X
শুক্রবার, ২২ অক্টোবর ২০২১, ৫ কার্তিক ১৪২৮

সেকশনস

২৪টি খাল ভরাট করে স্থাপনা, বৃষ্টি হলেই ডোবে বরিশাল

আপডেট : ১৪ অক্টোবর ২০২১, ২০:০২

ভেঙে পড়েছে বরিশাল নগরীর পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা। ২৪টি খাল ভরাট করে স্থাপনা, ড্রেন নির্মাণ এবং কীর্তনখোলা নদীর তলদেশ ভরাট হয়ে যাওয়ায় সামান্য বৃষ্টিতেই ডুবে যায় নগরী। জলাবদ্ধতা নিরসনে নগরীর ড্রেনগুলো নিয়মিত পরিষ্কার, নদীতে ড্রেজিংয়ের ব্যবস্থা এবং খালে পানিপ্রবাহ স্বাভাবিক রাখার কথা বলেছেন সুশীল সমাজের নেতৃবৃন্দ।

নগরবাসীর অভিযোগ, বছরের পর বছর জলাবদ্ধতা দেখলেও নিরসনের ব্যবস্থা নিচ্ছে না সিটি করপোরেশন। নগরবাসীর দুর্ভোগে হাত-পা গুটিয়ে বসে আছেন সংশ্লিষ্টরা। মাঝেমধ্যে কিছু ড্রেনের ময়লা তুলে ফটোসেশনে সীমাবদ্ধ তাদের কর্মকাণ্ড।

সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, বরিশাল নগরীঘেঁষে বয়ে গেছে ২৪টি খাল। সময়ের ব্যবধানে সবগুলো খাল ভরাট হয়ে গেছে। ২০০২ সালে বরিশাল সিটি করপোরেশন (বিসিসি) গঠিত হয়। ২০০৩-২০০৮ সাল পর্যন্ত মেয়র ছিলেন মজিবুর রহমান সারওয়ার। তার সময়ে নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে কোনও উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ২০০৮-২০১৩ সাল পর্যন্ত মেয়রের দায়িত্বে ছিলেন তৎকালীন মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি প্রয়াত শওকত হোসেন হিরন। তিনি দায়িত্ব নেওয়ার পর নগরীতে ব্যাপক উন্নয়ন হয়। ওই সময় নগরীর মধ্য দিয়ে প্রবাহিত খাল ভরাট করে ড্রেন নির্মাণ করা হয়। প্রায় ২০০ কিলোমিটার এলাকায় রয়েছে ড্রেন। তা পরিকল্পিতভাবে নির্মিত হয়নি। ড্রেনের তলদেশে থাকা সিমেন্ট এখন আর নেই। তবে খাল ভরাট করে ড্রেন নির্মাণ ছিল আত্মঘাতী।

হিরনের শেষ সময়ে ড্রেন পরিষ্কার করতে গিয়ে তলদেশে সিমেন্ট না পাওয়ার বিষয়টি ধরা পড়ার পর কিছু ময়লা রেখে পরিষ্কারের নির্দেশ দেওয়া হয়। তখন ড্রেনের নিচে ময়লার স্তর ছিল বলে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা দাবি করেছেন। এ ছাড়া আগে খাল ছিল পাঁচ ফুট চওড়া। কিন্তুু ড্রেন সংকীর্ণ হওয়ায় পানি সরতে পারে না। এরপর যারাই দায়িত্বে এসেছেন ড্রেন পরিষ্কার করে পানিপ্রবাহ ঠিক রাখার চেষ্টা করেছেন মাত্র। তা যথাযথ না হওয়ায় অল্প বৃষ্টি এবং কীর্তনখোলা নদীর জোয়ারের পানিতে ডুবে যায় নগরী।

২৪টি খাল ভরাট করে স্থাপনা, ড্রেন নির্মাণ এবং কীর্তনখোলা নদীর তলদেশ ভরাট হয়ে যাওয়ায় সামান্য বৃষ্টিতেই ডুবে যায় নগরী

জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আহসান হাবিব কামাল মেয়র ছিলেন ২০১৩-২০১৮ সাল পর্যন্ত। তিনিও নগরীর জলাবদ্ধতা দূর করতে পারেননি। ড্রেন ও খাল পরিষ্কার করে জলাবদ্ধতা নিরসনের চেষ্টা চালিয়ে ব্যর্থ হন। তখনও নগরবাসীকে দুর্ভোগ পোহাতে হয়।

এর ব্যত্যয় ঘটেনি বর্তমান মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহর সময়েও। ২০১৮ সালের অক্টোবর মাসে দায়িত্ব নেওয়ার পর তার প্রধান কাজ ছিল জলাবদ্ধতা নিরসন। এ জন্য ড্রেনের তলদেশ থেকে ময়লা উত্তোলন করা হয়। কিন্তু জলাবদ্ধতা নিরসন হয়নি। সামান্য বৃষ্টি হলেই ডুবে যায় নগরী। এর মধ্যে কয়েকটি এলাকা হাঁটুপানিতে তলিয়ে যায়।

নগরীর বাসিন্দারা জানিয়েছেন, খাল ভরাট করে ড্রেন নির্মাণ করা হয়েছে। ড্রেনের ওপর ফুটপাত বসানো হয়েছে। নির্মাণের কাজ হওয়ায় ফুটপাত ভেঙে ড্রেন ভরাট হয়ে যায়। এ ছাড়া যেসব স্থানে ড্রেনের ময়লা সরানোর ব্যবস্থা রাখা হয়েছে তার বেশির ভাগের ঢাকনা নেই। এ জন্য ওসব স্থানে যে যার মতো ময়লা-আবর্জনা ফেলায় ড্রেন বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।

সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) জেলা সাধারণ সম্পাদক রফিকুল আলম বলেন, বিসিসি’র অধীন নগরীতে এক তৃতীয়াংশ ড্রেনেজ ব্যবস্থা রয়েছে। তা আবার সমন্বিত ড্রেনেজ ব্যবস্থার আওতায় নেই। এ ছাড়া ড্রেনের লেয়ার ঠিক নেই। ফলে বর্ষাকালে সামান্য বৃষ্টিতে সড়ক চলে যায় পানির নিচে। এ জন্য সমন্বিত ড্রেনেজ ব্যবস্থার আওতায় আনতে হবে। যাতে এক ড্রেনের পানি অপর ড্রেনে যেতে পারে। একই সঙ্গে ড্রেনের লেয়ার ঠিক করতে হবে।

পরিবেশবাদী সংগঠন সবুজ আন্দোলনের জেলা সভাপতি কাজী মিজানুর রহমান বলেন, বিসিসি পরিকল্পনা করে ড্রেন নির্মাণ করেনি। ড্রেন নির্মিত হয়েছে নগরবাসীকে দেখানোর জন্য। ড্রেন ঠিকভাবে ব্যবহার হচ্ছে না। এ জন্য প্রতিনিয়ত ময়লা আটকে যায়। সিটি করপোরেশনকে আমরা কর দিই। তাদের কাজ ড্রেন পরিষ্কার করে পানিপ্রবাহ ঠিক রাখা। জলাবদ্ধতা নিরসনে পরিকল্পনা অনুযায়ী ড্রেনেজ করলে সমস্যার সমাধান সম্ভব।

বছরের পর বছর জলাবদ্ধতা দেখলেও নিরসনের ব্যবস্থা নিচ্ছে না সিটি করপোরেশন

নদী-খাল বাঁচাও আন্দোলনের জেলা সদস্য সচিব কাজী এনায়েত হোসেন শিবলু বলেন, নগরীর সবচেয়ে বড় খাল সাগরদী। খালটি মালামাল পরিবহন থেকে শুরু করে শহরের বড় একটি এলাকার পানি নিষ্কাশনে প্রধান ভূমিকা রেখে আসছিল। বটতলা বাজার এলাকা থেকে খালের ওপর ড্রেন করে বহুতল মার্কেট করেছে জেলা পরিষদ। চৌমাথা থেকে বটতলা বাজার পর্যন্ত খাল ভরাট করে সড়ক প্রশস্ত ও সরু ড্রেনের ওপর ফুটপাট করেছে সিটি করপোরেশন। এভাবে ২৪টি খাল ভরাট করে ড্রেন নির্মাণ করায় জলাবদ্ধতার দুর্ভোগে পড়েছে নগরবাসী। পাশাপাশি প্রতিনিয়ত পলি জমে কীর্তনখোলা নদীর তলদেশ উঁচু হওয়ায় নগরীতে ঢুকছে জোয়ারের পানি। এ জন্য কীর্তনখোলা ড্রেজিং করা জরুরি।

