X
শনিবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১০ আশ্বিন ১৪২৮

সেকশনস

আ. লীগ বলছে জোট অটুট, শরিকরা বলছে অকার্যকর

আপডেট : ২৪ জুলাই ২০২১, ০১:০০

২০০৪ সালের শেষদিকে ১৪ দলীয় জোট গঠন করা হয়। অসাম্প্রদায়িক চেতনার রাজনৈতিক সংগঠনগুলোকে নিয়ে তৎকালীন বিএনপি-জামাত জোট সরকারের বিরুদ্ধে ২৩ দফার ভিত্তিতে গঠিত জোটের নেতৃত্ব দেয় আওয়ামী লীগ। আদর্শিক এই জোট ২০০৮ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত তিনটি সাধারণ নির্বাচনে একসঙ্গে অংশ নেয়। দুই দফায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে মন্ত্রিসভায়ও রাখা হয় জোট নেতাদের। সর্বশেষ জোট নেতাদের বাইরে রেখে সরকার পরিচালনা করছে আওয়ামী লীগ।

আওয়ামী লীগ, জাসদ-ইনু, ন্যাপ (মোজাফফর) এবং বাম জোট ১১ দল মিলে এ জোট গঠন হয়। ১১ দলে আছে- সিপিবি, ওয়ার্কার্স পার্টি, গণফোরাম, সাম্যবাদী দল, বাসদ (খালেকুজ্জামান), বাসদ (মাহবুব), গণতন্ত্রী পার্টি, গণআজাদী লীগ, কমিউনিস্ট কেন্দ্র, গণতান্ত্রিক মজদুর পার্টি ও শ্রমিক কৃষক সমাজবাদী দল।

এদের মধ্যে সিপিবি, বাসদ, (খালেকুজ্জামান) ও নির্মল সেনের শ্রমিক কৃষক সমাজবাদী দল শুরু থেকে ১১ দলের সঙ্গে থাকলেও ১৪ দলীয় জোটের সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়নি। গণফোরামও জোট থেকে বেরিয়ে যায়। ২০১৮ সালের নির্বাচনের আগে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের সঙ্গে সম্পৃক্ত হয় তারা।

এদিকে বাসদ (মাহবুব) জোটের শুরু থেকেই নিষ্ক্রিয় ছিল। দলটির প্রধান নেতা আ ফ ম মাহবুবুল হক ২০০৪ সাল থেকে কানাডায় চলে গেলে দলের কার্যক্রমও সীমিত হয়ে পড়ে। ২০১৭ সালে কানাডায় মারা যান মাহাবুবুল হক। এ সময়ে একাধিক খণ্ডে ভাগ হয় দলটি। বর্তমানে রেজাউর রশীদের নেতৃত্বে বাসদের একটি অংশ ১৪ দলীয় জোটের সঙ্গে রয়েছে।

২০১৪ সালের নির্বাচনের আগে তরিকত ফেডারেশন বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (জেপি) ১৪ দলীয় জোটে অন্তর্ভুক্ত হয়। অপরদিকে জাসদ ইনু ভেঙে বাংলাদেশ জাসদ (আম্বিয়া) গঠন হয়। বর্তমানে জাসদের দুই অংশই ১৪ দলীয় জোটের সঙ্গে রয়েছে।

২০১৪ সালের নির্বাচনের আগে বিএনপির আগুন সন্ত্রাসের বিরুদ্ধেও অবস্থান নেয় আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দল। ২০১৮ সালের নির্বাচনে একসঙ্গে ভোট করলেও ক্ষমতার অংশীদার করা হয়নি। এরপর ১৪ দলের শরিক দলগুলোর ভেতর দূরত্ব বেড়ে যায়।

আওয়ামী লীগ নেতারা এই দূরত্বকে ক্ষমতার অংশীদার থাকা না থাকার দূরত্ব বলে মন্তব্য করেন। আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কাজি জাফরউল্যাহ বলেন, এই দূরত্ব মূলত ক্ষমতাকেন্দ্রীক।

জোটের শরিক নেতাদের অভিযোগ, তাদের সঙ্গে আওয়ামী লীগের আনুষ্ঠানিক, অনানুষ্ঠানিক কোনও যোগাযোগ নেই বললেই চলে। করোনা মহামারি মোকাবেলায়ও জোটগত কোনও কর্মকাণ্ড নেই। মোটকথা ভালোমন্দ কিছুতেই যোগাযোগ হয় না। অথচ আগে নিয়মিত যোগাযোগ ছিল।

শরিক নেতারা বলেন, দূরত্ব এমন পর্যায়ে গেছে যে, ঈদ, পূজা-পার্বণে সামান্য শুভেচ্ছা বিনিময়ও হয় না।

তাদের দাবি, ১৪ দল এখন অতীত। বর্তমান পরিস্থিতিতে এটা অকার্যকর।

তবে আওয়ামী লীগ বলছে জোটে দূরত্ব নেই। রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নেই বলেই মনে হচ্ছে দূরত্ব আছে। জোটের সমন্বয়ক আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য আমির হোসেন আমু বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, জোট অটুট আছে।

