X
মঙ্গলবার, ২৬ অক্টোবর ২০২১, ১০ কার্তিক ১৪২৮

সেকশনস

আফগানিস্তান: তালেবান সরকার নিয়ে ‘উদ্বেগে’ যুক্তরাষ্ট্র

আপডেট : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১২:০০

আফগানিস্তানে কেবল পুরুষদের নিয়ে গঠিত নতুন তালেবান সরকার নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। নতুন সরকারে থাকা বেশ কয়েক জন তালেবান নেতা মার্কিন বাহিনীর উপর হামলায় জড়িত। মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর জানিয়েছে, মঙ্গলবার ঘোষিত নতুন তালেবান সরকার পর্যালোচনা করে দেখছে তারা।

তালেবানের ঘোষিত নতুন অন্তর্বর্তী সরকারের নেতৃত্ব দেবেন জাতিসংঘের নিষিদ্ধ তালিকায় থাকা মোল্লা মোহাম্মদ হাসান আখুন্দ। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মনোনীত হওয়া সিরাজ্জুদিন হাক্কানি রয়েছেন এফবিআই’র মোস্ট ওয়ান্টেড তালিকায়।

এদিকে মঙ্গলবার আফগানিস্তানের পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর হেরাতে এক বিক্ষোভে তালেবানের চালানো গুলিতে অন্তত তিন জন নিহত হয়েছে। চিকিৎসা কর্মী জানিয়েছেন, তালেবান যোদ্ধারা গুলিবর্ষণ শুরু করলে তারা নিহত হয়। এছাড়া কাবুলের রাজপথে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে ফাঁকা গুলি বর্ষণ করেছে তালেবান।

মার্কিন সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম আফগানিস্তানের নতুন গঠিত তালেবান সরকার ‘ঠগ ও কসাইয়ে ভর্তি’ বলে মন্তব্য করেছেন। রিপাবলিকান পার্টির জ্যেষ্ঠ সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম একইসঙ্গে তালেবানকে ‘সন্ত্রাসী গোষ্ঠী’ হিসেবে বর্ণনা করেন।

মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর আফগানিস্তানের নতুন মন্ত্রিসভায় কয়েক জনের অতীত রেকর্ড নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। ওই বিবৃতিতে বলা হয়, ‘তালেবানকে কাজ দিয়ে বিচার করতে আমেরিকা, তাদের কথা দিয়ে নয়।’

ওই বিবৃতিতে আরও বলা হয়, তালেবানকে তাদের প্রতিশ্রুতি পালনে বাধ্য করার কাজ চালিয়ে যাবে ওয়াশিংটন। এছাড়া আফগান ভূখণ্ডকে অন্য কোনও দেশের বিরুদ্ধে হুমকি হয়ে ওঠায় ব্যবহৃত হওয়া ঠেকানোর চেষ্টাও চলবে বলেও জানানো হয়েছে বিবৃতিতে।

/জেজে/
টাইমলাইন: আফগানিস্তান সংকট
২০ অক্টোবর ২০২১, ১২:৫৯
০৫ অক্টোবর ২০২১, ২০:১০
২১ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১৪:২৫
২০ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২১:২৯

সম্পর্কিত

আফগান নারী বিচারকরা আত্মগোপনে, অপরাধীরা রাস্তায়

আফগান নারী বিচারকরা আত্মগোপনে, অপরাধীরা রাস্তায়

সুদানে ৭০০ মিলিয়ন ডলারের সহায়তা স্থগিত যুক্তরাষ্ট্রের

সুদানে ৭০০ মিলিয়ন ডলারের সহায়তা স্থগিত যুক্তরাষ্ট্রের

আফগানিস্তান ইস্যুতে সিরিজ বৈঠকে অংশ নেবে রাশিয়া

আফগানিস্তান ইস্যুতে সিরিজ বৈঠকে অংশ নেবে রাশিয়া

‘ফেক নিউজ’ ভারতে বেশি

আপডেট : ২৬ অক্টোবর ২০২১, ১৯:৫০

জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ‘ফেক নিউজ’ বেশি ছড়ায় ভারতে। তা ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্রের পর সবচেয়ে বড় উদ্যোগ ভারতে নিয়েছে কোম্পানিটি। এসব উদ্যোগের মধ্যে রয়েছে স্থানীয় দশটির ফ্যাক্ট-চেকিং সংস্থার সঙ্গে পার্টনারশিপ। পুরো নেটওয়ার্কজুড়ে ইংরেজি ও অপর ১১টি ভারতীয় ভাষায় ফ্যাক্ট চেক করা হচ্ছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি’র এক প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে।

