X
শুক্রবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২৫ ভাদ্র ১৪২৮

সেকশনস

প্রথম দিকে অল্প সময়ের জন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা রাখার পরামর্শ

আপডেট : ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১৫:৫১

দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ কিছুটা কমতে থাকায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। সরকারের এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানালেও কিছু সতর্কতা জানিয়েছে কোভিড-১৯ সংক্রান্ত জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটি। সেখানে প্রথমদিকে স্বল্প সময়ের জন্য শিক্ষাপ্রিতিষ্ঠানসমূহ খোলা রাখতে বলা হয়েছে, যেন খাবার গ্রহণের জন্য মাস্ক খোলার প্রয়োজন না হয়।

মঙ্গলবার (৭ সেপ্টেম্বর)  কারিগরি কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ সহিদুল্লাহ স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব কথা বলা হয়।

এতে বলা হয়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার আগেই সব শিক্ষার্থী, শিক্ষক/কর্মচারীর স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করে তাদের সব ধরনের ঝুঁকি কমানোর যথাযথ ব্যবস্থা করতে হবে। স্কুল বন্ধ থাকার কারণে শিক্ষার্থীরা যেসব ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে এবং তাদের যে মানসিক চাপ সৃষ্টি হয়েছে তা কমানোর যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে এবং এলাকায় কোভিড-১৯ পরবর্তী সংক্রমণ রোধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

কমিটি জানায়, সারাদেশে কোভিড-১৯ নিয়ন্ত্রণে সরকারের গৃহীত পদক্ষেপ এর পরিপ্রেক্ষিতে সংক্রমণ হারে উন্নতি পরিলক্ষিত হচ্ছে। সর্বোচ্চ সংক্রমণ এবং মৃত্যুর হার থেকে অনেকটাই নেমে কিছুটা স্বস্তিদায়ক অবস্থায় এসেছে। যদিও সংক্রমণ এবং মৃত্যু পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। জীবিকা ও দেশে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সচল রাখার উদ্দেশ্যে বিধিনিষেধ শিথিল করা হয়েছে। স্বাস্থ্যবিধি মানা সাপেক্ষে প্রায় সবকিছুই খুলে দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে ১৭ মাস যাবৎ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। তবে সরকার অনলাইনের মাধ্যমে শিক্ষা কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছিল। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহে ইতোমধ্যে শিক্ষক-কর্মচারীদের এবং হলের আসাসিক ১৮ ও তদুর্ধ্ব বয়সী ছাত্র-ছাত্রীদের টিকা দেওয়া হয়েছে। অন্যান্য ১৮ ও তদুর্ধ্ব বয়সী ছাত্র-ছাত্রীদের টিকার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার জন্য প্রয়োজনীয় গাইডলাইনের খসড়া প্রস্তুত করেছে, যা সভায় উপস্থাপিত হয়। জাতীয় পরামর্শক কমিটির রোগতত্ত্ব-বিষয়ক কমিটি আমন্ত্রিত অতিথির সামনে তাদের প্রস্তাবনা তুলে ধরে। সবার আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে নিম্নলিখিত সুপারিশসমূহ গৃহীত হয়।

স্কুল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসমূহ কখন এবং কীভাবে পুনরায় চালু করা হবে সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় যেসব বিষয় বিবেচনা করতে হবে তা হলো, সব শিক্ষার্থীর শিক্ষা, শিক্ষক/কর্মচারী ও সমাজের মঙ্গল এবং স্বাস্থ্য নিশ্চিত করে তাদের সব ধরনের ঝুঁকি কমানোর যথাযথ ব্যবস্থা করা; স্কুল বন্ধ থাকার কারণে শিক্ষার্থীরা যেসব ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে এবং তাদের যে মানসিক চাপ সৃষ্টি হয়েছে তা কমানোর যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং এলাকায় কোভিড-১৯ পরবর্তী সংক্রমণ রোধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ।

সরকার যদি স্কুল এবং অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পুনরায় খুলে দেওয়ার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন, সেক্ষেত্রে—

ক. প্রি-স্কুল ব্যতীত সব স্কুল এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসমূহ পুনরায় খুলে দেওয়া যেতে পারে।

খ. সব স্কুল এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সবার মাস্ক পরা নিশ্চিত করা এবং ব্যত্যয় ঘটলে সে ব্যাপার আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা (৫ বছরের কমবয়সী শিশু ব্যতীত এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নীতিমালা অনুযায়ী)। কেন্দ্রীয়ভাবে সব শিক্ষার্থীর জন্য উপযুক্ত মানসম্পন্ন এবং সঠিক মাপের মাস্কের ব্যবস্থা ও বিতরণ করা। একইসঙ্গে অন্যান্য জনস্বাস্থ্য পদক্ষেপসমূহ—যেমন: হাত পরিষ্কার রাখা (হাত ধোয়া/হাত জীবাণুমুক্তকরণ স্টেশন স্থাপন করা) এবং সাধারণ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা মেনে চলা। এ ব্যাপারে স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরামর্শ অনুযায়ী যথাযথ কর্তৃপক্ষ কর্তৃক একটি স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি) প্রস্তুত করা দরকার।

