X
শনিবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১০ আশ্বিন ১৪২৮

সেকশনস

বিধিনিষেধ অবশ্যই থাকতে হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

আপডেট : ০১ আগস্ট ২০২১, ২১:১২

দেশে এখনও করোনার ঊর্ধ্বমুখী অবস্থা চলছে জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেছেন, আমরা তো এখনও করোনা ফ্রি হইনি। বিধিনিষেধ অবশ্যই থাকতে হবে। বিধিনিষেধের মধ্যেই তা মেনে কাজ করতে হবে।

রবিবার (১ আগস্ট) মহাখালীর বিসিপিএস মিলনায়তনে ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের এমবিবিএস প্রথম বর্ষের ক্লাস উদ্বোধন করে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নে তিনি এ মন্তব্য করেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, টিকা কর্মসূচি শুরু করেছি আমরা, এটাও একটা বড় হাতিয়ার করোনার বিরুদ্ধে। টিকা আমরা আগে সেভাবে পাইনি, যার ফলে দিতে পারিনি। এখন প্রত্যেক সপ্তাহে টিকা আসছে। আমরা টিকা দেওয়ার একটা বড় পরিকল্পনা হাতে নিয়েছি।

এ ছাড়া পোশাক কারখানা খুলে দেওয়ায় সংক্রমণ বাড়বে জানিয়ে জাহিদ মালেক বলেন, পোশাক শ্রমিকরা গাদাগাদি করে এসেছে। তিল ধারণের জায়গা ছিল না। এর মাধ্যমে সংক্রমণ বৃদ্ধি পাবে।

তিনি বলেন, আমরা সেটা স্বীকার করি আর না করি, স্বাস্থ্যবিধি ওখানে কোথাও মানা হয়নি। আমরা আশা করবো এ ধরনের অবস্থা ভবিষ্যতে যেন না হয়।

জীবন-জীবিকা অবশ্যই করতে হবে- মন্তব্য করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, জীবনের জন্য জীবিকা দরকার, আবার জীবিকার জন্য জীবনও তো থাকতে হবে। এই দুইটা ব্যালেন্স আমাদের করতে হয়। সরকারের সবদিকেই সে ব্যালেন্স করে চলতে হয়। কিন্তু ব্যালেন্স সব সময় রাখা যায় না। সবকিছু ভেবেই এগুতে হবে যাতে সংক্রমণ বৃদ্ধি না পায়। কারণ, সংক্রমণ বৃদ্ধি পেলে মৃত্যুর হার বাড়বে।

 

/জেএ/এনএইচ/

সম্পর্কিত

‘বঙ্গবন্ধুর সাফল্য অসামান্য’ বলেছিলেন সংসদ সদস্যরা

‘বঙ্গবন্ধুর সাফল্য অসামান্য’ বলেছিলেন সংসদ সদস্যরা

চলে গেলেন কমলা ভাসিন

চলে গেলেন কমলা ভাসিন

আফগানিস্তানের ভবিষ্যৎ গতিপথ নির্ধারণ করবে দেশটির জনগণ: জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রী

আফগানিস্তানের ভবিষ্যৎ গতিপথ নির্ধারণ করবে দেশটির জনগণ: জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রী

রাখাইনে মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবর্তনই রোহিঙ্গা সঙ্কটের স্থায়ী সমাধান: প্রধানমন্ত্রী

রাখাইনে মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবর্তনই রোহিঙ্গা সঙ্কটের স্থায়ী সমাধান: প্রধানমন্ত্রী

‘বঙ্গবন্ধুর সাফল্য অসামান্য’ বলেছিলেন সংসদ সদস্যরা

আপডেট : ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৮:০০

(বিভিন্ন সংবাদপত্রে প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে বঙ্গবন্ধুর সরকারি কর্মকাণ্ড ও তার শাসনামল নিয়ে মুজিববর্ষ উপলক্ষে ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশ করছে বাংলা ট্রিবিউন। আজ পড়ুন ১৯৭৩ সালের ২৫ সেপ্টেম্বরের ঘটনা।)

অটোয়ায় কমনওয়েলথ সম্মেলন এবং আলজিয়ার্সে জোটনিরপেক্ষ শীর্ষ সম্মেলনে বঙ্গবন্ধু অসাধারণ কৃতিত্বের জন্য ১৯৭৩ সালের এই দিন জাতীয় সংসদ সদস্যরা বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বের উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেন। তারা উল্লেখ করেন যে, বঙ্গবন্ধু দেশের রূপকল্পের উচ্চতা বিদেশে আকর্ষণীয়ভাবে তুলে ধরেছেন। সংসদ সদস্যরা বলেন যে, এই দুটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনে বঙ্গবন্ধু সাত কোটি সন্তানের স্বপ্ন আশা-আকাঙ্ক্ষাকে কেবল তুলেই ধরেননি, বরং সারা বিশ্বের নির্যাতিত জনগোষ্ঠীর বক্তব্যকে ভাষা দিয়েছেন। সংসদে এ প্রসঙ্গে আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. কামাল হোসেন, ডা. এম এ মালেক, কোরবান আলী, ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন, অধ্যক্ষ হুমায়ুন খালেক, আব্দুল মোমিন তালুকদার, জালাল আহমেদ ও ড. আসহাবুল হক।

