X
রবিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২১, ৮ কার্তিক ১৪২৮

সেকশনস

২১ আগস্টের স্মৃতিচারণে শেখ হাসিনা

‘আমার গায়ে শুধু রক্ত ছিটকে পড়ছে’

আপডেট : ২১ আগস্ট ২০২১, ১৮:১৬

২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার ঘটনার স্মৃতিচারণ করলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ২১ আগস্টের ঘটনার ১৭তম বার্ষিকীতে শুরু থেকে পরবর্তী নানা ঘটনার বর্ণনা দেন সে সময়কার বিরোধীদলীয় নেতা ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। তুলে ধরেন দলের নেতারা তাকে কীভাবে মানববর্ম তৈরি করে ঘিরে রেখেছিলেন। ওই দিনের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, ‌‌একের পর এক গ্রেনেডের আওয়াজ। ‌সঙ্গে সঙ্গে হানিফ ভাই, মামুন, নজির ওরা আমাকে ঘিরে ধরলো। আমি বারবার ওঠার চেষ্টা করেছি, কিন্তু ওরা উঠতে দেয়নি। আমার চশমাটা কোথায় ছিটকে পড়লো। আমি দেখলাম, আমার গায়ে শুধু রক্ত ছিটকে পড়ছে। গ্রেনেডের স্প্লিন্টারগুলো হানিফ ভাইয়ের মাথায় লাগছে। তার শরীরের রক্ত আমার শরীরে পড়ে ভেসে যাচ্ছে।

২১ আগস্ট উপলক্ষে আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তব্যের বড় অংশজুড়ে তিনি ওই ঘটনার স্মৃতিচারণ করেন। বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় শেখ হাসিনা গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হয়ে সভাপতিত্ব করেন।

২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলার প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‌হত্যা, নির্যাতন, হামলার প্রতিবাদে আমরা শান্তিপূর্ণ র‌্যালি করার সিদ্ধান্ত নিলাম। আমরা এই কর্মসূচিটা মুক্তাঙ্গনে করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু বিএনপি সরকার পারমিশন দেয়নি। অনেক চেষ্টা করে যখন অনুমতি পেলাম না, তখন সিদ্ধান্ত নিলাম আওয়ামী লীগ অফিসের সামনে করবো। এ জন্য পোস্টার করা হলো, পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দেওয়া হলো, ঢাকাসহ সারা দেশে এর প্রচার করা হলো। ঠিক আগের দিন রাত সাড়ে ১১টা বা ১২টার দিকে একটা পারমিশন এলো, মুক্তাঙ্গনে করা যাবে। পরের দিনই আমাদের র‌্যালি। যখন আমরা চাইলাম পেলাম না, কিন্তু এত গভীর রাতে দেওয়ার অর্থটা কী? ওই চিঠি তো খুলে পড়ারও কথা নয়। তবে যখন আমাদের মাইক স্থাপনসহ প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে; আমরা বললাম, বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়েই করবো। আর এত রাতে তারা এই পারমিশনটা দিলো কেন? এর রহস্যটা কী? এ ব্যাপারে আমরা খুব সন্দিহান ছিলাম। এভাবে যে প্রকাশ্য দিবালোকে তারা যে গ্রেনেড মেরে হত্যার প্রচেষ্টা চালাবে, এটা কেউ ভাবতেও পারেনি। অবশ্য এর আগে খালেদা জিয়া কিন্তু বক্তৃতা দিয়ে আমার নাম ধরে বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী তো দূরের কথা বিরোধীদলীয় নেতাও আমি কোনোদিন হতে পারবো না। এর আগে কোটালিপাড়ায় বোমা পুঁতে রাখার আগে বলেছিল, একশ’ বছরেও আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসতে পারবে না।

আমার চশমাটা কোথায় ছিটকে পড়লো

এসবের পরও সেখানে র‌্যালি করতে যাওয়ার কথা ‍উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‌আমি যখনই মঞ্চে উঠে বক্তৃতা দিলাম, শেষ করে মাইকটা রাখতে যাবো, এরই মধ্যে ফটো সাংবাদিক গোর্কি বললো, আমি তো ছবি নিতে পারিনি। ট্রাকের চালকের ওপরের ছাদে বসা অন্য সাংবাদিকরাও একই কথা বললো। তাদের কথায় যখন আমি দাঁড়ালাম। দাঁড়াতেও পরিনি, এরইমধ্যে গ্রেনেডের আওয়াজ। সঙ্গে সঙ্গে হানিফ ভাই, মামুন, নজির ওরা আমাকে ঘিরে ধরলো। একটার পর একটা গ্রেনেডের আওয়াজ হচ্ছে। আমাকে তারা জোর করে বসালো। আমি বারবার ওঠার চেষ্টা করেছি, কিন্তু ওরা ছাড়েনি। আমার চশমাটা কোথায় ছিটকে পড়লো। আমি দেখলাম আমার গায়ে শুধু রক্ত ছিটকে পড়ছে। গ্রেনেডের স্প্লিন্টারগুলো হানিফ ভাইয়ের মাথায় লেগেছে। তার শরীরের রক্তে ভেসে যাচ্ছে আমার শরীর।