গ. স্কুল এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসমূহে কমপক্ষে ৮০ শতাংশ শিক্ষক এবং কর্মচারীর কোভিড-১৯ এর টিকা নেওয়া থাকতে হবে এবং তারা দ্বিতীয় ডোজের ১৪ দিন পার হওয়ার পর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যোগ দিতে পারবেন। তবে ক্ষেত্র বিশেষে প্রথম ডোজের ১৪ দিন পরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যোগদানের অনুমতি প্রদান করা যেতে পারে।

ঘ. উচ্চতর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসমূহে ১৮ বছরের অধিক বয়সী শিক্ষার্থীদের দ্রুত টিকা নেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে।

ঙ. শ্রেণিকক্ষে এবং শিক্ষাপ্রিতিষ্ঠানসমূহে সমাগম নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য নির্দিষ্ট ক্লাস সপ্তাহের কোন দিন কোনটি হবে তা বিভক্ত করে দেওয়া যেতে পারে। যেমন: প্রথমদিকে আমরা পরীক্ষার্থীদের ক্লাস প্রতিদিন খোলা রাখা ছাড়া, বাকি সব ক্লাস সপ্তাহের এক/দুই দিন খোলা রাখতে পারি। এতে করে একটি নির্দিষ্ট দিনে যেই ক্লাসটি খোলা থাকবে তার শিক্ষার্থীরা অন্যান্য খালি শ্রেণিকক্ষগুলো ব্যবহার করতে পারবে। এতে করে নির্দিষ্ট দূরত্ব মেনে চলা সম্ভব হবে। অ্যাসেম্বলি বন্ধ রাখতে হবে। এ ব্যাপারে স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরামর্শ অনুযায়ী যথাযথ কর্তৃপক্ষ কর্তৃক একটি স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি) প্রস্তুত করা দরকার।

চ. আবাসিক সুবিধা সংবলিত স্কুল এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য নিম্নোক্ত পরামর্শসমূহ প্রযোজ্য (মাদ্রাসা সহ)-১. সব সমাবেশস্থানসমূহ (ক্যাফেটেরিয়া, ডাইনিং, টিভি/স্পোর্টস রুম, ইত্যাদি) বন্ধ রাখা এবং রান্নাঘর থেকে রুমসমূহে সরাসরি খাবার সরবরাহের ব্যবস্থা থাকা।

২. একাধিক শিক্ষার্থী একই বিছানা ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকবে।

৩. মাদ্রাসায় একসঙ্গে নামাজ, সমাবেশ ইত্যাদির ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট নির্দেশনা মেনে চলা।

এসব ব্যাপারে স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরামর্শ অনুযায়ী যথাযথ কর্তৃপক্ষ কর্তৃক একটি স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি) প্রস্তুত করা দরকার।

ছ. শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পুনরায় খুলে দেওয়ার আগে ‌‘করণীয়’ এবং ‌‘‌বর্জনীয়’ কাজ সম্পর্কে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিবাবকসহ প্রতিষ্ঠানের অন্যান্য কর্মচারীদের একটি অরিয়েন্টেশনের মাধ্যমে সুস্পষ্ট ধারণা দিতে হবে। এই ওরিয়েন্টেশন সীমিত উপস্থিতি ও নির্দিষ্ট দূরত্ব মেনে সশরীরে আয়োজন করা যেতে পারে, তবে প্রয়োজনে অনলাইন সেশন অনুষ্ঠিত হতে পারে। এ সংক্রান্ত তথ্য সংবলিত লিফলেট তৈরি, বিতরণ করা এবং ‌‘করনীয়’ ও ‘‌বর্জনীয়’ বিষয়গুলো মিডিয়া এবং স্থানীয় ক্যাবল লাইনের মাধ্যমে প্রচার করা যেতে পারে। যে সব শিক্ষার্থীর কোভিড-১৯ এর লক্ষণ থাকবে তাদের বাড়িতে কোয়ারেন্টিন/ আইসোলেশন এবং কোয়ারেন্টিন/ আইসোলেশন থাকাকালীন তাদের শুশ্রুষার জন্য নির্দেশনা এই ওরিয়েন্টেশনে থাকতে হবে। যে সব শিক্ষার্থীর রোগের লক্ষণ পাওয়া যাবে অথবা তাদের পরিবারের কারও এ রকম লক্ষণ থাকবে অথবা কোভিড-১৯ রোগ পাওয়া যাবে তাদের অনুপস্থিত গণ্য না করে ১৪ দিন বড়িতে থাকার অনুমতি দিতে হবে।

এ ব্যাপারে স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরামর্শ অনুযায়ী যথাযথ কর্তৃপক্ষ কর্তৃক একটি স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি) ও প্রচারণাপত্র প্রস্তুত করা দরকার।

