X
শনিবার, ১৬ অক্টোবর ২০২১, ৩১ আশ্বিন ১৪২৮

সেকশনস

লিঙ্গ সমতার জন্য নারী নেতৃবৃন্দের নেটওয়ার্ক গঠনের ওপর গুরুত্বারোপ প্রধানমন্ত্রীর

আপডেট : ২২ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৩:৪৬

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা লিঙ্গ সমতা নিশ্চিত করতে নারী নেতৃবৃন্দের একটি নেটওয়ার্ক গঠনের ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করে বলেছেন, এটি লিঙ্গ সমতা নিশ্চিত করতে চালিকা শক্তি হিসেবে কাজ করবে।

মঙ্গলবার (২১ সেপ্টেম্বর) প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির আহ্বানে নারী নেতাদের নিয়ে একটি উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে বক্তব্য রাখেন। বৈঠকে তিনি বিশ্বনেতাদের সামনে তিনটি প্রস্তাবও রাখেন, লিঙ্গ সমতা নিশ্চিত করতে যেগুলো সঠিকভাবে সমাধান করা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, ‘এটি নারী ক্ষমতায়নে ব্যাপক ভূমিকা রাখবে। আমি দৃঢ়ভাবে অনুভব করি যে, আমরা নারী নেতাদের একটি নেটওয়ার্ক প্রতিষ্ঠা করতে পারি, যা আমাদের শুধু একক বৈঠকের জন্য একত্রিত করবে না, বরং লিঙ্গ সমতা অর্জনে বাস্তব পদক্ষেপ নিশ্চিত করতে একটি শক্তি হিসেবে কাজ করবে।

প্রধানমন্ত্রী তার প্রথম প্রস্তাবে বলেন, ‘আমি লিঙ্গ সমতার বিষয়ে উপদেষ্টা বোর্ড প্রতিষ্ঠার জন্য আপনাদের প্রশংসা করি। এখন এটিকে স্থানীয়করণ করা দরকার। আমাদের প্রত্যেক পর্যায়ে, বিশেষ করে তৃণমূল পর্যায়ে লিঙ্গ চ্যাম্পিয়ন প্রয়োজন এবং আমরা দৃষ্টান্ত স্থাপনের মাধ্যমে নেতৃত্ব দিতে পারি'।

দ্বিতীয়ত তিনি বলেন, নারী নেতৃত্বাধীন সংগঠনগুলোকে পর্যাপ্ত রাজনৈতিক ও আর্থিকভাবে সাহায্য ও সহযোগিতা করা প্রয়োজন। এ ধরনের প্রচেষ্টায় সহায়তার ক্ষেত্রে জাতিসংঘের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তৃতীয় ও শেষ প্রস্তাবে তিনি বলেন, ‘আমি লিঙ্গ সমতার জন্য আমাদের সাধারণ কর্মসূচিকে জোরদার করতে নেতৃবৃন্দের একটি সম্মেলন ডাকার জন্য আহ্বান জানাচ্ছি। শুধু আমরা নয়, সকল নেতার এতে যোগদান করা উচিত এবং লিঙ্গ সমতার অগ্রগতির জন্য দৃঢ় প্রতিশ্রুতি উপস্থাপন করা উচিত।’

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, কোভিড-১৯-এর প্রভাব বিশেষত নারীদের জন্য কঠিন। তিনি বলেন, ‘অবৈতনিক যত্ন নেওয়ার কাজ বেড়েছে। লিঙ্গ ভিত্তিক সহিংসতা বেড়েছে। ইউনিসেফ এ দশকের শেষের আগে আরও দশ মিলিয়ন বাল্যবিবাহের আশংকা করছে।’

বাংলাদেশে নারীর ক্ষমতায়নের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়নে বাংলাদেশ বিশ্বে ৭ম অবস্থানে আছে। বর্ধিত সংখ্যক নারী কর্মীবাহিনীতে যোগ দিচ্ছে।

তিনি বলেন, স্বাস্থ্যসেবা কর্মীদের প্রায় ৭০ শতাংশ নারী এবং তারা মহামারীর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সামনের সারিতে রয়েছে। তৈরি পোশাককর্মীদের ৮০ শতাংশের বেশি নারী। অনানুষ্ঠানিক অর্থনীতিতে নারীরা সংখ্যাগরিষ্ঠ। তাদের অনেকে চাকরি ও আয় হারিয়েছে। নারীসহ ২০ লাখ প্রবাসী শ্রমিক দেশে ফিরে এসেছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের দেশ কষ্টার্জিত অগ্রগতির চাকা পেছনে ঘোরার ঝুঁকিতে রয়েছে। খবর: বাসস

