X
সোমবার, ০২ আগস্ট ২০২১, ১৮ শ্রাবণ ১৪২৮

সেকশনস

‘গাজওয়াতুল হিন্দ’-এর জন্য যেভাবে একাট্টা হচ্ছে বাংলাদেশ-ভারতের জঙ্গিরা

আপডেট : ২২ জুলাই ২০২১, ২১:০৫

‘গাজওয়াতুল হিন্দ’ বা ‘হিন্দুস্থানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ’কে সামনে রেখে সংগঠিত হচ্ছে বাংলাদেশ ও ভারতের জঙ্গিরা। বাংলাদেশে নিষিদ্ধ ঘোষিত দুই জঙ্গি সংগঠন জামাতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ-জেএমবি, আনসার আল ইসলাম ও ভারতের জামআতুল মুজাহিদীন ইন্ডিয়া-জেএমআই একজোট হয়ে এই অপতৎপরতা শুরু করেছে। সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গে গ্রেফতার হওয়া চার জঙ্গির কাছ থেকে এ তথ্য পেয়েছে ভারতের আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী।

জঙ্গিবাদ দমনে তথ্য বিনিময়ের মাধ্যমে এ অপতৎপরতা বন্ধে একসঙ্গে কাজ করছে বাংলাদেশ-ভারত গোয়েন্দারা। ঢাকার কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট- সিটিটিসির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই পশ্চিমবঙ্গের ওই চার জঙ্গিকে গ্রেফতার করেছিল কলকাতার স্পেশাল টাস্ক ফোর্স-এসটিএফ।

ঢাকার পুলিশ কমিশনার মোহা. শফিকুল ইসলাম সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, ‘সম্প্রতি ভারতে বড় মাপের তিন জঙ্গি গ্রেফতার হয়েছে। তাদের সম্পর্কে আমাদের কাছে তথ্য ছিল। এ ধরনের তথ্য আমরা আদান-প্রদান করে থাকি। ওই তিনজন জিহাদের জন্য বাংলাদেশ ত্যাগ করেছে। তথ্যটা আমরা জানতাম, যা যথাযথ সময়েই ভারতকে জানিয়েছিলাম।’

সম্প্রতি জঙ্গি তৎপরতা বৃদ্ধি ও জঙ্গিদের সক্ষমতা বেড়েছে জানিয়ে ঢাকার শীর্ষ এই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরাও কিন্তু বসে নেই। জঙ্গিবাদ প্রতিরোধে আমাদের যারা কাজ করছে তারা খুব এক্সপার্ট। ঘটনা ঘটার আগেই আমরা তথ্য পাচ্ছি। যেখানে যতটুকু পাচ্ছি, সেখানেই কাজ করছি।’

যেভাবে সংগঠিত হচ্ছে জঙ্গিরা
গতবছরের শেষ দিকে রাজধানী ঢাকার মগবাজার, ইস্কাটন ও রাজাবাজার এলাকায় কয়েকটি সিরিয়াল ডাকাতির ঘটনা তদন্ত করতে গিয়ে জঙ্গি সম্পৃক্ততা পেয়েছিল মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। এসময় বেশ কয়েকজন জঙ্গিকে গ্রেফতার করা হয়। উদ্ধার করা হয় শীর্ষ এক জঙ্গি নেতার মোবাইল ফোন। সেই মোবাইল ফোন থেকেই ‘গাজওয়াতুল হিন্দ’-এর জন্য বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠনের একজোট হয়ে কাজ করা সম্পর্কিত কিছু নথি উদ্ধার হয়। সেসব কাগজপত্রে কীভাবে একজোট হয়ে কাজ করা হবে তা নিয়ে কয়েক পাতার একটি নির্দেশিকা ছিল।

মোবাইল ফোনটি যে শীর্ষ জঙ্গি ব্যবহার করতেন, তার নাম আনোয়ারুল ইসলাম হৃদয়। যাকে ‘হিন্দ অঞ্চল’-এর সামরিক শাখার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। পলাতক এই শীর্ষ জঙ্গির সঙ্গে একদিকে যেমন বাংলাদেশের বিভিন্ন কারাগারে থাকা জঙ্গিদের নিয়মিত যোগাযোগ ছিল, তেমনি তিনি মাঝে-মধ্যেই সীমান্ত পেরিয়ে নিয়মিত ভারতে যাতায়াত করতেন। ভারতের স্পর্শকাতর অঞ্চল হিসেবে বিবেচিত কাশ্মীরে গিয়ে জঙ্গিবাদের সামরিক প্রশিক্ষণও নিয়েছেন তিনি।

পশ্চিমবঙ্গে গ্রেফতার হওয়া জঙ্গিদের বরাত দিয়ে এসটিএফ বলেছে, বারাসাত থেকে লালু সেন বা রাহুল নামে যাকে তারা গ্রেফতার করেছে, গ্রেফতারের আগে তার বাসায় এই হৃদয় অবস্থান করেছিল। রাহুলের বাসা থেকে এসটিএফ হৃদয়ের ব্যবহার করা কয়েকটি ইলেকট্রনিক ডিভাইসও উদ্ধার করেছে। রাহুল অর্থের বিনিময়ে জঙ্গিদের অস্ত্র-বিস্ফোরক সরবরাহ এবং ভারতে সংগঠিত হতে সহযোগিতা করতো। ঢাকার গোয়েন্দা পুলিশের একটি মামলার এজাহারভুক্ত আসামি হিসেবে ভারতে গ্রেফতার হওয়া রাহুল ও পাভেল ওরফে জোফের নামও রয়েছে।

পশ্চিমবঙ্গে গ্রেফতার হওয়া রাহুলও অবৈধভাবে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে নিয়মিত বাংলাদেশে যাতায়াত করতেন। বাংলাদেশের কাকলী মৃধা নামে একজন আইনজীবীকে তিনি বিয়েও করেছেন বলে ঢাকার সিটিটিসির একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন। তবে যোগাযোগ করা হলে বিয়ের কথা অস্বীকার করে কাকলী মৃধা জানান, সাবেক স্বামী শংকর দত্তের সুবাদে রাহুলের সঙ্গে তার পরিচয় ছিল। ২০১৫-১৬ সালে রাহুল তাদের বাড়িতেও এসেছে। রাহুলের সঙ্গে তার সম্পর্কের একটি গুজব উঠেছিল, কিন্তু তারা বিয়ে করেননি।

ভারতে গ্রেফতার হওয়া তিন জঙ্গির একজন নাজিউর রহমান ওরফে পাভেল ওরফে জোসেফ বাংলাদেশের আনসার আল ইসলামের শীর্ষ জঙ্গি আল-আমীনের বোন-জামাই। আল-আমীন কাশিমপুর কারাগারে বন্দি। জেলে থাকা আল-আমীনের সঙ্গে পলাতক শীর্ষ জঙ্গি হৃদয়ের অনেকগুলো কথপোকথনের রেকর্ড পেয়েছে ঢাকার গোয়েন্দা পুলিশ।

বিশেষ ব্যবস্থায় সম্প্রতি আল-আমীনের সঙ্গে কথা হয়েছে এই প্রতিবেদকের। আল-আমীন বলেছেন, তিনি আনসার আল ইসলামের সক্রিয় সদস্য। আগেও একবার আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে গ্রেফতার হয়ে কারাগারে গিয়েছিলেন।

জামিনে ছাড়া পাওয়ার পর খুলনার বাসিন্দা আল-আমীন গোপালগঞ্জে গিয়ে অবস্থান করেন। কয়েক মাস পর আবারও তাকে র‌্যাব গ্রেফতার করে। বাংলাদেশে জেএমবি, হরকাতুল জিহাদ ও আনসার আল-ইসলামের সঙ্গে একজোট হয়ে গাজওয়াতুল হিন্দের জন্য কাজ করার কথা স্বীকার করেন তিনি।

