X
সোমবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২১, ৫ আশ্বিন ১৪২৮

সেকশনস

বড়পুকুরিয়ায় কয়লা উৎপাদন বন্ধ

আপডেট : ২৭ জুলাই ২০২১, ২১:৩৭

চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় বড়পুকুরিয়া কয়লা উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে। আগামী তিন মাসের আগে নতুন করে বড়পুকুরিয়া কয়লা খনিতে উৎপাদন শুরু হচ্ছে না। কয়লা খনি কর্তৃপক্ষ সূত্র আজ মঙ্গলবার (২৭ জুলাই) এ খবর নিশ্চিত করেছে। খনি সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, আগামী ১০ আগস্ট বর্তমান চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল। এর আগেই গত ২৫ জুলাই উৎপাদন বন্ধ করে দেয় চিনা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। এখন খনি এলাকায় তিন লাখ টনের মতো কয়লার মজুত রয়েছে। তা দিয়েই আগামী তিন মাস বিদ্যুৎকেন্দ্র চালিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

চিনা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চুক্তি শেষ হওয়ার আগেই খনির বাংলাদেশি কর্মীদের বাড়ি চলে যাওয়ার নোটিশ দিলে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। দু'দিন ধরে এ নিয়ে বড়পুকুরিয়া খনি এলাকায় আন্দোলন চালিয়ে আসছিল শ্রমিকরা।

বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. কামরুজ্জামান খান এ বিষয়ে বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চীনের এক্সএমসি এবং সিএমসি গঠিত কনসোর্টিয়ামের সঙ্গে আমরা নতুন করে চুক্তি করতে যাচ্ছি। করোনার কারণে এই চুক্তি করতে আরও দুই থেকে আড়াই মাস সময় লাগতে পারে। এই সময় কয়লা উত্তোলন বন্ধ থাকবে। অধিকাংশ শ্রমিক কাজ না থাকায় বাড়ি ফিরে গেছে। চুক্তি করার পর আবার শ্রমিকদের কাজে ফিরিয়ে আনা হবে। উৎপাদন বন্ধ থাকায় বর্তমানে খনির অন্যান্য কাজের জন্য ৩০ জনের মতো শ্রমিক কাজ করছে। 

তিনি বলেন, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চাইলে এর আগেও কাজ শুরু করতে পারে। তবে পুরো বিষয়টি নির্ভর করছে করোনার উপর।

কর্তৃপক্ষ সূত্র জানায়,  এখন খনির যে স্তর থেকে কয়লা তোলা হচ্ছে, সেখান থেকে কয়লা তোলা হবে। সেখানে আরও এক থেকে দেড় লাখ টনের মতো কয়লা মজুত রয়েছে বলে জানা গেছে।

এর আগে এর আগে ২০১৮ সালের জুন মাসে খনির স্তর (ফেইজ) চেঞ্জ করার সময় যন্ত্রপাতি সরানোর কথা বলে কয়লা উৎপাদন বন্ধ রাখার কথা বলে খনি কর্তৃপক্ষ। বলা হয়, কয়লার যথেষ্ট মজুত আছে। এরপর জুলাই মাসে এসে হুট করে জানা যায় কয়লা নেই। এরপরই কয়লা চুরির কেলেঙ্কারি নজরে আসে। ব্যাপক আলোচিত এই বিষয়টি নিয়ে সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ মোট ১৯ জনের বিরুদ্ধে মামলাও হয়। তখন কয়লা না থাকায় বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ করে দিতে হয়েছিল।

তবে এখন সে ধরনের শঙ্কা নেই বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

প্রসঙ্গত, ২০০৫ সালে দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়ায় বাংলাদেশের একমাত্র এই কয়লাখনি থেকে ভূগর্ভস্থ পদ্ধতিতে বাণিজ্যিকভাবে কয়লা উত্তোলন শুরু হয়।খনিটির কয়লা দিয়ে বড়পুকুরিয়ায় অবস্থিত কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটি চালানো হয়। তবে বরাবরই চাহিদার তুলনায় কয়লার জোগান কম থাকায় বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতার চেয়ে কম মাত্রায় বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয় এই কেন্দ্র থেকে।

সংশ্লিষ্টদের তথ্য মতে, এই কয়লাখনিতে মোট কয়লার মজুত প্রায় ৩০ কোটি টন, যা প্রায় ৬৫০ হেক্টর এলাকা নিয়ে বিস্তৃত। এলাকাটিকে তিনটি অংশে ভাগ করা হয়, যথা, উত্তর এলাকা (২৭০ হেক্টর), মধ্য এলাকা (৩০০ হেক্টর) ও দক্ষিণ এলাকা (৮০ হেক্টর)। বর্তমানে শুধু মধ্য এলাকা থেকে কয়লা তোলা হচ্ছে।

চীনা ঠিকাদার কোম্পানি পর্যায়ক্রমে কয়েকটি চুক্তির অধীনে ২০০৫ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত ১৩ বছরে এখান থেকে মোট কয়লা উৎপাদন করেছে প্রায় ১ কোটি ১ লাখ টন, যা বড়পুকুরিয়ায় মোট কয়লা মজুতের মাত্র ৫ শতাংশেরও কম।

