X
রবিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২১, ৮ কার্তিক ১৪২৮

সেকশনস

'লাশের নামে একটা বাক্সো সাজিয়ে-গুজিয়ে আনা হয়েছিল'

আপডেট : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১৬:৫৫

জিয়াউর রহমানের লাশের নামে চট্টগ্রাম থেকে একটি বাক্সো সাজিয়ে-গুজিয়ে আনা হয়েছিল বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ওই বাক্সোতে জিয়াউর রহমানের লাশ ছিলো না। বিষয়টি মুক্তিযোদ্ধা মীর শওকত ও তৎকালীন সেনাপ্রধান মরহুম রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ স্বীকার করেছেন বলেও তিনি জানান।

বৃহস্পতিবার (১৬ সেপ্টেম্বর) চলতি একাদশ জাতীয় সংসদের চতুর্দশ অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জিয়াউর রহমানের কবর নিয়ে কথা উঠছে। আমি এ বিষয়ে আর কিছু বলতে চাই না। ৪০ বছর পরে নয়, জিয়ার মৃত্যুর সংবাদের পরে তার লাশ খুঁজে পাওয়া যায়নি। গায়েবানা জানাজা হয়েছিল। কয়েকদিন পরে একটি বাক্সো আনা হলো। এখানে কেউ একটা বুদ্ধি দিয়েছে- আর জেনারেল এরশাদ তো এই বিষয়ে বেশি পারদর্শী। সাজিয়ে-গুজিয়ে একখানা বাক্সো নিয়ে এসে দেখানো হলো।

তিনি বলেন, তখন এই পার্লামেন্টে বার বার প্রশ্ন এসেছে-যদি লাশ পাওয়া যায় তার ছবি থাকবে না কেন? লাশ শনাক্ত করেছিল মীর শওকত। মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তাকে চিনতাম। আমি তাকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম ‑ সত্যি কথা বলেন তো? তিনি বলেছিলেন ‑ লাশ কোথায় পাবো? জেনারেল এরশাদ সাহেবকেও জিজ্ঞেস করেছিলাম। আমি বললাম- আপনি যে একটা বাক্স আনলেন? লাশটা কই? আমাকে তিনি বললেন ‑ লাশ পাবো কোথায়?

শেখ হাসিনা বলেন, লাশের কথা আমরা বার বার জানতে চেয়েছি। তখনকার বিএনপির নেতারাও ছিলো, তারা কী করে গেছে সেটা আপনারা দেখেন।

তিনি বলেন, জিয়াউর রহমান মুক্তিযোদ্ধা, বঙ্গবন্ধু তাকে খেতাব দিয়েছেন। তা সবই সত্য। কিন্তু তার অবদানটা কী? মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে কর্নেল আসলাম বেগ তাকে চিঠি লিখেছিলো। ওই চিঠি আমার কাছে আছে। এই সংসদে সেটা তুলে ধরবো। সংসদের প্রসেডিংসের পার্ট হয়ে থাকা দরকার। কর্নেল আসলাম বেগ মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে জিয়াকে একটি চিঠি দেয়। সেই চিঠিতে সে লিখেছিলো ‑ আপনি খুব ভালো কাজ করছেন। আমরা আপনার কাজে সন্তুষ্ট। আপনার স্ত্রী-পুত্রকে নিয়ে চিন্তা করবেন না। আপনাকে ভবিষ্যতে আরও কাজ দেওয়া হবে।

খালেদ মোশাররফ যখন আহত হয়ে যান, তখন মেজর হায়দার দায়িত্ব নিয়েছিলেন। জিয়াউর রহমান সেক্টর কমান্ডার হয়নি। অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সে তো একটা সেক্টরের অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে, সেক্টর কমান্ডার নয়।