সম্প্রতি মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউ ইয়র্ক টাইমস ও অন্যান্য মিডিয়া যোগাযোগমাধ্যমটির অভ্যন্তরীণ নথি দ্য ফেসবুক পেপার্স হাতে পেয়েছে। এসব নথিতে উঠে এসেছে, সবচেয়ে বড় বাজার ভারতে ফেক নিউজ, বিদ্বেষমূলক বক্তব্য ও উসকানিমূলক কনটেন্ট- সহিংসতার উদযাপনের অনেক কিছু ঠেকাতে হিমশিম খাচ্ছে ফেসবুক।

ফ্যাক্ট-চেক করা ফেসবুকের ভুয়া তথ্য ঠেকানোর উদ্যোগের একটি অংশ মাত্র। ভারতের এই সমস্যা আরও বিশাল। বিদ্বেষমূলক বক্তব্যের ছড়াছড়ি, বট ও ভুয়া অ্যাকাউন্ট ভারতীয় রাজনীতিক ও দলের সঙ্গে সম্পর্কিত, মুসলিম ও অন্যান্য সংখ্যালঘুদের টার্গেট করে ভুয়া তথ্য ছড়ায় বিভিন্ন পেজ ও বড় বড় গ্রুপ। সুসংগঠিত ও সতর্কভাবে দেশটিতে ভুয়া তথ্য ছড়ানো হয়। নির্বাচন ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের মতো ঘটনা এবং করোনাভাইরাস মহামারিতে ফেক নিউজ ব্যাপকভাবে ছড়ায়।

বিবিসি’র খবরে বলা হয়েছে, ভারতে পরিস্থিতি খুব জটিল। ফ্যাক্ট-চেকিং সংস্থাগুলো সন্দেহজনক নিউজ ও পোস্টগুলোকে ক্রস টেক করে ফেসবুককে জানায়। এরপর প্রত্যাশা থাকে ফেসবুকে এমন পোস্ট বা কনটেন্টের বিতরণ কমাবে।

এক ফ্যাক্ট-চেকিং সংস্থার সিনিয়র কর্মকর্তা বলেন, একটি নিউজ বা পোস্ট ভুয়া বলে চিহ্নিত করার পর ফেসবুক কী করবে সে বিষয়ে আমাদের নৈতিক বা আইনি কোনও এখতিয়ার নেই।

স্বাধীন ফ্যাক্ট-চেকিং ওয়েবসাইট অল্ট নিউজের সহ-প্রতিষ্ঠাতা প্রতীক সিনহা বলেন, ভারতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া তথ্যের বেশিরভাগের জন্য ক্ষমতাসীন দলের রাজনীতিকরা। তাদের বড় ধরনের সমর্থক রয়েছে কিন্তু ফেসবুক তাদের ফ্যাক্ট-চেক করে না।

তিনি আরও বলেন, কোনও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমই অভিযোগের ঊর্ধ্বে না।

বিবিসি’র খবরে বলা হয়েছে, টুইটারেও ভারতে বিদ্বেষমূলক বক্তব্য, সংখ্যালঘু ও নারীদের ব্যঙ্গ ও আক্রমণ করা হয়। ফেসবুকের মালিকানাধীন হোয়াটঅ্যাপ ফেক নিউজের সবচেয়ে বড় বাহন। গুগলের মালিকানাধীন ইউটিউবে ফেসবুক ও গুজব ছড়ালেও তা ফেসবুকের মতো মনোযোগ আকর্ষণ করে না।

