X
রবিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২১, ১ কার্তিক ১৪২৮

সেকশনস

লং কোভিড সারছেই না

আপডেট : ০৯ অক্টোবর ২০২১, ২৩:৩০
গত বছরের মে’তে করোনা আক্রান্ত হয়েছিলেন আব্দুল হালিম। ২৩ মে পজিটিভ রিপোর্ট পান। হাসপাতালে ভর্তি হন ৩১ মে। ১১ দিনের মধ্যে ১০ দিনই তাকে অক্সিজেন দিয়ে রাখা হয়েছিল। সুস্থ হয়ে বাসায় ফিরলেও এখনও ধকল কাটিয়ে উঠতে পারেননি। এর মধ্যে কেটে গেলো দেড় বছর। চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে আবার শ্বাসকষ্ট শুরু হয় তার। ইনহেলার নিলে কিছুটা কমে। আব্দুল হালিমের উচ্চরক্তচাপ ছিল না। করোনার পর তিনি এ রোগেও আক্রান্ত হয়েছেন। রাতে ঘুম হয় না বলে খেতে হচ্ছে ঘুমের ওষুধও।

বেশি কাজ করলে বা হাঁটলে প্রচণ্ড ক্লান্ত লাগে জানিয়ে আব্দুল হালিম বলেন, ‘শরীরে রাজ্যের ক্লান্তি ভর করে আছে। কিছু মনেও রাখতে পারি না।’

করোনা থেকে পুরোপুরি মুক্তি পেয়েছেন এমন মানুষ নেই বললেই চলে। করোনার যন্ত্রণা বয়ে বেড়াতে হচ্ছে মাসের পর মাস। এমনকি বছরও। ভুক্তভোগীরা বলছেন, করোনা চলে যায়, কিন্তু রেখে যায় ক্ষতচিহ্ন।

করোনা সেরে ওঠার পর ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হয়েছেন শাহরিয়ার শাকিল। চুল পড়ে গেছে তার। কাটেনি দুর্বলতা। ঘুম না হওয়া ও ভুলে যাওয়ার সমস্যা আছে তারও। শাহরিয়ার বলেন, ‘প্রতি মুহূর্তে করোনা বুঝিয়ে দিচ্ছে, জীবনে সে এসেছিল। তাকে ভোলার সুযোগ নেই।’

দেশে করোনা সংক্রমণের হার কমছে, মৃত্যু কমে এক অঙ্কে নেমেছে। কিন্তু লং কোভিডে আক্রান্তের সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে দেশে।

বিশ্বখ্যাত মেডিক্যাল জার্নাল ল্যানসেট-এর গবেষণা জানাচ্ছে, করোনা থেকে সেরে ওঠা এক তৃতীয়াংশ মানুষ দীর্ঘমেয়াদি স্নায়বিক ও মানসিক সমস্যায় ভুগছেন। ১৭ শতাংশ ভুগছেন উদ্বেগজনিত সমস্যায়। মেজাজ নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারছেন না ১৪ শতাংশ। আবার নিউ ইংল্যান্ড জার্নাল অব মেডিসিন জানাচ্ছে, করোনার পর অনেকে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হচ্ছেন।

দেশের চিকিৎসকরা বলছেন, করোনা নেগেটিভ হওয়ার ১২ সপ্তাহ বা তিনমাস পরও যদি এমন কোনও অসুস্থতা থাকে, যার কোনও ব্যাখ্যা পাওয়া যাচ্ছে না, সেটাই লং কোভিড। যে কয়দিন রোগী করোনা আক্রান্ত থাকেন সেসময় শরীরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে থাকে। কেউ সামলে ওঠেন। কেউ পারেন না। যে কারণে করোনা-পরবর্তী জটিলতায় মারাও যাচ্ছেন অনেকে।

লং কোভিডের সমস্যার তালিকায় আরও আছে ক্রনিক ফ্যাটিগ তথা মারাত্মক অবসাদগ্রস্ততা, দুর্বলতা, হৃদস্পন্দন বেড়ে যাওয়া, ক্রনিক হাইপোক্সিয়া (করোনা থেকে সেরে ওঠার পর অক্সিজেনের মাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে কম), মাংসপেশীতে ব্যথা, চুল পড়ে যাওয়া ইত্যাদি।