/ইএইচএস/এমএস/

সম্পর্কিত

মাঝে মধ্যে কিছু ঘটিয়ে দেশের ভাবমূর্তি নষ্টের অপচেষ্টা হচ্ছে: প্রধানমন্ত্রী

মাঝে মধ্যে কিছু ঘটিয়ে দেশের ভাবমূর্তি নষ্টের অপচেষ্টা হচ্ছে: প্রধানমন্ত্রী

পায়রা সেতু উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

পায়রা সেতু উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

মাঝে মধ্যে কিছু ঘটিয়ে দেশের ভাবমূর্তি নষ্টের অপচেষ্টা হচ্ছে: প্রধানমন্ত্রী

আপডেট : ২৪ অক্টোবর ২০২১, ১৩:০২

দেশে সাম্প্রতিক সময়ে সংগঠিত সাম্প্রদায়িক হামলার প্রতি ইঙ্গিত করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘বাংলাদেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করতে কিছু কিছু ঘটনা মাঝে মধ্যে ঘটছে। এগুলো যে ইচ্ছাকৃতভাবে ঘটানো হচ্ছে তা আপনারা নিজেরাই টের পান। একইসঙ্গে অপপ্রচারও চালানো হয়।’ রবিবার (২৪ অক্টোবর) বরিশাল-পটুয়াখালী মহাসড়কে পায়রা নদীর ওপর সেতুর উদ্বোধন করতে গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি যোগ দিয়ে এসব মন্তব্য করেন তিনি। একইসঙ্গে ঢাকা-সিলেট ও ঢাকা-তামাবিল উভয় মহাসড়কে পৃথক এসএমভিটি লেনসহ ৬-লেন নির্মাণ কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন সরকার প্রধান। 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যোগাযোগের মাধ্যমে বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে। আর কখনও কেউ পেছনে টানতে পারবে না। কিন্তু আমরা যতই উন্নতি করি আর ভালো কাজ করি, একটা শ্রেণি আছে যারা বাংলাদেশের বদনাম করতে ব্যস্ত। তারা কী চায়? এ দেশের স্বাভাবিক গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকুক সেটা চায় না তারা। একটা অস্বাভাবিক পরিস্থিতি তৈরি হলে তাদের একটু কদর বাড়ে। সেজন্য তারা সবসময় উন্নয়নটা আর দেখে না। বরং তারা ধ্বংসই করতে চায়। এটাই বাস্তবতা। এ ব্যাপারে দেশবাসীকে সতর্ক থাকতে হবে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা করোনা মহামারি মোকাবিলা করেছি। টিকা দিচ্ছি। দেশের কোনও মানুষই টিকা থেকে বাদ থাকবে না। সবাইকে টিকা দিয়ে যাতে নিরাপদ থাকতে পারে সেই ব্যবস্থাও করবো। স্কুল-কলেজ ধীরে ধীরে খুলে দিচ্ছি, যাতে আমাদের ছেলেমেয়েদের লেখাপড়ায় কোনও প্রতিবন্ধকতা তৈরি না হয়।’

সশরীরে উপস্থিত থেকে পায়রা সেতু উদ্বোধন না করতে পারায় মন খারাপ হয়েছে বঙ্গবন্ধুকন্যার। তার কথায়, ‘আমি নিজে উপস্থিত থেকে এই সেতুর ওপর দিয়ে যদি গাড়ি চালিয়ে যেতে পারতাম বা সেতুতে নেমে একটু দাঁড়াতে পারতাম বা একটু হাঁটতে পারতাম তাহলে সত্যি খুব ভালো লাগতো। পায়রা নদীটা যদি দেখতে পারতাম, এই নদীতে সবসময় স্পিডবোটে চড়েছি। কিন্তু করোনার কারণে বলতে গেলে বন্দি জীবন কাটছে। সেজন্য আর সেটা হলো না। তবে আমার আকাঙ্ক্ষা আছে, একদিন গাড়ি চালিয়ে এই সেতুতে অবশ্যই যাবো।’

সবশেষে সিলেট ও পটুয়াখালী প্রান্তে উপস্থিত উপকারভোগী, জনপ্রতিনিধি ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন প্রধানমন্ত্রী।

গণভবন প্রান্ত থেকে অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস। বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব মো. নজরুল ইসলাম। এছাড়াও ছিলেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য আমির হোসেন আমু, কার্যনির্বাহী সদস্য আবুল হাসনাত আবদুল্লাহ, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ। 

/পিএইচসি/জেএইচ/

সম্পর্কিত

টিকা নিয়ে দেশে এলে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে থাকতে হবে না

টিকা নিয়ে দেশে এলে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে থাকতে হবে না

