X
মঙ্গলবার, ২৬ অক্টোবর ২০২১, ১০ কার্তিক ১৪২৮

সেকশনস

জনতা ব্যাংকের ঋণ কেলেঙ্কারি-২

মহারথীদের ইশারায় ঋণ নিয়ে নয়ছয়

আপডেট : ০৬ আগস্ট ২০২১, ১০:৪৪

ব্যাংকিং খ্যাতের নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে মাত্রাতিরিক্ত ঋণ দিয়েছে জনতা ব্যাংক। রফতানির সামর্থ নেই জেনেও কোনও প্রতিষ্ঠানকে দেওয়া হয়েছে মোটা অঙ্কের ঋণ। ব্যাংকটির আর্থিক কেলেঙ্কারি নিয়ে বাংলা ট্রিবিউন-এর ধারাবাহিক প্রতিবেদনের আজ থাকছে দ্বিতীয় পর্ব।

ব্যাংকিং নীতিমালা না মেনে রানকা ডেনিম টেক্সটাইলকে মোটা অঙ্কের ঋণ দিয়েছে জনতা ব্যাংক। রফতানিমূল্য ব্যাংক হিসাবে জমা না করলেও ওই প্রতিষ্ঠানের জন্য নির্ধারিত সীমার বাইরে এলসি স্থাপন করা হয়েছে। আবার ঋণের বিপরীতে জামানত না রাখায় রাষ্ট্রীয় ব্যাংকটির ক্ষতি হয়েছে প্রায় ৯২৫ কোটি টাকারও বেশি। ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের যোগসাজশেই ঘটেছে এ অনিয়ম। বাংলা ট্রিবিউন-এর হাতে আসা একাধিক নথিপত্রে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

এ ঘটনায় ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হলেও তাদের ব্যাখ্যা গ্রহণযোগ্য মনে করেনি কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

ব্যাংক সূত্র জানিয়েছে, রানকা ডেনিমের অনুকূলে ৬০ কোটি টাকার লিমিটের বিপরীতে ২১৫ কোটি টাকার এলসি স্থাপন করা হয়। মোট ২০৫ কোটি ৯৩ কোটি টাকা ব্লকড একাউন্টে স্থানান্তর করে পাঁচ বছরে প্রচলিত হার সুদে পরিশোধের জন্য ২০২০ সালের ৩০ জুন মেয়াদে পুনঃতফসিলকরণের অনুমোদন দেয় জনতা ব্যাংক। অনিয়মিতভাবে সৃষ্ট পিএডি দায়কে এভাবে টার্মলোনে পরিণত করা গুরুতর আর্থিক অনিয়ম।

এর বাইরেও গ্রাহককে দেওয়া হয়েছে বেশকিছু অনৈতিক সুবিধা। জানা গেছে, আইসিডি ক্রেডিট ডিপার্টমেন্টের তলবি ঋণ ২৯ কোটি ৬৯ লাখ টাকা পরিশোধের মেয়াদ গতবছরের ৩০ জুন অপরিবর্তিত রেখে প্রথম কিস্তি ২০১৬ সালের ৩১ মার্চের পরিবর্তে ৩১ ডিসেম্বর আদায়যোগ্য ধরা হয়।

৪৩টি সমকিস্তিতে পরিশোধযোগ্য হিসেবে দ্বিতীয় পুনঃতফসিল এবং তলবি ঋণ ১৯১ দশমিক ২৭ কোটি টাকার প্রথম কিস্তি ২০১৬ সালের ৩১ মার্চের পরিবর্তে ৩১ ডিসেম্বর আদায়যোগ্য ধরা হয়। সঙ্গে যোগ করা হয় এক বছরের গ্রেস পিরিয়ড। দ্বিতীয়বার পুনঃতফসিলের পরও দু'টি হিসাবে আদায়যোগ্য কিস্তির হারে টাকা আদায় হয়নি। এতে ঋণ হিসাব দু'টি খেলাপিতে পরিণত হয়।

রানকা সোহেল কম্পোজিট টেক্সটাইল লিমিটেডকে ১০ শতাংশ মার্জিনে ৬০ কোটি টাকার এলসি লিমিট দেয় জনতা ব্যাংকের করপোরেট শাখা। এটিও গুরুতর আর্থিক অনিয়ম।

২৬৮ কোটি ৯২ লাখ টাকার এলসি দায় হতে পিএডিও সৃষ্টি করা হয়েছে। এতে সৃষ্ট ঋণের বিপরীতে জামানত নেওয়া হয়নি। গ্রাহকের কাছ থেকে ক্যাশ এলসি’র (এট-সাইট) দায় বাবদ টাকা নগদে আদায় ছাড়া ডকুমেন্ট ছাড়করণ করা হয়েছে। এটিও ব্যাংকের বিধি-বিধান পরিপন্থী।

উৎপাদিত পণ্য রফতানি না করা বা রফতানিকৃত পণ্যের দাম ব্যাংক হিসাবে  জমা না করা সত্ত্বেও লোকাল ও ফরেন ডেফার্ড এলসি স্থাপন করা হয়েছে গ্রাহকের পক্ষে। এটিও সরাসরি ব্যাংকের স্বার্থবিরোধী।

রানকা ডেনিম টেক্সটাইল মিলস লিমিটেডকে ডেনিম সুতা আমদানিতে ৪০ কোটি টাকা এলসি লিমিট দেওয়া হয়। বিপরীতে ৬৭ কোটি টাকার এলসি করা হয়। সীমার বাইরে এলসির পরিমাণ ২৭ কোটি টাকা। অবৈধ এলসি স্থাপনে মোট দায় দাঁড়ায় ৮১ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। এর বিপরীতেও আইনানুগ ব্যবস্থা না নিয়ে ব্যাংক পুনঃতফসিল করেছে। এসব ঋণের বিপরীতে জামানত না থাকায় গ্রাহকও দায় শোধে আগ্রহ দেখাচ্ছে না।