ড. কামাল হোসেন বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর গতিশীল নেতৃত্বে বিশ্বের দরবারে জাতির রূপকল্পকে সমৃদ্ধ করেছে। দুটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনে অংশগ্রহণ বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি গৌরবময় অধ্যায় সংযোজন করেছে।’ তিনি বলেন, ‘অটোয়ায় বঙ্গবন্ধুর গঠনমূলক ভূমিকা সকলের ব্যাপক প্রশংসা লাভ করে।’ তিনি উল্লেখ করেন যে, জোটনিরপেক্ষ শীর্ষ সম্মেলনে বাংলাদেশের সর্বসম্মত অন্তর্ভুক্তি আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে বঙ্গবন্ধুর একটি অবিস্মরণীয় কৃতিত্ব।’

দৈনিক ইত্তেফাক, ২৬ সেপ্টেম্বর ১৯৭৩

ভৈরব সেতু উদ্বোধনের জন্য প্রস্তুত

প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমান ভৈরব রেল সেতু আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করবেন। সব প্রস্তুতি সম্পন্নের কথা প্রকাশ করা হয় এদিন। মুক্তিযুদ্ধের শেষ পর্যায়ে পাক বাহিনী কর্তৃক বিধ্বস্ত গুরুত্বপূর্ণ সেতুটি মেরামতে ভারতীয়রা সাহায্য-সহযোগিতা করেছে। সেতুটি পুনরায় চালু হলে ঢাকা থেকে কুমিল্লা, সিলেট ও চট্টগ্রামে রেল চলাচলের অসুবিধা দূর হবে বলে জানানো হয়।

বিশ্বব্যাপী সমঝোতায় যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতার আশ্বাস

যুক্তরাষ্ট্রের নবনিযুক্ত পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেনরি কিসিঞ্জার জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ভাষণে আশ্বাস বাক্য উচ্চারণ করে বলেন যে, ‘এশিয়া, আফ্রিকা এবং বিশ্বব্যাপী সর্বোচ্চ সমঝোতা প্রতিষ্ঠায় যুক্তরাষ্ট্র  সহযোগিতা করে যাবে। তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র আঞ্চলিক সংঘর্ষ পরিহারের জন্য চেষ্টা করবে।’ মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভারত, পাকিস্তান ও বাংলাদেশের মধ্যে ক্রমবর্ধমান সমঝোতায় সন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি অভিমত প্রকাশ করেন যে, উপমহাদেশ অভিনন্দনযোগ্য সমঝোতার পথে অগ্রসর হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘বিশ্বব্যাপী সমঝোতার মনোভাব সৃষ্টিতে আমরা আমাদের প্রভাব প্রয়োগ এবং বাস্তব উৎসাহ প্রদানের জন্য প্রস্তুত আছি।’

মানবীয় মূল্যবোধের ওপর গুরুত্ব আরোপ করে তিনি ঘোষণা করেন, সমঝোতা থেকে সহযোগিতা এবং সহযোগী অবস্থান থেকে সংহতি প্রতিষ্ঠায় সহায়তা করার ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্র কোনও প্রচেষ্টা বাদ দেবে না। আমরা এমন এক শান্তির অন্বেষায় সচেষ্ট—স্থিতিশীল শক্তির ভারসাম্য নয়, বরং আশা-আকাঙ্ক্ষার সমশরিকানা সুপ্রতিষ্ঠিত করবো।

ডেইলি অবজারভার, ২৬ সেপ্টেম্বর ১৯৭৩

ভাষণে তিনি বলেন, ‘আমরা নিশ্চিত যে, মানবীয় মূল্যবোধের মূল কাঠামো মানবজাতির অধিকাংশেরই আশা পূরণে সমর্থ হবে না।’ মার্কিন পররাষ্ট্রনীতি সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘স্বাধীনতার চেতনায় আমরা নতুন সম্পর্কের সন্ধান অব্যাহত রাখবো। জীবনের সঙ্গে সম্পর্ক রচনায় আমাদের প্রয়াস বহাল থাকবে।’

বাংলাদেশের পাসপোর্টে পাকিস্তানে যায় কীভাবে?

