X
শনিবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১০ আশ্বিন ১৪২৮

সেকশনস

সাতক্ষীরায় ডুবেছে ১৯ হাজার মাছের ঘের, ক্ষতি ৫৩ কোটি

আপডেট : ৩১ জুলাই ২০২১, ১১:৪১

সাতক্ষীরায় টানা তিন দিনের বৃষ্টিতে সাত উপজেলার ৭৮টি ইউনিয়ন ও দুইটি পৌরসভার নিম্নাঞ্চল ডুবে গেছে। ভেসে গেছে ১৯ হাজারের বেশি মাছের ঘের। এতে মাছ চাষিদের ক্ষতি ৫৩ কোটি টাকা। এদিকে ১৭ হেক্টর বীজতলা পানির নিচে তলিয়ে গেছে।

নিম্নচাপের প্রভাবে গত মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে বৃহস্পতিবার রাত ১২টা পর্যন্ত সাতক্ষীরায় মোট ২৩২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এতে জেলার কালিগঞ্জ, আশাশুনি ও শ্যামনগর উপজেলায় ১৯ হাজার ৪৫৯টি মৎস্য ঘের ভেসে গেছে। সরকারিভাবে ভেসে যাওয়া ঘেরের আয়তন নির্ধারণ করা হয়েছে ১২ হাজার ৬৫ হেক্টর। এতে ক্ষতির পরিমাণ দেখানো হয়েছে ৫৩ কোটি ৪৯ লাখ টাকা।

এদিকে জেলা কৃষি অফিস সূত্র জানিয়েছে, ভারী বর্ষণে নিম্ন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এখন পর্যন্ত এক হাজার ৭০০ হেক্টর জমির আমন বীজতলা পানিতে ডুবে আছে। সেই সঙ্গে পানিতে তলিয়ে গেছে সদ্য রোপনকৃত ৮৬০ হেক্টর জমির আমন ধান।

বৃষ্টিতে চারদিকে পানি থৈ থৈ করছে

এখনই ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করা সম্ভব নয় জানিয়ে কর্মকর্তারা বলছেন, পানি স্থায়ী হলে যে ক্ষতি হবে তা সহসায় কাটিয়ে উঠতে পারবে না কৃষকরা। তবে, জেলাব্যাপী সব সেক্টরে যে ক্ষতি হয়েছে তা এখন পর্যন্ত সঠিকভাবে নিরূপণ করতে পারেননি বলে জানিয়েছে স্ব স্ব দফতর।

এদিকে সাতক্ষীরা পৌরসভার অধিকাংশ নিচু এলাকা এখনও পানিতে ডুবে আছে। পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা না থাকায় স্থায়ী জলাবদ্ধতার কবলে পড়েছে সাতক্ষীরাবাসী। 

সাতক্ষীরা পৌরসভার বদ্দীপুর কলোনির বাসিন্দা জাকির হোসেন বলেন, ‘সামান্য বৃষ্টিতে আমাদের এলাকা তলিয়ে যায়। আর বৃহস্পতিবারের ব্যাপক বৃষ্টিতে চারদিকে পানি থৈ থৈ করছে। চারদিকে আটকানো। পানি বের হওয়ার সুযোগ নেই। আমার তিন মাছের পুকুর ভেসে গেছে। এতে ক্ষতি হয়েছে লক্ষাধিক টাকা।’

টানা বৃষ্টির ফলে গদাইবিল, ছাগলার বিল, শ্যাল্যের বিল, বিনেরপোতার বিল, রাজনগরের বিল, কচুয়ার বিল, চেলারবিল, পালিচাঁদ বিল, বুড়ামারা বিল, হাজিখালি বিল, আমোদখালি বিল, বল্লীর বিল ও মাছখোলার বিলসহ কমপক্ষে ২০টি বিল ডুবে গেছে। এসব বিলের মাছের ঘের ভেসে পানিতে একাকার হয়ে গেছে। বেতনা নদী তীরবর্তী এই বিলগুলোর পানি নদী নিষ্কাশন হতে পারছে না। এই পানি পৌরসভার ভেতরে ঢুকছে। গ্রামাঞ্চলের সব পুকুর পানিতে তলিয়ে গেছে। বেরিয়ে গেছে শত কোটি টাকার মাছ। সবজি ক্ষেতগুলো পানিতে ভাসছে।

পানির নিচে তলিয়ে গেছে ১৭ হেক্টর বীজতলা

এদিকে, বৃষ্টির পানিতে সয়লাব হয়ে গেছে উপকুলীয় উপজেলা শ্যামনগর, কালিগঞ্জ ও আশাশুনিসহ জেলার সাতটি উপজেলা। সেখানে প্রধান রাস্তার উপর দিয়েও পানি প্রবাহিত হচ্ছে। এসব এলাকার মাছের ঘের তলিয়ে গেছে। আশাশুনি উপজেলার প্রতাপনগর, আনুলিয়া, খাজরা, বড়দল, শ্রীউলা, আশাশুনি সদরসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল পানিতে থৈ থৈ করছে।

শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা, বুড়িগোয়ালিনী, কাশিমাড়ি, কৈখালী, রমজাননগরসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের মাছের ঘের ও পুকুর পানিতে ভেসে একাকার হয়ে গেছে। বসতবাড়িতে উঠেছে পানি। পানি নিষ্কাশনের খালগুলো দখল করার কারণে এ দুর্দশার কবলে পড়েছেন এলাকাবাসি। হাঁস-মুরগি ও গবাদিপশু নিয়ে বিপাকে পড়েছেন প্লাবিত এলাকার মানুষ। তালা উপজেলার ইসলামকাটি, মাগুরা, কুমিরা, খেশরা, তেঁতুলিয়া, ধানদিয়াসহ বিভিন্ন অঞ্চলের সবজি ক্ষেত তলিয়ে গেছে। ভেসে গেছে পুকুর ও মাছের ঘের।

কালীগঞ্জের রতনপুর, কালিকাপুর, বিষ্ণুপুর, মথুরেশপুরসহ বিস্তীর্ণ এলাকার মাছের ঘের, পুকুর ও সবজি ক্ষেত ডুবে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। দেবহাটার কোমরপুর, পারুলিয়া, সখীপুর ও নওয়াপাড়া ইউনিয়নের বেশকিছু এলাকায় পানিতে তলিয়ে গেছে পুকুর ও ঘের। কলারোয়ার জয়নগর, ধানদিয়া, যুগিখালি, সোনাবাড়িয়া, শ্রীপতিপুর, ব্রজবকসসহ বিভিন্ন এলাকা তলিয়ে গেছে। ভেঙে পড়েছে যোগাযোগ ব্যবস্থা। হাঁস-মুরগি ও গবাদি পশু নিয়ে মানুষ চরম বিপদে পড়েছে।

আশাশুনির শ্রীউলা এলাকার ঘের ব্যবসায়ী তরুণ কান্তি সরকার জানান, ‘বছরে তিন থেকে চারবার আমাদের মাছের ঘের ভেসে যাচ্ছে। কিন্তু প্রতিরোধে কোনও ব্যবস্থা নেই। ৫০ বিঘার একটি ঘেরে আম্পানে আমার ক্ষতি হয়েছিল ২০ লাখ টাকা। ইয়াসে ক্ষতি পাঁচ লাখ টাকা। আর এই কয়দিনের টানা বর্ষণে আমার ঘের ভেসে ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ১০ লাখ টাকা। ঘের ব্যবসা বাদ দেওয়া ছাড়া উপায় নেই।’

শুক্রবার সকাল পর্যন্ত ১৪৩ মিলিমিটার বৃষ্টি

শ্যামনগরের পদ্মপুকুর এলাকার ঘের ব্যবসায়ী রবিউল ইসলাম জানান, তার ১০০ বিঘার একটি ঘের রয়েছে। গতকাল সেটা ঘের ভেসে গেছে। ক্ষতি হয়েছে কমপক্ষে ১৫ লাখ টাকা। ব্যাংক সুদ মাপ হয় না। বছরের কয়েকবার এমন ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে।

সাতক্ষীরা আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জুলফিকার আলী রিপন জানান, নিম্নচাপের প্রভাবে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে শুক্রবার সকাল পর্যন্ত ১৪৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। গত পাঁচ বছরের মধ্যে এই অঞ্চলে এটাই সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাতের রেকর্ড।

সাতক্ষীরা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ নূরুল ইসলাম বলেন, ভারী বর্ষণে জেলার নিম্ন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এতে এক হাজার ৭০০ হেক্টর জমির রোপা আমন বীজতলার ক্ষতি হয়েছে। ৮৬০ হেক্টর রোপা আমন ধানের ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া ৫০০ হেক্টর জমির সবজির ক্ষতি হয়েছে। বৃষ্টি আর না হলে ক্ষতির পরিমাণ ধীরে ধীরে কমবে বলে জানান তিনি।

মৎস্য অধিদফতর সূত্র জানায়, ঘূর্ণিঝড় আম্পানে সাতক্ষীরায় মাছের ক্ষতি হয় ১৭৬ কোটি টাকার। ইয়াসের ফলে সৃষ্ট জলোচ্ছ্বাসে মাছের ক্ষতি হয় ১৬ কোটি টাকা। সর্বশেষ বৃহস্পতিবারের ব্যাপক বর্ষণে ৫৩ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

সাতক্ষীরা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মশিউর রহমান জানান, জেলার শ্যামনগর, আশাশুনি ও কালিগঞ্জ উপজেলার ১৯ হাজার ৪৫৯টি মাছের ঘের ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঘেরের আয়তন ১২ হাজার ৬৫ হেক্টর। মাছের ক্ষতির পরিমাণ ৫৩ কোটি ৪৯ লাখ টাকা।