জাসদের সভাপতি হাসানুল হক ইনু বলেন, ‘যে লক্ষ্য-উদ্দেশ্য নিয়ে ১৪ দলীয় জোট হয়েছে, সেসব পূরণে আরও সময় দরকার। তাই জোট সক্রিয় রাখাই বাঞ্ছনীয়। এ জন্য আওয়ামী লীগকে আরও সক্রিয় হওয়া উচিত। জোট নেতাদের ভেতর মনোমালিন্য রয়েছে। আলোচনা করে এর সমাধান করা উচিত।’

ওয়ার্কার্স পার্টির পলিটব্যুরোর সদস্য আনিসুর রহমান মল্লিক বলেন, ‘ন্যাপের সাধারণ সম্পাদক আমার কাছে জানতে চেয়েছিলেন আমরা কি আর অ্যাকটিভ হবো না? জবাবে আমি বলেছিলাম আমরা অ্যাকটিভই আছি। যাদের হওয়ার কথা তারা নেই।’

সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়ুয়া বলেন, ‘আন্দোলনের সময় জোটের দরকার হয় বেশি। তখন ছোট-বড় দলের প্রশ্ন আসে না। জোটের ভবিষ্যৎ কী হবে সেটা সময়ই বলে দেবে।’

গণতন্ত্রী পার্টির সাধারণ সম্পাদক শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘জোটের কর্মকাণ্ড এখন ইস্যুভিত্তিক ভার্চুয়াল আলোচনায় সীমাবদ্ধ। ২৩ দফার বিষয়ে আওয়ামী লীগের কোনও নজর নেই। এখন হয়তো আওয়ামী লীগ ভাবছে বাকিটা পথ তারা একাই এগোবে।’

কমিউনিস্ট কেন্দ্রের যুগ্ম আহবায়ক অসীত বরণ রায় বলেন, অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ার লড়াই শেষ হয়ে যায়নি। তাই ১৪ দলের প্রয়োজনীয়তাও শেষ হয়নি।

 

 

/এফএ/

সম্পর্কিত

বৈঠকেই ‘কাউন্সিল’ সেরে নিয়েছে বিএনপি!

বৈঠকেই ‘কাউন্সিল’ সেরে নিয়েছে বিএনপি!

দলীয় প্রতীকেও নির্বাচন করার চাপ জাসদে

দলীয় প্রতীকেও নির্বাচন করার চাপ জাসদে

বৈঠকেই ‘কাউন্সিল’ সেরে নিয়েছে বিএনপি!

আপডেট : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২২:৩৭

চলতি সেপ্টেম্বরে দুই দফায় ছয় দিনে কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্যদের সঙ্গে বৈঠক করেছে বিএনপি। এতে দলটির নেতারা সংগঠনকে শক্তিশালী করে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দাবি আদায়ে রাজপথে সক্রিয় হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। অনেকটা কাউন্সিলের আদলে করা এসব বৈঠক থেকে শীর্ষ নেতৃত্বও ‘পরিকল্পনা মাফিক সন্তুষ্টি’ অর্জন করেছেন। যে কারণে সময়সীমা পার হলেও আগামী নির্বাচনের আগে আর সপ্তম কাউন্সিলের পথে যাচ্ছে না বিএনপি। এর আগে দ্বাদশ জাতীয় সংসদের নির্বাচনি বৈতরণী পার হতে চায় দলটি।

প্রথম দফায় ১৪-১৬ ও দ্বিতীয় দফায় ২১-২৩ সেপ্টেম্বর কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্যদের বৈঠকে অংশগ্রহণ করা অন্তত এক ডজন নেতার সঙ্গে আলাপকালে জানা গেছে, বৈঠকে ৪৯১ জন অংশগ্রহণকারীর মধ্যে অন্তত তিন শতাধিক নেতা বক্তব্য দেন। বক্তব্যে বিশেষভাবে শীর্ষ নেতৃত্বের সন্তুষ্টি অর্জনে নিজেদের অবস্থান ব্যক্ত করলেও খালেদা জিয়ার মুক্তি, নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন আদায়, সাংগঠনিক কার্যক্রম শেষ করা, জোটভিত্তিক রাজনীতির চেয়ে যুগপৎ কর্মসূচির বিষয়গুলো উঠে এসেছে।

চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য ড. ইনামুল হক চৌধুরী বলেন, ‘ছয় দিনের বৈঠক থেকে রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক উভয় বিষয়েই প্রাপ্তি রয়েছে। বিএনপি দেশে গণতন্ত্র ফেরানোর কথা বলে, দলের ভেতরেও গণতন্ত্রচর্চা হচ্ছে—এ বিষয়টি সামনে এসেছে।’

মঞ্চে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্যরা সাংগঠনিকভাবে বহুবিধ  প্রত্যাশা ও দাবি এসেছে উল্লেখ করে ইনামুল হক চৌধুরী বলেন, ‘এগুলো পরস্পরকে সংঘবদ্ধ করে সামনের দিনে স্বৈরাচারের পতন আন্দোলনে সাহায্য করবে। নেতাকর্মীরা প্রস্তুত, দলের শীর্ষ নেতৃত্ব, স্থায়ী কমিটি এখন যা সিদ্ধান্ত দেবেন, সবাই তা বাস্তবায়ন করবে।’

