X
শুক্রবার, ০৬ আগস্ট ২০২১, ২১ শ্রাবণ ১৪২৮

সেকশনস

রাজশাহীর হাটে পশু কেনাবেচা জমজমাট, স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষিত

আপডেট : ১৮ জুলাই ২০২১, ২২:৫৫

ঈদুল আজহায় ত্যাগের মহিমায় করা হবে কোরবানি। আর এই কোরবানিকে সামনে রেখে রাজশাহী নগরীর উপকণ্ঠে সবচেয়ে বড় হাট ‘সিটি পশুর হাট’ জমে উঠেছে। অনলাইন পশুর হাটও জমজমাট। এ বছর রাজশাহী বিভাগে অনলাইনের মাধ্যমে ৫০০ কোটি টাকার পশু বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে কাজ করছে বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ দফতর।

করোনা মহামারির এই সময়ে সিটি পশুর হাটে ক্রেতা-বিক্রেতার সমাগম বাড়ছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করে হাট পরিচালনা করতে বলা হচ্ছে। কিন্তু বাস্তবে স্বাস্থ্যবিধির বালাই থাকছে না। হাটের সামনে স্বাস্থ্যবিধি সম্পর্কে সচেতন করে মাইকিং ও হ্যান্ড স্যানিটাইজার রেখেই দায় সারছেন হাট ইজারাদার।

ঈদের আগে সাপ্তাহিক বড় হাট রবিবার (১৮ জুলাই) নগরীর সিটি হাট এলাকা ঘুরে দেখা যায়, হাটের মধ্যে স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিতে বাড়তি কোনও নজরদারি নেই। নেই বাধ্যতামূলক মাস্কের ব্যবহার কিংবা সামাজিক দূরত্ব। অধিকাংশ ক্রেতা-বিক্রেতার কাছে মাস্ক থাকলেও তা সঠিক নিয়মে পরছেন না। কখনও নাকের নিচে আবার কখনও হাতে ঝুলিয়েই ঘুরে বেড়াচ্ছেন। আর দুর্গন্ধযুক্ত সিটি ভাগাড়ের উপরই কর্দমাক্ত পরিবেশেই বসেছে হাটের একাংশ। এতে হাটে করোনা ঝুঁকিসহ অন্যান্য স্বাস্থ্যঝুঁকিও থাকছে।

স্বাস্থ্যবিধির বালাই থাকছে না হাটে পশু ব্যবসায়ী তাইবুর রহমান জানান, ঈদের শেষ সময়ে জমে উঠেছে পশুর হাট। এতে করে গরু-মহিষের সরবরাহ যেমন বেড়েছে, তেমনি ক্রেতা-বিক্রেতার সংখ্যাও বেড়েছে। করোনাকালীন স্বাস্থ্যবিধি মেনে অনেকে মাস্ক পরছেন। আবার অনেকে বিভিন্ন অজুহাতে মাস্ক পরছে না।

তিনি জানান, এবার হাটে মহিষ ও ছোট গরুর সরবরাহ বেশ ভালো। মাঝারি ও কোরবানিযোগ্য ছোট গরু বেশি বিক্রি হচ্ছে। গরু ব্যবসায়ী সোহরাব আলী জানান, তিনি জেলার বিভিন্ন জায়গার বাড়ি বাড়ি থেকে গরু কিনে হাটে এনে বিক্রি করেন। গতবার যেসব গরু এক লাখ ২০ হাজার টাকায় বিক্রি করেছেন সেসব গরু এবার ক্রেতারা এক লাখ ১০ হাজার টাকার উপরে দাম বলছেন না। হাটে গরু সরবরাহ ভালো আছে। আর মাঝারি আকারের গরু ৪০ হাজার থেকে ৯০ হাজার টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে।

সি টি পশুর হাট ইজারাদার আতিকুর রহমান কালু জানান, রাজশাহীর এই বৃহত্তম সিটি পশুর হাট ঈদের আগ পর্যন্ত চলবে। এবার হাটে পশুর আমদানি যথেষ্ট পরিমাণ আছে। হাটের মধ্যে স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিতে তারা তৎপর রয়েছেন। বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতে সংক্রমণ ঝুঁকি বিবেচনায় মাইকিং করে ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়কে সতর্ক করা হচ্ছে।

এদিকে, রাজশাহী নগরীর সাহেব বাজার জিরো পয়েন্টে বসেছে অস্থায়ী ছাগলের হাট। তবে কাঙ্ক্ষিত ক্রেতা না থাকায় এবার বিপাকে পড়েছেন বিক্রেতারা। প্রতি বছরের মতো এ বছরও জিরো পয়েন্টের বড় মসজিদের সামনে ক্ষুদ্র পরিসরে বসেছে ছাগলের হাটটি। এই হাটের ক্রেতাদের ভাষ্য, বাড়িতে ছাগল রাখার জায়গা নেই। ঈদের আগের দিন ক্রয় করে বাড়ির গ্যারেজে রেখে কোরবানি দেওয়া হবে।

