X
শুক্রবার, ২২ অক্টোবর ২০২১, ৬ কার্তিক ১৪২৮

সেকশনস

করোনায় মারা যাওয়া বেশিরভাগই ডায়াবেটিস আক্রান্ত, সতর্কতায় করণীয়

আপডেট : ২০ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২৩:১৫

করোনায় আক্রান্ত হয়ে গত এক সপ্তাহে যারা মারা গেছেন, তাদের বেশিরভাগ আগে থেকে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ছিলেন। এক সপ্তাহে মৃতদের ৬৪ দশমিক ৪৭ শতাংশই ডায়াবেটিসে আক্রান্ত  ছিল। এরপর রয়েছে উচ্চ রক্তচাপ, কিডনি-জনিত রোগ, বক্ষব্যাধি, হৃদরোগসহ অন্যান্য রোগের আক্রান্তরা। 

সোমবার (২০ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদফতর করোনা বিষয়ক নিয়মিত বিজ্ঞপ্তিতে সপ্তাহভিত্তিক বিশ্লেষণে এ তথ্য জানিয়েছে। তাই ডায়াবেটিসে আক্রান্তদের বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছেন গ্রিন লাইফ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের এন্ডোক্রাইনোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. তানজিনা হোসেন।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের দেওয়া তথ্য মতে, গত সপ্তাহে (১৩ থেকে ১৯ সেপ্টেম্বর) করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ২৯৪ জন। তাদের মধ্যে কোমর্বিডিটি বা আগে থেকেই অন্যান্য রোগে আক্রান্ত ছিলেন ১৫২ জন। শতকরা হিসাবে যা ৫১ দশমিক ৭০ শতাংশ।

স্বাস্থ্য অধিদফতর জানায়, গত এক সপ্তাহে করোনায় আক্রান্ত হয়ে যারা মারা গেছেন, তাদের মধ্যে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ছিলেন ৬৪ দশমিক ৪৭ শতাংশ, উচ্চ রক্ত চাপে আক্রান্ত ৬৩ দশমিক ৮২ শতাংশ, কিডনিজনিতে রোগে আক্রান্ত ছিলেন ১৩ দশমিক ১৬ শতাংশ, বক্ষব্যাধিতে আক্রান্ত ছিলেন ১১ দশমিক ৮৪ শতাংশ, হৃদরোগে আক্রান্ত ছিলেন ১১ দশমিক ১৮ শতাংশ, থাইরয়েডজনিত রোগে আক্রান্ত ছিলেন চার দশমিক ৬১ শতাংশ, স্ট্রোকে আক্রান্ত ছিলেন ৩ দশমিক ২৯ শতাংশ, লিভারজনিত রোগে আক্রান্ত ছিলেন ২ দশমিক ৬৩ শতাংশ, রক্তজনিত রোগে আক্রান্ত ছিলেন ২ দশমিক ৬৩ শতাংশ, নিউরোলজিক্যাল রোগে আক্রান্ত ছিলেন ১ দশমিক ৯৭ শতাংশ, বাতজনিত রোগে আক্রান্ত ছিলেন শূন্য দশমিক ৬৬ শতাংশ।

ডা. তানজিনা হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ডায়াবেটিস একটি দীর্ঘমেয়াদী রোগ। সারাজীবনই আমাদেরকে এরসঙ্গে জীবনযাপন করতে হয়। এই রোগের নানারকম জটিলতা আছে। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে না থাকলে তাহলে ধীরে ধীরে কিডনি, হার্ট, চোখ, পায়ের নার্ভ, রক্তনালী এসব কিছুতেই প্রভাব পড়ে। সেই কারণে সবসময় এটিকে নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রাখতে হয়।

