X
রবিবার, ২৫ জুলাই ২০২১, ১০ শ্রাবণ ১৪২৮

সেকশনস

৪০ শতাংশ করোনা রোগীর ফুসফুসে গুরুতর সংক্রমণ

আপডেট : ১৯ জুলাই ২০২১, ১১:০০

রাজশাহীতে ভারতীয় ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টে সংক্রমণের পর থেকে করোনায় আক্রান্ত কিংবা লক্ষণ নিয়ে যারা হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন তাদের প্রায় ৪০ শতাংশের ফুসফুসে গুরুতর সংক্রমণ দেখা যাচ্ছে। করোনার এই ভ্যারিয়েন্ট দ্রুত রোগীকে দুর্বল করে ফেলছে। একই সঙ্গে সংক্রমণের ফলে ফুসফুসের ৬০-৬৫ শতাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে যাচ্ছে। 

এসব রোগীর অক্সিজেনের মাত্রা বা ঘনত্ব ঠিক রাখতে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ), হাই ফ্লো ন্যাজাল ক্যানোলা, ভেন্টিলেটর ও বাইপ্যাপের প্রয়োজন হয়। তবে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে করোনা রোগীদের জন্য আইসিইউ শয্যা রয়েছে মাত্র ২০টি। অপেক্ষায় থাকছেন ৭০-৮০ জন রোগী। প্রাথমিকভাবে এসব রোগীকে হাই ফ্লো ন্যাজাল ক্যানোলা কিংবা বাইপ্যাপের মাধ্যমে উচ্চ প্রবাহের অক্সিজেন দেওয়া হয়।

রামেক হাসপাতাল সূত্র জানায়, হাসপাতালে প্রায় ৪০-৪৫ শতাংশ করোনা রোগী গুরুতর অবস্থায় ভর্তি হচ্ছেন। যাদের ফুসফুসে গুরুতর সংক্রমণ রয়েছে। এ কারণে রোগীর গুরুতর শ্বাসকষ্ট দেখা দিচ্ছে। এসব রোগীর অক্সিজেনের মাত্রা বা ঘনত্ব প্রায় ৬৫ শতাংশের নিচে। তাদের বেঁচে থাকার একমাত্র ভরসা আইসিইউতে ভেন্টিলেটর ব্যবহার করে উচ্চ প্রবাহের অক্সিজেনের ব্যবস্থা করা। যেখানে প্রতি মিনিটে ১০০ শতাংশ অক্সিজেন সরবরাহ নিশ্চিত করা যায়।

অথবা তাদের প্রয়োজন হাই ফ্লো ন্যাজাল ক্যানোলা, যা প্রতি মিনিটে ৭৫ শতাংশ অক্সিজেন সরবরাহ করে। অথচ হাসপাতালের অধিকাংশ রোগীকে কেন্দ্রীয় অক্সিজেন লাইন, অক্সিজেন সিলিন্ডার ও অক্সিজেন কনসেনট্রেটরের মাধ্যমে অক্সিজেন দেওয়া হচ্ছে। তবে এটি প্রতি মিনিটে ২০-২৫ শতাংশের বেশি অক্সিজেন সরবরাহ করতে সক্ষম নয়। ফলে অক্সিজেনের মাত্রা কম নিয়ে রামেকের করোনা ইউনিটে আসা বেশিরভাগ রোগীকে মৃত্যুঝুঁকিতে থাকতে হচ্ছে।

হাসপাতালে রোগী নিয়ে এসে নির্বিকার হয়ে বসে আছেন এক স্বজন

রামেক হাসপাতাল ঘুরে দেখা যায়, জরুরি বিভাগের সামনে যারা করোনায় আক্রান্ত কিংবা লক্ষণ নিয়ে আসছেন তাদের প্রায় প্রত্যেকে সিলিন্ডারের মাধ্যমে অক্সিজেন নিতে নিতে আসছেন। কেউ কেউ তীব্র শ্বাসকষ্ট নিয়ে আসছেন। তাদের প্রাথমিকভাবে অক্সিজেন দেওয়া হচ্ছে। গাড়ি থেকে নামানো কিংবা বিশেষ প্রয়োজনে রোগীর মুখ থেকে অক্সিজেন মাস্ক খুললেই ছটফট করছেন। অনেক দুর্বল রোগী অস্বাভাবিক অভিব্যক্তি প্রকাশ করছেন। এমন দৃশ্য দেখে পাশে থাকা স্বজনরা দ্রুত অক্সিজেন মাস্ক পরিয়ে দিচ্ছেন।