সম্প্রতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের বক্ষব্যাধি বিভাগের উদ্যোগে করা হয় পোস্ট কোভিড-১৯ পালমোনারি ফাইব্রোসিস অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট শীর্ষক এক গবেষণা। ৫০০ রোগীর ওপর পরিচালিত এ গবেষণায় দেখা গেছে, করোনা আক্রান্ত হওয়ার তিনমাস পরও ৪০ শতাংশ রোগী নানা জটিলতায় ভুগছেন। কাশি, শ্বাসকষ্ট, বুকে ব্যথা, গন্ধ কম পাওয়া, নাক দিয়ে পানি পড়া, মানসিক অবসাদ, ভুলে যাওয়া, মাথাব্যথা রয়েছে এ তালিকায়। বয়স্কদের মধ্যেই সমস্যাগুলো দেখা যাচ্ছে বেশি।

দেশে লং কোভিড আক্রান্তদের চিকিৎসার ব্যবস্থা রয়েছে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে।

ঢামেক হাসপাতালের পোস্ট কোভিড ইউনিট চালুর পর থেকে প্রায় ৮০০ জনের মতো রোগীর চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে এই হাসপাতালে ভর্তি থেকে করোনার চিকিৎসা নিয়েছিলেন এমন রোগীই বেশি। বাইরে থেকে আসছে কম। এমনটা জানালেন, ইউনিটের মুখপাত্র ও মেডিসিন বিভাগের ডা. মুহাম্মদ মাহফুজুল হক। এ রোগীদের ফলো-আপে রাখা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

পোস্ট কোভিডে কোন ধরনের জটিলতা বেশি দেখা যাচ্ছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “একটু হাঁটলে বা ‘রেস্টলেস’ অবস্থায় শ্বাসকষ্টে ভোগা রোগী বেশি পাওয়া যাচ্ছে। সেইসঙ্গে ভুলে যাওয়া, ওজন কমে যাওয়া বা বেড়ে যাওয়া, চুল পড়া, দুর্বলতা, বুকে ও শরীরে ব্যথা, কাশি, অবসাদ, বিষন্নতা, ঘুমের সমস্যা—এমন রোগীর সংখ্যাও অনেক।”

মাহফুজুল হক আরও বলেন, ‘করোনার কারণে ডায়াবেটিস ও উচ্চরক্তচাপ অনিয়ন্ত্রিত হয়ে গেছে। অ্যাজমার সমস্যাও হচ্ছে অনেকের। কোমরবিডিটি (আগে থেকেই অন্যান্য রোগে আক্রান্ত) মিলে অবস্থা জটিল হয়েছে অনেকের। আবার ডায়াবেটিস ও উচ্চরক্তচাপ আগে ছিল না, করোনার পর হয়েছে—এমন রোগীও নেহায়েত কম নয়।’

গ্রিনলাইফ মেডিক্যাল কলেজের অ্যান্ডোক্রাইনলোজি অ্যান্ড মেটাবোলিজম বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. তানজিনা হোসেন নিউ ইংল্যান্ড জার্নাল অব মেডিসিনের বরাত দিয়ে বলেন, ‘করোনা সেরে ওঠা রোগীদের ব্লাডসুগারও ওঠানামা করছে বেশি। যারা হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন, তাদের অনেককে স্টেরয়েড দেওয়া হয়েছিল। এতেও সুগার বাড়ে। অনেকের ডায়াবেটিস স্থিতিশীল হতে কয়েকমাসও লেগে যাচ্ছে।’

