X
শনিবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১০ আশ্বিন ১৪২৮

সেকশনস

লকডাউনের শিথিলতা মহাবিপদের পূর্বাভাস

আপডেট : ০১ আগস্ট ২০২১, ১৭:৪০
সালেক উদ্দিন ‘শিথিল হয়ে আসছে কঠোর লকডাউন’ খবরের কাগজের এমন শিরোনামকে ভয়ংকরই বলতে হবে। শুধু খবরের কাগজে, অনলাইন পোর্টালের নিউজে বলবো কেন? চোখ মেলে যা দেখছি তাতে এমনই মনে হচ্ছে। প্রতিদিনই  রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে যানবাহন বেড়ে চলছে, চেকপোস্টে গাড়ির জট বাড়ছে, পদ্মার দুই নৌ-রুটে, ফেরিঘাটে মানুষের লাইন প্রতিদিনই দীর্ঘ হচ্ছে। ঢাকার রাস্তা তো এখন প্রাইভেট কার, রিকশা, অটোরিকশা, বাইসাইকেল, মোটরসাইকেলের দখলে। রাস্তায় রাস্তায় হাজার হাজার রিকশা আর  মানুষের অবাধ চলাচল ইত্যাদি কি আর এই খবরের সত্যতা যাচাইয়ের অপেক্ষা রাখে?

ঈদের একদিন পর অর্থাৎ ২৩ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত দেশব্যাপী কঠোর লকডাউন চলছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলছেন, লকডাউন কঠোর থেকে কঠোরতর হবে।

শুরুতে দুই তিন দিন মনে হয়েছিল বোধহয় সত্যিই তাই। এখন আর সে রকম মনে হয় না। টেলিভিশনের খবর, সংবাদপত্রের খবর, রাস্তায় চোখ মেলে দেখা- যেভাবেই দেখুন না কেন এই লকডাউনও আগের লকডাউনের মতোই একই পথে হাঁটছে, যা জাতির জন্য মহাবিপর্যয়ের অশনি সংকেত।

বাংলাদেশের তো বটেই, পৃথিবীর সবচেয়ে বড় বিপর্যয় এখন করোনার মহামারি। পৃথিবীকে স্বস্তি দিচ্ছে না এই ব্যাধি। বাংলাদেশে এখন প্রতিদিনই সংক্রমণের রেকর্ড ভাঙছে। রেকর্ড ভাঙছে মৃত্যুর। এর ফলাফল কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে কেউ জানে না। তবে কিছুটা আন্দাজ করা যেতে পারে। আর সেই আন্দাজের আলোকেই এই ঈদের আগেই বাংলা ট্রিবিউনেই ‘এবার ঈদযাত্রা বন্ধ হোক’ শিরোনামে লিখেছিলাম- ‘যদি গত রোজার ঈদের মতো কোরবানির ঈদেও লাখ লাখ মানুষ ঢাকাসহ শহর অঞ্চল থেকে গ্রামে, গ্রাম থেকে প্রত্যন্ত অঞ্চলে ঈদযাত্রায় অংশ নেয় তবে তা হবে করোনার কাছে আত্মাহুতি দেওয়ার শামিল। রোজার ঈদের সময় দেশে করোনা অবস্থা নিয়ন্ত্রণে ছিল। এবার রয়েছে নিয়ন্ত্রণহীন অবস্থায়। এমন কঠিন অবস্থায়ও যদি এবারের ঈদযাত্রার  মানুষদের ঠেকানো না যায় তবে বলতেই হবে করোনার কাছে আত্মসমর্পণ করা ছাড়া দেশের মানুষের আর কোনও উপায় নেই।’

আমার সেই লেখাটি পাঠকদের কাছে সমালোচিত হয়েছিল। অনেক পাঠকই তাদের মতামতে নিন্দার তীরটি নিক্ষেপ করতে ভুল করেননি। কেউ কেউ আমি মুসলমান কিনা তা নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। সম্ভবত তারা শুধু ঈদে বাড়ি যাওয়ার কথাই ভেবেছেন। একবারও ভাবেননি মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) মানুষকে মহামারি আক্রান্ত এলাকায় প্রবেশ করতে বারণ করেছেন এবং আক্রান্ত এলাকা থেকে বের না হওয়ার কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন। যার ফলে ধর্মযুদ্ধে গিয়ে হজরত ওমর (রা.) যখন জানলেন সেই এলাকায় মহামারি চলছে, তখন তিনি সৈন্যবাহিনী নিয়ে আর মহামারি আক্রান্ত যুদ্ধক্ষেত্রে প্রবেশ করেননি। যুদ্ধ না করে ফিরে এসেছিলেন।

সময় এসেছে ভেবে দেখার- আমরা ধর্মের নির্দেশনা মানছি কিনা?

যাহোক, তারপরও  ঈদের কারণে সরকারকে লকডাউন শিথিলের নামে মূলত লকডাউন তুলে দেওয়ার ব্যবস্থা নিতে হয়েছিল। সঙ্গে সঙ্গে ঈদের একদিন পর থেকে ১৪ দিনের কঠোর  লকডাউনের ঘোষিতও হয়েছে। এই ঘোষণায় কিছুটা হলেও আশ্বস্ত হয়েছিলাম।

আশ্বস্ত হয়ে আরেকটি অনলাইন পোর্টালে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের দিল্লির লকডাউনের উদাহরণ টেনে লিখেছিলাম, সর্বশেষ ঘোষিত এই লকডাউন যদি দিল্লির মতো সত্যিই কঠোর থেকে কঠোরতর হয় এবং টিকার সহজলভ্যতা নিশ্চিত করা যায় তবে দেশ করোনা মহামারির মহাবিপর্যয়ের হাত থেকে বাঁচতে পারে। আর তা না হলে করোনায় দৈনিক সংক্রমণের সংখ্যা ১২/১৩ হাজার থেকে ৫০ হাজার  ছড়ানো এবং মৃত্যু দুই শতকের ঘর থেকে হাজারের ঘর পার হওয়া সময়ের ব্যাপার মাত্র। করোনার ক্রমবর্ধমান সংক্রমণ ও মৃত্যুর বিচারে মনে হচ্ছে পরিস্থিতি সে পথেই যাচ্ছে।
 
সবাইকে মাঠ পর্যায়ে করোনার টিকা দেওয়া প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ, টিকা কার্যক্রমে নেতাকর্মীদের সম্পৃক্ত হওয়ার নির্দেশ, ৭ আগস্ট থেকে ইউনিয়ন পর্যায়ে টিকাদান কেন্দ্রে এনআইডি কার্ড নিয়ে গেলেই টিকা দেওয়ার ঘোষণা, আগস্টের আগে শিল্প কারখানা না খোলার সিদ্ধান্ত সঠিকভাবে পালিত হলে করোনা দৌড়ের গতি কিছুটা হলেও কমবে। কিন্তু লকডাউন বর্তমানে যেভাবে চলছে যদি সেভাবে চলে অথবা আরও শিথিল হয়, তবে এতে খুব একটা কাজ হবে বলে মনে হয় না।

লকডাউন কঠোর থেকে কঠোরতর হওয়ার  প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করতে হবে। লকডাউনে মানুষ যদি ঘর থেকে বের হতে না পারে তাহলে মানুষের কষ্ট হবে ঠিকই, কিন্তু খাদ্যাভাবে মারা যাওয়ার কথা যারা বলছেন তাদের কথা ঠিক নয়। এরও বিকল্প আছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের নেতৃত্বে আগ্রহী সাধারণ মানুষদের নিয়ে পাড়ায়-মহল্লায় গ্রামগঞ্জে স্বেচ্ছাসেবক  দল গঠন করা যেতে পারে। এদের দ্বারা খাদ্য চিকিৎসাসহ সরকারি বেসরকারি খাতের সহায়তা সামগ্রী সংকটে পড়া মানুষদের দুয়ারে পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে। শুধু নিম্নবিত্ত নয়, মধ্যবিত্তকেও এর আওতায় আনতে হবে। মধ্যবিত্ত এমন একটি শ্রেণি, তারা কষ্টের কথা না বলতে পারে, না সইতে পারে!

প্রকৃতপক্ষে এদের একটা বিরাট অংশ বিপর্যয়ের মধ্যে রয়েছে। বিষয়টি আমাদের মাথায় থাকতে হবে।

করোনার সঙ্গে যুদ্ধে সবার আগে প্রয়োজন শতভাগ জনসচেতনতা। এ ব্যাপারে অন্তহীন প্রচেষ্টা আমরা দেখেছি। কাজ হয়নি। এখন সেই পদক্ষেপ নেওয়া দরকার যাতে কাজ হয়। বৃহত্তর স্বার্থের জন্য ক্ষুদ্রতর স্বার্থকে ত্যাগ করার কথা গুণীজনেরা বহুবার বলেছেন। করোনার রশি টেনে ধরা জাতির জন্য বৃহত্তর স্বার্থ। এতে যদি কিছু দিন মানুষকে ঘরে বসে কাটাতে হয়, খাদ্যাভাবের কষ্ট করতে হয়, তবে এই ত্যাগটুকু করতেই  হবে।

করোনা নিয়ন্ত্রণের উপায়গুলোর মধ্যে অন্যতম হলো টিকা প্রদান এবং জীবনযাত্রায় নিয়মতান্ত্রিকতা নিশ্চিত করা। এরইমধ্যে টিকার সহজলভ্যতার নিশ্চয়তা সরকার দিয়েছে। এবার নিশ্চিত করতে হবে জীবনযাত্রার নিয়মতান্ত্রিকতা। এর জন্য এই মুহূর্তে অন্তত লকডাউনের সময়টুকুতে মানুষকে ঘরে রাখার বিকল্প নেই। তারপরও মানুষ যদি ঘরে না থাকে তবে জোর প্রয়োগসহ সরকারের যা যা করা দরকার তাই করতে হবে। যতটা কঠোর হওয়া দরকার অবশ্যই ততটা হতে হবে। জাতির এই ক্রান্তিলগ্নে এ নিয়ে কে কী বললো তা নিয়ে ভাবা সরকারের উচিত হবে না।

করোনা যুদ্ধে জয়ী হওয়ার দৃঢ় প্রত্যয় হোক আমাদের সবার।

লেখক: কথাসাহিত্যিক
 
/এসএএস/এমওএফ/

সম্পর্কিত

শিক্ষার্থীদের টিকা গ্রহণে অগ্রাধিকার দেওয়া হোক

শিক্ষার্থীদের টিকা গ্রহণে অগ্রাধিকার দেওয়া হোক

ঈদ আনন্দে ভেসে যাক করোনার মহামারি

ঈদ আনন্দে ভেসে যাক করোনার মহামারি

ঈদযাত্রা এবারের জন্য বন্ধ হোক

ঈদযাত্রা এবারের জন্য বন্ধ হোক

দৃষ্টি এখন কঠোর লকডাউনের ওপর

দৃষ্টি এখন কঠোর লকডাউনের ওপর

দুর্বৃত্তরাই আফগানিস্তানে সরকার চালাবে

আপডেট : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১৭:০৭
ফারাজী আজমল হোসেন আফগানিস্তানে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মন্ত্রীদের নাম ঘোষণার মাধ্যমেই গোটা দুনিয়াকে নিজেদের স্বরূপ চিনিয়ে দিয়েছে তালেবানরা। দুর্বৃত্তরাই যে আফগানিস্তানে সরকার চালাবে এটা বুঝতে কারও অসুবিধা হওয়ার কথা নয়। ৩৩ সদস্যের তালেবান মন্ত্রিসভার ১৭ জনই রয়েছেন জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা তালিকায়।