যে কারণে নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি

ডা. তানজিনার মতে, অনেকেই কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে তা বুঝতে পারে না। তিনি বলেন, অনেকে মনে করেন সুগার লেভেল ৯-১০ এর মধ্যে থাকলে স্বাভাবিক। কিন্তু খালি পেটে ৬ এবং খাবার খাওয়ার দুই ঘণ্টা পর ৮ এর নিচে থাকলে আমরা সেটাকে নিয়ন্ত্রণে থাকা বলি। এরকমই যদি সবসময় কারও থাকে তাহলে অন্যান্য সাধারণ মানুষের মতো সুস্থ স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারবে। অন্যথায় কয়েকবছর পর নানারকম জটিলতা দেখা দেবে।

দ্বিতীয়ত, ডায়াবেটিস মানুষের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা নষ্ট করে দেয়। যার কারণে এসব রোগীদের বারবার নানা ধরনের সংক্রমণ দেখা দেয়। আমরা করোনাকালীন সময়ে দেখলাম ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের অবস্থা বেশি খারাপ হলো। একইসঙ্গে যে কোনও ধরনের সংক্রমণ কমাতে হলে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। সেটি নিয়ন্ত্রণে না থাকলে নানা ধরনের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়তে পারে। অনেকসময় পায়ের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়লে তা কেটে ফেলারও প্রয়োজন হয়।

তৃতীয়ত, লক্ষ্য রাখতে হবে গর্ভবতী মায়েদের দিকে। কারণ এতে বাচ্চা নষ্ট হয়ে যেতে পারে, সন্তান জন্মদানের সময় নানারকম জটিলতা দেখা দিতে পারে। গর্ভকালীন ডায়াবেটিস এখন বাংলাদেশে অনেক বেশি। এটি আলাদা ধরনের ডায়াবেটিস যেটি শুধুমাত্র গর্ভধারণের সময় দেখা দেয়। এটি নিয়ন্ত্রণ না করতে পারলে মা ও শিশু দুজনেরই নানারকম জটিলতা দেখা দিতে পারে।

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে করণীয়

ডা. তানজিনা জানান, ডায়াবেটিসের চিকিৎসা ব্যবস্থাপনাকে ৩টি ডি বলা হয়- ডায়েট, ড্রাগ ও ডিসিপ্লিন। তিনি বলেন, ডায়েট অর্থ হচ্ছে এই না যে না খেয়ে থাকতে হবে। এটা মানুষের একটি ভুল ধারণা। এর অর্থ হচ্ছে সঠিক খাবার সঠিক পরিমাণে খাবার সঠিক সময়ে খাওয়া। দুধ, ডিম, মাছ , মাংস সবই খেতে পারবেন কিন্তু সঠিক সময়ে সঠিক পরিমাণে খেতে হবে। আরেকটি হচ্ছে শারীরিক ব্যায়াম। মানুষ যতবেশি হাঁটাহাঁটি বা যে কোনও ধরনের ব্যায়াম করেন ইনসুলিন শরীরে তত ভালো কাজ করে। তখন দেখা যায় ওষুধের ডোজ অনেক কম লাগে।

এ ছাড়া ওষুধ বা ড্রাগ চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী গ্রহণ করতে হবে। ওষুধ গ্রহণও মনিটরিংয়ের মধ্যে থাকতে হবে। প্রতি তিন থেকে ছয় মাস পর পর চিকিৎসকের কাছে যাওয়া, ওষুধের ডোজ কিংবা ইনসুলিনের মাত্রা চাহিদা অনুযায়ী নির্ধারণ করা। তাছাড়া রক্তচাপ, চোখ, কিডনি এগুলো মনিটরিংয়ের মধ্যে থাকা।

