X
রবিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২১, ১ কার্তিক ১৪২৮

সেকশনস

জাতীয় লিগে ইয়ো ইয়ো টেস্ট দিয়ে ফিটনেস পরীক্ষা

আপডেট : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১৮:৫৪

অক্টোবরে জাতীয় ক্রিকেট লিগ দিয়ে শুরু হচ্ছে ঘরোয়া মৌসুম। তার আগে গত বছরের মতো এবারও ক্রিকেটারদের ইয়ো ইয়ো টেস্ট দিয়ে ফিটনেস পরীক্ষা দিতে হবে। এমন তথ্য জানিয়েছেন, নির্বাচক হাবিবুল বাশার সুমন।

অনেক বছর ধরেই বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের ফিটনেস যাচাই করা হতো বিপ টেস্ট দিয়ে। ইয়ো ইয়ো ও বিপ টেস্টের মূল পার্থক্য বিরতিতে। বিপ টেস্টে বিভিন্ন ধাপে টানা দৌড়াতে হয়। কোন বিরতি থাকে না। ইয়ো ইয়ো টেস্টে বিভিন্ন ধাপে দৌড়াতে হয়। কিন্তু সেখানে ১০ সেকেন্ডের বিশ্রাম নেওয়া যায়। ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, ইংল্যান্ডসহ অনেক দেশই ফিটনেস দেখতে এই আধুনিক টেস্ট ব্যবহার করে।

রবিবার মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে হাবিবুল বাশার সুমন বলেছেন, ‘আপনারা জানেন যে, ২০-২২ জনের একটা টিম করে দেওয়া হয়েছে। এখন ফিটনেস ট্রেনিং চলছে। এক তারিখ থেকে ফিটনেস টেস্ট হবে। গতবারের মতো এবারো ইয়ো ইয়ো টেস্ট দিতে হবে। ফিটনেস টেস্টের পর আমরা ১৬ জনের দল করে দেবো। সবসময় আমরা ১৪ জনের দল দেই। এবার করোনার জন্য দুজনের বেশি দিচ্ছি।’

ফিটনেস টেস্টের পর ৫ তারিখ থেকে শুরু হবে স্কিল অনুশীলন। ১০ দিন অনুশীলনের পর আগামী ১৫ অক্টোবর শুরু হবে জাতীয় ক্রিকেট লিগ, ‘স্কিল ট্রেনিং পাঁচ তারিখে শুরু হয়ে যাবে। প্রস্তুতির জন্য সবাই যথেষ্ট সময় পাচ্ছেন। যেহেতু উইকেটগুলোও পর্যাপ্ত বিশ্রাম পেয়েছে কয়েক দিনে। আশা করছি, এবারের এনসিএল খুব প্রতিযোগিতামূলক হবে।’

করোনা পরিস্থিতির কারণে এবারও জাতীয় ক্রিকেট লিগ হোম অ্যান্ড অ্যাওয়ে ভিত্তিতে হবে না। হাবিবুল বাশার বলেছেন, ‘আমাদের এই এনসিএলটা যখন শুরু হয়ে বন্ধ হয়ে গেলো, তার পেছনে বড় কারণ ছিল ট্রাভেলিং। এটা একটু ঝুঁকিপূর্ণ। ট্রাভেলিং করতে গিয়েই গতবার আমাদের খেলা বন্ধ হয়েছে। এখন পর্যন্ত যতদূর জানি দুটা ভেন্যুতে খেলা হবে। একটা কক্সবাজার, আরেকটা সিলেটে।’

পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজ দিয়ে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের লড়াই শুরু করবে বাংলাদেশ। আগামী ২৬ নভেম্বর চট্টগ্রামে মাঠে গড়াবে প্রথম টেস্ট। পাকিস্তান সিরিজের আগে জাতীয় লিগের ম্যাচগুলো ভূমিকা রাখবে বলে মনে করেন এই নির্বাচক, ‘বিশ্বকাপের পরপরই আমাদের কিছু টেস্ট ম্যাচ আছে। এটা কিন্তু খেলোয়াড়দের তৈরি করার জন্য ভালো একটি সুযোগ। আমরা খুব একটা টেস্ট খেলার সুযোগ পাইনি। অনুশীলন ম্যাচ আর প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচের মধ্যে তো পার্থক্য অবশ্যই আছে। পাকিস্তান সিরিজের আগের এনসিএলের মাধ্যমে পর্যাপ্ত প্রস্তুতি হবে বলে মনে করি।’

/আরআই/এফআইআর/

সম্পর্কিত

নিজেদের সামর্থ্য দেখালো স্বাগতিক ওমান

নিজেদের সামর্থ্য দেখালো স্বাগতিক ওমান

টুর্নামেন্টের প্রথম ফিফটি পিএনজি অধিনায়কের 

টুর্নামেন্টের প্রথম ফিফটি পিএনজি অধিনায়কের 

বাংলাদেশ জিতবে, তবে...