বেশিরভাগ মন্ত্রীকেই আমেরিকা জঙ্গিবাদী বলে মনে করে। নামে সম্মিলিত আফগান সরকার হলেও তালেবান মন্ত্রিসভায় পশতুনদেরই রমরমা। আফগানিস্তানের জনসংখ্যার ৪৮ শতাংশ হচ্ছেন পশতুনরা। কিন্তু মন্ত্রিসভার ৩৩ জনের মধ্যে ৩০ জনই পশতুন। শতাংশের হিসাবে ৯০ শতাংশ। ৪৫ শতাংশ তাজিক এবং উজবেক জনসংখ্যা থাকলেও তাদের প্রতিনিধি মাত্র ৩ জন। ১০ শতাংশ শিয়া, ৪৮ শতাংশ নারী, তুর্কমেন ও বালুচদের ৫-৬ শতাংশ জনসংখ্যা থাকলেও তাদের কোনও প্রতিনিধি নেই। ফলে মন্ত্রিসভায় সব অংশের আফগানদের অন্তর্ভুক্তির দাবি এলে বাস্তব পরিস্থিতির বিপরীত।

তালেবান ও তাদের সমর্থকরাই শুধু মন্ত্রিসভায় ঠাঁই পেয়েছে। বাকিদের দাবি অগ্রাহ্য করা হয়েছে। আশ্চর্যজনকভাবে জঙ্গিবাদী সংগঠন হাক্কানি নেটওয়ার্ককে বাড়তি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে মন্ত্রিসভায়। ৫টি গুরুত্বপূর্ণ পদে রয়েছেন হাক্কানিরাই। আফগানিস্তানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী করা হয়েছে সিরাজউদ্দিন হাক্কানিকে। এই সিরাজউদ্দিনের মাথার দাম ১০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ঘোষণা করেছিল আমেরিকা। সিরাজউদ্দিন ছাড়াও আবুল বাকী হাক্কানি উচ্চশিক্ষামন্ত্রী, মৌলভী নজিবুল্লাহ হাক্কানি টেলিযোগাযোগমন্ত্রী, খলিল-উর-রেহমান হাক্কানি শরণার্থী মন্ত্রী এবং আবদুল হক ওয়াসেক গোয়েন্দা প্রধান হিসেবে দায়িত্বভার পেয়েছেন। হাক্কানি গ্রুপের অন্যতম সক্রিয় সদস্য মোল্লা তাজমীর জাওয়াদকে করা হয়েছে গোয়েন্দা বিভাগের উপ-প্রধান।

জঙ্গিবাদী ও মানব সভ্যতার জন্য বিপজ্জনকদের নিয়ে তৈরি সরকারে একজনও নারী সদস্য নেই। অথচ দুনিয়ার বেশিরভাগ দেশই তালেবান সরকারের একপেশে মন্ত্রিসভা নিয়ে নীরব দর্শক। খুব স্পষ্ট করে বলতে গেলে, পশ্চিমা দুনিয়া, বিশেষ করে আমেরিকা তালেবানদের প্রতি এত কিছুর পরও আস্থাশীল। আমেরিকা মানুষকে বিশ্বাস করাতে চাইছে, তালেবানরা তাদের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করবে। ইসলামাবাদ সন্ত্রাসীদের মদত জুগিয়েও গত দু-দশকেরও বেশি সময় ধরে আমেরিকার সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখার কৌশল নিয়েছিল, পাকিস্তানেরই হাতের পুতুল তালেবানরাও এখন সেই পথে হাঁটছে। সব সম্প্রদায় ও রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের নিয়ে সরকার গড়ার মিথ্যা বিভ্রান্তি তৈরিতেও তালেবানদের মদত দিচ্ছে পাকিস্তান।

তালেবানদের কথা ও কাজের মধ্যে অনেক ফারাক। এটা অতীতেও প্রমাণিত। আফগানিস্তান ছাড়ার জন্য ব্যস্ত আমেরিকা গোটা দুনিয়াকে বোঝাবার চেষ্টা করেছিল, দু-দশকে তালেবানরা অনেকটাই বদলে গিয়েছে। তারা নাকি সকলকে নিয়েই সরকার গঠন করতে চায়। আগের মতো শরিয়তের নামে জনজীবনকে বিধ্বস্ত করার রাস্তা নাকি পরিত্যাগ করেছে তালেবান। কিন্তু আফগান জয়ের পর তালেবানরাই বুঝিয়ে দিচ্ছে দুদশকে তাদের মানসিকতায় কোনও পরিবর্তন হয়নি। তাই পরাজিত আফগান নাগরিকদের ওপর অত্যাচার থেকে শুরু করে দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় আসার পর আগের মতোই চলছে তালেবানি সন্ত্রাস।

তালেবানরা বুঝিয়ে দিয়েছে, তাদের মনোভাব কিছুতেই বদলাতে পারে না। সবাইকে নিয়ে জাতি গঠনের কোনও চিন্তাভাবনাই নেই তাদের। আসলে তালেবানের ইসলামিক আমিরাতে গণতন্ত্রের কোনও স্থান নেই। ইসলাম ধর্মের নামে হিংসাত্মক, অসহনশীল এবং আধুনিক সভ্যতার বিরোধী কাজকর্মই তাদের পছন্দ। আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্য নিলেও আধুনিক চিন্তাধারার প্রতি তাদের বিশ্বাস নেই। পশ্চিমা দুনিয়ার অন্ধবিরোধী তালেবান। কিন্তু পশ্চিমা অস্ত্রের ঝলকানি তাদের নিত্যদিনের সঙ্গী। টেলিভিশনকে তারা শুধু ধর্মীয় প্রচারের হাতিয়ার হিসেবেই দেখতে চায়। সামাজিক গণমাধ্যম তালেবানদের কাছে তাদের কথা প্রচারেরই শুধু হাতিয়ার মাত্র। ইসলাম ধর্মের নামে তারা নিজেদের আধিপত্য বিস্তারকেই একমাত্র পথ বলে মনে করে। অন্য মতের কোনও গুরুত্ব নেই তাদের কাছে।

তাই আফগানিস্তানে মোটেই অন্তর্ভুক্তিমূলক সরকার গঠন হয়নি। সকলকে নিয়ে সরকার গঠনের বিভ্রম ছড়ানোর চেষ্টায় অবশ্য কোনও কার্পণ্য নেই। বাস্তব বলছে, এটা তালেবান ও হাক্কানি জঙ্গিদের সরকার। তালেবানরা বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠী, নারী, সংখ্যালঘু বা অন্য রাজনৈতিক মতকে মোটেই আমল দিতে রাজি নয়। সম্মিলিত সরকার বলতে তালেবানরা দুই তাজিক ও এক উজবেক প্রতিনিধিকে মন্ত্রিসভায় রেখে বোঝাতে চেয়েছে এটা সবার সম্মিলিত অন্তর্বর্তী সরকার। নারীদের বাদ দিয়ে আজকের দিনে সম্মিলিত সরকার বাস্তবসম্মত নয়, সেটা মানতে নারাজ তালেবানরা। টেলিভিশন ভাষণে তাই তালেবান মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ সাফ জানিয়েছেন, শুধু সন্তান ধারণ ও পালন করাই নারীদের কাজ। বাইরের কাজ পুরুষরাই করবেন। শুধু তা-ই নয়, নারীর নির্দেশ কোনও পুরুষের নাকি পালন করা উচিত নয়। মুজাহিদের এই বক্তব্যই প্রমাণ করে তালেবানদের আগের মানসিকতা একদম বদলায়নি।

তালেবানরা নারীদের স্বাধীনতায় বিন্দুমাত্র বিশ্বাসী নয়। তাই পশ্চিমা দুনিয়া নারীদের মন্ত্রিসভায় প্রতিনিধিত্বের দাবি তুললেও লাভ নেই। নারীদের অধিকার দেবে না তারা। তালেবান শাসনে নারীদের যাবতীয় স্বপ্ন ও অধিকার অধরাই থেকে যাবে। চাপে পড়ে দু-একজন নারীকে মন্ত্রিসভায় নিলেও মানসিকতার বদল সম্ভব নয়। নারীদের মতোই অন্যদের কাউকেই এই সরকারে নেবে না তালেবানরা। এমনিতেই পূর্বতন সরকারের প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাই বা চিফ এক্সিকিউটিভ ডা. আব্দুল্লাহ আবদুল্লাহর মতো উচ্চপদস্থ নেতারা কম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় সরকারে থাকতে রাজি হবেন না। তাই অন্যদের কথা ভাবতে পারতো তালেবানরা। কিন্তু নিজেদের হাতেই ক্ষমতা ধরে রাখতে বদ্ধপরিকর তালেবানরা কিছুতেই অন্যদের সঙ্গে রাখতে চায় না।

আসলে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে তালেবান নেতারা দুনিয়াকে বোকা বানাতে চাইছে। তারা বোঝাতে চাইছে বিশ বছর আগের সঙ্গে এখনকার তালেবানের পার্থক্য রয়েছে। কিন্তু দ্বিতীয়বার সরকার গঠনের পর স্পষ্ট হয়ে ওঠে তালেবান-১ ও তালেবান-২ সরকারের মধ্যে আসলে কোনও পার্থক্য নেই। ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে জঙ্গি হামলার সময়কার তালেবান প্রধানকে মন্ত্রিসভার মাথায় বসিয়ে তারা বুঝিয়ে দিয়েছে, সন্ত্রাসই তালেবানদের মূল কর্মসূচি। তাদের প্রধান পৃষ্ঠপোষক পাকিস্তানের কাছ থেকে তালেবানরা শিখে নিয়েছে আমেরিকার চোখে ধুলো দেওয়ার কৌশল। আমেরিকাকে তারা বোঝাতে সক্ষম হয়েছে, কিছু দিনের মধ্যেই অন্তর্বর্তী সরকারে অন্যদেরও ঠাঁই মিলবে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান নিজে দায়িত্ব নিয়ে সবার অন্তর্ভুক্তির বিভ্রম ছড়াচ্ছেন।

