X
বৃহস্পতিবার, ২৯ জুলাই ২০২১, ১৩ শ্রাবণ ১৪২৮

সেকশনস

রংপুরে চামড়া নিয়ে সিন্ডিকেট

আপডেট : ২২ জুলাই ২০২১, ১৮:৪৪

রংপুরে কোরবানি পশুর চামড়া নিয়ে অরাজকতা তৈরি হয়েছে। চামড়ার ন্যায্য দাম পাচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা। সরকার নির্ধারিত দামে আড়তদাররা চামড়া কিনছে না বলে অভিযোগ মৌসুমি ব্যবসায়ীদের। সিন্ডিকেট চক্রের কারণে হাজার হাজার চামড়া ফেলে দিয়েছেন অনেকে। অনেকে আবার মাদ্রাসায় দান করে দিয়েছেন। 

মৌসুমি চামড়া ব্যবসায়ীরা বেশি দামে কিনে নগরীর প্রধান আড়ৎ শাপলা চত্বর এলাকায় নিয়ে মধ্য রাত থেকে অপেক্ষা করলেও, সেগুলো কেনেননি আড়তদাররা।

রংপুর মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কর্মাসের সভাপতি রেজাউল ইসলাম মিলন বলেন, কোরবানির পশুর চামড়া বিক্রি নিয়ে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তার জন্য সিন্ডিকেট চক্র দায়ী। তারা বাণিজ্যমন্ত্রীর বেঁধে দেওয়া মূল্য উপেক্ষা করে তার ইচ্ছামতো দামে চামড়া কিনে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করেছেন।

কেনা দামও বলছেন না আড়তদাররা

বৃহস্পতিবার (২২ জুলাই) সরেজমিন রংপুরের প্রধান চামড়ার আড়ৎ শাপলা চত্বরসহ আশপাশের এলাকা ঘুরে দেখা যায়, শত শত গরুর চামড়া নিয়ে মৌসুমি চামড়া ব্যবসায়ীরা আড়তগুলোর সামনে বুধবার মধ্যরাত থেকে বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত অপেক্ষা করেন। কিন্তু আড়তদাররা চামড়া কেনার কোনও আগ্রহ দেখাননি। আর কিনতে চাইলেও ফুট হিসেবে নয়, গড়ে ৩০০ টাকার বেশি দরে চামড়া কিনতে রাজি হননি তারা। 

রংপুরের গঙ্গাচড়া থেকে দেড়শ চামড়া নিয়ে আসা ব্যবসায়ী মানিক মিয়া জানান, ঢাকার মধ্যে ৫০ টাকা ফুট দরে এবং ঢাকার বাইরে ৩৫ টাকা ফুট দরে চামড়ার মূল্য নির্ধারণ করে দিয়েছে সরকার। সেই হিসাবে মাঝারি গরুর চামড়া ৮০০ থেকে হাজার টাকা, বড় গরুর চামড়া দেড় থেকে দুই হাজার টাকা দাম হওয়ার কথা। গড়ে চার থেকে ৫০০ টাকা দরে চামড়া কিনেছেন তিনি। গাড়ি ভাড়াসহ অন্যান্য খরচ মোট সাড়ে পাঁচশ টাকা। কিন্তু আড়তদাররা ৩০০ টাকার বেশি দামে চামড়া কিনতে রাজি হচ্ছে না। ফলে তাকে বিপুল পরিমাণ অর্থ লোকসান দিতে হবে। 

একই কথা জানান মিঠাপুকুরের মৌসুমি চামড়া ব্যবসায়ী আলেফ মিয়া। তিনি বলেন, গড়ে ৫০০ টাকা দরে পশুর চামড়া নিয়ে আড়তে এসেছেন। কিন্তু আড়তদাররা চামড়া নিচ্ছেন না।

রংপুর নগরীর মুন্সিপাড়ার চামড়া ব্যবসায়ী সাফিন ও সিও বাজারের সহানুল জানান, তারা ৩০০ টাকা দামে চামড়া কিনে এনেছেন। কিন্তু তাদেরকে কেনা দামও বলছেন না আড়তদাররা।

