X
শুক্রবার, ২২ অক্টোবর ২০২১, ৬ কার্তিক ১৪২৮

সেকশনস

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সংসদে বঙ্গবন্ধুর শেষ ভাষণ

আপডেট : ১৫ আগস্ট ২০২১, ১৮:০০

১৯৭৫ সালের জানুয়ারিতে বঙ্গবন্ধু প্রধানমন্ত্রিত্ব ছেড়ে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ২৫ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শেষ সংসদীয় ভাষণ দেন বঙ্গবন্ধু। সেদিন আবারও শোষিতের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আকাঙ্ক্ষার কথা বলেন তিনি। আত্মসমালোচনা প্রয়োজন বলে আবারও জানান তিনি।

শাহরিয়ার ইকবাল ‘বঙ্গবন্ধুর জীবনের শেষ বছরের দৈনন্দিন কর্মতালিকা ও কতিপয় দলিল’ বইতে বক্তৃতার প্রধান অংশ প্রকাশ করেন। ১৯৭৫ সালের বাংলাদেশ টাইমস ও ইত্তেফাক পত্রিকায় প্রকাশিত ভাষণের পূর্ণ বিবরণ থেকে বোঝা যায় কী তোলপাড় চলছে বঙ্গবন্ধুর মনে।

ভাষণে বঙ্গবন্ধু বলেন, “আমি একদিন বলেছি এই হাউসে, স্পিকার সাহেব, আমরা শোষিতের গণতন্ত্র চাই। যারা রাতের অন্ধকারে পয়সা লুট করে, যারা অর্থশালী লোক, যারা বিদেশিদের ভোট কেনার জন্য পয়সা দেয়, তাদের গণতন্ত্র শোষিতের গণতন্ত্র। এটা আজকের কথা নয়, বহুদিনের কথা এবং সেজন্য আজকে আমাদের শাসনের পরিবর্তন করতে হয়েছে।

বারবার বলেছি আজকে আমাদের আত্মসমালোচনা প্রয়োজন। আত্মসংযমের প্রয়োজন। আমাদের আত্মশুদ্ধির প্রয়োজন। তা না হলে দেশকে ভালোবাসা যাবে না। দেশের জন্য কাজ করা যাবে না এবং দেশের উন্নতি করা যাবে না।

বাংলাদেশ টাইমস, ২৬ জানুয়ারি ১৯৭৫ বিশৃঙ্খল জাতি কোনোদিন বড় হতে পারে না। উচ্ছৃঙ্খল হয়ে গিয়েছিলাম আমরা- ফ্রিস্টাইল! এটা হবে না, ওটা হবে না । আজ যাকে অ্যারেস্ট করবো বলবে অমুক পার্টির লোক। ওকে এরেস্ট করবো, সে অমুক পার্টির লোক। খবরের কাগজে বিবৃতি যে, একদিনে হঠাৎ এক শ’ টাকার জিনিস দুইশ’ টাকা হলো। অমনি খবর ছাপা হয়ে গেলো সারা বাংলাদেশে তা ২শ’ টাকা হয়ে গেছে। যেখানে সমস্ত কিছুর অভাব, যখন কিনা দুনিয়া থেকে সমস্ত কিছু আনতে হয়।

যারা জীবনভর সংগ্রাম করছে এ কথা যেন মনে না করে যে জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নিয়ে গেছে। নো! জনগণ যা চেয়েছে এখানে সেই সিস্টেম করা হয়েছে। পার্লামেন্টের মেম্বাররা জনগণের ভোটে নির্বাচিত হবেন। যিনি প্রেসিডেন্ট হবেন তাকে জনগণের ভোটে নির্বাচিত হতে হবে। জনগণের ভোটাধিকার আছে।

মনে আছে, আমি সহকর্মীদের বারবার বলছিলাম- আমার কাজ করেছি, তোমরা এবার আমাকে ছুটি দাও। জনগণের কাছে বলেছি আমাকে ছুটি দাও। আমি ৩৫ বছর আগে ১৯৩৮ সালে যখন বাচ্চা মানুষ তখন জেলে যাই। তারপর থেকে একদিনও বিশ্রাম করি নাই। আমি রাজনীতি করেছি অত্যাচার-অবিচার আমি যে সহ্য করেছি তার সব বাদ দিলাম। অনেক লোক মারা গেছে। আমার চেয়ে অনেক মানুষ বেশি ত্যাগ করেছে। এ দেশে আমি সংগ্রাম করেছি আমার সহকর্মীদের নিয়ে। কিন্তু এখন একটা খেলা পেয়ে গেছে। বাজার নিয়ে খেলা, দাম নিয়ে খেলা।