বিবিসি’র প্রতিবেদনে উদাহরণ হিসেবে গত বলিউড অভিনেতা সুশান্ত সিং রাজপুতের মৃত্যু নিয়ে ষড়যন্ত্র হাজির করে ১২ ঘণ্টা দীর্ঘ একটি লাইভ ভিডিও ছিল।

কোম্পানিটির এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, ফেসবুক এসব বিষয়ে অবগত হওয়ার পর ভারতের সুপারিশমালা নিয়ে গভীর ও কঠোর বিশ্লেষণ করেছে এবং উন্নতির জন্য পণ্যে পরিবর্তন এনেছে।

হিন্দি ও বাংলাসহ বিভিন্ন ভাষায় বিদ্বেষমূলক বক্তব্য শনাক্তের প্রযুক্তিতে বড় ধরনের বিনিয়োগ করেছে কোম্পানি। এর ফলে এই বছরের প্রথম ছয় মাসে আমরা তা কমিয়ে আনতে পেরেছি। এখন তা ০.০৫ শতাংশ। মুসলিমসহ প্রান্তিক গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে বিশ্বজুড়েই বিদ্বেষমূলক বক্তব্য বাড়ছে। তাই আমরা প্রয়োগ বাড়াচ্ছি এবং নীতি হালনাগাদ করতে অঙ্গীকারবদ্ধ।

/এএ/

সম্পর্কিত

আফগান নারী বিচারকরা আত্মগোপনে, অপরাধীরা রাস্তায়

আফগান নারী বিচারকরা আত্মগোপনে, অপরাধীরা রাস্তায়

পশ্চিমা রাষ্ট্রদূতদের বহিষ্কার ইস্যুতে এরদোয়ানের ইউটার্ন

পশ্চিমা রাষ্ট্রদূতদের বহিষ্কার ইস্যুতে এরদোয়ানের ইউটার্ন

জান্তা স্বীকৃতি পেলেও মিয়ানমারে সহিংসতা থামবে না: জাতিসংঘ দূত

জান্তা স্বীকৃতি পেলেও মিয়ানমারে সহিংসতা থামবে না: জাতিসংঘ দূত

জাতিসংঘের প্রতিবেদন বিদ্বেষপূর্ণ: দাবি উত্তর কোরিয়ার

জাতিসংঘের প্রতিবেদন বিদ্বেষপূর্ণ: দাবি উত্তর কোরিয়ার

নাগরিকত্ব আইন সংশোধনের ইঙ্গিত দিলেন কাতারের আমির

আপডেট : ২৬ অক্টোবর ২০২১, ২০:২৫

কাতারে অতিরিক্ত উপজাতীয়তাবাদের বিষয়ে সতর্ক করেছেন দেশটির ক্ষমতাসীন আমির। মঙ্গলবার তিনি বলেছেন, এতে হুমকির মুখে পড়ছে জাতীয় ঐক্য। এই সংকট মোকাবিলায় নাগরিকদের সাম্য প্রতিষ্ঠায় নাগরিকত্ব আইন সংশোধনের প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি। বর্তমানে এই আইন উপজাতীয়তাবাদ উসকে দিচ্ছে বলে মনে করেন তিনি। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

এই মাসের শুরুর দিকে কাতারে প্রথমবারের মতো শুরা কাউন্সিলের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এই উপদেষ্টা কাউন্সিলের উদ্বোধনী অধিবেশনে আমির আগামী বছর ফুটবল বিশ্বকাপ আয়োজনের সময়ে কাতারের জনগণকে আরও বেশি সহিষ্ণুতা প্রদর্শনের আহ্বান জানান।

কাতারের বর্তমান নাগরিকত্ব আইন অনুযায়ী, ১৯৩০ সালের আগে যাদের পরিবার কাতারে বসবাস করতেন না তারা শুরা কাউন্সিলের নির্বাচনে ভোট দিতে পারেনি। এ নিয়ে দেশটিতে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে।

আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি বলেছেন, কাতারের জনগণকে সমান অধিকার দিয়ে আইন সংশোধন করতে মন্ত্রিসভাকে নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি। ওই সংশোধনী অনুমোদনের জন্য শুরা কাউন্সিলে পাঠানো হবে।