সিন্ডিকেটের কারণে ক্ষুব্ধ রংপুরের চামড়া ব্যবসায়ীরা

এদিকে নগরীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, কোরবানি পশুর চামড়া কেনার কোনও ব্যবসায়ী না আসায় অনেকে ফেলে দিয়েছেন। অনেকে আবার স্থানীয় মাদ্রাসাগুলোতে বিনে পয়সায় দিয়ে এসেছে।

এ ব্যাপারে চামড়া আড়তদার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি লতিফ খান ঢাকার সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীদের দায়ী করে বলেন, তারা দাম নির্ধারণ করে না দেওয়ায় সরকার নির্ধারিত দরে চামড়া কিনতে পারছেন না।

আড়তদার শরিফুল ইসলাম জানান, সরকার চামড়ার মূল্য নির্ধারণ করে দিলেও অর্থের অভাবে কিনতে পারছেন না। প্রতি বছরের মতো পুরনো অজুহাত ‘পাওনা টাকা পাওয়া যায়নি’ বলে জানান। 

/এসএইচ/

সম্পর্কিত

ক্যাম্প থেকে পালিয়ে কুড়িগ্রামে আটক ৯ রোহিঙ্গা

ক্যাম্প থেকে পালিয়ে কুড়িগ্রামে আটক ৯ রোহিঙ্গা

সংঘবদ্ধ ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যার কথা স্বীকার

সংঘবদ্ধ ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যার কথা স্বীকার

‘অপহরণের’ ৯ মাস পর স্কুলছাত্রী উদ্ধার, যুবক গ্রেফতার

‘অপহরণের’ ৯ মাস পর স্কুলছাত্রী উদ্ধার, যুবক গ্রেফতার

রংপুর মেডিক্যালে অক্সিজেন কিনে বাঁচার চেষ্টা রোগীদের

রংপুর মেডিক্যালে অক্সিজেন কিনে বাঁচার চেষ্টা রোগীদের

ক্যাম্প থেকে পালিয়ে কুড়িগ্রামে আটক ৯ রোহিঙ্গা

আপডেট : ২৯ জুলাই ২০২১, ০১:৪০

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলায় পাঁচ শিশুসহ নয় রোহিঙ্গা নাগ‌রিক‌কে আটক ক‌রে‌ছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। বুধবার (২৮ জুলাই) সন্ধ্যায় ভারতীয় সীমান্ত এলাকা থে‌কে ফেরার প‌থে তাদের আটক ক‌রে পু‌লি‌শে দেওয়া হয়। 

আটককৃতরা কক্সবাজারের বালুখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্প-১৮ ও টেংরাখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্প-১৩-এর বাসিন্দা। ভূরুঙ্গামারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ও‌সি) আলমগীর হো‌সেন এ তথ্য নি‌শ্চিত ক‌রে‌ছেন। 

তিনি বলেন, তারা রোহিঙ্গা ক্যাম্প থে‌কে পা‌লি‌য়ে ভূরুঙ্গামারী উপ‌জেলার সীমান্ত প‌থে ভার‌তে যাওয়ার চেষ্টা ক‌রেছিল। কিন্তু বি‌জি‌বির কড়া নজরদা‌রি‌তে সীমান্ত অ‌তিক্রম কর‌তে ব্যর্থ হ‌য় তারা। ফি‌রে আসার সময় উপ‌জেলার তিলাই ইউ‌নিয়‌নের ছাট গোপালপুর এলাকার কাছুর মো‌ড়ে লকডাউন বাস্তবায়‌নে মা‌ঠে থাকা ভ্রাম্যমাণ আদালত তা‌দের আটক ক‌রে। 

পু‌লিশ জানায়, ভূরুঙ্গামারী উপ‌জেলা সহকারী ক‌মিশনারের (ভূ‌মি) নেতৃত্বে পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালত একটি অটোরিকশায় কিছু লোককে গাদাগাদি করে যে‌তে দে‌খেন। এ সময় অ‌টো‌রিকশা থা‌মি‌য়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে কথাবার্তায় সন্দেহ হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানায়, সলিম নামের এক ব্যক্তির সহায়তায় ভারত যাওয়ার জন্য সীমান্ত পা‌ড়ি দি‌তে রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে পালিয়েছে।