নির্বাহী কমিটির সদস্য, ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আকরামুল হাসান বলেন, ‘সবার মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে। ভালো কিছু একটা হবে—এই আশায় মানুষের মধ্যেও আশার সঞ্চার করেছে। বৈঠকে যেসব ইতিবাচক প্রস্তাব এসেছে সেগুলো সাংগঠনিকভাবে পূরণ করা গেলে আন্দোলন কার্যকর হবে।’

জানতে চাইলে দলের স্থায়ী কমিটির অন্যতম সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘আমাদের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের সুনির্দিষ্ট মতামত জেনেছি। রাজনীতি, ভবিষ্যৎ, গণতন্ত্র এবং সাম্প্রতিক পরিস্থিতি মিলিয়ে এসব মতামতে আমরা উপকৃত হয়েছি। রাজনৈতিক চিন্তা, আন্দোলন চিন্তা ও সাংগঠনিক চিন্তায় ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানসহ পলিসি মেকারদের সঙ্গে নির্বাহী কমিটির সমন্বয় করার খোরাক পেয়েছি।’

চেয়ারপারসনের কার্যালয়ের ঘনিষ্ঠ দায়িত্বশীল সূত্রগুলো জানায়, ধারাবাহিক বৈঠকগুলো যে উদ্দেশ্যেই করা হোক, আপাতত দলের অভ্যন্তরীণ দৃষ্টিতে তা সফল। বিশেষভাবে ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে তারেক রহমান দায়িত্ব নেওয়ার পর নির্বাহী কমিটির নেতাদের বড় পরিসরে মতামত নিয়েছেন এই প্রথম। ফলে, দলের তৃণমূল থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত সরাসরি সবার বক্তব্য শুনেছেন তিনি। তবে জাতীয়ভাবে সফলতা পাবে কিনা, সেজন্য আরও সময় লাগবে।

বৈঠকেই কাউন্সিল সেরে নিয়েছে বিএনপি

বৈঠকে অংশ নেওয়া নেতাদের সঙ্গে আলাপকালে জানা গেছে, করোনাভাইরাসের কারণে দেড় বছর সাংগঠনিক কার্যক্রম বন্ধ থাকার পর সেপ্টেম্বর থেকে নতুনভাবে কাজ শুরু করেছে বিএনপি। চলতি বছরের বাকি সময়টুকু পার করলেই আগামী বছরের শুরুতে নির্বাচন কমিশন গঠন নিয়ে রাজনীতি সরগরম হবে। এই ডামাডোলের মধ্যেই আসবে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ব্যস্ততা। আর এ কারণে আর কাউন্সিলের দিকে যাওয়ার সুযোগ নেই নেতৃত্বের সামনে।

২০১৬ সালের ১৯ মার্চ বিএনপির ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়। ওই কাউন্সিলের পর কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির মেয়াদ শেষ হয় তিন বছর পর ২০১৯ সালের মার্চে। এরপর কাউন্সিল নিয়ে কোনও ‘রা’ করেনি বিএনপি। ২০২০ সালের শুরুতে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ দেখা দিলে একাধিকবার সংগঠনের কাজ স্থগিত রাখা হলেও এ বিষয়ে কোনও আলোচনাতেই যাননি দলটির শীর্ষ নেতৃত্ব।

১৪ সেপ্টেম্বর বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্যরা

নির্বাহী কমিটির বৈঠকে অংশ নেওয়া একাধিক নেতার ভাষ্য—কাউন্সিলের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয় নেতৃত্বের শূন্যতা দেখা দিলে। বিএনপিতে এখন সেটা নেই। যেসব সংগঠনের মেয়াদ শেষ, যেসব পদে নিয়োগ দরকার। এগুলো দ্রুত নিষ্পন্ন করার চিন্তা বৈঠকের আলোচনায় পরিষ্কার হয়েছে। সাংগঠনিক সম্পাদকদের প্রায় প্রত্যেকেই সংগঠন গুছিয়ে কর্মসূচির দিকে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।

এ বিষয়ে খন্দকার মোশাররফ হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমাদের দলের চেয়ারপারসন গৃহবন্দি, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দেশের বাইরে। তারা কাউন্সিলের জন্য অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাদের ছাড়া তো কাউন্সিল হয় না। আমাদের আলোচনায় এ বিষয়টি আসেনি।’

স্থায়ী কমিটির শূন্য পদে নিয়োগ!

