X
শনিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ৩ আশ্বিন ১৪২৮

সেকশনস

বাংলাদেশের জলসীমায় ‘বেপরোয়া’ ভারতীয় জেলেরা

আপডেট : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১২:১২

বাংলাদেশের জলসীমায় অবৈধভাবে প্রবেশের মাধ্যমে ভারতীয় জেলেদের মাছ শিকারের অভিযোগ বেশ পুরোনো। এসব জেলে প্রতিবছরই বাংলাদেশের লাখ লাখ টাকার মাছ লুটে করে নিয়ে যাচ্ছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। নানা সীমাবদ্ধতার কারণে বাংলাদেশের জলসীমায় পুরোপুরি নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়ায় গভীর সমুদ্রে ভারতীয় জেলেদের অবাধ বিচারণ চলছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। চলতি ইলিশ মৌসুমেও ‘বেপরোয়াভাবে ভারতীয় জেলেরা মাছ লুট করছে’ বলে অভিযোগ উঠেছে। বাংলাদেশি জেলেরা বলছেন, তাদের (ভারতীয় জেলে) কারণে দেশি জেলেদের মাছ শিকার ব্যাহত হচ্ছে।

সার্বিক অবস্থার বর্ণনা দিয়ে মোংলা উপজেলা মৎস্য সমিতির সভাপতি বিদ্যুৎ মন্ডল বলেন, ‘ভারতীয় জেলেরা প্রতিনিয়ত আমাদের মাছ লুট করে নিয়ে যাচ্ছে। প্রজনন মৌসুমে বাংলাদেশে যখন মৎস্য আহরণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়, ভারতে তখন এ নিষেধাজ্ঞা থাকে না। ফলে সহজেই ওরা এসে মাছ ধরে নিয়ে যায়। একই সময় মাছ ধরতে না পেরে আমাদের জেলেরা অর্ধাহারে অনাহারে থাকে।’

সমুদ্রের মাছ ধরে নিয়ে যাচ্ছে ভারতীয় জেলেরা

বিদ্যুৎ মন্ডলের দাবি, ভরা মৌসুমেও ইলিশ না পেয়ে আমাদের হাজার হাজার জেলে খালি হাতে ফিরছে। কারণ তার আগেই ভারতীয় জেলেরা ইলিশ ধরে নিয়ে গেছে।

জেলেদের দাবির সত্যতাও মিলছে এই মৌসুমে ভারতীয় জেলে আটক হওয়ার খবরে। সর্বশেষ গত শুক্রবার (৩ সেপ্টম্বর) অবৈধভাবে বাংলাদেশের জলসীমায় প্রবেশ করে মাছ শিকারের সময় বিপুল পরিমাণ ইলিশ ও সামুদ্রিক মাছসহ ১৩ ভারতীয় জেলেকে আটক করে কোস্টগার্ড। এর আগে গত ৮ আগস্ট একই অপরাধে আরও ১৩ জন, ২৯ জানুয়ারি ২৮ জন ও গত বছরের ২৩ ডিসেম্বর ১৬ জন, ২ ডিসেম্বর ১৭ জন জেলে নৌ বাহিনীর হাতে আটক হয়। প্রতিবছরই এ ঘটনা ঘটে চলেছে।

এদিকে আটক ভারতীয় জেলেদের সমুদ্রসীমা লঙ্ঘনের অপরাধে ১৯৮৩ সালের সমুদ্রসীমা আইনের ২২ ধারায় মামলা দিয়ে আদালতের মাধ্যমে জেলে পাঠানো হয়।

সমুদ্র সংলগ্ন উপকূলের জেলে ফকির আব্দুল্লা, বোরহান উদ্দিন, শহিদ মল্লিক ও আব্দুর রহমান বলেন, বাংলাদেশের জলসীমা থেকে ভারতের কাকদ্বীপ এলাকা কাছে। এ কারণে সেখানকার বিপুলসংখ্যক জেলে এ দেশের জলসীমায় মাছ ধরতে আসে। মাছ ধরার অত্যাধুনিক বিভিন্ন সরঞ্জাম থাকায় তারা অনেক বেশি মাছ আহরণ করতে পারে।

