X
মঙ্গলবার, ২৬ অক্টোবর ২০২১, ১০ কার্তিক ১৪২৮

সেকশনস

দোলা এবার কথা বলেছে হোয়াইট হাউসের ওয়েবিনারে

আপডেট : ১২ আগস্ট ২০২১, ১৬:৫৪

এবারের এইচএসসি পরীক্ষার্থী রেবা আক্তার দোলা। অনেক দিন ধরেই কাজ করছে বাল্যবিয়ের বিরুদ্ধে। যোগাচ্ছে অনুপ্রেরণা। বাল্যবিয়ের বিরুদ্ধে চলমান এক যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে জোরকদমে। দেশে-বিদেশে তাকে নিয়ে হয়েছে অনেক প্রতিবেদন। কদিন আগে হোয়াইট হাউসের ওয়েবিনারে অংশ নিয়ে বক্তব্যও দিয়েছিল দোলা।

 

এ অভিযানের শুরু কীভাবে?

রাজধানীর ফিরোজা বাশার আইডিয়াল কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থী রেবা আক্তার দোলা বাংলা ট্রিবিউনকে জানালো, ‘জাতীয় শিশু ফোরামে যখন যুক্ত হই, তখন আমার বয়স ১০। ওই সময় একদিন মায়ের কাছ থেকে তার কৈশোরের মজার স্মৃতি জানতে চেয়েছিলাম। মা বললেন, একটা মেয়ের যখন তেরো বছর বয়সে বিয়ে হয়ে যায় এবং বিয়ের পর একগাদা দায়িত্ব নিতে হয়, তখন তার কৈশোরের মজার স্মৃতি থাকে না। সেদিনই ধাক্কা লাগে মনে। বুঝতে পারি বাল্যবিয়ে কতটা ভয়ানক হতে পারে। মায়ের কথা শোনার পর মনে হলো আমার ক্ষেত্রেও যদি এমনটা ঘটে! তবে তো জীবনের সেরা স্মৃতি বলে কিছু থাকবে না। আমার মা বাল্যবিবাহের শিকার, তাই তিনিও কোনওদিন চাননি আমার শৈশব নষ্ট হোক। আর ওই দিন থেকেই ঠিক করি, একটা কিছু করতে হবে। তখনই যুক্ত হই জাতীয় শিশু ফোরামে।’

দোলা আরও জানালো, ‘আন্তর্জাতিক মানবিক সাহায্য সংস্থা ওয়ার্ল্ড ভিশনের সঙ্গে থেকে শিশু ফোরামের পক্ষ হতে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ নিয়ে বাল্যবিয়ের কুফল ও সচেতনতা করার পদ্ধতি নিয়ে অনেক কিছু শিখি।’

এ নিয়ে বিশেষ কোনও ঘটনা আছে কিনা জানতে চাইলে দোলা বলে, ‘একদিন খবর পাই রাজধানীর এক এলাকায় অপ্রাপ্তবয়স্ক এক মেয়ের মতের বিরুদ্ধে বিয়ে হচ্ছে। আমরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হই। নজর পড়ে বাচ্চা মেয়েটার অসহায় মুখে। তাকে দেখেই বোঝা যাচ্ছিল সে কতটা বিপদে আছে। আমরা সবার আগে মেয়েটির অভিভাবককে বোঝাই। ওই মুহূর্তে দ্বিধায় ছিলাম এ কাজে সফল হবো কি না। তবে হয়েছিলাম। মেয়ের মাকে সিদ্ধান্ত থেকে সরিয়ে আনি। বাবা-মা দুজনই আমাদের কথা দিলেন, মেয়ে প্রাপ্তবয়স্ক না হওয়া পর্যন্ত বিয়ে দেবেন না। ওই মেয়ের সঙ্গে আমার এখনও যোগাযোগ আছে। আমাদের কাজের ধরনটা এমনই। প্রথমে শিশু ফোরামের সেন্ট্রাল মেম্বাররা মিলে অভিভাবককে বোঝানোর চেষ্টা করি। তাতে কাজ না হলে স্থানীয় প্রতিনিধি ও পুলিশ কর্মকর্তাদের মাধ্যমে বিয়ে আটকানোর ব্যবস্থা করি।’

এসব কাজে দোলা পরিবারের পক্ষ থেকে কতখানি সমর্থন পেয়েছে জানতে চাইলে বলে, ‘প্রথমে নিরাপত্তার কথা ভেবে বড়রা মানতে চাননি। মাকে বোঝাতে শুরু করি। তাকে ওয়ার্ল্ড ভিশনের কিছু প্রোগ্রামে নিয়ে গেলাম। তখন তিনি বুঝতে পারেন। এখন আমি আনন্দের সঙ্গেই বলি যে আমাকে নিয়ে মা কিন্তু খুব গর্ব করেন।’

জানা গেছে, ২০১৮-২০১৯ এ দুই বছরের মধ্যে জাতীয় শিশু ফোরামের পক্ষ হতে ৬০০ বাল্যবিবাহ রোধ করা হয়েছে। সারাদেশের ৫৪টি উপজেলায় প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার শিশু কাজ করছে বাল্যবিবাহ রোধে। এক লাখ ৩০ হাজার শিশুর প্রতিনিধিত্ব করছেন সেন্ট্রাল কমিটির ১৫ জন সদস্য। আর তাদের মহাসচিবই হলো রেবা আক্তার দোলা। 

 

হোয়াইট হাউসের ওয়েবিনার

সম্প্রতি লিঙ্গ সমতাকে ‘জেন্ডার পলিসি কাউন্সিল’ চালু করেছে যুক্তরাষ্ট্র সরকার। লিঙ্গ সমতা বিকাশে ধারাবাহিকভাবে এ সংক্রান্ত কনফারেন্স আয়োজন করে আসছে হোয়াইট হাউস প্রতিনিধিরা।

হোয়াইট হাউসের ওয়েবিনারে দোলা

গত ১০ আগস্ট সেই মিটিংয়ে দোলাকে আমন্ত্রণ জানানো হয় একজন বক্তা হিসেবে। বিশ্বের ১৯৩টি দেশের মধ্যে নির্বাচিত ১০ কিশোরী-নেতাকে নিয়ে হোয়াইট হাউসের ওই ওয়েবিনারে যোগ দিয়েছিল দোলা। ওই মিটিংয়ে দোলা বলেছে ‘যৌন হয়রানি দূর করতে শৈশব থেকে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে এবং বাল্যবিয়ে বন্ধের উপায় ও এর ক্ষতি সম্পর্কে সবাই বিস্তারিত জানাতে সরকারের পক্ষ থেকে উদ্যোগ নিতে হবে। এ ছাড়া এ বিষয়ে সরাসরি পরামর্শ পেতে সরকারি ব্যক্তিদের সঙ্গে নির্দিষ্ট একটা সময়ে আলোচনা করার ব্যবস্থাও রাখা উচিৎ বলে সে জানায়।’

দোলা বললো, ‘তারা (হোয়াইট হাউস কর্মকর্তারা) আমাদের কাজের প্রশংসা করলেন। আমার প্রস্তাবগুলোও গুরুত্ব দিয়ে শুনেছেন। ওই মুহূর্তটা যে কতটা গর্বের তা প্রকাশ করা সম্ভব নয়।’

 