ডা. তানজিনা বলেন, আমরা এখন পরামর্শ দিই; বাসায় যেন রোগীরা একটি গ্লুকোমিটার রাখেন। এটি দিয়ে মাঝে মাঝে ব্লাডসুগার পরীক্ষা করবেন। তাহলে নিজের সম্পর্কে একটি ধারণা পাওয়া যায়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শ অনুযায়ী সপ্তাহে একদিন কিংবা দু’সপ্তাহে খালি পেটে এবং খাবারের দুই ঘণ্টা পর একবার নিজের রক্তের পরীক্ষা নিজেরই করা দরকার। এ ছাড়া যখনই অসুস্থ বোধ হবে তখনই সুগার মেপে দেখা দরকার। কারণ অনেক সময় সুগার কমে যায় কিংবা বেড়ে যায়; দুই ক্ষেত্রেই অসুস্থ বোধ হয়। অসুস্থ হলে দ্রুত সময়ের মধ্যে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

/এসও/এনএইচ/         

সম্পর্কিত

করোনাতে মৃত্যুহীন ৬০ জেলা

করোনাতে মৃত্যুহীন ৬০ জেলা

আরও ১২৩ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে

আরও ১২৩ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে

এক সপ্তাহে ৪ কোটি শিশু পাবে কৃমির ওষুধ

এক সপ্তাহে ৪ কোটি শিশু পাবে কৃমির ওষুধ

সাড়ে সাত লাখ টিকা দেওয়া হয়েছে আজ

সাড়ে সাত লাখ টিকা দেওয়া হয়েছে আজ

সহিংসতার বিরুদ্ধে সংগীত 

আপডেট : ২২ অক্টোবর ২০২১, ২২:২৪

গান, কবিতা, মুকাভিনয় ও নৃত্যসহ নানা শৈল্পক পরিবেশনায় সাম্প্রদায়িক সহিংসতার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শিক্ষার্থীরা। শুক্রবার (২২ অক্টোবর) বেলা ৩টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে ‘সহিংসতার বিরুদ্ধে কনসার্ট’ শিরোনামে এ প্রতিবাদ জানানো হয়। কনসার্টে দেশের নামকরা ব্যান্ডসমূহের পাশাপাশি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।

রাজু ভাস্কর্যের সামনে সাজানো হয়েছে মঞ্চ কনসার্টে গান পরিবেশ করে দেশের শীর্ষ স্থানীয় ব্যান্ড দল ‘শিরোনামহীন’, ‘মেঘদল’, ‘সহজিয়া’, ‘শহরতলী’, ‘বাংলা ফাইভ’, ‘গানপোকা’, ‘গানকবি’, ‘কৃষ্ণপক্ষ’, ‘কাল’, ‘অবলিক’, ‘অসৃক’, ‘অর্জন’ ও ‘বুনোফুল’ । একক সংগীত পরিবেশন করেন জয় শাহরিয়ার, তুহিন কান্তি দাস, সাহস মোস্তাফিজ, লালন মাহমুদ, নাঈম মাহমুদ, প্রিয়াংকা পাণ্ডে, যশ নমুদার, তাবিব মাহমুদ, রানা, উদয়, অপু, উপায় ও অনিন্দ্য। নৃত্য পরিবেশন করেন উম্মে হাবিবা ও আবু ইবনে রাফি।

ঢাকা ইউনিভার্সিটি মাইম অ্যাকশন সোসাইটির শিল্পীরা মুকাভিনয় পরিবেশন করেন।

রাজু ভাস্কর্যের সামনে সাজানো হয়েছে মঞ্চ ব্যতিক্রমধর্মী এই আয়োজনের উদ্যোক্তা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজ কল্যাণ ইনস্টিটিউটের সাবেক শিক্ষার্থী তুহিন কান্তি দাস বলেন, ‘এ আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য দেশব্যাপী চলমান সহিংসতার বিরুদ্ধে একাত্ম হয়ে সাংস্কৃতিক প্রতিবাদ জানানো। মিছিল, বক্তৃতা,  সভা ও সেমিনারের চেয়ে শিল্প অনেক শক্তিশালী প্রতিবাদের মাধ্যম। তাই আমরা এই মাধ্যমকেই বেছে নিয়েছি। আমরা চাই, এ দেশের মানুষ হিন্দু-মুসলিম পরিচয়ের চেয়ে ‘আমরা সবাই বাংলাদেশি’ পরিচয়ে পরিচিত হোক। এটাই আজকের আয়োজনের অন্যতম লক্ষ্য।’