এদিকে সাতক্ষীরা জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. আ. বাছেদ জানান, অতি বৃষ্টির কারণে জেলার কী পরিমান ক্ষতি হয়েছে তা সঠিকভাবে নিরূপণ করতে একটু সময় লাগে। এ বিষয়ে সকল উপজেলা কর্মকর্তারা একযোগে কাজ করছে। রবিবারের মধ্যে সঠিকভাব ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করা হবে।

তিনি আরও জানান, পানিবন্দি মানুষের কথা বিবেচনা করে জেলা প্রশাসকের নির্দেশে তাৎক্ষণিক ২৫৬ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে কালিগঞ্জ, আশাশুনি ও শ্যামনগর উপজেলায় এক লাখ করে মোট তিন লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির জানান, ঘর-বাড়িসহ অন্যান্য ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণে কাজ চলছে। সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের (ইউএনও) মাধ্যমে প্রাপ্ত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ দ্রুত পাওয়া যাবে। তখন কোথায় কেমন বরাদ্দ করতে হবে সেটা নিরূপণ করা হবে।

/এসএইচ/

সম্পর্কিত

ব্রেক করলেই উঠে যাচ্ছে ৩২১ কোটি টাকার সড়কের কার্পেটিং

ব্রেক করলেই উঠে যাচ্ছে ৩২১ কোটি টাকার সড়কের কার্পেটিং

ইমামের বক্তব্য নিয়ে জুমা শেষে সংঘর্ষ, হাসপাতালে ২১

ইমামের বক্তব্য নিয়ে জুমা শেষে সংঘর্ষ, হাসপাতালে ২১

ধাক্কা দেওয়া সিএনজির ওপর একই ট্রাকের চাপা, নিহত ৪

ধাক্কা দেওয়া সিএনজির ওপর একই ট্রাকের চাপা, নিহত ৪

নির্বাচনের আগেই খুলনায় পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হবে বিটিভি: তথ্যমন্ত্রী

নির্বাচনের আগেই খুলনায় পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হবে বিটিভি: তথ্যমন্ত্রী

ট্রেনে ডাকাতি-খুনের ঘটনায় মামলা, আটক ১

আপডেট : ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১৮:০৪

ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা দেওয়ানগঞ্জগামী কমিউটার এক্সপ্রেস ট্রেনের ছাদে ডাকাতি ও খুনের ঘটনায় ময়মনসিংহ রেলওয়ে থানায় মামলা হয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত সন্দেহভাজন একজনকে আটক করা হয়েছে।

শনিবার (২৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ময়মনসিংহ রেলওয়ে থানার এসআই মো. আকবর হোসেন জানান, শুক্রবার (২৪ সেপ্টেম্বর) রাতে মামলাটি করেন এ ঘটনায় নিহত মো. সাগরের মা হনুফা বেগম। মামলায় অজ্ঞাত কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে। তিনি জামালপুর পৌর শহরের বাগেরহাট বটতলা এলাকার বাসিন্দা। মামলার তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ময়মনসিংহ রেলওয়ে থানার ওসি মো. মামুন রহমানকে। এ ঘটনায় পুলিশি অভিযানে সন্দেহভাজন একজনকে আটক করা হয়েছে।

ওসি মামুন রহমান জানান, ‘ডাকাতির ঘটনায় শুক্রবার রাতেই একটি মামলা দায়ের করা হয়। আমরা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছি। ইতোমধ্যেই সন্দেহভাজন একজনকে আটক করা হয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। আশা করছি, খুব শিগগিরিই জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে পারবো।

উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার (২৩ সেপ্টেম্বর) বিকালে ঢাকার কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে ছেড়ে আসা দেওয়ানগঞ্জগামী ৫১নং কমিউটার ট্রেনটি গফরগাঁও রেলওয়ে স্টেশন ছেড়ে এলে সংঘবদ্ধ ডাকাত দলের সদস্যরা ছাদে ভ্রমণরত যাত্রীদের ওপর হামলা চালায়। এ ঘটনায় জামালপুর পৌরশহরের বাগেরহাট বটতলা এলাকার মো. সাগর (২৫) ও দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার সানন্দবাড়ী মিতালী বাজার এলাকার মো. রুবেল (২৫) নামের
দুই যাত্রী নিহত হন।

/এফআর/

সম্পর্কিত

ট্রেনে ডাকাতির সময় হত্যার ঘটনায় মামলা

ট্রেনে ডাকাতির সময় হত্যার ঘটনায় মামলা

ময়মনসিংহ মেডিক্যালে বেড়েছে মৃত্যু  

ময়মনসিংহ মেডিক্যালে বেড়েছে মৃত্যু  

বিকল ট্রাকে পিকআপভ্যানের ধাক্কায় নিহত ৩

বিকল ট্রাকে পিকআপভ্যানের ধাক্কায় নিহত ৩

মেয়ের জামাইকে গাছের সঙ্গে বেঁধে পেটালেন শ্বশুর-শাশুড়ি!