দোলার যত ব্যস্ততা

বাল্যবিয়ে বন্ধের পাশাপাশি জাতীয় শিশু ফোরামের সদস্যরা কিছু মানুষের মুখে হাসি ফোটানোরও দায়িত্ব নিয়েছিল। দোলা জানালো ‘প্রথম ও দ্বিতীয় দফার লকডাউনের শেষের দিকে নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত পরিবারের অবস্থা যখন শোচনীয়, তখন ঈদের আগমুহূতে ফোরামের সদস্যরা কিছু তহবিল সগ্রহ করে রাজধানীর হাজারীবাগের ৩৫টি পরিবারের কাছে পৌঁছে দিয়েছিল ঈদ উপহার।

চার বছর পর পর ইউএন গ্লোবাল এডুকেশন সামিট হয়। এ বছরের ২৯ জুলাই সেই কনফারেন্সে দোলাও বিশ্বের সকল মেয়েদের অবস্থা তুলে ধরেছিল।

২০১৯ সালেও সুইজারল্যান্ডে বক্তব্য দিয়েছিল দোলা। জেনেভা সফর সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে সে জানায়, দেশের কিশোরীদের সার্বিক চিত্র তুলে ধরতে ওয়ার্ল্ড ভিশনের পক্ষ হতে আমাকে নির্বাচিত করা হয়েছিল। সেখানে গিয়ে যথাসম্ভব বাল্যবিয়ের ক্ষেত্রে দেশের অবস্থা তুলে ধরেছি।

উল্লেখ্য, গার্লস নট ব্রাইডস সংস্থাটি বলেছে, জাতিসংঘ শিশু তহবিল (ইউনিসেফ) এর তথ্য অনুসারে বাংলাদেশে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সংখ্যক শিশুবধূ রয়েছে। যার সংখ্যা প্রায় সাড়ে ৪৪ লাখ!

মহামারি পরিস্থিতি এ সংখ্যা আরও বেড়েছে জানিয়ে জাতিসংঘের জনসংখ্যা তহবিল (ইউএনএফপিএ) অনুমান করছে, ২০৩০ সালের মধ্যে আরও প্রায় এক কোটি ৩০ লাখ কিশোরী বাল্যবিয়ের শিকার হবে।

দোলার পরিকল্পনা হচ্ছে তাদের কাজ ও বার্তা বাংলাদেশের সকল জেলায় ছড়িয়ে দেওয়া। পাশাপাশি পাঁচ বছরের মধ্যেই দেশের কোনও একটি জেলাকে বাল্যবিয়েমুক্ত ঘোষণা করা। আপাতত এ লক্ষ্যেই কাজ করে যাবে তার টিম।

/এফএ/

সম্পর্কিত

কর্মপরিকল্পনার অভাবে তৈরি হচ্ছে না তরুণ উদ্যোক্তা 

কর্মপরিকল্পনার অভাবে তৈরি হচ্ছে না তরুণ উদ্যোক্তা 

সামাজিক কর্মকাণ্ড ও নেতৃত্বে আগ্রহ হারাচ্ছে তরুণরা

সামাজিক কর্মকাণ্ড ও নেতৃত্বে আগ্রহ হারাচ্ছে তরুণরা

‘তারাও এমন লোক দেখানো কাজ করুক’

‘তারাও এমন লোক দেখানো কাজ করুক’

ঢাবি শিক্ষার্থীর উদ্যোগে শশীভূষণে প্রথম গ্রন্থাগার

ঢাবি শিক্ষার্থীর উদ্যোগে শশীভূষণে প্রথম গ্রন্থাগার

কর্মপরিকল্পনার অভাবে তৈরি হচ্ছে না তরুণ উদ্যোক্তা 

আপডেট : ০৭ অক্টোবর ২০২১, ২২:২৫

দেশের মোট জনসংখ্যার এক তৃতীয়াংশই তরুণ। জনসংখ্যা বৃদ্ধির পাশাপাশি এর সংখ্যাও দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। কিন্তু এই তারুণ্যের পথের বাধা কাটছেই না। গবেষণা বলছে, সঠিক কর্মপরিকল্পনার অভাব, ত্রুটিপূর্ণ শিক্ষা ব্যবস্থা, অবহেলা, বৈষম্যমূলক নীতি, অপর্যাপ্ত গবেষণা, অপ্রতুল বরাদ্দ ও বিভিন্ন দফতরের মধ্যে সমন্বয়হীনতাসহ নানা অব্যবস্থাপনাই প্রাণশক্তিতে ভরা দেশের তারুণদের প্রধান বাধা। এ অবস্থায় জাতীয় বাজেটে পর্যাপ্ত বরাদ্দ রাখার পাশাপাশি শক্তিশালী জনশক্তি তৈরিতে সঠিক কর্মপরিকল্পনার বাস্তবায়নের পাশাপাশি সংশ্লিষ্টদের নজর দেওয়ার তাগিদ বিশেষজ্ঞদের। 

সরকারের নেওয়া নানাবিধ উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে দেশের ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা অব্যাহত থাকলেও এখনও অন্যতম বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দুর্নীতি, দরিদ্রতা, জলবায়ু পরিবর্তন, নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা না পাওয়া, উগ্রধর্মীয়বাদ, রোহিঙ্গা সমস্যা, বেকারত্বসহ নানা প্রতিবন্ধকতা। যতই দিন যাচ্ছে ততই সমস্যাগুলো প্রকট হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০১৭ সালের ১০ এপ্রিল দেশে যুব নীতিমালা প্রণয়ন করে গেজেট প্রকাশ করে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়। এতে যুবদের নানামুখী দক্ষতা বৃদ্ধি ও কর্মক্ষেত্র সৃষ্টিতে বিস্তর আলোচনা করা হয়েছে। পাশাপাশি যুব উন্নয়নে সরকার কীভাবে কাজ করবে সে বিষয়েও বিস্তারিত গাইডলাইন দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এই নীতিমালা বাস্তবায়নে কোনও গতি নেই। 

অ্যাকশনএইড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ কবির বলেন, যুবসমাজের উন্নয়ন এবং ইতিবাচক পরিবর্তন আনার লক্ষেই জাতীয় যুবনীতি তৈরি করা হয়। রাষ্ট্রকে অবশ্যই নাগরিকের শিক্ষা নিশ্চিত করতে হবে এবং তরুণদের উন্নয়নে বাজেটে আরও বরাদ্দ বাড়াতে হবে।

শিল্প সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশে শিল্পের বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে। কিন্তু সে অনুযায়ী দক্ষ জনবল নেই। দেশে যে জনশক্তি রয়েছে তাতে আশা দেখা যাচ্ছে না। কারণ শিল্প একটি রূপান্তর প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এ ছাড়া অবকাঠামোগত দুর্বলতার কারণে অন্যান্য শিল্পও উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ছে না। ফলে শিল্প নির্ভরতা বাড়তে থাকলেও সেখানে কর্মসংস্থানে অনেকটা স্থবিরতা বিরাজ করছে।

বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাক, বিআইজিডি এবং ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণায় দেখা গেছে, প্রয়োজনীয় দক্ষতার অভাবে বাংলাদেশি তরুণ-তরুণীরা চাকরির বিভিন্ন ক্ষেত্রে অনেক পিছিয়ে আছেন। বাংলাদেশের স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলো থেকে শিক্ষার্থীরা যে শিক্ষা পাচ্ছেন, তাতে তারা চাকরির জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জন করতে পারছেন না। এই শিক্ষার্থীদের মধ্যে কম্পিউটার ও ইংরেজি ভাষায় আত্মবিশ্বাসী মাত্র ১৬ শতাংশ। এর জন্য দক্ষতার ঘাটতি যেমন রয়েছে ঠিক কর্মসংস্থানের সীমিত সুযোগও দায়ী।

