X
শনিবার, ২৪ জুলাই ২০২১, ৯ শ্রাবণ ১৪২৮

সেকশনস

বঙ্গবন্ধু বিদেশ যাচ্ছেন শান্তি অভিযানে

আপডেট : ১৯ জুলাই ২০২১, ০৮:০০

(বিভিন্ন সংবাদপত্রে প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে বঙ্গবন্ধুর সরকারি কর্মকাণ্ড ও তার শাসনামল নিয়ে মুজিববর্ষ উপলক্ষে ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশ করছে বাংলা ট্রিবিউন। আজ পড়ুন ১৯৭৩ সালের ১৯ জুলাইয়ের ঘটনা।)

সপ্তাহখানেকের মধ্যে আসন্ন কমনওয়েলথ সম্মেলনে যোগদানের উদ্দেশ্যে অটোয়ার পথে ঢাকা থেকে বেলগ্রড রওনা হচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তখন থেকেই তার শান্তি অভিযান শুরু হবে বলে প্রতিবেদনে প্রকাশ করা হয়।

এনার খবরে বলা হয়, পাকিস্তানের ‘রুগ্নমানুষ’ জুলফিকার আলি ভুট্টো এখন বিদেশ সফর করছেন অস্ত্র কেনার জন্য। নিজের আক্রমণাত্মক অসম স্পৃহা চরিতার্থ করার জন্য অস্ত্র ভিক্ষার উদ্দেশ্যে সফর করছেন তিনি।

অপরদিকে বঙ্গবন্ধু সফরে যাচ্ছেন শান্তির অন্বেষণে। সফরকালে তিনি বিশ্বকে জানিয়ে দেবেন, তার দেশ সকলের সঙ্গে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানে বিশ্বাসী এবং কারও সঙ্গে শত্রুতা চায় না। পররাষ্ট্র দফতরের ঘনিষ্ঠ মহল এনাকে জানায়, বঙ্গবন্ধুর বিদেশ সফরের গুরুত্ব এই যে, তিনি সেখানে কূটনৈতিক তৎপরতা চালানোর সুযোগ পাবেন।

মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব দিয়ে যিনি দেশের নির্যাতিত মানুষকে মুক্ত করেছেন, সেই বিরাট ব্যক্তিত্বের অধিকারী বঙ্গবন্ধুর কাছ থেকে কিছু শোনার জন্য কমনওয়েলথ নেতারা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছিল বলেও প্রতিবেদনে প্রকাশ হয়।

প্রকৃতপক্ষে এই প্রথমবারের মতো একটি শীর্ষ সম্মেলনে নতুন রাষ্ট্র বাংলাদেশের হয়ে গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক বিষয়ে বক্তৃতা রাখবেন প্রধানমন্ত্রী। এই সফরে কেবল যোগাযোগই প্রতিষ্ঠা করবে না তিনি, কমনওয়েলথ সরকার প্রধানদের সঙ্গে উপমহাদেশে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার পথে বাধাস্বরূপ রাজনৈতিক ও মানবিক সমস্যাবলীর সমাধানে বাস্তব উদ্যোগের কথাও ব্যাখ্যা করবেন।

ভারত-বাংলাদেশ যুক্ত ঘোষণায় বাংলাদেশের যে শান্তির ধর্ম রয়েছে সেটারও বিস্তারিত ব্যাখ্যা করবেন বঙ্গবন্ধু। নেতৃবৃন্দের সঙ্গে তার দেশের জোট নিরপেক্ষ পররাষ্ট্রনীতি সম্পর্কেও আলোচনা করার কথা তাঁর।

দুষ্কৃতিকারীদের দমনে সম্মিলিত ব্যবস্থা

দুষ্কৃতিকারী ও সমাজবিরোধীদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে সম্মিলিত ব্যবস্থা গ্রহণে আইনপ্রয়োগকারী সংস্থাকে নিয়োগ করা হবে। এদিন ঢাকায় এক উচ্চপর্যায়ের সম্মেলনে এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। পরিস্থিতি খারাপ হলে সেনাবাহিনী নিয়োগ করার কথাও বলা হয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আবদুল মালেক উকিল সম্মেলন শেষে তার কক্ষে সাংবাদিকদের এসব জানান।

এনা ও বাসসের খবরে বলা হয়, আইন প্রয়োগকারী সংস্থার প্রধানদের এক উচ্চপর্যায়ের সম্মেলনে এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুল মালেক উকিল।

এতে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সুপারিশগুলো আলোচনা করা হয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, বন্যা নিয়ন্ত্রণমন্ত্রী খন্দকার মোশতাক আহমেদ এবং বেসামরিক বিমান চলাচল ও জাহাজ চলাচল দফতরের মন্ত্রী জেনারেল এম এ জি ওসমানী এবং জাতীয় সংসদ সদস্যের সমন্বয়ে এ সংসদীয় কমিটি গঠন করা হয়।

উচ্চপর্যায়ের এ সম্মেলনে যোগদান করেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ব্রিগেডিয়ার শফিউল্লাহ, পুলিশের ইন্সপেক্টর জেনারেল এ রহিম, বিডিআর-এর মহাপরিচালক কর্নেল সিআর দত্তসহ আরও অনেকে।

গেঞ্জি গায়ে বিমা কর্মচারী

বাংলাদেশ বিমা কর্মচারী ফেডারেশনের আহুত ৪ দফা দাবি আদায়ের পরিপ্রেক্ষিতে আন্দোলনের দ্বিতীয় পর্যায়ের প্রথম দিন বিমা কর্মচারীরা গেঞ্জি পরে কালোব্যাজ ধারণ করে কাজে যোগদান করেন। কর্মচারীদের এ সিদ্ধান্ত সম্পর্কে জানানো হয় যে, আইন অনুযায়ী ধর্মঘটের নোটিস প্রদানের ৩১ দিন পর্যন্ত এই অবস্থা অব্যাহত থাকবে।