২৬ জানুয়ারি ১৯৭৫, ইত্তেফাক আমি সকলের কাছে আবেদন করবো, দেশবাসীর কাছে আবেদন করবো আজ আপনারা কনস্টিটিউশন সংশোধন করে আমাকে প্রেসিডেন্ট করে দিয়েছেন। আমার তো ক্ষমতা কম ছিল না। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সমস্ত ক্ষমতা আপনারা আমাকে দিয়েছিলেন। আমার দুই তৃতীয়াংশ মেজরিটি দরকার, তা আমার আছে। মাত্র সাতজন ছাড়া সমস্ত সদস্যই আমার। আপনারা অ্যামেডমেন্ট করে আমাকে প্রেসিডেন্ট করেছেন। এই সিটে আমি আর বসবো না। এটা কম দুঃখ না আমার। আপনাদের সঙ্গে এই হাউজের মধ্যে থাকবো না, এটা কম দুঃখ না আমার।

স্পিকার সাহেব, বড় দুঃখ। এই হাউসের আমি লিডার ছিলাম। এ পার্টির আমি লিডার ছিলাম। এতদিন আমি এই সিটে বসতাম। আমার সহকর্মীরা আজ আমার মেম্বারশিপ কেড়ে নিয়েছেন। আমি আর মেম্বার থাকতে পারবো না। আমাকে প্রেসিডেন্ট করে দিয়েছেন এবং আজকের নতুন সিস্টেমে গভর্নমেন্ট ফর্ম হতে যাচ্ছে। সিস্টেম পরিবর্তন করেই আমরা সফল হতে পারবো না, যদি আপনারা চেষ্টা না করেন।

তবু আজ আমূল পরিবর্তন করেছি সংবিধানকে। কারণ একটা সুষ্ঠু শাসন ব্যবস্থা এ দেশে কায়েম করতে হবে। যেখানে মানুষ শান্তিতে ঘুমাতে পারে। যেখানে মানুষ অত্যাচার-অবিচার থেকে বাঁচতে পারে। আজ আমি বলতে চাই দিস ইজ আওয়ার সেকেন্ড রেভ্যুলেশন। আমাদের রেভ্যুলেশন হবে দুঃখি মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর জন্য। এর অর্থ অত্যাচার-অবিচার নির্যাতন বন্ধ করতে হবে।”

ভাষণে বঙ্গবন্ধু আরও বলেন, ‘আজ শুধু আমরা বলি আমরা কী পেলাম? তোমরা কী পেয়েছো? তোমরা পেয়েছো শিক্ষার আলো। যে শিক্ষা এসেছে বাংলার জনগণের টাকায়। তুমি কী ফেরত দিয়েছো বাংলার দুঃখি মানুষকে? যে দুঃখি মানুষ না খেয়ে মরে যায়, যে মানুষের কাপড় নাই, যে মানুষ বন্ধু খুঁজে পায় না, যার বস্ত্র নাই- আজকে তুমি কী দিয়েছো এ প্রশ্ন জেগে উঠেছে। আজকে ক’দিন পর্যন্ত বারবার বলেছি, আজকে এ বাংলার মাটি থেকে করাপশন উৎখাত করতে হবে। আমার বাংলার কৃষক করাপশন করে না, আমার মজদুর করাপশন করতে জানে না। করাপশন করি আমরা শিক্ষিত সমাজ।”

/এফএ/

সম্পর্কিত

বঙ্গবন্ধুর উপস্থিতিতে জয়বাংলা ধ্বনিতে মুখর জাপান

বঙ্গবন্ধুর উপস্থিতিতে জয়বাংলা ধ্বনিতে মুখর জাপান

বঙ্গবন্ধুর সফরে জাপানের বাড়িয়ে দেওয়া হাত

বঙ্গবন্ধুর সফরে জাপানের বাড়িয়ে দেওয়া হাত

বাঙালিদের শুভেচ্ছা নিয়ে জাপানে রওয়ানা দেন বঙ্গবন্ধু

বাঙালিদের শুভেচ্ছা নিয়ে জাপানে রওয়ানা দেন বঙ্গবন্ধু

বঙ্গবন্ধু আরবদের সম্ভাব্য সব সাহায্য দিতে আবারও প্রতিশ্রুতি দিলেন

বঙ্গবন্ধু আরবদের সম্ভাব্য সব সাহায্য দিতে আবারও প্রতিশ্রুতি দিলেন

৩১ জেলায় শনাক্ত হয়নি কেউ

আপডেট : ২২ অক্টোবর ২০২১, ১৮:৫৪

গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় নতুন করে শনাক্ত হয়েছেন ২৩২ জন। এর আগে গত বছরের ১৫ এপ্রিল এর চেয়ে কম ২১৯ জন শনাক্ত হওয়ার কথা জানিয়েছিল অধিদফতর।

