X
মঙ্গলবার, ১৯ অক্টোবর ২০২১, ৩ কার্তিক ১৪২৮

সেকশনস

‘স্বস্তির ঢিলেমি’ আবারও বিপর্যয় আনতে পারে

আপডেট : ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১৬:০০

গত বৃহস্পতিবার (২৩ সেপ্টেম্বর) করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু এবং নতুন শনাক্ত ছিল গত চার মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন। এদিন করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা যান ২৪ জন। এর আগে ২৭ মে একদিনে ২২ জনের মৃত্যুর কথা জানিয়েছিল স্বাস্থ্য অধিদফতর। সেই সঙ্গে একইদিনে করোনাতে শনাক্ত হন এক হাজার ১৪৪ জন। এর আগে গত ২২ মে এক হাজার ২৮ জন শনাক্ত হওয়ার কথা জানানো হয়েছিল। সেই হিসাবে করোনায় দৈনিক শনাক্তও গত চার মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন।

একইদিনে দেশের আট বিভাগের মধ্যে তিন বিভাগেই করোনায় আক্রান্ত হয়ে কারও মৃত্যু হয়নি। তবে তার পরের দিন ২৪ সেপ্টেম্বর করোনাতে নতুন আক্রান্ত ও মৃত্যু কিছুটা বাড়লেও তার আগের দিনের তুলনায় শনাক্তের হার কমেছে।

গত শুক্রবার (২৪ সেপ্টেম্বর) করোনায় রোগী শনাক্তের হার চার দশমিক ৫৪ শতাংশ। এ নিয়ে টানা ছয়মাস পর করোনাতে রোগী শনাক্তের হার টানা চারদিন ধরে পাঁচ শতাংশের নিচে রয়েছে। এর আগে গত এক আগস্ট দৈনিক শনাক্তের হার ১০ শতাংশে নেমে আসে। সেদিন শনাক্তের হার ছিল ১০ দশমিক ১১ শতাংশ। যা গত ৪ জুনের পর সর্বনিম্ন।

দেশে করোনাতে দৈনিক রোগী শনাক্ত, মৃত্যু এবং শনাক্তের হার-সবই কমছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, কোনও দেশে যদি টানা দুই সপ্তাহ দৈনিক শনাক্তের হার পাঁচ শতাংশের নিচে থাকে তাহলে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে বলে ধরা হবে।

দেশের জনস্বাস্থ্যবিদরা বলছেন, সংক্রমণ নিয়ে স্বস্তি এসেছে। তবে এই স্বস্তিতে তুষ্ট হয়ে স্বাস্থ্যবিধিতে ঢিলেঢালাভাব চলে এসেছে। মানুষ মাস্ক পরছে না, শপিং মল, গণপরিবহন, বেসরকারি অফিস, রেস্টুরেন্ট, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বাইরে অভিভাবকদের ভিড়, হাসপাতালসহ কোথাও স্বাস্থ্যবিধি মানা হচ্ছে না। স্বস্তিতে ভুগে স্বাস্থ্যবিধি না মেনে চললে আবার বিপর্যয় আসতে একটুও সময় লাগবে না। তার কারণ হিসেবে তারা বলছেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এর উদাহরণ রয়েছে।

তারা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে রেখেছিল ভিয়েতনাম। কিন্তু বর্তমানে যে কয়েকটি দেশে সংক্রমণ বেশি, তার মধ্যে ভিয়েতনাম একটি। আমেরিকাতেও সংক্রমণ অনেক বেশি। সংক্রমণের এই নিম্নমুখী হারকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে টিকার ওপর জোর দিয়েছেন তারা। সঙ্গে অবশ্যই স্বাস্থ্যবিধি মানার এই ঢিলেমি ত্যাগ করতে হবে, স্বাস্থ্যবিধি না মেনে কেবল টিকার ওপর নির্ভর করলে সেটা হবে বোকামি।