পায়রা সেতু উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

পায়রা সেতু উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

টিকা নিয়ে দেশে এলে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে থাকতে হবে না

আপডেট : ২৪ অক্টোবর ২০২১, ১৩:০৭

আকাশপথে চলাচলে নতুন নিয়ম জারি করেছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)। আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ শিথিল করে শনিবার (২৩ অক্টোবর) রাতে বেবিচকের সদস্য (ফ্লাইট স্ট্যান্ডার্ড অ্যান্ড রেগুলেশনস) গ্রুপ ক্যাপ্টেন চৌধুরী মো. জিয়াউল কবীর স্বাক্ষরিত নতুন নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এটি কার্যকর থাকবে।

জানা গেছে, ১৩টি দেশ ছাড়া অন্য যেকোনও জায়গা থেকে করোনা প্রতিরোধক টিকা নিয়ে দেশে এলে কোয়ারেন্টিনে থাকতে হবে না। তবে টিকা না নেওয়া ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে ১৪ দিন বাড়িতে কোয়ারেন্টিন করা বাধ্যতামূলক।

নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ১৩টি দেশ থেকে করোনা প্রতিরোধক টিকা নিয়ে এলে সাতদিন বাড়িতে কোয়ারেন্টিনে থাকতে হবে। দেশগুলো হলো- আর্মেনিয়া, বুলগেরিয়া, এস্টোনিয়া, জর্জিয়া, লাটভিয়া, লিথুয়ানিয়া, মালদোভা, মঙ্গোলিয়া, ফিলিস্তিন, রোমানিয়া, সার্বিয়া, স্লোভেনিয়া এবং ইউক্রেন। এসব দেশ থেকে টিকা না নিয়ে এলে একসপ্তাহ নিজ খরচে বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত হোটেলে কোয়ারেন্টিন করতে হবে। 

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আসা যাত্রীরা

বেবিচক জানিয়েছে, বাংলাদেশে আসতে আগ্রহীদের অবশ্যই আরটি-পিসিআর পদ্ধতিতে করোনা পরীক্ষার নেগেটিভ রিপোর্ট থাকা চাই। ফ্লাইটে ভ্রমণের ৭২ ঘণ্টার মধ্যে নমুনা পরীক্ষা করাতে হবে। তবে ১২ বছরের নিচে শিশুদের ক্ষেত্রে করোনা পরীক্ষা বাধ্যতামূলক নয়। ১৮ বছরের কম বয়সী যাত্রীরা টিকা না নিলেও টিকা নেওয়া পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে বাংলাদেশে আসতে পারবেন।

নতুন নিয়ম চালুর ফলে গত ১৬ আগস্ট জারি করা নির্দেশনা বাতিল হয়েছে।

/সিএ/জেএইচ/

সম্পর্কিত

মাঝে মধ্যে কিছু ঘটিয়ে দেশের ভাবমূর্তি নষ্টের অপচেষ্টা হচ্ছে: প্রধানমন্ত্রী

মাঝে মধ্যে কিছু ঘটিয়ে দেশের ভাবমূর্তি নষ্টের অপচেষ্টা হচ্ছে: প্রধানমন্ত্রী

পায়রা সেতু উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

পায়রা সেতু উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

দুশ্চিন্তায় উপসচিবরা!

দুশ্চিন্তায় উপসচিবরা!

সর্বাধিক সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি নিয়ে ফিরলেন বঙ্গবন্ধু

সর্বাধিক সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি নিয়ে ফিরলেন বঙ্গবন্ধু

পায়রা সেতু উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

আপডেট : ২৪ অক্টোবর ২০২১, ১৪:৩৪

পটুয়াখালীতে পায়রা নদীর ওপর নির্মিত সেতু উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আজ (২৪ অক্টোবর) গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি এই কার্যক্রমে অংশ নেন তিনি। একইসঙ্গে ঢাকা-সিলেট ও ঢাকা-তামাবিল উভয় সড়কে পৃথক এসএমভিটি লেনসহ ৬-লেন নির্মাণ কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন সরকার প্রধান।