ইংরেজি সাপ্তাহিক হলিডে’র কার্যনির্বাহী সম্পাদকের পাকিস্তান যাওয়াকে কেন্দ্র করে জাতীয় সংসদের অধিবেশনে উত্তপ্ত আলোচনা হয় এদিন। সরকারদলীয় সদস্য ও সাবেক ছাত্রনেতা আব্দুল কুদ্দুস মাখন স্পিকারের মাধ্যমে সরাসরি দৃষ্টি আকর্ষণ করে জানতে চান, তিনি কীভাবে বাংলাদেশ থেকে পাকিস্তান গমন করতে সক্ষম হলেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুল মালেক উকিল সংসদকে নিশ্চয়তা প্রদান করেন যে, তিনি বিষয়টি তদন্ত করবেন এবং বিষয়টি সম্পর্কে সংসদকে অবহিত করবেন। আব্দুল কুদ্দুস মাখন বলেন, ‘পাকিস্তান বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়নি, বরং বাংলাদেশের বিরুদ্ধে অনমনীয় মনোভাব প্রদর্শন করে আসছে।’ তিনি প্রশ্ন রাখেন, এই পরিস্থিতিতে তিনি কীভাবে পাকিস্তান যান? আব্দুল কুদ্দুস মাখন সাপ্তাহিক হলিডে’র নাম উল্লেখ করে বলেন যে, ‘এই পত্রিকাটি বাংলাদেশ সরকারের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে এবং দেশকে হতাশাগ্রস্ত করে তুলছে।’

/এপিএইচ/এমওএফ/

সম্পর্কিত

২৪ ঘণ্টায় বেড়েছে মৃত্যু, কমেছে শনাক্তের হার

২৪ ঘণ্টায় বেড়েছে মৃত্যু, কমেছে শনাক্তের হার

নেদারল্যান্ডসের রানির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বৈঠক

নেদারল্যান্ডসের রানির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বৈঠক

১৯৭৩ সালে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় আবারও নতুন পদক্ষেপ নিতে হয়

১৯৭৩ সালে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় আবারও নতুন পদক্ষেপ নিতে হয়

চলে গেলেন কমলা ভাসিন

আপডেট : ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৭:২১

উপমহাদেশের নারী আন্দোলনের পুরোধা, লেখক-কবি কমলা ভাসিন মারা গেছেন। শনিবার (২৫ সেপ্টেম্বর) ভারতীয় সময় পৌনে ৩টার দিকে তিনি মারা যান বলে জানিয়েছেন তার বাংলাদেশি সহযোদ্ধারা।

নারী আন্দোলন কর্মী  শিরিন হক বলেন, বেশ কিছুদিন ধরে কমলা অসুস্থ ছিলেন। সর্বশেষ শুক্রবার পরিস্থিতি খারাপ হলে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসকরা জানান, তার ফুসফুসে পানি এসে গিয়েছিল।

কাজের সুবাদে তিনি প্রায় বাংলাদেশে আসতেন এবং বাংলাদেশে নারী আন্দোলনকে সাম্প্রতিক সময়ে সক্রিয় রাখতে তার ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। ২০১৬ সালে নারীর প্রতি সহিংসতাকে বিশ্বের সবচেয়ে বড় যুদ্ধ আখ্যা দিয়ে এই অবস্থার পরিবর্তনে ভয়মুক্ত হয়ে নিজেদের বদলে ফেলার আহ্বান জানান উপমহাদেশের প্রখ্যাত নারী অধিকার নেত্রী কমলা ভাসিন।

নারীবাদী গণআন্দোলন মঞ্চ ‘উদ্যমে উত্তরণে শতকোটি’র উদ্যোগে রবিবার রাজধানীর ছায়ানট মিলনায়তনে ‘নারী শোষণের বিরুদ্ধে সংহতি’ শীর্ষক কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এই আহ্বান জানিয়েছিলেন। নারীবাদ নিয়ে তার ভাবনা ও বাস্তবায়ন পদ্ধতি অন্যরকম বলে বিবেচিত হয়ে থাকে।

কমলা ভাসিন ওই বক্তৃতায় বলেন, ‘তোমার-আমার ব্যক্তিগত জীবন না বদলালে পিতৃতন্ত্র চলে যাবে না। সুতরাং আমি নিজের দিকে আঙুল রাখছি, তোমরা নারী-পুরুষ নির্বিশেষে নিজের দিকে আঙুল রাখো।’

উল্লেখ্য, কিঁউকি ম্যায় লডকি হুঁ, মুঝে পঢ়না হ্যায় কবিতার জন্য তিনি সুপরিচিত। ১৯৯৫ সালে তিনি একটি সম্মেলনে জনপ্রিয় কবিতা আজাদীর (স্বাধীনতা) একটি পরিমার্জিত, নারীবাদী সংস্করণ আবৃত্তি করেন। তিনি ওয়ান বিলিয়ন রাইজিংয়ের দক্ষিণ এশিয়ার সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করেছেন।

/ইউআই/এমএস/

সম্পর্কিত

সাত বিভাগীয় শহরে মোটর ড্রাইভিং প্রশিক্ষণ পাবে নারীরা

সাত বিভাগীয় শহরে মোটর ড্রাইভিং প্রশিক্ষণ পাবে নারীরা

মোদিকে ৭১টি গোলাপে শুভেচ্ছা জানালেন শেখ হাসিনা

মোদিকে ৭১টি গোলাপে শুভেচ্ছা জানালেন শেখ হাসিনা

ভারতীয় গণমাধ্যমে দিল্লিতে বঙ্গবন্ধু মিডিয়া সেন্টার উদ্বোধনের খবর

ভারতীয় গণমাধ্যমে দিল্লিতে বঙ্গবন্ধু মিডিয়া সেন্টার উদ্বোধনের খবর

ফ্লাইটে পাইলট নওশাদের জন্য নফল নামাজ পড়েন ক্রু

ফ্লাইটে পাইলট নওশাদের জন্য নফল নামাজ পড়েন ক্রু

আফগানিস্তানের ভবিষ্যৎ গতিপথ নির্ধারণ করবে দেশটির জনগণ: জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রী