বর্তমানে চীনা কোম্পানিটির সঙ্গে সর্বশেষ একটি ৪ বছর মেয়াদি (২০১৭-২১) চুক্তির অধীনে তৃতীয় স্লাইস থেকে কয়লা উৎপাদন করা হচ্ছিল।

/এসএনএস/এমআর/

সম্পর্কিত

তিন জেলায় প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের শাখা উদ্বোধন

তিন জেলায় প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের শাখা উদ্বোধন

আজ থেকে প্রতিদিন ৪ ঘণ্টা সিএনজি স্টেশন বন্ধ

আজ থেকে প্রতিদিন ৪ ঘণ্টা সিএনজি স্টেশন বন্ধ

বঙ্গবন্ধু শিক্ষা বিমার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট চার্জ ফ্রি

বঙ্গবন্ধু শিক্ষা বিমার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট চার্জ ফ্রি

ঘুরছে বাংলা কারের চাকা, ৮ লাখেই নতুন মডেল

ঘুরছে বাংলা কারের চাকা, ৮ লাখেই নতুন মডেল

তিন জেলায় প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের শাখা উদ্বোধন

আপডেট : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১৯:১১

সিলেটের গোলাপগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামাপুর এবং পঞ্চগড়ের সদর উপজেলায় প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের আরও তিনটি নতুন শাখা উদ্বোধন করা হয়েছে। সিলেট এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়ার শাখা দুটি উদ্বোধন করেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী ইমরান আহমদ এবং পঞ্চগড়ের শাখা উদ্বোধন করেন রেলমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন। 

রবিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী ইমরান আহমদ প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চুয়ালি প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের ২টি নতুন শাখার উদ্বোধন করেছেন। এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মো. নুরুল ইসলাম নাহিদ। 

প্রধান অতিথির বক্তৃতায় প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী ইমরান আহমদ বলেন, ‘প্রবাসীদের সর্বোচ্চ সেবাদানে সরকার অঙ্গীকারাবদ্ধ। প্রধানমন্ত্রী রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের কল্যাণের কথা চিন্তা করে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক গঠন করেছিলেন। ১০ বছরেই ব্যাংকটি অনেক দূর এগিয়ে গেছে। বিশেষায়িত থেকে এখন এটি একটি তফসিলি ব্যাংকে পরিণত হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘সেবাদান সহজ করতে দেশের প্রতিটি উপজেলায় প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের শাখা খোলা হবে।’

মন্ত্রী সবাইকে বৈদেশিক কর্মসংস্থানে দালালের দৌরাত্ম্য ঠেকাতে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান। শ্রম অভিবাসনে দালালদের নির্মূল বা আইনের আওতায় আনতে পারলে এক্ষেত্রে প্রতারণা ও হয়রানি অনেকাংশে কমে যাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন মন্ত্রী।

নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, ‘সিলেটের গোলাপগঞ্জে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের শাখা খোলায় পার্শ্ববর্তী ৬টি উপজেলার মানুষ   উপকৃত হবে। এছাড়াও বিদেশ গমনেচ্ছু কর্মীদের কল্যাণে এই ব্যাংক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’

এরপর দুপুর একটায় রেলপথমন্ত্রী মো. নুরুল ইসলাম সুজন প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ভার্চুয়ালি পঞ্চগড় সদরে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের শাখা উদ্বোধন করেন।

এ নিয়ে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের মোট শাখা দাঁড়ালো ৮৯টি। ভার্চুয়াল এই উদ্বোধন অনুষ্ঠানটি প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষ থেকে পরিচালনা করা হয়েছে। এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী ইমরান আহমদ।

রেলপথমন্ত্রী মো. নুরুল ইসলাম সুজন বলেন, ‘বৈদেশিক কর্মসংস্থানে দেশের উত্তরাঞ্চল পিছিয়ে আছে। এই জেলাগুলোতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা দরকার। এতে দক্ষ জনশক্তি বৃদ্ধি পাবে এবং এসব এলাকার জনগণ  কাজের উদ্দেশ্যে বিদেশ গমনে উৎসাহী হয়ে উঠবে।’

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব (প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের চেয়ারম্যান) ড. আহমেদ মুনিরুছ সালেহীন। এতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. জাহিদুল হক।  এতে ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের মহাপরিচালক মো. হামিদুর রহমান, বোয়েসেলের  ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. বিল্লাল হোসেন, মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব জয়নাল আবেদীন মোল্ল্যা, আব্দুল মান্নানসহ  মন্ত্রণালয় ও প্রবাসী ব্যাংকের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

 

 

 

/এসও/এপিএইচ/

সম্পর্কিত

বাজার থেকে টাকা তুলে নিচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক

বাজার থেকে টাকা তুলে নিচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক

আগামীকাল ব্যাংক ও শেয়ার বাজার বন্ধ

আগামীকাল ব্যাংক ও শেয়ার বাজার বন্ধ

দেউলিয়া হওয়ার পথে বেসিক ব্যাংক

দেউলিয়া হওয়ার পথে বেসিক ব্যাংক

ব্যাংক থেকে অতিরিক্ত টাকা তুলে নেবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক

ব্যাংক থেকে অতিরিক্ত টাকা তুলে নেবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক

আজ থেকে প্রতিদিন ৪ ঘণ্টা সিএনজি স্টেশন বন্ধ

আপডেট : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১৮:২৩

আজ  রবিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ছয়টা থেকে শুরু হচ্ছে সিএনজি স্টেশনে গ্যাস রেশনিং। পিক আওয়ারে বিদ্যুৎ উৎপাদনে গ্যাস সরবরাহ বাড়াতে প্রতিদিন সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত সিএনজি স্টেশন বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

কোনও সিএনজি স্টেশন আদেশ অমান্য করলে তাদের বিরুদ্ধে গ্যাস আইন-২০১০ অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ইতোমধ্যে গ্যাস বিতরণ কোম্পানিগুলো ভিজিলেন্স টিম গঠন করেছে। আজ থেকেই তারা মাঠে থাকবে।

এর আগে গত ১৯ জুলাই প্রধানমন্ত্রীর বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিষয়ক উপদেষ্টা তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী এবং বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত একটি সভায় গ্যাস সংকট নিরসনে সিএনজি স্টেশনে গ্যাস রেশনিংয়ের এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

আন্তর্জাতিক বাজারে এলএনজির দাম বেড়ে যাওয়ায় সরকার স্পট মার্কেট থেকে এলএনজি আমদানি কমিয়ে দিয়েছে। তবে দেশে গ্যাস ঘাটতি বাড়তে থাকায় চলতি মাসের শেষে আরও তিন কার্গো এলএনজি আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। ওই সময় ঘাটতি পুরোপুরি না মিটলেও পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হবে বলে আশা করা হচ্ছে৷

/এসএনএস/এমএস/এমওএফ/

সম্পর্কিত

তিন জেলায় প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের শাখা উদ্বোধন

তিন জেলায় প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের শাখা উদ্বোধন

বঙ্গবন্ধু শিক্ষা বিমার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট চার্জ ফ্রি

বঙ্গবন্ধু শিক্ষা বিমার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট চার্জ ফ্রি

ঘুরছে বাংলা কারের চাকা, ৮ লাখেই নতুন মডেল

ঘুরছে বাংলা কারের চাকা, ৮ লাখেই নতুন মডেল

ফের আইন ভেঙে বিনিয়োগ করছে ব্যাংক, ঝুঁকিতে শেয়ার বাজার

ফের আইন ভেঙে বিনিয়োগ করছে ব্যাংক, ঝুঁকিতে শেয়ার বাজার

বঙ্গবন্ধু শিক্ষা বিমার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট চার্জ ফ্রি

আপডেট : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১৮:০০

বঙ্গবন্ধু শিক্ষা বিমার জন্য ব্যাংকের স্টুডেন্ট অ্যাকাউন্টে কোনও সার্ভিস চার্জ বা ফি নিতে পারবে না ব্যাংকগুলো। 

রবিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) এ ব্যাপারে একটি সার্কুলার জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। 

সার্কুলারে বলা হয়েছে, সরকারের উদ্যোগে বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের সার্বিক সহযোগিতায় মুজিব শতবার্ষিকীতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সম্মানে বঙ্গবন্ধু শিক্ষা বিমা বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, বঙ্গবন্ধু শিক্ষা বিমার ক্ষেত্রে জীবন বীমা কর্পোরেশন বিমাকারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে। 

এতে আরও বলা হয়েছে, বঙ্গবন্ধু শিক্ষা বিমা সংশ্লিষ্ট আর্থিক লেনদেন শিক্ষার্থীদের স্কুল ব্যাংকিং হিসাবের মাধ্যমে সম্পন্ন করা যাবে। এজন্য কোনও প্রকার সার্ভিস চার্জ বা ফি কর্তন করা যাবে না। শিক্ষার্থীদের স্কুল ব্যাংকিং হিসাব খোলা ও লেনদেন অব্যাহত রাখার বিষয়ে উৎসাহিত করতে হবে।

/জিএম/এনএইচ/

সম্পর্কিত

তিন জেলায় প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের শাখা উদ্বোধন

তিন জেলায় প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের শাখা উদ্বোধন

আজ থেকে প্রতিদিন ৪ ঘণ্টা সিএনজি স্টেশন বন্ধ

আজ থেকে প্রতিদিন ৪ ঘণ্টা সিএনজি স্টেশন বন্ধ

ঘুরছে বাংলা কারের চাকা, ৮ লাখেই নতুন মডেল

ঘুরছে বাংলা কারের চাকা, ৮ লাখেই নতুন মডেল

ফের আইন ভেঙে বিনিয়োগ করছে ব্যাংক, ঝুঁকিতে শেয়ার বাজার

ফের আইন ভেঙে বিনিয়োগ করছে ব্যাংক, ঝুঁকিতে শেয়ার বাজার

ঘুরছে বাংলা কারের চাকা, ৮ লাখেই নতুন মডেল

আপডেট : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১০:৫২

নিজস্ব নকশায় গাড়ি তৈরি করছে হোসেন গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান ‘বাংলা কারস লিমিটেড’। নারায়ণগঞ্জের পঞ্চবটিতে ইতোমধ্যে দেড় শতাধিক গাড়ি তৈরি করে সেগুলো বিক্রিও করেছে প্রতিষ্ঠানটি। যে গাড়িগুলোর ইঞ্জিনে লেখা ‘মেইড ইন বাংলাদেশ’। অচিরেই রফতানি হবে বিশ্বের বড় বড় শহরে। আর দেশের বাজারে আট লাখ টাকা দামের বাংলা কার বিক্রি শুরু হবে আগামী বছরের শেষের দিকে।