গাজওয়াতুল হিন্দ কী?
গাজওয়াতুল হিন্দ হলো ইসলামের নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) এর একটি ভবিষ্যদ্বাণী। যাতে বলা হয়েছে, হিন্দুস্থানে (ভারতীয় উপমহাদেশ) অমুসলিমদের সঙ্গে মুসলিমদের একটি যুদ্ধ হবে এবং সেই যুদ্ধে মুসলমানরা বিজয় লাভ করবেন। যদিও বিষয়টি নিয়ে ভিন্নমত রয়েছে। অনেক ধর্মবিদ ও ইতিহাসবেত্তা মনে করেন এই যুদ্ধ ইতোমধ্যে সংগঠিত হয়েছে। কিন্তু গাজওয়াতুল হিন্দ-এর মতবাদকে সামনে রেখেই সংগঠিত হচ্ছে বাংলাদেশ ও ভারতের জঙ্গিরা।

সিটিটিসির একজন কর্মকর্তা বলছেন, বাংলাদেশের নিষিদ্ধ তিন জঙ্গি সংগঠন আনসার আল ইসলাম, জেএমবি ও হরকাতুল জিহাদ বা হুজি মূলত আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন আল-কায়েদার অনুসারী। আল-কায়েদা ভারতীয় উপমহাদেশে শাখা ঘোষণার (একিউআইএস বা আল কায়েদা ইন ইন্ডিয়ান সাবকন্টিনেন্ট) পর থেকেই তারা একজোট হয়ে কাজ করার চেষ্টা করছিল।

সিটিটিসির প্রধান মো. আসাদুজ্জামান অবশ্য জঙ্গিদের মাথাচাড়া দিয়ে ওঠা ও নতুন করে সুসংগঠিত হওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, ‘গ্রেফতার এবং অভিযান মানেই আমাদের এখানে জঙ্গিবাদ এখনও নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। আমরা নিয়মিত নজরদারির মাধ্যমে জঙ্গিবাদ দমানোর চেষ্টা করছি।’

ডাকাতি করে কোটি টাকার তহবিল গঠনের চেষ্টা
গাজওয়াতুল হিন্দকে সামনে রেখে সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা করা জঙ্গিরা কোটি টাকার তহবিল গঠনের চেষ্টা করে আসছে। ঢাকার অন্তত ছয়টি ডাকাতির ঘটনায় জঙ্গি সম্পৃক্ততা পেয়েছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। ভারতেও তারা স্বর্ণের দোকান, বাসা-বাড়ি ও ব্যাংকে ডাকাতির পরিকল্পনা করেছিল। এজন্য বাংলাদেশ থেকে অন্তত ১৫ থেকে ২০ জন ভারতে গিয়েছে বলে জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছে পশ্চিমবঙ্গে গ্রেফতার হওয়া তিন জঙ্গি।

বাংলাদেশের আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, অবৈধভাবে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশের জঙ্গিরা ভারতে গিয়ে সংগঠনের কাজ করছে। ভারতে এখন তাদের প্রচুর ‘ভাই’ (জঙ্গি সদস্য) তৈরি হয়েছে বলে জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছে। এ ছাড়া পেশাদার অপরাধী চক্রের সঙ্গে মিশেও ডাকাতি করছে তারা। এতে যে অর্থ আসে, তা পাঁচ ভাগ করে দুই ভাগ সংগঠনের তহবিলে এবং তিন ভাগ সদস্যরা নিজেরা খরচ করে।

আনোয়ারুল ইসলাম হৃদয়ের ফোন থেকে পাওয়া তথ্যের বরাত দিয়ে এক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, সংগঠনের এক শীর্ষ নেতাকে নিয়ে হৃদয় কাশ্মিরে বেশ কয়েক মাস ছিল বলে এক আলাপচারিতায় উঠে এসেছে। এনক্রিপ্টেট অ্যাপ দিয়ে তারা যোগাযোগ করলেও ফরেনসিক পরীক্ষায় কিছু আলাপচারিতা উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছিল।

‘একটি বার্তায় আনোয়ারুল ইসলাম হৃদয় ডাকাতি করে একশ’ কোটি টাকার তহবিল গঠনের ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।’- বলেন ওই পুলিশ কর্মকর্তা।

হৃদয়কে সঙ্গে নিয়ে কাশ্মিরে যাওয়া ওই শীর্ষ জঙ্গি নেতা জামআতুল মুজাহিদীনের আমীর সালাউদ্দিন সালেহীন বলে ধারণা করছেন আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা। ২০১৪ সালে ময়মনসিংহে প্রিজনভ্যানে হামলা চালিয়ে সালাউদ্দিন সালেহীনকে ছিনিয়ে নেওয়ার পর থেকেই তিনি ভারতে আত্মগোপন করে আছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

গত এপ্রিলে ঢাকায় গ্রেফতার হওয়া জেএমবির ভারপ্রাপ্ত আমীর রেজাউল হক রেজা ওরফে তানভীর মাহমুদ শিহাবও জিজ্ঞাসাবাদে সালাউদ্দিন সালেহীন ভারতে আত্মগোপন করে আছেন বলে জানিয়েছেন। রেজাউল জঙ্গি সংগঠনটির দাওয়াহ শাখা ও বায়তুল মালের দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।

সিটিটিসির অতিরিক্ত উপ-কমিশনার রহমত উল্লাহ চৌধুরী বলছেন, ‘জঙ্গিরা এখন স্লিপার সেল পদ্ধতিতে সংগঠিত হচ্ছে। একটি স্লিপার সেলের সদস্যরা আরেকটি স্লিপার সেলের তথ্য জানে না। শীর্ষ নেতারা সরাসরি স্লিপার সেলগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ ও নির্দেশনা দিয়ে থাকে। রেজাউলের কাছ থেকে আমরা সালাউদ্দিন সালেহীনের বিষয়ে কিছু তথ্য পেয়েছিলাম। তাকে গ্রেফতারের জন্য আমরা কাজ করে যাচ্ছি।’

/এফএ/

সম্পর্কিত

এসকে সুর ও তার স্ত্রীর ব্যাংক হিসাব স্থগিত

এসকে সুর ও তার স্ত্রীর ব্যাংক হিসাব স্থগিত

কিশোরীকে ঢাকা থেকে ধামরাই নিয়ে দলবেঁধে ধর্ষণ করেছিল ওরা

কিশোরীকে ঢাকা থেকে ধামরাই নিয়ে দলবেঁধে ধর্ষণ করেছিল ওরা

কিশোরীকে বিয়ে করা সেই চেয়ারম্যানের স্থায়ী বরখাস্ত চেয়ে আইনি নোটিশ

কিশোরীকে বিয়ে করা সেই চেয়ারম্যানের স্থায়ী বরখাস্ত চেয়ে আইনি নোটিশ

ভিডিও ফাঁসের পর স্কুলছাত্রীর আত্মহত‌্যার মামলায় প্রতিবেদন ১৬ আগস্ট

ভিডিও ফাঁসের পর স্কুলছাত্রীর আত্মহত‌্যার মামলায় প্রতিবেদন ১৬ আগস্ট

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনা কমিটির প্রয়োজন কী?