শুক্রবার (২২ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদফতর জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় দেশের ৬৪ জেলার মধ্যে দুই বা ততোধিক অঙ্কে রোগী শনাক্ত হয়েছেন তিন জেলায়। এর মধ্যে মহানগরসহ ঢাকা জেলায় শনাক্ত হয়েছেন ১২১ জন, গাজীপুরে ১০ জন এবং রাজশাহীতে ১৩ জন। এক অঙ্কে রোগী শনাক্ত হয়েছেন ৩০ জেলায় এবং ৩১ জেলায় নতুন করে কেউ শনাক্ত হয়নি।

এক অঙ্কের রোগী শনাক্ত হয়েছে ঢাকা বিভাগের ফরিদপুর, গোপালগঞ্জ, মাদারীপুর, মানিকগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, নরসিংদী, শরীয়তপুর ও টাঙ্গাইল; ময়মনসিংহ বিভাগের ময়মনসিংহ, জামালপুর ও শেরপুর; চট্টগ্রাম বিভাগের চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙামটি, ফেনী, নোয়াখালী, চাঁদপুর ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া; রাজশাহী বিভাগের নাটোর, পাবনা ও জয়পুরহাট; রংপুর বিভাগের রংপুর জেলা; খুলনা বিভাগের যশোর, ঝিনাইদহ, খুলনা ও সাতক্ষীরা; বরিশাল বিভাগের বরিশাল জেলা এবং সিলেট বিভাগের সিলেট ও মৌলভীবাজার জেলায়।

আর ঢাকা বিভাগের কিশোরগঞ্জ ও রাজবাড়ী; ময়মনসিংহ বিভাগের নেত্রকোনা; চট্টগ্রাম বিভাগের বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, লক্ষ্মীপুর ও কুমিল্লা; রাজশাহী বিভাগের চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ, সিরাজগঞ্জ ও বগুড়া; রংপুর বিভাগের পঞ্চগড়, নীলফামারী, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, ঠাকুরগাঁও, দিনাজপুর ও গাইবান্ধা; খুলনা বিভাগের বাগেরহাট, চুয়াডাঙ্গা, কুষ্টিয়া, মাগুরা, মেহেরপুর ও নড়াইল; বরিশাল বিভাগের পটুয়াখালী, ভোলা, পিরোজপুর, বরগুনা ও ঝালকাঠি এবং সিলেট বিভাগের সুনামগঞ্জ ও হবিগঞ্জে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে করোনায় কেউ শনাক্ত হয়নি।

 

/জেএ/আইএ/

সম্পর্কিত

২৪ ঘণ্টায় চার মৃত্যু, ১৭ মাসে সর্বনিম্ন

২৪ ঘণ্টায় চার মৃত্যু, ১৭ মাসে সর্বনিম্ন

৫৮ জেলায় করোনায় মৃত্যু নেই

৫৮ জেলায় করোনায় মৃত্যু নেই

একমাস ধরে করোনা পরিস্থিতি স্বস্তিদায়ক

একমাস ধরে করোনা পরিস্থিতি স্বস্তিদায়ক

দ্বিতীয় দিনের মতো আজও শনাক্তের হার ২-এর নিচে

দ্বিতীয় দিনের মতো আজও শনাক্তের হার ২-এর নিচে

২৪ ঘণ্টায় চার মৃত্যু, ১৭ মাসে সর্বনিম্ন

আপডেট : ২২ অক্টোবর ২০২১, ১৮:২৭

সংক্রমণের নিম্নগতির মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় নতুন রোগী শনাক্ত, শনাক্তের হার এবং মৃত্যু সবই আরও কমে এসেছে। সেই সঙ্গে দৈনিক মৃত্যু নেমে এসেছে পাঁচের নিচে। আর গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন চার জন। এর আগে গত বছরের ৬ মে করোনা আক্রান্ত হয়ে এর চেয়ে কম তিন জনের মৃত্যুর কথা জানিয়েছিল স্বাস্থ্য অধিদফতর।

গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে করোনা শনাক্ত হয়েছেন ২৩২ জন। এর আগে গত বছরের ১৫ এপ্রিল এর চেয়ে কম ২১৯ জন শনাক্ত হওয়ার কথা জানিয়েছিল অধিদফতর।

শুক্রবার (২২ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদফতর আরও জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় শনাক্ত হওয়া ২৩২ জনকে নিয়ে দেশে এখন পর্যন্ত সরকারি হিসাবে শনাক্ত হলেন ১৫ লাখ ৬৭ হাজার ১৩৯ জন এবং আজকের চার জনকে নিয়ে মোট মারা গেলেন ২৭ হাজার ৮০৫ জন।

করোনা থেকে গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন ৫৬৪ জন। তাদের নিয়ে দেশে মোট সুস্থ হলেন ১৫ লাখ ৩০ হাজার ৬৪৭ জন। 