ও‌সি আলমগীর হো‌সেন বলেন, আটক রোহিঙ্গাদের পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে। তা‌দের‌  সং‌শ্লিষ্ট রো‌হিঙ্গা ক্যাম্পে ফেরত পাঠা‌নোর ব্যবস্থা নেওয়া হ‌চ্ছে।

/এএম/

সম্পর্কিত

সংঘবদ্ধ ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যার কথা স্বীকার

সংঘবদ্ধ ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যার কথা স্বীকার

‘অপহরণের’ ৯ মাস পর স্কুলছাত্রী উদ্ধার, যুবক গ্রেফতার

‘অপহরণের’ ৯ মাস পর স্কুলছাত্রী উদ্ধার, যুবক গ্রেফতার

রংপুর মেডিক্যালে অক্সিজেন কিনে বাঁচার চেষ্টা রোগীদের

রংপুর মেডিক্যালে অক্সিজেন কিনে বাঁচার চেষ্টা রোগীদের

বিলের মাঝখানে উপহারের ঘর, ডুবলো পানিতে

আপডেট : ২৯ জুলাই ২০২১, ০১:১৬

কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলায় ভূমিহীন ও গৃহহীনদের জন্য নির্মিত প্রধানমন্ত্রীর উপহারের অর্ধশতাধিক ঘর পানিতে ডুবে গেছে। সীমান্তের বেড়িবাঁধের স্লুইস গেট বন্ধ থাকায় এবং ঘরগুলো বিলের মাঝখানে নিচু জায়গায় হওয়ায় বৃষ্টির পানিতে তলিয়েছে। ঘরগুলোর চারপাশে পানি থৈ থৈ করছে। ঘরে পানি ঢুকে পড়ায় অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছে বসবাসরত পরিবারগুলো।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে জানা গেছে, মুজিববর্ষে ভূমিহীন-গৃহহীনদের জন্য এ উপজেলায় মোট ২২৯টি ঘর বরাদ্দ এসেছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রতিটি ঘর নির্মাণে ব্যয় এক লাখ ৭১ হাজার টাকা। প্রথম পর্যায়ে ৫০টি পরিবারকে ঘর বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। বাকি ঘরগুলোর কাজ সম্পন্ন হলে উপকারভোগীদের বুঝিয়ে দেওয়ার কথা রয়েছে।

বুধবার (২৮ জুলাই) দুপুরে সরেজমিনে দেখা গেছে, টেকনাফের হ্নীলা ইউনিয়নের মৌলভীবাজার থেকে পূর্ব দিকে দেড় কিলোমিটার ভেতরে সীমান্ত সড়কের কাছাকাছি সরকারি উদ্যোগে নির্মিত ২৮টি ঘর পানিতে ডুবে রয়েছে। ঘরগুলোর চারপাশে পানি থৈ থৈ করছে। নৌকা ছাড়া বের হওয়ার উপায় নেই। সেখানে চার-পাঁচটা পরিবার ব্যতীত বাকিরা অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছেন। একইভাবে ডুবে রয়েছে ওয়াব্রাংয়ের ২৮টি উপহারের ঘরও।

হ্নীলার মৌলভীবাজারের উপহারের ঘরে পানিবন্দি সমিরা বেগমের সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, ‘দুই দিন ধরে পানিবন্দি রয়েছি। নৌকায় করে খাবার এনে খেতে হচ্ছে। কেউ সহায়তা দিতে আসেনি। এখানে ২৮টি পরিবারের মধ্য আমরা চার পরিবার ছাড়া বাকিরা অন্যত্র চলে গেছেন। আমাদের কোনও স্বজন নেই, তাই পানিবন্দি থাকার পরও কোথাও যাওয়ার জায়গা পাচ্ছি না।’

তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘মূলত এই এলাকায় কিছু সুবিধাভোগী লোক বেড়িবাঁধের স্লুইস গেট বন্ধ রাখার কারণে আমরা সবাই পানিবন্দি হয়ে পড়েছি। তাছাড়া সরকার আমাদের যেখানে ঘর দিয়েছে, সেটি ছিল অনেক নিচু এলাকা।’

পরিবারের সদস্যদের অন্যত্র পাঠিয়ে দিয়ে ঘর পাহারা দিচ্ছিলেন সৈয়দ আলম ওরফে লালু। তার অভিযোগ, ‘স্থানীয় একটি চক্র সীমান্তের বেড়িবাঁধের স্লুইস গেইট বন্ধ রাখায় পানিবন্দি হয়েছি! এ ঘরটি আমার একমাত্র সম্বল, তাই পরিবারের নারী সদস্যদের অন্যত্র পাঠিয়ে এখানে অবস্থান করছি। তাছাড়া অনেকে অন্যত্র চলে গেছেন। পানি নেমে গেলে হয়তো আবার ফিরবেন। আজকে দুই দিন ধরে ঘরে চুলা জ্বালাতে পারিনি। এখানে সুপেয় পানি ও কোনও খাবারের ব্যবস্থা নেই। কষ্টের দিন কাটাচ্ছি আমরা।’

ঘর বরাদ্দ পাওয়া মোহাম্মদ আক্কাস অভিযোগ করে বলেন, ‘জমি নির্ধারণকালে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অনেকবার নিষেধ করেছি, এটি নিচু জায়গা, এখানে ঘর করার জন্য উপযোগী নয়। দীর্ঘদিন ধরে আমার এই এলাকায় বসতি। ফলে ধারণা ছিল, এখানে ঘর নির্মাণ করলে বৃষ্টিতে তলিয়ে যাবে এবং তাই হয়েছে।’

পানি ঢোকায় দুই দিন ধরে চুলাও জ্বালাতে পারেননি বসবাসকারীরা

স্থানীয়দের অভিযোগ, হ্নীলা ইউনিয়নের আবুল কালাম, মো. সাবের, সৈয়দুল আমিন ও হোসেন বলিসহ লবণ চাষিদের একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে সীমান্ত সড়কের বেড়িবাঁধের স্লুইস গেট বন্ধ রেখেছে। ফলে দুই দিনের টানা বৃষ্টিতে এলাকাটি পানিতে তলিয়ে গেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা আমিন হোসেন বলেন, ‘কয়েকজন অসাধু লবণ চাষির জন্য তাদের পুরো এলাকা পানির নিচে তলিয়ে গেছে। পাঁচ শতাধিক মানুষ এখন পানিবন্দি দিন কাটাচ্ছেন। সেখানে খাবার পানিসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের সংকট দেখা দিয়েছে।’
 
হ্নীলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রাশেদ মাহমুদ আলী বলেন, ‘বেড়িবাঁধের স্লুইস গেটের অভাবে এলাকা পানির নিচে তলিয়ে গেছে। সেখানে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া উপহারের ঘরও রয়েছে। তবে বৃষ্টি থেমে যাওয়ার পানি কারণে কমছে।’

প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘরগুলো ইতোমধ্যে পরিদর্শন করেছেন উল্লেখ করে টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পারভেজ চৌধুরী বলেন, ‘সীমান্ত সড়কে বেড়িবাঁধের স্লুইস গেটের যে সমস্যা সেটি সমাধানের কাজ চলছে। আর কারা গেট বন্ধ রাখছে সেটি খতিয়ে দেখা হবে।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মামুনুর রশিদ বলেন, ‘সীমান্ত সড়কের বেড়িবাঁধের স্লুইস গেটের বিষয়টি নিয়ে আমরা কাজ করছি। যাতে পানি না জমে সে ব্যবস্থা করা হচ্ছে। আর সেখানে প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘরগুলোর খোঁজ রাখছি। তাছাড়া টেকনাফে যে পরিমাণ বৃষ্টিপাত হয়েছে, ২০ বছরের রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। সেখানে ৩২৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এই মুহূর্তে যেসব পরিবারে প্রাণহানি ঘটনা ঘটেছে তাদের প্রত্যেককে ২৫ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দিচ্ছি এবং পানিতে ডুবে যাওয়া সব জায়গায় খোঁজখবর নিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।’