/এফএ/

সম্পর্কিত

সম্প্রীতি বজায় রাখতে মাদ্রাসা শিক্ষকদের এগিয়ে আসার আহ্বান

সম্প্রীতি বজায় রাখতে মাদ্রাসা শিক্ষকদের এগিয়ে আসার আহ্বান

টিকায় ভালো পরিকল্পনার ঘাটতি আছে: অধ্যাপক ডা. বে-নজির

টিকায় ভালো পরিকল্পনার ঘাটতি আছে: অধ্যাপক ডা. বে-নজির

সড়ক দুর্ঘটনায় পুলিশ সদস্য নিহতের হার বেড়েছে

সড়ক দুর্ঘটনায় পুলিশ সদস্য নিহতের হার বেড়েছে

সম্প্রীতি বজায় রাখতে মাদ্রাসা শিক্ষকদের এগিয়ে আসার আহ্বান

আপডেট : ১৭ অক্টোবর ২০২১, ১০:২৩

ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখতে মাদ্রাসা শিক্ষকদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. আমিনুল ইসলাম খান। তিনি বলেন, ধর্মীয় মুল্যবোধ, দেশপ্রেম ও পারস্পরিক শ্রদ্ধা নিয়ে মাদ্রাসা শিক্ষকদের কাজ করতে হবে। সকল ধর্মের লোকদের মধ্যে বন্ধন জোরদার করতে তাদের আরও বেশি ভুমিকা রাখতে রাখতে হবে।

রবিবার (১৭ অক্টোবর) সকালে অনলাইনে যুক্ত হয়ে মাদ্রাসা শিক্ষকদের সঙ্গে মতবিনিময়ের সময় একথা বলেন। সভায় দেশের ৩০০টি মাদ্রাসার শিক্ষক অংশ নেন।

সাম্প্রতিক সনাতন ধর্মাবলম্বীদের পূজা অনুষ্ঠানে সংঘঠিত সহিংসতা প্রসঙ্গে মো. আমিনুল ইসলাম খান বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে দেখে ষড়যন্ত্রকারীরা সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা সৃষ্টির অপচেষ্টায় অপপ্রচার চালাচ্ছে। মাদ্রাসা শিক্ষকদের এ বিষয়ে শুধু সচেতন হলেই চলবে না তাদের সঠিক নেতৃত্ব দিতে হবে।’

আমিনুল ইসলাম মাদ্রাসা শিক্ষার উন্নয়নে সরকারের বহুমুখী উদ্যোগ ও প্রশিক্ষণ প্রকল্প বাস্তবায়নের বিষয়ে শিক্ষকদের অবহিত করেন। এসময় মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের মহান স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করে অসাম্প্রদায়িক সমাজ প্রতিষ্ঠায় শিক্ষকদের ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান সচিব।

/এসএমএ/ইউএস/

সম্পর্কিত

২০ বিশ্ববিদ্যালয়ের গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষা আজ

২০ বিশ্ববিদ্যালয়ের গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষা আজ

সড়ক দুর্ঘটনায় পুলিশ সদস্য নিহতের হার বেড়েছে

সড়ক দুর্ঘটনায় পুলিশ সদস্য নিহতের হার বেড়েছে

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান শুরু ২১ অক্টোবর

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান শুরু ২১ অক্টোবর

ফের ৪ বিভাগে মৃত্যু নেই

ফের ৪ বিভাগে মৃত্যু নেই

টিকায় ভালো পরিকল্পনার ঘাটতি আছে: অধ্যাপক ডা. বে-নজির

আপডেট : ১৭ অক্টোবর ২০২১, ০৯:০০

টিকার নিবন্ধন করে এসএমএস-এর অপেক্ষায় আছেন কয়েক লাখ বয়োবৃদ্ধ। তাদের টিকা নিশ্চিত না করেই টিকাগ্রহীতার বয়স কমিয়ে আনা হয়েছে। দেওয়া শুরু হলো স্কুল শিক্ষার্থীদের। এটাকে ভালো পরিকল্পনার ঘাটতি বলছেন স্বাস্থ্য অধিদফতরের সাবেক পরিচালক ও জাতীয় টিকা পরামর্শক কমিটি (ন্যাশনাল ইমিউনাইজেশন টেকনিক্যাল অ্যাডভাইজরি গ্রুপ) নাইট্যাগ-এর সদস্য অধ্যাপক অধ্যাপক ডা. বে-নজির আহমেদ। ১৪ অক্টোবর বাংলা ট্রিবিউন-এর সিনিয়র সাংবাদিক জাকিয়া আহমেদকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, টিকার পরিকল্পনা হয়েছে খাপছাড়াভাবে।

বাংলা ট্রিবিউন: ঠিক কী কারণে খাপছাড়া?