মাছ ধরার সরঞ্জামসহ ভারতীয় ট্রলার জব্দ ও জেলেদের আটক করা হয় সাগরে অধিকাংশ সময়ই ভারতের জেলেদের উৎপাত বেশি থাকে উল্লেখ করে জেলে আলম হাওলাদার বলেন, ভারতীয় জেলেরা কারেন্ট জালসহ পাঁচ ধরনের অত্যাধুনিক জাল ব্যাবহার করে। তাদের কাছে রয়েছে জিপিএস (বিশেষ সংকেত) নামক বিশেষ ধরনের যন্ত্র। এ যন্ত্রের মাধ্যমে ভারতীয় জেলেরা যে পথ দিয়ে আসে, আবার সে পথ দিয়েই ফিরে যায়।

অভিযোগ আছে, ভারতীয় জেলেরা ইচ্ছে করেই বাংলাদেশের জলসীমায় ঢুকে প্রতিনিয়ত মাছ শিকার করে। তারা এসময় উন্নত মানের ফিশিং বোট নিয়ে মাছ শিকারের সময় উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন বাইনোকুলার দিয়ে ট্রলারে বসে নৌ বাহিনী ও কোস্টগার্ডের তৎপরতায় নজর রাখে। এসব বাহিনীর তৎপরতা দেখলেই দ্রুত নিজেদের জলসীমায় পালিয়ে যায়।

কোস্টগার্ড পশ্চিম জোনের অপারেশন কর্মকর্তা (মোংলা সদর দফতর) লেফটেন্যান্ট কমান্ডার শেখ মেজবাহ উদ্দিন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘দেশীয় জলসীমায় ভিনদেশি জেলেদের প্রতিহত করতে নৌ বাহিনীর পাশাপাশি কোস্টগার্ড কাজ করছে। বিদেশি জেলেরা যাতে দেশীয় সীমানায় ঢুকতে না পারে সে বিষয়ে তাদের গতিবিধি মনিটরিংয়ের আওতায় এনে আমরা আরও কঠোর হচ্ছি।’

মাছসহ ভারতীয় ট্রলার জব্দ করা হয়

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ অ্যান্ড মেরিন রিসোর্স টেকনোলজি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. আব্দুর রউফ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আর্ন্তজাতিক সালিশি আদালতে ভারতের সঙ্গে সমুদ্রসীমা নির্ধারণের পর বাংলাদেশের জলসীমা বৃদ্ধি পেয়েছে আরও ১৯ হাজার বর্গকিলোমিটার। পূর্ণ অধিকারে থাকা বিশাল বিস্তৃত এ জলসীমা বাংলাদেশের জন্য অরক্ষিত না হলেও নানা সীমাবদ্ধতার কারণে এখনও পুরোপুরি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। এ সুযোগে প্রতিবছর ভারতীয় জেলেরা বাংলাদেশে ঢুকে লাখ লাখ টন মাছ লুট করে নিয়ে যাচ্ছে।’

ফিশারিজ বিভাগের এই আধ্যাপক আরও বলেন, ‘যেভাবে বিদেশি জেলেরা মাছ শিকার করছে, তাতে এদেশের মৎস্য সম্পদের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ছে। এ জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে যারা আটক হচ্ছে, তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি হওয়া দরকার।’

তাছাড়া দেশের মৎস্য সম্পদ রক্ষায় বঙ্গোপসাগরে নিরাপত্তা ব্যাবস্থা আরও জোরদারের দাবি জানান তিনি।

/টিটি/

সম্পর্কিত

এহসান গ্রুপে ৪০ লাখ টাকা রেখেছেন সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা

এহসান গ্রুপে ৪০ লাখ টাকা রেখেছেন সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা

ইভ্যালির রাসেলের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ

ইভ্যালির রাসেলের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ

বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হচ্ছেন ডা. প্রাণ গোপাল  

বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হচ্ছেন ডা. প্রাণ গোপাল  

স্কুলের শিক্ষার্থীরা পাবে ফাইজারের টিকা: স্বাস্থ্যমন্ত্রী 

স্কুলের শিক্ষার্থীরা পাবে ফাইজারের টিকা: স্বাস্থ্যমন্ত্রী 

শত কোটি টাকা ঋণ নিয়ে আত্মগোপনের ১০ বছর পর গ্রেফতার

আপডেট : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২৩:০৮

বিভিন্ন ব্যাংক থেকে কমপক্ষে শত কোটি টাকা ঋণ নিয়ে আত্মসাৎ করার অভিযোগে হোসাইন হায়দার আলী নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (১৭ সেপ্টেম্বর) ঢাকার ভাটারা থানার বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার বাড়ি থেকে চট্টগ্রাম নগরীর কোতোয়ালি থানা পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে।

কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নেজাম উদ্দিন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বিভিন্ন ব্যাংক থেকে কমপক্ষে শত কোটি টাকা ঋণ নিয়েছিলেন ব্যবসায়ী হোসাইন হায়দার আলী। সেই টাকা পরিশোধ না করে চট্টগ্রাম ছেড়ে ঢাকায় যান। ঢাকার বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় বিলাসবহুল বাড়ি বানিয়ে পরিবার নিয়ে বসবাস শুরু করেন। ঋণ পরিশোধ না করায় আদালতে বিভিন্ন ব্যাংকের পক্ষ থেকে তার বিরুদ্ধে ১০টি মামলা হয়। এসব মামলায় কারাদণ্ডের পাশাপাশি ১০০ কোটি টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। আদালতে হাজির না হওয়ায় তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে। এরপর অবস্থান শনাক্ত করে শুক্রবার রাতে ঢাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করি। আজ আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।’

গ্রেফতার হোসাইন হায়দার আলী চট্টগ্রাম নগরীর এনায়েত বাজার জুবলী রোডের মেসার্স জুবলী ট্রেডার্সের মালিক। বাসা ছিল নগরীর কোতোয়ালি থানার লাভ লেনের আবেদিন কলোনিতে। ঋণ নেওয়ার পর সেগুলো পরিশোধ না করে ১০ বছর আগে ২০১২ সালে ঢাকায় গিয়ে আত্মগোপন করেন।

/এফআর/

সম্পর্কিত

যাত্রীবাহী গাড়িটিতে সন্ত্রাসীদের ৪০-৫০ রাউন্ড গুলিবর্ষণ

যাত্রীবাহী গাড়িটিতে সন্ত্রাসীদের ৪০-৫০ রাউন্ড গুলিবর্ষণ

কক্সবাজারে বছরজুড়ে খোঁড়াখুঁড়ি, দুর্ভোগের শেষ নেই

কক্সবাজারে বছরজুড়ে খোঁড়াখুঁড়ি, দুর্ভোগের শেষ নেই

বিদ্যালয়ের টয়লেট থেকে ছাত্রী উদ্ধার, প্রধান শিক্ষককে শোকজ

বিদ্যালয়ের টয়লেট থেকে ছাত্রী উদ্ধার, প্রধান শিক্ষককে শোকজ

এহসান গ্রুপে ৪০ লাখ টাকা রেখেছেন সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা

এহসান গ্রুপে ৪০ লাখ টাকা রেখেছেন সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা

যাত্রীবাহী গাড়িটিতে সন্ত্রাসীদের ৪০-৫০ রাউন্ড গুলিবর্ষণ

আপডেট : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২৩:০২

বান্দরবানের চন্দ্রঘোনা সড়কের আমবাগান এলাকায় একটি যাত্রীবাহী চাঁদের গাড়িতে ৪০ থেকে ৫০ রাউন্ড গুলি ছুড়েছে জনসংহ‌তি স‌মি‌তির (জেএসএস মূল) সন্ত্রাসীরা। এতে তিন জন আহত হয়েছেন। শনিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকাল ৪টার দিকে বান্দরবানের কুহালং ইউনিয়নে ঘটনাটি ঘটে।