আপডেট : ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৬:২৩

বাংলাদেশ শান্তিপূর্ণ, স্থিতিশীল এবং সমৃদ্ধ দক্ষিণ এশিয়ার স্বপ্ন দেখে ‑ জানিয়ে জাতিসংঘে শেখ হাসিনা বলেন, আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যে, আফগানিস্তানের বিনির্মাণ এবং ভবিষ্যতের গতিপথ নির্ধারণ দেশটির জনগণের ওপরই নির্ভর করে। তাদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের জন্য দেশটির জনগণ এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সাথে কাজ করে যেতে বাংলাদেশ প্রস্তুত।

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে শুক্রবার (২৪ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সময় দুপুর ২টায় (বাংলাদেশ সময় রাত ১২টা) জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৬তম অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে বাংলাদেশের এই অবস্থানের কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে শান্তি। ‘শান্তির সংস্কৃতি’ প্রস্তাবনার প্রধান প্রবক্তা হিসেবে আমরা শান্তিময় সমাজ বিনির্মাণে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সন্ত্রাসবাদ ও সহিংস উগ্রবাদের করাল থাবায় বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে শান্তি ও নিরাপত্তা বিঘ্নিত হচ্ছে। তাই আমরা সন্ত্রাসবাদ ও সহিংসতার বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স নীতি’ বজায় রেখেছি।

তিনি বলেন, শীর্ষস্থানীয় শান্তিরক্ষী প্রেরণকারী দেশ হিসেবে বৈশ্বিক শান্তিরক্ষায় অবদানের জন্য আজ আমরা গর্ববোধ করি। মহামারির নজিরবিহীন প্রতিকূলতা সত্ত্বেও আমাদের শান্তিরক্ষীরা বিশ্বজুড়ে কঠিনতম পরিবেশে নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা বজায় রাখতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সম্ভাব্য সকল পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সংবিধানের আলোকে আমরা সর্বদা সম্পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণের অবিচল সমর্থক। আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যে, পারমাণবিক ও অন্যান্য গণবিধ্বংসী অস্ত্রের সম্পূর্ণ নির্মূলের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব। এই প্রত্যয় থেকেই আমরা ‘পারমাণবিক অস্ত্র নিষিদ্ধকরণ চুক্তি’ অনুস্বাক্ষর করেছি। এ বছরের শুরুতে চুক্তিটি কার্যকর হয়েছে।

তিনি বলেন, করোনা মহামারি জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় কার্যকর বৈশ্বিক উদ্যোগের ঘাটতির বিষয়টিকে সামনে নিয়ে এসেছে। একইসঙ্গে এটি বৈশ্বিক সংহতি ও সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার ওপরেও আলোকপাত করেছে। সার্বজনীন বিষয়গুলোতে আমাদের অবশ্যই একসঙ্গে কাজ করতে হবে। নতুন নতুন অংশীদারিত্ব ও সমস্যা সমাধানের ক্ষেত্র প্রস্তুত করতে হবে। সঙ্কীর্ণ রাজনৈতিক স্বার্থের ঊর্ধ্বে ‌ওঠে বিভিন্ন অঞ্চলের সদস্য দেশগুলো এই জাতিসংঘের মঞ্চ থেকেই তা শুরু করতে পারে। তবেই আমরা সহনশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উত্তরণের লক্ষ্যে একটি অর্থবহ সহযোগিতা অর্জন করতে পারবো।

ভাষণে শেখ হাসিনা বলেন, বঙ্গবন্ধু এমন একটি বিশ্ব গঠনের আহ্বান জানিয়েছিলেন যেখানে অর্থনৈতিক বৈষম্য, সামাজিক অবিচার, আগ্রাসন ও পারমাণবিক যুদ্ধের হুমকি থাকবে না। সাতচল্লিশ বছর আগের তাঁর সে আহ্বান আজও সমভাবে প্রযোজ্য। এ জন্য আমরা অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সমতাভিত্তিক সমাজ গঠনের যে কোনো উদ্যোগে সমর্থন ও নেতৃত্ব দিয়ে যাচ্ছি। করোনাভাইরাসের টিকার ন্যায্য হিস্যা দাবি, ফিলিস্তিনিদের প্রতি যেকোনও ধরনের অবিচারের বিরুদ্ধে আমাদের দৃঢ় অবস্থান, রোহিঙ্গা সঙ্কটের সমাধান, জলবায়ু ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা- এসব আমাদের বৈশ্বিক অঙ্গীকারের কতিপয় উদাহরণ মাত্র।  

/এমএস/

সম্পর্কিত

রাখাইনে মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবর্তনই রোহিঙ্গা সঙ্কটের স্থায়ী সমাধান: প্রধানমন্ত্রী

