বাংলাদেশ গণসংগীতহীন হলো: ফেরদৌস ওয়াহিদ

আজ থেকে বাংলাদেশ গণসংগীতহীন হলো: ফেরদৌস ওয়াহিদ

করোনায় প্রাণ হারালেন গণসংগীতশিল্পী ফকির আলমগীর

করোনায় প্রাণ হারালেন গণসংগীতশিল্পী ফকির আলমগীর

স্মরণে ফকির আলমগীর

শেষ জন্মদিনে যে কথা দিয়েছিলেন অসহায়দের...

আপডেট : ২৪ জুলাই ২০২১, ০২:৫৭

পৃথিবীর ওপারে শুক্রবার রাতে (২৩ জুলাই, ২০২১) অনেকটা হুট করেই চলে গেলেন সদা হাস্যোজ্জ্বল কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী ফকির আলমগীর। যাওয়ার আগে ফেলে গেলেন কালজয়ী গান আর গতিময় পদচিহ্ন। 

তেমনই একটি অসাধারণ স্মৃতি হয়ে থাকবে গাজীপুর মনিপুর বিশিয়া কুড়িবাড়ি এলাকার বয়স্ক পুনর্বাসন কেন্দ্রের অসহায় ও নিঃসঙ্গ বয়োজ্যেষ্ঠদের মনে। 

ফকির আলমগীরের ৭১তম জন্মদিন ছিলো চলতি বছরের ২১ ফেব্রুয়ারি। দিনটিকে ঘিরে ঢাকার অদূরে কয়েকজন নিঃসঙ্গ বয়োজ্যেষ্ঠ মানুষের সঙ্গে অন্যরকম একটা দিন পার করার জন্য ছুটে যান এই মুক্তিযোদ্ধা। সেখানে থাকা বয়োজ্যেষ্ঠদের নিয়ে ‘আনন্দ আয়োজন’ শিরোনামে ৭১তম জন্মবার্ষিকীর আনুষ্ঠানিকতা পালন করেন তিনি। ঘোষণা দেন, বাকি জীবন যতগুলো জন্মদিন ভাগে পাবেন, এভাবেই সাধারণ ও অসহায় মানুষের সঙ্গে আনন্দে কাটাবেন।

সেদিন ফকির আলমগীর তার ৭১তম জন্মদিনের অভিব্যক্তি প্রকাশ করতে গিয়ে বলেন, ‘যাদের জীবন অবহেলিত ও বিপন্ন, যারা একাকীত্ববোধ করেন, যারা নিরানন্দবোধ করেন, তাদের সাথে জন্মদিন উদযাপন করার বিষয়ে আমি আগেই ঘোষণা দিয়েছি। গত বছর জাতীয় জাদুঘরে যখন ৭০তম জন্মদিন করেছিলাম, তখন একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে বলেছিলাম, আর কোনও চাকচিক্য বা আধুনিক আলোকোজ্জ্বল সমাবেশে আমার জন্মদিন করবো না। যতদিন বেঁচে থাকবো কখনও বৃদ্ধাশ্রম, কখনও পথশিশু, কখনও কুলি, কখনও মজুরের সঙ্গে একাত্ম হয়ে আমি আমার জন্মদিন পালন করবো।’

কেউ কি জানতো এভাবে আর তিনি জন্মদিনের অনুষ্ঠানে মেতে উঠবেন না। অবহেলিত আর অসহায় মানুষের সঙ্গে গল্প-গানে এমন অসাধারণ দিন কাটানোর সুযোগ আর পাবেন না। রাখতে পারবেন না, বলে যাওয়া কথা। বাঁধতে পারবেন না গণমানুষের জন্য গান। 

জন্মদিনের ঐ আয়োজনে ফকির আলমগীরকে শুভেচ্ছা জানাতে উপস্থিত ছিলেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমান এমপি। তিনি বলেছিলেন, ‘ফকির আলমগীর এমন একজন মানুষ, যিনি সবসময় স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের জন্য সংগীতের মাধ্যমে লড়াই করে গেছেন। তার আমন্ত্রণে এই বিশেষ জন্মদিনে থাকতে পেরে নিজেকে ভাগ্যবান মনে করছি।’

