X
বৃহস্পতিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২১, ৮ আশ্বিন ১৪২৮

সেকশনস

মোংলা বন্দরে পণ্য ওঠা-নামা স্বাভাবিক

আপডেট : ২৩ জুলাই ২০২১, ১৩:৪৫

ভোর ৬ টাকা থেকে শুরু হওয়া কঠোর লকডাউনের মধ্যেও মোংলা সমুদ্রবন্দরে বিদেশি বাণিজ্যিক জাহাজের আসা-যাওয়া ও পণ্য খালাস স্বাভাবিক রয়েছে। শুক্রবার (২৩ জুলাই) সকাল থেকে বন্দরের পশুর চ্যানেল ও জেটিতে অবস্থানরত বিভিন্ন পণ্যবাহী জাহাজের মালামাল ওঠানামা ও পরিবহনের কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন বন্দর কর্তৃপক্ষের হারবার মাস্টার কমান্ডার শেখ ফখরউদ্দীন। 

তিনি বলেন, শুক্রবার বন্দরে বিভিন্ন পণ্য নিয়ে ১২ জাহাজ অবস্থান করছে। সেগুলোর প্রত্যেকটিতে কাজ চলছে। করোনা মহামারির মধ্যেও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এ কার্যক্রম পরিচালনায় সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন বন্দরের হারবার বিভাগ।
 
তবে নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে খোলা রাখা হয়েছে বন্দরের শিল্প এলাকার কিছু কিছু কলকারখানা। ভোর ও সকালে মামার ঘাট দিয়ে খেয়া পার হয়ে সে সব কারখানায় যেতে দেখা গেছে শ্রমিক-কর্মচারীদের। 

মোংলা-খুলনা মহাসড়কে বাস চলাচল করতে দেখা না গেলেও চলছে অটো, মাহেন্দ্র, টমটম ও ভ্যানগাড়ি। নদী পারাপারও স্বাভাবিক রয়েছে।
 
এদিকে ভোরে পৌর শহর ফাঁকা দেখা গেলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নির্দেশনা না মেনে কিছু কিছু দোকান খুলতে দেখা গেছে। শহরে লোকজন ও যান চলাচল করছে অন্যান্য দিনের মতো। তবে এতসবের মধ্যেও মাস্ক নেই অধিকাংশের মুখে। 

কঠোর লকডাউন প্রতিপালনে সকালে শহরে টহল শুরু করেছে নৌবাহিনী, রয়েছে কোস্টগার্ড ও পুলিশ।
 
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কমলেশ মজুমদার বলেন, যে বা যারা লকডাউনের বিধিনিষেধ অমান্য করবেন, তাদের বিরুদ্ধে মোবাইলকোর্টের মাধ্যমে আইনগত কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

/টিটি/

সম্পর্কিত

বিয়ে বার্ষিকীতে স্ত্রীকে চাঁদের জমি উপহার

বিয়ে বার্ষিকীতে স্ত্রীকে চাঁদের জমি উপহার

পুলিশ পরিচয়ে চাঁদাবাজির অভিযোগ, গণপিটুনিতে নিহত

পুলিশ পরিচয়ে চাঁদাবাজির অভিযোগ, গণপিটুনিতে নিহত

ভারতে গেলো আরও ২০৯ টন ইলিশ

ভারতে গেলো আরও ২০৯ টন ইলিশ

পরাজিত ইউপি সদস্য প্রার্থীর দুই পা ভেঙে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা

পরাজিত ইউপি সদস্য প্রার্থীর দুই পা ভেঙে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা

‘অক্টোবরে রংপুরে থানা-ওয়ার্ড কমিটি গঠনে আ.লীগের বর্ধিত সভা’

আপডেট : ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২৩:০০

অক্টোবরে রংপুর মহানগর আওয়ামী লীগের থানা এবং ওয়ার্ড কমিটি গঠনের জন্য বর্ধিত সভা করা হবে বলে জানিয়েছেন মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তুষার কান্তি মণ্ডল। তিনি বলেন, ‘ওই সভাতেই কমিটি গঠনের তারিখ ঘোষণা হবে।’