/এলকে/

সম্পর্কিত

দেশ বিক্রি করে তো আমি ক্ষমতায় আসবো না: প্রধানমন্ত্রী

দেশ বিক্রি করে তো আমি ক্ষমতায় আসবো না: প্রধানমন্ত্রী

খাদ্যশস্যের উৎপাদন বেড়ে সাড়ে ৪ কোটি মেট্রিক টন: প্রধানমন্ত্রী

খাদ্যশস্যের উৎপাদন বেড়ে সাড়ে ৪ কোটি মেট্রিক টন: প্রধানমন্ত্রী

৩০ অক্টোবরের মধ্যেই আমদানির চাল বাজারে ছাড়ার নির্দেশ

আপডেট : ১৬ অক্টোবর ২০২১, ২০:০১

সরকার আগামী ৩০ অক্টোবরের মধ্যেই আমদানির চাল বাজারে আনার চূড়ান্ত নির্দেশনা দিয়েছে। আমদানির চাল বাজারে আনার সময় আর না বাড়ানোরও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। খাদ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে এসব তথ্য।

খাদ্য মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, এ সিদ্ধান্ত জানিয়ে খাদ্য মন্ত্রণালয় থেকে খাদ্য অধিদফতরের মহাপরিচালকের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে। শুক্রবার (১৫ অক্টোবর) সরকারি সাপ্তাহিক ছুটির দিনে চিঠিটি পাঠানো হয়েছে।

চিঠিতে বলা হয়েছে- বেসরকারিভাবে চাল আমদানির জন্য বরাদ্দপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে যেসব আমদানিকারক এলসি খুলেছেন কিন্তু এখনও চাল বাজারজাত করতে পারেননি তাদের এলসিকৃত চাল বাজারজাত করার লক্ষ্যে আগামী ৩০ তারিখ পর্যন্ত সময়সীমা বাড়ানো হলো। এই সময়সীমা আর বাড়ানো হবে না। 

উল্লেখ্য, চালের বাজারের লাগাম টানতে শুল্ক কমিয়ে চাল আমদানির সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। চাল আমদানিতে শুল্ককর কমানোর অনুরোধ জানিয়ে গত ৬ জুলাই এনবিআরকে চিঠি দেয় খাদ্য মন্ত্রণালয়। এরপর গত ১২ আগস্ট চাল আমদানির শুল্ক কমিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। চালের আমদানি শুল্ক ৬২ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২৫ শতাংশ করে এনবিআর। এ সুবিধা ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত বহাল থাকবে।

গত ১৭ থেকে ৩০ আগস্ট পর্যন্ত মোট ৪১৫ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে ১৬ লাখ ৯৩ হাজার টন সেদ্ধ ও আতপ চাল আমদানির অনুমতি দেয় খাদ্য মন্ত্রণালয়। গত ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ২ লাখ টন চাল আমদানি করা হয়েছে। 

/এসআই/এমআর/

সম্পর্কিত

‘বিলাসিতা’য় বছরে নষ্ট হয় ৬ লাখ টন চাল

‘বিলাসিতা’য় বছরে নষ্ট হয় ৬ লাখ টন চাল

১৭ লাখ টন চাল আমদানির অনুমতি

১৭ লাখ টন চাল আমদানির অনুমতি

খাদ্য ঘাটতি ঠেকাতে প্রয়োজনে চাল আমদানির নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

খাদ্য ঘাটতি ঠেকাতে প্রয়োজনে চাল আমদানির নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

বেসরকারি পর্যায়ে ১০ লাখ টন চাল আমদানির সিদ্ধান্ত

বেসরকারি পর্যায়ে ১০ লাখ টন চাল আমদানির সিদ্ধান্ত

২৪ ঘণ্টায় ৬ জনের মৃত্যু, শনাক্ত ২৯৩

আপডেট : ১৬ অক্টোবর ২০২১, ১৭:৪৬

গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ছয়জন। তাদের নিয়ে দেশে সরকারি হিসেবে করোনাতে আক্রান্ত হয়ে মারা গেলেন ২৭ হাজার ৭৫২ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় করোনাতে নতুন করে শনাক্ত হয়েছেন ২৯৩ জন। তাদের নিয়ে দেশে করোনাতে সরকারি হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন ১৫ লাখ ৬৫ হাজার ১৭৪ জন। 

গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন ৪৪২জন, তাদের নিয়ে দেশে করোনাতে আক্রান্ত হয়ে মোট সুস্থ হলেন ১৫ লাখ ২৭ হাজার ৩৩৩ জন। 

গত ২৪ ঘণ্টায় করোনাতে রোগী শনাক্তের হার এক দশমিক ৮৮ শতাংশ আর এখন পর্যন্ত রোগী শনাক্তের হার ১৫ দশমিক ৫৩ শতাংশ। 

শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ৯৭ দশমিক ৫৮ শতাংশ আর শনাক্ত বিবেচনায় মৃত্যহার এক দশমিক ৭৭ শতাংশ।