তিনি বলেন, তিনটি গ্রেনেড পরপর ফোটার পর কয়েক সেকেন্ড থামলো। এরপর আবার মনে হচ্ছে যেন এর শেষ নেই। এটা কেয়ামতের মতো। কিছুই দেখা যাচ্ছে না। চারদিকে ধোঁয়া। ঠিক জানি না আল্লাহ কীভাবে হাতে তুলে বাঁচালেন। আমার গায়ে একটা স্প্লিন্টারও লাগেনি। কিন্তু আওয়াজে কানের ক্ষতি হলো। ডান দিকের কানে শুনতে পাই না। সেই ট্রাকের ভেতরের অনেকেই আহত হয়েছেন। ট্রাকের সিঁড়িতে যারা দাঁড়িয়েছিলেন, তারাও আহত হন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সাধারণত ট্রাকে টেবিল থাকে না। কিন্তু সেদিন টেবিল দেওয়া হয়েছিল। একটা পর্যায়ে যখন থামলো, আমি উঠে দাঁড়ালাম। আমার সারা শরীর রক্তাক্ত দেখে ওরা মনে করলো আমি আহত। আমি বললাম- না, আমার তো কিছু হয়নি। দেখলাম হানিফ ভাইয়ের মাথাসহ সারা শরীর রক্তাক্ত। ওখানে যারা ছিল প্রত্যেকেই আহত। এরপর আমি গাড়িতে উঠতে যাবো। দরজা খুলে মাহবুব দাঁড়ানো। তখনই গুলি এলো। আর সেই গুলিতেই মাহবুব মারা গেলো। আরও দু’-একটা গুলি গাড়িতে এসে লাগলো। আমি গাড়িতে ওঠার পর ছেড়ে দিলো। গাড়ি নিয়ে যখন জিরো পয়েন্টের কাছে তখন শুনছি হৈ চৈ। আমাকে একটানে চালিয়ে নিয়ে গেলো। পরে শুনলাম ওখানে মানুষ যখন ছটফট করছিল সাহায্যের জন্য, পুলিশ এগিয়ে আসেনি। উল্টো পুলিশ লাঠিচার্জ আর টিয়ার গ্যাস মারতে শুরু করলো। সাধারণত কোথাও এ ধরনের ঘটনা ঘটলে পুলিশ এগিয়ে আসে তাদের রক্ষা করতে, কিন্তু এখানে দেখা গেলো উল্টো। আমাদের নেতাকর্মীরা সাহায্য করতে ছুটে আসছে, পুলিশ তাদের আসতে দিচ্ছে না। আমাদের আহত এক মহিলা কর্মীর স্বামী এসেছে। পুলিশ তাকে লাথি মেরে বের করে দিয়েছে। টিয়ার গ্যাস মারা হচ্ছে। এতে তো অনেকে অসুস্থ হচ্ছে। এর মানেটা কী? যারা আক্রমণকারী এদের রক্ষা করা। এদের রেসকিউ করতেই টিয়ার গ্যাস মারা ও লাঠিচার্জ। একটা সরকারের যদি সহযোগিতা না থাকে তাহলে এ রকম ঘটনা ঘটতে পারে না।

ওই দিনের ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে তিনি আরও বলেন, আমার গাড়িটা যখন সুধা সদনে ঢুকলো, সঙ্গে সঙ্গে পুরো গাড়িটা বসে গেলো। আমার ড্রাইভার মতিন সাহসী ছিল। সে এতদূর টেনে নিয়ে আসছে। আমি যখন নামলাম, রেহানা ছিল, ও তো চিৎকার করলো। আমি বললাম, আমার কিচ্ছু হয়নি। বললাম, হানিফ ভাই আমাকে ধরেছিল, তার সারা শরীরে স্প্লিন্টার। সেই রক্তই আমার গায়ে। ওখানে দাঁড়িয়েই খোঁজ নিতে থাকলাম আমাদের কে কোথায় আছে। ড্রাইভার আলী হোসেন আর শাহজাহানকে পাঠালাম যাদের পারো হাসপাতালে নিয়ে যাও। চিকিৎসার ব্যবস্থা করো।

বিএনপি-মনা চিকিৎসকরা চিকিৎসা দেয়নি

বিএনপি ঘরানার চিকিৎসকদের সেদিন পাওয়া যায়নি উল্লেখ করে করে সরকারপ্রধান বলেন, সেদিন বিএনপি-মনা কোনও চিকিৎসক ঢাকা মেডিক্যাল কলেজে ছিল না। বিএনপি মাইন্ডেড ডাক্তাররা চিকিৎসা করেনি। বঙ্গবন্ধু মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনও আহতকে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। সেটা সম্পূর্ণ বন্ধ। আইভি রহমানসহ প্রায় ৭০ জনকে আমাদের ডাক্তার রোকেয়া একা এনেসথেশিয়া দিয়েছে। আমাদের মাইন্ডের যারা তারা ছুটে এসে চিকিৎসা দেওয়ার চেষ্টা করেছে। লাইন দিয়ে রোগী। যাকে যেখানে পারা গেছে হাসপাতালে বা ক্লিনিকে ঢোকানো হয়েছে। আমার বাসায় যারা ছিল তাদের চারদিকে পাঠালাম। কেননা, কে কোন হাসপাতালে আছে তাদের চিকিৎসা দেওয়া, রক্ত দেওয়া প্রয়োজন। আমাদের নেতাকর্মীরা যেখানে ছিল সবাই সাহায্য সহযোগিতা করলো। ছুটে গেলো সবাই চিকিৎসা দিতে।

