X
সোমবার, ১৮ অক্টোবর ২০২১, ১ কার্তিক ১৪২৮

সেকশনস

ত্বকটাকে খুশি রাখতে চান?

আপডেট : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১০:০০

একটি প্রাণবন্ত হাসিখুশি ত্বক আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দেয়। তবে প্রায়ই অযত্নের কারণে ত্বক হারিয়ে ফেলে সজীবতা। ব্যস্ত জীবন থেকে কিছুটা সময় বের করে ত্বকের যত্ন নিতে গেলে নিচের কাজগুলো আপনাকে করতেই হবে।

 

ত্বক পরিষ্কার রাখুন

সঠিক পিএইচ-যুক্ত সাবান দিয়ে ত্বক প্রতিদিন পরিষ্কার করুন ও ত্বকে ময়েশ্চরাইজার ব্যবহার করুন। এতে ত্বক যথেষ্ট পুষ্টি পাবে এবং স্বাভাবিক আর্দ্রতা ও তৈলাক্ততা বজায় থাকবে। ত্বক থাকবে কোমল ও সুস্থ।

 

পরিমিত ও পুষ্টিকর খাবার

বলা হয়, আপনি যা খাবেন, সেটারই ছাপ দেখা যাবে ত্বকে। অর্থাৎ যতবেশি পুষ্টিকর খাবার খাবেন ত্বকও তত উজ্জ্বলতা ছড়াবে। দৈনন্দিন রুটিনে ফল এবং শাকসবজি বেশি রাখুন। ত্বকের স্বার্থে হলেও এড়িয়ে চলুন তেলজাতীয় খাবার।

 

পর্যাপ্ত পানি

ত্বকের সুস্থতার জন্য ত্বকের কোষে পানি থাকা চাই। আর এ জন্য পানি পানের বিকল্প নেই। পর্যাপ্ত পানি আমাদের শরীর থেকে বিষাক্ত পদার্থ দূর করে। যা ত্বকেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। এতে ব্রণ বা ত্বকে সংক্রমণও কম হয়।

 

হাসিখুশি থাকুন

আমাদের মানসিক অবস্থা সরাসরি শরীরের ওপর প্রভাব ফেলে। স্বাভাবিক হাসি ত্বকের রক্তচলাচল বাড়ায়। এতে ত্বক আরও বেশি অক্সিজেন ও পুষ্টি পায়। তাই ত্বকের সৌন্দর্যে হাসুন কারণে-অকারণে।

 

হালকা ব্যায়াম না করলেই নয়

যখন আমরা নড়াচড়া একটু বেশি করি তখন আমাদের শরীরে এনডোরফিন হরমোন উৎপন্ন হয় বেশি। এটি সুখের অনুভূতি দেয়। যার ছাপ পড়ে ত্বকেও। ত্বকের যত্ন নিতে চাইলে তাই হালকা ব্যায়াম চালিয়ে যান।

 

 

/এফএ/

সম্পর্কিত

বুকের বাঁ পাশে চিনচিনে ব্যথা, হার্টের কিছু হয়নি তো?

বুকের বাঁ পাশে চিনচিনে ব্যথা, হার্টের কিছু হয়নি তো?

ইউরিন ইনফেকশন : উপসর্গ, কারণ ও প্রতিকার

ইউরিন ইনফেকশন : উপসর্গ, কারণ ও প্রতিকার

রেসিপি : মজার স্ন্যাকস আলু চিলা

রেসিপি : মজার স্ন্যাকস আলু চিলা

পূজায় কাজলের বেনারসিটা কত পড়লো?

পূজায় কাজলের বেনারসিটা কত পড়লো?

বুকের বাঁ পাশে চিনচিনে ব্যথা, হার্টের কিছু হয়নি তো?

আপডেট : ১৭ অক্টোবর ২০২১, ১৯:৪৬

অনেককেই বলতে শোনা যায়, বুকের বাঁ পাশে মাঝে মাঝে চিনচিনে ব্যথা করে। কিছুক্ষণ হাঁটলে হাঁপিয়ে যান। কিংবা বুক জ্যাম হয়ে আছে বলে মনে হয়। এটা কি হার্টের সমস্যার কারণে, নাকি অন্য কোনও কারণ আছে?