স্বাস্থ্য অধিদফতর জানাচ্ছে, গত ২৪ ঘণ্টায় করোনার নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে ১৫ হাজার ২৫১টি আর নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ১৫ হাজার ৫৮০টি।  দেশে এখন পর্যন্ত করোনার মোট নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ১ কোটি ৭৬ হাজার ৮২৫টি। এর মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায়  পরীক্ষা হয়েছে ৭৩ লাখ ৮০ হাজার ৬৯৬ টি আর বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় পরীক্ষা হয়েছে ২৬ লাখ ৯৬ হাজার ১২৯টি।

গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া ছয়জনের মধ্যে পুরুষ চারজন আর নারী দুইজন। দেশে এখন পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত হয়ে পুরুষ মারা গেছেন ১৭ হাজার ৭৭৯ জন আর নারী নয় হাজার ৯৭৩ জন। 

গত ২৪ ঘণ্টায় মৃতদের মধ্যে ৭১ থেকে ৮০ বছর বয়সী দুজন,  ৬১ থেকে ৭০ বছর বয়সী  দুজন আর ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে আছেন দুজন।  মারা যাওয়া ছয়জনের মধ্যে তিনজন ঢাকা বিভাগের আর চট্টগ্রাম, খুলনা ও সিলেট বিভাগের আছেন একজন করে। তারা সবাই সরকারি হাসপাতালে মারা গেছেন।

 

/জেএ/এমআর/

সম্পর্কিত

পাঁচ মাস পর সর্বনিম্ন শনাক্ত

পাঁচ মাস পর সর্বনিম্ন শনাক্ত

পিছিয়ে যাচ্ছে সরকারিভাবে করোনা টিকা উৎপাদন

পিছিয়ে যাচ্ছে সরকারিভাবে করোনা টিকা উৎপাদন

করোনায় বেড়েছে মৃত্যু

করোনায় বেড়েছে মৃত্যু

আবারও মৃত্যু বেড়েছে, শনাক্ত কমেছে

আবারও মৃত্যু বেড়েছে, শনাক্ত কমেছে

দেশ বিক্রি করে তো আমি ক্ষমতায় আসবো না: প্রধানমন্ত্রী

আপডেট : ১৬ অক্টোবর ২০২১, ১৩:৫৯

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘২০০১ সালে গ্যাস বিক্রির মুচলেকা দেইনি বলে ক্ষমতায় আসতে দেওয়া হয়নি। দেশ বিক্রি করে তো আমি ক্ষমতায় আসবো না, এটাই বাস্তব।’

শনিবার (১৬ অক্টোবর) রাজধানীর একটি হোটেলে ‘বিশ্ব খাদ্য দিবস-২০২১’ উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি এ কথা বলেন।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘২০০১ সালে আমরা ক্ষমতায় আসতে পারলাম না। গ্যাস বিক্রি করার মুচলেকা দেইনি বলেই আমাকে ক্ষমতায় আসতে দেওয়া হলো না। বৃহৎ দুটি দেশ আর প্রতিবেশি দেশের চাহিদা পূরণ করতে পারিনি।’

সেসময় ক্ষমতায় না আসার কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, ‘আমার কথা ছিল- আগে আমার দেশের মানুষের চাহিদা পূরণ হবে, অন্তত ৫০ বছরের মজুত থাকবে। তারপর যেটা অতিরিক্ত থাকবে সেটা আমি বেচতে পারি। তাছাড়া এই দেশের সম্পদ আমি বেচতে পারি না। এই কথা আসলে একটা বিশাল দেশ আমেরিকা আর পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের পছন্দ হয়নি। কাজেই আমি ২০০১ সালে ক্ষমতায় আসতে পারিনি।’

এ সময় খাদ্য উৎপাদন ও কৃষির আধুনিকায়নে বর্তমান সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘মহামারি শুরুর দিকেই আমি আহ্বান জানিয়েছি যে, আমাদের এক ইঞ্চি জমিও যেন অনাবাদী না থাকে। সারাবিশ্বের অনেক দেশে এখন খাদ্যের অভাব। অনেক দেশ দুর্ভিক্ষ অবস্থার দিকে চলে যাচ্ছে। জাতির পিতার ভাষায় বলতে হয়, বাংলাদেশের মাটি আছে, মানুষ আছে, আমরা যেনো খাদ্যের অভাবে আর কখনও না ভুগি। উত্তরবঙ্গ আওয়ামী লীগ সরকার আমলেই মঙ্গা মুক্ত হয়, মঙ্গা মুক্তই থাকবে। বাংলাদেশে কখনও যেন আর দুর্ভিক্ষ হতে না পারে।’

কৃষিজমি রক্ষার তাগিদ দিয়ে সরকার প্রধান বলেন, ‘কৃষিজমি কোনও মতেই যেন ক্ষতিগ্রস্থ না হয়; আমরা উৎপাদন করবো, উন্নয়ন করে যাবো। তবে সে উন্নয়নটা আমাদের কৃষি জমি সংরক্ষণ করেই করতে হবে।’

