X
শনিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ৩ আশ্বিন ১৪২৮

সেকশনস

পরকালে মুক্তির দোহাই দিয়ে গ্রাহক সংগ্রহ করতো এহসান গ্রুপ

আপডেট : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১১:৪৩

বিছানায় শুয়ে থাকা বিমান বাহিনীর সাবেক সদস্য আফসার উদ্দিন (৬৭) এখন অনেকটাই নির্জীব। টাকার অভাবে পায়ের গ্যাংগ্রিন ও প্রোস্টেট গ্লান্ডের চিকিৎসা করাতে পারছেন না। বিয়ে না করা আফসার এখন ভাই ও বোনের সেবায় জীবনের শেষ দিনগুলো পার করছেন। মুখের কথা জড়িয়ে এলেও তার এমন অবস্থার জন্য এহসান গ্রুপকে দায়ী করেছেন আফসার। বলেছেন, মসজিদের খাদেমের প্ররোচনায় এহসান গ্রুপে সাড়ে ১২ লাখ টাকা বিনিয়োগ করে আজ তিনি নিঃস্ব। করাতে পারছেন না নিজের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা।

যশোর শহরের পুরাতন কসবা মিশনপাড়া এলাকার বাসিন্দা আফসার আরও জানান, বিমান বাহিনীতে অফিস ক্লার্ক হিসেবে চাকরি করতেন তিনি। ২০১১ সালে অবসরে যান। ২০১২ সালের শেষদিকে এক মসজিদের খাদেমের কথা শুনে এহসান এস বাংলাদেশে ‘মাসিক মুনাফা’ পাওয়ার চুক্তিতে সাড়ে ১২ লাখ টাকা বিনিয়োগ করেন। আড়াই বছরের মতো প্রতি মাসে নির্ধারিত মুনাফা পান। তবে ২০১৪ সালের শেষদিকে আর কোনও যোগাযোগ করতে পারেননি তাদের সঙ্গে। সেই থেকে কোনও টাকা-পয়সাও পাননি।

ভাঙা ভাঙা শব্দে কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, আমি বরাবরই ধর্মভীরু। শহরের বেজপাড়া জামে মসজিদের একজন খাদেম আমাকে জানান, এহসানে টাকা দিলে তা সুদ হবে না। শরিয়ত অনুযায়ী ব্যবসায়ের লভ্যাংশ পাবেন। মৃত্যুর পর জানাজা পড়াবেন তারা; হাশরের ময়দানে তার জন্যে উনারা সুপারিশও করবেন আল্লাহর দরবারে। এসব কথায় সন্তুষ্ট হয়ে বিনিয়োগ করি।

তিনি জানান, এখন তার প্যাম্পার্স পরিবর্তন করে দেন ছোট ভাই আর দেখভাল করেন তার বোন। চিকিৎসায় প্রচুর টাকা দরকার। এ অবস্থায় বিনিয়োগ করা টাকা ফেরত চান তিনি।  

শুধু আফসার উদ্দিন নন, তার মতো এহসান গ্রুপে বিভিন্ন অঙ্কের টাকা লগ্নি করে নিঃস্ব হয়েছেন যশোরের হাজারো মানুষ। প্রতারণার ধাক্কা সহ্য করতে না পেরে অনেকে হয়েছেন শয্যাশায়ী। এরমধ্যে ৫৬ জনের মতো বিনিয়োগকারী মারা গেছেন বলে জানিয়েছেন তাদের স্বজনরা। 

এহসান গ্রুপে এক লাখ থেকে শুরু করে এক কোটি টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগ করেছেন বহু মানুষ। যাদের মধ্যে রয়েছেন খড়কীর শামসুর রহমান, আব্দুল মতিনের ছেলে শফিকুল ইসলাম, হামিদপুর এলাকার কামরুজ্জামান, রূপদিয়া এলাকার শের আলী, বারান্দীপাড়া এলাকার বিধবা আমিরুননেছা, কুলসুম বেগম, সীতারামপুরের আবুল কালাম, বালিয়া ভেকুটিয়া এলাকার মোহাম্মদ হানিফ, রাজারহাট এলাকার শাহাজাদী বেগম, বারান্দীপাড়ার আলেয়া বেগম, পূর্ববারান্দী মাঠপাড়ার নাছিমা খাতুন, একই এলাকার রায়হানুল ইসলাম, নাজির শংকরপুর এলাকার তরিকুল ইসলাম, চাঁচড়ার রাজা বরদাকান্ত রোডের আম্বিয়া, ঝুমঝুমপুর মুক্তিযোদ্ধা কলোনির রহিমা খাতুন, রুপদিয়ার নুর ইসলাম, বাঘারপাড়া ঘোষ নগরের শেফালী রানী শীল ও একই গ্রামের দুর্গা রানী অধিকারী প্রমুখ। 