মেয়ের জামাইকে গাছের সঙ্গে বেঁধে পেটালেন শ্বশুর-শাশুড়ি!

৭০ বছর পর মায়ের সন্ধান পেলেন কুদ্দুস

আপডেট : ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১৭:৪৫

মনে আছে? বাংলা সিনেমার সেই পরিচিত গল্পের কথা। ছোটবেলায় হারিয়ে যাওয়া, এরপর নানা চড়াই-উতরাই শেষে পরিবারকে খুঁজে পাওয়া। নির্ধারিত দৃশ্যপটে এমন কাহিনি অনেকবার দেখা হলেও এবার বাস্তবেও যেন সেই সিনেমার গল্প সামনে এলো। মাত্র ১০ বছর বয়সে হারিয়ে যান ব্রাহ্মণবাড়িয়া নবীনগর উপজেলার বাড্ডা গ্রামের আব্দুল কুদ্দুস মুন্সী। তখনকার কিশোর কুদ্দুস জানতেন না তার বাড়ি কোথায়। শুধু জানতেন, গ্রামের নাম। এরপর কেটে গেছে ৭০ বছর। তবে এর সূত্র ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের কল্যাণে ৭০ বছর পর বাড়ির ঠিকানাসহ প্রিয়জনদের খুঁজে পেয়েছেন কুদ্দুস। ফিরেছেন মায়ের কাছে। তবে মাঝে কেটে গেছে ৭০ বছর। সে দিনের কিশোর কুদ্দুস এখন ৮০ বছরের বৃদ্ধ। প্রায় ছয় যুগ ছেলের অপেক্ষায় থাকা মা মঙ্গলেমা বিবির বয়স ১১০।

হারিয়ে যাওয়ার পর আব্দুল কুদ্দুস মুন্সী রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার বারুইপাড়া গ্রামের বাসিন্দা বনে যান। শনিবার (২৫ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টায় বাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার আশ্রাফবাদ গ্রামে ঝরনা বেগমের বাড়িতে মা ছেলের দেখা হয়।

হারিয়ে যাওয়ার প্রসঙ্গে কুদ্দুস বলেন, ‘আমি আমার চাচার সঙ্গে বাগমারা (রাজশাহী) থানায় বেড়াতে আসি। চাচা ছিলেন থানার দারোগা। তিন দিন চাচার সঙ্গে ছিলাম। সেখানে ভালো লাগছিল না। এ জন্য বেড়াতে বের হয়ে হারিয়ে যাই। হাঁটতে হাঁটতে চলে যাই আত্রাইয়ের সিংসাড়া গ্রামে। ওই গ্রামের সাদেক আলীর বাড়িতে আশ্রয় পাই এবং সেখানেই বড় হই। পরে বাগমারা বারুইপাড়া গ্রামে বিয়ে করে সেখানে সংসার শুরু করি।’

তার স্বজনরা জানান, খোঁজ পাওয়ার পরই মায়ের সঙ্গে ভিডিও কলে কথাও বলেছেন কুদ্দুস। এত বছর পর নিজের পরিবার খুঁজে পাওয়ায় খুশি কুদ্দুসের স্ত্রী-সন্তানরাও।

হারিয়ে যাওয়া আব্দুল কুদ্দুস মুন্সী

কুদ্দুসের চাচাতো ভাইয়ের নাতি শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘গত ১২ এপ্রিল কুদ্দুস মুন্সীর বর্তমান ঠিকানার পাশের গ্রামের (বাগমারা উপজেলার) আইয়ুব আলী নামের এক ব্যক্তি ফেসবুকে তাকে নিয়ে একটি পোস্ট দেন। সেখানে শুধু কুদ্দুসের বাবা-মা ও বাড্ডা গ্রামের নাম ছিল। এরপর আমরা আইয়ুব আলীর সঙ্গে যোগাযোগ করে কুদ্দুসকে খুঁজে পাই। কুদ্দুস মুন্সীর ভাগ্নেসহ আমরা চারজন গত ২১ সেপ্টেম্বর (মঙ্গলবার) তার রাজশাহীর বাড়িতে আসি।’

শফিকুল ইসলাম আরও বলেন, ‘তারা তিন ভাইবোন ছিলেন। তার মায়ের নাম মঙ্গলেমা বিবি। ২১ সেপ্টেম্বর মায়ের সঙ্গে ভিডিও কলে কথা বলেছেন কুদ্দুস।’

কুদ্দুস বলেন, ‘মায়ের সঙ্গে যখন ভিডিও কলে প্রথম কথা বলি, তখন আমার মা আমাকে বলেন, তুই আমার হারিয়ে যাওয়া কুদ্দুস, বাবা। তোর ছোটবেলায় হাত কেটে গিয়েছিল। মায়ের মুখে এ কথা শোনার পর আমি বলি, মা তোর কুদ্দুসের কোন হাত কেটে গিয়েছিল? তখন মা বলে, বাম হাতের বুড়ো আঙুল কেটে গিয়েছিল। তখন আমি বুঝতে পারি যে তিনিই আমার মা।’