পে কমিশন রিপোর্ট ভারসাম্যহীন

পে কমিশনের রিপোর্ট একটি অবাস্তব, ভারসাম্যহীন ও গোঁজামিল প্রস্তাবের সমাহার। একদিকে প্রস্তাবিত বেতনের হার যেমন সকল শ্রেণির পক্ষে অপ্রতুল, অপরদিকে সেই হারের বৈষম্য সমাজতান্ত্রিক সুষম মূল্যায়নের পরিপন্থী। এদিন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের সাংবাদিক সম্মেলনে দলের সাধারণ সম্পাদক আ স ম আব্দুর রব এ মন্তব্য করেন।

পে কমিশন রিপোর্টে সমালোচনা করে সম্মেলনে বলা হয়, এই রিপোর্ট মুদ্রাস্ফীতি ও দ্রব্যমূল্যের পরিপ্রেক্ষিতে নিতান্তই অপ্রতুল ও অবাস্তব। স্বাধীনতার পর দ্রব্যমূল্য কোনও কোনও ক্ষেত্রে শতকরা ৫০ ভাগও বেড়েছে, কিন্তু কমিশনের রিপোর্ট অনুযায়ী নিম্ন বেতনভোগী কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধির পরিমাণ শতকরা ৩০ থেকে ৪০ ভাগ। এই বৃদ্ধি ‘প্রকৃত বৃদ্ধি’ নয়, ‘আপাত বৃদ্ধি’।

 

 

/এফএ/আপ-এনএইচ/

সম্পর্কিত

তিন ইস্যুতে ভারত-পাকিস্তান বৈঠক শুরু ২৪ জুলাই

তিন ইস্যুতে ভারত-পাকিস্তান বৈঠক শুরু ২৪ জুলাই

বঙ্গবন্ধুর আসন্ন বেলগ্রেড সফর তাৎপর্যপূর্ণ

বঙ্গবন্ধুর আসন্ন বেলগ্রেড সফর তাৎপর্যপূর্ণ

বাংলাদেশ মুক্তিকামী জনতার পাশে থাকবে: বঙ্গবন্ধু

বাংলাদেশ মুক্তিকামী জনতার পাশে থাকবে: বঙ্গবন্ধু

বকেয়া বিল আদায় ও ভুয়া কার্ড উদ্ধারে অভিযান

বকেয়া বিল আদায় ও ভুয়া কার্ড উদ্ধারে অভিযান

‘কঠোরতম’ লকডাউনের দ্বিতীয় দিন চলছে

আপডেট : ২৪ জুলাই ২০২১, ০৭:০০

করোনা সংক্রমণ কমাতে দেশব্যাপী নতুন করে আরোপিত কঠোর বিধিনিষেধের দ্বিতীয় দিন আজ শনিবার। শুক্রবার (২৩ জুলাই) সকাল ৬টা থেকে কঠোর বিধিনিষেধ শুরু হয়েছে। ৫ আগস্ট দিবাগত রাত ১২টা পর্যন্ত বিধিনিষেধ বহাল থাকবে। এ সময় জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কেউ ঘরের বাইরে বের হলে তাকে শাস্তির আওতায় নেওয়া হবে। বিধিনিষেধ চলাকালে জনগণকে সতর্ক থাকা, মাস্ক পরিধানসহ স্বাস্থ্যবিধি মানার নির্দেশ দেওয়া হয়। জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন জানিয়েছেন, বিধিনিষেধ আগের চেয়ে কঠোর হবে। বিধিনিষেধ কার্যকর করতে পুলিশের পাশাপাশি বিজিবি ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা মাঠে আছে।

১৩ জুলাই বিধিনিষেধ আরোপ করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। ওই আদেশে ১৪ জুলাই মধ্যরাত থেকে ২৩ জুলাই সকাল ৬টা পর্যন্ত বিধিনিষেধ শিথিল করা হয়েছিল ঈদের কারণে। ২৩ জুলাই সকাল ৬টা থেকে নতুন করে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছিল ওই ঘোষণায়।

কঠোর বিধিনিষেধের প্রথম দিন শুক্রবারে ঢাকায় গ্রেফতার হয়েছে ৪০৩ জন। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) জানায়, লকডাউন অমান্য করে অহেতুক ঘোরাফেরা করায় তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে। এ সময় মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ২০৩ জনকে এক লাখ ২৭ হাজার ২৭০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

আরোপিত ‌বিধিনিষেধের আদেশে যা রয়েছে

১) সব সরকারি, আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি অফিস বন্ধ থাকবে।

২) সড়ক, রেল ও নৌপথে গণপরিবহন (অভ্যন্তরীণ বিমানসহ) ও সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকবে।

৩) শপিং মল/মার্কেটসহ সব দোকানপাট বন্ধ থাকবে।

৪) সব পর্যটনকেন্দ্র, রিসোর্ট, কমিউনিটি সেন্টার ও বিনোদন কেন্দ্র বন্ধ থাকবে।

৫) সব ধরনের শিল্প-কলকারখানা বন্ধ থাকবে।

৬) জনসমাবেশ হয় এ ধরনের সামাজিক বিবাহত্তোর অনুষ্ঠান (ওয়ালিমা), জন্মদিন, পিকনিক, পার্টি ইত্যাদি রাজনৈতিক ও ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান বন্ধ থাকবে।

৭) বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট আদালতগুলোর বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা জারি করবে।