সারাবিশ্বে প্রচুর খাদ্য অপচয়ের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘খাদ্যের অপচয়টা কমাতে হবে, অপচয় যেন না হয়। সারা বিশ্বে কিন্তু একদিকে খাদ্যের অভাব অপর দিকে কিন্তু প্রচুর খাদ্যের অপচয় হয়। এই অপচয় যেন না হয়। বরং যে খাদ্যগুলো অতিরিক্ত থাকে সেটাকে আবার পুনর্ব্যবহার করা যায় কীভাবে; সেটার বিষয়ে আমাদের চিন্তা করতে হবে। সে ধরনের ব্যবস্থা আমাদের নিতে হবে। উদ্বৃত্ত যে খাদ্যটা থাকবে বা আপনি খেতে বসেও যে খাবারটা বেশি থাকবে সেটাও কীভাবে পুনর্ব্যবহার করা যায়, অন্য চাহিদা পূরণ করা যায় কি না- সেটাকেও গবেষণার মধ্যে রাখা দরকার।’

কৃষি সম্প্রসারণ ও খাদ্য উৎপাদন বাড়াতে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘খাদ্য নিরাপত্তা, খাদ্য চাহিদা ইনশাল্লাহ আমরা পূরণ করে যাবো। হতদরিদ্র মানুষের মাঝে বিনামূল্যে খাদ্য দিয়েও তাদের খাদ্য চাহিদা আমরা পূরণ করবো। আমাদের লক্ষ্যই হচ্ছে বাংলাদেশের মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা, পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।’

উৎপাদিত খাদ্যের মান ঠিক রাখার তাগিদ দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘খাদ্য শুধু উৎপাদন না খাদ্যের মানটা যেন ঠিক থাকে।’

বীজ উৎপাদনে বিভিন্ন গবেষণা করা হচ্ছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বীজ আমরা উৎপাদন করবো, আমরা অন্যের ওপর নির্ভরশীল থাকবো না। ... সরকারিভাবে উৎপাদন করবে, বীজ মানসম্পন্ন বীজ সংগ্রহ এবং যথাযথভাবে সংরক্ষণ করতে হবে।’

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি) কর্তৃক উদ্ভাবিত ‘বঙ্গবন্ধু ধান-১০০’ অবমুক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কৃষিতে সফলতার জন্য বাংলাদেশী কৃষি বিজ্ঞানী ও গবেষকদের প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী। খাদ্য উৎপাদনে বাংলাদেশের সফলতার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমানে আমরা চাহিদার উদ্বৃত্ত খাদ্য উৎপাদন করতে সক্ষম হয়েছি। বিশ্বে বাংলাদেশ এখন ধান উৎপাদনে তৃতীয়, শাকসবজি উৎপাদনে তৃতীয়, চা উৎপাদনে চতুর্থ, আম ও আলু উৎপাদনে সপ্তম এবং পেয়ারা উৎপাদনে অষ্টম। অভ্যন্তরীণ মুক্ত জলাশয়ে মাছ উৎপাদনে তৃতীয় এবং ইলিশ মাছ উৎপাদনে প্রথম স্থান অর্জন করেছি।’

কৃষিক্ষেত্রে ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার, কৃষি বাতায়ন, কৃষক বন্ধু ফোন সেবা (৩৩৩১), কৃষকের জানালা, কৃষি কল সেন্টার (১৬১২৩) মাধ্যমে কৃষকদের সাথে তথ্য আদান-প্রদানের ব্যবস্থা, প্রায় ২ কোটি ১০ লাখ কৃষককে কৃষি উপকরণ সহায়তা কার্ড প্রদান, ১০ টাকায় ব্যাংক একাউন্ট খোলার সুবিধা, উন্নত বীজ ও সার সরবরাহ, গবেষণা, প্রশিক্ষণ, কৃষি যান্তিকীকরণসহ কৃষি সম্প্রসারণে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকারের সময়ে নেওয়া বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রমের কথা তুলে ধরেন টানা তিনবারের প্রধানমন্ত্রী।

বিশ্ব খাদ্য দিবসে এবারের প্রতিপাদ্য- ‘আমাদের কর্মই আমাদের ভবিষ্যৎ, ভালো উৎপাদনই ভালো পুষ্টি, ভালো পরিবেশই উন্নত জীবন।’

অনুষ্ঠানে কৃষি মন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাকের সভাপতিত্বে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার, মৎস্য ও প্রাণী সম্পদমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মেসবাহুল ইসলাম।