এহসান সোসাইটির নিবন্ধন তথ্য ভুক্তভোগীরা জানান, ধর্মের দোহাই দিয়ে মসজিদের ইমাম ও খাদেমদের একটি অংশ এহসান গ্রুপে বিনিয়োগের জন্য গ্রাহক তৈরি করেন। পরে যশোরের গ্রাহকদেরই ৩২২ কোটি টাকার বেশি হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। জেলার হাজারো গ্রাহক এহসান গ্রুপের প্রতারণায় জীবনের সব সঞ্চয় হারিয়ে এখন মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

এহসান গ্রুপের প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ করায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে যশোর শহরের বারান্দীপাড়া কদমতলা এলাকার মফিজুল ইসলাম ইমনের পরিবার। তিনি বলেন, আমার বাবা নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করতেন মসজিদে। ২০১১ সালের শেষদিকে বাবা জমি বিক্রি করে ১৮ লাখ টাকা পান। সেই টাকা ইসলামি ব্যাংকে রাখেন। বিষয়টি জানতেন সেখানকার এক খাদেম। তিনি বাবাকে বোঝাতে সক্ষম হন, ব্যাংকে টাকা রাখলে পরকাল বরবাদ হয়ে যাবে। বরং আলেম-ওলামাদের তৈরি প্রতিষ্ঠানে টাকা রাখলে ব্যাংকের চেয়েও বেশি লভ্যাংশ এবং মেয়াদ শেষে গচ্ছিত টাকার দ্বিগুণ পাওয়া যাবে। বাবা তার কথায় প্রভাবিত হন এবং এহসানে ১৮ লাখ ছয় হাজার টাকা রাখেন। প্রথম দুই বছর মাসিক ১৬শ’ টাকা (লাখে) দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। তারপর থেকে শুরু হয় তাদের টালবাহানা।

২০১৪ সালের শেষে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের টাকা আদায়ে গঠিত হয় ‘যশোর এহসান ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহক সংগ্রাম কমিটি’। ওই কমিটির সাধারণ সম্পাদক হন মফিজুল ইসলাম ইমন।

ইমনের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেওয়ার জন্য লিখিত সিদ্ধান্ত ইমন আরও বলেন, এহসান গ্রুপের তিন চারটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এরমধ্যে এহসান সোসাইটি, এহসান রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট লিমিটেড, এহসান ইসলামি মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি, আল এহসান প্রভৃতি। যশোর ছাড়াও দেশের ৩৯টি জেলায় তাদের ১৮২টি শাখার মাধ্যমে মানুষের কাছ থেকে এভাবে টাকা গ্রহণ করেছে তারা।

তার দাবি, বিভিন্ন জেলার গ্রাহকরা এহসান গ্রুপের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে আড়াই হাজারের কোটির বেশি টাকা বিনিয়োগ করেছে।  

প্রতারণার কথা জানাতে গিয়ে তিনি বলেন, দুই বছর টাকা দেওয়ার পর আর তাদের কোনও সাড়াশব্দ না পেয়ে আমি এহসানের যশোরের অফিসে (বড়বাজার, সোনাপট্টি এলাকা) যাই। তারা আমাকেসহ অন্য গ্রাহকদের আজ-কাল বলে ঘোরাতে থাকে। একপর্যায়ে তারা সমুদয় সম্পদ বিক্রি করে পালিয়ে যায়। এরপর আমি যশোর কোতোয়ালি থানায় এহসানের শীর্ষ কর্মকর্তাদের নামে জিডি করি। ২০১৫ সালে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। টাকা ফেরতের দাবিতে ভুক্তভোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকে। আমরা চার থেকে পাঁচশ’ ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ টাকা ফেরতের দাবিতে যশোরে সংবাদ সম্মেলন, মানববন্ধনসহ নানা কর্মসূচি পালন করেছি।

তবে এহসানের মাঠকর্মীদের দিয়ে যশোরে পাল্টা সংবাদ সম্মেলন করানো হয়। সেখানে ইমনকে একজন প্রতারক হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয় বলে জানান তিনি।

ইমন বলেন, আমার বিরুদ্ধে জালিয়াতির মামলাও করা হয়। সেই মামলায় অ্যারেস্ট হয়ে এক মাস সাত দিন জেলহাজতে ছিলাম। ২০১৭ সালে সাভারের এক যৌনকর্মীকে দিয়ে ধর্ষণের মামলা করা হয়। সেই মামলা অবশ্য পরে টেকেনি। যিনি মামলা করেন, পরে তিনি আদালতে বিষয়টি জানালে রক্ষা পাই।

যারা আমার সঙ্গে আন্দোলন সংগ্রাম করেছিলেন, তাদের বিরুদ্ধেও বিভিন্ন মামলা করা হয় বলে জানান তিনি। 

ইমন জানান, এহসানে যারা টাকা জমা করেন, তাদের বেশিরভাগই অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারী। জীবনের শেষ সঞ্চয় তাদের হাতে তুলে দেন। এ পর্যন্ত গ্রাহকদের ৫৬ জন মারা গেছেন; বিছানায় শয্যাশায়ী হয়েছেন হাজার খানেক। অনেকেই তাদের ছেলের সংসারে আছেন। কিন্তু টাকা-পয়সা সন্তানদের দিতে পারেননি বিধায় সেখানেও মানবেতর জীবন কাটাতে হচ্ছে তাদের।

