X
শনিবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১০ আশ্বিন ১৪২৮

সেকশনস

সংঘর্ষে নিহত নন, তালেবানের হাতে ‘খুন’ হয়েছেন দানিশ সিদ্দিকি

আপডেট : ৩০ জুলাই ২০২১, ১৪:৩৭

পুলিৎজার পুরস্কার-বিজয়ী চিত্রসাংবাদিক ও আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের ভারতে চিফ ফটোগ্রাফার দানিশ সিদ্দিকি আফগানিস্তানে নিহত হন গত ১৬ জুলাই। দেশি-বিদেশি সব সংবাদমাধ্যমেই তখন রিপোর্ট করা হয়েছিল, আফগান সেনাবাহিনী ও তালেবানের সংঘর্ষের মাঝে পড়ে গিয়েই দানিশ প্রাণ হারান।

কিন্তু এখন মার্কিন থিঙ্কট্যাঙ্ক আমেরিকান এন্টারপ্রাইজ ইনস্টিটিউটের সিনিয়র ফেলো, প্রাবন্ধিক ও নামি নিরাপত্তা গবেষক মাইকেল রুবিন জানাচ্ছেন, দানিশ সিদ্দিকি মোটেও সংঘর্ষের মাঝে পড়ে নিহত হননি। বরং তালেবান যোদ্ধারা তাকে একটি মসজিদ থেকে টেনে বের করে ঠান্ডামাথায় খুন করেছে।

বিভিন্ন সূত্র থেকে তথ্য সংগ্রহ করে মাইকেল রুবিন এই উপসংহারে পৌঁছেছেন। ২৯ জুলাই তিনি ওয়াশিংটন এক্সামিনার সাময়িকীতে এই বক্তব্যের সপক্ষে একটি প্রতিবেদনও লিখেছেন। সেখানে তিনি পরিষ্কার লিখেছেন, ‘দানিশ সিদ্দিকি ক্রসফায়ারের মাঝে পড়ে মারা যাননি, তাকে কিছুতেই যুদ্ধের ‘কোল্যাটারাল ড্যামেজ’ও বলা যাবে না। বরং সত্যিটা হলো, তালেবান তাকে নৃশংসভাবে হত্য করেছে।’

এই নিবন্ধের জন্য মাইকেল রুবিন কাবুলে, আফগানিস্তানের প্রাদেশিক সরকারের কর্মকর্তাদের সঙ্গে এবং দিল্লিতে দানিশ সিদ্দিকির কর্মস্থলে অনেকের সঙ্গে কথা বলেছেন। দানিশ যে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলেন, দিল্লির সেই জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া ক্যাম্পাসেই তাকে দাফন করার আগে যারা তার মরদেহ খুব কাছ থেকে দেখেছেন– তাদের কাছ থেকেও তথ্য নিয়েছেন।

দানিশ সিদ্দিকির মৃত্যুর যে ঘটনাক্রম তার গবেষণা থেকে উঠে এসেছে তা এমন:

১৬ জুলাই আফগান সেনার ‘সঙ্গী’ হয়ে দানিশ যাচ্ছিলেন স্পিন বোলডাক অঞ্চলের দিকে, যেখানে পাকিস্তান-আফগানিস্তান বর্ডারের একটি সীমান্ত পোস্ট দখলের জন্য তালেবানের সঙ্গে সেনার যুদ্ধ চলছিল। সেনাবাহিনীর সঙ্গে মিলে এভাবে যে সাংবাদিকরা যান তাদের বলে ‘এমবেডেড’ জার্নালিস্ট, আর এই অভিযানে আফগান সেনা দানিশকে সঙ্গে নিয়েছিল। কারণ, তারা নিজেদের বিজয় নিয়ে নিশ্চিত ছিল। তারা ভেবেছিল, রয়টার্সে এই যুদ্ধজয়ের ছবি বিশ্বজুড়ে তাদের দারুণ বিজ্ঞাপন হবে।

স্পিন বোলডাকের কাস্টমস চৌকি থেকে দলটি যখন মাত্র কয়েকশ’ মিটার দূরে, তখন তালেবানের অতর্কিত হামলায় দলটি ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। দলটির কমান্ডার কয়েকজন সেনাকে নিয়ে একদিকে ছিটকে যান, আর দানিশ ও তিন জন আফগান সেনা ছিটকে যান সম্পূর্ণ অন্যদিকে। দানিশের শরীরে একটি বোমার ‘শার্পনেল’ বিঁধেছিল– তাই তারা গিয়ে আশ্রয় নেন কাছের একটি মসজিদে। সেখানে তাকে ফার্স্ট এইড বা প্রাথমিক শুশ্রূষাও দেওয়া হয়।