আপডেট : ০২ আগস্ট ২০২১, ১১:০০

প্রাতিষ্ঠানিক অনিয়মসহ দীর্ঘদিন থেকে দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অর্থ আত্মসাৎ, নিয়োগ ও পদোন্নতি জালিয়াতি, উন্নয়ন প্রকল্পে দুর্নীতি, ভর্তি বাণিজ্য এবং স্বজনপ্রীতিসহ বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনা কমিটির বিরুদ্ধে। দুর্নীতির অভিযোগে কমিটি ভেঙে দেওয়ার নজিরও দেখা গেছে হরহামেশা। পরিচালনা কমিটির দুর্নীতির কারণে অনেক শিক্ষক এবং প্রতিষ্ঠানপ্রধানের চাকরি গেলেও সংশ্লিষ্ট অভিযোগে কমিটির কোনও সদস্যের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারেনি শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এভাবেই চলছে বছরের পর বছর।

অন্যদিকে নামদামি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর অভিভাবকদের একটি অংশ ভর্তি বাণিজ্য, চাঁদাবাজি ও উন্নয়ন প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত থাকার জন্য গঠন করেছেন অভিভাবক ফোরাম। এই ফোরামের কথা না শুনলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধান এবং শিক্ষকদের বিরুদ্ধে যখন-তখন আন্দোলনের হুমকি দিয়ে চাঁদাবাজির অভিযোগও রয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে পরিচালনা কমিটি বাদ দিয়ে মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনার দাবি তোলেন এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সংশ্লিষ্টরা। বিভিন্ন সময় অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন—দায়হীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনা কমিটির প্রয়োজন কী?

এ বিষয়ে শিক্ষাবিদ ও সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারে উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধুরী বলেন, ‘শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনা কমিটিতে অনেক প্রভাবশালী লোকজন থাকেন, শিক্ষকদের মধ্যেও অনেক প্রভাবশালী থাকেন, সে কারণে তাদের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া যায় না। তাই বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনা একটি আইনের কাঠামোর মধ্যে নেওয়া উচিৎ। শুধু আদেশ আর পরিপত্র দিয়ে চালানো যায় না। যদি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য আইন থাকতে পারে তাহলে কেনও বেসরকারি অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য সুনির্দিষ্ট আইন থাকবে না? দ্রুত শিক্ষা আইন করে আইনি কাঠামোতে আনতে হবে সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে।’

উল্লেখ্য, ‘বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর গভর্নিং বডি ও ম্যানেজিং কমিটি প্রবিধানমালা, ২০০৯’ এ কমিটির সর্বোচ্চ ক্ষমতা দেওয়া থাকলেও কমিটির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কোনও বিধান নেই।  ফলে আর্থিক দুর্নীতিসহ যা ইচ্ছে তাই করে থাকে ম্যানেজিং কমিটি।

বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির সভাপতি (বাশিস) ও এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ লিয়াজোঁ ফোরামের মুখপাত্র নজরুল ইসলাম রনি বলেন, প্রতিষ্ঠান পরিচালনা কমিটি শিক্ষকদের অধিকার রক্ষা করে না। বরং প্রতিষ্ঠানের টাকা তছরুপ করে। নিয়োগ, পদোন্নতি জালিয়াতি, ভর্তি বাণিজ্যসহ বিভিন্ন অনিয়ম-দুর্নীতি করে কমিটিগুলো। এফডিআর ভাঙিয়ে অর্থ ব্যয় করে অনেক প্রতিষ্ঠানের ক্ষতি করেছে কমিটিগুলো।  পরিচালনা কমিটির অনিয়ম-দুর্নীতি ও অবহেলার কারণে কয়েক হাজার মামলা উচ্চ আদালতে চলমান রয়েছে। এতে শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।

নজরুল ইসলাম রনি আরও বলেন, অনার্স-মাস্টার্স স্তরের শিক্ষকদের বেতন-ভাতা শিক্ষার্থীর টিউশন ফি থেকে পরিশোধ করার কথা থাকলেও বিগত ২৯ বছর ধরে প্রায় বিনা বেতনে শিক্ষকরা চাকরি করছেন।  সরকারের ওপর এখন দায় চাপিয়ে দিয়ে কমিটিগুলো ফায়দা লুটছে। শিক্ষকদের বেতন পরিশোধ করা হয়েছে লিখে নিয়ে অনেক প্রতিষ্ঠান জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্তি রক্ষা করছে। এতে বঞ্চিত হচ্ছেন অনার্স-মাস্টার্স স্তরের শিক্ষকরা।  তাহলে এমপিওভুক্ত বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে পরিচালনা কমিটি থাকার প্রয়োজন কী?

একইভাবে অভিভাবক ফোরামের নামে চাঁদাবাজি ও ভর্তি বাণিজ্যের অভিযোগ করেন এই শিক্ষক নেতা। 

শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, অনিয়ম-দুর্নীতির কারণে প্রতি বছর শতাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনা কমিটি ভেঙে দেওয়া হচ্ছে। সরকারি কর্মকর্তাদের সভাপতি করে অ্যাডহক কমিটি গঠন করে প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করা হচ্ছে। 

ভিকারুননিসায় অনিয়ম-দুর্নীতি

দেশের ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান রাজধানীর ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের বিভিন্ন গভর্নিং বডির বিরুদ্ধে বছরের পর বছর  ভর্তি বাণিজ্য, অধ্যক্ষ নিয়োগে দুর্নীতির চেষ্টা, প্যাটার্ন বহির্ভূত শিক্ষক নিয়োগ, উন্নয়ন প্রকল্পে দুর্নীতি, আয়-ব্যয়ের হিসাবের নথিপত্র না রাখা, তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারীকে প্রথম শ্রেণির বেতন-ভাতাসহ বিভিন্ন ভাতা দেওয়া, কমিটির সদস্যদের স্যার বলতে শিক্ষকদের বাধ্য করাসহ বিভিন্ন অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ তদন্তে প্রমাণ পাওয়ার পরও কমিটির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া যায়নি।

২০০৭ সালে পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদফতরের (ডিআইএ) তদন্ত প্রতিবেদন সূত্রে জানা গেছে, ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের ৫০ কোটি টাকা দুর্নীতি প্রমাণ পাওয়ার পরও কোনও ব্যবস্থা নিতে পারেনি শিক্ষা মন্ত্রণালয়।  গভর্নিং বড়ি ডিআইএ’র প্রতিবেদনের কোনও সুপারিশ মানেনি। উল্টো বছরের পর বছর সেই অনিয়মকে নিয়ম করে রাখা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনের সুপারিশ অগ্রাহ্য করে ১৩ বছরের বেশি সময় অনিয়মের মাধ্যমে বিভিন্ন গভর্নিং বড়ি দায়িত্ব পালন করেছে।

২০১৯ সালে ভিকারুননিসা স্কুল অ্যান্ড কলেজে অধ্যক্ষ নিয়োগে দুর্নীতির অভিযোগ উঠলেও কমিটির কোনও সদস্যের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া যায়নি। তবে নিয়োগ কমিটিতে যেসব সরকারি কর্মকর্তা ও বেসরকারি শিক্ষক ছিলেন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

শিক্ষার্থী ভর্তিতে দুর্নীতি

২০১৯ সালের ভর্তি পরীক্ষায় ৪৪৩ শিক্ষার্থী ভর্তির যাবতীয় কার্যক্রম গভর্নিং বডি সম্পাদন করলেও কমিটির একজন ব্যক্তির বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিতে পারেনি শিক্ষা মন্ত্রণালয়। ভর্তি কার্যক্রমে গভর্নিং বড়ির প্রত্যক্ষ হস্তক্ষেপ থাকলেও ভর্তির সময় দায়িত্ব পালন করা তিনজনের মধ্যে একজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনে ব্যবস্থা নেয় মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতর।  এত কিছুর পরও ২০২০ সালের নতুন গভর্নিং বডি আরও শিক্ষার্থী ভর্তির ব্যবস্থা করে। আর নতুন করে শিক্ষার্থী ভর্তির জন্য অভিভাবক ফোরাম লিখিত আবেদন করে।