বিসিসি’র প্রথম মেয়র বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব মজিবর রহমান সরোয়ার বলেন, মেয়র হিসাবে দায়িত্ব নেওয়ার পর জলাবদ্ধতা থেকে নগরবাসীকে রক্ষার চেষ্টা করি। এ জন্য বরাদ্দ চেয়েও পাইনি। পরে জনগনকে নিয়ে খাল পরিষ্কার করে পানিপ্রবাহ নিশ্চিত করি।

মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর ড্রেন পরিষ্কার করে পানিপ্রবাহ নিশ্চিত করা হয়। এ জন্য কোনও বরাদ্দ পাওয়া যায়নি। বিসিসি’র নিজস্ব আয় থেকে এ কাজ চালানো হচ্ছে।

বরিশাল বিআইডব্লিউটিএ’র যুগ্ম পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, কীর্তনখোলা নদীর নাব্যতা সংকট রয়েছে। পানিপ্রবাহ কমে যাওয়ায় নগরীতে জলাবদ্ধতা দেখা দেওয়ার পাশাপাশি নৌযান চলাচলও বাধাগ্রস্ত হয়। নদীবন্দর এলাকায় ১২ অক্টোবর থেকে ড্রেজিং শুরু হয়েছে। এতে নদীর তলদেশের পলি সরিয়ে ফেলা হবে। বর্ষাকালে এর সুফল পাবে নগরবাসী।

 
/এএম/

সম্পর্কিত

‘অপহরণ করে বিয়ে’, ৫ দিন পর শ্বশুরবাড়ি ছেড়েছেন ইশরাত

‘অপহরণ করে বিয়ে’, ৫ দিন পর শ্বশুরবাড়ি ছেড়েছেন ইশরাত

ভোলায় আগুনে ১০ দোকান পুড়ে ছাই

ভোলায় আগুনে ১০ দোকান পুড়ে ছাই

প্রণোদনা পেতে শের-ই-বাংলা মেডিক্যালের নার্সদের বিক্ষোভ

প্রণোদনা পেতে শের-ই-বাংলা মেডিক্যালের নার্সদের বিক্ষোভ

টানা বৃষ্টিতে ডুবেছে বরিশাল নগরী

টানা বৃষ্টিতে ডুবেছে বরিশাল নগরী

মাজার থেকে যেভাবে কোরআন নিয়ে পূজামণ্ডপে যান ইকবাল

আপডেট : ২১ অক্টোবর ২০২১, ২৩:২৫

কুমিল্লা শহরের নানুয়াদিঘির উত্তর পাড়ে পূজামণ্ডপে পবিত্র কোরআন রাখা নিয়ে সর্বত্র চলছে আলোচনা-সমালোচনা। সিসিটিভি ফুটেজের মাধ্যমে ইকবাল হোসেন (৩৫) নামের এক ব্যক্তিকে ইতোমধ্যে শনাক্ত করেছে পুলিশ।

বুধবার দুটি সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশের পর বৃহস্পতিবার ১৬ মিনিট ৫২ সেকেন্ডের আরও একটি সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ করেছে পুলিশ। এই ফুটেজে পরিষ্কারভাবে দেখা যায়, ইকবাল কীভাবে মসজিদ থেকে কোরআন হাতে নিয়ে পূজামণ্ডপে গেছেন।