রাখাইনে মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবর্তনই রোহিঙ্গা সঙ্কটের স্থায়ী সমাধান: প্রধানমন্ত্রী

করোনামুক্ত বিশ্ব গড়তে সার্বজনীন ও সাশ্রয়ী টিকা দাবি প্রধানমন্ত্রীর

করোনামুক্ত বিশ্ব গড়তে সার্বজনীন ও সাশ্রয়ী টিকা দাবি প্রধানমন্ত্রীর

রাখাইনে মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবর্তনই রোহিঙ্গা সঙ্কটের স্থায়ী সমাধান: প্রধানমন্ত্রী

আপডেট : ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৫:৫৯

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, রোহিঙ্গা সঙ্কটের সৃষ্টি মিয়ানমারে, সমাধানও রয়েছে মিয়ানমারে। রাখাইন রাজ্যে তাদের মাতৃভূমিতে নিরাপদ, টেকসই ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবর্তনের মাধ্যমেই কেবল এ সঙ্কটের স্থায়ী সমাধান হতে পারে। এ জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে অবশ্যই গঠনমূলক উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সময় শুক্রবার (২৪ সেপ্টেম্বর) রাত পৌনে বারোটায় ভাষণ প্রদানকালে এসব কথা বলেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ সঙ্কট এবার পঞ্চম বছরে পড়লো। কিন্তু এখন পর্যন্ত বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমার নাগরিকদের একজনকেও মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো সম্ভব হয়নি। মিয়ানমারে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পট পরিবর্তনে অনিশ্চয়তা তৈরি হলেও এ সমস্যার একটি স্থায়ী সমাধান খুঁজে বের করতে আমরা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জোরালো ভূমিকা ও অব্যাহত সহযোগিতা আশা করি। মিয়ানমারকে অবশ্যই তার নাগরিকদের প্রত্যাবর্তনের অনুকূল পরিবেশ তৈরি করতে হবে। এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আমরা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সহযোগিতা করতে সদা প্রস্তুত।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে তাদের সাময়িক অবস্থানকে নিরাপদ ও সুরক্ষিত রাখতে কিছু সংখ্যক বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমার নাগরিককে আমরা ‘ভাষানচর’-এ স্থানান্তর করেছি। আশ্রয় শিবিরে কোভিড-১৯ মহামারির বিস্তাররোধে টিকালাভের যোগ্য সকলকে জাতীয় টিকাদান কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

আসিয়ানের নেতারা বাস্তুচ্যূত মিয়ানমার নাগরিক ইস্যুতে গৃহীত প্রচেষ্টাকে আরও বেগবান করবেন বলে আশা প্রকাশ করেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে মানবাধিকার লঙ্ঘনের জন্য দায়িদের জবাবদিহি নিশ্চিতকরণে গৃহীত সকল কর্মকাণ্ডে সহযোগিতা করতে হবে।

/এমএস/

সম্পর্কিত

আফগানিস্তানের ভবিষ্যৎ গতিপথ নির্ধারণ করবে দেশটির জনগণ: জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রী

আফগানিস্তানের ভবিষ্যৎ গতিপথ নির্ধারণ করবে দেশটির জনগণ: জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রী

করোনামুক্ত বিশ্ব গড়তে সার্বজনীন ও সাশ্রয়ী টিকা দাবি প্রধানমন্ত্রীর

করোনামুক্ত বিশ্ব গড়তে সার্বজনীন ও সাশ্রয়ী টিকা দাবি প্রধানমন্ত্রীর

করোনামুক্ত বিশ্ব গড়তে সার্বজনীন ও সাশ্রয়ী টিকা দাবি প্রধানমন্ত্রীর

আপডেট : ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৬:২৮

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৬তম অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা করোনামুক্ত বিশ্ব গড়তে সার্বজনীন ও সাশ্রয়ী মূল্যে টিকা প্রাপ্যতায় যথাযথ বৈশ্বিক পদক্ষেপের দাবি করেছেন। তিনি বলেন, বর্তমান ‘টিকা-বিভাজন’প্রবণতা শুধুমাত্র মহামারিটিকেই দীর্ঘস্থায়ী করবে।

বাংলাদেশ সময় শুক্রবার (২৪ সেপ্টেম্বর) রাত পৌনে বারোটায় যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কোভিডমুক্ত বিশ্বের জন্য, আমাদের অবশ্যই বিশ্বব্যাপী সকল মানুষের জন্য সার্বজনীন ও সাশ্রয়ী মূল্যে টিকার প্রাপ্যতা নিশ্চিত করতে হবে।’

শেখ হাসিনা ধনী ও দরিদ্র দেশগুলোর মধ্যে টিকা বৈষম্য বৃদ্ধিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, এ যাবৎ উৎপাদিত টিকার ৮৪ শতাংশ উচ্চ ও উচ্চ-মধ্যম আয়ের দেশগুলোর মানুষের কাছে পৌঁছেছে। অন্যদিকে, নিম্ন আয়ের দেশগুলো ১ শতাংশেরও কম টিকা পেয়েছে।