গত ২৪ ঘণ্টায় রোগী শনাক্তের হার এক দশমিক ৩৬ শতাংশ, আর এখন পর্যন্ত শনাক্তের হার ১৫ দশমিক ৩৮ শতাংশ। ২৪ ঘণ্টায় শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ৯৭ দশমিক ৬৭ শতাংশ এবং মৃত্যুর হার এক দশমিক ৭৭ শতাংশ। 

স্বাস্থ্য অধিদফতর জানাচ্ছে, গত ২৪ ঘণ্টায় করোনার নমুনা সংগৃহীত হয়েছে ১৭ হাজার ১০৫টি এবং পরীক্ষা করা হয়েছে ১৭ হাজার ১০০টি। দেশে এখন পর্যন্ত করোনার নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে এক কোটি এক লাখ ৮৮ হাজার ৬২৩টি। এরমধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় পরীক্ষা করা হয়েছে ৭৪ লাখ ৩৯ হাজার ৯২২টি এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ২৭ লাখ ৪৮ হাজার ৭০১টি।

২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া চার জনের মধ্যে পুরুষ দুই জন এবং নারী দুই জন। দেশে এখন পর্যন্ত করোনা আক্রান্ত হয়ে মোট পুরুষ মারা গেলেন ১৭ হাজার ৮০৮ জন এবং নারী ৯ হাজার ৯৯৭ জন।

২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়াদের বয়স বিবেচনায় ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে রয়েছেন তিন জন এবং ৭১ থেকে ৮০ বছরের মধ্যে রয়েছেন একজন।

অধিদফতর জানাচ্ছে, মারা যাওয়া চার জনের মধ্যে ঢাকা বিভাগের দুই জন এবং চট্টগ্রাম ও বরিশাল বিভাগের রয়েছেন একজন করে। চার জনই সরকারি হাসপাতালে মারা গেছেন। 

 

/জেএ/আইএ/এমওএফ/

সম্পর্কিত

৩১ জেলায় শনাক্ত হয়নি কেউ

৩১ জেলায় শনাক্ত হয়নি কেউ

সড়কে দুর্ঘটনা বাড়ছেই

সড়কে দুর্ঘটনা বাড়ছেই

সফরকালে জাপানি গণমাধ্যমে বঙ্গবন্ধুর প্রশংসা

সফরকালে জাপানি গণমাধ্যমে বঙ্গবন্ধুর প্রশংসা

ধর্মীয় সম্প্রীতি নিয়ে নেতিবাচক প্রচারণা মোকাবিলার নির্দেশ

ধর্মীয় সম্প্রীতি নিয়ে নেতিবাচক প্রচারণা মোকাবিলার নির্দেশ

সড়কে শৃঙ্খলার বড় সংকট রয়েছে: ওবায়দুল কাদের

আপডেট : ২২ অক্টোবর ২০২১, ১৯:০৬

পরিবহন ও সড়কে শৃঙ্খলার বড় সংকট রয়েছে উল্লেখ করে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, এখন মূল সংকট শৃঙ্খলার। এখানে যদি আমরা ব্যর্থ হই তবে আমাদের সব উন্নয়ন ব্যর্থ হয়ে যাবে।

শুক্রবার (২২ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল এলাকায় সড়ক ভবন অডিটোরিয়ামে জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস-২০২১ উপলক্ষে আয়োজিত ‘গতিসীমা মেনে চলি, সড়ক দুর্ঘটনা রোধ করি’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের উদ্যোগে এই আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সড়কে শৃঙ্খলা আনাই আমাদের চ্যালেঞ্জ উল্লেখ করে কাদের বলেন, দেশে এত রাস্তা, ফ্লাইওভার, আন্ডারপাস, সীমান্ত সড়ক, মেরিন ড্রাইভ নির্মাণ হচ্ছে। তারপরও আমরা কেন সড়কে শৃঙ্খলা আনতে পারবো না।

ওবায়দুল কাদের বলেন, বিআরটিএ’র ড্রাইভিং লাইসেন্স দীর্ঘদিন ধরে আটকে রয়েছে। হাজার হাজার আবেদন, লাইসেন্স দেওয়া শুরু হয়েছে। আমি বলবো, ছুটির দিনে কাজ করে হলেও আটকে থাকা লাইসেন্সগুলো দিয়ে দিতে হবে। এখন লাইসেন্সের অনেক ডিমান্ড। এ জন্য আবেদনকারীরা হাহাকার করছে। এখন জট খুলেছে এটাই আশার বিষয়। আগামীতে আর কোনও জট যাতে না হয় সেটি আমার চাওয়া।

বিআরটিএ’র অনিয়ম ও দুর্নীতি প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, এখানে যারা অপকর্ম ও দুর্নীতি করে তাদের নিয়মের মধ্যে নিয়ে আসতে হবে। যারা সেখানে যাওয়ার জন্য তদবির করে তারা তো কোনও কিছুর বিনিময়ে তদবির করেন। কারণ, সেখানে কিছু লেনদেন আছে। যারা এসব তদবির করে তাকে দায়ী না করে যার জন্য তদবির করে আমি তাকে দায়ী করবো। এগুলো বন্ধ করতে হবে। আমি যতদিন এই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে আছি ততদিন কোনও অনিয়ম ও দুর্নীতি মেনে নেবো না।