ফকির আলমগীরের জন্ম ১৯৫০ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি ফরিদপুরের ভাঙ্গা থানার কালামৃধা গ্রামে। কালামৃধা হাইস্কুল থেকে ১৯৬৬ সালে মাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছিলেন তিনি। জগন্নাথ কলেজ (জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়) থেকে তিনি উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেছিলেন। এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকেও উচ্চতর ডিগ্রি লাভ করেন।

১৯৬৬ সালে ছাত্র রাজনীতিতে যোগ দেন ফকির আলমগীর। সেই সূত্রেই গণসংগীতে আসা। ক্রান্তি শিল্পী গোষ্ঠী ও গণশিল্পী গোষ্ঠীর সদস্য হিসেবে তিনি ষাটের দশক থেকেই সরব হয়ে ওঠেন। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের আগে যেসব বড় আন্দোলন হয়েছিল, সেগুলোতে অসামান্য ভূমিকা রেখেছিলেন ফকির ও তার গান।

ফকির আলমগীর স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের অন্যতম শিল্পী। তারও আগে থেকে তিনি শ্রমজীবী মানুষের জন্য গণসংগীত করে আসছিলেন। স্বাধীনতার পর পাশ্চাত্য সংগীতের সঙ্গে দেশজ সুরের মেলবন্ধন ঘটিয়ে বাংলা পপ গানের বিকাশে ভূমিকা রেখেছেন ফকির আলমগীর। 

দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তার কণ্ঠের বেশ কয়েকটি গান দারুণ জনপ্রিয়তা পায়। এরমধ্যে ‘ও সখিনা’ গানটি এখনও মানুষের মুখে মুখে ফেরে। ১৯৮২ সালের বিটিভির ‘আনন্দমেলা’ অনুষ্ঠানে গানটি প্রচারের পর দর্শকের মধ্যে সাড়া ফেলে। কণ্ঠ দেওয়ার পাশাপাশি গানটির সুরও করেছেন ফকির আলমগীর। তিনি সাংস্কৃতিক সংগঠন ঋষিজ শিল্পীগোষ্ঠীর প্রতিষ্ঠাতা, গণসংগীত চর্চার আরেক সংগঠন গণসংগীতশিল্পী পরিষদের সাবেক সভাপতি। 

ফকির আলমগীর সংগীতে অসামান্য অবদানের জন্য ১৯৯৯ সালে সরকার তাকে একুশে পদক দিয়ে সম্মানিত করে।

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২৩ জুলাই রাত ১০টা ৫৬ মিনিটে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন এই কিংবদন্তি। যার মাধ্যমে ইতি ঘটে বাংলা গণসংগীতের জীবন্ত একটি অধ্যায়। 

/এমএম/

সম্পর্কিত

শহীদ মিনারে ফকির আলমগীরকে জানানো হবে শেষ শ্রদ্ধা 

শহীদ মিনারে ফকির আলমগীরকে জানানো হবে শেষ শ্রদ্ধা 

শনিবার তালতলা কবরস্থানে সমাহিত হবেন ফকির আলমগীর

শনিবার তালতলা কবরস্থানে সমাহিত হবেন ফকির আলমগীর

আজ থেকে বাংলাদেশ গণসংগীতহীন হলো: ফেরদৌস ওয়াহিদ

আজ থেকে বাংলাদেশ গণসংগীতহীন হলো: ফেরদৌস ওয়াহিদ

করোনায় প্রাণ হারালেন গণসংগীতশিল্পী ফকির আলমগীর

করোনায় প্রাণ হারালেন গণসংগীতশিল্পী ফকির আলমগীর

শনিবার তালতলা কবরস্থানে সমাহিত হবেন ফকির আলমগীর

আপডেট : ২৪ জুলাই ২০২১, ০১:৪১

রাজধানীর খিলগাঁওয়ের তালতলা কবরস্থানে সমাহিত হবেন স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের অন্যতম শব্দসৈনিক ফকির আলমগীর।

তারও আগে শনিবার (২৪ জুলাই) বেলা ১১টার দিকে খিলগাঁওয়ের পল্লীমা সংসদে প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর সেখানকার মাটির মসজিদে জোহরের নামাজের পর দ্বিতীয় জানাজা শেষে তালতলা কবরস্থানে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তার দাফন সম্পন্ন হবে।