জ. স্কুল এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং অন্যান্য কর্মচারীর মধ্যে সংক্রমণ পর্যবেক্ষণ এবং দৈনিক রিপোর্ট করতে হবে।

নির্বচিত কিছু স্কুল এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং অন্যান্য কর্মচারীর নমুনা পরীক্ষা এবং সার্ভিল্যান্সের প্রোটোকল তৈরি এবং বাস্তবায়ন করতে হবে। যে সব জেলায় (আর টি পিসিআর) ল্যাব আছে সে সব জেলার স্কুল এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এই সার্ভিল্যান্সের জন্য নির্বাচন করা যেতে পারে।

যে সব জেলায় সংক্রমণের হার বেশি [শনাক্তের হার >২০% বা কেসের ক্রমবর্ধমান সংখ্যা (আগের সপ্তাহের তুলনায় চলতি সপ্তাহে ৩০% বেশি সংখ্যক কেস)], সেই জেলাগুলোতে আরও নিবিড় সার্ভিল্যন্স থাকা উচিত। স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরামর্শ অনুযায়ী যথাযথ কর্তৃপক্ষের দ্বারা পর্যবেক্ষণ সংক্রান্ত স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি) তৈরি করতে হবে।

ঝ. সব বিধিনিষেধ সুষ্ঠু পালন নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে মনিটরিং টিম গঠন করে দৈনিক মনিটরিং করতে হবে।

/এসও/আইএ/

সম্পর্কিত

শনাক্তের হার নেমে এলো ৯ শতাংশের নিচে

শনাক্তের হার নেমে এলো ৯ শতাংশের নিচে

করোনা: পুরুষের চেয়ে নারী মৃত্যু দ্বিগুণ 

করোনা: পুরুষের চেয়ে নারী মৃত্যু দ্বিগুণ 

চতুর্থ দিনের মতো শনাক্তের হার ১০ শতাংশের নিচে

চতুর্থ দিনের মতো শনাক্তের হার ১০ শতাংশের নিচে

নবম দিনের মতো মৃত্যু একশ’র নিচে

নবম দিনের মতো মৃত্যু একশ’র নিচে

নৌবাহিনী-কোস্ট গার্ডকে নৌযান উপহার দিলো যুক্তরাষ্ট্র

আপডেট : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২২:৫৮

বাংলাদেশকে ২০টি মেটাল শার্ক বোট ও ডিফেন্ডার ক্লাস বোট উপহার দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

বৃহস্পতিবার (৯ সেপ্টেম্বর) মার্কিন রাষ্ট্রদূত আর্ল মিলার বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সহকারী প্রধান (অপারেশনস) রিয়ার অ্যাডমিরাল এম. আশরাফুল হক এবং বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের মহাপরিচালক রিয়ার অ্যাডমিরাল আশরাফ হক চৌধুরীর উপস্থিতিতে এক ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই দুই বাহিনীর কাছে নৌযানগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেন।

ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশ সরকারের অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে যুক্তরাষ্ট্র এই নৌযানগুলো উপহার দিয়েছে।

এরমধ্যে বাংলাদেশ নৌবাহিনীকে ১০টি ৩৮ ফুট (১১ মিটার) দৈর্ঘ্যের ডিফিয়ান্ট ক্লাস মেটাল শার্ক বোট এবং বাংলাদেশ কোস্টগার্ডকে ১০টি ২৫ ফুট (৮ মিটার) দৈর্ঘ্যের ডিফেন্ডার ক্লাস বোট দেওয়া হয়েছে।

. নতুন এই সামরিক সরঞ্জামগুলো ব্যবহার ও কাজে লাগাতে প্রশিক্ষণের জন্য আগামীতে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্র যৌথ মহড়া পরিচালনা করবে।

এছাড়া এর মাধ্যমে সামুদ্রিক নিরাপত্তা অভিযান পরিচালনার সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি বাংলাদেশে উপকূলীয় এলাকা ও বাংলাদেশের আওতাধীন সামুদ্রিক অর্থনৈতিক অঞ্চলে নজরদারি, টহল ও হুমকি মোকাবিলার সামর্থ্য বাড়ানোর লক্ষ্যে এই মেটাল শার্ক ও ডিফেন্ডার নৌযানগুলো দেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও  বলা হয়, এই ২০টি বোট বাংলাদেশ কোস্টগার্ড এবং বাংলাদেশ নৌবাহিনীর স্পেশাল অপারেশনস ফোর্সের অধীন স্পেশাল ওয়ারফেয়ার ডাইভিং অ্যান্ড স্যালভেজ ইউনিটের সামুদ্রিক বাধা মোকাবিলা ও সন্ত্রাসবিরোধী কার্যক্রম পরিচালনার সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত ও জোরদার করবে।