তিনি বলেন, কখনও দুই পরিবহনের সংঘর্ষে, কখনও তিন চাকার গাড়ি ইজিবাইক, নসিমন-করিমন দুর্ঘটনায় লোকজন প্রাণ হারায়। এর জন্য আমরা ২২টি সড়কে এগুলো নিষিদ্ধ করেছি। কিন্তু অনেক জায়গায় এই নিষেধাজ্ঞা মানা হচ্ছে না। আর ইদানীং নতুন উপদ্রব হচ্ছে মোটরসাইকেল। মোটরসাইকেল কোনও নিয়ম মানে না। প্রতিদিন সড়কে যে দুর্ঘটনা হয়, বেশিরভাগই মোটরসাইকেল। দুই জন তিন জন চড়ে, হেলমেট নেই।

তিনি বলেন, পুলিশ দেখায় কত মামলা হয়েছে, কত জরিমানা করেছে। এগুলো আমার কাছে কোনও বিষয় না। আমার কাছে বিষয় হচ্ছে সড়ক নিরাপদ আছে কিনা, সড়কে দুর্ঘটনা কমেছে কিনা। গাড়ির ফিটনেস আছে কিনা। চালকের ফিটনেস আছে কিনা।

তিনি বলেন, প্রতিদিনই দুর্ঘটনা ঘটছে, পাখির মতো মানুষ মরছে। এই মর্মান্তিক দৃশ্যগুলো আমি সইতে পারি না।

সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব মো. নজরুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ হাইওয়ে পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক মল্লিক ফখরুল ইসলাম, নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) আন্দোলনের চেয়ারম্যান চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন, বিআরটিএ চেয়ারম্যান নুর মোহাম্মদ মজুমদার।

/ইএইচএস/এমআর/এমওএফ/

সম্পর্কিত

৩৭ সেতু উদ্বোধন করলেন সেতুমন্ত্রী

৩৭ সেতু উদ্বোধন করলেন সেতুমন্ত্রী

কুমিল্লার ঘটনা সাম্প্রদায়িক অপশক্তির কাজ: ওবায়দুল কাদের

কুমিল্লার ঘটনা সাম্প্রদায়িক অপশক্তির কাজ: ওবায়দুল কাদের

‘২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে আমিনবাজার সেতুর কাজ শেষ হবে’

‘২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে আমিনবাজার সেতুর কাজ শেষ হবে’

দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া রুটে টানেল নির্মাণের চিন্তা আছে: ওবায়দুল কাদের

দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া রুটে টানেল নির্মাণের চিন্তা আছে: ওবায়দুল কাদের

'মেরিন ফিশারিজ একাডেমির ক্যাডেটদের দেশের অ্যাম্বাসেডর হতে হবে'

আপডেট : ২২ অক্টোবর ২০২১, ১৬:২১

মেরিন ফিশারিজ একাডেমির ক্যাডেটদের বাংলাদেশের অ্যাম্বাসেডর হিসেবে তৈরি হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম।

শুক্রবার (২২ অক্টোবর) চট্টগ্রামে মেরিন ফিশারিজ একাডেমি অডিটোরিয়ামে প্রাক্তন অধ্যক্ষ প্রয়াত ক্যাপ্টেন মাসুক হাসান আহমেদের নামে অডিটোরিয়ামের নামকরণের ফলক উন্মোচন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এ আহ্বান জানান।

এ সময় মন্ত্রী বলেন, "স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হাতে মেরিন ফিশারিজ একাডেমি প্রতিষ্ঠিত। এ একাডেমির কর্মকর্তা-কর্মচারী ও ক্যাডেটদের মনে রাখতে হবে, স্বাধীন বাংলাদেশে এ ধরনের প্রতিষ্ঠান প্রথম বঙ্গবন্ধু তৈরি করেছেন। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ে তোলার লক্ষ্যে এ প্রতিষ্ঠানের ক্যাডেটদের বাংলাদেশের অ্যাম্বাসেডর হিসেবে তৈরি হতে হবে। তাদের আচরণ, গুণগত মান, উৎকর্ষ, কর্তব্য, দায়িত্বশীলতা, সততা, সৃজনশীলতা দেশে ও দেশের বাইরে যেন বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করে, সে লক্ষ্যে কাজ করতে হবে। বিদেশের একটা জাহাজে একজন ক্যাডেট যখন কাজ করবেন, তার আচরণ, প্রজ্ঞা, কর্মদক্ষতা দিয়ে পরিস্ফুট হবে যে, এই হচ্ছে বাংলাদেশ। ক্যাডেটদের প্রত্যেককে বাংলাদেশের একজন অ্যাম্বাসেডর হিসেবে কাজ করতে হবে। বাংলাদেশ সরকার এটা প্রত্যাশা করে"।