ততক্ষণে আশপাশে খবর রটে গেছে, মসজিদে একজন পশ্চিমি বার্তা সংস্থার সাংবাদিক লুকিয়ে আছেন। তালেবান সে খবর পেয়েই সেখানে হামলা চালায় এবং টেনেহিঁচড়ে দানিশ ও তার সঙ্গীদের বের করে আনে। মাইকেল রুবিন নিশ্চিত, দানিশ সিদ্দিকি যখন তালেবানের হাতে ধরা পড়েন তখন তিনি জীবিত ছিলেন। এরপর তারা দানিশের পরিচয় নিশ্চিত করে এবং তাকে ঠান্ডামাথায় খুন করা হয়। দেহটিও ঝাঁঝরা করে দেওয়া হয় বুলেটে।

সেনা দলটির কমান্ডারও ততক্ষণে সদলবলে মসজিদের কাছে ফিরে এসে তাকে বাঁচানোর চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু তালেবানের হাতে তারাও নিহত হন। পরে যে ভারতীয় কর্মকর্তারা কাবুলে দানিশের দেহ গ্রহণ করেন, মাইকেল রুবিন তাদের কাছ থেকে নিশ্চিত হয়েছেন, আগে দানিশের মাথায় ভোঁতা অস্ত্র দিয়ে মেরে তালেবান তাকে হত্যা করে । তারপর তার শরীরে বুলেটবৃষ্টি চালানো হয়।

মাইকেল রুবিনের ভাষায়, ‘তালেবানের নৃশংসতা সুবিদিত। কিন্তু সেই নৃশংসতাকেও যে দানিশের বেলায় তারা অন্য উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছিল তার একমাত্র কারণ সে ছিল ভারতীয়।’ এমনকি ব্যক্তিগত ধর্মবিশ্বাসে দানিশ যে মুসলিম ছিলেন, তার জন্যও তাকে কোনও রেহাই দেয়নি ইসলামের ধ্বজাধারী বলে নিজেদের দাবি করা তালেবান যোদ্ধারা।

আফগানিস্তানে দীর্ঘদিন ভারতের রাষ্ট্রদূত ছিলেন বাঙালি কূটনীতিবিদ গৌতম মুখোপাধ্যায়। তিনি এদিন বাংলা ট্রিবিউনকে বলছিলেন, ‘সত্যি বলতে কী, আমি এই খবরে বিন্দুমাত্র আশ্চর্য নই। তালেবানের ভারতবিরোধিতা এতটাই চরমে যে তারা ভারতীয় মুসলিমদেরও ইসলামের সত্যিকারের প্রতিনিধি বলে মনে করে না। দানিশ সিদ্দিকির মতো একজন প্রতিভাবান আলোকচিত্রী তাদের সেই ভারত-বিদ্বেষের বলি হলেন, এটাই চরম দুর্ভাগ্যের।’

/এমপি/এমওএফ/

সম্পর্কিত

নিজেদের যোদ্ধাদের তিরস্কার করলো তালেবান

নিজেদের যোদ্ধাদের তিরস্কার করলো তালেবান

শর্ত মানলে শান্তি আলোচনায় রাজি উত্তর কোরিয়া: কিমের বোন

শর্ত মানলে শান্তি আলোচনায় রাজি উত্তর কোরিয়া: কিমের বোন

‘নারীদের দাবি মেনে নেওয়া ছাড়া উপায় নেই তালেবানের’

‘নারীদের দাবি মেনে নেওয়া ছাড়া উপায় নেই তালেবানের’

মঙ্গল গ্রহে ভূমিকম্প, কাঁপলো দেড় ঘণ্টা

আপডেট : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২৩:৩২

শনিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর। অতীতের মতো মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা’র ইনসাইট ল্যান্ডার রোবট লাল গ্রহের খালি ধূলো সমভূমিতে নীরবে বসেছিল। কিন্তু এক সময় তা কাঁপতে শুরু করে। এই কম্পন স্থায়ী হয় প্রায় দেড় ঘণ্টা।

রোবটটি নিজেরে সিসমোটিারের সাহায্যে এই কম্পনের তথ্য পাঠায় পৃথিবীতে। আর নাসার বিজ্ঞানীরা বুজতে পারেন এতদিন তারা যে ঘটনার জন্য অপেক্ষা করছিলেন তা ঘটে গেছে: একটি বড় ভূমিকম্প।