৮) ব্যাংক-বিমা/আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক/আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ প্রয়োজনীয় নির্দেশনা জারি করবে।

৯) সরকারি কর্মচারীরা নিজ নিজ কর্মস্থলে অবস্থান করবেন এবং দাফতরিক কাজগুলো ভার্চুয়ালি (ই-নথি, ই-টেন্ডারিং, ই-মেইল, এসএমএস, হোয়াটঅ্যাপসহ অন্যান্য মাধ্যম) সম্পন্ন করবেন।

১০) আইনশৃঙ্খলা এবং জরুরি পরিসেবা, যেমন: কৃষি পণ্য ও উপকরণ (সার, বীজ, কীটনাশক, কৃষি যন্ত্রপাতি ইত্যাদি), খাদ্যশস্য ও খাদ্যদ্রব্য পরিবহন/বিক্রি, ত্রাণ বিতরণ, স্বাস্থ্যসেবা, কোভিড-১৯ টিকা প্রদান, জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) প্রদান কার্যক্রম, রাজস্ব আদায় সম্পর্কিত কার্যাবলী, বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস/জ্বালানি, ফায়ার সার্ভিস, টেলিফোন ও ইন্টারনেট (সরকারি-বেসরকারি), গণমাধ্যম (প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া), বেসরকারি নিরাপত্তা ব্যবস্থা, ডাক সেবা, ব্যাংক, ভিসা সংক্রান্ত কার্যক্রম, সিটি করপোরেশন/পৌরসভা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, সড়কের বাতি ব্যবস্থাপনা ইত্যাদি কার্যক্রম), সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি, ফার্মেসি ও ফার্মাসিউটিক্যালসসহ অন্যান্য জরুরি/অত্যাবশ্যকীয় পণ্য ও সেবার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অফিসের কর্মচারী ও যানবাহন প্রাতিষ্ঠানিক পরিচয়পত্র প্রদর্শন সাপেক্ষে যাতায়াত করতে পারবে।

১১) বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার কার্যালয় খোলা রাখার বিষয়ে অর্থ বিভাগ প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেবে।

১২) জরুরি পণ্য পরিবহনে নিয়োজিত ট্রাক, লরি/কাভার্ডভ্যান/নৌ-যান/পণ্যবাহী রেল/ফেরি এ নিষেধাজ্ঞার আওতাবহির্ভূত থাকবে।

১৩) বন্দরগুলো (বিমান, সমুদ্র, নৌ ও স্থল) এবং তৎসংশ্লিষ্ট অফিসগুলো এ নিষেধাজ্ঞার আওতাবহির্ভূত থাকবে।

১৪) কাঁচাবাজার এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য সকাল ৯টা থেকে বেলা ৩টা পর্যন্ত স্বাস্থ্যবিধি মেনে কেনাবেচা করা যাবে। সংশ্লিষ্ট বাণিজ্য সংগঠন/বাজার কর্তৃপক্ষ/স্থানীয় প্রশাসন বিষয়টি নিশ্চিত করবে।

১৫) অতি জরুরি প্রয়োজন ছাড়া (ওষুধ ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি কেনা, চিকিৎসা সেবা, মৃতদেহ দাফন/সৎকার ইত্যাদি) কোনোভাবেই বাড়ির বাইরে বের হওয়া যাবে না। নির্দেশনা অমান্যকারীর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

১৬) টিকা কার্ড প্রদর্শন সাপেক্ষে টিকা নেওয়ার জন্য যাতায়াত করা যাবে।

১৭) খাবারের দোকান, হোটেল-রেস্তোরাঁ সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত খাবার বিক্রি (অনলাইন/টেকওয়ে) করতে পারবে।

১৮) আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চালু থাকবে এবং বিদেশগামী যাত্রীরা তাদের আন্তর্জাতিক ভ্রমণের টিকিট প্রদর্শন করে গাড়ি ব্যবহার করে যাতায়াত করতে পারবেন।

১৯) স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে মসজিদে নামাজের বিষয়ে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় নির্দেশনা দেবে।

২০) ‘আর্মি ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার’ বিধানের আওতায় মাঠপর্যায়ে কার্যকর টহল নিশ্চিত করার জন্য সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ প্রয়োজনীয় সংখ্যক সেনা মোতায়েন করবে। জেলা ম্যাজিস্ট্রেট স্থানীয় সেনা কমান্ডারের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিষয়টি নিশ্চিত করবেন।

২১) জেলা ম্যাজিস্ট্রেট জেলা পর্যায়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিয়ে সমন্বয় সভা করে সেনাবাহিনী, বিজিবি/কোস্টগার্ড, পুলিশ, র‌্যাব ও আনসার নিয়োগ ও টহলের অধিক্ষেত্র, পদ্ধতি সময় নির্ধারণ করবেন। সেইসঙ্গে স্থানীয়ভাবে বিশেষ কোনও কার্যক্রমের প্রয়োজন হলে সে বিষয়ে পদক্ষেপ নেবেন। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়/বিভাগগুলো এ বিষয়ে মাঠপর্যায়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেবে।

২২) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় মাঠপর্যায়ে প্রয়োজনীয় সংখ্যক নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগের বিষয়টি নিশ্চিত করবে।

২৩) স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক তার পক্ষে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ বাহিনীকে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রয়োজনীয় ক্ষমতা দেবেন।

/এসও/এফএ/

সম্পর্কিত

গণসংগীতের জন্য ফকির আলমগীর স্মরণীয় হয়ে থাকবেন: প্রধানমন্ত্রী

গণসংগীতের জন্য ফকির আলমগীর স্মরণীয় হয়ে থাকবেন: প্রধানমন্ত্রী

চিকিৎসকদের কোয়ারেন্টিন বাতিল, আর কত হারাবেন তারা?