/পিএইচসি/ইউএস/

সম্পর্কিত

খাদ্যশস্যের উৎপাদন বেড়ে সাড়ে ৪ কোটি মেট্রিক টন: প্রধানমন্ত্রী

খাদ্যশস্যের উৎপাদন বেড়ে সাড়ে ৪ কোটি মেট্রিক টন: প্রধানমন্ত্রী

গ্লাসগো, লন্ডন ও প্যারিস যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

গ্লাসগো, লন্ডন ও প্যারিস যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

কুমিল্লার ঘটনায় কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না: প্রধানমন্ত্রী

কুমিল্লার ঘটনায় কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না: প্রধানমন্ত্রী

১৯৭৩ সালের এই দিন

বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে সিরিয়ায় চিকিৎসক দল পাঠানোর সিদ্ধান্ত

আপডেট : ১৬ অক্টোবর ২০২১, ০৮:০০

(বিভিন্ন সংবাদপত্রে প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে বঙ্গবন্ধুর সরকারি কর্মকাণ্ড ও তার শাসনামল নিয়ে মুজিববর্ষ উপলক্ষে ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশ করছে বাংলা ট্রিবিউন। আজ পড়ুন ১৯৭৩ সালের ১৬ অক্টোবরের ঘটনা।)

১৯৭৩ সালের এই দিন জানানো হয়, দুই-একদিনের মধ্যে ২৮ সদস্যের একটি বাঙালি চিকিৎসক দল সিরিয়ায় যাচ্ছে। এই প্রথম আরবের বাইরের একটি এশীয় দেশ মধ্যপ্রাচ্যে সাহায্যকারী দল পাঠাচ্ছে। সিরিয়ার অনুরোধে দুই-একদিনের মধ্যে এই চিকিৎসক দল মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধক্ষেত্রে যাচ্ছে। এর আগে প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যুদ্ধরত মিসর ও সিরিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের একাত্মতা প্রকাশ করে চিকিৎসক দল পাঠানোর প্রস্তাব দেন। সেই প্রস্তাবে সাড়া দিয়ে সিরিয়া বাংলাদেশের কাছে দ্রুত চিকিৎসক দল পাঠানোর অনুরোধ জানায় বলে জানা গেছে।

সপ্তাহব্যাপী রাষ্ট্রীয় সফরে বঙ্গবন্ধুর জাপান যাত্রা

প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সপ্তাহব্যাপী রাষ্ট্রীয় সফরে জাপানের উদ্দেশে ১৭ অক্টোবর রওনা দেবেন। বঙ্গবন্ধুর এই সফরের ফলে বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক উন্নয়নের নতুন দিগন্ত উন্মোচনের সুস্পষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করে কূটনৈতিক মহল। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. কামাল হোসেন, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সচিব তোফায়েল আহমেদ, পরিকল্পনা কমিশনের ডেপুটি চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম, মুখ্য সচিব রুহুল কুদ্দুস, স্বরাষ্ট্র সচিব এনায়েত করিমসহ আরও অনেকে সেখানে উপস্থিত থাকবেন। এছাড়া বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে পূর্বদেশ সম্পাদক এতেশাম হায়দার চৌধুরী, ইত্তেফাক সম্পাদক আনোয়ার হোসেন, প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত স্টাফসহ একটি সাংবাদিক প্রতিনিধি দল, প্রধানমন্ত্রীর ছোট মেয়ে শেখ রেহানা ও ছোট ছেলে শেখ রাসেল জাপান সফরে যাচ্ছেন। বাংলাদেশ বিমানের ৭০৭ বোয়িং সন্ধ্যা সাতটায় প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে ঢাকা ত্যাগ করবে, পরদিন বেলা ১০টায় (টোকিও সময়) জাপানে পৌঁছাবে।

১৯৭৩ সালের ১৭ অক্টোবর প্রকাশিত দৈনিক পত্রিকা

তবে জ্বালানি নিতে উড়োজাহাজটির মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে দুই ঘণ্টা অবস্থান করার কথা। বিমানবন্দরে জাপানের প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুকে স্বাগত জানানোর কথা রয়েছে। জাপানে অবস্থানকালে বঙ্গবন্ধু ১৯ অক্টোবর সে দেশের সম্রাটের সঙ্গে শুভেচ্ছামূলক সাক্ষাতে মিলিত হবেন। এর আগে বঙ্গবন্ধু জাপানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনায় অংশ নেবেন। এ ছাড়া ১৮ অক্টোবর রাতে বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ-জাপান সমিতির সম্মেলনে যোগ দেবেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ২৩ অক্টোবর দুপুরে জাপানের জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক সংবর্ধনা সভায় যোগ দেবেন।

কর্নেল মাসুদ খানকে ক্ষমা করে দেওয়া হলো

দিল্লি চুক্তি মোতাবেক ত্রিমুখী লোকবিনিময় শুরু হওয়ার পর ১৯৭৩ সালের এদিন পর্যন্ত প্রায় ১৩ হাজার বাঙালি পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশে ফিরে এসেছেন। তাদের মধ্যে নৌ, সেনা ও বিমান বাহিনীর বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি সংস্থায় কর্মরতরা ছিলেন।