 

 /আইএ/

সম্পর্কিত

ঢাবির ‘ঘ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় প্রতি আসনের বিপরীতে প্রায় ৭৪ শিক্ষার্থী

ঢাবির ‘ঘ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় প্রতি আসনের বিপরীতে প্রায় ৭৪ শিক্ষার্থী

রাজধানীতে ট্রেনের ধাক্কা ও কাটা পড়ে তিনজনের মৃত্যু

রাজধানীতে ট্রেনের ধাক্কা ও কাটা পড়ে তিনজনের মৃত্যু

হিন্দু পরিষদের শাহবাগ অবরোধ

হিন্দু পরিষদের শাহবাগ অবরোধ

ডেমরায় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে রঙমিস্ত্রির মৃত্যু

ডেমরায় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে রঙমিস্ত্রির মৃত্যু

ঢাবির ‘ঘ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় প্রতি আসনের বিপরীতে প্রায় ৭৪ শিক্ষার্থী

আপডেট : ২২ অক্টোবর ২০২১, ২২:১৩

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদভুক্ত ‘ঘ’ ইউনিটের ২০২০-২১ সেশনের ভর্তি পরীক্ষায় প্রতি আসনের বিপরীতে লড়বেন ৭৩ দশমিক ৮১ জন। এবার এই ইউনিটে ১ হাজার ৫৭০টি আসনের বিপরীতে মোট আবেদন জমা পড়েছে ১ লাখ ১৫ হাজার ৮৮১টি।

আগামীকাল (২৩ অক্টোবর) সকাল ১১টা থেকে পরীক্ষা দেবেন শিক্ষার্থীরা। তবে আবেদনকারী সবার আসন ঢাবিতে পড়েনি। দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে তাদের ভর্তি পরীক্ষা দিতে হবে।

জানা গেছে- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ৬১ হাজার ৮৫০ জনের, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ১২ হাজার জনের, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ৯ হাজার ৮৯৮ জনের, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ৭ হাজার ৭৯৮ জনের, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে ৮ হাজার ১২৪ জনের, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ২ হাজার ১৭৮ জনের, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ৩ হাজার ১৩ জনের এবং বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ১১ হাজার ২০ জনের আসন পড়েছে।

/জেএইচ/

সম্পর্কিত

সহিংসতার বিরুদ্ধে সংগীত 

সহিংসতার বিরুদ্ধে সংগীত 

জবি ছাত্রীর আত্মহত্যা, শিক্ষককে দায়ী করছেন স্বজন ও সহপাঠীরা

জবি ছাত্রীর আত্মহত্যা, শিক্ষককে দায়ী করছেন স্বজন ও সহপাঠীরা

সব শিক্ষা অফিসের ইন্টারনেট সেবা সংক্রান্ত তথ্য চেয়েছে সরকার

সব শিক্ষা অফিসের ইন্টারনেট সেবা সংক্রান্ত তথ্য চেয়েছে সরকার

প্রাথমিকের অফিসে ই-ফাইলিং শুরু ৩১ অক্টোবর

প্রাথমিকের অফিসে ই-ফাইলিং শুরু ৩১ অক্টোবর

উপ-রাষ্ট্রপতি ও উপ-প্রধানমন্ত্রীর পদ সৃষ্টির দাবি হিন্দু পরিষদের

আপডেট : ২২ অক্টোবর ২০২১, ২১:১৮

জাতীয় সংসদে সংখ্যালঘুদের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিতকরণে ৬০টি সংরক্ষিত আসন বরাদ্দ এবং একজন উপ-রাষ্ট্রপতি ও একজন উপ-প্রধানমন্ত্রীর পদ সৃষ্টির দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ হিন্দু পরিষদ। একইসঙ্গে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সার্বিক নিরাপত্তার লক্ষ্যে সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইন প্রণয়ন এবং জাতীয় সংখ্যালঘু কমিশন গঠনের দাবি তুলেছে সংগঠনটি। শুক্রবার (২২ অক্টোবর) বিকাল থেকে পাঁচটি দাবি নিয়ে রাজধানীর শাহবাগ মোড়ে সড়ক অবরোধ করেন এর নেতাকর্মীরা।