শুক্রবার দিবাগত রাতে এমনটাই জানান ফকির আলমগীরের ছেলে মাশুক আলমগীর রাজীব। 

এর আগে শুক্রবার (২৩ জুলাই) রাত ১০টা ৫৬ মিনিটের দিকে প্রাণ হারান নন্দিত গণসংগীতশিল্পী ফকির আলমগীর।

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ১৫ জুলাই মধ্যরাত থেকে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন ছিলেন ফকির আলমগীর। ১৮ জুলাই চিকিৎসকেরা তাকে ভেন্টিলেশন সাপোর্ট দেয়। 

জানা গেছে, ১৪ জুলাই ফকির আলমগীরের করোনাভাইরাস পজিটিভ ফল আসে। এরপর চিকিৎসকের পরামর্শে বাসায় থেকেই চিকিৎসা নিচ্ছিলেন তিনি।

ফকির আলমগীর স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের অন্যতম শিল্পী। তারও আগে থেকে তিনি শ্রমজীবী মানুষের জন্য গণসংগীত করে আসছিলেন। স্বাধীনতার পর পাশ্চাত্য সংগীতের সঙ্গে দেশজ সুরের মেলবন্ধন ঘটিয়ে বাংলা পপ গানের বিকাশে ভূমিকা রেখেছেন ফকির আলমগীর। 

দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তার কণ্ঠের বেশ কয়েকটি গান দারুণ জনপ্রিয়তা পায়। এরমধ্যে ‘ও সখিনা’ গানটি এখনও মানুষের মুখে মুখে ফেরে। ১৯৮২ সালের বিটিভির ‘আনন্দমেলা’ অনুষ্ঠানে গানটি প্রচারের পর দর্শকের মধ্যে সাড়া ফেলে। কণ্ঠ দেওয়ার পাশাপাশি গানটির সুরও করেছেন ফকির আলমগীর। 

তিনি সাংস্কৃতিক সংগঠন ঋষিজ শিল্পীগোষ্ঠীর প্রতিষ্ঠাতা, গণসংগীত চর্চার আরেক সংগঠন গণসংগীতশিল্পী পরিষদের সাবেক সভাপতি। 

সংগীতে অসামান্য অবদানের জন্য ১৯৯৯ সালে সরকার তাকে একুশে পদক দিয়ে সম্মানিত করে।

/এমএম/

সম্পর্কিত

শহীদ মিনারে ফকির আলমগীরকে জানানো হবে শেষ শ্রদ্ধা 

শহীদ মিনারে ফকির আলমগীরকে জানানো হবে শেষ শ্রদ্ধা 

শেষ জন্মদিনে যে কথা দিয়েছিলেন অসহায়দের...

শেষ জন্মদিনে যে কথা দিয়েছিলেন অসহায়দের...

আজ থেকে বাংলাদেশ গণসংগীতহীন হলো: ফেরদৌস ওয়াহিদ

আজ থেকে বাংলাদেশ গণসংগীতহীন হলো: ফেরদৌস ওয়াহিদ

করোনায় প্রাণ হারালেন গণসংগীতশিল্পী ফকির আলমগীর

করোনায় প্রাণ হারালেন গণসংগীতশিল্পী ফকির আলমগীর

স্মরণে ফকির আলমগীর

আজ থেকে বাংলাদেশ গণসংগীতহীন হলো: ফেরদৌস ওয়াহিদ

আপডেট : ২৪ জুলাই ২০২১, ০০:৪৫

মূল পরিচিতিটা গণসংগীতে হলেও বাংলা পপ গানের অন্যতম মুখ ফকির আলমগীর। স্বাধীনতার পর যে ক’জন মানুষের হাত ধরে পপ সংগীতের উত্থান ও জনপ্রিয়তা লাভ করেছে, সেই তালিকায় রয়েছে এই নামটিও। যেখানে আরও ছিলেন আজম খান, ফিরোজ সাঁই, পিলু মমতাজ ও ফেরদৌস ওয়াহিদ। এই ৫ জনের মধ্যে তিনজনই পাড়ি দিয়েছেন পরপারে। সর্বশেষ, এই রাতে (২৩ জুলাই) করোনাভাইরাসের কাছে হেরে গেলেন ফকির আলমগীরও। পপ গানের শেষ বন্ধুটিকে হারিয়ে অনেকটাই বাকরুদ্ধ ফেরদৌস ওয়াহিদ। বন্ধুর এমন হঠাৎ প্রস্থানে বাংলা ট্রিবিউন-এর সঙ্গে বললেন কিছু কথা-