বাংলাদেশ জিতবে, তবে...

নিজেদের সামর্থ্য দেখালো স্বাগতিক ওমান

আপডেট : ১৭ অক্টোবর ২০২১, ১৯:১৬

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের শুরুটা হেসে খেলেই করলো ওমান। প্রথম পর্বে (বি গ্রুপ) পাপুয়া নিউ গিনিকে (পিএনজি) ১০ উইকেটের বড় ব্যবধানে হারিয়েছে স্বাগতিকরা। ১৩০ রানের লক্ষ্য দিলেও কোনওভাবেই প্রতিপক্ষকে পরীক্ষায় ফেলতে পারেনি প্রথমবার বৈশ্বিক মঞ্চে খেলতে নামা পিএনজি। উল্টো কোন উইকেট না হারিয়ে টি-টোয়েন্টির তৃতীয় সর্বোচ্চ রান তাড়ার নজির গড়েছে ওমান।   

জিশান মাকসুদ শুরুতে কেন ফিল্ডিং নিয়েছেন, তার যথার্থতা প্রমাণ করেছেন দুই ওপেনার আকিব ইলিয়াসন ও জাতিন্দর সিং। ঝড়ো সূচনায় শুরু থেকে আসাদ ভালার দলকে শাসন করেছেন। জাতিন্দরের ৪২ বলে করা ৭৩ ও আকিব ইলিয়াসের ৪৩ বলে করা ৫০ রানই ম্যাচ জয়ের জন্য যথেষ্ট ছিল। বিশ্বকাপে ওমানের হয়ে প্রথম ফিফটি করার গৌরব অর্জন করেন জাতিন্দর। তার ইনিংসে ছিল ৭টি চার ও ৪টি ছয়। ওমান কোন উইকেট না হারিয়ে জয় নিশ্চিত করে ১৩.৪ ওভারে।      

অবশ্য তাদের দুজনের আগে আরও এক প্রথমে নাম জড়ান পিএনজি অধিনায়ক আসাদ ভালা। এবারের টুর্নামেন্টের প্রথম ফিফটি তুলে নেন তিনি। টস হেরে ব্যাট করতে নামলেও আসাদ ভালো বলেছিলেন, শুরুতে ওমানকে চাপে ফেলতে চায় তারা। উল্টো স্বাগতিক ওমানই দুই ওভারে দুই উইকেট তুলে তাদের বিপদে ফেলে দিয়েছিল। পাপুয়া নিউ গিনি মূলত এর পর ছুটেছে আসাদ ভালা ও চার্লস আমিনির দ্রুত গতির ব্যাটিংয়ে। ৮১ রানের এই জুটি ভাঙে আমিনির রান আউটে। ২৬ বলে ৩৭ রানে ফিরেছেন আমিনি। তাতে ছিল ৪টি চার ও ১টি ছয়। আসাদ ভালা অবশ্য টুর্নামেন্টের প্রথম ফিফটি তুলেই সাজঘরে ফিরেছেন। পিএনজি অধিনায়ক ৪০ বলে ফিফটি তুলে নিয়েছেন। ভালা ৪৩ বলে করেন ৫৬ রান। তাতে ছিল ৪টি চার ও ৩ ছয়। এর পর আর কেউ মাথা তুলে দাঁড়াতে পারেনি। সেসে বাউয়ের ১৩ রানই ছিল সর্বোচ্চ। তারা ৯ উইকেট হারিয়ে তুলতে পারে ১২৯ রান। 

প্রতিপক্ষকে আটকে রাখতে বড় ভূমিকা ছিল ওমান অধিনায়ক জিশান মাকসুদের। ২০ রানে ৪ উইকেট নিয়ে সেরা বোলার ছিলেন। ম্যাচসেরাও তিনি। দুটি করে নিয়েছেন বিলাল খান ও কলিমুল্লাহ। 

/এফআইআর/

/এফআইআর/ 

সম্পর্কিত

টুর্নামেন্টের প্রথম ফিফটি পিএনজি অধিনায়কের 

টুর্নামেন্টের প্রথম ফিফটি পিএনজি অধিনায়কের 

বাংলাদেশ জিতবে, তবে...

