X
বৃহস্পতিবার, ২৪ জুন ২০২১, ১০ আষাঢ় ১৪২৮

সেকশনস

কী নিয়ে কথা বলতে পারি?

আপডেট : ২৪ জানুয়ারি ২০১৬, ১২:১৭

আনোয়ার সাদী বেতনবৈষম্য ও মর্যাদার সমস্যা দূর করতে দেশের ৩৭টি পাবলিক  বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা এখন কর্মবিরতি পালন করছেন। এই আন্দোলন নিয়ে শিক্ষকদের পক্ষে-বিপক্ষে নানা কথা আছে। মানে একটা বিতর্ক আছে। এটাই কি এই মুহূর্তে আমাদের জাতীয় বিতর্ক?
মাত্র কয়েক দিন আগেও দেশে প্রচুর কথা হয়েছে পৌরসভা নির্বাচন নিয়ে। জাতির উদ্দেশে দেওয়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভাষণ নিয়েও। সে ভাষণে কোনও দিক নির্দেশনা পায়নি সংসদের বাইরে থাকা বিরোধী দল বিএনপি। তারা আশা করেছিল, জাতীয় নির্বাচনের মতো কোনও বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী হয়তো কথা বলবেন। কারণ, বিএনপি মনে করে, দেশে রাজনৈতিক সংকট আছে। আওয়ামী লীগ মনে করে, দেশে কোনও রাজনৈতিক সংকট নেই। বিএনপি রাজনৈতিক বুদ্ধিতে পিছিয়ে পড়েছে এবং ক্রমাগত জন- বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে। বিএনপি-আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক রসায়ন বা সমীকরণ নিয়ে প্রচুর কথা হয়েছে। আরও হয়তো হবে। এটাই কি এই মুহূর্তে আমাদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় আলোচনার বিষয়?
আসলে, জাতি হিসেবে আমাদের সবচেয়ে বড় ঝুঁকি কী? অল্প একটু জায়গায় আমরা অনেক মানুষ বাস করি। ১৬ কোটি মানুষ একেবারে কম নয়। দেশে দুর্ভিক্ষ নেই। বাজারে চাল-ডাল-আটা সব্জির সরবরাহ আছে। মানুষের গায়ে পোশাক আছে। আর এসব ব্যবস্থাপনা করে সরকার প্রধান শেখ হাসিনা আন্তর্জাতিক মহলে সুনাম কুড়িয়েছেন।
ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্যও দেশের এই জনসংখ্যা অনুকূল। ধরে নেই—প্রতিদিন তিন কোটি মানুষ যদি শেভ করে, তাহলে তিন কোটি ব্লেড লাগবে। প্রতিদিন তিন কোটি ব্লেড মানে মাসে কত? বছরে? মুনাফা কত। তা হলে দেশ খাবার, পোশাক নিত্যপণ্যের কত বড় বাজার? তাহলে কি সমস্যা নয়, আমাদের জাতীয় আলোচনার বিষয় হওয়া উচিত সম্ভাবনা নিয়ে? মানে সবাই মিলে আলোচনা করা, আরও সমৃদ্ধি, আরও কত-কত সুখ জাতির সামনে আছে তা নিয়ে কথা বলা?
বিশ্বে যখন মন্দা চলছিল, দেশের অর্থনীতিকে আগলে রাখা গেছে। ধন্যবাদ কার ঘরে যাবে? সরকারের রাজনৈতিক নেতৃত্ব না বাংলাদেশ ব্যাংক, সাধারণ মানুষের পরিশ্রম না রাজনৈতিক নেতাদের দূরদর্শিতা, তা নিয়ে আলোচনা করা যায়। বিশ্বের মন্দা প্রবণতা থেকে বাঁচার পর, এখন দেশকে জঙ্গি ঝুঁকি থেকে রক্ষা করার দায়িত্ব রয়েছে সরকারের কাঁধে। এ নিয়ে কী কথা বলা যায়। এটা কি হতে পারে আমাদের জাতীয় আলোচনার বিষয়? নাকি আমরা কথা বলব প্রাকৃতিক দুযোর্গ নিয়ে?
কয়েক দিন আগে ভোরে ভূমিকম্প কাঁপিয়ে গেল দেশ। আতঙ্কিত হয়ে হৃদরোগে কয়েকজন মারা যাওয়া ছাড়া তেমন কোনও ক্ষয়-ক্ষতি হয়নি। কিন্তু বড় একটি আতঙ্ক রেখে গেছে ঢাকার মানুষের মনে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বড় ভূমিকম্প ঝুঁকিতে আছি আমরা। তা মোকাবিলায় কতটুকু প্রস্তুতি আছে আমাদের। বলা হচ্ছে, ঢাকায় ৭২ হাজার ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে মানুষ বসবাস করছে। একটি ভবন ধসে পড়লেই, উদ্ধার কাজে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব লাগে। এক সঙ্গে একাধিক ভবন ধসে গেলে কী উপায় হবে? সে নিয়ে জাতীয় আলোচনা হতে পারে। তাহলে একটি ভূমিকম্পের ঝুঁকি মোকাবিলা কি তাহলে আমাদের আলোচনার গুরুত্বপর্ণ বিষয়?