হাসপাতালের ৩ নম্বর কোভিড ওয়ার্ডে করোনার লক্ষণ নিয়ে ভর্তি হয়েছেন গোদাগাড়ী উপজেলার রাজাবাড়ী এলাকার মালতি বেগম। তার বয়স ৫৫ বছর। মুখে অক্সিজেন মাস্ক লাগানো ছিল। স্বজনদের সঙ্গে কথা বলার সময় অক্সিজেন মাস্ক নাকের নিচে নেমে যায়। মুহূর্তেই তিনি অস্বাভাবিক অভিব্যক্তি প্রকাশ শুরু করেন। এ অবস্থায় দ্রুত অক্সিজেন মাস্ক পরিয়ে দেন স্বজনরা।

একই ওয়ার্ডের বাইরে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন শাম্মী আক্তার। তিনি নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলার বাসিন্দা। ৫০ বছর বয়সী এই নারী গত ছয় দিন ধরে হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। প্রথমে তাকে সিলিন্ডারের মাধ্যমে অক্সিজেন দেওয়া হচ্ছিল। পরে অক্সিজেনের মাত্রা কমে যাওয়ায় সেন্ট্রাল অক্সিজেন দেওয়া হয়। রবিবার ফুসফুসের সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় তাকে অক্সিজেন কনসেনট্রেটরের মাধ্যমে উচ্চ প্রবাহের অক্সিজেন দেওয়া হয়।

তার স্বজন জব্বার মিয়া জানান, চিকিৎসক বলেছেন রোগীর ফুসফুস প্রায় ৬০ শতাংশ নষ্ট হয়ে গেছে। এখন তাকে সঠিক মাত্রায় অক্সিজেন দেওয়া হয়েছে। তবে তার শারীরিক অবস্থা খুবই দুর্বল।

প্রায় প্রত্যেক রোগী সিলিন্ডারের মাধ্যমে অক্সিজেন নিতে নিতে হাসপাতালে আসছেন

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, হাসপাতালে রবিবার করোনা ওয়ার্ডে ৪৪৫ শয্যার বিপরীতে ৫০৬ রোগী ভর্তি ছিলেন। এদের প্রায় ৪০ শতাংশের উচ্চ প্রবাহের অক্সিজেনের প্রয়োজন পড়ছে। হাসপাতালে উচ্চ প্রবাহের অক্সিজেন সরবরাহে গত সপ্তাহে ৬৯টি হাই ফ্লো ন্যাজাল ক্যানোলার সরবরাহ ছিল। এখন তা বাড়িয়ে ৮৭টি করা হয়েছে। যেগুলো ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে অপর্যাপ্ত।

রামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামীম ইয়াজদানী বলেন, করোনায় আক্রান্ত ও লক্ষণ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর বড় একটি অংশের ফুসফুসে গুরুতর সংক্রমণ দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে ভারতীয় ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টে সংক্রমণের পর থেকে এটি বেশি দেখা যাচ্ছে। যাদের ফুসফুসের ৮০ শতাংশে গুরুতর সংক্রমণ দেখা দেয় তাদের বাঁচানো যায় না।

তিনি বলেন, রাজশাহী মেডিক্যালে বর্তমানে করোনা ইউনিটে ১২৫ জন চিকিৎসক ও ৫২৫ জন নার্স তিন শিফটে দায়িত্ব পালন করছেন। করোনা ইউনিটের প্রত্যেক ওয়ার্ডে সবসময় একজন করে চিকিৎসক থাকছেন। চিকিৎসক কয়েকবার করে রোগীদের কাছে যাচ্ছেন। তারা আন্তরিকতার সঙ্গে রোগীদের সেবা দিচ্ছেন। ফুসফুসের সংক্রমণ বাড়তে থাকা রোগীদের উচ্চ প্রবাহের অক্সিজেন সরবরাহে ৮৭টি হাই ফ্লো ন্যাজাল ক্যানোলা ও ১৬টি বাইপ্যাপ ব্যবহার করা হচ্ছে।