অপরদিকে, রাজশাহী বিভাগে ১৪২টি পশু কেনাবেচার সরকারি অনলাইন মার্কেট তৈরি করা রয়েছে। ওয়েব সাইটের মাধ্যমে এসব মার্কেট পরিচালনা করা হচ্ছে। বেসরকারিভাবে ওয়েব সাইটসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক হাজার ১০৯টিরও বেশি পশুর মার্কেট রয়েছে। আর এ পর্যন্ত রাজশাহী বিভাগে অনলাইন মার্কেটে প্রায় আড়াই কোটি টাকার পশু কেনাবেচা হয়েছে।

সাহেব বাজার জিরো পয়েন্টে বসেছে অস্থায়ী ছাগলের হাট কোরবানির পশু ডিজিটাল হাট, অনলাইন পশুর হাট রাজশাহী, অনলাইন পশুরহাট নওহাটা, মোহনপুর অনলাইন পশুর হাট, অনলাইন কোরবানির পশুর হাট জয়পুরহাট, পাবনা ই-বাজার, এমআরএফ গ্রুপ পাবনাসহ অনলাইনে বিভিন্ন নামে এসব মার্কেট খোলা হয়েছে। সরকারি উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত অনলাইন মার্কেটে রাজশাহী বিভাগে প্রায় ৫০ হাজারসহ মোট ৪ লাখ ৩৮ হাজার গবাদিপশুর ছবিসহ বিবরণ আপলোড করা হয়েছে বলে জানায় দফতর। তবে ঈদের আগে পর্যন্ত এ সংখ্যা আরও বাড়বে বলে জানিয়েছে তারা।

রাজশাহীর খামারি ও কৃষি উদ্যোক্তা আরাফাত রুবেল। তিনি অনলাইন মার্কেটের মাধ্যমে গত বছর থেকে তার খামারের পশু বিক্রি করছেন। তিনি জানান, অনলাইন মাধ্যমে পশু বিক্রিতে তিনি খুব ভালো সাড়া পেয়েছেন। গত সপ্তাহে তার খামারের কোরবানিযোগ্য ছয়টি গরু বিক্রি অনলাইনে বিক্রি করেছেন। অনলাইন মার্কেটে গ্রাহকের বিশ্বাস অর্জন করাটাই মূল। এক্ষেত্রে একজন অনলাইন বিক্রেতাকে বেশি কিছু পলিসি নিতে হয়।

রাজশাহী জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) ইসমাইল হক বলেন, ‘নগরীসহ রাজশাহী জেলায় কোরবানির চাহিদার চেয়ে প্রায় এক লাখ ২৫ হাজারের মতো বেশি পশু আছে। এগুলো বাইরে সরবরাহ হয়। এবার অনলাইন পশুর হাটে কেনাবেচা বেড়েছে। সর্বোপরি পশুর সংকট কিংবা পশু অবিক্রিত থেকে যাবে এমন শঙ্কা নেই।’ তিনি জানান স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিতে হাট ইজারাদারকে নির্দেশনা দিচ্ছেন। এছাড়া হাটে তাদের তিন সদস্যের একটি টিম আছে যারা অসুস্থ পশুর চিকিৎসা দিচ্ছেন।

রাজশাহী বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের পরিচালক উত্তম কুমার দাস জানান, সারাদেশে মোট প্রায় ৬০ হাজার কোটি টাকার পশু কেনাবেচা হবে। এর প্রায় ১০ শতাংশ অনলাইন মার্কেটে বিক্রি হচ্ছে। বাকিটা আগের গতানুগতিক পদ্ধতিতেই বেচাকেনা হবে। বর্তমানে বিভাগে সরকারি-বেসরকারি প্রায় দেড় হাজারের মতো অনলাইন পশুর হাট রয়েছে। বিভাগের অধিকাংশ জেলা-উপজেলায় এখন অনলাইন পশুর হাট রয়েছে। 

তিনি আরও জানান, অনলাইন পশুর হাটকে ঘিরে অনেকের মধ্যে ভ্রান্ত ধারণা আছে। তবে এখন পর্যন্ত রাজশাহী বিভাগে অনলাইন হাটে পশু কেনাবেচায় কোনও প্রতারণা কিংবা হয়রানির অভিযোগ পাওয়া যায়নি।

/এমএএ/

সম্পর্কিত

টিকা ছাড়া শরীরে খালি সিরিঞ্জ পুশ, ২ নার্সকে প্রত্যাহার

টিকা ছাড়া শরীরে খালি সিরিঞ্জ পুশ, ২ নার্সকে প্রত্যাহার

বগুড়ায় আরও ১১ মৃত্যু

বগুড়ায় আরও ১১ মৃত্যু

রাজশাহী মেডিক্যালে আরও ১৭ মৃত্যু

রাজশাহী মেডিক্যালে আরও ১৭ মৃত্যু

আনন্দময় যাত্রার মাঝপথে লাশ হওয়া ১৬ জনই নিকটাত্মীয়

আনন্দময় যাত্রার মাঝপথে লাশ হওয়া ১৬ জনই নিকটাত্মীয়

গাজীপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি মাসুদ সম্পাদক রাহিম

আপডেট : ০৬ আগস্ট ২০২১, ০০:৫৬

গাজীপুর প্রেসক্লাবের ২০২১-২২ মেয়াদের নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। এতে অধ্যাপক মাসুদুল হক (বাংলাদেশ বেতার) সভাপতি এবং রাহিম সরকার (বিজয় টিভি/দৈনিক জনতা) সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন। 