নিহতের লাশ দিতে চায়নি

বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা বলেন, সেদিন যারা মারা গেলো লাশগুলো মেডিক্যাল কলেজে। লাশগুলো আত্মীয়দের দেবে না। যাদের আপনজন চলে আসছে তাদের লাশ নিতে দেবে না, কিছুতেই না। আমাদের নেতাকর্মী সবাই ওখানে ঘিরে থাকলো। তারপর একটা পর্যায়ে তারা বাধ্য হলো লাশগুলো দিতে। বোধ হয় ভোর রাতের দিকে লাশগুলো দেওয়া হলো। রাত ৩-৪টার দিকে এক এক করে লাশ দিতে শুরু করলো।

গ্রেনেড হামলার ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে তিনি আরও বলেন, পরে আমি শুনেছি ওখানে নাকি ডিজিএফআইয়ের একজন অফিসার ছিল ডিউটিরত। গ্রেনেড হামলা যখন হয়, ও হেড কোয়ার্টারে ফোন করে, তখন তাকে ধমক দেওয়া হয়। ওই ঘটনার বিষয়ে পুলিশের যেসব কর্মকর্তা আগে থেকে জানতো না তারা তাদের হেডকোয়ার্টারে ফোন করলে তাদেরও ধমক দেওয়া হয়। তাদের বলা হয়, এগুলো তোমাদের দেখা লাগবে না। তোমরা ওখান থেকে সরে যাও।

আমি নাকি ভ্যানিটি ব্যাগে করে গ্রেনেড নিয়েছি

গ্রেনেড হামলার ঘটনা নিয়ে ওই সময়কার সরকার সংসদে কথা বলতে দেননি উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ঘটনার পর আমরা সংসদে গিয়ে এই বিষয়টি তুলতে চেষ্টা করলাম। কিছুতেই এ ব্যাপারে কথা বলতে দেবে না। শোক প্রস্তাব দিতে চাইলাম, তা প্রত্যাখ্যান করা হলো। আমাদের মাইক দেওয়া হলো না। খালেদা জিয়া সংসদে দাঁড়িয়ে বললেন, ওনাকে আবার কে মারবে? তাদের এমপিরাই সব... উনি তো নিজেই ভ্যানিটি ব্যাগে করে গ্রেনেড নিয়ে গেছে। আমি বললাম, আমার হাতে তো কোনও ভ্যানিটি ব্যাগ ছিল না, কিছুই ছিল না। আর আমি কবে এভাবে গ্রেনেড মারায় একপার্ট হয়ে গেলাম তা তো জানি না। আইভি রহমানসহ সবাইকে নাকি আমি গ্রেনেড হামলা করে মেরেছি, এ ধরনের কথা। আমি বললাম, তাহলে আমরা কী সেখানে সুইসাইড করতে গিয়েছিলাম?

অলিগলির ক্লিনিকে আহতরা

শেখ হাসিনা জানান, ঘটনার পর আমাকে হরতাল ডাকার কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু সেদিন উত্তরা, মিরপুর থেকে শুরু করে ঢাকা দক্ষিণ পর্যন্ত অলিতে গলিতে সব ক্লিনিক-হাসপাতালে আমাদের আহত নেতাকর্মীরা চিকিৎসায় ছিল। প্রত্যেক জায়গায় আমি লোক পাঠিয়ে খোঁজ নিয়েছি। বিভিন্ন জায়গা থেকে আহতদের নিয়ে এসে ভালো চিকিৎসার ব্যবস্থা করি। আমাদের ডাক্তাররা জান-প্রাণ দিয়ে খেটেছে। যুবলীগ, ছাত্রলীগ যে যা পারে করেছে। পরে অনেককে আমি বিদেশে পাঠিয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা করি। এখনও অনেকের চিকিৎসা করাতে হচ্ছে।

আলামত নষ্ট

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ঘটনার পরে সেখানে একটি অক্ষত গ্রেনেড পাওয়া গেলো। একজন আর্মি অফিসার এটাকে আলামত হিসেবে সংগ্রহের কথা বললে তাকে ধমক দেওয়া হয়। ওই ঘটনায় তাকে পরে নির্যাতনও করা হয়। পরে সেই গ্রেনেডটা ধ্বংস করা হয়। আলামত নষ্ট করার জন্য পানি দিয়ে ধোয়া মোছা করা হলো। সিটি করপোরেশনের গাড়ি জায়গা ধুয়ে মুছে পরিষ্কার করে ফেললো। তারপরও ওই সময় আমার নির্দেশে নানক-আজমসহ যুবলীগের ওরা যেখানে গ্রেনেড পড়েছিল সেখানে লাল পতাকা, ফিতা দিয়ে চিহ্নিত করলো। এই কাজগুলো তো ছিল সরকারের-পুলিশের। কিন্তু তারা তা করেনি। তারা আলামত রাখতে চাইনি।

কথিত তদন্ত কমিটি

বঙ্গবন্ধুকন্যা বলেন, ঘটনার পর যখন চারদিকে সমালোচনা, তখন একজন সাবেক বিচারপতিকে দিয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করা হলো। সেই তদন্ত কমিটি আবিষ্কার করলো, পাশের দেশের গোয়েন্দা সংস্থা এসে এ ঘটনা ঘটিয়েছে। পাশের দেশের গোয়েন্দা সংস্থা দিনে-দুপুরে এভাবে শহরের ভেতরে এত গুলি, গ্রেনেড যদি মেরে যেতে পারে তাহলে সরকারের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কী করছিল? তারা কী নাকে তেল দিয়ে ঘুমাচ্ছিল? এটা হলে তারা দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব রক্ষা করবে কীভাবে? এটা যদি হয় তাহলে আমাদের সশস্ত্র বাহিনী, বিডিআর, পুলিশ কী করছিল? এভাবে তারা সমস্ত দৃষ্টিটা অন্যদিকে ঘুরানোর চেষ্টা করলো।