রাষ্ট্রদূত মিলার বলেন, ‘এই বোটগুলো যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের মধ্যে চলমান দীর্ঘকালের ঘনিষ্ঠ নিরাপত্তা সহযোগিতার ইতিহাসে আরেকটি বড় উদাহরণ।’

/এসএসজেড/এপিএইচ/এমওএফ/

সম্পর্কিত

নদীর পানি কমলেও ক্ষতি বাড়ছে

নদীর পানি কমলেও ক্ষতি বাড়ছে

বাংলাদেশ-ইইউ সম্পর্ক আরও জোরদারের আশা প্রধানমন্ত্রীর

বাংলাদেশ-ইইউ সম্পর্ক আরও জোরদারের আশা প্রধানমন্ত্রীর

করোনায় বন্ধ বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশি স্কুলগুলো চালুর সুপারিশ

করোনায় বন্ধ বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশি স্কুলগুলো চালুর সুপারিশ

‘মানবাধিকার নিয়ে ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে কথা হয়নি’

‘মানবাধিকার নিয়ে ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে কথা হয়নি’

ওমরাহ যাত্রায় টিকা জটিলতা কাটেনি

আপডেট : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২১:৫৭

বাংলাদেশে ব্যাপক হারে দেওয়া হচ্ছে চীনের সিনোফার্মার টিকা। কিন্তু এই টিকার বুস্টার ডোজ হিসেবে অন্য প্রতিষ্ঠানের টিকা না নিলে ওমরাহ পালনের অনুমতি দেবে না সৌদি আরব সরকার। এদিকে বুস্টার ডোজ নেওয়ার সুযোগ আপাতত নেই দেশে। এমন জটিলতায় পড়ে এখনও ওমরাহ কার্যক্রম শুরু করতে পারেনি হজ এজেন্সিগুলো।

গত ২২ আগস্ট ধর্ম প্রতিমন্ত্রী, সচিব, বাংলাদেশে সৌদি রাষ্ট্রদূতসহ সংশ্লিষ্টদের নিয়ে অনলাইনে বৈঠক করে হজ এজেন্সিস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (হাব)। সিনোফার্মার টিকা নেওয়া ব্যক্তিদের বুস্টার ডোজ ছাড়াই ওমরাহ পালনের সুযোগ দিতে সৌদি সরকারের সঙ্গে কূটনৈতিক তৎপরতার দাবি জানান হাবের সভাপতি। ধর্ম মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়।

করোনা মহামারির কারণে দীর্ঘ দেড় বছর বিদেশিদের ওমরাহ পালনের অনুমতি দেয়নি সৌদি আরব। সম্প্রতি বিভিন্ন বিধিনিষেধ আরোপ করে ১ মহররম থেকে ১৮ বছরের বেশি বয়সীদের ওমরাহ পালনের অনুমতি দেওয়া হয়।

দেশে ২৪৭টি হজ এজেন্সিকে ওমরাহ কার্যক্রম পরিচালনার অনুমোদন দিয়েছে ধর্ম মন্ত্রণালয়। এজেন্সি মালিকরা বলছেন, টিকা জটিলতা না থাকলে সেপ্টেম্বর থেকেই ওমরাহ যাত্রীদের সৌদি আরবে পাঠানো সম্ভব হতো। হাতেগোনা কয়েকজন গেছেন, যারা অন্য টিকা নিয়েছেন।

সৌদি আরব তাদের ওমরাহ নির্দেশনায় বলেছে, ফাইজার-বায়োএনটেকের ২ ডোজ, অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার ২ ডোজ, মডার্নার ২ ডোজ এবং জনসন অ্যান্ড জনসনের ১ ডোজ যারা নিয়েছেন তাদের অনুমতি দেওয়া হবে। সিনোফার্মার টিকাগ্রহণকারীদের অনুমতি পেতে হলে বুস্টার ডোজ হিসেবে ফাইজার, অক্সফোর্ড, মডার্না বা জনসনের টিকা নিতে হবে।

ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের একজন অতিরিক্ত সচিব বলেন, ‘টিকার বিষয়টি নিয়ে সৌদি সরকারের সঙ্গে আলোচনা চলছে।’

হাব সভাপতি এম শাহাদাত হোসাইন তসলিম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘টিকার বিষয়টির সুরাহা হয়নি। আমরা সমস্যার কথা সরকারকে জানিয়েছি।’

 

 
 
/এফএ/

সম্পর্কিত

গণটিকার দ্বিতীয় ডোজ শুরু মঙ্গলবার

গণটিকার দ্বিতীয় ডোজ শুরু মঙ্গলবার

গণটিকা: প্রথম ২ ঘণ্টা বয়োজ্যেষ্ঠ ও নারীদের জন্য

গণটিকা: প্রথম ২ ঘণ্টা বয়োজ্যেষ্ঠ ও নারীদের জন্য

সাড়ে ১৬ কোটি ভ্যাকসিন কেনা হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

সাড়ে ১৬ কোটি ভ্যাকসিন কেনা হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