রোবটের পাঠানো তথ্য অনুসারে, এই ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৪ দশমিক ২। ২০১৮ সালের নভেম্বরে মঙ্গল গ্রহে ইনসাইট ল্যান্ডারকে পাঠানোর পর থেকেই এমন একটি ভূমিকম্প পর্যালোচনার অপেক্ষায় ছিলেন নাসার বিজ্ঞানীরা।

সম্প্রতি আরও দুটি বড় ভূমিকম্প হয়েছে। ২৫ আগস্ট রোবটি দুটি ভূমিকম্পের সংকেত পাঠায়। একটি ছিল ৪ দশমিক ২ মাত্রার এবং অপরটি ৪ দশমিক ১ মাত্রার

এর আগে রোবটের সবচেয়ে বড় ভূমিকম্পের খবর পাঠানো ছিল ২০১৯ সালে। সেটি ছিল ৩ দশমিক ৭ মাত্রার।

ইনসাইট ল্যান্ডারের প্রিন্সিপাল ইনভেস্টিগেটর ব্রুস ব্যানার্ড এপ্রিলে বলেছিলেন, মনে হচ্ছে আমাদের প্রত্যাশার চেয়ে মঙ্গল গ্রহে ছোট ভূমিকম্পের তুলনায় বড় ভূমিকম্পের সংখ্যা কম।এটি কিছু মাত্রায় রহস্যময়।  

কিন্তু শনিবারের ভূমিকম্পটি ছিল ৩.৭ মাত্রার চেয়ে পাঁচগুণ বেশি শক্তিশালী।

ইনসাইট ল্যান্ডার এখন পর্যন্ত মঙ্গল গ্রহে সাত শতাধিক ভূমিকম্প শনাক্ত করেছে। এতে করে করে গ্রহটির অভ্যন্তরীণ কাঠামো সম্পর্কে তথ্য পাওয়া গেছে। বিজ্ঞানীরা জানতে পেরেছেন, যতটা ভাবা হয়েছিল তার চেয়ে মঙ্গল পৃষ্ঠের পুরুত্ব অনেক কম। পৃথিবীর চেয়ে ভিন্ন কিন্তু চাঁদের পৃষ্ঠের অনেক কাছাকাছি। এছাড়া অনেক জায়গায় ভাঙাচোড়া আছে। ফলে পৃথিবীর ভূমিকম্পের চেয়ে সেখানে স্থায়িত্ব বেশি।  সূত্র: বিজনেস ইনসাইডার

/এএ/

সম্পর্কিত

জাতিসংঘ অধিবেশনে গিয়ে করোনায় আক্রান্ত ব্রাজিলের স্বাস্থ্যমন্ত্রী

জাতিসংঘ অধিবেশনে গিয়ে করোনায় আক্রান্ত ব্রাজিলের স্বাস্থ্যমন্ত্রী

উন্নয়নশীল দেশগুলোকে আরও ৫০ কোটি ডোজ টিকা দেবে যুক্তরাষ্ট্র

উন্নয়নশীল দেশগুলোকে আরও ৫০ কোটি ডোজ টিকা দেবে যুক্তরাষ্ট্র

নষ্ট হওয়ার পথে ২৪ কোটি ডোজ টিকা

নষ্ট হওয়ার পথে ২৪ কোটি ডোজ টিকা

২-৬ মাসের ব্যবধানে বুস্টার ডোজে বাড়ে কার্যকারিতা: জনসন অ্যান্ড জনসন

২-৬ মাসের ব্যবধানে বুস্টার ডোজে বাড়ে কার্যকারিতা: জনসন অ্যান্ড জনসন

নিজেদের যোদ্ধাদের তিরস্কার করলো তালেবান

আপডেট : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২২:৩০

আফগানিস্তানের দখল নেওয়ার পর কয়েকটি ঘটনায় নিজেদের যোদ্ধাদের অসদাচরণের তীব্র তিরস্কার করেছে তালেবান। গোষ্ঠীটির সিনিয়র নেতা ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ ইয়াকুব এক অডিও বার্তায় বলেছেন, অপব্যবহার মেনে নেওয়া হবে না। শুক্রবার ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি এখবর জানিয়েছে।