উপজাতীয় অসহিষ্ণুতাকে রোগ আখ্যা দিয়ে কাতারের আমির বলেন, ‘যদিও... নাগরিকত্ব সম্পূর্ণ আইনি ইস্যু নয় কিন্তু এটা মূলত সভ্যতা এবং আনুগত্য এবং কর্তব্যের ইস্যু, কেবল অধিকার নয়।’ তিনি বলেন, ‘ঘৃণাবাদী অসহিষ্ণুতা, সেটা উপজাতীয়তা হোক কিংবা অন্য কিছু, তা জাতীয় ঐক্য ধ্বংস করে দিতে পারে।’

আগামী বছর বিশ্বকাপ ফুটবল আয়োজনে তোড়জোড় শুরু করেছে কাতার। তারা আশা করছেন, ২৮ দিনের টুর্নামেন্টে প্রায় ১২ লাখ অনুরাগী দেশটি সফর করবেন। আমির শেখ তামিম বলেন, এই আয়োজন বিশ্বের দরবারে কাতারের মর্যাদা বাড়ানোর সুযোগ।

/জেজে/এমওএফ/

সম্পর্কিত

পশ্চিমা রাষ্ট্রদূতদের বহিষ্কার ইস্যুতে এরদোয়ানের ইউটার্ন

পশ্চিমা রাষ্ট্রদূতদের বহিষ্কার ইস্যুতে এরদোয়ানের ইউটার্ন

পশ্চিম তীরে নতুন ১৩০০ বাড়ি বানাবে ইসরায়েল

পশ্চিম তীরে নতুন ১৩০০ বাড়ি বানাবে ইসরায়েল

আরব দেশগুলোর উচিত ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করা: খামেনি

আরব দেশগুলোর উচিত ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করা: খামেনি

‘ইরাকে সরকার গঠনে বিদেশি হস্তক্ষেপ গ্রহণযোগ্য নয়’

‘ইরাকে সরকার গঠনে বিদেশি হস্তক্ষেপ গ্রহণযোগ্য নয়’

নাইজেরিয়ায় মসজিদে ১৮ জনকে গুলি করে হত্যা

আপডেট : ২৬ অক্টোবর ২০২১, ২০:১১

নাইজেরিয়ার উত্তরাঞ্চলের নাইজার প্রদেশের এক মসজিদে ঢুকে গুলি চালানো হলে অন্তত ১৮ জন নিহত হয়েছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এবং পুলিশ জানিয়েছে, সোমবার ফজরের নামাজের সময় এই হামলা চালানো হয়। ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি'র প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

নাইজার প্রদেশের মাসেগু এলাকার মাজাকুকা গ্রামের মসজিদে ওই হামলা চালানো হয়। ধারণা করা হচ্ছে, হামলাকারীরা ফুলানি যাযাবর পশুপালক গোষ্ঠী। হামলার পর তারা পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।

পানি ও ভূমির অধিকার নিয়ে এই ধরনের জাতিগত সহিংসতায় আফ্রিকায় শত শত মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। এই সহিংসতার কারণে ফুলানি জনগোষ্ঠীর কেউ কেউ কৃষি কাজ করা হাউসা জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে অস্ত্র হাতে তুলে নিয়েছে।

মাসেগু স্থানীয় সরকারের চেয়ারম্যান আল হাসান আয়াম বলেন, ‘বন্দুকধারীরা মসজিদ ঘিরে ফেলে নামাজরতদের ওপর গুলি চালানো শুরু করে।’ তিনি জানান, এই হামলায় আরও চার জন আহত হয়েছেন।

নাইজারের পুলিশ কমিশনার মানডে কুরিয়াস বলেছেন, এই হামলার সঙ্গে গ্রামবাসী ও ফুলানি পশুপালকদের বিরোধের সম্পর্ক রয়েছে।

নাইজেরিয়ার উত্তর-পশ্চিম এবং মধ্যাঞ্চলে নিরাপত্তা সমস্যার সর্বশেষ উদাহরণ এই হামলা। দেশটির উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে প্রাণঘাতী সহিংসতা বিশেষভাবে বেড়েছে।