অ্যাকশনএইড বাংলাদেশের এক গবেষণায় দেখা গেছে, দেশের মোট জনসংখ্যার ৩৪ শতাংশ তরুণ জনগোষ্ঠী। কিন্তু তারা আর্থিকসহ নানা সমস্যার সম্মুখীন। ৩৬ শতাংশ শহরের তরুণ এবং ৪২ শতাংশ গ্রামের তরুণ কর্মসংস্থান কিংবা কর্মমুখী শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত। যুবা নারীদের মধ্যে ৬৬ শতাংশ এবং যুবা পুরুষদের ৩৩ শতাংশ কোনও ধরনের আয়-উপার্জন করতে পারছেন না।

বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের এক জরিপে ৪৭ শতাংশ তরুণ জানিয়েছেন, কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক সুযোগের অসমতা তাদের সবচেয়ে বড় সমস্যা। তরুণদের অর্ধেকের বেশি মনে করেন, তাদের স্বপ্ন আর প্রত্যাশা নিয়ে ভাবেন না দেশের নীতিনির্ধারকরা। নীতিনির্ধারকদের বৈষম্যমূলক এই নীতি নিয়েও তারা উৎকণ্ঠিত।

বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) সাম্প্রতিক একটি গবেষণা প্রতিবেদনে জানা যায়, স্বনামধন্য একটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করা শিক্ষার্থীদের ৬৬ বা দুই-তৃতীয়াংশই বেকার। ওই প্রতিষ্ঠানের মাত্র ২১ শতাংশ শিক্ষার্থী স্নাতক কিংবা স্নাতকোত্তর শেষ করে চাকরি পান। আর মাত্র ৩ শতাংশ নিজের উদ্যোগে কিছু করছেন। দুই বছর আগেও বিশ্বব্যাংক একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ওপর জরিপ করেছিল। তাতেও দেখা গেছে, স্নাতক পাস করা শিক্ষার্থীদের ৪৬ শতাংশ বেকার, যারা তিন বছর ধরে চাকরি খুঁজছেন।

দেশে এখন তরুণ সমাজের খুবই দুঃসময় চলছে বলে মনে করেন সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার। তিনি বলেন, পর্যাপ্ত উদ্যোগ ও কর্ম পরিকল্পনার অভাবে আমাদের তরুণরা শক্তিশালী জনশক্তিতে রূপান্তর হতে পারছে না। শিক্ষিতের সংখ্যা বাড়লেও তাদের কর্মসংস্থান বাড়ছে না। এতে অনেক শিক্ষিত তরুণ হতাশ হয়ে পড়ছে। অনেকেই দেশ ত্যাগ করে চলে যাচ্ছে। অনেক সময় আমরাও তাদেরকে সঠিক মূল্যায়ন করতে পারছি না। সব মিলিয়ে তরুণ সমাজের খুবই দুঃসময় চলছে।

আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) প্রতিবেদন অনুযায়ী, উচ্চশিক্ষিতদের মধ্যে বাংলাদেশে বেকারত্ব ১০ দশমিক ৭ শতাংশ, যা এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় ২৮টি দেশের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। বাংলাদেশের ওপরে আছে কেবল পাকিস্তান।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ শ্রমশক্তি জরিপেও দেখা যায়, দেশে শিক্ষিত মানুষের মধ্যে বেকারের হার বেশি। যেখানে ৪৭ শতাংশ শিক্ষিতই বেকার। অন্যদিকে প্রতিবছর দেশে শ্রমশক্তিতে যোগ হচ্ছেন ২০ লাখ মানুষ। কিন্তু সে অনুপাতে কর্মসংস্থান হচ্ছে না। ফলে বড় একটি অংশ বেকার থেকে যাচ্ছেন।

সিডার কর্মসংস্থান ও শ্রমবাজার বিষয়ক এক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, যার শিক্ষাগত যোগ্যতা যত বেশি, তার চাকরি পাওয়ার সম্ভাবনা তত কম। কর্মসংস্থান সৃষ্টি না হওয়ায় কর্মমুখী হতে পারছেন না তারা। এ ধরনের নানাবিধ সমস্যায় হতাশা থেকে দেশ ত্যাগের সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন তরুণরা। ফলে বৈধ বা অবৈধ যেকোনও উপায়ে তারা বিদেশে পাড়ি জমাচ্ছেন।

অথচ দেশের এই যুব সমাজকে নিয়ে বড় সম্ভাবনা দেখছে জাতিসংঘ। সংস্থাটির উন্নয়ন সংস্থাগুলোর তথ্য মতে, বাংলাদেশ সেইসব ভাগ্যবান দেশের তালিকায় আছে যেসব দেশে বিপুল সংখ্যক কর্মক্ষম তরুণ রয়েছে। কিন্তু এই জনগোষ্ঠীকে কাজে লাগাতে পারছে না। কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর সুবিধা কাজে লাগানোর জন্য সরকারের যে পরিকল্পনা, তাতে যথেষ্ট ঘাটতি রয়ে গেছে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

চলতি বছরের ১৩ জুন সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিং (সানেম) ও অ্যাকশন এইড বাংলাদেশ যৌথভাবে ‘তরুণদের প্রেক্ষাপটে বাজেট’ শীর্ষক একটি সেমিনারের আয়োজন করে। সেমিনারের মূল প্রবন্ধে বলা হয়, সরকারের ২২টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগ যুব উন্নয়নে কাজ করে। চলতি (২০২১-২২) অর্থবছরের জন্য এই মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোর বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) যে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে তারমধ্যে সরাসরি তরুণদের কেন্দ্র করে মাত্র ১৪ শতাংশ বরাদ্দ দেওয়া হয়। আর ২৬ শতাংশ বরাদ্দ আংশিকভাবে তরুণদের জন্য দেওয়া হয়। বাকি ৬০ শতাংশ বরাদ্দ তরুণদের কাজে লাগে না। এক্ষেত্রে ১২টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের বরাদ্দে তরুণদের জন্য কোনও বরাদ্দ নেই।

যুবসমাজের প্রতিনিধিরা বলছেন, ‘শুধু চাকরি নয়, কেউ যদি উদ্যোক্তা হতে চান তাতেও অনেক প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। তারা ব্যবসা করার পুঁজি কোথায় থেকে পাবেন সে বিষয়েও তথ্য জানেন না। তাছাড়া ব্যবসার প্রথম বাধাই হচ্ছে ট্রেড লাইসেন্স। এই সনদটির যে ফি ধরা হয়েছে তাতে ক্ষুব্ধ তরুণ উদ্যোক্তারা।

তরুণ উদ্যোক্তা নাসির উদ্দিন বলেন, ‘পড়াশোনা শেষে চাকরি না পেয়ে অনেকেই ব্যবসা শুরু করতে চান। তখন পুঁজি থাকে সামান্য। কিন্তু শুরুতেই ট্রেড লাইসেন্স করতে হয়। এই ফি ৫০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে তিন হাজার টাকা করা হয়েছে। এর সঙ্গে আরও অন্যান্য ফিও রয়েছে। এতেই হোঁচটটা শুরু হয়। এরপর পদে পদে তো বাধা রয়েছে।’

বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম মনে করেন, দেশে পর্যাপ্ত দক্ষ জনবলের অভাব রয়েছে। বাংলা ট্রিবিউনকে তিনি বলেন, সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি খাতকে শক্তিশালীকরণের মাধ্যমে এই সমস্যাটির সমাধান করা সম্ভব। এজন্য প্রত্যেক যুবসমাজকে দক্ষ করে গড়ে তুলতে হবে। যুবকদের আত্মবিশ্বাসী হতে হবে। পাশাপাশি উদ্যোক্তাবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে।

নাগরিক প্ল্যাটফর্মের আহ্বায়ক ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য মনে করেন, যুব সমাজের উন্নয়নে শুধু কর্মভিত্তিক দক্ষতা বৃদ্ধির দিকে মনোনিবেশ না করে সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে যুবভিত্তিক প্রশিক্ষণ, আইসিটি বিষয়ে প্রশিক্ষণ এবং যুবদের অধিকার সম্পর্কিত প্রশিক্ষণ কর্মসূচিরও উদ্যোগ নেওয়া উচিত। শুধু পরোক্ষভাবে পরামর্শ গ্রহণ প্রক্রিয়া নয়, যুবদের স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে এসডিজি জবাবদিহি প্রক্রিয়ায় প্রত্যক্ষভাবে জড়িত করতে হবে। সুনির্দিষ্ট এসডিজি সম্পর্কিত এবং যুবভিত্তিক কাউন্সিল প্রতিষ্ঠা করা উচিত বলেও মনে করেন তিনি।

তরুণদের বর্তমান অবস্থা নিয়ে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. জাহিদ আহসান রাসেল বলেন, সরকার গত তিন মেয়াদে ২ কোটি যুবকের চাকরি এবং কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে পেরেছে। ২০৩০ সালের মধ্যে প্রায় তিন কোটি বেকার যুবকের কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষে কাজ করছে সরকার। এজন্য সারাদেশে ন্যাশনাল সার্ভিস কর্মসূচি চালু করা হবে। বেকার যুবকদের উদ্বুদ্ধকরণ, প্রশিক্ষণ, ঋণ প্রদান ও আত্মনির্ভরশীল হিসেবে তৈরি করতে প্রতিটি উপজেলায় যুব প্রশিক্ষণ কেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। 

আরও পড়ুন: সামাজিক কর্মকাণ্ড ও নেতৃত্বে আগ্রহ হারাচ্ছে তরুণরা

/এনএইচ/

সম্পর্কিত

সামাজিক কর্মকাণ্ড ও নেতৃত্বে আগ্রহ হারাচ্ছে তরুণরা

সামাজিক কর্মকাণ্ড ও নেতৃত্বে আগ্রহ হারাচ্ছে তরুণরা

‘তারাও এমন লোক দেখানো কাজ করুক’

‘তারাও এমন লোক দেখানো কাজ করুক’

ঢাবি শিক্ষার্থীর উদ্যোগে শশীভূষণে প্রথম গ্রন্থাগার

ঢাবি শিক্ষার্থীর উদ্যোগে শশীভূষণে প্রথম গ্রন্থাগার

কানাডার ফ্যাশন ম্যাগাজিনে মুমুর আলোকচিত্র

কানাডার ফ্যাশন ম্যাগাজিনে মুমুর আলোকচিত্র

সামাজিক কর্মকাণ্ড ও নেতৃত্বে আগ্রহ হারাচ্ছে তরুণরা

আপডেট : ০৮ অক্টোবর ২০২১, ১১:২০

এসটি শাহীন। পথ শিশুদের মাঝে শিক্ষার আলো ছড়াতে একটি ভ্রাম্যমাণ স্কুল স্থাপনের স্বপ্ন দেখেন। সাংবাদিকতা পেশা ছেড়ে বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া তরুণ শিক্ষার্থীদের নিয়ে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ‘জুম বাংলাদেশ স্কুল’ নামে একটি স্কুল গড়ে তোলেন। ২০১৬ সালে ১৩ জন শিশুকে নিয়ে খোলা আকাশের নিচে চালু করা তার ওই স্কুলের এখন শিক্ষার্থী সংখ্যা ৭০ জন। বর্তমানে ঢাকায় ৬টিসহ সারাদেশে আরও ৫ জেলায় তার এই কার্যক্রম চলছে। সবগুলো স্কুলের শিক্ষার্থী সংখ্যা সাড়ে চার শ‘।

এই স্কুল স্থাপন করতে তাকে অনেক ঘাত-প্রতিঘাত সহ্য করতে হয়েছে। প্রথমে অনেকেই শিশু পাচারকারীসহ নানা নেতিবাচক ধারনা করতো। সেগুনবাগিচার যে স্থানে ক্লাস নেওয়া হতো, পরদিন সেখানে আশপাশের মানুষ বাসাবাড়ির ময়লা-আবর্জনা ফেলে রাখতো। বিভিন্ন দাতা সংস্থার স্কুল মনে করে বখাটেরাও চাঁদা দাবি করেছে। এমনকি উদ্দেশ্য করে নানা কটূক্তি করতো। কিন্তু সব বাধা উপেক্ষা করে শাহীনের স্কুল এখন আলো ছড়াচ্ছে পথ শিশুদের মাঝে।

সাহীনের ‘জুম বাংলাদেশ স্কুল’

বাংলা ট্রিবিউনকে শাহীন বলেন, ‘আমি কষ্ট পেলেও হতাশ হইনি। অনেকেই আমাকে নিয়ে ব্যঙ্গ করেছে। আমি মনে করে তারা এখন নিজেদের ভুল বুঝতে পেরেছে। এখন মানুষ আমার প্রতি আস্থা অর্জন করেছে। ঢাকার পাশাপাশি অন্যান্য জেলায়ও এখন কাজ চলছে। আমাদের স্কুল থেকে সুবিধাবঞ্চিত শিশুরা শিক্ষা পাচ্ছে।’

তিনি বলেন, আসলে একটি ভালো কাজ করতে গেলে অনেক বাধা আসবে। এটি আমাদের সমাজের একটা প্রচলিত রীতি হয়ে দাঁড়িয়েছে। এসব কারণে অনেকেই আগ্রহ হারিয়ে সামাজিক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। ফলে তরুণ সমাজ মাদকাসক্তসহ নানা অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। এর ফলে যোগ্য নেতৃত্বও সৃষ্টি হচ্ছে না।

দেশের বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা হাতিয়া। এই দ্বীপকে কেন্দ্র করে বেশ কিছু সামাজিক সংগঠন গড়ে উঠেছে। এর মধ্যে অন্যতম বাংলাদেশ কুটির হাতিয়া। সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক মুশফিকুর রহমান মঞ্জু। সামাজিক কাজ করতে গিয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিকদের প্রতিহিংসার শিকার হয়ে হামলার মুখেও পড়েছেন। ২০২০ সালে গড়ে তোলা এই সংগঠন থেকে দ্বীপের অসহায় ৪৮টি পরিবারকে ঘর বানিয়ে দেওয়া হয়। তরুণদের অনুদানেই সমাজে আলো ছড়িয়ে আসছিল এই ‘কুটির’। তাদের কাজে  স্থানীয় প্রশাসনও এখন বেজায় খুশি।

তরুণদের উদ্যোগে হাতিয়া দ্বীপে নির্মিত হচ্ছে বাস্তুহারাদের ঘর।

ঝড়ে ঘর হারা মানুষের জন্য সরকারিভাবে ২০০ বান টিন বরাদ্দ আসে হাতিয়ায়। সুষ্ঠু বণ্টনের জন্য এ বরাদ্দ থেকে ৫০ বান টিন বিতরণের জন্য তাদের কাছে তালিকা চান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। এই `চাওয়া‘ কাল হয়ে দাঁড়ায় মঞ্জুদের জন্য। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা এতে চরম ক্ষুব্ধ হন। এজন্য মঞ্জুর ওপর হামলাও হয়েছে।