/এএম/

সম্পর্কিত

টেস্ট করাতে হাসপাতালে রোগীর চাপ 

টেস্ট করাতে হাসপাতালে রোগীর চাপ 

খুলনা বিভাগে বেড়েছে শনাক্ত ও মৃত্যু

খুলনা বিভাগে বেড়েছে শনাক্ত ও মৃত্যু

বঙ্গবন্ধু সেতুর পশ্চিম স্টেশনে ভারত থেকে আসা অক্সিজেন

বঙ্গবন্ধু সেতুর পশ্চিম স্টেশনে ভারত থেকে আসা অক্সিজেন

ময়মনসিংহ মেডিক্যালের করোনা ইউনিটে বাড়লো ২৪ শয্যা

ময়মনসিংহ মেডিক্যালের করোনা ইউনিটে বাড়লো ২৪ শয্যা

উজিরপুরে ভুল চিকিৎসায় কাঠমিস্ত্রির মৃত্যুর অভিযোগ

আপডেট : ২৫ জুলাই ২০২১, ১৫:৫৫

বরিশালের উজিরপুর উপজেলার জল্লা ইউনিয়নের পিরেরপাড় গ্রামে পল্লী চিকিৎসকের ভুল চিকিৎসায় নিখিল চন্দ্র সরকার (৩৫) নামের ‍এক কাঠমিস্ত্রির মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (২৪ জুলাই) রাতে এ ঘটনা ঘটে। নিখিল ও‌‍ই গ্রামের মৃত নিত্যানন্দ সরকারের ছেলে।

রবিবার (২৫ জুলাই) দুপুরে উজিরপুর মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ করার পর লাশ ‍উদ্ধার করে শের-ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, আগে দিনমজুর ছিলেন বাসুদেব মুহুরি। পরবর্তীতে চালের মিলে শ্রমিকের কাজ করতেন। সর্বশেষ উপজেলার লোকনাথ বাজারে ফার্মেসির ব্যবসা শুরু করেন তিনি।‍ এরপর হয়ে যান পল্লী চিকিৎসক।‍ ‍পাশাপাশি হোমিও প্যাথিকেরও চিকিৎসা দিতেন বাসুদেব।  

নিখিলের স্ত্রী ‍উর্মিলা সরকার বলেন, তার স্বামী প্রতিদিনের মতো শনিবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে ঘরে আসলে কিছু সময় পর তার শরীরে এলার্জি দেখা দেয়। তখন পল্লী চিকিৎসক বাসুদেব মুহুরিকে খবর দিলে তিনি এসে চারটি ইনজেকশন দেন। এর কিছু সময় পরই নিখিলের মৃত্যু হয়। ঘটনার পর সাথে আনা ব্যাগ গুছিয়ে পালিয়ে যান বাসুদেব।

উজিপুর মডেল থানার ‍উপ-পরিদর্শক (এসআই) কমল চন্দ্র জানান, লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর লাথ ‍উদ্ধার করে মর্গে নেওয়া হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

এ বিষয়ে পল্লী চিকিৎসক বাসুদেবের সঙ্গে যোগাযোগ করতে তার চেম্বার খোলা পাওয়া যায়নি। তার মোবাইল ফোনও বন্ধ পাওয়া গেছে।

এলাকার আরও কয়েকজন জানান, বাসুদেবের বিরুদ্ধে কিছু দিন আগেও ভুল চিকিৎসায় শিশুকন্যার মৃত্যুর অভিযোগ ওঠে।

/এসএইচ/

সম্পর্কিত

পাওনাদারের লাশ নিয়ে দেনাদারের বাড়িতে স্বজনরা

পাওনাদারের লাশ নিয়ে দেনাদারের বাড়িতে স্বজনরা

হাসপাতালে ২৭ ঘণ্টা চিকিৎসা না পেয়ে সাংবাদিকের মায়ের মৃত্যু

হাসপাতালে ২৭ ঘণ্টা চিকিৎসা না পেয়ে সাংবাদিকের মায়ের মৃত্যু

সোনারগাঁ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোশাররফ আর নেই

সোনারগাঁ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোশাররফ আর নেই

রেজিস্ট্রার অফিসের বারান্দায় সন্তান প্রসব!

রেজিস্ট্রার অফিসের বারান্দায় সন্তান প্রসব!

ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক ফাঁকা

আপডেট : ২৫ জুলাই ২০২১, ১৫:৪৬

কঠোর বিধিনিষেধের তৃতীয় দিনে ঢাকা-টাঙ্গাইল ও বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়ক অনেকটাই ফাঁকা দেখা গেছে। সড়কে মাঝে মধ্যে চলছে পণ্যবাহী যান, মোটরসাইকেল, মাইক্রোবাস, প্রাইভেটকার আর কিছু ব্যক্তিগত যানবাহন। তবে সড়কে ছিল না কোনও গণপরিবহন। রবিবার (২৫ জুলাই) দুপুরে মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

এদিকে লকডাউন বাস্তবায়নে পুলিশ, বিজিবি ও সেনাবাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা মাঠে রয়েছেন। শহরের গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে মোড়ে কঠোর অবস্থানে রয়েছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের প্রশ্নের উত্তর সন্তোষজনক না হলে অপ্রয়োজনে বের হওয়া ব্যক্তিদের জরিমানার আওতায় আনা হচ্ছে।

ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক বঙ্গবন্ধু সেতুর পূর্ব থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘মহাসড়ক ফাঁকা। এ সড়কে পণ্যপরিবহনে নিয়োজিত আর কিছু ব্যক্তিগত যানবাহন চলাচল করছে।’ সড়কে দূরপাল্লার কোনও বাস নেই বলে জানান তিনি।

 

/টিটি/

সম্পর্কিত

ঘাটে ঢাকামুখী যাত্রীর চাপ

ঘাটে ঢাকামুখী যাত্রীর চাপ

টেস্ট করাতে হাসপাতালে রোগীর চাপ 

টেস্ট করাতে হাসপাতালে রোগীর চাপ 

খুলনা বিভাগে বেড়েছে শনাক্ত ও মৃত্যু

খুলনা বিভাগে বেড়েছে শনাক্ত ও মৃত্যু

ঘাটে ঢাকামুখী যাত্রীর চাপ

আপডেট : ২৫ জুলাই ২০২১, ১৫:২৬

সারাদেশে ১৪ দিনের কঠোর লকডাউনের তৃতীয় দিনেও বিধিনিষেধ উপেক্ষা করে বাংলাবাজার প্রান্ত থেকে নৌ রুটে যাত্রী ও যানবাহন আসছে শিমুলিয়া প্রান্তে। ফেরি থেকে নেমেই তারা বিভিন্নভাবে চলে যাচ্ছেন গন্তব্যে। রবিবার (২৫ জুলাই) সকাল থেকে শিমুলিয়া ঘাট বেশ ফাঁকা দেখা গেলেও বাংলাবাজার ঘাট থেকে ঢাকামুখী যাত্রীরা আসা শুরু করলে ভিড় বেড়ে যায়।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশনের (বিআইডব্লিউটিসি) শিমুলিয়া ঘাটের ব্যবস্থাপক (বাণিজ্য) মোহাম্মদ ফয়সাল জানান, শিমুলিয়া ঘাটে দক্ষিণাঞ্চলমুখী কোনও যান ও যাত্রী নেই। তবে, বাংলাবাজার ঘাট থেকে যান ও যাত্রী নিয়ে ফেরি চলছে। নৌ রুটে ছয়টি ফেরি চলছে বলে জানান তিনি।

 মাওয়া নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ সিরাজুল কবির জানান, আমাদের শিমুলিয়া প্রান্তে যাত্রী কিংবা যানবাহনের চাপ নেই। তবে বাংলাবাজার থেকে আসা ফেরিগুলোতে যাত্রী ও ছোট বড় যানবাহন রয়েছে চোখে পড়ার মতো। ফেরি থেকে নেমেই রাজধানীমুখী যাত্রীরা বিভিন্ন মাধ্যমে স্ব স্ব গন্তব্যে চলে যাচ্ছে। আর স্বল্পতম সময়ের মধ্যেই শিমুলিয়া ঘাট ফাঁকা হয়ে যাচ্ছে।

 