জুলাইয়ের শেষ সপ্তাহ থেকে শুরু করে আগস্টের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত শনাক্ত নিম্নমুখী প্রবণতার দিকে যাচ্ছে। এর প্রমাণ হিসেবে তিনি জানান, এ বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে যেখানে রোগীর সংখ্যা ছিল ১১ হাজার ৭৭ জন, জুলাই মাসে সেখানে রোগী সংখ্যা হয় তিন লাখ ৩৬ হাজার ২২৬ জন। তবে বিভিন্ন কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের মধ্য দিয়ে আগস্ট মাসে নতুন শনাক্ত কমে এসেছে। আগস্টে রোগী শনাক্ত হয়েছেন দুই লাখ ৫১ হাজার ১৩৪ জন।

এদিকে, স্বাস্থ্য অধিদফতরের মুখপাত্র অধ্যাপক রোবেদ আমিন গত বুধবার (২২ সেপ্টেম্বর) অধিদফতর আয়োজিত বুলেটিনে বলেন, বাংলাদেশ এখন ভালো অবস্থানে রয়েছে। সংক্রমণ পরিস্থিতি একটি স্থিতিশীল পর্যায়ে এসেছে।

তবে তার মানে এই নয় যে করোনা চলে গেছে ‑ মন্তব্য করে অধ্যাপক রোবেদ আমিন বলেন, এখন তেমন কোনো বিধিনিষেধ নেই। অনেকে স্বাস্থ্যবিধি মানছেন না, মাস্ক পরছেন না। কিন্তু সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে, এর কোনও বিকল্প নেই।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের প্রতিদিনকার করোনা তথ্য অনুযায়ী, গত ছয় জুলাই দেশে দৈনিক শনাক্ত রোগীর সংখ্যা প্রথম ১০ হাজার ছাড়িয়ে যায়। অতিসংক্রমণশীল ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের তাণ্ডবে জুলাই ছিল করোনা মহামারিকালে ভয়ংকর। যদিও তার আগের মাস জুন থেকে দৈনিক শনাক্তের হার ওঠে যায় ২০ শতাংশের ওপরে। তবে জুলাইতে প্রায় প্রতিদিনই শনাক্ত ও মৃত্যুতে তার আগের দিনের রেকর্ড ভাঙ্গতে থাকে।  এরিমধ্যে দেশে করোনাকালে একদিনে সর্বোচ্চ (গত ২৮ জুলাই) রোগী শনাক্ত হয় ১৬ হাজার ২৩০ জন। শনাক্তের হার ওঠে যায় ৩২ শতাংশের বেশি। ভয়ংকর জুলাই শেষ হবার পর তার রেশ চলতে থাকে আগস্ট মাস পর্যন্ত।

গত ১২ আগস্ট পর্যন্ত ৩৮ দিনের মধ্যে ৩০ দিনই শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ১০ হাজারের বেশি ছিল। আর করোনাকালে একদিনে সর্বোচ্চ মৃত্যু হয় আগস্ট মাসের দুইদিন। গত ৫ এবং ১০ আগস্ট একদিনে সর্বোচ্চ ২৬৪ জনের মৃত্যুর কথা জানায় স্বাস্থ্য অধিদফতর। তবে  আগস্টের প্রথম দিক থেকে রোগী শনাক্তের হার ক্রমেই কমছে। আর চলতি মাসে সংক্রমণের হার কমে এসেছে পাঁচ এর নিচে।

সংক্রমণ কমে আসায় সরকার কঠোর বিধি-নিষেধ তুলে দেয়। খুলে দেওয়া হয়েছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। কোথাও স্বাস্থ্যবিধি না মানায় শঙ্কা প্রকাশ করছেন বিশেষজ্ঞরা।

সংক্রমণের হার কমাতে স্বস্তি রয়েছে, তবে যেভাবে চলাফেরা করছে মানুষ তাতে আবারও আমার ভেতরে সাংঘাতিক আশংকা রয়েছে জানিয়ে স্বাস্থ্য অধিদফতরের গঠিত পাবলিক হেলথ অ্যাডভাইজারি কমিটির সদস্য অধ্যাপক আবু জামিল ফয়সাল বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, করোনা শেষ হয়ে যায়নি।