চিকিৎসকদের কোয়ারেন্টিন বাতিল, আর কত হারাবেন তারা?

জাপান থেকে অ্যাস্ট্রাজেনেকার আড়াই লাখ টিকা আসছে শনিবার

জাপান থেকে অ্যাস্ট্রাজেনেকার আড়াই লাখ টিকা আসছে শনিবার

‘ফলাফল দেখা যাবে পরের সপ্তাহে, পরিস্থিতি সামলানো যাবে না’

‘ফলাফল দেখা যাবে পরের সপ্তাহে, পরিস্থিতি সামলানো যাবে না’

ফকির আলমগীরের শূন্যতা পূরণ হওয়ার নয়: রাষ্ট্রপতি

আপডেট : ২৪ জুলাই ২০২১, ০০:৫৩

একুশে পদকপ্রাপ্ত গণসংগীত শিল্পী ফকির আলমগীরের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ।

শুক্রবার (২৩ জুলাই) রাতে এক শোক বার্তায় রাষ্ট্রপতি বলেন, ফকির আলমগীরের মৃত্যুতে দেশের সঙ্গীত অঙ্গনে যে শূন্যতা সৃষ্টি হলো তা কখনো পূরণ হওয়ার নয়। তার গান তরুণ প্রজন্মের মাঝে দেশপ্রেমের নবজাগরণ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

রাষ্ট্রপতি ফকির আলমগীরের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

এর আগে শুক্রবার রাত ১০টা ৫৬ মিনিটের দিকে রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় করোনাভাইরাসের কাছে পরাজয় বরণ করেন নন্দিত এই গণসংগীতশিল্পী। তার বয়স হয়েছিল ৭১ বছর।

আরও পড়ুন:
করোনার কাছে পরাজিত হলেন ফকির আলমগীর

/ইএইচএস/ ইউএস/

সম্পর্কিত

গণসংগীতের জন্য ফকির আলমগীর স্মরণীয় হয়ে থাকবেন: প্রধানমন্ত্রী

গণসংগীতের জন্য ফকির আলমগীর স্মরণীয় হয়ে থাকবেন: প্রধানমন্ত্রী

দুই বিলে রাষ্ট্রপতির সম্মতি

দুই বিলে রাষ্ট্রপতির সম্মতি

বিশ্ব শিশুশ্রম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর বাণী

বিশ্ব শিশুশ্রম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর বাণী

শান্তি প্রতিষ্ঠায় বুদ্ধের দর্শন গুরুত্বপূর্ণ: রাষ্ট্রপতি

শান্তি প্রতিষ্ঠায় বুদ্ধের দর্শন গুরুত্বপূর্ণ: রাষ্ট্রপতি

গণসংগীতের জন্য ফকির আলমগীর স্মরণীয় হয়ে থাকবেন: প্রধানমন্ত্রী

আপডেট : ২৪ জুলাই ২০২১, ০০:৫২

স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শব্দ সৈনিক ও দেশবরেণ্য গণসংগীতশিল্পী ফকির আলমগীরের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শুক্রবার (২৩ জুলাই) রাতে  প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রেস উইং থেকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

একুশে পদকপ্রাপ্ত এই শিল্পীর মৃত্যুতে এক শোকবার্তায় শেখ হাসিনা বলেন, এ দেশের সঙ্গীতাঙ্গনে, বিশেষ করে গণসংগীতকে জনপ্রিয় করে তুলতে তার ভূমিকা স্মরণীয় হয়ে থাকবে। 

প্রধানমন্ত্রী মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

এর আগে রাত ১০টা ৫৬ মিনিটের দিকে রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় করোনাভাইরাসের কাছে পরাজয় বরণ করেন নন্দিত এই গণসংগীতশিল্পী। তার বয়স হয়েছিল ৭১ বছর।

ফকির আলমগীর স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের অন্যতম শিল্পী। তারও আগে থেকে তিনি শ্রমজীবী মানুষের জন্য গণসংগীত করে আসছিলেন। স্বাধীনতার পর পাশ্চাত্য সংগীতের সঙ্গে দেশজ সুরের মেলবন্ধন ঘটিয়ে বাংলা পপ গানের বিকাশে ভূমিকা রেখেছেন ফকির আলমগীর। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তার কণ্ঠের বেশ কয়েকটি গান দারুণ জনপ্রিয়তা পায়। এরমধ্যে ‘ও সখিনা’ গানটি এখনও মানুষের মুখে মুখে ফেরে। 

১৯৮২ সালের বিটিভির ‘আনন্দমেলা’ অনুষ্ঠানে গানটি প্রচারের পর দর্শকের মধ্যে সাড়া ফেলে। কণ্ঠ দেওয়ার পাশাপাশি গানটির সুরও করেছেন ফকির আলমগীর। তিনি সাংস্কৃতিক সংগঠন ঋষিজ শিল্পীগোষ্ঠীর প্রতিষ্ঠাতা, গণসংগীত চর্চার আরেক সংগঠন গণসংগীতশিল্পী পরিষদের সাবেক সভাপতি। 

সংগীতে অসামান্য অবদানের জন্য ১৯৯৯ সালে সরকার তাকে একুশে পদক দিয়ে সম্মানিত করে।

/ইএইচএস/ইউএস/

সম্পর্কিত

‘কঠোরতম’ লকডাউনের দ্বিতীয় দিন চলছে

‘কঠোরতম’ লকডাউনের দ্বিতীয় দিন চলছে

ফকির আলমগীরের শূন্যতা পূরণ হওয়ার নয়: রাষ্ট্রপতি

ফকির আলমগীরের শূন্যতা পূরণ হওয়ার নয়: রাষ্ট্রপতি

চিকিৎসকদের কোয়ারেন্টিন বাতিল, আর কত হারাবেন তারা?