স্থায়ী কমিটির ১৯ সদস্যের মধ্যে মারা গেছেন ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, তরিকুল ইসলাম, এম কে আনোয়ার, আ স ম হান্নান শাহ। দল ত্যাগ করেছেন মাহবুবুর রহমান। এই পাঁচটি শূন্যপদ পূরণে শীর্ষ নেতৃত্ব সহসাই সিদ্ধান্ত নেবেন, এমন আলোচনা এখন দলে আছে। এছাড়া কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া বিছানায় শয্যাশায়ী। দীর্ঘদিন ভারতে বিচারাধীন অবস্থায় রয়েছেন সালাহউদ্দিন আহমেদ।

২১ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত বৈঠকে অংশ নেওয়া নির্বাহী কমিটির একজন সদস্য বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, কাউন্সিল না হওয়ার কারণে শূন্য পদগুলোতে পদায়ন করা হবে। আর এই শূন্য পদগুলো দলের ধারাবাহিক সভার প্রথম দিনে অংশ নেওয়া বেশ কয়েকজন নেতাকে দেওয়া হবে, এমন আলোচনা আছে। তবে স্থায়ী কমিটির এক সদস্য বলেন, এটা নিয়ে মিটিংয়ে কোনও আলোচনা হয়নি।

হরতাল-অবরোধে অনীহা

ছয় দিনের ধারাবাহিক বৈঠকের পর কী সিদ্ধান্ত আসছে—এ প্রসঙ্গে বৈঠকে অংশ নেওয়া নেতারা জানান, প্রথমত এককভাবে বিএনপিকে নেতৃত্ব দেওয়ার মানসিকতা নিয়ে রাজনৈতিক দাবি আদায়ের জন্য রাজপথে সক্রিয় হতে হবে। এক্ষেত্রে হরতাল-অবরোধের চেয়ে যুগপৎভাবে কর্মসূচি এগিয়ে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে বৈঠকে। বিশেষ করে নির্বাচনি জোট হলেও দাবি আদায়ে একক শক্তি প্রদর্শন ও কার্যকর নেতৃত্ব দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা এখন বেশি বলে জানিয়েছেন নেতারা।

বৈঠকে অংশ নেওয়া এক নেতা বলেন, জামায়াত ছাড়তে সবক’টি বৈঠকেই দুয়েকজন প্রস্তাব করলেও অধিকাংশের মত হচ্ছে—গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে একমঞ্চে না গিয়ে যুগপৎভাবে রাজপথে থাকা নিশ্চিত করতে হবে। দ্বিতীয়ত, ২০১৮ সালে গঠিত জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নিয়ে কোনও নেতাই ইতিবাচক কিছু বলেননি, সবার কণ্ঠেই বিরোধিতা ছিল।’

 ১৫ সেপ্টেম্বর মহাসচিব, যুগ্ম মহাসচিব, সাংগঠনিক ও সম্পাদক পর্যায়ের বৈঠক

বিএনপি চেয়ারপারসনের মিডিয়া উইং সদস্য শায়রুল কবির জানান, দুই দফার ধারাবাহিক সভায় ৪৯১ জন সদস্য অংশ নেন। তাদের মধ্যে ৩০০ জন বক্তব্য রাখেন। বৈঠক হয়েছে প্রায় ৩৫ ঘণ্টাব্যাপী।

আরও বৈঠক করার সিদ্ধান্ত

বিএনপির স্থায়ী কমিটির একাধিক সদস্যের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নির্বাহী কমিটির সদস্যদের সঙ্গে ছয় দিনের ধারাবাহিক বৈঠকের পর আরও কিছু বৈঠক করবে বিএনপি। আগামীকাল শনিবার (২৫ সেপ্টেম্বর) স্থায়ী কমিটির নিয়মিত বৈঠকে এ সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হবে। এরপর এককভাবে দেশের মানুষের সামনে নতুন পরিবর্তনের রাজনীতির ঘোষণা আনবে বিএনপি।

একাধিক সদস্য বলছেন, কর্মসূচি প্রণয়ন ও আগামী দিনের রাজনৈতিক রোডম্যাপ বাস্তবায়নে আরও কিছু হোমওয়ার্ক বাকি রয়েছে। সেগুলো শেষ করেই পরিবর্তিত বার্তা তুলে ধরবে বিএনপি।

জানতে চাইলে স্থায়ী কমিটির অন্যতম সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘কবে নাগাদ বিএনপির রোডম্যাপ আসবে, এটার সময় বলতে পারবো না। টানা বৈঠক হয়েছে। সবার মতামত শুনেছি। সেগুলো কম্পাইল করে স্থায়ী কমিটিতে আলোচনা হবে। ফল, কী কর্মসূচি আসবে, কী দাবি-দাওয়া আসবে, তা সময়ের ব্যাপার।’

আরও পড়ুন:

দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনে ‘না’: বিএনপির শীর্ষ নেতাদের ওপর ভাইস চেয়ারম্যান ও উপদেষ্টাদের ক্ষোভ!

পেশাজীবী সংগঠনের সঙ্গে বৈঠক: জনসম্পৃক্তদের দায়িত্বে চান বিএনপির মধ্যম সারির নেতারা

৩ দিনব্যাপী বৈঠক অনুষ্ঠিত: নেতাদের ‘চিন্তা বিনিময়’ থেকে কতটা ‘শিক্ষা’ নেবে বিএনপি?