ডা. বে-নজির আহমেদ: খাপছাড়া বলছি, কারণ টিকার পরিকল্পনার শুরুতেই কারা কারা অগ্রাধিকার পাবেন সেটা বলা হয়েছিল। সে তালিকায় কোন জনগোষ্ঠী কতটা টিকা পেয়েছে, তা নিয়ে আমাদের ধারণা নেই। আমরা কোনও তালিকাও করিনি।

শুরু থেকেই বিশ্বজুড়ে বলা হয়েছে করোনা আক্রান্ত হলে পঞ্চাশোর্ধ্বদের ঝুঁকি বেশি। যে কারণে টিকার পরিকল্পনা যখন হয়, তখন এ বয়সীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সে জনগোষ্ঠীর কোনও তালিকা হয়নি। বাড়িতে, থানায় জরিপ করে তালিকা করা গেলে স্পষ্ট ধারণা থাকতো—দেশে ৫৫ বছরের বেশি কত মানুষ আছে। এই কাজে দরকার হতো ১০-১৫ দিন বা সর্বোচ্চ একমাস।

বাংলা ট্রিবিউন: তালিকা করলে কী লাভ হতো?

ডা. বে-নজির আহমেদ: তালিকা হওয়ার পর কত মানুষ টিকা পেলেন আর কারা পেলেন না-সেটা জানা গেলে প্রতিটি এলাকার ৮০ শতাংশ মানুষকে টিকার আওতায় আনা যেত। কিন্তু সেটা না হওয়ায় কোনও এলাকার ৯০ শতাংশ, আবার কোনও এলাকার ৪০ বা অন্য এলাকায় ৭০ শতাংশ টিকা পেলো। এতে ঝুঁকি থেকেই যাবে।

তালিকা না জেনে টিকার বয়সসীমা পর্যায়ক্রমে নামিয়ে আনা হলো ১৮ বছরে। এখন যদি আবার সংক্রমণের ঢেউ আসে তবে যারা নিবন্ধন করে বসে আছে মাসের পর মাস, সেই বয়োজ্যেষ্ঠদের কী হবে? ঝুঁকিটা থেকেই গেল। অথচ সুষ্ঠু ও সুন্দর পরিকল্পনা হলে এমনটা থাকতো না।

বাংলা ট্রিবিউন: তবে কি নাইট্যাগ থেকে পরামর্শ নেওয়া হয় না?

ডা. বে-নজির আহমেদ: খাপছাড়াভাবে হয়। ইচ্ছা হলে নিলাম, ইচ্ছা হলে নিলাম না। টিকা নিলে করোনা হবে না-এরও কোনও গ্যারান্টি নেই। তবে টিকা নেওয়া থাকলে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার হার কমে। আইসিইউতে যাওয়ার আশঙ্কা কমে। অথচ এই জনগোষ্ঠীকে টিকা না দিয়ে যাদের সংক্রমণ হলে মৃত্যুঝুঁকি কম, যাদের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বেশি—তাদের টিকার আওতায় আনা হচ্ছে। এটা শুধু ভালো পরিকল্পনার অভাবই নয়, দূরদর্শীতারও সংকট। এ সমস্যার সমাধানে দ্রুত আরও টিকা আনতে হবে, যেন ২০২২ সালের জানুয়ারির মধ্যে অনেকটা সুরক্ষিত অবস্থায় যেতে পারি।

প্রসঙ্গত, দেশে ৫৫ কিংবা তদূর্ধ্ব বয়সী ব্যক্তিদের জন্যই সুযোগ রেখেই করোনাভাইরাস প্রতিরোধী টিকাদান কর্মসূচির নিবন্ধন শুরু হয় চলতি বছর ২৬ জানুয়ারি। পরে দ্বিতীয় দফায় বয়সসীমা কমিয়ে ৪০ বা তদূর্ধ্ব করা হয়, তৃতীয় দফায় কমিয়ে ৩৫ এবং চতুর্থ দফায় ৩০ বছর করা হয় গত ১৯ জুলাই। তবে মহামারি মোকাবিলায় সম্মুখসারিতে যারা কাজ করছেন, তাদের জন্য বয়সসীমা প্রযোজ্য নয়।