বৃহস্পতিবার (০৫ আগস্ট) শুধু সাধারণ সম্পাদক পদে দুই প্রার্থীর মধ্যে এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এতে রাহিম সরকার পেয়েছেন ২৮টি ভোট এবং রুহুল আমিন সজীব (দৈনিক খবর) পেয়েছেন ১৫ ভোট। প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী মোসাদ্দেক হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

কাজী মোসাদ্দেক হোসেন বলেন, সভাপতিসহ অন্য ১৬টি পদের বিপরীতে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী না থাকায় ২৩ জুলাই ওই ১৬ পদের প্রার্থীকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা করা হয়েছে। ৫১ জন ভোটারের মধ্যে ৪৩ জন ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন।

বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিতরা হলেন সভাপতি মাসুদুল হক (বাংলাদেশ বেতার), সিনিয়র সহ-সভাপতি আলমগীর হোসেন (দৈনিক মুক্ত বলাকা), সহ-সভাপতি সৈয়দ মোকছেদুল আলম লিটন (দৈনিক গণমুখ), যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মো. মনিরুজ্জামান (সাপ্তাহিক ভাওয়াল), সাংগঠনিক সম্পাদক মীর মোহাম্মদ ফারুক (বাংলাভিশন), কোষাধ্যক্ষ আবিদ হোসেন বুলবুল (দৈনিক সকালের সময়), প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আফজাল হোসেন (দৈনিক আমার সংবাদ), দফতর সম্পাদক সাদেক আলী (দৈনিক ভোরের পাতা), ক্রীড়া, সাংস্কৃতিক ও কল্যাণ সম্পাদক এম এ ফরিদ (দ্য মর্নিং গ্লোরি)।

নির্বাহী সদস্যরা হলেন অধ্যাপক আমজাদ হোসেন (দৈনিক গণমুখ), অধ্যাপক এনামুল হক (দৈনিক বাংলাদেশের খবর), ফজলুল হক মোড়ল (চ্যানেল আই), আব্দুর রহমান (বাংলাদেশ টেলিভিশন), মাহতাব উদ্দিন আহাম্মদ (নিউজ টাইমস), হাবিবুর রহমান (ডেইলি বাংলাদেশ পোস্ট) এবং প্রভাষক আবু বকর ছিদ্দিক আকন্দ (ডেইলি স্টার)।

নির্বাচন চলাকালে সংরক্ষিত (মহিলা) আসনের সংসদ সদস্য শামসুন নাহার ভূঁইয়া নির্বাচন পরিদর্শন করেন। তিনি নির্বাচিত সদস্যসহ সবাইকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানান।

/এএম/

সম্পর্কিত

করোনায় বাবাকে হারিয়ে অক্সিজেন সি‌লিন্ডার দিলেন সন্তানরা

করোনায় বাবাকে হারিয়ে অক্সিজেন সি‌লিন্ডার দিলেন সন্তানরা

সিঙ্গারের গোডাউনে অগ্নিকাণ্ডে ১০ কোটি টাকার ক্ষতি

সিঙ্গারের গোডাউনে অগ্নিকাণ্ডে ১০ কোটি টাকার ক্ষতি

আড়াইহাজারে ঝগড়া থামাতে গিয়ে গৃহবধূ নিহত

আড়াইহাজারে ঝগড়া থামাতে গিয়ে গৃহবধূ নিহত

১০ সহকর্মীকে ছাঁটাই করায় বিক্ষোভ তাদের

১০ সহকর্মীকে ছাঁটাই করায় বিক্ষোভ তাদের

পেট্রাপোল পৌঁছেছে ভারতের উপহারের ৩০টি অ্যাম্বুলেন্স

আপডেট : ০৫ আগস্ট ২০২১, ২৩:২৬

চলতি বছরের মার্চে বাংলাদেশ সফরকালে করোনা মোকাবিলার যৌথ প্রচেষ্টায় লাইফ সাপোর্ট অ্যাম্বুলেন্স উপহারের ঘোষণা দেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী। সেই উপহারের দ্বিতীয় চালানের ৩০টি অ্যাম্বুলেন্স ভারতের পেট্রাপোল বন্দরে এসে পৌঁছেছে। 

বৃহস্পতিবার (৫ আগস্ট) ঢাকায় অবস্থিত ভারতীয় হাইকমিশন এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। আগামী শনিবার ৩০টি অ্যাম্বুলেন্স বাংলাদেশে প্রবেশ করবে। পেট্রাপোল শুল্ক চেকপোস্টের ছাড়পত্র পাওয়ার পর অ্যাম্বুলেন্সগুলো বেনাপোল বন্দর হয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হবে। 

ভারতীয় হাইকমিশন জানায়, চলতি বছরের ২৬-২৭ মার্চ বাংলাদেশ সফরকালে করোনা মহামারি মোকাবিলার বাংলাদেশ সরকারকে ১০৯টি লাইফ সাপোর্ট অ্যাম্বুলেন্স উপহার দেওয়ার ঘোষণা দেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এরই অংশ হিসেবে ৩০টি অ্যাম্বুলেন্স পেট্রাপোলে এসেছে। বাকি অ্যাম্বুলেন্সগুলো আগামী সেপ্টেম্বরে পর্যায়ক্রমে পৌঁছাবে।