৪২ বছরেও গঠনতন্ত্র পূর্ণাঙ্গ করতে পারেনি ছাত্রদল

নেতাদের সঙ্গে দ্বিতীয় দফার শেষ বৈঠকে বিএনপি

/এপিএইচ/এমওএফ/

সম্পর্কিত

দলীয় প্রতীকেও নির্বাচন করার চাপ জাসদে

দলীয় প্রতীকেও নির্বাচন করার চাপ জাসদে

ঘরের শত্রু নিয়ে সতর্ক হোন, প্রধানমন্ত্রীকে ইনু

ঘরের শত্রু নিয়ে সতর্ক হোন, প্রধানমন্ত্রীকে ইনু

‘সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার কমায় আয় সংকটে পড়বে মানুষ’

‘সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার কমায় আয় সংকটে পড়বে মানুষ’

গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে বিএনপিকে নেতৃত্ব দিতে হবে: সেলিম

আপডেট : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২১:৩৬

এলডিপি মহাসচিব শাহাদাত হোসেন সেলিম বলেন, বাংলাদেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে বিএনপিকে নেতৃত্ব দিতে হবে। নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে আন্দোলন গড়ে তুলতে পারলেই গণতন্ত্র ফিরে আসবে।

শুক্রবার (২৪ সেপ্টেম্বর) লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলায় এক সভায় তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় উপজেলার ৫ নং চন্ডিপুর ইউনিয়নের ছাত্রদলের সহ-সম্পাদক ব্লাড ক্যান্সারে আক্রান্ত রাকিব হোসেনকে সহযোগিতা দেন সেলিম।

এলডিপির দফতর থেকে পাঠানো প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশে শুক্রবার বিকালে রামগঞ্জে রাকিবের বাড়িতে গিয়ে দেখা করে তাকে ফুলের তোড়া দিয়ে মানসিকভাবে সাহস যোগান শাহাদাত হোসেন। এ সময় চিকিৎসার জন্য তাৎক্ষণিক এক লাখ টাকা নগদ অনুদান দেন তিনি। পাশাপাশি তার চিকিৎসার দায়িত্বও তিনি গ্রহণ করেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপি নেতা শেখ জালাল আহামদ মন্টু, ইঞ্জিনিয়ার নুরুল আমিন প্রমুখ।

/এসটিএস/এনএইচ/

সম্পর্কিত

বৈঠকেই ‘কাউন্সিল’ সেরে নিয়েছে বিএনপি!

বৈঠকেই ‘কাউন্সিল’ সেরে নিয়েছে বিএনপি!

দলীয় প্রতীকেও নির্বাচন করার চাপ জাসদে

দলীয় প্রতীকেও নির্বাচন করার চাপ জাসদে

জাতীয় পার্টিতে যোগ দিয়েছেন ব্যবসায়ী ফজলুল হক বাবু

জাতীয় পার্টিতে যোগ দিয়েছেন ব্যবসায়ী ফজলুল হক বাবু

ঘরের শত্রু নিয়ে সতর্ক হোন, প্রধানমন্ত্রীকে ইনু

ঘরের শত্রু নিয়ে সতর্ক হোন, প্রধানমন্ত্রীকে ইনু

দুই দিনব্যাপী কেন্দ্রীয় কমিটির সভা

দলীয় প্রতীকেও নির্বাচন করার চাপ জাসদে

আপডেট : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২২:২১

১৪ দলীয় জোটের শরিক হিসেবে নৌকা প্রতীকের পাশাপাশি দলীয় ‘মশাল’ প্রতীকেও নির্বাচন করার চাপ সৃষ্টি হয়েছে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল- জাসদে। পাশাপাশি দলটির নেতাদের অভিযোগ— আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোট ও মহাজোটে সমন্বয়হীনতা চলছে, যার রেশ দেখা গেছে করোনাকালে।

শুক্রবার (২৪ সেপ্টেম্বর) থেকে শুরু হওয়া দুই দিনব্যাপী কেন্দ্রীয় কমিটির বৈঠকে দলটির নেতারা শীর্ষ নেতাদের সামনে এসব অবস্থান তুলে ধরেন। রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে এই কমিটিই দলের সর্বোচ্চ ফোরাম।

শুক্রবার সকালে গুলিস্তানের শহীদ কর্নেল তাহের মিলনায়তনে দুই দিনব্যাপী সভার প্রথম দিনে ১৩৩ জন অংশগ্রহণ করছেন। জাতীয় কমিটির সদস্য হিসেবে কেন্দ্রীয় কমিটি, উপদেষ্টা কমিটি ও জেলার সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকরা বৈঠকে অংশগ্রহণ করছেন।

বৈঠকে অংশ নেওয়া জাসদের কেন্দ্রীয় কমিটির একজন দায়িত্বশীল জানান, বৈঠকে সাংগঠনিক ও রাজনৈতিক— উভয় দিক নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এরমধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে, করোনা ভাইরাসের কারণে বাংলাদেশের সুবর্ণজয়ন্তী ও জাসদের ৫০ বছর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আড়ম্বরে উদযাপন করা, জঙ্গিবাদ ও মৌলবাদী সংস্কৃতির বিপরীতে বাঙালিয়ানা সংস্কৃতিকে তুলে ধরা, সাম্প্রদায়িক শক্তির কার্যকর বিরোধিতার বিষয়টিও রয়েছে।