সবকিছুই বেশি বেশি

২০১৬ সালে জনতা ব্যাংকের মোট মূলধন ছিল ৪ হাজার ৩১৮ কোটি ৯৮ লাখ টাকা। সংশ্লিষ্ট গ্রাহকের তিনটি প্রতিষ্ঠানের কাছে ২০১৬ সালের ১৬ আগস্ট পর্যন্ত পাওনা ছিল ৯০২ কোটি ৩৩ কোটি টাকা। যা মূলধনের প্রায় ২১ শতাংশ। সমঝোতার শর্তানুসারে কোনও একক গ্রাহক বা এর গ্রুপভুক্ত প্রতিষ্ঠানকে ব্যাংকের মূলধনের ১০ শতাংশের বেশি ঋণ দেওয়া যায় না। এ ক্ষেত্রে দেওয়া হলো সীমার দ্বিগুণ।

অপরদিকে গ্রাহকের সহযোগী প্রতিষ্ঠান গ্রামবাংলা এনপিকে জৈবসার উৎপাদনের কাঁচামাল আমদানিতে ১২টি নগদ এলসি এট-সাইট স্থাপন করাতেও ব্যাংকের ঝুঁকিপূর্ণ ঋণ তৈরি হয়েছে ৫৫ কোটি ৫৯ লাখ টাকার।

জনতা ব্যাংক যা বললো

জনতা ব্যংক বলছে, ২০১৬ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত পরিচালনা পর্ষদের ৪৪তম সভার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের লক্ষ্যে গ্রাহক হাইকোর্টে একটি রিট পিটিশন দায়ের করে। তাতে ঋণের প্রথম কিস্তি ২০১৮ সালের ৩১ জানুয়ারি হতে আদায়যোগ্য হবে বলে উল্লেখ রয়েছে। দ্বিতীয়বার পুনঃতফসিলের পর হাইকোর্টে রিটজনিত কারণে ২০১৮ সালের ৩১ জানুয়ারি ১ কোটি ১৮ লাখ টাকা জমা করেছে গ্রাহক।

দ্বিতীয়বার পুনঃতফসিলের জন্য মেয়াদী ঋণের ক্ষেত্রে বকেয়া দায়ের ১ কোটি ৪৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা পরিশোধ করে গ্রাহক।

ব্যাংকটির এ জবাব সন্তোষজনক নয় বলে তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, বিভিন্ন সময়ে আদায়কৃত টাকাকে ডাউনপেমেন্ট হিসেবে দেখানো হয়েছে। সহায়ক জামানত না বাড়িয়ে সীমার বাইরে এলসি স্থাপন, রফতানি মূল্য ব্যাংক হিসাবে জমা না করা ও পিএডি দায়কে টার্মলোনে রূপান্তর করে গ্রাহককে অনৈতিক সুবিধা দেওয়া হয়েছে।

এই অনিয়মের বিষয়ে ২০১৮ সালের মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর ৮ আগস্ট তাগিদপত্র দেওয়া হয়। জবাব না পাওয়ায় পরের বছর ১৮ মার্চ সচিব বরাবর আধাসরকারি পত্র দেওয়া হলেও এখনও জবাব পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে জানতে জনতা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আবদুছ ছালাম আজাদের সঙ্গে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু তিনি ফোন রিসিভ করেননি। এসএসএম পাঠালেও সাড়া দেননি।

ব্যাংকের চেয়ারম্যান ড. এসএম মাহফুজুর রহমানের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এ বিষয়ে আমি কথা বলতে পারবো না।’

জনতা ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা জানান, ব্যাংকের এমডির নির্দেশেই সব ঋণ দেওয়া হয়েছে। এসব অনিয়মে তিনি জড়িত। বিভিন্ন সময় কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে জবাবও চাওয়া হয়েছে। তারপরও বহাল আছেন ওই কর্মকর্তা।

এ প্রসঙ্গে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ব্যাংকিংয়ের পুরো ব্যবস্থা এখন জিম্মি। যারা ঋণখেলাপি তাদের পক্ষেই আইন সংশোধন করা হয়। জনতা ব্যাংকের ক্ষেত্রে ব্যাংকিং নীতিমালা মানা হয়নি। রিপোর্টের সুপারিশ অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। এজন্য বাংলাদেশ ব্যাংকেরও গাফিলতি রয়েছে বলে আমরা মনে করি।’

রফতানির সামর্থ ছাড়াই ১২২ কোটি টাকা পেলো ফাইবার সাইন

রফতানির সামর্থ্য যাচাই না করেই মেসার্স ফাইবার সাইনকে প্রায় ১২২ কোটি পাঁচ লাখ টাকা ঋণ দিয়েছে জনতা ব্যাংক। এখনও আদায় হয়নি ওই ঋণ। টাকা আদায়ে মামলার প্রক্রিয়া চূড়ান্ত বলে জানা গেছে। সরকারের একটি বিশেষায়িত সংস্থা অনুসন্ধানে এ তথ্য বেরিয়ে এসেছে।

তাতে দেখা যায়, গ্রাহকের রফতানি সামর্থ্য যাচাই না করেই ব্যাক টু ব্যাক এলসি স্থাপন করেছে জনতা ব্যাংক। পাশাপাশি পর্যাপ্ত জামানত না থাকায় ঋণের অর্থও আদায় করতে পারছে না ব্যাংকটি।

নথিতে দেখা যায় যে, ২০০৮ সালের ১৫ জুলাই প্রথম কিস্তি, একই বছরের ১৫ ডিসেম্বর দ্বিতীয় কিস্তি এবং ২০১৪ সালের ৫ ডিসেম্বর শেষ কিস্তি মেয়াদে ১২টি ষান্মাসিক কিস্তিতে প্রদেয় ধরে ঋণটি পুনঃবিন্যাস করা হয়। এ ছাড়া ২০০৮ সালে এলসি খুলতে পাঁচ কোটি টাকার এলসি লিমিট মঞ্জুর করা হয়। ওই বছর এলসি লিমিট বাড়িয়ে ছয় কোটি টাকা করা হয়। ২০০৯ সালে আবার বাড়িয়ে করা হয় ১২ কোটি টাকা। প্রকল্প ঋণের প্রথম কিস্তি ২০০৯ সালের ডিসেম্বর হতে প্রদেয় ধরে ২০১৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর মেয়াদে পুনঃতফসিল করা হয়। এরপর আবার ২০১০ সালে এলসি লিমিট ২৪ কোটি ও ২০১১ সালে ৪০ কোটি টাকা করা হয়।

