X
রবিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২১, ৭ কার্তিক ১৪২৮

সেকশনস

ভাসানচরে শরণার্থী স্থানান্তরে স্বস্তি, রাখাইনে ফেরানো লক্ষ্য

আপডেট : ২৫ আগস্ট ২০২১, ১১:৪৬

মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর হত্যা ও নির্যাতনের ‍মুখে ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট রোহিঙ্গাদের ঢল নামার পর কেটে গেছে চার বছর। তবে বাস্তুচ্যুত শরণার্থীদের নিজ দেশে ফেরাতে পারেনি বাংলাদেশ। সরকার এ বিষয়ে চেষ্টা চালিয়ে গেলেও খুব বেশি আগানো যায়নি। এরই মধ্যে গত ডিসেম্বরে রোহিঙ্গাদের বিচ্ছিন্ন দ্বীপ ভাসানচরে স্থানান্তর শুরু হয়, এতে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন কর্মকর্তারা। তবে তারা বলছেন রোহিঙ্গাদের ফিরতে হবে নিজ দেশে, এটাই সমাধান। এ লক্ষ্যে কাজ চলছে। 

সংশ্লিষ্টরা জানান, ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট সাত লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়ার আগেও রোহিঙ্গা কয়েক লাখ রোহিঙ্গা এদেশে আশ্রয় নিয়েছিল। তবে নতুন করে রোহিঙ্গাদের আসার পরিপ্রেক্ষিতে তাদের প্রত্যাবাসনের দাবি জোরালো হয়। 

এ অবস্থায় প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া থমকে যাওয়ার কারণ জানতে চাইলে শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি) শাহ রেজওয়ান হায়াত বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, “প্রত্যাবাসনের প্রক্রিয়াটি চলমান, বিষয়টি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দেখছে। তারা সব ঠিক করে যখন আমাকে দিন ধার্য্য করে দেবে, তখন রোহিঙ্গাদের পাঠানোর দায়িত্ব আমার।”

“ভাসানচরে রোহিঙ্গাদের পাঠানোকে প্রাথমিক সাফল্য মনে করছি আমরা। তবে চূড়ান্ত সাফল্য তখনই, যখন তাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানো যাবে,” যোগ করেন এই অতিরিক্ত সচিব।

রোহিঙ্গারা নিজের ইচ্ছায় ভাসানচরে গেছে উল্লেখ করে আরআরআরসি বলেন, “কক্সবাজারে বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গার ঝুঁকিপূর্ণভাবে অবস্থানের বিষয়টিকে বিবেচনায় নিয়ে সরকার নিজের টাকায় ভাসানচরে তাদের উন্নত ও নিরাপদ জীবন আর জীবিকা নিশ্চিত করতে এই উদ্যোগ নিয়েছে। ইতোমধ্যে কয়েক দফায় স্বেচ্ছায় ১৮ হাজারের বেশি রোহিঙ্গাকে সেখানে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।”

ভাসানচরে স্থানান্তর হওয়া রোহিঙ্গারা বর্তমানে স্থানান্তর প্রক্রিয়া বন্ধ থাকলেও আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই কক্সবাজার থেকে একলাখ রোহিঙ্গাকে ভাসানচরে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানান তিনি।   

গত বছরের সেপ্টেম্বরের শুরুতে কক্সবাজারের ক্যাম্প থেকে নোয়াখালীর ভাসানচর আশ্রয়ণ প্রকল্প পরিদর্শনে যান দুই নারীসহ ৪০ সদস্যের রোহিঙ্গা প্রতিনিধি দল। ফিরে এসে প্রতিনিধি দল সেখানে গড়ে উঠা আবাসন প্রকল্পের অবকাঠামো দেখে সন্তুষ্টি প্রকাশের চার মাসের মাথায় ডিসেম্বরের শেষে দিকে ভাসানচরে রোহিঙ্গাদের প্রথম দলটি স্থানান্তর হয়। তবে এর আগে মে মাসে সাগর পথে মালয়েশিয়া পালানোর সময় উদ্ধার হওয়া দুই শতাধিক নারী ও শিশু মোট ৩০৬ রোহিঙ্গাকে ভাসানচরে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল।

ভাসানচরে ২০১৫ সালে প্রথম শরণার্থীদের বসবাসের জন্য আবাসন গড়ার পরিকল্পনা করা হয়। সে সময় চরটিতে কোনও জনবসতি ছিল না। ২০১৭ সালের আগস্টে মিয়ানমার থেকে সাত লাখের বেশি রোহিঙ্গা প্রাণভয়ে বাংলাদেশের কক্সবাজারে পালিয়ে এলে চরটিতে অবকাঠামো গড়ার পরিকল্পনা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