নতুন সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, ইকবাল ১১ অক্টোবর দিবাগত রাত আনুমানিক ৩টা ৪২ মিনিটে মাজার মসজিদে যান। এ সময় মসজিদে কেউ ছিল না। ১২ অক্টোবর রাত ১০টা ৩৪ মিনিটে নগরীর দারোগাবাড়ি মাজারের খাদেম ফয়সাল ও হুমায়ুন মসজিদে প্রবেশ করেন। তারা মাজার মসজিদের বারান্দায় বসেন। এ সময় ইকবালও মসজিদে প্রবেশ করেন। ইকবাল গিয়ে তাদের পাশে বসেন। তখন কিছুক্ষণ কথাবার্তা হয় তাদের। এরপর ইকবাল মসজিদ ত্যাগ করেন। ইকবাল মাজার মসজিদের উত্তর পাশে কিছুক্ষণ হাঁটাহাঁটি করেন। পরে দুই খাদেম মসজিদ ত্যাগ করেন। কিছুক্ষণ পর ইকবাল মসজিদের দানবাক্সের ওপর থেকে পবিত্র কোরআন শরিফ সংগ্রহ করেন। এ সময় একটু দূরে এক ব্যক্তিকে মসজিদে নামাজ আদায় করতে দেখা যায়। আরেক ব্যক্তিকে ঘুমিয়ে থাকতে দেখা যায়। তখন ইকবাল মেঝেতে কোরআন রেখে আবার মসজিদ ত্যাগ করেন। ইকবালের পরনে সবুজ টি-শার্ট ও পরনে ট্রাউজার ছিল। পরে আবার মেঝেতে রাখা কোরআন শরিফ তুলে নিয়ে মসজিদ ত্যাগ করেন। মসজিদ থেকে কোরআন নিয়ে মণ্ডপের রাস্তার দিকে হাঁটতে থাকেন। 

বুধবার প্রকাশিত সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, ইকবাল হোসেন ১২ অক্টোবর দিবাগত রাত ২টা ১০ মিনিটের সময় হাতে কোরআন নিয়ে মাজার মসজিদের উত্তর গেট দিয়ে বের হচ্ছেন। তখন কোরআন শরিফ ঢাকা ছিল না। গেটে কয়েক সেকেন্ড দাঁড়িয়ে ছিলেন। সেখান থেকে যখন কোরআন হাতে ২টা ১১ মিনিটে ইকবাল মসজিদের আঙিনা ত্যাগ করেন, তখন কোরআনে একটি সাদা কাপড় মোড়ানো দেখা গেছে। যদিও তা স্পষ্ট না। 

ভিডিওতে আরও দেখা যায়, মসজিদ থেকে বের হয়ে কোরআন নিয়ে ইকবাল সোজা বাঁ দিকের সড়ক ধরে হেঁটে চলে যান। কিন্তু ডান দিকের সড়ক দিয়ে দুই থেকে আড়াই মিনিট হেঁটে গেলেই পূজামণ্ডপ। মসজিদ থেকে নানুয়াদিঘির পাড় পূজামণ্ডপের দূরত্ব দুই থেকে আড়াইশো মিটার। ২টা ১১মিনিট থেকে ইকবাল কোরআন নিয়ে সড়কের বিভিন্ন জায়গায় ঘোরাঘুরি করেছেন। এরপর পূজামণ্ডপে গিয়ে হনুমানের পায়ের ওপর থেকে গদাটি সরিয়ে নেন। সেই সঙ্গে কোরআন রেখে আসেন।

আরেকটি সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, ওই দিন রাত ৩টা ১২ মিনিটে হনুমানের পায়ের ওপর রাখা গদা নিয়ে ইকবাল সড়কে ঘোরাঘুরি করছেন।

ইকবাল দীর্ঘ এক ঘণ্টা এক মিনিট কোথায় ছিলেন জানতে চাইলে কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর-সার্কেল) সোহান সরকার বলেন, মসজিদ থেকে কোরআন নিয়ে হাতে করে ইকবাল ডান দিকে না গিয়ে বাঁ দিকে যান। নগরীর রাজগঞ্জ হয়ে বিভিন্ন জায়গায় ঘোরাঘুরি করে এরপর পূজামণ্ডপে যান। এক ঘণ্টা তিনি বিভিন্ন জায়গায় ঘোরাঘুরি করেছেন। তবে এটি নিশ্চিত দারোগাবাড়ির মাজার মসজিদ থেকেই ইকবাল কোরআন নিয়ে গেছেন।  