চিকিৎসকদের কোয়ারেন্টিন বাতিল, আর কত হারাবেন তারা?

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীকে আম পাঠালেন শেখ হাসিনা

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীকে আম পাঠালেন শেখ হাসিনা

চিকিৎসকদের কোয়ারেন্টিন বাতিল, আর কত হারাবেন তারা?

আপডেট : ২৩ জুলাই ২০২১, ২৩:২৩

করোনায় বাবা-মাকে হারিয়েছেন কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের করোনা ইউনিটে দায়িত্ব পালনকারী চিকিৎসক জাকি উদ্দিন। ছয় মাসের ব্যবধানে করোনায় বাবা-মাকে হারিয়ে ডা. জাকির সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম-ফেসবুকে চিকিৎসা পেশা ছেড়ে দেওয়ার কথা জানান। 

কোয়ারেন্টিনের ব্যবস্থা না থাকায় কুমিল্লার রেসকোর্সের বাসা থেকে হাসপাতালে আসা-যাওয়া করতেন ডা. জাকি উদ্দিন। ছয় মাস আগে মা-বাবা ও ছোট বোনসহ তিনি করোনায় আক্রান্ত হন। এরপর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তার মা জাহানারা নাসরিন।

করোনা থেকে সুস্থ হলেও তার বাবা মারা যান চলতি মাসে। বাবাকে হারিয়ে ডা. জাকি উদ্দিন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লেখেন, ‘একদম এতিম হয়ে গেছি ছয় মাসের ভেতর। কোভিড দিয়ে মেরে ফেলছি।’ এরপর ইংরেজিতে যা লেখেন, তার বাংলা অর্থ দাঁড়ায়, ‘কোনও বাবা-মায়ের যেন আমার মতো সন্তান না থাকে, যে তার বাবা-মাকে ছয় মাসের মধ্যে মেরে ফেলেছে। আমার আর এই পেশায় থাকা উচিত না বলে মনে করি।’

ডা. জাকি উদ্দিনের এ স্ট্যাটাস চিকিৎসক মহলে আলোচনার জন্ম দেয়। নতুন করে আবার উঠে আসে করোনা ইউনিটে দায়িত্বপালনকারী চিকিৎসকদের কোয়ারেন্টিন (সঙ্গ নিরোধ) বাতিলের সিদ্ধান্তের বিষয়টি।

ছয় মাসের ব্যবধানে একজন মানুষ এতিম হয়ে গেলো মন্তব্য করে চিকিৎসকদের জাতীয় সংগঠন-বিএমএ’র কুমিল্লা জেলার সাধারণ সম্পাদক ডা. আতাউর রহমান জসিম বলেন, ‘তার (ডা. জাকি উদ্দিন) বন্ধু ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা করোনা ডেডিকেটেড ইউনিটে দায়িত্বরতদের জন্য কোয়ারেন্টিন বা আবাসিক ব্যবস্থা না থাকাকে দায়ী করছেন। এ ব্যাপারে (কোয়ারেন্টিন) তাদের জন্য কী উন্নত ব্যবস্থা করা যায় না?’

কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের কোভিড ইউনিটের চিকিৎসক ডা. আতিক বলেন, ‘প্রণোদনা নেই, কোয়ারেন্টিনের ব্যবস্থা নেই, জীবনের নিরাপত্তা নেই। আবার সরকারি চাকরি করি বলে কিছু বলতেও পারবো না। এ কেমন কথা? আমরা কোয়ারেন্টিনের ব্যবস্থাসহ সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার জন্য সরকারের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি।’

প্রসঙ্গত, দেশে করোনা মহামারি শুরু হওয়ার পর গত ১২ এপ্রিল রাজধানীর ছয় হাসপাতালের করোনায় আক্রান্ত রোগীদের স্বাস্থ্য সেবাদানকারী চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের থাকার জন্য ১৯টি হোটেল নির্ধারণ করে স্বাস্থ্য অধিদফতর। কিন্তু গত ২৯ জুলাই স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় আবাসিক হোটেলের বিল পরিশোধ না করার সিদ্ধান্ত নেয়। সঙ্গে চিকিৎসকদের জন্য বরাদ্দ হোটেলের সুবিধাও বাতিল করে পরিপত্র জারি করে।  

কোয়ারেন্টিনের পরিবর্তে মন্ত্রণালয়ের পরিপত্রে বলা হয়, রাজধানী ঢাকার মধ্যে দায়িত্ব পালনকারী একজন চিকিৎসক দৈনিক দুই হাজার টাকা এবং ঢাকার বাইরে এক হাজার ৮০০ টাকা, একজন নার্স ঢাকার মধ্যে এক হাজার ২০০ ঢাকা এবং ঢাকার বাইরে এক হাজার টাকা এবং একজন স্বাস্থ্যকর্মী ঢাকার মধ্যে ৮০০ টাকা এবং ঢাকার বাইরে ৬৫০ টাকা ভাতা পাবেন।

অথচ চিকিৎসকসহ সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চিকিৎসকরা সুপার স্প্রেডার। ১৫ দিন টানা হাসপাতালে ডিউটি করার পর নিজ দায়িত্বে কোয়ারেন্টিন সব দিক থেকেই অবৈজ্ঞানিক। তারা বলছেন, চিকিৎসকরা কোনও পাঁচ তারকা হোটেল চাননি, তারা কেবল ‘লিভিং স্ট্যান্ডার্ড’ অনুযায়ী থাকার জায়গা চেয়েছিলেন; তাদের এবং তাদের পরিবারের সবার সুরক্ষার জন্য।