অডিও বার্তায় ইয়াকুব দাবি করেছেন, তালেবান ইউনিটে কিছু দুষ্কৃত ও কুখ্যাত সাবেক সেনাকে যোগদানের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। যারা বিভিন্ন সময় সহিংস নিপীড়ন চালাচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, আমরা এদেরকে বাহিনীর বাইরে রাখার নির্দেশ দিচ্ছি। অন্যথায় আপনাদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। আমাদের বাহিনীতে এমন লোকজনকে চাই না।

ইয়াকুব স্বীকার করেছেন, অনুমোদন ছাড়া কয়েকটি বিচ্ছিন্ন হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। তবে বলেছেন, এমন পদক্ষেপ সহ্য করা হবে না।

তালেবান নেতা বলেন, আপনারা সবাই অবগত আছেন যে, আফগানিস্তানে সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করায় কোনও মুজাহিদের প্রতিশোধ নেওয়ার অধিকার নেই।

অডিও বার্তায় তালেবান নেতা টহল টিমের সদস্যদের এখতিয়ার বহির্ভুত কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেছেন, তাদের যেখানে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সেখানেই থাকা উচিত।

তার কথায়, সবাই মোবাইল ফোন ব্যবহার করে গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ে ছবি তুলছেন, এটি অনুমোদন যোগ্য না। এমন ঘুরে বেড়ানোর ছবি ও ভিডিও এই জগতে কোনও কাজে আসবে না এবং পরকালেও না।

 

/এএ/

সম্পর্কিত

শর্ত মানলে শান্তি আলোচনায় রাজি উত্তর কোরিয়া: কিমের বোন

শর্ত মানলে শান্তি আলোচনায় রাজি উত্তর কোরিয়া: কিমের বোন

‘নারীদের দাবি মেনে নেওয়া ছাড়া উপায় নেই তালেবানের’

‘নারীদের দাবি মেনে নেওয়া ছাড়া উপায় নেই তালেবানের’

শর্ত মানলে শান্তি আলোচনায় রাজি উত্তর কোরিয়া: কিমের বোন

আপডেট : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২১:৩৮

উত্তর কোরীয় নেতা কিম জং উনের প্রভাবশালী বোন কিম ইয়ো-জং বলেছেন, দক্ষিণ কোরিয়া যদি কোনও উসকানিমূলক পদক্ষেপ না নেয় তাহলে তারা আবার শান্তি আলোচনা শুরু করতে রাজি। এমন সময় তিনি একথা বললেন যখন উপদ্বীপে শান্তি প্রতিষ্ঠায় কোরীয় যুদ্ধের আনুষ্ঠানিক অবসানের জন্য ডাক দিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া।

সম্প্রতি জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট মুন জায়ে কোরীয় যুদ্ধের আনুষ্ঠানিক অবসান ঘটানোর আহ্বান জানান। তার এই ভাষণের  পর হঠাৎ জারি করা এক বিবৃতিতে কিম ইয়ো-জং একে ‘প্রশংসনীয় পরিকল্পনা’ বলে উল্লেখ করেছেন।

বিবৃতিতে কিমের বোন বলেন, উত্তর কোরিয়ার ব্যাপারে সিউলে সরকার যদি কঠোর শত্রুতামূলক অবস্থান পরিত্যাগ করে- তাহলে দুই কোরিয়ার মধ্যে সম্পর্কোন্নয়ন নিয়ে পিয়ংইয়ং সরকারের সঙ্গে আলোচনা হতে পারে।

তার বিবৃতিতে অনেকগুলো শর্ত রয়েছে বলে বিবিসি’র খবরে উল্লেখ করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, কোরিয়ার যুদ্ধটি শেষ হয়েছিল ১৯৫৩ সালে। কিন্তু তা ঘটেছিল একটা যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে। দুই দেশের মধ্যে কোনও শান্তি চুক্তি হয়নি। ফলে দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধ আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হয়নি। সূত্র: বিবিসি

/এএ/

সম্পর্কিত

নিজেদের যোদ্ধাদের তিরস্কার করলো তালেবান

নিজেদের যোদ্ধাদের তিরস্কার করলো তালেবান

‘নারীদের দাবি মেনে নেওয়া ছাড়া উপায় নেই তালেবানের’

‘নারীদের দাবি মেনে নেওয়া ছাড়া উপায় নেই তালেবানের’