গত ১৩ অক্টোবর ভোরে নানুয়াদিঘির পাড়ের পূজামণ্ডপে পবিত্র কোরআন শরিফ পাওয়া যায়। এরপরই দেশের কয়েক স্থানে সংঘর্ষ ও হামলার ঘটনা ঘটে। ঘটনার জেরে ওই দিন চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে হিন্দুদের ওপর হামলা চালানো হয়। এতে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে পাঁচ জন নিহত হয়।

পরদিন নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে হিন্দুদের মন্দির, মণ্ডপ ও দোকানপাটে হামলা–ভাঙচুর চালানো হয়। সেখানে হামলায় দুই জন নিহত হন। এরপর রংপুরের পীরগঞ্জে হিন্দু বসতিতে হামলা করে ভাঙচুর, লুটপাট ও ঘরবাড়িতে অগ্নিসংযোগ করা হয়। এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। এরইমধ্যে শতাধিক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

/এএম/

সম্পর্কিত

পূজামণ্ডপে কোরআন রাখা সেই ইকবাল আটক

পূজামণ্ডপে কোরআন রাখা সেই ইকবাল আটক

‘খুঁজে বের করতে হবে ইকবালের পেছনে কে’

‘খুঁজে বের করতে হবে ইকবালের পেছনে কে’

সড়কে পলিটেকনিক শিক্ষকসহ নিহত ২

সড়কে পলিটেকনিক শিক্ষকসহ নিহত ২

‘রাষ্ট্রধর্ম পরিবর্তনের পরিকল্পনা আ.লীগের নেই’

‘রাষ্ট্রধর্ম পরিবর্তনের পরিকল্পনা আ.লীগের নেই’

নির্বাচনে সব প্রার্থী সমান সুযোগ ভোগ করবেন: সিইসি

আপডেট : ২১ অক্টোবর ২০২১, ২৩:২০

ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন প্রতিযোগিতামূলক হবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদা। তিনি বলেছেন, ‘এখানে কোনও প্রতিহিংসার সুযোগ নেই। নির্বাচনে সব প্রার্থী সমান সুযোগ ভোগ করবেন। নির্বাচনি পরিবেশ সুন্দর ও সুস্থ রাখতে প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া আছে। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে আমরা প্রতিনিয়ত নির্বাচনি এলাকার নজর রাখছি।’

সিইসি আরও বলেন, ‘মাগুরা সংখ্যালঘুদের উপর নির্যাতনের ঘটনায় আমরা বিব্রত। এটি একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা। প্রশাসনের হস্তক্ষেপে পরিবেশ এখন স্বাভাবিক।’

বৃহস্পতিবার (২১ অক্টোবর) রাতে মানিকগঞ্জ সদর ও সিংগাইর উপজেলায় আসন্ন ইউপি নির্বাচন উপলক্ষে নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। জেলা সার্কিট হাউজ মিলনায়তনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সিইসি বলেন, ‘ইউপি নির্বাচনে রাজনৈতিকভাবে কোনও দল অংশগ্রহণ না করলে সেটা একান্তই রাজনৈতিক দলের বিষয়। আমরা আশা করব, সব রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণ।’

সভায় জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল লতিফ, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ গোলাম আজাদ খান, ঢাকা আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মাহফুজা আক্তার, জেলা নির্বাচন অফিসার হাবিবুর রহমান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