চিকিৎসকদের কোয়ারেন্টিনের ব্যবস্থা না করলে ফল ভালো হবে না

কোয়ারেন্টিন বাতিলের সিদ্ধান্ত খুবই অমানবিক, অপমানজনক ও অবমাননাকর বলে মন্তব্য করেছেন কোভিড ডেডিকেটেড হাসপাতালগুলোতে কাজ করা চিকিৎসকরা। তারা বলছেন, এই সিদ্ধান্তগুলো আমলাতান্ত্রিক না হয়ে বিজ্ঞানভিত্তিক হওয়া উচিত। কোভিড রোগীদের চিকিৎসা কি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা করছেন নাকি চিকিৎসকরা করছেন, এমন প্রশ্নও তুলছেন চিকিৎসকরা। একইসঙ্গে চিকিৎসকরা এও বলছেন, কোয়ারেন্টিন আমাদের ছুটি নয়, এটা হাসপাতালে কাজের একটি অংশ। কোনোভাবেই কর্তৃপক্ষ এ সময়ে আমাদের বাড়িতে পাঠাতে পারে না।

কোয়ারেন্টিন বাতিলের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে করোনাবিষয়ক জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটিসহ চিকিৎসকদের একাধিক সংগঠন এই কোয়ারেন্টিন সুবিধার দাবি জানিয়ে এসেছে।

কোভিড-১৯ বিষয়ক জাতীয় কারিগরি পরার্মশক কমিটির ২০তম সভায় হাসপাতালে দায়িত্ব পালনরত স্বাস্থ্যকর্মীদের কোয়ারেন্টিনের ব্যবস্থা নিয়ে একাধিকবার আলোচনা হয়েছে। কমিটির সদস্যরা বলছেন, চিকিৎসকসহ স্বাস্থ্যকর্মীদের সঙ্গে তাদের পরিবার পরিজনরাও কোভিড-১৯ সংক্রমণের ঝুঁকিতে পড়েন। তাই ডিউটি শেষে তাদের কোয়ারেন্টিনের জন্য নিরাপদ আবাসনের প্রয়োজন।

গত ৮ জুলাই বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ডা. মোস্তফা জালাল মহি উদ্দিন ও মহাসচিব ডা. ইহতেশামুল হক চৌধুরী স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে লেখা চিঠিতেও চিকিৎসকসহ অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীদের কোয়ারেন্টিনের বিষয়টি উল্লেখ করেন। চিঠিতে তারা বলছেন, চিকিৎসক ও সহযোগী স্বাস্থ্যকর্মীদের কোয়ারেন্টিন সুবিধা বাতিল করে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে চিকিৎসক এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের করোনায় আক্রান্তের হার অনেক বেড়েছে।

আবার কোনও কোনও চিকিৎসক দ্বিতীয়বার করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন জানিয়ে বিএমএ’র চিঠিতে বলা হয়, দীর্ঘদিন বিরতীহীনভাবে সেবা ও তাদের কারণে পরিবারের সদস্যদের করোনায় আক্রান্ত হওয়ায় দেশের সব চিকিৎসক চূড়ান্তভাবে মানসিক যন্ত্রণার মাধ্য দিয়ে সময় পার করছেন। 

বিএমএ’র তথ্য অনুযায়ী দেশে মহামারিকালে এখন পর্যন্ত ১৬৯ জন চিকিৎসক করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। আর গত ৮ জুলাই পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন আট হাজার ২৮৩ জন স্বাস্থ্যকর্মী। তাদের মধ্যে চিকিৎসক রয়েছেন দুই হাজার ৯৫৪ জন, নার্স দুই হাজার ২৩ জন এবং অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মী রয়েছেন তিন হাজার ৩০৬ জন।

চিকিৎসকরা মানষিকভাবে খুবই বিধ্বস্ত হয়ে গেছেন জানিয়ে বিএমএ’র মহাসচিব ডা. মো. ইহতেশামুল হক চৌধুরী কোয়ারেন্টিন বাতিলের সিদ্ধান্ত কতোটা অযৌক্তিক সেই প্রশ্ন তুলেছেন।

কোয়ারেন্টিন বন্ধ করে দেওয়াতে চিকিৎসকরা হাসপাতাল থেকে বাড়িতে ফিরে যাচ্ছেন, আর বাড়ি গিয়ে তারা অন্যদের সংক্রমিত করছেন। এটা কোনোভাবেই কাম্য হতে পারে না জানিয়ে ইহতেশামুল হক চৌধুরী বলেন, ‘গত দেড় বছর ধরে চিকিৎসকরা বিরামহীনভাবে এই মহামারি সামাল দিয়ে যাচ্ছেন, যেটা আমার চিকিৎসক জীবনে পাইনি।’

তিনি বলেন, ‘বহুসংখ্যক চিকিৎসকের পরিবারের অনেক মানুষ করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন, মৃত্যুবরণ করেছেন। আর তাই কোয়ারেন্টিন ব্যবস্থা জরুরিভিত্তিতে চালু করা উচিত; এটা বলতে বলতে ক্লান্ত হয়ে গেলাম। এভাবে যদি চলতে থাকে তাহলে কেবল মানসিকভাবে বিধ্বস্ত নয়, নানাভাবে তাতে প্রভাবিত করবে, কাজে প্রভাব ফেলবে।’

‘সরকারের প্রতি বিনীত অনুরোধ থাকবে, চিকিৎসকসহ অন্যদের কোয়ারেন্টিন ব্যবস্থা চালু করার’-বলেন ইহতেশামুল হক চৌধুরী।