জজ মিয়া নাটক

জজ মিয়া নাটকের প্রসঙ্গ টেনে শেখ হাসিনা বলেন, মিথ্যা মামলা দিয়ে আমাদের কর্মী মগবাজারের মোখলেসকে গ্রেফতার করলো। অত্যাচার নির্যাতন করে তাদের থেকে স্বীকারোক্তি আদায়ের চেষ্টা করলো। তাদের উদ্দেশ্য ছিল আমাদের নেতাকর্মীদের দিয়ে স্বীকার করাবে এটা দলীয় কোন্দলে ঘটেছে। এরপর নোয়াখালীর কোন জজ মিয়া। একটি গরিব ঘরের ছেলে। টাকা পয়সা দিয়ে, তার পরিবার লালনপালন করবে সেই কথা দিয়ে তাকে দিয়ে এক কাহিনি রচনা করলো। তাদের গ্রেফতার করলো। তার কী যোগ্যতা আছে? কী আর্থিক সংগতি আছে গ্রেনেড সংগ্রহ করার? মারার জন্য এত লোক জোগাড় করা; এত কি তার দ্বারা করা সম্ভব?

জেলখানায় গ্রেনেড পাওয়ার প্রসঙ্গ টেনে শেখ হাসিনা বলেন, জেলখানার ভেতর ওয়ালের সঙ্গে একটা গ্রেনেড পাওয়া গেলো। সেটা নিয়ে আমাদের কোনও কোনও স্বনামধন্য পত্রিকা ডায়াগ্রাম এঁকে দেখালো যে জেলাখানার পাশে কোনও এক বাড়ি থেকে ওই গ্রেনেড ছুড়ে মারাতে সেখানে পড়েছে। জেলখানার পাশে এমন কোন বাড়ি নেই যে যেখান থেকে গ্রেনেড মারলে ওই জায়গায় পড়বে। আসল কথা হলো, এরা অনেক ক্রিমিনাল জোগাড় করেছিল. তাদের মধ্যে কিছু জেলখানা থেকেও বের করে নিয়ে আসছিল। প্রত্যেকের হাতে যে গ্রেনেডগুলো ছিল তা সবাই মারতেও পারেনি। রমনা হোটেলের সামনে গলিতে একটি গ্রেনেড পাওয়া যায়। এ রকম বিভিন্ন জায়গায় কয়েকটি আলামত পাওয়া যায়।

সেদিন বঙ্গবন্ধুর ‍খুনি রশিদ ও ডালিম ঢাকায় ছিল

প্রধানমন্ত্রী বলেন, একজন কারারক্ষী এর সঙ্গে জড়িত ছিল। ওই দিন (২১ আগস্ট) রাত ১১টার দিকে সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্সে চার জনকে খালেদা জিয়া দেশের বাইরে পাঠিয়ে দেয়। তার মধ্যে ওই কারারক্ষী আর তাজউদ্দিন ছিল। শোনা যায় তাদের সঙ্গে বঙ্গবন্ধুর খুনি কর্নেল রশিদ আর ডালিম ঢাকায় এসেছিল। তারা ঢাকা এসে খালেদা জিয়া ও তারেক জিয়ার তত্ত্বাবধানে ছিল। গোয়েন্দা সংস্থা-ডিজিএফআই, এনএসআই, পুলিশ সবাই এর সঙ্গে জড়িত। তারাই এদের রক্ষা করে এবং বিদেশ যেতে সুযোগ সৃষ্টি করে দেয়। যখন তারা জানলো যে আমি মরি নাই, বেঁচে আছি, তখনই তারা দেশ থেকে চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলো।

তিনি বলেন, ওই ঘটনায় আমাদের ২২ জন নিহত হয়। আরও দুজন নিহত হয়, তাদের লাশ কিন্তু কোনও দিন কেউ নিতে আসেনি। এই দুজন ছিল অজ্ঞাতনামা। স্বাভাবিকভাবে ধরে নেওয়া হয়, তারা হয়তো নিজেদের গ্রেনেডে নিজেরা নিহত হয়। যারা মারতে এসেছে তারাই বোধহয় মারা গেছে।

আগস্ট মাসে এ ঘটনার পর সেপ্টেম্বর মাসে সাকা চৌধুরীর ১০ জন ক্যাডারকে ক্রসফায়ার দেওয়া হয়েছিল। তাদের কেন ক্রসফায়ারে মারা হলো। এর মানে এ ঘটনার সঙ্গে অনেক দূর পর্যন্ত জড়িত ছিল।

আরও পড়ুন...