মঞ্জু জানান, এখন পর্যন্ত তাদের সংগঠন থেকে অর্ধশতের মতো বাস্তুহারা মানুষকে ঘর তৈরি করে দেওয়া হয়েছে। জটিল রোগে আক্রান্ত অনেকেরই চিকিৎসা করে দেওয়া হয়েছে। আমাদের কাজে এলাকার বেশ কয়েকজন জনপ্রতিনিধি ঈর্ষান্বিত হন। 

এই তরুণ সমাজকর্মীর অভিযোগ, মানবিক কাজ করতে গেলে রাজনৈতিকভাবে বাধা আসে। রাজনৈতিকরা এগুলোকে ‘লোক দেখানো কাজ’ বলে অপবাদ দেয়। কারণ মানুষ তাদের কাছে তো তেমন কিছু পাচ্ছে না। তাই নানাভাবে চাপ সৃষ্টি করে। এসব চাপের কারণে অনেক তরুণ সমাজকর্মীও আমার সঙ্গ ত্যাগ করতে বাধ্য হয়। কিন্তু তাতেও আমি পিছপা হইনি।

তরুণদের উদ্যোগে হাতিয়া দ্বীপে নির্মিত বাস্তুহারাদের ঘর।

শাহীন ও মঞ্জুর মতো বাধা উপেক্ষা করেও কিছু তরুণ টিকে আছেন, সমাজে আলো ছড়াচ্ছেন। তারা অদম্য মনোভাব ঠিক-ই হৃদয়ের গভীরে ধরে রেখেছেন। তবে অধিকাংশ তরুণ সমাজে খুব বেশি অবদান রাখতে পারছেন না। তারা বাধাবিপত্তি-প্রতিকূলতা ডিঙাতে পারছেন না। গ্রাম্য রাজনীতি, সমাজপতি ও পারিবারিক চাপসহ নানা কারণে বাধার মুখে নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েন। অনেকেই হতাশ হয়ে সে পথ থেকে সরে আসছেন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন- সামাজিক অবক্ষয়, আত্মকেন্দ্রিক চিন্তাভাবনা, স্বার্থপরতা, রাজনীতিতে দুর্বৃত্তায়ন, পারিবারিক মনোভাব, উপার্জনের ওপর স্বীকৃতি, কল্যাণমূলক কাজে বহুমুখী বাধা, অবমূল্যায়ন, শিক্ষক ও ছাত্র অপরাজনীতি, জীবনযাত্রার ব্যয়, বেকারত্ব, হতাশা, সামাজিক বৈষম্যসহ নানা কারণে তরুণরা সামাজিক ও মানবিক কাজ থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। কেউ কেউ উগ্র রাজনীতির প্রভাব ও অসহযোগিতায় নিজেকে সমাজসেবা থেকে গুটিয়ে নিয়েছেন। এজন্য রাষ্ট্রীয় কাঠামোর পাশাপাশি পারিবারিক শিক্ষাও দায়ী।

সমাজ বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, এক সময় রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায় সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের ছড়াছড়ি ছিল। স্কুল-কলেজে পড়ুয়া ছেলেমেয়েরা পড়ালেখার ফাঁকে বিভিন্ন সামাজিক কল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় থাকতেন। এতে একে অপরের সঙ্গে সামাজিক বন্ধন দৃঢ় থাকতো। কিন্তু বর্তমানে সেসব সংগঠন ও ক্লাব আর নেই। শিশু থেকে শুরু করে অধিকাংশ যুব-যুবারা ইন্টারনেটসহ বিভিন্ন নেতিবাচক কাজে আসক্ত হচ্ছে। কেউ কেউ মাদকসহ ভয়াবহ নেশায় জড়িয়ে পড়ছে। আত্মকেন্দ্রিকতা তাদের গ্রাস করে নিয়েছে। নিজেকে নিয়েই তারা ব্যস্ত থাকতে পছন্দ করছেন বেশি।

এক সময় মেধাবীরাই রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হতেন। মেধাবীরাই সমাজে নানা ধরনের স্বেচ্ছাশ্রমের দৃষ্টান্ত সৃষ্টি করতেন। একইভাবে সমাজও তাদের এই কাজের স্বীকৃতি দিতো। খেলাধুলা, গান, কবিতা, আবৃত্তি, নাচ, সাহিত্য আড্ডা, ছাত্ররাজনীতিসহ সমাজের সর্বস্তরেই মেধাবীদের জায়গা ছিল। কিন্তু বর্তমানে সব ক্ষেত্রে চরম দৈন্যতা লক্ষণীয়। না আছে খেলার মাঠ, না আছে সাংস্কৃতিক আড্ডা। প্রগতিশীল রাজনীতিও আগের মতো শক্তিশালী নয়। যে কারণে সমাজের সব ক্ষেত্রেই জেঁকে বসেছে সুবিধাবাদ, ভোগবাদ আর আত্মকেন্দ্রিকতা। 

তরুণদের ওপর চালানো এক জনমত জরিপে দেখা গেছে, প্রচলিত রাজনীতিকে দেশের প্রায় ৬০ ভাগ তরুণরা পছন্দ করেন না। এ ক্ষেত্রে রাজনীতির ‘নগ্ন’ রূপকেই তারা দায়ী করেন। তাদের কাছে রাজনীতির সংজ্ঞাটাই হলো ক্ষমতার ভাগাভাগি আর সুবিধাবাদ কেন্দ্রিক দলীয় চর্চা। তারা প্রচলিত রাজনীতিকে দেশের জন্য সবচেয়ে ক্ষতিকর দিক বলে উত্থাপন করেন।

সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদারের মতে, দেশের রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন ও প্রতিহিংসার কারণে অনেক তরুণ তার লক্ষে পৌঁছোতে পারছে না। যার কারণে যোগ্য নেতৃত্ব হয়ে গড়ে উঠছে না। বাংলা ট্রিবিউনকে তিনি বলেন, আমরা জাতি হিসেবে লাইনচ্যুত হয়ে গেছি। যে আশা নিয়ে মুক্তিযুদ্ধ করেছিলাম, সেটা থেকে সরে দাঁড়িয়েছে দেশ। সংবিধানে গণতন্ত্র, সামাজিক সুবিচার, ধর্ম নিরপেক্ষতাসহ যে মৌলিক নীতিগুলো রয়েছে; সেখান থেকে রাষ্ট্র এখন অনেক দূরে সরে পড়েছে। স্বার্থপরতা, মানুষের অধিকার হরণ সবই হচ্ছে। দিন দিন এই অপসংস্কৃতি আরও ব্যাপক হারে ছড়াচ্ছে। সারাদেশে সিন্ডিকেট সৃষ্টি হচ্ছে। সামাজিক বন্ধন ও নেতৃত্ব সৃষ্টিতে সহায়ন পরিবেশ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এটা তরুণদের প্রধান বাধা। এ ছাড়াও যুব নেতৃত্ব সৃষ্টিতে সঠিক কর্ম পরিকল্পনা নেই।

তিনি আরও বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধে জীবন ঝুঁকি নিয়ে একটি ভিন্ন ধরণের বাংলাদেশ সৃষ্টি করার জন্যই আমরা কাজ করেছি। এখন আমরা এ থেকে অনেক দূরে। আমাদের তরুণরা আশাহত হয়ে এখন পালাতে চায়। এটা দুঃখজনক ও উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর পরিণতিও অনেক খারাপ হবে।