একই কথা জানিয়েছেন মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি শাফিয়ার রহমান। তিনি বলেন, ‘এ মাসেই (নভেম্বর) বর্ধিত সভা করার কথা ছিল। পরে সেটা সামনের মাসের প্রথম দিকে করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’

জানা গেছে, দীর্ঘ আড়াই বছরেও রংপুর মহানগর আওয়ামী লীগের থানা কমিটি গঠিত হয়নি। এদিকে, ৩৩টি ওয়ার্ডের কমিটির মেয়াদ অনেক আগেই শেষ হলেও এখনও সম্মেলন বা কাউন্সিল হয়নি। দেড় বছর পর রংপুর সিটি করপোরেশনের নির্বাচন। অথচ মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক কার্যক্রম না থাকায় নির্বাচনের প্রস্তুতি নেই বলে অভিযোগ তৃণমূল নেতাকর্মীদের। ফলে নেতা কর্মীদের মাঝে দেখা দিয়েছে হতাশা। এ কারণেই কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।  

মহানগর আওয়ামী লীগ সূত্রে জানা গেছে, এর আগে থানা কমিটি গঠনের জন্য মহানগর আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতাকে দায়িত্ব দেওয়া হলেও সেই কার্যক্রম এখন পুরোপুরি বন্ধ। কমিটি না থাকায় দলের কোনও কর্মকাণ্ড নেই। ফলে দলীয় কার্যক্রমে সৃষ্টি হয়েছে চরম স্থবিরতা।

এ ব্যাপারে রংপুর মহানগর আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক ও রংপুর মেট্রোপলিটান চেম্বারের প্রেসিডেন্ট রেজাউল ইসলাম মিলন বলেন, ‘মহানগরের সব ওয়ার্ড কমিটির মেয়াদ অনেক আগেই শেষ হয়ে গেছে। একইভাবে থানা কমিটিও হচ্ছে না। দলকে নতুন করে ঢেলে সাজাতে এবং নতুন নেতৃত্বের জন্য সম্মেলন করা জরুরি হয়ে পড়েছে।’

মহানগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি অ্যাডভোকেট দিলশাদ হোসেন মুকুল বলেন, ‘আমরা থানা কমিটি গঠনের উদ্যোগ নিয়েছিলাম, কিন্তু করোনার কারণে তা সম্ভব হয়নি। থানা কমিটি গঠন এবং মেয়াদ শেষ হওয়া ওয়ার্ড কমিটি গঠন করা খুবই প্রয়োজন।’

/এমএএ/

সম্পর্কিত

তিস্তায় বিলীনের অপেক্ষায় কমিউনিটি ক্লিনিক

তিস্তায় বিলীনের অপেক্ষায় কমিউনিটি ক্লিনিক

নীলফামারীর ৮৬৩ মণ্ডপে হবে শারদীয় দুর্গোৎসব

নীলফামারীর ৮৬৩ মণ্ডপে হবে শারদীয় দুর্গোৎসব

বেড়েছে কাঁচামরিচের ঝাঁজ

বেড়েছে কাঁচামরিচের ঝাঁজ

আ.লীগ সরকারের অধীনেই আগামী নির্বাচন হবে: ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী

আ.লীগ সরকারের অধীনেই আগামী নির্বাচন হবে: ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী

‘জিনের বাদশার’ কথায় ২৮ লাখ টাকা হারালেন প্রবাসী

আপডেট : ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২২:৪৯

সৌদি নাগরিককে দেশে এনে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে এক ব্যক্তির কাছ থেকে ২৮ লাখ ৩৬ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগে তিন জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ভুক্তভোগী ব্যক্তি থানায় মামলা দায়েরের পর বুধবার রাতে চট্টগ্রাম নগরী ও কক্সবাজারে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করে পুলিশ।