পায়রা সেতু চালুর মাধ্যমে বরিশাল থেকে কুয়াকাটা যেতে আর ফেরির দুর্ভোগ পোহাতে হবে না। আগে যেখানে বরিশাল থেকে কুয়াকাটা যেতে লাগতো ৬-৮ ঘণ্টা। এখন পায়রা সেতু চালুর ফলে লাগবে মাত্র ৩-৪ ঘণ্টা। আশা করা হচ্ছে, ফেরিবিহীন সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা চালু হলে কুয়াকাটা সমুদ্রবন্দর ও এখানকার পর্যটনের আকর্ষণ বাড়বে। 

পটুয়াখালী-বরিশাল মহাসড়কের লেবুখালী পয়েন্টে পায়রা সেতুর নির্মাণ প্রকল্প ২০১২ সালে অনুমোদন পায় একনেকে। ২০১৩ সালের ১৯ মার্চ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এর ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন করেন। চীনের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান লংজিয়ান রোড অ্যান্ড ব্রিজ কনস্ট্রাকশনের তত্ত্বাবধানে নির্মাণ কাজটি শুরু হয় ২০১৬ সালের ২৪ জুলাই। কার্যাদেশে সেতু নির্মাণে ৩৩ মাস সময় বেঁধে দেওয়া হলেও দুই দফায় প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো হয় ২০২২ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত। নির্ধারিত সময়ের আগেই যানচলাচলের জন্য সেতুটি উন্মুক্ত করে দেওয়া হলো।

প্রায় দেড় কিলোমিটার দীর্ঘ এই সেতু নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ১ হাজার ৪৪৭ কোটি ২৪ লাখ টাকা। এর মধ্যে ৮২ ভাগ অর্থায়ন করেছে কুয়েত ফান্ড ফর আরব ইকোনমিক ডেভেলপমেন্ট এবং এপেক ফান্ড।

১ হাজার ৪৭০ মিটার দৈর্ঘ্য ও ১৯ দশমিক ৭৬ মিটার প্রস্থের পায়রা সেতুর নকশা কিছুটা ব্যতিক্রম। চার লেনবিশিষ্ট এই স্থাপনা তৈরিতে ব্যবহার হয়েছে এক্সট্রাডোজড ক্যাবল স্টেইন্ড প্রযুক্তি। চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীর ওপর শাহ আমানত সেতু একই প্রযুক্তিতে নির্মিত।

পায়রা সেতুর দুই পাশ ক্যাবল­ দিয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে। নদীর মাঝখানে রয়েছে কেবল একটি পিলার। ফলে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ অব্যাহত থাকবে। সেতুটি নদীর ১৮ দশমিক ৩০ মিটার ওপরে। এখানে বাতি জ্বলবে সৌরবিদ্যুতের সহায়তায়।

/পিএইচসি/জেএইচ/

সম্পর্কিত

মাঝে মধ্যে কিছু ঘটিয়ে দেশের ভাবমূর্তি নষ্টের অপচেষ্টা হচ্ছে: প্রধানমন্ত্রী

মাঝে মধ্যে কিছু ঘটিয়ে দেশের ভাবমূর্তি নষ্টের অপচেষ্টা হচ্ছে: প্রধানমন্ত্রী

টিকা নিয়ে দেশে এলে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে থাকতে হবে না

টিকা নিয়ে দেশে এলে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে থাকতে হবে না

দুশ্চিন্তায় উপসচিবরা!

আপডেট : ২৪ অক্টোবর ২০২১, ০৯:০০

উপসচিব থেকে যুগ্মসচিব পদে পদোন্নতির প্রক্রিয়া শুরু করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। এই পদোন্নতিকে ঘিরে দেখা দিয়েছে মেরুকরণ। পদোন্নতি প্রত্যাশী কর্মকর্তাদের অনেকের মধ্যে দুশ্চিন্তা থাকলেও ফুরফুরে মেজাজে আছেন প্রভাবশালীরা। তাদের ধারণা পদোন্নতি তাদের হবেই। কারণ তারা ‘সরকার সমর্থিত’। দুশ্চিন্তায় থাকা কর্মকর্তারা বলছেন, রাজনৈতিক বিবেচনা করা হলে তাদের পদোন্নতি না-ও হতে পারে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, পদোন্নতি হবে যোগ্যদের।