তার মতে, স্বার্থপর ব্যক্তিরা দেশের স্বপ্নটা ছিনতাই করে নিয়েছে। এর সুযোগটা এখন দুর্বৃত্ত ও বখাটেরা নিচ্ছে। সামাজিক সব কর্মকাণ্ড এখন তাদের দখলে চলে যাচ্ছে। তাদের আধিপত্যে যোগ্যরা কোণঠাসা হয়ে পড়ছে।

পথ শিশুদের পড়াচ্ছেন সাহীন।

যুক্তরাজ্যের সোয়ানসি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণায় দেখা গেছে, তরুণদের নিয়ে পরিচালিত একটি গবেষণায় জানা গেছে সামাজিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত না হতে পেরে অধিকাংশ যুবক ইন্টারনেটে যুক্ত হচ্ছেন। এরমধ্যে ২৫ শতাংশ শিক্ষার্থী ৪ ঘণ্টার বেশি ইন্টারনেট ব্যবহারে অভ্যস্ত ছিলেন। বাকিরা ১ থেকে ৩ ঘণ্টা ইন্টারনেট ব্যবহারে অভ্যস্ত ছিলেন। সামাজিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হতে না পেরে তারা ইন্টারনেটে আসক্ত হয়ে পড়েন। আর অতিরিক্ত ইন্টারনেটের আসক্তি পড়ুয়াদের পড়াশোনা বিমুখ করে তুলছে।

দেশের তরুণদের মাঝে যারা রাজনীতি করেন, তাদের অনেকের মধ্যেই প্রতিবাদী মানসিকতা নেই। সিনিয়রদের অন্যায়ে তারা চুপ থাকেন। সহপাঠী নির্যাতনের শিকার হলেও পাশে দাঁড়ান না। উপরন্তু অনেক ক্ষেত্রে নির্যাতকের ভূমিকা নেন। ফলে তাদের ভয়ে আতঙ্কে থাকেন অন্যরা। নেতারা তাদের দল ও ক্ষমতা ভারি করার জন্য এদেরকে আশ্রয়-প্রশ্রয় দেন। এ সুযোগে অজপাড়া গ্রামের বখাটেরাও কৌশলে রাজনৈতিক বা দলীয় নেতৃত্ব দখল করে নেন।  

/এনএইচ/

সম্পর্কিত

কর্মপরিকল্পনার অভাবে তৈরি হচ্ছে না তরুণ উদ্যোক্তা 

কর্মপরিকল্পনার অভাবে তৈরি হচ্ছে না তরুণ উদ্যোক্তা 

‘তারাও এমন লোক দেখানো কাজ করুক’

‘তারাও এমন লোক দেখানো কাজ করুক’

ঢাবি শিক্ষার্থীর উদ্যোগে শশীভূষণে প্রথম গ্রন্থাগার

ঢাবি শিক্ষার্থীর উদ্যোগে শশীভূষণে প্রথম গ্রন্থাগার

কানাডার ফ্যাশন ম্যাগাজিনে মুমুর আলোকচিত্র

কানাডার ফ্যাশন ম্যাগাজিনে মুমুর আলোকচিত্র

‘তারাও এমন লোক দেখানো কাজ করুক’

আপডেট : ০১ অক্টোবর ২০২১, ১০:০০

গতবছর লকডাউনে অটোরিকশায় খাবার নিয়ে ছুটেছেন কর্মহীন, অসহায়দের কাছে। তার এমন কাজকে অভিনন্দন জানিয়ে বিজ্ঞাপন প্রচার করেছিল একটি প্রতিষ্ঠান। এরপরই তার আরেক নাম হয়ে যায় ‘একজন বাংলাদেশ’। বলছিলাম রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বাসিন্দা নাফিসা আনজুম খানের কথা। অনেকের সহযোগিতায় সুবিধাবঞ্চিতদের জন্য দিনে দিনে হয়ে উঠেছেন ‘সুপারগার্ল’।

 

বাংলা ট্রিবিউন: শুরুটা কী করে?

নাফিসা আনজুম খান: করোনার আগে দরিদ্র শিশুদের জন্য মোহাম্মদপুরে একটি স্কুল প্রতিষ্ঠা করেছিলাম। সেখানে সপ্তাহের তিন দিন প্রায় ৮০০ শিশু পড়তো। স্বেচ্ছাসেবী শিক্ষক হিসেবে ছিলেন দেশের নামকরা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। লকডাউনের ফলে ওটা বন্ধ হয়ে যায়। সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের পরিবারের অবস্থাও তখন শোচনীয়। তাদের কথা ভেবে নিজের জমানো টাকায় শুরুতে ৫০০ শিশু শিক্ষার্থীর পরিবারের পাশে দাঁড়াই এক সপ্তাহের শুকনো খাবার নিয়ে।

ফেসবুকে বিষয়টা পোস্ট করার পর সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন বন্ধু, সহকর্মী, পরিচিত-অপরিচিত অনেকে। ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে সহমর্মীদের সংখ্যা। বেড়ে যায় আমার ব্যস্ততাও। কাজের নাম দিই ‘প্রজেক্ট ডাল-ভাত’। অবশ্য নামে ডাল-ভাত হলেও খাবারের তালিকায় থাকতো মাছ, মাংস, ডিম, দুধও। 

এরপর ফেসবুক পোস্টের সাহায্যে অনেকের সঙ্গে পরিচয় হয়। চাল, ডাল, আলু ও আরও কাঁচাবাজার পাঠিয়েছেন অনেকে। সবার সহযোগিতায় এখন পর্যন্ত খাদ্য সহায়তা দিতে পেরেছি ১৫ হাজারেরও বেশি পরিবারকে। পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন মসজিদে মাইক থেকে শুরু করে সিলিং ফ্যান, জায়নামাজ, ব্ল্যাকবোর্ড, হুইলচেয়ার, দরিদ্র নারীদের জন্য সেলাই মেশিনও বিতরণ করেছি।

গত শনিবার আমরা কয়েকজন সাতক্ষীরার প্রবীণ আবাসন কেন্দ্রে (বৃদ্ধাশ্রম) গিয়েছিলাম। সেখানে অনেক বাবা-মায়ের মুখে হাসি ফোটাতে পেরেছি আমরা। তাদের জন্য খাবার, নতুন কাপড় আর কিছু আসবাবপত্র নিয়ে গিয়েছিলাম।

 

বাংলা ট্রিবিউন: সামাজিক কাজে যুক্ত হবার পর জীবন কতটা বদলে গেলো?

নাফিসা আনজুম খান: গত দুটো ঈদ কেটেছে বাইরে- মানুষের কাছে উপহার পৌঁছে দিয়ে। গত কোরবানির ঈদেও আমরা অনেকে মিলে মাংস সংগ্রহ করেছি সারাদিন। সেগুলো রান্না করে দরিদ্রদের খাইয়েছি আমি ও আমার স্বেচ্ছাসেবক দল। এসব কাজ দারুণ পরিশ্রমের। তবে এর চেয়ে আনন্দটাই বেশি। খাওয়ার পর ওদের তৃপ্তি ভরা মুখ দেখতে পারাটাই আমাদের বড় পাওয়া।

শুরুতে একটি সিএনজি নিয়েই ছুটতেন দরিদ্রদের দ্বারে দ্বারে

বাংলা ট্রিবিউন: এখন কী পেশায় আছেন? পেশা ও সামাজিক কাজ একসঙ্গে চালাচ্ছেন কী করে?