কোতোয়ালি থানার ওসি নেজাম উদ্দিন এ তথ্য জানিয়েছেন। গ্রেফতার তিন জনকে আদালতের মাধ্যমে বৃহস্পতিবার (২৩ সেপ্টেম্বর) কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে তিনি জানান। গ্রেফতার তিন জন হলেন মো. আব্দুল মান্নান (৫৮), মো. জোবাইর হোসাইন রিজভী (২৩) ও আবু তৈয়ব (৫৮)। 

নেজাম উদ্দিন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ভুক্তভোগী আবুল হাছান দীর্ঘ ২২ বছর সৌদি আরবে থাকার পর দুই বছর আগে দেশে ফেরেন। ছুটি শেষে পুনরায় সৌদি আরবে যেতে চাইলে দেখেন ভিসায় সৌদি আরবে প্রবেশ নিষিদ্ধ সিল দেওয়া। তিনি সৌদি আরবে যেতে পারেননি। সৌদি নাগরিক আদনান সাঈদ তার টাকা-পয়সা সব নিয়ে ধোঁকা দিয়েছেন। স্ত্রীর গহনা বিক্রি করতে গিয়ে পরিচয়ের পর হাজারী গলির স্বর্ণের দোকানের কর্মচারী আবুল হাছানকে ঘটনা খুলে বলেন। এরপর তার সমস্যা সমাধানের জন্য জিনের বাদশা পরিচয় দিয়ে মো. আব্দুল মান্নানের কাছে নিয়ে যান হাছান।

মান্নান ধর্মীয় আধ্যাত্মিক শক্তি এবং জিনের মাধ্যমে সৌদি নাগরিক আদনান সাঈদকে বাংলাদেশে এনে দিতে পারবেন বলে জানান। বাংলাদেশে এসে তার সম্পূর্ণ টাকা ফেরত দিয়ে যাবে বলেও জানান। টাকা এবং সৌদি নাগরিককে বাংলাদেশে ফেরত আনতে হলে শুরুতে দুই লাখ টাকা এবং তিন ভরি স্বর্ণ ও যুক্তরাষ্ট্রের এক হাজার টাকার ডলার দাবি করেন মান্নান। পবিত্র কোরআন শরিফ ছুঁয়ে শপথ করে বলায় মান্নানকে মার্চ-সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে নগদ ও বিকাশ নম্বরে ২৮ লাখ ৩৬ হাজার টাকা দেন হাছান। এ ঘটনায় হাছান থানায় আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা করেন। পরে ওই তিন জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

ওসি আরও বলেন, প্রথমে কোতোয়ালি থানার হাজারী গলি এলাকা থেকে এজাহারনামীয় আবু তৈয়বকে গ্রেফতার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে টেকনাফ থানার হোয়াক্যাং এলাকায় অভিযান চালিয়ে বুধবার রাতে আব্দুল মান্নান ও জোবাইর হোসাইন রিজভীকে গ্রেফতার করা হয়। দুপুরে আদালতের মাধ্যমে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়।

/এএম/

সম্পর্কিত

উপজেলা চেয়ারম্যানকে বরখাস্তের আদেশ অবৈধ ঘোষণা

উপজেলা চেয়ারম্যানকে বরখাস্তের আদেশ অবৈধ ঘোষণা

রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় বিএনপির ৩ শীর্ষ নেতার আত্মসমর্পণ

রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় বিএনপির ৩ শীর্ষ নেতার আত্মসমর্পণ

প্রবাসীর স্ত্রীকে ৭ দিন আটকে রেখে ধর্ষণের অভিযোগ

প্রবাসীর স্ত্রীকে ৭ দিন আটকে রেখে ধর্ষণের অভিযোগ

টাকা নিয়ে দ্বন্দ্ব, মারধরের ৮ দিন পর ছাত্রলীগকর্মীর মৃত্যু

আপডেট : ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২২:৪০

টাকা নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে মারধরের ঘটনায় আহত মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার ছাত্রলীগকর্মী মো. সাজিদুল ইসলাম মীম (২২) মারা গেছেন। বৃহস্পতিবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টার দিকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