ডিআইএর প্রতিবেদন সূত্রে জানা গেছে, ভিকারুননিসার কয়েকজন অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ থাকলেও ব্যবস্থা নেয়নি বিভিন্ন সময়ের গভর্নিং বডি। সংশ্লিষ্টদের অভিযোগে অভিযুক্ত অধ্যক্ষদের দিয়ে ভর্তি বাণিজ্যসহ বিভিন্ন আর্থিক দুর্নীতি করিয়েছে গভর্নিং বডি।

প্যাটার্ন বহির্ভূত শিক্ষক নিয়োগের অভিযোগ তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ থাকলেও প্রতিবেদনের সুপারিশ বাস্তবায়ন করেনি বিগত সময়ের গভর্নিং বড়িগুলো। অতিরিক্ত বেতন-ভাতা প্রতিষ্ঠানের কোষাগারে জমা দেওয়ার সুপারিশ করা হলেও সে ব্যবস্থাও নেয়নি বিগত কমিটিগুলো।

অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, করোনার মধ্যেই কমিটির বিরুদ্ধে অভিযোগ খতিয়ে দেখতে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

করোনাকালে কমিটির বিরুদ্ধে অভিযোগ

চলতি বছরের ১৮ জানুয়ারি জারি করা মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের আদেশে কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার মোল্লাকান্দি লালমিয়া পাইলট স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ও সভাপতির বিরুদ্ধে আর্থিক দুর্নীতির চিত্র তুলে ধরা হয়।  দুদকের পত্রের পরিপ্রেক্ষিতে কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ও সভাপতির বিরুদ্ধে ওই দুর্নীতির তথ্য ওঠে আসে।

ওই আদেশে জানানো হয়, কলেজের তিন কোটি ৮৪ লাখ টাকা খরচ করা হয়। এর মধ্যে ক্যাশ বইয়ে না লিখে এবং ব্যাংক হিসাবে জমা না দিয়ে ২৮ লাখ ৫২ হাজার ১১২ টাকা সভাপতির মাধ্যমে কলেজের বিভিন্ন শাখা উন্নয়ন ও বিভিন্ন খাতে খরচ করা বিধিসম্মত হয়নি।  এই ঘটনায় দ্রুত অধ্যক্ষ নিয়োগের নির্দেশ দেওয়া হবে।

প্রসঙ্গত, ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ রুটিন কাজ ছাড়া কোনও কিছুই করতে পারেন না।  রেজুলেশেনে পাস করা জরুরি কাজ করেন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ। অথচ সব দায় গিয়ে পড়ে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের ঘাড়ে।    

এ বছর ১৯ জুলাই মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলার চরকাটারী সবুজসেনা উচ্চবিদ্যালয়ের যাবতীয় নিয়োগ কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে।

বিগত কমিটির বিরুদ্ধে নতুন কমিটি গঠন করায় গত ২১ মার্চ জয়পুর হাটের ক্ষেতলাল উপজেলার পাঠানপাড়া দ্বিমুখী উচ্চবিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও প্রধান শিক্ষককে করোনার পরিস্থিতির মধ্যেই সশরীরে উপস্থিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।

গত ২ মে জামালপুর সদর উপজেলার ঝাওলা গোপালপুর ডিগ্রি কলেজ গভর্নিং বডির যোগসাজশে নিয়োগ বাণিজ্য, অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ ওঠে। তবে শুধুমাত্র অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতর ব্যবস্থা নিতে তদন্ত কমিটি গঠন করে। কিন্তু কমিটির কোনও সদস্যের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারেনি। অথচ নিয়োগ দেওয়ার এখতিয়ার গভর্নিং বডির।

এছাড়া ২০২০ সালের ৭ অক্টোবর ঢাকা শিক্ষা বোর্ড রাজধানীর যাত্রাবাড়ী আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের গভর্নিং বডি বাতিল করেছে।

জালিয়াতির কারণে ৫ মাদ্রাসার এমপিও স্থগিত

৫টি দাখিল  মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটি জালিয়াতি করে সহকারী গ্রন্থাগারিক নিয়োগ দেওয়ার ঘটনায় প্রতিষ্ঠানগুলোর এমপিও স্থগিত করা হয়েছে সোমবার (২৬ জুলাই)।  এই ঘটনায় প্রতিষ্ঠানগুলোর সব শিক্ষক-কর্মচারীরা সরকারি বেতনের অংশ পাবেন না।  এই ঘটনায় সব দায় ম্যানেজিং কমিটি এবং প্রতিষ্ঠান প্রধানের হলেও সব শিক্ষক-কর্মচারী বঞ্চিত হবেন। অবশ্য কমিটির সভাপতির বিরুদ্ধে কেনও ফৌজদারি আইনে মামলা করা হবে না তা জানতে চাওয়া হয়েছে।  যদিও এখন পর্যন্ত কমিটির বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নিতে পারেনি শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট দফতরগুলো।

কমিটির অবহেলায় যৌন হয়রানি

চলতি বছর ৭ ফেব্রুয়ারি মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরে অফিস আদেশ জানানো হয়, একজন নারী শিক্ষককে যৌন হয়রানি করার অভিযোগ নিষ্পত্তি না করায় একই কলেজের অপর নারী শিক্ষক যৌন হয়রানির শিকার হন। প্রথম যিনি যৌন হয়রানির শিকার হয়েছিলেন তার অভিযোগ প্রমাণের পর গভর্নিং বডির মাধ্যমে অধ্যক্ষের কক্ষে সমঝোতা করতে করে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়া হয়। এর ফলে আরেক জন শিক্ষক যৌন হয়রানির শিকার হন। এই ঘটনায় বগুড়া জেলার বিয়াম মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের যৌন নিপীড়ন বিরোধী কমিটির বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য চায় মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতর।

সংশ্লিষ্টরা বলেন, অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও আইনি পদক্ষেপ কমিটি নিলে এই তদন্তের প্রয়োজন হতো না। অথচ কমিটিকে এ বিষয়ে কোনও দায় ঘাড়ে নিতে হয়নি।

পরিচালনা কমিটির বিধিবিধান সংশোধনের উদ্যোগ

কমিটির দুর্নীতি প্রতিরোধের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে বিভিন্ন সময় শিক্ষামন্ত্রী বলেছেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনা কমিটি বিধিবিধান সংশোধন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এই বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মো. মাহবুব হোসেন এর আগে বাংলা ট্রিবিউনকে বলেছিলেন, আইন-কানুন সংশোধনের প্রস্তাব করেছে ঢাকা শিক্ষা বোর্ড।

ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক মু. জিয়াউল হক ওই সময় বাংলা ট্রিবিউনকে বলেছিলেন, ‘আমরা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা কমিটির বিধিবিধান যুগোপযোগী করতে মন্ত্রণালয়ের কাছে প্রস্তাব করেছি।’

তবে করোনার কারণে গত এক বছরেও বিধিবিধান সংশোধনের কাজ করা সম্ভব হয়নি বলে মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

অভিভাবক ফোরামের বিরুদ্ধে অভিযোগ

ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ও মতিঝিলের আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজে অভিভাবক ফোরামের নামে চাঁদাবাজির অভিযোগ রয়েছে দীর্ঘদিন থেকে। সম্প্রতি ভিকরুননিসার অধ্যক্ষের ফোনালাপ ফাঁসের সূত্র ধরে অভিভাবক ফোরামের ভর্তির বাণিজ্য সামনে আসে। ফোনালাপের অডিও ফাঁস করা অভিভাবক মীর সাহাবুদ্দিন টিপুর বিরুদ্ধে ভর্তি বাণিজ্যের অভিযোগ ওঠে সরাসরি।  গত ২২ মার্চ প্রথম শ্রেণি থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থী ভর্তির সুযোগ চেয়ে লিখিত আবেদন করা হয় গভর্নিং বডির সভাপতির কাছে।  অধ্যক্ষ ভর্তির সুযোগ দেননি বলে জুন মাসের প্রথম দিকের ফোনালাপ সম্প্রতি ফাঁস করেন টিপু। তবে টিপু বলেন, ‘অভিভাবকদের পক্ষে শিক্ষার্থীদের টিউশন ফি মওকুফের জন্য অধ্যক্ষকে আল্টিমেটাম দিয়েছিলাম।  উনি শোনেননি।  সম্ভবত গত ১০ জুনের ফোনালাপ এটি। ’