ক্রিপ্টোকারেন্সি নিষিদ্ধ করলো চীন

ক্রিপ্টোকারেন্সি নিষিদ্ধ করলো চীন

মডেলের চুল কাটায় ভুল, ২ কোটি রুপি জরিমানা

মডেলের চুল কাটায় ভুল, ২ কোটি রুপি জরিমানা

‘নারীদের দাবি মেনে নেওয়া ছাড়া উপায় নেই তালেবানের’

আপডেট : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২০:৫২

আফগানিস্তানের এক শীর্ষস্থানীয় মানবাধিকারকর্মী বলেছেন, যদি তালেবান অর্থনৈতিক ধস ও কূটনৈতিক বিচ্ছিন্নতা এড়াতে চায় তাহলে আফগান নারীদের দাবি মেনে নেওয়া ছাড়া উপায় নেই তাদের। ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে একথা বলেছেন প্রবীন অ্যাক্টিভিস্ট মাহবুবা সিরাজ।

৭৩ বছর বয়সী এই অ্যাক্টিভিস্ট মাহবুবা সিরাজ গত মাসে তালেবান কাবুল দখলের পরও দেশ ছাড়েননি। বাড়িতে থেকে তিনি তালেবানের মিশ্র বার্তাগুলো পর্যবেক্ষণ করছেন। চেষ্টা করছেন দেশের নারীদের অধিকারের ক্ষেত্রে সামনে কী অপেক্ষা করছে।

মাহবুবা সিরাজ বলেন, এটি সবার জন্য দুঃস্বপ্নে পরিণত হচ্ছে।

তালেবান শাসনে ক্রমাগত নারীদের স্বাধীনতা কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। মেয়েদের মাধ্যমিক স্কুলে ফিরতে না দেওয়া, কর্মজীবী নারীদের ঘরে থাকতে বলা এবং কেবল পুরুষদের নিয়ে সরকার গঠন করা হয়েছে। তারা বলছে, এটি সাময়িক। কিন্তু অনেকেই এটিকে ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি হিসেবে দেখছেন।

এই অ্যাক্টিভিস্ট বলেন, প্রথমবারও তালেবান একই অজুহাতের কথা বলেছে। তারা বলেছিল, অপেক্ষা কর, আমরা সবকিছু ঠিক করে ফেলব। আমরা ছয় বছর অপেক্ষা করেছি। কিন্তু সেই দিন আর আসেনি। আফগানিস্তানের নারীরা তালেবানকে এক বিন্দু বিশ্বাস করে না।

তিনি জানান, অনেক নারী সংশয় ও গুরুতর চাপে রয়েছেন। বাড়ি থেকে বের হতে ও তালেবানের হয়রানির মুখোমুখি হতে অনেকে আতঙ্কিত। তবে তিনি আশাবাদী যে, ক্ষমতায় থাকতে হলে তালেবানকে কিছুটা সমন্বয় করতে হবে।

তার কথায়, এখন ৯০ দশকের আফগানিস্তান নেই। এই আফগানিস্তান অনেক ভিন্ন। আমি সত্যিই বিশ্বাস করি পরিবর্তন হবে। এছাড়া উপায় নেই। তালেবানকে এটা অনুধাবন করা উচিত। সূত্র: এএফপি

/এএ/

সম্পর্কিত

নিজেদের যোদ্ধাদের তিরস্কার করলো তালেবান

নিজেদের যোদ্ধাদের তিরস্কার করলো তালেবান

শর্ত মানলে শান্তি আলোচনায় রাজি উত্তর কোরিয়া: কিমের বোন

শর্ত মানলে শান্তি আলোচনায় রাজি উত্তর কোরিয়া: কিমের বোন

গ্রামের সব নারীদের কাপড় ধোয়ার শর্তে যৌন নিপীড়কের জামিন

আপডেট : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১৯:৪৮

বিহারের একটি আদালত যৌন নিপীড়নে অভিযুক্ত এক যুবককে ছয় মাস বিনামূল্যে তার গ্রামের সব নারীদের কাপড় ধোয়া ও ইস্ত্রি করার শর্তে জামিন দিয়েছে। শুক্রবার ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য হান্স ইন্ডিয়া এখবর জানিয়েছে।

রাজধানী পাটনা থেকে ১৮০ কিলোমিটার দূরে মুধবানী জেলার অতিরিক্ত জেলা বিচালক অভিনাশ কুমার জামিনের আদেশে বলেছেন, অভিযুক্ত লালন কুমার সফি (২০)-কে গ্রামের পঞ্চায়েত প্রধান, সরপঞ্জ বা সরকারি কোনও কর্মকর্তার কাছ থেকে বিনামূল্যে ছয় মাস নারীদের কাপড় ধোয়া ও ইস্ত্রি করার কাজ করার সনদপত্র আদালতে দাখিল করতে।