/জেজে/এমওএফ/

সম্পর্কিত

সুদানে ৭০০ মিলিয়ন ডলারের সহায়তা স্থগিত যুক্তরাষ্ট্রের

সুদানে ৭০০ মিলিয়ন ডলারের সহায়তা স্থগিত যুক্তরাষ্ট্রের

সুদানে অভ্যুত্থানবিরোধী বিক্ষোভে গুলি, নিহত ৭

সুদানে অভ্যুত্থানবিরোধী বিক্ষোভে গুলি, নিহত ৭

সুদানের প্রধানমন্ত্রী গৃহবন্দি, আটক চার মন্ত্রী

সুদানের প্রধানমন্ত্রী গৃহবন্দি, আটক চার মন্ত্রী

অবৈধ শোধনাগারে বিস্ফোরণ, নাইজেরিয়ায় নিহত অন্তত ২৫

অবৈধ শোধনাগারে বিস্ফোরণ, নাইজেরিয়ায় নিহত অন্তত ২৫

আফগান নারী বিচারকরা আত্মগোপনে, অপরাধীরা রাস্তায়

আপডেট : ২৬ অক্টোবর ২০২১, ১৮:৩৭

ইংরেজিতে বলে ‘আয়রনি’। বাংলা করলে দাঁড়ায়- ভাগ্যের বিদ্রুপাত্মক অথচ নির্মম পরিহাস। আফগানিস্তানে নারী বিচারকদের পরিস্থিতি দেখে এখন অনেকের মুখ ফসকে বেরিয়ে আসবে ‘হোয়াট অ্যান আয়রনি!’ কারণ কাবুলের সদর দরজার চাবি তালেবানের হাতে যেতেই নিজেদের ভবিষ্যৎ দ্রুত আঁচ করে নিয়েছিলেন দেশটির নারী বিচারকরা। তড়িঘড়ি আত্মগোপনে যান তারা। ওদিকে হাইকমান্ডের নির্দেশে জেল থেকে একে একে বেরিয়ে আসতে শুরু করেছে সাজাপ্রাপ্ত অপরাধীরা। বিবিসির প্রতিবেদনে জানা গেলো এ খবর।

ইতোমধ্যে ২৬ জন আফগান নারী বিচারক গ্রিসে পালাতে পেরেছেন। তাদের অনেকের সঙ্গে দেখা করেছে বিবিসি। নিরাপত্তার খাতিরে তাদের আসল নাম প্রকাশ করেনি ব্রিটিশ এ গণমাধ্যম।

‘ফোন এলো মধ্যরাতে। পিকআপ লোকেশনটা জানার পর বলা হলো, এখনই বের হতে হবে।’ এরপর আগাগোড়া কালো চাদরে নিজেকে ঢেকে দুই শিশু সন্তানকে নিয়ে মধ্যরাতেই বাড়ি ছেড়ে বেরে হন আফগান বিচারক সানা। দেখে মনে হবে যেন গুরুতর কোনও মামলার আসামি ফেরারি হতে যাচ্ছে।

বিবিসিকে বললেন, বাচ্চাদের ব্যাগে কিছু পোশাক, পাসপোর্ট, ফোন আর অর্থ ছিল। এর বাইরে যতটা সম্ভব ভরে নিয়েছিলেন খাবার।

‘যখন বের হই, তখনও জানি না যে আমাদের গন্তব্য কোথায়। আমাদের শুধু বলা হয়েছিল, পথে নিরাপত্তা নিয়ে ঝুঁকি থাকতে পারে। কিন্তু পরিস্থিতির সাপেক্ষে সবই মেনে নিতেই হয়েছিল।’

নির্দিষ্ট স্থানে গাড়িতে উঠেই সানা একবার পেছন ফিরে তাকিয়েছিলেন। যে শহরে তার জন্ম, বেড়ে ওঠা ও পরিবারের শুরু সেটাকে বিদায় জানানোর মতো মানসিক অবস্থা তার ছিল না। কারণ কিছুক্ষণ পর তারা আদৌ বেঁচে থাকবেন কিনা সেটাও ছিল অনিশ্চিত।