বাংলা ট্রিবিউন-এর সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে বাংলা কার নিয়ে বিস্তারিত জানালেন হোসেন গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) জাকির হোসেন। তার সঙ্গে কথা হয় রাজধানীর তেজগাঁওয়ে অবস্থিত ‘বাংলা কার-এর শো-রুমে। যেখানে সাজিয়ে রাখা হয়েছে ৮ রঙের বেশ কয়েকটি বাংলা কার।

বাংলা ট্রিবিউন: বাংলা কার-এর বিশেষত্ব সম্পর্কে বলুন।

জাকির হোসেন: বাংলাদেশকে বিশ্ব দরবারে পরিচয় করিয়ে দেবে গাড়িটি। চার কোটি টাকা খরচ করে যে গাড়ি বাইরে থেকে আনা যায়, সেই গাড়ির সব সুযোগ-সুবিধাও মিলবে 'বাংলা কার-এ। মার্সিডিজ-বিএমডব্লিউ গাড়ির গ্রাহকরা যে সুবিধা পান বাংলা কার-এ তা মিলবে মাত্র ৩২ লাখ টাকায়।

বাংলা ট্রিবিউন: বাংলা কার কিভাবে বিশ্বমানের গাড়ি তৈরি করছে?

জাকির হোসেন: আমরা দেশীয় ডিজাইনে গাড়ি ম্যানুফ্যাচার করছি। জাপানিজ ইসুজু ইঞ্জিন, চায়না বডি ও ইন্দোনেশিয়ার চেসিস দিয়ে গাড়িগুলো তৈরি করছি। বিশ্বের বড় বড় শহরে এই গাড়ি সরবরাহ করবো। ১৫০০ থেকে ২৫০০ সিসি পর্যন্ত গাড়ি তৈরির সক্ষমতা আছে আমাদের। টাটার মতো আমরাও দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশেও রফতানি করবো।

সাক্ষাৎকারে জাকির হোসেন

বাংলা ট্রিবিউন: হোসেন গ্রুপ গাড়ির ব্যবসায় কেন?

জাকির হোসেন: দেশের বাইরে পড়ালেখার পর সেখানে চাকরি করেছি চার বছর। সেখানেই গাড়ি ব্যবসার পরিকল্পনা করি। দেশের জন্য ভালো কিছু করার প্রত্যয় থেকেই এ যাত্রা শুরু। ব্যক্তিগত গাড়ির সংখ্যা যখন বাড়বে, তখন ধরে নিতে হবে দেশ উন্নত হচ্ছে। আর যেহেতু বাংলাদেশের কেউ গাড়ি তৈরি করে না তাই এটি সম্ভাবনাময় খাত। এরপর ৫ বছর লেগেছে শুরু করতেই। এ সময় বিশ্বের সেরা চারটি গাড়ি কোম্পানির সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। তারা হলো, ইসুজু, ইন্দোনেশিয়ার ডিএফএসকে, ডংফিন চায়না ও কিংস্টার চায়না। এই চার কোম্পানির সঙ্গে চুক্তির পর এখন পর্যন্ত ১১৪টি বাংলা কার ঢাকার রাস্তায় চলছে।

বাংলা ট্রিবিউন: এই চার কোম্পানির ভূমিকা কী?

জাকির হোসেন: গাড়ি ম্যানুফ্যাকচারিং করছে বাংলা কারস লিমিটেড। ডিজাইন করেছে বাংলা কার। প্রয়োজন অনুযায়ী ওই চার কোম্পানির সহযোগিতা নিচ্ছি। ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের কাজটা তারা করছে। স্থানীয় ইঞ্জিনিয়ারদের প্রশিক্ষণও দিচ্ছে।

বাংলা ট্রিবিউন: বাংলাদেশের গাড়ির ব্যাপারে বিদেশি চার কোম্পানির আগ্রহ কেমন?

জাকির হোসেন: প্রথমে বাংলাদেশের নাম শুনে আমাকে পাত্তাই দেয়নি। তারপর তাদেরকে বোঝাতে পেরেছি। এরপর তারা চুক্তি করতে রাজি হয়। এখন এই চার প্রতিষ্ঠানও বাংলা কার নিয়ে স্বপ্ন দেখছে।

বাংলা ট্রিবিউন: বাংলা কার-এর চাহিদা কেমন হবে বলে মনে করেন?

জাকির হোসেন: ফ্যাক্টরির সব কাজ শেষ হয়েছে গত বছরেই। কিন্তু পুরো বছরই গেল লকডাউনে। এতে চাহিদা অনুযায়ী উৎপাদন কম হয়েছে। গত মে মাস থেকে অর্ডার নেওয়া শুরু করেছি। গত দুই মাসে ১১৪টি বিক্রি হয়েছে। আরও ৪২টি গাড়ি খুব তাড়াতাড়ি চলতে শুরু করবে। কিছুদিনের মধ্যেই হস্তান্তর হবে। সেই হিসাবে এ পর্যন্ত ১৫৬টি বিক্রি হলো বলা যায়।