/টিটি/

সম্পর্কিত

ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক ফাঁকা

ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক ফাঁকা

টেস্ট করাতে হাসপাতালে রোগীর চাপ 

টেস্ট করাতে হাসপাতালে রোগীর চাপ 

খুলনা বিভাগে বেড়েছে শনাক্ত ও মৃত্যু

খুলনা বিভাগে বেড়েছে শনাক্ত ও মৃত্যু

টেস্ট করাতে হাসপাতালে রোগীর চাপ 

আপডেট : ২৫ জুলাই ২০২১, ১৫:১৪

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে হঠাৎ করেই বেড়ে গেছে রোগীর চাপ। করোনার টেস্ট করাতে কোনও ধরনের স্বাস্থ্যবিধি বা নিরাপদ দূরত্ব বজায় না রেখেই রোগীরা দীর্ঘ লাইনে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়েছেন। এ অবস্থায় রোগীর চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি উপজেলা পর্যায়ে করোনার টেস্ট কমিয়ে দেওয়ার কারণে জেলা পর্যায়ে রোগীর চাপ বেড়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রতিদিন ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা সদর হাসপাতালে এক থেকে দেড়শ’ রোগীর করোনা ভাইরাসের অ্যান্টিজেন টেস্ট করানো হতো। কিন্তু আজ সকাল ৮টার পর থেকে হঠাৎ করে রোগীর চাপ বেড়ে যায়। হাসপাতালে আসা বেশিরভাগ রোগীরই জ্বর, সর্দিসহ নানা উপসর্গ রয়েছে। তবে তারা নিরাপদ দূরত্ব এবং স্বাস্থ্যবিধি না মেনেই গাদাগাদি করে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে টেস্ট করাচ্ছেন। 

হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. ওহায়িদুজ্জামান বলেন, হঠাৎ করে রোগীর চাপ বেড়েছে। অ্যান্টিজেন টেস্ট করতে আসা রোগীদের দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে আমি কিছুটা অবাক হয়েছি। তাই নিজেই হাসপাতালের উপরতলা থেকে নিচে নেমে এসেছি। হঠাৎ কেন রোগীর চাপ বেড়েছে বিষয়টি জানার চেষ্টা করছি। তবে যেটুকু জেনেছি উপজেলা পর্যায়ে অ্যান্টিজেন টেস্ট কমিয়ে দেওয়ার কারণে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে রোগীর চাপ বেড়েছে। 

 চাপ সামলানোর জন্য আগামীকাল সকাল ৮টা থেকে অতিরিক্ত আরও একজনকে দায়িত্ব দিয়ে করোনার অ্যান্টিজেন টেস্ট আরও বাড়ানো হবে। প্রতিদিন অন্তত দুইশ’ রোগীর যেন টেস্ট করানো যায়, সেই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। আগের মতো কারও ফোন কিংবা তদবির রাখা হবে না। লাইনে দাঁড়িয়েই সবাইকে করোনার অ্যান্টিজেন টেস্ট করাতে হবে বলে জানান তিনি।

উল্লেখ্য, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এখন পর্যন্ত ছয় হাজার ২৬৯ জন আক্রান্তের মধ্যে চার হাজার ১৮৯ জন সুস্থ হয়েছেন। কিন্তু এখনও করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে এক হাজার ৯৬৭ জন রোগী আইসোলেশনে আছেন। এর মধ্যে সেফ আইসোলেশনে আছেন এক হাজার ৯৪০ জন। প্রাতিষ্ঠানিক আইসোলেশনে চিকিৎসা পাচ্ছেন ২৭ রোগী। এখন পর্যন্ত জেলায় ৪৪ হাজার ৭৫৮ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। করোনা শনাক্ত হয়েছে সর্বমোট ছয় হাজার ২৬৯ জন। আর মারা গেছেন ৮৬ জন।

 

/টিটি/

সম্পর্কিত

ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক ফাঁকা

ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক ফাঁকা

ঘাটে ঢাকামুখী যাত্রীর চাপ

ঘাটে ঢাকামুখী যাত্রীর চাপ

লকডাউনেও নৌ পথে ডিজে পার্টি

লকডাউনেও নৌ পথে ডিজে পার্টি

লকডাউনেও নৌ পথে ডিজে পার্টি

আপডেট : ২৫ জুলাই ২০২১, ১৪:৪৭

করোনা সংক্রমণরোধে সরকারঘোষিত কঠোর লকডাউনেও বিধিনিষেধ অমান্য করে নৌ পথে উৎসবে মেতে উঠেছে উঠতি বয়সী তরুণরা। এতে স্বাস্থ্যবিধি যেমন উপেক্ষিত হচ্ছে, তেমনই বাড়ছে করোনা ঝুঁকি। এ অবস্থায় নৌ পথেও অভিযানের দাবি তুলেছেন নদী পাড়ের বাসিন্দারা।