মীম উপজেলার ইসমানিরচর গ্রামের আব্দুস সাত্তার মিয়ার ছেলে। এ ঘটনায় হোসেন্দি ইউনিয়ন ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক সংগ্রাম মোল্লাসহ ৯ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ১০-১২ জনের বিরুদ্ধে ১৭ সেপ্টেম্বর মামলা করেন মীমের বাবা। এর আগে, ১৫ সেপ্টেম্বর দুপুরে উপজেলার ইসমানিরচর এলাকায় মারধরে গুরুতর আহত হন ছাত্রলীগের এ কর্মী।

গজারিয়া থানার পরিদর্শক মো. মোজাম্মেল হোসেন জানান, গত ১৭ সেপ্টেম্বর থানায় মারধরের মামলা হয়েছে। অভিযুক্তদের গ্রেফতারে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা যাচ্ছে, একই গ্রুপের মধ্যে টাকা লেনদেন সংক্রান্ত বিষয়কে কেন্দ্র করে তাকে মারধর করা হয়েছে। নিহত হওয়ায় মারধরের মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তর হবে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, বনভোজনে যাওয়ার জন্য গত ১০ সেপ্টেম্বর সংগ্রাম মোল্লার (২৪) কাছ থেকে ৪০০ টাকা ধার নেন মীম। এ টাকা পরিশোধ নিয়ে ১৫ সেপ্টেম্বর দুপুরে মো. আতাউর (২৭), সম্রাট (২২), তুষার (২০), সাব্বির (২২), নিজুম (২২), অপু (২২), মো. আরজু (২০), শুভ (২০) এবং অজ্ঞাতনামা ১০-১২ জনের সঙ্গে দ্বন্দ্ব বাধে মীমের। তারা মীমকে গালিগালাজ করেন। এর প্রতিবাদ জানালে সংগ্রাম মোল্লা, আতাউর, সম্রাট, তুষার হাতুড়ি দিয়ে মীমের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে। বাকিরাও লাঠি দিয়ে আঘাত করে। এরপর স্থানীয়রা মীমকে গুরুতর আহত অবস্থায় গজারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে গজারিয়া উপজেলা ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক আহমেদ রুবেল জানান, মীম নিহতের ঘটনায় হোসেন্দি ইউনিয়নের ছাত্রলীগ সাধারণ সংগ্রাম মোল্লাকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। সাংগঠনিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে দলীয়ভাবে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