বর্তমানে কুদ্দুসের তিন ছেলে ও পাঁচ মেয়ে রয়েছে। মেয়েদের বিয়ে হয়েছে। দুই ছেলে থাকেন বিদেশে। আর এক ছেলে বাড়িতে আছেন বলে জানান কুদ্দুস।

আইয়ুব আলী বলেন, ‘বারুইপাড়া বাজারের মোড়ে এক চায়ের দোকানে বসে ৭০ বছর আগে হারিয়ে যাওয়ার গল্প বলছিলেন আব্দুল কুদ্দুস মুন্সী। তার গল্পটি মোবাইল ফোনে ধারণ করে গত ১২ এপ্রিল আমার ফেসবুক পেজে আপলোড করি। লিখেছিলাম, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নবীনগর থানার এই বৃদ্ধ আজ থেকে প্রায় ৭০ বছর আগে হারিয়ে যাওয়ার পর মা-বাবা থেকে বিচ্ছিন্ন।’

বহু মানুষ সেই পোস্টটি শেয়ার করেন জানিয়ে আইয়ুব বলেন, ‘কিছু প্রবাসী আমার ফ্রেন্ড লিস্টে আছেন। তারা দেখেন সেটা। তারপর ওই এলাকার মানুষ ফেসবুকে আব্দুল কুদ্দুসের ভিডিও দেখে যোগাযোগ করেন।’

/এফআর/

সম্পর্কিত

আমি আপনাদের বেতনভুক্ত চাকর: পলক

আমি আপনাদের বেতনভুক্ত চাকর: পলক

মাতব্বরদের ভয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন মাথা ন্যাড়া করে দেওয়া বাউল

মাতব্বরদের ভয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন মাথা ন্যাড়া করে দেওয়া বাউল

মেসে ফ্রিতে থাকতে পারবেন রাবি ভর্তি পরীক্ষার্থীরা

মেসে ফ্রিতে থাকতে পারবেন রাবি ভর্তি পরীক্ষার্থীরা

ছাত্রীদের অনলাইন ক্লাসে ঢুকে ‘নাগিন ড্যান্স’

ছাত্রীদের অনলাইন ক্লাসে ঢুকে ‘নাগিন ড্যান্স’

আমি আপনাদের বেতনভুক্ত চাকর: পলক

আপডেট : ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১৭:১৪

সাধারণ জনতার উদ্দেশে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট জুনাইদ আহমেদ পলক বলেছেন, ‘আমি আপনাদের বেতনভুক্ত চাকর। আপনাদের ট্যাক্সের টাকায় আমার সংসার চলে। তাই আপনাদের সেবা করাই আমার কাজ।’ শনিবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় নাটোরের সিংড়া উপজেলায় বন্যার্তদের মাঝে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

জনগণের সেবায় তথ্যপ্রযুক্তিকে কাজে লাগাতে দিন-রাত শ্রম দিচ্ছেন উল্লেখ করে পলক বলেন, ‘এখন কোথাও আগুন লাগলে, চুরি-ডাকাতি হলে, মাদক ব্যবসা করলে, অ্যাম্বুলেন্স প্রয়োজন হলে ৯৯৯-এ ফোন করলেই সেবা পেয়ে যান জনগণ। আর এ সবকিছুই সম্ভব হয়েছে প্রযুক্তির সহায়তায়। শুধু তাই নয়, করোনাকালে স্কুল-কলেজ বন্ধ থাকলেও অনলাইন শিক্ষা চালু ছিল; যা সম্ভব করেছেন ডিজিটাল বাংলাদেশের স্থপতি সজীব ওয়াজেদ জয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘করোনার সময়ে মামলার জট কমাতে চালু ছিল ভার্চুয়াল আদালত। যার ফলে দেড় লাখ মামলার শুনানি হয়েছে। এ ছাড়া প্রযুক্তির সহায়তায় ডিজিটাল কুরবানির হাট চালু ছিল। যার ফলে করোনায় অর্থনীতির চাকা ছিল সচল।’

জনসেবায় প্রধানমন্ত্রীর কর্মদক্ষতার উদাহরণ এনে পলক বলেন, ‘বিশ্বের সব রাষ্ট্র যাতে করোনার ভ্যাকসিন পায় সেজন্য প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘে জোর দাবি জানান। এ জন্য আজ সারাবিশ্ব করোনার ভ্যাকসিন পাওয়ার নিশ্চয়তায় এসেছে।’