/এফআর/

সম্পর্কিত

৪ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ: ওসি প্রদীপের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র

৪ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ: ওসি প্রদীপের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র

‘গরু বিক্রির ১২ লাখ টাকার জন্য মালিক-কর্মচারীকে হত্যা’

‘গরু বিক্রির ১২ লাখ টাকার জন্য মালিক-কর্মচারীকে হত্যা’

কক্সবাজারে পানিবন্দি ২ লাখ, আরও ১২ জনের মৃত্যু

কক্সবাজারে পানিবন্দি ২ লাখ, আরও ১২ জনের মৃত্যু

দেয়ালেও করোনাভাইরাস, সাতক্ষীরা মেডিক্যালের ল্যাব বন্ধ

আপডেট : ২৯ জুলাই ২০২১, ০০:৫২

করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ায় সাতক্ষীরা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের আরটি পিসিআর ল্যাব বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার থেকে তিন দিন ল্যাবটি বন্ধ থাকবে।

ল্যাবটি জীবাণুমুক্ত হলে করোনা পরীক্ষা শুরু হবে। বুধবার (২৮ জুলাই) বিষয়টি জানিয়েছেন স্বাস্থ্য দফতরের খুলনা বিভাগের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) ডা. মুরশিদ। 

তিনি বলেন, করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ায় ল্যাবটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ল্যাবের ফ্রিজে জমে থাকা নমুনাগুলো পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, সোমবার নমুনা পরীক্ষার সময় পিসিআর ল্যাবে ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় ল্যাবের সব নমুনার রিপোর্ট পজিটিভ আসে। ল্যাবে ভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে সন্দেহে ল্যাবের দেয়াল থেকে নমুনা নিয়ে পরীক্ষা করা হলে পজিটিভ আসে। পরে ল্যাবটি বন্ধ করে দেওয়া হয়।

সাতক্ষীরার সিভিল সার্জন ডা. হুসাইন সাফায়াত বলেন, ল্যাবটি ভাইরাসমুক্ত করার কাজ চলছে। আগামী শনিবার থেকে ল্যাবে নমুনা পরীক্ষার চেষ্টা করা হবে। ফল সন্তোষজনক হলে ল্যাব চালু রাখা হবে। সন্তোষজনক না হলে ল্যাবটি আরও দুই দিন বন্ধ রাখা হবে।

গত দুই মাস ধরে সাতক্ষীরা, যশোর, মাগুরা ও নড়াইলের করোনা পরীক্ষার একমাত্র ল্যাব হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে সাতক্ষীরা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পিসিআর ল্যাব। ল্যাবে প্রতিদিন ৯৪টি নমুনা পরীক্ষার ব্যবস্থা থাকলেও প্রতিদিন দ্বিগুণ নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে।

এদিকে, করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ায় ল্যাবের ফ্রিজে জমে থাকা পাঁচ শতাধিক নমুনা পরীক্ষা নিয়ে জটিলতা দেখা দিয়েছে। খুলনা মেডিক্যাল কলেজের (খুমেক) পিসিআর ল্যাব কর্তৃপক্ষ এসব নমুনা পরীক্ষা করতে অস্বীকার করায় ঢাকায় পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। ইতোমধ্যে সাতক্ষীরার ল্যাবে জমে থাকা নড়াইল ও মাগুরার বিপুল পরিমাণ নমুনা পরীক্ষা করে জট কমিয়ে আনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সিভিল সার্জন।

/এএম/

সম্পর্কিত

এক কোটি খুঁজতে গিয়ে মিললো ৩ কোটি!

এক কোটি খুঁজতে গিয়ে মিললো ৩ কোটি!