এর আগে ভারত সরকারের উপহারের প্রথম চালানের একটি অ্যাম্বুলেন্স গত ২১ মার্চ দেশে আসে। উপহার হিসেবে আসা এসব অ্যাম্বুলেন্সে ভেন্টিলেশন সুবিধা রয়েছে।

বেনাপোল চেকপোস্ট কার্গো শাখার রাজস্ব কর্মকর্তা স্বপন কুমার দাস জানান, পেট্রাপোল স্থলবন্দর হয়ে বেনাপোল বন্দরে ৩০টি অ্যাম্বুলেন্স আসবে আগামী শনিবার। ঢাকাস্থ ভারতীয় হাইকমিশনের নামে এসব অক্সিজেন সংবলিত অ্যাম্বুলেন্স আসার জন্য উত্তরা মোটরস নামের একটি সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট আজ বৃহস্পতিবার বেনাপোল চেকপোস্ট কাস্টমস কার্গো শাখায় গেটপাশ (আইজিএম) প্রস্তুত করেছে।

সিঅ্যান্ডএফ উত্তরা মটরসের প্রতিনিধি মেহেদী হাসান জানান, ভারত সরকারের উপহারের ৩০টি অ্যাম্বুলেন্স পেট্রাপোলে এসে পৌঁছেছে। এগুলো শনিবার (৭ আগস্ট) বাংলাদেশে প্রবেশ করবে।

/এসএইচ/

সম্পর্কিত

কুষ্টিয়ায় মাইক্রোবাস-অটোরিকশা সংঘর্ষে নিহত ২ 

কুষ্টিয়ায় মাইক্রোবাস-অটোরিকশা সংঘর্ষে নিহত ২ 

খুলনায় প্রস্তুত ৩০৭ বুথ, টিকা পাবে ৬১৪০০ জন

খুলনায় প্রস্তুত ৩০৭ বুথ, টিকা পাবে ৬১৪০০ জন

খুলনায় একদিনে আরও ৩৪ জনের মৃত্যু

খুলনায় একদিনে আরও ৩৪ জনের মৃত্যু

করোনাভাইরাস: যশোরে ৭ নারীর মৃত্যু

করোনাভাইরাস: যশোরে ৭ নারীর মৃত্যু

করোনায় বাবাকে হারিয়ে অক্সিজেন সি‌লিন্ডার দিলেন সন্তানরা

আপডেট : ০৫ আগস্ট ২০২১, ২২:৫৭

করোনাভাইরাস আক্রান্ত হয়ে গত বছরের আগস্টে মারা যান টাঙ্গাই‌লের সখীপু‌রের অঙ্গশ্রী জুয়েলার্সের প্রতিষ্ঠাতা গিরীশ চন্দ্র কর্মকার। প্রথম মৃত্যুবার্ষিকীর অনুষ্ঠান না ক‌রে সেই টাকায় হাসপাতা‌লে তিনটি অ‌ক্সি‌জেন সি‌লিন্ডার উপহার ‌দি‌য়ে‌ছেন তার সন্তানরা।

বৃহস্প‌তিবার (৫ আগস্ট) বিকালে মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এ সিলিন্ডার উপহার দেন গিরীশ চন্দ্র কর্মকারের পরিবারের সদস্যরা।

এ সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা চিত্রা শিকারী, ডা. মুহাম্মদ আব্দুস সোবহান, উপ‌জেলা কেন্দ্রীয় মন্দির কমিটির সভাপতি ধীরেন্দ্র কুমার সরকার, গিরীশচন্দ্রের সহধর্মিণী পারুল বালা, গিরীশ চন্দ্রের বড় ছেলে স্বপন চন্দ্র কর্মকার প্রমুখ উপ‌স্থিত ছি‌লেন।

জানা গেছে, গিরীশ চন্দ্র কর্মকার গত বছ‌রের ৫ আগস্ট ক‌রোনাভাইরা‌সে মারা যান। এবছর তার বাৎস‌রিক মৃত্যুবা‌র্ষিকীর অনুষ্ঠান না করে পরিবারের পক্ষ থেকে সিদ্ধান্ত আসে হাসপাতালে অক্সিজেন সিলিন্ডার উপহার দেওয়ার। পরে সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আজ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তিনটি অক্সিজেন সিলিন্ডার উপহার দেওয়া হয়।

গিরীশ চন্দ্র কর্মকারের বড় ছেলে স্বপন চন্দ্র কর্মকার বলেন, ‘প্রথা অনুযায়ী মৃত্যুর পর বাবার শ্রাদ্ধানুষ্ঠানে লোকজন খাওয়ানোর আয়োজন না করে, সেই খরচের টাকায় সখীপুর কেন্দ্রীয় মন্দির ও শ্মশানের উন্নয়নের জন্য দান করা হ‌য়ে‌ছে। এ বছর বাবার মৃত্যুবার্ষিকী পালন না ক‌রে সেই টাকায় করোনা রোগীদের জন্য অক্সিজেন দিতে পেরে আমরা আনন্দিত।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা চিত্রা শিকারী বলেন, ‘করোনায় বাবার মৃত্যু থেকে শিক্ষা নিয়ে এই ক্রান্তিলগ্নে তারা  হাসপাতালে অক্সিজেন সিলিন্ডার উপহার দিয়েছেন। তাদের প্রতি কৃতজ্ঞ।’