সানাকে এভাবে তড়িঘড়ি পালাতে হলো কেন? বিবিসির সাংবাদিককে তিনি জানালেন- গত তিনমাস ধরেই প্রাণভয়ে দিন কাটাতে হয়েছিল। কারণ নারীর প্রতি সহিংসতার কারণে সানার আদালত যে লোকটাকে কারাগারে পাঠিয়েছিল, সানা শুনেছেন, সে নাকি এখন মুক্ত। তালেবান অনেক জেলের তালাই খুলে দিয়েছে। হাজার হাজার অপরাধীকে ছেড়ে দিয়েছে প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য। স্বভাবতই সানা ধরে নিয়েছেন, তার বিচারে কারাগারে যাওয়া লোকটা সবার আগে তাকেই খুঁজবে।

‘আমি যে আদালতে ছিলাম, সেখানে বড় মাপের অপরাধের বিচার হতো। খুন, ধর্ষণ এসবের বিচার করতে হতো আমাকে। আমার সাজাগুলোও তাই কঠিন হতো। এ কারণে ওই অপরাধীরা মুক্ত হয়েই নাকি বলতে শুরু করেছে, আমাকে পাওয়া মাত্র তারা মেরে ফেলবে।’ বললেন সানা।

গত তিন মাস তাদের কেটেছে দুঃস্বপ্নের মতো

বিবিসির অনুসন্ধানে আরও বেরিয়ে এসেছে—  এ পর্যন্ত প্রায় ২২০ জন আফগান নারী বিচারক আত্মগোপনে গেছেন। গোপন স্থান থেকেই তারা বিবিসিকে জানিয়েছেন, প্রতিদিনই মৃত্যুর হুমকি পাচ্ছেন তারা।

বিষয়টি নিয়ে তালেবান মুখপাত্র বিলাল করিমিকে প্রশ্ন করেছিলি বিবিসি। উত্তরে তিনি বললেন, ‘নারী বিচারকরা ভয়-ভীতি ছাড়াই দিন কাটাতে পারবেন। কেউ তাদের হুমকি দিতে পারে না। এ ধরনের অভিযোগ তদন্ত করার জন্য আমাদের স্পেশাল মিলিটারি ইউনিট আছে।’

ওদিকে সানা জানালেন, গত তিনটা মাস তার কাছে দুঃস্বপ্নের মতো লেগেছে। ‘দুই তিনদিন পরপরই আমাদের লোকেশন বদলাতে হয়েছিল। একবার সেফহাউস, একবার হোটেল- এভাবেই কেটেছে।’

আর তাই এথেন্সের পথে উড়োজাহাজ ছাড়ার পরপরই কান্নায় ভেঙে পড়েছিলেন ওই ২৬ নারী বিচারক। যে কান্নায় মিশেছিল নতুন জীবন পাওয়ার আনন্দ ও শেকড় ছেঁড়ার যন্ত্রণা। আপাতত তাদের তৃতীয় কোনও দেশে আশ্রয় চেয়ে আবেদন করতে বলা হয়েছে।

এদের মধ্যে যুক্তরাজ্যে যাওয়ার জন্য আবেদন করেছেন বিচারক আসমা। আফগানিস্তানে বিচারক হিসেবে কাজ করেছেন ২৫ বছর। তবে এবারই প্রথমবার দেশ ছেড়ে পালাতে হয়নি তাকে। ১৯৯৬ সালে যখন তালেবানরা ক্ষমতা দখলে নিয়েছিল, তখনও তাকে পরিবারসহ সীমান্ত অতিক্রম করতে হয়েছিল।

নারীর প্রতি সহিংসতা দূরীকরণ আইনের খসড়া তৈরিতে সানার অবদান ছিল। ২০০৯ সালে যা আফগানিস্তানে আইনেও পরিণত হয়। সেই সানা তো সহজে হাল ছাড়ার পাত্রী নন। জানালেন, তার মতো অনেকে পালিয়েছেন ঠিকই, কিন্তু তালেবানরা তাদের ইতিহাস থেকে মুছে দিতে পারবে না। এখনকার আফগান নারীরা আগের মতো নয়। ‘এখন হয়তো আমরা ঘরে আটকা, আর অপরাধীরা বাইরে ঘুরছে। কিন্তু বিদেশে থেকে হলেও অবিচারের বিরুদ্ধে লড়ে যাবো। সঙ্গে থাকবো আফগান নারীদের।’ দৃঢ় প্রত্যয় সানার।