রাত ১০টার দিকে হার্ট অ্যাটাকের খবর পেয়ে একটা ধাক্কা খেলাম। অথচ বিকেলেও খবর নিলাম, জানলাম ওর অবস্থা উন্নতির দিকে। সেজন্য হার্ট অ্যাটাকের খবরটি ভালো লাগেনি। কিছুক্ষণ পরেই মৃত্যুর খবরটা পেলাম। 

ওর সঙ্গে ৪৮ বছরের বন্ধুত্ব। সেই ১৯৭৩ সালের দিকে আমাদের পরিচয়। গণসংগীত গাইতো। আমি তখন পপ গান করি। দুই বছরের মধ্যে ও নিজেও পপ গানে চলে এলো। আমরা একসঙ্গে অসংখ্য শো করেছি। ফকিরের সঙ্গে আমার সম্পর্কটা গাঢ় হয় ওর বিয়ের সময়। মজার বিষয় হচ্ছে, তার মাথায় বিয়ের পাগড়িটা আমার হাতেই উঠেছিল। এমন হাজার হাজার গল্প রয়েছে আমাদের।

ওর সম্পর্কে আজ এটুকুই বলবো, বন্ধু তো বন্ধুর মতোই আছে। যতদিন বাঁচি- সেই মায়া, মমতা, স্মৃতি তো থাকবেই। সেসব গল্প না হয় অন্যদিন করা যাবে। কিন্তু আজ একটি কথা না বললেই নয়, বাংলাদেশে ও-ই একমাত্র মানুষ যে গণসংগীতটাকে ধরে রেখেছিলো আমৃত্যু।

আমি দ্যর্থহীন কণ্ঠে বলে রাখলাম, আজ থেকে বাংলাদেশ গণসংগীতহীন হয়ে গেল। আজ থেকে সংগীতের এই অসাধারণ ধারাটিতে শূন্যতা তৈরি হলো। এই ঘাটতি কবে কে পূরণ করবে, জানি না। আদৌ হবে কি না, তাও জানি না।

আমাদের পরিচয় ১৯৭৩ সালে। তারপর থেকে অনেক শো করেছি একসঙ্গে। বলিষ্ঠ কণ্ঠ। ওর একটা স্টাইল ছিলো। বলিষ্ঠ মানুষ। মানুষকে মুগ্ধ করতে পারতো গানে ও গল্পে। এবং মৃত্যুর আগ পর্যন্ত ও একইভাবে ছিলো। খেয়াল করবেন, ও আমাদের সঙ্গে মিশে যেমন পপ ঘরানার গানে যুক্ত হলো, তেমন গণসংগীতাটাকেও আগলে রাখলো পরম মমতায়। এবং ও আসলে পপের আদলে গণসংগীতটাকেই আরও সমৃদ্ধ করার চেষ্টা করলো।

ওর এই অকাল পরাজয়ের কারণ করোনাভাইরাস। আমাদের আরও সচেতন হতে হবে। ওর এই পরাজয় আমাদের আরও সচেতন করুক, সেই প্রত্যাশা করি। বন্ধুর বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি।

/এমএম/

সম্পর্কিত

শহীদ মিনারে ফকির আলমগীরকে জানানো হবে শেষ শ্রদ্ধা 

শহীদ মিনারে ফকির আলমগীরকে জানানো হবে শেষ শ্রদ্ধা 

শেষ জন্মদিনে যে কথা দিয়েছিলেন অসহায়দের...

শেষ জন্মদিনে যে কথা দিয়েছিলেন অসহায়দের...