আহত তিন জন হলেন- ওয়াইনু মারমা (২৪), মেহাই চিং মারমা (১৮) ও ইয়াইচং মারমা (১৮)।

বান্দরবান সেনা জো‌ন জানিয়েছে, রাজস্থলী থে‌কে এক‌টি চাঁদের গাড়ি নি‌য়ে বান্দরবা‌নের রুমার বগা ‌লে‌কে ১৯ জনের এক‌টি দল বেড়া‌তে যায়। বিকা‌লে তারা রাজস্থলী‌তে ফেরার প‌থে রাঙ্গামাটি বান্দরবান সড়কের গলাচিপা নামক স্থানে পৌঁছালে জনসংহ‌তি স‌মি‌তির (জেএসএস মূল) সন্ত্রাসীরা গা‌ড়ি‌টি লক্ষ‌্য ক‌রে অতর্কিত গু‌লি চালায়। এ সময় ৪০ থেকে ৫০ রাউন্ড গুলি ছোড়ে। গাড়িতে অবস্থানরত তিন তরুণী আহত হন। প‌রে সেনাবা‌হিনী আহত‌দের উদ্ধার ক‌রে বাঙ্গালহালিয়ায় একটি বেসরকারি ক্লিনিকে নিয়ে যায়। এছাড়াও অন্যান্য যাত্রীদের অন্য একটি গাড়িতে করে গন্তব্যে পৌঁছানোর ব্যবস্থা করে।

সেনাবা‌হিনীর ম‌তে, সাধারণ মানুষের মনে ভীতি সৃষ্টির জন্য জেএসএসের (সন্তু) সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা এ কাণ্ড ঘটিয়েছে। বর্তমানে ঘটনাস্থ‌লে সেনাবাহিনীর টহল কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে ব‌লেও জানায় সেনাবা‌হিনী।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, বান্দরবান থেকে একটি চাঁদের গাড়ি চন্দ্রঘোনা সড়ক দিয়ে আমবাগান এলাকা পার হওয়ার সময় হঠাৎ পাহাড় থেকে সন্ত্রাসীরা গুলি চালায়। এ ঘটনায় গাড়ির চাকায় গুলি লাগলে গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পার্শ্ববর্তী খাদে পড়ে যায়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, এ হামলার ঘটনায় বেশ কয়েকজন হতাহতকে উদ্ধার করে সিএনজিচালিত অটোরিকশা করে বাঙ্গালহালিয়া ও চন্দ্রঘোনার দিকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

/এফআর/

সম্পর্কিত

কক্সবাজারে বছরজুড়ে খোঁড়াখুঁড়ি, দুর্ভোগের শেষ নেই

কক্সবাজারে বছরজুড়ে খোঁড়াখুঁড়ি, দুর্ভোগের শেষ নেই

বিদ্যালয়ের টয়লেট থেকে ছাত্রী উদ্ধার, প্রধান শিক্ষককে শোকজ

বিদ্যালয়ের টয়লেট থেকে ছাত্রী উদ্ধার, প্রধান শিক্ষককে শোকজ

বান্দরবানে যাত্রীবাহী গাড়িতে সন্ত্রাসীদের গুলিবর্ষণ

বান্দরবানে যাত্রীবাহী গাড়িতে সন্ত্রাসীদের গুলিবর্ষণ

কক্সবাজারে বছরজুড়ে খোঁড়াখুঁড়ি, দুর্ভোগের শেষ নেই

আপডেট : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২২:৩২

কক্সবাজার শহর ও পৌরসভার অলিগলির সড়ক, উপ-সড়কগুলোতে চলছে বছরজুড়ে খোঁড়াখুঁড়ি। এসব সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ ধীরগতিতে চলায় দুর্ভোগ পিছু ছাড়ছে না। ফলে শহরের পথচারী ও বাসিন্দাদের কোথাও পা ফেলার জায়গা নেই। বছরজুড়ে খোঁড়াখুঁড়ির কারণে বিঘ্নিত হচ্ছে যান চলাচল। একটু বৃষ্টি হলেই জমছে কাদাপানি। খানাখন্দে গাড়ির চাকা আটকে ঘটছে দুর্ঘটনা।