/এএ/

সম্পর্কিত

‘ফেক নিউজ’ ভারতে বেশি

‘ফেক নিউজ’ ভারতে বেশি

পশ্চিমা রাষ্ট্রদূতদের বহিষ্কার ইস্যুতে এরদোয়ানের ইউটার্ন

পশ্চিমা রাষ্ট্রদূতদের বহিষ্কার ইস্যুতে এরদোয়ানের ইউটার্ন

জান্তা স্বীকৃতি পেলেও মিয়ানমারে সহিংসতা থামবে না: জাতিসংঘ দূত

জান্তা স্বীকৃতি পেলেও মিয়ানমারে সহিংসতা থামবে না: জাতিসংঘ দূত

জাতিসংঘের প্রতিবেদন বিদ্বেষপূর্ণ: দাবি উত্তর কোরিয়ার

জাতিসংঘের প্রতিবেদন বিদ্বেষপূর্ণ: দাবি উত্তর কোরিয়ার

পশ্চিমা রাষ্ট্রদূতদের বহিষ্কার ইস্যুতে এরদোয়ানের ইউটার্ন

আপডেট : ২৬ অক্টোবর ২০২১, ১৮:১১

যুক্তরাষ্ট্রসহ ১০ পশ্চিমা দেশের রাষ্ট্রদূতদের তুরস্ক থেকে বহিষ্কারের ইস্যুতে ইউটার্ন নিয়েছেন তুর্কি প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোয়ান। সোমবার তিনি জানিয়েছেন, আপাতত ওই রাষ্ট্রদূতদের ফিরে যেতে হবে না। তাদের ওপর জারি করা নোটিশ ফিরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

কারাবন্দি মানবাধিকার কর্মী ওসমান কাভালার মুক্তির দাবি তোলায় ১০ পশ্চিমা দেশের কূটনীতিকদের বহিষ্কারের হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন এরদোয়ান। এই ১০টি দেশ হলো, কানাডা, ডেনমার্ক, ফ্রান্স, জার্মানি, নেদারল্যান্ডস, নরওয়ে, সুইডেন, ফিনল্যান্ড, নিউ জিল্যান্ড ও যুক্তরাষ্ট্র। গত ১৮ অক্টোবর এক যৌথ বিবৃতিতে কাভালার মুক্তি নিশ্চিত করতে তুরস্কের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিলেন আঙ্কারায় নিযুক্ত এই দেশগুলোর রাষ্ট্রদূতরা। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয় আঙ্কারা।

সোমবার তুর্কি প্রেসিডেন্ট জানিয়েছেন, ওই ১০ দেশের রাষ্ট্রদূত নিজেদের অবস্থান বদল করেছেন। সে কারণেই তিনি কিছুটা নমনীয় হয়েছেন। ঘণ্টাব্যাপী মন্ত্রিসভা বৈঠকের শেষে এরদোয়ান বলেন, রাষ্ট্রদূতরা শিক্ষা নিয়েছেন এবং এখন থেকে তারা আরও সতর্ক হবেন।

আঙ্কারা বলছে, ১০ দেশের রাষ্ট্রদূত একটি নতুন বিবৃতি দিয়েছেন। সেখানে তারা বলেছেন, তুরস্কের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে তারা মন্তব্য করতে চান না।

আন্তর্জাতিক কূটনীতির নীতি অনুযায়ী কোনও দেশে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত সে দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে মন্তব্য করতে পারেন না। ১০ দেশের রাষ্ট্রদূত বিষয়টি স্বীকার করেছেন। এরপরই বরফ কিছুটা গলেছে বলে দাবি এরদোয়ান সরকারের।