মৃত্যু বারবার সামনে এসে দাঁড়িয়েছে: প্রধানমন্ত্রী

 

/ইএইচএস/আইএ/এমওএফ/
টাইমলাইন: ২১ আগস্ট
২১ আগস্ট ২০২১, ১৭:১৭
‘আমার গায়ে শুধু রক্ত ছিটকে পড়ছে’
২১ আগস্ট ২০২১, ০০:০১

সম্পর্কিত

অভিনেতা মাহমুদ সাজ্জাদের মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রীর শোক

অভিনেতা মাহমুদ সাজ্জাদের মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রীর শোক

একশ’ কোটি মানুষকে করোনার টিকা দেওয়ায় মোদিকে প্রধানমন্ত্রীর অভিনন্দন

একশ’ কোটি মানুষকে করোনার টিকা দেওয়ায় মোদিকে প্রধানমন্ত্রীর অভিনন্দন

সাম্প্রদায়িক শক্তির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ার আহ্বান পররাষ্ট্রমন্ত্রীর

আপডেট : ২৪ অক্টোবর ২০২১, ২৩:১৬

পররাষ্ট্র মন্ত্রী ড. এ.কে. আব্দুল মোমেন বলেছেন, আসুন আমরা একসঙ্গে সাম্প্রদায়িক শক্তির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলি। এই সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী যেন বাংলাদেশে অশান্তি সৃষ্টি করতে না পারে, অতীতে যা করেছে ভবিষ্যতে তা যেন না করতে পারে।

রবিবার  (২৪ অক্টোবর) জাতীয় প্রেস ক্লাব জহুর হোসেন চৌধুরী হলে ঢাকাবাসী সংগঠন আয়োজিত জাতিসংঘ দিবস উপলক্ষে এক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।

ড. এ .কে. আব্দুল মোমেন বলেন, কুমিল্লায় যাকে গ্রেফতার করা হয়েছে, সে কিন্তু কোনও জবানবন্দি দেয়নি। অথচ কোনও কোনও গোষ্ঠী অহেতুক এটা নিয়ে কথা বলছে। ‘ঠাকুর ঘরে কে রে, না আমি কলা খাই না’- এমন একটা অবস্থা দেখা যাচ্ছে। বাংলাদেশে অশান্ত পরিবেশ সৃষ্টির ষড়যন্ত্র চলছে। এই ষড়যন্ত্র ৭৫’র পর থেকে শুরু হয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, আমরা যদি মুক্তিযুদ্ধের কথা বলি, তখন বঙ্গবন্ধুকে ফাঁসিতে ঝুলানোর পায়তারা করা হয়েছিল। তখন কিন্তু আমাদের ১ কোটি উদ্বাস্তু তৈরি হয়েছিল। পাক হানাদাররা যেভাবে হামলা চালিয়েছে, তখন কিন্তু জাতিসংঘ তাদের সনদ অনুযায়ী ভূমিকা পালন করতে পারেনি। হয়তো কিছু মুরুব্বি দেশের কারণে সেটা সম্ভব হয়নি। তার পরেও আমি স্বীকার করি, সন্ত্রাস দমনে, জঙ্গি দমনে, বিভিন্ন দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে আমাদের শান্তিরক্ষী বাহিনী বিভিন্ন ক্ষেত্রে জাতিসংঘের অনন্য ভূমিকা প্রশংসার দাবিদার। এটা স্বীকার করতেই হবে।

আলোচনা সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন, সংসদ সদস্য অ্যাড. কামরুল ইসলাম এমপি), আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক বাবু সুজিত রায় নন্দি, ঢাকাবাসীর সভাপতি মো. শুকুর সালেকসহ আরও অনেকে।

/জেডএ/এমআর/

সম্পর্কিত

ধর্মীয় সম্প্রীতিতে বাংলাদেশ বিশ্বে নাম্বার ওয়ান: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

ধর্মীয় সম্প্রীতিতে বাংলাদেশ বিশ্বে নাম্বার ওয়ান: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

বাংলাদেশের কপ-২৬ এজেন্ডাকে সমর্থনে ইইউ’র প্রতি ঢাকার আহ্বান

বাংলাদেশের কপ-২৬ এজেন্ডাকে সমর্থনে ইইউ’র প্রতি ঢাকার আহ্বান

সার্বিয়ার সঙ্গে রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা সহযোগিতা বাড়াতে চায় বাংলাদেশ

সার্বিয়ার সঙ্গে রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা সহযোগিতা বাড়াতে চায় বাংলাদেশ

জার্মানি থেকে ফিরতে হচ্ছে ৮৬০ বাংলাদেশিকে: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

জার্মানি থেকে ফিরতে হচ্ছে ৮৬০ বাংলাদেশিকে: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

‘সংখ্যালঘু’ নয়, ‘সাক্ষী সুরক্ষা’ আইনের বিষয়ে ভেবেছিলেন আইনমন্ত্রী

আপডেট : ২৪ অক্টোবর ২০২১, ২২:২৩

‘সংখ্যালঘু সুরক্ষা’ নয়, মূলত সাক্ষী সুরক্ষা আইনের বিষয়ে ভেবে এ নিয়ে জবাব দিয়েছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। রবিবার (২৪ অক্টোবর) আইন মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা ড. মো. রেজাউল করিম সাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, আজ (২৪ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক সাংবাদিকবৃন্দের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছিলেন। এরই মাঝে এক সাংবাদিক বন্ধু সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইনের বিষয়ে মন্ত্রীকে প্রশ্ন করেন। এসময় পাশ থেকেও কথার শব্দ আসছিল। ফলে মন্ত্রী সংখ্যালঘু শব্দটি শুনতে পাননি।

‘তিনি (মন্ত্রী) আসলে সাক্ষী সুরক্ষা আইনের বিষয়ে উত্তর দিয়েছেন। আইনমন্ত্রী তার জবাবে সংখ্যালঘু শব্দটি একবারের জন্যেও ব্যবহার করেননি।’

তাই এ নিয়ে বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলকে অনুরোধ জানিয়েছে আইন মন্ত্রণালয়।
 