১৪ অক্টোবর ১২-১৭ বছর বয়সীদের পরীক্ষামূলকভাবে টিকা দেওয়া হয়েছে। তাদের আগামী ১০-১৪ দিন পর্যবেক্ষণে রাখা হবে। পরীক্ষামূলক এই টিকা কার্যক্রমের উদ্বোধন করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, প্রথম পর্যায়ে ৩০ লাখ ডোজ টিকা দেওয়া হবে। সারাদেশে এক কোটির বেশি ছেলেমেয়েকে  পর্যায়ক্রমে আমরা টিকা দেবো।

/এফএ/আপ-এমএস/

সম্পর্কিত

দুই ডোজ টিকার আওতায় ১ কোটি ৮৯ লাখ মানুষ

দুই ডোজ টিকার আওতায় ১ কোটি ৮৯ লাখ মানুষ

১৫ দিনে ৩ হাজার ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে

১৫ দিনে ৩ হাজার ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে

৬২ জেলায় শনাক্ত এক অঙ্কের ঘরে

৬২ জেলায় শনাক্ত এক অঙ্কের ঘরে

ফের ৪ বিভাগে মৃত্যু নেই

ফের ৪ বিভাগে মৃত্যু নেই

বদনজর থেকে শিশুকে বাঁচাতে টিপ দেওয়া যাবে?

আপডেট : ১৭ অক্টোবর ২০২১, ০৮:০০

বদনজর থেকে বাঁচাতে আমাদের সমাজে শিশুর কপালে কালো টিপ দেওয়ার রীতি আছে, যা ঠিক নয়। ইসলামে এর কোনও ভিত্তি নেই। কালো টিপ বদনজর থেকে রক্ষা করতে পারে না। বরং শিশুর সুরক্ষার জন্য মহানবী (সা.) দোয়া শিখিয়েছেন। হাদিসেও প্রসঙ্গটি এসেছে। রাসুল (সা.) তাঁর প্রিয় দুই দৌহিত্র হাসান-হুসাইনের সুরক্ষার জন্য এই দোয়া পাঠ করতেন। বাংলা উচ্চারণ, ‘উয়িজুকুমা বি-কালিমাতিল্লাহিত তাম্মাতি মিন কুল্লি শাইতানিউ ওআহাম্মাতিউ ওয়ামিন কুল্লি আইনিন লাম্মাহ’ অর্থাৎ: সকল শয়তান, কীটপতঙ্গ ও বদনজর থেকে তোমাদেরকে আল্লাহর পূর্ণাঙ্গ কালিমাসমূহের আশ্রয়ে দিচ্ছি। (সহিহ বুখারি)

এ দোয়াটি এক সন্তানের আশ্রয়ের জন্য পাঠ করলে ‘উয়িজুকা’, দু’জনের জন্য ‘উয়িজুকুমা’ আর তিন বা তিনের বেশি হলে- ‘উয়িজুকুম’বলতে হবে। বদনজর থেকে সুরক্ষার জন্য তিন কুল (সুরা কাফিরুন, সুরা ফালাক ও সুরা নাস), আয়াতুল কুরসি এবং হাদিসে আরও বিভিন্ন দোয়া বর্ণিত আছে।

 

তথ্যসূত্র: আল কাউসার ডিসেম্বর ২০১২ সংখ্যা

/এফএ/

সম্পর্কিত

পূজামণ্ডপে হামলাকারীদের বিচার দাবিতে বিক্ষোভ

পূজামণ্ডপে হামলাকারীদের বিচার দাবিতে বিক্ষোভ

শান্তি-সম্প্রীতির জন্য প্রার্থনা মসজিদে

শান্তি-সম্প্রীতির জন্য প্রার্থনা মসজিদে

কলাবাগান ক্রীড়াচক্র মাঠে দুর্গাপূজা উদযাপন নিয়ে যা বললো ডিএসসিসি

কলাবাগান ক্রীড়াচক্র মাঠে দুর্গাপূজা উদযাপন নিয়ে যা বললো ডিএসসিসি

২০ অক্টোবর ঈদে মিলাদুন্নবী

২০ অক্টোবর ঈদে মিলাদুন্নবী

ফেনীতে ত্রিমুখী সংঘর্ষ, আহত ৩০

আপডেট : ১৭ অক্টোবর ২০২১, ০৯:১৮

ফেনী শহরের ট্রাংক রোডে কেন্দ্রীয় কালীবাড়ির সামনে পূজা উদযাপন পরিষদের প্রতিবাদ মিছিলকে কেন্দ্র করে ত্রিমুখী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সংঘর্ষে ইটপাটকেল নিক্ষেপে পুলিশ ও সাংবাদিকসহ প্রায় ২৫-৩০ জন আহত হয়েছেন। শনিবার (১৬ অক্টোবর) বিকাল থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত বিক্ষিপ্তভাবে এ সংঘর্ষ চলে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ফাঁকা গুলি ও টিয়ারশেল ছুড়ে। এ ঘটনায় শহরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।