বাংলাদেশ জিতবে, তবে...

দেশে ফিরেও বাজে রেফারিং ভুলতে পারছে না বাংলাদেশ

আপডেট : ১৭ অক্টোবর ২০২১, ১৮:৩৮

অনেক আশা নিয়ে মালদ্বীপের সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে অংশ নিয়েছিল বাংলাদেশ। কিন্তু মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে নেপালের বিপক্ষে এগিয়ে থেকেও ড্র করে স্বপ্ন ভঙ্গ হয়েছে জামালদের। মূলত উজবেকিস্তান রেফারির এক বিতর্কিত সিদ্ধান্তেই এলোমেলো হয়ে যায় সব কিছু। তাই ফাইনালে খেলতে না পারার দুঃখ নিয়ে রবিবার বিকালে দেশে ফিরেছে বাংলাদেশ দল। 

অবশ্য দেশে ফিরেও বাজে রেফারিংয়ের কথা ভুলতে পারছে না জামাল-তপুরা। স্বপ্ন ভঙ্গের বেদনায় সবাই বিমর্ষ। প্রত্যাশা অনুযায়ী কাঙ্ক্ষিত সাফল্য না পাওয়াতে কষ্টটা আরও বেশি পাচ্ছে সবার। অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়া দেশে ফিরে বিমানবন্দরে সংবাদ মাধ্যমকে বলেছেন, ‘দলের সবারই মন খারাপ। আমরা নেপালের বিপক্ষে শেষ ৫ মিনিটে গোল হজম করেছি। এছাড়া আমাদের পারফরম্যান্স ভালো ছিল। সুযোগ ছিল ফাইনালে খেলার। তা হলো না, দুর্ভাগ্যবশত রেফারি বাজে পেনাল্টি দিয়েছে।’

নেপালের বিপক্ষে লাল কার্ড পাওয়ায় তেকাঠির নিচে দায়িত্ব পালন করেন অভিজ্ঞ আশরাফুল ইসলাম রানা। পেনাল্টির পর অঞ্চন বিষ্টার স্পট কিক তিনি রুখে দিতে চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু বলের দিকে ঝাঁপ দিলেও গতির কারণে গোল থেকে দলকে রক্ষা করতে পারেননি।

বিমানবন্দর থেকে যাওয়ার সময় সেই ম্যাচ নিয়ে রানা বলেছেন, ‘পেনাল্টি থেকে ৫০-৫০ সুযোগ থাকে। আমি চেষ্টা করেছি, কিন্তু হয়নি। প্রত্যাশা ছিল ফাইনালে খেলার, পূরণ হয়নি। নেপালও চাইছিল ড্র করতে। আমরা এগিয়ে থেকেও পারিনি, দুঃখজনক। রেফারির বাজে সিদ্ধান্তের কারণে আমরা হেরেছি।’

/টিএ/এফআইআর/

সম্পর্কিত

ভারতের আইএসএল থেকে ডাক পেলেন তপু বর্মণ

ভারতের আইএসএল থেকে ডাক পেলেন তপু বর্মণ

আবারও বাংলাদেশে ফিরছেন সেই আর্জেন্টাইন কোচ

আবারও বাংলাদেশে ফিরছেন সেই আর্জেন্টাইন কোচ

নেপালকে হারিয়ে সাফ চ্যাম্পিয়ন ভারত

নেপালকে হারিয়ে সাফ চ্যাম্পিয়ন ভারত

ভারত না নেপাল, সাফের শ্রেষ্ঠত্ব কার?

ভারত না নেপাল, সাফের শ্রেষ্ঠত্ব কার?