কর্নেল ইয়াসিনও যেকোনও দিন বাংলাদেশে ফিরবেন বলে আশা করা যাচ্ছে। দু’জন অফিসার এবং সেনাবাহিনীর একজন বাঙালি অফিসার কর্নেল মাসুদ খানের সঙ্গে একযোগে বঙ্গবন্ধুর বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেন। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধ চলাকালে দখলদার বাহিনীর আনা কতগুলো বানোয়াট অভিযোগ এবং বিচারের নামে এক প্রহসন করে এদের সাক্ষ্যের ভিত্তিতেই পাকিস্তানি সামরিক জান্তা বঙ্গবন্ধুকে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করে।

ডেইলি অবজারভার, ১৭ অক্টোবর ১৯৭৩ ১৯৭১ সালের ডিসেম্বরে বাংলাদেশের কাছে পাকিস্তান বাহিনীর আত্মসমর্পণের সময় মাসুদ খানকে পাকিস্তানি বাহিনীর সঙ্গে দেখা যায়। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তানের কারাগার থেকে দেশে ফিরে আসার পর বিশেষ করে কর্নেল মাসুদ খানকে ক্ষমা করে দেন।

এদিকে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী জুলফিকার আলী ভুট্টো মধ্যপ্রাচ্য সফরে রওনা হচ্ছেন বলে সংবাদ প্রকাশ করা হয়। এই সফরকালে তিনি তিনটি দেশ সফর করবেন। এই দেশ তিনটি হলো—ইরান, তুরস্ক ও সৌদি আরব। তবে তিনি কী মতলব নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন সেটি বলেননি। পর্যবেক্ষক মহল এই লোকটির আচরণ লক্ষ করছে বলে সংবাদমাধ্যমে জানানো হয়। আরব-ইসরাইলের সে সময়কার চলমান যুদ্ধের পটভূমিতে ইসরায়েলের বড় মুরুব্বি আমেরিকার ভূমিকা ও এই সফর নিয়ে নানা মুনির মনে নানা রকম প্রশ্ন সৃষ্টি করে।

/এপিএইচ/এমওএফ/

সম্পর্কিত

বিশ্ব খাদ্য দিবস আজ

বিশ্ব খাদ্য দিবস আজ

ব্রয়লার মুরগির কেজি ২০০ টাকা কেন?

ব্রয়লার মুরগির কেজি ২০০ টাকা কেন?

চালের দাম বেশি হলেও জনগণ অস্বস্তিতে নেই: কৃষিমন্ত্রী

চালের দাম বেশি হলেও জনগণ অস্বস্তিতে নেই: কৃষিমন্ত্রী

বঙ্গবন্ধু আরবদের সম্ভাব্য সব সাহায্য দিতে আবারও প্রতিশ্রুতি দিলেন

বঙ্গবন্ধু আরবদের সম্ভাব্য সব সাহায্য দিতে আবারও প্রতিশ্রুতি দিলেন

বিশ্ব খাদ্য দিবস আজ

আপডেট : ১৬ অক্টোবর ২০২১, ০০:০৫

বিশ্ব খাদ্য দিবস আজ (১৬ অক্টোবর)। কৃষি মন্ত্রণালয় এবং জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) যৌথ উদ্যোগে বাংলাদেশেও পালিত হবে দিনটি। এবারের প্রতিপাদ্য হলো, ‘আমাদের কর্মই আমাদের ভবিষ্যৎ-ভালো উৎপাদনে ভালো পুষ্টি, আর ভালো পরিবেশেই উন্নত জীবন’। 

বিশ্ব খাদ্য দিবস উপলক্ষে পৃথক বাণী দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। রাষ্ট্রপতি তাঁর বাণীতে বলেন, ‘জাতির পিতা গ্রামীণ ও কৃষি উন্নয়নের মাধ্যমে যে উন্নত, সুখী ও সমৃদ্ধ সোনার বাংলা গড়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন, সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন কৃষি অন্তঃপ্রাণ। স্বাধীন দেশ পুনর্গঠনে তিনি কৃষি বিপ্লবের ডাক দিয়েছিলেন। কৃষির উন্নয়নে কৃষকদের মাঝে খাস জমি বিতরণ, ভর্তুকি মূল্যে সার, কীটনাশক, উন্নত বীজ, সেচ ও অন্যান্য কৃষি উপকরণ সরবরাহ নিশ্চিত করেন।’