/এফআর/

সম্পর্কিত

গাজীপুর মেয়রের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ, অগ্নিসংযোগ

গাজীপুর মেয়রের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ, অগ্নিসংযোগ

প্রবাসীর স্ত্রীকে ৭ দিন আটকে রেখে ধর্ষণের অভিযোগ

প্রবাসীর স্ত্রীকে ৭ দিন আটকে রেখে ধর্ষণের অভিযোগ

এক্স-রে মেশিন পলিথিনে মোড়ানো, রোগীরা ছুটছেন এদিক-সেদিক

এক্স-রে মেশিন পলিথিনে মোড়ানো, রোগীরা ছুটছেন এদিক-সেদিক

শাপলা বিক্রির টাকায় চলে সংসার 

শাপলা বিক্রির টাকায় চলে সংসার 

এমপিকে না জানিয়ে সোয়া কোটি টাকায় টেন্ডার আহ্বান

আপডেট : ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২২:২১

ময়মনসিংহ-১০ (গফরগাঁও) আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) ফাহমী গোলন্দাজ বাবেলকে না জানিয়ে তার বিশেষ বরাদ্দ থেকে প্রায় সোয়া কোটি টাকা ব্যয়ে একটি সড়ক নির্মাণের জন্য দরপত্র আহ্বান করার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ ওঠে। পরে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের প্রধান প্রকৌশলীর হস্তক্ষেপে টেন্ডার আহ্বান কার্যক্রম বাতিল করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, গফরগাঁও উপজেলার মশাখালী টানপাড়া বারো মসজিদ রেললাইন পর্যন্ত প্রায় দেড় কিলোমিটার সড়ক উন্নয়নের জন্য এক কোটি ২৫ লাখ ৫৪ হাজার ৮৬ টাকার দরপত্র আহ্বান করেন ময়মনসিংহের স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের নির্বাহী প্রকৌশলী শাহিদুজ্জামান খান। আগামী ৩ অক্টোবরের মধ্যে দরপত্র জমা দেওয়ার শেষ তারিখ নির্ধারণ করা হয়।

গফরগাঁও পৌর আওয়ামী যুবলীগের আহ্বায়ক মাহমুদ হাসান সজীব জানান, স্থানীয় এমপি ফাহমি গোলন্দাজ বাবেলকে আড়ালে রেখে আইন অমান্য করে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের নির্বাহী প্রকৌশলীসহ কর্মকর্তারা এই টেন্ডার আহ্বান করেছেন। যে এলাকায় সড়ক নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে সেটি জনগুরুত্বপূর্ণ না। এছাড়াও জনগুরুত্বপূর্ণ সড়ক থাকলেও এমপির ডিও লেটার ছাড়াই তার বিশেষ বরাদ্দের টাকা থেকে পরিকল্পিতভাবে এই কাজটি করেছেন কর্মকর্তারা। এই খবর ছড়িয়ে পড়ায় নেতাকর্মীদের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শাহিদুজ্জামান খান বলেন, ‘বিশেষ একটি তদবির থাকায় এমপি মহোদয়ের বরাদ্দ থেকে এই প্রকল্পটি গফরগাঁও উপজেলা প্রকৌশল অফিস থেকে প্রস্তাবনা আকারে পাঠানো হয়। প্রস্তাবনা পেয়ে দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। তবে ভুল বোঝাবুঝির কারণে এই প্রকল্পটি বাতিল করার জন্য ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’

এ বিষয়ে এমপি ফাহমী গোলন্দাজ বাবেল বলেন, ‘আমাকে না জানিয়ে এবং আমার ডিও লেটার ছাড়াই সম্পূর্ণ আইন বহির্ভূতভাবে সড়ক নির্মাণের জন্য প্রকল্প প্রস্তুত করে দরপত্র আহ্বান করা হয়েছিল। বিষয়টি প্রধান প্রকৌশলীকে জানানোর পর দরপত্র বাতিল করার উদ্যোগ নিচ্ছেন প্রকৌশলীরা।’

তিনি আরও বলেন, ‘সড়ক নির্মাণের জন্য প্রকল্প কার্যক্রম প্রস্তুত করতে সরকারের অনেক টাকা ব্যয় হয় এবং এই দরপত্র আহ্বানের জন্য অনেক টাকা দিয়ে পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিতে হয়। নির্বাহী প্রকৌশলী ও তার সহকর্মীদের খামখেয়ালির কারণে সরকারের টাকা এভাবে খরচ হবে এটা মেনে নেওয়া যায় না।’