সংশ্লিষ্ট গ্রাহক ২০১২ সাল হতে ২০১৬ সাল পর্যন্ত মোট ১৬৫ কোটি ৫ লাখ টাকার কাঁচামাল আমদানি করে। বিপরীতে মাত্র ১২৪ কোটি ৫৩ লাখ টাকার তৈরি পোশাক রফতানি করে। তারপরও ব্যাক টু ব্যাক এলসি সুবিধা বাড়ানো হয়েছে এই গ্রাহকের জন্য। এমনকি ‍কিস্তি বকেয়া থাকার পরও ৩১ কোটি ৪৮ লাখ টাকার আমদানি এলসি স্থাপন করা হয়েছে।

২০১৭ সালের ১৫ মে পর্যন্ত ফাইবার সাইনের ঋণ ছিল ১২১ কোটি ৫১ লাখ টাকা। বিপরীতে জামানত ছিল মাত্র ৫৭ কোটি ৭৫ লাখ টাকাএ প্রসঙ্গে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে বলে জানায় জনতা ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। তবে এখন পর্যন্ত ঋণ আদায়ে অগ্রগতি নেই। এ ছাড়া গ্রাহককে সুবিধা দিতে মামলা দায়ের প্রক্রিয়া বিলম্বিত করা হচ্ছে বলেও তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়। অনিয়মে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণসহ অর্থ আদায় করে সরকারি কোষাগারে জমা করতে বলা হয়েছে প্রতিবেদনে।

ভিন্ন ব্যাংকের কাছে দায়বদ্ধ জমিতেও প্রকল্প ঋণ!

ভিন্ন ব্যাংকের কাছে মর্টগেজ রাখা জমির বিপরীতে প্রয়াত সংসদ সদস্য আসলামুল হকের মালিকানাধীন মাইশা গ্রুপের প্রতিষ্ঠান মেসার্স ঢাকা নর্থ পাওয়ার ইউটিলিটি কোম্পানিকে প্রকল্প ঋণ দিয়েছে জনতা ব্যাংক। নিয়ম অনুয়ায়ী প্রকল্পের জমি ঋণদাতা ব্যাংকের কাছেই মর্টগেজ থাকার কথা। এ ছাড়া ডেফার্ড এলসি স্থাপনসহ নিয়ম লঙ্ঘন করে প্রকল্পের টাকা ছাড় করা হয়েছে। এতে ব্যাংকের ক্ষতি হয়েছে ২৩৪ কোটি টাকারও বেশি। ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের যোজসাজশেই ঘটেছে এ অনিয়ম।

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, জনতা ব্যাংক লিমিটেডের প্রধান কার্যালয় থেকে ২০১৫ সালে মেসার্স ঢাকা নর্থ পাওয়ার ইউটিলিটি কোম্পানি লিমিটেডকে ১০ বছরে পরিশোধের শর্তে ৪৮৭ কোটি ১৪ লাখ টাকার ঋণ দেওয়া হয়। উল্লেখ্য, এ প্রকল্পের ২৭৮ দশমিক ৮০ শতাংশ জমি ন্যাশনাল ব্যাংকের কাছে বন্ধক রয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে জনতা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আবদুছ ছালাম আজাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তবে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

ব্যাংকের চেয়ারম্যান ড. এসএম মাহফুজুর রহমানও এ নিয়ে কথা বলতে রাজি হননি।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাওয়া হলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র সিরাজুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘অডিট অধিদফতর এই অভিযোগ দিয়েছে। এক্সটারনাল অডিটের ভিত্তিতেই যে বাংলাদেশ ব্যাংক মিটিগেট করতে বলবে তা কিন্তু নয়। বাংলাদেশ ব্যাংকেরও নিজস্ব একটি অডিট রয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংক যখন কোনও ব্যাংকে অডিটে যায়, তখন এক্সটারনাল-ইন্টারনাল অডিট সব দেখে। এরপর বিবেচনা করে পদক্ষেপ নেয়। এরপর অডিট অধিদফতরের কমেন্ট ঠিক আছে কিনা তা দেখা হয়। তারপর সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়।’

আর পড়ুন: জনতা ব্যাংকের ঋণ কেলেঙ্কারি পর্ব-১

/এফএ/
টাইমলাইন: জনতা ব্যাংকের ঋণ কেলেঙ্কারি

সম্পর্কিত

বেসিক ব্যাংক ও পদ্মা ব্যাংক একীভূতকরণের পক্ষে অর্থমন্ত্রী

বেসিক ব্যাংক ও পদ্মা ব্যাংক একীভূতকরণের পক্ষে অর্থমন্ত্রী

স্বচ্ছ থাকলে সাংবাদিক নেতাদের উদ্বিগ্ন হওয়ার কারণ নেই: তথ্যমন্ত্রী

স্বচ্ছ থাকলে সাংবাদিক নেতাদের উদ্বিগ্ন হওয়ার কারণ নেই: তথ্যমন্ত্রী

রবিবার থেকে ব্যাংক খোলা, লেনদেন হবে দেড়টা পর্যন্ত

রবিবার থেকে ব্যাংক খোলা, লেনদেন হবে দেড়টা পর্যন্ত

সহিংসতায় ইন্ধনদাতাদের নাম শিগগিরই প্রকাশ করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আপডেট : ২৬ অক্টোবর ২০২১, ১৪:০৯