জানা গেছে, সম্প্রতি অনুষ্ঠিত সুপেরিয়র সিলেকশন বোর্ডের (এসএসবি) বৈঠকে উপসচিব থেকে যুগ্মসচিব পদে পদোন্নতির প্রক্রিয়া শুরু করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। শিগগিরই পদোন্নতির তালিকা চূড়ান্ত হবে। এরইমধ্যে কর্মকর্তারা বিভিন্নভাবে নিজেদের পদোন্নতি নিশ্চিত করতে মাঠে নেমেছেন। এখন চলছে শেষ মুহূর্তের তোড়জোড়। নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণে স্থানীয় সংসদ সদস্য বা মন্ত্রীর লিখিত ডিও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে জমা দিচ্ছেন কেউ কেউ। কেউ সরাসরি জনপ্রশাসনমন্ত্রী বা সচিবকে ফোনও করাচ্ছেন।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, এবার যুগ্মসচিব পদোন্নতির ক্ষেত্রে বিসিএস ২০তম ব্যাচ পর্যন্ত কর্মকর্তাদের বিবেচনা করা হচ্ছে। এ ব্যাচে যোগদান করা কর্মকর্তা ২৯৭ জন। এর মধ্যে ২৬৮ জন উপসচিব হিসেবে পদোন্নতি পেয়েছেন। ২০তম ব্যাচে যুগ্মসচিব হওয়ার যোগ্য ২৪৮ জন। সূত্র জানায়, এবারের পদোন্নতিতে উপসচিব পদমর্যাদার ৫৫৩ জন কর্মকর্তাকে বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ২০তম ব্যাচ পর্যন্ত (লেফট আউটসহ) ৩২৪ জন কর্মকর্তা রয়েছেন। ইকোনমিক ক্যাডার কর্মকর্তা রয়েছেন ৩৮ জন এবং অন্যান্য ক্যাডারের ১৯১ জন।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্রত্যেক কর্মকর্তার কর্মজীবনের সমস্ত নথি পর্যালোচনা করা হচ্ছে। প্রয়োজনীয় নম্বর, চাকরিজীবনের শৃঙ্খলা, দুর্নীতির বিষয়সহ সামগ্রিক বিষয় পর্যালোচনায় আসছে।

এসএসবির আরও বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে বলেও জানা গেছে। ওই বৈঠক শেষেই এসএসবিকে যুগ্মসচিব পদের জন্য তিন শতাধিক কর্মকর্তার নামের তালিকা চূড়ান্ত করতে হবে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক মন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, মেধার ভিত্তিতে যোগ্যদের পদোন্নতির জন্য বাছাই করলে কোনও দুশ্চিন্তার কথা উঠতো না। অতীতে সরকারের উচ্চপর্যায়ে পরিচিতি ও সম্পর্ক না থাকার কারণে দক্ষদের অনেকেই পদোন্নতি পাননি। মাঠ পর্যায়ে নেতিবাচক পারফরম্যান্স নিয়েও অনেকে রাজনৈতিক বিবেচনায় পদোন্নতি পেয়েছেন।

এদিকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, রাজনৈতিক বিবেচনায় পদোন্নতিবঞ্চিত করার অভিযোগ তো সব সরকারের সময়ই ছিল। এ ছাড়াও বিভিন্ন সংস্থার ত্রুটিপূর্ণ ও অসত্য প্রতিবেদনের কারণে অনেক মেধাবী কর্মকর্তাকে পদোন্নতিবঞ্চিত হতে হয় এমন অভিযোগও রয়েছে। তবে যারা মন্ত্রিপরিষদ ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে কাজ করেন তাদের পদোন্নতিতে সমস্যা হয় না। কারণ দেশের সেরা অফিসারদের বাছাই করে এখানে পদায়ন করা হয়।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন জানিয়েছেন, জনপ্রতিনিধিরা ডিও লেটার দিতেই পারেন। তবে প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের পদোন্নতির একটা মাপকাঠি রয়েছে। যেকোনও পদোন্নতিতেই যোগ্যতা প্রধান বিবেচ্য। এ ক্ষেত্রেও এর ব্যত্যয় হওয়ার কথা নয়।

 

 

 
 