/এসএইচ/

সম্পর্কিত

গাজীপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি মাসুদ সম্পাদক রাহিম

গাজীপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি মাসুদ সম্পাদক রাহিম

সিঙ্গারের গোডাউনে অগ্নিকাণ্ডে ১০ কোটি টাকার ক্ষতি

সিঙ্গারের গোডাউনে অগ্নিকাণ্ডে ১০ কোটি টাকার ক্ষতি

আড়াইহাজারে ঝগড়া থামাতে গিয়ে গৃহবধূ নিহত

আড়াইহাজারে ঝগড়া থামাতে গিয়ে গৃহবধূ নিহত

অক্সিজেনের অভাবে অক্সিজেন ব্যবসায়ীর মৃত্যু

অক্সিজেনের অভাবে অক্সিজেন ব্যবসায়ীর মৃত্যু

মিথ্যা তথ্যে দেশসেরা উদ্ভাবকের পুরস্কার নিলেন শিক্ষা কর্মকর্তা!

আপডেট : ০৫ আগস্ট ২০২১, ২২:১৭

মিথ্যা তথ্য দিয়ে দেশসেরা উদ্ভাবকের পুরস্কার নিয়েছেন দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মাসুদুল হাসান রনি। করোনাকালীন স্কুল বন্ধ থাকায় পড়ালেখার ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে মেমোরি কার্ডের মাধ্যমে বিশেষ পদ্ধতিতে পাঠদানের ব্যবস্থা, ৯৫ ভাগ শিক্ষার্থীকে মেমোরি কার্ড দেওয়ার কথা উল্লেখ করে এই পুরস্কার নেন তিনি। অথচ উপজেলার অধিকাংশ বিদ্যালয়ে এই পদ্ধতি চালুই হয়নি, কোনও শিক্ষার্থীকে দেওয়া হয়নি মেমোরি কার্ড।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উপজেলায় ৪৬টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। করোনাকালীন সময়ে বিদ্যালয় বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীদের পড়ালেখার ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে শিক্ষা কর্মকর্তা মেমোরি কার্ডের মাধ্যমে বিশেষ পদ্ধতিতে পাঠদানের আইডিয়া উদ্ভাবন করেন। একই সঙ্গে ৯৫ ভাগ শিক্ষার্থীকে মেমোরি কার্ডের শিক্ষার আওতায় আনা হয়েছে দাবি করে তার আইডিয়া শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠান। ওই আইডিয়ায় দেশসেরা উদ্ভাবকের পুরস্কার পান। যদিও সরেজমিনে, বিভিন্ন বিদ্যালয় পরিদর্শন করে ও বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে এর সত্যতা পাওয়া যায়নি।

বাংলাহিলি ২ নম্বর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির এক শিক্ষার্থী বাংলা ট্রিবিউনকে জানায়, ‘আমাকে স্কুল থেকে কোনও মেমোরি কার্ড দেওয়া হয়নি। তবে আমাকে মেমোরি কার্ড কিনে নেওয়ার জন্য স্কুল থেকে বলেছিল। সে মোতাবেক আমি মেমোরি কার্ড কিনে স্কুলে জমা দিয়েছি। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনও ক্লাসের ভিডিও কিংবা কিছুই দেয়নি। শুধুমাত্র স্কুল থেকে ওয়ার্কশিট দিয়েছিল। সেগুলো পূরণ করে আবার স্কুলে জমা দিয়েছি।’

বাংলাহিলি ১ নম্বর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী বাংলা ট্রিবিউনকে জানায়, ‘করোনার কারণে দীর্ঘদিন ধরে স্কুল বন্ধ। আমরা কেউ স্কুলে যেতে পারছি না, ক্লাস হচ্ছে না। তবে কিছুদিন ধরে স্কুল থেকে বাড়ির কাজ দিচ্ছে, সেগুলো আমরা বাড়িতে পড়ে সম্পন্ন করছি। অনলাইনে ক্লাস শুরু হয়েছে। কিন্তু আমাদের ফোন না থাকায় ক্লাসে যোগ দিতে পারি না।’

স্কুল থেকে মেমোরি কার্ড দেওয়া হয়েছে কি-না কিংবা সেই মেমোরি কার্ড দিয়ে মোবাইলের মাধ্যমে পড়ালেখা করছো কি-না এমন প্রশ্নের জবাবে ওই শিক্ষার্থী জানায়, ‘আমাকে মেমোরি কার্ড দেয়নি কিংবা মেমোরি কার্ডের মাধ্যমে পড়াও দেয়নি।’ উপজেলা সদরের এই দুটি বিদ্যালয়ের মতো একই অবস্থা অন্যান্য বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের।

টুব্বি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আজিজার রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমাদের বিদ্যালয়ে মেমোরি কার্ডের মাধ্যমে এখনও পাঠদান শুরু হয়নি। আমরা এখন পর্যন্ত কোনও শিক্ষার্থীকে মেমোরি কার্ড দিতে পারিনি। তবে মেমোরি কার্ডের জন্য বলেছি, এখনও ঢাকা থেকে সেটি আসেনি। আমরা মেমোরি কার্ড কেনার জন্য বায়না দিয়েছি।’