সিংড়া পৌর মেয়র (ভারপ্রাপ্ত) সঞ্জয় কুমার সাহার সভাপতিত্বে এ সময় বক্তব্য রাখেন– উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এম এম সামিরুল ইসলাম, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট ওহিদুর রহমান শেখ, হুয়াওয়ে টেকনোলজি বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট জর্জ লিন, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান কামরুল হাসান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক মাওলানা রুহুল আমিন।

/এমএএ/

সম্পর্কিত

৭০ বছর পর মায়ের সন্ধান পেলেন কুদ্দুস

৭০ বছর পর মায়ের সন্ধান পেলেন কুদ্দুস

মাতব্বরদের ভয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন মাথা ন্যাড়া করে দেওয়া বাউল

মাতব্বরদের ভয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন মাথা ন্যাড়া করে দেওয়া বাউল

মেসে ফ্রিতে থাকতে পারবেন রাবি ভর্তি পরীক্ষার্থীরা

মেসে ফ্রিতে থাকতে পারবেন রাবি ভর্তি পরীক্ষার্থীরা

ছাত্রীদের অনলাইন ক্লাসে ঢুকে ‘নাগিন ড্যান্স’

ছাত্রীদের অনলাইন ক্লাসে ঢুকে ‘নাগিন ড্যান্স’

মাতব্বরদের ভয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন মাথা ন্যাড়া করে দেওয়া বাউল

আপডেট : ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১৭:০৪

‘আমি মুসলমানের সন্তান, পূজা করি না। রাত জেগে তাহাজ্জুদ, ফজর ও রহমতের নামাজ আদায় করি। আল্লাহ, রাসুল এবং ঢাকার ওস্তাদ এমরান চিশতির নামে বাতি জ্বালিয়ে জিকির করি। গ্রামের মাতব্বররা আমাকে নিয়ে মিথ্যাচার করছেন। নাস্তিক বানানোর ষড়যন্ত্র করছেন। তারা গ্রামের মসজিদের ইমামের পরামর্শে আমাকে জোর করে ঘর থেকে বের করে মাথা ন্যাড়া করে দিয়েছেন। এখন অপরাধ থেকে বাঁচতে আমার বাবাকে হুমকি দিয়ে মিথ্যাচার করাচ্ছেন। তাদের ভয়ে বাড়ি থেকে পালিয়ে এক ওস্তাদের আশ্রয়ে আছি।’

বাউল শিল্পীর মাথা ন্যাড়া করে গ্রাম ছাড়ার হুমকি, গ্রেফতার ৩

অজ্ঞাত স্থান থেকে ফোনে এভাবেই নিজের ওপর হওয়া নির্যাতনের কথা জানান বগুড়ার কিশোর বাউল (১৬)। তিনি প্রশাসনের কাছে নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা চেয়েছেন। 

তবে শিবগঞ্জ থানার ওসি সিরাজুল ইসলাম বলেন, কিশোর বাউল নিরাপদে তার ওস্তাদের কাছে আছে। এখনও এলাকায় পুলিশ মোতায়েন আছে। অপর দুই মাতব্বরকে গ্রেফতারে এলাকায় অভিযান চলছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ওই কিশোর বাউল বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার সদর ইউনিয়নের জুড়ি মাঝপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। বাবা-মায়ের একমাত্র ছেলে ওই বাউল শিল্পী সংসারে অভাবের কারণে দাদার বাড়িতে থাকেন। ষষ্ঠ শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করতে পেরেছেন তিনি। ছোটবেলা থেকে বাউল গানের আসক্ত ছিলেন তিনি। তাই বাউল গান শেখার জন্য ওস্তাদ মতিয়ার রহমান মতিন বাউল ও হারমনি মাস্টার খলিলুর রহমানের সঙ্গে চলাফেরা শুরু করেন। তাদের অনুসরণ করে বড় চুল রাখেন এবং সাদা রঙের গামছা, ফতুয়া ও লুঙ্গি পরিধান করতেন। দুই ওস্তাদের সঙ্গে থেকে মুক্তা সরকার, কাজল দেওয়ান, লতিফ সরকার, আমজাদ সরকার ও শাহ্ আবদুল করিমের অন্তত ১০০ গান মুখস্থ করেন। ওস্তাদদের সঙ্গে দেশের বিভিন্ন স্থানে গান থেকে উপার্জিত অর্থ দিয়ে চলতো তার জীবন।  