/এফএ/

সম্পর্কিত

মাঝে মধ্যে কিছু ঘটিয়ে দেশের ভাবমূর্তি নষ্টের অপচেষ্টা হচ্ছে: প্রধানমন্ত্রী

মাঝে মধ্যে কিছু ঘটিয়ে দেশের ভাবমূর্তি নষ্টের অপচেষ্টা হচ্ছে: প্রধানমন্ত্রী

টিকা নিয়ে দেশে এলে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে থাকতে হবে না

টিকা নিয়ে দেশে এলে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে থাকতে হবে না

পায়রা সেতু উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

পায়রা সেতু উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

সর্বাধিক সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি নিয়ে ফিরলেন বঙ্গবন্ধু

সর্বাধিক সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি নিয়ে ফিরলেন বঙ্গবন্ধু

সর্বাধিক সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি নিয়ে ফিরলেন বঙ্গবন্ধু

আপডেট : ২৪ অক্টোবর ২০২১, ০৮:০০

(বিভিন্ন সংবাদপত্রে প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে বঙ্গবন্ধুর সরকারি কর্মকাণ্ড ও তার শাসনামল নিয়ে মুজিববর্ষ উপলক্ষে ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশ করছে বাংলা ট্রিবিউন। আজ পড়ুন ১৯৭৩ সালের ২৪ অক্টোবরের ঘটনা।)

 

জাপান বাংলাদেশকে সহজতম শর্তে ২৫ কোটি টাকা ঋণ দেবে। জাপানে প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছয় দিনব্যাপী সরকারি সফর শেষে প্রকাশিত এক যুক্ত ইশতেহারে এ কথা জানানো হয়। ইশতেহারে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কাছে বাংলাদেশ পুনর্বাসন ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে যেসব সমস্যার সম্মুখীন হয়েছে সেগুলোর ব্যাখ্যা করেন। জাপানের প্রধানমন্ত্রী সহানুভূতির সঙ্গে সমস্যা উপলব্ধি করেছেন বলে জানান তিনি।

দৃষ্টান্তমূলক ঐকান্তিক প্রচেষ্টা গ্রহণের জন্য বাংলাদেশের জনগণের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান জাপানের প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, জাপান সরকার এই প্রচেষ্টাকে সাহায্য করার জন্য যত বেশি সম্ভব সহযোগিতা দিয়ে যাবে। বাংলাদেশ এবং জাপানের মধ্যে সম্পর্ক জোরদারের ব্যাপারে আলোচনা অত্যন্ত ফলপ্রসূ হয়েছে।

দৈনিক বাংলা, ২৫ অক্টোবর ১৯৭৩

বঙ্গবন্ধুর ঢাকা প্রত্যাবর্তন

প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বলেন, জাপান সরকারের সঙ্গে আলোচনা ফলপ্রসূ হয়েছে। জাপান সরকার আমাদের প্রথম যোজনা সম্পর্কে উৎসাহ দেখিয়েছে। সপ্তাহব্যাপী জাপান সফর শেষে এদিন রাতে ঢাকায় ফিরে বঙ্গবন্ধু সাংবাদিকদের কাছে এ কথা বলেন। রাত ১১টা ১০ মিনিটে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে বাংলাদেশ বিমান ৭০৭ তেজগাঁও বিমানবন্দরে অবতরণ করে। অস্থায়ী প্রধানমন্ত্রী সৈয়দ নজরুল ইসলাম প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে স্বদেশের মাটিতে স্বাগত জানান। এসময় মন্ত্রিপরিষদের সদস্যবৃন্দ জাতীয় সংসদ সদস্য ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

ডেইলি অবজারভার, ২৫ অক্টোবর ১৯৭৩

শান্তির মূল্য আমাদের কাছে অপরিসীম

প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিশ্ব কংগ্রেসের কাছে পাঠানো এক বাণীতে বলেন, বিশ্বে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে হলে নিপীড়িত জনগণকে অবশ্যই শোষণ থেকে নিজেদের মুক্ত করতে হবে এবং মানুষের প্রতি মানুষের অধিকারের অবসান ঘটাতে হবে। মস্কোয় শক্তিসমূহের বিশ্ব কংগ্রেসের অধিবেশন শুরু হওয়ার কথা। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে প্রকাশ, বঙ্গবন্ধু বিশ্ব কংগ্রেসকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের জনগণ যখন সাম্রাজ্যবাদ, উপনিবেশবাদ ও বর্ণবৈষম্যবাদের বিরুদ্ধে এবং রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক মুক্তির জন্য লড়ছে তখন এই কংগ্রেস সবাইকে অনুপ্রাণিত করবে।