স্বাস্থ্যকর শহর নামে খ্যাত জেলায় এখন অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ বিরাজ করছে। শুধু বর্ষা মৌসুম নয়, শুষ্ক মৌসুমেও শহরের প্রধান সড়ক, উপ-সড়কসহ অলিগলি সব রাস্তার অবস্থা নাজুক হয়ে পড়েছে। সড়কের সবখানে ভাঙা, গর্ত ও হাঁটু ও কাদাপানি। এসব পানি সড়কে জমে একাকার। এতে চরম দুর্ভোগে পড়ছেন পৌরবাসীসহ পর্যটকরা।
 
কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (কউক) পৌর শহরের প্রধান সড়ক উন্নয়নের নামে খোঁড়াখুঁড়ি করে ৩-৪ ফুট গভীর গর্ত করেছে। পাঁচ কিলোমিটারের পুরোনো সড়ক দিয়ে যাত্রীবাহী বাসসহ অন্যান্য যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। শহরের বাইরের ভারী যানবাহন এই সড়ক দিয়ে ঢুকতে পারে না। সড়কের বেহাল দশার কারণে মানুষের হাঁটাচলা বন্ধ হয়ে গেছে। 

সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ ধীরগতিতে চলায় দুর্ভোগ পিছু ছাড়ছে না

শহরের হাসপাতাল সড়কের ব্যবসায়ী আবুল কাশেম নির্মাণাধীন সড়কের তিন ফুট গভীর গর্তে পড়ে পা ভেঙে তিন মাস ধরে শয্যাশায়ী। তিনি বলেন, সড়কের অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে শহরবাসী অপরাধ করেছে, তাই যন্ত্রণা দেওয়া হচ্ছে। সড়কের কোথাও পা রাখার জায়গা নেই। এমন উন্নয়নকাজ কোথাও দেখিনি। আগে দেখেছি, সড়কের একপাশ খালি রেখে অন্যপাশে উন্নয়ন কাজ করা হতো। এখন দেখছি, পুরো সড়ক খুঁড়ে ফেলা হয়েছে।

একই কথা বলেছেন শহরের বাজারঘাটা এলাকার ব্যবসায়ী পারভেজ আলম। তিনি বলেন, উন্নয়নের নামে শহরের প্রধান সড়কের সবকটি এলাকা খুঁড়ে ফেলেছে। কিন্তু খোঁড়ার পর মেরামত করা হয় না। যতটুকু কাজ করবে, ততটুক না খুঁড়ে পুরো সড়ক খুঁড়ে ফেলায় বেকায়দায় পড়েছে মানুষ। পুরো সড়কে দেখা দিয়েছে অচল অবস্থা। 

এদিকে, গত দেড় বছর আগে থেকে পৌরসভা সড়ক নির্মাণের কাজ করছে। কিন্তু কাজই শেষ হচ্ছে না তাদের। একসঙ্গে শহরের ২৯টি সড়ক-উপ-সড়ক ভেঙে ড্রেনের কাজ শুরু করেছে তারা। দেড় বছরেও সব ড্রেনের কাজ শেষ করতে পারেনি। ফলে প্রত্যেক সড়ক-উপ-সড়ক অকেজো হয়ে গেছে। যানবাহন চলাচল অনুপযোগী।

পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নুরুল আলম বলেন, পৌরসভা দেড় বছর আগে ২৯টি সড়ক, উপ-সড়কের নির্মাণকাজ শুরু করে। ২৯টি সড়কের ৩২ কিলোমিটার কাজ এখনও শেষ হয়নি। এটি স্থানীয় সরকার বিভাগের মিউনিসিপ্যাল গভর্নরের সার্ভিসেস প্রকল্প (এমডিএসপি) ও ইউজিপি-৩ প্রকল্পের আওতায় বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়নে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এই কাজের ব্যয় প্রকল্প ধরা হয়েছে প্রায় ৫০০ কোটি টাকা।

পৌরসভার মেয়র মুজিবুর রহমান বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে পৌর শহরে বড় ধরনের কোনও বাজেট কিংবা প্রকল্প নিয়ে সড়কের উন্নয়নকাজ করা হয়নি। স্বাধীনতা পরবর্তী ৫০ বছর ধরে পৌরবাসী সড়ক নিয়ে দুর্ভোগে ছিলেন। এখন পুরো শহরের সব সড়কের পরিকল্পিত উন্নয়নকাজ চলছে। সড়ক উন্নয়নকাজ করতে গিয়ে বর্তমানে কিছুটা দুর্ভোগ হচ্ছে পৌরবাসীর। এই কাজ আগামী ছয় মাসের মধ্যে সম্পন্ন হবে। 

খানাখন্দে গাড়ির চাকা আটকে ঘটছে দুর্ঘটনা

কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান লে. কর্নেল (অব.) ফোরকান আহমদ বলেন, শহরের প্রধান সড়কটি অনেক পুরোনো। সড়কে প্রতিনিয়ত যানজট লেগে থাকে। তাই শহরের প্রধান সড়কের জিরো পয়েন্ট হলিডে মোড় থেকে কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল পর্যন্ত প্রশস্ত করে ফোরলেনে উন্নীত করার কাজ চলছে। সড়কের উন্নয়র প্রকল্প হচ্ছে ২৯৪ কোটি ১৪ লাখ ৮৪ হাজার টাকা। 

তিনি বলেন, সড়ক উন্নয়নকাজ করতে গিয়ে সাময়িক চলাচলে অসুবিধা হচ্ছে। কিন্তু কাজ সম্পন্ন হলে যানজট নিরসনের পাশাপাশি পর্যটন শহরের সৌন্দর্য বৃদ্ধি পাবে।

গত ৯ জুন কক্সবাজারের হোটেল শৈবালে এক কর্মশালায় বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মো. মাহবুব আলী কক্সবাজার শহরের সড়কের দুরবস্থা দেখে বলেছেন, পর্যটন শহরের রাস্তার এমন অবস্থা ভাবা যায় না। বিমান বন্দর থেকে যাওয়ার পথে সড়কের এমন করুণ দশা দেশের কোথাও নেই। এমন সড়ক দেখে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের মধ্যে যেন বিরূপ ধারণা না হয়, সে জন্য দ্রুত সড়ক উন্নয়ন করতে হবে। 

/এএম/

সম্পর্কিত

যাত্রীবাহী গাড়িটিতে সন্ত্রাসীদের ৪০-৫০ রাউন্ড গুলিবর্ষণ

যাত্রীবাহী গাড়িটিতে সন্ত্রাসীদের ৪০-৫০ রাউন্ড গুলিবর্ষণ

বিদ্যালয়ের টয়লেট থেকে ছাত্রী উদ্ধার, প্রধান শিক্ষককে শোকজ

বিদ্যালয়ের টয়লেট থেকে ছাত্রী উদ্ধার, প্রধান শিক্ষককে শোকজ

বান্দরবানে যাত্রীবাহী গাড়িতে সন্ত্রাসীদের গুলিবর্ষণ

বান্দরবানে যাত্রীবাহী গাড়িতে সন্ত্রাসীদের গুলিবর্ষণ

গার্মেন্টসকর্মীকে তুলে নিয়ে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে আটক ৬

গার্মেন্টসকর্মীকে তুলে নিয়ে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে আটক ৬