তিনি বলেন, জরুরিভিত্তিতে এ টিকা বৈষম্য দূর করতে হবে। লক্ষ লক্ষ মানুষকে টিকা থেকে দূরে রেখে কখনই টেকসই পুনরুদ্ধার সম্ভব নয়। আমরা পুরোপুরি নিরাপদও থাকতে পারবো না।  

শেখ হাসিনা বলেন, অবিলম্বে টিকা প্রযুক্তি হস্তান্তর টিকার সমতা নিশ্চিত করার একটি উপায় হতে পারে। প্রযুক্তি সহায়তা ও মেধাস্বত্ত্বে ছাড় পেলে বাংলাদেশও বিপুল পরিমাণে টিকা তৈরি করতে সক্ষম।

প্রধানমন্ত্রী বর্তমান সময়কে ‘ক্রান্তিলগ্ন’ উল্লেখ করে জাতিসংঘকে ‘ভরসার সর্বোত্তম কেন্দ্রস্থল’ হিসেবে উল্লেখ করেন এবং বিশ্ব নেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, আসুন সেই ভরসাকে বাঁচিয়ে রাখার প্রত্যয়ে আমরা সবাই হাতে হাত মিলিয়ে একযোগে কাজ করি। বহুপাক্ষিকতাবাদ ও জাতিসংঘ ব্যবস্থার দৃঢ় সমর্থক হিসেবে বাংলাদেশ এই সংকটকালে জাতিসংঘকে আশা ও আকাঙ্খার প্রতীক হিসেবে দেখে। সব ধরণের মতভেদ ভুলে গিয়ে আমাদের অবশ্যই ‘অভিন্ন মানবজাতি’ হিসেবে মাথা তুলে দাঁড়াতে হবে, সম্মিলিত শক্তিকে কাজে লাগিয়ে সবার জন্য আবারও এক সমৃদ্ধ বিশ্ব গড়ে তুলতে হবে।

এ বিষয়ে তাঁর দেওয়া সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবগুলো হচ্ছে- প্রথমত, কোভিডমুক্ত একটি বিশ্ব গড়ে তোলার লক্ষ্যে টিকার সার্বজনীন ও সাশ্রয়ী মূল্যে প্রাপ্যতা নিশ্চিত করতে হবে। গত বছর এ মহতী অধিবেশনে আমি কোভিড-১৯ টিকাকে ‘বৈশ্বিক সম্পদ’ হিসেবে বিবেচনা করার আহ্বান জানিয়েছিলাম। বিশ্বনেতাদের অনেকে তখন এ বিষয়ে সহমত পোষণ করেছিলেন।

তিনি বলেন, সে আবেদনে তেমন সাড়া পাওয়া যায়নি। জরুরিভিত্তিতে এ টিকা বৈষম্য দূর করতে হবে। লক্ষ লক্ষ মানুষকে টিকা থেকে দূরে রেখে কখনই টেকসই পুনরুদ্ধার সম্ভব নয়। আমরা পুরোপুরি নিরাপদও থাকতে পারবো না।

দ্বিতীয় প্রস্তাবে তিনি বলেন, এ মহামারি জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোকে অধিকমাত্রায় ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক ‘ইন্টারগর্ভানমেন্টাল প্যানেল অন ক্লাইমেট চেঞ্জে’র ওয়ার্কিং গ্রুপ-১ এর প্রতিবেদনে আমাদের এ গ্রহের ভবিষ্যতের এক ভয়াল চিত্র ফুটে ওঠেছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে জলবায়ু পরিবর্তনের ধ্বংসাত্মক প্রভাব কাটিয়ে ওঠা কঠিন হবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ধনী অথবা দরিদ্র-কোন দেশই এর বিরূপ প্রতিক্রিয়া থেকে নিরাপদ নয়। তাই, তিনি ধনী ও শিল্পোন্নত দেশগুলোকে কার্বন নিঃসরণ হ্রাস, নিঃসরণের জন্য ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং টেকসই অভিযোজনের জন্য অর্থায়ন ও প্রযুক্তির অবাধ হস্তান্তরের আহ্বান জানান।  

তিনি বলেন, ক্লাইমেট ভালনারেবল ফোরাম এবং ভালনারেবল-২০ গ্রুপ অব মিনিস্টারস্ অব ফাইন্যান্সের সভাপতি হিসেবে আমরা ‘মুজিব জলবায়ু সমৃদ্ধি পরিকল্পনা-দশক ২০৩০’ এর কার্যক্রম শুরু করেছি। এ পরিকল্পনায় বাংলাদেশের জন্য জলবায়ুকে ঝুঁকির কারণ নয়, বরং সমৃদ্ধির নিয়ামক হিসেবে পরিণত করার কর্মসূচি গৃহীত হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, গ্লাসগোতে অনুষ্ঠিতব্য ‘কনফারেন্স অব পার্টিজ’ (কপ) এর ২৬তম শীর্ষ সম্মেলন আমাদের নতুন নতুন অন্তর্ভুক্তিমূলক পরিকল্পনার পক্ষে সমর্থন আদায়ের অপার সুযোগ করে দিতে পারে। এ সুযোগ কাজে লাগানোর জন্য তিনি সবাইকে আহ্বান জানান।