খাট্টাউছনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সাইয়েদা সুলতানা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমরা এখনও বিদ্যালয়ের কোনও শিক্ষার্থীকে মেমোরি কার্ড দিতে পারিনি। তাদের হাতে মেমোরি কার্ড তুলে দেওয়ার পর ওই পদ্ধতিতে পাঠদান শুরু করবো। এখন আমরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রতি শনিবার শিক্ষার্থীদের ওয়ার্কশিট দিয়ে আসছি। সেগুলো পূরণ করলে নিয়ে আসছি।’

নাম না প্রকাশের শর্তে এক শিক্ষক বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আসলে মেমোরি কার্ডের মাধ্যমে পাঠদান পদ্ধতি সম্ভব না। যেখানে অনলাইন ক্লাসে শিক্ষার্থীরা উপস্থিত হয় না, সেখানে মেমোরি কার্ডের মাধ্যমে শিক্ষাদান কোনোভাবেই সম্ভব না। আমরা যে বিদ্যালয় থেকে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ওয়ার্কশিট দিয়ে আসছি, সেটির মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের পড়ালেখার চর্চায় রাখা যাচ্ছে।’

ইটাই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি সাইফুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এখন পর্যন্ত আমার বিদ্যালয়ের কোনও শিক্ষার্থী মেমোরি কার্ড পায়নি। আমি যতটুকু জানতে পেরেছি, স্লিপের বরাদ্দের টাকা দিয়ে নাকি মেমোরি কার্ড কেনা হবে। তবে এখন পর্যন্ত আমার বিদ্যালয়ে মেমোরি কার্ডের মাধ্যমে শিক্ষাদানের বিষয়টি জানা নেই।’

দেশসেরা উদ্ভাবকদের সঙ্গে মাসুদুল হাসান

সাতকুড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি রতন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘হিলির প্রত্যেকটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নাকি মেমোরি কার্ডের মাধ্যমে পড়ালেখা শুরু হয়েছে। যা পরিচালনা করছে শিক্ষা অফিস। কিন্তু আজ পর্যন্ত আমাদের এলাকায় এই পদ্ধতিতে পড়ালেখা করতে কাউকে দেখলাম না। এই পদ্ধতিতে পাঠদান সম্ভবও না। কারণ যেখানে টিভিতে ক্লাসগুলো হচ্ছে, সেখানেই শিক্ষার্থীরা উপস্থিত হয় না। একটা মেমোরি কার্ড শিশু শিক্ষার্থীদের হাতে হাতে দিয়ে সেটির মাধ্যমে কীভাবে পাঠদান সম্ভব হবে আমার মাথায় আসে না।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মাসুদুল হাসান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ সঠিক নয়। করোনাকালে প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রম নিয়ে আমরা বেশ কিছু কাজ করেছি; যা নিয়ে অনেক ভালো প্রতিবেদন হয়েছে, পুরস্কার পেয়েছি- এটি দেখে হয়তো অনেকের গায়ে জ্বালা ধরেছে। এ জন্য আমার বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ করছে।’

দিনাজপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা স্বপন কুমার রায় চৌধুরী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘করোনাকালীন সময়ে পড়ালেখার ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে মেমোরি কার্ডের মাধ্যমে পাঠদানের পদ্ধতি চালু করায় শিক্ষা কর্মকর্তা মাসুদুল হাসানকে দেশসেরা পুরস্কার দেওয়া হয়। পুরস্কার মহাপরিচালকের কার্যালয় থেকে দেওয়া হয়েছে। এর বেশি কিছু জানি না। এখন আপনারা তার বিরুদ্ধে যা পেয়েছেন, তাই নিয়ে লেখেন।’

হাকিমপুর উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা শিক্ষা কমিটির সভাপতি হারুন উর রশীদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। আমরা বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করে ঘটনা সত্য প্রমাণিত হলে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করবো।’

সম্প্রতি প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের ইনোভেশন শোকেসিং-এ দেশসেরা উদ্ভাবক-২০২১ হিসেবে নির্বাচিত হন হাকিমপুর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মাসুদুল হাসান রনি। এ বছর সারাদেশ থেকে তিন জন শিক্ষা কর্মকর্তা ও দুজন সহকারী শিক্ষককে দেশসেরা উদ্ভাবক নির্বাচিত করা হয়। করোনাকালে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধের মধ্যেও কীভাবে শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা পৌঁছে দেওয়া যায় সেই পদ্ধতির উদ্ভাবন করেন তিনি।

/এএম/

সম্পর্কিত

সাঁতার শিখতে নদীতে নেমে দুই বোনসহ ৩ শিশুর মৃত্যু

সাঁতার শিখতে নদীতে নেমে দুই বোনসহ ৩ শিশুর মৃত্যু

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এখন ধানের গুদাম!

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এখন ধানের গুদাম!