পানিতে থৈ থৈ করছে সাতক্ষীরার নিম্নাঞ্চল

পানিতে থৈ থৈ করছে সাতক্ষীরার নিম্নাঞ্চল

ভোলায় গত ২৪ ঘণ্টায় শনাক্তের হার ৭৫ শতাংশ

ভোলায় গত ২৪ ঘণ্টায় শনাক্তের হার ৭৫ শতাংশ

খালাস শেষে অক্সিজেন নিয়ে নারায়ণগঞ্জের পথে শেষ ট্যাংকলরিটি

আপডেট : ২৯ জুলাই ২০২১, ০০:২৫

সিরাজগঞ্জ বঙ্গবন্ধু সেতু পশ্চিম রেলওয়ে স্টেশনে ভারত থেকে দ্বিতীয় বারের মতো রেলপথে আসা ২০০ টন তরল অক্সিজেন খালাস শেষ হয়েছে। এরপর ভারতে ফিরে গেছে অক্সিজেনবাহী ইন্দো-বাংলা এক্সপ্রেস ট্রেনটি।

বুধবার (২৮ জুলাই) সকাল ১১টা থেকে শুরু হয় ট্রেন থেকে সড়ক পথে পরিবহনের জন্য ট্যাংকলরিতে অক্সিজেন লোড করা। রাত সাড়ে ৮টার দিকে খালাস কার্যক্রম সম্পন্ন করে পৌনে ৯টার দিকে সর্বশেষ ট্যাংকলরিটি ২০ টন অক্সিজেন নিয়ে যাওয়া হয় নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের সেন্ট্রাল অক্সিজেন প্ল্যান্টের উদ্দেশে।

এছাড়াও আগামী সপ্তাহের শুরুতেই রেলপথে দেশে আসার সম্ভাবনা রয়েছে আরও ২০০ টন তরল অক্সিজেন। যা এই বঙ্গবন্ধু সেতু পশ্চিম রেলওয়ে স্টেশনেই এসে পৌঁছাবে ও খালাস হয়ে সড়ক পথে নারায়ণগঞ্জে যাবে।

তরল অক্সিজেন লোড করা হয় ট্যাংকলরিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান লিন্দে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও প্রশাসন বিভাগের ব্যবস্থাপক সুফিয়া আক্তার ওহাব এবং গ্যাস শাখার সরবরাহ ব্যবস্থাপক মো. খাররুম বিন আব্দুল কাইয়ুম মণ্ডল।

সুফিয়া আক্তার ওহাব বলেন, ‘বুধবার সকাল থেকে রাত পৌনে ৯টা নাগাদ ১০টি ট্যাংকলরিতে করে মোট ২০০ টন তরল অক্সিজেন নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের সেন্ট্রাল অক্সিজেন প্ল্যান্টের উদ্দেশে ছেড়ে যায়।’

তিনি আরও বলেন, ‘যেহেতু এবার বাল্ব বক্স স্টেশনের উলটো দিকে করে আনা হয়েছিল তাই একসঙ্গে ছয়টি ট্যাংকলরিতে লোড করা সম্ভব হয়েছে। আগামীতে ভারত থেকে অক্সিজেন নিয়ে আসা ট্রেনগুলোও এখানেই খালাস হবে।’ প্রতি সপ্তাহে ২০০ টন করে অক্সিজেন নিয়ে দুই থেকে তিনটি ট্রেন বাংলাদেশে আসার কথা রয়েছে বলেও জানান এই কর্মকর্তা।

উল্লেখ্য, এর আগে ভারত থেকে আসা ২০০ টন তরল অক্সিজেন সিরাজগঞ্জ বঙ্গবন্ধু সেতু পশ্চিম রেলওয়ে স্টেশনে গত রবিবার সকাল পৌনে ১১টার দিকে পৌঁছায়। এরপর বুধবার সকালে আরেকটি অক্সিজেনবাহী ট্রেন আসার পর চলে খালাস কার্যক্রম। এ দিয়ে দুবারে ২০০ টন করে সর্বমোট ৪০০ টন অক্সিজেন রেলপথে দেশে আসলো। ইন্দো-বাংলা ট্রেনটি দুবারই ভারতের ঝাড়খণ্ড প্রদেশের জামশেদপুর টাটানগর থেকে দশটি কন্টেইনারে করে এই তরল অক্সিজেন নিয়ে সিরাজগঞ্জের বঙ্গবন্ধু সেতু পশ্চিম রেলওয়ে স্টেশনে অক্সিজেন খালাস করে।