জাকির হোসেন

বাংলা ট্রিবিউন: বাংলা কার-এর সু্যোগ-সুবিধা নিয়ে বলুন।

জাকির হোসেন: সহজভাবে বললে কোটি টাকা দামের নতুন গাড়ি আমরা দিচ্ছি ৩২ লাখ টাকায়। ক্রেতাদের ৫ বছরের জন্য কোনও চিন্তা করতে হবে না। ব্র্যান্ড নিউ বাংলা কারে ৫ বছরের ওয়ারেন্টি থাকছে। গাড়িগুলো ডিএফএসকে গ্লোরি মডেলভিত্তিক, যা ইতোমধ্যে বাজারে রয়েছে। একশ’টিরও বেশি ভয়েস কমান্ডসহ একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন ভার্চুয়াল সহকারী রয়েছে। মাল্টিমিডিয়া কনসোল কন্ট্রোলার দ্বারা চালিত একটি ৯ ইঞ্চি ইন্টারফেসের ইনফোটেইনমেন্ট ডিসপ্লে আছে। সহজ সংযোগের জন্য একটি নেভিগেশন সিস্টেম ও ইউএসবি পোর্ট আছে।

সাত আসনের গাড়িতে প্রথম ও দ্বিতীয় সারিতে পা রাখার যথেষ্ট জায়গা রয়েছে। তৃতীয় সারিটি শিশুদের জন্য স্বাচ্ছন্দ্যে ব্যবহারযোগ্য। এসইউভিতে আছে একটি সমৃদ্ধ অডিও সিস্টেম।

এ ছাড়া ৩৬০ ডিগ্রি পার্কিং ক্যামেরাসহ টায়ার প্রেসার মনিটরিং সিস্টেম এবং পার্কিং সেন্সর রয়েছে। দুই স্তরবিশিষ্ট প্যানোরামিক সানরুফও আছে।

বাংলা ট্রিবিউন: ব্যাংক ঋণে বাংলা কার কেনা যাবে?

জাকির হোসেন: শতভাগ ব্যাংক ঋণে আমাদের গাড়ি কিনতে পারবেন গ্রাহক। সিটি ব্যাংকসহ এ পর্যন্ত ১০টির মতো ব্যাংকের সঙ্গে চুক্তি হয়েছে। ৬৫টি গাড়ি বিক্রি হয়েছে ব্যাংক ঋণের মাধ্যমে।

বাংলা ট্রিবিউন: রি-কন্ডিশনড গাড়ি ও বাংলা কার-এর মধ্যে পার্থক্য কী হবে?

জাকির হোসেন: রি-কন্ডিশনড গাড়ি কমদামে পাওয়া গেলেও পরে ভোগান্তিতে পড়তে হয়। বাংলা কার-এ নতুন মডেলই পাওয়া যাচ্ছে কম দামে। আটটি বিভাগীয় শহরে শো রুম দিয়েছি। সবগুলো জেলা শহরে ডিসট্রিবিউটর দেওয়া হবে। বিদেশেও ডিসট্রিবিউটর দেবো।

বাংলা ট্রিবিউন: শুরুতে কী ধরনের সমস্যায় পড়েছিলেন?

জাকির হোসেন: গাড়ির ব্যবসা সম্ভাবনাময়। আমাদের টার্গেট মূলত দেশের মধ্যবিত্তরা। পাশাপাশি রফতানিও করা। কিন্তু আর্ন্তজাতিক বাজারে টিকে থাকতে বন্ড লাইসেন্স দরকার। বন্ড লাইসেন্স হলে মোটর পার্টস তথা ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ আনা সহজ। আন্তর্জাতিক বাজারে এই গাড়ি জনপ্রিয় করতে বন্ড লাইসেন্স লাগবেই।

যেহেতু ৯৫ শতাংশ মোটর পার্টস আমদানি করতে হয়। তাই এটা জরুরি। বিদেশ থেকে যন্ত্রাংশ আনতে সরকারকে উচ্চ কর দিতে হচ্ছে। এ ছাড়া জাহাজের ভাড়াও বেড়েছে। শিপিং খরচ দ্বিগুণেরও বেশি হয়েছে। যদি বন্ড লাইসেন্স পাই ও বিনা শুল্কে পার্টসগুলো আনতে পারি তবে বড় অনেক দেশে গাড়ি রফতানি করা সম্ভব। শুধু তাই নয়, বন্ড লাইসেন্স দেওয়া হলে বড় উদ্যোক্তারাও এ খাতে বিনিয়োগ করবে।

বাংলা ট্রিবিউন: মোটর পার্টস বা যন্ত্রাংশ দেশে তৈরি হবে কবে?

 

জাকির হোসেন: একটি গাড়ি তৈরিতে প্রায় দুই হাজার ধরনের যন্ত্রাংশ লাগে। আমরা ভালো ম্যানুফ্যাকচারিং করতে পারলে দেশেই তৈরি হবে ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ তথা যন্ত্রাংশ। অবশ্য দেশে এমন কিছু কারখানা গড়ে তোলার চেষ্টা চলছে।

তবে দুই হাজার যন্ত্রাংশের জন্য দেড় থেকে দুই শ' ফ্যাক্টরি থাকা দরকার। যেটা এখন সম্ভব নয়। পার্টসগুলো স্থানীয়ভাবে তৈরি করা গেলে ভালো হতো। আপাতত যে দেশের যে যন্ত্রাংশের কোয়ালিটি ভালো, আমরা সেখান থেকেই আমদানি করছি।

বাংলা ট্রিবিউন: বছরে কতগুলো বাংলা কার বিক্রির আশা করছেন?