মনে রাখা দরকার, ১৯৯০ সালেও তালেবানরা শুধু নিজেদের অ্যাক্টিং বা ভারপ্রাপ্ত মন্ত্রীদের দিয়েই সরকার চালিয়েছিল। এটাই তালেবান কৌশল। আন্তর্জাতিক দুনিয়া যদি তালেবানদের পরিবর্তন সত্যিই মাপতে চান তবে তার পদ্ধতি ও মাপকাঠি আগে ঠিক করা জরুরি। মানবিক বা অন্যান্য সাহায্য দানের আগে তালেবানদের সম্পর্কে সঠিক ধারণা লাভ করাটা আন্তর্জাতিক দুনিয়ার কাছে খুব জরুরি। মনে রাখতে হবে, পাকিস্তানি গুপ্তচর সংস্থা আইএসআইয়ের মদতপুষ্ট হাক্কানি নেটওয়ার্কের মতো সন্ত্রাসীরা রয়েছে তালেবানদের সঙ্গে। তাই আফগানিস্তানে পাঠানো আন্তর্জাতিক সাহায্য জঙ্গিবাদীদের হাত আরও শক্ত করার আশঙ্কা থাকছেই। এমনিতে তালেবান উত্থানে দক্ষিণ এশিয়ায় অশান্তির আশঙ্কা অনেকটাই বেড়ে গেছে। জঙ্গিবাদীরা আফগানিস্তানে ফের সক্রিয় হতে শুরু করেছে। এ অবস্থায় আফগান জনগণকে সাহায্য করা জরুরি হলেও তালেবানকে মদত দেওয়া চলবে না। দক্ষিণ এশিয়ায় ধর্মীয় সন্ত্রাসবাদে লাগাম টানতে হলে তালেবানরা উৎসাহিত হতে পারে এমন কোনও পদক্ষেপ নেওয়া চলবে না।

লেখক: সিনিয়র সাংবাদিক ও কলামিস্ট
/এসএএস/এমওএফ/

সম্পর্কিত

বঙ্গবন্ধুর জীবনে 'শক্তিঘর' ছিলেন বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন নেছা মুজিব

বঙ্গবন্ধুর জীবনে 'শক্তিঘর' ছিলেন বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন নেছা মুজিব

চীনের বন্ধুত্ব, নাকি আধিপত্য

চীনের বন্ধুত্ব, নাকি আধিপত্য

বাঁধের বাধায় বন্দি চীনের ‘বন্ধুত্ব’

বাঁধের বাধায় বন্দি চীনের ‘বন্ধুত্ব’

টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য পূরণেও এগিয়ে বাংলাদেশ

টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য পূরণেও এগিয়ে বাংলাদেশ

ই-ধোঁকা ও গ্রাহকদের  ‘ডেসটিনি’

আপডেট : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১৫:৫৮

এরশাদুল আলম প্রিন্স ‘সাইক্লোন’, ‘আর্থকোয়াক’, ‘পুরাই গরম’ ‘টি টেন’-এরকম আরও নানা চটকদার ক্যাম্পেইনে গ্রাহকদের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা লুফে নিয়েছে ইভ্যালি। এ দৌড়ে পিছিয়ে নেই ই-অরেঞ্জ, ধামাকা। এদের আকর্ষণীয় ডিসকাউন্ট অফারের কাছে গ্রাহকরাও তাদের স্বাভাবিক বুদ্ধি-বিবেচনা হারিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছেন পণ্য কিনতে। এভাবে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে শত শত কোটি টাকা লোপাট করার পরে অবশেষে গ্রেফতার হয়েছেন ইভ্যালির সিইও ও চেয়ারম্যান দম্পতি। 

ইভ্যালির মতো অন্যান্য ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ব্যবস্থা নিতে যাচ্ছে। কিন্তু ইতোমধ্যে গ্রাহকরা যে শত শত কোটি খুইয়েছে তার কী হবে? অতীতের যুবক, ইউনিপে, ডেসটিনির সঙ্গেই কি যোগ হলো আরেকটি নাম- ইভ্যালি? 

ইভ্যালি ও ই-অরেঞ্জ বা অন্য প্রতিষ্ঠানগুলো প্রকাশ্যেই ব্যবসা করেছে। এমন নয় যে তারা নামে-বেনামে গোপনীয়তার সঙ্গে ব্যবসা করেছে। এমনও নয় যে তারা কোনও জেলা বা থানা পর্যায়ে খুচরা ব্যবসা করেছে। বলে-কয়ে, ঘোষণা দিয়ে জাতীয়ভাবে তারা তাদের ব্যবসা ও ক্যাম্পেইন চালিয়েছে। রাষ্ট্র, সরকার বা কোনও কর্তৃপক্ষের কাছেই বিষয়টি গোপন ছিল না। কিন্তু অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে, সব দোষ গ্রাহকের।

এদিকে অনলাইন ব্যবসায়ীদের সংগঠন ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ই-ক্যাব) বলছে, তারা আগেই অনুমান করেছিল যে ইভ্যালি একটা কেলেঙ্কারি করতে যাচ্ছে। প্রশ্ন, ই-ক্যাব তাহলে ইভ্যালির রাশ টেনে ধরেনি কেন? ইভ্যালি তো ই-ক্যাবের সদস্য। ই-ক্যাবের দাবি, তারা বিষয়টি সরকারের নজরে এনেছে। এমনকি তারা নাকি ইভ্যালির সঙ্গেও এ নিয়ে চিঠি চালাচালি করেছে। ইভ্যালি নিয়ে ই-ক্যাবের সঙ্গে চিঠি চালাচালি হয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়েরও। এই দাবি করেছেন ই-ক্যাবের সভাপতি। এখন প্রশ্ন, ইভ্যালি কাণ্ডের জন্য দায় তাহলে কার? রেগুলেটরি বডির? বাংলাদেশ ব্যাংকের? বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের? কম্পিটিশন কমিশনের? ই-ক্যাব’র? নাকি আইসিটি মন্ত্রণালয়ের? আর এর রেগুলেটরি বডি বা নিয়ন্ত্রক সংস্থাই বা কে? অনিয়ম দেখার দায়িত্ব কার? গ্রাহকদের পাওনা পরিশোধের দায়ই বা কার?

২০১৮ সালে দেশে একটি ডিজিটাল কমার্স নীতিমালা তৈরি করা হয়। এর লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য সুস্পষ্ট। এর অন্যতম উদ্দেশ্য হচ্ছে, ডিজিটাল কমার্সের মাধ্যমে ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রচার, প্রসার ও উন্নতি সাধন। উল্লেখ্য, এই নীতিমালা হওয়ার বহু আগে থেকেই বাংলাদেশে ডিজিটাল কমার্সের বিকাশ হয়েছে। নীতিমালাটি হয়েছে মূলত ই-কমার্স খাতে শৃঙ্খলা আনয়নের জন্য। নীতিমালায় আরও বলা হয়েছে, ডিজিটাল কমার্সের উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি করাও এর উদ্দেশ্য। এছাড়া ডিজিটাল ব্যবসার ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা, দায়বদ্ধতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা (ধারা-৩) এই নীতির উদ্দেশ্য। কিন্তু ইভ্যালি ওই নীতির প্রতি কোনও ধরনের দায়বদ্ধতা প্রদর্শন না করে ব্যবসা চালিয়েছে।

পণ্য ক্রয়-বিক্রয়ের ক্ষেত্রে ক্রেতা ও বিক্রেতার মধ্যে আস্থা ও বিশ্বাস স্থাপনে সহায়তা করা (ধারা-৪) ও ভোক্তা অধিকার রক্ষা করা (ধারা-৬) এই নীতিমালার অন্যতম উদ্দেশ্য। কিন্তু ইভ্যালিকাণ্ডে আমরা এসব নীতিমালার কোনও প্রয়োগ দেখি না।

২০২০ সালে নীতিমালাটি সংশোধিত হয়। সংশোধিত ওই নীতিমালা অনুযায়ী ডিজিটাল কমার্স পরিচালনা নির্দেশিকা-২০২১ প্রণয়ন করা হয়। এই নির্দেশিকা অনুযায়ী কর্তৃপক্ষ বলতে 'সরকার’কে বোঝায়? সরকার কি এখন ইভ্যালিকাণ্ডের দায় নেবে? নিলে সরকারের কোন সংস্থা এই দায় বহন করবে?

ইভ্যালি একের পর এক ক্যাম্পেইন শুরু করলে নড়েচড়ে বসে কম্পিটিশন কমিশন। ২০১২ সালের আইনের মাধ্যমে কম্পিটিশন কমিশন বা প্রতিযোগিতা কমিশন প্রতিষ্ঠা হয়। এ আইনের অন্যতম উদ্দেশ্য ব্যবসা-বাণিজ্যে সুস্থ প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশকে উৎসাহিত করা ও এক্ষেত্রে মনোপলি বা প্রতিযোগিতা বিরোধী কর্মকাণ্ড প্রতিরোধ, নিয়ন্ত্রণ বা নির্মূল করা। এই কমিশন কি শুধু ই-ক্যাব চিঠি দিয়েই ক্ষান্ত হয়েছে? ইভ্যালির অনৈতিক ও বেআইনি বাণিজ্য বন্ধে কমিশনের ব্যবস্থা নিতে বাধা ছিল কোথায়? ইভ্যালি কি এ আইনের ব্যত্যয় করেনি?

জানা যায়, ই-ক্যাব বাণিজ্য মন্ত্রণালয়েও চিঠি দেয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ ব্যাংক চিঠি দেয় ইভ্যালিকে। তার মানে আমরা দেখছি, বিষয়টি নিয়ে সব কর্তৃপক্ষের মধ্যেই একটা উদ্বেগ উৎকণ্ঠা ছিল। তারা দায়িত্বের অংশ হিসেবে নিজেদের মধ্যে চিঠি চালাচালি করেছে ঠিকই। এমনকি গত বছরের প্রথম দিকে ৫ সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়েছে। কিন্তু সেই প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে বাংলাদেশ ব্যাংক বা বাণিজ্য মন্ত্রণালয় কোনও পদক্ষেপ নিয়েছে বলে আমাদের জানা নেই।

এখানে একটি বড় সমস্যা হলো, দেশে ই-কমার্স-এর যথেষ্ট বিকাশ হলেও এর  অপারেটিং, মনিটরিং ও রেগুলেটিং প্রসিডিউর যথেষ্ট বিকশিত হয়নি। ফলে ইভ্যালির মতো প্রতিষ্ঠানগুলো ঢুকে পুরো ই-কমার্স ইন্ডাস্ট্রিকেই প্রশ্নবিদ্ধ করছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, ই-ক্যাব, বাাংলাদেশ ব্যাংকের সমন্বয়ে একটি স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং, মনিটরিং ও রেগুলেটিং প্রসিডিউর তৈরি করা জরুরি।

ইভ্যালির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া যায়নি। কারণ, এখানে শক্ত একটি রেগুলেটরি বডি নেই। এছাড়া সব রেগুলেটরি কর্তৃপক্ষেরই কিছু সীমাবদ্ধতা থাকে। যেমন ই-ক্যাব চাইলেও ইভ্যালির অ্যাকাউন্টে ঢুকতে পারে না। কিন্তু ই-ক্যাবের একজন সদস্য হয়ে ডিজিটাল কমার্স নীতিমালার কোনও পরোয়া না করে ইভ্যালি কীভাবে ব্যবসা করেছে- এটা দেখার এখতিয়ার নিশ্চয় ই-ক্যাবের আছে। মানলাম ই-ক্যাব দুর্বল। কিন্তু বাংলাদেশ ব্যাংক, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বা কম্পিটিশন কমিশন তো দুর্বল না। মূলত শক্ত একটা স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং, মনিটরিং ও রেগুলেটিং প্রসিডিউর সময়ের দাবি।