/এফআর/

সম্পর্কিত

বিনা টিকিটে ট্রেনে ওঠায় ২১৫ যাত্রীকে জরিমানা

বিনা টিকিটে ট্রেনে ওঠায় ২১৫ যাত্রীকে জরিমানা

ইউপি নির্বাচন: বিদ্রোহী প্রার্থীর অফিস ভাঙচুরের অভিযোগ

ইউপি নির্বাচন: বিদ্রোহী প্রার্থীর অফিস ভাঙচুরের অভিযোগ

গৃহবধূকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেফতার ২

গৃহবধূকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেফতার ২

বাল্যবিয়ে হওয়া শিক্ষার্থীদের ক্লাসে ফেরাতে কাজ করছি: শিক্ষামন্ত্রী

বাল্যবিয়ে হওয়া শিক্ষার্থীদের ক্লাসে ফেরাতে কাজ করছি: শিক্ষামন্ত্রী

পূজামণ্ডপে কোরআন রাখা সেই ইকবাল আটক

আপডেট : ২২ অক্টোবর ২০২১, ০০:০৭

কুমিল্লায় মন্দিরে পবিত্র কোরআন শরিফ রাখার ঘটনায় সন্দেহভাজন ইকবাল হোসেনকে আটক করেছে কক্সবাজার জেলা পুলিশ। বৃহস্পতিবার (২১ অক্টোবর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

গ্রেফতারের পর রাতেই তাকে কুমিল্লা পাঠানো হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন কক্সবাজার জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রফিকুল ইসলাম।

গত ১৩ অক্টোবর ভোরে নানুয়াদিঘির পাড়ের পূজামণ্ডপে পবিত্র কোরআন শরিফ পাওয়া যায়। এরপরই দেশের কয়েক স্থানে সংঘর্ষ ও হামলার ঘটনা ঘটে। ঘটনার জেরে ওই দিন চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে হিন্দুদের ওপর হামলা চালানো হয়। এতে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে পাঁচ জন নিহত হয়।

পরদিন নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে হিন্দুদের মন্দির, মণ্ডপ ও দোকানপাটে হামলা–ভাঙচুর চালানো হয়। সেখানে হামলায় দুই জন নিহত হন। এরপর রংপুরের পীরগঞ্জে হিন্দু বসতিতে হামলা করে ভাঙচুর, লুটপাট ও ঘরবাড়িতে অগ্নিসংযোগ করা হয়। এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। এরইমধ্যে শতাধিক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ দেখে পূজামণ্ডপে কোরআন রাখা ইকবালকে চিহ্নিত করে।

/এফআর/

সম্পর্কিত

মাজার থেকে যেভাবে কোরআন নিয়ে পূজামণ্ডপে যান ইকবাল

মাজার থেকে যেভাবে কোরআন নিয়ে পূজামণ্ডপে যান ইকবাল

‘খুঁজে বের করতে হবে ইকবালের পেছনে কে’

‘খুঁজে বের করতে হবে ইকবালের পেছনে কে’

সড়কে পলিটেকনিক শিক্ষকসহ নিহত ২

সড়কে পলিটেকনিক শিক্ষকসহ নিহত ২

‘রাষ্ট্রধর্ম পরিবর্তনের পরিকল্পনা আ.লীগের নেই’

‘রাষ্ট্রধর্ম পরিবর্তনের পরিকল্পনা আ.লীগের নেই’

বিনা টিকিটে ট্রেনে ওঠায় ২১৫ যাত্রীকে জরিমানা

আপডেট : ২১ অক্টোবর ২০২১, ২৩:০০

বিনা টিকিটে ট্রেনে ওঠার দায়ে টাঙ্গাইলের বঙ্গবন্ধু সেতুপূর্ব রেল স্টেশনে ২১৫ যাত্রীকে জরিমানা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২১ অক্টোবর) দিনব্যাপী বঙ্গবন্ধু অভিযান চালিয়ে এ জরিমানা আদায় করেন রেলওয়ের ঈশ্বরদীর ট্রাফিক ইন্সপেক্টর অপু রায় চৌধুরী।

জানা গেছে, একতা এক্সপ্রেস, রংপুর এক্সপ্রেস, সুন্দরবন এক্সপ্রেস, সিল্কসিটি, জামালপুর এক্সপ্রেসসহ বিভিন্ন ট্রেনে বিনা টিকিটে ভ্রমণের দায়ে ২১৫ যাত্রীর কাছ থেকে ২২ হাজার ৪৭০ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। এ ছাড়াও ভাড়া বাবদ ২৬ হাজার ৪৬০ টাকা আদায় করা হয়।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন- রেলওয়ের টিটিই ইন্সপেক্টর আব্দুল আলিম বিশ্বাস মিঠু, বঙ্গবন্ধু সেতুপূর্ব রেল স্টেশনে হেড বুকিং মাস্টার রেজাউল করিমসহ টিটিই ও অন্যান্য স্টাফ।