নাফিসা আনজুম খান: ২০১৮ সালে ইউনিভার্সিটি অফ লিবারেল আর্টস বাংলাদেশ (ইউল্যাব) থেকে সাংবাদিকতায় মাস্টার্স করার পর এখন একটি বহুজাতিক কোম্পানির ব্র্যান্ডিং প্রধান হিসেবে কাজ করছি। সামাজিক কাজকর্ম চালানোর জন্য আমি আমার কলিগ ও অফিসের পরিচালকের কাছে কৃতজ্ঞ। তাদের সহযোগিতাতেই এ কাজ চালিয়ে যেতে পারছি।

তাছাড়া পরিবারও প্রথম থেকে আমাকে সাহস যুগিয়ে আসছে। আশেপাশের অসংখ্য মানুষ সাপোর্ট করেছেন, পাশে থেকেছেন। তাদের প্রচুর সাড়া পেয়েছি । মানুষের সাড়া না পেলে আমি সফল হতে পারতাম না। সবার প্রতি কৃতজ্ঞ।

দরিদ্র নারীদের সাবলম্বী হতে দিয়েছেন সেলাই মেশিন

বাংলা ট্রিবিউন: কোনও সমস্যায় পড়েছেন?

নাফিসা আনজুম খান: সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিব্রতকর ও আক্রোষের শিকার হচ্ছি প্রতিনিয়ত। তবে এসবের বিরুদ্ধেও বলে যাচ্ছি। অনেকে বলে আমি লোক দেখানো কাজ করছি। আমি চাইবো তারাও এমন লোক দেখানো কাজ করুক। এতে আর যাই হোক কিছু মানুষের উপকার হবে।

অসহায়দের পাশে থেকে বেশ ভালো সময় কাটে নাফিসার

বাংলা ট্রিবিউন: ভবিষ্য পরিকল্পনা কী?

নাফিসা আনজুম খান: সুদূরপ্রসারী কোনও চিন্তা নেই। কাজ চালিয়ে যাওয়ার ইচ্ছে আছে। ভবিষ্যৎ কার্যক্রম নির্ভর করবে পারিপার্শ্বিক অবস্থার ওপর। খাবারের সংকটে থাকা মানুষের পাশে থাকার যথাসাধ্য চেষ্টা করছি। তবে প্রত্যেকে যদি নিজেদের জায়গা থেকে সাধ্যমতো এগিয়ে আসে তবে আর কাউকে সমস্যায় পড়তে হবে না।

 

 

/এফএ/

ঢাবি শিক্ষার্থীর উদ্যোগে শশীভূষণে প্রথম গ্রন্থাগার

আপডেট : ২৭ আগস্ট ২০২১, ১১:১১

দ্বীপজেলা ভোলার থানা শশীভূষণ; প্রায় এক লাখ মানুষের এই জনপদটি আর্থসামাজিক উন্নয়নে এখনও অনেকটাই পিছিয়ে। এলাকার উন্নয়নে শিক্ষার গুরুত্ব অনুধাবন করে একটি গ্রন্থাগার স্থাপন করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সোহানুর রহমান। বন্ধুদের সঙ্গে নিয়ে স্থানীয়দের সহযোগিতায় সোহানের গড়া এই গ্রন্থাগারটিতে রয়েছে সাহিত্য, মুক্তিযুদ্ধ ও অনুবাদ সাহিত্যসহ বিভিন্ন ক্যাটাগরির ২৫০টিরও অধিক বই আছে।

শশীভূষণে বেড়ে ওঠা সোহান বলেন, ‘শিক্ষা, সামাজিক ও অর্থনৈতিক- প্রায় সকল ক্ষেত্রে পিছিয়ে রয়েছে আমাদের শশীভূষণ। এখানকার ছেলেমেয়েরা পড়ালেখার ক্ষেত্রে অনেক বাধা মোকাবিলা করতে হয়। বিশেষ করে মেধাবীরা পর্যাপ্ত পরিচর্যার অভাবে হারিয়ে যাচ্ছে। যার ফলে এখানকার শিক্ষার্থীরা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে না। 

বর্তমানে তরুণ-তরুণীরা বইপড়া থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে। তারা মোবাইলে আসক্ত হয়ে পড়ছেন কিংবা জড়িয়ে পড়ছে নানা অপকর্মে, হারিয়ে যাচ্ছে মাদকের অন্ধকার জগতে। ঢাবির লোকপ্রশাসন বিভাগে অধ্যায়নরত সোহানের ভাষ্য, করোনার এই সময়ে এই অবস্থা এখন আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। তাই শিক্ষার্থীদের বইয়ের প্রতি ফিরিয়ে আনতে একটি লাইব্রেরির চিন্তা মাথায় আসে, যা এর আগে এখানে কখনোই ছিল না।

লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠার প্রচারণা ও তহবিল সংগ্রহ সম্পর্কে সোহান বলেন, শুরুতে আমরা বিভিন্নভাবে যে তহবিল সংগ্রহ করেছিলাম সেটা দিয়ে ঘর ভাড়া নিই এবং তিনটি বইয়ের তাক ও তিনটি চেয়ার স্থাপন করি। নিজেদের বাসা থেকেও কিছু ফার্নিচার এনে লাইব্রেরি সাজিয়েছি। সমাজের বিত্তবানদের দ্বারস্থ হয়েছি,কারও পুরাতন বই থাকলে তা সংগ্রহ করেছি। এভাবেই পাঁচ থেকে ছয়জনের বসার পরিবেশ তৈরি করে ‘এসো সবাই বই পড়ি, সুন্দর এক সমাজ গড়ি’ স্লোগানে যাত্রা শুরু করে ‘শশীভূষণ গ্রন্থাগার’।

নিজ উদ্যোগে গড়া গ্রন্থাগারে ঢাবি শিক্ষার্থী সোহান

সোহানের সহযোদ্ধা খুলনা প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আমিনুল ইসলাম নাঈম লাইব্রেরির বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে বলেন,"আমাদের লাইব্রেরিতে আর্থিক সংকট রয়েছে। পর্যাপ্ত আসবাবপত্র ও লাইব্রেরিয়ান নেই। তারপরও আমরা স্বেচ্ছাসেবকরা মাসিক চাঁদা দিয়ে ঘরভাড়া এবং যাবতীয় খরচ চালিয়ে নিচ্ছি। গ্রন্থাগারটি আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মাঝে বই পড়ার মানসিকতা জাগিয়ে তুলতে সহায়ক হবে। ফলে তাদের শিক্ষাগ্রহণ হবে মানসম্মত ও আনন্দপূর্ণ। সুস্থ মস্কিষ্কের ধারার বিকাশ ঘটবে।’

সোহানদের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে স্থানীয় রসুলপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘গ্রন্থাগারটি আমাদের এলাকায় একটি প্রশংসনীয় উদ্যোগ। এর ফলে শিক্ষার্থীরা পড়ালেখার প্রতি আগ্রহী হবে। আমি সর্বদা এই গ্রন্থাগারের যে কোনও প্রয়োজনে পাশে আছি।’

/ইউএস/

সম্পর্কিত

কর্মপরিকল্পনার অভাবে তৈরি হচ্ছে না তরুণ উদ্যোক্তা 

কর্মপরিকল্পনার অভাবে তৈরি হচ্ছে না তরুণ উদ্যোক্তা 

সামাজিক কর্মকাণ্ড ও নেতৃত্বে আগ্রহ হারাচ্ছে তরুণরা

সামাজিক কর্মকাণ্ড ও নেতৃত্বে আগ্রহ হারাচ্ছে তরুণরা

‘তারাও এমন লোক দেখানো কাজ করুক’