/এমএএ/

সম্পর্কিত

রাজশাহীতে বিক্রি হয়নি ৭৩ হাজার কোরবানির পশু

রাজশাহীতে বিক্রি হয়নি ৭৩ হাজার কোরবানির পশু

কার্ভাডভ্যান চাপায় প্রাণ গেলো ব্যাংক কর্মকর্তার

কার্ভাডভ্যান চাপায় প্রাণ গেলো ব্যাংক কর্মকর্তার

জামায়াত-শিবিরের ২০ নেতাকর্মী গ্রেফতার

জামায়াত-শিবিরের ২০ নেতাকর্মী গ্রেফতার

সংঘবদ্ধ ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যার কথা স্বীকার

আপডেট : ২৯ জুলাই ২০২১, ০০:২১

রংপুরের বদরগঞ্জের গোপিনাথপুরে এক নারীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যার কথা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছে তৌহিদুর রহমান নামে এক যুবক।

মঙ্গলবার (২৭ জুলাই) বদরগঞ্জ আমলী আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয় তৌহিদুর। বুধবার (২৮ জুলাই) বিষয়টি নিশ্চিত করেন বদরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি-তদন্ত) আরিফ আলী।

পুলিশ জানায়, স্বামীর সঙ্গে বনিবনা না হওয়ায় দুই বছর আগে তালাক দিয়ে নানার বাড়িতে চলে আসেন ওই নারী। কিছুদিন পর শালবাড়ি এলাকার আব্দুল কুদ্দুসের ছেলে তৌহিদুর রহমানের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক হয় তার। গত ২৪ জুলাই রাতে ফোন করে ওই নারীকে বাড়ির বাইরে ডেকে নেয় তৌহিদুর। সেখানে শারীরিক সম্পর্কের প্রস্তাব দেয়। এতে রাজি না হওয়ায় সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণ করা হয়। পরে তৌহিদুর ও তার দুই সহযোগী শ্বাসরোধে ওই নারীকে হত্যা করে। ঘটনা ধামাচাপা দিতে গলায় দড়ি পেঁচিয়ে গাছের সঙ্গে লাশ ঝুলিয়ে রেখে চলে যায় তারা। এলাকাবাসী পুলিশকে খবর দিলে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়। 

এ ঘটনায় ওই নারীর ছোট ভাই তিন জনের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও হত্যা মামলা করেন। ঘটনার তদন্ত করে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তৌহিদুরকে সোমবার রাতে গ্রেফতার করে পুলিশ।

ওসি আরিফ আলী বলেন, তৌহিদুরকে গ্রেফতারের পর জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছে দুই সহযোগীসহ তিন জন ওই নারীকে ধর্ষণ করেছে। মঙ্গলবার তাকে বদরগঞ্জ আমলী আদালতে হাজির করা হলে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। জবানবন্দি গ্রহণ শেষে তাকে কারাগারে পাঠান বিচারক। তার দুই সহযোগীকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