‘যখন কোয়ারেন্টিন বাতিল করা হয় তখনই আমরা আপত্তি করেছিলাম।’ পরার্মশক কমিটি, বিএমএ, স্বাচিপসহ প্রতিটি সংগঠন, প্রত্যেক চিকিৎসক এর বিরোধিতা করেছেন জানিয়ে কোভিড-১৯ বিষয়ক জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটির সদস্য ও স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ (স্বাচিপ) এর সভাপতি অধ্যাপক ডা. ইকবাল আর্সলান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বারবার এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়ে কোয়ারেন্টিনের ব্যবস্থা করার জন্য জোরালোভাবে বারবার বলেছি। কিন্তু সরকার সেটা করেনি।’

তিনি বলেন, ‘যে পরিস্থিতি এখন দাঁড়াচ্ছে, চিকিৎসকরা কিন্তু এক সময় ক্লান্ত হয়ে যাবে। এটা কেউ গ্রাহ্য করছে না। এখনও সময় আছে, চিকিৎসকদের কোয়ারেন্টিনের ব্যবস্থা করা হোক।’

‘প্রকৃত অবস্থা হচ্ছে, একজন চিকিৎসকের জন্য পরিবার হুমকিতে পড়ছে, যেটা কেউ চায় না। নিজের জীবনের চেয়েও পরিবারের মানুষগুলো বেশি গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণে কোনও চিকিৎসক কিন্তু করোনা রোগীদের চিকিৎসা করতে আপত্তি করে না, কেবল চায় হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা দিয়ে যেন তাকে তার পরিবারের কাছে ফিরতে না হয়। এটা দায়িত্ববোধের জায়গা, আর এ জন্যই চিকিৎসকদের কোয়ারেন্টিনের ব্যবস্থা সরকারিভাবে করা উচিত, চিকিৎসকদের মনোবল ধরে রাখতে হলে এটা এখনি না করা হলে ফল ভালো হবে না’—বলেন অধ্যাপক ইকবাল আর্সলান।

 

 

/জেএ/আইএ/

সম্পর্কিত

‘কঠোরতম’ লকডাউনের দ্বিতীয় দিন চলছে

‘কঠোরতম’ লকডাউনের দ্বিতীয় দিন চলছে

গণসংগীতের জন্য ফকির আলমগীর স্মরণীয় হয়ে থাকবেন: প্রধানমন্ত্রী

গণসংগীতের জন্য ফকির আলমগীর স্মরণীয় হয়ে থাকবেন: প্রধানমন্ত্রী

জাপান থেকে অ্যাস্ট্রাজেনেকার আড়াই লাখ টিকা আসছে শনিবার

জাপান থেকে অ্যাস্ট্রাজেনেকার আড়াই লাখ টিকা আসছে শনিবার

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীকে আম পাঠালেন শেখ হাসিনা

আপডেট : ২৩ জুলাই ২০২১, ২০:৩০

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের জন্য ‘হাঁড়িভাঙা’ আম শুভেচ্ছার বিশেষ নিদর্শন হিসেবে পাঠিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

ইসলামাবাদে বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, প্রধানমন্ত্রীর শুভেচ্ছা উপহার এক হাজার কেজি 'হাঁড়িভাঙা' আম কোরবানির ঈদের দিনে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের রাষ্ট্রাচার কর্মকর্তার কাছে বাংলাদেশ হাইকমিশন, ইসলামাবাদের পক্ষ থেকে হস্তান্তর করা হয়।

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর এ শুভেচ্ছা উপহার পাকিস্তানের পক্ষ থেকে ধন্যবাদের সঙ্গে গৃহীত হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এই উপহার ভ্রাতৃপ্রতিম দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি বিশেষ নজির হিসেবে বিবেচিত হবে।

এর আগে ভারতসহ অন্যান্য দেশে আম উপহার পাঠান প্রধানমন্ত্রী। ইসলামাবাদে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কর্মকর্তার হাতে আমের প্যাকেট তুলে দিচ্ছেন দূতাবাসের কর্মকর্তা

/এসএসজেড/এমএস/এমওএফ/

সম্পর্কিত

গণসংগীতের জন্য ফকির আলমগীর স্মরণীয় হয়ে থাকবেন: প্রধানমন্ত্রী

গণসংগীতের জন্য ফকির আলমগীর স্মরণীয় হয়ে থাকবেন: প্রধানমন্ত্রী

‘ঈদে মায়ের কাছে আমরা কোনও আবদার করিনি’

‘ঈদে মায়ের কাছে আমরা কোনও আবদার করিনি’