 

বুকের বাঁ পাশে ব্যথার কারণ

বুকের বাঁ পাশে ব্যথার সাধারণ চারটি কারণ হলো—

১। আইএইচডি বা হার্টের রক্তনালীতে চর্বি জমা।

২। হার্ট অ্যাটাক হওয়া।

৩। প্যানিক অ্যাটাক।

৪। গ্যাস্ট্রাইটিস বা অ্যাসিডিটির সমস্যা।

 

ইশকেমিক হার্ট ডিজিজ যেভাবে বুঝবেন

সাধারণত আমরা হৃদরোগ বলতে যা বুঝি, সেটাই ইশকেমিক হার্ট ডিজিজ। এই রোগে হৃৎপিণ্ডের রক্তনালীগুলোতে চর্বি জমে রক্ত সঞ্চালন বাধাগ্রস্ত হয়। এর ফলে ব্যথা হয়। সাধারণত এই রোগ ৪০ বছরের আগে হয় না এবং যাদের হয় তাদের অধিকাংশেরই উচ্চ রক্তচাপ থাকে। তাই কারও যদি বয়স ৪০-এর বেশি হয় এবং বুকে চিনচিনে ব্যথা করে এবং তার উচ্চরক্তচাপও থাকে তবে হৃদরোগের কথা মাথায় রাখতে হবে।

এক্ষেত্রে কিছুক্ষণ ভারী কাজ, কিংবা হাঁটাহাঁটি করলে বা সিঁড়ি বেয়ে উঠলে বুকে ব্যথা শুরু হয়। ব্যক্তি হাঁপিয়ে ওঠেন। শ্বাস নিতেও কষ্ট হয়। বুক ধড়ফড় করে। ব্যথা বাঁ বাহু ও ঘাড়ের দিকে যেতে পারে। সঙ্গে ঘেমেও উঠতে পারে শরীর। কিছুক্ষণ পর এই ব্যথা চলে যাবে। এমনটা দুই-একদিন পরপর হতে পারে।

আবার অনেক সময় বেশি খেলেও তীক্ষ্ম একটা ব্যথা হয়। এর কারণ হলো খাওয়ার পরপরই ভারী কাজ করা কিংবা হাঁটাহাঁটি করা। তখন হার্টের অধিক পরিমাণ রক্ত সঞ্চালনের দরকার হয়। তবে যাদের ইশকেমিক হার্ট ডিজিজ রয়েছে তাদের রক্ত সঞ্চালন কম হয়। এ কারণেও ব্যথা হয়।

 

করণীয়

হার্ট বিশেষজ্ঞ তথা কার্ডিওলজিস্ট দেখাতে হবে। ইসিজি, ইকোকার্ডিওগ্রাম, রক্তে চর্বির পরিমাণ দেখতে হবে। যদি প্রেশার বেশি থাকে তবে তা নিয়ন্ত্রণে রাখতে মেডিসিন নিতে হবে এবং হার্টের ওপর চাপ কমানোর ওষুধও খেতে হবে। কোলেস্টেরল কমানোর ওষুধ এবং রক্ত চলাচল সচল রাখার ওষুধও খাওয়ার প্রয়োজন হতে পারে।

ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া এসব ওষুধ বন্ধ করা যাবে না। সেইসঙ্গে চর্বিজাতীয় খাবার, লবণ, ধূমপান, অ্যালকোহল ইত্যাদি বাদ দিতে হবে।

 

হার্ট অ্যাটাকজনিত বুক ব্যথা

সাধারণত ৪০ বছরের নিচে হার্ট অ্যাটাক হতে দেখা যায় না। তবে এর ব্যতিক্রম এখন ঢের দেখা যাচ্ছে। যাদের হার্ট অ্যাটাক হয়, তাদের সাধারণত আগে থেকেই হাই ব্লাডপ্রেশার কিংবা রক্তনালীজনিত ইসকেমিক হার্ট ডিজিজ থেকে থাকতে পারে। অধিকাংশ হার্ট অ্যাটাক রোগীর ইতিহাস নিয়ে জানা যায়, যেদিন হার্ট অ্যাটাক হয়েছে সেদিন কিংবা আগের দিন তারা প্রেশারের ওষুধ খাননি। এ কারণেও হার্ট অ্যাটাক হতে পারে।

এমন অনেকে আছেন, তাদের যে উচ্চ রক্তচাপ বা আগে থেকে হৃদরোগ আছে, তারা তা ডাক্তারের কাছে না যাওয়ার আগে জানতেই পারেন না। তাই অনেকে বলে, সকালে সুস্থ দেখলাম হঠাৎ ঘুরে পড়ে মরে গেলো মানুষটা!