রাষ্ট্রপতি মনে করেন, সরকারের যুগোপযোগী নীতি ও পদক্ষেপে দানাদার খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছে দেশ। ফল ও সবজির উৎপাদন অনেক গুণ বেড়েছে। দেশের অভ্যন্তরীণ জলাশয়ে উৎপাদিত মাছ ও মাংস উৎপাদনে দেশের চাহিদা পূরণে সক্ষমতা অর্জিত হয়েছে। দেশের কৃষিপণ্য রফতানি দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষিকে লাভজনক করতে কৃষি যান্ত্রিকীকরণে উন্নয়ন সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। তার আশা, সরকারের এসব উদ্যোগ দেশের কৃষি উৎপাদনকে আরও বেগবান করার পাশাপাশি নতুন কর্মসংস্থান ও উদ্যোক্তা সৃষ্টিতে সহায়ক হবে।

প্রধানমন্ত্রী তাঁর বাণীতে উল্লেখ করেন, সরকার মানুষের পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিতে কাজ করে যাচ্ছে। তিনি বলেন, ‘আমাদের সরকার গৃহীত কৃষিবান্ধব নীতি ও কার্যক্রমে দানাদার খাদ্য, মাছ, মাংস ও ডিম উৎপাদনে বাংলাদেশ আজ স্বয়ংসম্পূর্ণ এবং দুধ উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতার দ্বারপ্রান্তে।’

শেখ হাসিনার তথ্যানুযায়ী, বাংলাদেশ বর্তমান বিশ্বে পাট ও কাঁঠাল উৎপাদনে দ্বিতীয়, ধান ও সবজি উৎপাদনে তৃতীয়, আম ও আলু উৎপাদনে সপ্তম, পেয়ারা উৎপাদনে অষ্টম, অভ্যন্তরীণ উন্মুক্ত জলাশয়ে মৎস্য উৎপাদনে তৃতীয় এবং বদ্ধ জলাশয়ে মৎস্য উৎপাদনে পঞ্চম অবস্থানে রয়েছে। বর্তমানে দেশের মোট খাদ্যশস্য উৎপাদন বেড়ে হয়েছে ৪ কোটি ৫৩ লাখ ৪৩ হাজার মেট্রিক টন।

বঙ্গবন্ধুকন্যার কথায়, ‘সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পরিকল্পনা ও কার্যক্রমের ধারাবাহিকতায় বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার গত সাড়ে ১২ বছরে কৃষি উন্নয়নে কৃষিবান্ধব ও বাস্তবমুখী বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে। ২০০৯ সালে সরকার গঠনের পর আমরা কৃষির উন্নয়ন ও কৃষকের কল্যাণকে সর্বোচ্চ বিবেচনায় নিয়ে রূপকল্প-২০৪১-এর আলোকে জাতীয় কৃষিনীতি-২০১৮, নিরাপদ খাদ্য আইন, টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট, ডেল্টা প্ল্যান-২১০০সহ উল্লেখযোগ্য কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করে যাচ্ছি। কৃষির উন্নয়নে আমরা কৃষকদের জন্য সার, ডিজেল, বিদ্যুৎ ও কৃষিযান্ত্রিকীকরণে আর্থিক সহায়তা প্রদান এবং কৃষি প্রণোদনা/কৃষি পুনর্বাসন, কৃষিঋণ, কৃষি উপকরণ সহায়তা কার্ড বিতরণ, ১০ টাকায় ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা, ই-কৃষির প্রবর্তন, জলবায়ু ও ঝুঁকি সহনশীল ফসলের জাত/প্রযুক্তি উদ্ভাবন ইত্যাদির ব্যবস্থা করেছি। কৃষি শিক্ষা-গবেষণা খাতে আরও বরাদ্দ বৃদ্ধি করেছি, যার ধারাবাহিকতায় খোরপোশের কৃষি আজ বাণিজ্যিক কৃষিতে রূপান্তরিত হচ্ছে।’

বাণীতে প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, দেশব্যাপী ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলা হচ্ছে। এতে কৃষিনির্ভর শিল্পের কাঁচামাল সরবরাহে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনসহ ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। আমরা জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ বিনির্মাণে কাজ করে যাচ্ছি। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বাংলাদেশকে উন্নত, সমৃদ্ধ ও আধুনিক দেশ হিসেবে বিশ্বে প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হবো।’

গতকাল ঢাকার ফার্মগেটে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল (বিএআরসি) মিলনায়তনে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক গর্বের সঙ্গে বলেন, ‘করোনাকালে খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা অনুযায়ী কৃষি মন্ত্রণালয় সময়োপযোগী পদক্ষেপ গ্রহণ ও তা বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে। ফলে করোনাকালেও দেশে খাদ্য উৎপাদনের ধারা অব্যাহত রয়েছে ও তা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২০-২১ অর্থবছরে রেকর্ড পরিমাণ বোরো উৎপাদন হয়েছে ২ কোটি টনেরও বেশি, যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। গত বছরের তুলনায় এ বছর সব ফসলের উৎপাদনই বেশি হয়েছে।’