টেকনাফ ও উখিয়ায় অবস্থিত শরণার্থী শিবিরগুলোর জনাকীর্ণ অবস্থা এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ভাসানচর পরিকল্পনা (আশ্রয়ণ-৩ প্রকল্প) দ্রুত বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেয়। পলি জমে প্রাকৃতিকভাবে গড়ে ওঠা ভাসানচরে ২০১৮ সালের শুরুর দিকে নির্মাণকাজ শুরু হয়। সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে দুই হাজার ৩১২ কোটি টাকা ব্যয়ে মাত্র দেড় বছরে চরটিতে এক লাখ মানুষের বসবাসের উপযোগী অবকাঠামো গড়ে তোলা হয়।

যেভাবে ভাসানচরে যাত্রা
গত বছরের ডিসেম্বরে ৮৮৪ শিশুসহ এক হাজার ৬৪২ জন রোহিঙ্গা সদস্যের প্রথম দল কক্সবাজারের ক্যাম্প থেকে ভাসানচরে স্থানান্তর করা হয়। কয়েক দফা মিলে এখন পর্যন্ত ১৮ হাজার ৫২১ জন রোহিঙ্গা ভাসানচরের নতুন ঠিকানায় এসেছেন। তার মধ্যে পুরুষ চার হাজার ৪০৯ জন। নারী পাঁচ হাজার ৩১৯ জন। শিশু আট হাজার ৭৯০। ভাসানচরে এ পর্যন্ত জন্ম নিয়েছে ২৬০ রোহিঙ্গা শিশু।

কক্সবাজারের ক্যাম্পের ঘিঞ্জি ক্যাম্পের চেয়ে সেখানকার বসতি অনেক উন্নত মানের জানিয়ে ভাসানচর ৫৩ ক্লাস্টারের বাসিন্দা নুরুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, “আসলে ভাসানচর দেখতে আধুনিক শহরের মতো। সেখানে গড়ে তোলা অবকাঠামোসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা ভালো। এখানে আর বৃষ্টিতে পাহাড় ধসের দুশ্চিন্তায় নেই আমরা। নিরাপত্তার পাশাপাশি শিশুদের জন্য মনোমুগ্ধকর পরিবেশ রয়েছে। রয়েছে বিভিন্ন ধরনের শাকসবজির বাগান। আছে মহিষ পালন ও মাছ ধরার ব্যবস্থা।”

রোহিঙ্গা শিশুদের পড়াশোনা ও বিনোদনের সুযোগ রয়েছে ভাসানচরে ভাসানচরের আশ্রয়ণ প্রকল্পের একটি গুচ্ছগ্রামের ‘ফোকাল’ (সমন্বয়ক) রোহিঙ্গা নেতা মোহাম্মদ জুবাইর বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, “কক্সবাজারের শিবিরগুলোর ঘিঞ্জি পরিবেশ, বর্ষায় পাহাড় ধস-বন্যা, শিশুদের খেলার মাঠ নেই। আছে মারামারি, মাদক ও অপহরণের ঘটনা। কিন্তু ভাসানচরে এসব ঝামেলা নেই। ভাসানচর খোলামেলা সমতল জায়গা, ঘরগুলো অনেক সুন্দর, শিশুদের জন্য খেলার মাঠ আছে, চাষাবাদের সুবিধা আছে।”

‘তবে রোহিঙ্গা কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শিবিরে স্বজনদের সঙ্গে দেখা করা এবং কেনাকাটার জন্য নোয়াখালী সদরে যাওয়ার সুযোগ চাই আমরা। সেটি পেলে হয়তো এখান থেকে রোহিঙ্গারা পালানোর চেষ্টা করবে না।’ 

সম্প্রতি সময়ে এখান থেকে পালানোর সময় ট্রলার ডুবিতে প্রাণ হারায় ১৩ জন রোহিঙ্গা, যোগ করেন তিনি।

আজ ২৫ আগস্ট রোহিঙ্গাদের জন্য কালো দিন। তবে করোনা পরিস্থিতির কারণে কোনও আয়োজন করা সম্ভব হচ্ছে না বলে জানান রোহিঙ্গা সংগঠন আরাকান রোহিঙ্গা সোসাইটি ফর পিস অ্যান্ড হিউম্যান রাইটস (এআরএসপিএইচ) নেতা সৈয়দ উল্লাহ।

থমকে আছে প্রত্যাবাসন
সরকারি কর্মকর্তারা জানান, ১৬ বছর বন্ধ থাকার পর রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরু করতে ২০১৭ সালের নভেম্বরে বাংলাদেশ ও মিয়ানমার চুক্তি সই করেছিল। এর পরের বছরের ফেব্রুয়ারিতে প্রত্যাবাসন শুরু করতে পররাষ্ট্রসচিব পর্যায়ে ‘জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপ’ গঠন করা হয়। গ্রুপটির চতুর্থ ও শেষ বৈঠক হয় দুই বছর আগে মে মাসে মিয়ানমারের নেপিদোতে। গত বছর ফেব্রুয়ারিতে পঞ্চম বৈঠকটি করতে চেয়েছিল বাংলাদেশ, মিয়ানমারের অভ্যুত্থান পরিস্থিতির কারণে তা হয়নি। ২০১৯ সালের ২২ আগস্ট টেকনাফের শালবন ক্যাম্প থেকে প্রত্যাবাসন শুরু হওয়ার কথা থাকলেও রোহিঙ্গারা জড়ো হয়ে ফিরে যেতে তাদের অনীহার কথা জানান। এভাবেই বহুল প্রত্যাশিত রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন হোঁচট খায়। আগের বছরের ১৫ নভেম্বরও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরুর কথা ছিল। সেবারও রোহিঙ্গাদের আপত্তির মুখে তা শুরু করা যায়নি।