 

হার্ট অ্যাটাকের ব্যথা যেভাবে বুঝবেন

হঠাৎ খাবারের পর কিংবা কোনও জার্নি করার পর কিংবা হাঁটাহাঁটি বা ভারী কাজের পর কিংবা উত্তেজনাবশত কারও সঙ্গে চেঁচামেচি করার পর বা বেশি দুঃশ্চিতার সময় বুকের বাঁ পাশে চাপ দিয়ে ব্যথা শুরু হয়। মন হবে বুক জ্যাম হয়ে যাচ্ছে। ব্যথা পর্যায়ক্রমে বাড়তেই থাকবে। ব্যথা পেটের দিকে, পিঠের দিকে, বাঁ বাহুর দিকে ও ঘাড়ের দিকে ছড়িয়ে পড়বে। ব্যথার তীব্রতায় রোগী দাঁড়ানো থেকে বুক ধরে বসে যাবে কিংবা শুয়ে পড়বে। কপালে মুখে ঘাম দেখা দেবে।

বমি বমি ভাব বা বমি হবে। ব্যথা কমবে না। বরং বাড়তেই থাকবে। সাধারণত ইসকেমিক হার্ট ডিজিজ-এর ব্যথায় রোগী পেছনে কিছুতে হেলান দিয়ে বসলে ব্যথা কমে। তবে হার্ট অ্যাটাক-এর ক্ষেত্রে ব্যথার তীব্রতা বাড়বে। তীব্র হার্ট অ্যাটাক হয়ে থাকলে সঠিক সময় চিকিৎসা করাতে না পারলে রোগী মারাও যেতে পারে।

 

করণীয়

যদি হার্ট অ্যাটাক হচ্ছে বুঝতে পারেন তা হলে সঙ্গে সঙ্গে ইমার্জেন্সি চিকিৎসা হিসেবে ৪টি অ্যাসপিরিন (৭৫ এমজি) ট্যাবলেট, ৪টি ক্লোপিডোগ্রেল (৭৫এমজি) একটা নাইট্রোগ্লিসারিন ট্যাবলেট ও অ্যাটরভ্যাস্টাটিন ট্যাবলেট পানিতে মিশিয়ে কিংবা রোগীকে দিয়ে চিবিয়ে খাইয়ে দিতে হবে এবং সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে।

 

প্যানিক অ্যাটাকজনিত বুকে ব্যথা

সাধারণত ৪০ বছর বয়সের কম যারা, তাদের প্যানিক অ্যাটাক বেশি হয়। এক্ষেত্রে রোগীর আগে থেকে উচ্চ রক্তচাপ বা অতিরিক্ত কোলেস্টেরলের রেকর্ড না-ও থাকতে পারে। তারা অতিমাত্রায় দুঃশ্চিতা কিংবা কোনও কিছু নিয়ে ভয়ে থাকেন। সেটা হতে পারে পরীক্ষা ভীতি, জীবন নিয়ে ভীতি। এরাই প্যানিক অ্যাটাকে পড়েন।

এতে হঠাৎ বুকে ব্যথা শুরু হবে। মনে হবে যেন বুক ছিঁড়ে যাচ্ছে। শ্বাস-প্রশ্বাস নিতে কষ্ট হবে। রোগী বলবে কিংবা তার কাছে মনে হবে একটু পর সে মরে যাচ্ছে। অর্থাৎ তার ভেতর মৃত্যুভয় বেশি কাজ করবে। হাতে-পায়ে কাঁপুনিও আসতে পারে। ‍বুক ধড়ফড় করবে। এক্ষেত্রে ইসিজি করলে নরমাল রিপোর্টই আসবে।

 

করণীয়

রোগীর সঙ্গে মন খুলে কথা বলে তাকে অভয় দিতে হবে এবং সে সুস্থ হয়ে যাবে সেই নিশ্চয়তা দিতে হবে। যেহেতু এটি মূলত মানসিক, তাই পরে মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞ দেখানো প্রয়োজন।

 

গ্যাস্ট্রাইটিস বা অ্যাসিডিটিজনিত বুকে ব্যথা

এক্ষেত্রে ব্যথা বুকের বাঁ পাশে না হয়ে উপরিভাগে হবে। ব্যথায় জ্বালাপোড়ার ভাব থাকবে। খাবারের পর ব্যথা বেড়ে যাবে। খাবারের সময়ও একটা প্রতিবন্ধকতা মনে হবে। বমি ভাব হতে পারে।

সাধারণত খাবারে অনিয়ম হলে, বেশি ঝাল বা তেলজাতীয় খাবার খেয়ে ফেললে গ্যাস্ট্রাইটিস বেড়ে বুকে ব্যথা হতে পারে।