সম্প্রতি দেশের পূজামণ্ডপে সহিংসতায় ইন্ধনদাতাদের নাম শিগগিরই প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। মঙ্গলবার (২৬ অক্টোবর) দুপুরে সচিবালয়ের গণমাধ্যম কেন্দ্রে বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরাম (বিএসআরএফ) আয়োজিত ‘বিএসআরএফ সংলাপ’ অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা জানান।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘কুমিল্লায় পূজামণ্ডপে পবিত্র কোরআন রাখাকে কেন্দ্র করে সহিংসতায় এ পর্যন্ত ১০টি মামলা হয়েছে। জবানবন্দিতে রংপুর ও নোয়াখালীর ঘটনায় ইন্ধনদাতাদের নাম বলেছে গ্রেফতারকৃতরা। তবে আমরা শতভাগ নিশ্চিত হয়ে আপনাদের সামনে নাম প্রকাশ করবো। সেখানে বিএনপি-জামায়াত আছে কিনা সেটা এখনই বলতে চাচ্ছি না। নিশ্চিত হয়েই জানাতে চাই।’

আসাদুজ্জামান খানা কামাল বলেন, ‘জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখতেন। বঙ্গবন্ধু বলে গেছেন, এ দেশ সবার। এ দেশে ধর্ম নিয়ে বৈষম্য হবে না। এ দেশ হবে ধর্মনিরপেক্ষ। আমরা সেই আদর্শই ধারণ করে চলেছি। আমি দেখেছি হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান সবাই যার যার ধর্ম পালন করে আসছেন এখানে। কিন্তু ইদানিং দেখি, পূজামণ্ডপে সহিংসতা হচ্ছে। পূজামণ্ডপে কে বা কারা কোরআন শরিফ রেখে দিয়ে একটা বিব্রতকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে। একটা উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে।’

তিনি বলেন, ‘কোরআন শরিফ রাখার পর আমরা এ ঘটনা চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছিলাম, আমাদের পুলিশের সব পর্যায়ের টিম সেখানে পাঠিয়েছিলাম, যাতে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন হয়। আমরা দেখলাম, মসজিদের পাশে একটা পুকুর। পুকুরে মাছ চাষ হতো। পুকুরের মাছ চাষি মসজিদের বারান্দায় একটা ক্যামেরা বসিয়েছেন। যেখানে পরিষ্কার দেখা গেছে, কেউ মসজিদ থেকে কোরআন নিয়ে হনুমানের গদার স্থানে রেখে গদা নিয়ে বেরিয়ে এলেন।’

মন্ত্রী বলেন, ‘যখন এ ঘটনা সামনে চলে এলো, তখন তিনি পালিয়ে বেড়াচ্ছিলেন। আমরা তাকে গ্রেফতার করেছি, তার নাম প্রকাশ করেছি। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। ১৩ অক্টোবর কুমিল্লায় সহিংসতার ঘটনায় এ পর্যন্ত ১৮ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।’

আসাদুজ্জামান খান বলেন, ‘আমাদের ধারণা ছিল, জুম্মার নামাজের পর অসুবিধা হতে পারে। আমরা হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের বলেছিলাম, তার আগেই প্রতিমা বিসর্জন দেবেন এবং তারা তা করেছেন। আমাদের নামাজও ঠিকভাবে শেষ হলো। কিন্তু, দুই ভাগে বিতর্ক শুরু হলো। একপক্ষ পুলিশের সামনে হল্লা শুরু করলো। আরেকপক্ষ পুলিশকে ব্যস্ত রেখে ধ্বংস যজ্ঞে পরিণত করলো। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনলো। সেখানে বেশ কিছু ভাঙচুর হয়েছে। ওই সময় পুকুরে ঝাপ দেওয়ায় একজন মারা গেছেন।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, ‘এ সহিংসতা সুপরিকল্পিতভাবে দেশকে অস্থিতিশীল করতেই। এর মধ্যে দিয়ে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করেছে একটি মহল। ঘটনায় গ্রেফতারকৃতদের ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি নেওয়া হয়েছে। অনেকের নাম জানা গেছে। খুব শিগগিরই কারা এসব ঘটিয়েছে তা উদঘাটন করা সম্ভব হবে।’

বিএসআরএফ সভাপতি তপন বিশ্বাসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানের সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক মাসউদুল হক।

 

/এসএমএ/আইএ/

সম্পর্কিত

রফতানি পণ্যের উৎপাদন বাড়ানোর আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

রফতানি পণ্যের উৎপাদন বাড়ানোর আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

কঠোর শ্রমে কঠিন দিনগুলো অতিক্রম করতে হবে: বঙ্গবন্ধু

কঠোর শ্রমে কঠিন দিনগুলো অতিক্রম করতে হবে: বঙ্গবন্ধু

জনসংখ্যার ২৪ শতাংশ এক ডোজের আওতায়

জনসংখ্যার ২৪ শতাংশ এক ডোজের আওতায়

টিকা নিলে কোয়ারেন্টিন লাগবে না থাইল্যান্ডে

টিকা নিলে কোয়ারেন্টিন লাগবে না থাইল্যান্ডে

রফতানি পণ্যের উৎপাদন বাড়ানোর আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

আপডেট : ২৬ অক্টোবর ২০২১, ১৩:০৯

রফতানি বাড়াতে নতুন নতুন পণ্য উৎপাদনের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‌‘নতুন নতুন আরও কী কী পণ্য আমরা উৎপাদন করতে পারি এবং রফতানি করতে পারি সে বিষয়ে গবেষণা করে বের করতে হবে। কোন কোন দেশে কী কী পণ্যের চাহিদা রয়েছে সেটা অনুধাবন করে সেই পণ্য যেন আমরা উৎপাদন করতে পারি সেটাও বিবেচনা করতে হবে।’

মঙ্গলবার (২৬ অক্টোবর) বাংলাদেশ ‘ট্রেড অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট সামিট’ এর উদ্বোধনকালে তিনি এসব কথা বলেন। রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত এই সামিটে প্রধানমন্ত্রী গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যুক্ত হন।