ভিডিও বার্তায় দেশবাসীকে প্রধানমন্ত্রীর ঈদ শুভেচ্ছা

ভিডিও বার্তায় দেশবাসীকে প্রধানমন্ত্রীর ঈদ শুভেচ্ছা

‘সরকারি মাল দরিয়া মে ঢাল’ প্রবণতা এখন নেই: প্রধানমন্ত্রী

‘সরকারি মাল দরিয়া মে ঢাল’ প্রবণতা এখন নেই: প্রধানমন্ত্রী

সম্পর্কিত

তিন ইস্যুতে ভারত-পাকিস্তান বৈঠক শুরু ২৪ জুলাই

তিন ইস্যুতে ভারত-পাকিস্তান বৈঠক শুরু ২৪ জুলাই

বঙ্গবন্ধুর আসন্ন বেলগ্রেড সফর তাৎপর্যপূর্ণ

বঙ্গবন্ধুর আসন্ন বেলগ্রেড সফর তাৎপর্যপূর্ণ

বাংলাদেশ মুক্তিকামী জনতার পাশে থাকবে: বঙ্গবন্ধু

বাংলাদেশ মুক্তিকামী জনতার পাশে থাকবে: বঙ্গবন্ধু

বকেয়া বিল আদায় ও ভুয়া কার্ড উদ্ধারে অভিযান

বকেয়া বিল আদায় ও ভুয়া কার্ড উদ্ধারে অভিযান

ফারাক্কা বাঁধ চালু হবে না

ফারাক্কা বাঁধ চালু হবে না

যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের জন্য সংসদে বিল পাস

যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের জন্য সংসদে বিল পাস

যুদ্ধাপরাধ বিচারে বিল উত্থাপন

যুদ্ধাপরাধ বিচারে বিল উত্থাপন

বিশ্ব আদালতের রায়ে ঢাকার সন্তোষ

বিশ্ব আদালতের রায়ে ঢাকার সন্তোষ

বিশ্ব আদালতে পাকিস্তানের আবেদন অগ্রাহ্য

বিশ্ব আদালতে পাকিস্তানের আবেদন অগ্রাহ্য

শততম দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে  মরক্কোর স্বীকৃতি

শততম দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে  মরক্কোর স্বীকৃতি

সংবিধানের প্রথম সংশোধনী বিল উত্থাপন

সংবিধানের প্রথম সংশোধনী বিল উত্থাপন

দেশে ফিরলেন আটক ১২৭ বাঙালি

দেশে ফিরলেন আটক ১২৭ বাঙালি

সর্বশেষ

ইসরায়েলি বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে আহত ১৪০ ফিলিস্তিনি

ইসরায়েলি বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে আহত ১৪০ ফিলিস্তিনি

‘কঠোরতম’ লকডাউনের দ্বিতীয় দিন চলছে

‘কঠোরতম’ লকডাউনের দ্বিতীয় দিন চলছে

হাইতির নিহত প্রেসিডেন্টের শেষকৃত্যেও গুলির শব্দ

হাইতির নিহত প্রেসিডেন্টের শেষকৃত্যেও গুলির শব্দ

ক্ষমা চাইলেন সেই জার্মান সাংবাদিক

ক্ষমা চাইলেন সেই জার্মান সাংবাদিক

শহীদ মিনারে ফকির আলমগীরকে জানানো হবে শেষ শ্রদ্ধা 

শহীদ মিনারে ফকির আলমগীরকে জানানো হবে শেষ শ্রদ্ধা 

প্রবল বর্ষণে মহারাষ্ট্রে মৃত বেড়ে ১১০

প্রবল বর্ষণে মহারাষ্ট্রে মৃত বেড়ে ১১০

লকডাউনে বগুড়া থেকে হিলিতে চকলেট কিনতে যাওয়ায় জরিমানা

লকডাউনে বগুড়া থেকে হিলিতে চকলেট কিনতে যাওয়ায় জরিমানা

শেষ জন্মদিনে যে কথা দিয়েছিলেন অসহায়দের...

স্মরণে ফকির আলমগীরশেষ জন্মদিনে যে কথা দিয়েছিলেন অসহায়দের...

শনিবার তালতলা কবরস্থানে সমাহিত হবেন ফকির আলমগীর

শনিবার তালতলা কবরস্থানে সমাহিত হবেন ফকির আলমগীর

সিঁধ কেটে ঘরে ঢুকে গরু বিক্রির ১৫ লাখ টাকা লুট

সিঁধ কেটে ঘরে ঢুকে গরু বিক্রির ১৫ লাখ টাকা লুট

জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় মুখ্য হিট অফিসার নিয়োগ

জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় মুখ্য হিট অফিসার নিয়োগ

আ. লীগ বলছে জোট অটুট, শরিকরা বলছে অকার্যকর

আ. লীগ বলছে জোট অটুট, শরিকরা বলছে অকার্যকর

সর্বশেষসর্বাধিক

লাইভ

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

তিন ইস্যুতে ভারত-পাকিস্তান বৈঠক শুরু ২৪ জুলাই

তিন ইস্যুতে ভারত-পাকিস্তান বৈঠক শুরু ২৪ জুলাই

বঙ্গবন্ধুর আসন্ন বেলগ্রেড সফর তাৎপর্যপূর্ণ

বঙ্গবন্ধুর আসন্ন বেলগ্রেড সফর তাৎপর্যপূর্ণ

বাংলাদেশ মুক্তিকামী জনতার পাশে থাকবে: বঙ্গবন্ধু

বাংলাদেশ মুক্তিকামী জনতার পাশে থাকবে: বঙ্গবন্ধু

বকেয়া বিল আদায় ও ভুয়া কার্ড উদ্ধারে অভিযান

বকেয়া বিল আদায় ও ভুয়া কার্ড উদ্ধারে অভিযান

ফারাক্কা বাঁধ চালু হবে না

ফারাক্কা বাঁধ চালু হবে না

যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের জন্য সংসদে বিল পাস

যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের জন্য সংসদে বিল পাস

যুদ্ধাপরাধ বিচারে বিল উত্থাপন

যুদ্ধাপরাধ বিচারে বিল উত্থাপন

বিশ্ব আদালতের রায়ে ঢাকার সন্তোষ

বিশ্ব আদালতের রায়ে ঢাকার সন্তোষ

বিশ্ব আদালতে পাকিস্তানের আবেদন অগ্রাহ্য

বিশ্ব আদালতে পাকিস্তানের আবেদন অগ্রাহ্য

শততম দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে  মরক্কোর স্বীকৃতি

শততম দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে  মরক্কোর স্বীকৃতি

© 2021 Bangla Tribune