“এখনও সংক্রমণের হার পাঁচ শতাংশের নিচে রয়েছে, সংক্রমণ চলছে। আর যে কোনও সংক্রমণশীল রোগের চরিত্রই হচ্ছে যে কোনও সময় এটা আবার বেড়ে যেতে পারে। কেননা, এর মধ্যে হয়তো এই ভাইরাসের স্ট্রেইন বদলাবে, নতুন ভ্যারিয়েন্ট আসতে পারে”।

তাই আমরা যদি স্বাস্থ্যবিধি ভুলে যাই তাহলে হঠাৎ করে আবার বেড়ে যাবে, তখন আবার সেই আগের অবস্থাতে ফেরত যাবো আমরা, বলেন অধ্যাপক আবু জামিল ফয়সাল। আবার অক্সিজেন নিয়ে হাহাকার, আইসিইউ-র বেড পাওয়া যাবে না, অ্যাম্বুলেন্সের ভেতরে রোগী মারা যাবে, হাসপাতালের বারান্দায় রোগীরা পড়ে থাকবে।

মৌলিক তিন স্বাস্থ্যবিধির ভেতরে প্রথমেই রয়েছে মাস্ক পড়া-কিন্তু মাস্কের ব্যবহার কোথাও নেই। ভয় পাচ্ছি- আবার নাকি ২০২০ সালের জুন-জুলাইতে যেটা হয়েছিল, ২০২১ সালের জুন-জুলাইতে যেরকম আচরণ দেখলাম করোনা ভাইরাসের, তার আবার পুরনো চিত্র দেখতে হয় কিনা, বলেন তিনি। 

স্বাস্থ্যবিধি ভুলে গেলে তার মাশুল দিতে হবে-এটা যেন আমরা ভুলে না যাই মন্তব্য করে আবু জামিল ফয়সাল বলেন, সবাইকে মাস্ক পড়তে হবে আর সুষ্ঠু, সমন্বিত ও পরিকল্পিতভাবে টিকা কার্যক্রমকে এগিয়ে নিতে হবে।

মানুষ স্বাস্থ্যবিধি না মানলে সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা যে কোনও সময়েই রয়েছে বলেন রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের ( আইইডিসিআর) প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডা. এ এস এম আলমগীর।

পৃথিবীর বহুদেশে সংক্রমণ অনেক বেশি, গতকাল ( ২৩ সেপ্টেম্বর) আমেরিকাতে এক লাখের বেশি মানুষ শনাক্ত হয়েছে, ভিয়েতনাম কিংবা দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ায় আমাদের পার্শ্ববর্তী মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইনে প্রতিদিন অনেক মানুষ শনাক্ত হচ্ছেন জানিয়ে তিনি বলেন, পৃথিবীর যে কোনও জায়গায় ভাইরাসের পরিবর্তন হতে পারে।

“এটা অনবরত পরিবর্তনশীল ভাইরাস”।

ডা. এ এস  এম আলমগীর বলেন, ভ্যারিয়েন্ট বদলাতে পারে, সংক্রমণশীল ভ্যারিয়েন্ট আসতে পারে। এখনও অসতর্ক হবার কোনও সুযোগ নেই, সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সাবধানে এবং সচেতন থাকতে হবে।

সামাজিক অবস্থার চেয়েও ব্যক্তিগত সচেতনতার ওপর বেশি জোর দিতে হবে জানিয়ে তিনি বলেন, বর্তমান স্বস্তি নিয়ে যদি স্বাস্থ্যবিধিতে ঢিলেমি দেওয়া হয় তাহলে আবারও বিপর্যয় আসতে পারে।

আর স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার সঙ্গে সঙ্গে টিকা নেওয়ার ওপর জোর দেন ডা. এ এস এম আলমগীর। যাদের সুযোগ রয়েছে, তাদের অবশ্যই টিকা নিতে হবে, টিকাও সংক্রমণ কমার অন্যতম কারণ, যদিও একমাত্র নয়। টিকার সঙ্গে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চললে সংক্রমণের হার পাঁচ শতাংশের নিচে ধরে রাখা সম্ভব, নয়তো যে কোনও সময় এটা বেড়ে যেতে পারে, বলেন তিনি।