কিশোর বাউল বলেন, ‘সাদা পোশাকে চলাফেরা ও বিভিন্ন এলাকার অনুষ্ঠানে বাউল মুর্শিদি গান পরিবেশন করায় গ্রামের মাতব্বর শাফিউল ইসলাম খোকন, শিক্ষক মেজবাউল ইসলাম, তারেক রহমান, ফজলু মিয়া, আবু তাহের, মসজিদের ইমাম মোখলেসুর রহমান প্রমুখ ষড়যন্ত্র শুরু করেন। তারা আমাকে এবং ওস্তাদদের নিয়ে বাজে মন্তব্য করতেন। প্রতিবাদ করলে আমার ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। গত ১৮ সেপ্টেম্বর রাত ১০টার দিকে ঘরে জিকির করছিলাম। এ সময় অতর্কিতভাবে ঘরে ঢুকে তারা আমাকে টেনে বের করেন। এরপর জুড়ি মাঝপাড়া জামে মসজিদের ইমাম মোখলেসুর রহমানের পরামর্শে মেশিন দিয়ে আমার মাথা ন্যাড়া করে দেওয়া হয়। এরপর ফজলু মিয়া আমার বালিশের নিচ থেকে দেড় হাজার টাকা চুরি করে নিয়ে যায়। যাওয়ার আগে মাতব্বররা বাউল গান বন্ধ করতে নির্দেশ দেন। না হলে গ্রাম থেকে তাড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেন।’ 

এ ঘটনায় শিবগঞ্জ থানায় পাঁচ মাতব্বরের বিরুদ্ধে মামলা করেন নির্যাতনের শিকার বাউল। ২১ সেপ্টেম্বর রাতে পুলিশ শাফিউল ইসলাম খোকন, শিক্ষক মেজবাউল ইসলাম ও তারেক রহমানকে নিজ নিজ বাড়ি থেকে গ্রেফতার করে। পরদিন তাদের আদালতের মাধ্যমে বগুড়া জেল হাজতে পাঠানো হয়।

এদিকে ঘটনার পর থেকে কিশোর বাউলের বাবা প্রচারণা চালাচ্ছেন এবং সাংবাদিকদের বলছেন, তার ছেলে বাউল গানের নামে ঘরে মূর্তি পূজা করতো। তাই তিনি নিজে তার ছেলের মাথা ন্যাড়া ও তাকে কলিমা পড়িয়েছেন। এতে গ্রামের মাতব্বরদের কোনও দোষ নেই। তার ছেলে তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করেছে।

তবে কিশোর বাউলের দাবি, ‘মাতব্বররা মামলা থেকে বাঁচতে বাবাকে হুমকি দিয়ে এসব বলতে বাধ্য করছেন।’ 

তিনি আরও বলেন, ফোনে জানতে পেরেছি আমার পরিবারের সদস্যরা নিরাপত্তহীনতায় রয়েছেন। মাতব্বরদের ভয়ে আমিও বাড়ি ফিরতে পারছি না। প্রশাসনের কাছে পরিবার, দুই ওস্তাদ ও নিজের নিরাপত্তা চাইছি। 

শিবগঞ্জ থানার ওসি সিরাজুল ইসলাম বলেন, নির্যাতনের শিকার বাউলের এজাহার অনুসারে তিন মাতব্বরকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ বিষয়ে এখনও তদন্ত চলছে। অন্য দুই জনকে গ্রেফতারে অভিযান চলছে। তারা কোর্টে আত্মসমর্পণ করতে পারেন। বর্তমানে এলাকায় পুলিশ মোতায়েন রয়েছে, পরিস্থিতিও নিয়ন্ত্রণে আছে। এছাড়া কিশোর বাউল তার ওস্তাদদের সঙ্গে নিরাপদে আছেন বলে জানান তিনি। 

 

/টিটি/

সম্পর্কিত

৭০ বছর পর মায়ের সন্ধান পেলেন কুদ্দুস

৭০ বছর পর মায়ের সন্ধান পেলেন কুদ্দুস

আমি আপনাদের বেতনভুক্ত চাকর: পলক

আমি আপনাদের বেতনভুক্ত চাকর: পলক

‘১৭ হাজার কোটি টাকার এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে ২০২৬ সালে চালু’

‘১৭ হাজার কোটি টাকার এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে ২০২৬ সালে চালু’

‘মিটারগেজ রেলপথকে ব্রডগেজে রূপান্তর করা হবে’

‘মিটারগেজ রেলপথকে ব্রডগেজে রূপান্তর করা হবে’

ছাত্রীকে ধর্ষণ করে ভিডিও ধারণের অভিযোগে প্রধান শিক্ষক গ্রেফতার

আপডেট : ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১৭:২১

বান্দরবানের রুমায় ছাত্রীকে ধর্ষণ করে ভিডিও ধারণ করে ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে প্রধান শিক্ষককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (২৪ সেপ্টেম্বর) রাতে রুমা বাজার এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতার শিক্ষকের নাম সমর কান্তি দত্ত (৫৬)। তিনি রুমা উপজেলার একটি নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। তার বাড়ি চট্টগ্রামের লোহাগাড়ার চরম্বায়।