আসলে ইভ্যালি প্রথম থেকেই প্রতারণার আশ্রয় নিয়েছে। তারা তাদের ব্যবসার মূল নীতিটি কখনোই প্রকাশ করেনি। তারা এক গ্রাহকের কাছ থেকে টাকা এনে আরেক গ্রাহককে ডিসকাউন্ট দিয়েছে। আবার বাকিতে ডিলারের কাছ থেকে পণ্য কিনেছে। কিন্তু সবাইকে বলেছে যে তারা অনেক বেশি কমিশনে পণ্য কিনেছে, তাই গ্রাহককে বাজার মূ্ল্যের চেয়েও কম দামে পণ্য দিতে পারছে। কিন্তু বিষয়টি মোটেই সে রকম ছিল না। কারণ, তাহলে ইভ্যালি ডিলার  বা ভেন্ডরের  কাছে টাকা বাকি রাখতো না। ইভ্যালি পুরো ব্যবসার সঙ্গে যারা জড়িত সবার সঙ্গেই কোনও না কোনোভাবে প্রতারণা ও মিথ্যার আশ্রয় নিয়েছে।

পৃথিবীর সব দেশেই ই-কমার্সকে কিছু নিয়ম মানতে হয়। ইভ্যালি তা মানেনি। হাওয়া থেকে তারা পণ্য বিক্রি করেছে। তারা কখনও তাদের ওয়েবসাইটে পণ্যের স্টক ঘোষণা করেনি। তারা শুধু অর্ডার ও টাকা নিয়েছে। অন্যান্য দেশে পণ্যের পাশে লেখা থাকে কয়টি অবিক্রীত আছে। অর্ডারের সঙ্গে সঙ্গে স্টক কমতে থাকে। ইভ্যালি এ কাজটি করেনি। তারা এত পণ্য বিক্রি করেছে যা তারা ডিলারে কাছ থেকে নেয়নি অথবা বিদেশে থেকে আমদানিও হয়নি। এভাবে স্টক ঘোষণা না করা স্ট্যান্ডার্ড ই-কমার্স নীতিমালার পরিপন্থী। কিন্তু কোনও কর্তৃপক্ষই এ নিয়ে কথা বলেনি।

ইভ্যালিকাণ্ডে পণ্য সরবরাহকারী/ভেন্ডর/ডিলাররাও তাদের দায় এড়াতে পারেন না। তারা নিজেরাও হয়তো অনেকে ভুক্তভোগী। তারা নিজেরা যে দামে একটি পণ্য বিক্রি করতে পারেন না তারা কী করে ভাবলেন যে ইভ্যালি তার চেয়েও অনেক কম দামে ওই পণ্য বিক্রি করবে? তাদের বোঝা দরকার ছিল, এরমধ্যে একটা ফাঁকি আছে। ইভ্যালি নিশ্চয় নিজের পকেটের টাকা থেকে ভেন্ডরের দেনা শোধ করবে না। তার মানে, মাঝখানে অন্য গ্রাহকও আছেন যাদের টাকা এখানে খাটানো হচ্ছে। এখানে একটি না একটি পক্ষ সব সময়ই বাকিতেই রয়ে যাবে। সেটা কখনও গ্রাহক বা কখনও ভেন্ডর। এভাবে বাকির তালিকা বেড়েই গেছে। এখানে যোগ হয়েছে শত শত গ্রাহক। 

হ্যাঁ, গ্রাহকদেরও ভুল আছে। ইভ্যালি ভেন্ডরের টাকা শোধ করলেও আম গ্রাহকের বড় একটি অংশ এখনও পণ্য বা টাকা কোনোটিই পাননি। কারণ, সাধারণ গ্রাহক ঠকানো এখানে খুব সহজ। ভেন্ডর ঠকানো সহজ না, কারণ তারা তো বড় বড় কোম্পানি। 

গ্রাহকরা অবিশ্বাস্য ডিসকাউন্টে পণ্য পাবেন বলে ধরে নিয়েছেন। ফলে অনেক গ্রাহক বহু সংখ্যক অর্ডার দিয়ে ইভ্যালি থেকে পণ্য কিনে ব্যবসার কথাও ভাবতে শুরু করেন। এটা একটা অবাস্তব ব্যবসা মডেল। অনলাইন থেকে খুচরা পণ্য কিনে খুচরা ব্যবসা করা দীর্ঘমেয়াদে সম্ভব নয়। ফলে হয়েছেও তা-ই। কেউ কেউ সফল হলেও অধিকাংশই এখন ধরা খেয়ে বসে আছেন।

ভেন্ডর  বলি আর গ্রাহক বলি সবারই দায় ছিল ইভ্যালির আর্থিক সক্ষমতা যাচাই করে বিনিয়োগ করা। বিশেষ করে ভেন্ডর/সরবরাহকারীর এটা প্রাথমিক দায়িত্ব। আর যেসব গ্রাহক কমিশনের বদলে বাজার মূল্যের সমপরিমাণ টাকা পাওয়ার জন্য ইভ্যালিতে টাকা খাটিয়েছেন তারা শুধু লোভ নয়, ব্যবসার নৈতিক মানদণ্ডেও দণ্ডিত। দিয়েছেন কমিশন মূল্য, অথচ চাইবেন বাজার মূল্য- এটা কেমন কথা। ইভ্যালি কোত্থেকে দেবে এ টাকা?

কাজেই ইভ্যালি যুবক, ডেসটিনি, ইউনিপের মতো গ্রাহকদের জন্য আরেকটি হায় হায় কোম্পানি হিসেবেই আবির্ভূত হয়েছে। এলাম-খাইলাম-গেলাম-এই তিন নীতিতে কাজ করেছে ইভ্যালি। আর গ্রাহকরা? বরাবরের মতো এবারও দেখলাম-দিলাম-মরলাম- এই তার ডেসটিনি।

একটা অন্যায়ের ওপর কোনও ব্যবসা দাঁড়াতে পারে না। ইভ্যালি কোনও ব্যবসা করতে আসেনি, ব্যবসা করেওনি। তারা অনলাইন প্ল্যাটফর্মকে কাজে লাগিয়ে মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে লুটপাট করেছে। ইতোমধ্যে ইভ্যালির সাড়ে ৩শ’ কোটি টাকার হদিস পাওয়া যাচ্ছে না। এই টাকা কোথায় গেছে তা বের করতে হবে। দেশের টাকা দেশে রাখতে হবে আর গ্রাহকদের টাকা গ্রাহকদের ফিরিয়ে দিতে হবে। ইভ্যালির অনিয়মের বিরুদ্ধে আগেই ব্যবস্থা নিতে হতো। তাহলে হয়তো এ পথে ই-অরেঞ্জ, ধামাকার জন্ম হতো না। অতীতের 'যুবক’ থেকে আমরা কেউ শিক্ষা নিতে পারিনি। ফলে বারবারই প্রতারণার শিকার হচ্ছেন গ্রাহকরা। 

লেখক: আইনজীবী ও কলাম লেখক

/এসএএস/এমওএফ/

সম্পর্কিত

শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলছে, তবে...

শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলছে, তবে...

তালেবানবিরোধীদের স্ববিরোধী অবস্থান

আপডেট : ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১৯:২১
মো. জাকির হোসেন ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র ইতিহাসের ভয়াবহতম সন্ত্রাসী হামলার শিকার হয়। ওই হামলার সঙ্গে তালেবানের সংশ্লিষ্টতা ছিল না। তবু মার্কিন নেতৃত্বাধীন পশ্চিমা জোট ২০০১ সালের ৭ অক্টোবর আফগানিস্তান আক্রমণ করে। ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহের মধ্যেই আফগানিস্তানে তালেবানকে ক্ষমতাচ্যুত করা হয়। তালেবানের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, ৯/১১ আক্রমণের মূল হোতা ওসামা বিন লাদেনকে তালেবান সরকার আশ্রয়-প্রশ্রয় দিচ্ছে। দীর্ঘ দুই দশক পর তালেবান আফগানিস্তানের ক্ষমতায় পুনরায় ফিরে আসার পর বিশ্বের নানা প্রান্তে তালেবানের পক্ষে-বিপক্ষে নানা বক্তব্য-বিতর্ক চলছে। আমি তালেবানকে সমর্থন করি না। আমি কেন তালেবানকে সমর্থন করি না এ বিষয়ে বাংলা ট্রিবিউনে আমার মতামত তুলে ধরেছি। তালেবান মুখে শরিয়াহ আইনের কথা বললেও তাদের অনেক কর্মকাণ্ড কেবল ইসলামের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণই নয়, কিছু ক্ষেত্রে তা কোরআন-হাদিসের বিধানের সঙ্গেও সাংঘর্ষিক। আবার তালেবানের বিরুদ্ধে যারা সোচ্চার আমি তাদের পক্ষেও নই। তালেবানের বিরুদ্ধে যারা সোচ্চার তাদের অবস্থানকে আমি যেসব কারণে সমর্থন করি না তা হলো –

এক. তালেবানের বিরুদ্ধে যারা সোচ্চার তারা একচোখা, পক্ষপাতমূলক আচরণ করছে। এরা কেবল ইসলামে ধর্মের অনুসারী জঙ্গিদের বিষয়ে সোচ্চার। মিয়ানমারের বৌদ্ধ উগ্রবাদীরা রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব কেড়ে নিলো। বৌদ্ধ সন্ত্রাসীরা চার দশক ধরে গণহত্যা, গণধর্ষণ করে, জমি-সম্পদ-ব্যবসা কেড়ে নিয়ে লাখ লাখ রোহিঙ্গাকে দেশ থেকে বিতাড়ন করলো। ‘ওয়ার অন টেরর’ ব্যবসায়ীরা মাঝে-মধ্যে ওষ্ঠ সেবা (লিপ সার্ভিস) ছাড়া এই ভয়ংকর সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে পুরোপুরি নীরব। ব্রিটিশদের বিশ্বাসঘাতকতায় ফিলিস্তিনিদের রাষ্ট্র জোর করে কেড়ে নিলো ইহুদি সন্ত্রাসীরা। রাষ্ট্র গঠনের জন্য পর্যাপ্ত ইহুদি ফিলিস্তিনে না থাকায় ব্রিটিশরা সারা বিশ্বে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা ইহুদিদের ফিলিস্তিনে নিয়ে আসে এবং ফিলিস্তিনিদের বিতাড়ন করতে থাকে। ব্রিটিশ বাহিনীর সহযোগিতায় ইহুদিরা গড়ে তোলে প্রশিক্ষিত গোপন সন্ত্রাসী সংগঠন। এরমধ্যে তিনটি প্রধান সংগঠন ছিল, হাগানাহ, ইরগুন ও স্ট্যার্ন গ্যাং, যারা হত্যা, সন্ত্রাস, ধর্ষণ আর ধ্বংসযজ্ঞ সৃষ্টির মাধ্যমে নিরীহ ফিলিস্তিনদের বাধ্য করে নিজ মাতৃভূমি ছেড়ে চলে যেতে।