ভারতের আইএসএল থেকে ডাক পেলেন তপু বর্মণ

আপডেট : ১৭ অক্টোবর ২০২১, ১৮:২১

বাংলাদেশের রক্ষণে আস্থার প্রতীক তপু বর্মণ। মালদ্বীপের সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে গোলও করেছেন ২৬ বছর বয়সী তারকা। এখন দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিদেশি লিগে খেলার সুযোগ তৈরি হয়েছে। ভারতীয় ফুটবল লিগ ইন্ডিয়ান সুপার লিগের (আইএসএল) দল নর্থইস্ট ইউনাইটেড এফসির হয়ে খেলার আমন্ত্রণ এসেছে। আগামী ১৯ নভেম্বর শুরু হতে যাচ্ছে ভারতের সবচেয়ে আকর্ষণীয় ফুটবল লিগটি।

মালদ্বীপে এএফসি কাপ ও সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে তপুর পারফরম্যান্স ছিল দেখার মতো। তা দেখেই মূলত তপুকে পছন্দ করেছেন নর্থইস্ট ক্লাবের কোচ খালিদ জামিল।

এ প্রসঙ্গে তপু সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, ‘প্রস্তাব পেয়েছি সরাসরি কোচের কাছ থেকে। প্রস্তাবটা আকর্ষণীয়। (নর্থইস্ট) কোচ বলেছেন, বাংলাদেশে খেলে যা পাই তার চেয়ে বেশি পারিশ্রমিক দেওয়া হবে। আমি তাকে বলেছি, আমি বসুন্ধরা কিংসের সঙ্গে মৌখিকভাবে চুক্তিবদ্ধ। তিনি সময় নিয়ে চিন্তা করে জানাতে বলেছেন।’

সঙ্গে যোগ করেছেন, ‘এছাড়া বসুন্ধরা কিংসের সঙ্গেও প্রথমে আমার কথা বলতে হবে। কারণ আমি তাদের কথা দিয়েছি, আগামী মৌসুম তাদের হয়ে খেলবো।’

/টিএ/কেআর/

সম্পর্কিত

দেশে ফিরেও বাজে রেফারিং ভুলতে পারছে না বাংলাদেশ

দেশে ফিরেও বাজে রেফারিং ভুলতে পারছে না বাংলাদেশ

আবারও বাংলাদেশে ফিরছেন সেই আর্জেন্টাইন কোচ

আবারও বাংলাদেশে ফিরছেন সেই আর্জেন্টাইন কোচ

নেপালকে হারিয়ে সাফ চ্যাম্পিয়ন ভারত

নেপালকে হারিয়ে সাফ চ্যাম্পিয়ন ভারত

ভারত না নেপাল, সাফের শ্রেষ্ঠত্ব কার?

ভারত না নেপাল, সাফের শ্রেষ্ঠত্ব কার?

টুর্নামেন্টের প্রথম ফিফটি পিএনজি অধিনায়কের 

আপডেট : ১৭ অক্টোবর ২০২১, ১৮:১১

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে প্রথমবার খেলতে এসেছে পাপুয়া নিউ গিনি (পিএনজি)। প্রথম পর্বে (বি গ্রুপ) উদ্বোধনী ম্যাচে খেলতে নেমে আরও এক প্রথমে নাম জড়ালেন দলটির অধিনায়ক আসাদ ভালা। এবারের টুর্নামেন্টের প্রথম ফিফটি তুলে নিয়েছেন পাপুয়া নিউ গিনি অধিনায়ক আসাদ ভালা। 

টস হেরে ব্যাট করতে নামলেও আসাদ ভালো বলেছিলেন, শুরুতে ওমানকে চাপে ফেলতে চায় তারা। উল্টো স্বাগতিক ওমানই দুই ওভারে দুই উইকেট তুলে তাদের বিপদে ফেলে দিয়েছিল। পাপুয়া নিউ গিনি মূলত এর পর ছুটেছে আসাদ ভালা ও চার্লস আমিনির দ্রুত গতির ব্যাটিংয়ে। ৮১ রানের এই জুটি ভাঙে আমিনির রান আউটে। ২৬ বলে ৩৭ রানে ফিরেছেন আমিনি। তাতে ছিল ৪টি চার ও ১টি ছয়। আসাদ ভালা অবশ্য টুর্নামেন্টের প্রথম ফিফটি তুলেই সাজঘরে ফিরেছেন। পিএনজি অধিনায়ক ৪০ বলে ফিফটি তুলে নিয়েছেন। ভালা ৪৩ বলে করেন ৫৬ রান। তাতে ছিল ৪টি চার ও ৩ ছয়। এর পর আর কেউ মাথা তুলে দাঁড়াতে পারেনি। সেসে বাউয়ের ১৩ রানই ছিল সর্বোচ্চ। তারা ৯ উইকেট হারিয়ে তুলতে পারে ১২৯ রান। 

প্রতিপক্ষকে আটকে রাখতে বড় ভূমিকা ছিল ওমান অধিনায়ক জিশান মাকসুদের। ২০ রানে ৪ উইকেট নিয়ে সেরা বোলার ছিলেন। দুটি করে নিয়েছেন বিলাল খান ও কলিমুল্লাহ। 
 

/এফআইআর/

সম্পর্কিত

বাংলাদেশ জিতবে, তবে...