অভিভাবক ফোরামের চাঁদাবাজি

ভিকারুননিসার পাশাপাশি ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অভিভাবক ফোরামের নামে চাঁদাবাজির অভিযোগ দীর্ঘ দিনের। এর আগে আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ ড. শাহান আরা বেগম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেছিলেন, ‘অভিভাবক ফোরামের কোনও কাজ নেই। তারা শিক্ষার্থী বা শিক্ষা কার্যক্রম উন্নয়নে সুপারিশ করে না।  ফোরামের নামে শিক্ষকদের দুর্বলতার সুযোগে চাঁদাবাজি করে করে।’

 

/এমআর/

সম্পর্কিত

এসএসসির সংশোধিত অ্যাসাইনমেন্ট প্রকাশ

এসএসসির সংশোধিত অ্যাসাইনমেন্ট প্রকাশ

১৮ বছরের বেশি বয়সী শিক্ষার্থীদের ভ্যাকসিন দিতে নির্দেশ

১৮ বছরের বেশি বয়সী শিক্ষার্থীদের ভ্যাকসিন দিতে নির্দেশ

এইচএসসির ফরম পূরণ শুরু ১২ আগস্ট, ফি কমেছে

এইচএসসির ফরম পূরণ শুরু ১২ আগস্ট, ফি কমেছে

দুই দশকে ভিকারুননিসায় যত লুটপাট-অনিয়ম

দুই দশকে ভিকারুননিসায় যত লুটপাট-অনিয়ম

রোগী সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে রাজধানীর যে ৪ হাসপাতাল

আপডেট : ০২ আগস্ট ২০২১, ০৯:০০

স্বাস্থ্য অধিদফতরের আখ্যা দেওয়া ‘কঠিন জুলাই’ শেষ হয়েছে। তবে জনস্বাস্থ্যবিদরা বলছেন, চলতি মাস (আগস্ট) ভয়ংকর হবে। কারণ ঈদের আগে শিথিল ও পরে লকডাউন দেওয়া হলেও পোশাক শ্রমিকদের ঢাকায় ফিরতে বলায় তারা ফিরছেন, যে কারণে সংক্রামণের ঝুঁকি আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে।
গত বছরের ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনা আক্রান্ত তিনজন রোগী শনাক্ত হবার কথা জানায় স্বাস্থ্য অধিদফতর। তার ঠিক ১০ দিন পর ১৮ মার্চ প্রথম করোনা আক্রান্ত মৃত্যুর কথাও জানায় তারা। সে থেকে দেশে এখন পর্যন্ত করোনাতে আক্রান্ত হয়ে সরকারি হিসেবে মোট মারা গেছেন (৩১ জুলাই) ২০ হাজার ৬৮৫ জন।
বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ সৃষ্টিকারী ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের দাপটে বাংলাদেশেও দৈনিক রোগী শনাক্ত ও মৃত্যু বাড়ছে কয়েকগুণ। করোনার ঊর্ধ্বগতিতে চলতি মাসের দুই সপ্তাহ দেশে সর্বাত্মক লকডাউন ঘোষণা করে সরকার। কিন্তু ঈদুল আজহা উপলক্ষে লকডাউন শিথিল করা হয়।
আর শিথিল লকডাউনের সুযোগে ঢাকা ছেড়ে গ্রামমুখী হয়েছে মানুষ। বাস, লঞ্চে, ফেরিতে গাদাগাদি করে গ্রামে ঈদ উৎসব করতে গিয়েছে সাধারণ মানুষ। আবার শিথিল লকডাউন শেষে কঠোর লকডাউনের আগে মানুষ যেভাবে ঢাকা ছেড়েছিল, ঠিক সেভাবেই ফিরেছে। কোভিড-১৯ বিষয়ক জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটির সদস্যরা সে সময়ে বলছেন, শিথিলতার এ নির্দেশনায় তাদের ‘সায়’ ছিল না। তারা বলছেন, সরকারের শিথিল বিধিনিষেধের এ ঘোষণা তাদের পরামর্শের উল্টো চিত্র।
এসময় এ ধরনের শিথিলতা বিধিনিষেধ তুলে নেওয়ারই শামিল। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছিল, স্বাস্থ্য অধিদফতর যেখানে বার বার ভিড় এড়িয়ে চলার কথা বলছে, সেখানে সংক্রমণের ‘পিক টাইমে’ এ ধরনের ঘোষণা আমাদের আরও খারাপ অবস্থায় নিয়ে যাবে।
সে আশঙ্কাকে সত্যি করে দেশে ঈদের পর থেকে দৈনিক রোগী শনাক্ত ও মৃত্যুর একের পর এক রেকর্ড দেখতে হচ্ছে দেশকে। কেবলমাত্র জুলাই মাসেই মারা গেছেন ছয় হাজার ১৮২ জন মানুষ আর শনাক্ত হয়েছেন তিন লাখ ৩৬ হাজার ২২৬ জন।
আর এতে করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার করা তালিকায় বিশ্বে এখন দিনে সবচেয়ে বেশি রোগী শনাক্ত ও মৃত্যু হচ্ছে যেসব দেশে, সেই তালিকায় অষ্টম অবস্থানে বাংলাদেশ।
দেশে ঈদুল আজহার পর গত ৩০ জুলাই থেকে ঢাকামুখী হয়েছে মানুষ। সেখানে বিধিনিষেধে ফেরিতে যাত্রী পারাপার নিষিদ্ধ হলেও যাত্রীরা তা মানছেন না বলে জানিয়েছেন বিআইডব্লিউটিসির আরিচা কার্যালয়ের উপ-মহাব্যবস্থাপক (বাণিজ্য) মো. জিল্লুর রহমান। তিনি বলেন, বিধিনিষেধের আওতাভুক্ত যানবাহন পারাপারে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌপথে মাত্র ছয়টি ফেরি চালু রাখা হয়েছে। জরুরি পরিষেবায় নিয়োজিত যানবাহন পারাপারের সময় যাত্রীরা ফেরিতে ওঠে পড়েন। চেষ্টা করেও তাদের ফেরি থেকে নামানো যাচ্ছে না।
এদিকে, আগামী ৫ আগস্ট পর্যন্ত লকডাউনের ঘোষণা থাকলেও দেশে ১ আগস্ট থেকে তৈরি পোশাক প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন শিল্প-কারখানা চালুর ঘোষণায় শনিবার (৩১ জুলাই) সকাল থেকে ঢাকা ও আশপাশের এলাকায় ফিরছে মানুষ। যেভাবে পারছে তারা ঢাকায় ফিরছে।
শিমুলিয়া ঘাটে আসা প্রতিটি লঞ্চে দেখা যায়, যাত্রীর গাদাগাদি। ধারণক্ষমতার দ্বিগুণ যাত্রী নিয়ে লঞ্চগুলো পদ্মা পাড়ি দিচ্ছে। সেখানেও উপেক্ষিত স্বাস্থ্যবিধি।
এদিকে, বাংলা ট্রিবিউনের নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি জানিয়েছেন, পোশাক কারখানা খুলে দেওয়ার প্রথম দিনে নারায়ণগঞ্জে শ্রমিকদের উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে। শ্রমিকরা দূর-দূরান্ত থেকে হেঁটে, অটো রিকশা, ইজিবাইক ও সিএনজিসহ বিভিন্ন যানবাহনে এসে রবিবার (১ আগস্ট) সকাল থেকে নিজ নিজ কর্মস্থল যোগ দেন।
কারখানার শ্রমিকরা বলছেন, তাদেরকে ঢাকায় ফিরে কাজে যোগ দিতে ফোন করে বলা হয়েছে। তাই কষ্ট করেও তারা ফিরছেন ঢাকায়।
অন্যদিকে, দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় (১ আগস্ট) করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন আরও ২৩১ জন। শনিবার (৩১ জুলাই) ছিল এ সংখ্যা ২১৮ জন। একদিনে মারা যাওয়া ২৩১ জনকে নিয়ে দেশে সরকারি হিসাবে এ পর্যন্ত মোট মারা গেছেন ২০ হাজার ৯১৬ জন।
একই সময়ে নতুন করে শনাক্ত হয়েছেন ১৪ হাজার ৮৪৪ জন। এর আগের দিন শনাক্ত হয়েছিলেন ৯ হাজার ৩৬৯ জন। নতুন করে শনাক্ত হওয়া ১৪ হাজার ৮৪৪ জনকে নিয়ে এ পর্যন্ত মোট শনাক্ত হয়েছেন ১২ লাখ ৬৪ হাজার ৩২৮ জন।