শনিবার তালতলা কবরস্থানে সমাহিত হবেন ফকির আলমগীর

শনিবার তালতলা কবরস্থানে সমাহিত হবেন ফকির আলমগীর

করোনায় প্রাণ হারালেন গণসংগীতশিল্পী ফকির আলমগীর

করোনায় প্রাণ হারালেন গণসংগীতশিল্পী ফকির আলমগীর

করোনায় প্রাণ হারালেন গণসংগীতশিল্পী ফকির আলমগীর

আপডেট : ২৪ জুলাই ২০২১, ০৩:৩৫

দিনের বেলায় শারীরিক অবস্থার খানিক উন্নতি হলেও শুক্রবার (২৩ জুলাই) রাত ১০টা ৫৬ মিনিটের দিকে করোনাভাইরাসের কাছে পরাজয় বরণ করেন নন্দিত গণসংগীতশিল্পী ফকির আলমগীর।

বিষয়টি বাংলা ট্রিবিউনকে নিশ্চিত করেছেন শিল্পীর ছেলে মাশুক আলমগীর রাজীব ও ইউনাইটেড হাসপাতালের জনসংযোগ কর্মকর্তা সাজ্জাদুর রহমান। মাশুক জানান, রাত ১০টার দিকে তার বাবা হার্ট অ্যাটাক করেন। এরপর অনেক চেষ্টা করেও আর ফেরানো যায়নি। তিনি সবার কাছে তার বাবার জন্য দোয়া চেয়েছেন।

কোভিড পজিটিভ হয়ে সবকিছু দ্রুত ঘটলো গণসংগীত শিল্পী ফকির আলমগীরের জীবনে। এক সপ্তাহের মধ্যে বাসা থেকে আইসিইউ, এরপর ভেন্টিলেশন সাপোর্ট। অবশেষে বিদায়।

শুক্রবার (২৩ জুলাই) দুপুরে এই নন্দিত শিল্পীর পুত্র মাশুক আলমগীর রাজীব বাংলা ট্রিবিউনকে জানান খানিক স্বস্তির বার্তা। বলেন, ‘বাবার অবস্থা এখন আগের চেয়ে ভালো। অক্সিজেন স্যাচুরেশন শতভাগ। বিশেষ করে ডান ফুসফুস সংক্রমণমুক্ত। তবে বাম ফুসফুস এখনও ভাইরাসের সঙ্গে যুদ্ধ করছে।’
  
মাশুকের এমন খবরে স্বস্তি ফিরলেও কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে ভেন্টিলেশনে থেকেই হার্ট অ্যাটাক হয় ফকির আলমগীরের।

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ১৫ জুলাই মধ্যরাত থেকে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন ছিলেন ফকির আলমগীর। ১৮ জুলাই চিকিৎসকেরা তাকে ভেন্টিলেশন সাপোর্ট দেওয়া হয়। 

জানা গেছে, ১৪ জুলাই ফকির আলমগীরের করোনাভাইরাস পজিটিভ ফল আসে। এরপর চিকিৎসকের পরামর্শে বাসায় থেকেই চিকিৎসা নিচ্ছিলেন তিনি।

ফকির আলমগীর স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের অন্যতম শিল্পী। তারও আগে থেকে তিনি শ্রমজীবী মানুষের জন্য গণসংগীত করে আসছিলেন। স্বাধীনতার পর পাশ্চাত্য সংগীতের সঙ্গে দেশজ সুরের মেলবন্ধন ঘটিয়ে বাংলা পপ গানের বিকাশে ভূমিকা রেখেছেন ফকির আলমগীর। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তার কণ্ঠের বেশ কয়েকটি গান দারুণ জনপ্রিয়তা পায়। এরমধ্যে ‘ও সখিনা’ গানটি এখনও মানুষের মুখে মুখে ফেরে। 

১৯৮২ সালের বিটিভির ‘আনন্দমেলা’ অনুষ্ঠানে গানটি প্রচারের পর দর্শকের মধ্যে সাড়া ফেলে। কণ্ঠ দেওয়ার পাশাপাশি গানটির সুরও করেছেন ফকির আলমগীর। তিনি সাংস্কৃতিক সংগঠন ঋষিজ শিল্পীগোষ্ঠীর প্রতিষ্ঠাতা, গণসংগীত চর্চার আরেক সংগঠন গণসংগীতশিল্পী পরিষদের সাবেক সভাপতি। 