বাংলাদেশ জিতবে, তবে...

পর্দা উঠলো টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের

পর্দা উঠলো টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের

বাংলাদেশ জিতবে, তবে...

আপডেট : ১৭ অক্টোবর ২০২১, ১৮:২০

শক্তি-সামর্থ্য-ঐতিহ্য সবদিক থেকেই স্কটল্যান্ড থেকে যোজন যোজন এগিয়ে বাংলাদেশ। সাকিব আল হাসান, মাহমুদউল্লাহ, মুশফিকুর রহিম, মোস্তাফিজুর রহমান শুধু বাংলাদেশের ক্রিকেটেরই বড় নাম নয়, বিশ্ব ক্রিকেটেরও বিজ্ঞাপন। সেই অর্থে স্কটল্যান্ডের ওই মাপের কোনও তারকা নেই। সারা বছর আইসিসি সহযোগী দলগুলোর বিপক্ষে খেলে বেড়াতে হয় স্কটিশদের। তবু আজ (রবিবার) রাতে বাংলাদেশের বিপক্ষে ম্যাচ বলেই তাদের নিয়ে এত আলোচনা।

হ্যাঁ, টি-টোয়েন্টি পরিসংখ্যানে এগিয়ে স্কটিশরা। মুখোমুখি একমাত্র কুড়ি ওভারের ম্যাচে জিতেছিল তারা। ২০১২ সালের ওই ম্যাচের পরিসংখ্যান তাদের পক্ষে থাকলেও স্কিল, অভিজ্ঞতা কিংবা সামর্থ্য- সবদিক দিয়েই এগিয়ে বাংলাদেশ। এখন শুধু মাঠে সেরাটা দিতে পারলেই বিশ্বকাপের শুরুটা জয়ে রাঙানো সম্ভব হবে।

তারপরও টি-টোয়েন্টিতে আগে থেকে কোনও কিছু অনুমান করা যায় না। একে ক্রিকেট ‘গৌরবময় অনিশ্চয়তার খেলা’, তার ওপর আবার কুড়ি ওভারের ক্রিকেট সবার জন্য ‘ওপেন’। এখানে ছোট দল, বড় দলের পার্থক্য খুব একটা নেই।

এই ফরম্যাটটা কতটা ‘জটিল’ অস্ট্রেলিয়ার টি-টোয়েন্টির ইতিহাস পর্যালোচনা করলে বোঝা যাবে। অস্ট্রেলিয়ার মতো প্রভাব বিস্তারকারী দল এখনও টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শিরোপার স্বাদ নিতে পারেনি। আধুনিক ক্রিকেটে টেস্ট ও ওয়ানডে শাসন করা অস্ট্রেলিয়া সর্বাধিক পাঁচবার ওয়ানডে বিশ্বকাপ জিতলেও পারেনি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জিততে। অথচ ওদের ছিল ম্যাথু হেইডেন, অ্যাডাম গিলক্রিস্ট, রিকি পন্টিং, অ্যান্ড্রু সাইমন্ডস, ব্রেট লি, মাইকেল ক্লার্কের মতো দুনিয়া কাঁপানো টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটার। এখনকার ডেভিড ওয়ার্নার-স্টিভেন স্মিথ-গ্লেন ম্যাক্সওয়েলরাও ভাঙতে পারেননি বৃত্ত।

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অবস্থাও সুবিধার নয়। বারবারই আশাভঙ্গে হতাশায় পুড়তে হয়েছে। ২০০৭ বিশ্বকাপে অবশ্য ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারিয়ে এই ফরম্যাটে দারুণ কিছুর ইঙ্গিত দিয়েছিল বাংলাদেশ। যদিও সেই ইঙ্গিত বাস্তবে রূপ নেয়নি। বাংলাদেশ দল প্রতিনিয়ত এই ফরম্যাটে নাকানি-চুবানি খাচ্ছে প্রতিপক্ষের কাছে, সেটি ছোট হোক আর বড় দল হোক! এই তো শ্রীলঙ্কা ও আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ার্মআপ ম্যাচে কোনও প্রতিরোধই গড়তে পারেনি লাল-সবুজ জার্সিধারীরা।