হার্টের ব্যথায় যেমন বুক চিনচিন করে কিংবা ব্যথা বাহু ও ঘাড়ে ছড়ায়, গ্যাস্ট্রিকের ব্যথা তেমন হয় না। কারও ক্ষেত্রে মনে হবে তার পেট-পিঠ দুটোতেই তীব্র ব্যথা। বমির ভাব ও ঢেঁকুর আসবে। গ্যাস্ট্রাইটিসের ব্যথা যে কোনও বয়সেই হতে পারে।

 

করণীয়

গ্যাস্ট্রাইটিসজনিত বুকের ব্যথা সাধারণত অ্যান্টাসিড জাতীয় সিরাপ খেলে কমে যায়। এসব ক্ষেত্রে ডাক্তারের শরণাপন্নও হওয়া দরকার। কারণ অনেক সময় আলসারও এর কারণ হয়ে থাকে৷ সেটার চিকিৎসাপদ্ধতি আবার অন্যরকম।

 

লেখক: পরিচালক, সেন্টার ফর ক্লিনিক্যাল এক্সিলেন্স এন্ড রিসার্চ ইন্সটিটিউট।

/এফএ/

সম্পর্কিত

ইউরিন ইনফেকশন : উপসর্গ, কারণ ও প্রতিকার

ইউরিন ইনফেকশন : উপসর্গ, কারণ ও প্রতিকার

রেসিপি : মজার স্ন্যাকস আলু চিলা

রেসিপি : মজার স্ন্যাকস আলু চিলা

পূজায় কাজলের বেনারসিটা কত পড়লো?

পূজায় কাজলের বেনারসিটা কত পড়লো?

বলিরেখা দূর করবে বার্লি চা

বলিরেখা দূর করবে বার্লি চা

ইউরিন ইনফেকশন : উপসর্গ, কারণ ও প্রতিকার

আপডেট : ১৫ অক্টোবর ২০২১, ১৩:২৭

অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস ও দূষণের কারণে ইউরিন ইনফেকশন এখন সাধারণ একটি সমস্যা। এর কারণ ও প্রতিকার জানতে আগে জেনে নেওয়া যাক কিডনির কাজ ও মূত্রতন্ত্র সম্পর্কে।

মানবদেহে প্রতিনিয়ত যে বর্জ্য তৈরি হয় তা মল-মূত্রের মাধ্যমে বেরিয়ে যায়। ইউরিন তথা প্রস্রাব মূলত কিডনি দিয়ে রক্তকে ছেঁকে তৈরি হয়। মানুষের দুটো কিডনি প্রতি মিনিটে ১ লিটারেরও বেশি রক্ত ছেঁকে নিচ্ছে। এই ছাঁকনের মাধ্যমে রক্তের ক্ষতিকর বর্জ্য যথা ক্রিয়েটিনিন, ইউরিক এসিড, অ্যামোনিয়া ইত্যাদি শরীর থেকে বেরিয়ে যায়। কোনও কারণে কিডনিতে ইনফেকশন হলে বা কিডনি রোগ হলে রক্তে ক্রিয়েটিনিন, ইউরিক এসিড এসব কিডনি ছাঁকতে পারে না।  

 

মূত্রতন্ত্র: মূলত কিডনি দিয়ে মূত্র তৈরি হলেও মূত্রতন্ত্র বলতে ৪টি অংশকে বোঝায়—

কিডনি: প্রতি মিনিটে ১২০০ মিলিলিটার রক্ত ছাঁকন হয়ে ১-২ মিলিলিটার ইউরিন তৈরি হয়।

ইউরেটার: এটি কিডনি থেকে মূত্রথলি পর্যন্ত একটা সরু নালিকা, যার মাধ্যমে কিডনিতে তৈরি হওয়া ইউরিন মূত্রথলিতে গিয়ে জমা হয়।

মূত্রথলি বা ব্লাডার: যেখানে মূত্র জমা হয়।

ইউরেথ্রা বা মূত্রনালী: মূত্রথলি থেকে যে পথ দিয়ে মূত্র বেরিয়ে যায়।

 

ইউরিন ইনফেকশন কী?