ভাসানচরে রোহিঙ্গা শিশুদের পড়াশোনার ব্যবস্থা করা হয়েছে আরআরআরসি কার্যালয় জানায়, প্রত্যাবাসনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে মিয়ানমারের কাছে গত বছরের মার্চ পর্যন্ত পাঁচ ধাপে মোট পাঁচ লাখ ৯৭ হাজার রোহিঙ্গার তালিকা দিয়েছে বাংলাদেশ। এর মধ্যে ওই বছরের শুরুতেই একসঙ্গে চার লাখ ৯২ হাজার রোহিঙ্গার তালিকা দেওয়া হয়েছে। এসব তালিকা থেকে এখন পর্যন্ত মাত্র ১১ হাজার রোহিঙ্গাকে মিয়ানমার ফেরত নেওয়ার কথা বলেছিল, কিন্তু এখনও নেয়নি।

এদিকে ভাসানচরে স্থানান্তর নিয়ে প্রথম থেকেই জাতিসংঘের আপত্তি ছিল। ফলে অনিশ্চয়তায় ছিল জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা। অবশেষে ভাসানচরে সহায়তা দিতে রাজি হয়েছে জাতিসংঘ। দূর হয়ে গেছে সব মতভেদ। সেপ্টেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে ভাসানচরে কাজ শুরু করতে যাচ্ছে সংস্থাটি। সামনের সপ্তাহে এ নিয়ে চুক্তি হবে। 

উখিয়া উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন সংগ্রাম কমিটির সভাপতি মাহমুদুল হক চৌধুরী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বর্তমান পরিস্থিতিতে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের মাধ্যমে এ সমস্যার টেকসই সমাধানে জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আরও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। নয়তো বাংলাদেশকে রোহিঙ্গাদের নিয়ে সমস্যায় পড়তে হবে।”

/টিটি/

সম্পর্কিত

ক্যাম্পে ৬ রোহিঙ্গা হত্যার ঘটনায় মামলা

ক্যাম্পে ৬ রোহিঙ্গা হত্যার ঘটনায় মামলা

উগ্রবাদের স্থান বাংলাদেশে হবে না: হানিফ

উগ্রবাদের স্থান বাংলাদেশে হবে না: হানিফ

পূজামণ্ডপে কোরআন রাখার ঘটনা সাজানো: ইনু

পূজামণ্ডপে কোরআন রাখার ঘটনা সাজানো: ইনু

নোয়াখালীতে পূজামণ্ডপ ভাঙচুর, ২৫ মামলায় গ্রেফতার ১৭৪

নোয়াখালীতে পূজামণ্ডপ ভাঙচুর, ২৫ মামলায় গ্রেফতার ১৭৪

ক্যাম্পে ৬ রোহিঙ্গা হত্যার ঘটনায় মামলা

আপডেট : ২৪ অক্টোবর ২০২১, ০৪:০৩

মুখোশধারী সন্ত্রাসীদের হামলায় শুক্রবার (২২ অক্টোবর) ভোরে তিন মাদ্রাসা শিক্ষক ও একজন ছাত্রসহ ছয় রোহিঙ্গা নিহতের ঘটনায় মামলা হয়েছে। শনিবার রাতে কক্সবাজারের উখিয়া থানায় মামলাটি দায়ের করা হয়।

রাত একটায় মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) রফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘মামলায় ২৫ জনের নাম উল্লেখ এবং ২০০-২৫০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে। আসামিদের ধরতে পুলিশের অভিযান চলছে।’

রোহিঙ্গারা জানান, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে রাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে ক্যাম্প পাহারা শেষে বেশ কয়েকজন রোহিঙ্গা স্বেচ্ছাসেবী ক্যাম্পের ভেতরে অবস্থিত ‘দারুল উলুম নাদওয়াতুল ওলামা আল-ইসলামিয়া’ মাদ্রাসায় ঘুমাতেন। শুক্রবার ভোরে ওই মসজিদে অতর্কিত আগ্নেয়াস্ত্র ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালিয়ে ৬ রোহিঙ্গাকে হত্যা করে সন্ত্রাসীরা।

গত ২৯ সেপ্টেম্বর রোহিঙ্গাদের শীর্ষস্থানীয় নেতা মুহিবউল্লাহ হত্যার ২৩ দিনের মাথায় সশস্ত্র ও মুখোশধারী সন্ত্রাসীদের হামলায় শুক্রবার এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটলো।

মিয়ানমার সেনাবাহিনীর দমনপীড়নের মুখে ২০১৭ সালের ২৫ আগস্টের পর দেশটির রাখাইন রাজ্য থেকে বাংলাদেশে আশ্রয় নেন প্রায় সাড়ে সাত লাখ রোহিঙ্গা। বর্তমানে নতুন ও পুরনো মিলে কক্সবাজারের ৩৪টি রোহিঙ্গা শিবির এবং নোয়াখালীর ভাসানচরে বসবাস করছেন প্রায় ১১ লাখ রোহিঙ্গা।

আরও পড়ুন...