টিকার দ্বিতীয় ডোজের আওতায় ৮২ লাখ মানুষ

টিকার দ্বিতীয় ডোজের আওতায় ৮২ লাখ মানুষ

নদীর পানি কমলেও ক্ষতি বাড়ছে

আপডেট : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২১:৪৬

দেশের প্রায় সব নদীর পানিই কমেছে। অনেক পয়েন্টে পানি এখন বিপৎসীমার নিচে। তবে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হলেও বাড়ছে ভাঙন, বাড়ছে ত্রাণের চাহিদা ও ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আরিফুজ্জামান ভুইয়া জানান, দেশের প্রধান নদ-নদীগুলোর পানি কমছে। ৭২ ঘণ্টা পর্যন্ত কমবে। সিরাজগঞ্জ, পাবনা, টাঙ্গাইল, মানিকগঞ্জ, রাজবাড়ী,  ফরিদপুর, মুন্সীগঞ্জ ও শরীয়তপুর জেলার বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি অব্যাহত থাকতে পারে।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানায়, নদীর পানি কমতে শুরু করলেও এখনও ছয়টি নদীর ৭ পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ওপর। বুধবার (৮ সেপ্টেম্বর) সাত নদীর ১২ পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ওপরে ছিল। এরমধ্যে পদ্মার ৪ পয়েন্ট থেকে কমে এখন দুই পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ওপর।

গোয়ালন্দ পয়েন্টে পদ্মার পানি বিপৎসীমার ৪৩ সেন্টিমিটার থেকে কমে ২৭ এবং সুরেশ্বর পয়েন্টে ৬০ থেকে কমে ৫৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে বইছে। এ ছাড়া ভাগ্যকূল ও মাওয়া পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার নিচে নেমেছে। ধলেশ্বরীর দুই পয়েন্টের মধ্যে এক পয়েন্টে পানি এখন বিপৎসীমার নিচে। তবে এই নদীর এলাসিন পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ৪০ থেকে কমে ২৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে বইছে।

জাগির পয়েন্টে পানি নেমে গেছে বিপৎসীমার নিচে। কালিগঙ্গা নদীর তারাঘাট পয়েন্টে পানি ২৬ থেকে কমে ১৫, আত্রাই নদীর বাঘাবাড়ি পয়েন্টে পানি ৩৫ থেকে কমে ১৮ এবং মেঘনার চাঁদপুর পয়েন্টে পানি ৪৪ থেকে কমে ২৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে বইছে।

এর বাইরে একমাত্র তুরাগ নদীর কালিয়াকৈর পয়েন্টে পানি বেড়ে ২৩ থেকে ২৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে যাচ্ছে। এ ছাড়া পানি বিপৎসীমার নিচে নেমেছে গড়াই নদীর কামারখালি পয়েন্টে ও শীতলক্ষ্যা নদীর নারায়ণগঞ্জ পয়েন্টে।

গত ২৪ ঘণ্টায় বন্যার পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের স্টেশনগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ বৃষ্টি হয়েছে মনু রেলওয়ে ব্রিজ স্টেশনে, ৯১ মিলিমিটার। শ্রীমঙ্গল স্টেশনে বৃষ্টি হয়েছে ৫৬ মিলিমিটার। উজানে ভারতের স্টেশনগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ বৃষ্টি হয়েছে তেজপুর ও আইজল স্টেশনে। সেখানে ৫৫ মিলিমিটার করে বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে।

এ বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে। আমরা প্রতিটি জেলায় পর্যাপ্ত ত্রাণের ব্যবস্থা করেছি। অনেক এলাকায় পানির কারণে ত্রাণ নিয়ে যাওয়া কঠিন ছিল। এখন পানি কমায় ত্রাণ পৌঁছানো যাচ্ছে।

তিনি আরও জানান, এ পর্যন্ত ৩৩৩ নম্বরে ফোন দিয়ে যারা ত্রাণ চেয়েছেন তাদের মধ্যে অন্তত ১২ লাখ ১০ হাজার ৬৬৩ জনকে ত্রাণ দেওয়া হয়েছে।

এদিকে বন্যা পরিস্থিতি সম্পর্কে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় জানায়, টাঙ্গাইলে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও অতিবর্ষণে নদীর পানি বেড়েছে। এতে জেলার ভুয়াপুর উপজেলার ৬টি ইউনিয়নসহ ভুয়াপুর পৌরসভা, কালিহাতি উপজেলার ৫ ইউনিয়ন, এলেঙ্গা পৌরসভা, টাঙ্গাইল সদরের চার ইউনিয়ন, নাগপুর উপজেলার ৫ ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এতে ৪টি উপজেলার ১৯টি ইউনিয়নের ১২০টি গ্রামের ২৫ হাজার ৭টি পরিবারের ১ লাখ ৪ হাজার ১৭ লোক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শরীয়তপুরে নদীভাঙনের কারণে জাজিরা উপজেলার কুন্ডেরচর ইউনিয়ন ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ইতোমধ্যে জাজিরার ৬টি, পালেরচরের ৯টি, কুন্ডেরচরের ১৫৬টি, পুর্বনাওডোবা ইউনিয়নের ৯টি, বড়কান্দি ইউনিয়নের ১২টিসহ মোট ১৯২টি পরিবারের বসতভিটা নদীতে বিলীন হয়েছে। ফেনীতে পরশুরাম উপজেলার বক্সমাহমুদ ইউপির কহুয়া নদীর পূর্ব সাতকুচিয়া গ্রামের ১টি স্থানে বেড়িবাঁধ ভেঙে ৫টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।