পাকশী রেলওয়ের বিভাগীয় বাণিজ্যিক কর্মকর্তা নাসির উদ্দিন বলেন, ‘অভিযান পরিচালনা করায় বিনা টিকিটে ভ্রমণ করা যাত্রীর সংখ্যা দিন দিন কমে যাচ্ছে। এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।’

/এফআর/

সম্পর্কিত

নির্বাচনে সব প্রার্থী সমান সুযোগ ভোগ করবেন: সিইসি

নির্বাচনে সব প্রার্থী সমান সুযোগ ভোগ করবেন: সিইসি

গৃহবধূকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেফতার ২

গৃহবধূকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেফতার ২

বাল্যবিয়ে হওয়া শিক্ষার্থীদের ক্লাসে ফেরাতে কাজ করছি: শিক্ষামন্ত্রী

বাল্যবিয়ে হওয়া শিক্ষার্থীদের ক্লাসে ফেরাতে কাজ করছি: শিক্ষামন্ত্রী

মোবাইলে পর্নো ভিডিও সরবরাহকারী ৪ জন গ্রেফতার

মোবাইলে পর্নো ভিডিও সরবরাহকারী ৪ জন গ্রেফতার

‘খুঁজে বের করতে হবে ইকবালের পেছনে কে’

আপডেট : ২১ অক্টোবর ২০২১, ২২:৫৮

কুমিল্লার ঘটনায় অভিযুক্ত ইকবাল হোসেনের পেছনে থাকা ব্যক্তিকে খুঁজে বের করার দাবি জানিয়েছেন হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট রানা দাশগুপ্ত। বৃহস্পতিবার (২১ অক্টোবর) দুপুরে চট্টগ্রামের চকবাজারের চন্দনপুরা এলাকায় তার বাসায় যান শিক্ষা উপমন্ত্রী মুহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল। শিক্ষা উপমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা জানান।

এ সময় রানা দাশগুপ্ত বলেন, ‘বুধবার টিভিতে দেখলাম তার নামের আগে একটা শব্দ জুড়ে দেওয়া হয়েছে। সেটি হলো, ‘ভবঘুরে’। এ পর্যন্ত বড় ঘটনায় পুলিশ যাদের ধরেছে তারা সবাই পাগল, ভবঘুরে। কিন্তু এই পাগলের পেছনে কে? নতুন কোরআন কোথা থেকে আনলো, কে দিলো? আর হনুমানের গদাটা এমনভাবে সরালো যাতে হাতের কিছু না হয়। সেখানে আবার নতুন কোরআন দিয়ে দিলো। এটি কোনও ভবঘুরের কাজ হতে পারে না। এর পেছনে কে? তাকে খুঁজে বের করতে হবে।’

তিনি এ ঘটনায় আরও বেশি গুরুত্ব দিয়ে তদন্তের আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘১৯৭১ সালের পরাজিত শক্তি দেশে সংখ্যালঘুদের বিতাড়িত করতে চাচ্ছে, সেটি তাকে (শিক্ষা উপমন্ত্রী) বলেছি। সাম্প্রতিক ঘটনা ছাড়াও এই সরকারের আমলে সব ঘটনা কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এগুলো যাতে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হয়, সে ব্যাপারে বলেছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘এটি একটি পূর্বপরিকল্পিত ঘটনা। চক্রান্তকারীরা পেছনে আছে। তাদের বের করে আনার দায়িত্ব এখন রাষ্ট্র ও সরকারকেই নিতে হবে। সাম্প্রতিক সময়ের ঘটনায় প্রশাসনের গাফিলতি আছে। রাজনৈতিক দলের গাফিলতি আছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশে কোনও রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীকে দেখা যায়নি।’