মূত্রতন্ত্রের ৪টি অংশের যেকোনও অংশ যদি জীবাণু দিয়ে সংক্রমিত হয়, তবে সেটাকে ইউরিনারি ট্র্যাক্ট ইনফেকশন বা ইউরিন ইনফেকশন বলে। এটি নারী-পুরুষ সবার হতে পারে। তবে নারীদের মধ্যে সংক্রমণের হার বেশি। কারণ তাদের মূত্রনালী পায়ুপথের খুব কাছাকাছি থাকে। তাই জীবাণু প্রবেশ করে ইনফেকশনের আশঙ্কা বাড়ায়।

 

ইউরিন ইনফেকশনের উপসর্গ

১। প্রস্রাবের সময় মূথনালীতে জ্বালাপোড়া করবে কিংবা ব্যথা করবে।

২। গায়ে গায়ে জ্বর থাকবে। কাঁপুনি দিয়ে জ্বর আসতে পারে। কিডনিতে ইনফেকশন হলে কাঁপুনি দিয়ে জ্বর আসবে। মূত্রতন্ত্রের অন্যান্য অংশে ইনফেকশন হলে জ্বর এলেও সাধারণত কাঁপুনি হয় না। অনেক নারী বলে থাকেন, তাদের দীর্ঘদিন গায়ে জ্বর লেগে থাকে। প্রস্রাবেও জ্বালাপোড়া করে। এ ক্ষেত্রে পরীক্ষা করলে দেখা যায়, তাদের ইউরিন ইনফেকশন রয়েছে।

৩। তলপেটে ব্যথা কিংবা প্রস্রাবের সময় ব্যথা হবে।

৪। প্রস্রাবের রঙ বদলে যাবে।

৫। কিছুক্ষণ পরপর প্রস্রাবের বেগ হবে এবং প্রস্রাব করার পরও মনে হবে আবার হবে।

৬। বমি বমি ভাব হবে। বমিও হতে পারে। খাওয়ার রুচি কমে যাবে। শরীর দুর্বল লাগবে।

৭। প্রস্রাবে অস্বাভাবিক দুর্গন্ধ পাওয়া যাবে।

 

ইউরিন ইনফেকশনের কারণ

ইউরিন ইনফেকশন অনেক কারণে হয়। মূল কারণ হচ্ছে মূত্রপথে ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ। আরও যেসব কারণে হয়—

১। মলত্যাগের সময় পায়ুপথ থেকে ব্যাকটেরিয়া মূত্রনালীতে প্রবেশ করলে।

২। মলত্যাগের পর পায়ু পথে পেছন থেকে সামনের দিকে টয়লেট টিস্যু ব্যবহার করলে টিস্যুর সংস্পর্শে ব্যাকটেরিয়ার অনুপ্রবেশ করতে পারে।

৩। শারীরিক সম্পর্কের সময়ও সুরক্ষাবিধি মেনে না চললেও ব্যাকটেরিয়া প্রবেশ করতে পারে।

৪। কোষ্ঠকাঠিন্য থাকলে (বিশেষ করে শিশুদের) ইউরিন ইনফেকশনের ঝুঁকি বাড়ে।

৫। যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম, বা যাদের ডায়াবেটিস বা ক্যান্সার রয়েছে, অথবা যারা ক্যানসারের ওষুধ নিচ্ছেন তাদের ক্ষেত্রেও এ ইনফেকশনের ঝুঁকি বেশি।

৬। যারা হাই কমোড ব্যবহার করেন তাদেরও ঝুঁকি বেশি। কারণ কমোডের বসার জায়গায় লেগে থাকা ব্যাকটেরিয়া মূত্রনালীতে চলে আসতে পারে।

৭। যারা অনেকক্ষণ প্রস্রাব আটকে রাখেন, তাদের ক্ষেত্রে ব্যাকটেরিয়ার সংখ্যা বেড়ে গিয়ে ইউরিন ইনফেকশন হতে পারে।

৮। পানি কম পান করলে ইউরিন আউটপুট কম হয়। এক্ষেত্রেও ব্যাকটেরিয়া জমে ইনফেকশন হতে পারে।

৯। ক্যাথিটার লাগালেও ইউরিন ইনফেকশন হতে পারে। তা ছাড়া যাদের মূত্রপথে পাথর তৈরি হয় কিংবা প্রস্টেট গ্রন্থি বড় হয়, তাদেরও ইউরিন ইনফেকশনের ঝুঁকি বেশি।

১০। টাইট পোশাকের কারণে ঘাম থেকে আসা ব্যাকটেরিয়াও ইনফেকশন ঘটায়। এ ছাড়া নিয়মিত গোসল, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় না রাখলেও এ রোগ হতে পারে।