একাডেমির ক্যাডেটদের উদ্দেশে মন্ত্রী আরও যোগ করেন, "দায়িত্বের প্রতি সবসময় পবিত্রতার সাথে মনোযোগী থাকবেন। দায়িত্বের কোন সীমারেখা টানবেন না। কাজের মধ্যে যেন নিষ্ঠা থাকে, ঐকান্তিক ইচ্ছা থাকে। দায়িত্বকে নিজের মধ্যে ধারণ করতে হবে। তা নাহলে নিজের মেধার বিকাশ ও উৎকর্ষ সাধন করা সম্ভব হবে না। আপনারা অধ্যবসায়ী হবেন, যাতে জীবনে ব্যর্থতা গ্রাস করতে না পারে"।

মেরিন ফিশারিজ একাডেমির উন্নয়নে সম্প্রতি করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করা একাডেমির প্রাক্তন অধ্যক্ষ ক্যাপ্টেন মাসুক হাসান আহমেদের অবদানের কথা এ সময় স্মরণ করেন মন্ত্রী।

মেরিন ফিশারিজ একাডেমির অধ্যক্ষ ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ ওয়াসিম মকসুদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ‑ মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ সচিব রওনক মাহমুদ। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব শ্যামল চন্দ্র কর্মকার, যুগ্মসচিব ড. মো. মশিউর রহমানসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা, চট্টগ্রামের বিভাগীয় ও জেলা মৎস্য দফতর ও প্রাণিসম্পদ দফতরের কর্মকর্তা, চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহিনা সুলতানা, মেরিন ফিশারিজ একাডেমির কর্মকর্তা এবং প্রাক্তন ও বর্তমান ক্যাডেটরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে 'ক্যাপ্টেন মাসুক হাসান আহমেদ অডিটোরিয়াম' নামে মেরিন ফিশারিজ একাডেমির অডিটোরিয়ামের নামকরণের ফলক উন্মোচন এবং উদ্বোধন করেন মন্ত্রী।

/এসএস/এমএস/

সম্পর্কিত

প্রবাসীরাই এ উন্নয়নের সহযোদ্ধা:  মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী

প্রবাসীরাই এ উন্নয়নের সহযোদ্ধা: মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী

চিড়িয়াখানা আধুনিকায়নে হচ্ছে মাস্টারপ্ল্যান: মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী

চিড়িয়াখানা আধুনিকায়নে হচ্ছে মাস্টারপ্ল্যান: মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী

‘রাজনৈতিক ব্যর্থতায় নৃশংস হত্যাকান্ডের শিকার বঙ্গবন্ধু’

‘রাজনৈতিক ব্যর্থতায় নৃশংস হত্যাকান্ডের শিকার বঙ্গবন্ধু’

রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে শত্রু ভাবা ঠিক নয়: প্রাণিসম্পদমন্ত্রী

রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে শত্রু ভাবা ঠিক নয়: প্রাণিসম্পদমন্ত্রী

জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস আজ

সড়কে দুর্ঘটনা বাড়ছেই

আপডেট : ২২ অক্টোবর ২০২১, ১৫:৪৭

জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস পালন হচ্ছে আজ। এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য করা হয়েছে, ‘গতিসীমা মেনে চলি, সড়ক দুর্ঘটনা রোধ করি’। দিবসটি পালনে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন সংগঠন নানা কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। পরিসংখ্যান বলছে, অনিরাপদ সড়ক ও অব্যবস্থাপনার কারণে এ সেক্টরে দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না; বরং দিনদিন বেড়েই চলেছে। দিবসটি উপলক্ষে বাণী দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আব্দুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

রাষ্ট্রপতি তাঁর বাণীতে বলেন, ‘বাংলাদেশে উন্নত সড়ক অবকাঠামো বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে সড়কপথে মোটরযানের সংখ্যা ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। এসব যানবাহনের অনিয়ন্ত্রিত গতি সড়ক দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ। তাই জীবন ও সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি রোধকল্পে গতিসীমা মেনে চলা আবশ্যক। এ প্রেক্ষাপটে জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবসের এ বছরের প্রতিপাদ্য “গতিসীমা মেনে চলি, সড়ক দুর্ঘটনা রোধ করি” যথার্থ ও সময়োপযোগী হয়েছে বলে আমি মনে করি।’

বাণীতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘সড়ককে নিরাপদ করতে এবং সড়ক দুর্ঘটনায় আহত ও নিহতের সংখ্যা অর্ধেকে নামিয়ে আনার লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য আমাদের সরকার সড়ক অবকাঠামো উন্নয়ন ও আধুনিকায়নসহ নানাবিধ কার্যক্রম গ্রহণ করেছে। এ সরকারের সময় মহাসড়ক ২২ হাজার ৪২৮ কিলোমিটারে উন্নীত করা হয়েছে। এর মধ্যে ৬৩২ কিলোমিটার মহাসড়ক ৪-লেন ও তদূর্ধ্ব লেনে উন্নীতকরণের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। ৬৪৭ কিলোমিটার মহাসড়ক ৬ লেনে উন্নীতকরণের কাজ চলমান রয়েছে। সমীক্ষা প্রকল্পের মাধ্যমে এক হাজার ৭৫৩ কিলোমিটার মহাসড়ক ৬ লেনে উন্নীতকরণের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা এবং পূর্ণাঙ্গ সমীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। এছাড়া ৫৯০ কিলোমিটারের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা কার্যক্রম চলমান রয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দেশে প্রথমবারের মতো নির্মিত হয়েছে ঢাকা-মাওয়া-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ে। যানজটবিহীন যাতায়াতব্যবস্থা ও দ্রুত যোগাযোগের সুবিধার্থে মেট্রোরেল, বাস র‌্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) লাইন, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, ফ্লাইওভার, ওভারপাস-আন্ডারপাস, ব্রিজ-কালভার্ট নির্মাণ, পুনর্নির্মাণ এবং বিভিন্ন মহাসড়কের বাঁক সরলীকরণ, মজবুতকরণ ও প্রশস্তকরণের কাজ সম্পন্ন হয়েছে এবং বেশ কিছু কাজ চলমান রয়েছে। এছাড়া দেশে প্রথমবারের মতো জাতীয় মহাসড়কের ৪টি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ট্রাক চালকদের জন্য বিশ্রামাগার নির্মাণ প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে।’

অপরদিকে, দিবসটি উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (২১ অক্টোবর) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সাগর-রুনি মিলনায়তনে ‘সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ক সংলাপ’ শীর্ষক আলোচনার আয়োজন করা হয়। এতে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের দুর্ঘটনা গবেষণা ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ড. হাদিউজ্জামান জানান, সড়ক দুর্ঘটনায় যুবকদের মৃত্যুর হার সবচেয়ে বেশি। ২০১৯ সালে তিন হাজার ৯৩৭টি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে। এতে মারা যান ৪ হাজার ৩৫৮ জন, আহত হন ৭ হাজার ২৪০ জন। এতে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। ২০২০ সালে সড়ক দুর্ঘটনায় আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ ৩২ হাজার ৭৩৮ কোটি টাকা। আর চলতি বছর সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সড়ক দুর্ঘটনার ক্ষতির পরিমাণ ২৯ হাজার ৭৮০ কোটি টাকা।’

নিরাপদ সড়কের জন্য সরকারের রাজনৈতিক অঙ্গীকার বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছে যাত্রী কল্যাণ সমিতি। সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘ধারাবাহিকভাবে তিনবারের ক্ষমতাসীন বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের নির্বাচনি নানা প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন হলেও তৃতীয় মেয়াদের নির্বাচনি প্রতিশ্রুতিতে নিরাপদ সড়কের অঙ্গীকার বাস্তবায়নে গাফিলতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সরকারের স্বাস্থ্য অধিদফতরের হিসাব মতে, সারাদেশে প্রতিদিন গড়ে ৬৪ জন মানুষ সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারাচ্ছে। ১৫০ জনের বেশি মানুষ আহত হচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির হিসাবে দেখা গেছে, ২০১৫ সালে ৬ হাজার ৫৮১টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৮ হাজার ৬৪২ জন নিহত ও ২১ হাজার ৮৫৫ জন আহত হয়েছেন। ২০১৬ সালে ৪ হাজার ৩১২টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৬ হাজার ৫৫ জন নিহত ও ১৫ হাজার ৯১৪ জন আহত হয়েছেন। ২০১৭ সালে ৪ হাজার ৯৭৯টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৭ হাজার ৩৯৭ জন নিহত ও ১৬ হাজার ১৯৩ জন আহত হয়েছেন। ২০১৮ সালে ৫ হাজার ৫১৪টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৭ হাজার ২২১ জন নিহত ও ১৫ হাজার ৪৬৬ জন আহত হয়েছেন। ২০১৯ সালে ৫ হাজার ৫১৬টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৭ হাজার ৮৫৫ জন নিহত, ও ১৩ হাজার ৩৩০ জন আহত হয়েছেন। ২০২০ সালে করোনা সংক্রমণে বছরব্যাপী লকডাউনে পরিবহন বন্ধ থাকা অবস্থায় ৪ হাজার ৮৯১টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৬ হাজার ৬৮৬ জন নিহত ও ৮ হাজার ৬০০ জন আহত হয়েছেন। গত ৬ বছরে ৩১ হাজার ৭৯৩টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৪৩ হাজার ৮৫৬ জন নিহত ও ৯১ হাজার ৩৫৮ জন আহত হয়েছেন। অথচ জাতিসংঘ ২০১১ সাল থেকে ২০২১ সালকে সড়ক নিরাপত্তা দশক ঘোষণা করে সদস্য দেশগুলোর সড়ক দুর্ঘটনা অর্ধেকে নামিয়ে আনার অনুস্বাক্ষরকারী দেশ হিসেবে বাংলাদেশ এ অঙ্গীকার রক্ষায় ব্যর্থ হয়েছে।