সূত্র জানায়, শনিবার বিকালে শহরের ট্রাংক রোডে পূজা উদযাপন পরিষদের প্রতিবাদ মিছিল হওয়ার কথা ছিল। সে সময় একই স্থানের বড় মসজিদের সামনে কয়েকজন যুবক অবস্থান নেন। এক পর্যায়ে উভয়পক্ষের মধ্যে ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু হয়। খবর পেয়ে ফেনী থানার ওসি মো. নিজাম উদ্দিনের  নেতৃত্বে পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালায়।

এ সময় ট্রাংক রোডের ওই অংশে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। দোকানপাটও বন্ধ করে দেওয়া হয়। থেমে থেমে পুলিশের ওপর ইটপাটকেলও নিক্ষেপ হয়। এ সময় পুলিশও ফাঁকা গুলি ও টিয়ারশেল ছুড়তে থাকে। পরবর্তীতে ঘটনাস্থলে র‍্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিপুলসংখ্যক সদস্য উপস্থিত হয়। এ ঘটনার কিছুক্ষণ পর আওয়ামী লীগ-যুবলীগের একটি মিছিল ওই স্থান দিয়ে যাওয়ার সময় মসজিদের সামনের যুবকদের সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ সময়ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। 

এতে ফেনী মডেল থানার ওসি মো. নিজাম উদ্দিনসহ আরও কয়েকজন পুলিশ সদস্য, বেসরকারি একটি টিভি চ্যানেলের স্থানীয় ক্যামেরা পারসন রিয়াদ মোল্লা, যুবলীগ নেতা দেলোয়ার হোসেন ডালিমসহ ২৫-৩০ জন আহত হন।

এদিকে শহর ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক পারভেজুল হাজারী গণমাধ্যম কর্মীদের কাছে অভিযোগ করেছেন, সন্ধ্যার পর থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত শহরের বড় বাজারে ২০টি দোকানে লুটপাট ও অর্ধশতাধিক দোকানে ভাঙচুর চালানো হয়েছে। এতে কারা জড়িত সে বিষয়ে অবশ্য তিনি কোনও মন্তব্য করেননি। 

ফেনীর পুলিশ সুপার খন্দকার নুরুজ্জামান বলেন, দফায় দফায় চলা সংঘর্ষে পুলিশসহ অন্তত ৩০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। তবে সঠিক সংখ্যাটা এখনই বলা যাচ্ছে না। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে টিয়ার শেল, ফাঁকা গুলি ছোড়া হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করেছে বলেও জানান তিনি।

/এমএস/টিটি/

সম্পর্কিত

রফিকুল ইসলাম মাদানীর ফের ৪ দিনের রিমান্ড

রফিকুল ইসলাম মাদানীর ফের ৪ দিনের রিমান্ড

রাজধানীর নিকুঞ্জ থেকে চিকিৎসকের লাশ উদ্ধার

আপডেট : ১৭ অক্টোবর ২০২১, ০৪:২৪

রাজধানীর খিলক্ষেত নিকুঞ্জ এলাকার একটি বাসা থেকে এক চিকিৎসকের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

ওই ব্যক্তির নাম জয়দেব চন্দ্র দাস। শনিবার (১৬ অক্টোবর) রাত ৮টার দিকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়।

খিলক্ষেত থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুন্সি সাব্বির আহমেদ বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, নিকুঞ্জ-২ এর ১৫ নম্বর সড়কের একটি ফ্ল্যাট বাড়ির কক্ষ থেকে দুর্গন্ধ আসছিল। পরে অনুসন্ধানে ঘটনাস্থলে পৌঁছে ওই কক্ষের দরজা ভেঙে খাট থেকে ওই চিকিৎসকের লাশ উদ্ধার করা হয়।