এর আগে সম্প্রতি কুমিল্লার ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সার্বিক নিরাপত্তার লক্ষ্যে জাতীয় সংসদে ‘সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইন’ পাসের বিষয়টি আবারও আলোচনায় আসে। এ বিষয়ে আইনমন্ত্রীর কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি ‘ত্বরিত ব্যবস্থা’ নেওয়ার কথা জানান। তবে মন্ত্রী ভেবেছেন তাকে সাক্ষী সুরক্ষা আইনের বিষয়ে প্রশ্ন করা হয়েছে। তাই তিনি আইনটির নাম উল্লেখ না করে উত্তর দেওয়ায় এ নিয়ে সংবাদমাধ্যমগুলোতে সঠিক তথ্য প্রচার হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছে আইন মন্ত্রণালয়।

/বিআই/এমআর/

সম্পর্কিত

সাম্প্রদায়িক হামলা-মামলার বিচার হবে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে: আইনমন্ত্রী

সাম্প্রদায়িক হামলা-মামলার বিচার হবে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে: আইনমন্ত্রী

শেখ রাসেলের মতো আর কোনও মৃত্যু দেখতে চাই না: আইনমন্ত্রী

শেখ রাসেলের মতো আর কোনও মৃত্যু দেখতে চাই না: আইনমন্ত্রী

ইসি গঠনে সার্চ কমিটির বিকল্প নেই: আইনমন্ত্রী

ইসি গঠনে সার্চ কমিটির বিকল্প নেই: আইনমন্ত্রী

‘শর্ত ছাড়া দণ্ড স্থগিত চাইলে খালেদা জিয়াকে জেলে গিয়ে আবেদন করতে হবে’ 

‘শর্ত ছাড়া দণ্ড স্থগিত চাইলে খালেদা জিয়াকে জেলে গিয়ে আবেদন করতে হবে’ 

অভিনেতা মাহমুদ সাজ্জাদের মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রীর শোক

আপডেট : ২৪ অক্টোবর ২০২১, ১৯:৪৬

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা  সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও বরেণ্য অভিনেতা মাহমুদ সাজ্জাদের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন।

রবিবার (২৪ অক্টোবর) সন্ধ্যায় শেখ হাসিনা এক শোকবার্তায় বলেন, ‘স্বীয় অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি মানুষের হৃদয়ে বেঁচে থাকবেন।’

প্রধানমন্ত্রী মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

মাহমুদ সাজ্জাদ রবিবার বিকাল সাড়ে তিনটায় রাজধানীর একটি হাসপাতালে মারা যান। তার বয়স হয়েছিল ৭৩ বছর। খবর: বাসস

 

/এপিএইচ/এমওএফ/

সম্পর্কিত

একশ’ কোটি মানুষকে করোনার টিকা দেওয়ায় মোদিকে প্রধানমন্ত্রীর অভিনন্দন

একশ’ কোটি মানুষকে করোনার টিকা দেওয়ায় মোদিকে প্রধানমন্ত্রীর অভিনন্দন

মান বজায় রেখে ‘বীর নিবাস’ নির্মাণ নিশ্চিত করতে হবে: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী

মান বজায় রেখে ‘বীর নিবাস’ নির্মাণ নিশ্চিত করতে হবে: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী

বিএনপির দৃষ্টিসীমা এখন কুয়াশাচ্ছন্ন: ওবায়দুল কাদের

বিএনপির দৃষ্টিসীমা এখন কুয়াশাচ্ছন্ন: ওবায়দুল কাদের

একশ’ কোটি মানুষকে করোনার টিকা দেওয়ায় মোদিকে প্রধানমন্ত্রীর অভিনন্দন

আপডেট : ২৪ অক্টোবর ২০২১, ২০:১৬

ভারত সরকার চলতি বছরের গত ২১ অক্টোবরের মধ্যে জনগণকে একশ’ কোটি ডোজ কোভিড-১৯ টিকা প্রদানের ঐতিহাসিক মাইলফলক অর্জন করায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে অভিনন্দন জানিয়েছেন।

রবিবার (২৪ অক্টোবর) মোদিকে পাঠানো এক বার্তায় শেখ হাসিনা উল্লেখ করেন, মানবজাতির ওপরে কোভিড-১৯ মহামারির সব চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও এটি একটি উল্লেখযোগ্য সাফল্য। তিনি পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, ‘এটি ভারত ও এই অঞ্চলের পুনরুদ্ধার এবং স্বাভাবিকতার পথে একটি বড় পদক্ষেপ হবে।’ মোদিকে প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, তার সরকার বাংলাদেশে একটি গণটিকাকরণ কর্মসূচি পরিচালনা করছে। বিভিন্ন উৎস থেকে সংগৃহীত করোনার টিকা ৬ কোটিরও বেশি মানুষকে দেওয়া হয়েছে।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘টিকাকরণ কর্মসূচির প্রথম থেকেই ভারত বাংলাদেশের জন্য কোভিড-১৯ টিকার একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস।’ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অ্যাস্ট্রাজেনেকার কোভিশিল্ড টিকা রফতানি পুনরায় শুরু করায় ভারত সরকারকে ধন্যবাদ জানান এবং আশা করেন, আগামী দিনে এই ক্রয় নিরবচ্ছিন্নভাবে অব্যাহত থাকবে। কোভিড-১৯ মহামারির প্রকোপ থেকে এই অঞ্চলের জনগণকে রক্ষা করতে এবং এই মহামারির বহুমুখী প্রতিকূল পরিণতি মোকাবিলায় ভারতের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ চালিয়ে যাওয়ার জন্য তিনি দৃঢ় বিশ্বাস ব্যক্ত করেন। খবর: বাসস