আর এ অবস্থাতে স্বাস্থ্য অধিদফতর জানাচ্ছে, রাজধানী ঢাকার করোনা ডেডিকেটেড অন্যতম বড় ৮ হাসপাতালেই আইসিইউ (নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র) ফাঁকা নেই। মোট ১৭টি সরকারি হাসপাতালে করোনা রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া হলেও তার মধ্যে তিনটি হাসপাতালে আইসিইউ নেই। বাকি হাসপাতালগুলোর মধ্যে মাত্র ১৬টি বেড ফাঁকা ছিল ১ আগস্ট (রবিবার)।

তবে সবচেয়ে ভয়ের কথা জানিয়ে অধিদফতর জানাচ্ছে, রাজধানী ঢাকার করোনা রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া চারটি বড় সরকারি হাসপাতালেই ধারণ ক্ষমতার অতিরিক্ত রোগী ভর্তি আছেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, তারা রোগী সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছেন।

অধিদফতর জানাচ্ছে, ১৭ হাসপাতালে করোনা রোগীদের জন্য সাধারণ বেড রয়েছে তিন হাজার ৯৩০টি। তার মধ্যে বেড ফাঁকা রয়েছে মাত্র ৯২৪টি। এর মধ্যে কুয়েত বাংলাদেশ মৈত্রী সরকারি হাসপাতালের নির্ধারিত সাধারণ বেড রয়েছে ১৬৯টি। তাতে অতিরিক্ত রোগী ভর্তি আছেন চারজন। কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে বেড রয়েছে ২৭৫টি, তাতে অতিরিক্ত রোগী ভর্তি আছেন ৭০ জন। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ৭০৫ বেডের বিপরীতে ভর্তি আছেন ৫৬ অতিরিক্ত রোগী আর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ২৬৩ বেডের বিপরীতে ভর্তি আছেন ৫৪ জন অতিরিক্ত রোগী।

রাজধানী ঢাকার এই চার হাসপাতাল ছাড়া দেশের ১৫টি হাসপাতালে নির্ধারিত বেডের চেয়ে অতিরিক্ত রোগী ভর্তি আছেন।

তবে সারাদেশে থেকে সাধারণত রোগীরা ছুটে আসছেন রাজধানীতে। তাতে করে ঢাকার হাসপাতালগুলোতে চাপ পড়েছে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক রোগী সংক্রমণের এই ঊর্ধ্বগতিতে জানিয়েছেন, তারা হাসপাতাল তৈরির জন্য নতুন ভবন খুঁজছেন, কিন্তু সেটাও পাচ্ছেন না।

আর স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক আবুল বাসার মোহাম্মদ খুরশিদ আলম হতাশা নিয়ে বলেন, হাসপাতালের বেডতো ‘রাবার’ নয় যে, টানতে টানতে বড় করা যাবে।  

হাসপাতালের বেডের সীমাবদ্ধতা রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘হাসপাতালের বিছানা তো রাবার নয় যে, টানতে টানতে বড় হবে। বিছানা একটাও ফেলার জায়গা নেই, কোথায় আমি আর জায়গা দেবো।’

তারপরে তো শুধু কোভিড রোগী নয়, নন কোভিড রোগীরাও আছেন। তাদের সেবাও ব্যাহত হচ্ছে জানিয়ে অধ্যাপক খুরশিদ আলম বলেন, ‘সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজের মতো এত বড় একটা হাসপাতালকে টোটালটাই কোভিড করে দিয়েছি, তাতে কি সামাল দেওয়া যাচ্ছে? আজ একটা বিছানাও খালি নেই। তাহলে রোগীর উৎপত্তিস্থল যদি বন্ধ করতে না পারি, তাহলে এটা করে হাসপাতালের শয্যা সংখ্যা বাড়িয়ে বা অন্যান্য সুবিধা বাড়িয়ে খুব কি লাভ হবে?’
নির্ধারিত বেডের চেয়ে অতিরিক্ত রোগী রয়েছে হাসপাতালে, ৮০০ এর বেশি রোগী জানিয়ে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নাজমুল হক বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ৮১৭ জন রোগী রয়েছে এখন।
হিমশিম খাচ্ছি, তারপরও প্রতিদিন ৫০ থেকে ৬০ জন রোগীকে ফেরত দিতে বাধ্য হচ্ছি- মন্তব্য করে তিনি বলেন, আমরা অনেক আগে থেকেই বলছি সক্ষমতারও একটা লিমিটেশন থাকে।
‘এখন আর ওটা বলার মতো অবস্থা নেই’- বলেন দেশের সবচেয়ে বড় হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নাজমুল হক।
একই কথা জানিয়ে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজের পরিচালক অধ্যাপক ডা. খলিলুর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বেড বাড়িয়েছি, ৪০০ করেছি। তাতে করে কিছুটা জায়গা দেওয়া যাচ্ছে। ৫৯ জনকে ছুটি দিয়েছি আর ৬৬ জনকে ভর্তি করেছি।’
তবে বেড খুব বেশিদিন ফাঁকা থাকবে না জানিয়ে তিনি বলেন, বেড ফাঁকা থাকবে না। যে হারে মানুষ ঢাকা ছাড়লো, আর ফিরলো; তাতে করে অবস্থা ভয়ংকর হবে। এক থেকে দুই সপ্তাহ পরে এর প্রভাব বোঝা যাবে। এখনি হিমশিম খেতে হচ্ছে, তখন কী হবে বলা যাচ্ছে না।
কুয়েত বাংলাদেশ মৈত্রী সরকারি হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. সেহাব উদ্দিন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘হিমশিম খাচ্ছি। হাসপাতালের ওপরে ভীষণভাবে চাপ পড়ছে। আমরা জায়গা দিতে পারছি না, রোগীও বেশি আসছে। কিন্তু তাদের তো প্রয়োজন। অনেকের অক্সিজেন প্রয়োজন হচ্ছে বেশি। রোগী সামলাতে আউটডোরে অবজারভেশন ওয়ার্ডে অক্সিজেন দেওয়ার মতো ঘটনাও ঘটছে’।
আবার অনেককে ফেরতও পাঠাতে হচ্ছে জানিয়ে শিহাব উদ্দিন বলেন, এরপরও এক্সট্রা বেড করে ওভার অ্যাডমিশন দিতে হচ্ছে। হাসপাতালের ফাঁকা জায়গাতে কিছু বেড ফেলে রোগীদের চিকিৎসা দিতে হচ্ছে। হিমশিম খেতে হচ্ছে আসলে আমাদের।