তিনি আরও জানান, কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনায় এহসান গ্রুপের এহসান এস বাংলাদেশ ও রিয়েল এস্টেটের চেয়ারম্যান চট্টগ্রামের মুফতি আবু তাহের নদভীসহ ২৭ জনের নাম বেরিয়ে এসেছে। অন্যরা হলেন এহসান এসের ব্যবস্থাপক শিমুলিয়ার আতাউল্লাহ, প্রধান নির্বাহী ব্যবস্থাপক মাগুরার কাজী রবিউল ইসলাম, অর্থ মহাব্যবস্থাপক মাগুরার মুফতি জুনায়েদ আলী, মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) সাতক্ষীরার মুফতি আমিনুল হক ওরফে আমজাদ হোসেন, পরিচালক আজিজুর রহমান, মঈন উদ্দিন, আমিনুল হক, আব্দুল মতিন, কালিমুল্লাহ, মিরাজুল ইসলাম, খুলনার মুফতি গোলাম রহমান, মাঠকর্মী যশোরের বাবর আলী, সেলিমুল আজম চৌধুরী, সিরাজুল ইসলাম, শামসুর রহমান, মকছেদ আলী।

বিশাল অঙ্কের টাকা আদায় করে আত্মসাৎ করা এমডি রবিউল ইসলাম, খবিরুজ্জমান, জুনায়েদ আলী, ইউনুস আলী ও আতাউল্লাসহ ১০-১২ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলেন আন্দোলনকারীরা।
 
এহসান সোসাইটির তথ্য

সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য
এ বিষয়ে জানতে এহসান এসের অন্যতম পরিচালক মুফতি মো. ইউনুসের মোবাইল ফোনে কয়েকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। সে কারণে তার বক্তব্য সংযোজন করা সম্ভব হয়নি।

তবে, মাঠকর্মী (অর্থ সম্পাদক) যশোর মাছবাজার (বড়বাজার) মসজিদের খাদেম মোকসেদ আলী বলেন, আমি নিজেও একজন গ্রাহক। ইতোমধ্যে মাল্টিপারপাসের ৬০ শতাংশ মানুষের টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। বাকি ৪০ শতাংশ মানুষের টাকা অল্প দিনের মধ্যে পরিশোধ করা হবে বলে জানান তিনি। 

যোগাযোগ করা হলে প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান মুফতি আবু তাহের নদভী বলেন, সুদমুক্ত সমাজ গড়া আমাদের দায়িত্ব। তারা (এহসান গ্রুপ) আমাকে নামকাওয়াস্তে সভাপতি বানায়। আমাকে বেতন-ভাতা দেবে বলে জানিয়েছিল। আমি তা প্রত্যাখ্যান করেছিলাম। এখন তাদের সেই কাজের দায় আমাকে নিতে হচ্ছে। আল্লাহর কাছে বিচার চেয়েছি, আমি তো কোনও অপরাধ করিনি।

যশোর সমাজসেবা অধিদফতরের উপ-পরিচালক অসীত কুমার সাহা বলেন, এহসান এস বাংলাদেশের কোনও কার্যক্রম আছে বলে জানি না। তারপরও আমি খুঁজে দেখবো। আসলে না দেখে কিছু বলতে পারছি না।

পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) যশোরের পুলিশ সুপার রেশমা শারমীন বলেন, সম্প্রতি কোর্টে যে মামলা হয়েছে, তার নথিপত্র আমাদের হাতে এসে পৌঁছায়নি। তবে, এর আগে আমাদের কাছে ১৮টি মামলা আসে। যার মধ্যে ১৭টির রিপোর্ট আমরা জমা দিয়েছি।
 
সর্বশেষ: ২৬ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আদালতে মামলা
দু’জন গ্রাহকের প্রায় ৩২ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ১৩ সেপ্টেম্বর যশোরে এহসান রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট লিমিটেডের চেয়ারম্যানসহ ২৬ জনের বিরুদ্ধে আদালতে দুটি মামলা দায়ের হয়। অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মারুফ আহম্মেদ অভিযোগ আমলে নিয়ে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআিই) আদেশ দেন।

গ্রাহকেরা হলেন, যশোর শহরের চাঁচড়া ডালমিল এলাকার মৃত আব্দুস সামাদের স্ত্রী রহিমা খাতুন (৭২) ও সদর উপজেলার সতীঘাটা কামালপুর গ্রামের তুরফান গাজীর ছেলে ওসমান গাজী (৭০)। তাদের পক্ষে মামলাটি করেছেন শহরের পশ্চিম বারান্দীপাড়া কদমতলা এলাকার রবিউল ইসলামের ছেলে মফিজুল ইসলাম ইমন।

অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় এহসান সোসাইটির লাইসেন্স বাতিল হয় রহিমা খাতুনের পক্ষে দায়ের করা মামলায় উল্লেখ করা হয়, আসামি সিরাজুল ইসলাম তার পূর্ব পরিচিত। তার কথায় সরল বিশ্বাসে রহিমা ২০১৩ সালের ১ আগস্ট থেকে ২০১৪ সালের ১ জুলাই পর্যন্ত বিভিন্ন সময় ওই কোম্পানিতে মোট ১৩ লাখ ২৫ হাজার টাকা লগ্নি করেন। কিন্তু কোম্পানির কর্মকর্তারা তাকে মুনাফা দেননি। এ কারণে তিনি তাদের কাছে আসল টাকা ফেরত চান। 

ওসমান গাজীর পক্ষে দায়ের করা মামলায় বলা হয়, আসামিরা প্রতারক, ধাপ্পাবাজ। ধর্মের নাম ভাঙিয়ে সাধারণ মানুষকে প্রতারিত করে বিভিন্নভাবে অর্থ আদায় করে তা আত্মসাৎ করে থাকেন। আসামি সিরাজুল উল্লিখিত কোম্পানির মাঠকর্মী সেক্রেটারি পরিচয় দিয়ে তাকে অর্থ লগ্নি করতে উৎসাহ দেন। ২০১০ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর থেকে ২০১৪ সালের ২৩ এপ্রিল পর্যন্ত বিভিন্ন সময় কোম্পানিতে মোট ১৮ লাখ ৬০ হাজার টাকা লগ্নি করেন। কিন্তু উল্লিখিত আসামিরা প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী তাকে মুনাফা দেননি।

/টিটি/এমওএফ/

সম্পর্কিত

এহসান গ্রুপে ৪০ লাখ টাকা রেখেছেন সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা

এহসান গ্রুপে ৪০ লাখ টাকা রেখেছেন সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা

ইভ্যালির রাসেলের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ

ইভ্যালির রাসেলের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ

শত কোটি টাকা ঋণ নিয়ে আত্মগোপনের ১০ বছর পর গ্রেফতার

আপডেট : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২৩:০৮

বিভিন্ন ব্যাংক থেকে কমপক্ষে শত কোটি টাকা ঋণ নিয়ে আত্মসাৎ করার অভিযোগে হোসাইন হায়দার আলী নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (১৭ সেপ্টেম্বর) ঢাকার ভাটারা থানার বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার বাড়ি থেকে চট্টগ্রাম নগরীর কোতোয়ালি থানা পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে।

কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নেজাম উদ্দিন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বিভিন্ন ব্যাংক থেকে কমপক্ষে শত কোটি টাকা ঋণ নিয়েছিলেন ব্যবসায়ী হোসাইন হায়দার আলী। সেই টাকা পরিশোধ না করে চট্টগ্রাম ছেড়ে ঢাকায় যান। ঢাকার বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় বিলাসবহুল বাড়ি বানিয়ে পরিবার নিয়ে বসবাস শুরু করেন। ঋণ পরিশোধ না করায় আদালতে বিভিন্ন ব্যাংকের পক্ষ থেকে তার বিরুদ্ধে ১০টি মামলা হয়। এসব মামলায় কারাদণ্ডের পাশাপাশি ১০০ কোটি টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। আদালতে হাজির না হওয়ায় তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে। এরপর অবস্থান শনাক্ত করে শুক্রবার রাতে ঢাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করি। আজ আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।’

গ্রেফতার হোসাইন হায়দার আলী চট্টগ্রাম নগরীর এনায়েত বাজার জুবলী রোডের মেসার্স জুবলী ট্রেডার্সের মালিক। বাসা ছিল নগরীর কোতোয়ালি থানার লাভ লেনের আবেদিন কলোনিতে। ঋণ নেওয়ার পর সেগুলো পরিশোধ না করে ১০ বছর আগে ২০১২ সালে ঢাকায় গিয়ে আত্মগোপন করেন।

/এফআর/

সম্পর্কিত

যাত্রীবাহী গাড়িটিতে সন্ত্রাসীদের ৪০-৫০ রাউন্ড গুলিবর্ষণ

যাত্রীবাহী গাড়িটিতে সন্ত্রাসীদের ৪০-৫০ রাউন্ড গুলিবর্ষণ

কক্সবাজারে বছরজুড়ে খোঁড়াখুঁড়ি, দুর্ভোগের শেষ নেই

কক্সবাজারে বছরজুড়ে খোঁড়াখুঁড়ি, দুর্ভোগের শেষ নেই

বিদ্যালয়ের টয়লেট থেকে ছাত্রী উদ্ধার, প্রধান শিক্ষককে শোকজ

বিদ্যালয়ের টয়লেট থেকে ছাত্রী উদ্ধার, প্রধান শিক্ষককে শোকজ

এহসান গ্রুপে ৪০ লাখ টাকা রেখেছেন সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা

এহসান গ্রুপে ৪০ লাখ টাকা রেখেছেন সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা

যাত্রীবাহী গাড়িটিতে সন্ত্রাসীদের ৪০-৫০ রাউন্ড গুলিবর্ষণ

আপডেট : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২৩:০২

বান্দরবানের চন্দ্রঘোনা সড়কের আমবাগান এলাকায় একটি যাত্রীবাহী চাঁদের গাড়িতে ৪০ থেকে ৫০ রাউন্ড গুলি ছুড়েছে জনসংহ‌তি স‌মি‌তির (জেএসএস মূল) সন্ত্রাসীরা। এতে তিন জন আহত হয়েছেন। শনিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকাল ৪টার দিকে বান্দরবানের কুহালং ইউনিয়নে ঘটনাটি ঘটে।

আহত তিন জন হলেন- ওয়াইনু মারমা (২৪), মেহাই চিং মারমা (১৮) ও ইয়াইচং মারমা (১৮)।

বান্দরবান সেনা জো‌ন জানিয়েছে, রাজস্থলী থে‌কে এক‌টি চাঁদের গাড়ি নি‌য়ে বান্দরবা‌নের রুমার বগা ‌লে‌কে ১৯ জনের এক‌টি দল বেড়া‌তে যায়। বিকা‌লে তারা রাজস্থলী‌তে ফেরার প‌থে রাঙ্গামাটি বান্দরবান সড়কের গলাচিপা নামক স্থানে পৌঁছালে জনসংহ‌তি স‌মি‌তির (জেএসএস মূল) সন্ত্রাসীরা গা‌ড়ি‌টি লক্ষ‌্য ক‌রে অতর্কিত গু‌লি চালায়। এ সময় ৪০ থেকে ৫০ রাউন্ড গুলি ছোড়ে। গাড়িতে অবস্থানরত তিন তরুণী আহত হন। প‌রে সেনাবা‌হিনী আহত‌দের উদ্ধার ক‌রে বাঙ্গালহালিয়ায় একটি বেসরকারি ক্লিনিকে নিয়ে যায়। এছাড়াও অন্যান্য যাত্রীদের অন্য একটি গাড়িতে করে গন্তব্যে পৌঁছানোর ব্যবস্থা করে।

সেনাবা‌হিনীর ম‌তে, সাধারণ মানুষের মনে ভীতি সৃষ্টির জন্য জেএসএসের (সন্তু) সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা এ কাণ্ড ঘটিয়েছে। বর্তমানে ঘটনাস্থ‌লে সেনাবাহিনীর টহল কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে ব‌লেও জানায় সেনাবা‌হিনী।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, বান্দরবান থেকে একটি চাঁদের গাড়ি চন্দ্রঘোনা সড়ক দিয়ে আমবাগান এলাকা পার হওয়ার সময় হঠাৎ পাহাড় থেকে সন্ত্রাসীরা গুলি চালায়। এ ঘটনায় গাড়ির চাকায় গুলি লাগলে গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পার্শ্ববর্তী খাদে পড়ে যায়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, এ হামলার ঘটনায় বেশ কয়েকজন হতাহতকে উদ্ধার করে সিএনজিচালিত অটোরিকশা করে বাঙ্গালহালিয়া ও চন্দ্রঘোনার দিকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

/এফআর/

সম্পর্কিত

শত কোটি টাকা ঋণ নিয়ে আত্মগোপনের ১০ বছর পর গ্রেফতার

শত কোটি টাকা ঋণ নিয়ে আত্মগোপনের ১০ বছর পর গ্রেফতার

কক্সবাজারে বছরজুড়ে খোঁড়াখুঁড়ি, দুর্ভোগের শেষ নেই

কক্সবাজারে বছরজুড়ে খোঁড়াখুঁড়ি, দুর্ভোগের শেষ নেই

বিদ্যালয়ের টয়লেট থেকে ছাত্রী উদ্ধার, প্রধান শিক্ষককে শোকজ

বিদ্যালয়ের টয়লেট থেকে ছাত্রী উদ্ধার, প্রধান শিক্ষককে শোকজ

বান্দরবানে যাত্রীবাহী গাড়িতে সন্ত্রাসীদের গুলিবর্ষণ

বান্দরবানে যাত্রীবাহী গাড়িতে সন্ত্রাসীদের গুলিবর্ষণ

কক্সবাজারে বছরজুড়ে খোঁড়াখুঁড়ি, দুর্ভোগের শেষ নেই

আপডেট : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২২:৩২

কক্সবাজার শহর ও পৌরসভার অলিগলির সড়ক, উপ-সড়কগুলোতে চলছে বছরজুড়ে খোঁড়াখুঁড়ি। এসব সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ ধীরগতিতে চলায় দুর্ভোগ পিছু ছাড়ছে না। ফলে শহরের পথচারী ও বাসিন্দাদের কোথাও পা ফেলার জায়গা নেই। বছরজুড়ে খোঁড়াখুঁড়ির কারণে বিঘ্নিত হচ্ছে যান চলাচল। একটু বৃষ্টি হলেই জমছে কাদাপানি। খানাখন্দে গাড়ির চাকা আটকে ঘটছে দুর্ঘটনা।