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ৬ জনকে হত্যা, আটক ৮

 

/আইএ/

সম্পর্কিত

উগ্রবাদের স্থান বাংলাদেশে হবে না: হানিফ

উগ্রবাদের স্থান বাংলাদেশে হবে না: হানিফ

পূজামণ্ডপে কোরআন রাখার ঘটনা সাজানো: ইনু

পূজামণ্ডপে কোরআন রাখার ঘটনা সাজানো: ইনু

নোয়াখালীতে পূজামণ্ডপ ভাঙচুর, ২৫ মামলায় গ্রেফতার ১৭৪

নোয়াখালীতে পূজামণ্ডপ ভাঙচুর, ২৫ মামলায় গ্রেফতার ১৭৪

এখন জামায়াতের অস্তিত্ব বলতে কিছু নেই: গয়েশ্বর

এখন জামায়াতের অস্তিত্ব বলতে কিছু নেই: গয়েশ্বর

উগ্রবাদের স্থান বাংলাদেশে হবে না: হানিফ

আপডেট : ২৪ অক্টোবর ২০২১, ০৩:৩৪

উগ্রবাদের স্থান বাংলাদেশে হবে না জানিয়ে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ বলেছেন, ‘উগ্রবাদের বিরুদ্ধে আমাদের সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি তাদের রুখতে হবে। দেশের বিভিন্ন স্থানে সাম্প্রদায়িক হামলার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করতে হবে। ধর্মান্ধতা মানুষকে উগ্রবাদের দিকে নিয়ে যায়। এই নাগরিক শোকসভা থেকে আমাদের মৌলবাদী গোষ্ঠীকে চিরতরে নিপাত করার শপথ নিতে হবে। শেখ হাসিনার একজন কর্মীও থাকতে এই বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করতে দেওয়া হবে না। অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ আমরা গড়বই।’

শনিবার (২৩ অক্টোবর) বেলা তিনটার দিকে চট্টগ্রাম নগরীর কাজির দেউড়িস্থ ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে প্রয়াত আওয়ামী লীগ নেতা তারেক সোলেমান সেলিমের নাগরিক শোকসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মাহবুব-উল আলম হানিফ বলেন, ‘দেশে যারা অরাজকতা করতে চাই, সময় এসেছে তাদের রুখে দেওয়ার। তাদের দাঁত ভাঙা জবাব দিতে হবে। হামলাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। এ পর্যন্ত যতগুলো সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে, প্রতিটি ঘটনার বিচার হবে। যদি সাধারণ আইনে না হয়, তাহলে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করে অপকর্মকারীদের বিচার করা হবে। আমরা মানুষের মধ্যে যে শঙ্কা ও ভীতি রয়েছে, তা দূর করতে চাই।’

তিনি বলেন, ‘১৯৭৫ সালে জাতির পিতাকে হত্যার মধ্য দিয়ে পাকিস্তানের প্রেতাত্মারা ক্ষমতা দখল করে বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িকতার বীজ বপন করেছিল। সম্প্রতি সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী আবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। আওয়ামী লীগের ত্যাগী নেতা তারেক সোলেমান সেলিমের এ শোকসভায় আমাদের অঙ্গীকার করতে হবে, আমরা এই বাংলাদেশ থেকে ধর্মান্ধ-জঙ্গি গোষ্ঠীর চিরতরে নিপাত করতে চাই। ধর্মের অপব্যাখ্যা করে অন্য সম্প্রদায়ের ধর্ম পালনে বাঁধা দেওয়া হচ্ছে, যেটা কখনও বরদাস্ত করার মতো নয়। আমরা ধর্মপরায়ণ হতে চাই, ধর্মান্ধ হতে চাই না।’

হানিফ বলেন, ‘আমরা ক্ষমতায় আছি। কিন্তু কঠিন সময় অতিক্রম করছি। শান্তি, সম্প্রীতি এবং অগ্রগতি রক্ষায় যে শুভযাত্রায় আমাদের নেত্রী নিবেদিত হয়েছেন, তাকে বানচাল করার জন্য একটি অপশক্তি জেগে উঠেছে। তাদের প্রতিহত করতে হবে।’