সামিটে বেসরকারি খাতের উদ্যাক্তাদের নতুন নতুন পণ্য উৎপাদন ও রফতানির ওপর গুরুত্ব দেওয়ার অনুরোধ জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘যেসব প্রতিষ্ঠান আছে বিশেষ করে বেসরকারি খাত, আমি তাদের অনুরোধ করবো, এই বিষয়টার দিকে আপনারা বিশেষভাবে দৃষ্টি দেবেন। কারণ আমাদের রফতানি পণ্যের সংখ্যা আরও বাড়ানো প্রয়োজন বলে মনে করি। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন ধরনের চাহিদা থাকে। বাংলাদেশ এমন একটা দেশ আমরা ইচ্ছা করলে সব কিছুই করতে পারি। এই আত্মবিশ্বাস আমার আছে, যেটা জাতির পিতা বলে গেছেন।’

সরকার প্রধান বলেন, ‘আমি আশা করি, এই সম্মেলনের মাধ্যমে বাণিজ্য ও বিনিয়োগের জন্যে দেশি-বিদেশি শিল্প উদ্যোক্তা, ব্যবসায়ী, বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশে এ সব খাতের সম্ভাবনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পারবেন এবং বিশ্ব বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের নব নব দ্বার উন্মোচিত হবে, রফতানি বৃদ্ধি পাবে। বাংলাদেশ কাঙ্ক্ষিত বিনিয়োগ আকর্ষণে সক্ষম হবে।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আবহাওয়া, জলবায়ু পরিবর্তনে বিশ্বব্যাপী আজকে যে ক্ষতি হচ্ছে, বাংলাদেশ যাতে তার থেকে মুক্তি পায় সেদিকে লক্ষ্য রেখে শুরু থেকেই আমরা আমাদের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করে যাচ্ছি। কাজেই আমরা বিশ্বে প্রথম শতবর্ষের বাংলাদেশ ব-দ্বীপ পরিকল্পনা-২১০০ বাস্তবায়ন শুরু করেছি। আমাদের আগামী প্রজন্ম অর্থাৎ প্রজন্মের পর প্রজন্ম যেন একটা সুন্দর-নিরাপদ-উন্নত জীবন পায়, সুন্দরভাবে বাঁচতে পারে সেদিকে লক্ষ্য রেখেই আমরা এই ব-দ্বীপটাকে উন্নত করার পরিকল্পনা নিয়েছি।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে, এগিয়ে যাবে। আগামী প্রজন্ম পাবে জাতির পিতার স্বপ্নের আত্মমর্যাদাশীল, উন্নত, সমৃদ্ধ সোনার বাংলাদেশ। বাংলাদেশের অনেক পণ্য রয়েছে আমরা ইতোমধ্যে রফতানি করছি। সাত দিনব্যাপী এই সম্মেলনে আমাদের দেশের ৯টি খাত, যেমন: অবকাঠামো, তথ্য-প্রযুক্তি, চামড়া, ওষুধ, স্বয়ংক্রিয় ক্ষুদ্র প্রকৌশল, কৃষি পণ্য, খাদ্য প্রক্রিয়াজাত, পাট, বস্ত্র ও শিল্পসহ অতিচাহিদা সম্পন্ন ভোগ্য পণ্যসহ ক্ষুদ্র ব্যবসাকে অগ্রাধিকার দিয়ে বিবেচনা করা হচ্ছে। যা আমি মনে করি অত্যন্ত সময়োপযোগী।’

বঙ্গবন্ধু কন্যা বলেন, ‘আমরা বিভিন্নভাবে সুযোগ সৃষ্টি করছি। কারণ বাংলাদেশের ভৌগলিক অবস্থানটা কিন্তু বিবেচনা করলে যারা বিনিয়োগ করতে আসবেন তারা শুধু বাংলাদেশ পাবেন না, দক্ষিণ এশিয়া এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোতে তাদের একটা সুযোগ থাকবে এই বাজারগুলো ধরার এবং রফতানি করার। বাংলাদেশ সারা প্রাচ্য-প্রশ্চাত্য একটা ব্রিজ হিসেবে গড়ে উঠবে ভবিষ্যতে। যেটা আমাদের দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যের আরও প্রসার ঘটতে সহায়তা করবে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা কাজ করে যাচ্ছি দেশের উন্নয়নের জন্য। যদিও করোনায় আমাদের অগ্রগতিটা থেমে গেলো। যদি করোনা মহামারিটা না হতো তাহলে হয়তো আমরা আরও অনেক দূর এগিয়ে যেতে পারতাম। করোনা মহামারি মোকাবিলায় আমার দেশের মানুষের যাতে কষ্ট না হয় বা ব্যবসা-বাণিজ্য যাতে থমকে না যায়, এ জন্য প্রায় এক লাখ ৮৭ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা দিয়েছি। এমনকি যাতে তারা ব্যবসা-বাণিজ্য চালিয়ে যেতে পারেন, আবার মানুষও যেন না খেয়ে কষ্ট না পায় সেদিকে লক্ষ্য আমরা রেখেছি। এখন আমরা টিকা দেওয়াও শুরু করেছি। মানুষকে সুরক্ষা দেওয়াটা আমাদের কর্তব্য।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা হাতে নিয়েছি। শুধু তাৎক্ষণিক কী করা সেটা নয়। সরকার গঠনের পর থেকেই আমাদের লক্ষ্য ছিল আশু করণীয় কী, মধ্য মেয়াদি পরিকল্পনা ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে কজ করা। সেভাবে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছি বলেই আজকে আমাদের এ সাফল্য এসেছে। আমরা প্রেক্ষিত পরিকল্পনা রূপকল্প-২০২১ প্রণয়ন করেছিলাম ২০১০-২০২১। আর এখন আমরা করেছি রূপকল্প-২০৪১ অর্থাৎ ২০২১ থেকে ২০৪১ সালের বাংলাদেশ কেমন হবে? কীভাবে আমরা উন্নত করবো। এরই ভিত্তিতে আমরা পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা প্রণয়ন করে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি দেশকে।’

দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত করার বিভিন্ন দিক তুলে ধরে সরকার প্রধান বলেন, ‘সৈয়দপুর বিমানবন্দরকে আমরা একটা আঞ্চলিক বিমানবন্দর হিসেবে গড়ে তুলছি। যাতে আমাদের প্রতিবেশী দেশগুলোও সেটা ব্যবহারে সক্ষম হয়। আমাদের চট্টগ্রাম পোর্টকে উন্নত করছি, মোংলা পোর্ট এবং নতুন একটা পোর্ট করেছি পায়রা পোর্ট। সেটাও গভীর সমুদ্র বন্দর হিসেবে ভবিষ্যতে গড়ে উঠবে।’

 

/পিএইচসি/আইএ/

সম্পর্কিত

সহিংসতায় ইন্ধনদাতাদের নাম শিগগিরই প্রকাশ করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

সহিংসতায় ইন্ধনদাতাদের নাম শিগগিরই প্রকাশ করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

কঠোর শ্রমে কঠিন দিনগুলো অতিক্রম করতে হবে: বঙ্গবন্ধু

কঠোর শ্রমে কঠিন দিনগুলো অতিক্রম করতে হবে: বঙ্গবন্ধু

জনসংখ্যার ২৪ শতাংশ এক ডোজের আওতায়

জনসংখ্যার ২৪ শতাংশ এক ডোজের আওতায়

টিকা নিলে কোয়ারেন্টিন লাগবে না থাইল্যান্ডে

টিকা নিলে কোয়ারেন্টিন লাগবে না থাইল্যান্ডে

চিকিৎসা গ্রহণ শেষে দেশে ফিরলেন রাষ্ট্রপতি

আপডেট : ২৬ অক্টোবর ২০২১, ১০:৪৭

রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও চোখের চিকিৎসার জন্য ১৫ দিনের জার্মানি ও যুক্তরাজ্য (ইউকে) সফর শেষ করে দেশে ফিরেছেন। রাষ্ট্রপতি ও তার সফর সঙ্গীদের বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ভিভিআইপি ফ্লাইট আজ মঙ্গলবার (২৬ অক্টোবর) সকাল ৮টা ৪০ মিনিটে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।

 রাষ্ট্রপতির ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি মুন্সী জালাল উদ্দিন বাসসকে এ তথ্য জানিয়েছেন।

এসময় মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, পররাষ্ট্রমন্ত্রী একে আব্দুল মোমেন, ডিপলোমেটিক কোরের ডিন আর্চবিশপ জর্জ কোচারি, ঢাকায় নিযুক্ত ব্রিটেনের হাইকমিশনার রবার্ট চাটার্টন ডিকসন, মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম, সেনাবাহিনী প্রধান, ভারপ্রাপ্ত নৌবাহিনী প্রধান, সহকারী বিমান বাহিনী প্রধান (অপারেশন), প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জন নিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিব এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বেসামরিক ও সামরিক উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তারা বিমানবন্দরে রাষ্ট্রপতিকে স্বাগত জানান।

এরআগে, রাষ্ট্রপ্রধান গতকাল বিকাল ৫টা ৫০ মিনিটে (লন্ডন সময়) ঢাকার উদ্দেশে লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দর ত্যাগ করেন। যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার সাইদা মুনা তাসনীন ও লন্ডনে বাংলাদেশ মিশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বিমানবন্দরে রাষ্ট্রপতিকে বিদায় জানান।

এর আগে, ৯ অক্টোবর রাষ্ট্রপতি ও তার স্ত্রী রাশিদা খানম এবং অন্যান্য সফরসঙ্গী জার্মানির রাজধানী বার্লিনের উদ্দেশ্যে ঢাকা ত্যাগ করেন। তিনি ১৯ অক্টোবর বার্লিন থেকে লন্ডন পৌঁছান।

৭৭ বছর বয়সী রাষ্ট্রপতি হামিদ দীর্ঘদিন ধরে গ্লুকোমায় ভুগছেন। জাতীয় সংসদের (সংসদ) স্পিকার থাকাকালীন থেকে তিনি লন্ডন ও জার্মানিতে তার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করিয়ে আসছেন।

/ইউএস/

সম্পর্কিত

গাফফার চৌধুরীর খোঁজ নিলেন রাষ্ট্রপতি

গাফফার চৌধুরীর খোঁজ নিলেন রাষ্ট্রপতি

ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে মুসলিম উম্মাহকে রাষ্ট্রপতির শুভেচ্ছা

ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে মুসলিম উম্মাহকে রাষ্ট্রপতির শুভেচ্ছা

কৃষি উন্নয়নের মাধ্যমে সোনার বাংলা গড়ার লক্ষ্যে সরকার কাজ করে যাচ্ছে: রাষ্ট্রপতি 

কৃষি উন্নয়নের মাধ্যমে সোনার বাংলা গড়ার লক্ষ্যে সরকার কাজ করে যাচ্ছে: রাষ্ট্রপতি 

ভোক্তার আস্থা অর্জনে বিএসটিআইকে আরও দায়িত্বশীল হতে হবে: রাষ্ট্রপতি

ভোক্তার আস্থা অর্জনে বিএসটিআইকে আরও দায়িত্বশীল হতে হবে: রাষ্ট্রপতি

কঠোর শ্রমে কঠিন দিনগুলো অতিক্রম করতে হবে: বঙ্গবন্ধু

আপডেট : ২৬ অক্টোবর ২০২১, ০৮:০০

(বিভিন্ন সংবাদপত্রে প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে বঙ্গবন্ধুর সরকারি কর্মকাণ্ড ও তার শাসনামল নিয়ে মুজিববর্ষ উপলক্ষে ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশ করছে বাংলা ট্রিবিউন। আজ পড়ুন ১৯৭৩ সালের ২৬ অক্টোবরের ঘটনা।)

 

কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে কঠিন দিনগুলোকে সহজ ও মাধুর্যময় করে তোলার জন্য জনগণের প্রতি আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। ১৯৭৩ সালের অক্টোবরে পবিত্র ঈদুল ফিতরের প্রাক্কালে জাতির উদ্দেশ্যে প্রদত্ত এক বাণীতে এ কথা বলেন তিনি।