স্বাস্থ্যকর শহর নামে খ্যাত জেলায় এখন অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ বিরাজ করছে। শুধু বর্ষা মৌসুম নয়, শুষ্ক মৌসুমেও শহরের প্রধান সড়ক, উপ-সড়কসহ অলিগলি সব রাস্তার অবস্থা নাজুক হয়ে পড়েছে। সড়কের সবখানে ভাঙা, গর্ত ও হাঁটু ও কাদাপানি। এসব পানি সড়কে জমে একাকার। এতে চরম দুর্ভোগে পড়ছেন পৌরবাসীসহ পর্যটকরা।
 
কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (কউক) পৌর শহরের প্রধান সড়ক উন্নয়নের নামে খোঁড়াখুঁড়ি করে ৩-৪ ফুট গভীর গর্ত করেছে। পাঁচ কিলোমিটারের পুরোনো সড়ক দিয়ে যাত্রীবাহী বাসসহ অন্যান্য যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। শহরের বাইরের ভারী যানবাহন এই সড়ক দিয়ে ঢুকতে পারে না। সড়কের বেহাল দশার কারণে মানুষের হাঁটাচলা বন্ধ হয়ে গেছে। 

সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ ধীরগতিতে চলায় দুর্ভোগ পিছু ছাড়ছে না

শহরের হাসপাতাল সড়কের ব্যবসায়ী আবুল কাশেম নির্মাণাধীন সড়কের তিন ফুট গভীর গর্তে পড়ে পা ভেঙে তিন মাস ধরে শয্যাশায়ী। তিনি বলেন, সড়কের অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে শহরবাসী অপরাধ করেছে, তাই যন্ত্রণা দেওয়া হচ্ছে। সড়কের কোথাও পা রাখার জায়গা নেই। এমন উন্নয়নকাজ কোথাও দেখিনি। আগে দেখেছি, সড়কের একপাশ খালি রেখে অন্যপাশে উন্নয়ন কাজ করা হতো। এখন দেখছি, পুরো সড়ক খুঁড়ে ফেলা হয়েছে।

একই কথা বলেছেন শহরের বাজারঘাটা এলাকার ব্যবসায়ী পারভেজ আলম। তিনি বলেন, উন্নয়নের নামে শহরের প্রধান সড়কের সবকটি এলাকা খুঁড়ে ফেলেছে। কিন্তু খোঁড়ার পর মেরামত করা হয় না। যতটুকু কাজ করবে, ততটুক না খুঁড়ে পুরো সড়ক খুঁড়ে ফেলায় বেকায়দায় পড়েছে মানুষ। পুরো সড়কে দেখা দিয়েছে অচল অবস্থা। 

এদিকে, গত দেড় বছর আগে থেকে পৌরসভা সড়ক নির্মাণের কাজ করছে। কিন্তু কাজই শেষ হচ্ছে না তাদের। একসঙ্গে শহরের ২৯টি সড়ক-উপ-সড়ক ভেঙে ড্রেনের কাজ শুরু করেছে তারা। দেড় বছরেও সব ড্রেনের কাজ শেষ করতে পারেনি। ফলে প্রত্যেক সড়ক-উপ-সড়ক অকেজো হয়ে গেছে। যানবাহন চলাচল অনুপযোগী।

পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নুরুল আলম বলেন, পৌরসভা দেড় বছর আগে ২৯টি সড়ক, উপ-সড়কের নির্মাণকাজ শুরু করে। ২৯টি সড়কের ৩২ কিলোমিটার কাজ এখনও শেষ হয়নি। এটি স্থানীয় সরকার বিভাগের মিউনিসিপ্যাল গভর্নরের সার্ভিসেস প্রকল্প (এমডিএসপি) ও ইউজিপি-৩ প্রকল্পের আওতায় বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়নে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এই কাজের ব্যয় প্রকল্প ধরা হয়েছে প্রায় ৫০০ কোটি টাকা।

পৌরসভার মেয়র মুজিবুর রহমান বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে পৌর শহরে বড় ধরনের কোনও বাজেট কিংবা প্রকল্প নিয়ে সড়কের উন্নয়নকাজ করা হয়নি। স্বাধীনতা পরবর্তী ৫০ বছর ধরে পৌরবাসী সড়ক নিয়ে দুর্ভোগে ছিলেন। এখন পুরো শহরের সব সড়কের পরিকল্পিত উন্নয়নকাজ চলছে। সড়ক উন্নয়নকাজ করতে গিয়ে বর্তমানে কিছুটা দুর্ভোগ হচ্ছে পৌরবাসীর। এই কাজ আগামী ছয় মাসের মধ্যে সম্পন্ন হবে। 