মোটরসাইকেলে ৩ জন, ট্রাকের ধাক্কায় রাজস্ব কর্মকর্তা নিহত

আপডেট : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২২:৩২

দিনাজপুরের হিলি স্থল শুল্ক স্টেশন থেকে বাড়ি যাওয়ার পথে ট্রাকের সঙ্গে মোটরসাইকেলের ধাক্কা লেগে রাজস্ব কর্মকর্তা শাহাদৎ হোসেন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আমিনুল ইসলাম নামের এক সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা ও সিপাহি হরিদাশ আহত হয়েছেন।

শনিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় উপজেলার রেলগেট বাজার এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। তার বাড়ি ঠাকুরগাঁওয়ে। সৈয়দপুরে পরিবার নিয়ে বসবাস করতেন।

স্থানীয় ও কাস্টমস সূত্রে জানা গেছে, ছেলে অসুস্থ থাকায় আজ সন্ধ্যায় কাজ শেষে হিলি স্থল শুল্ক স্টেশন থেকে বের হয়ে মোটরসাইকেল নিয়ে সৈয়দপুরের উদ্দেশে রওনা দেন রাজস্ব কর্মকর্তা শাহাদৎ হোসেন। এ সময় তার সঙ্গে একই মোটরসাইকেলে সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম ও সিপাহি হরিদাশ ওঠেন। পথে ফুলবাড়ি রেলগেট এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ট্রাক তাদের মোটরসাইকেলটিকে ধাক্কা দিলে ঘটনাস্থলেই শাহাদৎ হোসেনের মৃত্যু হয়। আহত অবস্থায় উদ্ধার করে বাকি দুইজনকে স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ছেড়ে দেওয়া হয়।

ফুলবাড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফুল ইসলাম জানান, পাথরবাহী ট্রাকের সঙ্গে ধাক্কা লেগে নিচে পড়ে পিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান তিনি। এ ঘটনায় ট্রাকচালক রাজিউর রহমানকে আটক করা হয়েছে। ফুলবাড়ী থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে।

/এফআর/

সম্পর্কিত

ধর্ষণ মামলায় বিএনপি নেতা গ্রেফতার

ধর্ষণ মামলায় বিএনপি নেতা গ্রেফতার

কুড়িগ্রাম সীমান্তে অনুপ্রবেশের দায়ে আটক ২

কুড়িগ্রাম সীমান্তে অনুপ্রবেশের দায়ে আটক ২

ফেসবুক লাইভে গাঁজা সেবন, যুবককে খুঁজছে পুলিশ

ফেসবুক লাইভে গাঁজা সেবন, যুবককে খুঁজছে পুলিশ

ধর্ষণ মামলায় বিএনপি নেতা গ্রেফতার

আপডেট : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২২:২১

কুড়িগ্রামের চিলমারীতে ধর্ষণ মামলায় বিএনপি নেতা রিয়াজুল হক জোদ্দারকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। চিলমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আনোয়ারুল ইসলাম জানান, তাকে শনিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।

গত শুক্রবার লালমনিহাট সদর থানা পুলিশের সহযোগিতায় রিয়াজুল হক জোদ্দারকে লালমনিরহাট থেকে গ্রেফতার করে চিলমারী মডেল থানা পুলিশ। শনিবার তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে চিলমারী মডেল থানা পুলিশ।

আটক রিয়াজুল হক জোদ্দার উপজেলার চিলমারী ইউনিয়নের চর কড়াইবরিশাল এলাকার মৃত ফুলগনির ছেলে। তিনি চিলমারী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি।

পুলিশ আরও জানায়, গত ২৫ জুলাই নৌকায় তুলে এক স্বামী পরিত্যক্ত নারীকে ধর্ষণের এ ঘটনা ঘটে। পরে ওই নারী বাদী মামলা রুজু করলে দীর্ঘদিন এজাহারভুক্ত আসামি পলাতক থাকার পর গতকাল গ্রেফতার করা হয়।