মুহুরি নদীর বেড়িবাঁধের পুরনো ভাঙা স্থান দিয়ে পানি ঢুকে ৬টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। ফেনীর ২টি উপজেলার ১১টি গ্রামের প্রায় আড়াই হাজার পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

৩৩৩ নম্বরে ফোন করে সাহায্য চাওয়াদের জন্য মোট বরাদ্দ ১০০ কোটি টাকা। ৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ১২ লাখ ১০ হাজার ৬৬৩ জনকে ত্রাণ দেওয়া হয়েছে বলে মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়।

ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদফতরের এক কর্মকর্তা  জানিয়েছেন, দেশের সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে। স্বল্পমেয়াদি এ বন্যার ক্ষয়ক্ষতির তথ্য পেতে সময় লাগবে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী কয়েক লাখ লোক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

 

 

/এফএ/

সম্পর্কিত

নৌবাহিনী-কোস্ট গার্ডকে নৌযান উপহার দিলো যুক্তরাষ্ট্র

নৌবাহিনী-কোস্ট গার্ডকে নৌযান উপহার দিলো যুক্তরাষ্ট্র

বাংলাদেশ-ইইউ সম্পর্ক আরও জোরদারের আশা প্রধানমন্ত্রীর

বাংলাদেশ-ইইউ সম্পর্ক আরও জোরদারের আশা প্রধানমন্ত্রীর

করোনায় বন্ধ বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশি স্কুলগুলো চালুর সুপারিশ

করোনায় বন্ধ বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশি স্কুলগুলো চালুর সুপারিশ

‘মানবাধিকার নিয়ে ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে কথা হয়নি’

‘মানবাধিকার নিয়ে ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে কথা হয়নি’

বাংলাদেশ-ইইউ সম্পর্ক আরও জোরদারের আশা প্রধানমন্ত্রীর

আপডেট : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২১:১১

ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ও বাংলাদেশের মধ্যে সম্পর্ক আরও জোরদার হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বৃহস্পতিবার (৯ সেপ্টেম্বর) সকালে বাংলাদেশে নিযুক্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের দূত রেনসে টিরিঙ্ক প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনে তাঁর সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এ কথা বলেন।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ইইউ-বাংলাদেশ সম্পর্ক আরও জোরদার হবে।’

বৈঠকের পর প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ একটি জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশ হিসেবে এর সব উন্নয়ন পরিকল্পনায় পরিবেশকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। ইইউ দূত প্রধানমন্ত্রীকে এ প্রসঙ্গে বলেন, বাংলাদেশকে জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় ইইউ সদস্য রাষ্ট্রগুলো সহায়তা বাড়িয়ে দেবে।

শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলার অভিজ্ঞতা বিনিময় করতে পারে।

তিনি বলেন, ‘আমরা বন্যা, সাইক্লোন ও নদী-ক্ষয়ের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় আমাদের অভিজ্ঞতা বিনিময় করতে পারি।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ডেল্টা প্ল্যান গ্রহণ করেছে, যা জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় সহায়ক হবে। তিনি প্রাকৃতিকভাবে সৃষ্ট অনাকাঙ্ক্ষিত উষ্ণতা ঠেকাতে ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত রাষ্ট্রগুলোর সহায়তা কামনা করেন। এ প্রধানমন্ত্রী ও ইইউ দূত কোভিড-১৯ পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন।

সরকার প্রধান বলেন, দেশের জনগণ ভ্যাকসিন গ্রহণে আগ্রহ দেখাচ্ছে, তাই তাঁর সরকার করোনাভাইরাস নিয়ন্ত্রণে সক্ষম হয়েছে। বিদায়ী ইইউ দূত কোভিড-১৯ পরিস্থিতি সফলভাবে নিয়ন্ত্রণ করায় বাংলাদেশের প্রশংসা করেন। প্রধানমন্ত্রী ইইউ দূতকে জানান, বাংলাদেশ নদী ড্রেজিং করছে। জবাবে নেদারল্যান্ডসের রেনসে টিরিঙ্ক বলেন, তার দেশের জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোকে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় সহায়তা করার কিছু উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা রয়েছে।