সকালে হাতাহাতি, সন্ধ্যায় হামলায় সাবেক ছাত্রলীগ নেতার মৃত্যু

সকালে হাতাহাতি, সন্ধ্যায় হামলায় সাবেক ছাত্রলীগ নেতার মৃত্যু

টিকা দিতে দেরি হওয়ায় রংপুরে হট্টগোল-ধাক্কাধাক্কি

টিকা দিতে দেরি হওয়ায় রংপুরে হট্টগোল-ধাক্কাধাক্কি

সিঙ্গারের গোডাউনে অগ্নিকাণ্ডে ১০ কোটি টাকার ক্ষতি

আপডেট : ০৫ আগস্ট ২০২১, ২২:১৭

সাভারের রাজফুলবাড়িয়া এলাকার সিঙ্গার ইলেকট্রনিক্সের গুদামের পাশ দিয়ে চলে গেছে পল্লী বিদ্যুতের হাই ভোল্টেজের একটি খুঁটি। বৃহস্পতিবার (৫ আগস্ট) সকাল ৮টার দিকে এই খুঁটির একটি তারে আগুন লাগার পর গুদাম থেকে ধোঁয়া বের হতে দেখেন স্থানীয়রা। তার পরই ঘটে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড। বেলা সাড়ে ১২টার দিকে ফায়ার সার্ভিসের ১১ ইউনিটের প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। প্রাথমিকভাবে সিঙ্গারের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ দশ কোটি টাকা নিরূপণ করা হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, বিদ্যুতের খুঁটিতে আগুন লাগার পরই সিঙ্গারের গুদামে আগুনের সূত্রপাত। ফায়ার সার্ভিস বলছে, বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট নয়, খুঁটিতে গোলযোগের কারণেই অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে।

তবে পল্লী বিদ্যুতের ফুলবাড়িয়া এরিয়া অফিসের লাইনম্যান মহিদুল ইসলাম বলেন, খুঁটিতে গোলযোগের পর যদি আগুন লাগে, তাহলে আশপাশের আরও অন্যান্য বাড়িতেও আগুন বা মিটার পুড়ে যাওয়ার কথা।

মুহূর্তের মধ্যে পুরো কারখানায় আগুন ছড়িয়ে পড়ে

ফুলবাড়িয়া এলাকার একাধিক বাসিন্দা জানান, বৃহস্পতিবার সকালে গুদামের পাশ দিয়ে যাওয়া হাই ভোল্টেজের একটি খুঁটির তারে আগুন লেগে পুড়ে যায়। এরপরও বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করেনি পল্লীবিদ্যুৎ অফিস। তার কিছু সময় পরই সিঙ্গারের গুদাম থেকে ধোঁয়া বের হতে থাকে। মুহূর্তের মধ্যে পুরো কারখানায় আগুন ছড়িয়ে পড়ে।

ফায়ার সার্ভিস জানায়, সকাল ৮টার দিকে খবর পেয়ে সাভার ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। তীব্রতা বেশি হওয়ায় তাদের সাথে সাভার, ডিইপিজেড ও ফায়ার সদর দফতরের আরও ৮টি ইউনিট যোগ দেয়। টানা চার ঘণ্টা পর বেলা সাড়ে ১২টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। ডাম্পিংয়ের কাজ শেষ করে ফায়ার সার্ভিসের লোকজন চলে যাওয়ার পর বিকালের দিকে সিঙ্গারের শ্রমিকরা পুড়ে যাওয়া মালামাল উদ্ধার করে।

সিঙ্গারের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ দশ কোটি টাকা

আগুনের বিষয়ে সিঙ্গারের কোনও কর্মকর্তা কথা না বললেও, বিকালে গুদামের সামনে অবস্থান করা নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক কয়েকজন জানান, ঈদের ছুটির পর লকডাউন চলায় তাদের গুদাম বন্ধ ছিল। এই সময়ে কোনও কাজ হয়নি। বন্ধ গুদামে আগুন লাগার আশঙ্কা নেই। বিদ্যুতের খুঁটি থেকেই গুদামে আগুনের সূত্রপাত বলে তাদের দাবি।

পল্লী বিদ্যুতের লাইন ম্যান মাহিদুল ইসলাম বলেন, খুঁটি থেকে যদি গুদামে আগুন লাগে, তাহলে মিটার পুড়ে গিয়ে লাগার কথা।সেক্ষত্রে ওই খুঁটি থেকে সংযোগ নেওয়া আশপাশের অন্যান্য বাড়ি বা প্রতিষ্ঠানের মধ্যেও কয়েক জায়গায় আগুন লাগার কথা ছিল। এর আগে খুঁটি থেকে ফুলবাড়িয়া বাজারে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছিল। তখন একসঙ্গে খুঁটি থেকে সংযোগ নেওয়া আরও ১০টি দোকানেও আগুন লাগে।

গুদাম থেকে ধোঁয়া বের হতে দেখেন স্থানীয়রা

সাভার ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন কর্মকর্তা জহিরুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বিদ্যুতের খুঁটিতে গোলযোগের কারণেই সিঙ্গারের গুদামে আগুন লেগেছে। এছাড়া গুদামের ভেতরে থাকা ফ্রিজগুলোতে ককশিট থাকায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। সে কারণে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সময় লাগে। 

তিনি আরও বলেন, অগ্নিকাণ্ডে ১০ কোটি টাকার বেশি ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছে সিঙ্গার কর্তৃপক্ষ। কিছু দিন আগে মালামালের একটি চালান দেশে আসে। লকডাউনের কারণে সবগুলো এই গুদামে রাখা হয়। এসব বিষয় খোঁজ নিয়ে তারা পরবর্তীতে ক্ষতির বিষয়টি সুনির্দিষ্ট করে জানাবেন বলে জানান ফায়ার সার্ভিসের এই কর্মকর্তা।