জানা যায়, ২০১৯ সালে এসএসসি পরীক্ষায় ওই ছাত্রী অকৃতকার্য হওয়ার পর শিক্ষক সমর কান্তি দত্তের বাড়িতে গিয়ে প্রাইভেট পড়ে। পড়ানোর সময় একপর্যায়ে সমর ওই ছাত্রীকে ধর্ষণ এবং ভিডিওচিত্রে তা ধারণ করে। লজ্জা ও ভয়ে ঘটনাটি কাউকে বলেনি। কিন্তু এ ঘটনার পর থেকে শিক্ষক মেয়েটিকে বিয়ের জন্য চাপ দেন এবং বলেন বিয়ে না করলে ভিডিওটি ইন্টারনেটে ছেড়ে দেবেন। গত বুধবার ভিডিওটি মেয়েটির মোবাইল ফোনে পাঠালে সে ঘটনাটি বড় বোনকে জানায়। এরপর ওই ছাত্রীর বড় বোন শুক্রবার রাতে রুমা থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন এবং পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করেন। মামলার পরপরই পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষককে তার বাড়ি থেকে গ্রেফতার করে।

রুমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবুল কাশেম বলেন, মামলা করার পর শিক্ষক সমর কান্তি দত্তকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

/এমএএ/

সম্পর্কিত

ক্যাম্পের পাহাড়ি ছড়ায় আরও এক বুনো হাতির মৃতদেহ

ক্যাম্পের পাহাড়ি ছড়ায় আরও এক বুনো হাতির মৃতদেহ

‘মিটারগেজ রেলপথকে ব্রডগেজে রূপান্তর করা হবে’

‘মিটারগেজ রেলপথকে ব্রডগেজে রূপান্তর করা হবে’

এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে গৃহবধূ ধর্ষণ: নতুন করে হবে অভিযোগ গঠন 

এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে গৃহবধূ ধর্ষণ: নতুন করে হবে অভিযোগ গঠন 

সিআরবিতে হাসপাতাল নির্মাণ নিয়ে যা বললেন রেলমন্ত্রী

সিআরবিতে হাসপাতাল নির্মাণ নিয়ে যা বললেন রেলমন্ত্রী

সর্বশেষসর্বাধিক

লাইভ

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

ব্রেক করলেই উঠে যাচ্ছে ৩২১ কোটি টাকার সড়কের কার্পেটিং

ব্রেক করলেই উঠে যাচ্ছে ৩২১ কোটি টাকার সড়কের কার্পেটিং

ইমামের বক্তব্য নিয়ে জুমা শেষে সংঘর্ষ, হাসপাতালে ২১

ইমামের বক্তব্য নিয়ে জুমা শেষে সংঘর্ষ, হাসপাতালে ২১

ধাক্কা দেওয়া সিএনজির ওপর একই ট্রাকের চাপা, নিহত ৪

ধাক্কা দেওয়া সিএনজির ওপর একই ট্রাকের চাপা, নিহত ৪

নির্বাচনের আগেই খুলনায় পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হবে বিটিভি: তথ্যমন্ত্রী

নির্বাচনের আগেই খুলনায় পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হবে বিটিভি: তথ্যমন্ত্রী

জলবায়ু সংকট: প্রতীকী ফাঁসিতে ঝুলে প্রতিবাদ

জলবায়ু সংকট: প্রতীকী ফাঁসিতে ঝুলে প্রতিবাদ

বসতঘরে মিললো ১৬ বিষধর সাপ

বসতঘরে মিললো ১৬ বিষধর সাপ

প্রাইভেট পড়তে গিয়ে নিখোঁজ, পরদিন মিললো স্কুলছাত্রীর লাশ

প্রাইভেট পড়তে গিয়ে নিখোঁজ, পরদিন মিললো স্কুলছাত্রীর লাশ

নিজ ঘরে রাবি শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত লাশ

নিজ ঘরে রাবি শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত লাশ

বিয়ে বার্ষিকীতে স্ত্রীকে চাঁদের জমি উপহার, দাবি স্বামীর

বিয়ে বার্ষিকীতে স্ত্রীকে চাঁদের জমি উপহার, দাবি স্বামীর

সর্বশেষ

জাতিসংঘ অধিবেশনে ভাষণের সুযোগ পাচ্ছেন না তালেবান প্রতিনিধি

জাতিসংঘ অধিবেশনে ভাষণের সুযোগ পাচ্ছেন না তালেবান প্রতিনিধি

আইপিএলে মোস্তাফিজ জাদু, এবার উইকেটও এলো

আইপিএলে মোস্তাফিজ জাদু, এবার উইকেটও এলো

ট্রেনে ডাকাতি-খুনের ঘটনায় মামলা, আটক ১

ট্রেনে ডাকাতি-খুনের ঘটনায় মামলা, আটক ১

ডেঙ্গু পরিস্থিতি এখনও নিয়ন্ত্রণে: মেয়র আতিক

ডেঙ্গু পরিস্থিতি এখনও নিয়ন্ত্রণে: মেয়র আতিক

করোনায় শনাক্ত নামলো হাজারের নিচে

করোনায় শনাক্ত নামলো হাজারের নিচে

© 2021 Bangla Tribune