বৈঠকে দলের জাতীয় কমিটির সদস্যরা আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোট ও নির্বাচনি মহাজোটে সমন্বয়হীনতা রয়েছে বলে অভিযোগ করেন। জেলা পর্যায়ের নেতারা জানান, জেলা পর্যায়ে মহাজোট বা ১৪ দলীয় জোটের কার্যক্রমে শরিকদের মূল্যায়ন করা হয় না। গেলো দেড় বছর ধরে করোনার সংক্রমণের সময় সামাজিক কোনও কার্যক্রমেই শরিকদের ডাকা হয়নি। আরেক জেলার গুরুত্বপূর্ণ নেতা ‘নৌকা’ প্রতীকের পাশাপাশি দলীয় প্রতীক হিসেবে ‘মশাল’ প্রতীকে নির্বাচন করার প্রতি জোর দিতে নেতাদের পরামর্শ দেন।

খুলনা বিভাগের একজন জেলা সভাপতি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, বৈঠকে অধিকাংশ সদস্যই স্বকীয়তা ধরে রাখতে দলীয় মশাল প্রতীকে নির্বাচন করার পক্ষে মত দিয়েছেন। এছাড়া, ‘ঘরকাটা ইঁদুর’ আর ‘দুর্নীতির সিন্ডিকেট’ নিয়েও কথা বলেছেন কেউ-কেউ।

দুই দিনব্যাপী সভায় দলের কেন্দ্রীয় নেতারা

বৈঠকে দলের সভাপতি হাসানুল হক ইনু তার প্রারম্ভিক বক্তব্যেও এ বিষয়টি উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, ‘শত্রুদের ষড়যন্ত্র এবং বন্ধুদের সমালোচনার পার্থক্য সরকার ও প্রধানমন্ত্রীকে বুঝতে হবে। শুধু বাইরের শত্রুই নয়, ঘরের শত্রু ঘরকাটা ইঁদুর-উঁইপোকাদের মোকাবিলায় সতর্ক ও প্রস্তুত হোন।’

গাইবান্ধার জেলা সাধারণ সম্পাদক জিয়াউল হক জনি বলেন, ‘বৈঠকে বলেছি, ১৪ দলকে শক্তিশালী করতে হবে। জাসদকে শক্তিশালী করতে হবে। মৌলবাদ ও জঙ্গিবাদ রুখতে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। আওয়ামী লীগের সঙ্গে পার্থক্য থাকা সত্ত্বেও আমরা ঐক্যবদ্ধ আছি। ঐক্যবদ্ধভাবে যেন নির্বাচন হয়, সে বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।’

জাসদের সাতক্ষীরা জেলা সভাপতি ওবায়দিস সুলতান বাবলু বলেন, ‘মূলত রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক বিষয়গুলো নিয়েই জাতীয় কমিটির সভা হচ্ছে। সংগঠনকে শক্তিশালী করার প্রক্রিয়া নিয়েও আলোচনা হচ্ছে। সভা শেষ হলে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে পার্টি।’

জাসদের কেন্দ্রীয় কমিটির একনেতা বলেন, দীর্ঘদিন সরকারে থাকার কারণে সুশাসনের অভাব, স্থানীয় সরকারে একতরফা নির্বাচন নিয়েও কথা বলেছেন জাতীয় কমিটির সদস্যরা। সাম্প্রদায়িক সংস্কৃতির আগ্রাসন, ইন্টারনেটের আগ্রাসন এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ফিরে এলেও বাঙালিয়ানা যে অনুপস্থিত, সেসব বিষয়গুলোকে সামনে রেখে কর্মসূচি প্রণয়নের লক্ষ্যে সভা হচ্ছে।

জাসদের প্রভাবশালী আরেক নেতা জানান, নির্বাচন কমিশন গঠনে স্থায়ী পদ্ধতির প্রয়োজন মনে করছে জাসদ। এক্ষেত্রে সংখ্যানুপাতিক পদ্ধতির পক্ষে জাসদ।

বৈঠক সূত্র জানায়, ২০১৪ সালে ৫টি ও একটি সংরক্ষিত আসন এবং ২০১৮ সালের নির্বাচনে তিনটি আসন পেলেও আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলের চাহিদা বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন কোনও কোনও সদস্য।  

জাসদ সূত্রে জানা গেছে, বৈঠকে দেশের সর্বশেষ রাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপর খসড়া রাজনৈতিক রিপোর্ট উপস্থাপন করেন দলের সাধারণ সম্পাদক শিরীন আখতার এমপি। প্রতিবেদনে জাসদের রাজনীতির ৫০ বছরের খতিয়ান তুলে ধরা হয়েছে বলে জানায় সূত্রটি।

দলের দফতর সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, সভায় দলের কেন্দ্রীয় কার্যকরী কমিটির সদস্য, জেলা কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এবং বিশেষ আমন্ত্রণে কেন্দ্রীয় উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্যরা অংশগ্রহণ করেছেন। সভা আগামীকাল শনিবার (২৫ সেপ্টেম্বর) রাত পর্যন্ত চলবে।

আরও পড়ুন:

ঘরের শত্রু নিয়ে সতর্ক হোন, প্রধানমন্ত্রীকে ইনু

জাসদের কেন্দ্রীয় কমিটির সভা ২৪-২৫ সেপ্টেম্বর

/এপিএইচ/

সম্পর্কিত

বৈঠকেই ‘কাউন্সিল’ সেরে নিয়েছে বিএনপি!