তৃতীয়ত প্রধানমন্ত্রী বলেন, মহামারির প্রকোপে শিক্ষাব্যবস্থা চরমভাবে বিপর্যস্ত। জাতিসংঘ শিশু তহবিলের তথ্য অনুযায়ী, করোনাকালে আংশিক বা পুরোপুরি বিদ্যালয় বন্ধের কারণে বিশ্বের প্রায় অর্ধেক শিক্ষার্থী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নিম্ন আয়ের দেশগুলোর লক্ষ লক্ষ ছাত্রছাত্রীর দূরশিক্ষণে অংশগ্রহণের সক্ষমতা ও প্রযুক্তি না থাকায় ভর্তি, স্বাক্ষরতার হার ইত্যাদি অর্জনগুলো হুমকির মুখে পড়েছে।

তিনি বলেন, ডিজিটাল সরঞ্জামাদি ও সেবা, ইন্টারনেটের সুযোগ-সুবিধার সহজলভ্যতা ও শিক্ষকদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে বিনিয়োগ করতে হবে। এ জন্য তিনি জাতিসংঘকে অংশীদারিত্ব ও প্রয়োজনীয় সম্পদ নিশ্চিত করার জন্য আহ্বান জানান। 

চতুর্থত তিনি বলেন, কোভিড-১৯ অতিমারির নজিরবিহীন প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যে তাঁর দেশ স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উত্তরণের পথে রয়েছে। তবে এ মহামারি অনেক দেশের উত্তরণের আকাঙ্ক্ষাকে বিপন্ন করেছে। স্বল্পোন্নত দেশের টেকসই উত্তরণ ত্বরান্বিত করার জন্য উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে প্রণোদনাভিত্তিক উত্তরণ কাঠামো প্রণয়নে আরও সহায়তা প্রত্যাশা করে। এলডিসি-৫ সম্মেলনের প্রস্তুতিমূলক কমিটির অন্যতম সভাপতি হিসেবে, আমরা আশা করি যে দোহা সম্মেলনের সুনির্দিষ্ট ফলাফল আরও বেশি সংখ্যক দেশকে সক্ষমতা দান করবে, যেন তারা স্বল্পোন্নত দেশের কাতার থেকে টেকসইভাবে উত্তরণ করতে পারে।

পঞ্চম প্রস্তাবে তিনি বলেন, মহামারিকালে প্রবাসীরা অপরিহার্য কর্মী হিসেবে স্বাস্থ্য ও অন্যান্য জরুরি সেবাখাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন। তাঁরাও সম্মুখসারির যোদ্ধা। তবুও তাঁদের অনেকে চাকরিচ্যুতি, বেতন কর্তন, স্বাস্থ্য ও অন্যান্য সামাজিক সেবার সহজলভ্যতার অভাব ও বাধ্যতামূলক প্রত্যাবর্তনের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এই সংকটকালে অভিবাসীগ্রহণকারী দেশগুলোকে অভিবাসীদের সঙ্গে ন্যায়সঙ্গত আচরণ করার এবং তাঁদের কর্মসংস্থান, স্বাস্থ্য এবং কল্যাণকে নিশ্চিত করার জন্য তিনি আহ্বান জানান। 

ষষ্ঠ প্রস্তাবে প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গা সঙ্কট এবার পঞ্চম বছরে পড়লো উল্লেখ করে বলেন, এখন পর্যন্ত বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমার নাগরিকদের একজনকেও মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো সম্ভব হয়নি। মিয়ানমারে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পট পরিবর্তনে অনিশ্চয়তা তৈরি হলেও এ সমস্যার একটি স্থায়ী সমাধান খুঁজে বের করতে আমরা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জোরালো ভূমিকা ও অব্যাহত সহযোগিতা আশা করি। মিয়ানমারকে অবশ্যই তার নাগরিকদের প্রত্যাবর্তনের অনুকূল পরিবেশ তৈরি করতে হবে। এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আমরা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সহযোগিতা করতে সদা প্রস্তুত।

বাংলাদেশে কোভিড-১৯ মহামারির প্রকোপ আশঙ্কার চেয়ে অনেক কম হয়েছে, উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, তৃণমূল পর্যায় থেকে আমাদের শক্তিশালী স্বাস্থ্য ব্যবস্থার কারণে এটা সম্ভব হয়েছে। এছাড়া, এ মহামারি মোকাবিলায় আমাদের সময়োচিত, সমন্বিত ও বহুমুখী উদ্যোগ কার্যকর ভূমিকা রেখেছে। জীবন ও জীবিকার ভারসাম্য রক্ষা করতে শুরুতে আমাদের বেশ কিছু কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছিল। অর্থনীতিকে সচল রাখতে বিভিন্ন সময়ে আমরা ২৮টি প্রণোদনা প্যাকেজের মাধ্যমে  প্রায় ১ হাজার ৪৬০ কোটি মার্কিন ডলার বরাদ্দ দিয়েছি, যা মোট দেশজ উৎপাদনের ৪ দশমিক ৪৪ শতাংশ। করোনাভাইরাসের টিকা সংগ্রহের জন্য চলতি অর্থবছরে বাজেটে ১৬১ কোটি মার্কিন ডলারের সংস্থান রাখা হয়েছে।