/এমএএ/

সম্পর্কিত

সৌদি থেকে ফিরে খেজুর বাগান, বছরে বিক্রি কোটি টাকা 

সৌদি থেকে ফিরে খেজুর বাগান, বছরে বিক্রি কোটি টাকা 

মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত শহীদুল্লাহ গ্রেফতার

মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত শহীদুল্লাহ গ্রেফতার

চুরির সময় দুর্ঘটনায় দুমড়ে-মুচড়ে গেলো স্বাস্থ্য কর্মকর্তার গাড়ি

চুরির সময় দুর্ঘটনায় দুমড়ে-মুচড়ে গেলো স্বাস্থ্য কর্মকর্তার গাড়ি

ধর্ষণের অভিযোগে পুলিশ কনস্টেবলের বিরুদ্ধে মামলা

ধর্ষণের অভিযোগে পুলিশ কনস্টেবলের বিরুদ্ধে মামলা

সৌদি থেকে ফিরে খেজুর বাগান, বছরে বিক্রি কোটি টাকা 

আপডেট : ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২২:৩৪

অভাবের সংসারে সচ্ছলতা ফেরাতে সৌদি আরব গিয়েছিলেন আব্দুল মোতালেব। ১০ হাজার টাকা বেতনে খেজুর বাগানে চাকরি নিয়েছিলেন। চাষাবাদ রপ্ত করে তিন বছরের মাথায় দেশে ফেরেন। সঙ্গে আনেন খেজুরের বীজ। বাগান করে কয়েক বছরের মধ্যে বদলে ফেলেন ভাগ্য। এখন বছরে কোটি টাকার চারা ও খেজুর বিক্রি করেন তিনি।

আব্দুল মোতালেব (৫৩) ময়মনসিংহের ভালুকার পাড়াগাঁও গ্রামের মৃত নুরুল ইসলামের ছেলে। তিনি সফল উদ্যোক্তা। সবাই তাকে ‘খেজুর মোতালেব’ বলে ডাকেন। 

স্থানীয়রা জানায়, আব্দুল মোতালেব সংসারে সচ্ছলতা ফেরাতে ১৯৯৮ সালে সৌদি আরবে পাড়ি জমান। আল কাসিম জেলার আল মাছনাব গ্রামের খালেদ আশরাফের খেজুরের বাগানে চাকরি নেন। মাসে বেতন পান ১০ হাজার টাকা। বাগানে কাজ করার সুবাদে খেজুর চাষের কলাকৌশল খুব দ্রুত রপ্ত করে নেন। মালিকের কাছ থেকে তিন মাসের ছুটি নিয়ে ২০০১ সালে দেশে আসেন। আসার সময় আনেন ৩৫ কেজি খেজুরের বীজ। চারা উৎপাদন করে বসতভিটার পাশের ৭০ শতক জমিতে রোপণ করে পরিচর্যা শুরু করেন। খেজুর চাষ করা নিয়ে স্থানীয়রা নানা কথা বলতে থাকেন, এমনকি অনেকে পাগল আখ্যা দিয়েছিলেন। তখন থেকে তাকে খেজুর মোতালেব বলে ডাকা শুরু হয়। 

মোতালেবের খেজুর বাগান

প্রতিবেশীরা নানা ধরনের কথা বললেও স্ত্রী মজিদা বেগম সাহস জোগান এবং বাগানের কাজে সহযোগিতা করেন। ছয় বছরের মাথায় গাছে আসে কাঙ্ক্ষিত ফল। পূরণ হয় স্বপ্ন। প্রথম দিকে গাছের খেজুর মানুষকে খাইয়ে বীজ রেখে তা থেকে আবার চারা উৎপাদন করতেন। ধীরে ধীরে বাগানে ফল ধরা গাছের সংখ্যা বাড়তে থাকে। 

এভাবে মোতালেবের খেজুর বাগান সারাদেশে পরিচিতি পায়। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। অসাধ্য সাধন করে সবাইকে বুঝিয়ে দিলেন দেশের মাটি সৌদির খেজুর চাষের উপযোগী। সফলতা আসার পর ফল ধরা গাছে কলম দিয়ে চারা উৎপাদনেও সফলতা পান। প্রথম দিকে কলম দেওয়া একেকটি চারা দুই লাখ টাকা বিক্রি করেছেন। ২০০৮ সালে বাগানের খেজুর ও চারা বাণিজ্যিকভাবে বিক্রি শুরু করেন। বর্তমানে তার বাগানে ফল দেওয়া ২০০টি খেজুর গাছ এবং বিক্রি উপযোগী ৫০০টি চারা কলম রয়েছে।