সংগীতে অসামান্য অবদানের জন্য ১৯৯৯ সালে সরকার তাকে একুশে পদক দিয়ে সম্মানিত করে।

একুশে পদকপ্রাপ্ত বরেণ্য এই গণসংগীতশিল্পীর চির প্রস্থানে সংগীত ঐক্য বাংলাদেশ গভীর শোক প্রকাশ করেছে। এক বিবৃতিতে সংগঠনের সভাপতি রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা, মহাসচিব শহীদ মাহমুদ জঙ্গী, নকীব খান ও কুমার বিশ্বজিৎ মরহুমের আত্মার শান্তি কামনা করেন এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ফকির আলমগীরের মৃত্যু বাংলাদেশের সংগীতাঙ্গনের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি। দেশের গণসংগীত প্রচার ও প্রসারে তার অবদান অসামান্য।

 

/জেএ/এমএম/

সম্পর্কিত

শহীদ মিনারে ফকির আলমগীরকে জানানো হবে শেষ শ্রদ্ধা 

শহীদ মিনারে ফকির আলমগীরকে জানানো হবে শেষ শ্রদ্ধা 

শেষ জন্মদিনে যে কথা দিয়েছিলেন অসহায়দের...

শেষ জন্মদিনে যে কথা দিয়েছিলেন অসহায়দের...

শনিবার তালতলা কবরস্থানে সমাহিত হবেন ফকির আলমগীর

শনিবার তালতলা কবরস্থানে সমাহিত হবেন ফকির আলমগীর

আজ থেকে বাংলাদেশ গণসংগীতহীন হলো: ফেরদৌস ওয়াহিদ

আজ থেকে বাংলাদেশ গণসংগীতহীন হলো: ফেরদৌস ওয়াহিদ

সম্পর্কিত

লুৎফর হাসানের ‘রেলগাড়ি’তে পুষ্পিতা

লুৎফর হাসানের ‘রেলগাড়ি’তে পুষ্পিতা

সর্বশেষ

‘কঠোরতম’ লকডাউনের দ্বিতীয় দিন চলছে

‘কঠোরতম’ লকডাউনের দ্বিতীয় দিন চলছে

হাইতির নিহত প্রেসিডেন্টের শেষকৃত্যেও গুলির শব্দ

হাইতির নিহত প্রেসিডেন্টের শেষকৃত্যেও গুলির শব্দ

ক্ষমা চাইলেন সেই জার্মান সাংবাদিক

ক্ষমা চাইলেন সেই জার্মান সাংবাদিক

শহীদ মিনারে ফকির আলমগীরকে জানানো হবে শেষ শ্রদ্ধা 

শহীদ মিনারে ফকির আলমগীরকে জানানো হবে শেষ শ্রদ্ধা 

প্রবল বর্ষণে মহারাষ্ট্রে মৃত বেড়ে ১১০

প্রবল বর্ষণে মহারাষ্ট্রে মৃত বেড়ে ১১০

লকডাউনে বগুড়া থেকে হিলিতে চকলেট কিনতে যাওয়ায় জরিমানা

লকডাউনে বগুড়া থেকে হিলিতে চকলেট কিনতে যাওয়ায় জরিমানা

শেষ জন্মদিনে যে কথা দিয়েছিলেন অসহায়দের...

স্মরণে ফকির আলমগীরশেষ জন্মদিনে যে কথা দিয়েছিলেন অসহায়দের...

শনিবার তালতলা কবরস্থানে সমাহিত হবেন ফকির আলমগীর

শনিবার তালতলা কবরস্থানে সমাহিত হবেন ফকির আলমগীর

সিঁধ কেটে ঘরে ঢুকে গরু বিক্রির ১৫ লাখ টাকা লুট

সিঁধ কেটে ঘরে ঢুকে গরু বিক্রির ১৫ লাখ টাকা লুট

জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় মুখ্য হিট অফিসার নিয়োগ

জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় মুখ্য হিট অফিসার নিয়োগ

আ. লীগ বলছে জোট অটুট, শরিকরা বলছে অকার্যকর

আ. লীগ বলছে জোট অটুট, শরিকরা বলছে অকার্যকর

তরুণীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে যুবকের গলায় জুতার মালা

তরুণীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে যুবকের গলায় জুতার মালা

সর্বশেষসর্বাধিক

লাইভ

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

লুৎফর হাসানের ‘রেলগাড়ি’তে পুষ্পিতা

লুৎফর হাসানের ‘রেলগাড়ি’তে পুষ্পিতা

© 2021 Bangla Tribune