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ও নাগরিক শোকসভা কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোছলেম উদ্দিন আহমেদ এম.পি, নগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সিটি মেয়র আ.জ.ম নাছির উদ্দীন, দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান, বাংলাদেশ আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক আফজালুর রহমান বাবু প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক একেএম আফজালুর রহমান বাবু বলেন, ‘তারেক সোলেমানরা আওয়ামী লীগের জন্য সম্পদ। তাদের হারিয়ে যেতে দেওয়া যাবে না। সব সময় তারা দলের দুঃসময়ে এগিয়ে এসেছেন। দলকে সংগঠিত করেছেন। যখনই আমরা আওয়ামী লীগের ক্রান্তিকাল দেখেছি সেলিম ভাইকে দলের জন্য জীবনবাজি রাখতে দেখেছি। দলের নেতাকর্মীদের কল্যাণের জন্য নিজেকে সব সময় নিবেদিত করেছেন। এগিয়ে এসেছেন নেতাকর্মীদের খারাপ সময়ে।’

 

/আইএ/

সম্পর্কিত

ক্যাম্পে ৬ রোহিঙ্গা হত্যার ঘটনায় মামলা

ক্যাম্পে ৬ রোহিঙ্গা হত্যার ঘটনায় মামলা

পূজামণ্ডপে কোরআন রাখার ঘটনা সাজানো: ইনু

পূজামণ্ডপে কোরআন রাখার ঘটনা সাজানো: ইনু

নোয়াখালীতে পূজামণ্ডপ ভাঙচুর, ২৫ মামলায় গ্রেফতার ১৭৪

নোয়াখালীতে পূজামণ্ডপ ভাঙচুর, ২৫ মামলায় গ্রেফতার ১৭৪

এখন জামায়াতের অস্তিত্ব বলতে কিছু নেই: গয়েশ্বর

এখন জামায়াতের অস্তিত্ব বলতে কিছু নেই: গয়েশ্বর

নৌকা পেলেন ‘রাজাকার পরিবারের’ দুই সন্তান, মুক্তিযোদ্ধাদের ক্ষোভ

আপডেট : ২৪ অক্টোবর ২০২১, ০১:৪৪

আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ‘রাজাকার পরিবারের’ দুই সন্তান যশোরের বাঘারপাড়া ও মণিরামপুরে আওয়ামী লীগের দলীয় প্রতীক-নৌকা পেয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় দলের স্থানীয় নেতাকর্মীসহ মুক্তিযোদ্ধারা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাদের দাবি, রাজাকার পরিবারের সন্তানরা জনপ্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচিত হবে—এটি জাতির জন্য কলঙ্কের।

সম্প্রতি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থীদের তালিকা কেন্দ্রীয়ভাবে ঘোষণা করা হয়। এতে যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নে বিল্লাল হোসেন এবং মণিরামপুরের চালুয়াহাটি ইউনিয়নে দলীয় মনোনয়ন পান আবুল ইসলাম।

মনোনয়ন বাতিলের আবেদন অভিযোগ উঠেছে, বিল্লাল স্বাধীনতাযুদ্ধের বিরোধিতাকারী তৎকালীন শান্তি কমিটির স্থানীয় সভাপতি মোহাম্মদ আলীর ছেলে। স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ডের এমন সিদ্ধান্তে স্বাধীনতাযুদ্ধের বিরোধিতাকারীর ছেলে নৌকার প্রার্থী হওয়ায় মুক্তিযোদ্ধা ও আওয়ামী লীগের তৃণমূলের নেতাকর্মীরা মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছেন। শনিবার বিকালে (২৩ অক্টোবর) বাঘারপাড়ার রায়পুর ইউনিয়ন পরিষদের সামনে তারা ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধন এবং শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে রায়পুর বাজার প্রদক্ষিণ করেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাঘারপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুক্তিযোদ্ধা হাসান আলী বলেন, ‘স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ডে রায়পুর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন বিল্লাল হোসেন। উনার বাবা কুখ্যাত রাজাকার মোহাম্মদ আলী। তার বড়ভাই শাহাদত হোসেনও রাজাকার ছিলেন।’

মনোনয়ন বাতিলের আবেদন তিনি বলেন, ‘রাজাকার পরিবারের কেউ জনপ্রতিনিধি হলে তা জাতির জন্যে কলঙ্কের। এ কারণে আমরা চাই, বিল্লালের মনোনয়ন বাতিল করে নতুন কাউকে দেওয়া হোক।’

অপরদিকে, মণিরামপুর উপজেলার চালুয়াহাটি ইউনিয়নে নৌকার প্রার্থী করা হয়েছে উপজেলার আটঘরা গ্রামের দিনু রাজাকারের ছেলে আবুল ইসলামকে। তার মনোনয়ন বাতিল দাবিতে ইতোমধ্যে ইউনিয়ন কমিটির নেতৃবৃন্দসহ মুক্তিযোদ্ধারা দলের হাই কমান্ডে দরখাস্ত পাঠিয়েছেন।

জানতে চাইলে চালুয়াহাটি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক, জেলা পরিষদের সদস্য শহীদুল ইসলাম মিলন বলেন, ‘আবুল ইসলামের বাবা দিনু রাজাকার পাকিস্তান আর্মিদের খাবার রান্নাসহ তাদের অন্যান্য মালামাল সরবরাহ করতেন। আমরা তার মনোনয়ন বাতিলের দাবি জানিয়েছি।’