২৩ বছরের ব্যবধানে চারা ও খেজুর বিক্রি করে কোটিপতি হয়ে গেছেন মোতালেব। বর্তমানে করোনার সংক্রমণের কারণে বিক্রি কিছুটা কম। এ বছর খেজুর বিক্রি করেছেন পাঁচ লাখ টাকার। ৭০টি চারা কলম ৫০ হাজার করে ৩৫ লাখ টাকা বিক্রি করেছেন। খরচ বাদে চলতি বছরে তার আয় হয়েছে ২৫ লাখ টাকা। অবশ্য গত বছর দুই কোটি টাকার চারা ও খেজুর বিক্রি করেছেন তিনি। তার বাগানে ১০-১২ জন কর্মী রয়েছেন।

নিজের বাগানে আব্দুল মোতালেব

জানা যায়, একসময় মা-বাবার কাছ থেকে পাওয়া মাটির ঘরে স্ত্রী ও তিন সন্তানকে নিয়ে বসবাস করতেন। বাগানের আয়ে ইতোমধ্যে ২০০ শতক জমি কিনেছেন, দর্শনার্থীদের জন্য বিশ্রামাগার, চার শতক জমিতে দোতলা বাড়ি করেছেন মোতালেব।

ঢাকা-ময়মনসিংহ সড়কের ভালুকার সিডস্টোর বাজার থেকে টাঙ্গাইলের সখিপুর সড়কের তিন কিলোমিটার পশ্চিমে গেলেই মোতালেবের খেজুর বাগানের দেখা মিলবে। সেখানে চাষ হয় আজোয়া, শুক্কারি, আম্বার, মরিয়ম ও বকরি জাতের খেজুর। সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়ে মাটির সঙ্গে মিশে থাকা গাছেও ধরছে খেজুর। 

বাগানে সারিবদ্ধভাবে শত শত গাছ লাগানো। সেচ দেওয়ার জন্য রয়েছে বড় ফুট প্লাস্টিকের পাইপ। সবচেয়ে আশ্চর্য হলো তার কলম দিয়ে চারা উৎপাদন কৌশল দেখার মতো। এমন কৌশল অবলম্বন করেছেন যেখানে দেখা যাবে বাগানের ফলবান গাছ ফেটে কলম দেওয়া চারা বের হচ্ছে। একেকটি গাছ থেকে অনেক চারা উৎপাদন করছেন তিনি।

আব্দুল মোতালেব বলেন, ‘বর্তমানে বাগানে ৭০০টি ফল ধরা গাছ ও ১০০টি পুরুষ গাছ রয়েছে। এরমধ্যে ফল দেওয়ার উপযোগী গাছের সংখ্যা ২০০টি এবং বিক্রির উপযোগী কলম দেওয়া চারা রয়েছে ৫০০টি। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আগামী বছর ফলবান গাছ থেকে ২০-২৫ লাখ টাকার খেজুর বিক্রি করতে পারবো। পাশাপাশি ১০০টি কলম দেওয়া চারা বিক্রি করে ৫০ লাখ টাকার মতো আয় হবে।’

বাগানে ফল দেওয়া ২০০টি খেজুর গাছ এবং বিক্রি উপযোগী ৫০০টি চারা কলম রয়েছে

তিনি বলেন, ‘যাদের উঁচু পতিত জমি আছে তারা ইচ্ছা করলেই সৌদি খেজুরের চাষ করে সহজেই লাভবান হতে পারেন। বেকার তরুণরা খেজুর বাগান করে বেকারত্ব ঘোচাতে পারেন। খেজুর চাষের ওপর কৃষি বিভাগের উদ্যোগে সরকারি ব্যবস্থাপনায় প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা খুবই জরুরি। ভবিষ্যতে ২০০ শতক কেনা জমিতে দুই ছেলের জন্য আরও দুটি খেজুর বাগান করার পরিকল্পনা আছে।’