 

/এসএস/আইএ/

সম্পর্কিত

২৪ ঘণ্টায় চার মৃত্যু, ১৭ মাসে সর্বনিম্ন

২৪ ঘণ্টায় চার মৃত্যু, ১৭ মাসে সর্বনিম্ন

সফরকালে জাপানি গণমাধ্যমে বঙ্গবন্ধুর প্রশংসা

সফরকালে জাপানি গণমাধ্যমে বঙ্গবন্ধুর প্রশংসা

ধর্মীয় সম্প্রীতি নিয়ে নেতিবাচক প্রচারণা মোকাবিলার নির্দেশ

ধর্মীয় সম্প্রীতি নিয়ে নেতিবাচক প্রচারণা মোকাবিলার নির্দেশ

‘শিক্ষার্থীরা যেন উদ্যোক্তা হতে পারে সে লক্ষ্যে পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে’

‘শিক্ষার্থীরা যেন উদ্যোক্তা হতে পারে সে লক্ষ্যে পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে’

সর্বশেষসর্বাধিক
quiz

লাইভ

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

বঙ্গবন্ধুর উপস্থিতিতে জয়বাংলা ধ্বনিতে মুখর জাপান

বঙ্গবন্ধুর উপস্থিতিতে জয়বাংলা ধ্বনিতে মুখর জাপান

বঙ্গবন্ধুর সফরে জাপানের বাড়িয়ে দেওয়া হাত

বঙ্গবন্ধুর সফরে জাপানের বাড়িয়ে দেওয়া হাত

বাঙালিদের শুভেচ্ছা নিয়ে জাপানে রওয়ানা দেন বঙ্গবন্ধু

বাঙালিদের শুভেচ্ছা নিয়ে জাপানে রওয়ানা দেন বঙ্গবন্ধু

বঙ্গবন্ধু আরবদের সম্ভাব্য সব সাহায্য দিতে আবারও প্রতিশ্রুতি দিলেন

বঙ্গবন্ধু আরবদের সম্ভাব্য সব সাহায্য দিতে আবারও প্রতিশ্রুতি দিলেন

বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে ত্রিদলীয় জোটের কাজ কী হবে

বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে ত্রিদলীয় জোটের কাজ কী হবে

বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে ত্রিদলীয় ঐক্যজোট আত্মপ্রকাশের দিন ঘোষণা

বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে ত্রিদলীয় ঐক্যজোট আত্মপ্রকাশের দিন ঘোষণা

আরবদের পক্ষে বুমেদিনের কাছে বঙ্গবন্ধুর বাণী

আরবদের পক্ষে বুমেদিনের কাছে বঙ্গবন্ধুর বাণী

বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে জ্যাকসনের সাক্ষাৎ

বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে জ্যাকসনের সাক্ষাৎ

আরব ভাইদের পাশে থাকার ঘোষণা দিয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু

আরব ভাইদের পাশে থাকার ঘোষণা দিয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু

সে বছর মেয়েদের জন্য পৃথক বাস চালু হয়েছিল

সে বছর মেয়েদের জন্য পৃথক বাস চালু হয়েছিল

সর্বশেষ

চট্টগ্রামে গ্রেফতার আমাদের নেতাকর্মীরা পূজামণ্ডপে হামলায় জড়িত নয়: নুর

চট্টগ্রামে গ্রেফতার আমাদের নেতাকর্মীরা পূজামণ্ডপে হামলায় জড়িত নয়: নুর

শিশির নয়, অজিদের মনোযোগ পাওয়ার প্লেতে

শিশির নয়, অজিদের মনোযোগ পাওয়ার প্লেতে

বিদেশি শ্রমিকদের ওপর আংশিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার মালয়েশিয়ার

বিদেশি শ্রমিকদের ওপর আংশিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার মালয়েশিয়ার

৩১ জেলায় শনাক্ত হয়নি কেউ

৩১ জেলায় শনাক্ত হয়নি কেউ

সালিশে প্রতিপক্ষের ছুরিকাঘাতে সিএনজিচালক নিহত

সালিশে প্রতিপক্ষের ছুরিকাঘাতে সিএনজিচালক নিহত

© 2021 Bangla Tribune