 

/এমএএ/

সম্পর্কিত

মোটরসাইকেলে ৩ জন, ট্রাকের ধাক্কায় রাজস্ব কর্মকর্তা নিহত

মোটরসাইকেলে ৩ জন, ট্রাকের ধাক্কায় রাজস্ব কর্মকর্তা নিহত

এহসান গ্রুপে ৪০ লাখ টাকা রেখেছেন সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা

এহসান গ্রুপে ৪০ লাখ টাকা রেখেছেন সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা

কুড়িগ্রাম সীমান্তে অনুপ্রবেশের দায়ে আটক ২

কুড়িগ্রাম সীমান্তে অনুপ্রবেশের দায়ে আটক ২

সর্বশেষসর্বাধিক

লাইভ

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

এহসান গ্রুপে ৪০ লাখ টাকা রেখেছেন সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা

এহসান গ্রুপে ৪০ লাখ টাকা রেখেছেন সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা

ইভ্যালির রাসেলের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ

ইভ্যালির রাসেলের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ

বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হচ্ছেন ডা. প্রাণ গোপাল  

কুমিল্লা-৭ উপনির্বাচনবিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হচ্ছেন ডা. প্রাণ গোপাল  

স্কুলের শিক্ষার্থীরা পাবে ফাইজারের টিকা: স্বাস্থ্যমন্ত্রী 

স্কুলের শিক্ষার্থীরা পাবে ফাইজারের টিকা: স্বাস্থ্যমন্ত্রী 

এবার আলুর ন্যায্য দাম পাবেন না কৃষকরা: বাণিজ্যমন্ত্রী 

এবার আলুর ন্যায্য দাম পাবেন না কৃষকরা: বাণিজ্যমন্ত্রী 

ছাত্রলীগের পদ পেতে অছাত্র ও হত্যা মামলার আসামির দৌড়ঝাঁপ

ছাত্রলীগের পদ পেতে অছাত্র ও হত্যা মামলার আসামির দৌড়ঝাঁপ

টেকনাফে শঙ্কায় প্রার্থী ও ভোটাররা 

টেকনাফে শঙ্কায় প্রার্থী ও ভোটাররা 

রামেক হাসপাতালে মৃত্যু বেড়েছে

রামেক হাসপাতালে মৃত্যু বেড়েছে

কুমিল্লায় বাসচাপায় প্রাণ গেলো অটোরিকশার ৩ যাত্রীর 

কুমিল্লায় বাসচাপায় প্রাণ গেলো অটোরিকশার ৩ যাত্রীর 

ময়মনসিংহ মেডিক্যালে কমেছে মৃত্যু

ময়মনসিংহ মেডিক্যালে কমেছে মৃত্যু

সর্বশেষ

শত কোটি টাকা ঋণ নিয়ে আত্মগোপনের ১০ বছর পর গ্রেফতার

শত কোটি টাকা ঋণ নিয়ে আত্মগোপনের ১০ বছর পর গ্রেফতার

চবিতে দুই শিক্ষার্থীকে হেনস্তার অভিযোগ

চবিতে দুই শিক্ষার্থীকে হেনস্তার অভিযোগ

‘সবকিছু অন্ধকার লাগছে’, স্কুলে যেতে না পারা আফগান মেয়ে

‘সবকিছু অন্ধকার লাগছে’, স্কুলে যেতে না পারা আফগান মেয়ে

যাত্রীবাহী গাড়িটিতে সন্ত্রাসীদের ৪০-৫০ রাউন্ড গুলিবর্ষণ

যাত্রীবাহী গাড়িটিতে সন্ত্রাসীদের ৪০-৫০ রাউন্ড গুলিবর্ষণ

তালেবান খুঁজে পেলে হত্যা করবে, আতঙ্কে সমকামীরা

তালেবান খুঁজে পেলে হত্যা করবে, আতঙ্কে সমকামীরা

© 2021 Bangla Tribune