বিশ্ব খাদ্য দিবসের গুরুত্ব তুলে ধরতে কৃষি মন্ত্রণালয় বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। আজ সকালে ঢাকার হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে প্রতিপাদ্যের ওপর একটি আন্তর্জাতিক সেমিনার রয়েছে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে থাকবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেমিনারে তিনি বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল (বিএআরসি) প্রকাশিত গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন এবং বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি) উদ্ভাবিত ‘বঙ্গবন্ধু ধান ১০০’ অবমুক্ত করবেন। এছাড়া প্রধানমন্ত্রী ‘বঙ্গবন্ধু ধান ১০০’ দিয়ে নির্মিত জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতি উন্মোচন করবেন।

মুজিববর্ষ স্মরণীয় করে রাখতে কৃষি মন্ত্রণালয় বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম গ্রহণ করেছে। আজ দিবসের অন্যান্য কর্মসূচির মধ্যে আন্তর্জাতিক সেমিনারের পর বিকালে খাদ্য নিরাপত্তার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় করণীয় নিয়ে একটি কারিগরি সেশন অনুষ্ঠিত হবে। এতে প্রধান অতিথি থাকবেন কৃষিমন্ত্রী। সেখানে দেশ-বিদেশের কৃষি ও খাদ্য বিষয়ে প্রথিতযশা বিশেষজ্ঞরা অংশগ্রহণ করবেন।

সূত্র: বাসস

/জেএইচ/

সম্পর্কিত

বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে সিরিয়ায় চিকিৎসক দল পাঠানোর সিদ্ধান্ত

বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে সিরিয়ায় চিকিৎসক দল পাঠানোর সিদ্ধান্ত

ব্রয়লার মুরগির কেজি ২০০ টাকা কেন?

ব্রয়লার মুরগির কেজি ২০০ টাকা কেন?

চালের দাম বেশি হলেও জনগণ অস্বস্তিতে নেই: কৃষিমন্ত্রী

চালের দাম বেশি হলেও জনগণ অস্বস্তিতে নেই: কৃষিমন্ত্রী

বঙ্গবন্ধু আরবদের সম্ভাব্য সব সাহায্য দিতে আবারও প্রতিশ্রুতি দিলেন

বঙ্গবন্ধু আরবদের সম্ভাব্য সব সাহায্য দিতে আবারও প্রতিশ্রুতি দিলেন

সর্বশেষসর্বাধিক

লাইভ

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

দেশ বিক্রি করে তো আমি ক্ষমতায় আসবো না: প্রধানমন্ত্রী

দেশ বিক্রি করে তো আমি ক্ষমতায় আসবো না: প্রধানমন্ত্রী

খাদ্যশস্যের উৎপাদন বেড়ে সাড়ে ৪ কোটি মেট্রিক টন: প্রধানমন্ত্রী

খাদ্যশস্যের উৎপাদন বেড়ে সাড়ে ৪ কোটি মেট্রিক টন: প্রধানমন্ত্রী

গ্লাসগো, লন্ডন ও প্যারিস যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

গ্লাসগো, লন্ডন ও প্যারিস যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

কুমিল্লার ঘটনায় কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না: প্রধানমন্ত্রী

কুমিল্লার ঘটনায় কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না: প্রধানমন্ত্রী

এসডিজি অর্জনে মানসম্মত খাদ্য ও পণ্যপ্রাপ্তি নিশ্চিত করা প্রয়োজন: প্রধানমন্ত্রী

এসডিজি অর্জনে মানসম্মত খাদ্য ও পণ্যপ্রাপ্তি নিশ্চিত করা প্রয়োজন: প্রধানমন্ত্রী

অভিনেতা ইনামুল হকের মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রীর শোক

অভিনেতা ইনামুল হকের মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রীর শোক

আরেকটি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনে রাশিয়ার সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী

আরেকটি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনে রাশিয়ার সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী

সর্বশেষ

কার্বন নিয়ন্ত্রণে মানসম্মত বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার জরুরি

কার্বন নিয়ন্ত্রণে মানসম্মত বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার জরুরি

২৬ বই-লিফলেটসহ শিবিরের ২ নেতা আটক

২৬ বই-লিফলেটসহ শিবিরের ২ নেতা আটক

৩০ অক্টোবরের মধ্যেই আমদানির চাল বাজারে ছাড়ার নির্দেশ

৩০ অক্টোবরের মধ্যেই আমদানির চাল বাজারে ছাড়ার নির্দেশ

সন্তানদের সাঁতার শেখাতে গিয়ে পাইলটের মৃত্যু

সন্তানদের সাঁতার শেখাতে গিয়ে পাইলটের মৃত্যু

ট্রাকের পেছনে বাসের ধাক্কা, নিহত বেড়ে ৭

ট্রাকের পেছনে বাসের ধাক্কা, নিহত বেড়ে ৭

© 2021 Bangla Tribune