বাণীতে তিনি বলেন, ত্যাগ-তিতিক্ষা ও সংযমের মাস রমজান প্রায় শেষ হয়েছে। যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশের মানুষের দুয়ারে খুশির ঈদ হাজির হয়েছে। সব রকম অভাব, দুঃখ-কষ্ট, দুর্দশা সত্ত্বেও আমাদের এই উৎসব পালন করতে হবে।

তিনি বলেন, এদিন উপলক্ষে আমি জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে দেশবাসীকে এবং সারা বিশ্বের মুসলমানদের মোবারকবাদ জানাই। বঙ্গবন্ধু আরও বলেন, আজ আমাদের মনে রাখতে হবে জাতি পুনর্গঠনের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছার সংক্ষিপ্ত কোনও সড়ক নেই।

বঙ্গবন্ধু বলেন, ইপ্সিত সমৃদ্ধির লক্ষ্যে পৌঁছাতে হলে সমাজের প্রতি মানুষকে কঠোরতম পরিশ্রম করতে হবে। কঠোর পরিশ্রমের কোনও বিকল্প নেই। সমৃদ্ধি ত্বরান্বিত করার জন্য শান্তি অত্যাবশ্যক। দেশের সর্বত্র এবং সমাজের সর্বস্তরে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য দেশবাসীকে অতন্দ্র প্রহরীর ভূমিকা বলিষ্ঠভাবে পালন করতে হবে। নিশ্চিত সম্ভাবনাকে যারা কৃত্রিম সংকটে আবদ্ধ করতে চায় সেসব নগণ্যসংখ্যক চরিত্রগুলোকে অবিলম্বে ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে নিক্ষেপ করতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বঙ্গবন্ধু বলেন, কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে আমাদের কঠিন দিনগুলোকে সহজ করে ঈদের খুশি নিয়ে আনতে হবে। বাংলার ঘরে ঘরে সেই অবশ্যম্ভাবী সাফল্যের প্রতীক্ষায় আমি দেশবাসীর ওপর ভরসা করে আছি। ইনশাআল্লাহ জয় আমাদের হবেই।

দৈনিক বাংলা, ২৭ অক্টোবর ১৯৭৩

ঈদ উপলক্ষে চারশ’ বন্দির মুক্তি

১৯৭৩ সালে ঈদ উপলক্ষে চারশ’ বন্দিকে মুক্তি দেওয়া হয়। এদিন দেশের বিভিন্ন কারাগার থেকে এদের ছেড়ে দেওয়া হয়। ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পান ২৫৮ জন। এদের অধিকাংশই হানাদার বাহিনীর রাজাকার হিসেবে স্বাধীনতাবিরোধী কাজ করে জেলে গিয়েছিলেন।

মুক্তিপ্রাপ্তদের পাঁচ জন হানাদার আমলে তথাকথিত নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে এমপি ও এমএনএ হয়েছিলেন। প্রধানমন্ত্রী সেই বছর মে মাসে যে সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করেছিলেন, সেই কাঠামোর মধ্য দিয়ে এরা মুক্তি পান।

ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে ২৫৮ জন বন্দির মুক্তিদানকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুল মালেক উকিল উপস্থিত ছিলেন। বিকাল সাড়ে পাঁচটার দিকে বন্দিরা জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু স্লোগান দিতে দিতে কারাগার থেকে বেরিয়ে আসেন।

ডেইলি অবজারভার, ২৭ অক্টোবর ১৯৭৩

মার্কিন সতর্কতা অব্যাহত

সোভিয়েত ইউনিয়নের কমিউনিস্ট পার্টি প্রধান ব্রেজনেভ বলেন, ইসরায়েল ও আরব দেশগুলোর মধ্যে যুদ্ধবিরতি পর্যবেক্ষণ করার জন্য সোভিয়েত ইউনিয়ন মধ্যপ্রাচ্যে তার প্রতিনিধি পাঠিয়েছে। মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতর বলছে, আমেরিকান সশস্ত্রবাহিনীগুলোর প্রতি প্রদত্ত সতর্ক থাকার আদেশ এখনও বলবৎ রয়েছে।

এই ঘোষণার কয়েক ঘণ্টা আগে নিরাপত্তা পরিষদে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি রক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত ইউনিয়নসহ বৃহৎ শক্তির বাইরে কতগুলো দেশের সেনা সদস্য পাঠানোর প্রস্তাব গৃহীত হয়। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী এদিন বলেন, যুদ্ধবিরতি না মানলে ইসরায়েলকে মারাত্মক পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হতো। তিনি বলেন, এর আগের দিন সকালে তিনি প্রেসিডেন্ট নিক্সনের একটি চিঠি পেয়েছেন। তাতে সোভিয়েত কী করতে চায় সেটা লেখা ছিল।

মস্কোর খবরে বলা হয়, মধ্যপ্রাচ্য সংকটের অপ্রত্যাশিত অবনতির প্রতিক্রিয়া হিসেবে সোভিয়েত কমিউনিস্ট পার্টি প্রধান মস্কোতে শান্তির শক্তিগুলোর বিশ্ব কংগ্রেসে পূর্ব নির্ধারিত বক্তৃতাদান থেকে বিরত থাকেন।

 

 

/এফএ/এমওএফ/

সম্পর্কিত

সহিংসতায় ইন্ধনদাতাদের নাম শিগগিরই প্রকাশ করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

সহিংসতায় ইন্ধনদাতাদের নাম শিগগিরই প্রকাশ করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

রফতানি পণ্যের উৎপাদন বাড়ানোর আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

রফতানি পণ্যের উৎপাদন বাড়ানোর আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