/এসএইচ/

সম্পর্কিত

গাজীপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি মাসুদ সম্পাদক রাহিম

গাজীপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি মাসুদ সম্পাদক রাহিম

করোনায় বাবাকে হারিয়ে অক্সিজেন সি‌লিন্ডার দিলেন সন্তানরা

করোনায় বাবাকে হারিয়ে অক্সিজেন সি‌লিন্ডার দিলেন সন্তানরা

আড়াইহাজারে ঝগড়া থামাতে গিয়ে গৃহবধূ নিহত

আড়াইহাজারে ঝগড়া থামাতে গিয়ে গৃহবধূ নিহত

১০ সহকর্মীকে ছাঁটাই করায় বিক্ষোভ তাদের

১০ সহকর্মীকে ছাঁটাই করায় বিক্ষোভ তাদের

সর্বশেষ

ত্রিপুরার পর আসাম-কেরালাকে টার্গেট তৃণমূলের

ত্রিপুরার পর আসাম-কেরালাকে টার্গেট তৃণমূলের

বাংলাদেশের রাব্বি পেলেন রূপা

বাংলাদেশের রাব্বি পেলেন রূপা

গাজীপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি মাসুদ সম্পাদক রাহিম

গাজীপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি মাসুদ সম্পাদক রাহিম

সিটি করপোরেশন এলাকায় ৭-৯ আগস্ট ভ্যাকসিন ক্যাম্পেইন চালানো যাবে

সিটি করপোরেশন এলাকায় ৭-৯ আগস্ট ভ্যাকসিন ক্যাম্পেইন চালানো যাবে

কওমি মাদ্রাসা খোলার ঘোষণা সত্য নয়: বেফাক

কওমি মাদ্রাসা খোলার ঘোষণা সত্য নয়: বেফাক

রবীন্দ্রনাথের পারস্য মুগ্ধতা

রবীন্দ্রনাথের পারস্য মুগ্ধতা

বার্সেলোনার ঘোষণা, মেসি থাকছেন না

বার্সেলোনার ঘোষণা, মেসি থাকছেন না

পরীমণির সঙ্গে আমার পবিত্র সম্পর্ক: চয়নিকা চৌধুরী

পরীমণির সঙ্গে আমার পবিত্র সম্পর্ক: চয়নিকা চৌধুরী

মরদেহ সংরক্ষণে দুর্ভোগে ঢামেক

মরদেহ সংরক্ষণে দুর্ভোগে ঢামেক

রবীন্দ্র প্রয়াণ দিবসে ‘পয়লা নম্বর’

রবীন্দ্র প্রয়াণ দিবসে ‘পয়লা নম্বর’

যাত্রাবাড়ীতে ৭০ কেজি গাঁজাসহ দুজন গ্রেফতার

যাত্রাবাড়ীতে ৭০ কেজি গাঁজাসহ দুজন গ্রেফতার

নাটকে প্রতিবন্ধীদের নিয়ে ভিত্তিহীন মন্তব্য: মানবাধিকার কমিশনের ক্ষোভ

নাটকে প্রতিবন্ধীদের নিয়ে ভিত্তিহীন মন্তব্য: মানবাধিকার কমিশনের ক্ষোভ

সর্বশেষসর্বাধিক

লাইভ

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

টিকা ছাড়া শরীরে খালি সিরিঞ্জ পুশ, ২ নার্সকে প্রত্যাহার

টিকা ছাড়া শরীরে খালি সিরিঞ্জ পুশ, ২ নার্সকে প্রত্যাহার

বগুড়ায় আরও ১১ মৃত্যু

বগুড়ায় আরও ১১ মৃত্যু

রাজশাহী মেডিক্যালে আরও ১৭ মৃত্যু

রাজশাহী মেডিক্যালে আরও ১৭ মৃত্যু

আনন্দময় যাত্রার মাঝপথে লাশ হওয়া ১৬ জনই নিকটাত্মীয়

আনন্দময় যাত্রার মাঝপথে লাশ হওয়া ১৬ জনই নিকটাত্মীয়

‘বজ্রাঘাতে মৃতদের পরিবারকে ২৫ হাজার টাকা করে দেওয়া হবে’

‘বজ্রাঘাতে মৃতদের পরিবারকে ২৫ হাজার টাকা করে দেওয়া হবে’

থানায় ‘মৃত’ ট্রাকচালকের লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্স থামিয়ে সড়ক অবরোধ

থানায় ‘মৃত’ ট্রাকচালকের লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্স থামিয়ে সড়ক অবরোধ

বগুড়ায় একদিনে ১৩ মৃত্যু

বগুড়ায় একদিনে ১৩ মৃত্যু

বগুড়া-জামালপুরে চালু হচ্ছে ফেরি, দুই পাড়ে আনন্দ

বগুড়া-জামালপুরে চালু হচ্ছে ফেরি, দুই পাড়ে আনন্দ

শিবগঞ্জে বজ্রাঘাতে ১৬ বরযাত্রীর মৃত্যু

শিবগঞ্জে বজ্রাঘাতে ১৬ বরযাত্রীর মৃত্যু

রামেক হাসপাতালে ২৪ ঘণ্টায় ১৪ জনের মৃত্যু

রামেক হাসপাতালে ২৪ ঘণ্টায় ১৪ জনের মৃত্যু

© 2021 Bangla Tribune