ফিলিস্তিনিদের জমিজমা ইহুদিরা দখল করে নেয়। ১৯২২ সালে ইসরাইলে ইহুদি ছিল মাত্র ১২ শতাংশ, ১৯৩১ সালে তা হয় ২৩ শতাংশ, আর ১৯৪৭-এ তা বেড়ে দাঁড়ায় ৩২ শতাংশে।

জাতিসংঘ এখতিয়ার-বহির্ভূতভাবে ৪৫ শতাংশ এলাকা নিয়ে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের যে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছিল সন্ত্রাসী রাষ্ট্র ইসরায়েল, তাও লঙ্ঘন করে ক্রমাগত ফিলিস্তিনিদের ঘরবাড়ি, জায়গা-জমি কেড়ে নিচ্ছে। মুসলমানদের প্রথম কিবলা আল-আকসা মসজিদে নামাজরত মুসল্লিদের গুলি-বোমায় প্রতিনিয়ত আহত-নিহত করছে ইহুদিরা। ফিলিস্তিনিদের ঘরবাড়ি থেকে উচ্ছেদ ও তাদের জায়গা-জমি জোর করে বেদখল করাকে নিরাপত্তা পরিষদের একাধিক সিদ্ধান্তে ও আন্তর্জাতিক আদালতের অভিমতে অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।

কিন্তু ইসরায়েল আন্তর্জাতিক আইনকে ক্রমাগত বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস অব্যাহত রেখেছে। এই সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপ নেওয়া দূরে থাক, উপরন্তু অতি সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ঘোষণা দিয়েছে ইসরায়েলের সঙ্গে বন্ধুত্ব করতে বিভিন্ন দেশকে চাপ দেবে যুক্তরাষ্ট্র। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্থনি ব্লিঙ্কেন ঘোষণা করেছেন, ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার ক্ষেত্রে সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন এবং মরক্কোকে অনুসরণ করার জন্য আমরা আরও দেশকে উৎসাহিত করবো। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, সংযুক্ত আরব আমিরাত গত বছরের সেপ্টেম্বরে ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে সম্মত হয়। এরপর বাহরাইন, সুদান ও মরক্কো আরব আমিরাতের পথ ধরে ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করে। যুক্তরাষ্ট্র নানা রকম ‘তোফা’র বিনিময়ে এই তিনটি রাষ্ট্রকে ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে বাধ্য করে। পশ্চিম সাহারার ওপর মরক্কোর কর্তৃত্বের স্বীকৃতি দেওয়া, সুদানকে সন্ত্রাসী রাষ্ট্রের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান সংক্রান্ত একটি চুক্তি সই করার মাধ্যমে রাষ্ট্র তিনটিকে রাজি করিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

তালেবানের বিরুদ্ধে সোচ্চাররা ইসরায়েলের সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে মুখে কুলুপ আঁটা। বছরে পর বছর ধরে চীনের উইঘুরে মুসলিম হত্যা, ধর্ষণ, নির্যাতন, ধর্মপালনে বাধাদান সন্ত্রাস হলেও তালেবানের বিরুদ্ধে বিপ্লবীরা এ ব্যাপারে উচ্চকিত নন। শ্বেতাঙ্গ উগ্রবাদীদের হাতে মসজিদে হামলা, নামাজরত মুসল্লিদের হত্যা, মুসলমানদের ওপর আক্রমণকে জঙ্গিবাদ বলতেই রাজি নন তালেবানের বিরুদ্ধে সোচ্চাররা। ভারতের বাড়ন্ত উগ্র হিন্দুত্ববাদ মুসলমানদের হত্যা-নির্যাতন করছে, মুসলিম নারীদের অবমাননা করছে। তালেবানকে জঙ্গি তকমা দিতে রগ ফুলিয়ে তর্ক করলেও উগ্র হিন্দুত্ববাদকে জঙ্গিবাদ বলতে বড়ই কুণ্ঠিত এরা।

দুই. জঙ্গিবাদের ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, মুসলমানদের গায়ে জঙ্গি, উগ্র, সন্ত্রাসী তকমা লাগার অনেক আগেই পৃথিবীতে উগ্রবাদ ও সন্ত্রাসের উত্থান হয়। আর বর্তমানে মুসলমান নামধারী জঙ্গিদের পাশাপাশি অন্য ধর্ম ও মতাদর্শের উগ্রবাদীরও হামেশাই দৃষ্টিগোচর হয়। কিন্তু মুসলমান জঙ্গিরা ছাড়া অন্য ধর্মের উগ্রবাদীরা মিডিয়ায় খুব একটা প্রচার-প্রচারণা পায় না। ২০১৮ সালে ইউনিভার্সিটি অব আলাবামা পরিচালিত একটি জরিপে দেখা গেছে, ২০০৬ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে অমুসলিম নাগরিকদের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড নিয়ে সেখানে যে পরিমাণ খবর প্রচার করা হয়েছে, কোনও সন্ত্রাসী ঘটনায় মুসলমানরা জড়িত থাকলে সে তুলনায় ৩৫৭ গুণ বেশি খবর প্রচার করা হয়েছে।

এফবিআইয়ের পরিসংখ্যান অনুযায়ী ১৯৮০ থেকে ২০০৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রে যত সন্ত্রাসী হামলা হয়েছে তার সর্বোচ্চ ৪২ শতাংশের সঙ্গে যুক্ত ল্যাটিনো গ্রুপ। ২৪ শতাংশ চরম বামদল, ইহুদি চরমপন্থী গ্রুপ ৭ শতাংশ, ইসলামি জঙ্গি গ্রুপ ৬ শতাংশ, কমিউনিস্ট গ্রুপ ৫ শতাংশ ও অন্যান্য গ্রুপ ১৬ শতাংশ সন্ত্রাসী আক্রমণের সঙ্গে জড়িত।

National Consortium for the Study of Terrorism and Responses to Terrorism (START) এর পরিসংখ্যান বলছে ১৯৭০ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে যে সন্ত্রাসী হামলা হয়েছে তার ২.৫ শতাংশ হামলার সঙ্গে জড়িত মুসলমানরা। মুসলমানদের সন্ত্রাসী হিসেবে ধারাবাহিকভাবে চিত্রায়িত করা এবং ইসলামভীতি ছড়ানোর জন্য ইসলামকে ভয়ংকর একটি মতাদর্শ হিসেবে তুলে ধরার একটি সুস্পষ্ট প্রবণতা দৃশ্যমান।

তিন. আলকায়েদা নেতা ওসামা বিন লাদেনকে আশ্রয়-প্রশ্রয় দেওয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও তার পশ্চিমা মিত্ররা সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে তালেবানের বিরুদ্ধে দুই দশক ধরে যুদ্ধ করলো। এই আল-কায়েদাকে সামরিক, আর্থিক ও প্রশিক্ষণ দিয়ে তৈরি করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও পাকিস্তান।

আফগানিস্তানে দখলদার রাশিয়ার বিরুদ্ধে প্রক্সি যুদ্ধে আল-কায়েদার কাজের পূর্ণ সহযোগী ছিল যুক্তরাষ্ট্র ও পাকিস্তান। কট্টর ধর্মীয় গুরু আবদুল্লাহ আজমের সঙ্গে মিলে লাদেন মকতব আল-খিদামাত (এমএকে) নামে একটি বৈশ্বিক নিয়োগ নেটওয়ার্ক গড়ে তোলে। সংগঠনটি নিউ ইয়র্কের ব্রুকলিন এবং অ্যারিজোনার টুকসনে তাদের কার্যালয় স্থাপন করেছিল। সেখান থেকে তারা ‘আফগান আরব’ নামে খ্যাত অভিবাসীদের সামরিক প্রশিক্ষণ দিয়েছে। আল-কায়েদা তখন যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ছিল ‘পেয়ারের মুজাহিদিন’। সোভিয়েত বাহিনী পরাজিত হয়ে আফগানিস্তান ছেড়ে চলে যাওয়ার পর একই আল-কায়েদা যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হয়ে গেলো জঙ্গি।

সোভিয়েত বাহিনী চলে যাওয়ার পর মুজাহিদিনদের মধ্যে অন্তর্দ্বন্দ্ব শুরু হয়। এ রকম অবস্থায় দৃশ্যপটে আসে তালেবান। তালেবান হঠাৎ করে আকাশ থেকে টুপ করে পড়েনি, কিংবা মাটি ফুঁড়ে বের হয়নি। সৌদি আর্থিক সহায়তায় দীর্ঘদিন ধরে তালেবান গড়ার কারিগর হচ্ছে পাকিস্তান। যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা কি এ খবর জানতো না?

চার. জঙ্গিবাদ দমনে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে পশ্চিমা মিত্রদের ‘ওয়ার অন টেরর’ সৎ ও পক্ষপাতহীন ছিল না। মুখে জঙ্গিবাদ দমনের কথা বললেও তারা বিশেষ ধর্ম-মতাদর্শ ও গ্রুপকে আশ্রয়-প্রশ্রয় দিয়েছে, অর্থ-অস্ত্র-প্রশিক্ষণ দিয়ে সাহায্য-সহযোগিতা করেছে। তথাকথিত ‘ওয়ার অন টেরর’ ঘোষণার পেছনে মুসলিম বিশ্বকে পদানত রাখার পরিকল্পনা ছিল। এছাড়া যুদ্ধ অর্থনীতিকে চাঙা রাখতে অস্ত্র ব্যবসার কূটকৌশলও ছিল। ফলে জঙ্গিবাদ দমনের নামে ভয়ংকর এই রাজনীতির খেলা ব্যর্থ হয়েছে। উপরন্তু, জঙ্গিবাদের বিশ্বায়ন হয়েছে। নতুন নতুন জঙ্গি গ্রুপের উত্থান হয়েছে।

পাঁচ. ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র এবং তালেবানের মধ্যে তথাকথিত শান্তি চুক্তির মাধ্যমে তালেবান ক্ষমতাসীন হয়েছে। মার্কিন ও তার মিত্র সামরিক বাহিনী প্রত্যাহার করে নেওয়ার অল্প সময়ের মধ্যেই আফগান সরকারের পতন ঘটতে পারে এটা কি অজানা ছিল? আফগানিস্তানে মার্কিন নেতৃত্বাধীন মিশনের অধিনায়ক জেনারেল অস্টিন মিলার গত জুন মাসেই হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন যে ‘দেশটি এক চরম নৈরাজ্যকর গৃহযুদ্ধের দিকে চলে যেতে পারে। এটি গোটা বিশ্বের জন্যই এক গভীর উদ্বেগের বিষয়।’