ইইউ দূত বলেন, তার দেশও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবের সম্মুখীন হচ্ছে এবং তারা বাংলাদেশের সঙ্গে এ ব্যাপারে অভিজ্ঞতা বিনিময় করতে পারে। বাংলাদেশকে একটি স্থিতিশীল দেশ হিসেবে অভিহিত করে তিনি বলেন, পদ্মা বহুমুখী সেতু উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তিনি বাংলাদেশের সার্বিক উন্নয়নের প্রশংসা করেন।

ইইউ দূত বলেন, তারা সোশাল সেফটি নেটওয়ার্ক প্রোগ্রামে বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করেছেন।

রোহিঙ্গা সম্পর্কে শেখ হাসিনা বলেন, জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের অনেকেই এ দেশে অসামাজিক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ায় এটি এখন একটি নিরাপত্তা হুমকি হিসেবে দেখা দিয়েছে।

বৈঠককালে প্রধানমন্ত্রীর অ্যাম্বাসেডর-এট-লার্জ মোহাম্মদ জিয়াউদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস উপস্থিত ছিলেন।

সূত্র: বাসস

 

/আইএ/এমওএফ/

সম্পর্কিত

নৌবাহিনী-কোস্ট গার্ডকে নৌযান উপহার দিলো যুক্তরাষ্ট্র

নৌবাহিনী-কোস্ট গার্ডকে নৌযান উপহার দিলো যুক্তরাষ্ট্র

নদীর পানি কমলেও ক্ষতি বাড়ছে

নদীর পানি কমলেও ক্ষতি বাড়ছে

করোনায় বন্ধ বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশি স্কুলগুলো চালুর সুপারিশ

করোনায় বন্ধ বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশি স্কুলগুলো চালুর সুপারিশ

‘মানবাধিকার নিয়ে ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে কথা হয়নি’

‘মানবাধিকার নিয়ে ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে কথা হয়নি’

করোনায় বন্ধ বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশি স্কুলগুলো চালুর সুপারিশ

আপডেট : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২০:০১

করোনার কারণে বন্ধ হওয়া বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশিদের জন্য তৈরি স্কুলগুলো চালুর সুপারিশ করেছে সংসদীয় কমিটি। এ জন্য কোনও আর্থিক সহায়তার প্রয়োজন হলে সে বিষয়ে মন্ত্রণালয়কে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়।

বৃহস্পতিবার (৯ সেপ্টেম্বর) সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এ সুপারিশ করা হয় বলে সংসদ সচিবালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।

এতে বলা হয়, বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও অভিবাসী আইন-২০১৩ সংশোধন এবং বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি বিধিমালা প্রণয়নে বাংলাদেশ সিভিল সোসাইটি ফর মাইগ্রেশন এবং অভিবাসন বিষয়ক পার্লামেন্টারিয়ান ককাসের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় নিয়ে বৈঠকে আলোচনা করা হয়।

বিদেশগামী প্রবাসী কর্মীদের করোনা টিকা প্রদান করার কার্যক্রম গ্রহণের জন্য শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে প্রবাসী কল্যাণ ডেস্ক স্থাপন করা হয়েছে বলে বৈঠকে জানানো হয়।

বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও অভিবাসী আইন-২০১৩ এর অধীন সালিশের মাধ্যমে অভিযোগের আপস-মীমাংসা বিষয়ক বিধিমালার কতিপয় ধারায় সংশোধন, সংযোজন ও পরিমার্জনসহ মতামত/সুপারিশ উপস্থাপন করা হয়। উপজেলা পর্যায়ে এ আইনের সালিশের কার্যক্রম সম্প্রসারণের মাধ্যমে নাগরিক সেবা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

বৈঠকে কার্যপত্র থেকে জানা গেছে, বৈঠকে কোভিডে ক্ষতিগ্রস্ত বিদেশ ফেরতদের ঋণ সহায়তা নিয়ে আলোচনা হয়। এতে বলা হয়, করোনাভাইরাসের প্রভাব মোকাবিলায় ঋণ বিতরণ প্রণোদনা গত অর্থ বছর (২০২০-২১)-সহ চলতি অর্থ বছরের আগস্ট পর্যন্ত ১৪ হাজার ৬৬০ জনকে ৩৪৪ কোটি ৪৪ লাখ টাকা ঋণ প্রদান করা হয়েছে।

প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের মাধ্যমে চার ধরনের ঋণ সহায়তার মাধ্যমে এসব ঋণ প্রদান করা হচ্ছে।

কোভিডকালে ঋণ প্রদানে অর্থ মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দকৃত ৫০০ কোটি টাকার মধ্যে ২৫০ কোটি টাকা পাওয়া গেছে।

অভিবাসন ঋণের আওতায় আট হাজার ৭৮১ জনকে ১৮৯ কোটি ২৫ লাখ টাকা, পুনর্বাসন ঋণের আওতায় এক ১৬৩ জনকে ৩১ কোটি ৮৩ লাখ টাকা, বঙ্গবন্ধু অভিবাসী বৃহৎ পরিবার ঋণের আওতায় ৯৭১ জনকে ২৭ কোটি ৯০ লাখ টাকা প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় হতে বরাদ্দকৃত ২০০ কোটি টাকার মধ্যে বিশেষ পুনর্বাসন ঋণের (কোভিড-১৯) আওতায় তিন ৭৪৫ জনকে ৯৫ কোটি ৪৬ লাখ টাকা বিতরণ করা হয়েছে।