জানতে চাইলে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক প্রভাষক ফারুক হোসেন বলেন, ‘দিনু রাজাকার ছিলেন—এ সংক্রান্ত কোনও তথ্য আমার কাছে নেই। আমাকে কেউ অভিযোগও করেনি।’

এদিকে, যশোরে দুই রাজাকারের ছেলে নৌকা প্রতীক পাওয়ায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সরগরম হয়েছে। তাদের মনোনয়ন বাতিলেরও দাবি জানানো হয়েছে সেখানে।

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শহিদুল ইসলাম মিলন বলেন, ‘বিষয়টি আমার জানা নেই। তাছাড়া মনোনয়ন সংক্রান্তে আমাদের কোনও হাতও নেই। এটি কেন্দ্রের ব্যাপার।’

 

/আইএ/

সম্পর্কিত

জালিয়াতি করে আড়াই কোটি টাকা তুলে নিলেন হিসাব সহকারী

জালিয়াতি করে আড়াই কোটি টাকা তুলে নিলেন হিসাব সহকারী

ফেসবুকে একাধিক উসকানিমূলক পোস্ট, যুবক গ্রেফতার

ফেসবুকে একাধিক উসকানিমূলক পোস্ট, যুবক গ্রেফতার

ইউপি নির্বাচন নিয়ে দ্বন্দ্বে যুবক খুন

আপডেট : ২৪ অক্টোবর ২০২১, ০১:৩২

সিলেট শহরতলীর জালালাবাদ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দু’পক্ষের দ্বন্দ্বের জেরে আলা উদ্দিন ওরফে আলা (৪৫) নামে একজনকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। তিনি ইউনিয়নের আলীনগর গ্রামের মৃত আব্দুস সাত্তারের ছেলে। তিনি আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থী মোহাম্মদ ওবায়েদ উল্লাহ ইসহাকের সমর্থক ছিলেন।

শনিবার (২৩ অক্টোবর) দুপুরের দিকে এ ঘটনা ঘটে। রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তিনি মারা যান।

শনিবার রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেন মহানগর পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার আশরাফ উল্যাখ তাহের। তিনি বলেন, ‘ইউপি নির্বাচনে দুই পক্ষের দ্বন্দ্বের জের ধরে এ ঘটনা ঘটেছে। আলালকে অতর্কিতে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখ হয়েছে।’ 

এ ব্যাপারে আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থী ওবায়েদ উল্লাহ ইসহাক বলেন, ‘আলাকে পরিকল্পিতভাবে প্রতিপক্ষ কুপিয়ে হত্যা করেছে। তিনি আমার সমর্থক। ইউপি সদস্যদের দ্বন্দ্বের জেরে তাকে হত্যা করা হয়েছে।’

 

/আইএ/

সম্পর্কিত

‘রোহিঙ্গা ক্যাম্পে মাদক-অস্ত্র ব্যবসা বন্ধে গুলি ছুড়তে হবে’

‘রোহিঙ্গা ক্যাম্পে মাদক-অস্ত্র ব্যবসা বন্ধে গুলি ছুড়তে হবে’

ছুরিকাঘাতে ছাত্র খুনের ঘটনায় কলেজ বন্ধ ঘোষণা

ছুরিকাঘাতে ছাত্র খুনের ঘটনায় কলেজ বন্ধ ঘোষণা

কলেজের সামনে ছাত্রকে ছুরিকাঘাত করে হত্যা

কলেজের সামনে ছাত্রকে ছুরিকাঘাত করে হত্যা

এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে পুলিশের তল্লাশি

এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে পুলিশের তল্লাশি

জালিয়াতি করে আড়াই কোটি টাকা তুলে নিলেন হিসাব সহকারী

আপডেট : ২৩ অক্টোবর ২০২১, ২২:৫৭

যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ড থেকে চেক জালিয়াতি করে আরও দুই কোটি ৪৩ লাখ টাকা আত্মসাতের ঘটনা ধরা পড়েছে। বৃহস্পতিবার বিষয়টি ধরা পড়লে গোপনে দুদকে আরও একটি অভিযোগ দেয় শিক্ষাবোর্ড কর্তৃপক্ষ।

বোর্ডের হিসাব ও অডিট শাখার উপ-পরিচালক জানিয়েছেন, এই অনিয়মের সঙ্গে বোর্ডের হিসাব সহকারী আব্দুস সালাম ও ঠিকাদার শরিফুল ইসলাম বাবু জড়িত। তাদের বিরুদ্ধে এর আগে ৭ অক্টোবর আড়াই কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ ওঠে। ওই ঘটনায় ইতোমধ্যে দুদক বোর্ডের চেয়ারম্যান, সচিব, হিসাব সহকারী আব্দুস সালামসহ পাঁচ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে। সবমিলে ২৬টি চেকে ১৪ লাখ ৮৩ হাজার ৭৪২ টাকার বিপরীতে পাঁচ কোটি ৯ লাখ ৪৯ হাজার ৮৯৮ টাকা লোপাটের প্রমাণ পেয়েছে অডিট শাখা।