/এমএস/

সম্পর্কিত

শনাক্তের হার আবারও ২ শতাংশের ওপরে

শনাক্তের হার আবারও ২ শতাংশের ওপরে

করোনার বেড নিয়ে হ-য-ব-র-ল অবস্থা

করোনার বেড নিয়ে হ-য-ব-র-ল অবস্থা

ড্রেনে পড়ে দু’জনের মৃত্যু, কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ চেয়ে আইনি নোটিশ

আপডেট : ১৯ অক্টোবর ২০২১, ১৬:৫৬

চট্টগ্রামে ড্রেনে পড়ে সবজি বিক্রেতা সালেহ আহমেদ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী সেহরীন মাহবুব সাদিয়ার মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় তাদের পরিবারকে এক কোটি টাকা করে ক্ষতিপূরণ দিতে একটি আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সচিব, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব, চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানসহ ১৩ জনকে এই নোটিশ পাঠানো  হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৯ অক্টোবর) মানবাধিকার সংগঠন চিলড্রেন চ্যারিটি বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন (সিসিবি) এর পক্ষে ব্যারিস্টার আব্দুল হালিম ও আইনজীবী ইশরাত হাসান এই নোটিশ পাঠান।

এ বিষয়ে সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনের উদ্বৃতি দিয়ে নোটিশে বলা হয়, গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ থেকে জানতে পারি, সবজি ব্যবসায়ী সালেহ আহমদের পর চট্টগ্রাম নগরীতে নালায় পড়ে সেহেরীন মাহবুব সাদিয়ার মৃত্যুতেও দায় নিতে চাইছে না সিটি করপোরেশন কিংবা সিডিএ।

নোটিশে আরও বলা হয়, সরকারি দু’টি সংস্থাই একে অপরকে দোষ দিচ্ছে। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন বলছে, দু’দিকে ফুটপাত করলেও খালের মুখটি অরক্ষিত রেখেছে সিডিএ। তাই এর দায় সিডিএ’র। চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ-সিডিএ বলছে, খালের মালিকানা চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের। তাই খালের মুখে সুরক্ষা নিশ্চিতের দায়িত্বও তাদের। নালা ও খালে পড়ে একের পর এক মৃত্যুতে ক্ষুব্ধ নগরবাসী। তারা বলছেন, দায় এড়ানোর এই প্রবণতা প্রমাণ করে যে, সেবা সংস্থার মধ্যে কোনও সমন্বয় নেই। চলমান উন্নয়ন প্রকল্পগুলো স্বাচ্ছন্দ্যের পরিবর্তে নগরবাসীর ‘মৃত্যুফাঁদে’ পরিণত হয়েছে।

‘গত ২৫ আগস্ট মুরাদপুর এলাকায় খালে পড়ে তলিয়ে যান সালেহ আহমদ। তার খোঁজ আর মেলেনি। তার আগে গত ৩০ জুন ষোলশহর চশমা হিল এলাকাতেও এমন দুর্ঘটনায় মারা যান দু’জন। আবার আগ্রাবাদে নবী টাওয়ারের কাছাকাছি নাছিরছড়া খালে পড়ে তলিয়ে যান বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী সাদিয়া। পাঁচ ঘণ্টার চেষ্টায় কয়েক টন আবর্জনার স্তূপ সরিয়ে ১৯ বছর বয়সী সাদিয়ার লাশ উদ্ধার হয়।’

তাই নোটিশে সালেহ আহমেদ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী সেহরীন মাহবুব সাদিয়া ড্রেনে পড়ে মর্মান্তিক মৃত্যের ঘটনায় চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন ও চট্টগ্রাম  উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ কী ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে, তা জানাতে বলা হয়েছে। এছাড়া এই ধরনের দুর্ঘটনা রোধে নোটিশগ্রহীতারা কী ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে, তার রিপোর্ট প্রকাশ করতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি দু’জনের মৃত্যুর ঘটনায় ক্ষতিপূরণও চাওয়া হয়েছে।