কমিটির সভাপতি আনিসুল ইসলাম মাহমুদের সভাপতিত্বে  বৈঠকে কমিটির সদস্য প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ইমরান আহমদ, মোয়াজ্জেম হোসেন রতন, আয়েশা ফেরদাউস, মো. সাদেক খান এবং মো. ইকবাল হোসেন বৈঠকে অংশ নেন। এছাড়া বিশেষ আমন্ত্রণে সংসদ সদস্য মো. মুজিবুল হক, শামীম হায়দার পাটোয়ারী এবং আদিবা আনজুম মিতা বৈঠকে অংশ নেন।

বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থার পক্ষে বিশেষ আমন্ত্রণে শিরীন লিরা, ড. সি আর আবরার, সৈয়দ সাইফুল হক, ফরিদা ইয়াসমীন এবং সুমাইয়া ইসলাম বৈঠকে যোগদান করেন।

 

/ইএইচএস/আইএ/

সম্পর্কিত

নৌবাহিনী-কোস্ট গার্ডকে নৌযান উপহার দিলো যুক্তরাষ্ট্র

নৌবাহিনী-কোস্ট গার্ডকে নৌযান উপহার দিলো যুক্তরাষ্ট্র

নদীর পানি কমলেও ক্ষতি বাড়ছে

নদীর পানি কমলেও ক্ষতি বাড়ছে

বাংলাদেশ-ইইউ সম্পর্ক আরও জোরদারের আশা প্রধানমন্ত্রীর

বাংলাদেশ-ইইউ সম্পর্ক আরও জোরদারের আশা প্রধানমন্ত্রীর

‘মানবাধিকার নিয়ে ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে কথা হয়নি’

‘মানবাধিকার নিয়ে ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে কথা হয়নি’

সর্বশেষসর্বাধিক

লাইভ

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

শনাক্তের হার নেমে এলো ৯ শতাংশের নিচে

শনাক্তের হার নেমে এলো ৯ শতাংশের নিচে

করোনা: পুরুষের চেয়ে নারী মৃত্যু দ্বিগুণ 

করোনা: পুরুষের চেয়ে নারী মৃত্যু দ্বিগুণ 

চতুর্থ দিনের মতো শনাক্তের হার ১০ শতাংশের নিচে

চতুর্থ দিনের মতো শনাক্তের হার ১০ শতাংশের নিচে

নবম দিনের মতো মৃত্যু একশ’র নিচে

নবম দিনের মতো মৃত্যু একশ’র নিচে

গণটিকা: প্রথম ২ ঘণ্টা বয়োজ্যেষ্ঠ ও নারীদের জন্য

গণটিকা: প্রথম ২ ঘণ্টা বয়োজ্যেষ্ঠ ও নারীদের জন্য

প্রায় ৪ মাস পর শনাক্ত ২ হাজারের নিচে

প্রায় ৪ মাস পর শনাক্ত ২ হাজারের নিচে

সেপ্টেম্বরে বিশ্ববিদ্যালয়ও খুলে দিতে অনুরোধ করবো: দীপু মনি

সেপ্টেম্বরে বিশ্ববিদ্যালয়ও খুলে দিতে অনুরোধ করবো: দীপু মনি

করোনা: ৭৬ দিন পর সর্বনিম্ন মৃত্যু

করোনা: ৭৬ দিন পর সর্বনিম্ন মৃত্যু

ফের শনাক্ত ও মৃত্যু বেড়েছে

ফের শনাক্ত ও মৃত্যু বেড়েছে

টিকার দ্বিতীয় ডোজের আওতায় ৮২ লাখ মানুষ

টিকার দ্বিতীয় ডোজের আওতায় ৮২ লাখ মানুষ

সর্বশেষ

শত পর্বে ‘শান্তি মলম’

শত পর্বে ‘শান্তি মলম’

আন্তর্জাতিক আত্মহত্যা প্রতিরোধ দিবস আজ

আন্তর্জাতিক আত্মহত্যা প্রতিরোধ দিবস আজ

দল ঘোষণার পর আফগানিস্তানের অধিনায়কত্ব ছাড়লেন রশিদ খান

দল ঘোষণার পর আফগানিস্তানের অধিনায়কত্ব ছাড়লেন রশিদ খান

হিজাব না পরা মেয়েরা কাটা তরমুজের মতো, তালেবান নেতার বিতর্কিত মন্তব্য

হিজাব না পরা নারীরা ‘কাটা তরমুজ’: তালেবান

ভোরে মাঠে নামছে ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা

ভোরে মাঠে নামছে ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা

© 2021 Bangla Tribune