মঙ্গলবার দেওয়া আদেশে বিচারক বলেন, গ্রামের সব নারীদের কাপড় সংগ্রহ, ধোয়া ও ইস্ত্রি করার কাজ বিনামূল্যে ছয় মাস করার শর্তে লালনের জামিন মঞ্জুর করা হলো। এটি নারীদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে তাকে সহযোগিতা করবে।

বিচারক আরও বলেছেন, ধোয়া ও ইস্ত্রি শেষে কাপড় ফেরত দিতে তাকে বাড়ি বাড়ি যেতে হবে।

খবরে বলা হয়েছে, আদালতের এই আদেশের কপি পঞ্চায়েতে পাঠানো হয়েছে। যাতে করে নির্বাচিত ওই ব্যক্তি লালনের ওপর নজর রাখেন সে যেনও কোনও পেশাদার ধোপার সহযোগিতা নিতে না পারে।

/এএ/

সম্পর্কিত

মডেলের চুল কাটায় ভুল, ২ কোটি রুপি জরিমানা

মডেলের চুল কাটায় ভুল, ২ কোটি রুপি জরিমানা

দিল্লির আদালতে গোলাগুলি, ৩ গ্যাংস্টার নিহত

দিল্লির আদালতে গোলাগুলি, ৩ গ্যাংস্টার নিহত

ইলিশ রফতানি: বাংলাদেশের শর্তকে অবাস্তব বললো ভারত

ইলিশ রফতানি: বাংলাদেশের শর্তকে অবাস্তব বললো ভারত

ভারতে ৯ মাস ধরে কিশোরীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, ২৮ জন আটক

ভারতে ৯ মাস ধরে কিশোরীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, ২৮ জন আটক

সর্বশেষসর্বাধিক

লাইভ

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

নিজেদের যোদ্ধাদের তিরস্কার করলো তালেবান

নিজেদের যোদ্ধাদের তিরস্কার করলো তালেবান

শর্ত মানলে শান্তি আলোচনায় রাজি উত্তর কোরিয়া: কিমের বোন

শর্ত মানলে শান্তি আলোচনায় রাজি উত্তর কোরিয়া: কিমের বোন

‘নারীদের দাবি মেনে নেওয়া ছাড়া উপায় নেই তালেবানের’

‘নারীদের দাবি মেনে নেওয়া ছাড়া উপায় নেই তালেবানের’

গ্রামের সব নারীদের কাপড় ধোয়ার শর্তে যৌন নিপীড়কের জামিন

গ্রামের সব নারীদের কাপড় ধোয়ার শর্তে যৌন নিপীড়কের জামিন

ক্রিপ্টোকারেন্সি নিষিদ্ধ করলো চীন

ক্রিপ্টোকারেন্সি নিষিদ্ধ করলো চীন

মডেলের চুল কাটায় ভুল, ২ কোটি রুপি জরিমানা

মডেলের চুল কাটায় ভুল, ২ কোটি রুপি জরিমানা

আফগানদের ঠেকাতে ১০ ফুট উঁচু কংক্রিটের দেয়াল তুরস্কের

আফগানদের ঠেকাতে ১০ ফুট উঁচু কংক্রিটের দেয়াল তুরস্কের

সর্বশেষ

ছেলেরা কি সোনা-রুপার অলঙ্কার পরতে পারবে?

ছেলেরা কি সোনা-রুপার অলঙ্কার পরতে পারবে?

‘বঙ্গবন্ধুর সাফল্য অসামান্য’ বলেছিলেন সংসদ সদস্যরা

‘বঙ্গবন্ধুর সাফল্য অসামান্য’ বলেছিলেন সংসদ সদস্যরা

চলে গেলেন কমলা ভাসিন

চলে গেলেন কমলা ভাসিন

আঙ্গুলের অপারেশন করাতে গিয়ে জুডো খেলোয়াড়ের মৃত্যু

আঙ্গুলের অপারেশন করাতে গিয়ে জুডো খেলোয়াড়ের মৃত্যু

আফগানিস্তানের ভবিষ্যৎ গতিপথ নির্ধারণ করবে দেশটির জনগণ: জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রী

আফগানিস্তানের ভবিষ্যৎ গতিপথ নির্ধারণ করবে দেশটির জনগণ: জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রী

© 2021 Bangla Tribune