 

/বিআই/এপিএইচ/

সম্পর্কিত

বিবিআইএন মোটর ভেহিকেল চুক্তি বাস্তবায়নে গুরুত্বারোপ পররাষ্ট্রমন্ত্রীর

বিবিআইএন মোটর ভেহিকেল চুক্তি বাস্তবায়নে গুরুত্বারোপ পররাষ্ট্রমন্ত্রীর

খুলনায় মন্দির ভাঙচুরের মামলায় তিন আসামির জামিন স্থগিত

খুলনায় মন্দির ভাঙচুরের মামলায় তিন আসামির জামিন স্থগিত

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব রটনাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব রটনাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা

ইভ্যালির রাসেল-শামীমাসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে আবারও মামলা

ইভ্যালির রাসেল-শামীমাসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে আবারও মামলা

শনাক্তের হার আবারও ২ শতাংশের ওপরে

আপডেট : ১৯ অক্টোবর ২০২১, ১৭:১৬

তিন দিন ধরে করোনা রোগী শনাক্তের দৈনিক হার দুই শতাংশের নিচে থাকলেও গত ২৪ ঘণ্টায় তা আবারও বেড়েছে। এ সময়ে করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন সাত জন।

আজ মঙ্গলবার (১৯ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদফতরের করোনা বিষয়ক নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তি থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

অধিদফতর জানাচ্ছে, গত ২৪ ঘণ্টা (১৮ অক্টোবর সকাল ৮টা থেকে ১৯ অক্টোবর সকাল ৮টা) পর্যন্ত করোনা রোগী শনাক্তের হার দুই দশমিক ২০ শতাংশ।

এর আগে গত শনিবার চলতি বছরে প্রথম দিনের মতো দৈনিক শনাক্তের হার নেমে আসে দুই শতাংশের নিচে। তারপর থেকে গতকাল (১৮ অক্টোবর) পর্যন্ত শনাক্তের হার টানা তিন দিন ধরে দুইয়ের নিচেই ছিল।

স্বাস্থ্য অধিদফতর জানাচ্ছে, গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় নতুন করে শনাক্ত হয়েছেন ৪৬৯ জন আর গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন সাত জন।

তাদের নিয়ে দেশে সরকারি হিসাবে করোনায় এখন পর্যন্ত মোট শনাক্ত হলেন ১৫ লাখ ৬৬ হাজার ২৯৬ জন, আর মারা গেলেন ২৭ হাজার ৭৮৫ জন।

করোনা আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন ৬৯৭ জন। এদের নিয়ে দেশে করোনা আক্রান্ত হয়ে সুস্থ হয়ে উঠলেন মোট ১৫ লাখ ২৯ হাজার ৬৮ জন।

গত ২৪ ঘণ্টায় করোনার নমুনা সংগৃহীত হয়েছে ২১ হাজার ৫৫৯টি, আর পরীক্ষা হয়েছে ২১ হাজার ৩০৮টি।

দেশে এখন পর্যন্ত করোনার মোট নমুনা পরীক্ষা হয়েছে এক কোটি এক লাখ ৩৫ হাজার ৪২টি। এরমধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় পরীক্ষা হয়েছে ৭৪ লাখ ১১ হাজার ৮৫২টি আর বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ২৭ লাখ ২৩ হাজার ১৯০টি।

দেশে এখন পর্যন্ত করোনা রোগী শনাক্তের হার ১৫ দশমিক ৪৫ শতাংশ। শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ৯৭ দশমিক ৬২ শতাংশ আর মৃত্যুর হার এক দশমিক ৭৭ শতাংশ।

গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া সাত জনের মধ্যে পুরুষ পাঁচ জন আর নারী দুই জন।

দেশে করোনা আক্রান্ত হয়ে এখন পর্যন্ত মোট পুরুষ মারা গেলেন ১৭ হাজার ৭৯৮ জন আর নারী ৯ হাজার ৯৮৭ জন।