ওসি সাব্বির বলেন, নিহত চিকিৎসক সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ থেকে পাস করেছেন। লাশটি যেখান থেকে উদ্ধার করা হয়েছে সেখানে চিকিৎসকরা মেস করে থাকতেন।

/এমএস/

সম্পর্কিত

‘হিন্দু-মুসলিম দাঙ্গা লাগানোর ষড়যন্ত্র করছে সাম্প্রদায়িক অপশক্তি’ 

‘হিন্দু-মুসলিম দাঙ্গা লাগানোর ষড়যন্ত্র করছে সাম্প্রদায়িক অপশক্তি’ 

‘ঢাকামুখী অভিবাসন বন্ধ না হলে কোনও পরিকল্পনাই কার্যকর হবে না’ 

‘ঢাকামুখী অভিবাসন বন্ধ না হলে কোনও পরিকল্পনাই কার্যকর হবে না’ 

‘ভবনে রেইন ওয়াটার হার্ভেস্টিং থাকলে ১০ শতাংশ হোল্ডিং কর রেয়াত’

‘ভবনে রেইন ওয়াটার হার্ভেস্টিং থাকলে ১০ শতাংশ হোল্ডিং কর রেয়াত’

হানিফ ফ্লাইওভারে বাস উল্টে দুই কাবাডি খেলোয়াড় আহত

হানিফ ফ্লাইওভারে বাস উল্টে দুই কাবাডি খেলোয়াড় আহত

সর্বশেষসর্বাধিক

লাইভ

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

সম্প্রীতি বজায় রাখতে মাদ্রাসা শিক্ষকদের এগিয়ে আসার আহ্বান

সম্প্রীতি বজায় রাখতে মাদ্রাসা শিক্ষকদের এগিয়ে আসার আহ্বান

টিকায় ভালো পরিকল্পনার ঘাটতি আছে: অধ্যাপক ডা. বে-নজির

টিকায় ভালো পরিকল্পনার ঘাটতি আছে: অধ্যাপক ডা. বে-নজির

সড়ক দুর্ঘটনায় পুলিশ সদস্য নিহতের হার বেড়েছে

সড়ক দুর্ঘটনায় পুলিশ সদস্য নিহতের হার বেড়েছে

দুই ডোজ টিকার আওতায় ১ কোটি ৮৯ লাখ মানুষ

দুই ডোজ টিকার আওতায় ১ কোটি ৮৯ লাখ মানুষ

১৫ দিনে ৩ হাজার ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে

১৫ দিনে ৩ হাজার ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে

৬২ জেলায় শনাক্ত এক অঙ্কের ঘরে

৬২ জেলায় শনাক্ত এক অঙ্কের ঘরে

ফের ৪ বিভাগে মৃত্যু নেই

ফের ৪ বিভাগে মৃত্যু নেই

সর্বশেষ

সম্প্রীতি বজায় রাখতে মাদ্রাসা শিক্ষকদের এগিয়ে আসার আহ্বান

সম্প্রীতি বজায় রাখতে মাদ্রাসা শিক্ষকদের এগিয়ে আসার আহ্বান

খালেদা জিয়াকে দেখে এলেন মির্জা ফখরুল, দুপুরে সংবাদ সম্মেলন

খালেদা জিয়াকে দেখে এলেন মির্জা ফখরুল, দুপুরে সংবাদ সম্মেলন

নিজ ঘরে মিললো ভ্যানচালকের অর্ধগলিত লাশ 

নিজ ঘরে মিললো ভ্যানচালকের অর্ধগলিত লাশ 

ছবি তোলার কথা বলে প্রেমিকাকে ডেকে নিয়ে কাশবনে ধর্ষণ 

ছবি তোলার কথা বলে প্রেমিকাকে ডেকে নিয়ে কাশবনে ধর্ষণ 

টিকায় ভালো পরিকল্পনার ঘাটতি আছে: অধ্যাপক ডা. বে-নজির

টিকায় ভালো পরিকল্পনার ঘাটতি আছে: অধ্যাপক ডা. বে-নজির

© 2021 Bangla Tribune