/এনএইচ/

সম্পর্কিত

ডিএনসিসি করোনা হাসপাতালের ৫০০ বেডে যুক্ত হচ্ছে সেন্ট্রাল অক্সিজেন

ডিএনসিসি করোনা হাসপাতালের ৫০০ বেডে যুক্ত হচ্ছে সেন্ট্রাল অক্সিজেন

রবিবার দেওয়া হয়েছে ৩ লাখ টিকা

রবিবার দেওয়া হয়েছে ৩ লাখ টিকা

করোনা: ৬ মাসেই গত বছরের দ্বিগুণ মৃত্যু

করোনা: ৬ মাসেই গত বছরের দ্বিগুণ মৃত্যু

৮ সরকারি হাসপাতালে ফাঁকা নেই আইসিইউ

৮ সরকারি হাসপাতালে ফাঁকা নেই আইসিইউ

হেলেনা জাহাঙ্গীরের মামলা তদন্ত করবে ডিবি

আপডেট : ০২ আগস্ট ২০২১, ০৮:৪৭

আওয়ামী লীগের মহিলা-বিষয়ক উপ-কমিটি থেকে অব্যাহতি পাওয়া হেলেনা জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে র‌্যাবের দায়ের করা মামলার তদন্তভার থানা পুলিশ থেকে ডিবিতে হস্তান্তর করা হয়েছে। রবিবার (১ আগস্ট) রাতে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার এ কে এম হাফিজ আক্তার বাংলা ট্রিবিউনকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, থানা পুলিশ থেকে মামলার তদন্তের দায়িত্ব ডিবিকে দেওয়া হয়েছে। তার বিরুদ্ধে মাদক ও ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্টে মামলা হয়েছে। বর্তমানে তিনি আদালতের নির্দেশে পুলিশ রিমান্ডে রয়েছে। তাকে ডিবি জিজ্ঞাসাবাদ করবে।

সম্প্রতি ‘আওয়ামী চাকরিজীবী লীগ’ নামে একটি সংগঠনের প্রচারণা করে আওয়ামী লীগ থেকে নিজের পদ খোয়ান হেলেনা জাহাঙ্গীর। গত ২৯ জুলাই রাতে দীর্ঘ ৪ ঘণ্টা অভিযানের পর গুলশানের নিজ বাসা থেকে আটক হন এই ব্যবসায়ী। পরদিন ৩০ জুলাই র‌্যাব বাদি হয়ে রাজধানীর গুলশান থানায় তার বিরুদ্ধে দুটি মামলা দায়ের করে। এরমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচারের অভিযোগে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে একটি মামলা করা হয়েছে। 

আর হেলেনা জাহাঙ্গীরের বাসা থেকে উদ্ধার করা মদ, ওয়াকিটকি, ক্যাসিনো সরঞ্জাম ও হরিণের চামড়ার বিষয়ে বন্যপ্রাণী আইন, টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ আইন, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ও বিশেষ ক্ষমতা আইনের ধারায় আরেকটি মামলা দায়ের করা হয়।

/এআরআর/ইউএস/

সম্পর্কিত

মতিঝিলের আবাসিক হোটেল থেকে তরুণীর লাশ উদ্ধার

মতিঝিলের আবাসিক হোটেল থেকে তরুণীর লাশ উদ্ধার

‘রাতের রানী পিয়াসা ও মৌয়ের কাজ ছিল ব্ল্যাকমেইল করা’

‘রাতের রানী পিয়াসা ও মৌয়ের কাজ ছিল ব্ল্যাকমেইল করা’

সেই পিয়াসা আটক 

সেই পিয়াসা আটক 

ডা. ঈশিতার আকাশচুম্বী সাফল্য, ডিগ্রি, পুরস্কার ও খ্যাতি সবই ভুয়া

ডা. ঈশিতার আকাশচুম্বী সাফল্য, ডিগ্রি, পুরস্কার ও খ্যাতি সবই ভুয়া

মতিঝিলের আবাসিক হোটেল থেকে তরুণীর লাশ উদ্ধার

আপডেট : ০২ আগস্ট ২০২১, ০৩:৫৩
image

রাজধানীর মতিঝিল এলাকার একটি আবাসিক হোটেল থেকে এক তরুণীর লাশ উদ্ধার করেছে থানা পুলিশ। নিহত ততুরণীর নাম সালমা (১৬)। তার গ্রামের বাড়ি ভোলা।

রবিবার (১ আগস্ট) রাতে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। মতিঝিল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মোঃ সৈয়দ আলী বাংলা ট্রিবিউনকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান,  মতিঝিলের  ৮ নং ফকিরাপুল ফাইভস্টার আবাসিক হোটেলের ছয়তলার  ৬০৪ নম্বর কক্ষ থেকে তরুণীর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।

তাকে অচেতন অবস্থায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরী বিভাগে নিয়ে গেলে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক রাত সোয়া দশটায় তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

/এআরআর/জেজে/

সম্পর্কিত

হেলেনা জাহাঙ্গীরের মামলা তদন্ত করবে ডিবি

হেলেনা জাহাঙ্গীরের মামলা তদন্ত করবে ডিবি

‘রাতের রানী পিয়াসা ও মৌয়ের কাজ ছিল ব্ল্যাকমেইল করা’

‘রাতের রানী পিয়াসা ও মৌয়ের কাজ ছিল ব্ল্যাকমেইল করা’

সেই পিয়াসা আটক 

সেই পিয়াসা আটক 

ডা. ঈশিতার আকাশচুম্বী সাফল্য, ডিগ্রি, পুরস্কার ও খ্যাতি সবই ভুয়া

ডা. ঈশিতার আকাশচুম্বী সাফল্য, ডিগ্রি, পুরস্কার ও খ্যাতি সবই ভুয়া

‘রাতের রানী পিয়াসা ও মৌয়ের কাজ ছিল ব্ল্যাকমেইল করা’

আপডেট : ০২ আগস্ট ২০২১, ০২:২৯

‘পিয়াসা ও মৌ একটি সংঘবদ্ধ চক্রের সদস্য। ওরা রাতের রানী বলেই সুপরিচিত। সারাদিন ঘুমিয়ে কাটাতেন। রাতে বিভিন্ন পার্টিতে গিয়ে উচ্চবিত্ত পরিবারের সন্তানদের টার্গেট করে বাসায় ডেকে আনতেন। এরপর বাসায় গোপনে তাদের আপত্তিকর ছবি তুলতেন। সেই ছবি বাবা-মা বা পরিবারের সদস্যদের দেখানোর ভয় দেখিয়ে ব্ল্যাকমেইল করতেন।'

রবিবার (১ আগস্ট) রাতে বারিধারা ও মোহাম্মদপুরের পৃথক দুটি বাসায় অভিযান চালিয়ে আলোচিত ফারিয়া মাহবুব পিয়াসা ও মরিয়ম আক্তার মৌকে আটকের পর এসব তথ্য জানান ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার হারুন অর রশিদ।

তিনি বলেন, আমরা পিয়াসা ও মৌয়ের বিরুদ্ধে ব্ল্যাকমেইল করার অনেকগুলো অভিযোগ তদন্ত করছিলাম। সেই তদন্তের অংশ হিসেবে ফারিয়া ও মৌয়ের বাসায় অভিযান চালানো হয়। তাদের বাসা থেকে বিদেশি মদ ও ইয়াবা পাওয়া গেছে। তাদের ব্ল্যাকমেইলিং করার বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। এছাড়া যেহেতু মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়েছে, এজন্য গুলশান ও মোহাম্মদপুর থানায় পৃথক দুটি মামলা দায়ের করা হবে।