কর্মসূচিতে পেশ করা সংগঠনের বাকি তিনটি দাবি হলো-শারদীয় দুর্গাপূজায় তিন দিনের সরকারি ছুটি ও নিম্ন মাধ্যমিক পর্যায়ে সংস্কৃত শিক্ষা পুনরায় চালু করা, সরকারি চাকরিতে ২০ শতাংশ কোটা পদ্ধতি চালুসহ হিন্দু ধর্মীয় শিক্ষার্থীদের জন্য সব মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে হিন্দু ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগ নিশ্চিত করা এবং বেদখলকৃত সব দেবোত্তর সম্পত্তি স্ব স্ব মঠ-মন্দিরে হস্তান্তরসহ বন্ধ জাদুঘরের পরিবর্তে উদ্ধারকৃত হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতিমা মঠ-মন্দিরের কাছে ফেরত দেওয়া।

শুক্রবার বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে শাহবাগ মোড়ে অবস্থান নেয় বাংলাদেশ হিন্দু পরিষদ। দেশের বিভিন্ন স্থানে সাম্প্রদায়িক হামলায় জড়িতদের বিচার এবং সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা চেয়ে রাজধানীর শাহবাগে সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ করেন সংগঠনের নেতাকর্মীরা। ট্রাইব্যুনাল গঠন করে দ্রুত সাম্প্রদায়িক হামলার বিচার, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে ৫০ লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণ, সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইন প্রণয়ন এবং জাতীয় সংখ্যালঘু কমিশন গঠনের দাবি জানান তারা। অবরোধ পরবর্তী সময়ে সন্ধ্যা ৬টার দিকে মশাল মিছিল নিয়ে জাতীয় প্রেসক্লাব অভিমুখে রওনা দেন আন্দোলনকারীরা।

রাজধানীর শাহবাগে সড়ক অবরোধ করে বাংলাদেশ হিন্দু পরিষদ

অবরোধ কর্মসূচিতে বাংলাদেশ হিন্দু আইনজীবী পরিষদের সভাপতি অ্যাডভোকেট সুমন কুমার রায় বলেন, ‘আপনারা জানেন দেশব্যাপী সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ওপর কী নারকীয় হামলা চালানো হয়েছে। প্রশাসন এক্ষেত্রে তাদের দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ। রাষ্ট্র সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ। সাম্প্রদায়িক হামলায় জড়িতরা বারবার পার পেয়ে যাচ্ছে। এর আগেও সাম্প্রদায়িক হামলায় সংখ্যালঘুরা বিচার পায়নি। হামলার কুশীলবরা ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যায়। আমরা চাই, হামলার নেপথ্যে যারা জড়িত তাদেরও যেন বিচারের আওতায় আনা হয়।’

জাতীয় হিন্দু সমাজ সংস্কার সমিতির সভাপতি অধ্যাপক নীরেন্দ্রনাথ বিশ্বাসের মন্তব্য, ‘দেশে সংখ্যালঘুদের ওপর এতো হামলা হলেও কোনও বিচার হয় না। বিচার হয় না বলে এর স্থায়ী প্রতিকার দেখা যায় না। হামলাকারীকে বের করে গ্রেফতার করা চূড়ান্ত সমাধান নয়। মূলহোতাকে গ্রেফতার করা হোক এবং শাস্তি দেওয়া হোক।’

হিন্দু-মুসলিম সম্প্রীতি আবারও ফিরিয়ে আনতে সরকারকে মুখ্য ভূমিকা পালনের আহ্বান জানায় জাতীয় হিন্দু সমাজ সংস্কার সমিতি।