 

/এপিএইচ/এমওএফ/

সম্পর্কিত

অভিনেতা মাহমুদ সাজ্জাদের মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রীর শোক

অভিনেতা মাহমুদ সাজ্জাদের মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রীর শোক

মান বজায় রেখে ‘বীর নিবাস’ নির্মাণ নিশ্চিত করতে হবে: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী

মান বজায় রেখে ‘বীর নিবাস’ নির্মাণ নিশ্চিত করতে হবে: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী

বিএনপির দৃষ্টিসীমা এখন কুয়াশাচ্ছন্ন: ওবায়দুল কাদের

বিএনপির দৃষ্টিসীমা এখন কুয়াশাচ্ছন্ন: ওবায়দুল কাদের

আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরাই হিন্দুদের পাশে দাঁড়িয়েছে: তথ্যমন্ত্রী

আপডেট : ২৪ অক্টোবর ২০২১, ১৯:৫৯

দুর্গাপূজার সময় কুমিল্লার ঘটনা থেকে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরাই হিন্দু সম্প্রদায়ের পাশে দাঁড়িয়েছে, অন্য কোনও দল দাঁড়ায়নি। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানোর ফলে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এর দায় এড়াতে পারে না বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ।

রবিবার (২৪ অক্টোবর) সচিবালয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সম্পাদক ফোরামের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

এ সময় তথ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মকবুল হোসেন উপস্থিত ছিলেন। সম্পাদক ফোরামের আহ্বায়ক রফিকুল ইসলাম রতন, মহাসচিব ফারুক আহমেদ তালুকদার ও সদস্যদের মধ্যে দুলাল আহমেদ চৌধুরী, বেলায়েত হোসেন, শরীফ সাহাবুদ্দিন, মফিজুর রহমান, উপদেষ্টা আজিজুল ইসলাম ভূঁইয়া সভায় অংশগ্রহণ করেন।

মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এ সময় ড. হাছান মাহমুদ বলেন, কুমিল্লার ঘটনার পর পর আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে আমরা প্রত্যেকটি উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে নির্দেশনা পাঠিয়েছিলাম যাতে দুর্গাপূজা চলাকালীন পূজামণ্ডপে আমাদের দলের লোকজন থাকে এবং কেউ কোনও বিশৃঙ্খলা তৈরি করতে না পারে। আমাদের নেতাকর্মীরা সেভাবে ছিল। যারা এই ঘটনাগুলো ঘটিয়েছে তাদের আরও বড় পরিকল্পনা ছিল, আমাদের দল হিন্দুদের পাশে দাঁড়িয়েছে বিধায় ষড়যন্ত্রকারীরা সে রকম করতে পারেনি। কয়েক ঘণ্টার নোটিশে আমাদের দল সারা দেশে শান্তি সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে। আমরা এখনও সতর্ক দৃষ্টি রাখছি।

‘আমরাই শুধু পাশে দাঁড়িয়েছি, বাকিরা‑ মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাহেবরা‑ এমনকি গয়েশ্বর বাবুসহ অন্যরা শুধু টেলিভিশনের সামনেই গলা ফাটান, মানুষের পাশে দাঁড়াননি, বরং তারা এই ঘটনায় ইন্ধন দিয়েছে এবং সমুদ্রের ওপার থেকে এই ঘটনার পরিকল্পনা হয়েছিল, বলেন তথ্যমন্ত্রী।

সম্প্রচারমন্ত্রী বলেন, সরকার দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। ১০২টি মামলা হয়েছে, ৬শ’ জন গ্রেফতার হয়েছে। রংপুরের পীরগঞ্জে কয়েক দিনের মধ্যে সবার ঘরবাড়ি তৈরি করে দেওয়া হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত প্রত্যেক পরিবার এক লাখ টাকার বেশি নগদ সহায়তা পেয়েছে। অন্যান্য জায়গায় যে কয়েকটি মন্দিরে হামলা হয়েছে, সেগুলো মেরামতের জন্য সরকার ব্যবস্থা নিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা করেছেন, যারা ঘর হারিয়েছে তাদের ঘর করে দেওয়া হবে। 

‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা ধরনের প্রচারণার ফলে সামাজিক অস্থিরতা তৈরি হয়’, সম্পাদক ফোরাম সদস্যদের এমন বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে মন্ত্রী বলেন, কুমিল্লার ঘটনাটি যদি সোশাল মিডিয়ায় আপলোড না হতো, তাহলে এই ঘটনা বিস্তৃত হয়ে এই পরিস্থিতি তৈরি হতো না। রংপুরের পীরগঞ্জের ঘটনাও সোশাল মিডিয়ার একটি পোস্টের কারণে। যে কোরআন শরিফ রেখে এসেছে, যে প্ররোচনা দিয়েছে, যারা একটি পোস্টের পরিপ্রেক্ষিতে যাচাই-বাছাই না করে সমাজে হানাহানি তৈরি করলো, তারা সবাই দায়ী। একই সঙ্গে ফেসবুক কর্তৃপক্ষও দায়ী। কারণ, তাদের মাধ্যম ব্যবহার করে সমাজে অস্থিরতা তৈরি করা হয়েছে, এখানে তারা দায় এড়াতে পারে না।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা অবশ্যই কোনও কিছু নিয়ন্ত্রণ করতে চাই না। কিন্তু সবকিছুই এমনভাবে পরিচালিত হওয়া প্রয়োজন, যাতে খারাপ কাজে ব্যবহৃত না হয়। সেখানে যাতে স্বচ্ছতা থাকে। ফেসবুকে পরিচয় গোপন করে ফেইক আইডি দিয়ে পোস্ট দেওয়া হয়, তাকে আর খুঁজে পাওয়া যায় না। এটির তো প্রতিকার হওয়া দরকার। সামাজিক মাধ্যম আজকের পৃথিবীর বাস্তবতা। এটির অনেক ভালো দিক আছে।