১১। গর্ভবতী অবস্থায় ইনফেকশন দেখা দিতে পারে অনেকের।

১২। মাসিকের রাস্তায় সঠিকভাবে স্যানিটারি ন্যাপকিন ব্যবহার করতে না পারলে কিংবা মাসিকের বর্জ্য মূত্রপথের সংস্পর্শে এসেও ইনফেকশন ঘটাতে পারে।

 

প্রতিরোধ

১। টয়লেট টিস্যু ব্যবহারে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। পানি ব্যবহারের ক্ষেত্রেও সতর্ক থাকতে হবে।

২। দিনে ৩-৪ লিটার পানি পান করতে হবে। বেশি পানি পান করলে প্রস্রাব বাড়বে। তাতে জীবাণু শরীর থেকে বেরিয়ে যাবে। ইনফেকশনের ঝুঁকি কমবে।

৩। কুসুম গরম পানিতে গোসল করলে ইনফেকশনের ঝুঁকি অনেক কমে।

৪। যাদের বারবার ইনফেকশন হয়, তারা পুকুরের পানি বা অপরিষ্কার পানিতে গোসল করা থেকে বিরত থাকবেন।

৫। বেশিক্ষণ প্রস্রাব আটকে রাখা যাবে না।

৬। শারীরিক সম্পর্কের আগে-পরে প্রস্রাব করে নেওয়া উত্তম। এক্ষেত্রে পরিচ্ছন্নতা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

৭। ঢিলেঢালা সুতির কাপড় পরতে হবে। টাইট জামা পরলে ইউরেথ্রা ও সেটার আশপাশ বেশি ঘামতে পারে।

৮। নিয়মিত গোসল করতে হবে এবং নারীদের ক্ষেত্রে মাসিকের সময় সঠিকভাবে স্যানিটারি ন্যাপকিন ব্যবহার করতে হবে।

৯। যাদের বার বার ইনফেকশন হয়, তারা ডাক্তারের পরামর্শে অ্যান্টিবায়োটিক খেতে পারেন।

১০। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে।

১১। প্রচুর ভিটামিন এ, ই, সি সমৃদ্ধ খাবার খেতে হবে। টক ফল, আমড়া, পেয়ারা, শসা এবং প্রচুর শাকসবজি খেতে হবে।

 

ইউরিন ইনফেকশনের চিকিৎসা

যেহেতু ইউরিনারি ইনফেকশন একটা ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণজনিত রোগ, তাই এটি দেখা দিলে দ্রুত ডাক্তার দেখাতে হবে। চিকিৎসায় দেরি করলে কিডনিতেও ছড়িয়ে পড়তে পারে ইনফেকশন।

ইউরিন মাইক্রোসকোপিক ও ইউরিন কালচার সেনসিটিভিটি পরীক্ষা করে অ্যান্টিবায়োটিক গ্রহণ করা আবশ্যক। বারবার ইনফেকশন হলে দীর্ঘমেয়াদি অ্যান্টিবায়োটিক লাগতে পারে।

 

লেখক: সেন্টার ফর ক্লিনিক্যাল এক্সিলেন্স এন্ড রিসার্চ-এর সিইও।

/এফএ/

সম্পর্কিত

বুকের বাঁ পাশে চিনচিনে ব্যথা, হার্টের কিছু হয়নি তো?

বুকের বাঁ পাশে চিনচিনে ব্যথা, হার্টের কিছু হয়নি তো?

রেসিপি : মজার স্ন্যাকস আলু চিলা

রেসিপি : মজার স্ন্যাকস আলু চিলা

পূজায় কাজলের বেনারসিটা কত পড়লো?

পূজায় কাজলের বেনারসিটা কত পড়লো?

বলিরেখা দূর করবে বার্লি চা

বলিরেখা দূর করবে বার্লি চা

রেসিপি : মজার স্ন্যাকস আলু চিলা

আপডেট : ১৫ অক্টোবর ২০২১, ০৯:০০

আলু চিলা তৈরিতে তেল লাগে খুব কম। তাই এটি স্বাস্থ্যকর স্ন্যাকস। শিশুর টিফিন বা বিকালের নাস্তায় সহজেই তৈরি করে নিতে পারেন মজার খাবারটি। চলুন জেনে নেওয়া যাক মজাদার আলু চিলার রেসিপি।

 

যা যা লাগবে (২ জনের জন্য)