খানাখন্দে গাড়ির চাকা আটকে ঘটছে দুর্ঘটনা

কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান লে. কর্নেল (অব.) ফোরকান আহমদ বলেন, শহরের প্রধান সড়কটি অনেক পুরোনো। সড়কে প্রতিনিয়ত যানজট লেগে থাকে। তাই শহরের প্রধান সড়কের জিরো পয়েন্ট হলিডে মোড় থেকে কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল পর্যন্ত প্রশস্ত করে ফোরলেনে উন্নীত করার কাজ চলছে। সড়কের উন্নয়র প্রকল্প হচ্ছে ২৯৪ কোটি ১৪ লাখ ৮৪ হাজার টাকা। 

তিনি বলেন, সড়ক উন্নয়নকাজ করতে গিয়ে সাময়িক চলাচলে অসুবিধা হচ্ছে। কিন্তু কাজ সম্পন্ন হলে যানজট নিরসনের পাশাপাশি পর্যটন শহরের সৌন্দর্য বৃদ্ধি পাবে।

গত ৯ জুন কক্সবাজারের হোটেল শৈবালে এক কর্মশালায় বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মো. মাহবুব আলী কক্সবাজার শহরের সড়কের দুরবস্থা দেখে বলেছেন, পর্যটন শহরের রাস্তার এমন অবস্থা ভাবা যায় না। বিমান বন্দর থেকে যাওয়ার পথে সড়কের এমন করুণ দশা দেশের কোথাও নেই। এমন সড়ক দেখে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের মধ্যে যেন বিরূপ ধারণা না হয়, সে জন্য দ্রুত সড়ক উন্নয়ন করতে হবে। 

/এএম/

সম্পর্কিত

শত কোটি টাকা ঋণ নিয়ে আত্মগোপনের ১০ বছর পর গ্রেফতার

শত কোটি টাকা ঋণ নিয়ে আত্মগোপনের ১০ বছর পর গ্রেফতার

যাত্রীবাহী গাড়িটিতে সন্ত্রাসীদের ৪০-৫০ রাউন্ড গুলিবর্ষণ

যাত্রীবাহী গাড়িটিতে সন্ত্রাসীদের ৪০-৫০ রাউন্ড গুলিবর্ষণ

বিদ্যালয়ের টয়লেট থেকে ছাত্রী উদ্ধার, প্রধান শিক্ষককে শোকজ

বিদ্যালয়ের টয়লেট থেকে ছাত্রী উদ্ধার, প্রধান শিক্ষককে শোকজ

বান্দরবানে যাত্রীবাহী গাড়িতে সন্ত্রাসীদের গুলিবর্ষণ

বান্দরবানে যাত্রীবাহী গাড়িতে সন্ত্রাসীদের গুলিবর্ষণ

মোটরসাইকেলে ৩ জন, ট্রাকের ধাক্কায় রাজস্ব কর্মকর্তা নিহত

আপডেট : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২২:৩২

দিনাজপুরের হিলি স্থল শুল্ক স্টেশন থেকে বাড়ি যাওয়ার পথে ট্রাকের সঙ্গে মোটরসাইকেলের ধাক্কা লেগে রাজস্ব কর্মকর্তা শাহাদৎ হোসেন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আমিনুল ইসলাম নামের এক সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা ও সিপাহি হরিদাশ আহত হয়েছেন।

শনিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় উপজেলার রেলগেট বাজার এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। তার বাড়ি ঠাকুরগাঁওয়ে। সৈয়দপুরে পরিবার নিয়ে বসবাস করতেন।

স্থানীয় ও কাস্টমস সূত্রে জানা গেছে, ছেলে অসুস্থ থাকায় আজ সন্ধ্যায় কাজ শেষে হিলি স্থল শুল্ক স্টেশন থেকে বের হয়ে মোটরসাইকেল নিয়ে সৈয়দপুরের উদ্দেশে রওনা দেন রাজস্ব কর্মকর্তা শাহাদৎ হোসেন। এ সময় তার সঙ্গে একই মোটরসাইকেলে সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম ও সিপাহি হরিদাশ ওঠেন। পথে ফুলবাড়ি রেলগেট এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ট্রাক তাদের মোটরসাইকেলটিকে ধাক্কা দিলে ঘটনাস্থলেই শাহাদৎ হোসেনের মৃত্যু হয়। আহত অবস্থায় উদ্ধার করে বাকি দুইজনকে স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ছেড়ে দেওয়া হয়।

ফুলবাড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফুল ইসলাম জানান, পাথরবাহী ট্রাকের সঙ্গে ধাক্কা লেগে নিচে পড়ে পিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান তিনি। এ ঘটনায় ট্রাকচালক রাজিউর রহমানকে আটক করা হয়েছে। ফুলবাড়ী থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে।