বৈঠকেই ‘কাউন্সিল’ সেরে নিয়েছে বিএনপি!

ঘরের শত্রু নিয়ে সতর্ক হোন, প্রধানমন্ত্রীকে ইনু

ঘরের শত্রু নিয়ে সতর্ক হোন, প্রধানমন্ত্রীকে ইনু

‘সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার কমায় আয় সংকটে পড়বে মানুষ’

‘সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার কমায় আয় সংকটে পড়বে মানুষ’

জাতীয় পার্টিতে যোগ দিয়েছেন ব্যবসায়ী ফজলুল হক বাবু

আপডেট : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১৪:৪০

কুড়িগ্রামের ভুরুঙ্গমারী সরকারি কলেজের সাবেক ভিপি ফজলুল হক বাবু জাতীয় পার্টিতে যোগ দিয়েছেন। তিনি ম্যাক্রো পেপার প্রোডাক্ট লিমিটেড নামে একটি প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী।

শুক্রবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সকালে জাপা চেয়ারম্যানের উত্তরার বাসভবনে গোলাম মোহাম্মদ কাদেরের (জিএম কাদের) হাতে ফুল দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় পার্টিতে যোগ দেন তিনি।

এসময় জাতীয় পার্টির উপদেষ্টামন্ডলীর সদস্য পনির উদ্দিন আহমেদ, জাতীয় পার্টির যুগ্ম সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম সালাউদ্দিন, কুড়িগ্রাম জেলা জাতীয় পার্টির নেতা মো. সুমন, মাসুদ রানা, ফিরোজ রানা উপস্থিত ছিলেন।

/এসটিএস/ইউএস/

সম্পর্কিত

নির্বাচন কমিশন গঠনে আইন প্রণয়ন করতে হবে: জিএম কাদের

নির্বাচন কমিশন গঠনে আইন প্রণয়ন করতে হবে: জিএম কাদের

আগামী বছর রাজনীতির রোডম্যাপ ঘোষণা করবে জাতীয় পার্টি

আগামী বছর রাজনীতির রোডম্যাপ ঘোষণা করবে জাতীয় পার্টি

সুশাসন নিশ্চিত করাই জাপার রাজনীতি: জিএম কাদের

সুশাসন নিশ্চিত করাই জাপার রাজনীতি: জিএম কাদের

পরীক্ষামূলকভাবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়া হোক: জিএম কাদের

পরীক্ষামূলকভাবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়া হোক: জিএম কাদের

ঘরের শত্রু নিয়ে সতর্ক হোন, প্রধানমন্ত্রীকে ইনু

আপডেট : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১৪:৩৮

জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু বলেছেন, ‘শত্রুদের ষড়যন্ত্র এবং বন্ধুদের সমালোচনার পার্থক্য সরকার ও প্রধানমন্ত্রীকে বুঝতে হবে। শুধু বাইরের শত্রুই নয়, ঘরের শত্রু ঘরকাটা ইঁদুর-উইপোকাদের মোকাবিলায় সতর্ক ও প্রস্তুত হোন।’

শুক্রবার (২৪ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর গুলিস্তানের শহীদ কর্নেল তাহের মিলনায়তনে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জাসদের জাতীয় কমিটির দুই দিনব্যাপী সভার উদ্বোধনী বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

হাসানুল হক ইনু বলেন, ‘একদিকে বিএনপি তাদের পুরাতন সঙ্গী জামায়াত-জঙ্গিদের সঙ্গে নিয়ে অসাংবিধানিক সরকার আনার অস্বাভাবিক রাজনীতির পথে থেকেই নতুন করে জল ঘোলা করা শুরু করেছে। অন্যদিকে সরকার-প্রশাসনের চারিদিকে দুর্নীতির চোরাবালি তৈরি হয়েছে। দুর্নীতির সিন্ডিকেট সরকারকে ঘিরে ফেলছে।’

ইনু জঙ্গিবাদ-দুর্নীতির সিন্ডিকেট-গুন্ডাতন্ত্র-বৈষম্য মোকাবিলায় সব গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ অবস্থান গ্রহণের আহ্বান জানান।

সভায় দেশের সর্বশেষ রাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপর খসড়া রাজনৈতিক রিপোর্ট উপস্থাপন করেন দলের সাধারণ সম্পাদক শিরীন আখতার এমপি।