 

/এমএএ/

সম্পর্কিত

মাজার থেকে যেভাবে কোরআন নিয়ে পূজামণ্ডপে যান ইকবাল

মাজার থেকে যেভাবে কোরআন নিয়ে পূজামণ্ডপে যান ইকবাল

পূজামণ্ডপে কোরআন রাখা সেই ইকবাল আটক

পূজামণ্ডপে কোরআন রাখা সেই ইকবাল আটক

সড়কে পলিটেকনিক শিক্ষকসহ নিহত ২

সড়কে পলিটেকনিক শিক্ষকসহ নিহত ২

‘রাষ্ট্রধর্ম পরিবর্তনের পরিকল্পনা আ.লীগের নেই’

‘রাষ্ট্রধর্ম পরিবর্তনের পরিকল্পনা আ.লীগের নেই’

সর্বশেষসর্বাধিক
quiz

লাইভ

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

‘অপহরণ করে বিয়ে’, ৫ দিন পর শ্বশুরবাড়ি ছেড়েছেন ইশরাত

‘অপহরণ করে বিয়ে’, ৫ দিন পর শ্বশুরবাড়ি ছেড়েছেন ইশরাত

ভোলায় আগুনে ১০ দোকান পুড়ে ছাই

ভোলায় আগুনে ১০ দোকান পুড়ে ছাই

প্রণোদনা পেতে শের-ই-বাংলা মেডিক্যালের নার্সদের বিক্ষোভ

প্রণোদনা পেতে শের-ই-বাংলা মেডিক্যালের নার্সদের বিক্ষোভ

টানা বৃষ্টিতে ডুবেছে বরিশাল নগরী

টানা বৃষ্টিতে ডুবেছে বরিশাল নগরী

মেঘনায় নিখোঁজ কোস্টগার্ড সদস্যের সন্ধান মেলেনি

মেঘনায় নিখোঁজ কোস্টগার্ড সদস্যের সন্ধান মেলেনি

ড্রেনে কাগজের বক্সে মিললো নবজাতকের লাশ

ড্রেনে কাগজের বক্সে মিললো নবজাতকের লাশ

চায়ের দোকান থেকে মুহূর্তে ছড়িয়ে পড়লো আগুন

চায়ের দোকান থেকে মুহূর্তে ছড়িয়ে পড়লো আগুন

সুলভ মূল্যের পণ্য বাজারে, ডিলারের ৩ মাস কারাদণ্ড

সুলভ মূল্যের পণ্য বাজারে, ডিলারের ৩ মাস কারাদণ্ড

মারামারি করলেন ইউপি চেয়ারম্যান ও তহশিলদার

মারামারি করলেন ইউপি চেয়ারম্যান ও তহশিলদার

খাল উদ্ধারে জলাবদ্ধতা থেকে রক্ষা পেলো ১ হাজার একর জমি

খাল উদ্ধারে জলাবদ্ধতা থেকে রক্ষা পেলো ১ হাজার একর জমি

সর্বশেষ

মালয়েশিয়াকে ধন্যবাদ জানালো হামাস

মালয়েশিয়াকে ধন্যবাদ জানালো হামাস

ঢাকাতেও রোনালদোদের কাছে হারের বর্ণনা দিতে হলো গ্রান্টকে

ঢাকাতেও রোনালদোদের কাছে হারের বর্ণনা দিতে হলো গ্রান্টকে

জীবনানন্দ দাশ  একটি পথ দুর্ঘটনা বা পূর্বঘোষিত মৃত্যুর কালপঞ্জি

জীবনানন্দ দাশ একটি পথ দুর্ঘটনা বা পূর্বঘোষিত মৃত্যুর কালপঞ্জি

মনোনয়ন ফরমে অ্যানালগই রয়ে গেলো আওয়ামী লীগ

মনোনয়ন ফরমে অ্যানালগই রয়ে গেলো আওয়ামী লীগ

সিরিয়ায় দাবানলের ঘটনায় ২৪ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর

সিরিয়ায় দাবানলের ঘটনায় ২৪ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর

© 2021 Bangla Tribune