জাকির হোসেন: বিদেশি চার কোম্পানির সঙ্গে যে চুক্তি হয়েছে, সেই অনুযায়ী বছর অন্তত পাঁচ হাজার গাড়ি বানাতেই হবে। অর্থাৎ বছরে পাঁচ হাজার বিক্রি করতে হবে।

বাংলা ট্রিবিউন: পিএইচপিসহ কিছু বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠান বিশ্বের নামিদামি বিভিন্ন কোম্পানির গাড়ি দেশে তৈরি করে বাজারজাত করছে। তাদের সঙ্গে বাংলা কার-এর পার্থক্য কী?

জাকির হোসেন: পিএইচপি তৈরি করছে প্রোটনের গাড়ি, প্রগতি মিতশুবিসির গাড়ি। আমাদেরটা নিজস্ব নকশার গাড়ি। অন্যরা ভালো গাড়ি বিক্রি করলেও বিদেশি ব্র্যান্ডের বাইরে আসার সুযোগ নেই। আমি আমার মতো করে গাড়ির ব্র্যান্ডিং করতে পারবো। ভেতরকার সুযোগ-সুবিধা যোগ করতে পারবো। সবচেয়ে বড় কথা আমি মেড ইন বাংলাদেশ লিখতে পারবো।

অচিরেই আমরা লরি, ট্রাক, কার, পিকআপ, বাসসহ ১২ ধরনের গাড়ি নামাব। তাছাড়া ইলেকট্রিক গাড়িও তৈরি হবে। ১২টি গাড়ি নতুন নামে ব্রান্ডিং করবো।

বাংলা ট্রিবিউন: করপোরেট অর্ডার বেশি, নাকি ব্যক্তিগত?

জাকির হোসেন: আপাতত ব্যক্তিগত অর্ডার বেশি। তবে বড় বড় কোম্পানি তাদের এমডি ও ম্যানেজার পর্যন্ত কর্মকর্তাদের জন্য বাংলা কার-এর করপোরেট অর্ডার দিচ্ছে। এসএসএফ ও পূবালী ব্যাংক অর্ডার দিয়েছে।

বাংলা ট্রিবিউন: সর্বনিম্ন কত টাকায় বাংলা কার পাওয়া যাবে, সেটা কবে আসবে?

জাকির হোসেন: এখন অন্য মডেলগুলোর অর্ডার নিচ্ছি। তবে সব স্বাভাবিক থাকলে আগামী বছরের শেষের দিকে ৮ লাখ টাকা দামের নতুন মডেলের গাড়ি পাওয়া যাবে। সর্বোচ্চ ৫০ লাখ টাকার গাড়িও থাকবে বাংলা কার-এ। মধ্যব্ত্তি থেকে উচ্চবিত্ত, সবাই বাংলা কার কিনতে পারবে।

বাংলা ট্রিবিউন: আপনাদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী?

জাকির হোসেন: আমি মনে করি, পাঁচ থেকে দশ বছরের মধ্যে বিশ্বের বড় বড় শহরে অন্তত ১ শতাংশ বাংলা কার থাকবে। বন্ড লাইসেন্স দিলে বাংলা কার-এর কারণে বছরে অন্তত ১০ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব পাবে সরকার।

ছবি: সাজ্জাদ হোসেন

/এফএ/

সম্পর্কিত

শীর্ষ করদাতার সম্মাননা পেলো ইসলামী ব্যাংক

শীর্ষ করদাতার সম্মাননা পেলো ইসলামী ব্যাংক

২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ রফতানির প্রস্তাব নেপালের

২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ রফতানির প্রস্তাব নেপালের

পোশাক রফতানি বাড়াতে দূতাবাসের সহযোগিতা চায় বিজিএমইএ

পোশাক রফতানি বাড়াতে দূতাবাসের সহযোগিতা চায় বিজিএমইএ

মঙ্গলবার গ্যাস থাকবে না যেসব জায়গায়

মঙ্গলবার গ্যাস থাকবে না যেসব জায়গায়

ফের আইন ভেঙে বিনিয়োগ করছে ব্যাংক, ঝুঁকিতে শেয়ার বাজার

আপডেট : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২০:০৮

ইভ্যালির প্রতারণা নিয়ে দেশজুড়ে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় বইছে। এমন সময়ে ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে শেয়ারবাজারে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, আইনি সীমা লঙ্ঘন করে আবারও বেশ কয়েকটি ব্যাংককে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করতে দেখা যাচ্ছে।

জানা গেছে, ২০১০ সাল পর্যন্ত ব্যাংকগুলোর বিপুল বিনিয়োগ ছিল পুঁজিবাজারে। সে সময় আইনি সীমা লঙ্ঘন করে অধিকাংশ ব্যাংক পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করে। তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের চাপে হঠাৎ করেই ব্যাংকগুলো বিনিয়োগ প্রত্যাহার করা শুরু করলে ধস নামে পুঁজিবাজারে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, এনআরবি ব্যাংক ও এনআরবি কমার্শিয়াল (এনআরবিসি) ব্যাংকসহ বেশ কয়েকটি ব্যাংক আইনি সীমা লঙ্ঘন করে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করেছে। ইতোমধ্যে ব্যাংক দুটিকে জরিমানা করা হয়েছে। বেশ কয়েকটি ব্যাংককে সতর্ক করা হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে শেয়ার বাজারের