জনসংখ্যার ২৪ শতাংশ এক ডোজের আওতায়

জনসংখ্যার ২৪ শতাংশ এক ডোজের আওতায়

টিকা নিলে কোয়ারেন্টিন লাগবে না থাইল্যান্ডে

টিকা নিলে কোয়ারেন্টিন লাগবে না থাইল্যান্ডে

প্রাথমিক শিক্ষায় ৩৯ কোটি টাকা সহায়তা দিচ্ছে জাপান

আপডেট : ২৫ অক্টোবর ২০২১, ২৩:০৪

বাংলাদেশকে ৩৮ কোটি ৯৩ লাখ টাকা অনুদান দিচ্ছে জাপান সরকার। দুদেশের সরকারের মধ্যে এ সংক্রান্ত একটি চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে। চতুর্থ প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচির (পিইডিপি-৪) আওতায় এই সহায়তা পাচ্ছে বাংলাদেশ। সোমবার (২৫ অক্টোবর) রাজধানীর শেরেবাংলা নগরস্থ পরিকল্পনা কমিশনের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগে (ইআরডি) এ চুক্তি সই হয়।

ইআরডি সচিব ফাতিমা ইয়াসমিন ও বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত ইতো নাওকি নিজ নিজ দেশের পক্ষে চুক্তিতে সই করেন।

ইআরডি জানিয়েছে, প্রকল্পের আওতায় শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, শ্রেণিকক্ষ নির্মাণ, সব শিশুর শিক্ষা নিশ্চিতকরণ, আইসিটি শিক্ষার মানোন্নয়নের মতো বিষয়গুলো পিইডিপি-৪-এ স্থান পেয়েছে। পিইডিপি-৪-এর আওতায় এক লাখ ৬৫ হাজার ১৭৪ জন শিক্ষক নিয়োগ ও পদায়ন হবে। গুরুত্ব পাবে নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের বিষয়টিও।

ইআরডি আরও জানিয়েছে, ২০১৮ সালে শুরু হওয়া এ কর্মসূচি চলবে ২০২৩ সাল পর্যন্ত। কর্মসূচি বাস্তবায়ন করবে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নের জন্য শুরু হয়েছে পিইডিপি-৪। এ প্রকল্প বাস্তবায়নে সরকারি তহবিল থেকে জোগান দেওয়া হবে ২৫ হাজার ৫৯১ কোটি ৫৭ লাখ টাকা। এর বাইরে ১২ হাজার ৮০৫ কোটি ৫৯ লাখ টাকা পাওয়া যাবে বৈদেশিক সহায়তা হিসেবে।

এক্ষেত্রে বিশ্বব্যাংক, এডিবি, জাইকা, ইইউ, ডিএফআইডি, অস্ট্রেলিয়ান এইড, কানাডিয়ান সিডা, সুইডিশ সিডা, ইউনিসেফ ও ইউএসএইড প্রকল্পে অর্থায়ন করবে। এরই ধারাবাহিকতায় জাপান অর্থায়ন করছে। 

উল্লেখ্য, জাপান বাংলাদেশের অন্যতম উন্নয়ন সহযোগী দেশ। ২০২১ সালের জুন পর্যন্ত নানা উন্নয়ন খাতে বাংলাদেশকে ১৬ দশমিক ১৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ঋণ ও অনুদান দিয়েছে জাপান সরকার। বাংলাদেশের পাশে দাড়াতে মেট্রো রেলের মতো মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নেও সহায়তা দিচ্ছে জাপান।

/এসআই/এমআর/

সম্পর্কিত

সহিংসতায় ইন্ধনদাতাদের নাম শিগগিরই প্রকাশ করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

সহিংসতায় ইন্ধনদাতাদের নাম শিগগিরই প্রকাশ করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

রফতানি পণ্যের উৎপাদন বাড়ানোর আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

রফতানি পণ্যের উৎপাদন বাড়ানোর আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

চিকিৎসা গ্রহণ শেষে দেশে ফিরলেন রাষ্ট্রপতি

চিকিৎসা গ্রহণ শেষে দেশে ফিরলেন রাষ্ট্রপতি

কঠোর শ্রমে কঠিন দিনগুলো অতিক্রম করতে হবে: বঙ্গবন্ধু

কঠোর শ্রমে কঠিন দিনগুলো অতিক্রম করতে হবে: বঙ্গবন্ধু

সর্বশেষসর্বাধিক
quiz

লাইভ

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

বেসিক ব্যাংক ও পদ্মা ব্যাংক একীভূতকরণের পক্ষে অর্থমন্ত্রী

বেসিক ব্যাংক ও পদ্মা ব্যাংক একীভূতকরণের পক্ষে অর্থমন্ত্রী

স্বচ্ছ থাকলে সাংবাদিক নেতাদের উদ্বিগ্ন হওয়ার কারণ নেই: তথ্যমন্ত্রী

স্বচ্ছ থাকলে সাংবাদিক নেতাদের উদ্বিগ্ন হওয়ার কারণ নেই: তথ্যমন্ত্রী

রবিবার থেকে ব্যাংক খোলা, লেনদেন হবে দেড়টা পর্যন্ত

রবিবার থেকে ব্যাংক খোলা, লেনদেন হবে দেড়টা পর্যন্ত

সর্বশেষ

চাকরি দিচ্ছে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র

চাকরি দিচ্ছে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র

উন্মুক্ত হলো তাদের বিশেষ গান ‌‘চার ছক্কা মারো’ (ভিডিও)

উন্মুক্ত হলো তাদের বিশেষ গান ‌‘চার ছক্কা মারো’ (ভিডিও)

মডেল তিন্নি হত্যা মামলার রায় আগামী ১৫ নভেম্বর

মডেল তিন্নি হত্যা মামলার রায় আগামী ১৫ নভেম্বর

নুর ও রেজা কিবরিয়ার নতুন দলের আত্মপ্রকাশ

নুর ও রেজা কিবরিয়ার নতুন দলের আত্মপ্রকাশ

পাকিস্তানের আবেগের ম্যাচ, উইলিয়ামসন দেখছেন ভিন্নভাবে

পাকিস্তানের আবেগের ম্যাচ, উইলিয়ামসন দেখছেন ভিন্নভাবে

© 2021 Bangla Tribune