তাদের মধ্যে বয়স বিবেচনায় ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে রয়েছেন দুই জন, ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে একজন, ৬১ থেকে ৭০ বছরের মধ্যে একজন, ৭১ থেকে ৮০ বছরের মধ্যে একজন আর ৮১ থেকে ৯০ বছরের মধ্যে দুই জন। আর এই সাত জনের মধ্যে ঢাকা বিভাগের আছেন তিন জন, চট্টগ্রাম বিভাগের দুই জন আর খুলনা ও রংপুর বিভাগের আছেন একজন করে।

স্বাস্থ্য অধিদফতর জানাচ্ছে, মারা যাওয়া সাত জনের মধ্যে ছয় জনের মৃত্যু হয়েছে সরকারি হাসপাতালে আর একজন মারা গেছেন বেসরকারি হাসপাতালে।

/জেএ/এমএস/এমওএফ/

সম্পর্কিত

করোনার বেড নিয়ে হ-য-ব-র-ল অবস্থা

করোনার বেড নিয়ে হ-য-ব-র-ল অবস্থা

দ্বিতীয় ডোজের আওতায় এক কোটি ৯৪ লাখ মানুষ

দ্বিতীয় ডোজের আওতায় এক কোটি ৯৪ লাখ মানুষ

বিবিআইএন মোটর ভেহিকেল চুক্তি বাস্তবায়নে গুরুত্বারোপ পররাষ্ট্রমন্ত্রীর

আপডেট : ১৯ অক্টোবর ২০২১, ১৫:৫৫

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক যোগাযোগ বাড়ানোর লক্ষ্যে বিবিআইএন (বাংলাদেশ, ভুটান, ইন্ডিয়া, নেপাল) মোটর ভেহিকেল চুক্তি দ্রুত বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন।

মঙ্গলবার (১৯ অক্টাবর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা বলা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশে নিযুক্ত নেপালের বিদায়ী রাষ্ট্রদূত ড. বংশীধর মিশ্র সোমবার ফরেন সার্ভিস অ্যাকাডেমিতে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে এলে তিনি এ কথা বলেন।

বৈঠকে ড. মোমেন বাংলাদেশ ও নেপালের মধ্যে জলবিদ্যুৎ, জ্বালানি খাতে যোগাযোগ বাড়ানোর পাশাপাশি পারস্পরিক স্বার্থে ব্যবসা-বাণিজ্যে সহযোগিতার ওপর জোর দেন।

এ সময় পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশ ও নেপালের মধ্যে চমৎকার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে  সন্তোষ প্রকাশ করেন।

নেপালি রাষ্ট্রদূত মানুষে মানুষে যোগাযোগ বাড়ানোর জন্য ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করার জন্য বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

তিনি প্রিফারেন্সিয়াল ট্রেড অ্যাগ্রিমেন্ট (পিটিএ) দ্রুত বাস্তবায়নের মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে ব্যবসা-বাণিজ্য জোরদার করার প্রয়োজনীয়তার ওপরও গুরুত্ব আরোপ করেন।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, উভয় পক্ষ থেকে ভবিষ্যৎ সহযোগিতার অঙ্গীকার করে বৈঠকটি শেষ হয়।

উল্লেখ্য, রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন শেষে ২০২১ সালের ২১ অক্টোবর ড. বংশীধর মিশ্র তার দেশে ফিরে যাবেন। খবর: বাসস

/এপিএইচ/

সম্পর্কিত

ড্রেনে পড়ে দু’জনের মৃত্যু, কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ চেয়ে আইনি নোটিশ

ড্রেনে পড়ে দু’জনের মৃত্যু, কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ চেয়ে আইনি নোটিশ

খুলনায় মন্দির ভাঙচুরের মামলায় তিন আসামির জামিন স্থগিত

খুলনায় মন্দির ভাঙচুরের মামলায় তিন আসামির জামিন স্থগিত

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব রটনাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব রটনাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা

ইভ্যালির রাসেল-শামীমাসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে আবারও মামলা

ইভ্যালির রাসেল-শামীমাসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে আবারও মামলা

পুনর্বাসনের দাবিতে ফুলবাড়ীয়া রেলওয়ে কলোনি বস্তিবাসীদের বিক্ষোভ

আপডেট : ১৯ অক্টোবর ২০২১, ১৫:৪২

পুনর্বাসন ছাড়া কোনও বস্তি উচ্ছেদ না করার দাবি জানিয়ে বিক্ষোভ করেছে ফুলবাড়ীয়া রেলওয়ে কলোনি বস্তিবাসীরা।

মঙ্গলবার (১৯ অক্টোবর) রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে সমাবেশ করেন তারা।

সমাবেশে জরিনা বলেন, পুনর্বাসন ছাড়াই আমাদের উচ্ছেদ করা হচ্ছে। গত তিন-চার মাস ধরে আমাদের বিদ্যুৎ-পানির সংযোগ বন্ধ করে রাখা হয়েছে। সামনে আমাদের সন্তানদের পরীক্ষা এই অবস্থায় আমরা কোথায় যাবো।

তিনি আরও বলেন, দুই বছর আগে মেয়র পুনর্বাসনের কথা দিলেও এখন পর্যন্ত আমাদের পুনর্বাসন হয়নি। এখন আগামী ২৪ তারিখ আমাদের বস্তি ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমাদের পুনর্বাসনের আবেদন জানাচ্ছি। পুনর্বাসিত হলে আমাদের বস্তি ছাড়তে আপত্তি নেই।

/জেডএ/এমএস/

সম্পর্কিত

রাজধানীতে মাদকবিরোধী অভিযানে গ্রেফতার ৪৭

রাজধানীতে মাদকবিরোধী অভিযানে গ্রেফতার ৪৭

সোনারগাঁয়ে প্রাইভেট কারের ধাক্কায় পথচারী নিহত

সোনারগাঁয়ে প্রাইভেট কারের ধাক্কায় পথচারী নিহত

বিদেশ যেতে বিমানবন্দরে এসে না ফেরার দেশে আবু মুসা

বিদেশ যেতে বিমানবন্দরে এসে না ফেরার দেশে আবু মুসা

শেখ রাসেল ছিল বন্ধুবৎসল: আতিকুল ইসলাম

শেখ রাসেল ছিল বন্ধুবৎসল: আতিকুল ইসলাম

ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত দফতর সম্পাদক আব্দুস সাত্তার কারাগারে

আপডেট : ১৯ অক্টোবর ২০২১, ১৬:২৬

রাজধানীর পল্টন থানায় দায়ের করা মামলায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত দপ্তর সম্পাদক আব্দুস সাত্তার পাটোয়ারীকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।

মঙ্গলবার (১৯ অক্টোবর) ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মঈনুল ইসলামের আদালতে আব্দুস সাত্তার আইনজীবীর মাধ্যমে আত্মসমর্পণ করে জামিনের জন্য আবেদন করেন। অপরদিকে রাষ্ট্রপক্ষ থেকে তার বিরোধিতা করা হয়। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে আসামিকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

২০১৭ সালের ২ এপ্রিল কাজী মহিদুল ইসলাম নামে এক ব্যবসায়ী তৎকালীন ছাত্রদলের সভাপতি রাজিব আহসান, সাধারণ সম্পাদক আকরামুল হাসানসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার আইনে মামলাটি দায়ের করেন। এরপর মামলাটি তদন্ত করে ১০ দিন পর ১১ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন পল্টন মডেল থানার এসআই (নি.) শামীম আকতার। মামলাটি বর্তমানে সাক্ষ্য গ্রহণের পর্যায়ে রয়েছে।