স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, চলতি অর্থবছরে সরকারি কোষাগারে জমার জন্য আয়কর ও ভ্যাট বাবদ ১০ হাজার ৩৬ টাকার নয়টি চেক ইস্যু করা হলেও চেক নয়টি দিয়ে দুই কোটি ৫০ লাখ ৪৪ হাজার ১০ টাকা উত্তোলন করে ভেনাস প্রিন্টিং অ্যান্ড প্যাকেজিং এবং শাহীলাল স্টোর নামে দুটি প্রতিষ্ঠানের মালিকরা।

গত ৭ অক্টোবর এই ঘটনা প্রকাশ পাওয়ার পর বোর্ডের হিসাব ও অডিট বিভাগ তাদের অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা অব্যাহত রাখে। ফলে গত ১৮ অক্টোবর পাঁচটি চেকে চার লাখ ৫৬ হাজার ৭৬৪ টাকার স্থলে ২১ লাখ ৯৮ হাজার ৯২৯ টাকা উত্তোলনের তথ্য পাওয়া যায়।

গত ২১ অক্টোবর ১১টি চেকের বিপরীতে ১০ লাখ ১৫ হাজার ২৬৬ টাকার স্থলে দুই কোটি ২১ লাখ ৮ হাজার ৯৪৯ টাকা উত্তোলনের তথ্য পাওয়া যায়। এরপর বিষয়টি হিসাব শাখা থেকে বোর্ডের সচিবকে পত্র দিয়ে অবহিত করা হয়। ওই দিনই বোর্ডের সচিব দুদক যশোরে নতুন করে দুই কোটি ৪৩ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ দেয়।

অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০১৭ সালের ২১ আগস্ট বিজনেস আইটি নামে একটি প্রতিষ্ঠানের নামে আয়কর বাবদ ১২ হাজার ২৭৬ টাকা তুলে নেওয়া হয়। একই সালের ৪ অক্টোবর শহরের জামে মসজিদ লেনের নূর এন্টারপ্রাইজ নামে ৫৯ হাজার ৩৫ টাকা তুলে নেওয়া হয়েছে। ২০১৯ সালের ২৯ এপ্রিল মেসার্স খাজা প্রিন্টিং প্রেসের নামে দুই লাখ ৯৮ হাজার ৫৩০ টাকা ও নিহার প্রিন্টিং প্রেসের নামে দুই লাখ ৯৮ হাজার ৫৩০ টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। এভাবে নয়টি প্রতিষ্ঠানের নামে আরও দুই কোটি ৪৩ লাখ সাত হাজার ৮৭৮ টাকা তুলে নিয়েছেন হিসাব সহকারী আব্দুস সালাম। এর মধ্যে সেকশন অফিসার আবুল কালাম আজাদের নামে ৯৪ হাজার ৩১৬ টাকা ও আব্দুস সালামের নিজ নামে ২৫ লাখ ৮০ হাজার ১০ টাকা তুলে নেওয়া হয়েছে।

যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের হিসাব ও নীরিক্ষা বিভাগের উপ-পরিচালক এমদাদুল হক জানান, তারা আরও প্রায় আড়াই কোটি টাকার চেক জালিয়াতির প্রমাণ পেয়েছেন। যা ২১ অক্টোবর দুদকে অভিযোগ আকারে জমা দিয়েছেন। ওই সময় বর্তমানে চেয়ারম্যান মোল্লা আমির হোসেন বোর্ডের সচিব ছিলেন। হিসাব সহকারী আব্দুস সালাম তখনও হিসাব শাখার দায়িত্বে ছিলেন। এসব অনিয়মের সঙ্গে সরাসরি জড়িত আব্দুস সালামের অন্যতম সহযোগী বোর্ডের ঠিকাদার শরিফুল ইসলাম বাবু। তিনি বিভিন্ন ভুয়া প্রতিষ্ঠানের নামে দীর্ঘদিন বোর্ডে কাজ করছেন। সেসব প্রতিষ্ঠানের নামেই চেকগুলো দিয়ে অতিরিক্ত টাকা উত্তোলন করে আত্মসাৎ করেছেন। এখন দুদক বিষয়টি খতিয়ে দেখবে।

দুদকের যশোর কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মো. নাজমুচ্ছায়াদাত বলেন, আমাদের কাছে আরও প্রায় আড়াই কোটি টাকা জালিয়াতির অভিযোগ করা হয়েছে। কারা করেছে তা খুঁজে বের করা হবে।

এর আগে ১৮ অক্টোবর আড়াই কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে পাঁচ জনকে আসামি করে মামলা করে দুদক। দুর্নীতি দমন কমিশনের সমন্বিত জেলা কার্যালয় যশোরের সহকারী পরিচালক মাহফুজ ইকবাল বাদী হয়ে এই মামলা করেন।