‘তারাও এমন লোক দেখানো কাজ করুক’

কানাডার ফ্যাশন ম্যাগাজিনে মুমুর আলোকচিত্র

কানাডার ফ্যাশন ম্যাগাজিনে মুমুর আলোকচিত্র

কানাডার ফ্যাশন ম্যাগাজিনে মুমুর আলোকচিত্র

আপডেট : ১৯ আগস্ট ২০২১, ১৯:২২

কানাডার ফ্যাশন ম্যাগাজিন ‘ইসাবেলা’র স্পেশাল ফিচারের জন্য নির্বাচিত হয়েছে বাংলাদেশের নবীন আলোকচিত্রী জে মুমুর আলোকচিত্র। আজ বৃহস্পতিবার (১৯ আগস্ট) বিশ্ব আলোকচিত্র দিবসে নিজের ফেসবুক প্রোফাইলে দেওয়া পোস্টে এই সংবাদ জানান তিনি।

তরুণ আলোকচিত্রীদের উৎসাহিত করতে এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করে কানাডার ফ্যাশন ম্যাগাজিন ইসাবেলা। বিশ্বের ১৫৩ন আলোকচিত্রী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন এতে। সেখান থেকে স্পেশাল ফিচার বিভাগে নির্বাচিত ১০টি আলোকচিত্রের মধ্যে জায়গা করে নিয়েছে জে মুমুর ‘শতবর্ষী আনন্দ’।

মুমুর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ছবিটি তিনি তার মোবাইলে তুলেছিলেন। শখের বশে তোলা ছবিই এখন তাকে এনে দিলো বিশ্বজোড়া স্বীকৃতি। জাপানে অনুষ্ঠিত থার্ড মেহুডো ইন্টারন্যাশনাল ইয়ুথ ভিজুয়্যাল মিডিয়া ফেস্টিভ্যালের ফটোগ্রাফি বিভাগে সিলভার অ্যাওয়ার্ড জিতেছে আলোকচিত্রটি। সম্প্রতি পুরস্কারের আর্থিক মূল্য দুই লক্ষ জাপানি ইয়েন (প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা) তার অ্যাকাউন্টে জমা হয়েছে।

জে মুমু

একই ছবি মনোনীত হয়েছে কানাডার ইসাবেলা ম্যাগাজিনের স্পেশাল ফিচারের জন্যও। মুমুর ‘শতবর্ষী আনন্দ’ ইতোপূর্বে যুক্তরাষ্ট্র ও রোমানিয়ার দুটি উৎসবের প্রতিযোগিতাতেও মনোনীত হয়েছিল।

তরুণ আলোকচিত্রী মুমু চলতি বছর বগুড়া সরকারি আজিজুল হক কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করেছেন। এখন বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

 

 

/এফএ/

সম্পর্কিত

কর্মপরিকল্পনার অভাবে তৈরি হচ্ছে না তরুণ উদ্যোক্তা 

কর্মপরিকল্পনার অভাবে তৈরি হচ্ছে না তরুণ উদ্যোক্তা 

সামাজিক কর্মকাণ্ড ও নেতৃত্বে আগ্রহ হারাচ্ছে তরুণরা

সামাজিক কর্মকাণ্ড ও নেতৃত্বে আগ্রহ হারাচ্ছে তরুণরা

‘তারাও এমন লোক দেখানো কাজ করুক’

‘তারাও এমন লোক দেখানো কাজ করুক’

ঢাবি শিক্ষার্থীর উদ্যোগে শশীভূষণে প্রথম গ্রন্থাগার

ঢাবি শিক্ষার্থীর উদ্যোগে শশীভূষণে প্রথম গ্রন্থাগার

সর্বশেষসর্বাধিক
quiz

লাইভ

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

কর্মপরিকল্পনার অভাবে তৈরি হচ্ছে না তরুণ উদ্যোক্তা 

কর্মপরিকল্পনার অভাবে তৈরি হচ্ছে না তরুণ উদ্যোক্তা 

সামাজিক কর্মকাণ্ড ও নেতৃত্বে আগ্রহ হারাচ্ছে তরুণরা

সামাজিক কর্মকাণ্ড ও নেতৃত্বে আগ্রহ হারাচ্ছে তরুণরা

‘তারাও এমন লোক দেখানো কাজ করুক’

‘তারাও এমন লোক দেখানো কাজ করুক’

ঢাবি শিক্ষার্থীর উদ্যোগে শশীভূষণে প্রথম গ্রন্থাগার

ঢাবি শিক্ষার্থীর উদ্যোগে শশীভূষণে প্রথম গ্রন্থাগার

কানাডার ফ্যাশন ম্যাগাজিনে মুমুর আলোকচিত্র

কানাডার ফ্যাশন ম্যাগাজিনে মুমুর আলোকচিত্র

‘দেশসেরা সবজান্তা’ কে, জানা যাবে ১৯ আগস্ট

‘দেশসেরা সবজান্তা’ কে, জানা যাবে ১৯ আগস্ট

ছায়া সংসদে তারা জানালেন সমস্যা, দেখালেন সমাধানও

ছায়া সংসদে তারা জানালেন সমস্যা, দেখালেন সমাধানও

কোরবানির মাংস সংগ্রহ করেন প্রকৌশলী রিমন, কিন্তু কেন?

কোরবানির মাংস সংগ্রহ করেন প্রকৌশলী রিমন, কিন্তু কেন?

বর্ষসেরা নারী শিক্ষার্থী প্রকৌশলী পুরস্কার পেলেন বাংলাদেশের সাদিয়া

বর্ষসেরা নারী শিক্ষার্থী প্রকৌশলী পুরস্কার পেলেন বাংলাদেশের সাদিয়া

আজমের গল্পটা যেন ছবির মতো

যুক্তরাষ্ট্রে শতভাগ স্কলারশিপে পিএইচডির সুযোগআজমের গল্পটা যেন ছবির মতো

সর্বশেষ

রাজনৈতিক কর্মসূচির জন্য কারও অনুমতি নেবেন না নুর

রাজনৈতিক কর্মসূচির জন্য কারও অনুমতি নেবেন না নুর

সুদানে ৭০০ মিলিয়ন ডলারের সহায়তা স্থগিত যুক্তরাষ্ট্রের

সুদানে ৭০০ মিলিয়ন ডলারের সহায়তা স্থগিত যুক্তরাষ্ট্রের

সম্প্রীতি বিনষ্টের চেষ্টা সরকারের পরিকল্পিত, অভিযোগ বিএনপির

সম্প্রীতি বিনষ্টের চেষ্টা সরকারের পরিকল্পিত, অভিযোগ বিএনপির

খালেদা জিয়া আবারও প্রধানমন্ত্রী হবেন: ইকবাল হাসান মাহমুদ

খালেদা জিয়া আবারও প্রধানমন্ত্রী হবেন: ইকবাল হাসান মাহমুদ

‘নগদ-ডিআরইউ’ বেস্ট রিপোর্টিং অ্যাওয়ার্ড পেলেন বাংলা ট্রিবিউনের শাহেদ শফিকসহ ২২ জন

‘নগদ-ডিআরইউ’ বেস্ট রিপোর্টিং অ্যাওয়ার্ড পেলেন বাংলা ট্রিবিউনের শাহেদ শফিকসহ ২২ জন

© 2021 Bangla Tribune