জানা গেছে, প্রতিবছর ঈদের পর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার তিতাস নদীর বিভিন্ন অংশে নৌকায় ডিজে পার্টির আয়োজন করে এক শ্রেণির উঠতি বয়সী তরুণ। এ বছরও চলমান কঠোর লকডাউনে তারা থেমে নেই। কোনও বাধা ছাড়ায় নৌকায় বিশাল বিশাল সাউন্ড বক্সে গান বাজিয়ে বিকট শব্দে আনন্দ-উৎসবে মেতে উঠছে তারা। এমন চিত্র সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত তিতাস নদীর দুই প্রান্তে চোখে পড়ে। বিশেষ করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের পূর্বাংশের তিতাস নদী এবং শহরের দক্ষিণাংশের কাউতলি কুরুলিয়া অংশে ডিজে পার্টির তৎপরতা লক্ষ্য করা গেছে। 

এদিকে একই চিত্র দেখা গেছে নবীনগর উপজেলার তিতাস নদীর রসুলপুর এলাকা এবং একই নদীর বিজয়নগর উপজেলার রামপুর, মনিপুর, দত্তখোলা ও পত্তনে। সরাইল উপজেলার শাহবাজপুর, ইসলামাবাদ ও আখাউড়া উপজেলার খরমপুর ও শ্যামনগর এলাকাতেও নৌকা ভাড়া করে এমন উৎসব করতে দেখা যায়। প্রতিদিন নদীর বিভিন্ন অংশে ইঞ্জিনচালিত নৌকা যোগে ডিজে পার্টির নামে উঠতি বয়সী তরুণরা গান বাজিয়ে নাচানাচি করে।

শহরের মেট্রো বাজার এলাকার ব্যবসায়ী মো. মাসুম মিয়া বলেন, সরকার সবুজ সড়কপথে কঠোরতা দেখালেও নৌ পথে অনেকটা উদাসীন। নৌ পথেও কঠোর হতে হবে। তা না হলে সাধারণ মানুষের চলাচল অনেকাংশে বাড়বে। আর এতে করোনা সংক্রমণও বাড়বে।

আরেক ব্যবসায়ীর আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ঈদ পরবর্তী সময়ে নদীতে এক শ্রেণির উঠতি বয়সের তরুণদের ডিজে পার্টির তৎপরতা বেড়েছে। বর্তমান করোনাকালে সরকারি কঠোর স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার বিধিনিষেধ থাকলেও, নৌ পথে এসব তোয়াক্কা করছে না তারা। তাদেরকে জরিমানা পাশাপাশি আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।

তিতাস পাড়ের বাসিন্দা কাশিনগর এলাকার নির্মল দাস জানান, প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত নৌকায় ডিজে পার্টির নামে উঠতি বয়সী তরুণদের লাফালাফি আর বিকট শব্দে আমরা নদীর তীরের বাসিন্দারা অতিষ্ঠ। তাদেরকে ঠেকাবে কে?

এ ব্যাপারে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার পঙ্কজ বড়ুয়া  জানান, নৌ পথে ডিজে পার্টির মতো উশৃঙ্খল কর্মকাণ্ড ঠেকাতে জেলা প্রশাসক মহোদয়ের নির্দেশে প্রতিটি নৌ পথে অভিযান জোরদার করা হয়েছে। নবীনগরের তিতাস নদীতে ডিজে পার্টি চলাকালে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে জরিমানা করা হয়েছে। নৌ পথে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে একাধিক নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেক টিম তৎপর রয়েছে। কাউকেই স্বাস্থ্যবিধি অমান্য করে নৌ পথে ডিজে পার্টি করতে দেয়া হবে না।

/এসএইচ/

সম্পর্কিত

টেস্ট করাতে হাসপাতালে রোগীর চাপ 

টেস্ট করাতে হাসপাতালে রোগীর চাপ 

বঙ্গবন্ধু সেতুর পশ্চিম স্টেশনে ভারত থেকে আসা অক্সিজেন

বঙ্গবন্ধু সেতুর পশ্চিম স্টেশনে ভারত থেকে আসা অক্সিজেন

ফুটবল খেলা নিয়ে দ্বন্দ্বে যুবককে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ

ফুটবল খেলা নিয়ে দ্বন্দ্বে যুবককে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ

সর্বশেষ

টস হেরে ফিল্ডিংয়ে বাংলাদেশ, একাদশে নাসুম

টস হেরে ফিল্ডিংয়ে বাংলাদেশ, একাদশে নাসুম

মাসে ১ কোটি ভ্যাকসিন দেওয়ার পরিকল্পনা হচ্ছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

মাসে ১ কোটি ভ্যাকসিন দেওয়ার পরিকল্পনা হচ্ছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

সিলেট-৩ আসনের উপ-নির্বাচন স্থগিত চেয়ে সিইসিকে আইনি নোটিশ

সিলেট-৩ আসনের উপ-নির্বাচন স্থগিত চেয়ে সিইসিকে আইনি নোটিশ

নতুন প্রেমিকের সঙ্গেও সম্পর্কে ফাটল? 

নতুন প্রেমিকের সঙ্গেও সম্পর্কে ফাটল? 

উজিরপুরে ভুল চিকিৎসায় কাঠমিস্ত্রির মৃত্যুর অভিযোগ

উজিরপুরে ভুল চিকিৎসায় কাঠমিস্ত্রির মৃত্যুর অভিযোগ

দল ঢেলে সাজাচ্ছেন অলি আহমদ

দল ঢেলে সাজাচ্ছেন অলি আহমদ

থুতনিতে মাস্ক রেখে সিগারেট খাওয়ায় ৫০০ টাকা জরিমানা

থুতনিতে মাস্ক রেখে সিগারেট খাওয়ায় ৫০০ টাকা জরিমানা

মিসরকে হারিয়ে টিকে থাকলো আর্জেন্টিনা

অলিম্পিক ফুটবলমিসরকে হারিয়ে টিকে থাকলো আর্জেন্টিনা

ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক ফাঁকা

ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক ফাঁকা

করোনায় কর্মহীনদের পরিবারে চাপা হাহাকার: জিএম কাদের

করোনায় কর্মহীনদের পরিবারে চাপা হাহাকার: জিএম কাদের

ঘাটে ঢাকামুখী যাত্রীর চাপ

ঘাটে ঢাকামুখী যাত্রীর চাপ

মৃত্যু ও সংক্রমণে এগিয়ে ঢাকা: স্বাস্থ্য অধিদফতর

মৃত্যু ও সংক্রমণে এগিয়ে ঢাকা: স্বাস্থ্য অধিদফতর

সর্বশেষসর্বাধিক

লাইভ

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

টেস্ট করাতে হাসপাতালে রোগীর চাপ 

টেস্ট করাতে হাসপাতালে রোগীর চাপ 

খুলনা বিভাগে বেড়েছে শনাক্ত ও মৃত্যু

খুলনা বিভাগে বেড়েছে শনাক্ত ও মৃত্যু

বঙ্গবন্ধু সেতুর পশ্চিম স্টেশনে ভারত থেকে আসা অক্সিজেন

বঙ্গবন্ধু সেতুর পশ্চিম স্টেশনে ভারত থেকে আসা অক্সিজেন

ময়মনসিংহ মেডিক্যালের করোনা ইউনিটে বাড়লো ২৪ শয্যা

ময়মনসিংহ মেডিক্যালের করোনা ইউনিটে বাড়লো ২৪ শয্যা

এক হাসপাতালেই ১৯ মৃত্যু

এক হাসপাতালেই ১৯ মৃত্যু

শের-ই বাংলা মেডিক্যালে একদিনে ১৫ মৃত্যু

শের-ই বাংলা মেডিক্যালে একদিনে ১৫ মৃত্যু

রামেক হাসপাতালে আরও ১৪ জনের মৃত্যু

রামেক হাসপাতালে আরও ১৪ জনের মৃত্যু

ময়মনসিংহ মেডিক্যালে আরও ১৭ মৃত্যু

ময়মনসিংহ মেডিক্যালে আরও ১৭ মৃত্যু

চট্টগ্রামে আরও ১১ মৃত্যু, নতুন শনাক্ত ৮০১

চট্টগ্রামে আরও ১১ মৃত্যু, নতুন শনাক্ত ৮০১

লকডাউনেও জমজমাট পশুর হাট

লকডাউনেও জমজমাট পশুর হাট

© 2021 Bangla Tribune