খসড়া রাজনৈতিক রিপোর্টের ওপর আলোচনা করেন কার্যকরী সভাপতি অ্যাডভোকেট রবিউল আলম, অধ্যাপক ড. আনোয়ার হোসেন, মীর হোসাইন আখতার, আফরোজা হক রীনা, আব্দুল হাই তালুকদার, মোহাম্মদ ফজলুর রহমান বাবুল, শহীদুল ইসলাম, শফি উদ্দিন মোল্লা, মোহর আলী চৌধুরী, নইমুল হক চৌধুরী টুটুল, উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য এম সবেদ আলী, সাবেক এমপি আব্দুল মতিন মিঞা, আফজাল হোসেন খান জকি, মোখলেছুর রহমান মুক্তাদির, আব্দুল্লাহিল কাইয়ূম, শওকত রায়হান, মো. মোহসীন, নইমুল আহসান জুয়েল, ওবায়দুর রহমান চুন্নু, মীর্জা মো. আনোয়ারুল হক, সৈয়দ শফিকুল ইসলাম মিন্টু, অ্যাভোকেট. আব্দুল হাই মাহবুব, আব্দুল আলিম স্বপন, জাহাঙ্গীর আলম, অধ্যাপক রাজিউর রহমান বাবুল, অধ্যক্ষ শফিকুর রহমান, সৈয়দা শামীমা সুলতানা হ্যাপী, অ্যাডভোকেট নিলঞ্জনা রিফাত সুরভী, রোকেয়া সুলতানা আঞ্জু প্রমুখ।

সভার শুরুতে ৪৫তম তাহের দিবস উপলক্ষে দলের মুখপত্র ‘লড়াই’ এর বিশেষ সংখ্যার মোড়ক উন্মোচন করা হয়।

সভায় দলের কেন্দ্রীয় কার্যকরী কমিটির সদস্যবৃন্দ, জেলা কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকবৃন্দ এবং বিশেষ আমন্ত্রণে কেন্দ্রীয় উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্যবৃন্দ অংশগ্রহণ করছেন। সভা আগামীকাল শনিবার রাত পর্যন্ত চলবে।

 

/এসটিএস/আইএ/

সম্পর্কিত

বৈঠকেই ‘কাউন্সিল’ সেরে নিয়েছে বিএনপি!

বৈঠকেই ‘কাউন্সিল’ সেরে নিয়েছে বিএনপি!

দলীয় প্রতীকেও নির্বাচন করার চাপ জাসদে

দলীয় প্রতীকেও নির্বাচন করার চাপ জাসদে

‘সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার কমায় আয় সংকটে পড়বে মানুষ’

‘সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার কমায় আয় সংকটে পড়বে মানুষ’

খালেদা জিয়া মুক্ত হলে চন্দ্রিমা উদ্যানে নিয়ে যাবেন: ডা. জাফরুল্লাহ 

খালেদা জিয়া মুক্ত হলে চন্দ্রিমা উদ্যানে নিয়ে যাবেন: ডা. জাফরুল্লাহ 

সর্বশেষসর্বাধিক

লাইভ

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

বৈঠকেই ‘কাউন্সিল’ সেরে নিয়েছে বিএনপি!

বৈঠকেই ‘কাউন্সিল’ সেরে নিয়েছে বিএনপি!

দলীয় প্রতীকেও নির্বাচন করার চাপ জাসদে

দুই দিনব্যাপী কেন্দ্রীয় কমিটির সভাদলীয় প্রতীকেও নির্বাচন করার চাপ জাসদে

ঘরের শত্রু নিয়ে সতর্ক হোন, প্রধানমন্ত্রীকে ইনু

ঘরের শত্রু নিয়ে সতর্ক হোন, প্রধানমন্ত্রীকে ইনু

বাঙালি জাতির কলঙ্ক মোচনে জিয়ার বিচার অবশ্যম্ভাবী: তথ্য প্রতিমন্ত্রী 

বাঙালি জাতির কলঙ্ক মোচনে জিয়ার বিচার অবশ্যম্ভাবী: তথ্য প্রতিমন্ত্রী 

বিএনপির সিরিজ বৈঠক হচ্ছে সিরিজ ষড়যন্ত্রের অংশ: ওবায়দুল কাদের

বিএনপির সিরিজ বৈঠক হচ্ছে সিরিজ ষড়যন্ত্রের অংশ: ওবায়দুল কাদের

শেখ হাসিনার জন্মদিন উপলক্ষে যুবলীগের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি

শেখ হাসিনার জন্মদিন উপলক্ষে যুবলীগের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি

‘সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার কমায় আয় সংকটে পড়বে মানুষ’

‘সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার কমায় আয় সংকটে পড়বে মানুষ’

সর্বশেষ

ছেলেরা কি সোনা-রুপার অলঙ্কার পরতে পারবে?

ছেলেরা কি সোনা-রুপার অলঙ্কার পরতে পারবে?

‘বঙ্গবন্ধুর সাফল্য অসামান্য’ বলেছিলেন সংসদ সদস্যরা

‘বঙ্গবন্ধুর সাফল্য অসামান্য’ বলেছিলেন সংসদ সদস্যরা

চলে গেলেন কমলা ভাসিন

চলে গেলেন কমলা ভাসিন

আঙ্গুলের অপারেশন করাতে গিয়ে জুডো খেলোয়াড়ের মৃত্যু

আঙ্গুলের অপারেশন করাতে গিয়ে জুডো খেলোয়াড়ের মৃত্যু

আফগানিস্তানের ভবিষ্যৎ গতিপথ নির্ধারণ করবে দেশটির জনগণ: জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রী

আফগানিস্তানের ভবিষ্যৎ গতিপথ নির্ধারণ করবে দেশটির জনগণ: জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রী

© 2021 Bangla Tribune