ওই মামলায় অভিযুক্তরা হলেন যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোল্লা আমীর হোসেন, সচিব অধ্যাপক এএম এইচ আলী আর রেজা, হিসাব সহকারী আব্দুস সালাম, প্রতারক প্রতিষ্ঠান ভেনাস প্রিন্টিং অ্যান্ড প্যাকেজিংয়ের মালিক রাজারহাট এলাকার বাসিন্দা আবদুল মজিদ আলীর ছেলে শরিফুল ইসলাম বাবু ও শেখহাটি জামরুলতলা এলাকার শাহীলাল স্টোরের মালিক মৃত সিদ্দিক আলী বিশ্বাসের ছেলে আশরাফুল আলম। 

মামলা হওয়ার পর ওই দিন রাতেই চেয়ারম্যান ও সচিব তাদের বাংলো থেকে বের হয়ে যান। এরপর তারা কেউ অফিসে আসেননি।

যশোর শিক্ষাবোর্ডের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান অধ্যাপক মাধব চন্দ্র রুদ্র আরও আড়াই কোটি টাকা জালিয়াতির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

/এএম/

সম্পর্কিত

নৌকা পেলেন ‘রাজাকার পরিবারের’ দুই সন্তান, মুক্তিযোদ্ধাদের ক্ষোভ

নৌকা পেলেন ‘রাজাকার পরিবারের’ দুই সন্তান, মুক্তিযোদ্ধাদের ক্ষোভ

ফেসবুকে একাধিক উসকানিমূলক পোস্ট, যুবক গ্রেফতার

ফেসবুকে একাধিক উসকানিমূলক পোস্ট, যুবক গ্রেফতার

সর্বশেষসর্বাধিক
quiz

লাইভ

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

ক্যাম্পে ৬ রোহিঙ্গা হত্যার ঘটনায় মামলা

ক্যাম্পে ৬ রোহিঙ্গা হত্যার ঘটনায় মামলা

উগ্রবাদের স্থান বাংলাদেশে হবে না: হানিফ

উগ্রবাদের স্থান বাংলাদেশে হবে না: হানিফ

পূজামণ্ডপে কোরআন রাখার ঘটনা সাজানো: ইনু

পূজামণ্ডপে কোরআন রাখার ঘটনা সাজানো: ইনু

নোয়াখালীতে পূজামণ্ডপ ভাঙচুর, ২৫ মামলায় গ্রেফতার ১৭৪

নোয়াখালীতে পূজামণ্ডপ ভাঙচুর, ২৫ মামলায় গ্রেফতার ১৭৪

এখন জামায়াতের অস্তিত্ব বলতে কিছু নেই: গয়েশ্বর

এখন জামায়াতের অস্তিত্ব বলতে কিছু নেই: গয়েশ্বর

‘মুসল্লিদের সংঘবদ্ধ করে’ পূজামণ্ডপে হামলাচেষ্টার স্বীকারোক্তি

‘মুসল্লিদের সংঘবদ্ধ করে’ পূজামণ্ডপে হামলাচেষ্টার স্বীকারোক্তি

পূজামণ্ডপে কোরআন যে রেখেছে সে ওসিকে খবর দিয়েছে: গয়েশ্বর

পূজামণ্ডপে কোরআন যে রেখেছে সে ওসিকে খবর দিয়েছে: গয়েশ্বর

মিতু হত্যা মামলায় এহতেশামুল হক ভোলার স্বীকারোক্তি

মিতু হত্যা মামলায় এহতেশামুল হক ভোলার স্বীকারোক্তি

মুহিবুল্লাহকে হত্যার নির্দেশ দিয়েছিল রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীদের শীর্ষ নেতারা

মুহিবুল্লাহকে হত্যার নির্দেশ দিয়েছিল রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীদের শীর্ষ নেতারা

সর্বশেষ

ক্যাম্পে ৬ রোহিঙ্গা হত্যার ঘটনায় মামলা

ক্যাম্পে ৬ রোহিঙ্গা হত্যার ঘটনায় মামলা

উগ্রবাদের স্থান বাংলাদেশে হবে না: হানিফ

উগ্রবাদের স্থান বাংলাদেশে হবে না: হানিফ

মালদ্বীপে আকর্ষণীয় হলিডে প্যাকেজ ঘোষণা ইউএস-বাংলার

মালদ্বীপে আকর্ষণীয় হলিডে প্যাকেজ ঘোষণা ইউএস-বাংলার

‘ইলেকট্রনিক্স শিল্প গার্মেন্টসকে ওভারটেক করবে’

সালমান এফ রহমানের ওয়ালটন কারখানা পরিদর্শন‘ইলেকট্রনিক্স শিল্প গার্মেন্টসকে ওভারটেক করবে’

এসডিজি অর্জনে ভূমিকা রাখবে উম্মুক্ত ডেটা

এসডিজি অর্জনে ভূমিকা রাখবে উম্মুক্ত ডেটা

© 2021 Bangla Tribune