/জেএইচ/

সম্পর্কিত

সহিংসতার বিরুদ্ধে সংগীত 

সহিংসতার বিরুদ্ধে সংগীত 

ঢাবির ‘ঘ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় প্রতি আসনের বিপরীতে প্রায় ৭৪ শিক্ষার্থী

ঢাবির ‘ঘ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় প্রতি আসনের বিপরীতে প্রায় ৭৪ শিক্ষার্থী

ক্যান্সার আক্রান্তদের চিকিৎসার ব্যয়ভার সরকারিভাবে বহনের দাবি

ক্যান্সার আক্রান্তদের চিকিৎসার ব্যয়ভার সরকারিভাবে বহনের দাবি

রাজধানীতে ট্রেনের ধাক্কা ও কাটা পড়ে তিনজনের মৃত্যু

রাজধানীতে ট্রেনের ধাক্কা ও কাটা পড়ে তিনজনের মৃত্যু

ক্যান্সার আক্রান্তদের চিকিৎসার ব্যয়ভার সরকারিভাবে বহনের দাবি

আপডেট : ২২ অক্টোবর ২০২১, ২০:০১

ক্যান্সার আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসার ব্যয় সরকারিভাবে বহনের দাবি জানিয়েছে রোগী কল্যাণ সোসাইটি।

শুক্রবার (২২ অক্টোবর) রাজধানীর মগবাজার এলাকায় বাংলাদেশ রোগী কল্যাণ সোসাইটির উদ্যোগে অসহায় ও দুস্থ মানুষের মাঝে বিনামূল্যে ওষুধ বিতরণ কর্মসূচিতে এ দাবি জানানো হয়।

এ সময় সংগঠনের পক্ষ থেকে তুলে ধরা প্রস্তাবনায় বলা হয়- বায়ু দূষণ বন্ধ ও মেডিক্যালের বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় আধুনিকায়ন ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে। বিভাগীয়ভাবে ক্যান্সার গবেষণা ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা এবং সরকারি হাসপাতালে শূন্যপদে ডাক্তার নিয়োগ সম্পন্ন করতে হবে। স্বাস্থ্য বিমা বাধ্যতামূলক করার জন্য রাষ্ট্রীয়ভাবে উদ্যোগ এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করার কথাও এসময় বলা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি বাপ্পি সরদার তার বক্তব্যে বলেন, বর্তমান সময়ে উদ্বেগজনকহারে ক্যান্সারে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। যদিও প্রথম ও দ্বিতীয় স্তরে ক্যান্সারে আক্রান্ত রোগীর চিকিৎসার গবেষণা সারা পৃথিবীজুড়ে অনেকটা সফল হলেও শেষ স্তরের চিকিৎসা এখনও আলোর মুখ দেখেনি। এই ক্ষেত্রে সম্প্রতি বর্তমান সরকার ক্যান্সার গবেষণা ইনস্টিটিউট চালু করতে যাচ্ছে। তবে ক্যান্সারে আক্রান্ত রোগীর চিকিৎসার ব্যয়ভার সরকারিভাবে বহন করলে সাধারণ মানুষ উপকৃত হবে।

ডা. মাহতাব হোসাইন মাজেদ বলেন, চিকিৎসা খাতে আরও বেশি গবেষণা জোরদার করা দরকার। উন্নত গবেষণার মাধ্যমে টেকসই চিকিৎসা ব্যবস্থা বাস্তবায়ন করা সম্ভব। পাশাপাশি সরকারি হাসপাতালগুলো দুর্নীতি বন্ধ ও চিকিৎসার মান উন্নত করতে পারলে রোগীরা সঠিক সেবা পাবে।