তাছাড়া স্কটিশদের বিপক্ষে পরিসংখ্যানও সুখকর নয়। ২০১২ সালে একমাত্র টি-টোয়েন্টিই খেলেছে বাংলাদেশ। তাতে ৩৪ রানে হেরেছিল মুশফিকুর রহিমের দল। টস জিতে রিচি বেরিংটনের সেঞ্চুরিতে ১৬২ রান তুলেছিল স্কটল্যান্ড। জবাবে ১২৮ রানেই গুটিয়ে গিয়েছিল টাইগাররা। জন ডেভি ও মজিদ হক নিয়েছিলেন ৩টি করে উইকেট। ৯ বছর আগের স্কোয়াডের ব্যাটে-বলের দুই নায়ক বেরিংটন ও ডেভি আছেন বর্তমান স্কোয়াডেও।

ইংল্যান্ডের সাবেক ব্যাটার জোনাথন ট্রট আছেন স্কটল্যান্ডের কোচিং স্টাফে। ব্যাটিং কোচের দায়িত্ব সামলানো সাবেক এই ব্যাটার মনে করছেন, এবারের বিশ্বকাপের জন্য নির্বাচিত স্কটিশ দলে ম্যাচ উইনারে ভরা। অধিনায়ক কেলি কোয়েটজারের ২০০৯ ও ২০১৬ বিশ্বকাপ খেলার অভিজ্ঞতা আছে। রিচি বেরিংটন, ক্যালাম ম্যাকলিওড, স্যাফিয়ান শেরিফ, ম্যাথু ক্রস, এলাসডিয়ার ইভান্স, জশ ডেভি, মিচেল লিয়াস্ক, জর্জ মুন্সি ও মার্ক ওয়াটরা অভিজ্ঞ এবং বড় দলের বিপক্ষে ম্যাচ জেতাতে সক্ষম।

শক্তি-সামর্থ্যে বাংলাদেশ এগিয়ে থাকলেও তাই নির্ভার থাকার সুযোগ নেই। তাছাড়া ওয়ার্মআপের দুই ম্যাচের পারফরম্যান্সও দুশ্চিন্তার মেঘ জমিয়েছে। দলের কাউকেই দেখা যায়নি দায়িত্ব নিয়ে ম্যাচ এগিয়ে নিতে। ওই ধাক্কা কাটিয়ে অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ড সিরিজের বাংলাদেশকে দেখার আশায় ক্রিকেটপ্রেমীরা। আর এজন্য বিশ্বকাপের স্পোর্টিং উইকেটে ব্যাটিংয়ে দায়িত্ব নিতে হবে অভিজ্ঞ তিন ক্রিকেটার- সাকিব, মুশফিক ও মাহমুদউল্লাহকে।

চিন্তার বিষয় হলো, সাকিব-মুশফিকের কেউই রানে নেই। মাহমুদউল্লাহর ফর্ম থাকলেও কয়েক সপ্তাহ ধরে ইনজুরিতে ভুগছেন তিনি। অবশ্য বড় মঞ্চেই যে সাকিব ও মুশফিক তাদের সেরাটা নিয়ে হাজির হন, অতীতে অনেকবার দেখা গেছে। তাদের সঙ্গে তরুণ লিটন দাস-সৌম্য সরকার-আফিফ হোসেন-নুরুল হাসান সোহানরা জ্বলে উঠলে তো কথাই নেই।

ব্যাটিংয়ের তুলনায় বাংলাদেশের বোলিং বরাবরই ভালো। অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড সিরিজে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স ছিল মোস্তাফিজুর রহমান-নাসুম আহমেদদের। তাদের সঙ্গে শরিফুল ইসলাম, শেখ মেহেদী হাসান, মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন কিংবা তাসকিন আহমেদ নিজেদের মেলে ধরতে পারলে স্কটিশদের চেপে ধরতে অসুবিধা হওয়ার কথা ‍নয়।

/কেআর/এমওএফ/

সম্পর্কিত

নিজেদের সামর্থ্য দেখালো স্বাগতিক ওমান

নিজেদের সামর্থ্য দেখালো স্বাগতিক ওমান

টুর্নামেন্টের প্রথম ফিফটি পিএনজি অধিনায়কের 

টুর্নামেন্টের প্রথম ফিফটি পিএনজি অধিনায়কের 

সর্বশেষসর্বাধিক
© 2021 Bangla Tribune