X
মঙ্গলবার, ৩০ নভেম্বর ২০২১, ১৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৮

সেকশনস

বাংলাদেশ জিতবে, তবে...

আপডেট : ১৭ অক্টোবর ২০২১, ১৮:২০

শক্তি-সামর্থ্য-ঐতিহ্য সবদিক থেকেই স্কটল্যান্ড থেকে যোজন যোজন এগিয়ে বাংলাদেশ। সাকিব আল হাসান, মাহমুদউল্লাহ, মুশফিকুর রহিম, মোস্তাফিজুর রহমান শুধু বাংলাদেশের ক্রিকেটেরই বড় নাম নয়, বিশ্ব ক্রিকেটেরও বিজ্ঞাপন। সেই অর্থে স্কটল্যান্ডের ওই মাপের কোনও তারকা নেই। সারা বছর আইসিসি সহযোগী দলগুলোর বিপক্ষে খেলে বেড়াতে হয় স্কটিশদের। তবু আজ (রবিবার) রাতে বাংলাদেশের বিপক্ষে ম্যাচ বলেই তাদের নিয়ে এত আলোচনা।

হ্যাঁ, টি-টোয়েন্টি পরিসংখ্যানে এগিয়ে স্কটিশরা। মুখোমুখি একমাত্র কুড়ি ওভারের ম্যাচে জিতেছিল তারা। ২০১২ সালের ওই ম্যাচের পরিসংখ্যান তাদের পক্ষে থাকলেও স্কিল, অভিজ্ঞতা কিংবা সামর্থ্য- সবদিক দিয়েই এগিয়ে বাংলাদেশ। এখন শুধু মাঠে সেরাটা দিতে পারলেই বিশ্বকাপের শুরুটা জয়ে রাঙানো সম্ভব হবে।

তারপরও টি-টোয়েন্টিতে আগে থেকে কোনও কিছু অনুমান করা যায় না। একে ক্রিকেট ‘গৌরবময় অনিশ্চয়তার খেলা’, তার ওপর আবার কুড়ি ওভারের ক্রিকেট সবার জন্য ‘ওপেন’। এখানে ছোট দল, বড় দলের পার্থক্য খুব একটা নেই।

এই ফরম্যাটটা কতটা ‘জটিল’ অস্ট্রেলিয়ার টি-টোয়েন্টির ইতিহাস পর্যালোচনা করলে বোঝা যাবে। অস্ট্রেলিয়ার মতো প্রভাব বিস্তারকারী দল এখনও টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শিরোপার স্বাদ নিতে পারেনি। আধুনিক ক্রিকেটে টেস্ট ও ওয়ানডে শাসন করা অস্ট্রেলিয়া সর্বাধিক পাঁচবার ওয়ানডে বিশ্বকাপ জিতলেও পারেনি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জিততে। অথচ ওদের ছিল ম্যাথু হেইডেন, অ্যাডাম গিলক্রিস্ট, রিকি পন্টিং, অ্যান্ড্রু সাইমন্ডস, ব্রেট লি, মাইকেল ক্লার্কের মতো দুনিয়া কাঁপানো টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটার। এখনকার ডেভিড ওয়ার্নার-স্টিভেন স্মিথ-গ্লেন ম্যাক্সওয়েলরাও ভাঙতে পারেননি বৃত্ত।

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অবস্থাও সুবিধার নয়। বারবারই আশাভঙ্গে হতাশায় পুড়তে হয়েছে। ২০০৭ বিশ্বকাপে অবশ্য ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারিয়ে এই ফরম্যাটে দারুণ কিছুর ইঙ্গিত দিয়েছিল বাংলাদেশ। যদিও সেই ইঙ্গিত বাস্তবে রূপ নেয়নি। বাংলাদেশ দল প্রতিনিয়ত এই ফরম্যাটে নাকানি-চুবানি খাচ্ছে প্রতিপক্ষের কাছে, সেটি ছোট হোক আর বড় দল হোক! এই তো শ্রীলঙ্কা ও আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ার্মআপ ম্যাচে কোনও প্রতিরোধই গড়তে পারেনি লাল-সবুজ জার্সিধারীরা।