ওপর। শুধু তাই নয়, বাংলাদেশ ব্যাংকের কয়েকটি সিদ্ধান্তের কারণে গত সপ্তাহে প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকা মূলধন হারিয়েছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই)। অর্থাৎ টানা ছয় সপ্তাহ ঊর্ধ্বমুখী থাকার পর গেলো সপ্তাহ কিছুটা পতনের মধ্য দিয়ে পার করেছে দেশের শেয়ারবাজার। এর আগে টানা ছয় সপ্তাহের উত্থানে ডিএসই’র বাজার মূলধন ৫০ হাজার কোটি টাকার ওপরে বেড়েছিল।

অবশ্য এর আগে ২০১০ সালে পুঁজিবাজারে ধস নামার পেছনে বাংলাদেশ ব্যাংকে দায়ী করা হতো। এরপর থেকে দীর্ঘদিন প্রকাশ্যে ও অপ্রকাশ্যে শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি ও ব্যাংকগুলোর নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ ব্যাংক ছিল পরস্পরবিরোধী অবস্থানে।

সর্বশেষ তথ্য বলছে, সম্প্রতি ব্যাংক কোম্পানি আইনের সীমা লঙ্ঘন করে পাইওনিয়ার ইনস্যুরেন্সের শেয়ারে বিনিয়োগ করার অভিযোগে এনআরবি ব্যাংককে ৪৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর কয়েক দিন আগে শেয়ারবাজারে নির্ধারিত সীমার বেশি বিনিয়োগ করার দায়ে এনআরবি কমার্শিয়াল (এনআরবিসি) ব্যাংককে ২৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। আরও কয়েকটি ব্যাংককে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

এদিকে শেয়ারবাজারের তালিকাভুক্ত ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের অদাবিকৃত বা অবন্টিত লভ্যাংশ ‘স্থিতিশীল তহবিলে’ জমা করা নিয়ে দুই নিয়ন্ত্রক সংস্থার মধ্যে বৈপরীত্য শুরু হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, ব্যাংক কোম্পানি আইন অনুযায়ী অদাবিকৃত লভ্যাংশের অর্থ শেয়ারবাজারে স্থিতিশীলতায় গঠিত তহবিলে যাওয়ার কোনও সুযোগ নেই। যেসব ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান এরই মধ্যে এ ধরনের অর্থ তহবিলে জমা দিয়েছে, তা-ও ফেরত আনার কথা বলছে বাংলাদেশ ব্যাংক। অন্যদিকে শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বলছে, এ টাকা বিনিয়োগকারীর। শেয়ারবাজারের তহবিলেই এ অর্থ স্থানান্তর করা যুক্তিযুক্ত। বিএসইসি অবন্টিত লভ্যাংশ শেয়ারবাজারের স্থিতিশীলতার জন্য গঠিত তহবিলে ফেরত আনতে চায়। এ জন্য নতুন করে আইনি বিধানও করেছে সংস্থাটি।  

দুই সংস্থার এমন অবস্থানের খেসারত দিতে হচ্ছে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের। এ বিষয়ে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল সাংবাদিকদের বলেছেন, দুই সংস্থা মধ্যে সমন্বয় করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এর আগে গত আগস্টেও বাংলাদেশ ব্যাংকের এক নির্দেশনা ঘিরে দুই সংস্থার সমন্বয়হীনতার বিষয়টি আলোচনায় আসে। ওই সময় বাংলাদেশ ব্যাংক শেয়ারবাজারে ব্যাংকের বিনিয়োগ নিয়ে প্রতিদিন প্রতিবেদন চেয়ে চিঠি দেয়। সেই সঙ্গে শেয়ারবাজারে ব্যাংকের বিনিয়োগ খতিয়ে দেখতে ব্যাংক ও ব্রোকারেজ হাউস পরিদর্শনও শুরু করে। বাংলাদেশ ব্যাংকের ওই ব্যবস্থার পর শেয়ারবাজারে যাতে পতন না হয়, সে জন্য শেয়ারের বিপরীতে সর্বোচ্চ ঋণসীমার আওতা বাড়িয়ে সূচকের ৮ হাজার পয়েন্ট পর্যন্ত উন্নীত করা হয়।

এদিকে সপ্তাহ শেষে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে পাঁচ লাখ ৭৪ হাজার ৪৭৫ কোটি টাকা। যা তার আগের সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে ছিল পাঁচ লাখ ৮৬ হাজার ৩১৮ কোটি টাকা। অর্থাৎ গেলো সপ্তাহে ডিএসই’র বাজার মূলধন কমেছে ১১ কোটি ৮৪৩ কোটি টাকা।

আগের ছয় সপ্তাহে বাজার মূলধন বাড়ে ৫১ হাজার ৯১৪ কোটি টাকা। এ হিসাবে প্রায় ৫২ হাজার কোটি টাকা মূলধন বাড়ার পর প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকা কমলো।

এদিকে গত সপ্তাহজুড়ে ডিএসইতে লেনদেনে অংশ নেওয়া ৮৪টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ২৮২টির। আর ১২টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