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের খামারবাড়ির উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মতিউজ্জামান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, মোতালেবের সফলতা দেখে অনেকে খেজুর চাষে উদ্বুদ্ধ হচ্ছেন। তার কাছ থেকে চারা নিয়ে অনেকে এখন সৌদি খেজুর চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। এ বিষয়ে প্রশিক্ষণ চালু করতে কৃষি অধিদফতরে একটি প্রস্তাবনা পাঠানো হবে।

/এএম/এমওএফ/

সম্পর্কিত

এমপিকে না জানিয়ে সোয়া কোটি টাকায় টেন্ডার আহ্বান

এমপিকে না জানিয়ে সোয়া কোটি টাকায় টেন্ডার আহ্বান

মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত শহীদুল্লাহ গ্রেফতার

মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত শহীদুল্লাহ গ্রেফতার

চুরির সময় দুর্ঘটনায় দুমড়ে-মুচড়ে গেলো স্বাস্থ্য কর্মকর্তার গাড়ি

চুরির সময় দুর্ঘটনায় দুমড়ে-মুচড়ে গেলো স্বাস্থ্য কর্মকর্তার গাড়ি

ধর্ষণের অভিযোগে পুলিশ কনস্টেবলের বিরুদ্ধে মামলা

ধর্ষণের অভিযোগে পুলিশ কনস্টেবলের বিরুদ্ধে মামলা

সর্বশেষসর্বাধিক

লাইভ

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

বিয়ে বার্ষিকীতে স্ত্রীকে চাঁদের জমি উপহার

বিয়ে বার্ষিকীতে স্ত্রীকে চাঁদের জমি উপহার

পুলিশ পরিচয়ে চাঁদাবাজির অভিযোগ, গণপিটুনিতে নিহত

পুলিশ পরিচয়ে চাঁদাবাজির অভিযোগ, গণপিটুনিতে নিহত

ভারতে গেলো আরও ২০৯ টন ইলিশ

ভারতে গেলো আরও ২০৯ টন ইলিশ

পরাজিত ইউপি সদস্য প্রার্থীর দুই পা ভেঙে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা

পরাজিত ইউপি সদস্য প্রার্থীর দুই পা ভেঙে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা

এক্স-রে মেশিন পলিথিনে মোড়ানো, রোগীরা ছুটছেন এদিক-সেদিক

এক্স-রে মেশিন পলিথিনে মোড়ানো, রোগীরা ছুটছেন এদিক-সেদিক

যৌতুক মামলায় কারাগারে সিআইডির এসআই

যৌতুক মামলায় কারাগারে সিআইডির এসআই

সাঁতরে মসজিদে যাওয়া সেই ইমাম পেলেন নৌকা ও নগদ টাকা   

সাঁতরে মসজিদে যাওয়া সেই ইমাম পেলেন নৌকা ও নগদ টাকা   

মোংলায় শিক্ষকের করোনা শনাক্ত

মোংলায় শিক্ষকের করোনা শনাক্ত

সর্বশেষ

‘টিকায় বৈষম্য মানবতার জন্য কলঙ্ক’

‘টিকায় বৈষম্য মানবতার জন্য কলঙ্ক’

‘অক্টোবরে রংপুরে থানা-ওয়ার্ড কমিটি গঠনে আ.লীগের বর্ধিত সভা’

‘অক্টোবরে রংপুরে থানা-ওয়ার্ড কমিটি গঠনে আ.লীগের বর্ধিত সভা’

সঞ্চয়পত্রের মুনাফা কমায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন যারা

সঞ্চয়পত্রের মুনাফা কমায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন যারা

‘জিনের বাদশার’ কথায় ২৮ লাখ টাকা হারালেন প্রবাসী

‘জিনের বাদশার’ কথায় ২৮ লাখ টাকা হারালেন প্রবাসী

জানা গেলো তামিমের নেপাল যাওয়ার কারণ

জানা গেলো তামিমের নেপাল যাওয়ার কারণ

© 2021 Bangla Tribune