তাছাড়া স্কটিশদের বিপক্ষে পরিসংখ্যানও সুখকর নয়। ২০১২ সালে একমাত্র টি-টোয়েন্টিই খেলেছে বাংলাদেশ। তাতে ৩৪ রানে হেরেছিল মুশফিকুর রহিমের দল। টস জিতে রিচি বেরিংটনের সেঞ্চুরিতে ১৬২ রান তুলেছিল স্কটল্যান্ড। জবাবে ১২৮ রানেই গুটিয়ে গিয়েছিল টাইগাররা। জন ডেভি ও মজিদ হক নিয়েছিলেন ৩টি করে উইকেট। ৯ বছর আগের স্কোয়াডের ব্যাটে-বলের দুই নায়ক বেরিংটন ও ডেভি আছেন বর্তমান স্কোয়াডেও।

ইংল্যান্ডের সাবেক ব্যাটার জোনাথন ট্রট আছেন স্কটল্যান্ডের কোচিং স্টাফে। ব্যাটিং কোচের দায়িত্ব সামলানো সাবেক এই ব্যাটার মনে করছেন, এবারের বিশ্বকাপের জন্য নির্বাচিত স্কটিশ দলে ম্যাচ উইনারে ভরা। অধিনায়ক কেলি কোয়েটজারের ২০০৯ ও ২০১৬ বিশ্বকাপ খেলার অভিজ্ঞতা আছে। রিচি বেরিংটন, ক্যালাম ম্যাকলিওড, স্যাফিয়ান শেরিফ, ম্যাথু ক্রস, এলাসডিয়ার ইভান্স, জশ ডেভি, মিচেল লিয়াস্ক, জর্জ মুন্সি ও মার্ক ওয়াটরা অভিজ্ঞ এবং বড় দলের বিপক্ষে ম্যাচ জেতাতে সক্ষম।

শক্তি-সামর্থ্যে বাংলাদেশ এগিয়ে থাকলেও তাই নির্ভার থাকার সুযোগ নেই। তাছাড়া ওয়ার্মআপের দুই ম্যাচের পারফরম্যান্সও দুশ্চিন্তার মেঘ জমিয়েছে। দলের কাউকেই দেখা যায়নি দায়িত্ব নিয়ে ম্যাচ এগিয়ে নিতে। ওই ধাক্কা কাটিয়ে অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ড সিরিজের বাংলাদেশকে দেখার আশায় ক্রিকেটপ্রেমীরা। আর এজন্য বিশ্বকাপের স্পোর্টিং উইকেটে ব্যাটিংয়ে দায়িত্ব নিতে হবে অভিজ্ঞ তিন ক্রিকেটার- সাকিব, মুশফিক ও মাহমুদউল্লাহকে।

চিন্তার বিষয় হলো, সাকিব-মুশফিকের কেউই রানে নেই। মাহমুদউল্লাহর ফর্ম থাকলেও কয়েক সপ্তাহ ধরে ইনজুরিতে ভুগছেন তিনি। অবশ্য বড় মঞ্চেই যে সাকিব ও মুশফিক তাদের সেরাটা নিয়ে হাজির হন, অতীতে অনেকবার দেখা গেছে। তাদের সঙ্গে তরুণ লিটন দাস-সৌম্য সরকার-আফিফ হোসেন-নুরুল হাসান সোহানরা জ্বলে উঠলে তো কথাই নেই।

ব্যাটিংয়ের তুলনায় বাংলাদেশের বোলিং বরাবরই ভালো। অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড সিরিজে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স ছিল মোস্তাফিজুর রহমান-নাসুম আহমেদদের। তাদের সঙ্গে শরিফুল ইসলাম, শেখ মেহেদী হাসান, মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন কিংবা তাসকিন আহমেদ নিজেদের মেলে ধরতে পারলে স্কটিশদের চেপে ধরতে অসুবিধা হওয়ার কথা ‍নয়।

/কেআর/এমওএফ/

সম্পর্কিত

লিটনকে চার-পাঁচ নম্বরে দেখছেন ডমিঙ্গো!

লিটনকে চার-পাঁচ নম্বরে দেখছেন ডমিঙ্গো!

ঢাকা টেস্টে খেলার সিদ্ধান্ত সাকিবের ওপরই!

ঢাকা টেস্টে খেলার সিদ্ধান্ত সাকিবের ওপরই!

শেষ দিনে ‘বিশেষ কিছুর’ আশায় বাংলাদেশ

শেষ দিনে ‘বিশেষ কিছুর’ আশায় বাংলাদেশ

quiz
সর্বশেষসর্বাধিক
© 2021 Bangla Tribune