প্রাকৃতিক দুর্যোগের কথা যখন এলো, তখন বিশ্বের উষ্ণায়ন নিয়ে কিছু না বললেই নয়। যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবে নানা দুর্যোগ হবে। আগামী ত্রিশ বছরে, দেশের প্রায় তিন কোটি মানুষ ঘর-বাড়ি হারাবে, পড়বে খাদ্য-সংকটে। একই কারণে, গোটা বিশ্বের সাড়ে সতেরো কোটি মানুষ উদ্বাস্তু হবে। যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগের প্রতিবেদনটি, প্যারিস জলবায়ু সম্মেলনে উত্থাপন করা হয়েছে।

আমরা জানি, গত ১০০ বছরে পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা প্রায় এক ডিগ্রি সেলসিয়াস বেড়েছে। এমনকি বিশ্বের উষ্ণতম বিশটি বছরের মধ্যে উনিশটিই ১৯৮০ থেকে ২০০৯ সাল-এর মধ্যে। ২০০০ থেকে ২০০৯ সাল বিশ্বের উষ্ণতম দশক হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। গত বছরটি ছিলো ১০ বছরের মধ্যে উষ্ণতম। বিজ্ঞানীদের মতে, তাপ বাড়ায় গত দশ বছরে বেড়েছে ঝড়, বন্যা ও দাবানল। বাংলাদেশও জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব থেকে মুক্ত থাকছে না। নানা প্রাকৃতিক দুযোর্গে, নদীভাঙ্গনে অনেকেই হারিয়েছেন সর্বস্ব। তাদের কারো কারো সঙ্গে কি আমাদের দেখা হয়েছে? তাদের কেউ কেউ আমাদের আশপাশের বস্তিতেই থাকে।

যদি সত্যি সত্যি তিন কোটি মানুষ সব হারায়, তাহলে তা আমাদের সামাজিক ও রাজনৈতিক জীবনে কি প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে আলোচনা হতে পারে।

বলছি, সংকট নেই এমন দেশ কোথায়। কিন্তু নিজেদের সামর্থ্য ও দূর্বলতা সম্পর্কে না জানলে, দূর্বলতা কাটানো যায় না, বিশ্বসেরাও হয়তো হওয়া যায় না। আমরা কি নিজেদের সেরা বিষয়গুলো নিয়ে কথা বলতে শুরু করতে পারি।

 

লেখক : সিনিয়র নিউজ এডিটর, দীপ্ত টিভি ।

*** প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব।

সর্বশেষ

সৌদি প্রবাসীদের সঙ্গে প্রতারণা, এভসেকের হাতে ধরা ২ প্রতারক

সৌদি প্রবাসীদের সঙ্গে প্রতারণা, এভসেকের হাতে ধরা ২ প্রতারক

ইউজিসির সাবেক সদস্য মোহাম্মদ আলীর মৃত্যুতে শোক

ইউজিসির সাবেক সদস্য মোহাম্মদ আলীর মৃত্যুতে শোক

কানাডার পুরনো আদিবাসী স্কুলে মিলেছে ৭৫১টি কবর

কানাডার পুরনো আদিবাসী স্কুলে মিলেছে ৭৫১টি কবর

করোনা আক্রান্ত ব্যক্তিকে আমবাগান থেকে স্ত্রীসহ উদ্ধার করলো পুলিশ

করোনা আক্রান্ত ব্যক্তিকে আমবাগান থেকে স্ত্রীসহ উদ্ধার করলো পুলিশ

পোশাক শ্রমিককে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় ২ জনের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি

পোশাক শ্রমিককে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় ২ জনের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি

যুব বিশ্বকাপ জয়ী শামীম জেতালেন দোলেশ্বরকে

যুব বিশ্বকাপ জয়ী শামীম জেতালেন দোলেশ্বরকে

‘২০২৫ সালের মধ্যে সরকারের সব সেবা ডিজিটাল হচ্ছে’

‘২০২৫ সালের মধ্যে সরকারের সব সেবা ডিজিটাল হচ্ছে’

বাসে অতিরিক্ত যাত্রী বহন করায় জরিমানা

বাসে অতিরিক্ত যাত্রী বহন করায় জরিমানা

আইনজীবীদের টিকা দেওয়া নিয়ে রুলের শুনানি ২৭ জুন

আইনজীবীদের টিকা দেওয়া নিয়ে রুলের শুনানি ২৭ জুন

নাশকতার মামলায় বৈমানিককে জামিন দেননি হাইকোর্ট

নাশকতার মামলায় বৈমানিককে জামিন দেননি হাইকোর্ট

নাম চিতাবাঘ, দাম ১০ লাখ

নাম চিতাবাঘ, দাম ১০ লাখ

চূড়ান্ত তালিকায় যুক্ত হলো আরও ২৯৭৩ বীর মুক্তিযোদ্ধার নাম

চূড়ান্ত তালিকায় যুক্ত হলো আরও ২৯৭৩ বীর মুক্তিযোদ্ধার নাম

সর্বশেষসর্বাধিক

লাইভ

© 2021 Bangla Tribune