নুরুল আফসার বিএসসির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সবুজ আন্দোলনের পরিচালনা পরিষদের চেয়ারম্যান বাপ্পি সরদার। কর্মসূচি উদ্বোধন করেন গণআজাদী লীগের মহাসচিব মুহাম্মদআতা উল্লাহ খান। অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ রোগী কল্যাণ সোসাইটির প্রতিষ্ঠাতা ও কো-চেয়ারম্যান ডা. মুহাম্মদ মাহতাব হোসাইন মাজেদ, কুটির শিল্প ও কারিগরি প্রকল্পের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ শফিউল আলম, রোগী কল্যাণ সোসাইটির প্রতিষ্ঠাতা সদস্য মো. সাইফুল ইসলাম, এইচএম সালাউদ্দিন কাদের।

/এসএস/এমএস/

সম্পর্কিত

রাজধানীতে ট্রেনের ধাক্কা ও কাটা পড়ে তিনজনের মৃত্যু

রাজধানীতে ট্রেনের ধাক্কা ও কাটা পড়ে তিনজনের মৃত্যু

রবিবার দেশে জলবায়ু ধর্মঘট পালন করবেন পরিবেশবাদীরা

রবিবার দেশে জলবায়ু ধর্মঘট পালন করবেন পরিবেশবাদীরা

রাজধানীতে ট্রেন লাইনচ্যুত: সাড়ে তিন ঘণ্টা পর চলাচল স্বাভাবিক

রাজধানীতে ট্রেন লাইনচ্যুত: সাড়ে তিন ঘণ্টা পর চলাচল স্বাভাবিক

কাওরান বাজারে মালবাহী ট্রেন লাইনচ্যুত

কাওরান বাজারে মালবাহী ট্রেন লাইনচ্যুত

রাজধানীতে ট্রেনের ধাক্কা ও কাটা পড়ে তিনজনের মৃত্যু

আপডেট : ২২ অক্টোবর ২০২১, ১৯:৩৩

রাজধানীতে ট্রেনের ধাক্কা ও কাটা পড়ে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে কাওরান বাজার এলাকায় দুইজন এবং বনানীর সৈনিক ক্লাব এলাকায় একজন প্রাণ হারিয়েছেন। শুক্রবার (২২ অক্টোবর) দিনের বিভিন্ন সময়ে এসব দুর্ঘটনা দেখা দেয়। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহগুলো আইনি প্রক্রিয়া শেষে ঢামেক মর্গে পাঠিয়েছে ঢাকা রেলওয়ে পুলিশ।

রেলওয়ে পুলিশের এএসআই সাকলাইন জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে সৈনিক ক্লাব এলাকা থেকে জিন্স প্যান্ট ও শার্ট পরা এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তার বয়স আনুমানিক ২৪ বছর। তবে পরিচয় জানা যায়নি। রেলওয়ে পুলিশের তথ্যানুযায়ী, কমলাপুরগামী সোনার বাংলা এক্সপ্রেস ট্রেনের ধাক্কায় মৃত্যু হয়েছে তার।

তেজগাঁও থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) রিয়াজ মাহমুদ জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার রাতে তেজগাঁও রেলস্টেশন ও কাওরান বাজারের মাঝামাঝি রেলগেট এলাকায় কমলাপুরগামী ট্রেনে কাটা পড়ে প্রাণ হারায় সবুজ শার্ট ও কালো প্যান্ট পরা এক ব্যক্তি। তার বয়স আনুমানিক ৪০ বছর। তবে পরিচয় জানা যায়নি।

এসআই রিয়াজ মাহমুদ জানান, বৃহস্পতিবার দুপুরে কাওরান বাজার কাঠপট্টি এলাকায় একটি মোবাইল ফোন দেখে আরেকটি মোবাইল ফোনে নম্বর তোলার সময় টঙ্গীগামী ট্রেনের ধাক্কায় মনসুর হেলাল (২৫) নামের এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। আশেপাশের লোকজন ট্রেন আসছে দেখে তাকে ডাকলেও তিনি বুঝতে পারেননি।