ওই মাসেই মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার এক পর্যালোচনায় আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছিল, মার্কিন সামরিক বাহিনী প্রত্যাহার করে নেওয়ার অল্প সময়ের মধ্যেই আফগান সরকারের পতন ঘটতে পারে। শান্তি চুক্তির পর তালেবান বড় বড় শহর এবং সামরিক ঘাঁটির ওপর হামলার পরিবর্তে তারা টার্গেট করে করে হত্যা করছিল। তালেবানের হামলার টার্গেট ছিল সাংবাদিক, বিচারক, শান্তির জন্য আন্দোলনকারী এবং কিছু ক্ষেত্রে নারীরা। এ থেকে ধারণা পাওয়া যাচ্ছিল যে তালেবান তাদের চরমপন্থী মতাদর্শ পরিবর্তন করেনি, কৌশল বদলেছে মাত্র। তালেবানের সঙ্গে পাতানো ম্যাচ খেলে এখন উদ্বেগ প্রকাশ, মায়াকান্না পশ্চিমাদের দ্বিচারিতার নগ্ন প্রকাশ বৈ আর কিছু নয়।

ছয়. তালেবানবিরোধীরা মনে করে তালেবানকে ক্ষমতাচ্যুত এবং ইসলামের নামে পরিচালিত অন্য জঙ্গিদের দমন করতে পারলেই পৃথিবী থেকে জঙ্গিবাদ-সন্ত্রাস নির্মূল হবে। এটি ভ্রান্ত ধারণা। বৌদ্ধ, হিন্দু, ইহুদি ও খ্রিষ্ট ধর্মের অনুসারী ও শ্বেতাঙ্গ উগ্রবাদীদের দ্বারা মুসলমান হত্যা, ধর্ষণ, নিপীড়ন, নির্যাতন, মসজিদে হামলা বন্ধ না করা গেলে ইসলামের নামে জঙ্গিবাদ নির্মূল হবে বলে প্রতীয়মান হয় না। ‘ওয়ার অন টেরর’-এর নামে  আফগানিস্তান, ইরাক, লিবিয়া, সিরিয়া, মিসরকে ধ্বংসস্তূপে পরিণত করা হলো। লাখ লাখ নিরীহ মানুষকে হত্যা করা হলো। কোটি মানুষকে বাস্তুচ্যুত ও জীবনধারণের অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হলো। জঙ্গিবাদ কি দমন হলো? বরং, পক্ষপাতমূলক আচরণের প্রতিক্রিয়ায় জন্ম নিয়েছে আইএস, আইএসআইকেপি, বোকো হারাম, আল শাবাব।  

তালেবানের পক্ষে-বিপক্ষে বিতর্ক যা-ই থাকুক, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তালেবান ইস্যু এখন বড়ই গুরুত্বপূর্ণ। তালেবান, আল কায়েদা, হাক্কানি নেটওয়ার্ক সবারই নেপথ্যের কারিগর পাকিস্তানের আইএসআই। পাকিস্তান যেকোনও মূল্যে তালেবানের ওপর প্রভাব ধরে রাখতে চাইবে। অন্যদিকে, মধ্য এশিয়ায় অবস্থান ধরে রাখতে আফগানিস্তান রাশিয়ার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। চীন ও ভারতের ভূ-রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, বাণিজ্যিক ও নিরাপত্তা ইস্যু জড়িত রয়েছে আফগানিস্তানের সঙ্গে। তালেবানকে কাছে টানতে চেষ্টা করছে দুই দেশই। ইরান ও আমিরাত সরকার গঠন, অনানুষ্ঠানিক স্বীকৃতি ও উদার সাহায্যের হাত বাড়িয়েছে তালেবানের দিকে। এদিকে তালেবান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শান্তিচুক্তি করে ক্ষমতায় এসেছে। ফলে কোন দেশ তালেবানের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে পারবে, তার জন্য অপেক্ষা করতে হবে। আর এর জের ধরে রুশ-মার্কিন-চীন সম্পর্ক তথা বৈশ্বিক রাজনীতি কোনদিকে মোড় নেবে, তা সময়ই বলে দেবে। আইএসআইর সবচেয়ে বড় শত্রু হলো বাংলাদেশ ও ভারত। বাংলাদেশ ও ভারতের বিষয়ে তালেবানের ভূমিকা কী হবে সেটা দেখতেও তালেবানপ্রেমী ও বিরোধীদের অপেক্ষা করতে হবে আরও কিছু দিন।

লেখক: অধ্যাপক, আইন বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।

ই-মেইল: [email protected]
/এসএএস/এমওএফ/

সম্পর্কিত

আমি কেন তালেবানকে সমর্থন করি না?

আমি কেন তালেবানকে সমর্থন করি না?

পরীমণি, ‘সরি মণি’

পরীমণি, ‘সরি মণি’

রাজনীতি ও ইতিহাসের ভুল পাঠ ও বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে শত্রুতা

রাজনীতি ও ইতিহাসের ভুল পাঠ ও বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে শত্রুতা

বিপদ ডেকে আনছে ভারত, ঝুঁকি বাংলাদেশেরও

বিপদ ডেকে আনছে ভারত, ঝুঁকি বাংলাদেশেরও

২১ হাজার কোটি টাকা ‘জানের সদকা’!

আপডেট : ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১৬:৩৮
প্রভাষ আমিন একসময় বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় ব্যক্তি ছিলেন মাশরাফি বিন মোর্তজা। জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক এই অধিনায়কের একদা জনপ্রিয়তাকে নিছক সবচেয়ে বেশি বললেও কম বলা হয়। আসলে তার জনপ্রিয়তা ছিল সর্বগ্রাসী। ভালো খেললেও সাকিব-তামিমদের সমালোচনাও কম ছিল না। বাংলাদেশের প্রথম সুপারস্টার মোহাম্মদ আশরাফুল তো ম্যাচ পাতানো কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে জাতীয় শত্রু হয়ে গেছেন। কিন্তু একটা সময় ছিল, যখন মাশরাফির কোনও শত্রু বা সমালোচক ছিল না। জাতি-ধর্ম-বর্ণ-রাজনীতি নির্বিশেষে সবাই ছিলেন মাশরাফির ভক্ত। নেতৃত্বে, পারফরম্যান্সে, মানবিকতায়, দেশপ্রেমে মাশরাফি ছিলেন সত্যিকারের আইডল। তার গুণগুলো নিশ্চয়ই আগের মতোই আছে। কিন্তু জনপ্রিয়তা আর আগের জায়গায় নেই। একটি দলে যোগ দিয়ে এমপি হতে গিয়ে তিনি জনপ্রিয়তায় ধস নামিয়েছেন।

মাশরাফি যত ভালোই হোন, আওয়ামী লীগ বিরোধীরা কিছুতেই আর তাকে পছন্দ করবে না। তাছাড়া গত বিশ্বকাপের পারফরম্যান্স, অবসর নিয়ে নানা নাটকীয়তায়ও মাশরাফির জনপ্রিয়তায় ধস নেমেছে। তবে যা শুনি, নড়াইলের এমপি হিসেবে তিনি সুখে-দুঃখে জনগণের পাশে থাকেন। প্রচলিত রাজনীতিবিদদের মতো নন তিনি। জনপ্রিয়তায় ধস নামলেও সেভাবে কোনও বিতর্কে কখনও জড়ায়নি মাশরাফির নাম। কিন্তু তার সারা জীবনের নিষ্কলঙ্ক ভাবমূর্তিতে কলঙ্ক লেপন করে দিয়েছে ই-অরেঞ্জ। এই ‘হায় হায়’ ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর ছিলেন মাশরাফি। কিন্তু সাধারণ জনগণের ১১০০ কোটি টাকা মেরে দিয়ে হাওয়া হয়ে গেছে ই-অরেঞ্জ। দুই মালিক কারাগারে, নেপথ্য মালিক ভারতের কারাগারে। কিন্তু মালিকদের আটকালেই তো সমস্যার সমাধান হচ্ছে না। জনগণের ১১০০ কোটি টাকা কে ফেরত দেবে?

আর কাউকে না পেয়ে ই-অরেঞ্জের প্রতারিত গ্রাহকরা মাশরাফির মিরপুরের বাসায় গিয়ে ভিড় করছেন। অন্য কেউ হলে হয়তো দায়িত্ব এড়ানোর চেষ্টা করতেন। কিন্তু মানবিক মাশরাফি তা করেননি। যদিও ই-অরেঞ্জের সঙ্গে তার চুক্তির মেয়াদ ফুরিয়েছে আগেই, তবু তিনি ই-অরেঞ্জের ক্ষুব্ধ গ্রাহকদের সঙ্গে কথা বলছেন, পাশে থাকার আশ্বাস দিচ্ছেন, তাদের হয়ে নানা জায়গায় কথা বলছেন। কিন্তু মাশরাফি যত আন্তরিকই হোন, ১১০০ কোটি টাকা আদায় করে দেবেন কোত্থেকে? মাশরাফিও বুঝেছেন গ্রাহকরা এই টাকা আর ফেরত পাবে না। একপর্যায়ে নাকি তিনি গ্রাহকদের টাকাটা ‘জানের সদকা’ হিসেবে দিয়ে দিতে বলেছেন।

‘জানের সদকা’ প্রসঙ্গে পরে আসছি। কিন্তু ই-অরেঞ্জের মেরে দেওয়া ১১০০ কোটি টাকার দায়িত্ব কে নেবে? অসহায় মাশরাফির হয়তো জানের সদকা দিতে বলা ছাড়া আর কিছু করার ছিল না। কিন্তু পুরো দায়িত্ব এড়ানোর সুযোগ কি তার আছে। তিনি তো ই-অরেঞ্জের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর ছিলেন। কোনও গ্রাহক যদি দাবি করেন, মাশরাফিকে দেখেই তিনি ই-অরেঞ্জে টাকা দিয়েছেন, তাহলে মাশরাফি কীভাবে দায় এড়াবেন। মাশরাফি একা নন, এই হায় হায় কোম্পানিগুলো তাদের প্রতি জনগণের আস্থা তৈরি করতে বিভিন্ন ক্ষেত্রের তারকাদের ফেসভ্যালু ব্যবহার করে। সন্দেহভাজন আরেক কোম্পানি আলিশা মার্টের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর সাকিব আল হাসান। ই-অরেঞ্জের গ্রাহকরা তবু দুঃখের কথা বলার জন্য মাশরাফির বাসা পর্যন্ত যেতে পেরেছেন। আলিশা মার্টের কিছু হলে কেউ কি সাকিবের দেখা পাবেন? ডুবন্ত কোম্পানি ইভ্যালির ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর ছিলেন তাহসান। জনপ্রিয় নায়িকা শবনম ফারিয়া, ফেসবুক সেলিব্রেটি আরিফ আর হোসেন মোটা বেতনে ইভ্যালির উচ্চপদে চাকরি করেছেন। কেউ না কেউ নিশ্চয়ই তাহসান, শবনম বা আরিফকে দেখেও ইভ্যালিতে লগ্নি করে থাকতে পারেন। জনগণের মেরে দেওয়া অর্থে এই হায় হায় কোম্পানিগুলো ক্রিকেট টিমের স্পন্সর করে, সিনেমা বানায়, গণমাধ্যমে বিজ্ঞাপন দেয়।