তুর্কি সরকার বহিষ্কারের সিদ্ধান্তে অটল থাকলে ওই কূটনীতিকদের নিজ নিজ দেশে ফিরে যেতে হতো। এতে আঙ্কারার সঙ্গে পশ্চিমা দুনিয়ার সম্পর্ক কার্যত তলানিতে গিয়ে ঠেকতো।

এমনিতেই তুরস্কের সঙ্গে পশ্চিমা বিশ্বের সম্পর্ক ক্রমশ জটিল হচ্ছে। তার মধ্যে রাষ্ট্রদূতদের বহিষ্কার করলে কার্যত সংঘাতের পরিস্থিতি তৈরি হতো। এরদোয়ান বিষয়টি আঁচ করতে পেরেছিলেন। অন্যদিকে, ১০ পশ্চিমা দেশও প্রকাশ্যে বিবাদে জড়াতে চায়নি। এমন বাস্তবতায় উভয় পক্ষই কিছুটা নমনীয় হয়েছে। সূত্র: ফ্রান্স ২৪, ডিডব্লিউ।

/এমপি/এমওএফ/

সম্পর্কিত

‘ফেক নিউজ’ ভারতে বেশি

‘ফেক নিউজ’ ভারতে বেশি

নাগরিকত্ব আইন সংশোধনের ইঙ্গিত দিলেন কাতারের আমির

নাগরিকত্ব আইন সংশোধনের ইঙ্গিত দিলেন কাতারের আমির

আফগান নারী বিচারকরা আত্মগোপনে, অপরাধীরা রাস্তায়

আফগান নারী বিচারকরা আত্মগোপনে, অপরাধীরা রাস্তায়

জান্তা স্বীকৃতি পেলেও মিয়ানমারে সহিংসতা থামবে না: জাতিসংঘ দূত

জান্তা স্বীকৃতি পেলেও মিয়ানমারে সহিংসতা থামবে না: জাতিসংঘ দূত

সর্বশেষসর্বাধিক
quiz

লাইভ

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

আফগান নারী বিচারকরা আত্মগোপনে, অপরাধীরা রাস্তায়

আফগান নারী বিচারকরা আত্মগোপনে, অপরাধীরা রাস্তায়

সুদানে ৭০০ মিলিয়ন ডলারের সহায়তা স্থগিত যুক্তরাষ্ট্রের

সুদানে ৭০০ মিলিয়ন ডলারের সহায়তা স্থগিত যুক্তরাষ্ট্রের

আফগানিস্তান ইস্যুতে সিরিজ বৈঠকে অংশ নেবে রাশিয়া

আফগানিস্তান ইস্যুতে সিরিজ বৈঠকে অংশ নেবে রাশিয়া

শীতে লাখ লাখ আফগান অনাহারে থাকার আশঙ্কা!

শীতে লাখ লাখ আফগান অনাহারে থাকার আশঙ্কা!

আফগানিস্তানে ফের কূটনৈতিক মিশন চালু করছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন?

আফগানিস্তানে ফের কূটনৈতিক মিশন চালু করছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন?

তালেবানের সঙ্গে বসছেন চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী

তালেবানের সঙ্গে বসছেন চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী

সর্বশেষ

থানার জানালা ভেঙে পালালেন আসামি, ২ পুলিশ প্রত্যাহার

থানার জানালা ভেঙে পালালেন আসামি, ২ পুলিশ প্রত্যাহার

টেলিযোগাযোগ মন্ত্রীর সঙ্গে মালয়েশিয়ান হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ

টেলিযোগাযোগ মন্ত্রীর সঙ্গে মালয়েশিয়ান হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ

ভারতের ‘ভুল’ ধরিয়ে দিলেন ইনজামাম

ভারতের ‘ভুল’ ধরিয়ে দিলেন ইনজামাম

দুই ডোজের আওতায় ২ কোটি ১১ লাখ মানুষ

দুই ডোজের আওতায় ২ কোটি ১১ লাখ মানুষ

বন্ধই থাকছে শিমুলিয়া-বাংলাবাজার নৌপথে ফেরি চলাচল

বন্ধই থাকছে শিমুলিয়া-বাংলাবাজার নৌপথে ফেরি চলাচল

© 2021 Bangla Tribune