  • ১টি বড় আলু
  • মাঝারি সাইজের একটি পেঁয়াজ
  • ১ চা চামচ রসুন বাটা
  • ১টি কাচা মরিচ
  • ১/২ চা চামচ জিরা গুঁড়া
  • ১/২ চা চামচ ধনিয়া গুঁড়া
  • ১/৪ চা চামচ কালো গোলমরিচের গুঁড়া
  • ১ টেবিল চামচ বেসন
  • ১ টেবিল চামচ কর্ন ফ্লাওয়ার
  • পরিমাণমতো লবণ
  • ১ টেবিল চামচ তেল

 

যেভাবে তৈরি করবেন

  • প্রথমেই আলু ধুয়ে খোসা ছাড়িয়ে নিন। এবার গ্রেট বা কুচি করে নিন। একটি পাত্রে অল্প পানি নিয়ে তাতে ১৫ মিনিট ভিজিয়ে রাখুন। এরপর অতিরিক্ত পানি ঝরিয়ে নিন। এতে আলুর অতিরিক্ত শর্করা চলে যাবে।
  • পেঁয়াজ ও মরিচ ধুয়ে কুচি করে নিন। আলুর পাত্রে পেঁয়াজ, মরিচ, রসুন, কালো গোলমরিচের গুঁড়া, ধনিয়া গুঁড়া, জিরা গুঁড়া, পরিমাণমতো লবণ, বেসন ও কর্নফ্লাওয়ার নিয়ে মিশ্রণ তৈরি করুন। চাইলে পছন্দমতো সবজিও গ্রেট করে যোগ করতে পারেন।
  • কড়াইয়ে যৎসামান্য তেল দিন। চুলা মৃদু আঁচে রাখুন। তৈরি করা মিশ্রণ থেকে অর্ধেক পরিমাণ নিয়ে পুরো কড়াইয়ে বৃত্তাকারে ছড়িয়ে দিন- অনেকটা চিতই পিঠার মতো। খেয়াল রাখুন যেন কোথাও কম বেশি না হয়। বৃত্তাকার এই পিঠার আকৃতিটাকেই বলে চিলা।
  • চাইলে অল্প অল্প করে ছোট আকৃতির চিলাও তৈরি করতে পারেন। এবার ছড়িয়ে রাখা চিলা বাদামি না হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করুন। হয়ে গেলে উঠিয়ে ফেলুন।
  • একটি প্লেটে চিলাটাকে কেটে টমেটো কেচাপ কিংবা পুদিনা চাটনি দিয়ে পরিবেশন করুন।
/এফএ/

সম্পর্কিত

রেসিপি : এলাচ নারিকেলের বরফি

রেসিপি : এলাচ নারিকেলের বরফি

রেসিপি : আলু জিরার রোল

রেসিপি : আলু জিরার রোল

রেসিপি : পুষ্টিতে ভরা সাউথ-ওয়েস্ট পাস্তা

রেসিপি : পুষ্টিতে ভরা সাউথ-ওয়েস্ট পাস্তা

বোয়াল মাছের কালিয়া

বোয়াল মাছের কালিয়া

পূজায় কাজলের বেনারসিটা কত পড়লো?

আপডেট : ১৪ অক্টোবর ২০২১, ২০:২০

দুর্গাপূজার দ্বিতীয় দিনেই গাঢ় নীল বেনারসি পরে চোখ ধাঁধিয়ে দিয়েছিলেন অনেকের। শাড়িটার নকশা করেছিলেন ভারতের নামকরা ডিজাইনার আনিতা ডোংরে। ব্যাকলেস ব্লাউজ ও অনবদ্য কিছু গহনা কাজলকে অকৃত্রিম পূজার সাজে সাজিয়েছিলেন স্টাইলিস্ট রাধিকা মেহরা।

 

শাড়ির নাম পানিতা বেনারসি। সিল্ক কাপড়ে হাতেবোনা শাড়িটিতে আছে ডোংরের তৈরি গোটা পাতার নকশা।

কাজল ছাড়াও ডোংরের নকশায় শাড়িটা পড়েছেন অন্য মডেলরাও

শাড়ির পরতে পরতে আছে মুক্তা ও জরির কাজ।

পূজার মধ্যমণি হতে এমন একখানা শাড়িই তো যথেষ্ট

একটি পানিতা শাড়ির দাম পড়বে ৮০ হাজার রুপি।

 

 

 

 

 

/এফএ/এমওএফ/

সম্পর্কিত

বুকের বাঁ পাশে চিনচিনে ব্যথা, হার্টের কিছু হয়নি তো?

বুকের বাঁ পাশে চিনচিনে ব্যথা, হার্টের কিছু হয়নি তো?