এভাবে তারা বাবল তৈরি করে এবং আরও বেশি মানুষের কাছ থেকে টাকা নেয়। মাশরাফি বলছেন, ই-অরেঞ্জকে ব্যবসা করার অনুমতি সরকার দিয়েছে। কোম্পানি ভালো না মন্দ সেটা দেখা সরকারের দায়িত্ব। মাশরাফি ভুল বলেননি। কিন্তু মাশরাফি বা সাকিব বা তাহসান তো এসব কোম্পানির স্রেফ মডেল নয়, ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর। সাধারণ মডেলরা হয়তো কোম্পানির ভালোমন্দের দায় এড়াতে পারেন, কিন্তু ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডররা নয়। এসব তারকা তাদের সারা জীবনের অর্জিত গুডউইল বিক্রি করেই ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হতে পেরেছেন। বিনিময়ে তারা নিশ্চয়ই মোটা অঙ্কের অর্থ পেয়েছেন। কারণ, এখানে তাদের নিজের নামেই উপস্থাপন করা হয়েছে, মডেল হিসেবে নয়। সিগারেট কোম্পানিগুলোও বাংলাদেশে বৈধভাবে ব্যবসা করছে। মাশরাফি বা সাকিব কি কোনও কোম্পানির ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হবেন? ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হতে হলে অবশ্যই তারকাদের যাচাই-বাছাই করে নিতে হবে। কোম্পানি ডুবে গেলে গা ঝাড়া দিয়ে নিজেকে দায়মুক্ত করার সুযোগ নেই।

এবার আসছি, ‘জানের সদকা’ প্রসঙ্গে। মানুষ বিপদে পড়লে জানের সদকা হিসেবে সামর্থ্য অনুযায়ী টাকা-পয়সা দান করেন। কিন্তু একজন মানুষ ‘জানের সদকা’ হিসেবে কত টাকা ছেড়ে দিতে পারেন? জানই যদি না থাকে, সদকা দেবেন কোত্থেকে?

পত্রিকায় দেখলাম, সালাউদ্দিন নামে একজন তার জীবনের সর্বস্ব এক করে বিভিন্ন ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানে ২ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছিলেন। কিন্তু এখন তিনি পথের ফকির। জানের সদকা দিলে কি তার জান থাকবে? এর আগে যুবক, ডেসটিনিতে সর্বস্ব হারিয়ে অনেকের আত্মহননের খবর পত্রিকায় এসেছে। দুদিন আগে প্রথম আলো লিখেছে, গত ১৫ বছরে যুবক, ডেসটিনি, ইউনিপেটু, এহসান গ্রুপ, ই-অরেঞ্জ, ইভ্যালি এবং বিভিন্ন সমবায় সমিতি মিলে জনগণের ২১ হাজার কোটি টাকা লোপাট করেছে। এবং এই ২১ হাজার কোটি টাকার এক টাকাও কেউ ফেরত পাননি। এই ২১ হাজার কোটি টাকা তো সরাসরি জনগণের পকেট থেকে গেছে। এর সঙ্গে বিভিন্ন ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান বা শেয়ারবাজারের লুটপাট হিসাব করলে লোপাট হওয়া টাকার পরিমাণ লাখো কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে। এই টাকাও শেষ পর্যন্ত জনগণেরই। লোপাট হওয়ার পর আমরা সবাই মিলে শোরগোল তুলি। কিন্তু ইভ্যালি বলুন আর ডেসটিনি, সবাই কিন্তু সবার চোখের সামনেই লুটপাটটা করেছে। সবাইকেই এর দায় নিতে হবে। যেমন নিতে হবে ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডরদের, ক্রিকেট টিমকে, বিজ্ঞাপন নেওয়া গণমাধ্যমকে।

তবে শেষ পর্যন্ত দায় বলুন আর ব্যর্থতা বলুন, পুরোটাই সরকারের। এখন গ্রেফতার করে, বিচার করে দায় এড়ানো যাবে না। ডেসটিনির রফিকুল আমিন বছরের পর বছর কারাগারে আছেন। সেখানে তিনি অসুস্থতার অজুহাতে হাসপাতালে থাকেন, হাসপাতালে বসে জুমে ব্যবসায়িক মিটিং করেন। কিন্তু তাতে সাধারণ মানুষ তো টাকা ফেরত পায়নি। ইভ্যালির রাসেল বা তার স্ত্রীকে সারা জীবন কারাগারে রাখলেও তো প্রতারিত সাধারণ মানুষ টাকা ফেরত পাবেন না।

জনগণের জানমালের নিরাপত্তা দেওয়ার দায়িত্ব সরকারের। কিন্তু যুবক, ডেসটিনি, ইউনিপেটু, ইভ্যালি, ই-অরেঞ্জের ক্ষেত্রে বারবার তারা জনগণের মালের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়েছে। কোনও কিছুর প্রথমবারে হয়তো সরকার বলতে পারে, তারা বুঝতে পারেননি। কিন্তু বারবার নানা ফর্মে একই স্টাইলে প্রতারণা করে মানুষের টাকা মেরে দেবে, আর সরকার বসে বসে বক্তৃতা দেবে; এটা হতে পারে না। ইভ্যালি নিয়ে তো এক বছর ধরেই ফিসফাস চলছিল। বাংলাদেশ ব্যাংক তো একবার তাদের অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করে এক মাস পর আবার ছেড়েও দিয়েছিল। ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ছেড়ে দেওয়া মানে তো তাদের গ্রিন সিগন্যাল দেওয়া।

এই দায় তো বাংলাদেশ ব্যাংককে নিতেই হবে। দায়িত্ব নিলে জনগণের জানমালের নিরাপত্তা দিতেই হবে। নইলে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বা বাংলাদেশ ব্যাংকের দায়িত্বশীলরা দায়িত্ব ছেড়ে দিন। একটি দেশে সুশাসন থাকলে, আইনের শাসন থাকলে দিনেদুপুরে এমন লুটপাট চলতে পারে না। প্রতারকদের বিচার চলুক, শাস্তি হোক; পাশাপাশি যুবক, ডেসটিনি, ইউনিপেটু, ইভ্যালি, ই-অরেঞ্জের মতো হায় হায় কোম্পানির সব স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ বিক্রি করে আনুপাতিক হারে হলেও জনগণের টাকা ফিরিয়ে দেওয়া হোক।

২১ হাজার কোটি টাকা ‘জানের সদকা’ দেওয়ার সামর্থ্য আমাদের নেই।
 
লেখক: হেড অব নিউজ, এটিএন নিউজ
/এসএএস/এমওএফ/

সম্পর্কিত

চাপ নয়, শিক্ষা হোক আনন্দের

চাপ নয়, শিক্ষা হোক আনন্দের

‘চোরে না শোনে ধর্মের কাহিনি’

‘চোরে না শোনে ধর্মের কাহিনি’

‘সভ্য সমাজে এগুলো হতে পারে না’

‘সভ্য সমাজে এগুলো হতে পারে না’

১৫ আগস্টের দায় কেন বিএনপির?

১৫ আগস্টের দায় কেন বিএনপির?

দরিদ্র মৃত্যুপথযাত্রী ছাত্র যদি ‘মেধাবী’ না হয়?

আপডেট : ২২ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১৭:৫৯
ডা. জাহেদ উর রহমান মাসখানেক আগে, ১৩ আগস্ট ছিল গুণী নির্মাতা তারেক মাসুদের মৃত্যুবার্ষিকী। তার সঙ্গে মারা যাওয়া আরেকজন মানুষের নামও আমাদের মনে আছে– মিশুক মুনীর। এ বছর সেই ঘটনার এক দশক পূর্ণ হয়েছে বলে মিডিয়ায় সেটি উল্লেখ করে সবাই গুরুত্ব দিয়ে সংবাদটি প্রকাশ করেছে। সেই বছরই এই দুর্ঘটনার ঠিক এক মাস আগে ঘটা আরেকটি ভয়ংকর দুর্ঘটনার কথা কি মনে আছে আমাদের? সেই দুর্ঘটনাটির এক দশক পূর্তি হয়েছে। প্রিয় পাঠক, মনে করার চেষ্টা করুন। একটু পরে আসছি সেই দুর্ঘটনার কথায়।

খুব স্পষ্টভাবে আমি তারেক মাসুদের দুর্ঘটনা এবং তার পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহের কথা মনে করতে পারি। মনে আছে, সে সময়ে কী অবিশ্বাস্য তোলপাড় ঘটে গিয়েছিল সারাদেশে। ভীষণ গুণী এই দুই জন মানুষের মৃত্যু আমাদের কাঁপিয়ে দিয়ে যায় ভীষণভাবে। প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ সবাই শোকে মুহ্যমান হন। অবহেলাজনিত সড়ক দুর্ঘটনাকে ‘হত্যা’ দাবি করে মানুষ ফুঁসে ওঠে, প্রতিবাদ করে ওই ‘হত্যাকাণ্ডের’। এ ঘটনার সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ব্যাপার ছিল – আমাদের বুদ্ধিজীবী, শিল্পসাহিত্য আর সংস্কৃতির মানুষদের ‘অসাধারণ প্রতিবাদী’ হয়ে ওঠা। মিডিয়ায় অনেক খবর, অনেক আলোচনা, অনেক প্রতিবাদ, অনেক ধিক্কার। সারাদেশে মানববন্ধন হলো, এমনকি ঈদের দিন শহীদ মিনারে অবস্থান কর্মসূচি হলো। টিভি ক্যামেরার সামনে সবার শোকের মধ্যেও ছাপিয়ে উঠলো যোগাযোগমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি।

ওই দুর্ঘটনাকে কেন্দ্র করে আমাদের সামষ্টিক উন্মাদনা এমন পরিস্থিতিতে পৌঁছেছিল যে সেটা একজন মানুষের জীবনের ওপর এক বড় সংকট তৈরি করেছিল। এই দুর্ঘটনায় জড়িত বাসটির চালক জামিরকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। গত বছর কাশিমপুর কারাগারে থাকা অবস্থায় তার হার্ট অ্যাটাক হয় এবং তিনি মারা যান।

জমিরের মৃত্যুর পেছনে আমাদের এক সংকটও উন্মোচিত হয়েছে। সেই দুর্ঘটনার ব্যাপারে দেশের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একজন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. শামসুল হক (সাবেক পরিচালক, দুর্ঘটনা রিসার্চ ইনস্টিটিউট, বুয়েট) দীর্ঘ নিবন্ধ লিখেছেন একটি বিদেশি সংবাদ সংস্থার বাংলা ভার্সনে। সেখানে তিনি দেখিয়েছেন এই দুর্ঘটনার জন্য জমিরের বাসটি দায়ী ছিল না। তিনি আদালতে দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে সাক্ষ্যের সঙ্গে টেকনিক্যাল মতামতের প্রতিও গুরুত্ব আরোপ করেন। এই দুর্ঘটনার দায়ভার নিয়ে তিনি তার বিশ্লেষণ শেয়ার করেছেন তারেক মাসুদের মামলার আইনজীবী, অ্যাটর্নি জেনারেল এবং আইনমন্ত্রীর সঙ্গে। কিন্তু এরপরও প্রক্রিয়াগত কারণে পারেননি সেই বাসচালকের শাস্তি ঠেকাতে।