মন্ত্রী জানান, অনিয়মিত অনেক দৈনিক পত্রিকা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। আরও অন্তত ২শ’ পত্রিকা যেগুলো বের হয় না, সেগুলোর ব্যাপারেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সংবাদপত্র যদি সঠিকভাবে বিল না পায় তাহলে তাদের পক্ষে সংবাদপত্র পরিচালনা করা, সংশ্লিষ্ট সাংবাদিক, কর্মচারীসহ সবার বেতন ভাতা পরিশোধ করা কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। সার্বিকভাবে রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ গণমাধ্যম ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সুতরাং এটি যাতে না হয়, আমরা খেয়াল রাখছি।

/এসআই/এমএস/এমওএফ/

সম্পর্কিত

এই হামলা হিন্দুদের ওপর নয়, বাংলাদেশের চেতনার ওপর: তথ্যমন্ত্রী

এই হামলা হিন্দুদের ওপর নয়, বাংলাদেশের চেতনার ওপর: তথ্যমন্ত্রী

সাংবাদিকতার নামে ভণ্ডামি করলে মেনে নেওয়া হবে না: তথ্য প্রতিমন্ত্রী

সাংবাদিকতার নামে ভণ্ডামি করলে মেনে নেওয়া হবে না: তথ্য প্রতিমন্ত্রী

আইন অনুযায়ী বিদেশি চ্যানেল বিজ্ঞাপনমুক্তভাবে সম্প্রচার করতে হয়: তথ্যমন্ত্রী

আইন অনুযায়ী বিদেশি চ্যানেল বিজ্ঞাপনমুক্তভাবে সম্প্রচার করতে হয়: তথ্যমন্ত্রী

কোনও সাংবাদিক অহেতুক হয়রানির শিকার হবেন না: তথ্যমন্ত্রী

কোনও সাংবাদিক অহেতুক হয়রানির শিকার হবেন না: তথ্যমন্ত্রী

সর্বশেষসর্বাধিক
quiz

লাইভ

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

অভিনেতা মাহমুদ সাজ্জাদের মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রীর শোক

অভিনেতা মাহমুদ সাজ্জাদের মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রীর শোক

একশ’ কোটি মানুষকে করোনার টিকা দেওয়ায় মোদিকে প্রধানমন্ত্রীর অভিনন্দন

একশ’ কোটি মানুষকে করোনার টিকা দেওয়ায় মোদিকে প্রধানমন্ত্রীর অভিনন্দন

মান বজায় রেখে ‘বীর নিবাস’ নির্মাণ নিশ্চিত করতে হবে: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী

মান বজায় রেখে ‘বীর নিবাস’ নির্মাণ নিশ্চিত করতে হবে: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী

বিএনপির দৃষ্টিসীমা এখন কুয়াশাচ্ছন্ন: ওবায়দুল কাদের

বিএনপির দৃষ্টিসীমা এখন কুয়াশাচ্ছন্ন: ওবায়দুল কাদের

ডলফিন হত্যাকারীদের তথ্য দিলে পুরস্কার দেওয়া হবে: পরিবেশ ও বনমন্ত্রী

ডলফিন হত্যাকারীদের তথ্য দিলে পুরস্কার দেওয়া হবে: পরিবেশ ও বনমন্ত্রী

মাঝে মধ্যে কিছু ঘটিয়ে দেশের ভাবমূর্তি নষ্টের অপচেষ্টা হচ্ছে: প্রধানমন্ত্রী

মাঝে মধ্যে কিছু ঘটিয়ে দেশের ভাবমূর্তি নষ্টের অপচেষ্টা হচ্ছে: প্রধানমন্ত্রী

টিকা নিয়ে দেশে এলে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে থাকতে হবে না

টিকা নিয়ে দেশে এলে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে থাকতে হবে না

সর্বশেষ

ভারতকে হারিয়ে ভাগ্য বদলালো পাকিস্তান

ভারতকে হারিয়ে ভাগ্য বদলালো পাকিস্তান

রাজধানীতে পৃথক ঘটনায় ছুরিকাঘাতে আহত ৩

রাজধানীতে পৃথক ঘটনায় ছুরিকাঘাতে আহত ৩

‘ইরাকে সরকার গঠনে বিদেশি হস্তক্ষেপ গ্রহণযোগ্য নয়’

‘ইরাকে সরকার গঠনে বিদেশি হস্তক্ষেপ গ্রহণযোগ্য নয়’

সাম্প্রদায়িক শক্তির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ার আহ্বান পররাষ্ট্রমন্ত্রীর

সাম্প্রদায়িক শক্তির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ার আহ্বান পররাষ্ট্রমন্ত্রীর

নোয়াখালীতে পূজামণ্ডপে হামলার ঘটনায় আরও ৪ জন গ্রেফতার

নোয়াখালীতে পূজামণ্ডপে হামলার ঘটনায় আরও ৪ জন গ্রেফতার

© 2021 Bangla Tribune