/এএম/

সম্পর্কিত

ক্যাম্প থেকে পালিয়ে কুড়িগ্রামে আটক ৯ রোহিঙ্গা

ক্যাম্প থেকে পালিয়ে কুড়িগ্রামে আটক ৯ রোহিঙ্গা

বাড়ির উঠানে স্ত্রীর লাশ পুঁতে রাখলো স্বামী

বাড়ির উঠানে স্ত্রীর লাশ পুঁতে রাখলো স্বামী

সর্বশেষ

ক্যাম্প থেকে পালিয়ে কুড়িগ্রামে আটক ৯ রোহিঙ্গা

ক্যাম্প থেকে পালিয়ে কুড়িগ্রামে আটক ৯ রোহিঙ্গা

করোনায় আটকে আছে ত্রিদেশীয় বৈঠক

করোনায় আটকে আছে ত্রিদেশীয় বৈঠক

কিউকম ও রানার এর মধ্যে ব্যবসায়িক চুক্তি

কিউকম ও রানার এর মধ্যে ব্যবসায়িক চুক্তি

বলপূর্বক কাবুল দখল করলে তালেবান স্বীকৃতি পাবে না: যুক্তরাষ্ট্র

বলপূর্বক কাবুল দখল করলে তালেবান স্বীকৃতি পাবে না: যুক্তরাষ্ট্র

বিলের মাঝখানে উপহারের ঘর, ডুবলো পানিতে

বিলের মাঝখানে উপহারের ঘর, ডুবলো পানিতে

নতুন রূপে ‘বাংলাদেশ ফাইন্যান্সের’ পথ চলা

নতুন রূপে ‘বাংলাদেশ ফাইন্যান্সের’ পথ চলা

পাকিস্তান-ওয়েস্ট ইন্ডিজের ৯ ওভারের ম্যাচটিও শেষ হলো না

পাকিস্তান-ওয়েস্ট ইন্ডিজের ৯ ওভারের ম্যাচটিও শেষ হলো না

দেয়ালেও করোনাভাইরাস, সাতক্ষীরা মেডিক্যালের ল্যাব বন্ধ

দেয়ালেও করোনাভাইরাস, সাতক্ষীরা মেডিক্যালের ল্যাব বন্ধ

যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশ হাইকমিশনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় পরিবেশমন্ত্রীর

যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশ হাইকমিশনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় পরিবেশমন্ত্রীর

সেই লাকী আক্তারের কণ্ঠে কন্যা ও কান্নার গল্প (ভিডিও)

সেই লাকী আক্তারের কণ্ঠে কন্যা ও কান্নার গল্প (ভিডিও)

ভাসানচরে রোহিঙ্গাদের দেখভালে জাতিসংঘ-সরকার একমত

ভাসানচরে রোহিঙ্গাদের দেখভালে জাতিসংঘ-সরকার একমত

খালাস শেষে অক্সিজেন নিয়ে নারায়ণগঞ্জের পথে শেষ ট্যাংকলরিটি

খালাস শেষে অক্সিজেন নিয়ে নারায়ণগঞ্জের পথে শেষ ট্যাংকলরিটি

সর্বশেষসর্বাধিক

লাইভ

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

ক্যাম্প থেকে পালিয়ে কুড়িগ্রামে আটক ৯ রোহিঙ্গা

ক্যাম্প থেকে পালিয়ে কুড়িগ্রামে আটক ৯ রোহিঙ্গা

সংঘবদ্ধ ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যার কথা স্বীকার

সংঘবদ্ধ ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যার কথা স্বীকার

‘অপহরণের’ ৯ মাস পর স্কুলছাত্রী উদ্ধার, যুবক গ্রেফতার

‘অপহরণের’ ৯ মাস পর স্কুলছাত্রী উদ্ধার, যুবক গ্রেফতার

রংপুর মেডিক্যালে অক্সিজেন কিনে বাঁচার চেষ্টা রোগীদের

রংপুর মেডিক্যালে অক্সিজেন কিনে বাঁচার চেষ্টা রোগীদের

রংপুরে একদিনে ১৬ মৃত্যু

রংপুরে একদিনে ১৬ মৃত্যু

হিলি দিয়ে ভারতে ২২৯ কোটি টাকার পণ্য রফতানি

হিলি দিয়ে ভারতে ২২৯ কোটি টাকার পণ্য রফতানি

তিস্তা তী‌রের দুস্থরা পে‌লেন খাদ্য সহায়তা

তিস্তা তী‌রের দুস্থরা পে‌লেন খাদ্য সহায়তা

রংপুরে একদিনে ১২ মৃত্যু

রংপুরে একদিনে ১২ মৃত্যু

দিনাজপুরে আরও ৬ জনের মৃত্যু

দিনাজপুরে আরও ৬ জনের মৃত্যু

নীলফামারীতে প্যারাসিটামল জাতীয় ওষুধের সংকট

নীলফামারীতে প্যারাসিটামল জাতীয় ওষুধের সংকট

© 2021 Bangla Tribune