সড়ক দুর্ঘটনা কি এই দেশে খুব কম হয়? দেশে সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলো যে সংখ্যা আমাদের জানায়, সেটা পত্রিকায় প্রকাশিত সংখ্যা। বাস্তব সংখ্যা আরও অনেক বেশি। সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ে বাংলাদেশ সরকার পরিচালিত হেলথ ইঞ্জুরি সার্ভে-২০১৬-তে জানা যায়, এই দেশে প্রতিদিন গড়ে ৬৪ জন মানুষ প্রাণ হারায়। অর্থাৎ বছরে এই সংখ্যা ২৩ হাজারের বেশি। ‘মজার’ ব্যাপার হলো, এই সংখ্যাগুলো আমাদের বিবেককে নাড়া দেয় না, জাগিয়ে তোলে না। আমাদের কাছে ‘নিছকই কতগুলো সংখ্যা, পরিসংখ্যান’।

তারেক মাসুদ আর মিশুক মুনীরের প্রাণ কেড়ে নেওয়া দুর্ঘটনাটির মাসখানেক আগের যে দুর্ঘটনাটির কথা বলছিলাম মনে পড়েছে সেটার কথা? ২০১১ সালের ১১ জুলাই মিরসরাইয়ে ঘটেছিল সেই দুর্ঘটনাটি। মারা গিয়েছিল নিতান্ত ‘সাধারণ’ কিশোররা। দুর্ঘটনায় ‘সাধারণ’ মানুষের মৃত্যু অত্যন্ত তুচ্ছ খবর আমাদের দেশে। কিন্তু তখন এ খবরটি বেশ বড় হয়েছিল। শুধু একটি সড়ক দুর্ঘটনায় ৪৪ জন কিশোর মারা গিয়েছিল। স্কুলের ফুটবল দলের খেলা দেখে পিকআপে করে ফিরছিল তারা। পিকআপটি গিয়ে একটি পুকুরে পড়ে।

দুর্ঘটনাটির পরে কখনও কখনও সেই দিনটিকে স্মরণ করে আমাদের দেশের কোনও কোনও মিডিয়ায় খবর প্রকাশিত হয়েছে। এই বছর তারেক মাসুদের দুর্ঘটনাটির মতো সেই দুর্ঘটনার এক দশক পূর্তি হলো। খুঁজে দেখলাম হাতে গোনা একটি বা দুটি মিডিয়ায় খবরটি হয়েছে।

তবে আমি মিডিয়াকে দোষ দিচ্ছি না। মিডিয়ার সংবাদও প্রায় সব ক্ষেত্রেই মেনে চলে অর্থনীতির 'চাহিদা-জোগান তত্ত্ব'। আসলেই আমরা ‘শিক্ষিত’ মধ্যবিত্তরা মিরসরাইয়ের খবরটি ভুলে যেতে চেয়েছি। নিতান্ত গ্রামের নিম্ন-মধ্যবিত্ত থেকে দরিদ্র কিশোররা ছিল এই দুর্ঘটনার শিকার। ঘটনার সময় সংখ্যার ওজনটা আমাদের কিছুটা প্রভাবিত করলেও সময়ের সঙ্গে ফিকে হয়ে গেছে সব।

অথচ দুর্ঘটনার কথা যদি আমরা ভাবি তাহলে দেখবো একজন বিখ্যাত বা সামর্থ্যবান মানুষের দুর্ঘটনায় মৃত্যুর চেয়ে একটা অতি সাধারণ মানুষের মৃত্যু অনেক বেশি ভয়ংকর। তারেক মাসুদের মৃত্যুর পর তার পরিবার পথে বসে যায়নি কিংবা সেটা ঘটেনি মিশুক মুনীরের পরিবারের ক্ষেত্রেও। কিন্তু সেই দুর্ঘটনায় তাদের বহনকারী মাইক্রোবাসের চালকও মারা গিয়েছিল; তার পরিবারের কথা কি আমরা ভাবি?

বাসচালক জমিরের পরিবারের কী অবস্থা, সেই খোঁজ কি আমরা নিয়েছি? কীভাবে চলছে পরিবারগুলোর জীবিকা? বহু দুর্ঘটনায় পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম মানুষটি মারা যায় কিংবা বিকলাঙ্গ হয় এবং পরিবারটির জীবন তছনছ হয়ে যায়। কিন্তু এভাবে আমরা কখনও ভাবি না। তাই এসব মৃত্যু আমাদের ক্ষুব্ধ করে না। তাই আমরা সোচ্চারও হই না সড়ক দুর্ঘটনার বিরুদ্ধে।

এই মানসিকতা রয়েছে আমাদের চিন্তার অনেক ক্ষেত্রেই। মাঝে মাঝেই পত্রিকায় চিকিৎসার জন্য সাহায্য চেয়ে বিজ্ঞাপন দেখা যেত আগে; কমে গেলেও এখনও দেখা যায়। এখন তো আবার সামাজিকমাধ্যম আছে এর জন্য। জটিল, দুরারোগ্য কোনও রোগে আক্রান্ত মানুষটি যদি কোনও ছাত্র হয় তাহলে খুব টিপিক্যালি লেখা হতো এভাবে- একজন দরিদ্র, মেধাবী ছাত্রকে বাঁচাতে এগিয়ে আসুন। বাংলাদেশে নিশ্চয়ই জটিল-কঠিন রোগে আক্রান্ত সব ছাত্র মেধাবী নয়; অনেকেই আছে মাঝারি, খুব কম মেধার মানুষ।

এই চর্চাও নিশ্চয়ই অর্থহীন নয়। মানুষের আবেগের সঙ্গে কানেক্টেড হওয়ার জন্য কোনও সাধারণ 'কম মেধার/বোকা ছাত্রের’ মৃত্যুপথযাত্রী হাওয়া হয়তো ঠিকঠাক কাজ করে না। আমরা হয়তো দায়বদ্ধতা বোধ করি ‘মেধাবী’দের বাঁচানোর জন্য। তাই সবাইকে গায়ের জোরে ‘মেধাবী’ বানিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলতেই থাকে।

কথাগুলো এভাবে বলা হয়তো অর্থহীনই। বিদ্যমান অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় বেশি মূল্য কিংবা কম মূল্যের ধারণা তো থাকারই কথা। কিন্তু একই রকম অর্থনৈতিক ব্যবস্থার পশ্চিমা দেশগুলোর পরিস্থিতি তো এতটা ভয়ংকর নয়। সাধারণ মানুষের জীবন সেখানে এতটা মূল্যহীন নয়। সেখানে এতটা মর্যাদাহীন নয় সাধারণ মানুষ।

বাজারে সব পণ্য যেমন একই মূল্যে বিকায় না, তেমনি প্রতি মানুষের ‘মূল্যও’ সমান নয়। কিন্তু তবু কথা থেকে যায়, মূল্য একটা পারসেপশন। পুরোপুরি না হোক সেই পারসেপশন কিছুটা হলেও পাল্টালে এই সমাজটা হয়তো আরেকটু ভালো হতে পারতো। কিন্তু না, আমরা হাঁটছি না সেই পথে, যাচ্ছি উল্টো দিকে।
 
লেখক: শিক্ষক ও অ্যাকটিভিস্ট
/এসএএস/এমওএফ/

সম্পর্কিত

পরীমণি’র মুক্তির আন্দোলন কি কেবলই ‘স্টান্টবাজি’?

পরীমণি’র মুক্তির আন্দোলন কি কেবলই ‘স্টান্টবাজি’?

‘টিকটক অপু’র ‘জাতে ওঠা’ নিয়ে গাত্রদাহ

‘টিকটক অপু’র ‘জাতে ওঠা’ নিয়ে গাত্রদাহ

সাংবাদিক নির্যাতনে ডিসিকে শাস্তির ‘আইওয়াশ’

সাংবাদিক নির্যাতনে ডিসিকে শাস্তির ‘আইওয়াশ’

পরীমণির মামলা আর বিচারাঙ্গনে ‘পপুলিজম’

পরীমণির মামলা আর বিচারাঙ্গনে ‘পপুলিজম’

*** প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব।

সর্বশেষ

ময়মনসিংহ মেডিক্যালে বেড়েছে মৃত্যু  

ময়মনসিংহ মেডিক্যালে বেড়েছে মৃত্যু  

বিকল ট্রাকে পিকআপভ্যানের ধাক্কায় নিহত ৩

বিকল ট্রাকে পিকআপভ্যানের ধাক্কায় নিহত ৩

গবেষণায় চুরি ঠেকাতে শাবিতে কর্মশালা

গবেষণায় চুরি ঠেকাতে শাবিতে কর্মশালা

ছয় শিক্ষক ও ১৩ শিক্ষার্থী আক্রান্ত, চালু থাকবে বিদ্যালয়

ছয় শিক্ষক ও ১৩ শিক্ষার্থী আক্রান্ত, চালু থাকবে বিদ্যালয়

পুলিশের নামে ইমেইল পাঠিয়ে সাইবার জালিয়াতির চেষ্টা

পুলিশের নামে ইমেইল পাঠিয়ে সাইবার জালিয়াতির চেষ্টা

বিদ্যুৎস্পৃষ্ট ছেলেকে বাঁচাতে প্রাণ গেলো মায়েরও

বিদ্যুৎস্পৃষ্ট ছেলেকে বাঁচাতে প্রাণ গেলো মায়েরও

ছেলেরা কি সোনা-রুপার অলঙ্কার পরতে পারবে?

ছেলেরা কি সোনা-রুপার অলঙ্কার পরতে পারবে?

‘বঙ্গবন্ধুর সাফল্য অসামান্য’ বলেছিলেন সংসদ সদস্যরা

‘বঙ্গবন্ধুর সাফল্য অসামান্য’ বলেছিলেন সংসদ সদস্যরা

চলে গেলেন কমলা ভাসিন

চলে গেলেন কমলা ভাসিন

আঙ্গুলের অপারেশন করাতে গিয়ে জুডো খেলোয়াড়ের মৃত্যু

আঙ্গুলের অপারেশন করাতে গিয়ে জুডো খেলোয়াড়ের মৃত্যু

আফগানিস্তানের ভবিষ্যৎ গতিপথ নির্ধারণ করবে দেশটির জনগণ: জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রী

আফগানিস্তানের ভবিষ্যৎ গতিপথ নির্ধারণ করবে দেশটির জনগণ: জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রী

রাখাইনে মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবর্তনই রোহিঙ্গা সঙ্কটের স্থায়ী সমাধান: প্রধানমন্ত্রী

রাখাইনে মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবর্তনই রোহিঙ্গা সঙ্কটের স্থায়ী সমাধান: প্রধানমন্ত্রী

সর্বশেষসর্বাধিক

লাইভ

© 2021 Bangla Tribune