গোয়েন্দা কর্মকর্তারা জানান, রবিবার রাতে প্রথমে বারিধারার পিয়াসার বাসায় অভিযান চালানো হয়। তার বাসা থেকে মাদকদ্রব্যসহ পিয়াসাকে আটকের পর অভিযান চালানো হয় মোহাম্মদপুরের বাবর রোডের একটি বাসায়। সেখান থেকে অন্তত এক ডজন বিদেশি মদ, পাঁচ প্যাকেট ইয়াবাসহ মৌকে আটক করা হয়।

সরেজমিন মৌয়ের বাসায় গিয়ে দেখা যায়, গনমাধ্যমকর্মীদের উপস্থিতিতে ওই বাসায় অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছিল। মিরপুর রোড সংলগ্ন ২২/৯ বাবর রোডের ওই বাসার নিচতলায় থাকতেন মৌ। বাসার ভেতরে ড্রয়িং রুমের পাশেই একটি মিনি বার দেখা গেছে। বাসার ভেতরের বেডরুমের একটি ড্রয়ার থেকে পাঁচ প্যাকেট ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করেন গোয়েন্দা কর্মকর্তারা। এছাড়া ওই বেডরুমের ভেতরে আরেকটি ড্রেসিং রুম থেকে অন্তত এক ডজন বিদেশি মদ উদ্ধার করা হয়।

গোয়েন্দা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার হারুন অর রশিদ বলেন, গ্রেফতারকৃত মৌ ও পিয়াসা তাদের বাসায় মদের আসর বসাতো মূলত উচ্চবিত্ত পরিবারের সন্তানদের ব্ল্যাকমেইল করার জন্য। এই বিষয়ে তদন্তে সত্যতা পেলে ব্ল্যাকমেইলিংয়ের অভিযোগেও পৃথক মামলা দায়ের করা হয়।

‘আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে’

বাবর রোডের বাসা থেকে আটকের পর মডেল মৌ সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করেন, ষড়যন্ত্র করে তাকে ফাঁসানো হচ্ছে। ভাসাবির জামানের বউ তাকে বাসায় পুলিশ পাঠিয়ে শায়েস্তা করার হুমকি দিয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি। মৌ সাংবাদিকদের কাছে দাবি করেন, ‌'ভাসাবির জামানের বউ আমার পরিচিত। তাদের বিভিন্ন প্রোগ্রামে গিয়ে পিয়াসার সঙ্গেও আমার পরিচয় হয়। ভাসাবির জামানের বউ তানজি'র সঙ্গে ওদের কার যেন ঝামেলা হয়েছে, সেজন্য আমাকে ফাঁসানো হচ্ছে। আমার বাসায় এসব মদ আর ইয়াবা আগে থেকে ছিল না।

 

/এনএল/এফএএন/

সম্পর্কিত

হেলেনা জাহাঙ্গীরের মামলা তদন্ত করবে ডিবি

হেলেনা জাহাঙ্গীরের মামলা তদন্ত করবে ডিবি

মতিঝিলের আবাসিক হোটেল থেকে তরুণীর লাশ উদ্ধার

মতিঝিলের আবাসিক হোটেল থেকে তরুণীর লাশ উদ্ধার

সেই পিয়াসা আটক 

সেই পিয়াসা আটক 

করোনা থেকে মুক্তি: আনন্দে কাঁদলেন তিনি

করোনা থেকে মুক্তি: আনন্দে কাঁদলেন তিনি

সর্বশেষ

রাজশাহী মেডিক্যালে আরও ১৫ মৃত্যু

রাজশাহী মেডিক্যালে আরও ১৫ মৃত্যু

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনা কমিটির প্রয়োজন কী?

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনা কমিটির প্রয়োজন কী?

ময়মনসিংহ হাসপাতালে ভর্তি ৪ ডেঙ্গু রোগী

ময়মনসিংহ হাসপাতালে ভর্তি ৪ ডেঙ্গু রোগী

শের-ই বাংলা মেডিক্যালে একদিনে ২৩ মৃত্যু

শের-ই বাংলা মেডিক্যালে একদিনে ২৩ মৃত্যু

যানবাহনে অতিরিক্ত ভাড়া, পোশাকশ্রমিকদের মহাসড়ক অবরোধ

যানবাহনে অতিরিক্ত ভাড়া, পোশাকশ্রমিকদের মহাসড়ক অবরোধ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ব্যবসায়ীকে ছুরিকাঘাত করে ৬ লাখ টাকা ছিনতাই

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ব্যবসায়ীকে ছুরিকাঘাত করে ৬ লাখ টাকা ছিনতাই

চট্টগ্রামে করোনায় আরও ১১ জনের মৃত্যু

চট্টগ্রামে করোনায় আরও ১১ জনের মৃত্যু

রোগী সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে রাজধানীর যে ৪ হাসপাতাল

রোগী সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে রাজধানীর যে ৪ হাসপাতাল

স্পারসোতে চাকরির সুযোগ

স্পারসোতে চাকরির সুযোগ

হেলেনা জাহাঙ্গীরের মামলা তদন্ত করবে ডিবি

হেলেনা জাহাঙ্গীরের মামলা তদন্ত করবে ডিবি

শের-ই-বাংলা মেডিক্যালে ২ ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন

শের-ই-বাংলা মেডিক্যালে ২ ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন

বিদেশে নিজের অবস্থান জানান দিলেন বঙ্গবন্ধু

বিদেশে নিজের অবস্থান জানান দিলেন বঙ্গবন্ধু

সর্বশেষসর্বাধিক

লাইভ

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

এসকে সুর ও তার স্ত্রীর ব্যাংক হিসাব স্থগিত

এসকে সুর ও তার স্ত্রীর ব্যাংক হিসাব স্থগিত

কিশোরীকে ঢাকা থেকে ধামরাই নিয়ে দলবেঁধে ধর্ষণ করেছিল ওরা

কিশোরীকে ঢাকা থেকে ধামরাই নিয়ে দলবেঁধে ধর্ষণ করেছিল ওরা

কিশোরীকে বিয়ে করা সেই চেয়ারম্যানের স্থায়ী বরখাস্ত চেয়ে আইনি নোটিশ

কিশোরীকে বিয়ে করা সেই চেয়ারম্যানের স্থায়ী বরখাস্ত চেয়ে আইনি নোটিশ

ভিডিও ফাঁসের পর স্কুলছাত্রীর আত্মহত‌্যার মামলায় প্রতিবেদন ১৬ আগস্ট

ভিডিও ফাঁসের পর স্কুলছাত্রীর আত্মহত‌্যার মামলায় প্রতিবেদন ১৬ আগস্ট

গৃহকর্মী নির্যাতনের ঘটনায় গৃহকর্তা আসাদুর রহমান কারাগারে

গৃহকর্মী নির্যাতনের ঘটনায় গৃহকর্তা আসাদুর রহমান কারাগারে

গ্রামীণফোনের বিরুদ্ধে মামলা

গ্রামীণফোনের বিরুদ্ধে মামলা

অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়, কিশোর গ্যাংয়ের চার সদস্য গ্রেফতার

অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়, কিশোর গ্যাংয়ের চার সদস্য গ্রেফতার

নজরদারির দুর্বলতায় ছাপাখানায় জাল রেভিনিউ স্টাম্প তৈরি

নজরদারির দুর্বলতায় ছাপাখানায় জাল রেভিনিউ স্টাম্প তৈরি

মেডিক্যাল পরীক্ষায় চার ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী শিক্ষার্থীকে ভর্তির নির্দেশ

মেডিক্যাল পরীক্ষায় চার ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী শিক্ষার্থীকে ভর্তির নির্দেশ

তিন চিকিৎসকের বিরুদ্ধে অবহেলাজনিত মৃত্যুর মামলা, তদন্তের নির্দেশ

তিন চিকিৎসকের বিরুদ্ধে অবহেলাজনিত মৃত্যুর মামলা, তদন্তের নির্দেশ

© 2021 Bangla Tribune