তিনি বলেন,  গত বছর মহামারির প্রাদুর্ভাবের শুরু থেকে আমরা প্রায় ৪ কোটি মানুষকে নগদ অর্থসহ অন্যান্য সহায়তা দিয়েছি। সময়োচিত পদক্ষেপ ও আমাদের জনগণের বিরূপ পরিস্থিতি মোকাবিলার সক্ষমতার কারণে ২০২০ সালেও আমরা ৫ শতাংশের বেশি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছি।

আধা ঘণ্টাব্যাপী চলা ভাষণে ফিলিস্তিন এবং আফগান সমস্যাও ওঠে আসে।

/এমএস/

সম্পর্কিত

আফগানিস্তানের ভবিষ্যৎ গতিপথ নির্ধারণ করবে দেশটির জনগণ: জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রী

আফগানিস্তানের ভবিষ্যৎ গতিপথ নির্ধারণ করবে দেশটির জনগণ: জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রী

রাখাইনে মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবর্তনই রোহিঙ্গা সঙ্কটের স্থায়ী সমাধান: প্রধানমন্ত্রী

রাখাইনে মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবর্তনই রোহিঙ্গা সঙ্কটের স্থায়ী সমাধান: প্রধানমন্ত্রী

সর্বশেষসর্বাধিক

লাইভ

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

‘বঙ্গবন্ধুর সাফল্য অসামান্য’ বলেছিলেন সংসদ সদস্যরা

‘বঙ্গবন্ধুর সাফল্য অসামান্য’ বলেছিলেন সংসদ সদস্যরা

চলে গেলেন কমলা ভাসিন

চলে গেলেন কমলা ভাসিন

আফগানিস্তানের ভবিষ্যৎ গতিপথ নির্ধারণ করবে দেশটির জনগণ: জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রী

আফগানিস্তানের ভবিষ্যৎ গতিপথ নির্ধারণ করবে দেশটির জনগণ: জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রী

রাখাইনে মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবর্তনই রোহিঙ্গা সঙ্কটের স্থায়ী সমাধান: প্রধানমন্ত্রী

রাখাইনে মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবর্তনই রোহিঙ্গা সঙ্কটের স্থায়ী সমাধান: প্রধানমন্ত্রী

করোনামুক্ত বিশ্ব গড়তে সার্বজনীন ও সাশ্রয়ী টিকা দাবি প্রধানমন্ত্রীর

করোনামুক্ত বিশ্ব গড়তে সার্বজনীন ও সাশ্রয়ী টিকা দাবি প্রধানমন্ত্রীর

জাতিসংঘে বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ভাষণের দিন আজ

জাতিসংঘে বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ভাষণের দিন আজ

করোনা মোকাবিলায় অন্তর্ভুক্তিমূলক ও বৈশ্বিক পরিকল্পনা গ্রহণের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

করোনা মোকাবিলায় অন্তর্ভুক্তিমূলক ও বৈশ্বিক পরিকল্পনা গ্রহণের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ভাষণ দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ভাষণ দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

পরিবেশ রক্ষায় ঐক্যবদ্ধতা পৃথিবীকে বাঁচাবে: তথ্যমন্ত্রী

পরিবেশ রক্ষায় ঐক্যবদ্ধতা পৃথিবীকে বাঁচাবে: তথ্যমন্ত্রী

২৪ ঘণ্টায় বেড়েছে মৃত্যু, কমেছে শনাক্তের হার

২৪ ঘণ্টায় বেড়েছে মৃত্যু, কমেছে শনাক্তের হার

সর্বশেষ

ছেলেরা কি সোনা-রুপার অলঙ্কার পরতে পারবে?

ছেলেরা কি সোনা-রুপার অলঙ্কার পরতে পারবে?

‘বঙ্গবন্ধুর সাফল্য অসামান্য’ বলেছিলেন সংসদ সদস্যরা

‘বঙ্গবন্ধুর সাফল্য অসামান্য’ বলেছিলেন সংসদ সদস্যরা

চলে গেলেন কমলা ভাসিন

চলে গেলেন কমলা ভাসিন

আঙ্গুলের অপারেশন করাতে গিয়ে জুডো খেলোয়াড়ের মৃত্যু

আঙ্গুলের অপারেশন করাতে গিয়ে জুডো খেলোয়াড়ের মৃত্যু

আফগানিস্তানের ভবিষ্যৎ গতিপথ নির্ধারণ করবে দেশটির জনগণ: জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রী

আফগানিস্তানের ভবিষ্যৎ গতিপথ নির্ধারণ করবে দেশটির জনগণ: জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রী

© 2021 Bangla Tribune