পুলিশ জানিয়েছে, মৃত তরুণ একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতেন। তার গ্রামের বাড়ি টাঙ্গাইলে। মিরপুরের একটি মেসে থাকতেন তিনি।

/এআইবি/আরটি/জেএইচ/

সম্পর্কিত

সহিংসতার বিরুদ্ধে সংগীত 

সহিংসতার বিরুদ্ধে সংগীত 

ক্যান্সার আক্রান্তদের চিকিৎসার ব্যয়ভার সরকারিভাবে বহনের দাবি

ক্যান্সার আক্রান্তদের চিকিৎসার ব্যয়ভার সরকারিভাবে বহনের দাবি

রাজনৈতিক দলগুলো পুরনো অভ্যাসে লিপ্ত, বিবৃতিতে ৪৭ নাগরিক

রাজনৈতিক দলগুলো পুরনো অভ্যাসে লিপ্ত, বিবৃতিতে ৪৭ নাগরিক

রবিবার দেশে জলবায়ু ধর্মঘট পালন করবেন পরিবেশবাদীরা

রবিবার দেশে জলবায়ু ধর্মঘট পালন করবেন পরিবেশবাদীরা

সর্বশেষসর্বাধিক
quiz

লাইভ

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

করোনাতে মৃত্যুহীন ৬০ জেলা

করোনাতে মৃত্যুহীন ৬০ জেলা

আরও ১২৩ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে

আরও ১২৩ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে

এক সপ্তাহে ৪ কোটি শিশু পাবে কৃমির ওষুধ

এক সপ্তাহে ৪ কোটি শিশু পাবে কৃমির ওষুধ

সাড়ে সাত লাখ টিকা দেওয়া হয়েছে আজ

সাড়ে সাত লাখ টিকা দেওয়া হয়েছে আজ

করোনায় মৃত্যুহীন ৫৬ জেলা

করোনায় মৃত্যুহীন ৫৬ জেলা

ডেঙ্গুতে আরও এক মৃত্যু  

ডেঙ্গুতে আরও এক মৃত্যু  

বীর মুক্তিযোদ্ধাদের চিকিৎসায় বারডেমের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক নবায়ন  

বীর মুক্তিযোদ্ধাদের চিকিৎসায় বারডেমের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক নবায়ন  

৩৪ জেলায় শনাক্ত এক অঙ্কে, ২৮ জেলায় শূন্য

৩৪ জেলায় শনাক্ত এক অঙ্কে, ২৮ জেলায় শূন্য

১৮ মাস পর শনাক্ত ২৫০-এর নিচে

১৮ মাস পর শনাক্ত ২৫০-এর নিচে

চিকিৎসকসহ ৯৪৪৭ স্বাস্থ্যকর্মী করোনায় আক্রান্ত

চিকিৎসকসহ ৯৪৪৭ স্বাস্থ্যকর্মী করোনায় আক্রান্ত

সর্বশেষ

সহকর্মীকে গুলি, পুলিশ সদস্যদের চিকিৎসা দিচ্ছেন না নার্সরা

সহকর্মীকে গুলি, পুলিশ সদস্যদের চিকিৎসা দিচ্ছেন না নার্সরা

শুটিং সেটে অ্যালেক বল্ডউইনের প্রপ গানের গুলিতে চিত্রগ্রাহক নিহত

শুটিং সেটে অ্যালেক বল্ডউইনের প্রপ গানের গুলিতে চিত্রগ্রাহক নিহত

সিরাজগঞ্জে মনসুর আলীর নাতির ওপর হামলা

সিরাজগঞ্জে মনসুর আলীর নাতির ওপর হামলা

সহিংসতার বিরুদ্ধে সংগীত 

সহিংসতার বিরুদ্ধে সংগীত 

ডাচদের হারিয়ে বাংলাদেশের গ্রুপসঙ্গী শ্রীলঙ্কা

ডাচদের হারিয়ে বাংলাদেশের গ্রুপসঙ্গী শ্রীলঙ্কা

© 2021 Bangla Tribune