বাণীতে তিনি বলেন শান্তির প্রয়োজনীয়তাকে বাংলাদেশ অপরিসীম মনে করে। তাই একমাত্র শান্তিপূর্ণ পরিবেশে আমাদের জনগণ নিজেদের জাতীয় আশা আকাঙ্ক্ষা পূরণের প্রচেষ্টাকে কেন্দ্রীভূত করতে সক্ষম। আমাদের পররাষ্ট্রনীতি হলো জোট নিরপেক্ষ এবং শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান। সকল দেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলার পক্ষে। আগ্রাসনের যারা শিকার হয়েছে সেই আরব দেশগুলোর সঙ্গে আমাদের সংহতি প্রকাশ এশিয়া আফ্রিকা ও ল্যাটিন আমেরিকার নিপীড়িত জাতিসমূহের প্রতি এবং মোজাম্বিক, নামিবিয়া অন্যান্য অঞ্চলের জাতীয় মুক্তির জন্য সংগ্রামের প্রতি সমর্থন জ্ঞাপন হচ্ছে এই নীতির বাস্তব অভিব্যক্তি।

 

 

/এফএ/

সম্পর্কিত

মাঝে মধ্যে কিছু ঘটিয়ে দেশের ভাবমূর্তি নষ্টের অপচেষ্টা হচ্ছে: প্রধানমন্ত্রী

মাঝে মধ্যে কিছু ঘটিয়ে দেশের ভাবমূর্তি নষ্টের অপচেষ্টা হচ্ছে: প্রধানমন্ত্রী

টিকা নিয়ে দেশে এলে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে থাকতে হবে না

টিকা নিয়ে দেশে এলে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে থাকতে হবে না

পায়রা সেতু উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

পায়রা সেতু উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

দুশ্চিন্তায় উপসচিবরা!

দুশ্চিন্তায় উপসচিবরা!

সর্বশেষসর্বাধিক
quiz

লাইভ

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মাঝে মধ্যে কিছু ঘটিয়ে দেশের ভাবমূর্তি নষ্টের অপচেষ্টা হচ্ছে: প্রধানমন্ত্রী

মাঝে মধ্যে কিছু ঘটিয়ে দেশের ভাবমূর্তি নষ্টের অপচেষ্টা হচ্ছে: প্রধানমন্ত্রী

পায়রা সেতু উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

পায়রা সেতু উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতিসংঘ গড়ে তুলতে সম্মিলিত প্রচেষ্টার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতিসংঘ গড়ে তুলতে সম্মিলিত প্রচেষ্টার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

‘খালেদা জিয়ার অন্তরে সবসময়ই ছিল পেয়ারে পাকিস্তান’

‘খালেদা জিয়ার অন্তরে সবসময়ই ছিল পেয়ারে পাকিস্তান’

কুমিল্লা নামে বিভাগ হবে না: প্রধানমন্ত্রী  

কুমিল্লা নামে বিভাগ হবে না: প্রধানমন্ত্রী  

সর্বশেষ

মাদকসহ সমাজসেবা কর্মকর্তা গ্রেফতার

মাদকসহ সমাজসেবা কর্মকর্তা গ্রেফতার

নুসরাত ফারিয়ার এবারের গানচমক ‘হাবিবি’

নুসরাত ফারিয়ার এবারের গানচমক ‘হাবিবি’

চাকরি স্থায়ীকরণের দাবিতে এলজিইডির কর্মচারীদের ধর্মঘট

চাকরি স্থায়ীকরণের দাবিতে এলজিইডির কর্মচারীদের ধর্মঘট

চীনে আবারও বাড়ছে করোনা, ‘দ্য উহান ম্যারাথন’ স্থগিত

চীনে আবারও বাড়ছে করোনা, ‘দ্য উহান ম্যারাথন’ স্থগিত

ভারত-পাকিস্তান মহারণ: ৫-১ নাকি ৬-০

ভারত-পাকিস্তান মহারণ: ৫-১ নাকি ৬-০

© 2021 Bangla Tribune