/এফআর/

সম্পর্কিত

ধর্ষণ মামলায় বিএনপি নেতা গ্রেফতার

ধর্ষণ মামলায় বিএনপি নেতা গ্রেফতার

কুড়িগ্রাম সীমান্তে অনুপ্রবেশের দায়ে আটক ২

কুড়িগ্রাম সীমান্তে অনুপ্রবেশের দায়ে আটক ২

ফেসবুক লাইভে গাঁজা সেবন, যুবককে খুঁজছে পুলিশ

ফেসবুক লাইভে গাঁজা সেবন, যুবককে খুঁজছে পুলিশ

ধর্ষণ মামলায় বিএনপি নেতা গ্রেফতার

আপডেট : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২২:২১

কুড়িগ্রামের চিলমারীতে ধর্ষণ মামলায় বিএনপি নেতা রিয়াজুল হক জোদ্দারকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। চিলমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আনোয়ারুল ইসলাম জানান, তাকে শনিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।

গত শুক্রবার লালমনিহাট সদর থানা পুলিশের সহযোগিতায় রিয়াজুল হক জোদ্দারকে লালমনিরহাট থেকে গ্রেফতার করে চিলমারী মডেল থানা পুলিশ। শনিবার তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে চিলমারী মডেল থানা পুলিশ।

আটক রিয়াজুল হক জোদ্দার উপজেলার চিলমারী ইউনিয়নের চর কড়াইবরিশাল এলাকার মৃত ফুলগনির ছেলে। তিনি চিলমারী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি।

পুলিশ আরও জানায়, গত ২৫ জুলাই নৌকায় তুলে এক স্বামী পরিত্যক্ত নারীকে ধর্ষণের এ ঘটনা ঘটে। পরে ওই নারী বাদী মামলা রুজু করলে দীর্ঘদিন এজাহারভুক্ত আসামি পলাতক থাকার পর গতকাল গ্রেফতার করা হয়।

 

/এমএএ/

সম্পর্কিত

মোটরসাইকেলে ৩ জন, ট্রাকের ধাক্কায় রাজস্ব কর্মকর্তা নিহত

মোটরসাইকেলে ৩ জন, ট্রাকের ধাক্কায় রাজস্ব কর্মকর্তা নিহত

এহসান গ্রুপে ৪০ লাখ টাকা রেখেছেন সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা

এহসান গ্রুপে ৪০ লাখ টাকা রেখেছেন সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা

কুড়িগ্রাম সীমান্তে অনুপ্রবেশের দায়ে আটক ২

কুড়িগ্রাম সীমান্তে অনুপ্রবেশের দায়ে আটক ২

সর্বশেষসর্বাধিক

লাইভ

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

এহসান গ্রুপে ৪০ লাখ টাকা রেখেছেন সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা

এহসান গ্রুপে ৪০ লাখ টাকা রেখেছেন সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা

ইভ্যালির রাসেলের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ

ইভ্যালির রাসেলের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ

বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হচ্ছেন ডা. প্রাণ গোপাল  

কুমিল্লা-৭ উপনির্বাচনবিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হচ্ছেন ডা. প্রাণ গোপাল  

মসজিদ থেকে গ্রেফতার ১১ জনের রিমান্ড আবেদন

মসজিদ থেকে গ্রেফতার ১১ জনের রিমান্ড আবেদন

স্কুলের শিক্ষার্থীরা পাবে ফাইজারের টিকা: স্বাস্থ্যমন্ত্রী 

স্কুলের শিক্ষার্থীরা পাবে ফাইজারের টিকা: স্বাস্থ্যমন্ত্রী 

এবার আলুর ন্যায্য দাম পাবেন না কৃষকরা: বাণিজ্যমন্ত্রী 

এবার আলুর ন্যায্য দাম পাবেন না কৃষকরা: বাণিজ্যমন্ত্রী 

ছাত্রলীগের পদ পেতে অছাত্র ও হত্যা মামলার আসামির দৌড়ঝাঁপ

ছাত্রলীগের পদ পেতে অছাত্র ও হত্যা মামলার আসামির দৌড়ঝাঁপ

টেকনাফে শঙ্কায় প্রার্থী ও ভোটাররা 

টেকনাফে শঙ্কায় প্রার্থী ও ভোটাররা 

সর্বশেষ

শত কোটি টাকা ঋণ নিয়ে আত্মগোপনের ১০ বছর পর গ্রেফতার

শত কোটি টাকা ঋণ নিয়ে আত্মগোপনের ১০ বছর পর গ্রেফতার

চবিতে দুই শিক্ষার্থীকে হেনস্তার অভিযোগ

চবিতে দুই শিক্ষার্থীকে হেনস্তার অভিযোগ

‘সবকিছু অন্ধকার লাগছে’, স্কুলে যেতে না পারা আফগান মেয়ে

‘সবকিছু অন্ধকার লাগছে’, স্কুলে যেতে না পারা আফগান মেয়ে

যাত্রীবাহী গাড়িটিতে সন্ত্রাসীদের ৪০-৫০ রাউন্ড গুলিবর্ষণ

যাত্রীবাহী গাড়িটিতে সন্ত্রাসীদের ৪০-৫০ রাউন্ড গুলিবর্ষণ

তালেবান খুঁজে পেলে হত্যা করবে, আতঙ্কে সমকামীরা

তালেবান খুঁজে পেলে হত্যা করবে, আতঙ্কে সমকামীরা

© 2021 Bangla Tribune