এতে গত সপ্তাহে ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসই-এক্স কমেছে ৩০ দশমিক ৪৩ পয়েন্ট। আগের সপ্তাহে সূচকটি বাড়ে ২৭৭ দশমিক ৬৯ পয়েন্ট।

প্রধান মূল্যসূচকের পাশাপাশি গেলো সপ্তাহে কমেছে ইসলামি শরিয়াহ ভিত্তিতে পরিচালিত কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই শরিয়াহ্ সূচক। গত সপ্তাহজুড়ে সূচকটি কমেছে ১৫ দশমিক ২১ পয়েন্ট। আগের সপ্তাহে সূচকটি বাড়ে ৮৩ দশমিক ৬৫ পয়েন্ট।

অপরদিকে বাছাই করা ভালো কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক আগের সপ্তাহেও বেড়েছে। সপ্তাহজুড়ে এই সূচকটি বেড়েছে ২৭ দশমিক ৪১ পয়েন্ট। আগের সপ্তাহে সূচকটি বাড়ে ১৫০ দশমিক ৩০ পয়েন্ট।

গত সপ্তাহের প্রতি কার্যদিবসে ডিএসইতে গড়ে লেনদেন হয়েছে দুই হাজার ২২৪ কোটি ৪৭ লাখ টাকা। আগের সপ্তাহে প্রতিদিন গড়ে লেনদেন হয় দুই হাজার ৭৭৭ কোটি ৬৩ লাখ টাকা। অর্থাৎ প্রতি কার্যদিবসে গড় লেনদেন কমেছে ৫৫৩ কোটি ১৬ লাখ টাকা। আর গত সপ্তাহজুড়ে ডিএসইতে মোট লেনদেন হয়েছে ১১ হাজার ১২২ কোটি ৩৯ লাখ টাকা। আগের সপ্তাহে লেনদেন হয়েছিল ১৩ হাজার ৮৮৮ কোটি ১৮ লাখ টাকা। সে হিসাবে মোট লেনদেন কমেছে দুই হাজার ৭৬৫ কোটি ৭৯ লাখ টাকা।

 

/আইএ/

সম্পর্কিত

তিন জেলায় প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের শাখা উদ্বোধন

তিন জেলায় প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের শাখা উদ্বোধন

আজ থেকে প্রতিদিন ৪ ঘণ্টা সিএনজি স্টেশন বন্ধ

আজ থেকে প্রতিদিন ৪ ঘণ্টা সিএনজি স্টেশন বন্ধ

বঙ্গবন্ধু শিক্ষা বিমার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট চার্জ ফ্রি

বঙ্গবন্ধু শিক্ষা বিমার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট চার্জ ফ্রি

ঘুরছে বাংলা কারের চাকা, ৮ লাখেই নতুন মডেল

ঘুরছে বাংলা কারের চাকা, ৮ লাখেই নতুন মডেল

সর্বশেষ

ময়মনসিংহে মৃত্যু-শনাক্ত কমেছে

ময়মনসিংহে মৃত্যু-শনাক্ত কমেছে

চট্টগ্রামে সর্বনিম্ন শনাক্তের দিনে একজনের মৃত্যু

চট্টগ্রামে সর্বনিম্ন শনাক্তের দিনে একজনের মৃত্যু

জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষে ১৩ পদে ৫৪ জনের চাকরি

জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষে ১৩ পদে ৫৪ জনের চাকরি

এহসান এমডি রাগীবের প্রতারণা খতিয়ে দেখছে সিআইডি 

এহসান এমডি রাগীবের প্রতারণা খতিয়ে দেখছে সিআইডি 

পাকিস্তানের কাছ থেকে ১২টি জঙ্গিবিমান কিনছে আর্জেন্টিনা

পাকিস্তানের কাছ থেকে ১২টি জঙ্গিবিমান কিনছে আর্জেন্টিনা

টিভিতে আজ

টিভিতে আজ

বৃষ্টিতে ভোটকেন্দ্রের চাল দিয়ে পড়ছে পানি 

বৃষ্টিতে ভোটকেন্দ্রের চাল দিয়ে পড়ছে পানি 

নোয়াখালীতে নৌকার দুই প্রার্থীর ভোট বর্জন

নোয়াখালীতে নৌকার দুই প্রার্থীর ভোট বর্জন

সর্বশেষসর্বাধিক

লাইভ

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

তিন জেলায় প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের শাখা উদ্বোধন

তিন জেলায় প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের শাখা উদ্বোধন

আজ থেকে প্রতিদিন ৪ ঘণ্টা সিএনজি স্টেশন বন্ধ

আজ থেকে প্রতিদিন ৪ ঘণ্টা সিএনজি স্টেশন বন্ধ

বঙ্গবন্ধু শিক্ষা বিমার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট চার্জ ফ্রি

বঙ্গবন্ধু শিক্ষা বিমার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট চার্জ ফ্রি

ঘুরছে বাংলা কারের চাকা, ৮ লাখেই নতুন মডেল

ঘুরছে বাংলা কারের চাকা, ৮ লাখেই নতুন মডেল

ফের আইন ভেঙে বিনিয়োগ করছে ব্যাংক, ঝুঁকিতে শেয়ার বাজার

ফের আইন ভেঙে বিনিয়োগ করছে ব্যাংক, ঝুঁকিতে শেয়ার বাজার

© 2021 Bangla Tribune