ইউরিন ইনফেকশন : উপসর্গ, কারণ ও প্রতিকার

ইউরিন ইনফেকশন : উপসর্গ, কারণ ও প্রতিকার

রেসিপি : মজার স্ন্যাকস আলু চিলা

রেসিপি : মজার স্ন্যাকস আলু চিলা

বলিরেখা দূর করবে বার্লি চা

বলিরেখা দূর করবে বার্লি চা

বলিরেখা দূর করবে বার্লি চা

আপডেট : ১৩ অক্টোবর ২০২১, ১৭:২৪

বয়স যতই হোক, মুখে বলিরেখা পড়া মানেই বুড়িয়ে যাওয়া। আর এটি দূর করতে বাজারে আছে হরেক ক্রিম। কিন্তু এ রেখা দূর করা যায় নিয়মিত স্বাস্থ্যকর একটি চা খেয়েও। বিউটি চায়ের রেসিপিটা এসেছে সুদূর কোরিয়া থেকে।

 

যেভাবে বানাবেন বার্লি টি

  • প্রথমে ২ টেবিল চামচ বার্লি টেলে নিন।
  • এরপর একটি প্যানে এক কাপ পানি নিন।
  • পানি ফোটা পর্যন্ত অপেক্ষা করুন। ফুটতে শুরু করলে তাতে বার্লি দিন।
  • অল্প আঁচে ৫ মিনিট চুলায় রাখুন।
  • পান করার আগে ছেঁকে নিন।

 

বার্লিতে থাকা অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ত্বকের ফ্রি-র‌্যাডিকেলের বিরুদ্ধে সক্রিয় থাকে। মূলত ওই র‌্যাডিকেলের কারণেই ত্বকে বলিরেখা পড়ে।

বার্লিতে থাকা অ্যাজলেইক অ্যাসিড ব্রণ দূর করতে সাহায্য করে।

 

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া

 

 

 

/এফএ/
সর্বশেষসর্বাধিক

লাইভ

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

বুকের বাঁ পাশে চিনচিনে ব্যথা, হার্টের কিছু হয়নি তো?

বুকের বাঁ পাশে চিনচিনে ব্যথা, হার্টের কিছু হয়নি তো?

ইউরিন ইনফেকশন : উপসর্গ, কারণ ও প্রতিকার

ইউরিন ইনফেকশন : উপসর্গ, কারণ ও প্রতিকার

রেসিপি : মজার স্ন্যাকস আলু চিলা

রেসিপি : মজার স্ন্যাকস আলু চিলা

পূজায় কাজলের বেনারসিটা কত পড়লো?

পূজায় কাজলের বেনারসিটা কত পড়লো?

বলিরেখা দূর করবে বার্লি চা

বলিরেখা দূর করবে বার্লি চা

সাজে বন্দনা, সাজে ভক্তি

সাজে বন্দনা, সাজে ভক্তি

আর্থ্রাইটিসের চিকিৎসায় অবহেলা নয়

বিশ্ব আর্থ্রাইটিস দিবসআর্থ্রাইটিসের চিকিৎসায় অবহেলা নয়

ডায়াবেটিসের আগাম লক্ষণ

ডায়াবেটিসের আগাম লক্ষণ

পেট ফুলছে গ্যাসে? জেনে নিন কারণ ও চটজলদি সমাধান

পেট ফুলছে গ্যাসে? জেনে নিন কারণ ও চটজলদি সমাধান

রেসিপি : এলাচ নারিকেলের বরফি

রেসিপি : এলাচ নারিকেলের বরফি

সর্বশেষ

প্রাণঘাতী বন্যায় ভারতে বহু মানুষ নিখোঁজ

প্রাণঘাতী বন্যায় ভারতে বহু মানুষ নিখোঁজ

ফাতির নৈপুণ্যে পিছিয়ে পড়েও বার্সেলোনার দুর্দান্ত জয়

ফাতির নৈপুণ্যে পিছিয়ে পড়েও বার্সেলোনার দুর্দান্ত জয়

হাসপাতাল ছাড়লেন বিল ক্লিন্টন

হাসপাতাল ছাড়লেন বিল ক্লিন্টন

ভারতের প্রথম অ্যালকোহল জাদুঘরের যাত্রা শুরু

ভারতের প্রথম অ্যালকোহল জাদুঘরের যাত্রা শুরু

এবার মরুর বুকে ক্ষত-বিক্ষত মাহমুদউল্লাহরা

এবার মরুর বুকে ক্ষত-বিক্ষত মাহমুদউল্লাহরা

© 2021 Bangla Tribune