এদিন আব্দুস সাত্তারের পক্ষে জামিন শুনানিতে তার আইনজীবী মাসুদ আহম্মেদ তালুকদার বলেন, আব্দুস সাত্তার পাটোয়ারী নির্দোষ, নিরাপরাধ। ঘটনার সাথে কোনোভাবেই জড়িত নন বরং যে ধারার অভিযোগ আনা হয়েছে সেই ধারার কোনও অপরাধ সংঘটন করেননি। তিনি বেসরকারি একটি প্রতিষ্ঠানে ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত, মামলা সম্পর্কে অবগতই ছিলেন না। মামলার বিষয়ে জানার পর তিনি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেছে। তিনি অসুস্থ, ভারতের চেন্নাইয়ের বেসরকারি হাসপাতালের চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা নিচ্ছেন। সদ্য করোনামুক্ত হয়েছেন। তার জামিনের প্রার্থনা করছি।

পরে শুনানি শেষে আদালত জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। মামলার শুরু থেকেই আব্দুস সাত্তার পাটোয়ারী পলাতক ছিলেন।

 

/এমএইচজে/ইউএস/

সম্পর্কিত

খুলনায় মন্দির ভাঙচুরের মামলায় তিন আসামির জামিন স্থগিত

খুলনায় মন্দির ভাঙচুরের মামলায় তিন আসামির জামিন স্থগিত

অনলাইনে ডলার কেনা-বেচা নিয়ন্ত্রণে আইনি নোটিশ

অনলাইনে ডলার কেনা-বেচা নিয়ন্ত্রণে আইনি নোটিশ

শপথ নিলেন হাইকোর্টে স্থায়ী হওয়া ৯ বিচারপতি

শপথ নিলেন হাইকোর্টে স্থায়ী হওয়া ৯ বিচারপতি

রাজধানীতে মাদকবিরোধী অভিযানে গ্রেফতার ৪৭

রাজধানীতে মাদকবিরোধী অভিযানে গ্রেফতার ৪৭

সর্বশেষসর্বাধিক

লাইভ

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

শনাক্তের হার আবারও ২ শতাংশের ওপরে

শনাক্তের হার আবারও ২ শতাংশের ওপরে

করোনার বেড নিয়ে হ-য-ব-র-ল অবস্থা

করোনার বেড নিয়ে হ-য-ব-র-ল অবস্থা

দ্বিতীয় ডোজের আওতায় এক কোটি ৯৪ লাখ মানুষ

দ্বিতীয় ডোজের আওতায় এক কোটি ৯৪ লাখ মানুষ

চলতি মাসে ডেঙ্গুতে মৃত্যু ১৪ জনের

চলতি মাসে ডেঙ্গুতে মৃত্যু ১৪ জনের

গত সপ্তাহে করোনাতে মারা যাওয়াদের ৮২ শতাংশই টিকা নেননি

গত সপ্তাহে করোনাতে মারা যাওয়াদের ৮২ শতাংশই টিকা নেননি

গত সপ্তাহে করোনাতে বেশি মারা গেছেন উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্তরা

গত সপ্তাহে করোনাতে বেশি মারা গেছেন উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্তরা

সর্বশেষ

ইসরায়েল উপকূলে মিললো ক্রুসেডারদের তলোয়ার

ইসরায়েল উপকূলে মিললো ক্রুসেডারদের তলোয়ার

প্রণোদনা পেতে শের-ই-বাংলা মেডিক্যালের নার্সদের বিক্ষোভ

প্রণোদনা পেতে শের-ই-বাংলা মেডিক্যালের নার্সদের বিক্ষোভ

পুঁজিবাজারে আরও বড় দরপতন, আতঙ্কে বিনিয়োগকারীরা

পুঁজিবাজারে আরও বড় দরপতন, আতঙ্কে বিনিয়োগকারীরা

প্যারিসে বাংলাদেশ দূতাবাসে শেখ রাসেল দিবস উদযাপিত

প্যারিসে বাংলাদেশ দূতাবাসে শেখ রাসেল দিবস উদযাপিত

জাকাত ব্যবস্থাপনায় নতুন আইন মন্ত্রিসভায় অনুমোদন

জাকাত ব্যবস্থাপনায় নতুন আইন মন্ত্রিসভায় অনুমোদন

© 2021 Bangla Tribune